- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতের দিল্লিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা—এমন দাবি করেছে টাইমস অব বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার মধ্যেই ভারতে অবস্থানরত দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ জন নেতা মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। কেন্দ্রীয় কমিটির বাইরেও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল উপস্থিত থাকবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সোমবার সংবাদমাধ্যমটিকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তার ভাষ্য, ভারতে অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনা মতবিনিময় করবেন। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা থাকছে না। অর্থাৎ আলোচনার বিষয়বস্তু আগে থেকে নির্দিষ্ট করা হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। এদিকে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি এই বৈঠকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করেছিল। Source: টাইমস অব বাংলাদেশ;
নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি মেরামত করাতে গিয়ে অনেকেই অপ্রত্যাশিত বড় বিলের মুখে পড়েন। কোনো কাজের খরচ আগে পরিষ্কার না করা, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কাজ করানো কিংবা যন্ত্রাংশ ও শ্রমের খরচ সম্পর্কে না জানার কারণে শেষ পর্যন্ত গুনতে হতে পারে অতিরিক্ত টাকা। তবে মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করলে অপ্রয়োজনীয় খরচের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্রথমেই গাড়ির সমস্যার প্রাথমিক তথ্য জেনে নিন। বিশেষ করে ইঞ্জিনের ত্রুটির সংকেত জ্বললে সরাসরি বড় ধরনের মেরামতের সিদ্ধান্ত না নিয়ে ওবিডি স্ক্যানের মাধ্যমে সমস্যার সংকেত জানা যেতে পারে। কিছু গাড়ির যন্ত্রাংশের দোকানে এই ধরনের স্ক্যান বিনামূল্যে করা হয়, তবে সেবার নিয়ম ও খরচ দোকানভেদে ভিন্ন হতে পারে। সমস্যার সংকেত জানা থাকলে মেকানিকের সঙ্গে কথা বলার সময় বিষয়টি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। তবে শুধু স্ক্যানের সংকেত দেখে কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েছে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। প্রকৃত কারণ জানতে পেশাদারভাবে গাড়ি পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। দ্বিতীয়ত, কাজ শুরু করার আগে লিখিত খরচের হিসাব নিন। সেখানে কী সমস্যা, কোন যন্ত্রাংশ লাগবে, শ্রমের খরচ কত এবং মোট সম্ভাব্য ব্যয় কত হতে পারে, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকা উচিত। ফেডারেল ট্রেড কমিশনও গাড়ি মেরামতের আগে লিখিত খরচের হিসাব নেওয়ার পরামর্শ দেয়। ব্যয়বহুল বা জটিল মেরামতের ক্ষেত্রে একাধিক দোকান থেকে হিসাব নিয়ে তুলনা করাও ভালো। গাড়ির সমস্যা শনাক্ত করার জন্য আলাদা কোনো ফি আছে কি না, সেটিও আগে জেনে নিন। নিউইয়র্কে গাড়ির মালিকদের জন্য লিখিত হিসাব এবং অনুমতির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকলসের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহক চাইলে মেরামতের দোকানকে খরচের হিসাব দিতে হয়। অনুমোদিত হিসাবের চেয়ে বেশি খরচ করতে হলে অতিরিক্ত কাজের জন্য গ্রাহকের অনুমতি প্রয়োজন। তাই মুখের কথায় কাজ শুরু না করে লিখিত কাগজে মেরামতের ধরন ও সম্ভাব্য খরচ পরিষ্কার করে নেওয়া নিরাপদ। তৃতীয়ত, গাড়িতে কোন ধরনের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হবে তা জেনে নিন। প্রস্তুতকারকের মূল যন্ত্রাংশ, বিকল্প প্রস্তুতকারকের যন্ত্রাংশ, পুনর্নির্মিত যন্ত্রাংশ এবং ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। দামও এক নয়। সব ক্ষেত্রে সবচেয়ে দামি যন্ত্রাংশই প্রয়োজনীয়, এমন নয়। আবার গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক বা নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে সস্তা বিকল্প নেওয়ার আগে এর মান, গাড়ির সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং গ্যারান্টি সম্পর্কে জানতে হবে। সম্ভব হলে হিসাবের কাগজে যন্ত্রাংশের নাম ও নম্বর লিখিয়ে রাখুন। চতুর্থত, শ্রমের ঘণ্টাপ্রতি খরচ এবং গাড়ির সমস্যা শনাক্ত করার ফি আগে জেনে নিন। কোনো দোকান ঘণ্টা হিসেবে শ্রমের খরচ নেয়, আবার কোনো কাজের জন্য নির্ধারিত হারে খরচ নেয়। একইভাবে গাড়ির সমস্যা শনাক্ত করার জন্য আলাদা ফি থাকতে পারে। মেরামতের কাজ করালে সেই ফি মোট বিল থেকে বাদ দেওয়া হবে কি না, সেটিও আগে জেনে নেওয়া উচিত। কাজ শুরুর আগেই দোকানটি কীভাবে শ্রমের খরচ হিসাব করে, তা পরিষ্কার করে নিন। পঞ্চমত, পুরনো যন্ত্রাংশের বিষয়ে আগে থেকেই কথা বলুন। বদলে দেওয়া যন্ত্রাংশ দেখতে বা ফেরত নিতে চাইলে কাজ শুরুর আগেই দোকানকে জানানো ভালো। নিউইয়র্কে গ্রাহক আগে লিখিতভাবে অনুরোধ করলে বদলে দেওয়া কিছু যন্ত্রাংশ ফেরত দেওয়ার নিয়ম রয়েছে, যদিও এর কিছু ব্যতিক্রম থাকতে পারে। কাজ শেষে বিস্তারিত বিল নিন। সেখানে কোন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে এবং শ্রমের জন্য কত টাকা নেওয়া হয়েছে, তা দেখে নিন। ষষ্ঠত, গ্যারান্টির বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝে নিন। শুধু গ্যারান্টি আছে শুনে কাজ করাবেন না। কোন যন্ত্রাংশের ওপর গ্যারান্টি রয়েছে, কতদিন বা কত মাইল পর্যন্ত তা কার্যকর, যন্ত্রাংশ ও শ্রম দুটোই এর আওতায় রয়েছে কি না এবং কোনো বিশেষ শর্ত আছে কি না, লিখিতভাবে জেনে নিন। গাড়ির মেরামতের সঙ্গে কোনো সেবা চুক্তি থাকলে কোন কাজ বা যন্ত্রাংশ তার আওতায় পড়বে, সেটিও আগে দেখে নেওয়া উচিত। সপ্তমত, মেরামতের দোকানের সুনাম ও মেকানিকের যোগ্যতা যাচাই করুন। পরিচিত মানুষ বা বিশ্বস্ত কমিউনিটির কাছ থেকে সুপারিশ নেওয়া যেতে পারে। অনলাইন পর্যালোচনা দেখার সময় শুধু সামগ্রিক নম্বর নয়, সাম্প্রতিক অভিযোগ এবং গ্রাহকদের বিস্তারিত অভিজ্ঞতাও পড়ুন। এএসই সনদ থাকা মেকানিকদের নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার মানদণ্ড পূরণের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে শুধু সনদ দেখেই কোনো দোকানকে ভালো বা বিশ্বস্ত ধরে নেওয়া উচিত নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বড় ধরনের গাড়ি মেরামতের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। একই সমস্যার জন্য সম্ভব হলে একাধিক দোকান থেকে লিখিত হিসাব নিন এবং কোন কাজটি জরুরি, আর কোনটি পরে করা যেতে পারে, তা মেকানিককে জিজ্ঞেস করুন। গাড়ি মেরামতের সব হিসাব, অনুমতিপত্র এবং যোগাযোগের রেকর্ড সংরক্ষণ করুন। এতে ভুল বিল বা অনুমতি ছাড়া অতিরিক্ত কাজ নিয়ে কোনো সমস্যা হলে নিজের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারবেন। নিউইয়র্কে নিবন্ধিত কোনো গাড়ি মেরামতের দোকান নিয়ে অভিযোগ থাকলে গ্রাহক স্টেট ডিএমভির মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর সুযোগ পান। তবে গাড়ি মেরামতসংক্রান্ত আইন ও গ্রাহকের অধিকার অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই বড় ধরনের মেরামতের আগে নিজের অঙ্গরাজ্যের নিয়ম জেনে নেওয়া এবং লিখিত হিসাব ও অনুমতি ছাড়া বড় অঙ্কের কাজে সম্মতি না দেওয়াই নিরাপদ পদ্ধতি।
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর মন্ত্রী ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনীর কাছে কক্ষপথে থাকা ‘স্পেস কন্ট্রোল উইপনস’ রয়েছে, যেগুলো শত্রুপক্ষের হামলা মোকাবিলা এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখার জন্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি। ১৪ সেপ্টেম্বর মেরিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। এর মধ্য দিয়ে মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার বিষয়ে ওয়াশিংটন প্রথমবারের মতো সরাসরি অবস্থান জানাল। মেইঙ্ক বলেন, মহাকাশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন ও রাশিয়ার মহাকাশ সক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ব্যবস্থা নিতে হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে কক্ষপথে থাকা মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়া যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন কক্ষপথভিত্তিক মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখছে, যা সম্ভাব্য শত্রুর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক বাহিনীকে প্রতিরক্ষায় সহায়তা করতে পারে। তিনি আরও জানান, মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রাধান্য ধরে রাখা ওয়াশিংটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র কক্ষপথে রয়েছে, সেগুলো কীভাবে কাজ করে কিংবা কোথায় মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি মার্কিন সরকার। মেইঙ্ক বলেন, অস্ত্রগুলোর সক্ষমতা ও পরীক্ষার বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হবে না। তিনি মহাকাশভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুটি কর্মসূচির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে স্পেস বেইজড ইন্টারসেপ্টর কর্মসূচি এবং স্পেস বেইজড এয়ার মুভিং টার্গেট ইন্ডিকেশন ব্যবস্থা। স্পেস বেইজড ইন্টারসেপ্টর কর্মসূচিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা উদ্যোগের অংশ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মহাকাশকে ঘিরে ওয়াশিংটন, বেইজিং ও মস্কোর মধ্যে সামরিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে। মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, চীন দ্রুত এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা মহাকাশে থাকা লক্ষ্য শনাক্ত, অনুসরণ এবং প্রয়োজন হলে অকার্যকর করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। রাশিয়াও মহাকাশকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশে সামরিক স্যাটেলাইট ও মহাকাশযানের গতিবিধি নিয়েও নতুন ধরনের সামরিক মহড়া পরিচালনা করেছে। মহাকাশে সামরিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি কক্ষপথে পারমাণবিক অস্ত্রসহ গণবিধ্বংসী অস্ত্র স্থাপন নিষিদ্ধ করেছে। তবে চুক্তিটি সব ধরনের প্রচলিত মহাকাশভিত্তিক সামরিক প্রযুক্তি নিষিদ্ধ করে না। ফলে স্যাটেলাইটকে জ্যাম করা, অন্য স্যাটেলাইটের গতিবিধি বাধাগ্রস্ত করা কিংবা কক্ষপথে থাকা কোনো ব্যবস্থাকে অকার্যকর করার মতো প্রযুক্তি নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা বহুদিন ধরেই চলছে। নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের কক্ষপথভিত্তিক অস্ত্রের অস্তিত্ব স্বীকার করা সেই প্রতিযোগিতাকে আরও প্রকাশ্য করে তুলল। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মহাকাশে অস্ত্রের উপস্থিতি প্রকাশ্যে আসার ফলে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন ধরনের সামরিক প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে। পৃথিবীর কক্ষপথ ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক বাণিজ্যিক ও সামরিক স্যাটেলাইটে ভরে উঠছে। এসব স্যাটেলাইট যোগাযোগ, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, নেভিগেশন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সামরিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো সংঘাতে স্যাটেলাইট অকার্যকর হলে তার প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বেসামরিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও পড়তে পারে। মহাকাশে অস্ত্রের বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে মহাকাশের আবর্জনার কারণে। কোনো স্যাটেলাইট ধ্বংস হলে তার অসংখ্য ধ্বংসাবশেষ কক্ষপথে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা অন্য স্যাটেলাইট ও মহাকাশযানের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। একই সময়ে স্পেসএক্সের স্টারলিংকের মতো বিশাল স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক দ্রুত বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে মহাকাশে সামরিক সংঘাত হলে তার প্রভাব কতটা বিস্তৃত হতে পারে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বীকারোক্তি তাই শুধু একটি নতুন অস্ত্রের খবর নয়। এটি দেখাচ্ছে, আধুনিক সামরিক প্রতিযোগিতার পরবর্তী বড় ক্ষেত্র হিসেবে মহাকাশকে যুক্তরাষ্ট্র কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে ঠিক কী অস্ত্র কক্ষপথে রয়েছে এবং সেগুলোর প্রকৃত সক্ষমতা কতটা, সে বিষয়ে গোপনীয়তা বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতার পূর্ণ চিত্র এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
