সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
গুজরাট স্টেট জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল জজ হয়েছেন দীপু কংওয়ার। ছবি: সংগৃহীত
ঘরের কাজ বাদ দিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে বলতেন শ্বশুর, গৃহবধূ আজ সিভিল জজ

রাজস্থানের বারমের জেলার জালিপা গ্রামের দীপু কংওয়ার বিয়ের পরও থামাননি পড়াশোনা। বিয়ের সময় তিনি জামনগরে এলএলবি পড়ছিলেন। এরপর সংসার, সন্তান এবং পারিবারিক দায়িত্বের পাশাপাশি চালিয়ে যান আইন বিষয়ে পড়াশোনা ও জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি। সাত বছর পর গুজরাট স্টেট জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় ৭৯তম স্থান অর্জন করে সিভিল জজ হয়েছেন তিনি।   দীপুর এই সাফল্যের পেছনে নিজের পরিশ্রমের পাশাপাশি বড় ভূমিকা ছিল পরিবারের সহযোগিতার। বিশেষ করে তার শ্বশুর থান সিং এবং স্বামী লোকেন্দ্র সিং তাকে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। বাড়ির কাজ করার বদলে বই নিয়ে পড়তে বলতেন শ্বশুর। ফলে বিয়ের পরও আইন বিষয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান তিনি।   বিয়ের সময় দীপু ছিলেন এলএলবির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিয়ের পরও তিনি পড়াশোনা বন্ধ করেননি। ২০২১ সালে আইন পেশায় প্র্যাকটিস শুরু করেন এবং একই সঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। গুজরাট জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রয়োজনীয় আইন পেশার অভিজ্ঞতা অর্জনের দিকেও তিনি এগিয়ে যান।   তবে সফলতা প্রথমবারেই আসেনি। ২০২২ সালের পরীক্ষায় দীপু প্রিলিমিনারি ও মেইনস পাস করেছিলেন। কিন্তু ইন্টারভিউ ধাপে গিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হতে পারেননি। এরপর ২০২৩ সালে আবার পরীক্ষায় অংশ নিলেও মেইনস পাস করতে পারেননি। টানা দুইবার ব্যর্থতার পরও তিনি প্রস্তুতি বন্ধ করেননি।   এরপর তৃতীয় প্রচেষ্টায় আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। ২০২৫ সালের গুজরাট স্টেট জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় ৭৯তম স্থান অর্জন করেন দীপু কংওয়ার। এর মাধ্যমে সিভিল জজ হওয়ার পথ খুলে যায় তার সামনে। বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার এই সাফল্যের কথা উঠে এসেছে।   দীপুর গল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি বিয়ের পর এবং মা হওয়ার পরও নিজের পেশাগত লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। পারিবারিক দায়িত্বের সঙ্গে পড়াশোনা ও আইন পেশা চালিয়ে যেতে তার শ্বশুরবাড়ির সহযোগিতা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের পক্ষ থেকে পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিবেশ তাকে বারবার ব্যর্থতার পরও প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।   দীপুর সাফল্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার পরিবারের সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তার যাত্রা দেখিয়েছে, বিয়ের পর শিক্ষা বা পেশাগত লক্ষ্য চালিয়ে যেতে পারিবারিক সমর্থন একজন নারীর জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে তার সাফল্যের পেছনে দীর্ঘ সময়ের পড়াশোনা, আইন পেশার অভিজ্ঞতা এবং একাধিকবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১০:৫৬
বাস ছবি:সংগৃহীত
জ্বালানির দাম বাড়তেই বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণে বৈঠক, ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব মালিকদের

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে বাস মালিক, শ্রমিক ও পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে কিলোমিটারপ্রতি বাসভাড়া ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।    বৈঠকে মূলত জ্বালানি তেলের নতুন দামের কারণে বাস পরিচালন ব্যয় কতটা বেড়েছে এবং সেই ব্যয় যাত্রীভাড়ার সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এ এস এম আহমেদ খোকন জানিয়েছেন, মালিকপক্ষ তাদের প্রস্তাব বিআরটিএর কাছে তুলে ধরেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।    মালিকপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তঃজেলা বা দূরপাল্লার বাসের ভাড়া বর্তমানে কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা করার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭৩ পয়সা করার প্রস্তাব এসেছে। অর্থাৎ উভয় ক্ষেত্রেই কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।   পরিবহন মালিকদের যুক্তি হচ্ছে, জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে এক টাকা বাড়লে বাসভাড়া কিলোমিটারে এক পয়সা বাড়ানোর একটি হিসাব তারা প্রস্তাব করেছেন। সেই হিসাবে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ায় বাসভাড়া কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সরকারি ভাড়া নয়, বরং মালিকপক্ষের প্রস্তাব।   সরকার রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য ঘোষণা করে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা করা হয়েছে। নতুন মূল্য সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে।    গণপরিবহনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি। দেশের বিপুলসংখ্যক বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন ডিজেলচালিত হওয়ায় লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন মালিকদের জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে। মালিকপক্ষ বলছে, শুধু জ্বালানি নয়, পরিবহন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্য ও সেবার ব্যয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।   এর আগে গত এপ্রিলে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরকার বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছিল। তখন আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে ১১ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসভাড়াও কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ডিটিসিএ এলাকার মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারিত হয়েছিল কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪৩ পয়সা।    এদিকে নতুন সরকারি ভাড়া ঘোষণার আগেই কিছু পরিবহনে বাড়তি ভাড়া চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার রাজধানীর অধিকাংশ গণপরিবহন পুরোনো ভাড়ায় চললেও কিছু বাসে স্টপেজপ্রতি পাঁচ টাকা বেশি চাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে অনেক চালক ও পরিবহনকর্মী জানিয়েছেন, নতুন ভাড়ার তালিকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তারা আগের ভাড়াই নিচ্ছেন।    পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্তের আগে যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত তারা দেয়নি। ফলে বিআরটিএ ও সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত মালিকপক্ষের কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাবকে চূড়ান্ত ভাড়া হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।    এখন বিআরটিএর সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন যাত্রী ও পরিবহন মালিকরা। নতুন ভাড়া অনুমোদিত হলে কোন শ্রেণির বাসে কিলোমিটারপ্রতি কত টাকা দিতে হবে এবং সর্বনিম্ন ভাড়ায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—সেটিও সরকারি ঘোষণা বা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট হওয়ার কথা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১০:৪২
তুরস্কের এজিয়ান উপকূলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উদ্ধার হওয়া ২ হাজার বছরের পুরোনো রোমান মোজাইক। ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কে মিলল বিরল রোমান মোজাইক, লেখা ২ হাজার বছর আগের পোষা প্রাণীর নাম

