সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, হাসপাতালে পাইলট

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২০:৪৮
মিশিগানের ব্লেয়ার টাউনশিপে প্রশিক্ষণের সময় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানের ব্লেয়ার টাউনশিপে প্রশিক্ষণের সময় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে প্রশিক্ষণ চলাকালে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টির ব্লেয়ার টাউনশিপের গ্রামীণ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলট নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

দুর্ঘটনাটি ঘটে কাউন্টি রোড ৬৩৩ ও ব্লেয়ার টাউনহল রোডের কাছাকাছি এলাকায়। বিমানটি ছিল টেক্সাস এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের ১৪৯তম ফাইটার উইংয়ের। ইউনিটটি টেক্সাসের সান আন্তোনিও-ল্যাকল্যান্ড ঘাঁটি থেকে মিশিগানে প্রশিক্ষণের জন্য অবস্থান করছিল।

 

বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটির সঙ্গে থাকা আরেকটি এফ-১৬-এর পাইলট বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ করেন। লাইভএটিসি-তে প্রকাশিত রেডিও যোগাযোগের রেকর্ডিং অনুযায়ী, ‘বাক ১১’ কলসাইনের ওই পাইলট জানান, তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য পাইলটের বিমান সম্ভবত একটি পাখির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর তিনি জরুরি সহায়তার জন্য সতর্ক করতে বলেন এবং জানান, তাঁর সহযাত্রী পাইলটকে বিমান থেকে বের হয়ে আসতে হতে পারে।

 

রেডিও যোগাযোগে ওই পাইলটকে বলতে শোনা যায়, তাঁর উইংম্যানকে বিমান থেকে বের হতে হবে এবং ঘটনাটি যে এলাকায় ঘটতে যাচ্ছে, তিনি তখন সেই এলাকার ওপর দিয়ে উড়ছিলেন। নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে কাছাকাছি বিমানবন্দরে যাওয়ার পথ দেখানোর চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে পড়ে।

 

তবে পাখির আঘাতই দুর্ঘটনার কারণ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে ১৪৯তম ফাইটার উইংয়ের মুখপাত্র সার্জেন্ট ডেরেক গুতিয়েরেজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং তিনি সম্ভাব্য পাখির আঘাতের বিষয়ে কোনো তথ্য পাননি। ফলে রেডিও যোগাযোগে উঠে আসা তথ্যকে আপাতত সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত কারণ হিসেবে নয়।

 

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টি জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রথমে নির্দিষ্ট এলাকায় ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দেয়। পরে দুর্ঘটনাস্থলের এক মাইলের মধ্যে থাকা বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কাউন্টি রোড ৬৩৩-এর একটি অংশে যান চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

কর্তৃপক্ষের এই সতর্কতার পেছনে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও ছিল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, এফ-১৬ বিমানে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় হাইড্রাজিন নামে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়। এ কারণে দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনার সময় বিকট শব্দ ও ধোঁয়া দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে আগুন ও ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী দেখা যায়। ধ্বংসাবশেষের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তাঁরা।

 

ব্লেয়ার টাউনশিপের সুপারভাইজার নিকোল ব্লনশাইন জানিয়েছেন, মাটিতে থাকা কারও আহত হওয়ার খবর তিনি পাননি এবং কোনো বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন না। অন্যদিকে, বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টির শেরিফ মাইকেল ডি. শিয়া জানিয়েছেন, হাসপাতালে পাইলট সচেতন ছিলেন এবং কথা বলছিলেন।

 

এফ-১৬টি মিশিগানের আলপেনা কমব্যাট রেডিনেস ট্রেনিং সেন্টারে চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিল। টেক্সাস থেকে আসা ১৪৯তম ফাইটার উইংয়ের একাধিক এফ-১৬ এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিল। বিমানটি দুর্ঘটনার সময় নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশনে ছিল বলে সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

 

দুর্ঘটনার পর এফ-১৬ ইউনিটের নির্ধারিত অন্যান্য কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে একটি উচ্চবিদ্যালয়ের ফুটবল ম্যাচের আগে আকাশে উড্ডয়ন প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল এই ইউনিটের যুদ্ধবিমানগুলোর। দুর্ঘটনার পর সেই কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষ নেবে।