একসঙ্গে কোরআনের হাফেজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ প্রকৌশলী এবং মেডিকেল শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন জুবায়ের হোসাইন। পাশাপাশি তথ্যবিজ্ঞান ও যন্ত্রশিক্ষা নিয়েও কাজ করেছেন তিনি। তার এই ব্যতিক্রমী শিক্ষাযাত্রার গল্প সম্প্রতি ‘শর্ট স্টোরিজ’-এর এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে। সেখানে জুবায়ের নিজের পড়াশোনা, কর্মজীবন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। জুবায়েরের শিক্ষাজীবনের শুরু টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে। এরপর তিনি ঢাকার নটর ডেম কলেজে পড়াশোনা করেন এবং ২০১৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ২৭৩তম স্থান অর্জন করেন। একই সময়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজেও ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন বলে সাক্ষাৎকারে জানান তিনি। তবে প্রকৌশল শিক্ষার প্রতি আগ্রহ থেকেই শেষ পর্যন্ত বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হন। বুয়েটে পড়ার সময়ই প্রচলিত পড়াশোনার বাইরে নিজের আগ্রহের বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে কাজ শুরু করেন জুবায়ের। তড়িৎ প্রকৌশলের পাশাপাশি কোডিং প্রতিযোগিতা, তথ্যবিজ্ঞান ও যন্ত্রশিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শেষ দিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যবিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে চাকরিতেও যুক্ত হন। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এসব কাজের বেশ কয়েকটি ছিল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দূরবর্তীভাবে পরিচালিত। স্নাতক শেষ করার পর জুবায়ের তড়িৎ প্রকৌশলেই স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শুরু করেন। একই সময়ে জীবচিকিৎসা প্রকৌশল নিয়ে একটি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। পরিবারের একজন সদস্য ক্যানসারে মারা যাওয়ার অভিজ্ঞতাও তাকে নির্ভুল চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে পড়াশোনার প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলে বলে জানান তিনি। এরপর চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার জন্য জীবনের আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত নেন জুবায়ের। ২০২০ সালে আবারও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সমমানের ও-লেভেল ও এ-লেভেল পরীক্ষায় অংশ নেন। তার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশেই কোনো মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা। চেষ্টা করেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে দেশে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। পরে কিরগিজস্তানের কিরগিজ স্টেট মেডিকেল একাডেমিতে ভর্তি হন। সাক্ষাৎকারের সময় তিনি সেখানে দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছিলেন বলে জানান। চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতের কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন জুবায়ের। প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের তথ্য অনুযায়ী, তিনি তথ্যবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রকস্ট্রিমে কাজ করেছেন। এর আগে বিস্তা সলিউশনস ইনকরপোরেটেডে জ্যেষ্ঠ যন্ত্রশিক্ষা প্রকৌশলী হিসেবেও কাজ করেছেন। ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও তথ্যবিজ্ঞানের পেশাগত কাজও তার পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। জুবায়েরের জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় তিনি কোরআনের হাফেজ। ছোটবেলায় তিনি এমন একটি সমন্বিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন, যেখানে হিফজের পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমের পড়াশোনাও করানো হতো। সেখানেই তিনি পবিত্র কোরআন হিফজ করেন বলে সাক্ষাৎকারে জানান। হিফজ শেষ করার পরও নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত ও তারাবির নামাজের মাধ্যমে মুখস্থ পড়া ঝালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে প্রতি রমজানে তারাবির নামাজ পড়িয়েছেন বলে জানান জুবায়ের। ঢাকায় অবস্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলে কয়েক বছর তারাবির নামাজ পড়িয়েছেন। পরে কিরগিজস্তানে যাওয়ার পরও স্থানীয় মসজিদে তারাবির নামাজ পড়ানোর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষা ও কর্মজীবনের একাধিক ভিন্ন পথে এগিয়ে চললেও জুবায়েরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাংলাদেশকে ঘিরে। দেশে ফিরে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি নিজের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে তার। প্রকৌশল, তথ্যবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়ে তার যে পথচলা, সেটিই তার শিক্ষাজীবনকে অন্যদের তুলনায় আলাদা করে তুলেছে। জুবায়ের হোসাইনের গল্পটি প্রচলিত শিক্ষাপথের বাইরে নিজের আগ্রহ ও লক্ষ্য অনুযায়ী একাধিক জ্ঞানক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার একটি উদাহরণ। তবে তার শিক্ষাগত ও পেশাগত অর্জনগুলোর তথ্য তার নিজের বক্তব্য এবং ‘শর্ট স্টোরিজ’-এর প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে জানা গেছে। তার পথচলা দেখায়, একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ে আগ্রহ ধরে রেখে দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। সূত্র: প্রথম আলো
তুরস্কের হাতায় প্রদেশের ইস্কেন্দেরুনে অ্যাসিড হামলায় মুখ ও ডান চোখের গুরুতর ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন বারফিন ওজেক। হামলার প্রায় দুই বছর পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি সেই সাবেক প্রেমিক কাসি ওজান চেলতিককেই বিয়ে করেন, যিনি তার মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় ১৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি। ১৯ বছর বয়সী বারফিন একটি কোচিং সেন্টার থেকে বাড়ি ফেরার সময় তার কিছুদিন আগে বিচ্ছেদ হওয়া প্রেমিক কাসিম ওজান চেলতিকের অ্যাসিড হামলার শিকার হন। হামলায় তার মুখে গুরুতর দগ্ধের চিহ্ন তৈরি হয়। চিকিৎসার পরও মুখে স্থায়ী ক্ষতচিহ্ন থেকে যায় এবং তিনি ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। চোখের পাতা ও ঠোঁটেও পরবর্তী সময়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। হামলার পর চেলতিককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করার অপরাধে ১৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু মামলার পরবর্তী পর্যায়ে বারফিন তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। ২০২০ সালের এপ্রিলে তিনি আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করেছিলেন। পরে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন এবং সে সময় তিনি গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে ছিলেন বলে তুরস্কের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়। এরপর মামলার শেষ পর্যায়ে চেলতিককে মুক্তি দেওয়া হয়। বারফিন ও চেলতিকের মধ্যে আবার সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর হাতায়ের কুমলু জেলার একটি বিবাহ নিবন্ধন কার্যালয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সেই বিয়ের খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল, যে ব্যক্তির হামলায় বারফিন গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে তাকেই তিনি জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখানোর কথা বলেন, আবার অনেকে এমন সম্পর্কের পেছনে মানসিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বারফিনের বাবা ইয়াশার ওজেকও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিয়ের খবর জানতে পেরেছিলেন এবং এই বিয়েতে তিনি সম্মতি দেননি। গার্হস্থ্য সহিংসতার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত সবসময় সরল বা তাৎক্ষণিক হয় না। ভয়, মানসিক আঘাত, নির্ভরশীলতা, সামাজিক চাপ, অপরাধীর ওপর আবেগগত টান এবং সম্পর্কের জটিলতা একজন ভুক্তভোগীর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই বাইরে থেকে কোনো সিদ্ধান্তকে সহজভাবে বিচার না করে সহিংসতার শিকার ব্যক্তির নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা। বারফিনের ঘটনাটি একই সঙ্গে অ্যাসিড সহিংসতার ভয়াবহতাও সামনে আনে। অ্যাসিড হামলার শারীরিক ক্ষতি অনেক সময় চিকিৎসার পরও দীর্ঘস্থায়ী হয়। মুখের দাগ, দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনের পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের মধ্য দিয়েও যেতে হতে পারে। বারফিনের ক্ষেত্রেও হামলার পর মুখের গুরুতর ক্ষতি ও ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর বিষয়টি তুরস্কের একাধিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে বিয়ের খবর প্রকাশের পর বারফিনের গল্প আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচিত হয়। তবে ঘটনাটিকে শুধু একটি বিস্ময়কর বিয়ের গল্প হিসেবে দেখলে এর মূল বাস্তবতা আড়ালে পড়ে যায়। এর কেন্দ্রে রয়েছে একটি গুরুতর অ্যাসিড হামলা, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতি, একটি ফৌজদারি মামলা এবং পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীর নেওয়া অত্যন্ত বিতর্কিত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। ঘটনাটি গার্হস্থ্য সহিংসতার পর ভুক্তভোগীদের সম্পর্ক, নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থাকে আরও গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে আনে।
নিউইয়র্কের বাসিন্দা জোডি স্মিথের জীবনে দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও প্যানিক অ্যাটাক ছিল নিত্যসঙ্গী। পরে এপিলেপসি ধরা পড়ার পর ওষুধে নিয়ন্ত্রণ না আসায় ২৮ বছর বয়সে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারে ডান পাশের অ্যামিগডালা, হিপোক্যাম্পাস এবং ডান টেম্পোরাল লোবের সামনের অংশের টিস্যু অপসারণ করা হয়। এরপর স্মিথের দাবি, তার জীবনে ভয় অনুভব করার বিষয়টিই যেন বদলে যায়। স্মিথের সমস্যার শুরু হয়েছিল অতিরিক্ত উদ্বেগ ও বারবার প্যানিক অ্যাটাক দিয়ে। পরে তার এপিলেপসি শনাক্ত হয় এবং প্রায় দুই বছর বিভিন্ন ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে না আসায় চিকিৎসকেরা শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসকদের লক্ষ্য ছিল মস্তিষ্কের যে অংশ থেকে খিঁচুনির সূত্রপাত হচ্ছে, সেটি শনাক্ত করে সমস্যা কমানো। অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকেরা তার মস্তিষ্কে বিশেষ প্রোব বসিয়ে কয়েক দিন ধরে খিঁচুনির উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ডান টেম্পোরাল লোবের সামনের অংশ, ডান অ্যামিগডালা ও ডান হিপোক্যাম্পাসে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের কয়েক দিনের মধ্যেই স্মিথ হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন। এরপর তিনি নিজের মধ্যে অস্বাভাবিক এক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। আগে যে পরিস্থিতিতে তীব্র ভয় বা আতঙ্ক তৈরি হতো, সেসব ঘটনায় তার প্রতিক্রিয়া অনেকটাই বদলে যায়। স্মিথের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর ভয়ও আগের মতো অনুভূত হচ্ছিল না। নিউইয়র্কের ব্যস্ত পরিবেশ কিংবা অন্য কোনো ভীতিকর পরিস্থিতিতেও তিনি তুলনামূলক শান্ত থাকতে পারছিলেন। এক ঘটনায় নিউ জার্সিতে পাঁচজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরেছিল বলে স্মিথ জানিয়েছেন। তার দাবি, পরিস্থিতিটি ছিনতাইয়ের মতো মনে হলেও তিনি আগের মতো আতঙ্কিত হননি এবং সেখান থেকে হেঁটে চলে যান। মাকড়সার মতো বিষয় নিয়েও তার ভয় অনেকটাই কমে যায় বলে তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। তবে এসব ঘটনা তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বর্ণনার ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা মানুষের ভয় ও হুমকির প্রতিক্রিয়া তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণেই অ্যামিগডালার কার্যক্রমে পরিবর্তনের পর ভয় অনুভূতিতে পরিবর্তন দেখা দেওয়ার বিষয়টি চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত নয়। তবে চিকিৎসকেরা সাধারণ মানুষের ভয় দূর করার জন্য এ ধরনের অস্ত্রোপচার করেন না। স্মিথের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মূল উদ্দেশ্য ছিল গুরুতর এপিলেপসি নিয়ন্ত্রণ করা। অস্ত্রোপচারের পর ভয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্মিথ কিছু স্মৃতি ও মনোযোগের সমস্যার কথাও জানিয়েছেন। এ ধরনের পরিবর্তন দেখায়, ভয় শুধু একটি নেতিবাচক অনুভূতি নয়, বরং বিপদ শনাক্ত করে মানুষকে সতর্ক রাখার গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, এপিলেপসি বা নির্দিষ্ট নিউরোলজিক্যাল সমস্যার ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ত্রুটিপূর্ণ ভয়-প্রতিক্রিয়া কমানো উপকারী হতে পারে, কিন্তু স্বাভাবিক মানুষের ক্ষেত্রে ভয় সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলা নিরাপদ বা কাঙ্ক্ষিত বিষয় নয়। জোডি স্মিথের ঘটনাটি তাই শুধু একজন মানুষের অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতার গল্প নয়, মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ কীভাবে ভয়, স্মৃতি, আবেগ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, তা বোঝার ক্ষেত্রেও একটি আলোচিত উদাহরণ। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার এপিলেপসি চিকিৎসার পাশাপাশি ভয় অনুভবের ক্ষমতায় যে পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি জানিয়েছেন, সেটিই পরবর্তীতে তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মস্তিষ্ক নিয়ে আলোচনার একটি আলোচিত চরিত্রে পরিণত করেছে।
রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা জোরদার করতে লিথুয়ানিয়ায় জার্মান সেনা মোতায়েন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্তোরিয়াসের নির্দেশে চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম দফায় কয়েক শ সেনাকে বাধ্যতামূলকভাবে এই দায়িত্বে পাঠানো হতে পারে। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। লিথুয়ানিয়ায় জার্মানির প্যানজারব্রিগেড ৪৫ ‘লিটাউয়েন’ গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এই সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিগেডটির প্রয়োজনীয় পদগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যে স্বেচ্ছাসেবী সেনাদের মাধ্যমে পূরণ হয়েছে। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এখনও জনবলের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও লজিস্টিকস কর্মীর মতো দক্ষ জনবলের সংকট রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে আগে স্বেচ্ছাসেবার ওপর জোর দেওয়া হলেও এখন প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্রিগেডটির প্রায় ২০ শতাংশ পদ এমন বাধ্যতামূলক নিয়োগের আওতায় পড়তে পারে। তবে জার্মান সেনাবাহিনী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এই হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে। লিথুয়ানিয়ায় জার্মানির এই সামরিক উপস্থিতি ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জার্মানি ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ লিথুয়ানিয়ায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ সেনা এবং প্রায় ২০০ বেসামরিক কর্মী নিয়ে একটি স্থায়ী সামরিক ব্রিগেড গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। পুরো ব্রিগেডের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৫ হাজারে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের পর ন্যাটো পূর্বাঞ্চলীয় সদস্যদেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে। বিশেষ করে লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, এস্তোনিয়া ও পোল্যান্ডকে ঘিরে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। লিথুয়ানিয়ায় জার্মানির নেতৃত্বে ন্যাটোর বহুজাতিক সামরিক উপস্থিতি ২০১৭ সাল থেকেই রয়েছে। ২০২৩ সালের ন্যাটো ভিলনিয়াস সম্মেলনের পর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জার্মানি সেখানে পূর্ণাঙ্গ একটি ব্রিগেড মোতায়েনের উদ্যোগ নেয়। ন্যাটো জানিয়েছে, জার্মান ব্রিগেডটি লিথুয়ানিয়ায় ন্যাটোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। এতে ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, আর্টিলারি ও এয়ার ডিফেন্স সক্ষমতা রয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে ব্রিগেডটি লিথুয়ানিয়ায় বড় পরিসরের সামরিক মহড়াতেও অংশ নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত রোববার লিথুয়ানিয়ার আকাশে সন্দেহজনক ড্রোন দেখা যাওয়ার পর ভিলনিয়াস বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে ন্যাটোর একটি যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছিল। পরে সেটি ড্রোন নয়, পাখির ঝাঁক বলে নিশ্চিত করা হয়। এর কয়েক দিন আগে ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলার ঘটনাও ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করে। জার্মান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, লিথুয়ানিয়ায় পূর্ণাঙ্গ জার্মান ব্রিগেড ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ সম্পূর্ণভাবে কার্যক্ষম হওয়ার কথা। এর মাধ্যমে রাশিয়ার কাছাকাছি ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলে জার্মানির স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি আরও বড় আকার নেবে।
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের ৩৫ বছর বয়সী লুক উডহাউসের কাছে দাঁতের ব্যথাটি শুরুতে তেমন গুরুতর কিছু মনে হয়নি। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সেই ব্যথার সঙ্গে জ্বর, কাঁপুনি, প্রচণ্ড ঘাম, বুকে চাপ এবং মাথায় তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, তার শরীরে সেপসিস হয়েছে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে হৃদযন্ত্রের ভালভ পর্যন্ত। জীবন বাঁচাতে তাকে ওপেন হার্ট সার্জারি করে ক্ষতিগ্রস্ত ভালভের বদলে মেকানিক্যাল ভালভ বসাতে হয়। কুইন্সল্যান্ডের মোরেটন বে এলাকার বাসিন্দা লুকের কোনো বড় ধরনের আগের স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল না। একটি বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় তিনি দাঁতে ব্যথা অনুভব করেন। পরে বিকেলের দিকে অসুস্থ লাগার সঙ্গে জ্বরও আসে। বিষয়টিকে তিনি সাধারণ ভাইরাল অসুস্থতা ভেবে তেমন গুরুত্ব দেননি। কুইন্সল্যান্ড হেলথকে তিনি জানান, তার ধারণা ছিল ঘুমিয়ে নিলে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ওই রাতেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। প্রচণ্ড কাঁপুনি শুরু হয় এবং এত বেশি ঘাম হয় যে সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন বিছানা ভিজে গেছে। এরপর রবিবার তার মাথায় একটানা তীব্র জ্বালাপোড়া এবং বুকে চাপ অনুভূত হতে থাকে। তখন তিনি বুঝতে পারেন, বিষয়টি আর সাধারণ অসুস্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। লুকের স্ত্রী জেনিফার তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। রেডক্লিফ হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তার হৃদযন্ত্রের চারপাশে প্রদাহের লক্ষণ দেখতে পান। পরে তাকে জানানো হয়, তার রক্তে সংক্রমণ হয়েছে এবং তিনি সেপসিসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর সংক্রমণজনিত জটিলতায় তার ইনফেকটিভ এন্ডোকার্ডাইটিস ধরা পড়ে। এটি হৃদযন্ত্রের ভেতরের আবরণ ও ভালভে হওয়া গুরুতর সংক্রমণ, যা দ্রুত চিকিৎসা না পেলে জীবনহানির কারণ হতে পারে। লুকের ক্ষেত্রে সংক্রমণ এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে তার হৃদযন্ত্রের একটি ভালভ নষ্ট হয়ে যায়। ব্রিসবেনের দ্য প্রিন্স চার্লস হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তাকে জানান, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে তার আর বেশি দিন বেঁচে থাকা সম্ভব নাও হতে পারে। সেই সপ্তাহেই তার ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়। সংক্রমিত ভালভটি অপসারণ করে সেখানে একটি মেকানিক্যাল ভালভ বসানো হয়। অস্ত্রোপচারের আগে লুকের স্ত্রী জেনিফারের জন্য সময়টি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগের। চিকিৎসকেরা তার মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। জেনিফার পরিচিত কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গেও যোগাযোগ করে জানতে চেয়েছিলেন, তার স্বামী শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না। কুইন্সল্যান্ড হেলথ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি বছর ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ সেপসিসে আক্রান্ত হন এবং ৮ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এ কারণে। কুইন্সল্যান্ডের সরকারি হাসপাতালগুলোতেই বছরে ১৮ হাজারের বেশি রোগী সেপসিসের চিকিৎসা নেন। সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিক্রিয়া যখন নিজের সুস্থ টিস্যু ও অঙ্গের ক্ষতি করতে শুরু করে, তখন সেপসিস দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি কিডনি বিকল হওয়া, লাইফ সাপোর্টের প্রয়োজন, অঙ্গহানি এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। লুকের অস্ত্রোপচার সফল হয়। তবে এক বছর পরও তাকে নতুন কিছু দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। মেকানিক্যাল হার্ট ভালভ নিয়ে তাকে ভবিষ্যতেও নিয়মিত যত্ন ও চিকিৎসা অনুসরণ করতে হবে। তিনি জানান, এই অভিজ্ঞতার পর সাধারণ জীবনের ছোট ছোট বিষয়, যেমন গিটার বাজানো বা ছবি আঁকার মতো কাজও তার কাছে অনেক বেশি মূল্যবান হয়ে উঠেছে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে অন্যদের সতর্ক করতে চান লুক। তার মতে, গুরুতর অসুস্থতা সব সময় শুরুতেই স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। জ্বর, কাঁপুনি, দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা শ্বাসকষ্ট, দ্রুত হৃদস্পন্দন, প্রস্রাব কমে যাওয়া, বমি, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বিভ্রান্তি কিংবা অস্বাভাবিক ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। কুইন্সল্যান্ড হেলথের তথ্য অনুযায়ী, সেপসিসের একটি নির্দিষ্ট উপসর্গ নেই। তাই সংক্রমণের সঙ্গে শরীরের অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে বিষয়টিকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। লুকের নিজের অভিজ্ঞতার পরামর্শও একই, শরীরের অস্বাভাবিক সংকেতকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের কাছে সেপসিসের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে হবে। দাঁতের ব্যথা থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনা লুকের জন্য শুধু একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতিই তৈরি করেনি, বরং একটি সাধারণ উপসর্গও কখনো কখনো গুরুতর সংক্রমণের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে, সেই সতর্কতাও সামনে এনেছে। এক বছর পর সুস্থ হয়ে উঠলেও হৃদযন্ত্রে মেকানিক্যাল ভালভ নিয়ে তাকে বাকি জীবন সতর্কতার সঙ্গে চলতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ চলতি সপ্তাহে সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। বাজারে এবার তিন বছরের মধ্যে প্রথমবার সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত হলে ইতোমধ্যে উচ্চ মর্টগেজ রেটের চাপে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং মার্কেটে আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন রিয়েল এস্টেট সংশ্লিষ্টরা। ফেডের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর দুই দিনের বৈঠকে বসেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর সিদ্ধান্ত ঘোষণা ও ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। জুলাইয়ের বৈঠকে ফেড ফেডারেল ফান্ডস রেট ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রেখেছিল। সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার পেছনে মূল্যস্ফীতি ও শ্রমবাজারের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা CPI মাসিক হিসাবে ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। গত ১২ মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিলে মূল মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। এদিকে মর্টগেজ রেটও ইতোমধ্যে বাড়ছে। ফ্রেডি ম্যাকের হিসাবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। ১৫ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় হারও বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ০৯ শতাংশ। রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান বাড়ি বিক্রির বার্ষিকীকৃত হার ১৪ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে এবং প্রথমবারের মতো ৪০ লাখের নিচে চলে গেছে। একই সময়ে পেন্ডিং হোম সেলসও কমেছে, ফলে আট মাসের ধারাবাহিক বৃদ্ধির অবসান হয়েছে। তবে ফেডের সুদের হার সরাসরি মর্টগেজ রেট নির্ধারণ করে না। ফেড মূলত ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুদের হার নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে মর্টগেজ রেট বন্ড মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তাই ফেড সুদের হার বাড়ালেই মর্টগেজ রেট একই হারে বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রিয়েলটর ডটকমের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল হেল মনে করেন, সেপ্টেম্বরে ফেড সুদের হার বাড়াক বা না বাড়াক, মর্টগেজ রেটের ওপর চাপ ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। উচ্চ সুদের পরিবেশে ক্রেতা ও বিক্রেতারা তুলনামূলক সতর্ক হয়ে উঠছেন। রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের মতে, সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়তে পারে ফার্স্ট টাইম হোমবায়ার ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ওপর। অন্যদিকে উচ্চমূল্যের বাড়ির ক্রেতা এবং পর্যাপ্ত নগদ অর্থ থাকা সেকেন্ড হোমের ক্রেতাদের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে। উচ্চ মর্টগেজ রেট দীর্ঘস্থায়ী হলে বাড়ি বিক্রেতাদেরও দাম, মেরামতের খরচ এবং ক্লোজিংয়ের সময় বিভিন্ন কনসেশন নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে বেশি সমঝোতা করতে হতে পারে বলে রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাজার ধসে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে, এমনটা মনে করছেন না অনেক রিয়েল এস্টেট পেশাজীবী। ফলে ফেডের এবারের সিদ্ধান্ত শুধু সুদের হার নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ি কেনাবেচা, মর্টগেজ খরচ এবং নতুন বাড়ি কেনার সামর্থ্যের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা বর্তমানে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য আগামী কয়েক দিনের সুদের হার ও মর্টগেজ মার্কেটের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে স্নাতকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করেছেন এ আর তাহসিন জাহান। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং তাদের শিক্ষার অধিকার রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। তাহসিন জাহান নিষিদ্ধ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপউদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস অ্যাওয়ার্ড সাধারণত নিজ নিজ বিভাগে স্নাতক পর্যায়ে সর্বোচ্চ একাডেমিক ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়। নিজের পোস্টে তাহসিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের স্নাতকজীবনের শুরু থেকেই তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ পরিশ্রম ও পড়াশোনার পর নিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার পাওয়ার কথা ছিল তাঁর। একসময় যে পুরস্কার অর্জনের জন্য তিনি এতটা পরিশ্রম করেছেন, সেটি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করা তাঁর জন্য সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না বলেও জানান তিনি। তবে পুরস্কারের মর্যাদার চেয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়বদ্ধতাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন বলে জানান তাহসিন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রশাসন তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। এমন পরিস্থিতিতে তিনি সেই প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া স্বীকৃতি গ্রহণ করে নিজের অর্জন উদযাপন করতে চাননি। তাহসিন নিজের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি মবের আক্রমণের শিকার হন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও নিজ বিভাগের ভেতরে হুমকির মুখে পড়েন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নেওয়া এবং স্নাতক থিসিস জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। নিরাপত্তার কারণে একপর্যায়ে তিনি ক্যাম্পাসে ফিরতে পারেননি বলেও দাবি করেন। তবে ওই সময় তাঁর বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানান তাহসিন। তাঁদের সহযোগিতায় নিরাপদ স্থান থেকে অনলাইনে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিয়ে তিনি স্নাতক সম্পন্ন করতে সক্ষম হন। নিজের অর্জনের পেছনে এসব শিক্ষকের অবদানের কথা স্বীকার করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাহসিন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত তাঁর মতো আরও অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবন শেষ করার সুযোগ পাননি। তিনি দাবি করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এখনো তাঁর মতো সুযোগ পাননি। এই সংখ্যা তাঁর নিজের বক্তব্যের দাবি, এর স্বাধীন কোনো যাচাই বা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। তাহসিন আরও প্রশ্ন তুলেছেন, দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়ে থাকলে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো শিক্ষার্থী এখনো কেন শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারছেন না। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষার অধিকার সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং কোনো শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় তার শিক্ষা গ্রহণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণ হতে পারে না। তাঁকে সহযোগিতা করা শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই ডিনস অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তাহসিন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি পুরস্কারটির মর্যাদা খাটো করার উদ্দেশ্যে নয়; বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষার অধিকার ও ভবিষ্যৎ হারানো সহপাঠীদের প্রতি সংহতি জানানোর একটি অবস্থান। ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে এটি তাঁর একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি, অন্যদিকে পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তাঁর উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আবুল কালাম আজাদ নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কাউপাথ রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আজাদের দেশের বাড়ি চাঁদপুর। তিনি ল্যান্সডেলে বসবাস করতেন এবং হ্যাটফিল্ড মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আওয়াজ বিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার দুপুর ১টা ৭ মিনিটে কাউপাথ রোডের ১০০ ব্লকে একটি ধূসর ও একটি রুপালি রঙের সেডানের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে আবুল কালাম আজাদ নিহত হন। দুর্ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য গ্র্যান্ড ভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর কাউপাথ রোডের একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। লেইডি রোড থেকে মিডো উড লেন পর্যন্ত সড়কটি যান চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। দুর্ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল কাজ করে। ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপ পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে হ্যাটফিল্ড ও টোওয়ামেসিন পুলিশ এবং মন্টগোমারি কাউন্টি ডিটেকটিভ ব্যুরো সহায়তা করছে। তবে দুই গাড়ির সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। নিহত আবুল কালাম আজাদ চার ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। সন্তানদের মধ্যে ১৪ ও ৮ বছর বয়সী দুই ছেলে, ৭ বছর বয়সী এক মেয়ে এবং ৯ মাস বয়সী যমজ দুই ছেলে রয়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে ল্যান্সডেল ও হ্যাটফিল্ড এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার কারণ ও ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি জানতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: আওয়াজ বিডির
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আবুল কালাম আজাদ নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কাউপাথ রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আজাদের দেশের বাড়ি চাঁদপুর। তিনি ল্যান্সডেলে বসবাস করতেন এবং হ্যাটফিল্ড মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আওয়াজ বিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার দুপুর ১টা ৭ মিনিটে কাউপাথ রোডের ১০০ ব্লকে একটি ধূসর ও একটি রুপালি রঙের সেডানের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে আবুল কালাম আজাদ নিহত হন। দুর্ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য গ্র্যান্ড ভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর কাউপাথ রোডের একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। লেইডি রোড থেকে মিডো উড লেন পর্যন্ত সড়কটি যান চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। দুর্ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল কাজ করে। ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপ পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে হ্যাটফিল্ড ও টোওয়ামেসিন পুলিশ এবং মন্টগোমারি কাউন্টি ডিটেকটিভ ব্যুরো সহায়তা করছে। তবে দুই গাড়ির সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। নিহত আবুল কালাম আজাদ চার ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। সন্তানদের মধ্যে ১৪ ও ৮ বছর বয়সী দুই ছেলে, ৭ বছর বয়সী এক মেয়ে এবং ৯ মাস বয়সী যমজ দুই ছেলে রয়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে ল্যান্সডেল ও হ্যাটফিল্ড এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার কারণ ও ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি জানতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: আওয়াজ বিডির
একজন নারীকে আগুনের হাত থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে নিজের মুখ ও শরীরের গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী প্যাট্রিক হার্ডিসনের। ১৪ বছর ধরে একের পর এক অস্ত্রোপচারের পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালে নিউইয়র্কে ২৬ ঘণ্টার এক জটিল মুখ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার বদলে দেয় তার জীবন। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর। মিসিসিপির সেনাটোবিয়ায় একটি জ্বলন্ত বাড়িতে আটকে থাকা এক নারীকে খুঁজতে ঢুকেছিলেন হার্ডিসন। তিনি তখন স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী। উদ্ধার অভিযানের সময় হঠাৎ ভবনের ছাদ ধসে পড়ে তার ওপর। কোনোভাবে একটি জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও ততক্ষণে তার মাথা ও শরীরের ওপরের অংশে আগুন ধরে যায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই দুর্ঘটনায় তার চোখের পাতা, কান, ঠোঁট এবং নাকের বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়। মাথা থেকে বুক পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় তৈরি হয় গুরুতর ক্ষত ও দাগ। পরবর্তী ১৪ বছরে স্বাভাবিক চেহারা ও শরীরের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে তাকে ৭১টি পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এত চিকিৎসার পরও তিনি স্বাভাবিকভাবে চোখ বন্ধ করতে বা পলক ফেলতে পারতেন না। চোখের পাতা না থাকায় তার চোখ সবসময় খোলা থাকত। এতে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও পরিষ্কার রাখার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতো এবং ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। খাওয়াদাওয়া ও হাসার মতো স্বাভাবিক কাজও তার জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। বাইরে বের হলে মানুষের দৃষ্টিও তার দৈনন্দিন জীবনের একটি বড় অস্বস্তির কারণ ছিল। ২০১৫ সালে তার সামনে আসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি অভূতপূর্ব সুযোগ। নিউইয়র্কের এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন মেডিকেল সেন্টারের প্লাস্টিক সার্জন এডুয়ার্ডো রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ১০০ জনের বেশি চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য চিকিৎসাকর্মী দীর্ঘ প্রস্তুতির পর হার্ডিসনের মুখ প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। ১৪ আগস্ট ২০১৫ সকালে শুরু হয় অস্ত্রোপচার। প্রায় ২৬ ঘণ্টা ধরে দুইটি পাশাপাশি অপারেশন কক্ষে চলে জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়া। হার্ডিসনের ক্ষতিগ্রস্ত মুখ ও মাথার টিস্যু সরিয়ে সেখানে একজন মৃতদাতার মুখ, মাথার ত্বক, কান, নাকের কাঠামো, ঠোঁট এবং চোখের পাতা প্রতিস্থাপন করা হয়। চোখের পাতা ও পলক ফেলার সঙ্গে যুক্ত পেশি প্রতিস্থাপন ছিল এই অস্ত্রোপচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। হার্ডিসনের নতুন মুখের দাতা ছিলেন ২৬ বছর বয়সী ডেভিড রোডবগ। সাইক্লিং দুর্ঘটনায় গুরুতর মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তিনি মস্তিষ্ক-মৃত অবস্থায় ছিলেন। তিনি নিবন্ধিত অঙ্গদাতা ছিলেন। তার পরিবার মুখসহ অন্যান্য অঙ্গ দানের সিদ্ধান্ত নেয়। রোডবগের হৃদ্যন্ত্র, কিডনি ও যকৃতও অন্য রোগীদের প্রতিস্থাপনের জন্য দান করা হয়েছিল। রোডবগের মুখ হার্ডিসনের সঙ্গে শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও টিস্যুর সামঞ্জস্যের দিক থেকে ভালোভাবে মিলে যায়। চিকিৎসকেরা এই মিলকে অস্ত্রোপচারের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেছিলেন। মুখ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে শুধু রক্তের গ্রুপ বা টিস্যুর মিল নয়, মুখের গঠন ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্যও বিবেচনায় নিতে হয়। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। দাতা ও গ্রহীতার মাথার সিটি স্ক্যানের ভিত্তিতে বিশেষ কাটিং গাইড তৈরি করা হয়েছিল, যাতে রোডবগের মুখের হাড় হার্ডিসনের মুখের কাঠামোর সঙ্গে যথাসম্ভব নিখুঁতভাবে বসানো যায়। মুখের হাড়কে নির্দিষ্ট অবস্থানে ধরে রাখতে বিশেষ ধাতব প্লেট ও স্ক্রুও ব্যবহার করা হয়। অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার পর শুরু হয় আরও কঠিন পুনর্বাসন। হার্ডিসনকে নতুন মুখের মাধ্যমে কথা বলা, গিলতে পারা এবং বিভিন্ন মুখের পেশি ব্যবহার করার জন্য আবার প্রশিক্ষণ নিতে হয়। অস্ত্রোপচারের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি নতুন চোখের পাতা ব্যবহার করে পলক ফেলতে সক্ষম হন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কথা বলা ও শক্ত খাবার খাওয়ার ক্ষমতাও ফিরে আসতে শুরু করে। প্রতিস্থাপনের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি ছিল তার চোখ বন্ধ ও পলক ফেলার ক্ষমতা ফিরে পাওয়া। এর ফলে চোখ আর্দ্র রাখা ও পরিষ্কার করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া পুনরায় কাজ করতে শুরু করে। পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা জানান, এর মাধ্যমে তার দৃষ্টিশক্তি হারানোর যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তা আর আগের মতো ছিল না। এক বছর পর হার্ডিসন স্বাভাবিকভাবে চোখ বন্ধ করতে, বিভিন্ন মুখের অভিব্যক্তি তৈরি করতে এবং ব্যথা ছাড়াই খেতে পারছিলেন। তিনি গাড়ি চালানোর সক্ষমতাও ফিরে পান। হার্ডিসনের ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপনের পর শরীর নতুন মুখের টিস্যু প্রত্যাখ্যান করবে কি না, সেটিও ছিল বড় উদ্বেগ। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের প্রথম বছর তিনি বড় ধরনের প্রত্যাখ্যানজনিত জটিলতার মুখে পড়েননি। চিকিৎসকেরা মনে করেন, দাতার সঙ্গে ভালো টিস্যু মিল এবং বিশেষ ওষুধ ব্যবহারের কারণে এই সাফল্য সম্ভব হয়েছিল। এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের তথ্য অনুযায়ী, এই অস্ত্রোপচার সে সময় পর্যন্ত করা সবচেয়ে বিস্তৃত মুখ প্রতিস্থাপন ছিল। একই সঙ্গে এটি ছিল প্রথমবারের মতো কোনো প্রথম সারির জরুরি সেবাকর্মীর মুখ প্রতিস্থাপন। মুখের পাশাপাশি চোখের পাতা, পলক ফেলার সঙ্গে যুক্ত পেশি, কান এবং নির্দিষ্ট মুখের হাড় প্রতিস্থাপন এই অস্ত্রোপচারকে বিশেষ করে তুলেছিল। হার্ডিসনের জন্য এই অস্ত্রোপচার শুধু চেহারা পরিবর্তনের বিষয় ছিল না। দুর্ঘটনার পর যে কাজগুলো তিনি বছরের পর বছর করতে পারেননি, সেগুলোর অনেকটাই আবার সম্ভব হয়। চোখ বন্ধ করে ঘুমানো, পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে সময় কাটানো, গাড়ি চালানো এবং মানুষের সামনে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ ফিরে আসে তার জীবনে। এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরে তিনি পরিবারের সঙ্গে ছুটিতে গিয়ে সাঁতারও কাটেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে হার্ডিসনের ঘটনা মুখ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনাকে নতুন মাত্রা দেয়। একই সঙ্গে এটি দেখায়, অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত কীভাবে একজন মানুষের মৃত্যুর পর অন্য একজনের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে। ডেভিড রোডবগের পরিবার তার অঙ্গ ও মুখ দানের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হার্ডিসন আবারও স্বাভাবিক জীবনের অনেকটা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পান। হার্ডিসনের অস্ত্রোপচারের পর মুখ প্রতিস্থাপন চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আরও এগিয়েছে। তবে এটি এখনো অত্যন্ত জটিল ও বিরল চিকিৎসা পদ্ধতি। দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সেবন, শরীরের প্রতিস্থাপিত টিস্যু প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি এবং দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এর সঙ্গে জড়িত। হার্ডিসনের ক্ষেত্রে সফল ফলাফল চিকিৎসকদের এই পদ্ধতি নিয়ে আরও গবেষণা ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে। সূত্র: এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথ, নিউইয়র্ক।
করোনাকালীন সরকারি ঋণ কর্মসূচিতে জালিয়াতির সন্দেহে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার ঋণগ্রহীতাকে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ছোট ব্যবসা ও দুর্যোগকালীন ঋণ থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার মিসৌরির কানসাস সিটিতে এ ঘোষণা দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ভ্যান্স বলেন, করদাতাদের অর্থ নিয়ে যারা প্রতারণা করেছে, তাদের আর সরকারি অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তিনি জানান, সন্দেহভাজন এসব ঋণগ্রহীতাকে ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তা-সমর্থিত ঋণ কর্মসূচিতে আবেদন করা থেকে বিরত রাখা হবে। মার্কিন ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসন বা এসবিএর প্রশাসক কেলি লফলার জানান, নতুন করে স্থগিত করা প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার ঋণগ্রহীতার সঙ্গে আনুমানিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের সন্দেহভাজন জালিয়াতির যোগসূত্র রয়েছে। এই অর্থ ৪৫টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলের সরকারি তহবিলের সঙ্গে সম্পর্কিত। আগের পদক্ষেপগুলোসহ দেশজুড়ে প্রায় ৪৯ বিলিয়ন ডলারের সন্দেহভাজন জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এসবিএ। এসবিএ জানিয়েছে, স্থগিত করা ঋণগ্রহীতারা ভবিষ্যতে সংস্থাটির ছোট ব্যবসা ও দুর্যোগকালীন ঋণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না। পাশাপাশি এসবিএর ৮(এ) ফেডারেল ঠিকাদারি কর্মসূচিসহ কিছু সরকারি সুবিধাও তাদের জন্য বন্ধ থাকবে। সন্দেহভাজন ঋণের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য চিঠিও পাঠানো হচ্ছে। অর্থ পরিশোধ না করলে বিষয়টি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ঋণ আদায় প্রক্রিয়ায় যেতে পারে এবং প্রয়োজন হলে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পদক্ষেপও হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভ্যান্সের ঘোষণার সঙ্গে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির বিরুদ্ধে কয়েক মাসের একটি বড় তদন্ত ও মামলা পরিচালনার ফলাফল প্রকাশ করেছে। ১২ জুন থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ৪০টির বেশি মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং ২০টির বেশি ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের তদন্তকারী সংস্থা অংশ নেয়। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ১৬০ জনের বেশি আসামিকে ঘিরে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৪৫ মিলিয়ন ডলার। এই অভিযানে প্রায় ৮০ জনের বিরুদ্ধে নতুন করে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব মামলায় সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। আরও প্রায় ৪৩ জন এসবিএ-সংশ্লিষ্ট করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির মামলায় দোষ স্বীকার করেছেন, যেসব মামলায় সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ডলার। প্রায় ৪০ জনের সাজাও হয়েছে, যেসব মামলায় সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। তদন্তকারীদের নজরে এসেছে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ। এর মধ্যে রয়েছে অস্তিত্বহীন ব্যবসা দেখিয়ে ঋণের আবেদন, কর্মী ও বেতন সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, আয় ও ব্যবসার হিসাব পরিবর্তন করা এবং অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে ঋণ নেওয়া। করোনাভাইরাস মহামারির শুরুতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে ২০২০ সালে পেচেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম বা পিপিপি চালু করেছিল মার্কিন সরকার। লকডাউন ও ব্যবসায়িক বিধিনিষেধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসাগুলোকে কর্মীদের বেতনসহ নির্দিষ্ট খরচ মেটাতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হয়। এসব ঋণের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে পরে তা মওকুফ করার সুযোগও ছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পিপিপির আওতায় প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ ঋণ দেওয়া হয়েছিল, যার মোট মূল্য ছিল প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার। তবে কর্মসূচি দ্রুত চালু করার কারণে ঋণ অনুমোদনের আগে আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্বলতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে সরকারি নজরদারি সংস্থাগুলো বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানায়। মার্কিন সরকারের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পিপিপি এবং করোনাকালীন আরেকটি ঋণ কর্মসূচি, অর্থনৈতিক ক্ষতি দুর্যোগ ঋণ বা ইআইডিএল থেকে বিতরণ করা ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থে জালিয়াতির লক্ষণ পাওয়া গেছে। তবে এই পরিমাণকে সরাসরি প্রমাণিত জালিয়াতির অর্থ হিসেবে ধরা যায় না। এটি বিভিন্ন তথ্য, অসঙ্গতি ও জালিয়াতির সম্ভাব্য সংকেতের ভিত্তিতে করা সরকারি হিসাব। করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির অনেক ঘটনা এত বছর পরও কেন সামনে আসছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ সিবিএস নিউজকে বলেন, আগে যেসব মামলার তদন্ত বা বিচার করার মতো পর্যাপ্ত জনবল ও অর্থ ছিল না, এখন সেসব মামলা হাতে নেওয়ার মতো সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। দেশজুড়ে প্রায় ৫০০ প্রসিকিউটর এ ধরনের জালিয়াতির বিরুদ্ধে কাজ করছেন বলেও তিনি জানান। গত মাসে বিচার বিভাগ জাতীয় জালিয়াতি শনাক্তকরণ কেন্দ্র চালু করেছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার আলাদা তথ্যভান্ডার থেকে তথ্য নিয়ে সন্দেহজনক লেনদেন ও আবেদন শনাক্ত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য। ২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত মার্কিন সরকারি জবাবদিহি দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতি নিয়ে করা প্রায় ৩০ লাখ রেফারেলের মধ্যে প্রায় ২০ লাখেই অসম্পূর্ণ, ভুল অথবা পুনরাবৃত্ত তথ্য ছিল। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। নতুন অভিযানে মিসৌরির একটি মামলাও বিশেষভাবে সামনে এসেছে। সেখানে জেমি গ্রে নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত তারের মাধ্যমে প্রতারণা ও অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গ্রে পিপিপি ও ইআইডিএল ঋণের আবেদনে এমন কয়েক ডজন ব্যবসার মালিকানা দাবি করেছিলেন, যেগুলোর বেশির ভাগই সংশ্লিষ্ট সময়সীমার আগে বাস্তবে চালু ছিল না। ব্যবসার মালিকানা, কর্মী, আয় এবং কার্যক্রম সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আইওয়াতেও পৃথক একটি মামলায় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৪৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, তারা আরও শতাধিক ব্যক্তির সঙ্গে মিলে প্রায় ৪৭০টি ভুয়া পিপিপি আবেদন জমা দিয়েছিলেন। এসব আবেদনের মাধ্যমে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং প্রায় ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার বিতরণও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। তবে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মহামারির সময় দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে গিয়ে সরকারি ব্যবস্থায় যে দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল, নতুন অভিযান সেই পুরোনো প্রশ্নও সামনে এনেছে। সরকারি জবাবদিহি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পিপিপির বিস্তৃত স্বয়ংক্রিয় যাচাই ও পর্যালোচনা ব্যবস্থা ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর করা হয়। তখন পর্যন্ত ৫২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি পিপিপি ঋণ অনুমোদিত হয়ে গিয়েছিল। তদন্তের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। কংগ্রেস করোনাকালীন পিপিপি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্ত ও মামলা করার আইনি সময়সীমা ১০ বছর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে ২০৩০ বা ২০৩১ সাল পর্যন্ত নতুন মামলা সামনে আসার সুযোগ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি অর্থের অপচয় ও জালিয়াতি বন্ধের ওপর জোর দিচ্ছে। চলতি বছর বিচার বিভাগ জাতীয় জালিয়াতি দমন বিভাগ গঠন করেছে। পাশাপাশি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের নেতৃত্বে সরকারি অর্থের অপচয়, অপব্যবহার ও জালিয়াতি শনাক্তে একটি আন্তঃসরকারি টাস্কফোর্সও কাজ করছে। বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাকালীন সহায়তা কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল সংকটে থাকা ব্যবসাগুলোকে টিকিয়ে রাখা। এখন তদন্তকারীদের লক্ষ্য হলো যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সেই অর্থের অপব্যবহার করেছে বলে সন্দেহ রয়েছে, তাদের শনাক্ত করা এবং সম্ভব হলে সরকারি অর্থ ফেরত আনা। সূত্র: সিবিএস নিউজ, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
পৃথিবীর কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনীর কাছে বর্তমানে কক্ষপথে থাকা এমন অস্ত্র রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের আক্রমণাত্মক তৎপরতার বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীকে রক্ষায় ব্যবহার করা যেতে পারে। সোমবার মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেইঙ্ক এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, মহাকাশে পরিবর্তিত ও ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই কক্ষপথে মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। তবে অস্ত্রগুলোর ধরন, সংখ্যা, কীভাবে কাজ করে কিংবা ঠিক কখন এগুলো কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি মেইঙ্ক। সাংবাদিকদের সঙ্গে পরে এক বৈঠকেও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, এসব সক্ষমতার বিস্তারিত প্রকাশ করলে প্রতিরোধমূলক উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মেইঙ্কের এই বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে মহাকাশে অস্ত্র থাকার সবচেয়ে সরাসরি প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা মহাকাশে সম্ভাব্য সামরিক সক্ষমতা, প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট মোকাবিলা এবং মহাকাশভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বললেও কক্ষপথে ইতোমধ্যে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি এভাবে প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, রাশিয়া ও চীন মহাকাশে এমন সক্ষমতা তৈরি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্যাটেলাইটের যোগাযোগ, নজরদারি ও নেভিগেশন ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত বা অকার্যকর করতে পারে। এসব আশঙ্কার কারণেই ওয়াশিংটন মহাকাশে নিজেদের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে। মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর ভাষায়, ‘মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ’ বলতে এমন সক্ষমতাকে বোঝায়, যার মাধ্যমে মহাকাশে নিজেদের ও মিত্রদের সম্পদ সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনে প্রতিপক্ষের সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করা, দুর্বল করা বা অকার্যকর করা যায়। এসব ব্যবস্থা প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক দুই ধরনের কাজেই ব্যবহার করা সম্ভব বলে বাহিনীটি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশভিত্তিক সামরিক পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই পরিকল্পনার আওতায় কক্ষপথ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করার সক্ষমতা তৈরির কাজ চলছে। বিমানবাহিনীর সচিব জানিয়েছেন, মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ব্যবস্থার জন্য ইতোমধ্যে উড়ান-প্রস্তুত হার্ডওয়্যার তৈরি হয়েছে। মেইঙ্ক আরও জানিয়েছেন, মহাকাশভিত্তিক আকাশপথের লক্ষ্য শনাক্ত করার স্যাটেলাইট ব্যবস্থার প্রথম উপগ্রহ চলতি মাসেই উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশে থাকা শত্রু বিমান বা অন্যান্য উড়ন্ত লক্ষ্য শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে মার্কিন মহাকাশ বাহিনী। মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন ইতোমধ্যে স্যাটেলাইট ও মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে। ফলে পৃথিবীর কক্ষপথ ভবিষ্যতে সামরিক প্রতিযোগিতার আরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তবে মহাকাশে সব ধরনের অস্ত্র নিষিদ্ধ নয়। ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি বা মহাকাশ চুক্তি পৃথিবীর কক্ষপথে পারমাণবিক অস্ত্রসহ অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু প্রচলিত অস্ত্র, স্যাটেলাইট বাধাগ্রস্ত করার ব্যবস্থা বা অন্যান্য অ-পারমাণবিক সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে একই ধরনের পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা নেই। গত কয়েক বছর ধরে রাশিয়া ও চীনের মহাকাশ কার্যক্রম নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর মতে, চীন সামরিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মহাকাশ ও মহাকাশ-বিরোধী সক্ষমতা তৈরি করছে। রাশিয়াকেও মহাকাশকে ভবিষ্যৎ সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করার অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, রাশিয়া এমন একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে বলে তারা মনে করে, যা অন্য মহাকাশযানকে আক্রমণ করার সক্ষমতা রাখতে পারে। এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার দুটি স্যাটেলাইট ইউরোপের অন্তত এক ডজন স্যাটেলাইটের যোগাযোগে হস্তক্ষেপ করেছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনী ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কয়েক দশকের মধ্যে এটি ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর নতুন শাখা। মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ, নজরদারি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট সুরক্ষিত রাখাই শুরুতে এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। এখন সেই দায়িত্বের পাশাপাশি প্রয়োজনে প্রতিপক্ষের মহাকাশ সক্ষমতা মোকাবিলার জন্য আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে বাহিনীটি। মেইঙ্কের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কক্ষপথে মার্কিন অস্ত্র থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলো। তবে সেগুলো কী ধরনের অস্ত্র এবং কী পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দেশটির মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতার প্রকৃত পরিধি আপাতত অজানাই থাকছে। সূত্র: বিবিসি, এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিন ও মার্কিন মহাকাশ বাহিনী।
ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফে গরুর মাংসের নামে শূকরের মাংস বিক্রির দায়ে এক কসাইকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দেশটির সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল জানিয়েছে, ওই কসাইয়ের কাছ থেকে ৭৫ কেজি শূকরের মাংস উদ্ধার করা হয়েছিল। তিনি মাংসটি গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করছিলেন বলে আদালতে বিষয়টি উঠে এসেছে। সোমবার নাজাফের ফৌজদারি আদালত ওই ব্যক্তিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। ইরাকের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানায়, মানবদেহের জন্য অনুপযোগী মাংস বিক্রির দায়ে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। আদালত ১৯৯৮ সালের একটি আইনের আওতায় এই রায় দিয়েছেন। ওই আইনে কুকুর, গাধা কিংবা অন্য কোনো প্রাণীর এমন মাংস বিক্রি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। আদালতের রায়ে মূলত মাংসটি মানুষের খাদ্য হিসেবে অনুপযোগী হওয়ার বিষয়টিকেই আইনি ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে। ইরাকে শূকরের মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করার জন্য সরাসরি কোনো আইন নেই। দেশটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সেখানে খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। তবে মুসলিমদের জন্য শূকরের মাংস খাওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশটির সামাজিক ও ধর্মীয় বাস্তবতায় বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। নাজাফ ইরাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নগরী। শহরটিতে শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র স্থাপনা ইমাম আলীর মাজার অবস্থিত। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ সেখানে ধর্মীয় সফরে আসেন। ফলে শহরের খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও উদ্বেগ রয়েছে। পুলিশ চলতি মাসে ওই কসাইকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তার কাছে বিপুল পরিমাণ শূকরের মাংস পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, মাংসটি গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ইরাকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজারে মাংসের উৎস যাচাইয়ের বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। আবার অনেকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রসিকতাও করেছেন এবং শূকরের ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। নাজাফের বাসিন্দা আহমেদ আল-মানসুরি বার্তা সংস্থা এএফপিকে রসিকতা করে বলেছেন, গত কয়েক বছরে তিনি গরু বা খাসির মাংসের চেয়ে বেশি শূকরের মাংস খেয়ে থাকতে পারেন। তিনি জানান, নিয়মিত যে কসাইয়ের কাছ থেকে মাংস কিনতেন, সেখান থেকেই তিনি প্রতারিত হয়েছেন। মানসুরির ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় তিনি ওই দোকান থেকে এক কেজি কিমা করা মাংস কিনেছিলেন। মাংসটির মান ভালো এবং বাজারদরের তুলনায় দাম কম হওয়ায় তিনি সেটিকে গরুর মাংস হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন। মাংস পছন্দ হওয়ায় তিনি পরে ওই কসাইয়ের দোকানে আরও নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন। পরে কসাইকে শূকরের মাংস বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার করার খবর পেয়ে তিনি ও অন্য ক্রেতারা বিস্মিত হন। মানসুরি বলেন, তারা এতদিন যে মাংস কিনেছেন, সেটি আসলে কী ছিল তা জানতে পেরে বিষয়টি তাদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। ঘটনাটি খাদ্য বিক্রির ক্ষেত্রে পণ্যের পরিচয় ও মান নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বও সামনে এনেছে। বিশেষ করে গরু, খাসি বা অন্যান্য মাংসের নামে ভিন্ন প্রাণীর মাংস বিক্রি করা হলে তা শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয় নয়, ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা এবং খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নও তৈরি করে। ইরাকি আদালতের এই রায় এমন এক সময়ে এলো, যখন নাজাফে ধর্মীয় পর্যটন ও তীর্থযাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। শহরের খাবারের বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষেরও নির্ভরতা রয়েছে। তাই খাদ্যপণ্যের উৎস ও মান নিয়ে আস্থা বজায় রাখা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: দ্য নিউ আরব ও এএফপি।
