- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ভ্যালিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ওপর শিক্ষকের নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর শ্রেণিকক্ষে ক্যামেরা বসানোর দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন অভিভাবকরা। এ বিষয়ে নতুন একটি আইন পাসের জন্য তারা জোরালো আন্দোলন শুরু করেছেন, যা ইতোমধ্যে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনলাইনে এ সংক্রান্ত পিটিশনে বেকার্সফিল্ড সিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টে ১২ হাজার ৮০০ এবং ভিসালিয়া ইউনিফাইড স্কুল ডিস্ট্রিক্টে ২ হাজার ৭০০-এরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। তিন সন্তানের মা ব্রিটনি কামাচো জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ভিসালিয়া পুলিশের কাছ থেকে তিনি প্রথম জানতে পারেন যে তার সন্তানরা তাদের শিক্ষকের কাছে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারে। পুলিশ ৩৪ বছর বয়সী কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক লেসি অ্যান হর্স্টিংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে, যিনি কামাচোর তিন সন্তানকেই পড়াতেন। তুলারে কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস এপ্রিল মাসে তার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের ১০টি অভিযোগ দায়ের করলেও, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। কামাচোর তিন সন্তানের মধ্যে এক মেয়ে 'ইকোলালিয়া' নামক সমস্যায় আক্রান্ত এবং অন্য দুই সন্তান একেবারেই কথা বলতে পারে না, যা এই ঘটনাটিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে। কামাচোর মতে, এই শিশুদের নিজেদের কথা বলার সামর্থ্য নেই, তাই তাদের সুরক্ষার জন্য শ্রেণিকক্ষে ক্যামেরা থাকা অত্যন্ত জরুরি। এদিকে, অ্যাশলি হপউড নামের আরেক অভিভাবক বেকার্সফিল্ডের শ্রেণিকক্ষগুলোতে ক্যামেরা বসানোর দাবিতে অনলাইনে পিটিশন শুরু করেছেন। তিনি জানান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা কোনো কষ্ট বা ক্ষতির শিকার হলে তা অন্যদের বোঝাতে পারে না, ফলে ক্যামেরার নজরদারি ছাড়া তারা অবহেলা ও নির্যাতনের চরম ঝুঁকিতে থাকে। তবে ১৯৭৬ সালের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আইন অনুযায়ী, শিক্ষক ও অধ্যক্ষের সম্মতি ছাড়া শ্রেণিকক্ষে রেকর্ডিং ডিভাইস ব্যবহার বেআইনি। তাই বিশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাধ্যতামূলক ক্যামেরা বসানোর এই দাবি পূরণে রাজ্য আইনসভার হস্তক্ষেপ ও নতুন আইন প্রণয়নের দিকেই তাকিয়ে আছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।
আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার আয়ারল্যান্ডের ডুনবেগে নিজের গলফ ক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করার মতো সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বাজেটের রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানরা জিতলে এটি বাস্তবায়ন করা খুবই সহজ, কারণ দেশে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার আসছে, যার মাধ্যমে সবাইকে এই অর্থ সহজেই দেওয়া সম্ভব। গত সপ্তাহে রিপাবলিকান পার্টির কনভেনশনে দেওয়া এক ভাষণেই তিনি প্রথম এই ৫ হাজার ডলার প্রদানের ধারণাটি প্রকাশ্যে আনেন। তবে ট্রাম্পের এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে খোদ রিপাবলিকান শিবিরেই কিছুটা সতর্কতা দেখা গেছে। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ও লুইসিয়ানার রিপাবলিকান নেতা মাইক জনসন সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এ ধরনের যেকোনো অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। নিউইয়র্কের রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক ললারও সরাসরি এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানাননি। নাগরিকদের পকেটে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিলেও তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাঁধে থাকা ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের জাতীয় ঋণের বিষয়টি মাথায় রেখে এই বিপুল অর্থের জোগান কোথা থেকে আসবে, তা আগে নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে পুরোপুরি অবাস্তব ও রাজনৈতিক স্টান্ট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফরিস এটিকে একটি 'গুরুত্বহীন প্রস্তাব' আখ্যা দিয়েছেন। মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ম্যালরি ম্যাকমোরো অতীতে রিপাবলিকানদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই চেক পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেন। এছাড়া, উপভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা 'পাবলিক সিটিজেন'-এর সহ-সভাপতি লিসা গিলবার্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে 'ভোট কেনার মরিয়া চেষ্টা' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে জেতার জন্য নগদ অর্থের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার এই চেষ্টা মার্কিন গণতন্ত্রের মূল নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
কোনো বিশাল সংবাদ সম্মেলন বা চোখ ধাঁধানো প্রচারণা ছাড়াই জর্জিয়ার একটি ছোট লিবারেল আর্টস স্কুল প্রায় দুই দশক ধরে আমেরিকার সেরা কলেজগুলোর একটি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, স্পেলম্যান কলেজ নামক এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি টানা ১৯ বছর ধরে (২০২৬ সালের র্যাঙ্কিং পর্যন্ত) দেশের ১ নম্বর এইচবিসিইউ (ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়) হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। শুধু তাই নয়, ২০২৬ সালের জাতীয় লিবারেল আর্টস কলেজগুলোর তালিকায় এটি ৩৭তম এবং 'সোশ্যাল মোবিলিটি' বা সামাজিক গতিশীলতায় ২য় স্থানে রয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের সহায়তা ও গ্র্যাজুয়েশন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ২য় স্থান তাদের অভাবনীয় সাফল্যের প্রমাণ দেয়। এই ঐতিহাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮৮১ সালে, আটলান্টার ফ্রেন্ডশিপ ব্যাপটিস্ট চার্চের বেজমেন্টে। গৃহযুদ্ধের পর কৃষ্ণাঙ্গ নারী ও মেয়েদের মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে সোফিয়া বি. প্যাকার্ড এবং হ্যারিয়েট ই. জাইলস এটি প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজ আমেরিকার সবচেয়ে প্রাচীন কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের লিবারেল আর্টস কলেজে পরিণত হয়েছে। ছোট ক্লাস সাইজ, স্নাতক পর্যায়ে পড়ানোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ এবং নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের কারণে এই কলেজের শিক্ষার্থীরা গবেষণায় এতটা দক্ষ হয়ে ওঠে যে, স্টেম (STEM) ফিল্ডে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের ডক্টরেট অর্জনের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বাড়াতে স্টাডি অ্যাব্রড বা বিদেশে পড়াশোনার সুযোগও দিচ্ছে তারা। স্পেলম্যান কলেজের এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে তাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিশাল অবদান রয়েছে। পুলিৎজার বিজয়ী লেখিকা এলিস ওয়াকার, স্যামস ক্লাব ও ওয়ালগ্রিনসের সাবেক সিইও রোজালিন্ড