 

এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন মার্কিন বিমানবাহিনীর বহুল ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। ১৯৭৯ সাল থেকে এ ধরনের বিমান পরিচালিত হয়ে আসছে। মার্কিন বিমানবাহিনীর নিরাপত্তা তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকে এফ-১৬ নিয়ে অন্তত ১৪টি ‘ক্লাস এ’ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনায় সাধারণত বিমান ধ্বংস হওয়া, প্রাণহানি বা ২০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতির মতো গুরুতর ঘটনা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

 

মিশিগানের সর্বশেষ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। সম্ভাব্য পাখির আঘাতের বিষয়টি রেডিও যোগাযোগে উঠে এলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সেটিকে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

 

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সিবিএস ডেট্রয়েট ও ১৪৯তম ফাইটার উইং।
 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
গার্সিয়া সোর্তোর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রয়ে গেছে। তিনি কেন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন
'আমি এখনও জানি না কেন গুলি করল' আইসিইর গুলিতে বুকে আহত অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরে অভিবাসন enforcement অভিযানের সময় আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে বুকে গুরুতর আহত হন হন্ডুরাসের অভিবাসী হোসে গার্সিয়া সোর্তো। কাজে যাওয়ার পথে একটি ইন্টারস্টেট হাইওয়েতে তাঁকে থামানোর পর গুলি চালানো হয়। গার্সিয়া সোর্তোর অভিযোগ, গাড়ির জানালা ভেঙে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালান কর্মকর্তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দাবি, অভিযানের সময় গাড়ি চালিয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করায় এক কর্মকর্তা নিজের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কায় গুলি চালান। ঘটনাটি নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য উঠে এসেছে।   নিউইয়র্ক টাইমসের ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন ভোর চারটায় ঘুম থেকে ওঠেন গার্সিয়া সোর্তো। পেশায় বাড়ির কাঠামো নির্মাণের শ্রমিক তিনি। প্রতিদিনের মতো কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে স্ত্রীকে বিদায় জানান। কাজ শেষে বাড়ি ফিরে আসবেন বলে জানিয়েছিলেন তাঁকে। কিন্তু সেদিন সকালেই তাঁর অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে আইসিই কর্মকর্তারা নজরদারি চালাচ্ছিলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। গার্সিয়া সোর্তোর ভাষ্য অনুযায়ী, ফিনিক্সের একটি ইন্টারস্টেট হাইওয়ে দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি তাঁকে থামার সংকেত দেয়। সেটিকে পুলিশের গাড়ি মনে করে তিনি থামেন। এরপর আইসিই কর্মকর্তারা তাঁর গাড়ি ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে একজন কর্মকর্তা গাড়ির জানালা ভেঙে দেন। এরপর আরেক কর্মকর্তা পরপর দুটি গুলি চালান। প্রথম গুলিটি তাঁর শরীরের পাশ দিয়ে চলে গেলেও দ্বিতীয়টি সরাসরি বুকে লাগে।   গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে গাড়ি থেকে বের করে আনেন কর্মকর্তারা। গার্সিয়া সোর্তো নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, তখন তিনি কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কেন তাঁকে গুলি করা হলো। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বুঝতে পারছিলেন না কেন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গার্সিয়া সোর্তো ২০২৩ সালে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। তবে তাঁর কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান এবং অপরাধমূলক রেকর্ডের মধ্যে এই পার্থক্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।   