- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বার্ষিক সেরা ৫০ রেস্তোরাঁর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে নিউজার্সির একটি বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ। জার্সি সিটিতে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটির নাম কড়াই কিচেন। সম্পূর্ণ বাংলাদেশি ঘরানার খাবার পরিবেশনের জন্য ব্যাপক পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন মা ও মেয়ের একটি সফল জুটি। হাডসন কাউন্টির এই জনপ্রিয় রেস্তোরাঁটি নূর-ই গুলশান রহমান এবং তার মেয়ে নূর-ই ফারহানা রহমানের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৮ সালে সাধারণ বুফে চালুর মাধ্যমে তারা এই রেস্তোরাঁর যাত্রা শুরু করেন। শুরুর দিকে মায়ের হাতের রান্না করা খাঁটি বাংলাদেশি খাবারগুলো স্থানীয় মানুষদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে রেস্তোরাঁটিতে সপ্তাহের কর্মব্যস্ত দিনগুলোতে খাবার কিনে নিয়ে যাওয়ার বা টেকআউট এবং ডেলিভারির সুবিধা রয়েছে। তবে শুক্র ও শনিবার রাতে তারা আম্মাস দাওয়াত নামে তাত্ত্বিকভাবে আট পদের একটি বিশেষ ভোজের আয়োজন করে থাকেন। তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই আয়োজনে রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার সুযোগ পান ভোজনরসিকরা। রেস্তোরাঁটির এই বড় স্বীকৃতি অবশ্য স্থানীয় ভোজনরসিকদের কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত নয়। গত বছর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনজে ডটকমের করা নিউজার্সির সেরা ৯৯টি রেস্তোরাঁর তালিকাতেও শীর্ষস্থান দখল করেছিল কড়াই কিচেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে কড়াই কিচেন সম্পর্কে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে এই ছোট্ট বাংলাদেশি রেস্তোরাঁটির একটি মজার স্লোগান হলো নো চিকেন টিক্কা মাসালা। অর্থাৎ এখানে গতানুগতিক ভারতীয় খাবার পরিবেশন করা হয় না বরং সম্পূর্ণ নিজস্ব ধারায় রান্না হয়। কাঁচা মরিচ এবং খাঁটি সরিষার তেলের ব্যবহার এখানকার খাবারের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে এখানকার রান্নায় প্রতিটি ভাতের দানা থেকে শুরু করে সব উপাদানের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। এই রেস্তোরাঁ থেকে খাবার খেয়ে বের হওয়ার পর পেট যেমন ভরে ঠিক তেমনি মানুষের হৃদয়ও তৃপ্ত হয়। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এর আগেও গার্ডেন স্টেট খ্যাত নিউজার্সির বিভিন্ন রেস্তোরাঁকে তাদের মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় স্থান দিয়েছে। ফ্র্যাঙ্কলিন পার্কের চটপটি দিল্লি ২০২৫ সালে এবং নিউফিল্ডের সুইট অ্যামালিয়া মার্কেট অ্যান্ড কিচেন ২০২৪ সালের তালিকায় জায়গা পেয়েছিল। এ বছরের তালিকায় কড়াই কিচেন ছাড়াও শিকাগোর ক্রিপিস এবং ফিলাডেলফিয়ার বোম বোম নামের রেস্তোরাঁগুলো স্থান করে নিয়েছে। তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও এনজে ডটকম
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে চাকরি হারানোর দাবি করেছেন ক্রিস স্মলস নামে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। তাঁর ভাষ্য, একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে বলা হয়, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সমস্যার কারণে তাঁর চাকরি আর থাকছে না। স্মলসের দাবি, প্রায় নয় মাস বেকার থাকার পর একটি অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ওই চাকরি পান। তাঁর দায়িত্ব ছিল প্রতিষ্ঠানের কর্মী ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করা। নতুন কর্মস্থলে প্রথম দিনটি শুরু হয়েছিল স্বাভাবিকভাবেই। কয়েক ঘণ্টা পরিচিতিমূলক কাজ ও প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর তাঁকে আগেভাগে মধ্যাহ্নভোজে যেতে বলা হয়। তবে ভবন থেকে বের হওয়ার আগেই অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁকে ফোন করে জানানো হয়, ‘পরিচ্ছন্নতার সমস্যা’র কারণে তাঁকে আর কাজে রাখা হচ্ছে না। স্মলস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে ‘Havocko’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাত হাজার পাঁচশর বেশি আপভোট পায় বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের মধ্যে সহানুভূতি, সন্দেহ এবং নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়। স্মলসের দাবি, চাকরির প্রথম দিন সকালে তিনি নতুন একটি পোলো শার্ট পরে কর্মস্থলে যান। আগের রাতেই তিনি গোসল করেছিলেন বলেও জানান। অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের যে প্রতিনিধি তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার খবর দেন, তিনিও নাকি ঠিক কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি। শুধু তাঁকে ওই দিন কী পোশাক পরেছিলেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। নিজের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে স্মলস বলেন, তিনি নিয়মিত নিজের যত্ন নেন এবং কর্মস্থলে যাওয়ার আগে ভালোভাবেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েছিলেন। তবে তাঁর প্যান্টে কিছুটা ধুলা বা পশুর লোম থাকতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেন। চাকরি হারানোর পর নিজের পরিচিতদের কাছ থেকেও বিষয়টি যাচাই করার চেষ্টা করেন স্মলস। তিনি তাঁর এক রুমমেট ও এক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেন, তাঁর শরীর থেকে কোনো দুর্গন্ধ পাওয়া যায় কি না। দুজনই তা অস্বীকার করেন বলে জানান তিনি। স্মলস আরও বলেন, তাঁর একটি বিড়াল ও একটি কুকুর রয়েছে। তবে তাঁর দাবি, বাসা পরিষ্কার থাকে এবং তিনি এমন একজন রুমমেটের সঙ্গে থাকেন যিনি পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বেশ সতর্ক। চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়াই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেডিটে নিজের পোস্টে তিনি অনুমান করেন, কর্মস্থলে হয়তো নাক চুলকানোর মতো কোনো অঙ্গভঙ্গিকে ভুলভাবে দেখা হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলার মতো কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই। ঘটনার পর স্মলস অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠাটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর দাবি, শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে তাঁর সঙ্গে আবার কাজ করার আগ্রহ দেখালেও পরে আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এমনকি নতুন চাকরিতে যে অল্প সময় কাজ করেছিলেন, সেটির পারিশ্রমিকও তিনি তখন পর্যন্ত পাননি বলে জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে অবশ্য সবাই স্মলসের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হননি। কেউ কেউ মনে করেন, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার প্রকৃত কারণ হতে পারে। আবার অন্যরা প্রশ্ন তুলেছেন, চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য এটিকে হয়তো একটি অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েকজন রেডিট ব্যবহারকারী ‘হায়ার-টু-ফায়ার’ বা দ্রুত নিয়োগ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে কর্মী ছাঁটাই করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। তবে স্মলস নিজেই এই ব্যাখ্যাকে খুব একটা সম্ভাব্য মনে করছেন না। কয়েক সপ্তাহ ধরে ঘটনাটি নিয়ে ভাবার পর তাঁর নিজের ধারণা, কর্মস্থলে কোনো আচরণ বা অঙ্গভঙ্গি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পর আবার চাকরির সন্ধানে ফিরেছেন স্মলস। নিউইয়র্কের কর্মসংস্থান আইনের কাঠামো নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, অস্থায়ী কর্মীদের চাকরি শেষ করার ক্ষেত্রে আরও স্পষ্ট সুরক্ষা থাকা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যের মতো নিউইয়র্কেও সাধারণভাবে ‘অ্যাট-উইল’ কর্মসংস্থান ব্যবস্থা কার্যকর। এর অর্থ, আইন বা চুক্তিতে বিশেষ কোনো ব্যতিক্রম না থাকলে