ব্রুয়ার এবং প্রখ্যাত রাজনীতিক স্টেসি আব্রামস এই কলেজেরই ছাত্রী ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা থেকেই ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ট্রাস্টি রোন্ডা স্ট্রাইকার ও উইলিয়াম জনস্টনের কাছ থেকে কলেজটি তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১০ কোটি ডলারের অনুদান লাভ করে। এছাড়া রিড হেস্টিংস, প্যাটি কুইলিন এবং অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসনদের মতো ব্যক্তিত্বরাও বড় অঙ্কের অনুদান দিয়েছেন। নীরব ও ধারাবাহিক কাজের মাধ্যমেই যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা যায়, ৩৫০ স্পেলম্যান লেনের ৩৯ একরের এই ক্যাম্পাসটি আজ তারই এক বাস্তব ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ব্রিটেনে আশ্রয় নিতে আসা বহু নারী স্থানীয় ব্রিটিশ পুরুষদের দ্বারা ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, কিন্তু নিজেদের আশ্রয় আবেদন বাতিল হওয়ার ভয়ে তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছেন না। সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ঠিক এমন এক সময়ে এই খবর প্রকাশ্যে এলো, যখন ব্রিটেনের উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো দাবি করছে যে 'যুদ্ধ করার বয়সী' পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীরাই নাকি স্থানীয় নারীদের ধর্ষণের জন্য দায়ী। গত সপ্তাহে ডোভার ও পোর্টসমাউথে হওয়া ডানপন্থীদের বিক্ষোভেও এমন ভিত্তিহীন দাবি তুলে ধরা হয়, যা আদতে নারী আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর হওয়া এই পদ্ধতিগত নিপীড়নকে আড়াল করার চেষ্টা বলেই মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। প্রতিবেদনে তিন জন নারী আশ্রয়প্রার্থীর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ধর্মীয় নিপীড়ন ও পারিবারিক সহিংসতা থেকে বাঁচতে আসা এক নারী জানান, দুই বছর একটি অ্যাসাইলাম হোটেলে থাকার সময় সেখানকার এক কর্মী তাকে বারবার শারীরিক ও মৌখিকভাবে হয়রানি করেছে এবং এমনকি ডাটাবেজ থেকে নম্বর নিয়ে ব্যক্তিগত ফোনে অনৈতিক প্রস্তাবও দিয়েছে। অন্য একটি ঘটনায়, ইরান থেকে আসা এক নারী হিথ্রো বিমানবন্দরের কাছের একটি হোটেলে নিরাপত্তারক্ষী দ্বারা ধর্ষণের শিকার হন। তিনি জানান, পুলিশের কাছে গেলে যদি তার আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হয়ে যায় বা সেখানকার পুলিশ যদি ইরানের মতো হয়, সেই ভয়ে তিনি কোনো অভিযোগই করেননি। তৃতীয় ঘটনাটি উগান্ডা থেকে আসা এক সমকামী নারীর, যিনি আইনজীবী নিয়োগের টাকা দিতে না পারায় সেই আইনজীবীর লালসার শিকার হতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে এই তিন নারীকেই শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। হোম অ্যাফেয়ার্স সিলেক্ট কমিটির এক তদন্তে উঠে এসেছে যে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নারীদের নিরাপত্তার চরম অভাব রয়েছে। ব্রিটিশ রেড ক্রসের মতে, একটি হোটেলে এক নারী গোসল করার সময় কর্মীর জোরপূর্বক ঘরে ঢোকার চেষ্টার মতো ঘটনাও ঘটেছে। 'উইমেন ফর রিফিউজি উইমেন' এবং 'রেপ ক্রাইসিস ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস'-এর মতো সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো নারীদের ওপর সহিংসতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বর্ণবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে, যা আসল অপরাধীদের আড়াল করছে। হোম অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য তাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় হিমশীতল সাগরে উল্টে যাওয়া একটি মাছ ধরার নৌকার ওপর টানা তিন দিন ভেসে থাকার পর অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে ফিরেছে ডেরেক পার্কার আঘনাঙ্গা নামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর। তবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার বড় ভাই ও এক কাজিনের সলিলসমাধি হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর বড় ভাই ৩৫ বছর বয়সী সিডনি কুলোউয়ি এবং এক কাজিনের সাথে বেরিং সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিল ডেরেক। ৬ সেপ্টেম্বর তাদের ফেরার কথা থাকলেও তারা সেন্ট লরেন্স দ্বীপে ফিরে না আসায় তল্লাশি শুরু করে আলাস্কা স্টেট ট্রুপার ও মার্কিন কোস্টগার্ড। বৈরী আবহাওয়া ও ঘন কুয়াশা পেরিয়ে ৭ সেপ্টেম্বর কোস্টগার্ড ওই কিশোরকে সাগরের বুকে ভাসমান অবস্থায় শনাক্ত করে। জানা যায়, শনিবার অজানা কোনো কারণে তাদের নৌকাটি সাগরে উল্টে যায়। এরপর থেকেই ডেরেক জীবন বাঁচাতে ওই উল্টে থাকা নৌকার তলদেশ আঁকড়ে ধরে ছিল। তার বড় ভাই নৌকার নিচে আটকে মারা যান এবং উদ্ধারের ঠিক আগের রাতে তার কাজিনও নৌকা থেকে ছিটকে সাগরে তলিয়ে যান। 'নর্থওয়েস্ট এক্সপ্লোরার' নামের একটি উদ্ধারকারী জাহাজের ক্যাপ্টেন অ্যাডাম হোয়াইট জানান, খবর পেয়ে টানা চার ঘণ্টার চেষ্টায় তারা ডেরেককে উদ্ধার করেন। তীব্র ঠান্ডায় হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত ডেরেক তখন এতটাই দুর্বল ছিল যে কোস্টগার্ডের ফেলা রাবার বোট পর্যন্ত সাঁতরে যাওয়ার শক্তিটুকুও তার ছিল না। পরে রশি ছুঁড়ে তাকে জাহাজে তোলা হয়। মাত্র ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতে তিন দিন টিকে থাকাকে অলৌকিক আখ্যা দিয়ে ক্যাপ্টেন হোয়াইট ওই কিশোরকে দারুণ 'সাহসী' বলে মন্তব্য করেন। রেডিওর মাধ্যমে ছেলের জীবিত উদ্ধারের খবর পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন ডেরেকের মা। এক ছেলে বেঁচে ফিরলেও অপর দুজনকে হারিয়ে পরিবারটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত সিডনি পেশায় একজন বাণিজ্যিক ফিশিং ক্যাপ্টেন ছিলেন এবং ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর তিনিই ডেরেকের কাছে বাবার অভাব পূরণ করেছিলেন। উদ্ধারের পর ডেরেককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আলাস্কার নোম শহরে নিয়ে যাওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেরেকের মা তার ছেলেকে একজন 'সারভাইভার' বা লড়াকু হিসেবে উল্লেখ করে জানান, কেবল প্রার্থনার জোরেই সে আজ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যান্টেলোপ ভ্যালি মেডিকেল সেন্টারে দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নার্সিং পেশায় সেবা দিয়ে আসছেন একই পরিবারের তিন প্রজন্মের নারীরা। এই অনন্য যাত্রার শুরুটা হয়েছিল নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে, যখন তিন সন্তানের জননী প্যাট্রিসিয়া (প্যাট) পেন্ডলটনের স্বামীর ক্যান্সার ধরা পড়ে। বর্তমানে ৭২ বছর বয়সী প্যাট পরিবারের হাল ধরতে ৪০ বছর বয়সে নার্সিং ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ল্যাংকাস্টারের এই হাসপাতালটিতে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন। মায়ের এই সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ কাছ থেকে দেখেছিলেন মেয়ে টেরিল কল। মায়ের সাহসিকতায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনিও ২২ বছর বয়সে নার্সিং স্কুলে ভর্তি হন এবং পরবর্তীতে একই হাসপাতালে যোগ দেন। ৫২ বছর বয়সী টেরিল বর্তমানে এই সেন্টারের একজন সিনিয়র অপারেশনস লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিবারের এই সেবার ঐতিহ্য পরের প্রজন্মেও অব্যাহত রয়েছে। টেরিলের দুই মেয়ে—৩১ বছর বয়সী টেলর রদ্রিগেজ এবং ২৫ বছর বয়সী আমান্ডা স্টারলারও পেশা হিসেবে নার্সিংকে বেছে নিয়েছেন এবং বর্তমানে তারা অ্যান্টেলোপ ভ্যালির জরুরি বিভাগে কর্মরত। প্যাট জানান, তিনি কখনো মেয়ে বা নাতনিদের নার্স হতে বাধ্য করেননি, তবে টেরিল মনে করেন মায়ের দৃষ্টান্তই তাদের পথ দেখিয়েছে। আমান্ডার মতে, শৈশব থেকেই তিনি তার মা এবং নানিকে আদর্শ হিসেবে দেখেছেন, যার পেছনে এই মহৎ পেশার বড় ভূমিকা ছিল। টেলর জানান, একই কর্মস্থলে প্রতিদিন মায়ের সাথে দেখা হওয়াটা কাজের এক বড় আনন্দ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই হাসপাতালে সেবা দেওয়াটা সমাজের প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসারই প্রমাণ।
