- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
রাজধানীর সূত্রাপুরের শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে এবং সবার চিকিৎসা চলছে। দগ্ধরা হলেন—সিদ্দিক বেপারী (৬০), তার ছেলে সৌদি আরবপ্রবাসী মো. ইমন (২৬), ভাতিজা রাজিব (৩৮), ভাগনে আরিফুর রহমান ধলু (৩৫) এবং ভাগ্নি তানিয়া আক্তার (২০)। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, তারা শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকার পৈতৃক সম্পত্তিতে পাশাপাশি বসবাস করেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় বাসার সামনে ময়লা পানি জমিয়ে রাখা নিয়ে। পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমনের বোন সুলতানা বাসার সামনে ময়লা পানি জমিয়ে রাখেন। বিষয়টি দেখে তানিয়া পানি পরিষ্কার করতে বললে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে সুলতানা বিষয়টি তার ভাই ইমনকে জানান। ইমন সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর শনিবার বিকেলে এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন বলে স্বজনদের দাবি। স্বজনদের বর্ণনা অনুযায়ী, একপর্যায়ে ইমন সবাইকে হুমকি দিয়ে নিজের গায়ে পেট্রোল ঢালেন। পরে সেখানে থাকা অন্যদের শরীরেও পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে পাঁচজনই আগুনে দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। ঘটনাটির এই বিবরণ মূলত স্বজনদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদের বরাত দিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইমনের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ, তানিয়ার ৬০ শতাংশ, সিদ্দিকের ৩৫ শতাংশ, রাজিবের ১৫ শতাংশ এবং আরিফুর রহমানের ৮ শতাংশ পুড়ে গেছে। দগ্ধ পাঁচজনকেই হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক বিরোধ কীভাবে এত বড় অগ্নিকাণ্ডে রূপ নিল, আগুন দেওয়ার আগে ও পরে ঠিক কী ঘটেছিল এবং এতে কার কী ভূমিকা ছিল—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে পেট্রোল ব্যবহার করে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পাঁচজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে ১৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারে বিক্রির তালিকায় উঠেছে বিরল একটি ভাসমান বাড়ি। শহরের মিশন ক্রিক এলাকায় ওরাকল পার্কের কাছে থাকা মাত্র ২০টি হাউসবোটের একটি এটি। এসব ভাসমান বাড়ি সাধারণত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় পরিবারগুলোর মধ্যে হস্তান্তর হয়ে থাকে। ফলে প্রকাশ্য বাজারে এমন বাড়ির বিক্রি অত্যন্ত বিরল। বিক্রির জন্য তোলা বাড়িটির মালিক টাইসন গ্রাহাম। তিনি ২০০২ সালে হাউসবোটটি কিনেছিলেন ২ লাখ ২৫ হাজার ডলারে। তখন এটি ছিল মাত্র ৪০ ফুটের একটি নৌযান এবং ৪০ ফুটের নোঙর করার জায়গা। সামনে ও পেছনে দুটি ডেক থাকলেও বাড়িটির আয়তন ছিল ৩০০ বর্গফুটেরও কম। শিকাগোর বাসিন্দা গ্রাহাম পরে নিজের শ্রম ও পরিকল্পনায় হাউসবোটটির ব্যাপক পরিবর্তন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে তিনি ছোট নৌযানটিকে প্রায় ১ হাজার ৯০০ বর্গফুটের একটি আবাসিক বাড়িতে রূপ দেন। বর্তমানে এতে রয়েছে তিনটি শয়নকক্ষ ও তিনটি বাথরুম। হাউসবোটটি নির্মাণের সময় গ্রাহামের পরিকল্পনায় দুটি আলাদা আবাসিক ইউনিট রাখার বিষয়টি ছিল। ওপরের তলাটি তিনি আলাদা একটি ভাড়ার ইউনিট হিসেবে তৈরি করেছিলেন। আর নিচের তলাটি নিজের বসবাসের জন্য রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বাড়িটির ওপরের তলার সেই আলাদা ইউনিটটি পরিবর্তন করে একটি বড় মূল শয়নকক্ষে পরিণত করা হয়। সেখানে রয়েছে একটি বাথরুম এবং বড় আকারের পোশাক রাখার কক্ষ। এ পরিবর্তনের ফলে পুরো বাড়িটি এখন একটি বড় আবাসিক ইউনিট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মিশন ক্রিক এলাকায় থাকা হাউসবোটগুলোর মধ্যে প্রকাশ্য বাজারে বিক্রির ঘটনা খুবই কম। গ্রাহামের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মাত্র তিনটি হাউসবোট প্রকাশ্য বাজারে বিক্রির জন্য উঠেছে। সেই তালিকায় থাকা তার বাড়িটির বর্তমান মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বিক্রয়মূল্যের বাইরে বাড়িটির মালিককে প্রতি মাসে নোঙর করার জায়গার জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। তবে গ্রাহামের দাবি, এই মাসিক খরচ সান ফ্রান্সিসকো শহরের অধিকাংশ আবাসন মালিক সমিতির ফি থেকে কম। পানিতে ভাসমান হলেও এই বাড়ির জীবনযাপন স্থলভাগের বাড়ির মতোই বলে জানিয়েছেন গ্রাহাম। তার মতে, পানির ওপর অবস্থানের কারণে বাড়িটিতে অতিরিক্ত কোনো বিশেষ ধরনের ব্যবস্থা বা নিয়মের প্রয়োজন হয় না। তবে প্রবল বাতাসে বাড়িটি দুলতে শুরু করলে তখনই বোঝা যায় এটি পানির ওপর ভাসমান একটি বাড়ি। এই হাউসবোটের সঙ্গে গ্রাহামের দীর্ঘদিনের বসবাসের স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। তিনি জানিয়েছেন, ফেরি ভবনের কৃষকের বাজারে নৌকায় করে যাওয়া এবং চ্যানেল স্ট্রিটের এই এলাকার মানুষের সঙ্গে কাটানো সময় তিনি মিস করবেন। গ্রাহাম প্রায় ২৫ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করেছেন। বর্তমানে তার বাড়ি সানোমা কাউন্টিতে। শহরের জীবন থেকে দূরে গিয়ে অবসর জীবনের পরবর্তী সময় উপভোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। নিজের সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে গ্রাহাম জানিয়েছেন, তিনি কখনো বিয়ে করেননি এবং তার কোনো সন্তানও নেই, যে ভবিষ্যতে বাড়িটির দায়িত্ব নিতে পারে। কয়েক বছর আগে অবসর নেওয়ার পর এখন জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে হাউসবোটটি বিক্রি করছেন তিনি। সূত্র: সিবিএস
ফ্রান্সের প্যারিসের উপকণ্ঠ অবারভিলিয়েতে গ্যাস বিস্ফোরণের পর একটি আবাসিক ভবনের অংশ ধসে বাংলাদেশি পরিবারের শিশু নাহিল নিহত হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর রাতে সেইন-সাঁ-দেনি বিভাগের রু পল-ভেরলেন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনায় আরও সাতজন আহত হন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে নিহত শিশুটির বয়স তিন বছর এবং তার নাম নাহিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক রাসেল আহমেদের ছেলে নাহিল। তার পরিবারের শিকড় বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার কাটখাল গ্রামে। নাহিলের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছানোর পর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে রু পল-ভেরলেনের একটি প্যাভিলিয়ন ধরনের আবাসিক বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। আশপাশের এলাকাতেও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস লিক থেকেই বিস্ফোরণটি হয়ে থাকতে পারে। তবে গ্যাস লিকের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১১০ জন দমকলকর্মী এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকারী কুকুরের দল এতে অংশ নেয়। উদ্ধারকর্মীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালান। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থাও করা হয়। ঘটনার পর ফ্রান্সের ববিনি প্রসিকিউটর অফিসের অধীনে বিচারিক তদন্ত শুরু হয়েছে। বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং গ্যাস লিকের উৎস কী ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ফলে প্রাথমিকভাবে গ্যাস লিককে বিস্ফোরণের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। নিহত শিশুটির বয়স নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছু পার্থক্য দেখা গেছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরসহ কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিবেদনে নাহিলের বয়স তিন বছর বলা হয়েছে, অন্যদিকে ফরাসি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে বয়স দুই বছর উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নাহিল বাংলাদেশি পরিবারের সন্তান এবং বিস্ফোরণে তার মৃত্যু হয়েছে, এ বিষয়ে প্রতিবেদনগুলোতে মিল রয়েছে। অবারভিলিয়ের এই দুর্ঘটনা ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও শোকের সৃষ্টি করেছে। পরিবারের স্বজনরা নাহিলের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন। এদিকে আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে। সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
