- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ইন্ডিয়ানার গ্যারি লাইটহাউস কলেজ প্রিপারেটরি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী আরাসেলি কুয়েভাস ১২৬টি কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে আলোচনায় এসেছেন। একই সঙ্গে তিনি পেয়েছেন মোট ৯ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তির প্রস্তাব। ৪.০ জিপিএ নিয়ে নিজের গ্র্যাজুয়েটিং ক্লাসে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এই শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির জন্য প্রায় ৩০টি রচনা লিখেছেন। ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, কুয়েভাস গ্যারি লাইটহাউস কলেজ প্রিপারেটরি ক্যাম্পাসের সিনিয়র শিক্ষার্থী ছিলেন। কলেজে আবেদনের সময় তিনি নিজেকে আরও চ্যালেঞ্জ করতে চেয়েছিলেন এবং যত বেশি সম্ভব কলেজে ভর্তির সুযোগ তৈরি করতে আবেদন করেন। তার সেই পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত ১২৬টি কলেজের গ্রহণযোগ্যতায় পরিণত হয়। কুয়েভাসের একাডেমিক ফলও ছিল অসাধারণ। তার জিপিএ ছিল ৪.০ এবং তিনি নিজের ক্লাসে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। এতগুলো কলেজে আবেদন করার পাশাপাশি তাকে প্রায় ৩০টি রচনা লিখতে হয়েছে। প্রতিটি আবেদনের শর্ত ও প্রয়োজন অনুযায়ী এসব রচনা প্রস্তুত করতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনের কৌশল হিসেবেও কুয়েভাস Common App ব্যবহার করে এমন কলেজগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি যেসব কলেজে অ্যাপ্লিকেশন ফি ছিল না অথবা ফি মওকুফের সুযোগ ছিল, সেসব প্রতিষ্ঠানেও আবেদন করেছেন। এতে বিপুলসংখ্যক কলেজে আবেদন করার খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। তার এই সাফল্যের আরেকটি বড় দিক হলো বৃত্তির প্রস্তাব। বিভিন্ন কলেজ থেকে পাওয়া অফারের মোট মূল্য ৯ মিলিয়ন ডলার। কুয়েভাসের পরিবারের জন্য এই বৃত্তি বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা হতে পারে। তার মা প্যাট্রিসিয়া গনজালেজও জানিয়েছেন, পরিবারের আরেক সন্তান ইতোমধ্যে কলেজে পড়ায় এই বৃত্তির সুযোগ ভবিষ্যৎ শিক্ষার খরচ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কুয়েভাস এমন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন, যেখানে শিক্ষার্থীদের কলেজে যাওয়ার জন্য শুরু থেকেই প্রস্তুত করা হয়। গ্যারি লাইটহাউস কলেজ প্রিপারেটরি ক্যাম্পাসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ৯ থেকে ১২ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের কলেজ প্রস্তুতির পাশাপাশি বিভিন্ন কলেজ ক্রেডিট অর্জনের সুযোগও দেয় এবং তাদের প্রায় ১০০ শতাংশ শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়। এখন কুয়েভাসের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোন কলেজে ভর্তি হবেন। তিনি ইন্ডিয়ানার কোনো কলেজে থেকেই উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার দিকে ঝুঁকেছিলেন এবং সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনার পরিকল্পনা করেছিলেন। ২০২৬ সালের মে মাসের কলেজ সিদ্ধান্তের সময়সীমার আগে তাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছিল। ১২৬টি কলেজে ভর্তির সুযোগ এবং ৯ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তির প্রস্তাব তার সামনে উচ্চশিক্ষার একাধিক পথ খুলে দিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত একটি কলেজই বেছে নিতে হবে তাকে। সেই সিদ্ধান্তের চেয়েও বড় বিষয়, একাডেমিক ফল, পরিকল্পিত আবেদন এবং দীর্ঘ প্রস্তুতির মাধ্যমে ইন্ডিয়ানার এই শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে কলেজ ভর্তির প্রতিযোগিতায় ব্যতিক্রমী একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন।
আইসিইর হাতে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীকে আটকের ঘটনায় সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘন ও ডিউ প্রসেস নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানোর প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক এক ইমিগ্রেশন জজ। ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো ইমিগ্রেশন কোর্টের সাবেক বিচারক ক্লোয়ি ডিলন এ অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা করেছেন। ৯ সেপ্টেম্বরের পর দায়ের করা মামলায় ডিলন দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে তিনি প্রায় তিন বছর সান ফ্রান্সিসকোতে ইমিগ্রেশন জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, বরখাস্ত হওয়ার আগে তিনি কর্মক্ষেত্রে ভালো মূল্যায়ন পেয়েছিলেন এবং হাজারো ইমিগ্রেশন মামলা পরিচালনা করেছিলেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় তার আদালতে হাজির হওয়া এক ব্যক্তিকে ঘিরে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি কোনো অ্যাটর্নি ছাড়াই আদালতে হাজির হয়েছিলেন। শুনানি শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার পর তাকে আইসিই আটক করে। বিষয়টি জানার পর ডিলন সংশ্লিষ্ট ফাইল আবার পর্যালোচনা করেন। ফাইল পর্যালোচনার পর ডিলনের ধারণা হয়, ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং একা ছিলেন। ফলে তিনি সম্ভবত ফেডারেল আইনের আওতায় একজন আনঅ্যাকম্পানিড মাইনর হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য ছিলেন। ডিলনের অভিযোগ, এমন অবস্থায় তাকে দ্রুত ডিপোর্টেশনের প্রক্রিয়া বা expedited removal-এ নেওয়া আইনগতভাবে সম্ভব নাও হতে পারে। তার আগে করা অ্যাসাইলাম অ্যাপ্লিকেশনও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিবেচনার সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল বলে তিনি মনে করেন। মামলায় বলা হয়েছে, ওই ঘটনার দিনই ডিলন তার সুপারভাইজারকে ইমেইল করে বিষয়টি জানান। সেখানে তিনি আইসিইর আটকের ঘটনায় সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘন এবং ডিউ প্রসেসের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। কিন্তু এর প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পরই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের চিঠি দেওয়া হয়। ডিলনের দাবি, তার বরখাস্তের সঙ্গে আগের ওই অভিযোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এবং এটি ছিল হুইসেলব্লোয়িংয়ের কারণে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা। ডিলনের মামলায় হুইসেলব্লোয়ার প্রোটেকশন অ্যাক্ট, প্রথম সংশোধনীসহ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের বিভিন্ন সুরক্ষা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বরখাস্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চেয়েছেন। মামলাটি ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়েছে। তবে ডিলনের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের এক মুখপাত্র বলেছেন, চলমান মামলা বা কর্মীদের বিষয়ে সাধারণত তারা মন্তব্য করে না। তবে ডিলনের অভিযোগকে তারা সরাসরি মিথ্যা বলে দাবি করেছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট ও ইমিগ্রেশন কোর্টের কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে একাধিক ইমিগ্রেশন জজকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সময়ে ইমিগ্রেশন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রম জোরদারের ওপর প্রশাসনের গুরুত্ব বেড়েছে। আনঅ্যাকম্পানিড মাইনরদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বিশেষ কিছু সুরক্ষা রয়েছে। একা যুক্তরাষ্ট্রে আসা শিশু বা কিশোরদের জন্য অ্যাসাইলামসহ বিভিন্ন ধরনের ইমিগ্রেশন রিলিফের সুযোগ থাকতে পারে এবং তাদের মামলায় নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার প্রয়োজন হয়। ফলে আইসিই কোনো আনঅ্যাকম্পানিড মাইনরকে আটক করার পর তাকে কোন প্রক্রিয়ায় ডিপোর্টেশনের মুখোমুখি করা যাবে, তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। ডিলনের মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন। ফলে তিনি যে প্রতিশোধমূলকভাবে বরখাস্ত হয়েছেন বা আইসিইর আটক বেআইনি ছিল, তা আদালত এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করেনি। তবে অভিযোগটি ইমিগ্রেশন জজদের স্বাধীনতা, ডিউ প্রসেস এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর পর চিকিৎসা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজন। রোববার গভীর রাতে ফেসবুক লাইভে এসে আসিফ হাসান নামের এক যুবক দাবি করেন, হাসপাতালের পিআইসিইউতে চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি, অথচ শিশুটির চিকিৎসার জন্য ২ লাখ টাকার বেশি বিল করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। কালবেলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটিকে রাজধানীর বীর উত্তম সি আর দত্ত রোডের পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে গত ১ সেপ্টেম্বর ভর্তি করা হয়। আসিফ হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন শিশুটির রক্তে সুগারের মাত্রা কমে গেছে। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথা জানানো হয় এবং কয়েক দিন এভাবেই চিকিৎসা চলতে থাকে। আসিফের দাবি, ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে তাদের জানানো হয়, পরদিন শিশুটিকে রিলিজ দেওয়া হতে পারে। কিন্তু পরে বিকেলে পরিবারের সদস্যদের বলা হয়, শিশুটির লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন। এরপর তারা শিশুটিকে দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে দেখতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে জোর করে ভেতরে গিয়ে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন আসিফ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন চিকিৎসককে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার রাত ১২টার দিকে ফেসবুক লাইভে আসেন আসিফ। লাইভে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, শিশুটির চিকিৎসার নামে ২ লাখ টাকার বেশি বিল করা হয়েছে। তবে বিলের বিস্তারিত খাত, শিশুটির চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল রেকর্ড এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আসিফ আরও অভিযোগ করেন, তার ফেসবুক লাইভের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে আসেন এবং তাকে শাসাতে থাকেন। পরে পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে বলে জানান তিনি। তবে তার দাবি, পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট পুলিশের বক্তব্য কালবেলার প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য প্রয়োজন। কালবেলার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিশুটির চিকিৎসা ডা. আতিকুর রহমানের অধীনে চলছিল বলে আসিফ জানিয়েছেন। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ওই চিকিৎসকের বিস্তারিত পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি। একইভাবে শিশুটির চিকিৎসার নথি, হাসপাতালের বিল এবং মৃত্যুর মেডিকেল কারণ সম্পর্কেও কোনো পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ্যে আসেনি। ঘটনাটি সামনে আসার পর মূল প্রশ্ন উঠেছে, শিশুটির চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না এবং হাসপাতালের বিলের সঙ্গে দেওয়া চিকিৎসাসেবার যথাযথ সামঞ্জস্য ছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে চিকিৎসার নথি, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে চিকিৎসায় অবহেলা হিসেবে চূড়ান্তভাবে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমানে বিষয়টি মূলত স্বজনের অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছে।
