সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে প্রায় তিন মাস আটক থাকার পর আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জলিল আখতার। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি সন্দেহে ৩ মাস আটক, বৈধ নথি নিয়ে জামিন পেলেন ৬৬ বছরের ভারতীয়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে প্রায় তিন মাস আটক থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ৬৬ বছর বয়সী জলিল আখতার। উত্তর দিনাজপুরের এই বাসিন্দার আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র ও রেশন কার্ডসহ বিভিন্ন নথি যাচাইয়ের পর বৈধ বলে উল্লেখ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। ১৫ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে জামিন দেওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।   জলিল আখতার উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘি এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, ১৯ জুন রাতে ডালখোলা থানার পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। তখন তাকে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহ করা হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। পরদিন পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে তার পরিচয় প্রমাণের জন্য ভোটার পরিচয়পত্র, আধার কার্ড, রেশন কার্ড ও প্যান কার্ডসহ বিভিন্ন নথি জমা দেন।   এরপর জলিলকে বিভিন্ন আটককেন্দ্রে রাখা হয় এবং পরে ইসলামপুরের কারাগারে পাঠানো হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়, তিনি ভারতের নাগরিক এবং তার পরিচয় ও বসবাসের পক্ষে দীর্ঘদিনের সরকারি নথি রয়েছে। তার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকার পাশাপাশি ২০২৬ সালের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার নথিতেও রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   পুলিশের পক্ষ থেকে জলিলকে বিদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিকসংক্রান্ত আইনে মামলা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাকে বাংলাদেশের দিকে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের পর তাকে বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভব হয়নি এবং পরে তিনি আবার পুলিশের হেফাজতে ফিরে আসেন।   মামলার তদন্তের সময় জলিলের পরিবারের দেওয়া বিভিন্ন নথি যাচাই করা হয়। আদালতের কার্যক্রমে তার আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র ও রেশন কার্ডের বৈধতা নিয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়। তার বাবার নামে ১৯৬৭ সালের জমির নথিও পরিবার আদালতে জমা দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ১৫ সেপ্টেম্বর ইসলামপুরের আদালত জলিলকে জামিন দেওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে পরিবারের কাছে ফিরে যান। জামিনের শর্ত হিসেবে তাকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া নিজের এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। প্রয়োজনে তাকে নিয়মিত আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।   জলিলের পরিবার জানিয়েছে, প্রায় তিন মাস ধরে তাকে নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও আদালতে ছুটতে হয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রয়োজনীয় নথি থাকার পরও একজন বয়স্ক মানুষকে এতদিন আটক রাখায় তারা মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জলিল নিজেও মুক্তির পর তার নাগরিকত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   তবে জলিলের বিরুদ্ধে করা মামলার পুরো আইনি প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। আদালতের জামিনের অর্থ হলো তিনি বিচারাধীন অবস্থায় মুক্ত থাকবেন; এটি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়। তদন্ত ও পরবর্তী আদালত কার্যক্রমের ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।   সূত্র: দ্য অবজারভার পোস্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৩:৩০
ভেনিসে বিয়ের তিন মাসের মাথায় মৃ ত্যু, নৌকাডুবিতে প্রাণ হারালেন অন্তঃসত্ত্বা তরুণী ও তার স্বামী
ভেনিসে বিয়ের তিন মাসের মাথায় মৃ ত্যু, নৌকাডুবিতে প্রাণ হারালেন অন্তঃসত্ত্বা তরুণী ও তার স্বামী

ইতালির ভেনিসে মর্মান্তিক এক নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন সদ্য বিবাহিত এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার স্বামী। গত শনিবার একটি ওয়াটার ট্যাক্সির সঙ্গে পেশায় জেলে শন মিশিলির (২৫) নৌকার সংঘর্ষ হলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় শনকে পানি থেকে উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   এরপর মঙ্গলবার ভেনিসের লেগুন থেকে তার নিখোঁজ স্ত্রী গ্যাব্রিয়েলা কোয়েরিনোর (২৬) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বামীর মৃতদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় এক মাইল দূরে তার খোঁজ মেলে। জানা যায়, মাত্র তিন মাস আগেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এই তরুণ দম্পতি।   তবে মর্মান্তিক এই ঘটনাটিকে সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে পারছে না গ্যাব্রিয়েলার পরিবার। তাদের দাবি, পুরো ঘটনার মধ্যে অনেক নীরবতা ও অসঙ্গতি লুকিয়ে আছে। দুই বছর আগে ইতালিতে পাড়ি জমানো গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে দুর্ঘটনার আগের রাতে তার স্বামীর প্রচণ্ড ঝগড়া হয়েছিল।   পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, গ্যাব্রিয়েলা বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার জন্য নিজের ব্যাগও গুছিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তিনি ব্রাজিলে বসবাসরত তার মা জিসেল এলোরিয়াগাকে টেক্সট মেসেজ করে জানান যে, তাদের মধ্যে সব ঠিক হয়ে গেছে এবং তারা একসঙ্গে রাতের খাবার খেতে যাচ্ছেন। মেসেজে তিনি মাকে এও বলেন, "কাল তোমাকে সব খুলে বলব।"   পরিবারের সন্দেহ মূলত এই মেসেজটি ঘিরেই। তারা জানান, গ্যাব্রিয়েলা মেসেজ করতে একেবারেই পছন্দ করতেন না; বরং পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, তিনি সবসময় মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতেন। এদিকে মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাতেই ইতালিতে ছুটে যান তার মা।   কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই ঘটনায় তিনি তার দুই সন্তানকেই (মেয়ে ও অনাগত সন্তান) হারিয়েছেন। অন্যদিকে, শনের বোন চ্যান্টালও অনলাইনে এক আবেগঘন বার্তায় ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে 'নটিক্যাল হোমিসাইড' বা নৌ-হত্যাকাণ্ড মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।   দুর্ঘটনার সময় ওই ওয়াটার ট্যাক্সিতে থাকা দুই মার্কিন পর্যটককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুঁজছে পুলিশ। আগামী সপ্তাহে শনের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পর মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৩:২৮
শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে ১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধের প্রস্তাব করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ছবি: সংগৃহীত
১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে ১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করার প্রস্তাব করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে অভিভাবকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ এবং ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য একাধিক বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় কমিশন ‘ইইউ কিডস অ্যাক্ট’ নামে এই প্রস্তাব প্রকাশ করে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন বলেন, শিশুরা এমন এক জটিল প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশের মুখোমুখি হচ্ছে, যা তাদের কল্যাণ ও বিকাশের বিষয়টি মাথায় রেখে তৈরি হয়নি। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে বাস্তব জীবনের মতো অনলাইন জগতেও শিশুদের জন্য স্পষ্ট নিরাপত্তা সীমা তৈরি করতে চায় ইইউ।   প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের অ্যাকাউন্ট অভিভাবকদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে শিশুদের অনলাইন কার্যক্রম, ব্যবহারের সময় এবং বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহারের ওপর অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণ থাকবে।   নতুন নিয়ম শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন গেম, শিশুদের জন্য তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সঙ্গী ও কথোপকথন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বয়সভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। শিশুদের অতিরিক্ত সময় ধরে অনলাইনে রাখে এমন বিভিন্ন সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করার কথাও বলা হয়েছে।   প্রস্তাবে সীমাহীনভাবে একের পর এক ভিডিও বা পোস্ট দেখানোর ব্যবস্থা, ব্যবহারকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা পরামর্শমূলক বিষয়বস্তু, পুরস্কারের মাধ্যমে শিশুদের বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনার কৌশল এবং অপরিচিত ব্যক্তির অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। শিশুদের জন্য তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গী ও কথোপকথন ব্যবস্থাও শুরু থেকেই বন্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।   পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিশুদের জন্য নিরাপদ অ্যালগরিদম তৈরির পাশাপাশি সহজে অন্য ব্যবহারকারীকে বন্ধ বা নীরব করার সুবিধা দিতে হবে। অভিভাবকদের জন্যও সহজে ব্যবহারযোগ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে তারা শিশুদের অনলাইন কার্যক্রমের ওপর নজর রাখতে পারেন।   নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যবহারকারীর বয়স নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে, যাতে বয়স যাচাই করা গেলেও অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বা সংরক্ষণের ঝুঁকি কম থাকে। নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তাদের বৈশ্বিক বার্ষিক বিক্রয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। তদারকির খরচ মেটাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আলাদা ফিও নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।   তবে ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত আইন হয়নি। আগামী মাসগুলোতে ইইউভুক্ত দেশগুলোর সরকার এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে প্রস্তাবের বিভিন্ন ধারা পরিবর্তন বা সংশোধন হতে পারে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই এটি কার্যকর হবে।   এদিকে প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা প্রস্তাবটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গুগল ও মেটার প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ প্রযুক্তি লবিং সংগঠন সিসিআইএ ইউরোপের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বয়স যাচাইয়ের নতুন ব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সংগঠনটি আরও বলেছে, প্রস্তাবের কিছু বিষয় ইইউর বিদ্যমান আইনগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।   শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ ইইউর জন্য নতুন হলেও বিশ্বের কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, চীন, ভারত ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আলাদা আলাদা বিধিনিষেধ চালু বা প্রস্তাব করা হয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৩:৮
মাত্র পাঁচ বছর আগে সাঁতার শেখা শুরু করে ৪১ বছর বয়সে পাকিস্তানের হয়ে এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন সানা আরিফ। ছবি: সংগৃহীত
৫ বছর আগে সাঁতার শিখে ৪১ বছর বয়সে এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের সানা আরিফ

