সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

সান ফ্রান্সিসকোতে ১৭.৫ লাখ ডলারে বিক্রির তালিকায় বিরল ভাসমান বাড়ি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১২:৭
সান ফ্রান্সিসকোতে প্রকাশ্য বাজারে বিক্রির তালিকায় ওঠা সেই বিরল ভাসমান বাড়ি। ছবি: সংগৃহীত
সান ফ্রান্সিসকোতে প্রকাশ্য বাজারে বিক্রির তালিকায় ওঠা সেই বিরল ভাসমান বাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে ১৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারে বিক্রির তালিকায় উঠেছে বিরল একটি ভাসমান বাড়ি। শহরের মিশন ক্রিক এলাকায় ওরাকল পার্কের কাছে থাকা মাত্র ২০টি হাউসবোটের একটি এটি। এসব ভাসমান বাড়ি সাধারণত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় পরিবারগুলোর মধ্যে হস্তান্তর হয়ে থাকে। ফলে প্রকাশ্য বাজারে এমন বাড়ির বিক্রি অত্যন্ত বিরল।

 

বিক্রির জন্য তোলা বাড়িটির মালিক টাইসন গ্রাহাম। তিনি ২০০২ সালে হাউসবোটটি কিনেছিলেন ২ লাখ ২৫ হাজার ডলারে। তখন এটি ছিল মাত্র ৪০ ফুটের একটি নৌযান এবং ৪০ ফুটের নোঙর করার জায়গা। সামনে ও পেছনে দুটি ডেক থাকলেও বাড়িটির আয়তন ছিল ৩০০ বর্গফুটেরও কম।

 

শিকাগোর বাসিন্দা গ্রাহাম পরে নিজের শ্রম ও পরিকল্পনায় হাউসবোটটির ব্যাপক পরিবর্তন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে তিনি ছোট নৌযানটিকে প্রায় ১ হাজার ৯০০ বর্গফুটের একটি আবাসিক বাড়িতে রূপ দেন। বর্তমানে এতে রয়েছে তিনটি শয়নকক্ষ ও তিনটি বাথরুম।

 

হাউসবোটটি নির্মাণের সময় গ্রাহামের পরিকল্পনায় দুটি আলাদা আবাসিক ইউনিট রাখার বিষয়টি ছিল। ওপরের তলাটি তিনি আলাদা একটি ভাড়ার ইউনিট হিসেবে তৈরি করেছিলেন। আর নিচের তলাটি নিজের বসবাসের জন্য রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন।

 

পরবর্তী সময়ে বাড়িটির ওপরের তলার সেই আলাদা ইউনিটটি পরিবর্তন করে একটি বড় মূল শয়নকক্ষে পরিণত করা হয়। সেখানে রয়েছে একটি বাথরুম এবং বড় আকারের পোশাক রাখার কক্ষ। এ পরিবর্তনের ফলে পুরো বাড়িটি এখন একটি বড় আবাসিক ইউনিট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

মিশন ক্রিক এলাকায় থাকা হাউসবোটগুলোর মধ্যে প্রকাশ্য বাজারে বিক্রির ঘটনা খুবই কম। গ্রাহামের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মাত্র তিনটি হাউসবোট প্রকাশ্য বাজারে বিক্রির জন্য উঠেছে। সেই তালিকায় থাকা তার বাড়িটির বর্তমান মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

 

বিক্রয়মূল্যের বাইরে বাড়িটির মালিককে প্রতি মাসে নোঙর করার জায়গার জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। তবে গ্রাহামের দাবি, এই মাসিক খরচ সান ফ্রান্সিসকো শহরের অধিকাংশ আবাসন মালিক সমিতির ফি থেকে কম।

 