অন্যদিকে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানান, গার্সিয়া সোর্তো প্রথমে গাড়ি থামালেও আইসিই কর্মকর্তারা হেঁটে তাঁর গাড়ির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তিনি গাড়ি চালিয়ে সরে যেতে শুরু করেন। তখন একজন কর্মকর্তা গাড়িটির চলার পথে ছিলেন। নিজের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থেকে ওই কর্মকর্তা দুটি গুলি চালান বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। এই বক্তব্যের সঙ্গে গার্সিয়া সোর্তোর বর্ণনার গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে গাড়ি থামানোর পর কী ঘটেছিল, তিনি গাড়ি নিয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কি না এবং গুলি চালানোর মুহূর্তে কর্মকর্তার অবস্থান কোথায় ছিল, সেসব বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য এক নয়। নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর ভোরে এই গুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রায় এক বছর পর প্রকাশিত প্রতিবেদনে গার্সিয়া সোর্তো তাঁর অভিজ্ঞতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সেদিন গাড়ি থামানোর পর কয়েকটি সাধারণ পোশাকের গাড়ি তাঁকে ঘিরে ফেলে। প্রায় সাতজন সশস্ত্র কর্মকর্তাকে দেখতে পান তিনি। তাঁদের অনেকের মুখ ঢাকা ছিল। একজন কর্মকর্তা গাড়ির দরজা খুলতে বললেও ভয় পেয়ে তিনি তা খুলতে রাজি হননি।   প্রতিবেদনে প্রকাশিত গাড়ির ছবিতে সামনের উইন্ডশিল্ডের যাত্রীর পাশ দিয়ে দুটি গুলি প্রবেশের চিহ্ন দেখা যায়। ঘটনার প্রায় ৩০ মিনিট পর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ধারণ করা ভিডিওতে গাড়িটিকে তিন দিক থেকে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গাড়ি দিয়ে ঘিরে রাখতে দেখা যায়। অন্য পাশে ছিল উঁচু ঢালু জায়গা। গাড়ির সামনের চাকা যেদিকে ঘোরানো ছিল, সেটিও গুলির প্রবেশপথের সঙ্গে মিলিয়ে পর্যালোচনা করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। তবে গুলি চালানোর মুহূর্তের কোনো ভিডিও প্রকাশ্যে আসেনি। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গার্সিয়া সোর্তোকে গাড়ি থেকে বের করে রাস্তায় শুইয়ে হাতকড়া পরানো হয় বলে তিনি জানান। তাঁর শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তখন তাঁর মনে পড়ছিল স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তানের কথা। তিনি আশঙ্কা করছিলেন, তাঁর মৃত্যু হলে সন্তানদের কী হবে।   পরে হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখতে পান, তাঁর হাত ও পা হাসপাতালের বিছানার সঙ্গে আটকানো। সেখানে এফবিআইয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। গুলির আঘাত থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর শরীরে গুরুতর ক্ষত তৈরি হয়। নিউইয়র্ক টাইমসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার এক বছর পরও একটি গুলি তাঁর মেরুদণ্ডে আটকে রয়েছে। ঘটনার পর এফবিআই তদন্ত শুরু করেছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের অক্টোবর ২০২৬ সালের অনুসন্ধান অনুযায়ী, গার্সিয়া সোর্তোকে গুলি করার ঘটনায় তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। গুলি চালানো কর্মকর্তার পরিচয় কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও গার্সিয়া সোর্তো নিশ্চিত তথ্য পাননি।   আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই ঘটনার জেরে গার্সিয়া সোর্তোর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি বলে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে। যদিও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্মকর্তার জীবন বিপন্ন হওয়ার দাবি করেছে, সেই দাবির পক্ষে বিস্তারিত তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে গুলি চালানোর প্রয়োজনীয়তা ও পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গার্সিয়া সোর্তোকে অভিবাসন হেফাজতে রাখা হয়। পরে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশ হন্ডুরাসে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে হন্ডুরাসের গুয়ালসিনসে এলাকায় বসবাস করছেন। তবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার শারীরিক ও মানসিক অভিজ্ঞতা এখনো তাঁর জীবনের অংশ হয়ে রয়েছে।   নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং অন্যদের অধিকাংশ আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার তদন্ত ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্য এবং আইনপ্রণেতারা। সংবাদমাধ্যমটির অনুসন্ধান অনুযায়ী, এসব গুলির ঘটনায় ফেডারেল সরকার কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। গার্সিয়া সোর্তো বলেন, তিনি এখনো জানেন না কে তাঁকে গুলি করেছিলেন এবং কেন করেছিলেন। তাঁর আক্ষেপ, এ ধরনের ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর আর কিছুই হয় না। তাঁর মতো মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই বলেই মনে হয় তাঁর।   ঘটনার এক বছর পরও গার্সিয়া সোর্তোর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রয়ে গেছে। তিনি কেন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্তের জন্য কাউকে জবাবদিহি করতে হয়েছে কি না, তার কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনো পাননি।  