তুরস্কে এলজিবিটিকিউ+ (LGBTQ+) এবং এইচআইভি সহায়তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন অধিকার গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের ওপর সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। রোববার ভোরে ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা, ইজমির, আয়দিন এবং মেরসিনের মতো বড় শহরগুলোতে একযোগে এই তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের সময় পুলিশ বিভিন্ন সংগঠনের কার্যালয় ও জনপ্রিয় আড্ডাস্থলগুলোতে হানা দিয়ে বহু সদস্যকে আটক করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে গত এক দশক ধরে এলজিবিটিকিউ গোষ্ঠীগুলোর ওপর যে বৈরিতা চলে আসছে, এই অভিযান তারই একটি বড় বহিঃপ্রকাশ। অভিযানের পাশাপাশি অধিকার গোষ্ঠীগুলোর ওয়েবসাইটও ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের বিষয়ে তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের পরিবার ও শিশু বিষয়ক দশ বছর মেয়াদি নির্বাহী আদেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী পরিবার ও শিশুদের রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব এবং শিশু, তরুণ বা পরিবারকে লক্ষ্য করে কোনো অপরাধমূলক বা অবৈধ কার্যক্রম কখনোই সহ্য করা হবে না। এই অভিযানে ১৬২ জন সন্দেহভাজন, ৯টি সংগঠন এবং ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া এসব সংগঠন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে বিপুল পরিমাণ তহবিল গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এটি কোনো আইনি তদন্ত নয়, বরং পরিবার ও শিশুদের সুরক্ষার আড়ালে পুরো সমাজকে একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলার রাজনৈতিক অপচেষ্টা। অপরাধমূলক সংগঠন গঠন, মাদক বা পতিতাবৃত্তির মতো ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে পুরো সম্প্রদায়কে অপরাধী বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে তারা। ২০১৫ সালে ইস্তাম্বুল প্রাইড নিষিদ্ধ করার পর থেকেই তুরস্কের ধর্মীয় রক্ষণশীল একে পার্টি তাদের ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে এলজিবিটিকিউ গোষ্ঠীর ওপর ক্রমশ চাপ বাড়িয়ে চলেছে। এমনকি সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে ভ্রমণরত একটি এলজিবিটিকিউ প্রমোদতরীকেও তুরস্কের বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক বিস্ময়কর সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে নিজের অসুস্থ মায়ের জীবন বাঁচিয়েছে তিন বছর বয়সী শিশু নোয়েমি ‘এমি’ ভাতভুক। বাড়িতে কেবল মা আর মেয়ে থাকার সময় মা এইডান উইলকি হঠাৎ ভয়াবহ খিঁচুনিতে (গ্র্যান্ড মাল সিজার) আক্রান্ত হন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ছোট্ট এমি তাৎক্ষণিকভাবে ৭০০ মাইল দূরে জর্জিয়ায় থাকা তার দাদা-দাদিকে ফেসটাইমে ভিডিও কল করে। তারাই দ্রুত জরুরি সহায়তা নম্বর নাইন-ওয়ান-ওয়ানে (911) কল করে বিস্তারিত জানান এবং প্যারামেডিকদের ঘটনাস্থলে পাঠান। উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত এমি ফোনে দাদা-দাদির সাথে যুক্ত ছিল এবং তাদের নির্দেশনায় সে একটি চেয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে মূল দরজার লক খুলে দেয়। মা এইডান উইলকি সেই ভয়ংকর মুহূর্তের কথা স্মরণ করে জানান, তার কেবল এতটুকুই মনে আছে যে এমি তার চুলে হাত বুলিয়ে বলছিল, "মা, সব ঠিক হয়ে যাবে।" এমির দাদা-দাদি আগেই তাকে এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, সে বিষয়ে শিখিয়ে প্রস্তুত করেছিলেন, যার ফলস্বরূপ সে এত সাহসিকতার সাথে পুরো বিষয়টি সামলাতে পেরেছে। জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ইউটি হেলথ ইস্ট টেক্সাসের প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এমির এমন বুদ্ধিমত্তায় মুগ্ধ হন। প্যারামেডিক টিম স্পারজন এমির এই কাজকে অত্যন্ত সাহসী বলে আখ্যায়িত করেন। ছোট্ট এই নায়িকাকে সম্মাননা জানাতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে একটি প্রশংসাপত্র, একটি টেডি বিয়ার এবং একটি স্টেথোস্কোপ উপহার দেওয়া হয়। আবেগাপ্লুত মা এইডান উইলকি তার মেয়েকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় হিরো হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
সমুদ্রপথে বিশ্বভ্রমণের এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে ইতালির রোম থেকে যাত্রা শুরু করেছে বিশ্বের দীর্ঘতম ক্রুজ ‘রেগাট্টা’। নরওয়েজিয়ান ক্রুজ লাইন হোল্ডিংস এবং অস্ট্রেলিয়ান ট্রাভেল কোম্পানি 'মাই ক্রুজেস'-এর যৌথ উদ্যোগে ‘এক্সপ্লোরেশনস বাই নরওয়েজিয়ান’-এর অধীনে এই ৩৭১ দিনের দীর্ঘ যাত্রা শুরু হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর বিলাসবহুল এই জাহাজটি তার ঐতিহাসিক সমুদ্রযাত্রা শুরু করে। এক বছরেরও বেশি সময়ের রোমাঞ্চকর এই যাত্রায় জাহাজটি ৬টি মহাদেশের অন্তত ৬২টি দেশের ২২০টিরও বেশি বন্দরে নোঙর করবে। সম্পূর্ণ যাত্রায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য চাইলে মাত্র আট দিনের ছোট প্যাকেজ বুক করার সুযোগও রাখা হয়েছে। ‘রেগাট্টা’ জাহাজটিতে যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য ৩৪৮টি স্যুট এবং স্টেট-রুমের ব্যবস্থা রয়েছে। চমৎকার সুইমিংপুল, লাউঞ্জ, অন-বোর্ড স্পা, সেলুন এবং একটি মনোরম লাইব্রেরিসহ নানা বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে জাহাজটিকে সাজানো হয়েছে। মাই ক্রুজেস-এর তথ্যমতে, ৩৭১ দিনের পুরো যাত্রার জন্য টিকিটের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১ হাজার ৪৫০ মার্কিন ডলার, যা সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮০ হাজার ৪১০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এর আগে রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের ‘আলটিমেট ওয়ার্ল্ড ক্রুজ’ ২৭৪ দিনের যাত্রার মাধ্যমে বিশ্বের দীর্ঘতম ক্রুজের খেতাবটি ধরে রেখেছিল। তবে ৩৭১ দিনের এই নতুন যাত্রা সেই পুরোনো রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছে। কোম্পানিটি ইতিমধ্যে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বোধনী যাত্রার বেশ কিছু মনোমুগ্ধকর ভিডিও প্রকাশ করেছে, যা ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ২০২৭ সালের ৩৬৭ দিনের যাত্রার জন্যও ইতিমধ্যে বুকিং শুরু হয়ে গেছে। যারা সমুদ্রপথে বিশ্বকে একদম কাছ থেকে উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য এই ক্রুজটি এক অনন্য সুযোগ নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমানো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এফ-১, জে-১ এবং আই ভিসা পদ্ধতির নিয়মে ব্যাপক রদবদল আনতে