মাত্র পাঁচ বছর আগে সাঁতার শেখা শুরু করেছিলেন সানা আরিফ। সেই শুরু থেকে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ৪১ বছর বয়সে পাকিস্তানের হয়ে এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। জাপানে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের চার সদস্যের ত্রিদলীয় ক্রীড়া দলের একজন হিসেবে অংশ নিচ্ছেন সানা।   কুয়েতে জন্ম নেওয়া সানা আরিফের বেড়ে ওঠা লাহোরে। ২০০৭ সালে তিনি আবার কুয়েতে ফিরে যান। খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ থাকলেও সাঁতার না জানার কারণে এতদিন এটি তার জন্য একটি বড় বাধা ছিল। ২০২১ সালে তিনি সাঁতার শেখা শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে সাঁতারের পাশাপাশি সাইকেল চালানো ও দৌড়ের প্রশিক্ষণও নিতে শুরু করেন।   সাঁতার শেখার মাত্র দুই বছর পর তুরস্কে নিজের প্রথম আয়রনম্যান ৭০.৩ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন সানা। ওই প্রতিযোগিতায় ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার সাঁতার, ৯০ কিলোমিটার সাইকেল চালানো এবং ২১ দশমিক ১ কিলোমিটার দৌড়াতে হয়। এরপর তিনি আরও তিনটি আয়রনম্যান ৭০.৩ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।   কুয়েতে প্রশিক্ষণের সময় প্রচণ্ড গরমও সানার অনুশীলনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলেও তিনি নিয়মিত প্রশিক্ষণ চালিয়ে গেছেন। অনেক দিন ভোর ৪টার মধ্যেই অনুশীলন শুরু করতেন তিনি, যাতে দিনের অতিরিক্ত গরমের আগেই প্রশিক্ষণ শেষ করতে পারেন।   ২০২৬ সালে পাকিস্তানের ত্রিদলীয় ক্রীড়া দলের নির্বাচনী পরীক্ষার জন্য সানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সাঁতার, সাইকেল চালানো ও দৌড়—তিনটি খেলাকে একসঙ্গে মিলিয়ে যে প্রতিযোগিতা হয়, সেখানে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে কিছু প্রতিযোগী তিনটি বিভাগের কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়ে দ্রুত হলেও তিনটি বিভাগ মিলিয়ে সানা পাকিস্তানের দলে জায়গা করে নেন।   এশিয়ান গেমসের জন্য পাকিস্তানের চার সদস্যের ত্রিদলীয় ক্রীড়া দলে সানার সঙ্গে রয়েছেন আনিশা, মোহিদ সাদিক লোনে এবং মুহাম্মদ মুস্তাগিস নূর। নারীদের ব্যক্তিগত ত্রিদলীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০ সেপ্টেম্বর জাপানের গামাগোরি সিটি ত্রিদলীয় ক্রীড়া ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।   নারীদের এই প্রতিযোগিতায় ৭৫০ মিটার সাঁতার, ২০ কিলোমিটার সাইকেল চালানো এবং ৫ কিলোমিটার দৌড়াতে হবে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞ প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়াই করতে হবে সানাকে। তিনি নিজেও জানেন, জাপানের প্রতিযোগিতা তার জন্য সহজ হবে না। তবে নিজের জায়গা করে নেওয়াটাই তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।   এক দশকেরও বেশি সময় আগে এক বন্ধুকে সানা প্রশ্ন করেছিলেন, কীভাবে তিনি অলিম্পিকে অংশ নিতে পারেন। সময়ের সঙ্গে সেই স্বপ্ন অনেকটা দূরে সরে গিয়েছিল। পরে ত্রিদলীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় যুক্ত হওয়ার পর আবারও বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ তৈরি হয় তার সামনে।   মাত্র পাঁচ বছর আগে সাঁতার শেখা থেকে শুরু করে ৪১ বছর বয়সে এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব—সানার এই যাত্রা তার খেলাধুলায় নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার গল্প হয়ে উঠেছে। এবার জাপানের মঞ্চে পাকিস্তানের হয়ে নিজের সেরাটা দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।   সূত্র: গালফ নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১২:৪০
যুক্তরাষ্ট্রের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি রানওয়ের পাশে প্রায় ৩৩ হাজার গ্যালন পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টা বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশে ৩৩ হাজার গ্যালন পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ল

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি রানওয়ের পাশে প্রায় ৩৩ হাজার গ্যালন পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রানওয়ের কাছে থাকা একটি পয়ঃনিষ্কাশন উত্তোলন কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।   বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রানওয়ে ১০-২৮-এর পশ্চিম প্রান্তের কাছে থাকা পয়ঃনিষ্কাশন উত্তোলন কেন্দ্র থেকে পয়ঃবর্জ্য বের হয়ে পাশের একটি বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকা সুলিভান খালের পাশেই অবস্থিত।   ঘটনার কারণ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রায় ৯০ মিনিট পর সংশ্লিষ্ট উত্তোলন কেন্দ্রটি আবার স্বাভাবিকভাবে চালু করা হয়।   ছড়িয়ে পড়া পয়ঃবর্জ্যের প্রভাব কমাতে ক্ষতিগ্রস্ত মাটিতে একটি নিরপেক্ষকরণ উপাদান প্রয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিচের দিকে থাকা পানির মান পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। জর্জিয়া পরিবেশ সুরক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী পানির মান পর্যবেক্ষণের এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।   বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় কোনো ফ্লাইট বা যাত্রীসেবা ব্যাহত হয়নি। বিমানবন্দরের কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে।   পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রকাশ্যে জানিয়েছে। কারণ, কোনো সরকারি মালিকানাধীন পয়ঃবর্জ্য পরিশোধন সংস্থার মাধ্যমে ১০ হাজার গ্যালনের বেশি পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়লে আইন অনুযায়ী গণমাধ্যমকে তা জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।   বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব সীমিত রাখতে তারা স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। ঘটনার কারণ ও এর প্রভাব নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১২:২৩
এড শিরানের 'লুপ ট্যুর' থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলারের পুরো অর্থ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দান করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর। ছবি: সংগৃহীত
এড শিরানের সফরের ১০ লাখ ডলার ফিলিস্তিনিদের জন্য দান করবেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর

মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর জানিয়েছেন, এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলারের পুরো অর্থ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করা ছয়টি সংগঠনকে দান করবেন তিনি। ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে ওই সফর থেকে তাকে বাদ দেওয়ার কয়েক দিন পর এই ঘোষণা দিয়েছেন ম্যাকলমোর।   ম্যাকলমোর, যার আসল নাম বেন হ্যাগার্টি, বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে তার পাওয়া পুরো ১০ লাখ ডলার ফিলিস্তিনি জনগণকে সরাসরি সহায়তা করা ছয়টি সংগঠনে দেওয়া হবে।   একই সঙ্গে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটকেও একই পরিমাণ অর্থ দান করার আহ্বান জানিয়েছেন ম্যাকলমোর। তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও ফিলিস্তিনিদের জীবন রক্ষার বিষয়ে তারা একমত হতে পারেন।   ক্রাফট সোমবার নিশ্চিত করেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দিতে তিনি শিরানের ওপর চাপ দিয়েছিলেন। ক্রাফটের মালিকানাধীন গিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাকলমোরের পরিবেশনাও বন্ধ করা হয়। এর কারণ হিসেবে ক্রাফট ম্যাকলমোরের কথিত ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ও প্রতীকের দীর্ঘ ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেন।   ম্যাকলমোর বলেন, এই অর্থ দানের বিষয়টি তাকে ঘিরে তৈরি বিতর্ক বা ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে নয়। বরং তিনি এমন বাবা-মায়েদের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান, যারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ছাড়াই সন্তানদের হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে চিকিৎসক, প্যারামেডিক, সাংবাদিক ও ত্রাণকর্মীদের কথাও উল্লেখ করেন, যারা বারবার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফিরে যাচ্ছেন।   ম্যাকলমোর তার বক্তব্যে ফিলিস্তিনি কিশোর মুহাম্মদ আল-জিনাতির মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, আহত এক ব্যক্তিকে সহায়তা করতে যাওয়ার সময় এক দিন আগে ইসরায়েলি হামলায় ওই কিশোর নিহত হয়। ম্যাকলমোর বলেন, সে একজন শিশু ছিল এবং তার বেঁচে থাকার কথা ছিল।   তিনি আরও বলেন, শুধু ত্রাণ সহায়তা দিয়ে এই পরিস্থিতির সমাধান করা সম্ভব নয়। যে পরিস্থিতির কারণে এই সহায়তার প্রয়োজন হচ্ছে, সেটি মানুষের তৈরি এবং এর জন্য দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার জন্য আর অপেক্ষা করতে হওয়া উচিত নয় বলেও জানান ম্যাকলমোর।   চলতি মাসের শুরুতে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরানের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে ম্যাকলমোর ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন এবং তার প্রতিবাদী গান ‘হিন্দস হল’ পরিবেশন করেন। এরপর তাকে শিরানের যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে বাদ দেওয়া হয়।   ম্যাকলমোর এর আগে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ১৩ বছরের বন্ধু শিরান তাকে জানিয়েছেন, ক্রাফট অন্য স্টেডিয়াম মালিকদের নিয়ে ম্যাকলমোরের বিরুদ্ধে বয়কটের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ না দিলে এই বয়কটের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।   তবে শিরান এই বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অনুষ্ঠানের আয়োজক ও স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ, তিনি নিজে নন।   শিরান আরও বলেন, এই সংঘাত নিয়ে তার ব্যক্তিগত মতামত রয়েছে। তিনি তা প্রকাশ্যে না বললেও তার অর্থ এই নয় যে তার কোনো মতামত নেই। তিনি নিজের প্ল্যাটফর্মকে রাজনৈতিক মঞ্চের পরিবর্তে নিরাপদ ও আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে রাখতে চান বলেও জানান।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১২:১০
যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহত্তম মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে বাড়ি কেনার দিক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস সবচেয়ে কম সাশ্রয়ী এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য এখন সবচেয়ে কঠিন লস অ্যাঞ্জেলেস, নতুন রিপোর্টে গ্রেড 'এফ'