নিয়োগকর্তা বা কর্মী নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কর্মসম্পর্ক শেষ করতে পারেন, যদিও বৈষম্য বা প্রতিশোধমূলক বরখাস্তের মতো বেআইনি কারণের ক্ষেত্রে আলাদা আইনি সুরক্ষা রয়েছে। তবে স্মলসের নির্দিষ্ট চাকরি হারানোর ঘটনায় নিয়োগকর্তা কোনো বেআইনি আচরণ করেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশই স্মলসের নিজের বক্তব্য ও রেডিটে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে। তাঁর সাবেক কর্মস্থল বা অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ নেই। ফলে চাকরি হারানোর প্রকৃত কারণ কী ছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট ও স্মলসের রেডিট পোস্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে প্রশিক্ষণ চলাকালে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টির ব্লেয়ার টাউনশিপের গ্রামীণ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলট নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনাটি ঘটে কাউন্টি রোড ৬৩৩ ও ব্লেয়ার টাউনহল রোডের কাছাকাছি এলাকায়। বিমানটি ছিল টেক্সাস এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের ১৪৯তম ফাইটার উইংয়ের। ইউনিটটি টেক্সাসের সান আন্তোনিও-ল্যাকল্যান্ড ঘাঁটি থেকে মিশিগানে প্রশিক্ষণের জন্য অবস্থান করছিল। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটির সঙ্গে থাকা আরেকটি এফ-১৬-এর পাইলট বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ করেন। লাইভএটিসি-তে প্রকাশিত রেডিও যোগাযোগের রেকর্ডিং অনুযায়ী, ‘বাক ১১’ কলসাইনের ওই পাইলট জানান, তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য পাইলটের বিমান সম্ভবত একটি পাখির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর তিনি জরুরি সহায়তার জন্য সতর্ক করতে বলেন এবং জানান, তাঁর সহযাত্রী পাইলটকে বিমান থেকে বের হয়ে আসতে হতে পারে। রেডিও যোগাযোগে ওই পাইলটকে বলতে শোনা যায়, তাঁর উইংম্যানকে বিমান থেকে বের হতে হবে এবং ঘটনাটি যে এলাকায় ঘটতে যাচ্ছে, তিনি তখন সেই এলাকার ওপর দিয়ে উড়ছিলেন। নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে কাছাকাছি বিমানবন্দরে যাওয়ার পথ দেখানোর চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে পড়ে। তবে পাখির আঘাতই দুর্ঘটনার কারণ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে ১৪৯তম ফাইটার উইংয়ের মুখপাত্র সার্জেন্ট ডেরেক গুতিয়েরেজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং তিনি সম্ভাব্য পাখির আঘাতের বিষয়ে কোনো তথ্য পাননি। ফলে রেডিও যোগাযোগে উঠে আসা তথ্যকে আপাতত সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত কারণ হিসেবে নয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টি জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রথমে নির্দিষ্ট এলাকায় ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দেয়। পরে দুর্ঘটনাস্থলের এক মাইলের মধ্যে থাকা বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কাউন্টি রোড ৬৩৩-এর একটি অংশে যান চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের এই সতর্কতার পেছনে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও ছিল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, এফ-১৬ বিমানে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় হাইড্রাজিন নামে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়। এ কারণে দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনার সময় বিকট শব্দ ও ধোঁয়া দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে আগুন ও ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী দেখা যায়। ধ্বংসাবশেষের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তাঁরা। ব্লেয়ার টাউনশিপের সুপারভাইজার নিকোল ব্লনশাইন জানিয়েছেন, মাটিতে থাকা কারও আহত হওয়ার খবর তিনি পাননি এবং কোনো বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন না। অন্যদিকে, বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টির শেরিফ মাইকেল ডি. শিয়া জানিয়েছেন, হাসপাতালে পাইলট সচেতন ছিলেন এবং কথা বলছিলেন। এফ-১৬টি মিশিগানের আলপেনা কমব্যাট রেডিনেস ট্রেনিং সেন্টারে চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিল। টেক্সাস থেকে আসা ১৪৯তম ফাইটার উইংয়ের একাধিক এফ-১৬ এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিল। বিমানটি দুর্ঘটনার সময় নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশনে ছিল বলে সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দুর্ঘটনার পর এফ-১৬ ইউনিটের নির্ধারিত অন্যান্য কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে একটি উচ্চবিদ্যালয়ের ফুটবল ম্যাচের আগে আকাশে উড্ডয়ন প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল এই ইউনিটের যুদ্ধবিমানগুলোর। দুর্ঘটনার পর সেই কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষ নেবে। এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন মার্কিন বিমানবাহিনীর বহুল ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। ১৯৭৯ সাল থেকে এ ধরনের বিমান পরিচালিত হয়ে আসছে। মার্কিন বিমানবাহিনীর নিরাপত্তা তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকে এফ-১৬ নিয়ে অন্তত ১৪টি ‘ক্লাস এ’ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনায় সাধারণত বিমান ধ্বংস হওয়া, প্রাণহানি বা ২০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতির মতো গুরুতর ঘটনা অন্তর্ভুক্ত থাকে। মিশিগানের সর্বশেষ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। সম্ভাব্য পাখির আঘাতের বিষয়টি রেডিও যোগাযোগে উঠে এলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সেটিকে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সিবিএস ডেট্রয়েট ও ১৪৯তম ফাইটার উইং।
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের গ্রিন কার্ডের জন্য আর্থিক স্পনসরদের ক্রেডিট রিপোর্ট ও ক্রেডিট স্কোর যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস। ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন সংস্করণের Form I-864, Affidavit of Support কার্যকর করার মাধ্যমে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন Form I-864-এর সংস্করণ তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৬। এতে ‘Privacy Release’ নামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। ফর্মে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে আর্থিক স্পনসর ইউএসসিআইএস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে এক বা একাধিক ক্রেডিট রিপোর্টিং সংস্থার কাছ থেকে তাঁর ভোক্তা-ঋণসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অনুমতি দিচ্ছেন। এর মধ্যে ক্রেডিট রিপোর্ট ও ক্রেডিট স্কোরও থাকতে পারে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, এই তথ্য Form I-864-এর আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। Form I-864 হলো গ্রিন কার্ডের জন্য আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকারপত্র। পরিবারভিত্তিক অভিবাসনসহ নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্পনসরকে এই ফর্মের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হয় যে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মতো সক্ষমতা তাঁর রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই অঙ্গীকার আইনগতভাবে কার্যকর এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্পনসরের আর্থিক দায়ও তৈরি করতে পারে। নতুন নিয়মে ক্রেডিট ইতিহাস যাচাইয়ের সুযোগ যুক্ত হলেও ইউএসসিআইএস কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম ক্রেডিট স্কোর নির্ধারণ করেনি। অর্থাৎ একজন স্পনসরের ক্রেডিট স্কোর নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার নিচে থাকলেই তাঁর আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে, এমন কোনো প্রকাশিত নিয়ম নেই। একইভাবে শুধু কম ক্রেডিট স্কোর, ঋণ, ক্রেডিট ইতিহাসে নেতিবাচক তথ্য বা অতীতের দেউলিয়াত্বের ভিত্তিতে স্পনসরশিপ বাতিলের স্বয়ংক্রিয় বিধানও প্রকাশ করা হয়নি। স্পনসরদের আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারণে মূল বিষয়গুলোও বহাল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আয়, সম্পদ এবং করসংক্রান্ত তথ্য। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, স্পনসরের আয় সংশ্লিষ্ট পরিবারের আকারের জন্য নির্ধারিত ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ হতে হয়। তবে নির্দিষ্ট শর্তে সক্রিয় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানের জন্য স্পনসর করলে ১০০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনাতেও স্পনসরদের আয় ও করসংক্রান্ত নথি জমা দেওয়ার বিষয়টি বহাল রয়েছে। সাধারণত সাম্প্রতিক কর বছরের আইআরএস ট্যাক্স ট্রান্সক্রিপ্ট, প্রয়োজন অনুযায়ী আয় প্রমাণের কাগজপত্র এবং সম্পদ ব্যবহার করলে তার প্রমাণ জমা দিতে হয়। আয় নির্ধারিত সীমার নিচে হলে অতিরিক্ত আর্থিক প্রমাণ বা যৌথ স্পনসরের প্রয়োজন হতে পারে। নতুন নিয়মে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্রেডিট বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ‘ফ্রিজ’। কোনো স্পনসরের ক্রেডিট রিপোর্টে এমন ফ্রিজ চালু থাকলে ইউএসসিআইএস প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে না পারায় আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে বিলম্ব হতে পারে। তবে আবেদন জমা দেওয়ার আগেই প্রত্যেক স্পনসরকে বাধ্যতামূলকভাবে ক্রেডিট ফ্রিজ তুলে ফেলতে হবে, এমন নির্দেশনা নেই। ইউএসসিআইএস তথ্য চাইলে দ্রুত সাড়া দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ফর্মের ক্ষেত্রে সংস্করণ-তারিখ নিয়েও স্পনসরদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। ইউএসসিআইএস ৩১ আগস্ট ২০২৬ নতুন 08/24/26 সংস্করণ প্রকাশ করেছে। তবে সংস্থার প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, পুরোনো 10/17/24 সংস্করণের জন্য ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে। ফলে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পুরোনো সংস্করণ গ্রহণ করা হবে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে 08/24/26 সংস্করণই ব্যবহার করতে হবে। বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের অনেকে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ক্ষেত্রে Form I-864-এর মাধ্যমে আর্থিক স্পনসর হয়ে থাকেন। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের বর্তমান নির্দেশনাতেও পরিবারভিত্তিক অভিবাসী ভিসা আবেদনে প্রতিটি আর্থিক স্পনসরের Form I-864 এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই নতুন আবেদন প্রস্তুত করার সময় ফর্মের নিচে থাকা সংস্করণ-তারিখ, আয়সংক্রান্ত তথ্য, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, সাম্প্রতিক কর নথি এবং প্রয়োজনীয় সম্পদের প্রমাণ ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে ১ অক্টোবরের পর পুরোনো সংস্করণের ফর্ম ব্যবহার করলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত জটিলতা বা স্পনসরের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে আবেদন জমা দেওয়ার আগে লাইসেন্সধারী ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। কারণ নতুন ফর্মে ক্রেডিট তথ্য যাচাইয়ের অনুমতি যুক্ত হলেও ক্রেডিট স্কোর কীভাবে প্রতিটি মামলার মূল্যায়নে প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে ইউএসসিআইএস এখনো কোনো নির্দিষ্ট স্কোর-ভিত্তিক মানদণ্ড প্রকাশ করেনি। সূত্র: ইউএসসিআইএস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে চুরির দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া এক নারীর ছবি বা 'মগশট' অনলাইনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কারণ নেটিজেনদের অনেকেই প্রথম দেখায় তাকে বিখ্যাত মার্কিন পপ তারকা ও অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজ ভেবে ভুল করেছেন। সাইরেনা অ্যান কোয়াস্ট নামের ওই নারীকে গত ৩০ আগস্ট মিনেসোটার মন্টিসেলো শহরের একটি দোকান থেকে ব্যাটারি চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর নিয়ম অনুযায়ী পুলিশের তোলা তার ছবিটিই মূলত ইন্টারনেট দুনিয়ায় এই তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন বিনোদন বিষয়ক সংবাদমাধ্যম টিএমজেড-এর প্রাপ্ত পুলিশি অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সাইরেনা প্রায় ৫৮০ ডলার বা প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের পাওয়ার টুলের দুটি ডাবল প্যাক ব্যাটারি চুরি করেছিলেন। ঘটনার দিন ওই দোকানের এক কর্মী তাকে চিনতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। ওই কর্মীর দাবি, সাইরেনা কয়েক দিন আগেও তাদের দোকানে এসে একই ধরনের একটি চুরির ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে রাইট কাউন্টি জেলে পাঠায় এবং তার বিরুদ্ধে 'গ্রস মিসডিমিনর' বা গুরুতর চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তারের খবরের চেয়েও অনলাইনে নেটিজেনদের বেশি মনোযোগ কেড়েছে সাইরেনার মগশটটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার সাথে জেনিফার লোপেজের চেহারার অদ্ভুত মিল খুঁজে পেয়েছেন। একজন নেটিজেন বিস্ময় প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন, “অবিশ্বাস্য! তাদের চেহারার এই মিল সত্যিই অবাক করার মতো!” আরেকজন আবার অন্যদের প্রতি প্রশ্ন রেখে লিখেছেন, “কীভাবে মানুষ এই দুজনের মধ্যে মিল দেখতে পাচ্ছে না!” এমনকি লোপেজের ২০০২ সালের জনপ্রিয় গান 'জেনি ফ্রম দ্য ব্লক'-এর সূত্র ধরে এক মন্তব্যকারী সাইরেনাকে "আসল জেনি ফ্রম দ্য ব্লক" বলেও আখ্যা দিয়েছেন। তবে সবাই যে এই তুলনার সাথে একমত হয়েছেন, এমনটা নয়। অন্তত একজন মন্তব্যকারী এর চরম বিরোধিতা করে লিখেছেন যে, এই দুজনের চেহারার মধ্যে বিন্দু পরিমাণও মিল নেই।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের কয়েক দিন আগে ড্যাননের এই মন্তব্য সামনে এলো। নিউইয়র্ক পোস্ট এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ড্যানন মামদানির বিরুদ্ধে ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য এবং নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তার অবস্থানের সমালোচনা করেন। এর আগে মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার কোনো আইনি সুযোগ আছে কি না, তা তিনি শহরের আইন বিভাগের সঙ্গে পর্যালোচনা করছেন। তবে জুলাইয়ে মামদানি জানান, নিউইয়র্ক সিটির নিজস্বভাবে ওই পরোয়ানা কার্যকর করে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার আইনি ক্ষমতা নেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করার আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালে গ্রেপ্তার হবেন না। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালের নভেম্বরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালত গাজা যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে। ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আদালতের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। এদিকে নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ সফরকে ঘিরে নিউইয়র্কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান নিউইয়র্কে আসবেন। নেতানিয়াহুও অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। নেতানিয়াহুর সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিক্ষোভের প্রস্তুতিও চলছে। মেয়র মামদানি বলেছেন, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সফর ও সম্ভাব্য বিক্ষোভ মোকাবিলায় নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পক্ষ থেকেও জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মামদানি ও নেতানিয়াহুকে ঘিরে এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে গাজা যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। তবে নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগ ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে শহরের নিজস্বভাবে ওই পরোয়ানা কার্যকর করার স্বাধীন আইনি ক্ষমতা নেই। ফলে ড্যাননের সাম্প্রতিক বক্তব্য মূলত দুই পক্ষের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিরোধকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সমুদ্রপথের এই অবরোধ এড়াতে স্থলপথে তেল ও পণ্য পরিবহনের উদ্যোগ নিলেও সেখানে চরম আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়েছে দেশটি। ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, তাড়াহুড়ো করে স্থলপথে বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টার ফলে তুরস্ক ও পাকিস্তান সীমান্তে বর্তমানে প্রায় ৩,৭০০ কার্গো ট্রাক আটকে আছে। 'ইউনিয়ন অব ট্রাকার্স অ্যান্ড ড্রাইভার্স অর্গানাইজেশনস অ্যাক্রস ইরান'-এর পোস্ট করা একটি ভিডিওতে এক চালক অভিযোগ করেছেন, ইরান এই পরিস্থিতির দায় নিচ্ছে না, আবার পাকিস্তানও তাদের কার্গো খালাস করতে দিচ্ছে না। নিজেদের তৈরি করা এই সংকটের কারণে লোহা, সিমেন্ট এবং গ্যাস বহনকারী ট্রাক চালকদের সীমান্তে প্রায় ২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। রেকর্ড উচ্চমূল্যের জ্বালানির পাশাপাশি ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার মধ্যে খাবার, পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা ছাড়াই মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা। এর পাশাপাশি ইরাক সীমান্ত থেকেও সৌদি আরবের পাইপলাইনে হামলার কারণে সাময়িকভাবে টার্মিনাল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ইরানি চালকরা। অবরোধের প্রভাব ইরানের সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি খাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র ও কাস্টমস ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চলতি ইরানি পঞ্জিকাবর্ষের প্রথম পাঁচ মাসে দেশটির নন-অয়েল বা তেল-বহির্ভূত পণ্য রপ্তানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমে মাত্র ১৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪৫ বিলিয়ন ডলার। মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স ফার্ম ভরটেক্সার মতে, আগস্ট মাসে ইরানের তেল রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ব্যারেলে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশ এবং ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইরানের আমদানিও প্রায় ২৫ শতাংশ কমে ১৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ৯ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দেশটিতে মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করেছে এবং ইরানি মুদ্রার মান ডলারের বিপরীতে রেকর্ড ২.২ মিলিয়নে নেমে এসেছে। বাণিজ্যিক এই অচলাবস্থা কাটাতে বিকল্প পথের সন্ধান করছে তেহরান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে গম, ভুট্টা এবং ভোজ্যতেল আমদানির জন্য গত পাঁচ মাসে কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে ট্রানজিট প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়িয়েছে তারা। তেহরান টাইমসের মতে, চীনের সাথে রেল যোগাযোগও আগের সাপ্তাহিক সূচির বদলে এখন প্রতি তিন-চার দিন অন্তর চলছে। তা সত্ত্বেও আমদানি খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, রেল ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাসহ স্থলপথের এই বাধাগুলোর কারণে ইরানে আসা পণ্যের দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে যাচ্ছে। এত কিছুর পরও ইরানের কট্টরপন্থীরা দাবি করছেন যে, আরব উপদ্বীপের দুই পাশেই তাদের প্রক্সি বাহিনী তেল ও কার্গো পরিবহনে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তার মাধ্যমে তারা যেকোনো অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে টিকে থাকতে সক্ষম হবে।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সমুদ্রপথের এই অবরোধ এড়াতে স্থলপথে তেল ও পণ্য পরিবহনের উদ্যোগ নিলেও সেখানে চরম আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়েছে দেশটি। ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, তাড়াহুড়ো করে স্থলপথে বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টার ফলে তুরস্ক ও পাকিস্তান সীমান্তে বর্তমানে প্রায় ৩,৭০০ কার্গো ট্রাক আটকে আছে। 'ইউনিয়ন অব ট্রাকার্স অ্যান্ড ড্রাইভার্স অর্গানাইজেশনস অ্যাক্রস ইরান'-এর পোস্ট করা একটি ভিডিওতে এক চালক অভিযোগ করেছেন, ইরান এই পরিস্থিতির দায় নিচ্ছে না, আবার পাকিস্তানও তাদের কার্গো খালাস করতে দিচ্ছে না। নিজেদের তৈরি করা এই সংকটের কারণে লোহা, সিমেন্ট এবং গ্যাস বহনকারী ট্রাক চালকদের সীমান্তে প্রায় ২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। রেকর্ড উচ্চমূল্যের জ্বালানির পাশাপাশি ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার মধ্যে খাবার, পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা ছাড়াই মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা। এর পাশাপাশি ইরাক সীমান্ত থেকেও সৌদি আরবের পাইপলাইনে হামলার কারণে সাময়িকভাবে টার্মিনাল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ইরানি চালকরা। অবরোধের প্রভাব ইরানের সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি খাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র ও কাস্টমস ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চলতি ইরানি পঞ্জিকাবর্ষের প্রথম পাঁচ মাসে দেশটির নন-অয়েল বা তেল-বহির্ভূত পণ্য রপ্তানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমে মাত্র ১৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪৫ বিলিয়ন ডলার। মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স ফার্ম ভরটেক্সার মতে, আগস্ট মাসে ইরানের তেল রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ব্যারেলে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশ এবং ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইরানের আমদানিও প্রায় ২৫ শতাংশ কমে ১৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ৯ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দেশটিতে মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করেছে এবং ইরানি মুদ্রার মান ডলারের বিপরীতে রেকর্ড ২.২ মিলিয়নে নেমে এসেছে। বাণিজ্যিক এই অচলাবস্থা কাটাতে বিকল্প পথের সন্ধান করছে তেহরান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে গম, ভুট্টা এবং ভোজ্যতেল আমদানির জন্য গত পাঁচ মাসে কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে ট্রানজিট প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়িয়েছে তারা। তেহরান টাইমসের মতে, চীনের সাথে রেল যোগাযোগও আগের সাপ্তাহিক সূচির বদলে এখন প্রতি তিন-চার দিন অন্তর চলছে। তা সত্ত্বেও আমদানি খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, রেল ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাসহ স্থলপথের এই বাধাগুলোর কারণে ইরানে আসা পণ্যের দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে যাচ্ছে। এত কিছুর পরও ইরানের কট্টরপন্থীরা দাবি করছেন যে, আরব উপদ্বীপের দুই পাশেই তাদের প্রক্সি বাহিনী তেল ও কার্গো পরিবহনে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তার মাধ্যমে তারা যেকোনো অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে টিকে থাকতে সক্ষম হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে ১৮ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে আবর্জনায় ভরা দোলনায় (ক্রিব) অবহেলা ও অনাহারে ফেলে রেখে হত্যার দায়ে এক পাষণ্ড বাবা-মাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার বিচারক ক্যারি মেরি মারে এবং মিচেল চেস্টনাট মারে (উভয়ের বয়স ৩২) নামের ওই দম্পতিকে এক থেকে ১৫ বছরের পরপর দুটি মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। ২০২৫ সালের মার্চে শিশু রুবি মেরি মারেকে অমানবিক অবস্থায় হত্যার ঘটনায় গত জুলাই মাসে শিশু নির্যাতনজনিত হত্যা ও গুরুতর শিশু নির্যাতনের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছিলেন তারা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেছেন। আদালতের নথিতে শিশুটির প্রতি এই দম্পতির চরম নিষ্ঠুরতার লোমহর্ষক চিত্র উঠে এসেছে। মৃত্যুর আগের রাতে শিশুটি যখন শ্বাসকষ্টে ভুগে কাঁদছিল, তখন সেই শব্দ ঢাকতে ক্যারি ও মিচেল উচ্চশব্দে গান বাজিয়েছিলেন। পরের দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দোলনার ভেতর থেকে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মর্মান্তিক বিষয় হলো, মা ক্যারি নিজে একজন পেশাদার নিবন্ধিত নার্স (RN) হওয়া সত্ত্বেও সন্তানকে মৃত অবস্থায় দেখার পর জীবন বাঁচানোর কোনো প্রাথমিক চেষ্টাই করেননি। উল্টো তদন্তকারীদের কাছে তিনি নির্লজ্জভাবে দাবি করেন, এ ঘটনায় তার কোনো অপরাধবোধ নেই এবং এটি তার মেয়ের ‘মারা যাওয়ারই সময়’ ছিল। রায় ঘোষণার সময় ক্ষুব্ধ ডিস্ট্রিক্ট জজ স্পেন্সর ওয়ালশ এই চরম অবহেলাকে 'ভয়াবহ ও বিস্ময়কর' বলে আখ্যা দেন। উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান, শিশু রুবির ঘরে স্পেস হিটার চালিয়ে তাপমাত্রা ৭৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট রাখা হয়েছিল। তীব্র গরমের মধ্যেও তাকে ফুলহাতা পাজামা, স্লিপ স্যাক ও একাধিক কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল। তার দোলনায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল বেশ কয়েকটি সিপি কাপ, নষ্ট হয়ে যাওয়া ওয়াফেলস এবং বিছানার নিচে ছিল প্রচুর আবর্জনা। উটাহ স্টেট মেডিকেল এক্সামিনার অফিস নিশ্চিত করেছে যে, চরম অপুষ্টি এবং পানিশূন্যতার কারণেই রুবির মৃত্যু হয়েছে; মৃত্যুর সময় তার ওজন ছিল মাত্র ১৭ পাউন্ড। পুলিশের কাছে মিচেল স্বীকার করেছিলেন যে, তারা সপ্তাহে এক-দুদিন শিশুটিকে সারাদিনের জন্য দোলনাতেই ফেলে রাখতেন, যাকে তারা 'ক্রিব ডেজ' (দোলনার দিন) বলতেন। জানা যায়, মৃত্যুর আগের চার দিনের মধ্যে শিশুটিকে মাত্র ছয় ঘণ্টার জন্য দোলনা থেকে বের করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসের একটি হাসপাতালে দীর্ঘ ও জটিল অস্ত্রোপচারের পর মাথা জোড়া লাগানো অবস্থায় জন্ম নেওয়া ইথিওপিয়ার দুই যমজ বোনকে সফলভাবে আলাদা করা হয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি 'এসএসএম হেলথ কার্ডিনাল গ্লেনন চিলড্রেনস হসপিটাল'-এ প্রায় ৩০ জন চিকিৎসকের একটি বিশেষজ্ঞ দল টানা ২৫ ঘণ্টা কাজ করে এই অসাধ্য সাধন করেন। বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফল অস্ত্রোপচারের কথা ঘোষণা করে। হিয়াব এবং উহবতো নামের এই যমজ বোনেরা 'ক্র্যানিওপ্যাগাস' (craniopagus) নামক একটি বিরল শারীরিক অবস্থা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিল। ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনের তথ্যমতে, প্রতি ২৫ লাখ জীবিত শিশুর মধ্যে গড়ে মাত্র একটি ক্ষেত্রে এমন মাথা জোড়া লাগানো যমজ শিশুর জন্ম হয়, যা জোড়া লাগানো যমজ জন্মের মোট ঘটনার ৬ শতাংশেরও কম। এই দুই বোনকে স্বাধীন ও স্বাভাবিক জীবন দেওয়ার লক্ষ্যে চিকিৎসকরা প্রায় এক বছর ধরে তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং অস্ত্রোপচারের নিবিড় প্রস্তুতি নেন। জন্মের পর থেকে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে হিয়াব এবং উহবতো একে অপরের দিকে পেছন ফিরে মাথা জোড়া লাগানো অবস্থায় জীবন কাটিয়েছিল। একে অপরের গলার আওয়াজ শুনতে পেলেও অস্ত্রোপচারের আগে তারা কখনোই একে অপরকে সামনাসামনি দেখেনি। কার্ডিনাল গ্লেনন চিলড্রেনস হাসপাতালের চিকিৎসক ড. জোয়ানা কেম্প জানান, এভাবে জোড়া লাগানো অবস্থায় থাকলে ভবিষ্যতে তাদের বড় ধরনের শারীরিক ঝুঁকির মুখে পড়তে হতো। এমনকি উন্নত চিকিৎসার অভাবে তাদের পক্ষে নিজ দেশ ইথিওপিয়ায় ফেরাও সম্ভব ছিল না। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধাপে ধাপে এই জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন সার্জনরা। অস্ত্রোপচারের পর জীবনের প্রথমবারের মতো দুই বোন একে অপরকে সামনাসামনি দেখার ও একসাথে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছে। হাসপাতালটির কর্মী কেট করবেট আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, "এর আগে তারা কখনোই একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে বা স্পর্শ করতে পারেনি।" ইথিওপিয়া থেকে এক ভিডিও বার্তায় যমজ বোনদের অভিভাবক আবেবে ফান্টাহুন সেন্ট লুইসের ওই মেডিকেল টিমের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "কার্ডিনাল গ্লেনন হাসপাতাল ও র্যাঙ্কেন জর্ডানের চিকিৎসক দল যে মমতা ও নিষ্ঠার সাথে তাদের চিকিৎসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ।"
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে পোষা কুকুরের ভয়াবহ হামলায় জেসন অ্যান্থনি ওয়েভার নামের এক সপ্তাহ বয়সী এক নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। চরম অবহেলার দায়ে শিশুটির বাবা অস্টিন কিনসেকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। আদালতের নথি অনুযায়ী, 'চম্প' নামের ওই কুকুরটি শিশুটিকে অন্তত ১৮০ বার কামড়েছিল। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ইন্ডিয়ানার গ্রামীণ মার্কল এলাকার একটি বাড়িতে, যার ভয়াবহ চিত্র পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীদের হতবাক করে দিয়েছে। জানা যায়, পাঁচ বছর বয়সী চম্প ছিল হাস্কি ও পিটবুলের মিশ্র জাতের একটি কুকুর। কুকুরটির ভয়ংকর হামলায় শিশুটির মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিশুটির মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, পাঁজরের হাড় ভেঙে যাওয়া এবং ফুসফুস ছিঁড়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক অভ্যন্তরীণ আঘাত ছিল। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর শিশুটির বাবা-মাসহ পরিবারের আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অস্টিন কিনসে জানান, তিনি শিশুটির সঙ্গে একই ঘরে বসে ভিডিও গেম খেলছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তিনি কিছুক্ষণের জন্য ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। এরপর শিশুটির দাদা টিমোথি কিনসে সন্দেহজনক শব্দ শুনতে পেয়ে ঘরে গিয়ে দেখেন, চম্প শিশুটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে সিপিআর (CPR) দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাড়িটি ছিল বসবাসের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী এবং আবর্জনা ও পোকামাকড়ে ভরা। ফোর্ট ওয়েন শহরের প্রায় ২৫ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বাড়িটিতে সর্বত্র পশু, আবর্জনা ও মাটির তীব্র দুর্গন্ধ ছিল। নোংরা বাসনপত্র ও ময়লা কাপড়ে ঠাসা বাড়িটিতে হাঁটতেও পুলিশ কর্মকর্তাদের বেগ পেতে হয়েছিল; এমনকি শিশুটির গাড়ির আসনেও তেলাপোকা ও অন্যান্য পোকামাকড় পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা কুকুরটিকে শান্ত স্বভাবের দাবি করলেও তারা স্বীকার করেন যে, এটি আগে থেকেই ঈর্ষাপরায়ণ এবং অন্য প্রাণীদের প্রতি আক্রমণাত্মক ছিল, এমনকি এর আগে মানুষকেও কামড়েছিল। কুকুরটি আক্রমণাত্মক আচরণ করলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য তারা বাড়িতে একটি বন্দুকও রাখতেন। পরবর্তীতে বাড়িটিকে বসবাসের অনুপযোগী ঘোষণা করে খালি করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের নাইলস শহরের সেন্ট জোসেফ নদী থেকে নিখোঁজ দুই মায়ের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভ্যানেসা বাউতিস্তা (২৪) এবং অ্যালেক্সা নাভারো (২৩) নামের ওই দুই নারী ইন্ডিয়ানার সাউথ বেন্ড এলাকার বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার রাতে নদীর পানিতে তলিয়ে থাকা একটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়া জিপের ভেতর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলটি তাদের নিজ শহর থেকে প্রায় ১১ মাইল উত্তরে অবস্থিত। গত বৃহস্পতিবার ওয়েস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটির মেডিকেল এক্সামিনার অফিস মৃতদেহ দুটির পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। তবে তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। নাইলস শহরের পুলিশ প্রধান জেমস মিলিন জানিয়েছেন, ধারণা করা হচ্ছে গত রোববার ভোর ৪টার দিকে তাদের গাড়িটি একটি উঁচু বাঁধের ওপর থেকে প্রায় ৬০-৭০ ফুট নিচে খাড়া ঢাল বেয়ে নদীতে পড়ে যায়। নিচে পড়ার সময় গাড়িটি বেশ কয়েকটি গাছে ধাক্কা খায়, যে কারণে এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই রোববারই এই দুই নারীর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নিখোঁজ হওয়ার সময় তারা যে পোশাক পরা ছিলেন, উদ্ধারকৃত মৃতদেহগুলোতেও একই পোশাক পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনা কবলিত ২০২০ সালের ধূসর রঙের জিপ গ্র্যান্ড চেরোকি গাড়িটি তারা নিজেরাই চালাচ্ছিলেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পেছনের কারণ নিয়ে বেশ রহস্য তৈরি হয়েছে। কেউ তাদের তাড়া করছিল কি না—এমন গুঞ্জন উঠলেও পুলিশ প্রধান মিলিন জানিয়েছেন, তারা সবদিক বিবেচনা করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রাথমিকভাবে গাড়িটিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো কোনো 'বাহ্যিক শক্তির' প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিহতদের ময়নাতদন্ত এবং টক্সিকোলজি পরীক্ষার ফলাফল পেতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সাউথ বেন্ড পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে তাদের দুজনকে সর্বশেষ এলখার্টে দেখা গিয়েছিল এবং তাদের ফোনের সর্বশেষ লোকেশন ছিল নাইলসে। বর্তমানে মামলাটির সম্পূর্ণ তদন্তভার নাইলস পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে এক ভয়াবহ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেস (NBCLA)-এর সংবাদ প্রতিবেদক এলিয়ানা মোরেনো। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর এক আবেগঘন বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের নীরবতা ভেঙেছে তার শোকাহত পরিবার। এলিয়ানার ভাই জোহান মোরেনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া ওই বিবৃতিটি শেয়ার করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাত্র ১১ বছর বয়স থেকেই এলিয়ানা একজন সংবাদ প্রতিবেদক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। নিজের কঠোর পরিশ্রম ও সাহসিকতার মাধ্যমে তিনি সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন। পরিবার আরও জানায়, এলিয়ানা ছোটবেলা থেকে যে কাজের প্রতি তীব্র আবেগ লালন করতেন, সেই প্রিয় কাজটি করতে করতেই তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন—এই ভেবে তারা কিছুটা হলেও সান্ত্বনা খুঁজছেন। গত মঙ্গলবার লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রো বাসের সাথে একটি এসইউভি (SUV)-এর ভয়াবহ সংঘর্ষের খবর আকাশ থেকে সংগ্রহ করতে গিয়ে এলিয়ানা মোরেনো এবং পাইলট জর্জ মার্সিনিউকে বহনকারী এনবিসি-র একটি হেলিকপ্টার হঠাৎ ছিটকে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় এলিয়ানা ও জর্জ ছাড়াও নিচে থাকা এডি গুতেরেজ মেজিয়া নামের এক পথচারী প্রাণ হারান। এলিয়ানার পরিবার তাদের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে যে, তারা তাকে নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত এবং তাকে নিজেদের পরিবারের সদস্য হিসেবে পেয়ে তারা ধন্য। ৩৮ বছর বয়সী এই সাংবাদিক তার পেছনে রেখে গেছেন পাঁচ ভাইবোন, বাগদত্ত, সৎ সন্তান এবং পোষা কুকুর। এর আগে এক শোকবার্তায় এলিয়ানার ভাই জোহান লিখেছিলেন, "শান্তিতে ঘুমাও বোন, আমি তোমাকে অনন্তকাল ভালোবাসব। আমাদের পরিবার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ দিন পার করছে।" পাশাপাশি জোহান সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, তাদের পরিবারের নামে কেউ যদি অনলাইনে অর্থ সংগ্রহ করে, তবে তা যেন কেউ বিশ্বাস না করেন, কারণ তারা কোনো আর্থিক সহায়তা নিচ্ছেন না। প্রায় এক বছর আগে রবার্ট ব্যারিয়েন্টোসের সাথে এলিয়ানার বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। এই দক্ষ 'এরিয়াল রিপোর্টার' বা আকাশ থেকে সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিক ২০১০ সাল থেকে এনবিসি-র নিউজ চপার-এ কাজ করছিলেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের ওপর থেকে পুলিশি ধাওয়া, দাবানল বা বড় দুর্ঘটনার সরাসরি খবর দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে তিনি "এলি ইন দ্য হেলি" নামে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) বর্তমানে এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। নিজের স্বপ্নের পেশায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায় এলিয়ানার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার সহকর্মী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসউইম্যান ইলহান ওমরকে লক্ষ্য করে আপেল সিডার ভিনেগার নিক্ষেপ করার দায়ে এক ব্যক্তিকে ১৪ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার মিনিয়াপোলিসের ফেডারেল প্রসিকিউটরদের সাথে একটি আপস চুক্তির (প্লি এগ্রিমেন্ট) অংশ হিসেবে ৫৬ বছর বয়সী অ্যান্টনি কাজমিয়ারজ্যাক এই সাজা মেনে নেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি মুক্তির পর তাকে তিন বছর কড়া আইনি নজরদারিতে (সুপারভাইজড রিলিজ) থাকতে হবে এবং এই সময়ের মধ্যে তিনি 'স্কোয়াড' খ্যাত এই কংগ্রেসউইম্যানের সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ করতে পারবেন না। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে ইলহান ওমরের আয়োজিত একটি টাউন হল সভায় এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটে। সেসময় অ্যান্টনি হঠাৎ করে মঞ্চের দিকে তেড়ে যান এবং একটি সিরিঞ্জ থেকে পানি ও আপেল সিডার ভিনেগারের মিশ্রণ ইলহান ওমরের দিকে ছুঁড়ে মারেন। এ সময় তিনি চিৎকার করে বলছিলেন যে, ইলহান ওমর "মিনেসোটাকে বিভক্ত করছেন।" ওমরের নিরাপত্তারক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিবৃত্ত করেন এবং পরবর্তীতে মার্কিন সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় কেউ আহত না হলেও সেখানে উপস্থিত মিনিয়াপোলিস সিটি কাউন্সিলের সদস্য লাট্রিশা ভেতাওয়ের গায়ে কিছুটা ভিনেগার লাগায় পরবর্তীতে তিনি বমি করেছিলেন। হামলার আগে নিজের এক প্রতিবেশীকে অ্যান্টনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি গ্রেপ্তার হতে পারেন। তার ভাই তাকে একজন 'ডানপন্থী চরমপন্থী' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিপক্ষে বিভিন্ন পোস্ট করতেন। পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ইলহান ওমর জানান, সোমালি অভিবাসীদের বহিষ্কার করার বিষয়ে ট্রাম্পের আদেশের ধীরগতি নিয়ে হামলাকারী ক্ষুব্ধ ছিলেন। ইলহান ওমর সোমালিদের রক্ষা করছেন, এমনটা ভেবেই তিনি তার ওপর হামলা চালান। তবে আদালতে বিচারক যখন তাকে হামলার কারণ জিজ্ঞেস করেন, তখন তিনি কেবল বলেন, "বিষয়টি আমার কাছে অস্পষ্ট।" উল্লেখ্য, এই ঘটনার সময় মিনেসোটার টুইন সিটিস এলাকায় কেন্দ্রীয় ইমিগ্রেশন এজেন্টদের অভিযান এবং এর প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের কারণে এক ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। অন্যদিকে, অ্যান্টনির এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন যে, তিনি পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত এবং কয়েক বছর আগে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়ার পর থেকে কড়া ওষুধের ওপর