তুরস্কের এজিয়ান উপকূলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো একটি বিরল রোমান মোজাইক আবিষ্কৃত হয়েছে। মোজাইকটিতে বিভিন্ন প্রাণী ও পৌরাণিক চরিত্রের পাশাপাশি একটি বিড়াল ও একটি কুকুরের নামও লেখা রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, প্রাণী দুটি ওই বাড়ির বাসিন্দাদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।   মোজাইকটি প্রাচীন বন্দরনগরী আদ্রামিত্তেয়নের নিচে থাকা একটি রোমান ভিলার ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগ অথবা তৃতীয় শতাব্দীর সময়কার। ভিলাটির কেন্দ্রস্থলে থাকা মোজাইকটির আকার প্রায় ১৬ দশমিক ৪ ফুট বাই ১১ দশমিক ৮ ফুট।   মোজাইকটি মোট ১৫টি পৃথক দৃশ্য নিয়ে তৈরি। এতে পাখি, মাছ, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণী এবং পৌরাণিক চরিত্রের ছবি রয়েছে। এর কেন্দ্রীয় অংশে সাপের মতো চুলওয়ালা পৌরাণিক চরিত্র গর্গন মেডুসার ছবিও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   তবে মোজাইকের অসংখ্য প্রাণীর মধ্যে মাত্র দুটি প্রাণীর নাম লেখা হয়েছে। একটি বিড়ালের নাম ‘এমেরাল্ড’ এবং একটি কুকুরের নাম ‘ওশান’। বিড়ালটিকে নীল-সবুজ রঙের একটি কুশনের ওপর আরাম করে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। তার ওপরে গ্রিক ভাষায় ‘এমেরাল্ড’ নামটি লেখা রয়েছে।   মিমার সিনান ফাইন আর্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের আদ্রামিত্তেয়ন গবেষণা দলের প্রধান হুসেইন ওজগেনের গবেষণা অনুযায়ী, নামটি ইঙ্গিত করে যে এমেরাল্ড শুধু মোজাইকের অলংকার হিসেবে দেখানো হয়নি। বরং প্রাণীটি ওই বাড়ির মানুষের কাছে পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার মতে, বিড়ালটিকে পথের কোনো বেওয়ারিশ প্রাণী হিসেবে দেখানোর চেয়ে পরিবারের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   গবেষণায় এমেরাল্ড নামটির সম্ভাব্য একটি ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। প্রাচীন রোমান যুগে রোমান মিসরের মরুভূমি অঞ্চলে পান্না উত্তোলন করা হতো। এ কারণে ভিলাটির মালিকের উত্তর আফ্রিকার সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ থাকা কোনো ব্যবসায়ী হতে পারেন বলে ওজগেন ধারণা করেছেন।   অন্যদিকে কুকুর ‘ওশান’-কে মোজাইকে আরও প্রাণবন্ত ভঙ্গিতে দেখানো হয়েছে। ছবিতে কুকুরটিকে দৌড়ানো বা লাফানোর মাঝামাঝি অবস্থায় দেখা যায়। তার পাশে গ্রিক ভাষায় ‘ওশান’ নামটি লেখা রয়েছে।   ওজগেনের ধারণা, কুকুরটির নামও বিশেষ কোনো কারণে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। আদ্রামিত্তেয়ন শহরটি সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় ‘ওশান’ নামটি শহরটির ভৌগোলিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।   তবে এমেরাল্ড ও ওশানকে আধুনিক অর্থে পোষা প্রাণী হিসেবে পালন করা হতো কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। গবেষকের মতে, প্রাণী দুটি ওই ভিলার আশপাশে নিয়মিত দেখা যেত এবং সেখানকার মানুষের কাছে পরিচিত ছিল। সেই কারণেই তাদের মোজাইকে আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়ে থাকতে পারে।   হুসেইন ওজগেন ২০১২ সাল থেকে আদ্রামিত্তেয়নে খননকাজ পরিচালনা করছেন। তবে রোমান ভিলাটি সম্প্রতি শনাক্ত করা হয়। ২০২৫ সাল এবং ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সেখানে খননকাজ চালিয়ে এই মোজাইকসহ গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছে।   প্রাচীন শহরটিতে এখনো প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ চলছে। ফলে মাটির নিচে আরও নিদর্শন ও প্রাচীন জীবনযাত্রার নানা তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১০:৩৬
যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সমস্যার কারণে আবারও ফ্লাইট ব্যাহত হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লাইট বাতিল হলে এয়ারলাইন যে ক্ষতিপূরণ ও রিফান্ড দেয়, জানুন যাত্রী অধিকার

যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে সাম্প্রতিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সমস্যার কারণে আবারও ফ্লাইট দেরি ও বাতিলের ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের অনেকেই জানেন না, কখন এয়ারলাইনকে খাবার, হোটেল বা বিকল্প ফ্লাইট দিতে হবে এবং কখন টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়ার অধিকার তৈরি হয়। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের নির্দিষ্ট রুটে যাত্রীদের জন্য এসব অধিকার আইনেই নির্ধারিত রয়েছে।   যুক্তরাজ্য বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করা অনেক ফ্লাইট এবং নির্দিষ্ট ব্রিটিশ বা ইউরোপীয় এয়ারলাইনের ফ্লাইট এসব যাত্রী অধিকার আইনের আওতায় পড়ে। ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রী সাধারণত পুরো টাকা ফেরত নেওয়া অথবা বিকল্প ফ্লাইটে গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। বাতিলের পর বিকল্প ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করতে হলে খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তাও এয়ারলাইনকে দিতে হতে পারে। যুক্তরাজ্য সরকারের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, রিফান্ড সাধারণত সাত দিনের মধ্যে দেওয়ার কথা।   ফ্লাইট পাঁচ ঘণ্টা বা তার বেশি দেরি হলে যাত্রী আর ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং অব্যবহৃত যাত্রার টিকিটের টাকা ফেরত চাইতে পারেন। এ ক্ষেত্রে শুধু ভাউচার দেওয়ার পরিবর্তে টাকা ফেরত পাওয়ার অধিকার থাকে, যদি না যাত্রী নিজে ভাউচার গ্রহণে সম্মত হন। তবে যাত্রী যদি পাঁচ ঘণ্টার বেশি দেরির পরও ফ্লাইটে ভ্রমণ করেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।   দীর্ঘ সময় ফ্লাইট আটকে থাকলে এয়ারলাইনের দায়িত্ব শুধু টিকিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নির্দিষ্ট সময়ের বেশি দেরি হলে যাত্রীকে খাবার ও পানীয় দিতে হয়। দেরির কারণে রাত কাটানোর প্রয়োজন হলে হোটেল এবং বিমানবন্দর থেকে হোটেলে যাতায়াতের ব্যবস্থাও করতে হতে পারে। সাধারণত ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বের ফ্লাইটে দুই ঘণ্টা, ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের ফ্লাইটে তিন ঘণ্টা এবং এর বেশি দূরত্বের ফ্লাইটে চার ঘণ্টা দেরির পর এই সহায়তার অধিকার কার্যকর হয়।   ফ্লাইটের দেরি যদি যাত্রীর চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছাতে তিন ঘণ্টার বেশি সময় বাড়িয়ে দেয়, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আর্থিক ক্ষতিপূরণও পাওয়া যেতে পারে। যুক্তরাজ্যের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বের ফ্লাইটে ক্ষতিপূরণ ২২০ পাউন্ড, ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের ফ্লাইটে ৩৫০ পাউন্ড এবং ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ফ্লাইটে ৫২০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটে গন্তব্যে পৌঁছানোর দেরি তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে হলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ২৬০ পাউন্ড হতে পারে।   তবে ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হলেই ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত নয়। এয়ারলাইনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কিছু ঘটনাকে আইনে ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি সারকামস্ট্যান্সেস’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে নিরাপদে ফ্লাইট পরিচালনার অনুপযোগী আবহাওয়া, বিমানবন্দর বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল কর্মীদের ধর্মঘট, নিরাপত্তা ঝুঁকি, রাজনৈতিক বা বেসামরিক অস্থিরতা এবং কিছু ধরনের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সিদ্ধান্ত থাকতে পারে। এসব কারণে সরাসরি দেরি বা বাতিল হলে নির্দিষ্ট আর্থিক ক্ষতিপূরণ নাও পাওয়া যেতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতেও বিকল্প ফ্লাইট, খাবার, হোটেলসহ যাত্রীর অন্যান্য অধিকার সাধারণত বহাল থাকে।   সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস বা ন্যাটসের একটি সিস্টেম সমস্যার কারণে ব্যাপক ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ার পর দেশটির সিভিল এভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছিল, ওই ঘটনার কারণে সৃষ্ট দেরি ও বাতিলকে ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি সারকামস্ট্যান্সেস’ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা নির্দিষ্ট আর্থিক ক্ষতিপূরণ নাও পেতে পারেন। তবে তাদের খাবার, থাকার ব্যবস্থা ও বিকল্প যাত্রার মতো অন্যান্য অধিকার আলাদা বিষয়।   ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীকে নিজের খরচে খাবার বা হোটেলের ব্যবস্থা করতে হলে সব রসিদ সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এয়ারলাইন প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ব্যর্থ হলে যুক্তিসংগত খরচ পরে ফেরত দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে বিলাসবহুল হোটেল, অতিরিক্ত ব্যয়বহুল খাবার বা অ্যালকোহলের মতো খরচ সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।   ফ্লাইট দেরি বা বাতিলের পর ক্ষতিপূরণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে আসে না। যাত্রীকে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের কাছে দাবি করতে হয়। এয়ারলাইন দাবি প্রত্যাখ্যান করলে কেন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে তা জানানোর কথা। যাত্রী সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিযোগ করতে পারেন। তাই ফ্লাইটের সময়সূচি, বাতিলের নোটিশ, বোর্ডিং তথ্য, অতিরিক্ত খরচের রসিদ এবং এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগের রেকর্ড সংরক্ষণ করা যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১০:১৬
একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে জখম
মাত্র ৬০০ টাকা পাওনা চাওয়ায় ক্ষোভ, একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে জখম