ভারতে বিয়ের জন্য ৫০ লাখ রুপি খরচের পরিকল্পনা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে পড়েছেন এক যুবক। তার বাবা-মা বিয়ের আয়োজনের জন্য প্রায় ৪৫ লাখ রুপি ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুবকের পরিবার বিয়েতে প্রায় ৫০ লাখ রুপি খরচ করতে চায়। সেই খরচ মেটাতে তাকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার কথা বলা হয়। এর মধ্যে ৪৫ লাখ রুপি ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি বিয়ের আয়োজনের পরিমাণ এবং এত বড় আর্থিক দায় নেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন। বিয়ের মতো একটি অনুষ্ঠানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বোঝা নেওয়ার বিষয়টি নিয়েই মূলত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৪৫ লাখ রুপি ঋণ নিলে শুধু মূল অর্থ নয়, ঋণের সুদও পরিশোধ করতে হবে। ফলে বিয়ের পর দীর্ঘ সময় ধরে ওই ঋণের কিস্তি বহন করতে হতে পারে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক ব্যবহারকারী যুবকটিকে এত বড় ঋণ নেওয়ার আগে আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেলেও ঋণের দায় থেকে যায় দীর্ঘদিন। তবে বিয়েতে কত টাকা খরচ করা উচিত, তা পরিবার, আয় এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভর করে। একই সঙ্গে বড় আয়োজনের জন্য ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে মাসিক কিস্তি, সুদের হার, আয় এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারতে বিয়েকে ঘিরে বড় অঙ্কের ব্যয় নতুন কোনো বিষয় নয়। ভেন্যু, খাবার, পোশাক, গয়না, সাজসজ্জা ও অতিথি আপ্যায়নসহ নানা খাতে খরচ বাড়তে পারে। এর সঙ্গে পারিবারিক প্রত্যাশা যুক্ত হলে অনেকের জন্য বিয়ের বাজেট আরও বড় হয়ে ওঠে। এই ঘটনাকে ঘিরে অনলাইন আলোচনায় তাই শুধু ৫০ লাখ রুপির বিয়ের বাজেট নয়, পারিবারিক প্রত্যাশা, সামাজিক চাপ এবং বিয়ের পরের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ওই যুবক বিয়ের পরিকল্পনা কীভাবে এগিয়ে নেবেন বা ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন কি না, তা জানা যায়নি।
পবিত্র মক্কা আল-মুকাররমা ও মদিনা আল-মুনাওয়ারার নিরাপত্তার প্রতি কোনো ধরনের হুমকি কিংবা সেখানে হামলার চেষ্টা করা হলে বিশ্বের মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। বিবৃতিতে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মক্কা ও মদিনা বিশ্ব মুসলিমের কাছে সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত ও পবিত্রতার স্থান। এই দুই নগরী মুসলিম উম্মাহর আবেগ, বিশ্বাস ও ভালোবাসার কেন্দ্র। ফলে সেখানে কোনো ধরনের হামলা, আগ্রাসন কিংবা নিরাপত্তার প্রতি হুমকি গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার প্রতি হুমকি এবং যেকোনো হামলার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিশ্ব মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান কায়কোবাদ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনে পবিত্র ভূমির মর্যাদা রক্ষায় মুসলমানরা জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত থাকবে। ধর্মমন্ত্রী পবিত্র আল-হারামাইনের দুই ইমামের বক্তব্যের প্রতিও দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মক্কা ও মদিনার পবিত্রতা এবং নিরাপত্তা রক্ষা করা পুরো মুসলিম উম্মাহর সম্মিলিত দায়িত্ব। পবিত্র ভূমির বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন বা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিবৃতিতে বাংলাদেশের জনগণের অবস্থান তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা, মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার প্রশ্নে বাংলাদেশ আপসহীন। একই সঙ্গে বিশ্বের সব মুসলিম রাষ্ট্র ও মুসলিম উম্মাহকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, বর্তমানে কিংবা ভবিষ্যতে মক্কা আল-মুকাররমা ও মদিনা আল-মুনাওয়ারার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি বা হামলার অপচেষ্টা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করার জন্য মুসলিম রাষ্ট্র ও জনগণের ঐক্য প্রয়োজন। বিবৃতির শেষাংশে পবিত্র দুই নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সংহতি ও কল্যাণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন ধর্মমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে পেট্রোল ও ডিজেল পরিবহনকারী ট্রাকচালকদের কাজের সময় সাময়িকভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন এই ছাড়ের ফলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী জ্বালানি পরিবহনকারী চালকেরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন। এর আগে তাদের জন্য অনুমোদিত সময় ছিল ১৪ ঘণ্টা। নতুন ব্যবস্থা ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে এবং ৯০ দিনের জন্য বহাল থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল মোটর ক্যারিয়ার সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এই সাময়িক ছাড় দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, স্বল্পমেয়াদি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে পেট্রোল ও ডিজেল পরিবহনে দেরি হলে দেশটির পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায়ও চাপ তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত কাজের সময়ের সুযোগ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের সম্ভাব্য বিলম্ব কমানোই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানিয়েছেন, জ্বালানি পরিবহনকারী ট্রাকচালকদের বাড়তি সময় কাজের সুযোগ দিলে সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া সাময়িক চাপ মোকাবিলা করা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ও কৃষি খাতে যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, সেটিও কিছুটা কমানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। তবে এই সিদ্ধান্ত সব ধরনের ট্রাকচালকের জন্য প্রযোজ্য নয়। সাময়িক ছাড়টি শুধু পেট্রোল ও ডিজেল পরিবহনে নিয়োজিত যোগ্য চালক ও পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। যেসব পরিবহন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা মূল্যায়ন শর্তসাপেক্ষ, অথবা যাদের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে, তারা এই সুবিধার আওতায় পড়বে না। নতুন ব্যবস্থার মধ্যেও চালকদের বিশ্রামের বাধ্যবাধকতা বহাল রাখা হয়েছে। কোনো চালক ক্লান্তি অনুভব করলে তাকে নিরাপদ স্থানে থেমে বিশ্রাম নিতে হবে। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ ১৬ ঘণ্টা কাজের অনুমতি দেওয়া হলেও সেটিকে টানা গাড়ি চালানোর অনুমতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। চালকদের প্রয়োজনীয় বিশ্রামের নিয়ম মেনেই বাড়তি সময় ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া জ্বালানি পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাড়তি নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। কোনো দুর্ঘটনা বা সংশ্লিষ্ট ঘটনা ঘটলে পরিবহন প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেডারেল মোটর ক্যারিয়ার সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে তা জানাতে হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সাময়িক ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণে রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকারের এই সিদ্ধান্ত এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দামে বড় ধরনের বৃদ্ধির সময়। চলতি সপ্তাহে দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৬ ডলার ২৯ সেন্টে পৌঁছেছে, যা রেকর্ড পর্যায়ের দাম। এক বছর আগে একই সময়ে দেশটির গড় ডিজেল মূল্য ছিল প্রতি গ্যালনে ৩ ডলার ৭৪ সেন্ট। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু ট্রাকচালকদের জ্বালানি ব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পরিবহন, কৃষি যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন ধরনের পরিবহন কার্যক্রমে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে পণ্য পরিবহন ও কৃষি উৎপাদনের খরচেও চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং পরিবহনে সম্ভাব্য বিলম্ব কমানোর বিষয়টি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতেও চাপ রয়েছে। বিভিন্ন সংঘাত এবং শোধনাগারে বিঘ্নের কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। একই সময়ে সামনে শীতকালীন চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি পরিবহনে বাড়তি সময়ের নমনীয়তা প্রয়োজন হতে পারে। জ্বালানি পরিবহনকারী ট্রাকচালকদের কাজের সময়সংক্রান্ত নিয়মে জরুরি পরিস্থিতিতে সাময়িক ছাড় দেওয়ার নজির যুক্তরাষ্ট্রে আগেও রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, দাবানল, শীতকালীন ঝড় এবং করোনাভাইরাস মহামারির মতো পরিস্থিতিতে পরিবহন কার্যক্রম সচল রাখতে এ ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছিল। তবে কাজের সময় বাড়ানোর ফলে চালকদের ক্লান্তির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় কাজ করলে ক্লান্তি সড়ক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন ব্যবস্থায় তাই ক্লান্ত চালকদের নিরাপদ স্থানে থেমে বিশ্রাম নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ঘটনাবলি জানানোর দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। সরকারের দেওয়া এই সাময়িক ছাড়ের মেয়াদ ৯০ দিন। এই সময়ের মধ্যে পেট্রোল ও ডিজেল পরিবহনকারী ট্রাকচালকেরা আগের তুলনায় বাড়তি কাজের সময় ব্যবহার করতে পারবেন। সরকারের প্রত্যাশা, এতে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য বিলম্ব কমবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর তৈরি হওয়া চাপ কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের জ্বালানি দামে কতটা স্বস্তি আসবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেলের দাম শুধু অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও শোধন সক্ষমতার ওপরও নির্ভর করছে। সাময়িকভাবে ট্রাকচালকদের কাজের সময় বাড়ানো হলেও জ্বালানির বাজারে স্বস্তি আসবে কি না, তা বৃহত্তর সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। সূত্র: রয়টার্স
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির স্বার্থে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। তিনি বলেছেন, দলের বৃহত্তর স্বার্থে মতপার্থক্য থাকলেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সম্প্রতি মাগুরার শালিখায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র্যালি পরবর্তী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নয়ন এসব কথা বলেন। তিনি নেতাকর্মীদের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। নয়ন বলেন, বিএনপি জনগণের কল্যাণে কাজ করে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়। তাই শান্তি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকতে হবে। পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। রবিউল ইসলাম নয়ন বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিবের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের জুনে অনুমোদিত ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি এই পদ পান। মাগুরা-২ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে নয়নের বক্তব্য আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে দূরত্বের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আগস্টে এ বিরোধ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নয়ন জানিয়েছিলেন, সমঝোতার জন্য নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে তিনি বসতে চান না। তবে পরবর্তী সময়ে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ঐক্যের উদ্যোগ দেখা যায়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মাগুরা-২ আসনে বিএনপির দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে সমন্বয় ও সম্প্রীতি সভা হয়। ওই সভায় বিভাজন দূর করে দলীয়ভাবে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। নয়নও সেখানে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শালিখার সাম্প্রতিক সভায় নয়নের বক্তব্যেও দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় থাকার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সভায় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দলকে আরও সংগঠিত করার বিষয়ে কথা বলেন। বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বয় নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা থাকলেও নয়নের সর্বশেষ বক্তব্যে দলীয় স্বার্থে ঐক্য ধরে রাখার আহ্বানই প্রাধান্য পেয়েছে। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল, মতপার্থক্য থাকলেও বিএনপির সাংগঠনিক স্বার্থে নেতাকর্মীদের একসঙ্গে কাজ করা।
রাজধানীর মিরপুরে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় শিকড় পরিবহনের একটি বাসে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার দিকে শিকড় পরিবহনের বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুন লাগার পর বাসটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনার সময় বাসটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুন কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং বাসটির কতটা ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার পর মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার বিষয়ে আরও জানা যাবে।
