- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে প্রায় এক বছর ধরে পিছু নেওয়া, হয়রানি ও হুমকির শিকার হওয়ার পর গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী শালিনী ঠাকুর। গত ৮ সেপ্টেম্বর একটি শপিং প্লাজার বাইরে তাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ২২ বছর বয়সী রোহিত রোহিতের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশের ধাওয়ার সময় হাইওয়ে ৫০ এলাকায় রোহিত নিজের গুলিতে মারা যান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আদালতের নথি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, শালিনী ও রোহিতের পরিচয় হয়েছিল রোহিতের খাবার সরবরাহের কাজের সূত্রে। শালিনীর কর্মস্থলে খাবার পৌঁছে দিতে যেতেন রোহিত। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে শুরু হওয়া তার আচরণ পরে আরও গুরুতর হয়ে ওঠে বলে শালিনীর করা সুরক্ষা আদেশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, রোহিত শালিনীর বাড়ির বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেন এবং তার চলাফেরার ওপর নজর রাখতেন বলে অভিযোগ করেন শালিনী। একপর্যায়ে তার গাড়ির নিচে একটি অ্যাপল এয়ারট্যাগ পাওয়া যায়। এটি ব্যবহার করে তার অবস্থান অনুসরণ করা হচ্ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। গাড়ির টায়ারেও হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এসব ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তার জন্য শালিনী আদালতের সুরক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করেন। ২০২৬ সালের মে মাসে শালিনী রোহিতের বিরুদ্ধে দেওয়ানি হয়রানি প্রতিরোধে সুরক্ষা আদেশ নেন। আবেদনে তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে হয়রানি ও পিছু নেওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং গুরুতর হয়ে উঠেছিল। রোহিত তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতেন এবং অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা করতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি তার বাসায় প্রবেশের জন্য অতিরিক্ত চাবি তৈরি করে নেওয়ার অভিযোগও নথিতে রয়েছে। তবে সুরক্ষা আদেশ পাওয়ার পরও অভিযোগিত হয়রানি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই মাসেও রোহিত ওই আদেশ লঙ্ঘন করে শালিনীর বাড়িতে জিনিসপত্র রেখে গিয়েছিলেন। শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হলেও কয়েক দফায় তাকে পাওয়া যায়নি। এর মধ্যেই শালিনী নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন বলে নথি ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর স্যাক্রামেন্টোর হাও অ্যাভিনিউ এলাকার একটি শপিং প্লাজার কাছে শালিনীকে লক্ষ্য করে হামলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের খবর পেয়ে দুপুর ৩টার কিছু আগে স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তদন্তকারীদের মতে, রোহিত শালিনীর মুখোমুখি হওয়ার পর তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। রোহিত তাকে ধাওয়া করে গুলি করেন। শেরিফের কার্যালয়ের বিবরণ অনুযায়ী, শালিনী মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে গুলি করা হয়। হামলার পর রোহিত গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ডেপুটিরা তাকে শনাক্ত করে হাইওয়ে ৫০ এলাকায় অনুসরণ করেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে তার অবস্থান শনাক্ত করতে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন তথ্য ব্যবহার করা হয় বলে শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে। পরে পুলিশের সঙ্গে অবস্থান নেওয়ার সময় রোহিত নিজের ওপর গুলি চালান এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার পর রোহিতের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়টিও সামনে এসেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ভারতের নাগরিক রোহিত ২০২৩ সালে অ্যারিজোনা দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। সীমান্তে তাকে আটক করার পর পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে বিভাগটি জানিয়েছে। তবে তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়টি এবং শালিনী হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের আইনগত তদন্তকে আলাদাভাবে দেখা হচ্ছে। শালিনীর মৃত্যুর পর তার পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাকে পরিশ্রমী, যত্নশীল ও উদার মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি দীর্ঘদিনের হয়রানির অভিযোগের পর ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালতের সুরক্ষা আদেশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্ত এখনো চলছে। দীর্ঘদিনের পিছু নেওয়া ও হয়রানির অভিযোগ, সুরক্ষা আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং ৮ সেপ্টেম্বরের প্রাণঘাতী হামলার মধ্যকার পুরো ঘটনাপ্রবাহ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালের পেনজ্যান্সে বাড়ি গুছাতে গিয়ে বিস্কুটের পুরোনো একটি টিনে ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের বেশি মূল্যের সোনার মুদ্রার সন্ধান পেয়েছেন এক বিধবা। প্রায় ৫০ বছর ধরে টিনটির ভেতর সেগুলো লুকিয়ে রেখেছিলেন তাঁর প্রয়াত স্বামী। অবিশ্বাস্য এই সঞ্চয়ের কথা স্ত্রী নিজেও জানতেন না। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়ির একটি শেড পরিষ্কার করার সময় ভারী টিনটি পাওয়া যায়। সেটি খুলে প্রথমে কিছু রুপার মুদ্রা দেখা গেলেও পরে নিচের দিকে খুঁজে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ সোনার মুদ্রা। মুদ্রাগুলো আলাদা প্যাকেটে রাখা ছিল। সঙ্গে ছিল সেগুলো কেনার সময়ের কাগজপত্র এবং একটি পুরোনো পকেট মানি গাইড। টিনটিতে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ৪১টি গোল্ড ক্রুগেরান্ড এবং ২১টি ব্রিটিশ গোল্ড সোভারেইন। এর মধ্যে অধিকাংশ মুদ্রাই ১৯৭৫ সালে তৈরি করা হয়েছিল। তখন অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি এবং শেয়ারবাজার নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই সোনাকে তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখতেন। নিলামকারী ডেভিড লে জানান, ওই ব্যক্তি ১৯৭৫ সালে প্রতিটি মুদ্রার জন্য প্রায় ৭০ থেকে ৮০ পাউন্ড করে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ কয়েক হাজার পাউন্ড খরচ করে তিনি সোনা কিনেছিলেন। এরপর মুদ্রাগুলো এমনভাবে সংরক্ষণ করেন যে প্রায় পাঁচ দশক ধরে সেগুলোর কথা কাউকে জানাননি। নিলাম শেষে শুধু ৪১টি গোল্ড ক্রুগেরান্ড থেকেই পাওয়া গেছে ১ লাখ পাউন্ড। আর ২১টি ব্রিটিশ গোল্ড সোভারেইন বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার পাউন্ডে। সব মিলিয়ে সোনার মুদ্রাগুলোর মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের বেশি। নিলামকারী ডেভিড লে বলেন, মুদ্রাগুলো আবিষ্কারের বিষয়টি ছিল তাদের জন্যও বিস্ময়কর। তাঁর মতে, স্বামী যখন সোনায় বিনিয়োগ করেছিলেন, তখনকার তুলনায় বর্তমানে এর মূল্য অনেক বেড়েছে। মুদ্রাগুলো প্রায় অক্ষত অবস্থায় নিজ নিজ প্যাকেটের মধ্যেই পাওয়া গেছে। ১৯৭০-এর দশকে ব্যাংকের ওপর অনাস্থা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় কিছু মানুষ নগদ অর্থ বা মূল্যবান সম্পদ ঘরে রেখে দিতেন। তবে একটি সাধারণ বিস্কুটের টিনে এত বড় অঙ্কের সোনা প্রায় ৫০ বছর ধরে লুকিয়ে থাকা ঘটনাটিকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে। বাড়ি ছোট করার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে স্ত্রী যখন পুরোনো জিনিসপত্র গুছাচ্ছিলেন, তখনই প্রকাশ্যে আসে স্বামীর সেই গোপন বিনিয়োগ। কয়েক হাজার পাউন্ডের সেই সিদ্ধান্ত পাঁচ দশক পর পরিবারের জন্য পরিণত হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের বেশি মূল্যের সম্পদে।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের কূটনীতিকদের পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে দূতাবাস। মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় দূতাবাস জানায়, প্রতারকেরা মার্কিন কূটনীতিক পরিচয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ, গিফট কার্ড কিংবা ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। মার্কিন দূতাবাস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অনলাইনে সাধারণ মানুষের কাছে কখনো টাকা, গিফট কার্ড কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, গোপন পিন বা ক্রেডিট কার্ড নম্বরের মতো ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য চাইবেন না। ফলে এ ধরনের কোনো যোগাযোগ পেলে সেটিকে প্রতারণার চেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, কেউ নিজেকে মার্কিন কূটনীতিক পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করে টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগে না জড়িয়ে বার্তাটি উপেক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে অপরিচিত ব্যক্তির পাঠানো প্রলোভনমূলক প্রস্তাব বা জরুরি সহায়তার আবেদনে সাড়া না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের যোগাযোগের পর কোনো আর্থিক লেনদেন না করতেও সতর্ক করেছে দূতাবাস। প্রতারকেরা পরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম, ছবি কিংবা পরিচয় ব্যবহার করলেও শুধু এসব দেখে কারও পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে পরিচয় জাল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করলে অনেকেই যোগাযোগটিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করতে পারেন। এ কারণে কোনো ব্যক্তি বা অ্যাকাউন্ট মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা পরিচয় দিলেই তার কথায় বিশ্বাস না করে সতর্কভাবে বিষয়টি যাচাই করা জরুরি। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ও কনস্যুলার কার্যক্রম নিয়ে প্রতারণার বিষয়ে মার্কিন দূতাবাস আগেও সতর্ক করেছে। দূতাবাসের প্রকাশিত বিভিন্ন নির্দেশনায় প্রতারণা বা জালিয়াতি সংক্রান্ত তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো মার্কিন কূটনীতিকের পরিচয় ব্যবহার করে টাকা, গিফট কার্ড বা ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চাওয়া হলে তাতে সাড়া না দেওয়াই নিরাপদ। মার্কিন দূতাবাসের সর্বশেষ সতর্কবার্তার মূল উদ্দেশ্যও সাধারণ মানুষকে এ ধরনের ভুয়া পরিচয় ও অনলাইন প্রতারণার ফাঁদ থেকে সতর্ক রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টকব্রিজ শহরের মেয়র জেডেন উইলিয়ামসকে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে সিটি কাউন্সিল। মাত্র ২৩ বছর বয়সে মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়া উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে শহরের অর্থ ও সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগের পাশাপাশি ১৮ বছর বয়সী এক হাইস্কুল শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনুপযুক্ত যোগাযোগের অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ তদন্ত ও প্রায় ১০ ঘণ্টার শুনানির পর শনিবার কাউন্সিল তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। স্টকব্রিজ আটলান্টার দক্ষিণে হেনরি কাউন্টির একটি শহর। প্রায় ৩০ হাজার মানুষের এই শহরে ২০২৫ সালের নির্বাচনে তৎকালীন মেয়র অ্যান্থনি ফোর্ডকে হারিয়ে জয়ী হন উইলিয়ামস। জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তার বয়স ছিল ২৩ বছর। এর মাধ্যমে তিনি স্টকব্রিজের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী মেয়র হন। তার নির্বাচনের সময় তাকে জর্জিয়ার সবচেয়ে কম বয়সী নির্বাচিত মেয়র হিসেবেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগের অন্যতম বিষয় ছিল শহরের দেওয়া পারচেজিং কার্ড ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার। তদন্তে চার হাজার ডলারের বেশি অননুমোদিত ব্যয়ের অভিযোগ সামনে আসে। এসব ব্যয়ের মধ্যে রেস্তোরাঁয় খাবার, পোশাক, হেয়ারকাট, সিনেমার টিকিট, লিফট রাইডসহ বিভিন্ন খরচের কথা উঠে আসে। শহরের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও তদন্তের আওতায় ছিল। তদন্তে আলোচিত একটি লেনদেন ছিল ৩২২ ডলার ৯২ সেন্টের একটি কেনাকাটা। সিটি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই খরচের বিষয়ে উইলিয়ামসের দেওয়া ব্যাখ্যায় অসঙ্গতি পাওয়া যায়। তিনি প্রথমে জানিয়েছিলেন, স্টাফদের জন্য গিফট কার্ড কেনা হয়েছিল। পরে তিনি বলেন, সেগুলো কমিউনিটির সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মূল রসিদ সংগ্রহ করে দেখতে পান, ওই কেনাকাটায় দুটি পানীয় ও ফাদার্স ডে উপলক্ষে তিনটি খাবারের খরচ ছিল। উইলিয়ামস অবশ্য এসব অভিযোগের সবকিছু অস্বীকার করেননি। শুনানিতে তিনি জানান, কিছু প্রশ্নবিদ্ধ খরচ শহরের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এবং ব্যক্তিগত খরচে শহরের পারচেজিং কার্ড ব্যবহারের বিষয়টি ইচ্ছাকৃত ছিল না। তিনি দাবি করেন, শহরের কার্ড ও ব্যক্তিগত কার্ড নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে কিছু লেনদেন হয়েছে এবং পরে তিনি অর্থ ফেরত দিয়েছেন। তার আইনজীবীও কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলোর কিছু বিষয়ে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। উইলিয়ামসকে ঘিরে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ ছিল ১৮ বছর বয়সী এক হাইস্কুল শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা ও ছবি আদান-প্রদান। বিষয়টি নিয়ে পুলিশও পর্যালোচনা করেছে। তবে ওই শিক্ষার্থীর বয়স আইনগতভাবে ১৮ হওয়ায় এ ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। উইলিয়ামসের বক্তব্য, ওই যোগাযোগ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগের ঘটনা এবং ওই ব্যক্তি স্টকব্রিজের ‘মেয়র ফর এ ডে’ কর্মসূচির অংশ ছিলেন না। জুলাইয়ে অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত চলার সময় সিটি কাউন্সিল উইলিয়ামসের বেশ কিছু প্রশাসনিক ক্ষমতা সীমিত করে। তাকে শহরের পারচেজিং ও ফুয়েল কার্ড, শহরের গাড়ি এবং কিছু সরকারি স্থাপনায় প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। এরপর তদন্তের ফলাফল নিয়ে সেপ্টেম্বরে দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ১০ ঘণ্টার শুনানি শেষে কাউন্সিলের তিন সদস্য উইলিয়ামসকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেন, একজন বিরত থাকেন। আরেক কাউন্সিল সদস্যকে পক্ষপাতের অভিযোগে শুনানি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। অপসারণের পর স্টকব্রিজে নতুন মেয়র নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সিটি অ্যাটর্নি কুইন্টন ওয়াশিংটনের তথ্য অনুযায়ী, মেয়রের পদ পূরণে একটি বিশেষ নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এর মধ্যে মেয়র প্রো টেম এলটন আলেকজান্ডার অন্তর্বর্তী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। উইলিয়ামসের কাছে হেনরি কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগও রয়েছে। এদিকে উইলিয়ামসকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে স্টকব্রিজের কিছু বাসিন্দার মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। সোমবারের কাউন্সিল সভায় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগগুলোর তুলনায় অপসারণের শাস্তি যথাযথ ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ ভোটারদের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন। ফলে মাত্র কয়েক মাস আগে তরুণ বয়সে মেয়র হয়ে যে রাজনৈতিক যাত্রা উইলিয়ামস শুরু করেছিলেন, তা এখন আইনি লড়াই ও নতুন নির্বাচনকে ঘিরে অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ির মালিকদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির মর্টগেজ থাকা বাড়িগুলোর ৩ দশমিক ২ শতাংশকে ‘সিরিয়াসলি আন্ডারওয়াটার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এক বছর আগে এই হার ছিল ২ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ, এমন বাড়ির সংখ্যা বাড়ছে যেখানে মালিকের মর্টগেজ ঋণের পরিমাণ বাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্যের চেয়ে অন্তত ২৫ শতাংশ বেশি। রিয়েল এস্টেট ডেটা প্রতিষ্ঠান এটিটিওএম -এর দ্বিতীয় প্রান্তিকের ইউএস হোম ইকুইটি অ্যান্ড আন্ডারওয়াটার রিপোর্টে এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে সিরিয়াসলি আন্ডারওয়াটার মর্টগেজের হার এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে মিনেসোটায়। সেখানে হার ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের ২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের একই সময়ে ১২ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। ‘আন্ডারওয়াটার মর্টগেজ’ বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হচ্ছে, যখন কোনো বাড়ির বিপরীতে নেওয়া ঋণের মোট বকেয়া ওই বাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে যায়। এটিটিওএম-এর ‘সিরিয়াসলি আন্ডারওয়াটার’ সংজ্ঞা অনুযায়ী, সম্পত্তির বিপরীতে থাকা ঋণের আনুমানিক ব্যালান্স বাড়িটির বাজারমূল্যের অন্তত ২৫ শতাংশ বেশি হলে সেটিকে এই শ্রেণিতে ধরা হয়। এমন অবস্থায় বাড়ির মালিক বাড়িটি বিক্রি করতে গেলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। মিনেসোটার পর সিরিয়াসলি আন্ডারওয়াটার মর্টগেজের উচ্চ হার দেখা গেছে লুইজিয়ানায় ১০ দশমিক ৩ শতাংশ, আইওয়ায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, মিসিসিপিতে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং আরকানসাসে ৬ শতাংশ। বিপরীতে নিউইয়র্কে এই হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নিউ জার্সিতে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। সবচেয়ে কম হার দেখা গেছে ভারমন্টে, মাত্র শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে বাড়ির মালিকদের ইকুইটির অবস্থানও দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে এটিটিওএম-এর তথ্য। দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের মর্টগেজ থাকা বাড়ির ৪১ দশমিক ১ শতাংশকে ‘ইকুইটি রিচ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, এসব বাড়ির বিপরীতে থাকা ঋণের মোট পরিমাণ বাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্যের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ। এক বছর আগে এই হার ছিল ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকেও হার ছিল ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে টানা চার প্রান্তিক ধরে ইকুইটি রিচ বাড়ির হার কমেছে এবং এটি প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বাড়ির ইকুইটি কমে যাওয়ার অর্থ হলো, অনেক মালিকের বাড়ির বর্তমান মূল্য ও মর্টগেজ ঋণের মধ্যে যে আর্থিক ব্যবধান ছিল, সেটি আগের তুলনায় সংকুচিত হচ্ছে। বিশেষ করে বাড়ির দাম কমে গেলে বা স্থির থাকলে, কিন্তু মর্টগেজের বকেয়া দ্রুত না কমলে এই ব্যবধান আরও সংকুচিত হতে পারে। আর কোনো মালিকের ঋণ যদি বাড়ির বাজারমূল্য ছাড়িয়ে যায়, তখন বাড়ি বিক্রি বা রিফাইন্যান্স করার সুযোগও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতিকে এখনই আবাসন বাজারের বড় ধরনের সংকট হিসেবে দেখছে না এটিটিওএম। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান ইকুইটি পরিস্থিতি ২০২০ সালের আগের সময়ের তুলনায় এখনো তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। অর্থাৎ, ঝুঁকির কিছু সূচক খারাপ দিকে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বাড়ির মালিক এখনো আগের দশকের বড় ধরনের আবাসন সংকটের মতো অবস্থায় নেই। তবু নতুন তথ্যটি বাড়ি মালিক, সম্ভাব্য ক্রেতা এবং মর্টগেজধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বাড়ির মূল্য কমছে বা দীর্ঘ সময় ধরে স্থির রয়েছে, সেখানে মর্টগেজের বকেয়া ও বাড়ির বর্তমান মূল্যের পার্থক্য ভবিষ্যতে আরও বড় হতে পারে। ফলে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে শুধু মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট নয়, বাড়ির সম্ভাব্য বাজারমূল্য, ডাউন পেমেন্ট, সুদের হার এবং ভবিষ্যৎ বিক্রির সম্ভাবনাও হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশরা বানোকে বদলি করা হয়েছে একটি ভিডিওকে ঘিরে বিতর্কের কয়েক দিনের মধ্যেই। ২০২১ ব্যাচের এই আইপিএস কর্মকর্তাকে খড়্গপুরের পদ থেকে সরিয়ে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার প্রকাশিত ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘জাজাকাল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের পর একটি সংগঠনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বদলিটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই ভিডিওতে বুশরা বানো মূলত নিজের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সফল হওয়ার গল্প তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ পরীক্ষার্থীদের উৎসাহ দেন। সেখানে তিনি আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কোচিং একাডেমির সহায়তার কথা বলেন। নিজের বক্তব্যের শুরুতে তিনি ‘আসসালামু আলাইকুম’ এবং বিভিন্ন পর্যায়ে ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘জাজাকাল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ‘হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড’ নামে একটি সংগঠন পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে অভিযোগ করে। সংগঠনটির দাবি, রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্যে ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত। তারা প্রশ্ন তোলে, ভিডিওতে ‘জয় হিন্দ’ বা ‘বন্দে মাতরম’-এর মতো জাতীয় সম্ভাষণ ব্যবহার না করে কেন ইসলামী অভিবাদন ও ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগের পরই বুশরা বানোর বদলির ঘটনা সামনে আসে। ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট করা হয়। একই প্রশাসনিক আদেশে পার্থ ঘোষকে খড়্গপুরের নতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং শুভেন্দু মণ্ডলকে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে। তবে বুশরা বানোর বদলির কারণ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ওই অভিযোগকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করা হয়নি। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবান্নের পক্ষ থেকে বদলিটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি বিতর্ক এবং বদলির সময়ের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও সেটিকে সরকারি সিদ্ধান্তের নিশ্চিত কারণ হিসেবে বলা যাচ্ছে না। বুশরা বানোর কর্মজীবনের পথও বেশ উল্লেখযোগ্য। উত্তরপ্রদেশের কনৌজে জন্ম নেওয়া এই কর্মকর্তা আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজে পিএইচডি করেন। পরে সৌদি আরবের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন। এরপর ভারতে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। ২০১৮ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় ২৭৭তম স্থান অর্জন করে তিনি ভারতীয় রেলওয়ে ট্রাফিক সার্ভিসে নির্বাচিত হন। তবে সে সময় দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের কারণে ওই চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি। পরের বছর আবার ইউপিএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৩৪তম স্থান অর্জন করেন এবং ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসে নির্বাচিত হন। পরে পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারে যোগ দিয়ে হুগলি গ্রামীণ এলাকায় সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। চলতি বছরের জুনে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পান এবং খড়্গপুরে দায়িত্ব নেন। বুশরা বানোর বদলিকে ঘিরে এখন মূল বিতর্ক হচ্ছে একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বা জনসমক্ষে বক্তব্যে ধর্মীয় অভিব্যক্তি ব্যবহারের সীমা নিয়ে। অভিযোগকারী সংগঠনটি এটিকে সরকারি কর্মকর্তার নিরপেক্ষতার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে, ধর্মীয় সম্ভাষণ ব্যবহারের কারণে একজন কর্মকর্তার প্রশাসনিক বদলির সঙ্গে বিষয়টির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বদলির সঙ্গে অভিযোগের সরাসরি সম্পর্কের কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী মাহমুদ খলিল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ফেডারেল দেওয়ানি অধিকার মামলা করেছেন। সোমবার নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় তিনি অভিযোগ করেছেন, ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মীদের দীর্ঘদিনের হয়রানি, হুমকি ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। খলিলের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নিষ্ক্রিয়তা তাকে ও অন্য শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর পরিবেশ তৈরি করেছে। মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে করা হয়েছে। খলিলের সঙ্গে আরও কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী ও ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি মামলায় অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলার কারণে তারা নিয়মিত হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়লেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের অভিযোগ যথাযথভাবে আমলে নেয়নি। মামলায় কলাম্বিয়ার বিরুদ্ধে বৈষম্য, হয়রানির বিষয়ে উদাসীনতা এবং অভিযোগ করার পর প্রতিশোধমূলক আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে। খলিল সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈষম্যমূলক ও উদাসীন আচরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা একাধিকবার প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও হয়রানির বিষয়ে সহায়তা চাইলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি। মামলায় বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি প্রকাশ করে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর ঘটনা ঘটে। খলিলের মামলায় ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন ঘটনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কলাম্বিয়ার ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করে একটি ট্রাক ঘোরানো হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারের পাশাপাশি তাদের অনলাইনেও লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। এই ধরনের ঘটনাকে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানো ও তাদের রাজনৈতিক মত প্রকাশ নিরুৎসাহিত করার অংশ হিসেবে দেখছেন বাদীরা। এরপর গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ও ক্যাম্প গড়ে ওঠে। খলিল তখন বিক্ষোভকারীদের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন এবং শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগের দায়িত্বেও যুক্ত ছিলেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের অনেক কর্মকাণ্ডকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৮ মার্চ খলিলকে তার কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা আটক করেন। সে সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছিলেন। খলিল যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ ছিল না। আটকের পর তাকে ইমিগ্রেশন হেফাজতে রাখা হয়। খলিল প্রায় ১০৪ দিন ইমিগ্রেশন হেফাজতে ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তার প্রথম সন্তানের জন্ম হয় এবং তিনি সন্তানের জন্মের সময় উপস্থিত থাকতে পারেননি। পরে ২০২৫ সালের জুনে তিনি হেফাজত থেকে মুক্তি পান। তবে মুক্তির পরও তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলস খলিলের বহিষ্কার-সংক্রান্ত আপিল খারিজ করে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ দেয়। এরপর তার আইনজীবীরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে আবেদন করেন। একই সঙ্গে তার পৃথক ফেডারেল মামলার আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। মে মাসে তার আইনজীবীরা জানান, তৃতীয় সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের পর্যালোচনা চাইবেন। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় নতুন মামলার নির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে প্রত্যেক শিক্ষার্থী ও সদস্য যেন নিরাপদ, স্বাগত ও সহায়তা পাওয়ার মতো পরিবেশে থাকতে পারেন, সেটি তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বৈষম্য ও হয়রানি থেকে ক্যাম্পাস কমিউনিটিকে সুরক্ষা দেওয়া এবং অভিযোগ এলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। খলিলের নতুন মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ক্যাম্পাস নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। মামলাটিতে আদালতের কাছে ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী সংগঠনের ওপর নেওয়া কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনার দাবিও রয়েছে। এখন আদালতে অভিযোগগুলোর আইনগত ভিত্তি ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দায় কতটা রয়েছে, সেটিই পরবর্তী ধাপে নির্ধারিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলকে মঙ্গলবার সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শুনানিতে তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এফবিআইয়ের কার্যক্রম ও নেতৃত্ব নিয়ে নজরদারি শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সিনেটররা তার নেতৃত্বের ধরন, এজেন্টদের বিদায়, সরকারি সম্পদের ব্যবহার, ২০২০ সালের নির্বাচনসংক্রান্ত তদন্ত এবং জেফ্রি এপস্টেইন তদন্তসহ একাধিক বিতর্কিত বিষয় সামনে আনেন। রিপাবলিকানরা অন্যদিকে এফবিআইয়ের অপরাধ দমন কার্যক্রম এবং ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে তদন্তের বিষয়গুলোতে জোর দেন। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই শুনানিটি প্যাটেলের জন্য কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ জবাবদিহির আরেকটি পর্ব। সিনেটের সরকারি সূচি অনুযায়ী, এফবিআইয়ের ওপর নজরদারি নিয়ে শুনানিতে প্যাটেলই ছিলেন প্রধান সাক্ষী। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি একই কমিটির সামনে হাজির হয়েছিলেন। শুনানির শুরুতেই সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ডিক ডারবিন প্যাটেলের নেতৃত্ব নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। নিউইয়র্ক পোস্টের লাইভ আপডেট অনুযায়ী, ডারবিন প্যাটেলের অভিজ্ঞতা, বিচারবোধ ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে প্যাটেলের নেতৃত্বে এফবিআইয়ের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও গুরুত্ব পায়। প্যাটেলের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের একটি বড় বিষয় হলো এফবিআইয়ের ভেতরে কর্মী পরিবর্তন। তার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্থাটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা ও এজেন্টের পদত্যাগ, বরখাস্ত বা দায়িত্ব পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডেমোক্র্যাটরা জানতে চান, এসব পরিবর্তনের পেছনে পেশাগত প্রয়োজন ছিল, নাকি রাজনৈতিক আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এফবিআইয়ের নিয়োগ নীতিও শুনানির আগে নতুন করে আলোচনায় আসে। সিনেটের ডেমোক্র্যাটরা প্যাটেলের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন, কেন সংস্থাটি কিছু আচরণকে চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় অযোগ্যতার কারণ হিসেবে রাখা থেকে সরে এসেছে। এর মধ্যে চাকরির জায়গা থেকে চুরি, যৌনসেবা ক্রয় এবং পশুর সঙ্গে যৌন আচরণের মতো বিষয়ও রয়েছে বলে সিনেটরদের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি অর্থ ও এফবিআইয়ের বিমান ব্যবহারের বিষয়টিও শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্যাটেলের ব্যক্তিগত বা ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভ্রমণে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা আগে থেকেই তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন সরকারি বিমান ব্যবহারের বিষয়ে হুইসেলব্লোয়ারদের তথ্য তুলে ধরে সরকারি সম্পদের ব্যবহারের ওপর নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে এফবিআইয়ের তদন্তও শুনানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রয়টার্স জানিয়েছে, রিপাবলিকান সিনেটররা ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা নিয়ে তদন্তের বিষয়টি সামনে আনতে পারেন। একই সময়ে ডেমোক্র্যাটরা প্যাটেলের করা গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য এবং সেই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। জেফ্রি এপস্টেইনসংক্রান্ত তদন্ত ও নথি নিয়েও প্যাটেলকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এফবিআইয়ের আগের এক শুনানিতে প্যাটেল বলেছিলেন, এপস্টেইন মামলার প্রাথমিক তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য যথেষ্টভাবে সংগ্রহ করা হয়নি। তিনি আরও বলেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আইনগতভাবে প্রকাশযোগ্য তথ্য কংগ্রেসের কাছে তুলে দেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে, প্যাটেল নিজের নেতৃত্বের পক্ষে এফবিআইয়ের অপরাধ দমন কার্যক্রমের সাফল্য তুলে ধরেছেন। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, তার দায়িত্বকালে সহিংস অপরাধ, মানবপাচার, শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং মাদক ও গ্যাংবিরোধী অভিযানে সংস্থাটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। এফবিআইয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, প্যাটেল এসব কার্যক্রমকে তার নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। শুনানিতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্যাটেলের কথোপকথনও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সিনেটর কোরি বুকার প্যাটেলের নেতৃত্ব ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তার আনুগত্য নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তোলেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুকার প্যাটেলকে সতর্ক করে বলেন, প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক সমর্থন সবসময় স্থায়ী নাও হতে পারে। এদিকে রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন কমিটির সদস্যরা এফবিআইয়ের অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সংস্থাটির ভূমিকার ওপর জোর দেন। ফলে শুনানিটি শুরু থেকেই এফবিআইয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রশ্নে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্যের মঞ্চে পরিণত হয়। কাশ প্যাটেলের এই শুনানি এমন সময়ে হলো, যখন এফবিআইয়ের নেতৃত্ব, কর্মী ব্যবস্থাপনা, সরকারি সম্পদের ব্যবহার এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর তদন্ত নিয়ে ওয়াশিংটনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। শুনানিতে ওঠা প্রশ্নগুলোর জবাব এবং কংগ্রেসের পরবর্তী নজরদারি কার্যক্রম প্যাটেলের নেতৃত্বে এফবিআইয়ের ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে বিতর্ককে আরও প্রভাবিত করতে পারে।