উগান্ডার মবারারার বাসিন্দা জুলিয়েট মবাবাজি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্য ট্রাভিস প্রেস্টন তাকে বিয়ে করে দুই সন্তান নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গিয়ে যোগাযোগ ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছেন। সন্তান দুটির বয়স এখন ৩ ও ৭ বছর। প্রেস্টনের অবস্থান জানতে এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সহায়তার জন্য প্রকাশ্যে উদ্যোগ নিয়েছেন উগান্ডার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ব্রুনো কে। মবাবাজির দাবি, মবারারায় প্রেস্টনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়, যখন তিনি সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে তাদের বিয়ে হয় এবং প্রায় দুই বছর তারা একসঙ্গে সংসার করেন। এই সময় তাদের দুটি সন্তান জন্ম নেয়। মবাবাজির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেস্টনের মিশন শেষ হওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। এরপর ধীরে ধীরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং পরিবারের জন্য আর কোনো আর্থিক সহায়তাও পাঠান না। সন্তানদের নিয়ে একাই জীবন চালাতে গিয়ে মবাবাজি তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর উগান্ডার সংগীতশিল্পী ব্রুনো কে মবাবাজি ও তার সন্তানদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত উগান্ডানদের, বিশেষ করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে প্রেস্টনকে শনাক্ত করতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে থাকা কয়েকজন উগান্ডানও এ বিষয়ে সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছেন। ব্রুনো কে একই সঙ্গে কাম্পালায় অবস্থিত ইউএস অ্যাম্বাসির সহায়তা চেয়েছেন। তার অন্যতম দাবি, মবাবাজির সন্তানরা তাদের কথিত মার্কিন বাবা থেকে কোনোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের অধিকার পেতে পারে কি না, সেটিও যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করে। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রেস্টনের অবস্থান, অভিযোগগুলোর সত্যতা বা শিশু দুটির নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো প্রকাশ্য নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে জন্ম নেওয়া কোনো শিশু নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ করলে জন্মের সময়ই মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে পারে। মার্কিন নাগরিক বাবা বা মায়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে শিশুর সঙ্গে জৈবিক বা আইনগত সম্পর্ক, বাবা বা মায়ের নাগরিকত্ব এবং সন্তানের জন্মের আগে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক বাবা বা মায়ের শারীরিক উপস্থিতির মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়। মার্কিন নাগরিক বাবা সন্তানটির পিতৃত্ব স্বীকার না করলে বা পর্যাপ্ত নথি না থাকলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন হতে পারে। পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে জন্ম নেওয়া সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্বের দাবি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন, মার্কিন নাগরিক বাবা বা মায়ের নাগরিকত্বের প্রমাণ, বিয়ের নথি এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস বা শারীরিক উপস্থিতির তথ্যসহ বিভিন্ন নথি প্রয়োজন হতে পারে। পর্যাপ্ত নথি না থাকলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেও জৈবিক সম্পর্ক প্রমাণের সুযোগ রয়েছে। এদিকে পরিবারটির তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতেও ব্রুনো কে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাবার, শিশুদের পড়াশোনা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচে সহায়তার জন্য তিনি অনলাইন লাইভস্ট্রিমের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করছেন। তবে ৫ মিলিয়ন উগান্ডান শিলিং সংগ্রহের দাবিটি নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি। মবাবাজির অভিযোগের বিষয়ে ট্রাভিস প্রেস্টনের কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো একতরফা দাবি হিসেবেই রয়েছে। বিষয়টির পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করছে প্রেস্টনের অবস্থান শনাক্ত হওয়া, পিতৃত্ব ও পারিবারিক সম্পর্কের নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গাড়ি দুর্ঘটনার পর পুলিশের হাত থেকে পালানোর সময় দুই ছোট শিশুকে নিয়ে ঘন জলাভূমিতে ঢুকে পড়েন ২৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। পুলিশ জানিয়েছে, আইজ্যাক কিনসে নামের ওই ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পরে পুলিশের ড্রোনে তাকে শনাক্ত করা হয়। জলাভূমির ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় বারবার পড়ে গিয়ে তার সঙ্গে থাকা দুই শিশুও পানিতে ডুবে যায়। ঘটনাটি ঘটে ৯ সেপ্টেম্বর ভোরে লেকল্যান্ড শহরের হাইওয়ে ৩৩ ও নর্থ কম্বি রোডের কাছে। লেকল্যান্ড পুলিশ বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গাড়ি সড়ক বন্ধের চিহ্ন ও বালুর বস্তা অতিক্রম করে নির্মাণাধীন এলাকায় ঢুকে গাছের উন্মুক্ত শিকড়ের কাছে গিয়ে থেমে যায়। দুর্ঘটনাটি ছিল এক গাড়ির উল্টে যাওয়ার ঘটনা বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটির চালককে সেখানে পায়নি। গাড়ির ভেতরে দুটি শিশুদের নিরাপত্তা আসন দেখতে পেয়ে কর্মকর্তারা আশপাশে দ্রুত তল্লাশি শুরু করেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, শিশু দুটিও হয়তো গাড়িতে ছিল এবং চালক তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে গেছেন। তল্লাশি শুরুর প্রায় ৩০ মিনিট পর পুলিশের ড্রোনে দুর্ঘটনাস্থলের দক্ষিণ দিকে ঘন গাছপালা ও জলাভূমির মধ্যে কিনসেকে দেখা যায়। পুলিশ বলেছে, তখন তার সঙ্গে ছিল ২ বছর বয়সী একটি শিশু ও ১০ মাস বয়সী একটি শিশু। চারদিকে অন্ধকার থাকায় দুর্গম জলাভূমির মধ্য দিয়ে তাদের নিয়ে এগোতে গিয়ে কিনসে বারবার পড়ে যাচ্ছিলেন। পুলিশের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, জলাভূমির পানির মধ্যে চলার সময় কিনসে হোঁচট খেয়ে পড়ে যান। এতে দুই শিশুও কয়েকবার দাঁড়িয়ে থাকা পানিতে ডুবে যায়। একপর্যায়ে তিনি ২ বছর বয়সী শিশুটিকে রেখে ছোট শিশুটিকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাদের কাছে পৌঁছে দুই শিশুকেই উদ্ধার করেন। ভিডিওতে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে আলো ফেলে কিনসেকে কাছে আসতে বলতে শোনা যায়। আরেক কর্মকর্তা শিশুটিকে তার কাছ থেকে নেওয়ার সময় চিৎকার করে বলেন, “শিশুটিকে আমাকে দিন, এখনই শিশুটিকে দিন।” পরে পুলিশ সদস্যরা দুই শিশুকেই নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন এবং কিনসেকে আটক করেন। উদ্ধারের পর দুই শিশুকে লেকল্যান্ড রিজিওনাল হেলথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিনসেকেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিনসের মধ্যে মদ্যপ অবস্থার লক্ষণ ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি নিজেই মদ্যপ থাকার কথা জানান বলে পুলিশ দাবি করেছে। তার চালকের লাইসেন্সও স্থগিত ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই ঘটনায় কিনসের বিরুদ্ধে মোট ১১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে আটটি অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর এবং তিনটি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে শিশুদের গুরুতর শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকিতে ফেলার সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি অভিযোগও রয়েছে। লেকল্যান্ড পুলিশের প্রধান স্যামি টেলর বলেন, ঘটনাটি আরও ভয়াবহ পরিণতি নিতে পারত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জলাভূমির পানিতে শিশুরা কয়েকবার ডুবে গিয়েছিল এবং তারা ডুবে মারা যেতে পারত। তিনি বলেন, পুলিশের ড্রোন দ্রুত ওই ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জলাভূমিটি ছিল ঘন ও দুর্গম। ফলে সাধারণভাবে হেঁটে সেখানে দ্রুত পৌঁছানো কঠিন ছিল। ড্রোনের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করার পর কর্মকর্তারা ওই এলাকায় গিয়ে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন। তবে পুলিশ এখনো জানায়নি, কিনসের সঙ্গে থাকা দুই শিশুর সঙ্গে তার ঠিক কী সম্পর্ক এবং দুর্ঘটনার আগে গাড়িটি কেন সড়ক বন্ধের চিহ্ন অতিক্রম করেছিল। এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। লেকল্যান্ড পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, ঘটনাটি দুই শিশুর জীবনহানির মতো পরিণতিতে গড়াতে পারত। দ্রুত ড্রোন মোতায়েন, কর্মকর্তাদের ধৈর্য এবং সমন্বিত তৎপরতার কারণে শিশু দুটিকে দুর্গম এলাকা থেকে শনাক্ত ও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশ একই সঙ্গে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই বলেও উল্লেখ করেছে। সূত্র: লেকল্যান্ড পুলিশ বিভাগ ও ফক্স ১৩ নিউজ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ১৩ বছর বয়সী নেহা ব্লান্ট প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পানি অপচয় কমানোর উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার তৈরি ‘ওয়াটার সেভার’ নামের ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনটি পরিবারগুলোকে নিজেদের পানি ব্যবহারের হিসাব রাখতে এবং দৈনন্দিন জীবনে পানি সাশ্রয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করছে। নেহার নেতৃত্বে পরিচালিত ‘ওয়াটার সেভার্স’ প্রচারণা এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ১০ লাখের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ১ লাখের বেশি মানুষকে দৈনন্দিন ব্যবহারে পরিবর্তন আনতে উৎসাহিত করেছে এই উদ্যোগ। এর মাধ্যমে আনুমানিক ২ কোটি গ্যালন পানি সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশবিষয়ক সংগঠন অ্যাকশন ফর নেচার। এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক ইয়াং ইকো-হিরো অ্যাওয়ার্ডে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন এবং কমিউনিটি এনগেজমেন্ট বিভাগে তৃতীয় স্থান পেয়েছে নেহা। ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিযোগীদের বিভাগে তাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নেহার এই উদ্যোগের শুরু একটি সাধারণ তথ্য থেকে। ইভেশাম টাউনশিপ মিউনিসিপ্যাল ইউটিলিটিজ অথরিটির একটি ক্যালেন্ডারে তিনি দেখেন, একটি মাত্র পানির কল থেকে লিকেজের কারণে প্রতি মাসে ২ হাজার গ্যালনের বেশি বিশুদ্ধ পানি নষ্ট হতে পারে। বিষয়টি তাকে দৈনন্দিন জীবনে পানির অপচয় নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। নিউ জার্সি তুলনামূলকভাবে বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা হলেও জনসংখ্যা ও পানির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর জলসম্পদের ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে। ২০২৩ সালের বসন্তে নেহা পানি সংরক্ষণে ‘ওয়াটার সেভার্স’ প্রচারণা শুরু করেন। নিজের শেখা প্রোগ্রামিং দক্ষতার সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম যুক্ত করেন তিনি। এরপর প্রায় সাত মাস সময় নিয়ে তৈরি করেন ‘ওয়াটার সেভার’ ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন। এর উদ্দেশ্য ছিল শুধু মানুষকে পানি কম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া নয়, বরং পানি ব্যবহারের পরিমাণ সম্পর্কে তাদের সচেতন করা এবং ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করা। অ্যাপটি তৈরির সময় নেহাকে বেশ কিছু নতুন প্রযুক্তিগত বিষয়ও শিখতে হয়েছে। ব্যবহারকারীর তথ্য ও লগইন ব্যবস্থাপনার জন্য তিনি নিজে মাইএসকিউএল শিখেছেন এবং অ্যাপটির পেছনের কাঠামোও তৈরি করেছেন। সফটওয়্যার ডাউনলোডের প্রয়োজন না রেখে ওয়েবভিত্তিক ব্যবস্থা বেছে নেওয়ার ফলে বিভিন্ন যন্ত্র থেকে এটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। ‘ওয়াটার সেভার’-এ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পাত্র ও বৃষ্টির বাগান তৈরির মতো বিষয়ে ব্যবহারিক নির্দেশনাও রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে পানির সংকট নিয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ পানি সংরক্ষণকে শুধু স্থানীয় সমস্যা হিসেবে নয়, বৈশ্বিক বিষয় হিসেবেও তুলে ধরেছে উদ্যোগটি। নেহার কাজ দ্রুত স্থানীয় পর্যায়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। ২০২৩ সালের কংগ্রেশনাল অ্যাপ চ্যালেঞ্জে ‘ওয়াটার সেভার’ তৃতীয় স্থান অর্জন করে। অ্যাকশন ফর নেচারের তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া সবচেয়ে কম বয়সী প্রতিযোগী ছিলেন নেহা। পরে তাকে ইভেশাম এনভায়রনমেন্টাল কমিশনের পানি সংরক্ষণবিষয়ক দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্থানীয় অর্থনৈতিক পরামর্শক পরিষদেও শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। নিউ জার্সি জেনারেল অ্যাসেম্বলিও তার উদ্যোগকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে পানি সংরক্ষণই নেহার একমাত্র উদ্যোগ নয়। মাত্র তিন বছর বয়স থেকেই তিনি প্রোগ্রামিং করছেন। ১৩ বছর বয়সেই ২২টি কলেজ ক্রেডিট অর্জন করেছেন বলে অ্যাকশন ফর নেচারের তথ্য থেকে জানা যায়। ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকাকালে নিজের কাউন্টির সবচেয়ে কম বয়সী শিক্ষার্থী হিসেবে এপি ক্যালকুলাস বিসি কোর্সেও অংশ নেন তিনি। বোনের সঙ্গে মিলে নেহা ঘরের ভেতরের বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের একটি ব্যবস্থাও তৈরি করেছেন। পাশাপাশি ‘প্রজেক্ট রিফিট’-এ শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করে সাবেক সেনাসদস্যদের পারস্পরিক সহায়তার জন্য একটি অ্যাপ তৈরিতে যুক্ত আছেন। পরিবারের এক সদস্য প্রতারণার শিকার হওয়ার পর স্টকটন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে মিলে বয়স্কদের প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন করার একটি কর্মসূচিতেও কাজ করেছেন। প্রযুক্তি শিক্ষাকে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে স্থানীয় গ্রন্থাগারে সুবিধাবঞ্চিত কিশোরীদের বিনামূল্যে কোডিং শেখাতেও ২০০ ঘণ্টার বেশি সময় দিয়েছেন নেহা। যুব পরামর্শক কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও কাজ করছেন তিনি। সেখানে ‘পাই ডে’ উপলক্ষে একটি তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়ে তিনজন স্নাতক শিক্ষার্থীর জন্য ৫০০ ডলার করে তিনটি বৃত্তির অর্থ সংগ্রহ করেন। এখন নেহা ইভেশাম মিউনিসিপ্যাল ইউটিলিটিজ অথরিটির সঙ্গে ‘ওয়াটার সেভার ২.০’ নিয়ে কাজ করছেন। নতুন সংস্করণে নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা তৈরি করে পরিবারের পানি ব্যবহারের তাৎক্ষণিক তথ্যকে ইন্টার্যাকটিভ চার্টে দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ব্যবহারকারীরা কোন সময়ে কত পানি ব্যবহার করছেন, তা আরও সহজে বুঝতে পারবেন। পাশাপাশি নেহা একটি ‘চ্যারিটি: ওয়াটার’ কূপ প্রকল্পের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে চান, যার লক্ষ্য একটি পুরো শহরের মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা। ভবিষ্যতে কম্পিউটার বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে সাইবার নিরাপত্তায় বিশেষায়িত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নেহার। দীর্ঘমেয়াদে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থায় কাজ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান। নেহার কাজের মূল বার্তা শুধু পানি বাঁচানো নয়। তার মতে, কোনো সম্পদ সহজলভ্য মনে হলে মানুষ অনেক সময় অজান্তেই অপচয়ের অভ্যাসে চলে যায়। তাই পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। মাত্র একটি পানির কল থেকে পানি অপচয়ের তথ্য দেখে শুরু করা নেহার উদ্যোগ এখন লাখো মানুষের কাছে পৌঁছেছে। প্রযুক্তি, পরিবেশ সচেতনতা ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে ১৩ বছর বয়সেই তিনি দেখিয়েছেন, বড় কোনো পরিবর্তনের সূচনা কখনও কখনও খুব ছোট একটি সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য থেকেই হতে পারে। সূত্র: অ্যাকশন ফর নেচার ও সাউথ জার্সি মিডিয়া
নেদারল্যান্ডসে বড় হওয়া দুই নারী মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল তিজেনের বন্ধুত্বের শুরু কৈশোরে। প্রায় তিন দশক ধরে তারা একে অপরকে বন্ধু হিসেবে চিনেছেন, চেহারা ও স্বভাবের মিল দেখে মজা করে ‘বোন’ও ডাকতেন। কিন্তু তখন কেউ জানতেন না, সেই সম্পর্ক আসলে রক্তের সম্পর্ক। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মীনা ও মিনাল দুজনকেই আশির দশকের শুরুর দিকে মুম্বাইয়ের আলাদা দুটি এতিমখানা থেকে দত্তক নেওয়া হয়। পরে তারা নেদারল্যান্ডসের দুই ভিন্ন পরিবারে বড় হন। তাদের দত্তক পরিবারগুলোর বাড়িও ছিল একে অপরের থেকে মাত্র প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে। ১৯৯৬ সালে কিশোরী বয়সে দত্তক নেওয়া শিশুদের জন্য আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় মীনা ও মিনালের। প্রথম দেখাতেই দুজনের মধ্যে অদ্ভুত এক পরিচিতির অনুভূতি তৈরি হয়। তাদের সঙ্গে থাকা বন্ধুরাও চেহারার মিল দেখে অবাক হয়েছিলেন। মীনার ভাষায়, মিনালের নাক, হাসি ও নানা অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে তার নিজের অদ্ভুত মিল ছিল। সেই পরিচয় দ্রুত বন্ধুত্বে পরিণত হয়। দুজন পরস্পরের ঠিকানা ও ফোন নম্বর নেন এবং চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন। স্কুল, বন্ধু, গান, খেলাধুলা থেকে শুরু করে কৈশোরের নানা বিষয় নিয়ে তাদের কথা হতো। এমনকি নিজেদের মধ্যে মজা করে একে অপরকে ‘বোন’ বলেও সম্বোধন করতেন। তবে প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মিনাল পরে ফ্রান্সে চলে যান। অন্যদিকে মীনা সন্তান ও পরিবার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এর মধ্যে ২০১৭ সালে নিজের জৈবিক পরিবারের সন্ধানে মীনা একটি ডিএনএ পরীক্ষা করেছিলেন। তবে তখন কোনো মিল পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের শুরুর দিকে ফোনের জায়গা খালি করতে তিনি সেই পরীক্ষার অ্যাপও মুছে ফেলেন। এপ্রিল মাসে মিনালও একই উদ্দেশ্যে একটি ডিএনএ পরীক্ষা করেন। মে মাসের ২০ তারিখে তিনি ফেসবুকে মীনাকে একটি বার্তা পাঠান, ‘আমাকে মনে আছে?’ বার্তার সঙ্গে তিনি নিজের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের একটি ছবি পাঠান। মীনা দ্রুত অ্যাপটি আবার ইনস্টল করেন। এরপর পরীক্ষার ফল দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। ফলাফলে মিনালকে তার ‘পূর্ণ বোন’ হিসেবে দেখানো হয়। অর্থাৎ তারা একই জৈবিক মা ও বাবার সন্তান। রয়টার্সকে মীনা বলেন, ফলাফলটি দেখার পর তার মনে হয়েছিল, দীর্ঘদিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না এমন একটি ধাঁধার টুকরো যেন হঠাৎ হাতে এসেছে। এতদিন যে অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে পারতেন না, ডিএনএ পরীক্ষার ফল সেটিকেই সত্য প্রমাণ করেছে। অন্যদিকে মিনাল প্রথমে বুঝতেই পারেননি, ডিএনএ পরীক্ষায় পাওয়া ‘মীনা’ সেই কিশোরী বন্ধু, যার সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর আগে তার পরিচয় হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মীনার ছবি দেখে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। আগস্টে নেদারল্যান্ডসের স-হার্টোজেনবস শহরে ডিএনএ পরীক্ষার ফল জানার পর দুই বোনের প্রথম দেখা হয়। দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ার মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। কান্না, হাসি ও আলিঙ্গনের মধ্য দিয়ে তারা একে অপরকে স্বাগত জানান। তাদের পরিবারের সদস্যরাও সেই পুনর্মিলনে উপস্থিত ছিলেন। মীনা বর্তমানে ৪৩ বছর বয়সী এবং তিন সন্তানের মা। তিনি নেদারল্যান্ডসে থাকেন। মিনালের বয়স ৪৪ বছর। তিনি ফ্রান্সে সঙ্গী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন। দুই বোনের মধ্যে যোগাযোগও এখন আবার নিয়মিত হয়েছে। তারা প্রায় প্রতিদিন কথা বলছেন এবং একে অপরের স্বামী বা সঙ্গী, সন্তান, ভাইবোন ও পরিবারের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। তাদের পরিবারের সদস্যরাও লক্ষ্য করছেন, দুজনের কথা বলার ধরন, হাঁটা ও মাথা নাড়ার ভঙ্গিতেও এখনও অনেক মিল রয়েছে। মিনাল বলেন, জীবনে তিনি সবসময় ভালোবাসা ও যত্ন পেয়েছেন, কিন্তু কোথাও একটা একাকিত্বের অনুভূতি ছিল। নিজের জৈবিক পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা তার ছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় মীনাকে খুঁজে পাওয়ার পর সেই অনুভূতিতে পরিবর্তন এসেছে। প্রায় ৩০ বছর আগে যে দুই কিশোরী বন্ধুত্বের বন্ধনে যুক্ত হয়েছিল, তারা তখন জানত না তাদের সম্পর্ক আরও গভীর। এখন সেই পুরোনো বন্ধুত্বের নতুন অর্থ খুঁজে পেয়েছেন তারা। মিনালের ভাষায়, তারা বোন হওয়ার আগে বন্ধু ছিল, অথচ এতদিন তারা বোনই ছিল, শুধু সেটা জানত না। সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স।