ভারতের নয়ডায় আইফোন ১৮ প্রো কিনতে অ্যাপল স্টোরের সামনে ভোর থেকেই অপেক্ষা করছিলেন দিল্লির এক ব্যক্তি। ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতে নতুন আইফোন বিক্রি শুরুর দিন তিনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে টেককে জানান, স্ত্রীর জন্য ফোনটি কিনতে তিনি সোনা বিক্রি করেছেন। তার স্ত্রীর পছন্দ ছিল নতুন বারগান্ডি রঙের আইফোন ১৮ প্রো। নয়ডার ডিএলএফ মল অব ইন্ডিয়ায় অ্যাপল স্টোর খোলার আগেই ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। সকাল ৮টায় দোকান খোলার কথা থাকলেও নতুন আইফোন হাতে পেতে অনেকেই তার আগেই সেখানে জড়ো হন। সেই অপেক্ষমাণ ক্রেতাদের মধ্যেই ছিলেন দিল্লির ওই ব্যক্তি। ইন্ডিয়া টুডে টেকের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, ফোনটি তিনি নিজের জন্য নয়, স্ত্রীকে উপহার দেওয়ার জন্য কিনছেন। তার স্ত্রীর পছন্দ হয়েছে আইফোন ১৮ প্রোর নতুন বারগান্ডি রঙ। তিনি আরও জানান, তার স্ত্রী আগে আইফোন ব্যবহার করতেন না। তাই নতুন ফোনটি উপহার দিয়ে তাকে আইফোন ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে চেয়েছেন। কেন এত দামি ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, “আজ টাকা আছে, আগে ছিল না।” তার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাতে অর্থ থাকায় পছন্দের জিনিস কেনার সুযোগটি কাজে লাগাতে চেয়েছেন তিনি। তবে ফোনটি কেনার অর্থ জোগাড় করতে তাকে সোনা বিক্রি করতে হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে টেকের প্রতিবেদনে ওই ব্যক্তি নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন। তার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ এটিকে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও উপহার দেওয়ার ইচ্ছার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এত দামি স্মার্টফোন কেনার জন্য সোনা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের বিক্রি শুরু হয়েছে। নতুন আইফোন ঘিরে দেশটির বিভিন্ন অ্যাপল স্টোরে ক্রেতাদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভিড়ের খবরও সামনে এসেছে। নয়ডার ওই ব্যক্তির সোনা বিক্রি করে স্ত্রীর জন্য আইফোন কেনার ঘটনা নতুন মডেল ঘিরে মানুষের আগ্রহের মধ্যেই আলাদা করে আলোচনায় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের সিম্সবারিতে দুই বছরের মেয়ের জন্য একটি প্রাইভেট প্রি-স্কুলে ভর্তি করানোর খরচ জানতে গিয়ে চমকে ওঠেন ভারতীয় মা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সোনাল চৌধুরী। তার শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহে দুই দিন ক্লাস করলে বছরে প্রায় ৪ লাখ রুপি, আর পাঁচ দিন ক্লাস করলে খরচ প্রায় ৯ লাখ রুপি পর্যন্ত হতে পারে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষা ব্যয় ও শিশুদের প্রি-স্কুল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সোনাল তার মেয়ে বাণীর জন্য প্রি-স্কুলের বিভিন্ন অপশন দেখার সময় ওই প্রতিষ্ঠানে যান। সেখানে স্কুলের কার্যক্রম ও ক্লাস পরিচালনার পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি জানতে পারেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে শিক্ষক ও শিশুর অনুপাত। আটজন শিশুর একটি গ্রুপের জন্য থাকেন দুইজন শিক্ষক। ফলে প্রতিটি শিশুকে তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যক্তিগত মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়। প্রি-স্কুলটির কার্যক্রমের মধ্যে গান, যোগব্যায়াম, সৃজনশীল খেলাধুলা এবং শিশুদের প্রাথমিক শেখার বিভিন্ন অনুশীলন রয়েছে। ক্লাস চলে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট থেকে ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। শিক্ষাবর্ষ সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে জুনের শেষ সময় পর্যন্ত চলে। তবে সোনালের ভিডিওতে যে ফি উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি নির্দিষ্ট ওই প্রাইভেট প্রি-স্কুলের প্রোগ্রামের জন্য বলা হয়েছে; যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রি-স্কুলের ফি একই নয়। এই ফি নিয়ে আলোচনার আরেকটি কারণ হলো ভারতের সঙ্গে তুলনা। সোনাল পাঁচ দিনের প্রোগ্রামের বার্ষিক খরচকে ভারতে একটি নতুন মারুতি ব্রেজা গাড়ির দামের সঙ্গে তুলনা করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রি-স্কুল শিক্ষার খরচ নিয়ে নিজেদের মতামত জানান। যুক্তরাষ্ট্রে প্রি-স্কুল এবং কিন্ডারগার্টেন এক বিষয় নয়। পাবলিক স্কুলে সাধারণত কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার জন্য সরাসরি টিউশন দিতে হয় না। কিন্তু এর আগের বয়সে শিশুদের জন্য প্রি-স্কুল বা চাইল্ড কেয়ার বেছে নিলে পরিবারকে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে খরচ বহন করতে হয়। বিশেষ করে প্রাইভেট বা ছোট ক্লাসের প্রোগ্রামগুলোতে শিক্ষক-শিশু অনুপাত, ক্লাসের সময়সূচি এবং অতিরিক্ত কার্যক্রমের কারণে ফি ভিন্ন হতে পারে। কানেকটিকাটের সিম্সবারি পাবলিক স্কুলসের অধীনেও শিশুদের জন্য বিভিন্ন কেয়ার ও এনরিচমেন্ট প্রোগ্রাম রয়েছে, যেগুলোর ফি আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ একই এলাকায় সরকারি বা কমিউনিটি-ভিত্তিক প্রোগ্রাম এবং প্রাইভেট প্রি-স্কুলের খরচের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকতে পারে। সোনালের ভিডিও ঘিরে অনলাইনে মূল বিতর্কটি শুধু ফি নিয়ে নয়। কেউ যুক্তরাষ্ট্রের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেছেন। আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, দুই বা তিন ঘণ্টার প্রি-স্কুল প্রোগ্রামের জন্য এত বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করা কতটা যৌক্তিক। ছোট ক্লাস, বেশি শিক্ষক এবং ব্যক্তিগত মনোযোগের সুবিধা এই ব্যয়ের যথেষ্ট কারণ কি না, সেটিও আলোচনায় এসেছে। শিশুর প্রাথমিক শিক্ষায় পরিবারের ব্যয় নিয়ে এই আলোচনা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে প্রি-স্কুল ব্যবস্থার বৈচিত্র্য এবং পরিবারভেদে শিক্ষার পছন্দের পার্থক্যকেই সামনে এনেছে। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য প্রি-স্কুল, চাইল্ড কেয়ার এবং পাবলিক স্কুলের পার্থক্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ঘন ঘন লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিডিও দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গালাগাল ও কটূক্তির অভিযোগে সঞ্জয় কুমার দাস নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে মেহেরপুর শহরের গড়পুকুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। সঞ্জয় মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভিপুর গ্রামের হিরন কুমার দাসের ছেলে। পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে তিনি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে ঘন ঘন লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে গালাগাল ও কটূক্তি করার অভিযোগ ওঠে। অন্য কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে শুধু গালাগাল নয়, প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছে পুলিশ। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এরপর রাতেই অভিযান চালিয়ে গড়পুকুর এলাকা থেকে সঞ্জয়কে আটক করে সদর থানা-পুলিশ। মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ন কবীর আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার অভিযোগে সঞ্জয়কে আটক করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি মামলা ছিল এবং সেই মামলাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। অন্য কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ওসির বক্তব্যে বলা হয়েছে, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আজকের পত্রিকাও জানিয়েছে, পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন থাকার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে তাঁর বর্তমান আইনি অবস্থার বর্ণনায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। এশিয়া পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আটকের পর সঞ্জয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার সূত্রপাত মূলত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের ভিডিও থেকে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সঞ্জয় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে ভিডিওটি প্রকাশ করেন। তবে ভিডিওতে ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি আর শুধু বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষে সীমাবদ্ধ থাকেনি; পুলিশি পদক্ষেপের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাওয়া নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে সঞ্জয়ের নিজের বক্তব্য বা তাঁর পরিবারের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে তিনি যে পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছেন, সেই মামলাটি কী অভিযোগে, কবে দায়ের হয়েছিল এবং সেখানে সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী—প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তার বিস্তারিত উল্লেখ নেই। ফলে এ অংশে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া অতিরিক্ত কিছু যোগ করা ঠিক হবে না। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলেও সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো পুলিশের ভাষ্য। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁকে অপরাধী হিসেবে বর্ণনা না করে ‘অভিযোগে আটক’ বা ‘গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে’—এভাবে উল্লেখ করাই যথাযথ।
দুবাইয়ের একটি সমুদ্রসৈকতে বিদেশি এক ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে ইমরান হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে পানির মধ্যে ওই বিদেশির সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির মতো আচরণ করতে দেখা যায়। পরে ঘটনাটি নিয়ে তিনি গর্ব প্রকাশ করছেন বলেও ভিডিওতে প্রতীয়মান হয়। ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক দর্শক ওই আচরণকে অনুপযুক্ত ও অসম্মানজনক হিসেবে মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে, পর্যটননির্ভর শহর দুবাইয়ের মতো জায়গায় এমন আচরণ পুরো বাংলাদেশি প্রবাসী কমিউনিটির ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রের পানিতে থাকা এক বিদেশি ব্যক্তির দিকে এগিয়ে গিয়ে ইমরান হোসেন তাকে ধাক্কা দেন। ঘটনাটিকে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই করেছেন কি না, তা ভিডিওর বাইরে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে ভিডিওতে তার আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক দর্শক বলছেন, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে অনুমতি ছাড়া এ ধরনের শারীরিক আচরণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ কেউ ঘটনাটিকে মজা হিসেবে নেওয়ার সমালোচনা করেছেন এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের স্থানীয় আইন ও সামাজিক শিষ্টাচার মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, ঘটনার আগে বা পরে কী হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশি ব্যক্তির সঙ্গে ইমরান হোসেনের কোনো পরিচয় বা পূর্ববর্তী যোগাযোগ ছিল কি না—এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ভিডিওতে দৃশ্যমান অংশের বাইরে অতিরিক্ত কোনো দাবি নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। সূত্র : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ও অনলাইন প্রতিক্রিয়া
দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো, নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা জরুরি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি করে ডিজিটাল ওয়ালেট চালু এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার বা পিপিআরসি আয়োজিত ‘Financial Inclusion 2.0’ শীর্ষক গ্রুপ ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি একে অপরের পরিপূরক। ডিজিটাল অর্থনীতির গতি বাড়াতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শক্তিশালী ইন্টারনেট অবকাঠামো ছাড়া ডিজিটাল ফাইন্যান্সের সুফল পুরোপুরি মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘এক সিটিজেন এক ওয়ালেট’ ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ সহজলভ্য হলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকেও ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বলেন। এ ক্ষেত্রে ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক উৎপাদক ও কারিগরদের চিহ্নিত করে তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট এবং ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার উদ্যোগের কথা জানান অর্থমন্ত্রী। এর ফলে গ্রামের ছোট উদ্যোক্তা ও উৎপাদকরা সরাসরি ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ পাবেন বলে তিনি জানান। প্রযুক্তির ব্যবহার সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজ করার বিষয়েও বক্তব্য দেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে সাশ্রয়ী স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের জন্য স্মার্টফোনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ বাড়ছে। কৃষকরা আবহাওয়া, সারের প্রয়োজনীয়তা এবং কৃষিপণ্যের বাজারদর সম্পর্কেও তথ্য নিতে পারছেন বলে জানান তিনি। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি ভাতা ও সহায়তা ডিজিটাল বা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড এবং ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেওয়ার উদ্যোগ আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। তবে ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তারের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা বলেন আমির খসরু। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে উদ্ভাবন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সাইবার সিকিউরিটি এবং নীতিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন। অর্থাৎ ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নিরাপদ অবকাঠামো ও কার্যকর নীতিমালার প্রয়োজনীয়তাও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এতে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অংশ নেন। আলোচনায় ডিজিটাল সংযোগ, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, গ্রামীণ অর্থনীতির ডিজিটাল রূপান্তর এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার নরফোকের একটি ওয়ালমার্টে শপিং কার্ট নিয়ে এক কিশোরী কর্মীর সঙ্গে তর্কের জেরে ৭৭ বছর বয়সী এক ক্রেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ওই কর্মীর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। নিহত বার্ট আতিয়েনজা ৭ জুন ২০২৬ দোকানে হামলার শিকার হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হন এবং পরদিন মারা যান। মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয় তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে মাথায় ভোঁতা আঘাত এবং মৃত্যুর ধরন হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে। ঘটনাটি ঘটে নরফোকের একটি ওয়ালমার্টে। সেদিন চার্চ থেকে স্ত্রী জোসেফিন আতিয়েনজাকে নিয়ে বাজার করতে গিয়েছিলেন বার্ট। জোসেফিনের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সী এক নারী কর্মী ভারী শপিং কার্ট নিয়ে যাওয়ার সময় তার খুব কাছ দিয়ে যান এবং