চার বছর বয়স পর্যন্ত কথা বলতে পারেননি ফক্স রাইকার। ওই বয়সে তার অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকেরা পরিবারকে জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে তিনি স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিন্তু সেই আশঙ্কাকে ভবিষ্যতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে মেনে নেয়নি তার পরিবার। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার বাসিন্দা ফক্সের শৈশব কেটেছে যোগাযোগ ও সামাজিক দক্ষতা শেখার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। তিনি চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়েছেন এবং প্রায় এক দশক বিভিন্ন ধরনের থেরাপি নিয়েছেন। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলায় কথোপকথন শুরু করা, অন্যের মুখের অভিব্যক্তি বোঝা এবং সামাজিক পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়, এসব বিষয় আলাদাভাবে অনুশীলন করতে হয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফক্স শুধু যোগাযোগের দক্ষতাই অর্জন করেননি, একাডেমিক ক্ষেত্রেও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দেন। সেন্ট জোসেফস ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সম্মানসহ পড়াশোনা শেষ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২২ সালে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অটিজম সহায়তা কর্মসূচির প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে চিকিৎসাবিদ্যায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। স্নাতক শেষ করার পর ফক্স পেনসিলভানিয়ার পাওলি হাসপাতালে জরুরি বিভাগের প্রযুক্তিবিদ হিসেবে কাজ করেন। সেখানে গুরুতর অসুস্থ বা জরুরি অবস্থায় আসা রোগীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার চিকিৎসক হওয়ার আগ্রহকে আরও দৃঢ় করে। ২০২৩ সালে সিবিএস ফিলাডেলফিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফক্স জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকেরা একসময় মনে করেছিলেন তিনি হয়তো স্বাবলম্বীভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন না। কিন্তু হাসপাতালের সহকর্মীরা পরে তার কাজের প্রশংসা করেন। পাওলি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক স্টুয়ার্ট ব্রিল্যান্ট জানিয়েছিলেন, ফক্সকে দেখে কর্মক্ষেত্রে তার অটিজম বোঝার উপায় ছিল না। তিনি ফক্সকে পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল কর্মী হিসেবে বর্ণনা করেন। চিকিৎসাবিদ্যায় পড়ার সুযোগ পাওয়ার পরও ফক্স নিজের অটিজমের বিষয়টি আড়াল করেননি। বরং মেডিকেল স্কুলের আবেদনে তিনি বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার মতে, এটি তার জীবনের একটি অংশ এবং অটিজমের সঙ্গে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে রোগীদের বুঝতে তাকে আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি দিতে পারে। বর্তমানে ফক্স ফিলাডেলফিয়া কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিনে চিকিৎসাবিদ্যা পড়ছেন। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত এক লেখায় তিনি নিজেই তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, অটিজম তার জন্য শুধু একটি চ্যালেঞ্জ নয়, রোগীদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতাও তৈরি করেছে। বিশেষ করে অটিজমে আক্রান্ত রোগীরা জরুরি বিভাগে এলে তাদের আচরণ ও প্রয়োজন বুঝতে নিজের অভিজ্ঞতা তাকে সহায়তা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফক্স আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগের কিছু বিষয় তার জন্য এখনো সচেতনভাবে পরিচালনা করতে হয়। চোখে চোখ রাখা, অন্যের অঙ্গভঙ্গি বোঝা কিংবা কথার অন্তর্নিহিত অর্থ ধরার মতো বিষয়গুলো তিনি দীর্ঘদিনের অনুশীলনের মাধ্যমে আয়ত্ত করেছেন। কখনো কখনো কোনো কথাকে আক্ষরিক অর্থে নেওয়ার কারণে ভুল বোঝাবুঝিও হতে পারে। তবে এসব অভিজ্ঞতাই তাকে অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও সচেতন করেছে। চিকিৎসাবিদ্যায় তার যাত্রা এখন শেষ পর্যায়ের দিকে। তার সাম্প্রতিক পেশাগত তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে চিকিৎসাবিদ্যার চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফক্সের গল্পটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের ঘটনা নয়, অটিজম নিয়ে প্রচলিত কিছু ধারণাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। অটিজমে আক্রান্ত প্রত্যেক ব্যক্তির সক্ষমতা, প্রয়োজন ও বিকাশের পথ এক নয়। তাই শৈশবের একটি নির্ণয় দিয়ে কোনো শিশুর ভবিষ্যৎ কতটা দূর যেতে পারবে, তা আগেভাগে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করার অন্যতম উদ্দেশ্যও সেটিই বলে জানিয়েছেন ফক্স। তার মতে, অটিজম বা অন্য কোনো স্নায়ুবৈচিত্র্য একজন মানুষের পরিচয়ের একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু সেটিই তার সক্ষমতার পুরো পরিচয় নয়। চিকিৎসক হওয়ার পথে এগিয়ে গিয়ে তিনি এখন এমন একটি পেশায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে নিজের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে রোগীদের আরও ভালোভাবে বুঝতে কাজে লাগাতে চান। চার বছর বয়সে যাকে নিয়ে স্বাবলম্বী জীবনযাপন সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই ফক্স রাইকার এখন নিজের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের কাছাকাছি। তার যাত্রা দেখাচ্ছে, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা বা আশঙ্কা সবসময় তার শেষ পরিণতি নির্ধারণ করে না। সূত্র: ফক্স রাইকারের লেখা, ফিলাডেলফিয়া কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিন, সিবিএস ফিলাডেলফিয়া ও সেন্ট জোসেফস ইউনিভার্সিটি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৮২ লাখ পরিবারকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খরচের চাপ সামলাতে সর্বোচ্চ ২০০ ডলারের এককালীন ভর্তুকির চেক দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে এসব চেক ডাকযোগে পাঠানো শুরু হবে এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে তা বিতরণ করা হবে। গভর্নর ক্যাথি হকুলের প্রশাসনের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘প্রটেক্টিং আওয়ার ওয়ালেটস এনার্জি রিবেট’ বা ‘পাওয়ার’ কর্মসূচির আওতায় এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অঙ্গরাজ্য বাজেটে এ কর্মসূচির জন্য মোট ১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮২ লাখ করদাতা এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন। রাজ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানির ব্যয় বাড়তে থাকায় সাধারণ পরিবারের ওপর যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, তা কিছুটা কমাতেই এই এককালীন অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শরৎ ও শীতের মাসগুলো সামনে রেখে ঘর গরম রাখা ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যয় নিয়ে যখন পরিবারগুলোর উদ্বেগ বাড়ে, তখন এই অর্থ তাৎক্ষণিক কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। গভর্নর হকুল বলেছেন, নিউইয়র্কের অনেক পরিবার বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচের চাপে রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার সরাসরি মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দিতে চাইছে। আয়ের পরিমাণ ও কর দাখিলের ধরন অনুযায়ী চেকের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। যৌথভাবে কর দাখিলকারী দম্পতি বা দম্পতিদের মধ্যে যাদের ২০২৪ সালের আয় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের কম, তারা ২০০ ডলার পাবেন। একই ধরনের করদাতাদের আয় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ডলারের মধ্যে হলে তারা পাবেন ১৫০ ডলার। আর এককভাবে কর দাখিলকারী যাদের আয় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের কম, তারা পাবেন ১০০ ডলার। এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আলাদা করে আবেদন বা নিবন্ধন করতে হবে না। রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৪ করবর্ষের জন্য সময়মতো নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পুরো বছর নিউইয়র্কের বাসিন্দা হতে হবে এবং নির্ধারিত আয়ের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। অন্য কারও কর রিটার্নে নির্ভরশীল ব্যক্তি হিসেবে দাবি করা হলে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। চেকগুলো সরাসরি যোগ্য পরিবারের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানো হবে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অর্থ বিতরণ চলবে। ফলে সব যোগ্য পরিবার একই দিনে বা একই সময়ে চেক পাবে না। নিউইয়র্কের অঙ্গরাজ্য বাজেটের অংশ হিসেবেই এই ১ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচি অনুমোদন করা হয়েছে। মে মাসে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি জানায়, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে ‘পাওয়ার’ চেকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে নিউইয়র্ক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারগুলোর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিল কমাতে ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি সরাসরি সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি ঘরবাড়ির জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানো, আবহাওয়াজনিত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মতো কর্মসূচিতেও বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এককালীন ১০০ থেকে ২০০ ডলারের অর্থ সহায়তা পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক ব্যয় কিছুটা কমাতে পারলেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দীর্ঘমেয়াদি উচ্চমূল্যের সমস্যার সমাধান করবে না। তাদের মতে, বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পদক্ষেপও প্রয়োজন। নিউইয়র্কের পরিবারগুলোর জন্য জ্বালানি খরচ দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। রাজ্য সরকারও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি বাজেটে ‘রেটপেয়ার প্রোটেকশন প্ল্যান’ নামে একটি ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যার লক্ষ্য ইউটিলিটি কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত মুনাফা হলে তার একটি অংশ গ্রাহকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। নিউইয়র্কের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির বাড়তি খরচ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি বাজারের ওঠানামা, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। নিউইয়র্কের নতুন কর্মসূচিটি অবশ্য প্রচলিত নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো মাসিক সহায়তা কর্মসূচি নয়। বরং নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা বিপুলসংখ্যক করদাতাকে একবারের জন্য সরাসরি অর্থ দেওয়ার উদ্যোগ। রাজ্য সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রায় ৮২ লাখ নিউইয়র্কবাসী উপকৃত হবেন এবং মোট ১ বিলিয়ন ডলার মানুষের হাতে পৌঁছাবে। চেক পেতে যোগ্য বাসিন্দাদের নতুন করে কোনো আবেদন করতে না হওয়ায় রাজ্য আশা করছে, অর্থ সহায়তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে কর রিটার্নে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। ফলে ঠিকানা বা করসংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তিত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজেদের রেকর্ড ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য সরকার ও নিউইয়র্ক স্টেট অফিস ফর দ্য এজিং।
