- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় উবার চালকের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর হাইওয়েতে প্রা ণ হারানো ২৩ বছর বয়সী এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কারের বাবা-মাকে ৪ কোটি ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ওই মৃ ত্যুর ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারক রিচার্ড এ স্টোনের নেতৃত্বে সালিশি প্রক্রিয়ায় উবার ও চালক ভু ট্রানকে যৌথভাবে দায়ী করা হয়। এমিলির বাবা কেন পার্কার ও মা ক্যারল নরম্যান্ডিনকে ২ কোটি ডলার করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই ঘটনায় এমিলির বন্ধু লুনা মুরকে আলাদাভাবে ৩ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আবারও রাইড শেয়ারিং সেবায় যাত্রী নি রা পত্তা এবং চালকের আচরণের জন্য কোম্পানির দায় কতটা, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট রাতে অরেঞ্জ কাউন্টির স্টেট রুট ৭৩ হাইওয়েতে। এমিলি ও তার বন্ধু লুনা রাতে বাইরে সময় কাটানোর পর উবারে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে লুনা গাড়ির ভেতর অসুস্থ হয়ে ব মি করলে চালক ভু ট্রান গাড়ি থামানোর সিদ্ধান্ত নেন। সালিশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্রান হাইওয়ের একটি গোর পয়েন্টে গাড়ি থামান। গোর পয়েন্ট হলো হাইওয়ে ও এক্সিট র্যাম্পের মাঝের ত্রিভুজাকৃতির অংশ। সালিশকারী রিচার্ড স্টোন ওই জায়গাটিকে অনি রা পদ ও বেআ ইনি স্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সালিশি নথিতে বলা হয়েছে, গাড়ি পরিষ্কার করার খরচ নিয়ে ট্রানের সঙ্গে লুনার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই নারীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর এমিলি হাইওয়ের দিকে চলে যান এবং চলন্ত একটি গাড়ির ধাক্কায় মৃ ত্যু হয়। সালিশি প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এমিলি ও তার বন্ধু দুজনই ম দ্য প অবস্থায় ছিলেন এবং ট্রান তাদের এই অবস্থার কথা জানতেন। স্টোনের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ট্রান চাইলে কাছের ম্যাকআর্থার বুলেভার্ড এক্সিট দিয়ে নি রা পদ জায়গায় গাড়ি থামাতে পারতেন। ঘটনার পর এমিলির বাবা-মা ও লুনা উবার এবং ট্রানের বিরুদ্ধে মা ম লা করেন। পরে পক্ষগুলো আদালতের পরিবর্তে সালিশি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়। পাঁচ দিন ধরে চলা সেই সালিশিতে উবারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, তারা মূলত যাত্রী ও স্বাধীনভাবে কাজ করা চালকদের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া একটি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত বিচারক স্টোন সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তার সিদ্ধান্তে উবারকে চালকের অ ব হেলার জন্য ভিকারিয়াসলি দায়ী করা হয়। তিনি আরও বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রপোজিশন ২২ উবারকে এই দায় থেকে সুরক্ষা দেয় না। সালিশি নথিতে ট্রানের বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও কঠোর মন্তব্য করা হয়েছে। পাশাপাশি জিপিএস তথ্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এমিলি দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর ট্রানের গাড়ি তার কাছাকাছি এলাকা দিয়ে যায় এবং পরে চালক পরবর্তী এক্সিট ব্যবহার করেন। এরপর তিনি উবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাড়ি পরিষ্কারের ফি নিয়ে কথা বলেন। পরিবারের আইনজীবীদের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রানের গাড়ি চালানো নিয়ে এর আগেও উবারের কাছে কয়েকটি অভিযোগ এসেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত সালিশি প্রক্রিয়ায় প্রমাণ হিসেবে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তা সিদ্ধান্তের পৃথক অংশে বিবেচনা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর উবার জানিয়েছে, তারা সালিশকারীর সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। কোম্পানির বক্তব্য, তারা সালিশি প্রক্রিয়াকে সম্মান করলেও ওই রাতের ঘটনার জন্য উবারকে আইনগতভাবে দায়ী করার সিদ্ধান্তকে তারা ভুল মনে করে। অন্যদিকে এমিলির বাবা-মা বলেছেন, তারা এই অর্থকে শুধু ক্ষ তি পূ রণ হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, মেয়ের মৃ ত্যুর ঘটনা সামনে এনে রাইড শেয়ারিং সেবায় যাত্রী নি রা পত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগে অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে। বিষয়টি আদালতের রায় নয়, বরং একটি বেসরকারি সালিশি সিদ্ধান্ত হওয়ায় এটি উবারের চালকদের দায়বদ্ধতা নিয়ে চলমান আইনি বিতর্কে সরাসরি কোনো নতুন নজির তৈরি করবে কি না, সেটিও আলাদা প্রশ্ন হিসেবে থাকছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এনএসডিএ গভর্নিং বোর্ডের তৃতীয় সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন। সভায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি, প্রশিক্ষণের মান বৃদ্ধি এবং সনদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর বিষয় আলোচনা হয়। তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চললেও যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে প্রশিক্ষণ ও সনদ অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত কার্যকারিতা পাচ্ছে না। এ কারণে তরুণদের অর্জিত দক্ষতা দেশে ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রত্যাশিত স্বীকৃতি পাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ পরিস্থিতিতে এনএসডিএর গভর্নিং বোর্ডকে ছোট একটি কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে সমন্বিত কাঠামোয় এনে অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সভায় এনএসডিএর প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ও কার্যক্রমের পাশাপাশি খাতভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা বিশ্লেষণ এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মান, সনদ এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের এক ৩৩ বছর বয়সী নারীর পাকস্থলী থেকে ১৪টি কলম, পাঁচটি কাঠের চামচ ও একটি মোমবাতিসহ মোট ২০টি অস্বাভাবিক বস্তু বের করেছেন চিকিৎসকরা। ৫ সেপ্টেম্বর পালানাডু জেলার নারসারাওপেটের মাতাশ্রী প্রাইভেট হাসপাতালে তীব্র বুকব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় পাকস্থলীতে এসব বস্তু শনাক্ত হওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টার ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচারে সেগুলো বের করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীকে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর পাকস্থলীর ভেতরে একাধিক অস্বাভাবিক বস্তু দেখতে পান চিকিৎসকরা। এরপর ডা. পি. রামচন্দ্র রেড্ডির নেতৃত্বে অস্ত্রোপচারকারী দল ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে একে একে বস্তুগুলো বের করে আনে। উদ্ধার হওয়া জিনিসগুলোর মধ্যে ছিল ১৪টি বলপয়েন্ট কলম, পাঁচটি ছোট কাঠের চামচ এবং একটি মোমবাতি। সবচেয়ে বড় কলমটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার। একটি কলমের ঢাকনাও পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, সেটি পাকস্থলীর ভেতরে আঘাত বা ক্ষতির কারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব বস্তু কীভাবে ওই নারীর পাকস্থলীতে গেল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রধান সার্জন ডা. রামচন্দ্র রেড্ডিও জানিয়েছেন, এতগুলো বস্তু তিনি কীভাবে গিলে ফেলেছেন, তা চিকিৎসকদের কাছে পরিষ্কার হয়নি। এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত কারণও চিকিৎসকরা প্রকাশ করেননি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারীর বাবা দাবি করেছেন, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে তার নির্দিষ্ট কোনো রোগ নির্ণয়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তার স্বামী দুই মাস আগে তাকে তালাক দিয়েছেন। এসব তথ্য পরিবারের বক্তব্য হিসেবে এসেছে এবং চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এর সঙ্গে পাকস্থলীতে বস্তু থাকার সরাসরি কারণ নিশ্চিত করা হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর ওই নারীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে খাবার নয় এমন বস্তু খাওয়ার প্রবণতার একটি পরিচিত নাম পিকা। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় ওই নারীর ক্ষেত্রে পিকা রয়েছে কি না, তা চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেননি। non-food objects গিলে ফেলা গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে ধারালো বা লম্বা বস্তু হলে অভ্যন্তরীণ আঘাতের ঝুঁকি থাকে। সূত্র : রয়টার্স
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। তাঁর অভিযোগ, গত ১৭ বছর ধরে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনিয়মের কারণে শিক্ষার মূল ভিত্তি দুর্বল হয়েছে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পুরো জাতির ওপর পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার ঢাকার কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন রিজভী। অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও আর্থিক বৃত্তি দেওয়া হয়। রিজভীর বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল শিক্ষার গুণগত মান। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুধু নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই শিক্ষার মান নিশ্চিত হয় না। এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ ও নিবেদিত শিক্ষক, উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের সুযোগ। গত ১৭ বছরের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে রিজভী অভিযোগ করেন, অতীতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিক্ষার মান ও পরীক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে এসব বক্তব্য রিজভীর রাজনৈতিক অভিযোগ; প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর স্বাধীন প্রমাণ বা পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। তিনি শিক্ষার্থীদের আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের সুযোগ বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার নতুন প্রজন্ম কী ধরনের শিক্ষা পাচ্ছে তার ওপর। শিক্ষার্থীরা যেন কেবল পরীক্ষায় পাস বা সনদ অর্জনের জন্য পড়াশোনা না করে, বরং বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর মতো জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে—এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা জানানোর পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে ভালো ফলাফল ধরে রাখা এবং দেশ ও সমাজের জন্য দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের তৈরি করার আহ্বান জানানো হয়।
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে আবারও দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী দানের ডেগ খুলে অর্থ গণনা করা হচ্ছে। শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে এই গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল ৯টার পর মাজারের দানবাক্স ও তিনটি ঐতিহ্যবাহী ডেগের তালা খোলা হয়। এরপর সেখান থেকে পাওয়া টাকা মাজার প্রাঙ্গণে এনে গণনা শুরু করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শুরুর সময় নিয়ে সামান্য পার্থক্য রয়েছে—কোনোটিতে সকাল ৯টা, আবার কোনোটিতে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের কথা বলা হয়েছে। এবার দানবাক্স ও ডেগ থেকে নগদ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী পাওয়া গেছে। একটি স্থানীয় প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্টদের বরাতে বলা হয়েছে, দানবাক্সগুলো থেকে প্রায় চার বস্তা টাকা বের হয়েছে। তবে গণনা শেষ হওয়ার আগে মোট অর্থের চূড়ান্ত পরিমাণ জানা যায়নি। মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত ১৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটির তত্ত্বাবধানে গণনা চলছে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। এর আগে গত ১৫ আগস্ট তৃতীয়বারের মতো দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনা করা হয়েছিল। তখন নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। ফলে প্রায় ৩৪ দিন পর আবার দানের অর্থ গণনা করা হচ্ছে। মাজারে বহু বছরের প্রচলিত প্রথা ভেঙে প্রথমবার প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনা করা হয় গত ২২ জুন। প্রথম দফায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। তৃতীয় দফার ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকাসহ জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে যোগ করা ৫ লাখ টাকা মিলিয়ে আগের তিন দফায় নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।গণনা শেষে দানের অর্থ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে নির্ধারিত হিসাবে জমা রাখার কথা রয়েছে।