লস অ্যাঞ্জেলেস যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহত্তম মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে বাড়ি কেনার দিক থেকে সবচেয়ে কম সাশ্রয়ী এলাকা হিসেবে উঠে এসেছে। রিয়েলটর ডটকমের নতুন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় একটি সাধারণ বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য প্রায় ১১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, যেখানে মধ্যম পরিবারের বার্ষিক আয় ৯১ হাজার ৩৮০ ডলার। আয় ও বাড়ির দামের এই ব্যবধানের কারণে অঞ্চলটির আবাসন বাজারে ক্রেতাদের জন্য বড় চাপ তৈরি হয়েছে।   ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রিয়েলটর ডটকমের ‘মেট্রো আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতা ও বাড়ি নির্মাণ মূল্যায়ন’ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহত্তম মেট্রোকে বাড়ির সাশ্রয়যোগ্যতা এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে লস অ্যাঞ্জেলেস-লং বিচ মেট্রো সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে। অঞ্চলটির মোট স্কোর ১০০-এর মধ্যে ১২, যার মধ্যে সাশ্রয়যোগ্যতার স্কোর মাত্র ০.৯ এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের স্কোর ২৩.১।   প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, ১০ শতাংশ প্রাথমিক জমা এবং ৩০ বছরের ৬.৫ শতাংশ নির্দিষ্ট সুদের গৃহঋণ ধরে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি সাধারণ বাড়ির মাসিক গৃহঋণের কিস্তি দিতে মধ্যম আয়ের একজন ক্রেতাকে তার আয়ের প্রায় ৮৪.৪ শতাংশ ব্যয় করতে হবে। সাধারণভাবে আবাসন ব্যয়ের ক্ষেত্রে আয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে গৃহঋণের কিস্তি রাখাকে সাশ্রয়যোগ্যতার একটি প্রচলিত সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   রিয়েলটর ডটকমের হিসাব বলছে, মাসিক গৃহঋণের কিস্তিকে ওই ৩০ শতাংশ সীমার মধ্যে আনতে একজন ক্রেতার প্রায় ৬৮ শতাংশ প্রাথমিক জমা প্রয়োজন হবে। ১১ লাখ ২৯ হাজার ৪১৫ ডলারের বাড়ির ক্ষেত্রে এই প্রাথমিক জমার পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ ৬৮ হাজার ডলার। অর্থাৎ মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য বাড়ি কেনার পথে শুধু গৃহঋণের সুদ নয়, প্রাথমিক জমাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।   আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতার পাশাপাশি নতুন বাড়ি নির্মাণের ঘাটতিও লস অ্যাঞ্জেলেসের অবস্থানকে প্রভাবিত করেছে। মেট্রো এলাকায় জনসংখ্যার তুলনায় নতুন বাড়ির নির্মাণ অনুমোদন দেওয়ার হার জাতীয় গড়ের অর্ধেকেরও কম। রিয়েলটর ডটকমের হিসাবে লস অ্যাঞ্জেলেসের জনসংখ্যার তুলনায় নতুন বাড়ি নির্মাণের অনুমোদনের অনুপাত ০.৪৭। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ বাড়ির দাম এবং সীমিত নতুন সরবরাহ একসঙ্গে ক্রেতাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস একমাত্র বড় মেট্রো নয় যেখানে আবাসন ব্যয় নিয়ে বড় চাপ রয়েছে। প্রতিবেদনে ১৩টি মেট্রোপলিটন এলাকা এফ গ্রেড পেয়েছে। তালিকায় লস অ্যাঞ্জেলেসের পর রয়েছে প্রভিডেন্স, নিউইয়র্ক, হনোলুলু, বোস্টন, অক্সনার্ড-থাউজ্যান্ড ওকস-ভেনচুরা, সান ফ্রান্সিসকো, ওরচেস্টার, সান ডিয়েগো, স্টকটন, সান হোসে, মিয়ামি এবং রিভারসাইড।   প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশ করা হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে নতুন বাড়ির সরবরাহের ঘাটতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিয়েলটর ডটকম বলছে, দেশজুড়ে ৪০ লাখের বেশি বাড়ির ঘাটতি রয়েছে। এই সরবরাহ সংকট নতুন পরিবার গঠন, বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ গড়ার পথে বাধা তৈরি করছে।   রিয়েলটর ডটকমের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল হেল বলেন, দীর্ঘমেয়াদে আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতা বাড়াতে হলে বাড়ি নির্মাণও বাড়াতে হবে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যেসব মেট্রোতে বর্তমান আয়ের সঙ্গে বাড়ির দাম তুলনামূলকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং একই সঙ্গে পর্যাপ্ত নতুন বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে, সেসব এলাকায় ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভিন্ন।   অন্যদিকে ডেস ময়নেস, আইওয়া এই প্রতিবেদনে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। সেখানে মধ্যম বাড়ির দাম প্রায় ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৯০৩ ডলার এবং মধ্যম পরিবারের আয়ের তুলনায় মাসিক গৃহঋণের কিস্তির চাপ প্রায় ২৭.৫ শতাংশ। র‍্যালে, নর্থ ক্যারোলাইনাও নতুন বাড়ি নির্মাণের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে শীর্ষ অবস্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেসের এই অবস্থান মূলত রিয়েলটর ডটকমের ২০২৬ সালের নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির ফল, যেখানে আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ আবাসন সরবরাহকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই এটি শুধু বাড়ির দাম কত, সেই হিসাব নয়; স্থানীয় মানুষের আয় অনুযায়ী সেই বাড়ি কেনার সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদার তুলনায় কতটা নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে, দুটিই এতে বিবেচনা করা হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১১:৫০
জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত লাখ লাখ গোপন নথি প্রকাশ ঠেকাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই তার প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে দাবি উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প সরাসরি এপস্টেইন ফাইল গোপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন, দাবি ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপকের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক টাকার কার্লসন দাবি করেছেন, জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশ ঠেকাতে ট্রাম্প নিজেই তার প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে এপস্টেইনের নথি প্রকাশ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সময় তিনি এমন নির্দেশের কথা জানতে পারেন বলে দাবি করেছেন কার্লসন।    ভ্যানিটি ফেয়ারের সাংবাদিক ক্রিস হুইপলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে কার্লসন বলেন, শুরু থেকেই তিনি ট্রাম্পকে এপস্টেইন-সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেন এসব নথি গোপন রাখা হচ্ছে জানতে চাইলে ট্রাম্প তাকে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা দেন। পরে কার্লসন আবারও নথি প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।   কার্লসনের দাবি, শেষ পর্যন্ত নথি গোপন রাখার নির্দেশ সরাসরি ট্রাম্পের কাছ থেকেই এসেছিল। কেন এমন করা হচ্ছে জানতে চাইলে ট্রাম্প দীর্ঘ ও আবেগপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন এবং পুরো বিষয়টিকে তার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেছিলেন বলে কার্লসন জানিয়েছেন। তবে কার্লসনের এই বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।   এপস্টেইনকে ঘিরে নথি প্রকাশের বিষয়টি গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়। কংগ্রেসের চাপের পর ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর ট্রাম্প এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টে স্বাক্ষর করেন। ওই আইনে জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের কাছে থাকা এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি ও রেকর্ড প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।    এরপর জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট কয়েক ধাপে বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিভাগটি জানায়, আগের প্রকাশনার সঙ্গে মিলিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ পৃষ্ঠা, ২ হাজারের বেশি ভিডিও এবং প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এসব নথির মধ্যে এপস্টেইন ও গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের মামলা, এপস্টেইনের মৃত্যুর তদন্ত এবং একাধিক এফবিআই তদন্তের উপকরণ রয়েছে।    তবে প্রকাশিত নথিতে কোনো ব্যক্তির নাম থাকা মানেই তিনি এপস্টেইনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, এমন নয়। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টও জানিয়েছে, প্রকাশিত উপকরণের মধ্যে এমন কিছু নথি থাকতে পারে যা অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়েছিল এবং যার তথ্য সত্য নাও হতে পারে। ট্রাম্পের নামও বিপুলসংখ্যক নথিতে এসেছে। তবে তার বিরুদ্ধে এপস্টেইন-সংক্রান্ত কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি এবং ট্রাম্প এ ধরনের কোনো অন্যায় অস্বীকার করেছেন।    হোয়াইট হাউস কার্লসনের বক্তব্যকে সরাসরি স্বীকার করেনি। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র লরেন বিস দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেন, এপস্টেইন-সংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাম্প পুরোপুরি দায়মুক্ত এবং তার প্রশাসন বিপুল নথি প্রকাশ, হাউস ওভারসাইট কমিটির সাবপোনা সহযোগিতা এবং নতুন আইন স্বাক্ষরের মাধ্যমে আগের যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের জন্য বেশি করেছে বলে দাবি করেন।    এদিকে জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের এপস্টেইন লাইব্রেরি এখনও নিয়মিত আপডেট করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নথিগুলোতে ভুক্তভোগীদের পরিচয় ও সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন অংশ রেড্যাক্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটিও এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১১:৩০
মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে এক টাউন হল সভায় কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের দিকে ভিনেগার ছোড়ার ঘটনায় সাজা পাচ্ছেন অ্যান্থনি কাজমিয়ারচাক। ছবি: সংগৃহীত
সভায় একটি সিরিঞ্জ থেকে ওমরের দিকে তরল ছোড়া ব্যক্তি আজ পাবেন সাজা

মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে এক টাউন হল সভায় ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের দিকে ভিনেগার ছোড়ার ঘটনায় অ্যান্থনি কাজমিয়ারচাককে বৃহস্পতিবার সাজা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রসিকিউটররা তার জন্য ১৪ মাসের কারাদণ্ডের সুপারিশ করেছেন। জানুয়ারির ওই ঘটনায় ওমর আহত না হলেও নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত তাকে মাটিতে ফেলে আটক করেন।    গত ২৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসের একটি টাউন হল সভায় দর্শকসারিতে থাকা কাজমিয়ারচাক হঠাৎ উঠে দাঁড়ান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একটি সিরিঞ্জ থেকে ওমরের দিকে তরল ছুড়ে দেন এবং চিৎকার করে বলেন, ওমর ‘মিনেসোটাকে বিভক্ত করছেন’। এরপর ওমরের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে মাটিতে ফেলে দেন এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্তে জানা যায়, সিরিঞ্জে থাকা তরলটি ছিল পানি ও অ্যাপল সাইডার ভিনেগারের মিশ্রণ।    ঘটনার পরও ওমর টাউন হল সভা চালিয়ে যান। হামলায় তিনি শারীরিকভাবে আহত হননি। পরে কাজমিয়ারচাক ওমরের কাছে চিঠি লিখে তার কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, তিনি ওমরকে ভয় দেখিয়ে থাকলে সে জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।    কাজমিয়ারচাকের বিরুদ্ধে একজন মার্কিন কর্মকর্তাকে হামলার অভিযোগ আনা হয়। আদালতে আগের এক শুনানিতে বিচারক তাকে ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ঘটনার স্মৃতি তার কাছে অস্পষ্ট। প্রসিকিউটরদের আদালতে দেওয়া সাজা সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ঘটনার আগে তিনি অন্তত তিনজনকে বার্তা পাঠিয়ে ওই সভায় ওমরকে ঘিরে কিছু করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে নিজের পরিকল্পনার বিস্তারিত তাদের জানাননি।    প্রসিকিউটরদের নথিতে আরও বলা হয়েছে, সভায় যাওয়ার আগে কাজমিয়ারচাক প্রতিবেশীর সঙ্গে কুকুরের দেখাশোনা এবং জামিনদারের যোগাযোগের বিষয়ও ঠিক করেছিলেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রসিকিউটররা ঘটনাটিকে আগে থেকে পরিকল্পিত হামলা হিসেবে আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছেন।    আদালতের নথি অনুযায়ী, কাজমিয়ারচাকের বয়স পঞ্চাশের মাঝামাঝি। তার দীর্ঘদিনের অ্যালকোহল ব্যবহারের সমস্যা এবং মানসিক ও আবেগজনিত নানা সমস্যার ইতিহাস রয়েছে বলেও প্রসিকিউটরদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ সালে তার পারকিনসনস রোগ শনাক্ত হওয়ার পর আরও কিছু শারীরিক সমস্যার কথাও নথিতে উঠে এসেছে।    ঘটনার সময় মিনেসোটায় অভিবাসন তৎপরতা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা চলছিল। অপারেশন মেট্রো সার্জের আওতায় টুইন সিটিজ এলাকায় দুই হাজারের বেশি অভিবাসন কর্মকর্তা অভিযান চালিয়েছিলেন। এসব অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার এবং দুই মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মিনেসোটায় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।    সোমালি শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইলহান ওমর মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি এবং দীর্ঘদিন ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সমালোচনার মুখে রয়েছেন। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত কাজমিয়ারচাকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টেও ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা এবং ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে প্রসিকিউটরদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।    কাজমিয়ারচাক বৃহস্পতিবার সাজা পেলে মামলাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হবে। প্রসিকিউটরদের সুপারিশ অনুযায়ী ১৪ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হবে কি না, নাকি আদালত ভিন্ন সাজা নির্ধারণ করবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ঘটনাটি আবারও রাজনৈতিক সমাবেশে নিরাপত্তা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সুরক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান আলোচনাকে সামনে এনেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১১:৫