যাচ্ছে, যা গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বহুল প্রচলিত ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা অনির্দিষ্টকালের জন্য বৈধতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেঁধে দেওয়া হবে, যা কোনোভাবেই চার বছরের বেশি হবে না। প্রস্তাবিত এই নিয়মটি বর্তমানে অফিস অফ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই এটি কার্যকর হতে পারে। আগের নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন বা কোর্স চলাকালীন সময়ে শর্তসাপেক্ষে যতদিন খুশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার সুযোগ পেতেন। একজন শিক্ষার্থী চাইলে স্নাতক শেষ করে স্নাতকোত্তর এবং পরবর্তীতে পিএইচডি প্রোগ্রামে কোনো জটিলতা ছাড়াই অংশ নিতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই সুবিধা আর থাকছে না। অভিবাসন আইনজীবী রাহুল রেড্ডির মতে, নতুন নিয়মে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর পুরো ক্ষমতা ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)-এর হাতে চলে যাবে। যেসব কোর্সের মেয়াদ চার বছরের বেশি, সেসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নতুন করে আবেদন করতে হবে, যা আগের মতো আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে না। নতুন এই নিয়মের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে পারেন দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের শিক্ষার্থীরা। কারণ, পিএইচডি বা ডক্টরাল প্রোগ্রাম শেষ করতে সাধারণত পাঁচ থেকে আট বছর সময় লাগে। এ অবস্থায় কোর্স চলাকালীন সময়ে বারবার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও থেকে যায়। নিয়মটি প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ম্যাসাচুসেটস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এই নিয়ম বাতিলের দাবিতে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, আতঙ্কিত না হয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নতুন নিয়মের বিষয়ে সতর্ক ও প্রস্তুত হওয়া জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধ সপ্তম মাসে পা দিতেই মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক অস্বস্তিকর সত্য প্রকাশ্যে এসেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর এবার ইরানের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্রের মজুত মারাত্মকভাবে কমে গেছে। পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘাটতির কথা অস্বীকার করলেও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ অস্ত্র উৎপাদন শিল্পকে জরুরি ভিত্তিতে 'যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে' কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনের তথ্যমতে, গত ৮ এপ্রিল পর্যন্ত মার্কিন যৌথ বাহিনী ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যা মজুত তলানিতে নামার অন্যতম প্রধান কারণ। অস্ত্রগুলোর আকাশছোঁয়া নির্মাণ ব্যয় ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। লকহিড মার্টিনের তৈরি প্রতিটি 'প্যাট্রিয়ট' ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ৪০ লাখ ডলার। বর্তমানে তারা বছরে ৭৫০টি প্যাট্রিয়ট তৈরি করলেও, ইরানের সাথে যুদ্ধে ইতোমধ্যেই প্রায় ১,৫০০টি প্যাট্রিয়ট ব্যবহার করা হয়েছে এবং সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ফুরিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে লকহিড মার্টিন ৫৯ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির আওতায় বছরে ২,০০০টি প্যাট্রিয়ট তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে ৫শ’ থেকে ১ হাজার সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরশীলতা এবং এল৩হ্যারিস (L3Harris)-এর মতো কোম্পানির রকেট মোটর তৈরির ধীরগতির কারণে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে পেন্টাগন এখন বিকল্প কৌশল হাতে নিয়েছে। ব্যয়বহুল অস্ত্রের বদলে কোঅ্যাসপায়ার (CoAspire)-এর মতো স্টার্টআপ থেকে তারা ১০ হাজার স্বল্প মূল্যের ক্রুজ মিসাইল কেনার পরিকল্পনা করছে, যার প্রতিটির দাম মাত্র কয়েক লাখ ডলার। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর মার্ক ক্যানসিয়ান সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় অস্ত্রের মজুত ফিরিয়ে নিতে এক থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তাঁর মতে, ইরানের সাথে বর্তমান যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়ার মতো অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকলেও, চীনের মতো পরাশক্তির সাথে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
আয়ারল্যান্ডের ডুনবেগে নিজের গলফ কোর্সে দাঁড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ডিজেলের আকাশছোঁয়া দামবৃদ্ধির জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার কারণেই জ্বালানির এই সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রাশিয়ার ডিজেল স্থাপনাগুলোতে আক্রমণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, এই সংকটের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো ভূমিকা নেই, বরং রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান সংঘাতই এর মূল কারণ। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৬.০৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২২ সালের জুনে, অর্থাৎ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে এই দাম ছিল ৫.৮২ ডলার। অথচ চলতি বছরের মার্চ মাসেও প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ৪ ডলারের নিচে ছিল। মূলত যাত্রীবাহী গাড়ি পেট্রোলে চললেও বৈশ্বিক অর্থনীতি অনেকটাই ডিজেলনির্ভর। বড় ট্রাক, কৃষিকাজের যন্ত্রপাতি, ট্রেন ও বিশাল পণ্যবাহী জাহাজগুলো এই জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, ডিজেলের দামবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের মূল্যের ওপর গিয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাশিয়ার আয়ের সবচেয়ে বড় উৎসটি ধ্বংস করতে গত কয়েক মাস ধরে দেশটির তেল ও গ্যাস শোধনাগারগুলোতে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন। এসব হামলার কারণে মস্কো বাধ্য হয়ে ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও তাদের মিত্রদের হামলার কারণেও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। সিএনবিসি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর ফলে বিশ্বজুড়ে ডিজেলের সরবরাহ প্রায় ৮ শতাংশ কমে গেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলো ইতিমধ্যেই তাদের সক্ষমতার ৯৮ শতাংশ ব্যবহার করে কাজ করছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলেছেন এবং তাকে ডিজেল স্থাপনা বাদে অন্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস থেকে আসা অর্থ সরাসরি মস্কোর সামরিক আগ্রাসনে ব্যবহৃত হচ্ছে, তাই তারা এই দূরপাল্লার হামলা অব্যাহত রেখেছে।