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ২:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ব্যবসায় শক্ত অবস্থান গড়ছেন বাংলাদেশিরা, বাড়ছে রাজনীতি ও সামাজিক প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ব্যবসায় শক্ত অবস্থান গড়ছেন বাংলাদেশিরা, বাড়ছে রাজনীতি ও সামাজিক প্রভাব

ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও তদন্তকারী দল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের বাসভবনের কাছে বিমান বিধ্বস্ত, ৯ আরোহীর সবাই নিহত

মিশিগান সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের বদলে মাইক রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছেন হ্যালি স্টিভেন্স। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাইমারিতে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই কি আবদুল এল-সায়েদকে বাদ দিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন হ্যালির?

হামট্রাম্যাকের মেয়র পদপ্রার্থী মুহিত মাহমুদ। আদালতের রায়ে তাঁর মেয়র হওয়ার পথে বড় আইনি বাধা দূর হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের হ্যামট্রামিকের মেয়র হচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়েন কাউন্টির এক বিচারকের রায়ে হ্যামট্রামিক শহরের পরবর্তী মেয়র হিসেবে মুহিত মাহমুদের দায়িত্ব গ্রহণের পথ প্রশস্ত হয়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আবাসিক শর্ত পূরণের বিষয়ে চলা দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছে এই যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে। ওয়েন কাউন্টি সার্কিট কোর্টের বিচারক ক্যাথলিন ম্যাকার্থি জানিয়েছেন, আবাসিক কারণ দেখিয়ে মুহিত মাহমুদকে অযোগ্য ঘোষণার জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর ফলে গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বিতর্কিত ৩৭টি ব্যালট গণনার পর মুহিত মাহমুদের জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হতে যাচ্ছে।   গত ৩০ অক্টোবর দেওয়া এক আদেশে বিচারক ক্যাথলিন ওয়েন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসারসকে ওই ৩৭টি ব্যালট চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের নির্দেশ দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে মেয়র পদের দৌড়ে মুহিত মাহমুদ তার প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে বেশ এগিয়ে গেলেন। আদেশে বিচারক ক্যাথলিন ম্যাকার্থি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ অনুযায়ী মুহিত মাহমুদই হ্যামট্রামিক শহরের বৈধ মেয়র। আদালতে সাক্ষীদের জবানবন্দি ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসিক যোগ্যতা তার রয়েছে।   আদালতে শুনানির সময় মুহিত মাহমুদের অন্যান্য শহরে বাড়ি থাকার বিষয়টি উঠে আসে। তার স্ত্রী ও সন্তানরা মূলত ট্রয় শহরে বসবাস করেন বলেও জানানো হয়। তবে বিচারক তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, পরিবারের অন্য শহরে বসবাসের এই বিষয়টি তাকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য প্রমাণ করে না। এর আগে গত ২২ অক্টোবর ওয়েন কাউন্টি সার্কিট কোর্টে এই সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবারের এই চূড়ান্ত রায়ের মধ্য দিয়ে মুহিত মাহমুদের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পথে সবচেয়ে বড় আইনি বাধাটি দূর হলো।   এই আইনি বিরোধের সূত্রপাত হয় গত ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পরদিন। ওইদিন হ্যামট্রামিক সিটি ক্লার্কের কার্যালয়ে খোলা খামের ভেতরে ৩৭টি ব্যালট পাওয়া যায়। এই ব্যালটগুলো নিয়ে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ব্যাপক আইনি বিতর্ক চলছিল। পরে গত সেপ্টেম্বরে এক বিচারক ওই ব্যালটগুলো গণনার নির্দেশ দেন। এরপর ১৬ অক্টোবর ওয়েন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসারস ব্যালটগুলো পর্যালোচনা করে। বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায় মুহিত মাহমুদ পেয়েছেন দুই হাজার ৮৯ ভোট এবং বর্তমান মেয়র অ্যাডাম আলহারবি পেয়েছেন দুই হাজার ৭৭ ভোট।   নতুন গণনায় মুহিত মাহমুদ ১২ ভোটে এগিয়ে থাকলেও আবাসিক যোগ্যতার আইনি বিরোধ চলমান থাকায় ফলাফল চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এখন আদালতের রায়ে সেই সমস্যার সমাধান হলেও নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল অনুমোদন করেনি। তবে ওয়েন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসারস খুব শিগগিরই ওই ৩৭টি ব্যালটের আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও এর জন্য এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। উল্লেখ্য, বর্তমান মেয়র অ্যাডাম আলহারবি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে হ্যামট্রামিকের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   সংবাদ সূত্র: ওয়েন কাউন্টি সার্কিট কোর্টের নথি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ২০:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ১৬ বছর বয়সী এমা জুরিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মেয়েদের উৎসাহিত করতে ‘শি পারসিস্টস’ পডকাস্ট চালু করেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ফারদিনা আলমের সাফল্য-সংগ্রামের গল্প তুলে ধরছে মার্কিন কিশোরীর পডকাস্ট