পটুয়াখালীর বাউফলে মাত্র ৬০০ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের গোয়ালিয়া বাঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথম দিকের প্রতিবেদনে চারজন গুরুতর আহত হওয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তী প্রতিবেদনে একই পরিবারের মোট ছয়জন আহত হওয়ার তথ্য এসেছে।   আহতদের মধ্যে রয়েছেন জহিরুল ইসলাম, খাইরুল ইসলাম, রেজাউল করিম ও তাঁদের মা মনোয়ারা বেগম। পরবর্তী প্রতিবেদনে হোসনেয়ারা বেগম ও পূর্ণি বেগম নামে আরও দুই পরিবারের সদস্য আহত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। গুরুতর আহতদের বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   ঘটনার সূত্রপাত ৬০০ টাকা মজুরি নিয়ে। আহত জহিরুলের অভিযোগ, প্রতিবেশী রাসেল মৃধার জমিতে কাজ করার পর তাঁর ৬০০ টাকা মজুরি পাওনা ছিল। সেই টাকা চাইতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববারও পাওনা টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটে এবং রাসেলও আহত হন।   পরদিন সোমবার সকালে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জহিরুল বৈঠক ছেড়ে নিজের বাড়ির দিকে চলে যান। এরপর রাসেল ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জহিরুলের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান বলে জহিরুলের পরিবারের অভিযোগ।   অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় প্রথমে জহিরুলকে মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়। তাঁকে রক্ষা করতে মা মনোয়ারা বেগম এবং দুই ভাই রেজাউল ও খাইরুল এগিয়ে এলে তাঁরাও হামলার শিকার হন। পরবর্তী প্রতিবেদনে পরিবারের আরও দুই নারী সদস্য আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।   বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য আনা আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ও পরবর্তী হামলার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তবে অভিযুক্ত রাসেল মৃধা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে হামলার অভিযোগ সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।   বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ঘটনাটি নিয়ে পুলিশি তদন্ত ও লিখিত অভিযোগের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১০:১১
গুজরাটের প্রত্যন্ত কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসে বড় হীরা ব্যবসায়ী হয়েছেন সাভজি ধোলাকিয়া। ছবি: সংগৃহীত
১৩ বছরেই স্কুল ছাড়েন, কর্মীদের ১,২৬০ গাড়ি ও ৪০০ ফ্ল্যাট উপহার দিয়ে আলোচনায় ভারতীয় ব্যবসায়ী

গুজরাটের প্রত্যন্ত কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসে মাত্র ১৩ বছর বয়সে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল ভারতের হীরা ব্যবসায়ী সাভজি ধোলাকিয়াকে। কিশোর বয়সেই তিনি চাচার হীরা ব্যবসায় কাজ শুরু করেন। পরে ভাইদের সঙ্গে গড়ে তোলেন হীরা রপ্তানি প্রতিষ্ঠান হরি কৃষ্ণ এক্সপোর্টস। তবে ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি কর্মীদের জন্য বড় অঙ্কের পুরস্কারের ব্যবস্থা করে আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচনায় আসেন তিনি।    ধোলাকিয়ার জন্ম গুজরাটের আমরেলি জেলার দুধালা গ্রামের একটি কৃষক পরিবারে। ১৩ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে তিনি সুরাটে চাচার হীরা ব্যবসায় যোগ দেন। কয়েক বছর কাজ শেখার পর ভাই হিম্মত ও তুলসীর সঙ্গে ১৯৮৪ সালে নিজেদের হীরা ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে ছোট ভাই ঘনশ্যামও ব্যবসায় যুক্ত হন এবং মুম্বাইয়ে অফিস স্থাপনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি শুরু হয়।    ধোলাকিয়ার ব্যবসায়িক দর্শনের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো কর্মীদের সঙ্গে সাফল্য ভাগ করে নেওয়ার নীতি। ২০১৪ সালে হরি কৃষ্ণ এক্সপোর্টসের প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মীকে গাড়ি, ফ্ল্যাট কেনার অর্থ এবং স্বর্ণ ও হীরার গয়না দেওয়া হয়। ওই কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ কোটি রুপির সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ৪৯১ জন কর্মী গাড়ি এবং প্রায় ২০০ জন বাড়ি কেনার জন্য অর্থ পেয়েছিলেন।    এর পরের বছরগুলোতেও এমন পুরস্কারের ধারা অব্যাহত থাকে। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ২৬০টি গাড়ি এবং ৪০০টি ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘোষণা দেয়। একই সময়ে কর্মীদের গয়না দেওয়ার কথাও জানানো হয়। ওই পুরস্কার সবার জন্য ছিল না। কর্মীদের বিভিন্ন কর্মদক্ষতা ও নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে নির্বাচিত করা হতো।    কর্মীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির পদ্ধতি ছিল কিছুটা ভিন্ন। সে সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে কর্মীদের বিভিন্ন পারফরম্যান্স প্যারামিটার মূল্যায়ন করা হতো। কাজের মানের পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণ, দায়িত্বশীলতা এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের মতো বিষয়ও মূল্যায়নের অংশ ছিল বলে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।    ধোলাকিয়া বারবার বলেছেন, প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে কর্মীদের অবদান রয়েছে এবং তাদের সেই সাফল্যের অংশীদার করা উচিত। ২০১৪ সালের এক প্রতিবেদনে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, কর্মীদের উৎসাহিত করতেই তিনি এই ধরনের লয়্যালটি প্রোগ্রাম চালু করেছিলেন। তার কাছে বিষয়টি শুধু দান বা কর্মীদের ব্যবস্থাপনার কৌশল নয়, বরং মানবিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।    তার ব্যবসার পরিধিও সময়ের সঙ্গে বড় হয়েছে। হরি কৃষ্ণ এক্সপোর্টস হীরা কাটা, পালিশ ও রপ্তানির পাশাপাশি হীরা ও জুয়েলারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং ও চীনের মতো বাজারে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।    ধোলাকিয়ার কর্মী পুরস্কারের গল্প আলোচনায় এলেও এর মূল বিষয় শুধু গাড়ি বা ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘটনা নয়। বরং কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি অবদানকে ব্যবসার সাফল্যের অংশ হিসেবে দেখার একটি করপোরেট সংস্কৃতি এখানে সামনে আসে। অবশ্য এই ধরনের বড় পুরস্কার দেওয়ার মডেল সব প্রতিষ্ঠানের জন্য বাস্তবসম্মত নয়। তবে কর্মীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া, সাফল্যের সঙ্গে তাদের যুক্ত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করার ধারণাটি ব্যবসা পরিচালনায় আলাদা একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৯:৫১
হাসপাতাল
সন্তান জন্মের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদ, যমজ নবজাতককে হাসপাতালে রেখে বাবার আত্মহত্যা

দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর ঘরে এসেছিল যমজ কন্যাসন্তান। পরিবারে নতুন অতিথি আসার আনন্দ থাকার কথা থাকলেও সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি।   স্ত্রী ও সদ্য জন্ম নেওয়া দুই সন্তানকে হাসপাতালে রেখে বাড়ি ফেরার পর আলাল উদ্দিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, ঋণের চাপ এবং নবজাতকদের চিকিৎসার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি।   ঘটনাটি ঘটে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালবাথান এলাকায়। আলাল উদ্দিনের স্ত্রী হাসপাতালে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পাঁচ বছর পর তাঁদের ঘরে সন্তান আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবারটিতে নেমে আসে শোক।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সন্তান জন্মের পর স্ত্রী ও দুই নবজাতক হাসপাতালে থাকলেও আলাল রাতে বাড়িতে ফিরে যান। পরদিন সকালে হাসপাতাল থেকে স্বজনেরা তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোনে সাড়া না পাওয়ায় প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানানো হয়।   প্রতিবেশীরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।   নিহতের ভাই জামাল উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, অসুস্থতার কারণে প্রায় এক বছর ধরে কর্মহীন ছিলেন আলাল। ফলে পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে ঋণের চাপ এবং সদ্য জন্ম নেওয়া দুই শিশুর চিকিৎসার ব্যয় যোগ হওয়ায় তাঁর দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। এসব চাপের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সম্পর্ক থাকতে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে ধারণা করা হয়েছে। তবে এটিকে নিশ্চিত কারণ হিসেবে নয়, পরিবারের বক্তব্য হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।   কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।   ঘটনাটি একই সঙ্গে নিম্নআয়ের পরিবারের চিকিৎসাব্যয় ও ঋণের চাপের বিষয়টিও সামনে এনেছে। সন্তান জন্ম ও চিকিৎসার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে নিম্নআয়ের অনেক পরিবারকে ধারদেনা করতে হয়।   একদিকে পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর দুই সন্তানের জন্ম, অন্যদিকে বাবার আকস্মিক মৃত্যু—দুই বিপরীত ঘটনার মধ্যে পড়ে পরিবারটি এখন গভীর শোকের মুখে। হাসপাতালে থাকা মা ও দুই নবজাতকের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্বজনদের সামনে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৯:৫১
পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টের একাডেমিক বিষয়ক সহযোগী উপাচার্য ড. নিয়াজ লতিফ। ছবি: সংগৃহীত
চুয়েট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক বিষয়ক সহযোগী উপাচার্য ড. নিয়াজ