ক্যালিফোর্নিয়ার আরভাইনে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত গাড়িপ্রেমী জেমস ওয়েহর ও ফ্লোরিডার তরুণী অ্যালেক্সিস ‘লেক্সি’ ক্র্যামার দুর্ঘটনার আগে দিনটি একসঙ্গেই কাটিয়েছিলেন। পরিবার সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় এক মাস কথা বলার পর প্রথমবারের মতো দেখা করতে ফ্লোরিডা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় গিয়েছিলেন ২২ বছর বয়সী ক্র্যামার। ২৭ বছর বয়সী ওয়েহর ছিলেন দক্ষিণ অরেঞ্জ কাউন্টির জনপ্রিয় গাড়ি প্রদর্শনী ‘সাউথ ওসি কারস অ্যান্ড কফি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা। ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১৮ মিনিটের দিকে আরভাইনের কালভার ড্রাইভ ও ডিয়ারফিল্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছে ২০১৯ সালের একটি ম্যাকলারেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা দিলে গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। গাড়িটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা দুজনই মারা যান। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ম্যাকলারেনটি একটি লাল বাতিতে থেমে ছিল। সংকেত সবুজ হওয়ার পর গাড়িটি উত্তর দিকে দ্রুতগতিতে চলতে শুরু করে। একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি রাস্তার পাশের কার্বে ধাক্কা খেয়ে একটি গাছে গিয়ে আঘাত করে। পরে গাড়িটি দুই ভাগে ভেঙে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি ঠিক কত গতিতে চলছিল এবং কে গাড়ি চালাচ্ছিল, তা পুলিশ এখনো জানায়নি। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে আরভাইন পুলিশের মেজর অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম। দুর্ঘটনার পর ওয়েহরের পরিবার ও তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। ওয়েহর সাউথ ওসি কারস অ্যান্ড কফির সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে অরেঞ্জ কাউন্টির গাড়িপ্রেমীদের মধ্যে পরিচিত ছিলেন। সান ক্লেমেন্টেতে আয়োজিত এই সাপ্তাহিক গাড়ি প্রদর্শনীতে প্রায়ই হাজারো গাড়িপ্রেমী ও বিভিন্ন ধরনের উচ্চক্ষমতার গাড়ি অংশ নিত। এদিকে ক্র্যামারের পরিবারের এক সদস্য নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছেন, ওয়েহর তার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত কথা বলতেন এবং প্রথমবার দেখা করার জন্য তাকে ফ্লোরিডার লেকল্যান্ড থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় উড়িয়ে আনেন। শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছানোর পর শনিবার দুজন পুরো দিন একসঙ্গে কাটান বলে পরিবারের সদস্যটি জানিয়েছেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়েহর ক্র্যামারকে বলেছিলেন যে তিনি তার স্ত্রী থেকে আলাদা হয়ে আছেন এবং তাদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে অরেঞ্জ কাউন্টির আদালতে তখনও বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়েনি। পরিবারের একজন সদস্য ক্র্যামারকে বিষয়টি নিয়ে সতর্কও করেছিলেন বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। শনিবার সকালে ওয়েহর ও ক্র্যামার একসঙ্গে নাশতা করেন। পরে তারা নোবু রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান এবং এরপর পেনড্রি হোটেলে যান। দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ক্র্যামার পরিবারের এক সদস্যকে নাশতার সময়ের একটি ছবি পাঠিয়ে লিখেছিলেন, ‘At cute breakfast place’ বা সুন্দর একটি নাশতার জায়গায় আছি। পরিবারের সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিতে একজন পুরুষের পাশের অবয়ব দেখা যাচ্ছিল এবং তার হাতে থাকা ট্যাটুর সঙ্গে ওয়েহরের ট্যাটোর মিল ছিল। ক্র্যামার এর আগে কখনো ওয়েহরের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেননি। ইনস্টাগ্রামের বার্তার মাধ্যমে তাদের পরিচয় এবং প্রায় এক মাস ধরে যোগাযোগের পর এই প্রথম সাক্ষাৎ হয়। ওয়েহরের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও পরিবারের পক্ষ থেকে কিছু তথ্য সামনে এসেছে। পরিবারের একজন সদস্য দাবি করেছেন, ক্র্যামার জানতেন ওয়েহর বিবাহিত, তবে ওয়েহরের দেওয়া আশ্বাসের ওপর বিশ্বাস করেছিলেন যে তার বিবাহিত সম্পর্ক কার্যত শেষ হয়ে গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে সতর্ক করা হলেও তিনি ওয়েহরের বক্তব্যকে বিশ্বাস করতে চেয়েছিলেন বলে ওই সদস্য জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। আরভাইন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি একক গাড়ির দুর্ঘটনা এবং এ বিষয়ে যেকোনো তথ্য থাকলে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে থাকা দুজনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে পুলিশ প্রকাশ করেনি। পরে ওয়েহরের পরিবার ও তার গাড়ি সংগঠনের পক্ষ থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ক্র্যামারের পরিচয় তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও তা জানিয়েছে। ওয়েহরের মৃত্যুতে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার গাড়িপ্রেমী মহলে শোক নেমে এসেছে। গাড়ি প্রদর্শনী আয়োজনের পাশাপাশি তিনি গাড়ি সংস্কৃতি ও উচ্চক্ষমতার গাড়িকে ঘিরে একটি বড় সম্প্রদায় গড়ে তুলেছিলেন। তার মৃত্যুর পর সহকর্মী ও পরিচিতদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি গ্রিন কার্ডধারীদের মার্কিন কর-বাসিন্দার মর্যাদা শেষ করার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত চার প্রান্তিকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সংখ্যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ চার প্রান্তিকে মোট ৫ হাজার ৭৯০ জনের নাম যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বা দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা হারানো ব্যক্তিদের তালিকায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রবাসীদের করসংক্রান্ত সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান গ্রিনব্যাক এক্সপ্যাট ট্যাক্স সার্ভিসেসের বিশ্লেষণ বলছে, ছয় বছরের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ চার প্রান্তিকের মোট সংখ্যা। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। ওই সময়ে তালিকায় ১ হাজার ৭৮১ জনের নাম প্রকাশ করা হয়, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৬৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। ফলে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মোট নাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৪৩টি, যা গত বছরের প্রথমার্ধের তুলনায় ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। তবে এই তালিকা থেকে ঠিক কতজন ব্যক্তি ওই সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, তা সরাসরি বলা যায় না। কারণ ফেডারেল রেজিস্টারে সাধারণত মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ কখন কোনো ব্যক্তির মর্যাদা পরিবর্তনের তথ্য পেয়েছে, সেই সময়ের ভিত্তিতে নাম প্রকাশ করা হয়। নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা ত্যাগের প্রকৃত তারিখ এর আগে বা পরে হতে পারে। তালিকায় সাবেক মার্কিন নাগরিকদের পাশাপাশি কিছু দীর্ঘমেয়াদি গ্রিন কার্ডধারীও থাকেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের কর-বাসিন্দার মর্যাদা শেষ করেছেন। গ্রিনব্যাকের ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে ৫০০ জনেরও কম মার্কিন নাগরিকত্ব হারিয়েছেন বা ত্যাগ করেছেন। ওই সময়ে বছরে গড়ে নাম প্রকাশিত হয়েছিল ৪৫২টি। ২০১০ সালে বিদেশে থাকা মার্কিন নাগরিকদের আর্থিক সম্পদ ও হিসাবের ওপর নজরদারি বাড়াতে ফরেন অ্যাকাউন্ট ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স অ্যাক্ট বা এফএটিসিএ পাস হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। এই আইনের আওতায় বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাদের মার্কিন গ্রাহকদের বিদেশে থাকা আর্থিক সম্পদের তথ্য জানাতে হয়। বিদেশে বসবাসকারী অনেক মার্কিন নাগরিকের জন্য এই করব্যবস্থা ও প্রতিবেদন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা বাড়তি ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম এমন দেশ, যেখানে নাগরিকরা বিদেশে বসবাস করলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাদের বৈশ্বিক আয়ের ওপর করসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতার মধ্যে থাকতে হয়। ২০১৪ সালে এফএটিসিএ কার্যকর হওয়ার পর নাগরিকত্ব ত্যাগের সংখ্যাও দ্রুত বাড়তে থাকে। গ্রিনব্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে এক বছরে ৫ হাজার ৪০৯ জনের নাম প্রকাশিত হয়েছিল। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা কমে ২ হাজার ৭১-এ নেমে আসে। এরপর ২০২০ সালে তা আরও বেড়ে ৬ হাজার ৭০৫ জনে পৌঁছে, যা তখন আধুনিক ইতিহাসের সর্বোচ্চ বার্ষিক সংখ্যা ছিল। এরপর সংখ্যায় কিছু ওঠানামা থাকলেও নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। সর্বশেষ চার প্রান্তিকের ৫ হাজার ৭৯০ জনের সংখ্যা সেই ধারাবাহিকতারই নতুন উদাহরণ। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে বসবাসকারী কিছু মার্কিন নাগরিক করব্যবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আদর্শগত কারণেও নাগরিকত্ব ছাড়ার কথা জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতি অসন্তোষও কারও কারও সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক বৃদ্ধির পেছনে একটি বাস্তব ও সরাসরি কারণ হিসেবে নাগরিকত্ব ত্যাগের ফি কমে যাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল থেকে নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়াকরণ ফি ৮০ শতাংশ কমিয়ে ২ হাজার ৩৫০ ডলার থেকে ৪৫০ ডলারে নামিয়ে আনে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা ভাবছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় অনেক কম ব্যয়বহুল হয়েছে। ২০১০ সালের আগে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য কোনো ফি ছিল না। পরে ৪৫০ ডলার ফি চালু করা হয়। ২০১৫ সালে তা বাড়িয়ে ২ হাজার ৩৫০ ডলার করা হয়েছিল। ফলে ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের খরচ বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ছিল। চলতি বছর সেই ফি আবার ৪৫০ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিদেশে থাকা কোনো মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে চাইলে তাকে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সাধারণত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি পূরণ, সাক্ষাৎকার এবং আনুষ্ঠানিক শপথের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এরপর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আবেদন পর্যালোচনা করে নাগরিকত্ব হারানোর সনদ অনুমোদন করলে নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করে দিয়েছে, নাগরিকত্ব ত্যাগ একটি অত্যন্ত গুরুতর এবং সাধারণত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। কোনো ব্যক্তি অন্য দেশের নাগরিকত্ব না রাখলে এই প্রক্রিয়ার ফলে তিনি রাষ্ট্রহীনও হয়ে যেতে পারেন। নাগরিকত্ব ত্যাগের পর সাধারণভাবে মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করার অধিকারও থাকে না। করসংক্রান্ত বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকত্ব ত্যাগ করলেই আগের সব কর-দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব ত্যাগের আগের সময়ের কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা এবং কিছু ক্ষেত্রে পরবর্তী করের দায়ও প্রযোজ্য হতে পারে। মার্কিন সরকার আরও জানিয়েছে, কর এড়ানোর উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব ত্যাগ করা হয়েছে বলে নির্ধারিত হলে কিছু পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। গ্রিনব্যাকের সর্বশেষ বিশ্লেষণ বলছে, সাম্প্রতিক বৃদ্ধিকে শুধু একটি কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। করব্যবস্থার জটিলতা, বিদেশে বসবাসের খরচ, নাগরিকত্ব ত্যাগের ফি কমে যাওয়া এবং কিছু ব্যক্তির রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত মিলেই এই প্রবণতায় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্য প্রকাশের সময় ও প্রকৃত নাগরিকত্ব ত্যাগের সময়ের মধ্যে পার্থক্য থাকায় সংখ্যাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করাও জরুরি। সূত্র: নিউজউইক, গ্রিনব্যাক এক্সপ্যাট ট্যাক্স সার্ভিসেস ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।