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে পাবলিক এনগেজমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট (প্রফেশনাল এক্সচেঞ্জেস) পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ৫ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন করতে হবে। সম্প্রতি ইউএস অ্যাম্বাসি ঢাকার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রার্থী পেশাগত এক্সচেঞ্জ কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা তৈরিতে কাজ করবেন। এ জন্য প্রার্থীর সাংগঠনিক দক্ষতা, খুঁটিনাটি বিষয়ে মনোযোগ এবং পেশাগত এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম পরিচালনা ও সমন্বয়ের বিষয়ে আগ্রহ থাকা প্রয়োজন। এই পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সরকার, সুশীল সমাজ, থিংকট্যাংক, পেশাজীবী সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পেশাজীবীদের নিয়ে বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম সমন্বয় করবেন। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ তৈরি এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর কাজ করতে হবে। পদের নাম পাবলিক এনগেজমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট (প্রফেশনাল এক্সচেঞ্জেস)। আবেদন করার শেষ তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৬। নিয়োগের অন্যান্য যোগ্যতা, বেতন ও সুবিধাসহ বিস্তারিত তথ্য জানতে ইউএস অ্যাম্বাসি ঢাকার অফিসিয়াল চাকরি সংক্রান্ত পেজে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের ইউএস অ্যাম্বাসি ঢাকার ওয়েবসাইটের চাকরি সংক্রান্ত পেজের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার আগে প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আবেদনের শর্তগুলো ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আরটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের এই নিয়োগে পেশাগত যোগাযোগ, সংগঠন পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের অভিজ্ঞতা বা দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য তাই আবেদন করার আগে নিজেদের যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা বিজ্ঞপ্তির শর্তের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ন্যূনতম মজুরি বেড়ে ঘণ্টায় ১৫ ডলার হবে। এই পরিবর্তনের ফলে রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাতের কর্মীদের বেতন বাড়বে। ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২১ সালে ন্যূনতম মজুরি ১০ ডলারে পৌঁছানোর পর প্রতি বছর এক ডলার করে বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তা ১৪ ডলারে উন্নীত হয়। এবার ৩০ সেপ্টেম্বর ১৫ ডলারে পৌঁছাবে। তবে যেসব কর্মী টিপস পান, তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা আলাদা। টিপস পাওয়া কর্মীদের নিয়োগকর্তাকে সরাসরি ঘণ্টায় ১১.৯৮ ডলার দিতে হবে। বাকি ৩.০২ ডলার টিপস থেকে পূরণ হওয়ার কথা। এই মজুরি বৃদ্ধির প্রভাব রেস্তোরাঁ ব্যবসাতেও পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। শ্রমিকদের বেতন বাড়ার সঙ্গে ব্যবসার পরিচালন ব্যয়, ওভারটাইম খরচ এবং কর্মী ব্যবস্থাপনার ব্যয়ও বাড়বে। ফ্লোরিডা রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশনের সরকারি সম্পর্কবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট সামান্থা প্যাডেট বলেন, শ্রম ব্যয় বাড়লে ব্যবসাগুলোকে কর্মীসংখ্যা, কাজের সময় এবং অটোমেশন ব্যবহারের মতো বিষয় নতুন করে ভাবতে হতে পারে। অন্যদিকে, ফ্লোরিডার বিভিন্ন রেস্তোরাঁর শ্রম ও পরিচালন ব্যয় পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ওশানভিউ ফাইন্যান্সিয়ালের প্রধান জোহান গুতিয়েরেজের মতে, ন্যূনতম মজুরি বাড়লে ওভারটাইমের খরচও বাড়বে। ফলে কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মীদের ওভারটাইম কমানোর পাশাপাশি কর্মীসংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য, এতে নিম্ন আয়ের কর্মীদের আয় বাড়বে এবং তাদের অতিরিক্ত ব্যয় স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ৩০ সেপ্টেম্বরের এই বৃদ্ধি ফ্লোরিডার বর্তমান বহু বছরের মজুরি বৃদ্ধির পরিকল্পনার শেষ নির্ধারিত এক ডলারের ধাপ। ২০২৭ সাল থেকে অঙ্গরাজ্যের ন্যূনতম মজুরি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য করে সমন্বয় করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় মুখ খুলেছে সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির (জেএফকে) পরিবার। ওয়াশিংটনের জন এফ. কেনেডি সেন্টারের নামের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার চেষ্টা এবং সংস্কারের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘিরেই এই বিরোধ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প-সমর্থিত কেনেডি সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদ ভবনটি সংস্কারের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে একটি ফেডারেল আদালত ভবনের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ আটকে দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি সেন্টারে ট্রাম্পের নামে কোনো স্মারক বা নাম সংযোজন করা যাবে না। এরপর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, আদালতের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে কেনেডি