জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাতজনই মামলায় পলাতক ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা, উসকানি, অর্থের জোগান ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর সহিংসতা চালানো হয়। প্রসিকিউশন সাত আসামির বিরুদ্ধে ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, কল রেকর্ড, বিভিন্ন নথি, জাতিসংঘের প্রতিবেদন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করে।
ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ বিশেষভাবে আন্দোলন দমনে নির্দেশনা ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ এনেছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, বিভিন্ন কল রেকর্ডে আন্দোলনকারীদের দমন এবং ইন্টারনেট ধীর বা বন্ধ করার বিষয়ে কথোপকথনের তথ্য রয়েছে। এসব তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছিল।
মামলাটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হওয়া ধারাবাহিক মামলাগুলোর একটি। এর আগে ১৭ আগস্ট উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। ১৪ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল ১৫ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছিল।
রায়ের আগে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছিল, সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের খালাসের আশা প্রকাশ করেছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এই রায়ের মধ্য দিয়ে জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় হলো। দণ্ডপ্রাপ্ত সাতজনের সবাই পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে রায় কার্যকর করার বিষয়টি পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
Source: ইত্তেফাক, দ্য ডেইলি স্টার
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreএকটি জাপানি রেডিও কেনার শখে পাঁচ বিঘা জমি বিক্রি করেছিলেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার দেলোয়ার হোসেন মিঞা। পরে রেডিও চালানোর খরচ জোগাতে এবং সংসারের নানা প্রয়োজনে একে একে বিক্রি হয়ে যায় তাঁর পৈতৃক ২৬ বিঘা জমি। হারাতে হয় বসতবাড়িও। বহু বছর পর বাবার সেই প্রিয় রেডিওটি উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন ছেলে আলতাফ হোসেন। জমিজমা হারানোর বেদনাময় স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রেডিওটি এখন তাঁর কাছে বাবার স্মৃতিচিহ্ন। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন দেলোয়ার হোসেন মিঞা। ১৯৬৫ সালে গান ও খবর শোনার প্রবল আগ্রহ থেকে তিনি একটি রেডিও কেনার সিদ্ধান্ত নেন। সে সময় পাঁচ বিঘা জমি ২৫০ টাকায় বিক্রি করে পাবনা থেকে জাপানি রেডিওটি কিনে আনেন। তখন গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে রেডিও ছিল দুর্লভ ও মূল্যবান একটি যন্ত্র। দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে রেডিও আসার পর আশপাশের গ্রামগুলোতে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ তাঁর বাড়িতে আসতেন গান ও খবর শুনতে। স্থানীয়দের কাছে বাড়িটি হয়ে ওঠে খবর জানার একটি পরিচিত জায়গা। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় গ্রামের মানুষ এই রেডিওতে যুদ্ধের খবর শুনতেন। ছেলে আলতাফ হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, রেডিওর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের খবর ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে পাকিস্তানি সেনারা তাঁর বাবাকে নির্যাতন করে এবং তাঁদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে রেডিও কেনার পর সেটি সচল রাখাও দেলোয়ার হোসেনের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। বিদ্যুতের পরিবর্তে ব্যাটারিতে চলত যন্ত্রটি। ব্যাটারি কেনার অর্থ জোগাতে তাঁকে আরও জমি বিক্রি করতে হয়। পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, মানুষের নানা আবদার পূরণ এবং নিজের শখ ধরে রাখতে গিয়ে ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায় তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি। ১৯৬৯ সালে বিক্রি করতে হয় বসতবাড়িও। পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হলে একপর্যায়ে প্রিয় রেডিওটিও হাতছাড়া হয়। আলতাফ হোসেনের দেওয়া একটি বিবরণ অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে মাত্র ১৮০ টাকায় রেডিওটি বিক্রি করে দেন তাঁর বাবা। তবে ২০২৩ সালে কালবেলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে আলতাফের বক্তব্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৫ সালে অর্থের অভাবে রেডিওটি বন্ধক রাখা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর সময় সম্পর্কেও ভিন্ন তথ্য রয়েছে। ফলে রেডিওটি বিক্রি নাকি বন্ধক রাখা হয়েছিল এবং দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর সঠিক সাল কোনটি, তা নিয়ে প্রকাশিত বিবরণে অসংগতি রয়েছে। রেডিওটি হাতছাড়া হওয়ার বহু বছর পরও সেটির কথা ভুলতে পারেননি আলতাফ হোসেন। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পর ২০২২ সালে তিনি বাবার সেই রেডিওটি উদ্ধার করেন। একটি প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, রেডিওটি স্থানীয় জিল্লার খন্দকার নামের এক ব্যক্তির কাছে ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে আমজাদের কাছ থেকে রেডিওটি ফেরত পান আলতাফ। বাবার স্মৃতিবিজড়িত যন্ত্রটি ফিরে পাওয়ার পর তিনি সেটি যত্ন করে সংরক্ষণ করতে থাকেন। রেডিওটির গায়ে জাপানের নিপ্পন ইলেকট্রনিক কোম্পানি লিমিটেডের নাম লেখা রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যন্ত্রটি চালাতে একসঙ্গে আটটি বড় ব্যাটারির প্রয়োজন হতো। ২০২২ সালের বিবরণ অনুযায়ী, এসব ব্যাটারি কিনতে প্রায় ৪০০ টাকা লাগত। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে আলতাফ তখন রেডিওটি চালু করতে পারেননি। তবু বাবার স্মৃতি হিসেবে সেটি পরিষ্কার করে কাপড়ে মুড়িয়ে যত্নসহকারে রেখে দিতেন। ২০২৩ সালের ২০ মে প্রকাশিত কালবেলার এক প্রতিবেদনে আলতাফ হোসেনের এই রেডিও সংরক্ষণের গল্প তুলে ধরা হয়। সেখানে স্থানীয় রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম হিরোও জমি বিক্রি করে রেডিও কেনার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেলোয়ার হোসেন তাঁর জমিজমা বিক্রি করে গিয়েছিলেন। বাবার সেই রেডিওর প্রতি আলতাফের ভালোবাসার কারণে এলাকায় তিনি ‘রেডিও আলতাফ’ নামেও পরিচিত হয়ে ওঠেন। একসময় যে রেডিও ঘিরে রহিমাবাদ গ্রামের মানুষের ভিড় জমত, বহু বছর পর সেই যন্ত্রই হয়ে ওঠে একটি পরিবারের অতীতের স্মারক। দেলোয়ার হোসেনের শখের রেডিওটি এখন আর শুধু গান বা খবর শোনার যন্ত্র নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জমিজমা হারানোর ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এবং বাবার প্রতি এক ছেলের দীর্ঘদিনের ভালোবাসা। সূত্র : প্রথম আলো
পরিবার মামলা না করলে তাহসিফের মৃ ত্যুর ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকেই হবে মামলা
শেষ কণ্ঠবার্তায় ‘মা, আমি আসছি’, পরদিন তুরাগ নদীতে মিলল সাবেক কর্মকর্তার ম রদেহ
চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক পাবেন কার্ড, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্য ৪৩ লাখ
বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন প্রকৌশল, কৃষি, আইন, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রিধারীরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীরাও। প্রাথমিক শিক্ষা তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের (আইপিইএমআইএস) ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ৩০ ধরনের। সবচেয়ে বেশি শিক্ষক স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স ডিগ্রিধারী। আইপিইএমআইএসের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৭১ হাজার ৯৭০ জন। তাঁদের মধ্যে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৪ জন। স্নাতক (পাস) ডিগ্রিধারী ৯৯ হাজার ৯৭৭ জন। এইচএসসি পাস শিক্ষক রয়েছেন ৪২ হাজার ২৪২ জন এবং স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারী ২০ হাজার ৯৬৯ জন। এ ছাড়া বিএসএস ডিগ্রিধারী ১৩ হাজার ১৪৯ জন এবং এমবিএ ডিগ্রিধারী ৭ হাজার ৭১৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। বিশেষায়িত বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষকদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন ১ হাজার ৬১৭ জন। কৃষিতে বিএসসি ডিগ্রিধারী ২৫৮ জন এবং ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার ডিগ্রিধারী ৪৯ জন। আইন বিষয়ে এলএলএম ডিগ্রিধারী ৩৮৬ জন ও এলএলবি ডিগ্রিধারী ৩১৬ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। শিক্ষকতা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও ডিগ্রিধারীদের মধ্যেও বৈচিত্র্য রয়েছে। এমএড ডিগ্রিধারী শিক্ষক ৩৬৭ জন, বিএড (অনার্স) ডিগ্রিধারী ২৮৭ জন এবং বিএড ডিগ্রিধারী ২৫৮ জন। এ ছাড়া সাধারণ ডিপ্লোমাধারী ৪৩৮ জন এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমাধারী ১২৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। ধর্মীয় শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের ডিগ্রিধারীরাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান করছেন। তাঁদের মধ্যে কামিল ডিগ্রিধারী ৫ হাজার ৭৪১ জন, ফাজিল ডিগ্রিধারী ১ হাজার ৮৯৭ জন, আলিম পাস ১ হাজার ২৩৮ জন এবং দাখিল পাস শিক্ষক রয়েছেন ৪১২ জন। প্রযুক্তি ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতাও রয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রিধারী শিক্ষক ২১ জন এবং এমএসসি ডিগ্রিধারী ১৭ জন। নার্সিং বিষয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক রয়েছেন ২৩ জন। এ ছাড়া মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) ডিগ্রিধারী ৪১ জন, বিপিএড ডিগ্রিধারী ২৮ জন এবং ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার টেকনোলজিধারী চারজন শিক্ষক রয়েছেন। এমফিল বা পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন ৪২ জন। দন্তচিকিৎসায় বিডিএস ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন চারজন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উচ্চশিক্ষিতদের প্রাথমিক