সুইডেনে মুসলিমদের সমঅধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং বৈষম্য থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দেশটির রাজনৈতিক দল ভিজন পার্টি। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে দলটি বলেছে, মুসলিমদের শুধু অভিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁরা সুইডিশ সমাজের নাগরিক, পেশাজীবী, অভিভাবক ও ভোটার এবং তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়ের অধিকারও অন্য নাগরিকদের মতোই সুরক্ষিত হওয়া উচিত। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ভিজন পার্টি সংখ্যালঘু অধিকার, বৈষম্যবিরোধী নীতি, মুসলিমদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, পরিবারনীতি এবং সমতার বিষয়গুলোকে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ করেছে। নির্বাচনের আগে আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, এবারের নির্বাচন সুইডেনের গণতন্ত্র, সংখ্যালঘুদের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। দলটির অভিযোগ, সুইডেনের রাজনৈতিক আলোচনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলাম, মুসলিম জনগোষ্ঠী এবং উগ্রবাদকে অনেক সময় একই আলোচনার মধ্যে আনা হচ্ছে। ভিজন পার্টির মতে, সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলা করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ম পালনকারী মুসলিমদের অধিকার রক্ষা করা দুটি আলাদা বিষয়। তাদের আশঙ্কা, উগ্রবাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আড়ালে সাধারণ মুসলিম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপের প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। এদিকে সুইডেনের রাজনীতিতে অভিবাসন ও ইসলাম নিয়ে বিতর্ক নির্বাচনের আগে আরও জোরালো হয়েছে। দেশটির ডানপন্থি সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলের শীর্ষ নেতা রিচার্ড জোমশফ সাম্প্রতিক সময়ে ইসলাম নিয়ে তাঁর কঠোর অবস্থানের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। আগস্টে সুইডিশ সংবাদমাধ্যম এসভিটি জানিয়েছিল, জোমশফ এক সাক্ষাৎকারে সুইডিশ মুসলিমদের ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনও সমালোচনা করেন এবং বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা সুইডেনের মৌলিক মূল্যবোধ। জোমশফ অবশ্য নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। এসভিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ইসলামকে সুইডেনের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন এবং নির্বাচনের আগে ইসলাম নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ভবিষ্যৎ সরকারে এমন একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন, যেখানে ইসলাম ও তথাকথিত ‘ইসলামায়ন’ বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হবে। এই রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেই ভিজন পার্টি জানিয়েছে, তারা সুইডেনে মুসলিমদের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি তুলেছে। দলটির দাবি, তারা জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থার অধীন তিনজন বিশেষ প্রতিবেদকের কাছে ২১ পৃষ্ঠার একটি নথি জমা দিয়েছে। সেখানে সুইডেনে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য নিয়ে ৮৮টি তথ্যসূত্র ও নথিভিত্তিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দলটি জানিয়েছে। ভিজন পার্টির ভাষ্য, তারা সুইডেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম নিষিদ্ধ করার অভিযোগ করছে না। বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা, বৈষম্য ও সংখ্যালঘু অধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকদের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। দলটির দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকেরা বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুইডিশ সরকারের কাছে উদ্বেগ জানাতে পারেন। তবে সুইডেনে ইসলাম নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক যে শুধু ভিজন পার্টির অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তা নয়। রিচার্ড জোমশফের বক্তব্য নিয়ে দেশটির অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকেও সমালোচনা এসেছে। প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসন বলেছেন, রাজনৈতিক ইসলাম ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় স্বাধীনতা সুইডেনের মৌলিক অধিকার। জোমশফের বক্তব্যের পক্ষে তাঁর দল সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের নেতা জিমি অকেরসনও অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনী বিতর্কে জোমশফের বক্তব্য রাখার অধিকার রয়েছে। তবে বক্তব্যটি কোন প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। এর আগে ইসলাম নিয়ে জোমশফের বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে সুইডেনে বিতর্ক হয়েছে। ২০২৩ সালে ইসলামকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে তাঁর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিল। ২০২৪ সালেও ইসলামবিরোধী ব্যঙ্গচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়। ভিজন পার্টি বলেছে, মুসলিমদের জন্য তারা কোনো বিশেষ সুবিধা দাবি করছে না। তাদের দাবি মূলত সংবিধান ও আইনে স্বীকৃত সমঅধিকার বাস্তবায়ন। দলটির মতে, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যেন বৈষম্যের শিকার না হন এবং মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন নিরাপদ পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দলটি ধর্মীয় বৈষম্য ও ঘৃণাভিত্তিক অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার এবং ধর্মীয় পোশাক, উপাসনা কিংবা মুসলিমদের পরিচালিত সংগঠনের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক বিধিনিষেধ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ভিজন পার্টির তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক লক্ষ্য স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো। দীর্ঘমেয়াদে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় সংসদে আসন পাওয়ার লক্ষ্যও জানিয়েছে দলটি। তাদের বক্তব্য, মুসলিমদের নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা সুইডেনের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করবে। সুইডেনের ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে অভিবাসন, নাগরিকত্ব, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয় ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে মুসলিমদের অধিকার নিয়ে ভিজন পার্টির অবস্থান এবং জোমশফের ইসলামবিষয়ক বক্তব্য দেশটির নির্বাচনী বিতর্কে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্নকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, এসভিটি নিউজ
দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ডেটিং রিয়েলিটি শো ‘দ্য শাইনিং সোলো’-এর চতুর্থ পর্বে ২৭ বছর বয়সী এক প্রতিযোগীর ত্বক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানটিতে ইউ সান নামে পরিচিত ওই তরুণীর মুখের ত্বক এতটাই মসৃণ ও সমান দেখায় যে, দর্শকদের একাংশ সেটিকে নিখুঁত সৌন্দর্যের উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ এটিকে অতিরিক্ত প্রসাধনী ও সৌন্দর্যচর্চার সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে দেখেছেন। উচ্চমানের ক্যামেরায় ধারণ করা অনুষ্ঠানের দৃশ্যে ইউ সানের মুখে দৃশ্যমান কোনো লোমকূপ বা বলিরেখা প্রায় চোখে পড়েনি। আলো তাঁর মুখে পড়লে ত্বকটি অনেকটা চীনামাটির মতো মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। সেই দৃশ্য প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা ধরনের মন্তব্য। একটি ভাইরাল পোস্টে দাবি করা হয়, এই ধরনের ত্বকের চেহারার পেছনে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, রেজুরান ও জুভেলুকের মতো সৌন্দর্যচিকিৎসার ভূমিকা থাকতে পারে। তবে ইউ সান নিজে এসব চিকিৎসা নিয়েছেন কি না, কতবার নিয়েছেন বা তাঁর ত্বকের বর্তমান চেহারার প্রকৃত কারণ কী, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে প্রসাধনী ও নান্দনিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি উপাদান। রেজুরান ও জুভেলুকও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ত্বকের সৌন্দর্য ও গঠন উন্নত করার জন্য ব্যবহৃত নান্দনিক চিকিৎসার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এসব চিকিৎসার ফল ব্যক্তি ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যবহারের সঙ্গে ইউ সানের চেহারার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো চিকিৎসাগত প্রমাণও প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়াও ছিল বিভক্ত। চীনা ও দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু ব্যবহারকারী তাঁর মুখের চেহারাকে কৃত্রিম পুতুল বা সিলিকনের তৈরি মূর্তির সঙ্গে তুলনা করেছেন। আবার অনেকে এমন ত্বককে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও নিখুঁত বলে প্রশংসা করেছেন। তবে এই আলোচনা শুধু একজন টেলিভিশন ব্যক্তিত্বের চেহারা নিয়ে মন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সৌন্দর্যচর্চা এবং তরুণদের ওপর নিখুঁত চেহারা ধরে রাখার সামাজিক চাপ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ত্বকের যত্ন ও নান্দনিক চিকিৎসার জনপ্রিয়তা বহুদিনের। দেশটির সৌন্দর্যশিল্পে ত্বকের গঠন, উজ্জ্বলতা ও বয়সের ছাপ কমিয়ে দেখানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা ও প্রসাধনী ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং উচ্চমানের ক্যামেরার যুগে মানুষের চেহারা আরও কাছ থেকে ও বিস্তারিতভাবে দেখা যায়। ফলে সামান্য ত্বকের দাগ, লোমকূপ বা বলিরেখাও দর্শকের চোখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি অদৃশ্য করে দেওয়াকে সৌন্দর্যের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখলে মানুষের মধ্যে অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা সম্পাদিত ছবি, ফিল্টার এবং অতিরিক্ত মসৃণ ত্বকের সঙ্গে নিজের চেহারার তুলনা করার প্রবণতা আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে। ‘দ্য শাইনিং সোলো’-তে ইউ সানের উপস্থিতি তাই সৌন্দর্যের সংজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ক্যামেরায় নিখুঁত দেখানো ত্বককে কেউ সৌন্দর্যের চূড়ান্ত প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, মানুষের স্বাভাবিক ত্বকের বৈশিষ্ট্যগুলোও সৌন্দর্যের অংশ। তবে ইউ সানের ব্যক্তিগত সৌন্দর্যচর্চা বা কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যকে তাঁর চিকিৎসার প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের আলো, মেকআপ, ক্যামেরার প্রযুক্তি এবং ছবি প্রক্রিয়াকরণের কারণেও ত্বকের চেহারা বাস্তবের তুলনায় আলাদা দেখা যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই ঘটনা সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা কতটা বদলে যাচ্ছে, সেই পুরোনো প্রশ্নটিকেই সামনে এনেছে। প্রযুক্তি যখন মানুষের চেহারার প্রতিটি সূক্ষ্ম বিষয়কে দৃশ্যমান করে তুলছে, তখন স্বাভাবিক ত্বককে গ্রহণ করা এবং সৌন্দর্যের জন্য কতটা পরিবর্তন প্রয়োজন, তা নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে। সূত্র: ইউপিএসওসিএল, দ্য শাইনিং সোলো
ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষায় অ্যাপলের চালু করা অ্যাপ ট্র্যাকিং নীতিই এবার বড় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যুক্তরাজ্যের অ্যাপ নির্মাতাদের পক্ষ থেকে অ্যাপলের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ কোটি পাউন্ড বা ২৭০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগ, অ্যাপলের অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সি ব্যবস্থা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নির্মাতাদের ওপর কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দিয়েছে, অথচ নিজেদের বিজ্ঞাপনসেবার ক্ষেত্রে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছে। মামলাটি ৩ সেপ্টেম্বর লন্ডনের কম্পিটিশন আপিল ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা হয়। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা অ্যান পোপের নেতৃত্বে অ্যাটিটি কালেক্টিভ অ্যাকশন লিমিটেড এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। আইনজীবী প্রতিষ্ঠান হাউসফেল্ড মামলাটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। অ্যাপল ২০২১ সালে অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সি বা এটিটি ব্যবস্থা চালু করে। এর মাধ্যমে কোনো অ্যাপ ব্যবহারকারীর কার্যক্রম অন্য প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে অনুসরণ করে বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য উদ্দেশ্যে তথ্য ব্যবহার করতে চাইলে ব্যবহারকারীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। আইফোন বা আইপ্যাডে কোনো নতুন অ্যাপ খোলার সময় অনেক ব্যবহারকারী যে অনুমতির বার্তা দেখতে পান, এটিই সেই ব্যবস্থা। সেখানে ব্যবহারকারীকে জানতে চাওয়া হয়, অ্যাপটি অন্য প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে তাঁর কার্যক্রম অনুসরণ করতে পারবে কি না। ব্যবহারকারী অনুমতি না দিলে সংশ্লিষ্ট অ্যাপের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপনের কাজে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। মামলাকারী অ্যাপ নির্মাতাদের অভিযোগ, এই নীতি চালুর ফলে বিজ্ঞাপননির্ভর ব্যবসা করা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। তাঁদের দাবি, নতুন নিয়ম কার্যকর করার আগে ব্যবসার ধরন পরিবর্তন ও সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়নি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অ্যাপল তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নির্মাতাদের ওপর যে ধরনের অনুমতির শর্ত আরোপ করেছে, নিজেদের সেবার ক্ষেত্রে একই মাত্রার বিধিনিষেধ প্রয়োগ করেনি। এর ফলে অ্যাপলের নিজস্ব বিজ্ঞাপন ব্যবসা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেয়েছে বলে দাবি করেছেন মামলাকারীরা। মামলার নেতৃত্ব দেওয়া অ্যান পোপ বলেন, অ্যাপলের নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির ওপর নির্ভরশীল ব্রিটিশ ব্যবসাগুলো উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাঁর মতে, এই আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্রিটিশ ব্যবসাগুলোর অধিকার রক্ষা এবং অ্যাপলের প্রয়োগ করা নিয়ম সবার জন্য সমান কি না, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টিও মামলার অন্যতম লক্ষ্য। অ্যাপল অবশ্য অভিযোগ মেনে নেয়নি। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সির মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীদের নিজেদের তথ্যের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেওয়া। অ্যাপলের দাবি, অন্য প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে তাঁদের কার্যক্রম অনুসরণ করার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত ব্যবহারকারীর হাতেই থাকা উচিত। অ্যাপল আরও বলেছে, এটিটি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তারা অন্যান্য অ্যাপ নির্মাতাদের মতো একই নিয়মের অধীন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যবহারকারীরা এই গোপনীয়তা ব্যবস্থাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং গোপনীয়তা রক্ষায় কাজ করা বিভিন্ন পক্ষও এর প্রশংসা করেছে। যুক্তরাজ্যের এই মামলা অ্যাপলের অ্যাপ ট্র্যাকিং নীতিকে ঘিরে ইউরোপে চলমান নিয়ন্ত্রক নজরদারিরও অংশ। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, রোমানিয়া ও পোল্যান্ডে একই নীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে তদন্ত বা নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ হয়েছে। ফ্রান্সে ২০২৫ সালে অ্যাপলকে ১৫ কোটি ইউরো জরিমানা করা হয় এবং ইতালিতেও প্রায় ১০ কোটি ইউরোর জরিমানার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বর্তমান মামলায় ২৭০ কোটি ডলারের অঙ্কটি আদালতের দেওয়া জরিমানা নয়। এটি মামলাকারীদের দাবি করা সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ। মামলা কীভাবে এগোবে এবং শেষ পর্যন্ত অ্যাপলকে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হবে কি না, তা আদালতের পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। অ্যাপলের জন্য মামলাটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে প্রতিষ্ঠানটি আইফোন ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর নীতিকে নিজেদের পণ্য ও গোপনীয়তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরে আসছে। অন্যদিকে অ্যাপ নির্মাতারা বলছেন, একই নীতি তাদের বিজ্ঞাপনভিত্তিক ব্যবসার ওপর অসম প্রভাব ফেলছে। মামলাটি এখন প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে। ফলে ক্ষতিপূরণের দাবি, অ্যাপলের নীতির প্রকৃত প্রভাব এবং তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নির্মাতাদের সঙ্গে অ্যাপলের নিজস্ব সেবার ক্ষেত্রে নিয়মের পার্থক্য নিয়ে আদালতে আরও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: এএফপি, রয়টার্স
ফিনল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অভিবাসন ও বসবাসের নিয়ম আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রী ও সন্তানদের পারিবারিক ভিত্তিতে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীকে দেশটিতে অন্তত এক বছর বসবাস করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্স পারমিটের ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতার শর্তও যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফিনল্যান্ডের ক্ষমতাসীন ডানপন্থি জোট সরকার প্রস্তাবিত আইনটি দেশটির সংসদে পাঠিয়েছে। সরকারের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক ঝুঁকি কমানো, শিক্ষার্থী অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এবং প্রকৃত শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করাই এসব পরিবর্তনের অন্যতম লক্ষ্য। উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৩ থেকে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী ফিনল্যান্ডে যান। এর মধ্যে বাংলাদেশ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে। ফলে নতুন প্রস্তাবিত নিয়মগুলো বিদেশি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডে পড়তে যাওয়া কোনো শিক্ষার্থীর স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের রেসিডেন্স পারমিটের আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন অপেক্ষার সময় যুক্ত হবে। শিক্ষার্থী দেশটিতে আসার পর অন্তত এক বছর পার না হলে পরিবারের সদস্যরা পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করতে পারবেন না। বর্তমানে শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ফিনল্যান্ডে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করতে পারেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে পরিবারকে ফিনল্যান্ডে নেওয়ার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত এক বছরের সময় বিবেচনায় রাখতে হবে। সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন অপেক্ষার নিয়ম ২০২৭ সালের ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে পারে। তবে এর আগে প্রস্তাবটি সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্স পারমিটের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট ভাষাগত দক্ষতা থাকার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সরকারের যুক্তি, ফিনল্যান্ডে পড়াশোনার জন্য আসা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সফলভাবে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভাষাগত সক্ষমতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ফিনিশ সরকারের মতে, কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার রেসিডেন্স পারমিটকে ইউরোপের চাকরির বাজারে প্রবেশের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। এ ধরনের প্রবণতা ঠেকাতে এবং প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে ভাষাগত যোগ্যতার শর্ত যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু ভাষার শর্ত নয়, ফিনল্যান্ডে অবস্থানকালে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও নতুনভাবে নির্ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশটিতে বসবাসের জন্য শিক্ষার্থীর হাতে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ আইন ও সরকারি ডিক্রির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই অর্থের সীমা প্রতি তিন বছর পরপর পর্যালোচনা করার কথা বলা হয়েছে। ফিনল্যান্ডের সরকারের দাবি, বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দেশটিতে যাওয়ার পর জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতে সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন নিয়োগ ও শিক্ষার্থী সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং অতিরিক্ত ফি দেওয়ার কারণে কেউ কেউ ঋণ ও আর্থিক সংকটে পড়ছেন। নতুন নিয়মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ফিনল্যান্ডে যাওয়ার আগে তাঁদের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ফিনল্যান্ড গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অভিবাসন ব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তন এনেছে। নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রেও বসবাসের সময়সীমা ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত কঠোর করা হয়েছে। স্থায়ী রেসিডেন্স পারমিটের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় বসবাস, কর্মসংস্থান ও ভাষাগত দক্ষতাকে আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. মজিবুর দফতরি বলেন, শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য অভিবাসীদের পারিবারিক পুনর্মিলন ও রেসিডেন্স পারমিট নবায়নের ক্ষেত্রে আয়সংক্রান্ত শর্ত আরও কঠোর করা হয়েছে। তাঁর মতে, স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে ফিনল্যান্ডে থাকার সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে এবং ফিনিশ ভাষার দক্ষতাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করা হচ্ছে। ফিনল্যান্ডের নতুন অভিবাসন নীতির কারণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা, পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে চাকরি এবং দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের বিষয়গুলো আগের তুলনায় আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে ভাষাগত যোগ্যতা ও আর্থিক সক্ষমতার শর্ত পূরণে শিক্ষার্থীদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে কিছু নিয়ম ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে এবং ভাষাগত দক্ষতাসহ অন্যান্য সংশোধন একই বছরের অক্টোবর থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত আইন সংসদীয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের আবেদন করার সময় দেশটির সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: ফিনল্যান্ড সরকার, ফিনিশ ইমিগ্রেশন সার্ভিস