বাংলাদেশে প্রকৌশল শিক্ষার পথ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছেন ড. নিয়াজ লতিফ। বর্তমানে তিনি পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টের একাডেমিক বিষয়ক সহযোগী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রবার্টস ইমপ্যাক্ট ল্যাব এবং কমার্শিয়ালাইজেশন অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং এক্সিলেন্স সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টের বর্তমান গবেষণা বোর্ডের তথ্যেও এসব দায়িত্বের উল্লেখ রয়েছে।    ড. নিয়াজ লতিফের শিক্ষাজীবনের শুরু বাংলাদেশে। তাঁর একাডেমিক নথি অনুযায়ী, তিনি ১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর পরবর্তী শিক্ষাজীবনের বড় অংশ কাটে যুক্তরাষ্ট্রে। সাউথ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি ১৯৮৩ সালে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এবং ১৯৮৫ সালে অ্যাগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে দুটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৮৮ সালে ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি থেকে অ্যাগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।    তাঁর পেশাগত জীবনের শুরু হয় লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি ইউনিজে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে। ১৯৯০ সালে তিনি নর্দার্ন কেনটাকি ইউনিভার্সিটিতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং পরে সহযোগী অধ্যাপক ও ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি প্রোগ্রামের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তিনি টেকনিক্যাল সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবেও কাজ করেন।    ১৯৯৯ সালে তাঁর একাডেমিক নেতৃত্বের পরিধি আরও বাড়ে। সে বছর তিনি পারডু ইউনিভার্সিটি ওয়েস্ট লাফায়েটে ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তি প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি স্নাতকোত্তর শিক্ষার সঙ্গেও যুক্ত হন। তাঁর পেশাগত নথিতে ১৯৯৯ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি বিভাগের প্রধান এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত উইকেন্ড মাস্টার্স ডিগ্রি প্রোগ্রামের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের তথ্য রয়েছে।    ২০০৭ সালে ড. নিয়াজ লতিফ পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টে যোগ দেন এবং কলেজ অব টেকনোলজির ডিন হন। দীর্ঘ সময় এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে একাডেমিক প্রোগ্রাম উন্নয়ন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ, অ্যাক্রেডিটেশন এবং শিল্পখাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়গুলোও ছিল। সাউথ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রোফাইল অনুযায়ী, তাঁর নেতৃত্বে নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি প্রোগ্রাম চালু এবং বিভিন্ন গবেষণা ও ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।    গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও ড. লতিফের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর পেশাগত নথি অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন ফেডারেল ও বেসরকারি উৎস থেকে গবেষণা ও প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন সংগ্রহে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ এবং ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের মতো প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন পাওয়া প্রকল্পেও তিনি যুক্ত ছিলেন। পারডু নর্থওয়েস্টের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর তাঁর নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উৎস মিলিয়ে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলারের অনুদান সংগ্রহ করা হয়।    একাডেমিক প্রশাসনের পাশাপাশি প্রকৌশল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও পেশাজীবী সংগঠনেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। তিনি অ্যাক্রেডিটেশন প্রতিষ্ঠান এবিইটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অ্যাসোসিয়েশন অব টেকনোলজি, ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নির্বাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালের এবিইটি ইমপ্যাক্ট রিপোর্টে তাঁকে ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়।    পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টে তাঁর দায়িত্বও সময়ের সঙ্গে বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারিম প্রভোস্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর ফর একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি গবেষণা ও গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ইন্টারিম অ্যাসোসিয়েট ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২৩ সালে কলেজ অব টেকনোলজির ডিনের দায়িত্ব থেকে সরে এসে গবেষণা, স্পনসর্ড প্রোগ্রাম এবং কমার্শিয়ালাইজেশন কার্যক্রমে আরও সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নেন।    বর্তমানে রবার্টস ইমপ্যাক্ট ল্যাবের নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও ড. লতিফ গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিল্পের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ তৈরির কাজে যুক্ত। পারডু নর্থওয়েস্টের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ও কমার্শিয়ালাইজেশন নিয়েও তাঁর ভূমিকার কথা উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট এক প্রকাশনায় রবার্টস ইমপ্যাক্ট ল্যাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর গবেষণা উদ্যোগ নিয়ে তাঁর বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে।    বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের নেতৃত্বে দীর্ঘ এই পথ ড. নিয়াজ লতিফের পেশাগত যাত্রার বিস্তৃতি তুলে ধরে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী থেকে অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধান, ডিন এবং একাডেমিক প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেরিয়ে তিনি এখন পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টের একাডেমিক ও উদ্ভাবনভিত্তিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে রয়েছেন। সূত্র: পাবলিকিয়ান

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৯:৩৬
চলতি সপ্তাহে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক পেমেন্ট পেতে যাচ্ছেন লাখ লাখ সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগী। ছবি: সংগৃহীত
সোশ্যাল সিকিউরিটিতে এ সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৫,১৮১ ডলার, কারা পাচ্ছেন! জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে লাখ লাখ সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগী চলতি সপ্তাহে সেপ্টেম্বরের মাসিক পেমেন্ট পেতে যাচ্ছেন। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ২০২৬ সালের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার অবসর, সারভাইভার ও সোশ্যাল সিকিউরিটি ডিসঅ্যাবিলিটি ইন্স্যুরেন্সের সেই সুবিধাভোগীদের পেমেন্ট যাবে, যাদের জন্ম মাসের ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে। এ সপ্তাহের পেমেন্ট নিয়ে আলোচনায় থাকা ৫,১৮১ ডলার হলো ২০২৬ সালে ৭০ বছর বয়সে রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট শুরু করা নির্দিষ্ট যোগ্য কর্মীর সর্বোচ্চ মাসিক সুবিধা, সবার জন্য প্রযোজ্য অঙ্ক নয়।   সোশ্যাল সিকিউরিটির নিয়ম অনুযায়ী, বেশিরভাগ অবসর, সারভাইভার ও সোশ্যাল সিকিউরিটি ডিসঅ্যাবিলিটি ইন্স্যুরেন্স সুবিধাভোগীর পেমেন্ট জন্মতারিখের ভিত্তিতে মাসের তিনটি বুধবারে ভাগ করে দেওয়া হয়। সেপ্টেম্বর মাসে ১ থেকে ১০ তারিখে জন্ম নেওয়া সুবিধাভোগীদের পেমেন্ট গেছে ৯ সেপ্টেম্বর, ১১ থেকে ২০ তারিখে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের পেমেন্ট গেছে ১৬ সেপ্টেম্বর। ২১ থেকে ৩১ তারিখে জন্ম নেওয়া সুবিধাভোগীদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ২০২৬ সালের অফিসিয়াল পেমেন্ট ক্যালেন্ডারেও এই সময়সূচি রয়েছে।   তবে সবাই এই জন্মতারিখভিত্তিক সূচি অনুসরণ করেন না। যারা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট পাওয়া শুরু করেছিলেন, তাদের জন্য আলাদা পেমেন্ট সূচি রয়েছে। একইভাবে যারা সোশ্যাল সিকিউরিটি ও সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই দুটিই পান, তাদের পেমেন্টের তারিখও আলাদা হতে পারে। সেপ্টেম্বর মাসে এসএসআই পেমেন্ট দেওয়া হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর এবং নির্দিষ্ট কিছু সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীর পেমেন্ট গেছে ৩ সেপ্টেম্বর।   ৫,১৮১ ডলারের অঙ্কটি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি সাধারণ মাসিক পেমেন্ট নয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কেউ যদি ২২ বছর বয়স থেকে প্রতি বছর সর্বোচ্চ করযোগ্য আয়ের সীমা পর্যন্ত আয় করেন এবং ৭০ বছর বয়সে অবসর সুবিধা শুরু করেন, তাহলে তার সর্বোচ্চ মাসিক সুবিধা হতে পারে ৫,১৮১ ডলার। একই ধরনের সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড থাকা কেউ ৬২ বছর বয়সে সুবিধা শুরু করলে সর্বোচ্চ ২,৯৬৯ ডলার এবং পূর্ণ অবসর বয়সে শুরু করলে সর্বোচ্চ ৪,১৫২ ডলার পেতে পারেন।   অর্থাৎ ৫,১৮১ ডলার পেতে হলে দীর্ঘ কর্মজীবনে সর্বোচ্চ করযোগ্য আয়ের পর্যায়ে থাকা এবং ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত সুবিধা নেওয়া পিছিয়ে দেওয়ার মতো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটির জন্য সর্বোচ্চ করযোগ্য আয় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার। তবে শুধু কোনো এক বছরে এই পরিমাণ আয় করলেই সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়া যায় না। একজনের আজীবনের আয়ের রেকর্ড এবং সুবিধা নেওয়ার বয়সসহ বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত পেমেন্ট নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।   বাস্তবে বেশিরভাগ অবসরপ্রাপ্ত মানুষ ৫,১৮১ ডলার পান না। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গড়ে একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মী মাসে প্রায় ২,০৭১ ডলার পাওয়ার কথা ছিল। জুলাই ২০২৬-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গড় মাসিক সুবিধা ছিল ২,০৮৫ দশমিক ৯৮ ডলার। অর্থাৎ সর্বোচ্চ সুবিধা ও গড় সুবিধার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।   চলতি বছরে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় কার্যকর হয়েছে। ২০২৬ সালে পূর্ণ অবসর বয়সে অবসর নেওয়া ব্যক্তির সর্বোচ্চ মাসিক সুবিধা ৪,১৫২ ডলার হয়েছে। তবে প্রত্যেক সুবিধাভোগীর প্রকৃত পেমেন্ট তার নিজের আয়ের ইতিহাস, কখন সুবিধা নেওয়া শুরু করেছেন এবং কোন ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে। নিজের সম্ভাব্য পেমেন্ট জানতে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অ্যাকাউন্টে ব্যক্তিগত সুবিধার হিসাব দেখা যায়।   এদিকে সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখের পর নিয়মিত জন্মতারিখভিত্তিক পেমেন্ট চক্র শেষ হবে। এরপর অক্টোবরের পেমেন্ট সূচি শুরু হবে। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত পেমেন্টের দিন ছুটির দিন বা সপ্তাহান্তে পড়লে সাধারণত আগের কর্মদিবসে পেমেন্ট দেওয়া হয়। কোনো সুবিধাভোগীর নির্ধারিত দিনে টাকা না এলে সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা হয়েছে ধরে না নিয়ে প্রথমে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তথ্য যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৯:২০
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের অধিবেশনে যাওয়ার আগে ইরানের প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম দলকে ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের। তবে তার সফরসঙ্গী হিসেবে নিযুক্ত গণমাধ্যম ও যোগাযোগ দলকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে জাতিসংঘের ৮১তম বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে একটি বিশেষ যোগাযোগ ও সংবাদকর্মী দলের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাদের ভিসা আবেদন সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পেজেশকিয়ানের এটিই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। আগামী বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।   ভিসা প্রত্যাখ্যানের এই ঘটনাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নজিরবিহীন ও বৈরী পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে ইরনা। আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজও একই ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ আব্বাসির বরাতে তারা জানায়, প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম দলকে ভিসা না দেওয়া হলেও নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোর খবর জনসাধারণের কাছে ঠিকই পৌঁছে দেওয়া হবে।   গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর মাসুদ পেজেশকিয়ানই প্রথম কোনো উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। তবে ভিসা দিলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবার ইরানি প্রতিনিধিদলের ওপর বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এমনকি নিউইয়র্কে অবস্থানকালে তারা কোনো বিলাসবহুল পণ্য বা নির্দিষ্ট কিছু সামগ্রী কিনতে পারবেন না বলেও শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।   জাতিসংঘের সদর দপ্তর নিউইয়র্কে অবস্থিত হওয়ায় চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোর কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদলকে ভিসা দিতে যুক্তরাষ্ট্র একপ্রকার বাধ্য। তবে জাতীয় নিরাপত্তা বা বৈদেশিক নীতির কারণ দেখিয়ে বিভিন্ন সময় মার্কিন প্রশাসন বেশ কিছু দেশের প্রতিনিধি ও তাদের সফরসঙ্গীদের ভিসা দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা এই বৈরিতার কারণে প্রায়ই ইরানি কর্মকর্তাদের ভিসা প্রদানে জটিলতা সৃষ্টি করে ওয়াশিংটন। এর আগেও বিভিন্ন সময় জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা প্রদানে বিলম্ব বা সরাসরি অস্বীকৃতির ঘটনা ঘটেছে।   কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনারই একটি নতুন রূপ এই ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনা। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বর্তমানে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ইরানের সম্পর্ক বেশ শীতল। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের ভিসা না দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজক দেশের ভূমিকা এবং ভিসা নীতির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। সাধারণত ভিসা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তার কথা বলে মার্কিন প্রশাসন এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে।   সূত্র: ইরনা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৯:৮
মো. নুরুল ইসলাম
প্রতিবন্ধী শিশুকে বাগানে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ৭০ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