নির্বাচনের দুই দিন আগে আবদুল এল-সায়েদের পরিবর্তে মাইক রজার্সকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেন হ্যালি স্টিভেন্স। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

শেষ মুহূর্তে আবদুল এল-সায়েদকে বাদ দিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যানের

কর্মজীবীদের জন্য ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পরিচালনা করছে ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটির রবার্ট ই. সাইমন স্কুল অব বিজনেস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির পাশাপাশি এমবিএ করার সুযোগ, ভার্জিনিয়ায় ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটির উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার সময় ডাউন পেমেন্টের পাশাপাশি ক্লোজিং কস্টের জন্যও আলাদা অর্থ রাখতে হয়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বাড়ি কেনার সময় ক্লোজিং কস্ট কী, কেন দিতে হয় এবং এই খরচ কে বহন করেন?

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, কিন্তু ডাউন পেমেন্টের বাইরে আরও কয়েক হাজার ডলার খরচের কথা শুনে বিভ্রান্ত হচ্ছেন? বাড়ি কেনার সময় ডাউন পেমেন্টের পাশাপাশি ক্রেতাকে যে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হয়, তার একটি বড় অংশ হলো ক্লোজিং কস্ট। বাড়ির মালিকানা হস্তান্তর, মর্টগেজ ঋণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন, আইনি নথিপত্র তৈরি এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ফি পরিশোধের জন্য এই অর্থ ব্যয় হয়। বাড়ির দাম ও ডাউন পেমেন্ট নিয়ে অনেক ক্রেতা আগে থেকেই পরিকল্পনা করলেও ক্লোজিং কস্ট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় শেষ মুহূর্তে আর্থিক চাপে পড়েন। বিশেষ করে যারা প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনছেন, তাদের মধ্যে এ নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি দেখা যায়।   সাধারণভাবে ক্লোজিং কস্ট বলতে বাড়ি কেনার চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ফি, কর, বিমা এবং আগাম পরিশোধযোগ্য খরচের সমষ্টিকে বোঝায়। এটি বাড়ির ডাউন পেমেন্টের অংশ নয়। আবার পুরো অর্থও ব্যাংক বা মর্টগেজ কোম্পানির কাছে যায় না। বরং ঋণদাতা, টাইটেল কোম্পানি, অ্যাটর্নি, সরকারি রেকর্ড অফিস, বিমা প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবাদাতার কাছে এই অর্থের একটি অংশ পরিশোধ করা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত বাড়ির ক্রয়মূল্যের প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্লোজিং কস্ট হতে পারে। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট বা বাধ্যতামূলক হার নয়। বাড়ির অবস্থান, ক্রয়মূল্য, ঋণের ধরন, ঋণদাতা এবং স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী খরচ কমবেশি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। ক্লোজিং কস্টের মধ্যে কী কী খরচ থাকে? বাড়ি কেনার সময় ক্লোজিং কস্টের মধ্যে একাধিক খাতের অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকে। সব ক্রেতার ক্ষেত্রে প্রতিটি খরচ প্রযোজ্য না হলেও সাধারণত নিচের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।   