পানিতে ভাসমান হলেও এই বাড়ির জীবনযাপন স্থলভাগের বাড়ির মতোই বলে জানিয়েছেন গ্রাহাম। তার মতে, পানির ওপর অবস্থানের কারণে বাড়িটিতে অতিরিক্ত কোনো বিশেষ ধরনের ব্যবস্থা বা নিয়মের প্রয়োজন হয় না। তবে প্রবল বাতাসে বাড়িটি দুলতে শুরু করলে তখনই বোঝা যায় এটি পানির ওপর ভাসমান একটি বাড়ি।

 

এই হাউসবোটের সঙ্গে গ্রাহামের দীর্ঘদিনের বসবাসের স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। তিনি জানিয়েছেন, ফেরি ভবনের কৃষকের বাজারে নৌকায় করে যাওয়া এবং চ্যানেল স্ট্রিটের এই এলাকার মানুষের সঙ্গে কাটানো সময় তিনি মিস করবেন।

 

গ্রাহাম প্রায় ২৫ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করেছেন। বর্তমানে তার বাড়ি সানোমা কাউন্টিতে। শহরের জীবন থেকে দূরে গিয়ে অবসর জীবনের পরবর্তী সময় উপভোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

 

নিজের সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে গ্রাহাম জানিয়েছেন, তিনি কখনো বিয়ে করেননি এবং তার কোনো সন্তানও নেই, যে ভবিষ্যতে বাড়িটির দায়িত্ব নিতে পারে। কয়েক বছর আগে অবসর নেওয়ার পর এখন জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে হাউসবোটটি বিক্রি করছেন তিনি।

 

সূত্র: সিবিএস


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে মসজিদে হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত ১৮ বছর বয়সী ক্যালেব ভাসকেজ। ছবি: সংগৃহীত
সান দিয়েগো মসজিদে হামলার পর হামলাকারীর আত্নহত্যা! এক বছর ছিলেন পুলিশের নজরে

ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে মসজিদে হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত ১৮ বছর বয়সী ক্যালেব ভাসকেজ হামলার প্রায় এক বছর আগেই পুলিশের নজরে এসেছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, নাৎসি ও আগের বন্দুকধারীদের প্রতি তার আগ্রহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় ২০২৫ সালে তার পরিবারের ২৬টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করার জন্য আদালতের আদেশ নেওয়া হয়েছিল।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আইনের আওতায় ওই অস্ত্রগুলো সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি পায় পুলিশ। এর আগে ভাসকেজের বাড়িতে ওয়েলফেয়ার চেক করতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা তার আচরণকে সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। আদালতের নথিতে বলা হয়, সে নাৎসি ও গণগুলির সঙ্গে জড়িত হামলাকারীদের আদর্শ হিসেবে দেখছিল।   পুলিশের নজরে আসার পর ভাসকেজের বাবা-মা নিজেরাই বাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সরিয়ে একটি নিরাপদ স্টোরেজে রাখেন। আদালতে দেওয়া এক হলফনামায় তার বাবা মার্কো ভাসকেজ জানান, পরিবার ছেলের আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল এবং অস্ত্রের পাশাপাশি বাড়ির ধারালো ছুরিগুলোও নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।   তবে ২০২৬ সালের ১৮ মে সান দিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে ভয়াবহ হামলার আগে অন্য এক কিশোরের পরিবারের অস্ত্র নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সামনে আসে। পুলিশ জানায়, ১৭ বছর বয়সী কেইন ক্লার্কের মা ওই দিন সকালে ফোন করে জানান, তার ছেলে আত্মহত্যাপ্রবণ অবস্থায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে, সঙ্গে অস্ত্র ও পরিবারের গাড়িও নিয়ে গেছে। পুলিশ তখন থেকেই দুই কিশোরকে খুঁজছিল।   পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহলের তথ্য অনুযায়ী, ক্লার্ক সামরিক ধাঁচের পোশাক পরেছিল এবং তার সঙ্গে আরেকজন কিশোর ছিল। পুলিশ স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের খোঁজ শুরু করে এবং আশপাশের স্কুল ও অন্যান্য এলাকায় সতর্কতা জারি করে। কিন্তু পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্ত করার আগেই সান দিয়েগোর সবচেয়ে বড় মসজিদগুলোর একটি ইসলামিক সেন্টার অব সান দিয়েগোতে গুলির ঘটনা ঘটে।   ওই হামলায় তিনজন নিহত হন। নিহতদের একজন ছিলেন মসজিদের নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহ। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের ঠেকাতে এবং ভেতরে থাকা মানুষদের নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। হামলার সময় ইসলামিক সেন্টারের আল-রশিদ স্কুলে শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিল। পুলিশ ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি।   পরে ১৭ বছর বয়সী কেইন ক্লার্ক ও ১৮ বছর বয়সী ক্যালেব ভাসকেজকে কাছাকাছি একটি গাড়ির ভেতর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের মৃত্যু গুলিবিদ্ধ হয়ে হয়েছে এবং ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। মসজিদে হামলার ঘটনাটিও সম্ভাব্য হেট ক্রাইম হিসেবে তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।   আদালতের নথিতে আরও উঠে এসেছে, ভাসকেজকে এর আগেও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে তাকে কেন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে নথিতে বিস্তারিত তথ্য নেই। তার পরিবার জানিয়েছে, তারা ছেলেকে সহায়তা করার চেষ্টা করেছিল, তার অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করত এবং সে সপ্তাহে দুইবার থেরাপি নিত।   ভাসকেজের পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের ছেলে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ঘৃণামূলক বক্তব্য, চরমপন্থী কনটেন্ট ও প্রচারণার প্রভাবে ক্রমে উগ্র মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল বলে তারা মনে করে। পরিবারে অভিবাসী ও মুসলিম সদস্যও রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   তদন্তকারীরা ভাসকেজ ও ক্লার্কের লেখা কিছু নথিতে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী মতাদর্শ এবং বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষের প্রমাণ পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুই কিশোরের মধ্যে অনলাইনে পরিচয় হয়েছিল এবং সেখান থেকেই তাদের উগ্রপন্থী মতাদর্শে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তদন্তে এসেছে।   এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরদের অনলাইন উগ্রপন্থায় জড়িয়ে পড়া এবং পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আগাম সতর্কতা কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সে প্রশ্নও সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনে চরমপন্থী কনটেন্টের ধরন দ্রুত বদলে যাওয়ায় পরিবার বা অভিভাবকদের পক্ষে সব সময় এর লক্ষণ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৩:৫
হোয়াইট হাউসে সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর হোয়াইট হাউসে ঢুকতে পারলেন না সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা

সান ফ্রান্সিসকোতে প্রকাশ্য বাজারে বিক্রির তালিকায় ওঠা সেই বিরল ভাসমান বাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