রংপুরের পীরগঞ্জে ১০ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মো. নুরুল ইসলাম (৭০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বড়দরগাহ ইউনিয়নের গুজিপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।    মামলার এজাহার অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিশুটির মা স্থানীয় বাজারে কাজ শেষে বাড়ি ফিরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির উত্তর-পশ্চিম দিকে একটি ইউক্যালিপটাস বাগানের কাছে অভিযুক্ত নুরুল ইসলামকে দেখতে পান তিনি।    পরে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যরা একটি কক্ষের দরজা বন্ধ অবস্থায় শিশুটিকে কান্নারত দেখতে পান। তাকে বাইরে আনার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তার কাছ থেকে ঘটনার কথা জানতে পারেন। শিশুটির মায়ের অভিযোগ, তার মেয়ে জানিয়েছে—নুরুল ইসলাম তাকে বাড়ির পাশের একটি বাগানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।   ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।    এ ঘটনায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিশুটির মা বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৪)(খ) ধারায় মামলা করেন। মামলার নম্বর ৩৩।    পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজমুল হক জানিয়েছেন, মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৮:৫১
আলাস্কায় বন্দুক দুর্ঘটনায় নিহত তরুণী ক্লোরে ম্যাকব্রেয়ার। ছবি: সংগৃহীত
বন্দুক নিয়ে ‘খেলতে গিয়ে’ দুর্ঘটনাবশত প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যা, এরপর নিজেই আত্মহত্যা করলেন যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় বন্দুক নিয়ে খেলতে গিয়ে প্রেমিকাকে গুলি করার পর এক তরুণেরও মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছে, ২২ বছর বয়সী ল্যান্ডন লোরেন্স একটি রিভলবার নিয়ে খেলছিলেন। একপর্যায়ে সেটি তাঁর ২১ বছর বয়সী প্রেমিকা ক্লোইরে ম্যাকব্রেয়ারের দিকে তাক করে ট্রিগার চাপলে গুলি বেরিয়ে তাঁকে আঘাত করে। কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের বাগদানের পরিকল্পনা ছিল বলে জানিয়েছে তরুণীর পরিবার।   ঘটনাটি ঘটে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে আলাস্কার ফেয়ারব্যাঙ্কস শহরের বেন্টলি ড্রাইভের একটি বাড়িতে। ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, রাত প্রায় ৯টা ১২ মিনিটে জরুরি সেবা ৯১১-এ ফোন করেন লোরেন্সের এক বন্ধু। তিনি জানান, লোরেন্স দুর্ঘটনাবশত তাঁর প্রেমিকাকে গুলি করেছেন।   পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, লোরেন্স একটি রিভলবার নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন এবং একপর্যায়ে সেটি ম্যাকব্রেয়ারের দিকে তাক করেন। এরপর ট্রিগার চাপলে গুলি বেরিয়ে যায়। ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশের উপপ্রধান রিচার্ড সুইট স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তদন্তকারীদের ধারণা রিভলবারটির চেম্বারে একটি গুলি ছিল। তবে অস্ত্রটিতে গুলি থাকার বিষয়টি লোরেন্স জানতেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ঘটনার সময় ম্যাকব্রেয়ার অন্য একজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। গুলির ঘটনার পর সেখানে উপস্থিত লোরেন্সের বন্ধু দ্রুত ৯১১-এ ফোন করেন এবং পুলিশ আসা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে লাইনে ছিলেন।   এর মধ্যেই পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। পুলিশ জানায়, লোরেন্স আরেকটি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিলে তাঁর বন্ধু তাঁকে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ৯১১-এর ফোন সংযোগ তখনও চালু ছিল এবং অপর প্রান্ত থেকে ধস্তাধস্তির শব্দ শোনা যায়। বন্ধুর চেষ্টা সত্ত্বেও লোরেন্স নিজেকে গুলি করেন।   পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ম্যাকব্রেয়ারকে মৃত অবস্থায় পায়। গুরুতর আহত লোরেন্সকে ফায়ার বিভাগের চিকিৎসাকর্মীরা ফেয়ারব্যাঙ্কস মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।   ঘটনার সময় উপস্থিত এবং ৯১১-এ ফোন করা বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় ওই বন্ধুর কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তারা মনে করছে না। ৯১১ কলের রেকর্ডের কারণে প্রথম গুলির পর কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা একটি পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন। তবে অঙ্গরাজ্যের মেডিকেল পরীক্ষকের চূড়ান্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত তদন্তটি খোলা রাখা হয়েছে।   ঘটনার পর ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশ একে ‘মর্মান্তিক ও প্রতিরোধযোগ্য প্রাণহানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। পুলিশ সবাইকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশের উপপ্রধান রিচার্ড সুইট বলেছেন, প্রতিটি আগ্নেয়াস্ত্র সব সময় গুলিভর্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজন ছাড়া কখনোই কারও দিকে অস্ত্র তাক করা উচিত নয়।   এদিকে ম্যাকব্রেয়ারের পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই লোরেন্সের সঙ্গে তাঁর বাগদানের পরিকল্পনা ছিল। আলাবামায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা ম্যাকব্রেয়ার সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব আলাস্কা ফেয়ারব্যাঙ্কসে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।   ম্যাকব্রেয়ারের মা আমান্ডা হুপার মেয়েকে পরিবারের প্রাণবন্ত একজন সদস্য হিসেবে স্মরণ করেছেন। তাঁর ভাষায়, ম্যাকব্রেয়ার পরিবার ও বন্ধুদের গভীরভাবে ভালোবাসতেন এবং অন্যদের সাহায্য করতে পছন্দ করতেন। ছোটবেলায় তিনি খেলাধুলা, চিয়ারলিডিং ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিয়েছিলেন।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এক বন্ধুর মাধ্যমে লোরেন্সের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল ম্যাকব্রেয়ারের। পরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ম্যাকব্রেয়ারের বড় বোন লরি হান্ট জানান, পরিবার তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করছিল।   মেয়ের মৃত্যুর পর লোরেন্সের পরিবারের প্রতিও সহমর্মিতা জানিয়েছেন ম্যাকব্রেয়ারের মা। তিনি বলেছেন, লোরেন্সের বাবা-মায়ের ওপর তিনি ক্ষুব্ধ নন এবং তাঁদের পক্ষেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল না। তবে ঠিক কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা জানতে চান তিনি।   ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশ বলছে, ঘটনাটি আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপত্তার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। বন্দুক নিয়ে কোনো ধরনের খেলা বা এমন কর্মকাণ্ডে অংশ না নিতে সতর্ক করেছে পুলিশ, যেখানে নিজের বা অন্য কারও জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   সূত্র: ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশ বিভাগ, Alaska’s News Source