প্রায় তাকে ধাক্কা দিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় বার্ট ওই কর্মীর কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এবং কেন তিনি ক্ষমা চাননি, তা জানতে চান। জোসেফিনের দাবি, এ সময় বার্ট ও ওই কর্মীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তারা সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় কিশোরী কর্মী তাদের দিকে একটি ক্যান ছুড়ে দেন। সেটি তাদের গায়ে লাগেনি। এরপর দম্পতি আবার কেনাকাটা করতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর ওই কিশোরীর বাবা-মা ওয়ালমার্টে এসে বার্টের মুখোমুখি হন বলে জোসেফিন জানিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুজন বার্টকে ঘিরে ধরে আঘাত করেন। তিনি মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ করেন জোসেফিন। ঘটনাটির কিছু অংশ দোকানের নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়ে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। হামলার পর বার্টকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্ত্রী জোসেফিন জানিয়েছেন, প্রথমে তিনি স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে পারছিলেন। পরে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ জুন তার মৃত্যু হয়। মেডিকেল পরীক্ষকের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে মাথায় ভোঁতা আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর ৪২ বছর বয়সী এরিকা মিচেল ও ৪৪ বছর বয়সী ট্রাভিস হোয়াইটকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। দুজনকেই জামিন ছাড়া হেফাজতে রাখা হয়েছে। শুরুতে তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর হামলা ও অপরাধে ষড়যন্ত্রসহ অন্যান্য অভিযোগ ছিল, পরে বার্টের মৃত্যুর পর হত্যার অভিযোগ যুক্ত করা হয়। ওই ১৭ বছর বয়সী কিশোরীর বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অ্যাসল্ট অ্যান্ড ব্যাটারি, অ্যাগ্রাভেটেড ম্যালিশাস ওয়াউন্ডিং এবং একটি অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। বয়সের কারণে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি এবং তাকে কিশোর আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে অভিযুক্ত দম্পতির আইনজীবী বলেছেন, তারা আগে থেকে কাউকে হত্যা করার পরিকল্পনা নিয়ে ওয়ালমার্টে যাননি। আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, মেয়ের ফোন পাওয়ার পর তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তারা সেখানে গিয়েছিলেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হামলায় রূপ নেয়। মামলায় অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বার্টের স্ত্রী জোসেফিন জানিয়েছেন, ৪২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর স্বামীর এমন মৃত্যু তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একটি সাধারণ বাজারের সময় শুরু হওয়া বিরোধ কীভাবে প্রাণঘাতী ঘটনায় রূপ নিল, সেটিই এখন মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী ক্রিস স্মলস দাবি করেছেন, প্রায় সাড়ে নয় মাস বেকার থাকার পর পাওয়া নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে তাকে জানানো হয়, কোম্পানি তার বিরুদ্ধে ‘হাইজিন ইস্যু’ বা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সমস্যা দেখেছে। তবে স্মলস এই কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, চাকরির আগের রাতে তিনি গোসল করেছিলেন, নতুন পোলো শার্ট পরে অফিসে গিয়েছিলেন এবং নিজেকে ভালোভাবেই প্রস্তুত করেছিলেন। স্মলসের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় বেকার থাকার পর একটি টেম্প এজেন্সির মাধ্যমে তিনি একটি এআই প্রযুক্তি কোম্পানিতে কাজের সুযোগ পান। সেখানে তার দায়িত্ব ছিল ‘পিপল অপস’ বিভাগে কাজ করা। নতুন চাকরিটি নিয়ে তিনি আশাবাদী ছিলেন। প্রথম দিন অফিসে গিয়ে সুপারভাইজারের কাছ থেকে কর্মস্থল ঘুরে দেখেন এবং পরে আরেক কর্মীর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টা অনবোর্ডিং ও প্রশিক্ষণের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। স্মলসকে স্বাভাবিক সময়ের আগেই লাঞ্চে যেতে বলা হয়। অফিস থেকে বের হওয়ার আগেই টেম্প এজেন্সি থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়, তার কাজের অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করা হয়েছে এবং এর কারণ হিসেবে ‘হাইজিন ইস্যু’ উল্লেখ করেছে কোম্পানি। স্মলসের দাবি, তাকে ঠিক কী ধরনের পরিচ্ছন্নতার সমস্যা পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে কোম্পানি বা এজেন্সির পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় আরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন স্মলস। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি চাকরিতে যাওয়ার আগে গোসল করার পাশাপাশি দাঁত ব্রাশ ও ফ্লস করেছিলেন এবং নতুন পোলো শার্ট পরেছিলেন। পরে নিজের পরিচিত কয়েকজনের কাছেও জানতে চান, তার শরীর বা পোশাক থেকে কোনো অস্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে কি না। তারা এমন কোনো সমস্যা টের পাননি বলে তাকে জানান। স্মলস আরও বলেন, তার প্যান্টে হয়তো লিন্ট রোলার ব্যবহার করা দরকার ছিল, তবে এ ছাড়া নিজের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তিনি কোনো সমস্যা দেখছেন না। চাকরি হারানোর কারণ জানতে না পেরে স্মলস নিজের প্রথম দিনের প্রতিটি মুহূর্ত নিয়েও ভাবতে শুরু করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন কী ঘটেছিল যার কারণে তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট অভিযোগ বা ঘটনার ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে দেওয়া হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ‘হাইজিন ইস্যু’ আসলে কী ছিল, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি স্মলস রেডিটে নিজের অভিজ্ঞতা হিসেবে প্রকাশ করার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়। সেখানে কেউ তার প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন, আবার কেউ ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে নিজেদের ধারণা প্রকাশ করেছেন। তবে এসব মন্তব্যের কোনোটি কোম্পানির সিদ্ধান্তের প্রকৃত কারণ হিসেবে নিশ্চিত নয়। স্মলস নিজেও বলেছেন, তিনি এখনো ঘটনার কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাননি। কয়েক মাস ধরে চাকরি খোঁজার পর পাওয়া সুযোগটি প্রথম দিনেই শেষ হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি তাকে বিশেষভাবে হতাশ করেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্মলস ওই আড়াই ঘণ্টার কাজের জন্য পারিশ্রমিক পেয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি টেম্প এজেন্সির পক্ষ থেকে তাকে নতুন কোনো কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্মলসের দাবি এবং কোম্পানির কথিত ‘হাইজিন ইস্যু’ এখনো তার ব্যক্তিগত বর্ণনার ওপরই নির্ভর করছে। কোম্পানির নির্দিষ্ট বক্তব্য প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। জাপানের আইচি-নাগোয়া আসরে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ও হরমনপ্রীত কৌরের ভারত। ম্যাচটি হবে নিশিনের করোগি স্পোর্টস পার্কে। বাংলাদেশ সরাসরি ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে ওঠেনি। চীনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল বৃষ্টির পর ভেজা আউটফিল্ডের কারণে পরিত্যক্ত হয়। কোনো বল মাঠে না গড়ালেও আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় পরের