নির্ভরশীল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, আসামিপক্ষের মেমোতে অ্যান্টনির অ্যালকোহল আসক্তি এবং মানসিক ও আবেগজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার ইতিহাসও উল্লেখ করা হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি মেট্রো বাসে বেপরোয়া গতির গাড়ির ধাক্কা এবং পরবর্তীতে সংবাদ সংগ্রহে আসা একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় মোট পাঁচজনের প্রাণহানির পর মূল অভিযুক্ত বেইলি লিন রিওস (৩৬) এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকায় গত বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে নিজের শুনানিতে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি। গত মঙ্গলবার রিওস তার এসইউভি (SUV) গাড়ি নিয়ে উচ্চ গতিতে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি মেট্রো বাসে ধাক্কা দেন। সংঘর্ষ এতই ভয়াবহ ছিল যে, গাড়িটি বাসের ভেতরে ঢুকে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বাসের দুই যাত্রী নিহত হন। এই ঘটনায় রিওসসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। জোড়া খুনের সন্দেহে রিওসের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তার জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ লাখ ৩০ হাজার ডলারে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তিনি ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে এবং সম্ভবত মদ্যপ অবস্থায় (DUI) বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। মর্মান্তিক এই বাস দুর্ঘটনায় নিহত দুই যাত্রী হলেন ৩১ বছর বয়সী গেজ ওয়েইডা এবং ৪৬ বছর বয়সী ড্যানিয়েল কাস্টিলো। চার সন্তানের জনক কাস্টিলোর শেষকৃত্যের খরচ মেটাতে তার পরিবার 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) প্ল্যাটফর্মে একটি তহবিল গঠন করেছে, যা ইতোমধ্যে ৩০ হাজার ডলার লক্ষ্যের বিপরীতে প্রায় ২০ হাজার ডলার সংগ্রহ করেছে। শোকাহত পরিবার তাকে স্মরণ করে জানিয়েছে, তিনি তাদের জীবনে ভালোবাসা ও আনন্দ বয়ে এনেছিলেন। অন্যদিকে, নিহত ওয়েইডাকেও তার পরিবার একজন 'দয়ালু এবং নিঃস্বার্থ সন্তান' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এদিকে বাস দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি বরণ করে নেয় এনবিসি (NBC) নেটওয়ার্কের একটি হেলিকপ্টার। আকাশ থেকে ছিটকে পড়ে বিধ্বস্ত হওয়া এই হেলিকপ্টারটিতে থাকা সাংবাদিক এলিয়ানা মোরেনো, পাইলট জর্জ মার্সিনিউ এবং নিচে থাকা পথচারী এডি গুতেরেজ মেজিয়া নিহত হন। জানা গেছে, সাংবাদিক মোরেনোর এক বছরেরও কম সময় আগে বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। অন্যদিকে, পাইলট মার্সিনিউয়ের কয়েক দশকের দীর্ঘ উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা ছিল এবং তারা দুজন একসঙ্গে শত শত ঘণ্টা ফ্লাইটে কাজ করেছেন। হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনায় ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) নিবিড়ভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এনটিএসবি-র প্রধান তদন্তকারী ফ্যাবিয়ান সালাজার জানিয়েছেন, সম্প্রচারকারী হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা লাইভ ভিডিওটি তাদের কাছে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। ভিডিওটির শেষ মুহূর্তে সতর্কতামূলক অ্যালার্মের শব্দ শোনা গেছে এবং হেলিকপ্টারটিকে দ্রুত নিচে নেমে আসতে দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইঞ্জিন বিকল হওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ভিডিওটির সাউন্ড স্পেকট্রাম বিশ্লেষণ করে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারী দল। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তদন্তের একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত ৪৭ বছরে গ্রিনল্যান্ড এবং অ্যান্টার্কটিকা থেকে ১২ ট্রিলিয়ন টনেরও বেশি বরফ গলে গেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৭০-এর দশক থেকে শুরু হওয়া এই বিপুল পরিমাণ বরফ গলার কারণে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১.২ ইঞ্চির বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। 'সায়েন্টিফিক ডেটা' জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্র অনুযায়ী, গত প্রায় অর্ধশতাব্দীতে এই দুটি বরফের আস্তরণ থেকে হারিয়ে যাওয়া বরফের পরিমাণ প্রায় ১২.৫ ট্রিলিয়ন টন (বা ১১.৩ ট্রিলিয়ন মেট্রিক টন)। বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির এই মাত্রায় গ্রিনল্যান্ডের অবদান সবচেয়ে বেশি, যার কারণে পানির স্তর বেড়েছে প্রায় ০.৭ ইঞ্চি। সামগ্রিকভাবে, বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রায় এক-চতুর্থাংশের জন্যই দায়ী এই দুই মেরু অঞ্চলের বরফ গলন। যুক্তরাজ্যের নর্থামব্রিয়া ইউনিভার্সিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হারিয়ে যাওয়া এই বরফের ৮৪ শতাংশই ভূপৃষ্ঠে গলে যাওয়ার পরিবর্তে দ্রুতগতিতে সমুদ্রে মিশে যাওয়া হিমবাহ থেকে এসেছে। গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া ড. ইনেস ওতোসাকা জানান, মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবেই হিমবাহগুলো দ্রুত গলে যাচ্ছে। নাসা (NASA) এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ESA) সহায়তায় 'আইএমবিআইই' (IMBIE) টিমের বিজ্ঞানীরা এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন। তারা ল্যান্ডস্যাট স্যাটেলাইটের পুরোনো আর্কাইভ থেকে শুরু করে ২৭টি স্যাটেলাইট মিশনের ৪২টি স্বাধীন জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে গত অর্ধশতাব্দীর এই চিত্র তুলে এনেছেন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ১৯৯০-এর দশক থেকে বরফ গলার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ১৯৮০-এর দশকে যেখানে গ্রিনল্যান্ডে বছরে ৬৬ বিলিয়ন টন বরফ গলত, ২০১০-এর দশকে তা বেড়ে ২৯১ বিলিয়ন টনে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে অ্যান্টার্কটিকায় এই হার ৫৩ বিলিয়ন টন থেকে বেড়ে ২২২ বিলিয়ন টন ছাড়িয়েছে। যদিও ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পূর্ব অ্যান্টার্কটিকায় রেকর্ড তুষারপাত এবং গ্রিনল্যান্ডে তুলনামূলক মৃদু গ্রীষ্মের কারণে বরফ গলার হার সাময়িকভাবে কিছুটা কমেছিল, তবে বিজ্ঞানীরা একে দীর্ঘমেয়াদী কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন বলে মনে করছেন না। ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ও এই গবেষণার সহ-লেখক এরিক রিগনট সতর্ক করে বলেছেন, মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলে যাওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, যা আগামী দিনগুলোতে উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের বন্যা ও ভাঙনের মতো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) পরিচালক পদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোনীত রিচার্ড শ্রয়ারের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন সেনেটে তার মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে আটকে যাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় গত জুনে শ্রয়ারকে আইস-এর প্রধান তথা ডিএইচএস-এর সহকারী মন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছিলেন ট্রাম্প। মিনেসোটায় এজেন্ট-জড়িত গোলাগুলির ঘটনার তদন্তের বিস্তারিত তথ্য দাবি করে শ্রয়ারের মনোনয়ন প্রক্রিয়া আটকে দেন রিপাবলিকান সেনেটর র্যান্ড পল। ফলে সেনেটের 'হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গভর্নমেন্টাল অ্যাফেয়ার্স' কমিটিতেই আটকে যান শ্রয়ার। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ইতোমধ্যে হোয়াইট হাউস এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাথে যোগাযোগ করেছে। গত এপ্রিলে টড লায়ন্স আইস-এর শীর্ষ পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর বর্তমানে সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডেভিড ভেনচুরেলা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের পর থেকে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) সেনেট কর্তৃক অনুমোদিত কোনো স্থায়ী পরিচালক পায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডে প্রাক্তন প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টাকারী অস্টিন লিঞ্চ এবার সরাসরি বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। সাফোক কাউন্টির এক বিচারক গত বৃহস্পতিবার রায় দিয়েছেন যে, অস্টিন মানসিকভাবে বিচারের উপযুক্ত। এর আগে গত জানুয়ারিতে প্রথম মানসিক মূল্যায়নে তাকে বিচারের জন্য অনুপযুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী দুটি বিস্তারিত মূল্যায়নের পর বিচারক অ্যান্থনি সেনফট জানান, তিনি এখন জুরির মুখোমুখি হওয়ার জন্য সম্পূর্ণ সুস্থ ও প্রস্তুত। অস্টিন লিঞ্চ ও নিহত এমিলি ফিন ছিলেন হাইস্কুল জীবনের প্রেমিক-প্রেমিকা। তবে এমিলি উচ্চশিক্ষার জন্য 'সানি ওয়াননটা' (SUNY Oneonta) বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে এমিলি সম্পর্কটি ভেঙে দেন। প্রসিকিউটরদের মতে, ২৬ নভেম্বর থ্যাংকসগিভিংয়ের ছুটিতে এমিলি তার প্রাক্তন প্রেমিক অস্টিনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন। তখনই ক্ষুব্ধ অস্টিন তাকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর নিজের দিকেও বন্দুক তাক করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, তবে ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান। গ্রেপ্তারের পর অস্টিনের মোট তিনটি মানসিক মূল্যায়ন করা হয়। প্রথমটিতে তাকে বিচারের অনুপযুক্ত বলা হলেও দ্বিতীয়টিতে তাকে উপযুক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে জুলাই মাসে এই অভিযুক্ত খুনির বিরুদ্ধে নতুন একটি গুরুতর অভিযোগ ওঠে। জানা যায়, তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় এমিলির পরিবারের বাড়িতে ডাকাতি করার জন্য অন্য এক বন্দিকে ভাড়া করার চেষ্টা করেছিলেন। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের পর বিচারক সেনফট তৃতীয় ও চূড়ান্ত মানসিক মূল্যায়নের নির্দেশ দেন। সবশেষ মূল্যায়নের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার বিচারক জানান, অস্টিনকে এখন বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এবং আগামী ১৯ অক্টোবর তাকে আবারও আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের নির্ধারিত বৈঠক শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছে আওয়ামী লীগ। ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। এতে প্রায় ২৩ জন জ্যেষ্ঠ নেতার অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও ১৭ সেপ্টেম্বর বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এর কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি। বৈঠকে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা, দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কৌশল এবং ফেরার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি ও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য ভারতের দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। বৈঠকটি আগে কলকাতায় আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও পরে নিরাপত্তা ও অন্যান্য বাস্তবগত বিষয় বিবেচনায় স্থান পরিবর্তন করে নয়াদিল্লি করা হয়েছিল। এটি হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর তাঁর সঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরাসরি পরামর্শ বৈঠক। বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্তটি দলটির কয়েকজন নেতার কাছেও আকস্মিক ছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বৈঠকটি পরে অন্য কোনো তারিখে হতে পারে, তবে নতুন তারিখ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। বাতিলের কারণ নিয়েও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এর আগে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে এসেছে। জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরে আদালতের কার্যক্রমের মুখোমুখি হতে পারেন। তবে তাঁর ফেরার সময় ও পদ্ধতি এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকটি বাতিল হওয়ায় শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে প্রায় তিন মাস আটক থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ৬৬ বছর বয়সী জলিল আখতার। উত্তর দিনাজপুরের এই বাসিন্দার আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র ও রেশন কার্ডসহ বিভিন্ন নথি যাচাইয়ের পর বৈধ বলে উল্লেখ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। ১৫ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে জামিন দেওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। জলিল আখতার উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘি এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, ১৯ জুন রাতে ডালখোলা থানার পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। তখন তাকে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহ করা হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। পরদিন পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে তার পরিচয় প্রমাণের জন্য ভোটার পরিচয়পত্র, আধার কার্ড, রেশন কার্ড ও প্যান কার্ডসহ বিভিন্ন নথি জমা দেন। এরপর জলিলকে বিভিন্ন আটককেন্দ্রে রাখা হয় এবং পরে ইসলামপুরের কারাগারে পাঠানো হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়, তিনি ভারতের নাগরিক এবং তার পরিচয় ও বসবাসের পক্ষে দীর্ঘদিনের সরকারি নথি রয়েছে। তার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকার পাশাপাশি ২০২৬ সালের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার নথিতেও রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জলিলকে বিদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিকসংক্রান্ত আইনে মামলা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাকে বাংলাদেশের দিকে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের পর তাকে বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভব হয়নি এবং পরে তিনি আবার পুলিশের হেফাজতে ফিরে আসেন। মামলার তদন্তের সময় জলিলের পরিবারের দেওয়া বিভিন্ন নথি যাচাই করা হয়। আদালতের কার্যক্রমে তার আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র ও রেশন কার্ডের বৈধতা নিয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়। তার বাবার নামে ১৯৬৭ সালের জমির নথিও পরিবার আদালতে জমা দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর ইসলামপুরের আদালত জলিলকে জামিন দেওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে পরিবারের কাছে ফিরে যান। জামিনের শর্ত হিসেবে তাকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া নিজের এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। প্রয়োজনে তাকে নিয়মিত আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। জলিলের পরিবার জানিয়েছে, প্রায় তিন মাস ধরে তাকে নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও আদালতে ছুটতে হয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রয়োজনীয় নথি থাকার পরও একজন বয়স্ক মানুষকে এতদিন আটক রাখায় তারা মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জলিল নিজেও মুক্তির পর তার নাগরিকত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে জলিলের বিরুদ্ধে করা মামলার পুরো আইনি প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। আদালতের জামিনের অর্থ হলো তিনি বিচারাধীন অবস্থায় মুক্ত থাকবেন; এটি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়। তদন্ত ও পরবর্তী আদালত কার্যক্রমের ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে। সূত্র: দ্য অবজারভার পোস্ট