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৮:৪২
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও চীনের রাষ্ট্রদূত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, সাইবার নিরাপত্তায় সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।   সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ বিনিময়ের বিষয়ও গুরুত্ব পায়। দুই পক্ষ এসব ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে।   বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, আগামী অক্টোবরের শুরুতে বাংলাদেশে তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এরপর তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন। এ সময় তিনি চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে শুভেচ্ছা জানান।   এ ছাড়া চীনের জননিরাপত্তাবিষয়ক একটি ফোরামে অংশ নেওয়া এবং দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের লক্ষ্যে সালাহউদ্দিন আহমদকে চীন সফরের আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন ইয়াও ওয়েন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, উচ্চপর্যায়ের এ ধরনের যোগাযোগ দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে।   বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় সাইবার অপরাধ মোকাবিলা। রাষ্ট্রদূত জানান, গত দুই বছরে চীন বাংলাদেশের একশর বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, জননিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, যানবাহন ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা, অভিবাসন এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম রয়েছে।   চীনের এ সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।   এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ পুলিশে একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ইউনিটটি পরিচালিত হবে। পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ইউনিট ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের মাধ্যমে বর্তমানে যেসব সাইবার অপরাধ তদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোকে আরও স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।   সোমবারের বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং প্রশিক্ষণ বিনিময়ের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১০:৭
ইতালির বোলোনিয়ায় পাকিস্তানি ইমাম জুলফিকার খানকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অজুহাতে ডিপোর্ট করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বিচার শেষ হওয়ার আগেই ইতালিতে ইমাম ডিপোর্ট! যে আইনে নড়ল আবাসনও, জানুন