ধাপে জায়গা পায় বাংলাদেশ। বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ১০ নম্বরে, চীন ৩৬ নম্বরে। অন্যদিকে ভারতকে সেমিফাইনালে উঠতে কোনো হিসাবের ওপর নির্ভর করতে হয়নি। কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক জাপানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে তারা। প্রথমে ব্যাট করে জাপান মাত্র ৫৭ রানে অলআউট হয়। ভারতের শ্রী চরানি ৪ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। এরপর মাত্র ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পেরিয়ে যায় ভারত। শেফালি ভার্মা মাত্র ১৫ বলে অপরাজিত ৪০ রান করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশের জন্য ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক লড়াইয়ের কারণে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪০ রানে হারিয়েছিল ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ১৪৯ রান করেছিল, জবাবে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১০৯ রান তুলতে সক্ষম হয়। সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ নয়টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে। তবে এবার ম্যাচটি ভিন্ন মঞ্চে, আর একটি জয়ই বাংলাদেশকে সরাসরি এশিয়ান গেমসের ফাইনালে নিয়ে যাবে। এদিকে ভারত এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেটের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। ফলে এবারের আসরেও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে খেলছে তারা। বাংলাদেশের সামনে তাই শুধু একটি ম্যাচ জেতার চ্যালেঞ্জ নয়, একই সঙ্গে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগও রয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বরের এই ম্যাচে জয়ী দল সরাসরি ফাইনালে উঠবে। একই দিনে অন্য সেমিফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ও ফাইনাল। এশিয়ান গেমসের মঞ্চে বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে এখন তাই একটাই লক্ষ্য, ভারতের বাধা পেরিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে হারের পর একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এবার ফল বদলাতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে ২০ সেপ্টেম্বরের লড়াইয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির সোমারসেট এলাকায় একটি গাড়ির সামনের গ্রিলে আটকে পড়া প্রায় ৩ ফুট লম্বা একটি সাপ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ফ্র্যাঙ্কলিন টাউনশিপের ওকল্যান্ড অ্যাভিনিউয়ের একটি আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, গাড়ির গ্রিলের ভেতর সাপ আটকে থাকার খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তবে সাপটিকে বের করা সহজ ছিল না। নিরাপদে সেটিকে বের করতে গাড়ির সামনের বাম্পারসহ কয়েকটি অংশ খুলতে হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। এরপর সেটিকে ফ্র্যাঙ্কলিন টাউনশিপ অ্যানিমেল শেল্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা সাপটিকে একটি বল পাইথন হিসেবে শনাক্ত করেন। তবে সাপটি কীভাবে গাড়ির ভেতরের গ্রিলে ঢুকেছিল বা কতক্ষণ সেখানে আটকে ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটির পর ফ্র্যাঙ্কলিন টাউনশিপের পাবলিক সেফটি ডিরেক্টর লয়েড ফ্রেডেরিকস বাসিন্দাদের বিদেশি বা অপ্রচলিত পোষা প্রাণী বাইরে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রাণী প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া শুধু বেআইনিই নয়, স্থানীয় প্রাণী ও অন্যান্য পোষা প্রাণীর জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কোনো ব্যক্তি যদি পোষা সাপ আর দেখাশোনা করতে না পারেন, তাহলে সেটিকে বাইরে ছেড়ে না দিয়ে স্থানীয় অ্যানিমেল শেল্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করে হস্তান্তরের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার বার্নসভিলে তিন বছর বয়সী ছেলে আদনান আবদুল্লাহির মৃ ত্যুর ঘটনায় তার মা সায়নাব আবদুল্লাহি দাহিরের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার ম্যান স্লটার, চারটি শিশু নি র্যা তন বা বি পন্ন করার অভিযোগ এবং হয় রা নির মামলা হয়েছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে তার মা তাকে পার্কের একটি সৈকত এলাকায় নিয়ে গিয়েছিলেন, যাতে রোদে থেকে সে অসুস্থতা ‘ঘামিয়ে বের করে’ দিতে পারে। পরে শিশুটির মৃ ত্যু হয়। ঘটনার পর জরুরি সেবাকর্মীরা শিশুটিকে গুরুতর অপু ষ্টিতে ভুগতে দেখেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তার বয়সের তুলনায় মারাত্মক কম ওজন এবং গুরুতর অপুষ্টি শনাক্ত করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি আর জ্ঞান ফিরে পায়নি এবং ১৩ জুলাই ২০২৩ সালে তার মৃ ত্যু হয়। ময়নাতদন্তে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত আঘাতকে মৃ ত্যুর তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অপু ষ্টি ও মূত্রনালির সং ক্র মণকে সহায়ক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে দাহিরের অন্য চার সন্তানের অবস্থাও সামনে আসে। আদালতের নথি অনুযায়ী, তারাও গুরুতরভাবে কম ওজনের ছিল। শিশুদের বাবার কাছে যাওয়ার পর তাদের ওজন বাড়তে শুরু করে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সন্তানদের নিয়মিত চিকিৎসা না করানোর অভিযোগও রয়েছে। দাহিরকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গ্রে প্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত। মামলাটি মিনেসোটার ডাকোটা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে চলছে।
বিরোধী দলের ধারাবাহিক আন্দোলন ও সরকারের প্রতি অসহযোগিতার কারণে আওয়ামী লীগ নতুন করে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তাঁর ভাষ্য, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ‘কেউ কেউ ডিসেম্বরে আসতে চায়’। বক্তব্যে ‘কেউ কেউ’ বলতে তিনি আওয়ামী লীগকে বোঝান বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী এলাকায় জিল্লুর রহিম কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশেষায়িত বিনামূল্যের চিকিৎসা ক্যাম্প, চক্ষু শিবির ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ এ-৩ যৌথভাবে কর্মসূচিটির আয়োজন করে। এ্যানি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকেই বিরোধী দল সহযোগিতার পরিবর্তে অসহযোগিতার পথে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার শপথ নেওয়ার দিনও বিরোধী দল উপস্থিত ছিল না এবং এরপর বিভিন্ন ইস্যুতে তারা সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিরোধী দলের এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণেই অন্য একটি রাজনৈতিক শক্তি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, বিরোধী দল এমন সুযোগ তৈরি না করলে এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি না দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবে এটি এ্যানির রাজনৈতিক মূল্যায়ন; প্রতিবেদনে তাঁর দাবির পক্ষে আলাদা কোনো প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি। পানিসম্পদমন্ত্রী বিরোধী দলের সংসদের ভেতরের ও বাইরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, সংসদে বিরোধী দল সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার কথা বললেও সংসদের বাইরে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সেই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি বিগত ১৭ বছরে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর ঝটিকা মিছিলের প্রসঙ্গও টানেন। এসব বক্তব্যও মন্ত্রীর নিজস্ব রাজনৈতিক দাবি ও মূল্যায়ন। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনেরও সমালোচনা করেন এ্যানি। তিনি বলেন, বিরোধী দল ঢাকা থেকে রংপুর ও চট্টগ্রাম অভিমুখে কর্মসূচি পালন করছে এবং গ্যাস, তেল ও বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলন করছে। তাঁর বক্তব্য, সরকার এমন এক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে যেখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে এবং ছয় মাসের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়। লংমার্চ ও রোডমার্চের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টিও সামনে আনেন পানিসম্পদমন্ত্রী। এসব কর্মসূচিতে জ্বালানি খরচ, সড়কে যানজট এবং রোগীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে কি না এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিরোধী দল সংসদে সহযোগিতার কথা বললেও মাঠের কর্মসূচি সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন এ্যানি। বক্তব্যের একপর্যায়ে নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগে অর্থ ব্যবহার করে কিছু ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বা সংশ্লিষ্ট বিরোধী পক্ষের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ্যানি আরও বলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর ভাষ্য, কোনো রাজনৈতিক পক্ষ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশ বা জনগণের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে সরকার তা মেনে নেবে না। তিনি বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ওই পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হয়নি; দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পাশাপাশি ছাত্র, যুবক ও তরুণদের অংশগ্রহণ এর পটভূমি তৈরি করেছে বলে তিনি মনে করেন। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দায়িত্ব পেয়েছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি। এ্যানির বক্তব্যে ‘ডিসেম্বরে আসতে চায়’ কথাটির মাধ্যমে ঠিক কোন পরিকল্পনা বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচির কথা বোঝানো হয়েছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই। ফলে বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য। একই সঙ্গে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে তাঁর অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিরোধী পক্ষের প্রতিক্রিয়াও পাওয়া গেলে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আরও পরিষ্কার হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় উবার চালকের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর হাইওয়েতে প্রা ণ হারানো ২৩ বছর বয়সী এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কারের বাবা-মাকে ৪ কোটি ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ওই মৃ ত্যুর ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারক রিচার্ড এ স্টোনের নেতৃত্বে সালিশি প্রক্রিয়ায় উবার ও চালক ভু ট্রানকে যৌথভাবে দায়ী করা হয়। এমিলির বাবা কেন পার্কার ও মা ক্যারল নরম্যান্ডিনকে ২ কোটি ডলার করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই ঘটনায় এমিলির বন্ধু লুনা মুরকে আলাদাভাবে ৩ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আবারও রাইড শেয়ারিং সেবায় যাত্রী নি রা পত্তা এবং চালকের আচরণের জন্য কোম্পানির দায় কতটা, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট রাতে অরেঞ্জ কাউন্টির স্টেট রুট ৭৩ হাইওয়েতে। এমিলি ও তার বন্ধু লুনা রাতে বাইরে সময় কাটানোর পর উবারে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে লুনা গাড়ির ভেতর অসুস্থ হয়ে ব মি করলে চালক ভু ট্রান গাড়ি থামানোর সিদ্ধান্ত নেন। সালিশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্রান হাইওয়ের একটি গোর পয়েন্টে গাড়ি থামান। গোর পয়েন্ট হলো হাইওয়ে ও এক্সিট র্যাম্পের মাঝের ত্রিভুজাকৃতির অংশ। সালিশকারী রিচার্ড স্টোন ওই জায়গাটিকে অনি রা পদ ও বেআ ইনি স্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সালিশি নথিতে বলা হয়েছে, গাড়ি পরিষ্কার করার খরচ নিয়ে ট্রানের সঙ্গে লুনার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই নারীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর এমিলি হাইওয়ের দিকে চলে যান এবং চলন্ত একটি গাড়ির ধাক্কায় মৃ ত্যু হয়। সালিশি প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এমিলি ও তার বন্ধু দুজনই ম দ্য প অবস্থায় ছিলেন এবং ট্রান তাদের এই অবস্থার কথা জানতেন। স্টোনের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ট্রান চাইলে কাছের ম্যাকআর্থার বুলেভার্ড এক্সিট দিয়ে নি রা পদ জায়গায় গাড়ি থামাতে পারতেন। ঘটনার পর এমিলির বাবা-মা ও লুনা উবার এবং ট্রানের বিরুদ্ধে মা ম লা করেন। পরে পক্ষগুলো আদালতের পরিবর্তে সালিশি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়। পাঁচ দিন ধরে চলা সেই সালিশিতে উবারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, তারা মূলত যাত্রী ও স্বাধীনভাবে কাজ করা চালকদের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া একটি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত বিচারক স্টোন সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তার সিদ্ধান্তে উবারকে চালকের অ ব হেলার জন্য ভিকারিয়াসলি দায়ী করা হয়। তিনি আরও বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রপোজিশন ২২ উবারকে এই দায় থেকে সুরক্ষা দেয় না। সালিশি নথিতে ট্রানের বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও কঠোর মন্তব্য করা হয়েছে। পাশাপাশি জিপিএস তথ্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এমিলি দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর ট্রানের গাড়ি তার কাছাকাছি এলাকা দিয়ে যায় এবং পরে চালক পরবর্তী এক্সিট ব্যবহার করেন। এরপর তিনি উবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাড়ি পরিষ্কারের ফি নিয়ে কথা বলেন। পরিবারের আইনজীবীদের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রানের গাড়ি চালানো নিয়ে এর আগেও উবারের কাছে কয়েকটি অভিযোগ এসেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত সালিশি প্রক্রিয়ায় প্রমাণ হিসেবে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তা সিদ্ধান্তের পৃথক অংশে বিবেচনা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর উবার জানিয়েছে, তারা সালিশকারীর সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। কোম্পানির বক্তব্য, তারা সালিশি প্রক্রিয়াকে সম্মান করলেও ওই রাতের ঘটনার জন্য উবারকে আইনগতভাবে দায়ী করার সিদ্ধান্তকে তারা ভুল মনে করে। অন্যদিকে এমিলির বাবা-মা বলেছেন, তারা এই অর্থকে শুধু ক্ষ তি পূ রণ হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, মেয়ের মৃ ত্যুর ঘটনা সামনে এনে রাইড শেয়ারিং সেবায় যাত্রী নি রা পত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগে অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে। বিষয়টি আদালতের রায় নয়, বরং একটি বেসরকারি সালিশি সিদ্ধান্ত হওয়ায় এটি উবারের চালকদের দায়বদ্ধতা নিয়ে চলমান আইনি বিতর্কে সরাসরি কোনো নতুন নজির তৈরি করবে কি না, সেটিও আলাদা প্রশ্ন হিসেবে থাকছে।