ইস্তাম্বুল থেকে তিউনিসিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার তিউনিস-কার্থেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে বিমানটি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরপর তিনবার অবতরণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন পাইলট। একপর্যায়ে বিমানটি দ্রুতগতিতে নিচের দিকে নামতে শুরু করলে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও কান্নার রোল পড়ে যায়। এই ঘটনায় যাত্রীদের মৃত্যুভয়ের এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ফ্লাইটে থাকা মেরিনা মাইস্কায়া নামের এক যাত্রী তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সেদিনের লোমহর্ষক মুহূর্তের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, তীব্র ঝাঁকুনির সময় যাত্রীরা প্রাণভয়ে নিজেদের সিট শক্ত করে আঁকড়ে ধরে আছেন এবং পুরো কেবিন জুড়ে যাত্রীদের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। মেরিনা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ইস্তাম্বুল থেকে যাত্রাটি বেশ মসৃণ থাকলেও অবতরণের ঠিক আগমুহূর্তে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তিনি জানান, জীবনে কখনো তিনি এতটা মৃত্যুভয়ে ভোগেননি। জানা গেছে, পাইলট সাহসিকতার সাথে ভয়াবহ সেই ঝড়ের ভেতর দিয়েই তিনবার তিউনিস-কার্থেজ বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা চালান। প্রতিটি চেষ্টাতেই বিমানটি প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে এবং তৃতীয়বারের চেষ্টায় এটি হঠাৎ করে ছিটকে নিচে নামতে শুরু করে। তবে শেষ পর্যন্ত পাইলটের দক্ষতায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মূল গন্তব্য থেকে প্রায় ৬০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত এনফিধা-হামামেত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়। ভয়ংকর এই অভিজ্ঞতার পর যাত্রীরা টার্কিশ এয়ারলাইন্সের পাইলটদের দক্ষতার প্রশংসা করেছেন এবং নিরাপদে মাটিতে পা রাখতে পেরে গভীর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
সম্পর্ক চলাকালে সাবেক প্রেমিকার জন্য প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার খরচ করেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী চন্দর আগরওয়াল। পরে সেই অর্থকে সুদমুক্ত ঋণ দাবি করে সাবেক প্রেমিকা ফেলিশিয়া লির কাছ থেকে ফেরত চেয়ে সিঙ্গাপুর হাইকোর্টে মামলা করেন তিনি। তবে আদালত তার দাবি খারিজ করে দিয়েছে। চন্দর আগরওয়াল ভারতের তালিকাভুক্ত পরিবহন ও লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান টিসিআই এক্সপ্রেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে একটি ফ্লাইটে ফেলিশিয়া লির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয় এবং ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সেই সম্পর্কের অবসান ঘটে। সম্পর্ক চলাকালে লির জন্য বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করেন আগরওয়াল। এর মধ্যে ছিল ক্রেডিট কার্ডের প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারের খরচ, বিদেশ ভ্রমণের জন্য প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, জীবনবীমার প্রিমিয়াম, ফেংশুই বিশেষজ্ঞের সেবা এবং স্ট্যানফোর্ড-এনইউএসের একটি নির্বাহী শিক্ষাক্রমের প্রায় ৩০ হাজার ডলার ফি। যুক্তরাষ্ট্র ও হংকং ভ্রমণের প্রথম শ্রেণির বিমান টিকিট এবং কেনাকাটার খরচও তার দাবির মধ্যে ছিল। আগরওয়ালের দাবি ছিল, এসব অর্থ তিনি উপহার হিসেবে দেননি; বরং লি এগুলো সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে নিয়েছিলেন এবং পরে ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লি সেই দাবি অস্বীকার করেন। আদালতও আগরওয়ালের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পায়নি যে লি এসব অর্থকে ঋণ হিসেবে নিয়েছিলেন বা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন। মামলার সময় একটি হাতে লেখা চুক্তির কথাও সামনে আসে। তবে আদালত সেটিকেও আগরওয়ালের দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেনি। বিচারক উল্লেখ করেন, বিপুলসংখ্যক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর মধ্যে এমন স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যেখানে লি ওই অর্থগুলোকে ঋণ হিসেবে স্বীকার করেছেন বা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বরং আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সম্পর্কের শুরু থেকেই আগরওয়াল লির জন্য ব্যয়বহুল উপহার ও বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে আসছিলেন। বিচারকের মতে, সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর আগরওয়াল এসব খরচকে নতুনভাবে ঋণ হিসেবে দাবি করেন। আদালত শেষ পর্যন্ত তার সব দাবি খারিজ করে দেয় এবং তাকে সাবেক প্রেমিকার আইনি খরচও পরিশোধের নির্দেশ দেয়।
নয়াদিল্লিতে দুই দিনব্যাপী ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে সদস্য দেশগুলোর নেতারা বৈঠকে বসেছেন। ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সম্মেলনটি ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে জোটটি গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর কণ্ঠ আরও শক্তিশালী করা এবং বিশ্বব্যবস্থাকে আরও বহুমুখী বা মাল্টিপোলার করার লক্ষ্য সামনে রাখছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজনে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানসহ সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন। সম্প্রসারিত ব্রিকসের সদস্য সংখ্যা এখন ১১ এবং জোটটি বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেককে প্রতিনিধিত্ব করে। ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধই সম্মেলনের অন্যতম বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। ইরান ২০২৪ সালে ব্রিকসের সদস্য হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ জোটটির ভেতরের মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িত থাকায় এবং চীন, ভারত ও অন্যান্য সদস্যদের ভিন্ন ভিন্ন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ থাকায় আন্তর্জাতিক সংঘাতগুলোতে ব্রিকসের জন্য অভিন্ন অবস্থান নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও ইরান যুদ্ধ নিয়ে সদস্য দেশগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে এবারের শীর্ষ সম্মেলনে একটি যৌথ অবস্থান তৈরি করা জোটটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে মতপার্থক্যের মধ্যেও ব্রিকস নিজেদের একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। জোটটির অন্যতম লক্ষ্য হলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বাড়ানো এবং পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক আর্থিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে আরও বিকল্প তৈরি করা। সম্মেলনে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য, বিকল্প আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহযোগিতার মতো বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়টিও ব্রিকসের দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভারতের জন্য এবারের সম্মেলন বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। একদিকে নয়াদিল্লির চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গেও ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গভীর হচ্ছে। ফলে ভারত ব্রিকসকে পশ্চিমবিরোধী সামরিক বা রাজনৈতিক জোট হিসেবে না দেখে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। ব্রিকসের সম্প্রসারণ জোটটির বৈশ্বিক প্রভাব বাড়ালেও একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও বাড়িয়েছে। ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ভিন্ন স্বার্থের দেশগুলো একই প্ল্যাটফর্মে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তারপরও ব্রিকস নেতারা গ্লোবাল সাউথের জন্য আরও শক্তিশালী ভূমিকা এবং একটি বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। সম্মেলনের শেষ দিনে তাই মূল প্রশ্ন হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সামলে ব্রিকস কতটা কার্যকরভাবে ঐক্যের বার্তা দিতে পারে এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব আরও কতটা বাড়াতে পারে। সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাজেট আইনের পর ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ কমেছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত এই পতনের হিসাব পাওয়া গেছে। একই সময়ে ১৫ লাখের বেশি শিশু ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা হারিয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এর মধ্যেই আগামী ১ অক্টোবর থেকে কর্মসূচিটির প্রশাসনিক ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ রাজ্যগুলোকে বহন করতে হবে। ফলে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে আরও চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ বা ১২ শতাংশ কমেছে। এই হিসাব যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দপ্তর ও বিভিন্ন রাজ্যের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ২০২০ সালের পর ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগীর সংখ্যা এত দ্রুত কমার নজির খুবই বিরল। শিশুদের ক্ষেত্রেও পতনটি উল্লেখযোগ্য। যেসব ২৫টি রাজ্যের শিশুদের তথ্য পাওয়া গেছে বা রাজ্যগুলো তথ্য দিয়েছে, সেখানে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১২ লাখ শিশু ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা হারিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এই সংখ্যা ১৫ লাখেরও বেশি হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। তবে এটি কোনো চূড়ান্ত সরকারি সংখ্যা নয়, বরং বিভিন্ন রাজ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে করা একটি হিসাব। সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমার পেছনে নতুন আইনের বিভিন্ন পরিবর্তন ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। এর মধ্যে কর্মসংক্রান্ত শর্ত কঠোর করা, যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তন এবং সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বাড়তি প্রশাসনিক বাধার বিষয় রয়েছে। তবে ফুড স্ট্যাম্পে অংশগ্রহণ কমার সবটুকু যে শুধু নতুন আইনের কারণে, এমন সিদ্ধান্তও টানা হয়নি। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কিছু রাজ্যে পতনের প্রবণতা আইনটি কার্যকর হওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল। নতুন নিয়মে নির্ভরশীল সন্তান নেই এমন কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কর্মসংক্রান্ত শর্তের আওতা আরও বাড়ানো হয়েছে। আগে যে বয়সসীমার মধ্যে এই শর্ত প্রযোজ্য ছিল, সেটি বাড়িয়ে ৬৪ বছর পর্যন্ত করা হয়েছে। বাবা-মা ও পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের দায়িত্বে থাকা কিছু মানুষের জন্যও আগের ছাড়ের নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে আগের তুলনায় আরও বেশি মানুষকে ফুড স্ট্যাম্প ধরে রাখতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এর পাশাপাশি রাজ্যগুলোর ওপর প্রশাসনিক ব্যয়ের চাপও বাড়ছে। বর্তমানে ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচির প্রশাসনিক ব্যয়ের অর্ধেক কেন্দ্রীয় সরকার বহন করে। কিন্তু ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ ২৫ শতাংশে নেমে যাবে এবং রাজ্যগুলোকে ৭৫ শতাংশ ব্যয় বহন করতে হবে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এই পরিবর্তনকে কর্মসূচিটির অর্থায়নে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু প্রশাসনিক ব্যয় নয়, ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে ফুড স্ট্যাম্পের মূল সুবিধা প্রদানের ব্যয়েরও একটি অংশ রাজ্যগুলোর ওপর পড়বে। রাজ্যগুলোর সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ভুলের হারের ওপর ভিত্তি করে অধিকাংশ রাজ্যকে মোট সুবিধা ব্যয়ের ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বহন করতে হতে পারে। এই পরিবর্তন রাজ্যগুলোর বাজেটে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে খাদ্য সহায়তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে। সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের হিসাবে, ২০২৭ সাল থেকে অধিকাংশ রাজ্যকে ফুড স্ট্যাম্পের মূল সুবিধা ব্যয়ের ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত দিতে হতে পারে। অনেক রাজ্যের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ বছরে কয়েকশ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। রাজ্যগুলোর ভুলের হার যত বেশি হবে, তাদের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক চাপও তত বাড়বে। ইতোমধ্যে কয়েকটি রাজ্যে ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাভোগীর সংখ্যা বড় মাত্রায় কমেছে। অ্যারিজোনায় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৫৪ শতাংশ কমেছে বলে সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের তথ্য জানিয়েছে। লুইজিয়ানা ও নেভাদায় কমেছে ২১ শতাংশ করে। ফ্লোরিডায় কমেছে ২০ শতাংশ এবং ওকলাহোমায় ১৯ শতাংশ। এই পরিবর্তনের প্রভাব খাদ্য সহায়তা ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা হারানো মানুষের একটি অংশ খাদ্য ব্যাংকের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেছেন। তবে খাদ্য সহায়তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, খাদ্য ব্যাংকের পক্ষে ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচির মাধ্যমে যে পরিমাণ সহায়তা মানুষের কাছে পৌঁছায়, তার পুরো ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে পূরণ করা সম্ভব নয়। ফুড স্ট্যাম্পের ব্যয় রাজ্যগুলোর ওপর স্থানান্তরের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন কংগ্রেসের প্রতি পরিবর্তনগুলো পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে রাজ্যগুলো সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় আরও কঠোরতা আনতে পারে। এতে যোগ্য ব্যক্তিরাও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচি এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ৫০ লাখ মানুষের সুবিধা কমে যাওয়ার পর সামনে রাজ্যগুলোর ওপর প্রশাসনিক ব্যয়ের বড় অংশ চাপছে। এর সঙ্গে কঠোর কর্মশর্ত এবং ২০২৭ সাল থেকে সুবিধা প্রদানের ব্যয়ের অংশ রাজ্যগুলোর ওপর যাওয়ার বিধান যুক্ত হওয়ায় খাদ্য সহায়তা থেকে আরও মানুষ বাদ পড়বেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সূত্র: এবিসি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি-আমেরিকান নতুন প্রজন্মের মধ্যে ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসা, ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা তথ্যপ্রযুক্তির মতো দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় পেশার পাশাপাশি আইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স, ব্যবসা ও