সান ফ্রান্সিসকোতে ১৭.৫ লাখ ডলারে বিক্রির তালিকায় বিরল ভাসমান বাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির কারণে ট্রাকচালকদের কাজের সময় বাড়াল প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের রেকর্ড দামে জ্বালানি ট্রাকচালকদের ডিউটি ১৬ ঘণ্টা করার সিদ্ধান্ত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রি-স্কুলে মেয়ের ভর্তির খরচ দেখে বিস্মিত ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সোনাল চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রি-স্কুলের ফি ৯ লাখ রুপি, যা মারুতি গাড়ির সমান, খরচ নিয়ে তুমুল আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের সিম্সবারিতে দুই বছরের মেয়ের জন্য একটি প্রাইভেট প্রি-স্কুলে ভর্তি করানোর খরচ জানতে গিয়ে চমকে ওঠেন ভারতীয় মা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সোনাল চৌধুরী। তার শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহে দুই দিন ক্লাস করলে বছরে প্রায় ৪ লাখ রুপি, আর পাঁচ দিন ক্লাস করলে খরচ প্রায় ৯ লাখ রুপি পর্যন্ত হতে পারে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষা ব্যয় ও শিশুদের প্রি-স্কুল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   সোনাল তার মেয়ে বাণীর জন্য প্রি-স্কুলের বিভিন্ন অপশন দেখার সময় ওই প্রতিষ্ঠানে যান। সেখানে স্কুলের কার্যক্রম ও ক্লাস পরিচালনার পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি জানতে পারেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে শিক্ষক ও শিশুর অনুপাত। আটজন শিশুর একটি গ্রুপের জন্য থাকেন দুইজন শিক্ষক। ফলে প্রতিটি শিশুকে তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যক্তিগত মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়।   প্রি-স্কুলটির কার্যক্রমের মধ্যে গান, যোগব্যায়াম, সৃজনশীল খেলাধুলা এবং শিশুদের প্রাথমিক শেখার বিভিন্ন অনুশীলন রয়েছে। ক্লাস চলে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট থেকে ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। শিক্ষাবর্ষ সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে জুনের শেষ সময় পর্যন্ত চলে। তবে সোনালের ভিডিওতে যে ফি উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি নির্দিষ্ট ওই প্রাইভেট প্রি-স্কুলের প্রোগ্রামের জন্য বলা হয়েছে; যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রি-স্কুলের ফি একই নয়।   এই ফি নিয়ে আলোচনার আরেকটি কারণ হলো ভারতের সঙ্গে তুলনা। সোনাল পাঁচ দিনের প্রোগ্রামের বার্ষিক খরচকে ভারতে একটি নতুন মারুতি ব্রেজা গাড়ির দামের সঙ্গে তুলনা করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রি-স্কুল শিক্ষার খরচ নিয়ে নিজেদের মতামত জানান।   যুক্তরাষ্ট্রে প্রি-স্কুল এবং কিন্ডারগার্টেন এক বিষয় নয়। পাবলিক স্কুলে সাধারণত কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার জন্য সরাসরি টিউশন দিতে হয় না। কিন্তু এর আগের বয়সে শিশুদের জন্য প্রি-স্কুল বা চাইল্ড কেয়ার বেছে নিলে পরিবারকে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে খরচ বহন করতে হয়। বিশেষ করে প্রাইভেট বা ছোট ক্লাসের প্রোগ্রামগুলোতে শিক্ষক-শিশু অনুপাত, ক্লাসের সময়সূচি এবং অতিরিক্ত কার্যক্রমের কারণে ফি ভিন্ন হতে পারে।   কানেকটিকাটের সিম্সবারি পাবলিক স্কুলসের অধীনেও শিশুদের জন্য বিভিন্ন কেয়ার ও এনরিচমেন্ট প্রোগ্রাম রয়েছে, যেগুলোর ফি আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ একই এলাকায় সরকারি বা কমিউনিটি-ভিত্তিক প্রোগ্রাম এবং প্রাইভেট প্রি-স্কুলের খরচের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকতে পারে।   সোনালের ভিডিও ঘিরে অনলাইনে মূল বিতর্কটি শুধু ফি নিয়ে নয়। কেউ যুক্তরাষ্ট্রের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেছেন। আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, দুই বা তিন ঘণ্টার প্রি-স্কুল প্রোগ্রামের জন্য এত বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করা কতটা যৌক্তিক। ছোট ক্লাস, বেশি শিক্ষক এবং ব্যক্তিগত মনোযোগের সুবিধা এই ব্যয়ের যথেষ্ট কারণ কি না, সেটিও আলোচনায় এসেছে।   শিশুর প্রাথমিক শিক্ষায় পরিবারের ব্যয় নিয়ে এই আলোচনা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে প্রি-স্কুল ব্যবস্থার বৈচিত্র্য এবং পরিবারভেদে শিক্ষার পছন্দের পার্থক্যকেই সামনে এনেছে। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য প্রি-স্কুল, চাইল্ড কেয়ার এবং পাবলিক স্কুলের পার্থক্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১০:১৯
ওয়ালমার্টে হামলার শিকার হয়ে নিহত ৭৭ বছর বয়সী ক্রেতা বার্ট আতিয়েনজা (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