সেন্টারের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের কাজ এগোবে না। সংস্কারের জন্য কংগ্রেস প্রায় ২৫৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। ট্রাম্পের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছেন জেএফকের ভাতিজি মারিয়া শ্রাইভার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে তাকে ‘ছোট মনের’ ও ‘আত্মমগ্ন’ বলে মন্তব্য করেন। শ্রাইভারের ভাষ্য, একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট একটি সরকারি ভবনের সংস্কার আটকে রাখবেন শুধু সেখানে নিজের নাম যুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। জেএফকের নাতি জ্যাক শ্লসবার্গও ট্রাম্পের উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, তার দাদার উত্তরাধিকার চাঁদে অভিযান, নাগরিক অধিকার আইন, কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট এবং শিল্পকলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। এদিকে জেএফকের পরিবারের আরেক সদস্য কেরি কেনেডি ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই করা কংগ্রেস সদস্য জয়েস বিট্টির প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, কেনেডি সেন্টার, শিল্পকলা, তার চাচা জন এফ. কেনেডির স্মৃতি এবং আইনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য বিট্টি সাহসের সঙ্গে লড়ছেন। বিতর্কের মধ্যে ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার কেনেডি সেন্টারে বড় ধরনের পরিবর্তন বা ধ্বংসের আগে ৩০ দিনের নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে নাম পরিবর্তন, সংস্কার ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও জেএফকের পরিবারের বিরোধ এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর ঢাকাজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও রাজধানীর প্রবেশপথ মিলিয়ে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল ও এর চালকদের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ। ঢাকা ট্রিবিউনের শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকে রাজধানীতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের কয়েকটি ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে এবং সন্দেহজনক চলাচল শনাক্ত করতে নিরাপত্তা তৎপরতা বাড়ানো হয়। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোট ১৪টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, যাত্রাবাড়ী, বাবুবাজার, বিটিভি ভবনের সামনে এবং মগবাজার মোড়ে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে কাফরুল থানার সামনে একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, জনসমাগমপূর্ণ এলাকা এবং ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে অবৈধ মোটরসাইকেল চলাচল এবং সেগুলো ব্যবহার করে কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের এই পদক্ষেপ এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা ঘিরেও পুলিশের নজরদারি বেড়েছে। ঢাকা ট্রিবিউনের পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আকস্মিক মিছিল বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারের কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চলছে এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও তথ্য চাওয়া হচ্ছে। খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে মোটরসাইকেল চালকদের ওপর ‘বিশেষ নজরদারি’ বলতে সব মোটরসাইকেল চালককে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে—এমন কথা প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়নি। ডিএমপির বক্তব্য অনুযায়ী, মূল লক্ষ্য অবৈধ মোটরসাইকেলের চলাচল এবং নাশকতায় মোটরসাইকেলের সম্ভাব্য ব্যবহার ঠেকানো।
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বাড়তে শুরু করেছে গ্যাসের দাম। দেশটির কয়েকটি এলাকায় এক রাতেই প্রতি গ্যালনে দাম প্রায় ২৫ সেন্ট পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (AAA) তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর নিয়মিত গ্যাসের জাতীয় গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৪.৪৬৮৭ ডলার। ১৭ সেপ্টেম্বরের হিসাবে দাম ছিল ৪.৪৩ ডলার, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় ১৬ সেন্ট বেশি। ২০২২ সালের জুনে রেকর্ড ৫.০১ ডলারের পর এটিই অন্যতম উচ্চ পর্যায়ের দাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন। সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। পাইপলাইনটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২৬ লাখ থেকে ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হতো। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইপলাইন দিয়ে পরিবহন করা সর্বোচ্চ ৪০ লাখ ব্যারেল তেল বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান। ফলে দীর্ঘ সময় সরবরাহ ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও তেলবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হতো। বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্যাসের দাম বাড়ার বিষয়টি নিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে বাড়তি জ্বালানি খরচ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘খুবই কম মূল্য’ দেওয়ার মতো। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, গ্যাসের দাম আবার দ্রুত কমে আসবে। গ্যাসের দাম নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। ১১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পরিচালিত ফক্স নিউজের এক জরিপে ৬১ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, গ্যাসের দাম তাদের জন্য বড় সমস্যা। জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনীতিকেও ভোটারদের প্রধান উদ্বেগগুলোর মধ্যে পাওয়া গেছে। তবে গ্যাসের দাম আগামী দিনে ঠিক কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক তেলের সরবরাহ, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় তার ওপর।