লোন অরিজিনেশন ফি: মর্টগেজ ঋণ তৈরি ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য ঋণদাতা যে ফি নেন, সেটি লোন অরিজিনেশন ফি। ঋণের আবেদন, নথিপত্র প্রস্তুত এবং ঋণ প্রক্রিয়াকরণের প্রশাসনিক খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।   অ্যাপ্রেইজাল ফি: বাড়িটির বাজারমূল্য নির্ধারণের জন্য একজন পেশাদার অ্যাপ্রেইজার নিয়োগ করা হয়। ঋণদাতা সাধারণত নিশ্চিত হতে চান যে বাড়ির মূল্য এবং প্রস্তাবিত ঋণের পরিমাণের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে। এই মূল্যায়নের জন্য যে অর্থ দিতে হয়, সেটি অ্যাপ্রেইজাল ফি।   ক্রেডিট রিপোর্ট ও আন্ডাররাইটিং ফি: ক্রেতার ক্রেডিট স্কোর, আয়, সম্পদ, ঋণ পরিশোধের ইতিহাস এবং আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করা হয়। এসব যাচাই ও ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ফি যুক্ত হতে পারে।   টাইটেল সার্চ ও টাইটেল ইন্স্যুরেন্স: বাড়িটির মালিকানা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা, বকেয়া ঋণ, অন্য কোনো ব্যক্তির দাবি বা মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়। পাশাপাশি ঋণদাতার স্বার্থ সুরক্ষার জন্য সাধারণত লেন্ডারস টাইটেল ইন্স্যুরেন্স নেওয়া হয়। ক্রেতা চাইলে নিজের মালিকানা সুরক্ষার জন্য আলাদাভাবে ওনার্স টাইটেল ইন্স্যুরেন্সও নিতে পারেন।   অ্যাটর্নি ও সেটেলমেন্ট ফি: বাড়ির মালিকানা হস্তান্তর, চুক্তিপত্র যাচাই, আইনি নথি তৈরি এবং চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন করার জন্য অ্যাটর্নি বা সেটেলমেন্ট প্রতিষ্ঠানের ফি দিতে হতে পারে। অঙ্গরাজ্যভেদে এই প্রক্রিয়া ও খরচের ধরন আলাদা।   রেকর্ডিং ও সরকারি ফি: বাড়ির দলিল এবং মর্টগেজসংক্রান্ত নথি স্থানীয় কাউন্টির সরকারি রেকর্ডে নিবন্ধন করতে হয়। এ জন্য রেকর্ডিং ফি, ডিড রেকর্ডিং চার্জ এবং প্রযোজ্য সরকারি কর বা ট্রান্সফার ফি দিতে হতে পারে।   প্রিপেইড প্রপার্টি ট্যাক্স ও হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স: বাড়ি কেনার সময় কিছু কর ও বিমার অর্থ আগাম পরিশোধ করতে হয়। যেমন, বাড়ির হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের প্রথম বছরের প্রিমিয়াম এবং নির্দিষ্ট সময়ের প্রপার্টি ট্যাক্স। এসব খরচও অনেক সময় ক্লোজিংয়ের সময় পরিশোধ করতে হয়।   এসক্রো অ্যাকাউন্টের প্রাথমিক জমা: অনেক ঋণদাতা বাড়ির প্রপার্টি ট্যাক্স ও ইন্স্যুরেন্সের অর্থ সংগ্রহ এবং পরিশোধের জন্য এসক্রো অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন। এই অ্যাকাউন্টে প্রাথমিক ব্যালান্স রাখার জন্য কয়েক মাসের কর ও বিমার অর্থ আগাম জমা দিতে হতে পারে।   ডিসকাউন্ট পয়েন্ট: কেউ যদি মর্টগেজের সুদের হার কমাতে চান, তাহলে ঋণের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ আগাম পরিশোধ করে ডিসকাউন্ট পয়েন্ট কিনতে পারেন। এটি বাধ্যতামূলক নয়। তবে কেউ এই সুবিধা নিলে সেই অর্থও ক্লোজিং কস্টের মধ্যে যুক্ত হয়।   এ ছাড়াও বাড়ির ধরন ও লেনদেন অনুযায়ী হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বা এইচওএ ফি, কনডোমিনিয়াম চার্জ এবং অন্যান্য পরিদর্শনসংক্রান্ত খরচ যুক্ত হতে পারে। তবে সব খরচ প্রত্যেক ক্রেতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   ক্লোজিং কস্ট কি শুধু ক্রেতাকেই দিতে হয়? না। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনাবেচার ক্ষেত্রে ক্লোজিং কস্টের সব অর্থ যে ক্রেতাকেই বহন করতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। চুক্তি এবং স্থানীয় প্রচলন অনুযায়ী কিছু খরচ বিক্রেতাও বহন করতে পারেন। আবার অনেক সময় বিক্রেতা ক্রেতাকে বাড়ি কেনার প্রাথমিক খরচ কমাতে আর্থিক সহায়তা দেন। এই সুবিধাকে বলা হয় সেলার কনসেশন বা সেলার ক্রেডিট।   উদাহরণ হিসেবে, একজন ক্রেতা ৪ লাখ ডলারের একটি বাড়ি কিনতে চাচ্ছেন। ডাউন পেমেন্টের পাশাপাশি তার ক্লোজিং কস্টের জন্য আরও ১২ হাজার ডলার প্রয়োজন। ক্রেতার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বিক্রেতা যদি ৮ হাজার ডলার ক্লোজিং কস্ট বহনের প্রস্তাব দেন, তাহলে ঋণদাতার অনুমোদন ও প্রযোজ্য নিয়মের মধ্যে থেকে সেই অর্থ ক্রেতার অনুমোদিত ক্লোজিং খরচ মেটাতে ব্যবহার করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ক্রেতাকে নিজের পকেট থেকে পুরো ১২ হাজার ডলার দিতে হবে না। অবশিষ্ট ৪ হাজার ডলার দিতে হবে।   সেলার ক্রেডিট কীভাবে পাওয়া যায়? সাধারণত বাড়ি কেনার অফার দেওয়ার সময়ই এই সুবিধা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ক্রেতার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট বিক্রেতার কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডলার অথবা বাড়ির বিক্রয়মূল্যের নির্দিষ্ট শতাংশ ক্লোজিং কস্ট হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব করতে পারেন। বিক্রেতা রাজি হলে বিষয়টি ক্রয়চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ঋণদাতার অনুমোদন অনুযায়ী চূড়ান্ত ক্লোজিং ডকুমেন্টে সেই অর্থ সমন্বয় করা হয়।   তবে সেলার ক্রেডিট মানে বিক্রেতা ক্রেতাকে সরাসরি হাতে নগদ টাকা দিয়ে দেবেন, এমন নয়। সাধারণত এই অর্থ অনুমোদিত ক্লোজিং খরচ ও প্রিপেইড খরচের বিপরীতে সমন্বয় করা হয়। ক্রেতার ডাউন পেমেন্টের বিকল্প হিসেবেও এটি ব্যবহার করা যায় না। ফলে অফার দেওয়ার সময় সেলার ক্রেডিটের বিষয়টি সঠিকভাবে চুক্তিতে উল্লেখ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   ক্লোজিং কস্ট কমানোর উপায় কী? বাড়ি কেনার সময় কয়েকটি কৌশল অবলম্বন করলে ক্রেতারা নিজেদের প্রাথমিক খরচ কমাতে পারেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিক্রেতার কাছ থেকে সেলার ক্রেডিট চাওয়া। বাড়ির অফার দেওয়ার সময় এজেন্টের মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনা করা যেতে পারে।   এ ছাড়া ঋণদাতার কাছ থেকে লেন্ডার ক্রেডিট নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এর বিনিময়ে তুলনামূলক বেশি সুদের হার গ্রহণ করতে হয়। ফলে শুধু প্রাথমিক খরচ কমানোর দিকে না তাকিয়ে দীর্ঘমেয়াদে মোট কত অর্থ পরিশোধ করতে হবে, সেটিও হিসাব করা উচিত।   টাইটেল কোম্পানি, সেটেলমেন্ট সার্ভিস এবং অন্যান্য যেসব সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর খরচ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করাও উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি ডিসকাউন্ট পয়েন্ট কিনলে সুদের হার কমার বিপরীতে আগাম দেওয়া অর্থ দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী হবে কি না, তা যাচাই করা দরকার।   