উদ্যোক্তা হওয়ার মতো ক্ষেত্রও তরুণদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে। কমিউনিটির কয়েকটি পরিবারের বাস্তব অভিজ্ঞতায়ও দেখা যাচ্ছে, পড়াশোনা বা কর্মজীবনের মাঝপথে অনেকে নিজেদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নতুন করে সাজাচ্ছেন। টেক্সাসের বাংলাদেশি কমিউনিটির এক তরুণীর গল্প তার একটি উদাহরণ। মিডল স্কুল থেকেই তিনি হেলথ কেয়ার ও মেডিকেল সায়েন্স নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। হাই স্কুল পেরিয়ে কলেজেও সেই লক্ষ্য ধরে পড়াশোনা করেছেন। সম্প্রতি কলেজ শেষ করার পরও অবশ্য সেই দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে। এখন তিনি হেলথ কেয়ারের পরিবর্তে আইন পেশায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ল স্কুলে ভর্তির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন। অর্থাৎ যে ক্যারিয়ারের জন্য একজন শিক্ষার্থী কৈশোর থেকে বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিয়েছেন, কলেজ শেষ করার পর নিজের আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনা করে সেই পথ পরিবর্তন করতেও দ্বিধা করছেন না। জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ধরনের একটি পরিবর্তন। এক বাংলাদেশি পরিবারের তরুণীর শুরু থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ ছিল। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও আইটি ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ পছন্দ। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ এবং প্রযুক্তি খাতে কাজের ধরন পরিবর্তনের কারণে এখন তিনি নিজের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নতুনভাবে সাজাচ্ছেন। আইটি পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে তিনি একই প্রযুক্তি খাতের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা করছেন। অর্থাৎ তার ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি আইটি থেকে বেরিয়ে যাওয়া নয়, বরং আইটির ভেতরেই ভবিষ্যৎমুখী একটি নতুন বিশেষায়িত ক্ষেত্র বেছে নেওয়া। এই পরিবর্তনের পেছনে শুধু ব্যক্তিগত আগ্রহ নয়, দ্রুত বদলে যাওয়া চাকরির বাজারও ভূমিকা রাখছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০২৫ সালের ফিউচার অব জবস রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চাকরির বাজারে প্রযুক্তিগত দক্ষতার গুরুত্ব দ্রুত বাড়বে। এআই ও বিগ ডেটা, নেটওয়ার্ক ও সাইবার সিকিউরিটি এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা দক্ষতার মধ্যে রাখা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বিগ ডেটা স্পেশালিস্ট, ফিনটেক ইঞ্জিনিয়ার, এআই ও মেশিন লার্নিং স্পেশালিস্ট এবং সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারদের দ্রুত বাড়তে থাকা পেশার তালিকায় রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের সর্বশেষ হিসাবও দেখাচ্ছে, এআই প্রযুক্তির কারণে আইটি খাতের সব চাকরি কমে যাচ্ছে এমন নয়। বরং কিছু পেশায় কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ডেটা সায়েন্টিস্টের চাকরি ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ, ইনফরমেশন সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সফটওয়্যার ডেভেলপারের চাকরি ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। তবে প্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণে কিছু প্রচলিত কাজের ধরন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে প্রশ্নটি এখন শুধু আইটি পড়বে কি না, তা নয়; বরং আইটির কোন শাখায় গেলে ভবিষ্যতে বেশি সুযোগ তৈরি হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তন শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে আইটি পেশায় কাজ করা কিছু বাংলাদেশি-আমেরিকান পেশাজীবীও চাকরির বাজারের পরিবর্তনের মধ্যে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। তাদের কেউ নতুন দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করছেন, কেউ আইটির অন্য শাখায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, আবার কেউ চাকরির পরিবর্তে ব্যবসা ও উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে ঝুঁকছেন। জর্জিয়ার এমনই এক তরুণ বাংলাদেশি আইটি পেশাজীবী, যিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি, দীর্ঘদিন আইটি খাতে কাজ করার পর এখন নতুন ব্যবসা শুরু করছেন। তার কাছে প্রযুক্তি খাতের দ্রুত পরিবর্তন এবং চাকরির অনিশ্চয়তা আইটি ক্যারিয়ারকে আগের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়েছে। ফলে চাকরির ওপর নির্ভর না করে নিজের ব্যবসা দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির আকারও দ্রুত বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের শুধু বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার। অর্থাৎ কমিউনিটির একটি বড় অংশ এখন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম। তাদের ক্যারিয়ার পছন্দ আগামী দিনের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পেশাগত পরিচয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশি পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা আইটি পেশার বাইরে নতুন প্রজন্ম কতটা যাচ্ছে? একজন তরুণী হেলথ কেয়ার থেকে আইন পেশায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আরেকজন আইটি থেকে এআইভিত্তিক ক্যারিয়ারের দিকে এগোচ্ছেন। অন্যদিকে একজন অভিজ্ঞ আইটি পেশাজীবী চাকরির পরিবর্তে উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করছেন। এই তিনটি ঘটনা হয়তো পুরো কমিউনিটির চিত্র নয়। কিন্তু এগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন প্রজন্ম এখন শুধু বাবা-মায়ের পছন্দের পেশা নয়, বরং নিজের আগ্রহ, ভবিষ্যতের চাকরির বাজার, প্রযুক্তির পরিবর্তন, আয়ের সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা বিবেচনা করে ক্যারিয়ার বেছে নিতে চাইছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য তাই ক্যারিয়ার নিয়ে পুরনো প্রশ্নটি হয়তো ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। প্রশ্নটি আর শুধু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার নাকি আইটি—এতটুকুতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং কোন পেশায় ভবিষ্যতের সুযোগ বেশি, কোন দক্ষতার চাহিদা বাড়বে এবং সন্তানের নিজের আগ্রহ কোথায়—সেটিও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আর সেই পরিবর্তনের গল্পই হয়তো আগামী দিনের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির নতুন ক্যারিয়ার মানচিত্র তৈরি করবে।