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি পর্যায়ে বড় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুলশানের বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মধ্যেই এ উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে সচিবালয়, জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকারি স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের এই উদ্যোগের পেছনে সাধারণ মানুষের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার উৎসাহিত করার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মীর শাহে আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার আগে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেই এর ব্যবহার বাড়িয়ে উদাহরণ তৈরি করতে হবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরিকল্পনায় বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন এবং পরিকল্পনা কমিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য সৌরবিদ্যুৎকে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনার বড় অংশজুড়ে রয়েছে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সগুলো। মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রস্তুত থাকা ৩ হাজার ৪১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভবনে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কর্মসূচির জন্য মোট ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব অনুযায়ী, এক ঘণ্টার ব্যাকআপসহ ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ লাখ ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। উপজেলা প্রকৌশলীদের দ্রুত এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সকে এই কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়ার কারণ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব স্থাপনায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে আসেন। সেখানে সৌর প্যানেল ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দৃশ্যমান হলে সাধারণ মানুষ প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাবেন এবং নিজেদের বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহী হতে পারেন। সরকারের পরিকল্পনায় শুধু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের বিষয়টিও রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে নিজস্ব চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন সরকারি ভবনগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। গত আগস্টে মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পাশাপাশি জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি অফিসেও পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের মতে, এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমেও জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ১২টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে প্রায় ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বায়ু, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও কৃষিজমিতে সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তিসহ অন্যান্য উৎস থেকেও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। স্রেডার তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৮৫২ মেগাওয়াট। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত এবং প্রায় ৩৭৮ দশমিক ৫৬ মেগাওয়াট গ্রিডের বাইরে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ১ অক্টোবর থেকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ঘোষণাকে তাই বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং সরকারি স্থাপনা থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার পর্যায় পর্যন্ত সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের বৃহত্তর কর্মসূচির একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুতের প্রচলিত উৎসের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি সরকারি ভবনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও দৃশ্যমান হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে সাবওয়ে ট্রেনের ধা ক্কায় ২৪ বছর বয়সী এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণী ও তার বন্ধুর মৃ ত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার আগে রেললাইনে তাদের অবস্থানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নি হতরা হলেন নিউ জার্সির ডেটন এলাকার মালাইকা চিত্রে এবং সেয়ারভিল এলাকার নাভাম কৌল। দুজনই একসময় রাটগার্স ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছেন। স্থানীয় সময় রোববার ভোর ৩টা ১৫ মিনিটের কিছু পর স্প্রিং স্ট্রিট স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় দক্ষিণমুখী ৪ নম্বর ট্রেনটি স্টেশনে ঢুকছিল। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির (এমটিএ) প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রেনের চালক রেললাইনে একজন পুরুষ ও একজন নারীকে বসে থাকতে দেখেন। ট্রেনটি তাদের কাছে পৌঁছানোর সময় ওই নারীকে পুরুষটিকে নিজের দিকে টানতে দেখা যায়। কীভাবে দুজন রেললাইনে চলে গেলেন এবং প্রথমে কে সেখানে নেমেছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তকারীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাভাম কৌল হয়তো প্রথমে রেললাইনে পড়ে যান বা সেখানে চলে যান। এরপর তাকে সাহায্য করতে মালাইকা চিত্রে রেললাইনে নেমেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রেন আসার কিছুক্ষণ আগে মালাইকাকে নাভামকে নিজের দিকে টানার চেষ্টা করতে দেখা যায়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ট্রেনটি এগিয়ে আসার সময় দুজনকে রেললাইনে দেখা যায়। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে ওই ভিডিওও তদন্তের অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা দুর্ঘটনার সময় দুজনের কেউ মদ্যপ বা অন্য কোনোভাবে নে শা গ্র স্ত ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আ ত্ম হ ত্যা র নোট পাওয়া যায়নি। তাদের রেললাইনে যাওয়ার পেছনে ঠিক কী কারণ ছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে। ট্রেনের চালক দুজনকে দেখতে পেয়ে জরুরি ব্রেক প্রয়োগ করেছিলেন। তবে ততক্ষণে ট্রেনটি থামানো সম্ভব হয়নি। ট্রেনের ১০টি বগির মধ্যে চারটি স্টেশনে ঢোকার পর সেটি থামে। ট্রেনের ধা ক্কায় ঘটনাস্থলেই মালাইকা ও নাভামের মৃ ত্যু হয়। পরে ট্রেনের তৃতীয় ও চতুর্থ বগির নিচ থেকে তাদের ম র দে হ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনে প্রায় ১০০ যাত্রী ছিলেন। পরে তাদের প্ল্যাটফর্মে সরিয়ে নেওয়া হয়। রাটগার্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, নাভাম কৌল ২০২০ সালের শরৎকাল থেকে ২০২৪ সালের বসন্তকাল পর্যন্ত রাটগার্স বিজনেস স্কুলে পড়াশোনা করেন। অন্যদিকে মালাইকা চিত্রে ২০২৪ সালের মে মাসে রাটগার্স-নিউ ব্রান্সউইক থেকে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। দুজনের মৃ ত্যুতে শোক জানিয়েছে রাটগার্স ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ ও গণমাধ্যমবিষয়ক সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডরি ডেভলিন বলেন, সাবেক দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃ ত্যুর খবর জানতে পেরে তারা গভীরভাবে শোকাহত।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। নতুন পে-স্কেল ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। নতুন কাঠামোয় আগের মতো ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। গ্রেডভেদে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। তবে নতুন বর্ধিত মূল বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। গেজেট অনুযায়ী, তিন ধাপে এটি বাস্তবায়ন হবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপ এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে শতভাগ বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হবে। নতুন পে-স্কেলের বর্ধিত ভাতা পেতে অবশ্য আরও অপেক্ষা করতে হবে। গেজেট অনুযায়ী, বর্ধিত ভাতার সুবিধা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান পেনশনভোগীরাও নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাবেন। সরকারের অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পেনশনভোগী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন। পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এর আগে ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভা নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন করে। তখনই জানানো হয়েছিল, নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে এবং অর্থ বিভাগ পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় গেজেট, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার গেজেট প্রকাশ করা হলো। গেজেট প্রকাশের ফলে এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ফিক্সেশন, বর্ধিত বেতন ও বকেয়া হিসাব নির্ধারণের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। অর্থাৎ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও নতুন বেতন কাঠামোর টাকা হাতে পাওয়ার প্রক্রিয়া নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বাস্তবায়ন কার্যক্রমের ওপর।
জনপ্রিয় রান্নার যন্ত্র এয়ার ফ্রায়ার নিয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের চিকিৎসক ডা. পুনম দেশাই। দীর্ঘায়ু ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা এই চিকিৎসক দাবি করেছেন, সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে তিনি নিজেই তার এয়ার ফ্রায়ার ফেলে দিয়েছেন। ডা. দেশাইয়ের মতে, এয়ার ফ্রায়ারে তুলনামূলক কম তেল ব্যবহার করা হলেও উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার সময় খাবারে অ্যাক্রিলামাইড নামের রাসায়নিক তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আলুর মতো শর্করা বা স্টার্চসমৃদ্ধ খাবার বেশি তাপমাত্রায় রান্না করলে এর পরিমাণ বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক খাদ্যনিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ইউরোপিয়ান ফুড সেফটি অথরিটি (EFSA) জানিয়েছে, ভাজা, বেক করা বা রোস্ট করার মতো উচ্চ তাপমাত্রার রান্নায় অ্যাক্রিলামাইড তৈরি হতে পারে। প্রাণীর ওপর গবেষণায় এটি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়েছে; তবে মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের মাধ্যমে পাওয়া অ্যাক্রিলামাইডের সঙ্গে ক্যানসারের সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ এখনো সীমিত ও অসঙ্গত। ডা. দেশাই আরও দাবি করেছেন, কিছু এয়ার ফ্রায়ারে থাকা নন-স্টিক আবরণে PFAS-জাতীয় রাসায়নিক থাকতে পারে, যা উচ্চ তাপমাত্রায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে সব এয়ার ফ্রায়ার একই ধরনের আবরণ দিয়ে তৈরি নয়। কানাডার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, অনেক নন-স্টিক রান্নার সামগ্রীর আবরণে PFAS ব্যবহার করা হয় এবং অতিরিক্ত উচ্চ তাপমাত্রায় এসব সামগ্রী ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত। তবে এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করলেই ক্যানসার হবে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নেই। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA) বলছে, খাবারে থাকা অ্যাক্রিলামাইড মানুষের ক্যানসারের ঝুঁকি কতটা বাড়ায়, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। সংস্থাটি অবশ্য দীর্ঘ সময় বা অতিরিক্ত তাপে খাবার রান্না না করার এবং অতিরিক্ত বাদামি বা পুড়ে যাওয়া খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। ডা. দেশাই বলেছেন, এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করতেই হলে তিনি স্টেইনলেস স্টিলের মডেল বেছে নেবেন এবং সেটিও খুব বেশি ব্যবহার করবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এখন ফুড স্ট্যাম্প, মেডিকেইড, শিক্ষা সহায়তা কিংবা বিনামূল্যে স্কুলের খাবারের মতো সরকারি সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি গ্রিন কার্ডের আবেদন বিবেচনার সময় প্রভাব ফেলতে পারে। শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এই নীতিতে অভিবাসন কর্মকর্তারা কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা মূল্যায়নের সময় এসব সুবিধা ব্যবহারের বিষয় বিবেচনা করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (DHS) হিসাব অনুযায়ী, নতুন নিয়মের কারণে বছরে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সরকারি ব্যয় কমতে পারে। সংস্থাটির ধারণা, প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন অথবা এসব সুবিধায় নতুন করে আবেদন করা এড়িয়ে যেতে পারেন। DHS বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের স্বনির্ভর হওয়া উচিত এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধা যেন অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো প্রণোদনা তৈরি না করে, সেটিই এই নীতির উদ্দেশ্য। গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয় এবং দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার পথেও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নিউইয়র্কসহ ২১টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ও কয়েকটি শহর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, নতুন নীতির কারণে অভিবাসী পরিবার, বিশেষ করে যেসব পরিবারে অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিক—দুই ধরনের সদস্য রয়েছেন, তারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। নতুন নীতিটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ‘পাবলিক চার্জ’ ব্যবস্থার বিস্তৃত সংস্করণ। আগে সাধারণত নগদ সরকারি সহায়তা বা দীর্ঘমেয়াদি সরকারি অর্থায়নে হাসপাতালে থাকার মতো বিষয়গুলো গ্রিন কার্ডের আবেদনে বেশি গুরুত্ব পেত। নতুন নিয়মে খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের মতো আরও কিছু সুবিধাও কর্মকর্তাদের বিবেচনার আওতায় এসেছে। তবে সব অভিবাসী এই নিয়মের আওতায় পড়বেন না। আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের মতো কিছু শ্রেণির অভিবাসীকে নতুন নীতির বাইরে রাখা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে ২০১৯ সালেও একই ধরনের একটি ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি চালু করেছিল। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে সেটি আটকে যায়। ওই সময় অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারি সহায়তা নেওয়া নিয়ে ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল এবং সরকারি খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার হারও কমে গিয়েছিল বলে আরবান ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে।
কুমিল্লায় মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া ১৩ বছরের অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ি এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর আগে শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ওইদিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। নিখোঁজের একদিন পর শনিবার অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকায় ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। সে বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে মরদেহ উদ্ধারের খবরে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের তদন্তে অপ্রতিমের মৃত্যুর কারণ, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং তার সঙ্গে সর্বশেষ কারা ছিলেন, এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি মাথায় আঘাতের ধরনসহ অন্যান্য আলামতও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণ হিসেবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেছেন, তারা সরকারের বিরুদ্ধে বা দেশের বিরুদ্ধে নন; বরং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে সংস্কার চান। তবে তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার সেই কাজ করতে পারছে না। শনিবার সকালে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস সড়কে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় অলি আহমেদ এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর আগে শনিবার সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ঢাকা-রংপুর লং মার্চ শুরু হয়। ১১ দলীয় ঐক্যের এই কর্মসূচিতে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়েছে। লং মার্চের বহর গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসে পৌঁছালে সেখানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রংপুরের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়। পথে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধার কয়েকটি স্থানে পথসভা এবং রংপুরে সমাপনী সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে। পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের লং মার্চ কোনো দলীয় দাবি আদায়ের জন্য নয়; তিনি এটিকে দুর্নীতিমুক্ত দেশ এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি গণভোটের গণরায় নিশ্চিত করার দাবির কথাও বলেন। একই কর্মসূচিতে ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য দেন। কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরের পরই নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ এবং বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে বা বিজি প্রেসে ছাপার কাজ চলছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আজই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে। এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে মূল বেতন একসঙ্গে নয়, তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কাঠামোয় আগের মতো ২০টি গ্রেডই বহাল থাকছে। ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। অন্যদিকে ২০তম গ্রেডে বৃদ্ধির হার ১৪২ শতাংশ। বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এখন সরকারি চাকরিজীবীদের নজর মূলত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সময়ের দিকে। দুপুরের পর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হলে এরপর নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ ও বকেয়া পাওনা সমন্বয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর আগমন ঘিরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের বিভিন্ন সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ডাইভারসিটি প্লাজায় ব্যানার-পোস্টার ও ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে। তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে এসব ব্যানার-পোস্টার লাগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপি এবং দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার ও ব্যানার দিয়েছেন। জ্যাকসন হাইটসের পাশাপাশি নিউইয়র্কের অন্যান্য বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাতেও তাঁর সফর ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের তৎপরতা বেড়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর জন এফ কেনেডি বা জেএফকে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে তারেক রহমানের নিউইয়র্ক আগমন উপলক্ষে দলীয় প্রস্তুতি সভাও চলছে। ১৫ সেপ্টেম্বর জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপির দক্ষিণ শাখার একটি কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সফরকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এটি সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘে তাঁর প্রথম বক্তব্য হবে। সফরটি সংক্ষিপ্ত করে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপির পাশাপাশি ভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনগুলোরও কর্মসূচির প্রস্তুতি রয়েছে। ফলে জেএফকে বিমানবন্দর, জ্যাকসন হাইটস ও জাতিসংঘ সদর দপ্তর ঘিরে আগামী কয়েকদিন রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়তে পারে। তবে নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে ঘিরে সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রস্তুতির চিত্র এখন জ্যাকসন হাইটসেই—বাংলাদেশি অধ্যুষিত এই এলাকায় তাঁর আগমনকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নিয়ম কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হওয়া এই নীতির আওতায় মেডিকেড, স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তা, শিক্ষায় আর্থিক সহায়তা ও ফ্রি স্কুল লাঞ্চসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি কিছু আবেদনকারীর গ্রিন কার্ড পাওয়ার সিদ্ধান্তে বিবেচনায় আসতে পারে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নিয়মে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হাতে আবেদনকারীর সরকারি সহায়তা গ্রহণের বিষয়টি মূল্যায়নের আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারের ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, সেটি নির্ধারণের সময় বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে কোনো একটি সুবিধা নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ডের আবেদন বাতিল হবে, এমন নিয়ম নয়। নতুন নীতির আওতায় মেডিকেড ও স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি কলেজের টিউশন সহায়তা, ফ্রি স্কুল লাঞ্চ এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তাও কর্মকর্তাদের বিবেচনায় আসতে পারে। কোন সুবিধা কীভাবে আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে নিয়মটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এই নীতি ‘পাবলিক চার্জ’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সহায়তা বিবেচনা করে আসছেন। নতুন নিয়ম সেই বিবেচনার আওতা আরও বিস্তৃত করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করা কিছু অভিবাসীর ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি আগের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে সব অভিবাসী এই নিয়মের আওতায় পড়বেন না। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাসাইলামপ্রার্থী ও শরণার্থীদের মতো কিছু শ্রেণির অভিবাসী নতুন নিয়মের বাইরে থাকবেন। অন্যদিকে মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট পারিবারিক সদস্য, দক্ষ ও ধর্মীয় কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রিন কার্ড আবেদনকারী এই নীতির আওতায় পড়তে পারেন। নতুন নিয়ম নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। নিউইয়র্কসহ একাধিক অঙ্গরাজ্য, কাউন্টি ও শহর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, নতুন নীতিটি সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য অভিবাসীদের সেই সুবিধা নিতে নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হাতে অতিরিক্ত ও অস্পষ্ট ক্ষমতা দিতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের স্বনির্ভর হওয়া উচিত এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোই এই নীতির উদ্দেশ্য। প্রশাসনের হিসাবে, নতুন নিয়মের কারণে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে সরে যেতে পারেন বা নতুন করে এসব কর্মসূচিতে যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের ব্যয় বছরে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার কমতে পারে বলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের হিসাব উদ্ধৃত করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও একই ধরনের পাবলিক চার্জ নীতি চালু হয়েছিল। পরে আদালতে তা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ হয় এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ২০২২ সালে নীতিটি বাতিল করে তুলনামূলক সংকীর্ণ নিয়ম চালু করেছিল। ২০২৬ সালের নতুন নীতি সেই বিস্তৃত পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন করেছে। নতুন নিয়মের ফলে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য সরকারি সুবিধা গ্রহণের আগে নিজেদের ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি এবং কোন সুবিধা তাদের ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসতে পারে, তা বুঝে নেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে একজন সদস্য গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করছেন এবং অন্য সদস্যরা সরকারি সহায়তা নিচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।