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করার সময় ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সী পাঁচ শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের খবর দিয়ে থানায় এনে শিশুদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পাঁচ শিশু হলো মো. হিরোন (১১), জিসান (১৩), আবুজার (১৩), মো. আব্দুল্লাহ (১৩) ও খালিদ বিশ্বাস (১০)। তাদের সবার বাড়ি মাগুরা সদর থানার কাদিরাবাদ এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ শিশু পরস্পরের বন্ধু। কৌতূহল ও দুরন্তপনার বশে তারা সোমবার সকালে একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। মাগুরা সদর থানা এলাকা থেকে একটি ইজিবাইক ভাড়া করে তারা দৌলতদিয়ায় পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছানোর পর তারা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করছিল। এ সময় গোয়ালন্দ ঘাট থানার টহল পুলিশের নজরে আসে বিষয়টি। পুলিশ সদস্যরা শিশুদের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। জিজ্ঞাসাবাদে শিশুরা জানায়, কৌতূহল থেকেই তারা একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এদিকে সন্তানদের বাড়িতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। পুলিশ ফোন করে তাদের সন্তানদের দৌলতদিয়ায় পাওয়ার খবর জানালে অভিভাবকরা দ্রুত থানায় উপস্থিত হন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পাঁচ শিশুকে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে তুলে দেওয়া হয়। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে পাঁচ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা কৌতূহলবশত মাগুরা থেকে একসঙ্গে বের হয়ে দৌলতদিয়ায় চলে আসে। পরে তাদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হলে তারা থানায় এসে শিশুদের নিয়ে যান। ঘটনাটি শিশুদের নিরাপত্তা এবং অভিভাবকদের নজরদারির বিষয়টিও সামনে এনেছে। বাড়ি থেকে দূরে যাওয়ার আগে শিশুদের নিরাপদ যাতায়াত, যোগাযোগের ব্যবস্থা এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। সূত্র: কালবেলা
জাপানে প্রথমবারের মতো ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাপানে এমন মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জন। গত বছরের তুলনায় শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৭ হাজার ৯১৪ জন। এ নিয়ে টানা ৫৬ বছর জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা নতুন রেকর্ড গড়ল। ১৯৬৩ সালে এই বয়সী মানুষের সরকারি হিসাব রাখা শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম সংখ্যা ১ লাখের সীমা অতিক্রম করল। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি—৯৪ হাজার ২৯৮ জন, যা মোট শতবর্ষীর প্রায় ৮৮ শতাংশ। পুরুষের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৭৯ জন। জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২০১২ সালে প্রথম ৫০ হাজার ছাড়িয়েছিল। মাত্র ১৪ বছরের মধ্যে সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। দেশটির সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি বর্তমানে কিয়োটোতে বসবাসকারী ১১৪ বছর বয়সী ফুয়ো কিশিমোতো। সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ কুমামোতোতে বসবাসকারী ১১২ বছর বয়সী হিকারু কাতো। তবে দীর্ঘায়ুর এই রেকর্ডের পাশাপাশি জাপানকে বড় ধরনের জনমিতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দেশটির মধ্যম বয়স প্রায় ৪৯ দশমিক ৯ বছর এবং মোনাকোর পর জাপানের জনসংখ্যা বিশ্বের অন্যতম বয়স্ক। একই সময়ে দেশটিতে জন্মহারও ঐতিহাসিকভাবে নিচের দিকে নেমেছে। ফলে একদিকে মানুষের দীর্ঘ জীবনযাপন জাপানের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরছে, অন্যদিকে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কম জন্মহারের কারণে দেশটিতে শ্রমশক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপও বাড়ছে। সূত্র: জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়, এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) শিশুদের খাবারের জন্য বরাদ্দ ফেডারেল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পলাতক ফাহাদ মোহামেদ নুরকে গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়তাকারী তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। এফবিআইয়ের অভিযোগ, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ফেডারেল চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রামের অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া হয় এবং নুরের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রতিষ্ঠান ওই অর্থের ৫০ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছিল। এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স তালিকায় নুরকে যুক্ত করা হয়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাচারালাইজড নাগরিক এবং সোমালিয়ার সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বর্তমানে সোমালিয়ায় অবস্থান করছেন বলে ধারণা করছে এফবিআই। নুরের বিরুদ্ধে ওয়্যার ফ্রড, অর্থপাচারের ষড়যন্ত্র এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। মিনেসোটার ফেডারেল আদালত ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এফবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নুর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে পালিয়ে যান এবং এরপর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, নুর দ্য প্রোডিউস এলএলসি নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন, যা খাদ্য সরবরাহকারী হিসেবে ফেডারেল চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এফবিআইয়ের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের জন্য খাবার সরবরাহের কথা দেখিয়ে ৫০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছিল। কিন্তু যেসব খাবার সরবরাহের কথা বলা হয়েছিল, সেগুলোর একটি অংশ বাস্তবে সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, নুর খাবার সরবরাহের প্রমাণ হিসেবে ভুয়া ইনভয়েস জমা দিয়ে অর্থ গ্রহণ করেন। ২০২২ সালে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, এই বৃহৎ জালিয়াতি চক্রে শিশুদের খাবার সরবরাহের নামে ভুয়া নথি, খাবারের হিসাব এবং অন্যান্য কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। সরকারি অর্থ পাওয়ার পর সেই অর্থের একটি অংশ ব্যক্তিগত সম্পদ ও অন্যান্য কাজে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত ফিডিং আওয়ার ফিউচার জালিয়াতি তদন্তের অংশ। কোভিড-১৯ মহামারির সময় শিশুদের খাবার নিশ্চিত করতে ফেডারেল চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রামের নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ওই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মিনেসোটায় বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া হয় বলে ফেডারেল প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফিডিং আওয়ার ফিউচার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সাইট মিলে ২৪ কোটি ডলারের বেশি ফেডারেল চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রামের অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে সংগ্রহ ও বিতরণ করেছিল বলে অভিযোগ করা হয়। জালিয়াতির জন্য ভুয়া খাবারের ইনভয়েস, মিথ্যা খাবার বিতরণের হিসাব এবং ভুয়া উপস্থিতির তালিকা ব্যবহারের অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে। এই কর্মসূচির অর্থ মূলত নিম্নআয়ের ও প্রয়োজন থাকা শিশুদের খাবার সরবরাহের ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের অধীন ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিস এ কর্মসূচি পরিচালনা করে এবং রাজ্য পর্যায়ে এর অর্থ বিতরণ করা হয়। মহামারির সময় কর্মসূচির আওতা ও অংশগ্রহণের নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল, যা জালিয়াতির সুযোগ তৈরি করেছিল বলে ফেডারেল তদন্তে দাবি করা হয়েছে। এফবিআই জানিয়েছে, নুরের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে সংস্থার টিপ লাইনে যোগাযোগ করা যেতে পারে। স্থানীয় এফবিআই অফিস, নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমেও তথ্য দেওয়া যাবে। তবে পুরস্কার পেতে হলে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নুরকে গ্রেপ্তার এবং শেষ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হতে হবে। ফেডারেল অভিযোগের ক্ষেত্রে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন। নুরের বিরুদ্ধেও অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এফবিআই তাকে ধরতে নতুন করে জনসাধারণের সহায়তা চাওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই তদন্তে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা জোরদার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত হামলাকারী থমাস ম্যাথিউ ক্রুকসের দাহ করার খরচ একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি বহন করেছেন বলে নতুন নথিতে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই পেনসিলভানিয়ার বাটলারে ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে গুলির ঘটনায় ক্রুকস ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সম্প্রতি প্রকাশিত ফেডারেল নথি পর্যালোচনা করে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ক্রুকসের পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তার দাহের খরচ একজন অজ্ঞাত দাতা পরিশোধ করেন। ক্রুকসের দাহ নিয়ে নতুন তথ্যটি উঠে এসেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার তদন্তসংক্রান্ত নথিতে। এসব নথি সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান চাক গ্রাসলির কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। নথিতে ক্রুকসের বাবা ম্যাথিউ ক্রুকসের সঙ্গে তদন্তকারীদের সাক্ষাৎকারের সারাংশও রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ওই সময় পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি ভালো ছিল না। ক্রুকসের বাবা বেকার ছিলেন এবং তার মা ছুটিতে ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে শেষকৃত্যের ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে ক্রুকসের মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও পরে দাহ করা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে মরদেহ দাহ করা হয় বলে তদন্তসংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা যায়। এ ঘটনায় আইনপ্রণেতা ক্লে হিগিন্স বিশেষভাবে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন হামলার মাত্র ১০ দিন পর এফবিআই ক্রুকসের মরদেহ পরিবারের কাছে ছেড়ে দিয়েছিল এবং পরে সেটি দাহ করা হয়। এফবিআই অবশ্য জানিয়েছে, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল। সংস্থাটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঘটনাস্থল নিরাপদ করার পর বাটলার কাউন্টি করোনারের কার্যালয় মরদেহটি গ্রহণ করে। পরে অ্যালেগেনি কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়ে ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর বাটলার কাউন্টি করোনারের কার্যালয় এফবিআইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে জানতে চায়, মরদেহ নিয়ে তদন্তের আর কোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাকি আছে কি না। এফবিআই ও পেনসিলভানিয়া স্টেট পুলিশ এরপর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরে সম্মতি দেয়। এফবিআই স্পষ্ট করে বলেছিল, কোনো মৃত সন্দেহভাজনের মরদেহ তদন্তের প্রয়োজনে অনির্দিষ্ট সময় ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রাখা তাদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়। সংস্থাটির কাছে ক্রুকসের ময়নাতদন্ত ও টক্সিকোলজি রিপোর্টও হস্তান্তর করা হয়েছিল। ময়নাতদন্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্রুকসের মৃত্যু হয়। তার শরীর ও ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা পর্যালোচনাযোগ্য আলামত সিক্রেট সার্ভিসের পাল্টা গুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। টক্সিকোলজি পরীক্ষায় অ্যালকোহল ও অপব্যবহৃত মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই বাটলারের নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ক্রুকস গুলি চালান। এ ঘটনায় সমাবেশে থাকা একজন নিহত হন এবং ট্রাম্পসহ আরও দুজন আহত হন। এফবিআই ঘটনাটিকে প্রেসিডেন্টকে হত্যার চেষ্টা এবং সম্ভাব্য দেশীয় সন্ত্রাসবাদ হিসেবে তদন্ত করে। সংস্থাটি পরে জানায়, তদন্তে ক্রুকসের কোনো সহযোগী বা সহষড়যন্ত্রকারী থাকার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তার হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা মোটিভ নিয়ে তদন্তকারীরা নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। তদন্তে আরও জানা যায়, হামলার আগে ক্রুকস বাটলারের সমাবেশস্থলের কাছে একটি ভবনের ছাদে উঠেছিলেন। স্থানীয় ব্যবসার ভিডিও, পুলিশ ড্যাশক্যাম ও বডিক্যামের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এফবিআই জানায়, তিনি সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটের দিকে ছাদে ওঠেন এবং প্রায় ৬টা ১১ মিনিটে গুলি চালান। অর্থাৎ হামলার আগে তিনি প্রায় ছয় মিনিট ছাদে অবস্থান করেছিলেন। এফবিআইয়ের তদন্তে আরও উঠে আসে, হামলার আগে তিনি প্রায় ১১ মিনিট ড্রোন উড়িয়েছিলেন, যা তদন্তকারীদের মতে সমাবেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে সহায়ক হতে পারে। ক্রুকসের দাহের খরচ অজ্ঞাত কোনো ব্যক্তি কেন বহন করেছেন, ওই ব্যক্তি কে এবং কেন তিনি পরিবারের হয়ে এই ব্যয় করেছেন, সে বিষয়ে প্রকাশ্য নথিতে বিস্তারিত তথ্য নেই। নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, এ বিষয়ে ক্রুকসের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মরদেহ দাহের অর্থ কে দিয়েছেন, সেই তথ্য নতুন করে প্রকাশ পাওয়ায় হামলার পর ক্রুকসের মরদেহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নগুলো আবার সামনে এসেছে। তবে এফবিআইয়ের প্রকাশ্য বক্তব্য অনুযায়ী, মরদেহ পরিবারের কাছে দেওয়ার আগে ময়নাতদন্ত, টক্সিকোলজি পরীক্ষা এবং তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির নিউয়ার্ক থেকে মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডসগামী একটি ফ্লাইটে ক্লান্ত এক মায়ের শিশুকে কোলে তুলে নিয়ে তাকে বিশ্রামের সুযোগ করে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট মনিক হ্যারিস। ঘটনাটি ঘটে ২ সেপ্টেম্বরের একটি ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে, যা পরিচালনা করছিল রিপাবলিক এয়ারওয়েজ। ফ্লাইট চলাকালে হ্যারিস লক্ষ্য করেন, এক মা শিশুকে কোলে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছেন। একপর্যায়ে শিশুটি মায়ের কোলে থেকে পিছলে পড়তে শুরু করলে হ্যারিস দ্রুত এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে ধরে ফেলেন। পরে তিনি শিশুটিকে নিজের কোলে রেখে মাকে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেন। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করছিলেন যাত্রী জন ফ্রেসে। তিনি মুহূর্তটির একটি ছবি তোলেন এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটি প্রকাশ করেন। ছবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পোস্টটিতে ২ লাখের বেশি লাইক পড়ে এবং হাজারো মানুষ মন্তব্য ও শেয়ার করেন। ফ্রেসের বর্ণনা অনুযায়ী, মা ছিলেন নতুন মা এবং ভীষণ ক্লান্ত। শিশুটি নড়াচড়া শুরু করলে হ্যারিস দ্রুত তাকে ধরে ফেলেন এবং মাকে আশ্বস্ত করে বিশ্রাম নিতে বলেন। হ্যারিসের এই আচরণকে যাত্রীরা তার দায়িত্বের বাইরে গিয়ে মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রশংসা করেন। হ্যারিস পরে জানান, তিনি কোনো স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য কাজটি করেননি। তার ভাষায়, মানুষের জন্য এমন ছোট ছোট কিছু কাজ করা যায়, যা হয়তো কেউ কখনো দেখবে না; কিন্তু তা কারও জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঘটনাটি এবার একজন যাত্রী দেখেছেন এবং সেই মুহূর্তই তাকে হাজারো মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলেছে। রিপাবলিক এয়ারওয়েজও হ্যারিসের প্রশংসা করেছে এবং তাকে নিজেদের দলের একজন অসাধারণ সহকর্মী ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হ্যারিসের এই মানবিক আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে ক্লান্ত নতুন মায়ের পাশে একজন অপরিচিত মানুষের এমন তাৎক্ষণিক সহায়তা অনেকের কাছে সহমর্মিতা ও মানবিকতার একটি সুন্দর উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একদল ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মালিক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, সীমান্ত দেয়াল, ব্যারিয়ার ও সড়ক নির্মাণের জন্য তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলাটি করা হয়েছে টেক্সাসের বিগ বেন্ড অঞ্চলে সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ ঠেকাতে। ছয়জন জমির মালিক এবং পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষায় কাজ করা সংগঠন কনজার্ভ বিগ বেন্ড মামলাটিতে যুক্ত হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, আরও প্রায় ২৩০ জন জমির মালিক এই উদ্যোগের সঙ্গে রয়েছেন। ঘটনাটির বিশেষ দিক হলো, মামলাকারীদের মধ্যে এমন স্থানীয় বাসিন্দাও রয়েছেন যারা কয়েক বছর আগে সীমান্তে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের দাবি জানিয়েছিলেন এবং তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের সীমান্তনীতি নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। তাদের বক্তব্য, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজন তারা অস্বীকার করছেন না; তবে এর অর্থ ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে দেয়াল নির্মাণ মেনে নেওয়া নয়। ভ্যাল ভার্দে কাউন্টির র্যাঞ্চার ও সাবেক কাউন্টি বিচারক লরা অ্যালেন, যিনি নিজেকে দুইবারের ট্রাম্প ভোটার হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, সংবাদ সম্মেলনে বলেন—সীমান্ত নিরাপদ করার জন্য তারা ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন, কিন্তু এখন দেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার সময় এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তজুড়ে বড় পরিসরে অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু স্টিলের দেয়াল, যানবাহন ঠেকানোর ব্যারিয়ার, টহল সড়ক, আলো, ক্যামেরা ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো সীমান্ত