ইতালির বোলোনিয়ায় পাকিস্তানি ইমাম জুলফিকার খানকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে দেশ থেকে ডিপোর্টের নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। ৫৪ বছর বয়সী খান ১৯৯৫ সাল থেকে ইতালিতে বসবাস করছিলেন। ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ানতেদোসি তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টের নির্দেশ জারি করেন। তবে বিষয়টি পুরোপুরি বিচারবহির্ভূত ছিল না। ইতালির আইনে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশি নাগরিককে প্রশাসনিকভাবে ডিপোর্টের নির্দেশ দিতে পারেন। পরদিন বোলোনিয়ার দেওয়ানি আদালত সেই ডিপোর্টের নির্দেশ অনুমোদনও করে।   ইতালির অভিবাসন আইনের ১৩ নম্বর ধারার প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো বিদেশি নাগরিককে ডিপোর্টের নির্দেশ দিতে পারেন, এমনকি তিনি ইতালিতে বৈধভাবে বসবাস করলেও। এই ধারাটিই খানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ সাধারণ কোনো ফৌজদারি মামলায় আদালতের রায় হওয়ার পর তাকে ডিপোর্ট করা হয়নি। বরং সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ডিপোর্টের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়, যার বৈধতা ও প্রক্রিয়াগত দিক পরে আদালতে যাচাই হয়।   সরকারের ডিপোর্টের নির্দেশে খানের বক্তব্য, ধর্মীয় বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শরৎ থেকে তার মধ্যে উগ্রপন্থী অবস্থানের প্রকাশ বাড়তে দেখা যায়। কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে পশ্চিমবিরোধী, ইহুদিবিদ্বেষী, সমকামিতাবিরোধী এবং নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের অভিযোগ তোলে। এছাড়া কিছু বক্তব্যে হামাসের প্রতি সমর্থন, জিহাদের একটি উগ্র ব্যাখ্যা এবং সংঘাতে নিহত যোদ্ধাদের শহীদ হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগও নথিতে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগ অবশ্য খানের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি দণ্ডের সমান নয়।   ইতালীয় কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করে, খানের সঙ্গে এমন কিছু ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল, যাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতি উগ্র ইসলামপন্থী পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত বলে বিবেচনা করেছিল। বোলোনিয়ার একটি মসজিদে তার ধর্মীয় বক্তব্য এবং ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওও তদন্তের আওতায় আসে। ইতালির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উসকানির অভিযোগে আলাদা তদন্তও চলছিল।   তবে খানের আইনজীবী ফ্রান্সেস্কো মুরু সরকারের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য ছিল, খানকে তার মতামতের জন্য শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং এই পদক্ষেপকে তিনি পুলিশি রাষ্ট্রের দিকে ফিরে যাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন। প্রতিরক্ষা পক্ষ ডিপোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মূল কারণগুলো নিয়ে তারা আঞ্চলিক প্রশাসনিক আদালত বা টার লাৎসিওতে আপিল করবে।   ৯ অক্টোবর ২০২৪ বোলোনিয়ার দেওয়ানি আদালতের অভিবাসন বিষয়ক শাখা ডিপোর্টের নির্দেশটি অনুমোদন করে। আদালতের ওই পর্যায়ের পর্যালোচনার পর খানকে পাকিস্তানে পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। তার আইনজীবী তখন টার লাৎসিওতে আপিল করার কথা জানান। ফলে ‘বিচার ছাড়াই ডিপোর্ট’ কথাটি সরলীকৃতভাবে বলা হলেও, বাস্তবে প্রক্রিয়াটিতে প্রশাসনিক ডিপোর্টের নির্দেশের পর বিচারিক অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক আদালতে আপিলের সুযোগ ছিল।   খানের ঘটনাটি ইতালিতে জাতীয় নিরাপত্তা, অভিবাসন আইন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে। একদিকে সরকার বলেছে, কোনো বিদেশি নাগরিকের বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করলে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে তার আইনজীবী ও সমর্থকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, অপরাধে দণ্ডিত না হয়েও বক্তব্য ও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় অবস্থানের ভিত্তিতে একজন দীর্ঘদিনের বাসিন্দাকে ডিপোর্ট করা কতটা যুক্তিসংগত। এই দুই অবস্থানের মধ্যেই মামলাটি ইতালিতে নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ভারসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিতর্কের উদাহরণ হয়ে ওঠে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৮:২০
রফিকুল ইসলাম ফারুক এবং সানিয়াত খান বাপ্পা ছবি:সংগৃহীত।
ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা: ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।   সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। প্রায় ১৩ বছর আগে সংঘটিত আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রায় এলো।   মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামি হলেন—সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, মো. আজাদ ও শাহজাহান। আদালত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামিই পলাতক।   এ ছাড়া মো. সুজন, ছানোয়ার হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও রুজবেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে।   মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে প্রাতর্ভ্রমণে বের হয়েছিলেন দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন। টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় তাঁর ওপর হামলা হয়। হামলাকারীরা গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।    হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। বাদী ওই অভিযোগপত্রে নারাজি দিলে আদালতের নির্দেশে পরে সিআইডি পুনঃতদন্ত করে। ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল সিআইডি আটজনের বিরুদ্ধেই পুনরায় অভিযোগপত্র জমা দেয়।   দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে সোমবার আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড, চারজনকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে খালাস দেওয়ার রায় ঘোষণা করেন। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৮:১
এফ-১ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সিপিটি নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ শিক্ষার্থীদের সিপিটিতে কড়াকড়ি, ইন্টার্নশিপে নতুন শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ ভিসায় পড়াশোনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা সিপিটি ব্যবহারের নিয়ম আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ শুরু হয়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং এর অধীন স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম গত আগস্টে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করে। এরপর একাধিক মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সিপিটি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ইন্টার্নশিপ, প্র্যাকটিকাম বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ শুধু ঐচ্ছিক হলে সেটি সিপিটির জন্য যোগ্য নাও হতে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণকে শিক্ষার্থীর ডিগ্রি কারিকুলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে একই ডিগ্রি প্রোগ্রামের সব শিক্ষার্থীর জন্য তা বাধ্যতামূলক হতে হবে।   সিপিটি হলো এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুমোদিত একটি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্কিত ইন্টার্নশিপ, কো-অপারেটিভ এডুকেশন, প্র্যাকটিকাম বা অন্যান্য বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। নতুন নির্দেশনার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন আগের তুলনায় আরও সতর্কতার সঙ্গে সিপিটির আবেদন যাচাই করছে। ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাটের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও স্কলার সার্ভিসেস জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনার ভিত্তিতে এমন সিপিটি অনুমোদন করা যাবে না, যা ডিগ্রি প্রোগ্রামের সব শিক্ষার্থীর জন্য স্নাতক বা ডিগ্রি সম্পন্ন করার বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। একই ধরনের পরিবর্তন অন্যান্য মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরেও দেখা যাচ্ছে।   নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে ঐচ্ছিক ইন্টার্নশিপের ক্ষেত্রে। আগে কোনো একাডেমিক প্রোগ্রামের সঙ্গে ইন্টার্নশিপ বা ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা যুক্ত থাকলেও সেটি সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক না হলে কিছু ক্ষেত্রে সিপিটি অনুমোদনের সুযোগ ছিল। এখন নতুন নির্দেশনার পর ডিগ্রি সম্পন্ন করার জন্য ব্যবহারিক প্রশিক্ষণটি যদি বাধ্যতামূলক না হয়, তাহলে সেটিকে সিপিটির জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচনা না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে তাদের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে এমন নতুন সিপিটি আবেদন অনুমোদন করা হবে না, যা ডিগ্রি প্রোগ্রামের সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটিও জানিয়েছে, ঐচ্ছিক ইন্টার্নশিপ এবং ডিগ্রি সম্পন্নের জন্য বাধ্যতামূলক নয়—এমন ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সিপিটির আওতায় পড়বে না।   তবে এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের সিপিটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যেসব ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠিত কারিকুলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ডিগ্রি প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক, সেগুলো এখনও সিপিটির আওতায় থাকতে পারে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় থিসিস বা গবেষণামূলক কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বিশেষ ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সিপিটি বিবেচনা করছে। ইউনিভার্সিটি অব ওরেগনের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তর জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক ডিগ্রি শর্তের পাশাপাশি এমন কিছু ইন্টার্নশিপ, প্র্যাকটিকাম বা ফিল্ডওয়ার্ক সিপিটির জন্য বিবেচিত হতে পারে, যা প্রয়োজনীয় মাস্টার্স থিসিস বা ডক্টরাল গবেষণাপত্র সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় এবং যার যথাযথ একাডেমিক ভিত্তি রয়েছে। ফলে সিপিটির যোগ্যতা নির্ধারণে এখন প্রতিটি শিক্ষার্থীর ডিগ্রি প্রোগ্রাম, কারিকুলাম এবং একাডেমিক শর্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   নতুন নির্দেশনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বিষয়টি শুধু শিক্ষার্থীর আবেদন অনুমোদনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিয়ম মেনে চলার দায়িত্ব বাড়ছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভুলভাবে সিপিটি অনুমোদন করলে শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অভিবাসন আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের পুরোনো সিপিটি নীতি পুনর্বিবেচনা করছে এবং চলমান আবেদনগুলোও নতুন নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করছে। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটিও জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনার পর তাদের কাছে থাকা চলমান সিপিটি আবেদনগুলো নতুনভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।   বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিবর্তন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ বা ব্যবহারিক কাজের অভিজ্ঞতা অনেক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ চাকরি, পেশাগত যোগাযোগ এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন সিপিটি নির্দেশনার কারণে ঐচ্ছিক ইন্টার্নশিপের ওপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীদের তাই আগেভাগেই নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তর এবং একাডেমিক বিভাগের সঙ্গে সিপিটির যোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সিপিটি ও অপ্টি এক বিষয় নয়। সিপিটি মূলত পড়াশোনার সময়কার কারিকুলাম-সম্পর্কিত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, আর অপ্টি হলো আলাদা কর্মসংস্থান অনুমোদন ব্যবস্থা। ফলে সিপিটি নিয়ে নতুন নির্দেশনাকে অপ্টি বন্ধ বা বাতিলের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, মূল পরিবর্তনটি হচ্ছে সিপিটির যোগ্যতা নির্ধারণ ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোরতা বৃদ্ধি।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৭:৫৮
উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতারণা কেন্দ্রে বাংলাদেশিরা: জাতিসংঘ
উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতারণা কেন্দ্রে বাংলাদেশিরা: জাতিসংঘ

উচ্চ বেতন ও উন্নত জীবনযাপনের সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষিত বাংলাদেশিদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নিয়ে গিয়ে অনলাইন প্রতারণা চক্রে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন দালালচক্রের মাধ্যমে এসব বাংলাদেশিকে প্রথমে বিদেশে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের অনেককে জোরপূর্বক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে।   জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর ইউএনওডিসির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ‘ট্রাফিকড টু স্ক্যাম: সাউথ এশিয়ান রেসপন্সেস টু ট্রাফিকিং ইন পারসনস ফর দ্য পারপাস অব ফোর্সড ক্রিমিনালিটি ইন স্ক্যাম অপারেশনস’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় প্রকাশ করা হয়।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২০২২ সাল থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন প্রতারণা কার্যক্রমে জোরপূর্বক অপরাধে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে পাচারের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাসে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে তাঁদের আকৃষ্ট করা হয়। প্রতারণামূলক নিয়োগের পাশাপাশি লাইসেন্সধারী নিয়োগ সংস্থা ও স্থানীয় অনানুষ্ঠানিক দালালদের কয়েক স্তরের নেটওয়ার্কও এ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।   বাংলাদেশিদের জন্য যেসব দেশকে গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইউএনওডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ক্ষেত্রে প্রতারণামূলক অনলাইন নিয়োগই পাচারকারীদের প্রধান কৌশল। অনেক সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দালালদের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং বিদেশে ভালো চাকরির সুযোগের কথা বলে তাঁদের প্রলুব্ধ করা হয়।   এই পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সবাই যে কম শিক্ষিত বা অদক্ষ, তা নয়। বরং বাংলাদেশ নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতারণা কেন্দ্রে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ রয়েছেন। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৪ জন উচ্চমাধ্যমিক, ৪৮ জন মাধ্যমিক, ২৫ জন স্নাতক এবং তিনজন স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ছিলেন।   গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিদেশে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৬ জন ঢাকার, ২৮ জন চট্টগ্রামের, ২৫ জন খুলনার এবং ২২ জন রাজশাহীর বাসিন্দা ছিলেন।   বিদেশে যাওয়ার সময় ৮৪ জন অবিবাহিত এবং ৬৬ জন বিবাহিত ছিলেন। পাচারের আগে ২২ জন শিক্ষার্থী এবং ১৬ জন বেকার ছিলেন। আয়ের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা ছিল অনেকের। ৫৭ জন জানিয়েছেন, বিদেশে যাওয়ার আগে তাঁদের কোনো মাসিক আয় ছিল না। আর ৬০ জনের মাসিক আয় ছিল ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।   ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, প্রতারণা কেন্দ্রগুলো শিক্ষিত মানুষকে টার্গেট করে, কারণ এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ইংরেজি ভাষা ও কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা প্রয়োজন। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।   শরিফুল হাসান আরও বলেন, বাংলাদেশে সাইবার প্রতারণা কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষতা ক্রমেই সহজলভ্য হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমন কিছু কেন্দ্র ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে বলেও তাঁরা সন্দেহ করছেন।   ইউএনওডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের শুধু অনলাইন প্রতারণায় যুক্ত করা হয় না, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁদের দিয়ে অন্যান্য অপরাধও করানো হয়। তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো, ভয়ভীতি দেখানো এবং অন্য কর্মীদের ওপর সহিংসতা চালাতে বাধ্য করার ঘটনাও প্রতিবেদনে নথিভুক্ত হয়েছে।   প্রতিবেদনে বাংলাদেশের একজন তরুণের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। ২০২২ সালে বিশের কোঠায় থাকা ওই বাংলাদেশি একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আশ্বাসে পরিচিত একজনের মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় যান। বিদেশে যাওয়ার জন্য তাঁর পরিবার জমি বন্ধক রেখে ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত নিয়োগ ফি পরিশোধ করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি দালালরা তাঁকে একটি অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর তাঁকে নমপেন থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরের দারা সাকোর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের লং বে নামের একটি প্রতারণা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।.   ইউএনওডিসির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তাঁকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি এবং বিনিয়োগের নামে অনলাইন প্রতারণা করতে বাধ্য করা হয়। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হলে তাঁকে নির্যাতন করা হতো। এমনকি অন্য কর্মীদের মারধর করতেও ওই বাংলাদেশিকে বাধ্য করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বড় বড় প্রতারণা কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি ছোট পরিসরের জায়গা, যেমন ভাড়া করা বাড়ি, হোটেল ও অ্যাপার্টমেন্টেও এ ধরনের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ছে বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এসব কেন্দ্র শনাক্ত করা এবং পাচারের শিকার ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।   এ ধরনের ঘটনায় একটি বড় সমস্যা হলো, প্রতারণা করতে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিদের অনেক সময় প্রথমে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইউএনওডিসি বলছে, কেউ ভুয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছে, অনলাইনে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বা প্রতারণার অন্য কোনো কাজে যুক্ত আছে বলেই তাকে স্বেচ্ছায় অপরাধে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তিনি পাচারের শিকার কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।   বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ইউএনওডিসির সাম্প্রতিক মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে প্রতারণা কেন্দ্র থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের নিয়মিতভাবে পাচারের শিকার কি না, তা যাচাই করা হয় না। ২০২৪ সালে জাতীয় রেফারেল ব্যবস্থা ও ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ নির্দেশিকা চালু হলেও এর প্রয়োগ এখনো ধারাবাহিক নয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আর্থিক তদন্ত এবং অর্থপাচার ও ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত লেনদেন অনুসন্ধানের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, অনলাইন প্রতারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এর পেছনে থাকা মানবপাচার চক্র এবং জোরপূর্বক অপরাধে যুক্ত করা ব্যক্তিদের আলাদাভাবে শনাক্ত করা প্রয়োজন। ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন ও দালালচক্রের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতা, কাজের স্থান, বেতন ও ভিসার তথ্য যাচাই এবং সন্দেহজনক প্রস্তাব সম্পর্কে সতর্ক থাকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: ইউএনওডিসি, নিউ এজ, ব্র্যাক।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৭:৪৪
রাষ্ট্রপতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।
বেকারত্বের লাগাম টানতে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের তাগিদ রাষ্ট্রপতির