শিক্ষকতায় যুক্ত হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এমফিল-পিএইচডি ডিগ্রিধারী এবং চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের শিক্ষকতা পেশায় আসা শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। পাশাপাশি শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষকদের বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৬ থেকে ৪৫ বছর বয়সী শিক্ষক সবচেয়ে বেশি, ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৯৬ জন। ৪৬ থেকে ৫৫ বছর বয়সী শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৭৮২ জন। ২৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সী শিক্ষক ৮২ হাজার ৮৬০ জন। আর ৫৬ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষক রয়েছেন ২৪ হাজার ৫৮৭ জন। শিক্ষকসংখ্যার পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর সুযোগ-সুবিধাও প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দিক। সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজারের বেশি। এর মধ্যে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে তুলনামূলক কমসংখ্যক প্রতিষ্ঠানে। বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষিতদের প্রাথমিক শিক্ষকতায় অংশগ্রহণ শিক্ষাব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য চিত্র তুলে ধরছে। তবে শিক্ষকদের ডিগ্রির বৈচিত্র্যের পাশাপাশি তাঁদের প্রশিক্ষণ, পাঠদানের দক্ষতা, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল নিশ্চিত করাও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: প্রথম আলো
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও রেকর্ড করা বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার
পুলিশ বাহিনী ঢেলে সাজাতে সরাসরি ১৪ হাজার এসআই-কনস্টেবল নিয়োগ
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ চাইলেন শেখ হাসিনা
জাপানে আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্মাণ, কারখানা, কেয়ারগিভিং, কৃষি ও অটোমোবাইল মেরামতসহ বিভিন্ন খাতে কাজের সুযোগ তৈরির এই উদ্যোগের আওতায় ২০৩০ সালে এক বছরেই ৫০ হাজার কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশি কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ অর্জন করতে হবে। জাপান বাংলা ব্রিজ রিক্রুটিং এজেন্সি (জেবিবিআরএ), বাংলাদেশের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং জাপানের ন্যাশনাল বিজনেস সাপোর্ট কম্বাইন্ড কো-অপারেটিভসের (এনবিসিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এক লাখ কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দুই হাজার, ২০২৭ সালে ছয় হাজার, ২০২৮ সালে ১২ হাজার, ২০২৯ সালে ৩০ হাজার এবং ২০৩০ সালে ৫০ হাজার কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে। খাতভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নির্মাণশিল্পে ৪০ হাজার, কারখানায় ২০ হাজার, কেয়ারগিভিংয়ে ২০ হাজার এবং কৃষি, অটোমোবাইল মেরামতসহ অন্যান্য খাতে ২০ হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এদিকে, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক পৃথক সহযোগিতা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু হওয়ার কথা। চুক্তিটির প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানোর বিধান রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানি কর্মীদের সমপর্যায়ের আইনি সুরক্ষা পাবেন। নারী কর্মীরা গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে চাকরি থেকে বাদ পড়া কিংবা বৈষম্যের শিকার হবেন না। এ ধরনের কারণে তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর বিধানও রাখা হয়নি। পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধি, তুলনামূলক বেশি বেতন এবং দীর্ঘমেয়াদে জাপানে বসবাসের সুযোগ তৈরির কথাও জানানো হয়েছে। জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা বাড়ছে। ২০৪০ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রায় এক কোটি ১০ লাখ বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে বলে প্রাক্কলন রয়েছে। বাংলাদেশের তরুণ জনশক্তির জন্য এই চাহিদা নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি করছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিএমইটির অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগপ্রক্রিয়া পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মীদের সংশ্লিষ্ট পেশায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি জাপানি ভাষায়ও যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ও দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণের মান, নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের অধিকার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ঢাকার মেট্রোরেলে আড়াই লাখ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা, বড় কাজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অবৈধ ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি হাচিবুর রহমানে বিরুদ্ধে মামলা