প্রকল্পে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মামলাকারীদের মূল আপত্তি হলো, বিগ বেন্ড এলাকাকে ‘অবৈধ প্রবেশের উচ্চ ঝুঁকির এলাকা’ হিসেবে দেখিয়ে প্রশাসন দ্রুত নির্মাণের জন্য পরিবেশ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও অন্যান্য সুরক্ষা-সংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করছে। তাদের দাবি, এই অঞ্চলে সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা অন্যান্য এলাকার তুলনায় অনেক কম। সিবিপির তথ্য উদ্ধৃত করে মামলায় বলা হয়েছে, বিগ বেন্ড সেক্টরে দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের মোট আটক বা গ্রেপ্তারের প্রায় ১ শতাংশ ঘটে, যদিও মেক্সিকোর সঙ্গে এই অঞ্চলের সীমান্তের দৈর্ঘ্য মোট সীমান্তের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। মামলায় ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়ও তোলা হয়েছে। স্থানীয় জমির মালিকদের অনেকে আশঙ্কা করছেন, সীমান্ত ব্যারিয়ার নির্মাণ হলে তাদের র্যাঞ্চ ও কৃষিজমি থেকে রিও গ্রান্ডে নদীর পানির প্রবেশাধিকার সীমিত হতে পারে। এতে কৃষিকাজ, পশুপালন ও স্থানীয় ব্যবসায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে বিগ বেন্ড ন্যাশনাল পার্কের আশপাশে সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক চলছে। পরিবেশবাদী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এসব নির্মাণের কারণে বন্যপ্রাণীর চলাচল, প্রাকৃতিক পরিবেশ, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা এবং পর্যটন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টের গেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে দুর্বৃত্তরা একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় বলে জানা যায়। ঘটনাস্থলে থাকা শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মাসুদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ঘটনাটির সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্তের চেষ্টা করছে। এর আগে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামিই পলাতক। মামলার বিচারকাজে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, আন্দোলন দমনে সহিংসতায় উসকানি, অর্থের জোগান ও ষড়যন্ত্রের মতো অভিযোগ তুলে ধরে। প্রসিকিউশন ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, বিভিন্ন কল রেকর্ড, নথিপত্র, জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করে। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়েছিলেন। ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পক্ষে আইনজীবী এম হাসান ইমাম যুক্তি দেন, ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশ জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছিল এবং এর মূল দায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এর মধ্যেই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় ঘটনাস্থলে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক ১৪ সেপ্টেম্বর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের কাছে বর্তমানে কক্ষপথে থাকা ‘অন-অরবিট স্পেস কন্ট্রোল উইপনস’ বা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র রয়েছে। তার ভাষ্য, এসব অস্ত্র শত্রুপক্ষের হামলা থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম। মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেইঙ্ক এ তথ্য জানান। তবে তিনি অস্ত্রগুলোর ধরন, সংখ্যা, অবস্থান কিংবা কখন সেগুলো কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে—কোনোটিই প্রকাশ করেননি। এমনকি এসব অস্ত্র ইতোমধ্যে পরীক্ষিত হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নেরও বিস্তারিত উত্তর দেননি। মেইঙ্কের এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ এতদিন যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশযুদ্ধের জন্য বিভিন্ন সক্ষমতা তৈরির কথা বললেও কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি এত সরাসরি প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মাধ্যমে মহাকাশ এখন ভবিষ্যৎ সামরিক সংঘাতের আরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে সামনে চলে এসেছে। মার্কিন সামরিক ব্যবস্থায় মহাকাশের গুরুত্ব ইতোমধ্যে অনেক বেড়েছে। যোগাযোগ, নেভিগেশন, ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণে স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে কোনো বড় সংঘাতে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট অকার্যকর করা গেলে তার সামরিক সক্ষমতার ওপর বড় প্রভাব পড়তে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের অস্ত্র কক্ষপথে রেখেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এগুলো সরাসরি কোনো স্যাটেলাইট ধ্বংস করার কাইনেটিক অস্ত্র না হয়ে ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সরঞ্জাম, যেমন জ্যামার বা অন্য কোনো নন-কাইনেটিক ব্যবস্থা হতে পারে। কারণ স্যাটেলাইট ধ্বংস করলে বিপুল পরিমাণ মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ তৈরি হতে পারে, যা নিজেদের স্যাটেলাইটের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করবে। মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার মধ্যে অবশ্য শুধু স্যাটেলাইট ধ্বংসের অস্ত্রই পড়ে না। শত্রুর স্যাটেলাইটের যোগাযোগ ব্যাহত করা, সেন্সর অকার্যকর করা বা মহাকাশভিত্তিক সামরিক ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করার প্রযুক্তিও এর আওতায় পড়তে পারে। তাই ‘মহাকাশে অস্ত্র’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট অস্ত্রের প্রকৃত সক্ষমতার ওপর। যুক্তরাষ্ট্র এই সক্ষমতা বাড়ানোর পেছনে চীন ও রাশিয়ার মহাকাশভিত্তিক সামরিক কার্যক্রমকে বড় কারণ হিসেবে তুলে ধরছে। মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, দুই দেশই মার্কিন ও মিত্রদের স্যাটেলাইটকে নজরদারি, বাধাগ্রস্ত বা সম্ভাব্যভাবে আক্রমণ করার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। মার্কিন স্পেস ফোর্সের নিজস্ব মূল্যায়নেও চীনের দ্রুত বাড়তে থাকা মহাকাশ সক্ষমতা ও স্যাটেলাইটভিত্তিক সামরিক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘোষণার ফলে মহাকাশে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। মহাকাশ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ভিক্টোরিয়া স্যামসনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন প্রকাশ্যে স্বীকার করায় চীন ও রাশিয়াও নিজেদের মহাকাশ অস্ত্র কর্মসূচির কথা সামনে আনার সুযোগ পেতে পারে। এতে একে অন্যের অস্ত্র মোতায়েনকে পরবর্তী পদক্ষেপের যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করার ঝুঁকি রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য হলো, এসব ব্যবস্থা প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজন। মেইঙ্ক বলেছেন, মহাকাশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশটিকে সেখানে স্বাধীনভাবে কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা ধরে রাখতে হবে। ফলে ভবিষ্যতের যুদ্ধ শুধু স্থল, আকাশ ও সমুদ্রে সীমাবদ্ধ না থেকে স্যাটেলাইট ও মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে। Source: এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিন
জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাতজনই মামলায় পলাতক ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা, উসকানি, অর্থের জোগান ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর সহিংসতা চালানো হয়। প্রসিকিউশন সাত আসামির বিরুদ্ধে ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, কল রেকর্ড, বিভিন্ন নথি, জাতিসংঘের প্রতিবেদন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করে। ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ বিশেষভাবে আন্দোলন দমনে নির্দেশনা ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ এনেছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, বিভিন্ন কল রেকর্ডে আন্দোলনকারীদের দমন এবং ইন্টারনেট ধীর বা বন্ধ করার বিষয়ে কথোপকথনের তথ্য রয়েছে। এসব তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছিল। মামলাটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হওয়া ধারাবাহিক মামলাগুলোর একটি। এর আগে ১৭ আগস্ট উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। ১৪ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল ১৫ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছিল। রায়ের আগে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছিল, সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের খালাসের আশা প্রকাশ করেছিলেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই রায়ের মধ্য দিয়ে জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় হলো। দণ্ডপ্রাপ্ত সাতজনের সবাই পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে রায় কার্যকর করার বিষয়টি পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। Source: ইত্তেফাক, দ্য ডেইলি স্টার
যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা মার্কিন সেনাদের পরিবারের সদস্যদের আটক ও ডিপোর্টেশনের ঘটনা বাড়ছে, এমন সময় পেন্টাগন আবারও অভিবাসী সম্প্রদায় থেকে সেনা নিয়োগ বাড়াচ্ছে। এবিসি নিউজের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ৫০ জনের বেশি সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনার বাবা-মা ও স্বামী-স্ত্রীকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করেছে; তাদের মধ্যে অন্তত ৬ জনকে ডিপোর্ট করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির একটি উদাহরণ মার্কিন সেনাবাহিনীর স্পেশালিস্ট জেসমিন হার্নান্দেজের পরিবার। তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা বলেছেন। কিন্তু তার বাবা অ্যানিসেতো হার্নান্দেজ-রেইনাকে চলতি বছরের মে মাসে আইসিই আটক করে। ওই সময় তিনি মিলিটারি প্যারোল ইন প্লেস কর্মসূচির জন্য আবেদন করে অপেক্ষায় ছিলেন। মিলিটারি প্যারোল ইন প্লেস এমন একটি অভিবাসন কর্মসূচি, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনা, সাবেক সেনা বা তাদের পরিবারের কিছু অনথিভুক্ত সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে থাকার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এই কর্মসূচিতে আবেদন করা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা দেয় না—ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসও বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। এবিসি নিউজের পর্যালোচনা অনুযায়ী, হার্নান্দেজের বাবার বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তার ২০০২ সালের একটি ডিইউআইসহ কয়েকটি ট্রাফিক-সংক্রান্ত রেকর্ড রয়েছে। বর্তমানে তিনি অ্যারিজোনার ইলোয় ডিটেনশন সেন্টারে আছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর আগে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের অনুসন্ধানে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ৫২টি সামরিক পরিবারের সদস্য আটক হওয়ার ঘটনা শনাক্ত করা হয়। এসব পরিবারের সদস্য ছিলেন সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাদের বাবা-মা বা স্বামী-স্ত্রী। এপির অনুসন্ধানে অন্তত ছয়জন ডিপোর্ট হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়; সরকারি কোনো নির্দিষ্ট হিসাব না থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরাও তদন্ত শুরু করেছেন। ৬০ জনের বেশি আইনপ্রণেতা ডিএইচএস, ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট ও ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের কাছে জানতে চেয়েছেন, সামরিক পরিবারের সদস্যদের আটক ও ডিপোর্টেশনের ক্ষেত্রে পেন্টাগন এবং ডিএইচএসের মধ্যে কোনো সমন্বয় রয়েছে কি না। পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা আইনপ্রণেতাদের চিঠির জবাব সরাসরি দেবে। অন্যদিকে, একই সময়ে পেন্টাগন গ্রিন কার্ডধারী অভিবাসীদের নিয়োগ বাড়াচ্ছে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীতে জনবল বাড়ানোর অংশ হিসেবে অভিবাসী সম্প্রদায় থেকে নিয়োগের ওপর গুরুত্ব বাড়ছে। ফলে একদিকে অভিবাসী পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইসিইর অভিযান, অন্যদিকে অভিবাসী সম্প্রদায় থেকেই সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ—এই দুই নীতির মধ্যে একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য বিষয়টি শুধু পারিবারিক সংকট নয়, সেনাদের মানসিক চাপ ও সামরিক প্রস্তুতির সঙ্গেও যুক্ত বলে সামরিক নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি আর্মি আইনি নোটিশে বলা হয়েছিল,পরিবারের সদস্যের অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা সেনাসদস্যের মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং দায়িত্ব পালনে মনোযোগ ব্যাহত করতে পারে। তবে ডিএইচএসের অবস্থান হলো, শুধু মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কাজ করার কারণে পরিবারের কোনো অনথিভুক্ত সদস্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা পান না এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের পরিণতি থেকেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি মেলে না। ফলে বর্তমানে সামরিক পরিবারের সদস্যদের জন্য অভিবাসন সুরক্ষা, সামরিক দায়িত্ব ও ডিপোর্টেশন নীতির সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রে বড় রাজনৈতিক ও মানবিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত শিক্ষকনির্ভর শ্রেণিকক্ষের বদলে এআই ও অ্যাডাপটিভ লার্নিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে পড়াশোনার নতুন মডেলের বিস্তার ঘটছে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলফা স্কুল নামের একটি বেসরকারি স্কুল নেটওয়ার্ক ইতোমধ্যে বা শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি অঙ্গরাজ্যে ক্যাম্পাস পরিচালনা বা চালুর পরিকল্পনা করছে। এই মডেলে প্রচলিত অর্থে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পাঠদান করেন না। শিক্ষার্থীরা এআইভিত্তিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিজেদের গতিতে গণিত, ইংরেজিসহ মূল একাডেমিক বিষয় শেখে। স্কুলটির মডেল অনুযায়ী, দিনের একটি বড় অংশ একাডেমিক শিক্ষার বদলে যোগাযোগ দক্ষতা, আর্থিক জ্ঞান, প্রকল্পভিত্তিক কাজসহ বিভিন্ন জীবনমুখী দক্ষতা তৈরিতে ব্যয় করা হয়। আলফা স্কুলের মডেলের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো ‘টু-আওয়ার কোর’ পদ্ধতি। এতে শিক্ষার্থীরা সকালে প্রায় দুই ঘণ্টা এআইভিত্তিক ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষার মাধ্যমে মূল একাডেমিক বিষয়গুলো শেখে। এরপর দিনের বাকি সময়ে তারা বিভিন্ন জীবনদক্ষতা ও প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রমে অংশ নেয়। তবে ‘শিক্ষক ছাড়াই স্কুল’ কথাটি পুরোপুরি আক্ষরিক নয়। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দেখভাল ও সহায়তার জন্য কর্মীরা থাকেন, যাদের অনেক ক্ষেত্রে ‘গাইড’ বলা হয়। তারা শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং স্কুলের পরিবেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন। আলফা স্কুল এরই মধ্যে অস্টিন, নিউইয়র্ক ও মিয়ামিতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং ২০২৬ সালে শিকাগো, আটলান্টা, শার্লট, র্যালি ও ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি এলাকায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে। এআইনির্ভর এই মডেল নিয়ে অবশ্য শিক্ষক সংগঠন ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে একই সময়ে আরও বিভিন্ন বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থার প্রসার ঘটছে। সান অ্যান্টোনিওর মতো শহরে মাইক্রোস্কুল, চার্টার স্কুল ও ভার্চুয়াল স্কুল জনপ্রিয় হচ্ছে। কিছু মাইক্রোস্কুলে মাত্র ২০ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থী থাকে এবং একই শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে শেখে। এই পরিবর্তনের পেছনে অভিভাবকদের স্কুল বেছে নেওয়ার স্বাধীনতার চাহিদাও বড় ভূমিকা রাখছে। ২০২৬ সালের ন্যাশনাল স্কুল চয়েস উইক-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪৬ মিলিয়ন অভিভাবক অন্তত একটি সন্তানের জন্য নতুন বা ভিন্ন ধরনের স্কুল বিবেচনা, খোঁজ বা নির্বাচন করেছেন। তবে এআইনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল, সামাজিক ও মানসিক বিকাশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় সব পরিবারের সমান সুযোগ—এসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলের এই নতুন মডেল শুধু প্রযুক্তির পরিবর্তন নয়, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ভবিষ্যতের শিক্ষা কেমন হবে—সেই বড় প্রশ্নও সামনে আনছে।
আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতের দিল্লিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা—এমন দাবি করেছে টাইমস অব বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার মধ্যেই ভারতে অবস্থানরত দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ জন নেতা মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। কেন্দ্রীয় কমিটির বাইরেও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল উপস্থিত থাকবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সোমবার সংবাদমাধ্যমটিকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তার ভাষ্য, ভারতে অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনা মতবিনিময় করবেন। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা থাকছে না। অর্থাৎ আলোচনার বিষয়বস্তু আগে থেকে নির্দিষ্ট করা হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। এদিকে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি এই বৈঠকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করেছিল। Source: টাইমস অব বাংলাদেশ;