ওয়ালমার্টে শপিং কার্ট নিয়ে তর্কের জেরে কর্মীর বাবা-মায়ের মারধরে ৭৭ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু

নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মাথায় চাকরিচ্যুত। ছবি: সংগৃহীত

'চাকরিটা আমার দরকার ছিল’, নিউইয়র্কে 'হাইজিন সমস্যা’ দেখিয়ে নতুন চাকরিতে বরখাস্ত যুবক

গাড়ির গ্রিল থেকে উদ্ধার করা ৩ ফুট লম্বা বল পাইথন

গাড়ির গ্রিলের ভেতর ৩ ফুটের অজগর, আবাসিক এলাকায় চাঞ্চল্য

চিকিৎসার বদলে ‘ঘামিয়ে’ সুস্থ করার চেষ্টা, অপু ষ্টিতে শিশুর মৃ ত্যু
অসুস্থ ছেলেকে চিকিৎসা না দিয়ে ‘ঘামিয়ে’ সুস্থ করার চেষ্টা, অপুষ্টিতে ৩ বছরের শিশুর মৃ ত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার বার্নসভিলে তিন বছর বয়সী ছেলে আদনান আবদুল্লাহির মৃ ত্যুর ঘটনায় তার মা সায়নাব আবদুল্লাহি দাহিরের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার ম্যান স্লটার, চারটি শিশু নি র্যা তন বা বি পন্ন করার অভিযোগ এবং হয় রা নির মামলা হয়েছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে তার মা তাকে পার্কের একটি সৈকত এলাকায় নিয়ে গিয়েছিলেন, যাতে রোদে থেকে সে অসুস্থতা ‘ঘামিয়ে বের করে’ দিতে পারে। পরে শিশুটির মৃ ত্যু হয়।   ঘটনার পর জরুরি সেবাকর্মীরা শিশুটিকে গুরুতর অপু ষ্টিতে ভুগতে দেখেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তার বয়সের তুলনায় মারাত্মক কম ওজন এবং গুরুতর অপুষ্টি শনাক্ত করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি আর জ্ঞান ফিরে পায়নি এবং ১৩ জুলাই ২০২৩ সালে তার মৃ ত্যু হয়।   ময়নাতদন্তে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত আঘাতকে মৃ ত্যুর তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অপু ষ্টি ও মূত্রনালির সং ক্র মণকে সহায়ক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   তদন্তে দাহিরের অন্য চার সন্তানের অবস্থাও সামনে আসে। আদালতের নথি অনুযায়ী, তারাও গুরুতরভাবে কম ওজনের ছিল। শিশুদের বাবার কাছে যাওয়ার পর তাদের ওজন বাড়তে শুরু করে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সন্তানদের নিয়মিত চিকিৎসা না করানোর অভিযোগও রয়েছে।   দাহিরকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গ্রে প্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত। মামলাটি মিনেসোটার ডাকোটা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে চলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ৮:৩১
উবার থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর তরুণীর মৃত্যু, পরিবার পেল ৪ কোটি ডলার

ঝগড়ার পর উবার থেকে নামিয়ে দেওয়া তরুণীর মৃ ত্যু, পরিবার পেল ৪ কোটি ডলার

৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্লোরিডায় ন্যূনতম মজুরি ১৫ ডলার

ফ্লোরিডায় শ্রমিকদের বেতন বাড়ছে, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ন্যূনতম মজুরি ১৫ ডলার

কেনেডি সেন্টারে ট্রাম্পের নাম বসানো নিয়ে কেনেডি পরিবারের ক্ষোভ

‘কী ছোট মনের, কী আত্মমগ্ন!’ ট্রাম্পের নাম বসানোর উদ্যোগে কেনেডি পরিবারের ক্ষোভ

0 Comments