পৃথিবীর কক্ষপথ ও চাঁদের আশপাশের মহাকাশে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য মার্কিন বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
চাঁদের আশপাশেও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র! মার্কিন সেনাদের সতর্ক করে ট্রাম্পের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে পৃথিবীর কক্ষপথের পাশাপাশি চাঁদের আশপাশের মহাকাশেও সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশটির জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বুধবার ওয়াশিংটনের কাছে এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে সামরিক সদস্য ও প্রতিরক্ষা শিল্পের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্যে এ কথা জানান। একই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশবাহিনীর কর্মকর্তারা কক্ষপথে কার্যকর মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র মোতায়েনের তথ্য প্রকাশ করেন।    জেনারেল কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে সমুদ্রের তলদেশ থেকে পৃথিবীর কক্ষপথ পেরিয়ে চাঁদের আশপাশের অঞ্চল পর্যন্ত লড়াই, টিকে থাকা এবং জয়ী হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে উঠে আসে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনায় পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যবর্তী মহাকাশও সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।    যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক শাখা স্পেস ফোর্সও পৃথিবীর কক্ষপথ এবং চাঁদের আশপাশের মহাকাশে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগনন সাংবাদিকদের জানান, মানবজাতি মহাকাশের আরও গভীরে প্রবেশ করায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য সেখানে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তৈরির দায়িত্ব স্পেস ফোর্সের।   এর আগে একই সম্মেলনে এয়ার ফোর্সের সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখন কক্ষপথে ব্যবহারের জন্য কার্যকর ‘স্পেস কন্ট্রোল উইপন’ বা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র রয়েছে। এই তথ্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোও মহাকাশকে ভবিষ্যৎ সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। গ্যাগননের দাবি, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা মহাকাশে যুদ্ধের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি বিশেষভাবে চীনের মহাকাশ কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন।   চীন ২০২৪ সালে মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি পৃথক সামরিক ইউনিট গঠন করে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, চীন সবসময় মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারকে সমর্থন করে এবং মহাকাশকে অস্ত্রমুক্ত রাখার পাশাপাশি সেখানে সামরিক প্রতিযোগিতা ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার বিরোধিতা করে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে মহাকাশে সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানান।    মহাকাশে সামরিক অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয় দেশই অনুমোদন করেছে। চুক্তিতে চাঁদসহ মহাজাগতিক বস্তুগুলো শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে এবং কক্ষপথে পারমাণবিক অস্ত্র ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে প্রচলিত ধরনের অস্ত্র কক্ষপথে বা চাঁদের আশপাশে মোতায়েনের ক্ষেত্রে চুক্তির নির্দিষ্ট সীমা কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা মহাকাশের সব অঞ্চলে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে মহাকাশে কী ধরনের প্রচলিত অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। স্পেস ফোর্সের কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট সামরিক নীতির প্রশ্নে বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি।    এদিকে আগামী পাঁচ বছরে স্পেস ফোর্সের আকার প্রায় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্যাগনন। বর্তমানে যে জনবল রয়েছে, তা বাড়িয়ে প্রায় ২৫ হাজার সদস্য করার লক্ষ্য রয়েছে বলে তিনি জানান। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যকে কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের অধীনে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, এসব সক্ষমতা তৈরির মূল উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা। তবে মহাকাশে সামরিক অস্ত্রের উপস্থিতি ও সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া এবং অন্যান্য শক্তিধর দেশের মধ্যে মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা আরও বাড়াবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১০:৪৯
সৌদি আরবে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ওয়েসলি হান্টকে মনোনয়ন দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইসলামবিরোধী’, বিতর্কিত হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ওয়েসলি হান্টকে মনোনয়ন দিয়েছেন। ১৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া এ মনোনয়ন এখন সিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায়। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক যখন ইরান যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে, তখন হান্টের অতীতের ইসলাম ও শরিয়াহবিষয়ক মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।    হান্ট সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা এবং অ্যাপাচি হেলিকপ্টার পাইলট। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেওয়া তার জীবনী অনুযায়ী, ২০০৪ সালে ওয়েস্ট পয়েন্ট থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি আট বছর সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। ইরাকে একবার যুদ্ধ মোতায়েনের সময় তিনি ৫৫টি যুদ্ধ মিশনে অংশ নেন। পরে সৌদি আরবে দুই দফা ডিপ্লোম্যাটিক লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।    সৌদি আরবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হান্ট গত বছরের নভেম্বরে বলেছিলেন, তিনি শরিয়াহভিত্তিক ব্যবস্থার অধীনে জীবন কেমন হতে পারে, তা কাছ থেকে দেখেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিজের বক্তব্যের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, যারা তার ইসলামবিষয়ক সতর্কতাকে ভয় ছড়ানো হিসেবে দেখছেন, তারা এমন ব্যবস্থার মধ্যে বসবাস করেননি। সৌদি আরবে থাকার সময় প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড এবং নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর অতীতের নিষেধাজ্ঞার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।    জানুয়ারি ২০২৬-এ স্টেকলবেক টুনাইট অনুষ্ঠানে হান্ট ইসলাম সম্পর্কে আরও কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমেরিকানদের ইসলাম নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। তার দাবি ছিল, ইসলামের একটি লক্ষ্য হলো অন্য দেশে প্রবেশ করে সেখানে বড় জনগোষ্ঠী তৈরি করা এবং শেষ পর্যন্ত ওই দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। এসব বক্তব্যের ভিত্তিতে মুসলিম অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা কেয়ার হান্টের বিরুদ্ধে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে ধারাবাহিক নেতিবাচক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।    কেয়ার ১৬ সেপ্টেম্বর সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির সদস্যদের কাছে হান্টের মনোনয়ন অনুমোদন না করার আহ্বান জানায়। সংগঠনটি তার অতীতের বক্তব্যের মধ্যে ইসলামকে সমাজে ঢুকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করা, শরিয়াহ নিষিদ্ধ করার আহ্বান এবং মুসলিম ধর্মীয় চর্চা নিয়ে মন্তব্যের বিষয়গুলো তুলে ধরে। এগুলো কেয়ারের নিজস্ব অভিযোগ ও মূল্যায়ন, হান্টের বিরুদ্ধে সংগঠনটির রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।    হান্টের এসব বক্তব্য নিয়ে ২০২৬ সালের টেক্সাসের নির্বাচনী রাজনীতিতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। হিউস্টন ক্রনিকলের কলামিস্ট ক্রিস টমলিনসন অভিযোগ করেন, হান্টসহ কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থী তাদের প্রচারে ইসলাম নিয়ে ভয় তৈরি করছেন। অন্যদিকে নিউইয়র্কারও টেক্সাসের নির্বাচনী রাজনীতিতে মুসলিমদের নিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের বক্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরেছিল।    সৌদি রাষ্ট্রদূত পদে হান্টের মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় তার ইসরাইলপন্থী অবস্থানও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৪ সালের মে মাসে ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের পক্ষে কথা বলেন তিনি। একই সময়ে তিনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। কংগ্রেসে থাকাকালে হান্ট আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণের পক্ষে একটি প্রস্তাবেও সমর্থন জানিয়েছিলেন।    হান্ট ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০২৪ সালের একটি সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি ইসরাইলকে ‘জুডিও-ক্রিশ্চিয়ান’ পরিচয়ের ‘জুডিও’ অংশের সঙ্গে যুক্ত করেন। তার এই অবস্থানও সৌদি আরবে সম্ভাব্য দায়িত্বের প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে।    তবে হান্টের মনোনয়নের পেছনে তার মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবে দুই দফা দায়িত্ব পালন এবং ইরাকে সামরিক অভিজ্ঞতার কারণে অঞ্চলটি সম্পর্কে তার পূর্বপরিচিতি রয়েছে। হান্ট নিজেও মনোনয়ন পাওয়ার পর বলেছেন, সেনা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালনের পর এবার কূটনীতিক হিসেবে সেখানে ফেরার আহ্বান পেয়েছেন।    সৌদি রাষ্ট্রদূতের পদটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে খালি ছিল। হান্টের মনোনয়ন সিনেটে অনুমোদিত হলে তিনি রিয়াদে দায়িত্ব নেবেন এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরান যুদ্ধ, ইয়েমেনের হুথি হামলা এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।    হান্টের মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত নিয়োগ নয়। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রদূতসহ প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে হান্টকে সিনেটের মনোনয়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১০:৩২
পাওয়ারবল লটারিতে ১.০৪ বিলিয়ন ডলারের বিশাল জ্যাকপট জিতে অবশেষে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন ইলিনয়ের এক ভাগ্যবতী বিজয়ী। ছবি: সংগৃহীত
ইলিনয়ে ২ ডলারের টিকিট কিনে ১.০৪ বিলিয়ন ডলার জিতলেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি, অবশেষে নিলেন পুরস্কার