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এক নারী সারোগেট হিসেবে একটি শিশুকে গর্ভে ধারণ করার পর জানতে পারেন, শিশুটির অভিপ্রেত বাবা চীনা ধনকুবের শু বো। ওই ব্যবসায়ী যুক্তরাষ্ট্রে সারোগেসির মাধ্যমে শতাধিক সন্তানের বাবা হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর সাবেক সঙ্গী আবার দাবি করেছেন, তাঁর সন্তানের সংখ্যা ৩০০-এরও বেশি। নিজের পরিচয় গোপন রাখতে সিবিএস নিউজ ওই নারীকে ‘জুডি’ নামে পরিচয় করিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সারোগেসির জন্য চুক্তি করার সময় শিশুটির বাবা সম্পর্কে তাঁকে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ওই ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। জুডি সিবিএস নিউজকে বলেন, সন্তানটি কার জন্য ধারণ করছেন এবং সেই পরিবারের পরিচয় সম্পর্কে শুরুতেই সারোগেসি সংস্থার আরও স্বচ্ছ হওয়া উচিত ছিল। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি তাঁকে ভাবতে বাধ্য করেছে, শিশুটির অভিপ্রেত বাবাকে জানার অধিকার তাঁর আদৌ আছে কি না। জুডির সারোগেসির যাত্রা শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি বিজ্ঞাপন দেখে। সেখানে সারোগেট হওয়ার বিনিময়ে ১ লাখ ২০ হাজার ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সাত বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে একা বড় করা জুডি নিজের ও মেয়ের জন্য একটি ভালো বাসস্থান তৈরি করার সুযোগ হিসেবে বিষয়টি দেখেছিলেন। পরে তিনি প্যাট্রিয়ট কনসেপশন্স নামের একটি সারোগেসি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি শিশুটির অভিপ্রেত বাবাকে এমন একজন একক বাবা হিসেবে উপস্থাপন করেছিল, যিনি তাঁর পরিবার আরও বড় করতে চান। তবে পরে জুডি জানতে পারেন, একই ব্যক্তির জন্য আরও অনেক নারী সারোগেট হিসেবে সন্তান ধারণ করছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে জানানো হয়েছিল, সংখ্যাটি প্রায় দুই ডজনের কাছাকাছি। এত সংখ্যক গর্ভধারণের বিষয়টি জানার পর উদ্বেগ তৈরি হলেও ইতোমধ্যে চুক্তি হয়ে যাওয়ায় এবং অর্থের প্রয়োজন থাকায় তিনি প্রক্রিয়াটি চালিয়ে যান। জুডি বলেন, তাঁর বন্ধু ও স্বজনেরাও তাঁকে গর্ভধারণের প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছিলেন। তবে শিশুটির অভিপ্রেত বাবার সঙ্গে সরাসরি দেখা করার তাঁর একাধিক চেষ্টা সফল হয়নি। শু বো চীনের অনলাইন গেমিং প্রতিষ্ঠান দুওইয়ের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি তুলনামূলকভাবে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে তাঁর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্ট এবং তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সারোগেসির মাধ্যমে তাঁর শতাধিক সন্তান থাকতে পারে। শুর সাবেক সঙ্গী তাং জিং অবশ্য আরও বড় দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শু বো ৩০০-এর বেশি সন্তানের বাবা হয়েছেন। তাঁদের নিজেদেরও দুই কন্যাসন্তান রয়েছে এবং এ দুই সন্তানকে ঘিরে তাঁদের মধ্যে আইনি বিরোধ চলছে। শুর সঙ্গে সম্পর্কিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ভিডিও নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে একটি বড় বাড়িতে কয়েক ডজন ছোট ছেলেকে দেখা যায়। ক্যামেরা তাঁদের দিকে এগিয়ে গেলে শিশুরা উঠে এসে চীনা ভাষায় ‘বাবা’ বলে ডাকতে থাকে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে। শু বো সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তিনি বিপুলসংখ্যক সন্তান নেওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ভবিষ্যতে তাঁর সন্তানদের ইলন মাস্কের সন্তানদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার মতো কল্পনার কথাও উঠে এসেছে। তবে মাস্কের ক্ষেত্রেও নিজের বংশধারা বিস্তারের জন্য পরিচিতদের শুক্রাণু দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন দাবি রয়েছে, যা তিনি অস্বীকার করেছেন। ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে শু বো চারটি অনাগত শিশুর পাশাপাশি সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া আরও অন্তত আটটি শিশুর ওপর অভিভাবকত্বের অধিকার পাওয়ার আবেদন করেছিলেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে। আদালত এ বিষয়ে একটি গোপন শুনানির আয়োজন করে এবং শু ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন। সেই শুনানিতে শু জানিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ২০ বা তার বেশি সন্তানের বাবা হতে চান এবং তাঁর ব্যবসা ভবিষ্যতে সন্তানদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি বিশেষ করে ছেলে সন্তান চাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভাইনে তাঁর কয়েকজন সন্তান ন্যানিদের তত্ত্বাবধানে বসবাস করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শু আদালতে জানিয়েছিলেন, কাজের ব্যস্ততার কারণে তিনি তখনও অনেক সন্তানের সঙ্গে দেখা করেননি, তবে ভবিষ্যতে তাঁদের চীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে আদালত তাঁর অভিভাবকত্বের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট অনাগত শিশুদের আইনি অবস্থান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সারোগেসি ব্যবস্থায় বিদেশি ধনী ব্যক্তিদের ব্যাপক ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। শুর প্রতিষ্ঠান দুওইয়ের এক প্রতিনিধি অবশ্য তাঁর বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের বড় একটি অংশকে অসত্য বলে দাবি করেছেন। তবে কোন তথ্যগুলো ভুল, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক সারোগেসি একটি বড় শিল্পে পরিণত হয়েছে। চীনে সারোগেসি আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হওয়ায় কিছু চীনা নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশে এ ধরনের সেবার দিকে ঝুঁকছেন। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর নাগরিকত্বের বিষয়টিও কিছু বিদেশি অভিভাবকের কাছে অতিরিক্ত আকর্ষণ তৈরি করে বলে গবেষণা ও শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জুডির ঘটনা অবশ্য এই ব্যবস্থার আরেকটি দিক সামনে এনেছে। সারোগেট মায়েরা যাঁদের জন্য সন্তান ধারণ করছেন, তাঁদের পরিচয়, পরিবার ও একই সময়ে কতজন সারোগেট কাজ করছেন, এসব তথ্য কতটা স্বচ্ছভাবে জানানো হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সূত্র: সিবিএস নিউজ, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
জার্মানিতে দক্ষ কর্মী হিসেবে কাজের সুযোগ খুঁজতে আগ্রহীদের জন্য চালু থাকা ‘অপরচুনিটি কার্ড’ বা ‘শান্সেনকার্টে’ নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নির্দিষ্ট আট দেশের নাগরিকরা জার্মানিতে যাওয়ার আগে আলাদা করে এই ভিসা না নিয়েও দেশটিতে প্রবেশ করে সেখানে বসেই অপরচুনিটি কার্ডের জন্য বসবাসের অনুমতির আবেদন করতে পারবেন। জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাসের প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরায়েল, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা এই সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ মোট আট দেশের নাগরিক ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে গিয়ে স্থানীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে এই আট দেশের নাগরিকরা জার্মানিতে প্রবেশ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ড পেয়ে যাবেন। তাঁদেরও কার্ড পাওয়ার জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। জার্মানির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অপরচুনিটি কার্ড মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর যোগ্য ও দক্ষ কর্মীদের জার্মানিতে এসে চাকরি খোঁজার সুযোগ দেয়। ভিসা ছাড়াই যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়মও রয়েছে। জার্মানিতে পৌঁছে বাসস্থানে ওঠার পর দুই সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে ঠিকানা নিবন্ধন করতে হবে। এরপর দেশটিতে প্রবেশের ৯০ দিনের মধ্যে স্থানীয় বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে। জার্মান কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ বড় শহরগুলোর অভিবাসন দপ্তরে সাক্ষাতের সময় পাওয়া কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, বাংলাদেশসহ তালিকায় থাকা আট দেশের বাইরে থাকা নাগরিকদের ক্ষেত্রে নিয়ম ভিন্ন। তাঁদের জার্মানিতে যাওয়ার আগেই অপরচুনিটি কার্ডের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের নাগরিকরা এই ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে গিয়ে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করার সুবিধার আওতায় পড়ছেন না। অপরচুনিটি কার্ড কী জার্মানির দক্ষ কর্মী আকর্ষণের নীতির অংশ হিসেবে অপরচুনিটি কার্ড চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকরা আগে থেকে চাকরির চুক্তি না থাকলেও জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খুঁজতে পারেন। সাধারণত কার্ডটি সর্বোচ্চ ১২ মাসের জন্য দেওয়া হয়। এই কার্ড পাওয়ার জন্য দুটি প্রধান পথ রয়েছে। প্রথমত, আবেদনকারীর জার্মানিতে স্বীকৃত কোনো বিদেশি পেশাগত বা একাডেমিক যোগ্যতা থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থায় কমপক্ষে ছয় পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে যোগ্যতা, ভাষাজ্ঞান, বয়স, পেশাগত অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। আবেদনকারীকেও জার্মানিতে অবস্থানকালে নিজের জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। ২০২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদনকারীর প্রতি মাসে ন্যূনতম ১ হাজার ৯১ ইউরো সমপরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা দেখাতে হতে পারে। জার্মানিতে পৌঁছানোর পর অপরচুনিটি কার্ডধারীরা চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজও করতে পারেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কার্ডধারীরা সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করতে এবং চাকরির উপযুক্ততা যাচাইয়ের জন্য কাজের পরীক্ষামূলক সুযোগ নিতে পারেন। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাওয়া আট দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও স্থানীয় নিয়ম বাস্তবায়নে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাস বিশেষভাবে জানিয়েছে, বার্লিনে আগে থেকে নির্দিষ্ট ধরনের ভিসা না থাকলে স্থানীয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদন গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জার্মানির শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে অপরচুনিটি কার্ডকে দেখা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরা জার্মানিতে গিয়ে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন, যদিও কার্ড পাওয়ার জন্য তাঁদের নির্ধারিত যোগ্যতা ও আর্থিক সক্ষমতার শর্ত পূরণ করতে হবে। সূত্র: জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ইরানের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর প্রায় দুই দিন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তা। ‘ডুড ৪৪ ব্রাভো’ নামে পরিচিত ওই কর্নেল প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসে তাঁর সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্যারাসুট নিয়ে আকাশ থেকে দ্রুত নিচে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তটিই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘৬০ মিনিটস’-এর নতুন মৌসুমের প্রথম পর্বে সাংবাদিক নোরাহ ও’ডনেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ওই কর্মকর্তা। এপ্রিল মাসে ইরানের ওপর অভিযান চলাকালে এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর তিনি ইরানের মাটিতে আটকা পড়েছিলেন। ওই যুদ্ধবিমানে দুই সদস্যের একটি দল ছিল। ‘ব্রাভো’ ছিলেন অস্ত্র ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, আর তাঁর সঙ্গে থাকা পাইলটকে মিশনের সাংকেতিক নামে ‘আলফা’ বলা হয়। বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর দুজনই জরুরি ব্যবস্থা নিয়ে বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন। পাইলটকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ব্রাভো একা পড়ে যান ইরানের পাহাড়ি এলাকায়। ব্রাভোর ভাষ্য অনুযায়ী, বিমান থেকে বের হওয়ার পরই তিনি বুঝতে পারেন তাঁর প্যারাসুটে সমস্যা হয়েছে। একপর্যায়ে ওপরে তাকিয়ে তিনি প্যারাসুট দেখতে পাননি। সেই মুহূর্তটিকেই তিনি জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, তখন তাঁর পতনের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৭০ থেকে ১০০ মাইল পর্যন্ত ছিল বলে তাঁর ধারণা। তবে কত দ্রুত নিচে নামছেন, সেটি নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ ছিল না। বরং প্যারাসুটের যেসব অংশ ছড়িয়ে বা আটকে গিয়েছিল, সেগুলো টেনে বের করে যতটা সম্ভব প্যারাসুটটি খুলে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবতরণ করেন ব্রাভো। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রায় দুই দিন একাই সেখানে টিকে থাকতে হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানিয়েছে, এই সময় তিনি ইরানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়া এড়িয়ে চলেন এবং তাঁর সামরিক প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করে থাকেন। ব্রাভো তাঁর পাইলট ও সহকর্মী ‘আলফা’র প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, বিমান থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে আলফা তাঁদের দুজনের জীবন রক্ষা করেছিলেন। এর আগে সিবিএস জানিয়েছিল, ব্রাভোকে উদ্ধারের অভিযানটি ছিল মার্কিন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ও জটিল উদ্ধার অভিযান। দুই সদস্যের বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর পাইলট দ্রুত উদ্ধার হলেও ব্রাভোকে খুঁজে পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। পরে তাঁকে ইরান থেকে বের করে আনতে ব্যাপক সামরিক তৎপরতা চালানো হয়। ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানটি ইরানের একটি কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়। দুর্গম ভূখণ্ডে অবস্থান করার কারণে ব্রাভোর সন্ধান ও উদ্ধার আরও কঠিন হয়ে ওঠে। ‘৬০ মিনিটস’-এর ওই পর্বে শুধু ব্রাভোর অভিজ্ঞতাই তুলে ধরা হয়নি। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গেও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার অভিযান পরিচালনা ও এর পেছনের সামরিক তৎপরতা নিয়েও তাঁরা কথা বলেছেন। ব্রাভোর প্রকাশ্যে আসা এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এপ্রিলের ওই ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রথমবারের মতো তাঁর নিজের মুখে সামনে এলো। যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর আহত অবস্থায় শত্রুপক্ষের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রায় দুই দিন টিকে থাকা এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর হাতে উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের অন্যতম আলোচিত উদ্ধার কাহিনি হিসেবে সামনে এসেছে। সূত্র: সিবিএস নিউজ, নিউইয়র্ক পোস্ট
গভীর শোকের মধ্যেও নতুন করে পরিবার গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন গ্রিসের এক দম্পতি। ২১ বছর বয়সী ছেলেকে সড়ক দুর্ঘটনায় হারানোর কয়েক মাস পর ২২ বছর ধরে সংরক্ষিত একটি ভ্রূণ ব্যবহার করে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন ৫৪ বছর বয়সী ক্রিস্টিনা রাপ্তি-তজেলেপি। মেয়েটির নাম রাখা হয়েছে জর্জিয়া, প্রয়াত ছেলে জিওর্গোসের স্মরণে। এথেন্সে বুধবার জন্ম নেওয়া শিশুটির ওজন ছিল ৩ দশমিক ৪৯ কিলোগ্রাম। শুক্রবার একটি বেসরকারি মাতৃসদন কেন্দ্রে নবজাতককে কোলে নিয়ে আবেগাপ্লুত ছিলেন ক্রিস্টিনা ও তাঁর ৬০ বছর বয়সী স্বামী কনস্তানতিনোস রাপ্তিস। দীর্ঘদিন হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে সফলভাবে জন্ম নেওয়া শিশুটির ঘটনাটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি পরিবারটির ব্যক্তিগত জীবনের এক গভীর আবেগঘন অধ্যায় হয়ে উঠেছে। দম্পতির বড় ছেলে জিওর্গোসও আইভিএফ বা কৃত্রিম প্রজনন চিকিৎসার মাধ্যমে ২০০৪ সালে জন্ম নিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের অক্টোবরে মাত্র ২১ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর শোকের মধ্যে থাকা পরিবারটি সংরক্ষিত ভ্রূণগুলোর একটি ব্যবহার করে আবার সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাঁদের হাতে সময় ছিল খুব কম। গ্রিসের আইনে নারীদের ৫৪ বছর বয়স পর্যন্ত চিকিৎসকের সহায়তায় প্রজনন চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ৫০ বছর এক দিন থেকে ৫৪ বছর বয়স পর্যন্ত এ ধরনের চিকিৎসার জন্য জাতীয় সহায়তাপ্রাপ্ত প্রজনন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। ভ্রূণ স্থানান্তরের দিন পর্যন্ত বয়সসীমার এই বিধান প্রযোজ্য। ক্রিস্টিনা জানান, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য তাঁর হাতে ছিল মাত্র প্রায় আড়াই মাস। সময়ের চাপ, মানসিক কষ্ট এবং নানা বাধার মধ্যেও চিকিৎসক ও তাঁর দলের সহযোগিতায় তাঁরা প্রক্রিয়াটি শেষ করেন। শেষ পর্যন্ত ২২ বছর আগে সংরক্ষণ করা ভ্রূণটি সফলভাবে গর্ভধারণে পরিণত হয়। চিকিৎসক কস্তাস পানতোস, যিনি ক্রিস্টিনার স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং হেলেনিক সোসাইটি অব রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনের প্রধান, গ্রিসের বর্তমান বয়সসীমা পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, দেশটিতে জন্মহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সহায়তাপ্রাপ্ত প্রজনন চিকিৎসার ক্ষেত্রে বর্তমান বিধিনিষেধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, সন্তান নেওয়ার সুযোগ থেকে অভিভাবকদের বঞ্চিত করা উচিত নয়। গ্রিসের জাতীয় সহায়তাপ্রাপ্ত প্রজনন কর্তৃপক্ষের ২০২২ সালের নির্দেশনাতেও বলা হয়েছে, ৫০ বছর এক দিন থেকে ৫৪ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে সহায়তাপ্রাপ্ত প্রজনন চিকিৎসা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে চিকিৎসকের মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসংক্রান্ত মতামতেরও শর্ত রয়েছে। নতুন সন্তানকে কোলে নিয়ে কনস্তানতিনোস বলেন, চিকিৎসক তাঁদের পরিবারের গভীর অন্ধকার সময় থেকে বের হয়ে আসার পথ দেখিয়েছেন। পরিবারটির কাছে এই শিশুর জন্ম শুধু নতুন একজন সদস্যের আগমন নয়, বরং ছেলেকে হারানোর পর জীবনে আবারও আশার জায়গা তৈরি হওয়ার প্রতীক। দম্পতি মেয়েটির নাম রেখেছেন জর্জিয়া। নামটি তাঁদের প্রয়াত ছেলে জিওর্গোসের নামের সঙ্গে সম্পর্কিত। ক্রিস্টিনা জানিয়েছেন, তিনি চান তাঁর মেয়ে সুস্থ ও আনন্দময় জীবন কাটাক এবং তাঁদের প্রথম সন্তানের মতোই পরিবারের ঘরে হাসি ফিরিয়ে আনুক। ২২ বছর ধরে হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে শিশুর জন্ম অবশ্য বিশ্বরেকর্ড নয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের এক দম্পতির ঘরে থ্যাডিয়াস ড্যানিয়েল পিয়ার্স নামে এক ছেলে জন্ম নেয়, যার ভ্রূণ অন্তত ৩১ বছর ৫৬ দিন হিমায়িত অবস্থায় ছিল। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের হিসাবে এটিই সফল গর্ভধারণে ব্যবহৃত সবচেয়ে পুরোনো মানব ভ্রূণের রেকর্ড। ক্রিস্টিনা ও কনস্তানতিনোস ভবিষ্যতে আরও সন্তান নেওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি বাদ দেননি। তবে গ্রিসে বয়সসংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে প্রয়োজনে তাঁদের দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার কথা ভাবতে হতে পারে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ মানবজাতির জন্য যেকোনো দিন এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শীর্ষ বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা মোকাবিলায় এখনই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সম্প্রতি ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রপিক-এর ডারিও অ্যামোডেই এবং স্পেসএক্সএআই-এর ইলন মাস্কের মতো প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরাও এই উদ্বেগের সাথে একমত পোষণ করেছেন। ডারিও অ্যামোডেই প্রস্তাব করেছেন যে 'ফ্রন্টিয়ার' বা শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোতে স্থায়ীভাবে তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া উচিত এবং এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কমানো প্রয়োজন। এছাড়া, অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে যে তাদের 'ক্লড' এআই মডেলটি ইতোমধ্যে সাইবার আক্রমণ, নজরদারি, প্রতারণা এবং অস্ত্র তৈরির মতো নেতিবাচক কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অফ সাউদাম্পটনের ওয়েব সায়েন্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডেম ওয়েন্ডি হলের মতে, এআই কোম্পানিগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিজেদের হাতেই ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। ইন্টারনেট বা অন্যান্য প্রযুক্তির মতো এআই-এর ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট সুরক্ষাকবচ বা 'গার্ডরেল' থাকা জরুরি। তিনি বলেন, এআই হয়তো পুরো মানবজাতিকে বিলুপ্ত করবে না, কিন্তু এর কারণে অনিচ্ছাকৃত বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে, যা এড়াতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ এক্সিস্টেনশিয়াল রিস্ক-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট মার্টিন রিস এই ঝুঁকিকে জলবায়ু পরিবর্তনের চেয়েও গুরুতর বলে আখ্যায়িত করেছেন। স্কাই নিউজকে তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ধীরগতির হলেও এআই যেকোনো মুহূর্তে বড় শহরের বিদ্যুৎ গ্রিড বা সাপ্লাই চেইন ধ্বংস করে দিতে পারে। এমন ঘটনা বিশ্বজুড়ে একই সাথে ঘটলে সভ্যতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই সম্ভাব্য এই বিপর্যয় ঠেকাতে এখনই নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ পাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (OPT) প্রোগ্রামের ফি এক লাখ ডলারে উন্নীত করার যে প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসন দিয়েছিল, তা হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা পর্যায় পার করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল, যা যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত ভারতীয়সহ বিপুল সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থীর মাঝে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। ওপিটি হলো এফ-১ (F-1) ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি প্রোগ্রাম, যার মাধ্যমে তারা পড়াশোনা শেষ করার পর নিজেদের বিষয়ের সাথে সরাসরি যুক্ত কোনো ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে কাজ করার সুযোগ পান। বিদেশি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রস্তাবিত এই ফি কার্যকর হলে ওপিটি প্রোগ্রামের ব্যয় সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে। বিশেষ করে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই ভারতীয় এবং তারাই গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী এই কর্মসংস্থান সুবিধার অন্যতম প্রধান গ্রহীতা। তবে হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনায় ছাড়পত্র পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, এক লাখ ডলার ফি এখনই চূড়ান্ত হয়ে গেছে বা অবিলম্বে এটি প্রদান করতে হবে। নতুন যেকোনো বাধ্যবাধকতা কার্যকর হওয়ার আগে প্রস্তাবটিকে ফেডারেল রুলমেকিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) এই প্রস্তাবের পর্যালোচনা শেষ হলেও চূড়ান্ত ফি এবং আনুষঙ্গিক নিয়মাবলি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হয়নি। যদি প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়, তবে সেটি 'ফেডারেল রেজিস্টার'-এ প্রকাশিত হবে। তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী, নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ প্রস্তাবের বিস্তারিত পর্যালোচনা করে জনসমক্ষে নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন। বর্তমান নিয়মে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনার বিষয়ের ওপর অস্থায়ী কাজের অনুমোদন পান এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের (STEM) মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২৪ মাসের ওপিটি সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রযুক্তি, ফিন্যান্স এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো পেশাদার খাতে প্রবেশের জন্য ভারতীয় শিক্ষার্থীরা ক্রমশ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। তাই এক লাখ ডলারের এই বিশাল ফি কার্যকর হলে পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে ইচ্ছুক গ্র্যাজুয়েটদের জন্য এটি একটি বড় আর্থিক বাধা হয়ে দাঁড়াবে। অভিবাসন নীতি কঠোর করার অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রস্তাবটি সামনে এনেছে। তবে চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এখনই এক লাখ ডলার ফি দেওয়ার কথা ভেবে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বৈঠকের কয়েকদিন আগে দেশটির সুদের হার বিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, ফেডের নীতিনির্ধারকরা চলতি সপ্তাহের বৈঠকে সুদের হার বাড়াবেন কিনা, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতির বিষয়ে ফেডের পরিসংখ্যান যাই বলুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বনিম্ন হওয়া উচিত বলে জোরালো দাবি জানান তিনি। গত শুক্রবার মার্কিন শ্রম দপ্তরের প্রকাশিত ভোক্তা মূল্য সূচকে দেখা যায়, চার মাসের মধ্যে দেশটির মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে যে, বুধবারের বৈঠকে ফেড তাদের সুদের হারের লক্ষ্যমাত্রা ৩.৫% থেকে ৩.৭৫%-এ উন্নীত করার ঘোষণা দিতে পারে। ট্রাম্পের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মার্কিন অর্থনীতিতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফেড কর্মকর্তারা মনে করেন, মূল্যস্ফীতি যত বেশি সময় ধরে চড়া থাকবে, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা তত বেশি কঠিন ও ব্যয়বহুল হবে। এদিকে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে সুদের হার বাড়ানো হলে সাধারণ ভোটারদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে, যা কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। টানা মূল্যস্ফীতির কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়লেও তিনি দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সুদের হারের কারণে মূলত অন্য দেশগুলো লাভবান হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি যেকোনো কারও চেয়ে ফর্মুলা বেশি ভালো বুঝি এবং বিশ্বের সেরা ক্রেডিটের অধিকারী হয়েও আমরা অন্য দেশগুলোকে ধনী করছি।” নিজের মনোনীত ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন থাকলেও, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সুদের হার কমানো না হলে যেসব দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের সাথে বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট নিশ্চিত করেছেন যে, ফেড সুদের হার নিয়ে যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেভিন ওয়ার্শের কাজের স্বাধীনতাকে সম্মান জানাবেন।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর যখন পুরো নিউইয়র্ক শহর শোক ও স্তব্ধতায় আচ্ছন্ন, তখন এক অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ট্যাক্সিক্যাব চালক গুরবিন্দর সিং। হামলার দিন সকালেও তিনি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন। এরপর শহরের মানুষের দুর্দশা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকট দেখে তিনি নিজের উপার্জনের কথা না ভেবে টানা ৪০ দিন বিনামূল্যে ট্যাক্সি চালিয়েছেন। সেসময় যাদের জরুরি যাতায়াতের প্রয়োজন ছিল, তাদের কাউকেই ফেরাননি এবং কারো কাছ থেকেই কোনো ভাড়া নেননি এই মহানুভব চালক। সম্প্রতি এক্সে শাবোস কেস্টেনবাউম নামের এক যাত্রীর পোস্টের মাধ্যমে ২৫ বছর পর এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের গল্পটি নতুন করে বিশ্ববাসীর সামনে এসেছে। পঁয়ত্রিশ বছর আগে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো গুরবিন্দর সিং এখনো নিউইয়র্কে ট্যাক্সি চালান। শাবোস কেস্টেনবাউমের সাথে যাত্রাপথে তিনি তার সেদিনের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন এবং নিউইয়র্কের তৎকালীন মেয়র রুডি জুলিয়ানির দেওয়া একটি প্রশংসাপত্রও দেখান। ওই চিঠিতে বিপদের সময় শহরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য গুরবিন্দরকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন মেয়র। ২৫তম বার্ষিকীতে গুরবিন্দর বিশ্ববাসীর প্রতি একটি বার্তাও দিয়েছেন— "সব মানুষকে ভালোবাসুন এবং সম্মান করুন।" সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা অভিবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে গুরবিন্দরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। সাধারণ মানুষের এই ধরনের নিঃস্বার্থ সেবাই যে যেকোনো বড় বিপর্যয় মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় হাতিয়ার, গুরবিন্দরের গল্পটি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রামের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ফাহাদ মোহাম্মদ নুরকে খুঁজছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI)। সংস্থাটির 'মোস্ট ওয়ান্টেড' জালিয়াত চক্রের তালিকায় থাকা এই ফেরারি আসামিকে গ্রেপ্তার বা তার সাজা নিশ্চিতে সহায়তাকারী তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ এক লাখ পঞ্চাশ হাজার মার্কিন ডলার (দেড় লাখ ডলার) পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। জানা গেছে, কোভিড-১৯ মহামারির চরম সংকটের সময় শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের তহবিল থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এক বিশাল প্রতারণা চক্রের সাথে জড়িত ছিলেন ফাহাদ। ভুয়া ইনভয়েস তৈরি করে তিনি অন্তত ৫০ লাখ ডলার আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতি ও পাচারের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে তার বিরুদ্ধে একটি ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তার বিরুদ্ধে মূলত ওয়্যার ফ্রড (ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রতারণা), মানি লন্ডারিং এবং মানি লন্ডারিংয়ের ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, ৪১ বছর বয়সী এই সোমালীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে, সম্ভবত সোমালিয়ায় আত্মগোপন করে আছেন। তাকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে মরিয়া এফবিআই তাই সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের জন্য নির্ধারিত তহবিলের অর্থ আত্মসাৎকারী এই প্রতারকের অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা অবিলম্বে স্থানীয় এফবিআই অফিস বা নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাসে জানাতে হবে।