দেশের বেকারত্ব হ্রাস এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তির বরাতে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস এ তথ্য জানিয়েছে।   সাক্ষাৎকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়টির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।    রাষ্ট্রপতি বলেন, বৈশ্বিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষার্থীদের একাধিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন। এ কারণে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।   এর একদিন আগেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসংস্থানমুখী পাঠ্যক্রম তৈরির কথা বলেন। প্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছয় মাস ও এক বছর মেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স চালুর আহ্বানও জানান তিনি।   জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। পাশাপাশি আসন্ন সমাবর্তনে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য তাঁকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৭:৩০
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুন। ছবি: সংগৃহীত
‘কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারানো সম্মানের, ভালোবাসা ভাগ করার বিষয় নয়’: চিঠিতে মরিয়ম

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার রেখে যাওয়া বলে পরিচিত কয়েকটি হাতে লেখা নোট সামনে এসেছে। এসব লেখায় সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিশ্বাসভঙ্গ, ভালোবাসা এবং আত্মসম্মান নিয়ে তার ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা উঠে এসেছে।   মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেছেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। সোমবার আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।   পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাটি তদন্ত করতে ফরেনসিক দলও ঘটনাস্থলে কাজ করেছে।   মরিয়মের রেখে যাওয়া বলে পরিচিত নোটগুলোর কয়েকটি জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল প্যাডে লেখা। কোথাও কালো কালি, কোথাও লাল কালিতে লেখা এসব পাতায় তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভের কথা উঠে এসেছে।   একটি লেখায় মরিয়ম লিখেছেন, তিনি গভীর বিশ্বাস নিয়ে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। কিন্তু শেষ দিকে এসে তাঁর মনে হয়েছে, যাকে তিনি নিজের পাশে ভেবেছিলেন, তিনিই যেন বিপরীত অবস্থানে ছিলেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।’   অন্য একটি লেখায় নিজের অবস্থান ও সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরেছেন মরিয়ম। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের কারণ... ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়... ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’   আরেকটি পাতায় সম্পর্ককে একটি খেলায় পরিণত করার অনুভূতির কথা লিখেছেন তিনি। সেখানে রয়েছে, ‘সে বলেছিল আজ থেকে আমরা বন্ধু চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক গুটি।’   আরেকটি লেখায় বিশ্বাস করার কারণে প্রতারিত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে মরিয়ম লিখেছেন, তিনি বিশ্বাস করেছিলেন বলেই তাঁকে ঠকানো সম্ভব হয়েছে। একই লেখায় নিজের কষ্টের মধ্যেও হাসিমুখে থাকার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।   লাল কালিতে লেখা আরেকটি সংক্ষিপ্ত বার্তায় আত্মসম্মানের বিষয়টিও উঠে এসেছে। সেখানে মরিয়ম লিখেছেন, মায়ার কারণে তিনি বারবার নত হয়েছেন, তবে নিজেকে অন্যের ধারণার মতো ‘সস্তা’ মনে করেন না।   এ ছাড়া ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখ লেখা একটি পাতায় ঘুমানোর আগে পড়ার জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় আমলের তালিকাও পাওয়া গেছে। সেখানে কালেমা, দরুদ শরিফ, ঘুমের দোয়া, আয়াতুল কুরসী, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম, আস্তাগফিরুল্লাহসহ বিভিন্ন আমলের কথা লেখা ছিল।   মরিয়মের মৃত্যু নিয়ে করা মামলায় তাঁর বাবা বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, জুন মাসে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয় এবং এরপর তিনি ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন। মামলায় মরিয়মকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।   মরিয়মের মৃত্যুর আগে জুলাইয়ে গাজী নজরুল ও মরিয়মকে ঘিরে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই সময় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরে গাজী নজরুল নিজেই ওই তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে বলে প্রথম আলো জানিয়েছে।   মরিয়মের হাতে লেখা নোটগুলোর বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি ও উপলব্ধির প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নোটগুলো সত্যিই তাঁর লেখা কি না এবং সেগুলোর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট কী ছিল, তা ফরেনসিক ও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তাই এসব লেখায় থাকা অভিযোগ বা বক্তব্যকে তদন্তের ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার তদন্ত এখন চলমান। আদালতের আদেশ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।   সূত্র: প্রথম আলো, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), জাগো নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৭:১৭
শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার।
নেশার টাকার জন্য ১১ মাসের মেয়েকে ৪০ হাজারে বিক্রি, দুই মাস পর উদ্ধার করল পুলিশ

গাইবান্ধায় মাদকের টাকা জোগাড়ের জন্য নিজের ১১ মাস বয়সী শিশুকন্যাকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবা হামিদুল মিয়ার বিরুদ্ধে। প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।    পুলিশ ও পরিবারের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গত জুলাইয়ে শিশুটিকে নানার বাড়ি থেকে নিয়ে যান হামিদুল। এর আগে শিশুটির মা রুমানা আক্তারের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে মেয়েকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।   পরবর্তী সময়ে শিশুটিকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারী ৯ হাজার টাকা নেওয়ার পর হামিদুলের হাতে ৩১ হাজার টাকা পৌঁছায়।    রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।   আটকের সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কিছু অমিল রয়েছে। আজকের পত্রিকা ও যুগান্তর তিনজন আটকের কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে ইত্তেফাক ও দীপ্ত নিউজ বাবা হামিদুলসহ চারজন আটকের কথা বলেছে। তাই তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত তথ্য না আসা পর্যন্ত সংখ্যাটি নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। শিশুটিকে কার মাধ্যমে এবং কীভাবে বিক্রি করা হয়েছিল, সেই প্রক্রিয়ায় আর কেউ জড়িত ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তে পরিষ্কার হওয়ার কথা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৭:০