ক্লোজিংয়ের আগে কোন বিষয়গুলো যাচাই করবেন?যুক্তরাষ্ট্রের কনজ্যুমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরোর নিয়ম অনুযায়ী, মর্টগেজের আবেদন পাওয়ার পর ঋণদাতাকে সাধারণত তিন কর্মদিবসের মধ্যে লোন এস্টিমেট দিতে হয়। এতে সম্ভাব্য ঋণের শর্ত এবং আনুমানিক ক্লোজিং কস্ট উল্লেখ থাকে।   অন্যদিকে, নির্ধারিত ক্লোজিংয়ের অন্তত তিন কর্মদিবস আগে ক্রেতাকে চূড়ান্ত ক্লোজিং ডিসক্লোজার দিতে হয়। এতে ঋণের চূড়ান্ত শর্ত, বিভিন্ন খরচ, কে কোন অর্থ পরিশোধ করছেন এবং ক্রেতাকে শেষ পর্যন্ত কত টাকা দিতে হবে, তার বিস্তারিত হিসাব থাকে।   ক্লোজিং ডিসক্লোজার হাতে পাওয়ার পর লোন এস্টিমেটের সঙ্গে চূড়ান্ত খরচের পার্থক্য রয়েছে কি না, বিক্রেতার প্রতিশ্রুত ক্রেডিট সঠিকভাবে যুক্ত হয়েছে কি না এবং টাইটেল, অ্যাটর্নি, অ্যাপ্রেইজাল ও অন্যান্য ফি সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা উচিত। প্রিপেইড ট্যাক্স, ইন্স্যুরেন্স এবং এসক্রো অ্যাকাউন্টের অর্থের হিসাবও ভালোভাবে দেখা দরকার।   সবশেষে ক্যাশ টু ক্লোজ বা বাড়ি কেনার দিন নিজের পকেট থেকে ঠিক কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, সেটি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কারণ ক্লোজিং কস্টের মোট পরিমাণ এবং ক্লোজিংয়ের দিন হাতে নিয়ে যেতে হবে এমন অর্থ এক বিষয় নয়। আগে দেওয়া ডিপোজিট, ঋণের অর্থ এবং বিক্রেতা বা ঋণদাতার অনুমোদিত ক্রেডিট সমন্বয়ের পর চূড়ান্ত ক্যাশ টু ক্লোজ নির্ধারিত হয়।   যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা শুধু ডাউন পেমেন্টের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বিভিন্ন আইনি, আর্থিক ও প্রশাসনিক খরচ। তাই বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য ক্লোজিং কস্ট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। বিশেষ করে প্রথমবার বাড়ি কিনতে যাওয়া বাংলাদেশি অভিবাসীদের উচিত বাড়ির দাম ও মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের পাশাপাশি ক্লোজিং কস্টের জন্যও আলাদা বাজেট রাখা।   একই সঙ্গে বিক্রেতার কাছ থেকে ক্লোজিং কস্টের আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায় কি না, সেটিও বাড়ি কেনার অফার দেওয়ার সময় আলোচনা করা যেতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা, ঋণদাতার সঙ্গে আগাম আলোচনা এবং চুক্তির শর্ত ভালোভাবে যাচাই করলে বাড়ি কেনার সময় অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৯:৫১
পরিবারের বার্ষিক আয় ৭৫ হাজার ডলার বা তার কম হলে যোগ্য শিক্ষার্থীদের টিউশন, আবাসন ও খাবারের খরচ বহন করবে বোস্টন ইউনিভার্সিটি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

৭৫ হাজার ডলারের কম আয়ে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়তে পারবেন বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে

নিউইয়র্কে ১৭৫ মানুষের মাথার ওপর ছাদ দিলেন তাঁরা

একসময় নিজেরাই ছিলেন গৃহহীন, আজ নিউইয়র্কে ১৭৫ মানুষের মাথার ওপর ছাদ দিলেন তাঁরা

নিউইয়র্কের ফ্লাশিংয়ে হ্যালোইন আয়োজন

পুলিশের সঙ্গে শিশুদের আনন্দঘন বিকেল, নিউইয়র্কের ফ্লাশিংয়ে হ্যালোইন আয়োজন

0 Comments