প্রায় এক মাসের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইলিনয়ের ১.০৪ বিলিয়ন ডলারের পাওয়ারবল জ্যাকপটের বিজয়ী সামনে এসে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। ১২ আগস্টের ড্রতে জেতা টিকিটটি ইলিনয়ের কুইন্সির একটি হাই-ভি ফাস্ট অ্যান্ড ফ্রেশ দোকান থেকে কেনা হয়েছিল। ইলিনয় লটারি কর্তৃপক্ষ ১৫ সেপ্টেম্বর বিজয়ীর পুরস্কার গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।    বিজয়ী নিজের পরিচয় প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইলিনয় লটারির কর্মকর্তাদের তিনি জানিয়েছেন, প্রথমে নিজের জয়ের খবর বিশ্বাসই করতে পারেননি। নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরিবারের একজন সদস্যকে ফোন করে নম্বর মিলিয়ে দেখেন। এরপরও এত বড় পুরস্কার জেতার বিষয়টি পুরোপুরি বিশ্বাস করতে সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন তিনি।    এই জ্যাকপটের জন্য বিজয়ী মাত্র ২ ডলারের একটি কুইক পিক টিকিট কিনেছিলেন। ১২ আগস্টের ড্রতে তার টিকিটে থাকা ছয়টি নম্বরই মিলে যায়। বিজয়ী নম্বর ছিল ৪, ২৬, ৬৬, ৬৭, ৬৯ এবং পাওয়ারবল ৯। ওই একটি টিকিটই পুরো ১.০৪ বিলিয়ন ডলারের জ্যাকপট জিতে নেয়।    তবে পুরো ১.০৪ বিলিয়ন ডলার একসঙ্গে হাতে পাবেন না বিজয়ী। তিনি এককালীন নগদ অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই নগদ পরিমাণ আনুমানিক ৪৫০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার, যা কর কাটার আগের হিসাব। ফলে কর পরিশোধের পর প্রকৃত হাতে পাওয়া অর্থ আরও কম হবে।    লটারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরস্কার দাবি করার আগে বিজয়ী কয়েক সপ্তাহ আইনজীবী ও আর্থিক পরামর্শকদের সঙ্গে কাজ করেছেন। এত বড় অর্থের পুরস্কার গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি ও আর্থিক প্রস্তুতি নেওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার গ্রহণ করেন। ইলিনয় আইনে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা তার বেশি লটারির পুরস্কারজয়ীরা পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করতে পারেন।    এই ১.০৪ বিলিয়ন ডলারের জ্যাকপট ইলিনয়ের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লটারি পুরস্কার। একই সঙ্গে এটি পাওয়ারবলের ইতিহাসে অষ্টম সর্বোচ্চ জ্যাকপট। টিকিটটি বিক্রি করা কুইন্সির হাই-ভি ফাস্ট অ্যান্ড ফ্রেশ দোকানটিও ৫ লাখ ডলারের খুচরা বিক্রেতা বোনাস পেয়েছে।    পাওয়ারবল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই জ্যাকপটের আগে টানা কয়েক দফা ড্রতে কেউ শীর্ষ পুরস্কার জিততে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১২ আগস্টের ড্রতে ইলিনয়ের একটি মাত্র টিকিট সব নম্বর মেলায় ১.০৪ বিলিয়ন ডলারের পুরস্কার নিশ্চিত করে।    ইলিনয় লটারি জানিয়েছে, ওই জ্যাকপটকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে বিপুল সংখ্যক বিজয়ী টিকিট বিক্রি হয়েছিল। জ্যাকপটের বাইরে ইলিনয়ের খেলোয়াড়রা প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন। একই সময়ে জ্যাকপটের টিকিট বিক্রির পুরো সময়জুড়ে স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারাও কমিশন ও বোনাস পেয়েছেন।    এদিকে পরিচয় গোপন রাখায় এখনো জানা যায়নি, কে এই বিশাল অর্থের মালিক হয়েছেন। তবে এক টিকিটে মাত্র ২ ডলারের বিনিময়ে ১.০৪ বিলিয়ন ডলারের জ্যাকপট জেতার ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের লটারি ইতিহাসের সাম্প্রতিক বড় ঘটনাগুলোর একটি হয়ে থাকল।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১০:২২
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর সময় বিভিন্ন ধরনের অস্বাভাবিক শব্দকে অনেকেই সাময়িক সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন। ছবি: সংগৃহীত
গাড়ির এই শব্দগুলো শুনলে সতর্ক হোন, না হলে বাড়তে পারে মেরামতের খরচ

যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর সময় অস্বাভাবিক শোঁ শোঁ, কিচ কিচ, টক টক, গোঁ গোঁ বা ঠক ঠক শব্দকে অনেকেই সাময়িক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু গাড়ির অস্বাভাবিক শব্দ অনেক সময় ব্রেক, স্টিয়ারিং, চাকা, ইঞ্জিন বা এক্সজস্ট ব্যবস্থার সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। সময়মতো পরীক্ষা না করালে ছোটখাটো সমস্যা বড় ধরনের মেরামতে গড়াতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো শব্দ শুনেই নিশ্চিতভাবে একটি নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েছে বলা যায় না। গাড়ির মডেল ও সমস্যার ধরন অনুযায়ী কারণ ভিন্ন হতে পারে।   ব্রেক চাপার সময় কিচ কিচ বা ঘষার মতো শব্দ হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। ব্রেকের শব্দের কারণ হতে পারে ব্রেক প্যাডের ক্ষয়, ধুলো বা অন্য কোনো যান্ত্রিক সমস্যা। আর ধাতব ঘষার মতো তীব্র শব্দ হলে দ্রুত ব্রেক সিস্টেম পরীক্ষা করানো উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এনএইচটিএসএ-এর নথিতেও ব্রেক ব্যবহারের সময় বিভিন্ন ধরনের শব্দ ও কম্পনের বিষয় আলাদাভাবে পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।    স্টিয়ারিং ঘোরানোর সময় গোঁ গোঁ বা অস্বাভাবিক শব্দ হলেও তা অবহেলা করা ঠিক নয়। গাড়ির স্টিয়ারিং ব্যবস্থা, ফ্লুইডের মাত্রা, পাম্প, বেল্ট বা সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশে সমস্যা থাকলে এ ধরনের শব্দ হতে পারে। তবে শব্দ শুনেই পাওয়ার স্টিয়ারিং পাম্প নষ্ট হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এনএইচটিএসএ-এর গাড়ি পরিদর্শন সংক্রান্ত নথিতে স্টিয়ারিং ব্যবস্থা, ফ্লুইডের মাত্রা এবং সম্ভাব্য লিক পরীক্ষা করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।    বাঁক নেওয়ার সময় সামনের দিক থেকে টক টক বা ক্লিক ক্লিক শব্দ হলেও দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত। এ ধরনের শব্দ সামনের অ্যাক্সেল, সাসপেনশন বা অন্য কোনো যান্ত্রিক অংশের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এনএইচটিএসএ-এর প্রযুক্তিগত নথিতে বাঁক নেওয়ার সময় স্টিয়ারিং ও সামনের অংশ থেকে অস্বাভাবিক শব্দ, ক্লিক বা ক্লঙ্কের মতো আওয়াজকে সম্ভাব্য যান্ত্রিক সমস্যার লক্ষণ হিসেবে পরীক্ষা করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।    ইঞ্জিন থেকে টিক টিক বা ভারী ঠক ঠক শব্দ হলে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কম তেল, ইঞ্জিনের কোনো অংশের সমস্যা কিংবা অন্য যান্ত্রিক কারণে অস্বাভাবিক শব্দ হতে পারে। বিশেষ করে গাড়ি চলার সময় হঠাৎ ভারী নকিংয়ের মতো শব্দ শুরু হলে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামিয়ে সমস্যাটি পরীক্ষা করানো ভালো। তেলের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং গাড়ির প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণ করার পরামর্শ দেয় এনএইচটিএসএ।    গাড়ির এক্সজস্ট থেকে হঠাৎ অস্বাভাবিক গর্জন, গুঞ্জন বা বেশি শব্দ শোনা গেলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। এক্সজস্ট সিস্টেমে লিক থাকলে শুধু শব্দ বাড়ে না, কার্বন মনোক্সাইড গাড়ির ভেতরেও জমতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি বলছে, গাড়ির এক্সজস্ট সিস্টেমে ছোট একটি লিকও গাড়ির কেবিনে কার্বন মনোক্সাইড জমার কারণ হতে পারে। এই গ্যাস বর্ণহীন ও গন্ধহীন হওয়ায় বিপদ বুঝতে দেরি হতে পারে।    ব্রেক চাপলে বা গাড়ি চলার সময় স্টিয়ারিংয়ে কাঁপুনি অনুভূত হলেও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। ব্রেকিংয়ের সময় কম্পনের সঙ্গে ব্রেক সিস্টেমের সমস্যা জড়িত থাকতে পারে। আবার বেশি গতিতে স্টিয়ারিং কাঁপলে টায়ার, চাকা, ব্যালেন্স, অ্যালাইনমেন্ট বা সাসপেনশনের মতো একাধিক কারণ থাকতে পারে। এনএইচটিএসএ-এর নথিতে স্টিয়ারিং হুইল কাঁপা এবং বিভিন্ন গতিতে গাড়ির কম্পনকে আলাদা করে পরীক্ষা করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।    গাড়ি থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুরু হলে মোবাইলে শব্দটি রেকর্ড করে রাখা যেতে পারে। কখন শব্দ হচ্ছে, গাড়ি ঠান্ডা অবস্থায় নাকি গরম হওয়ার পর হচ্ছে, ব্রেক চাপলে বা বাঁক নেওয়ার সময় হচ্ছে কি না, সেটিও মেকানিককে জানানো উপকারী। প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত মেকানিকের কাছ থেকে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া যেতে পারে। তবে অনলাইন বা বিনামূল্যের স্ক্যানকে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি পরীক্ষা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, অস্বাভাবিক শব্দের সঙ্গে যদি ব্রেক কাজ করতে সমস্যা, স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, ধোঁয়া, পোড়া গন্ধ, তেল বা অন্য তরল লিক, ড্যাশবোর্ডে সতর্কতা বাতি কিংবা গাড়ি চালানোর সময় গুরুতর কম্পন দেখা দেয়, তাহলে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার বদলে নিরাপদ জায়গায় থামিয়ে পেশাদার সহায়তা নেওয়া উচিত। বিশেষ করে এক্সজস্টে লিকের সন্দেহ থাকলে বিষয়টি দ্রুত পরীক্ষা করা জরুরি, কারণ গাড়ির ভেতরে কার্বন মনোক্সাইড জমার ঝুঁকি থাকতে পারে।    গাড়ির অস্বাভাবিক শব্দ সবসময় বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বোঝায় না। কিন্তু শব্দটি নতুন হলে, বারবার হলে বা গাড়ির আচরণে পরিবর্তনের সঙ্গে দেখা দিলে সেটিকে উপেক্ষা না করে কারণ খুঁজে বের করাই নিরাপদ। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সময়মতো পরীক্ষা করালে বড় ধরনের মেরামতের ঝুঁকি ও অপ্রত্যাশিত খরচ দুটোই কমানো সম্ভব। সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১০:১
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ভারতের পুরো কাস্টমার সাপোর্ট টিমকে মাত্র পাঁচ মিনিটের অনলাইন বৈঠকে ছাঁটাইয়ের অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ৫ মিনিটের কলে ৮০ কর্মী ছাঁটাই! ভারতীয় পুরো টিমকে চাকরিচ্যুত

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি আর্থিক প্রযুক্তি কোম্পানির ভারতে থাকা প্রায় ৮০ কর্মীকে মাত্র পাঁচ মিনিটের একটি অনলাইন বৈঠকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভারতের এক কর্মীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের বরাত দিয়ে এ ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই একই বৈঠকে পুরো ভারতীয় গ্রাহকসেবা দলের কর্মীদের ছাঁটাইয়ের কথা জানানো হয়। তবে ঘটনার সব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   ওই কর্মীর বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন ভারতীয় কর্মীদের অফিসে না গিয়ে বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছিল। এর কারণ হিসেবে কর্মীদের জানানো হয়, বিষয়টি কোম্পানির কার্যক্রমসংক্রান্ত। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কাজ শুরু করার প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ করে পুরো দলের সদস্যদের একটি গুগল মিটে যোগ দিতে বলা হয়।   বৈঠক শুরু হওয়ার পর কর্মীদের জানানো হয়, ভারতের পুরো গ্রাহকসেবা দলের চাকরি শেষ করা হয়েছে। কর্মীর দাবি, মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই প্রায় ৮০ জনকে ছাঁটাইয়ের বিষয়টি জানানো হয়। এত অল্প সময়ের মধ্যে একসঙ্গে এত কর্মী চাকরি হারানোর ঘটনায় তারা হতবাক হয়ে পড়েন। চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা ওই কর্মী জানিয়েছেন।   ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা এবং বহুজাতিক কোম্পানির ছাঁটাই প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে প্রায় ৮০ জন কর্মীকে একসঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমে চাকরি হারানোর কথা জানানোর অভিযোগটি ব্যবহারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মী আরও দাবি করেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে ভারতীয় দলের কাজের ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে কর্মীটির দাবি, ভারতীয় দলের সদস্যরা চাকরি ধরে রাখার জন্য নিয়মিত অতিরিক্ত পরিশ্রম করতেন। এ বিষয়ে কোম্পানির বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা কর্মীদের কাজের মূল্যায়নের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।   বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই কর্মীর বক্তব্যের ভিত্তিতে কোম্পানিটির নাম যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্লুভাইন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ছোট ব্যবসার জন্য অনলাইন ব্যাংকিং এবং বিভিন্ন আর্থিক সেবা দিয়ে থাকে। তবে ছাঁটাইয়ের ঘটনায় কোম্পানির পক্ষ থেকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বা এর সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।   ছাঁটাইয়ের পর কর্মীরা ক্ষতিপূরণ বা চাকরি হারানোর সুবিধা হিসেবে কী পাবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই কর্মীর বক্তব্য অনুযায়ী, সব কর্মীর জন্য একই ধরনের সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।   প্রযুক্তি ও আর্থিক প্রযুক্তি খাতে বিশ্বজুড়ে কর্মী কমানোর প্রবণতা নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের কাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ভারতের ওই দলের ছাঁটাইয়ের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   বর্তমানে পুরো ঘটনাটির মূল ভিত্তি একজন কথিত সাবেক কর্মীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বর্ণনা। তাই প্রায় ৮০ কর্মীকে ছাঁটাই, ছাঁটাইয়ের কারণ, পাঁচ মিনিটের বৈঠক এবং চাকরি হারানোর পর কর্মীদের প্রাপ্য সুবিধা নিয়ে ওঠা দাবিগুলোকে নিশ্চিত তথ্যের বদলে অভিযোগ ও কর্মীর ব্যক্তিগত বর্ণনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৯:৪৬
২০২৫ সালে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারের মধ্যম আয় রেকর্ড ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলারে পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকানরা এখন ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে ধনী, দারিদ্র্যও নেমেছে রেকর্ড সর্বনিম্নে

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে নতুন সরকারি পরিসংখ্যানে। ইউএস সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর দেশটির পরিবারের মধ্যম আয় বেড়ে ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলারে পৌঁছেছে, যা ১৯৬৭ সালে এই হিসাব শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে দেশটির সরকারি দারিদ্র্যের হার কমে ১০ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড সর্বনিম্ন।    সেন্সাস ব্যুরো ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ২০২৫ সালের আয়, দারিদ্র্য ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় মূল্যস্ফীতি সমন্বিত মধ্যম পরিবারের আয় বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। এর আগে ২০১৯ সালে এই আয় ছিল ৮৫ হাজার ৩২০ ডলার। অর্থাৎ মহামারির আগের সময়ের তুলনায় প্রকৃত আয় বেড়েছে, তবে ব্যবধানটি খুব বড় নয়।    আয়ের পাশাপাশি দারিদ্র্যের হারও কমেছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ সরকারি দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল। ২০২৪ সালের তুলনায় দারিদ্র্যের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। চার সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের সরকারি দারিদ্র্যসীমা ছিল ৩২ হাজার ৬৪৯ ডলার।    শিশুদের ক্ষেত্রেও দারিদ্র্যের হার ঐতিহাসিকভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে শিশুদের সরকারি দারিদ্র্যের হার নেমে আসে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশে। হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্যের হারও ১৩ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে, যা এই জনগোষ্ঠীর জন্য সেন্সাস ব্যুরোর রেকর্ডে সর্বনিম্ন। তবে সব আয়ের স্তরের পরিবার সমানভাবে লাভবান হয়নি। সেন্সাসের বিশ্লেষণে দেখা যায়, আয় বণ্টনের নিচের দিকে থাকা পরিবারগুলোর আয় একইভাবে বাড়েনি।    ট্যাক্স ও সরকারি সুবিধা, যেমন খাদ্য সহায়তা এবং অন্যান্য সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে হিসাব করা সাপ্লিমেন্টাল পভার্টি মেজার বা এসপিএমের হার ছিল ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। এই মাপটি সরকারি দারিদ্র্যের হিসাবের চেয়ে বিস্তৃত এবং এতে ট্যাক্স, সরকারি সহায়তা, কাজের খরচ, আবাসন ব্যয় ও চিকিৎসা ব্যয়ের মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চিকিৎসা ব্যয় এসপিএমের হিসাবে ৭৭ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যসীমার নিচে ঠেলে দেওয়ার প্রভাব ফেলেছে।    নারীদের আয়েও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। পূর্ণকালীন, সারা বছর কাজ করা নারীদের মধ্যম আয় ২০২৫ সালে ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। পুরুষদের আয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। ফলে নারী ও পুরুষের আয়ের ব্যবধান কিছুটা কমেছে। তবে সেন্সাসের তথ্য অনুযায়ী, নারীরা এখনও পুরুষদের প্রতি এক ডলারের বিপরীতে প্রায় ৮৪ সেন্ট আয় করেছেন।    অন্যদিকে হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন হয়নি। ২০২৫ সালে প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ মানুষ, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ৭ দশমিক ৯ শতাংশ, পুরো বছর কোনো হেলথ ইন্স্যুরেন্স ছাড়া ছিলেন। সেন্সাস ব্যুরো বলেছে, এই হার ২০২৪ সালের তুলনায় পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়নি।    তবে রেকর্ড আয় মানেই সব পরিবারের আর্থিক চাপ একইভাবে কমেছে, এমনটি বলছে না পরিসংখ্যান। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকৃত মধ্যম পরিবারের আয় বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ। এর বিপরীতে ২০১৩ থেকে ২০১৯ সালের ছয় বছরে একই আয় বেড়েছিল প্রায় ১৯ শতাংশ। ফলে নতুন রেকর্ডের পেছনে দীর্ঘ সময়ের মূল্যস্ফীতি ও আয় বৃদ্ধির ধীর গতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।    সেন্সাস ব্যুরোর নতুন তথ্য মূলত ২০২৫ সালের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে। এতে দেখা যাচ্ছে, একদিকে পরিবারের মধ্যম আয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং সরকারি দারিদ্র্যের হার রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমেছে, অন্যদিকে আয় বৃদ্ধির সুফল সব স্তরের পরিবারের মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থার সামগ্রিক চিত্র বুঝতে শুধু মধ্যম আয় বা দারিদ্র্যের একটি সূচক নয়, আয় বণ্টন, জীবনযাত্রার খরচ ও হেলথ কেয়ারের ব্যয়ের মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৯:২৯
এশিয়ান গেমসের আবাসনকেন্দ্রে অপেক্ষায় অ্যাথলিটরা। ছবি: সংগৃহীত
এশিয়ান গেমসের আবাসনকেন্দ্রে অপেক্ষায় অ্যাথলিটরা। ছবি: সংগৃহীত

জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই আবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন অংশগ্রহণকারী কয়েকটি দেশের অ্যাথলিট ও কর্মকর্তারা। ভারতীয় দলের কয়েকজন অ্যাথলিটও নাগোয়ায় পৌঁছে নির্ধারিত কক্ষ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোয়িং ও শুটিং দলের সদস্যদের কেউ কেউ দীর্ঘ অপেক্ষার পর গেমস সেন্টারের লবি ও অন্যান্য অস্থায়ী জায়গায় সময় কাটিয়েছেন।   এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ১৯ সেপ্টেম্বর। তবে ফুটবল, বাস্কেটবলসহ কয়েকটি ডিসিপ্লিনের প্রতিযোগিতা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এবারের আসরে প্রায় ১৭ হাজার অ্যাথলিট ও কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন। আগের পরিকল্পনার তুলনায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আবাসন ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   আয়োজকরা এবার আলাদা করে কোনো বড় অ্যাথলিট ভিলেজ তৈরি করেনি। খরচ কমানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অ্যাথলিট ও কর্মকর্তাদের জন্য হোটেল, অস্থায়ী কক্ষ এবং নাগোয়া বন্দরে নোঙর করা ইতালীয় ক্রুজ জাহাজ ‘কোস্টা সেরেনা’ ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্রুজ জাহাজটিতে প্রায় ৪ হাজার মানুষ থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া বন্দরের এলাকায় তৈরি করা অস্থায়ী কনটেইনার ধরনের কক্ষেও প্রায় ২ হাজার অ্যাথলিট ও কর্মকর্তাকে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।   ভারতীয় দলের ক্ষেত্রে সমস্যা বেশি দেখা দেয় নাগোয়ায় পৌঁছানোর পর কক্ষ বরাদ্দের সময়। নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ভারত থেকে যাত্রা করা দলের একটি অংশ বুধবার সকালে নাগোয়ায় পৌঁছায়। দীর্ঘ যাত্রার পর তারা ক্রুজ জাহাজে পৌঁছালেও নির্ধারিত আবাসন পেতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়। রোয়িং দলের এক সদস্য সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে তারা আবাসনকেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন, কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্ষ বরাদ্দ হয়নি।   ভারতের রোয়িং দল এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগা দলগুলোর একটি বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। কয়েকজন অ্যাথলিটকে কক্ষ বরাদ্দের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে কক্ষ পাওয়া গেলেও একাধিক ব্যক্তিকে একই কক্ষে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   শুটিং দলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিলম্বের খবর এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার নাগোয়ায় পৌঁছানো শুটারদের একটি অংশ নির্ধারিত কক্ষ না পেয়ে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তির মধ্যে কয়েকজনকে গেমস সেন্টারের লবিতে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। পরে ভোরের দিকে তাদের কক্ষ বরাদ্দ করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   একজন ভারতীয় কোচের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা এক দিন আগে নাগোয়ায় পৌঁছেছিলেন, তাঁদের ভোগান্তি তুলনামূলক বেশি ছিল। পরদিন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তাঁর দলের সদস্যদেরও কয়েক ঘণ্টা কক্ষের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। কোচ জানান, স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে তাঁরা পৌঁছালেও রাত প্রায় ১০টার দিকে কক্ষ পান। পরে গেমস সেন্টার থেকে বাসে করে তাদের হোটেলে যেতে হয়।   আবাসন নিয়ে শুধু ভারতীয় দলই সমস্যায় পড়েনি। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারাও অস্থায়ী কক্ষের মান নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন। কোরিয়ার বাস্কেটবল কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কনটেইনার ধরনের কক্ষের কিছু বিছানা দুই মিটারের বেশি উচ্চতার খেলোয়াড়দের জন্য যথেষ্ট বড় নয়। ফিলিপাইনের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, তাদের কিছু কোচ ও কর্মকর্তাকে বিভিন্ন হোটেল ও ভাড়া করা বাসস্থানে রাখা হয়েছে।   আয়োজকরা অবশ্য জানিয়েছে, আবাসন নিয়ে যেসব সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলো সমাধানে কাজ চলছে। আয়োজক কমিটি ও অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে নিবন্ধন বন্ধ হওয়ার সময় তালিকাভুক্ত ১৭ হাজারের বেশি অ্যাথলিট ও কর্মকর্তার জন্য গেমস উপযোগী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।   আয়োজকদের মতে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের অনুমানের চেয়ে বেড়ে যাওয়াই আবাসন ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরির অন্যতম কারণ। এবারের এশিয়ান গেমসে নতুন কয়েকটি ডিসিপ্লিন যুক্ত হওয়ায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও বেড়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে জাপান অতিরিক্ত হোটেল কক্ষও প্রস্তুত রেখেছে বলে জানিয়েছে।   অন্যদিকে, আবাসন ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি যাতায়াত ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াতেও কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। ক্রুজ জাহাজে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র সক্রিয়করণে বিলম্ব হওয়ায় অনেক অ্যাথলিটকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। জাপানের দলসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের ক্ষেত্রেও কক্ষ বরাদ্দ নিয়ে সমন্বয় করতে হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।   সব মিলিয়ে উদ্বোধনের আগেই আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজকদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তবে আয়োজকরা বলছে, সব নিবন্ধিত অ্যাথলিট ও কর্মকর্তার থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং যেসব বাস্তব সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হচ্ছে।   সূত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, রয়টার্স, অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৯:৭
শারজাহে মারা যাওয়া দন্ত চিকিৎসক ডা. আফিনা রাহিম। ছবি: সংগৃহীত
শারজাহে হঠাৎ পড়ে গিয়ে ৩২ বছর বয়সী ভারতীয় দন্ত চিকিৎসকের মৃত্যু

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহর আল কাসিমিয়া এলাকায় নিজ বাসায় হঠাৎ পড়ে গিয়ে ৩২ বছর বয়সী ভারতীয় দন্ত চিকিৎসক ডা. আফিনা রাহিমের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দুই ছোট সন্তানের মা ছিলেন।   বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে আফিনা বাসার রান্নাঘরে হঠাৎ পড়ে যান। তিনি কেরালার মালাপ্পুরম জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে শারজাহতে বসবাস করতেন।   আফিনা দন্ত চিকিৎসা পেশায় প্রশিক্ষিত হলেও দুই ছোট সন্তানের দেখাশোনার জন্য কিছুদিন ধরে পেশাগত বিরতিতে ছিলেন। তার স্বামী ইয়াসার টি. একজন শিক্ষক এবং ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আফিনার ভাশুরের স্ত্রী রামশিনা তখন একই বাসায় ছিলেন। সকালে নিজের সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর পর তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। পরে আফিনার ছোট সন্তানের কান্নার শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে তিনি রান্নাঘরে আফিনাকে পড়ে থাকতে দেখেন।   রামশিনা সঙ্গে সঙ্গে আফিনাকে সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেন। পরে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে পারেননি।   আফিনার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি আগে সুস্থ ছিলেন এবং তার কোনো পরিচিত অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল না। তবে হঠাৎ মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন।   খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফিনার পরিবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তার মরদেহ ভারতে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার শেষকৃত্য কেরালার মালাপ্পুরমে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।   কেরালার সংবাদমাধ্যম Onmanorama জানিয়েছে, আফিনা মালাপ্পুরমের ওয়ান্ডুর এলাকার পুক্কুলামের বাসিন্দা ছিলেন। তার ভাইও দুই বছর আগে ভারতের তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।   আফিনার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার দুই শিশু সন্তানের বয়স প্রায় সাড়ে তিন বছর ও দেড় বছর বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৮:৪৫
সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ায় কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অভিযান। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীনদের সহায়তার কোটি কোটি ডলার আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীন মানুষের আবাসন ও সহায়তার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনায় চতুর্থ এক ব্যক্তি অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে দোষ স্বীকার করতে সম্মত হয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় কোটি কোটি ডলারের সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত খরচ, ব্যবসা ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।   ১৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন বিচার বিভাগের ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি কার্যালয় জানায়, গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ অর্থের অপব্যবহার ও দুর্নীতি তদন্তে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযানের অংশ হিসেবে এসব মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ‘হোম অ্যাট লাস্ট’ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ইয়ং, ‘দ্য বিগ ব্লু আমব্রেলা’র প্রধান নির্বাহী ডনিয়ে মিচেল এবং ‘স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপস’-এর কর্মী লাকিয়া ম্যালোন। চতুর্থ ব্যক্তি আলেকজান্ডার সুফার ‘অ্যাবানড্যান্ট ব্লেসিংস’ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন।   মাইকেল ইয়ংয়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গৃহহীনদের আবাসন ও সেবা দেওয়ার জন্য বরাদ্দ ৭৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ তিনি ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও বিলিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। পরে সেই অর্থের একটি অংশ বাণিজ্যিক সম্পত্তি, বিলাসবহুল ভ্রমণ, পুরোনো গাড়ি সংস্কার এবং একটি রেস্তোরাঁ ও নাইটক্লাব নির্মাণে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ।   কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ইয়ং কাল্পনিক বা ভুয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের কোম্পানি হিসেবে দেখিয়ে ভুয়া দরপত্র, জাল স্বাক্ষর ও মিথ্যা চালান ব্যবহার করা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী, কার্যকর কার্যালয় বা স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল না। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।   অভিযোগের একটি অংশে বলা হয়েছে, ইয়ং ইনগেলউডে ‘সিক্স সেভেন ফাইভ লাউঞ্জ’ নামে একটি বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ ও নাইটক্লাব চালু করতে সরকারি অর্থের ১০ লাখ ডলারের বেশি ব্যবহার করেন। ওই ব্যবসার মদের লাইসেন্স, স্থপতি, নির্মাণকাজ এবং অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার খরচেও করদাতাদের অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ওই অর্থ দিয়ে গৃহহীনদের আবাসনের সঙ্গে সম্পর্কহীন বাণিজ্যিক সম্পত্তিও কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   ইয়ংয়ের বিরুদ্ধে তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটির কাছ থেকে পাওয়া অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, হোম অ্যাট লাস্টকে দেওয়া চুক্তিগুলো ২০২৬ সালের জুনে বাতিল করে লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটি। সংস্থাটি জানিয়েছে, অনিয়মের শক্ত প্রমাণ পাওয়া এবং চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থতার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   দ্বিতীয় মামলায় ডনিয়ে মিচেলের বিরুদ্ধে ১২ লাখ ডলারের বেশি অনুদান প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মিচেল ‘দ্য বিগ ব্লু আমব্রেলা’র প্রধান নির্বাহী ও নির্বাহী পরিচালক। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির অর্থায়নে পরিচালিত একটি সংস্থার কাছে নিজের প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও গৃহহীনদের আবাসন দেওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে ওই অর্থ পান।   অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ পাওয়ার পর মিচেল প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন ও ব্যয়ের তথ্যেও অসত্য তথ্য দেন। সরকারি অনুদানের অর্থের একটি অংশ নিজের জামিনের খরচ, ক্রেডিট কার্ডের দেনা, পরিবারের সদস্যদের কাছে অর্থ পাঠানো, বাসাভাড়া এবং ভিডিও গেম কেনার মতো ব্যক্তিগত খরচে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার ডলার দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থা মিচেলের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে।   মিচেলের বিরুদ্ধে তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২ লাখ ডলারের বেশি অনুদান প্রতারণার অভিযোগে তারের মাধ্যমে প্রতারণার মামলা করা হয়েছে। তিনি ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রেপ্তার হননি এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাকে পলাতক হিসেবে বিবেচনা করছে।   তৃতীয় ঘটনায় স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপসের কর্মী লাকিয়া ম্যালোনের বিরুদ্ধে ২১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি আলেকজান্ডার সুফারের কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বেশি ঘুষ ও অবৈধ অর্থ নিয়েছেন। বিনিময়ে তিনি গৃহহীনদের আবাসন কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লোক পাঠাতেন। এসব ব্যক্তির মধ্যে এমন কথিত ‘ভুয়া অংশগ্রহণকারী’ও ছিল, যারা বাস্তবে সংশ্লিষ্ট আবাসনকেন্দ্রে থাকতেন না।   তদন্তকারীদের অভিযোগ, এসব কাল্পনিক অংশগ্রহণকারীর জন্য ভুয়া স্বাগতপত্র, উপস্থিতির তালিকা এবং যোগ্যতার নথি তৈরি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে সুফারের প্রতিষ্ঠান স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপসের কাছ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ম্যালোনকে এসব কথিত সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল বলে প্রসিকিউটরদের দাবি।   এই মামলার সঙ্গে যুক্ত চতুর্থ ব্যক্তি আলেকজান্ডার সুফার তারের মাধ্যমে প্রতারণা ও অর্থপাচারের একটি করে অভিযোগে দোষ স্বীকার করতে সম্মত হয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি স্বীকার করেছেন যে গৃহহীনদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার তিনি পেয়েছিলেন। এর অন্তত ২০ লাখ ডলার ব্যক্তিগত সুবিধা ও গৃহহীনদের আবাসনের সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যবসায় ব্যবহারের কথাও তিনি স্বীকার করেছেন।   সুফার অবৈধভাবে পাওয়া অর্থ সরকারের কাছে ফেরত দিতে সম্মত হয়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার দোষ স্বীকারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।   মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এসব মামলার তদন্তে এফবিআই, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ বা আইআরএসের অপরাধ তদন্ত শাখা এবং আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় কাজ করছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা আরও চলবে।   মার্কিন আবাসন ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী স্কট টার্নার বলেছেন, গৃহহীনদের সহায়তার জন্য দেওয়া সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রথম সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি বিল এসাইলিও বলেছেন, এসব ঘটনায় সরকারি অর্থের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এসেছে।   তবে মামলাগুলোর সব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতেও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, অভিযোগপত্র ও ফৌজদারি অভিযোগ কেবল প্রসিকিউশনের অভিযোগ তুলে ধরে। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত সবাই আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।   সূত্র: মার্কিন বিচার বিভাগ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৮:৩৫
রান যুদ্ধ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশনের প্রতিবেদন। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে স্কুলে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার প্রমাণ পেল জাতিসংঘ

ইরানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে ফেব্রুয়ারিতে চালানো সামরিক হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের দায় থাকার ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পেয়েছে জাতিসংঘের স্বাধীন তথ্যানুসন্ধান মিশন। মিশনের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   একই প্রতিবেদনে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও গুরুতর অভিযোগের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। জাতিসংঘের মিশন বলেছে, বিক্ষোভ দমনের সময় ইরানি কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ড ব্যাপক ও পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক জনগণের ওপর পরিচালিত হয়েছে এবং এর মধ্যে বেআইনি হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে আটক, গুম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় কঠোর বিধিনিষেধের মতো ঘটনা রয়েছে।   জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক তৎপরতা এবং একই সঙ্গে ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে তেহরানের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার কথা বলা হয়েছে। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, সেখানে হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী ছিল বলে বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট ভিত্তি তারা পেয়েছেন। ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে প্রায় ১২০ জন ছিল স্কুলশিক্ষার্থী।   জাতিসংঘের মিশনের মতে, বিদ্যালয়টি স্পষ্টভাবে একটি বেসামরিক স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব ছিল। তদন্তকারীরা এমন কোনো প্রমাণ পাননি যে হামলার সময় ভবনটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে বিদ্যালয়টি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের একটি নৌঘাঁটির কাছাকাছি অবস্থিত ছিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী ওই এলাকায় একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কমান্ডারের উপস্থিতি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করেছিল। কিন্তু হামলার আগে সেই তথ্য যথাযথভাবে হালনাগাদ বা যাচাই করা হয়নি। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা মনে করেন, লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিদ্যালয়টি সামরিক স্থাপনা কি না তা নিশ্চিত না করে হামলা চালানো এবং বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত লাগার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অভিযান পরিচালনা করা সাধারণ অবহেলার চেয়ে গুরুতর বিষয়।   জাতিসংঘের মিশনের মতে, এর ফলে বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং হামলাটি নির্বিচার আক্রমণের বৈশিষ্ট্য বহন করে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় এমন হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   মিনাবের ওই হামলার দায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো চূড়ান্ত নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে দাবি করেছিলেন, মেয়েদের স্কুলটি ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করে কেউ হামলা চালায়নি। অন্যদিকে রয়টার্স এর আগে জানিয়েছিল, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক তদন্তে মিনাবের হামলায় মার্কিন বাহিনীর জড়িত থাকার সম্ভাবনা উঠে এসেছিল। পেন্টাগন পরে তদন্তের পরিধি বাড়ালেও এর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করেনি।   মিনাবের হামলার পাশাপাশি লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে হামলাও তদন্ত করেছে জাতিসংঘের মিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় আশপাশের আবাসিক ভবন ও একটি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হন। তদন্তকারীরা এই হামলাকেও নির্বিচার হামলা হিসেবে উল্লেখ করে যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।   তবে লামের্দের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড মার্চে জানিয়েছিল, সংশ্লিষ্ট দিনে মার্কিন বাহিনী লামের্দ শহরে কোনো হামলা চালায়নি। জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদনের পরও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।   জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। মিশনের তদন্ত অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর ইরানি কর্তৃপক্ষ বেসামরিক জনগণের ওপর ব্যাপক ও পরিকল্পিত দমন-পীড়ন চালায়। এর মধ্যে বেআইনি হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে আটক, গুম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধের তথ্য পাওয়া গেছে। মিশন এসব কর্মকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়তে পারে বলে জানিয়েছে।   বিক্ষোভ দমনে নিহত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরানি সরকারের সরকারি হিসাবে ৩ হাজার ৩৮ জন নিহত এবং ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তবে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, তারা এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেননি এবং প্রকৃত নিহত ও আহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে বলে মনে করেন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিক্ষোভের সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ এবং মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার ইরানি কর্তৃপক্ষের দমননীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই সময়ের দমন-পীড়নকে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটির সবচেয়ে বড় দমন অভিযানের অন্যতম হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে তেহরান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এবং বিক্ষোভের জন্য বিদেশি শক্তি ও নির্বাসিত সরকারবিরোধীদের দায়ী করে আসছে।   জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান যুদ্ধের সময় বেসামরিক স্থাপনায় হামলা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে সামরিক অভিযান পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। প্রতিবেদনে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ড এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন পর্যালোচনা করায় সংঘাতের দুই দিকের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতিও সামনে এসেছে।   সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৮:২১
যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসনাল জেলার সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে কোটি কোটি মানুষের নির্বাচনী জেলা বদলে গেছে। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনী সীমানা পুনর্বিন্যাসে বদলে গেল ৩ কোটি ৪৮ লাখ মার্কিন নাগরিকের কংগ্রেসনাল জেলা

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী সময়ে কংগ্রেসনাল আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ মানুষ নতুন প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নির্বাচনী জেলার বাসিন্দা হয়েছেন। নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনী চক্রের তুলনায় বর্তমানে প্রতি ১০ জন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে প্রায় একজন ভিন্ন কংগ্রেসনাল জেলায় বসবাস করছেন।   গবেষণাটি করেছে গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে কাজ করা সংগঠন প্রোটেক্ট ডেমোক্রেসি। তাদের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশের কংগ্রেসনাল জেলা ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর পরিবর্তিত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মার্কিন নাগরিক এমন সব জেলায় বসবাস করছেন, যেখানে আগের নির্বাচনী চক্রের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি ভোটার নতুন করে যুক্ত হয়েছেন।   এপি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে দশক শেষ হওয়ার আগেই কংগ্রেসনাল জেলার সীমানা পুনর্নির্ধারণের যে নজিরবিহীন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার প্রভাব এরই মধ্যে দেশজুড়ে পড়েছে। সাধারণত প্রতি ১০ বছর পর আদমশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে কংগ্রেসনাল জেলার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এবার ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।   এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয় টেক্সাসে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত টেক্সাসের আইনপ্রণেতাদের কংগ্রেসনাল মানচিত্র নতুন করে আঁকার আহ্বান জানান। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ায় ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেক্সাসের পদক্ষেপের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্য একই ধরনের পুনর্বিন্যাসের পথে যায়।   প্রোটেক্ট ডেমোক্রেসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসব পরিবর্তনের ফলে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে সম্ভাব্যভাবে নয়টি আসনের সুবিধা পেতে পারে। তবে এটি কোনো নিশ্চিত নির্বাচনী ফল নয়, বরং নতুন নির্বাচনী সীমানার সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রতিবেদনের হিসাব।   প্রতিবেদনটির লেখকেরা মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে ঘন ঘন নির্বাচনী সীমানা পরিবর্তন হলে ভোটারদের সঙ্গে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। প্রোটেক্ট ডেমোক্রেসির নীতি-পরামর্শক ও প্রতিবেদনের সহলেখক বেন রাডারস্টর্ফ বলেছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে নির্বাচিত কর্মকর্তারা প্রকৃতপক্ষে নিজেদের এলাকার ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করছেন কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো যদি প্রতিপক্ষকে কোনো সুবিধা না দিতে বারবার নতুন করে নির্বাচনী মানচিত্র আঁকতে থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়তে পারে। এতে নির্বাচনী প্রচার ও রাজনৈতিক সংগঠনের কাজও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মিসৌরিতে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এই জটিলতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সেখানে ২০২৬ সালের প্রাইমারি নির্বাচনে ব্যবহৃত কংগ্রেসনাল মানচিত্র নিয়ে আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াই হয়েছে। মিসৌরি সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর ২০২২ সালের আগের মানচিত্রে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টও সংশ্লিষ্ট একটি স্থগিতাদেশের আবেদন খারিজ করে দেয়।   এই আইনি ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের ফলে মিসৌরির ভোটারদের একটি অংশ প্রাইমারি নির্বাচনে যে জেলার অধীনে ভোট দিয়েছেন, নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তাদের জেলা ভিন্ন হতে পারে। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রাইমারি নির্বাচনে প্রায় ১২ লাখ মিসৌরির ভোটার অংশ নিয়েছিলেন এবং জেলার সীমানা পরিবর্তনের কারণে কয়েক লাখ ভোটারের নির্বাচনী জেলা বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।   প্রোটেক্ট ডেমোক্রেসি তাদের প্রতিবেদনে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনী জেলা নির্ধারণের জন্য নতুন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মতো বিকল্প ব্যবস্থা এবং দলগুলোর মধ্যে এমন সমঝোতা, যার মাধ্যমে দলীয় স্বার্থের বাইরে নির্বাচনী জেলার সীমানা নির্ধারণ করা যায়।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি অঙ্গরাজ্যে কংগ্রেসনাল জেলার সীমানা নির্ধারণে দলীয় আইনপ্রণেতাদের পরিবর্তে স্বাধীন বা তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ কমিশন ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় গত বছর টেক্সাসের পুনর্বিন্যাসের প্রতিক্রিয়ায় গণভোটের মাধ্যমে তাদের আগের নিরপেক্ষ মানচিত্রের ব্যবস্থা সাময়িকভাবে পরিবর্তন করা হয়।   প্রোটেক্ট ডেমোক্রেসির প্রতিবেদনের লেখকেরা বলছেন, রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের জন্য নির্বাচনী জেলার সীমানা বারবার পরিবর্তনের প্রবণতা বন্ধ করতে দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচনী সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ ধরনের সংস্কার কংগ্রেস ও অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভায় বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), প্রোটেক্ট ডেমোক্রেসি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৭:৫৪