হংকংয়ে ২৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে বিশাল হাই-টেক হাব গড়ে তুলতে অন্তত ২৫টি গ্রাম উচ্ছেদের মুখে পড়েছে। ‘নর্দার্ন মেট্রোপলিস’ নামের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের আওতায় হংকংয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পটির লক্ষ্য প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাত সম্প্রসারণ, নতুন আবাসন তৈরি এবং মূল ভূখণ্ড চীনের সঙ্গে হংকংয়ের অর্থনৈতিক সংযোগ আরও জোরদার করা। পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর দাবি, এই উন্নয়নের জন্য স্থানীয় গ্রাম, জলাভূমি ও কৃষিজমিকে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। প্রকল্পটির কারণে কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করা গ্রামগুলোর অনেক বাসিন্দাকে নিজেদের বাড়িঘর ছাড়তে হচ্ছে। ৭১ বছর বয়সী চ্যান ইউক-তং এমনই একজন। হংকংয়ের উত্তরের একটি গ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই ব্যক্তি জীবনের বাকি সময় নিজের ছোট নীল ইটের বাড়িতেই কাটানোর আশা করেছিলেন। কিন্তু নর্দার্ন মেট্রোপলিস প্রকল্পের জন্য তার বাড়িও ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি চলছে। বাড়ি ছাড়ার আগে তিনি নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছেন। নর্দার্ন মেট্রোপলিস প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর বা ৭৪ হাজার একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হবে। অঞ্চলটির আয়তন হংকংয়ের মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান। এই এলাকায় বর্তমানে গ্রাম, কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক জলাভূমি রয়েছে। ভূমি নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন লিবার রিসার্চ কমিউনিটির হিসাবে, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অন্তত ২৫টি গ্রাম ভেঙে ফেলার প্রয়োজন হবে। হংকং সরকার নর্দার্ন মেট্রোপলিসকে শহরটির নতুন অর্থনৈতিক ইঞ্জিন হিসেবে তুলে ধরছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের বসবাসের সুযোগ তৈরি হবে এবং প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি হংকংকে ম্যাকাও এবং চীনের মূল ভূখণ্ডের গ্রেটার বে এরিয়ার নয়টি শহরের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করবে। প্রযুক্তি, শিল্প, আবাসন ও লজিস্টিকস খাতকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রকল্পটির ব্যাপকতা নিয়ে পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। লিবার রিসার্চ কমিউনিটির প্রতিনিধি ব্রায়ান ওংয়ের মতে, আগে তুলনামূলকভাবে সংরক্ষিত থাকা এলাকায় নতুন শহর গড়ে তুললে পরিবেশের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাদের আশঙ্কা, উন্নয়নের ফলে স্থানীয় বন্যপ্রাণী, প্রাকৃতিক জলাভূমি এবং দীর্ঘদিনের গ্রামীণ জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারি কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, প্রকল্পের সঙ্গে গ্রামীণ এলাকাগুলোকে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কিছু পুরোনো বাড়ি ও বসতিকে সংরক্ষণযোগ্য সাংস্কৃতিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। ফলে যেসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিবারগুলো বসবাস করে আসছে, সেগুলোর অনেককেই উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সরিয়ে দিতে হচ্ছে। গ্রামবাসীদের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকারি আবাসনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ৪২ বছর বয়সী নিকি সো তিন প্রজন্ম ধরে যে গ্রামে তার পরিবার বসবাস করেছে, সেখানকার বাড়ি হারিয়েছেন। তিনি ক্ষতিপূরণ হিসেবে একটি সরকারি আবাসনের সুযোগ পেয়েছেন। তবে নতুন বাড়ি পেলেও পুরোনো গ্রামের প্রতিবেশী ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তার জন্য কষ্টের হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত জুলাইয়ে ভূমি বিভাগের কর্মকর্তারা ও পুলিশ সদস্যরা নিকি সোদের এলাকায় গিয়ে সেটিকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেন। এর আগে ওই এলাকার কয়েকটি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। গ্রামবাসীদের কেউ কেউ উন্নয়ন প্রকল্পটি সফল হওয়ার আশা করছেন। তবে তাদের আশঙ্কা, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পর প্রকল্পটি প্রত্যাশিত ফল দিতে না পারলে বহু বছরের বসতভিটা হারানোর ত্যাগটি আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠবে। নর্দার্ন মেট্রোপলিস প্রকল্পের সরকারি ব্যয় ধরা হয়েছে অন্তত ২২৪ বিলিয়ন হংকং ডলার, যা প্রায় ২৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। তবে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা এসঅ্যান্ডপি জানিয়েছে, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৩৬০ বিলিয়ন হংকং ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। হংকং কর্তৃপক্ষ দীর্ঘমেয়াদে এই প্রকল্প থেকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুফল পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। ব্যাংকগুলোর পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সরকারের পক্ষ থেকে ধারণা দেওয়া হয়েছে, প্রায় ২০ বছরের মধ্যে প্রকল্পটি হংকংয়ের মোট দেশজ উৎপাদনের ১৩ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থনৈতিক অবদান রাখতে পারে। ইতোমধ্যে নর্দার্ন মেট্রোপলিস এলাকায় বড় ধরনের ভূমি উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত মাসে প্রকল্পের আওতায় প্রথম বড় আকারের ভূমি বিক্রির চুক্তি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে দেওয়া হয়। ওই কনসোর্টিয়ামে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং ই-কমার্স কোম্পানি জেডি ডটকম রয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় আবাসন ও লজিস্টিকস কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। প্রকল্পটির পেছনে হংকংয়ের অর্থনীতিকে প্রযুক্তিনির্ভর করার পাশাপাশি চীনের বৃহত্তর অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে শহরটির সংযোগ আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে চীনের মূল ভূখণ্ডের শেনঝেন ও হাংঝুর মতো প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করাও হংকংয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা এবং শক্তিশালী পুঁজিবাজার হংকংকে আলাদা সুবিধা দিতে পারে। নর্দার্ন মেট্রোপলিসের মাধ্যমে হংকং নতুন প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাইছে। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে বহু পুরোনো গ্রাম ও বসতিকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি প্রকল্পটির সামাজিক ও পরিবেশগত মূল্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। ফলে বিপুল বিনিয়োগের এই প্রকল্প শেষ পর্যন্ত হংকংয়ের অর্থনীতিতে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে এবং এর জন্য স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পরিবেশকে যে মূল্য দিতে হচ্ছে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। সূত্র: এএফপি
ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসেতে ৬ বছরের মেয়েকে নিয়ে হাঁটার সময় এক বাবাকে তার নিজের মেয়েকে পাচারের অভিযোগ করার ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৬ সেপ্টেম্বর আলমাডেন এলাকার ৬৪০০ ব্লক অ্যাসপেন ক্রিকে ওই নারী গাড়ি নিয়ে বাবা ও মেয়েটির কাছে একাধিকবার গিয়ে তাদের উদ্দেশে বৈষম্যমূলক মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে সান জোসে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী বাবা ও মেয়ের মধ্যে গায়ের রঙের পার্থক্য দেখে তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ভিডিওতে তাকে ওই বাবাকে মেয়েটিকে কেনাবেচা বা পাচার করার অভিযোগ করতে শোনা যায়। বাবা নিজেকে বাদামি গায়ের রঙের মানুষ এবং মেয়েকে অর্ধেক শ্বেতাঙ্গ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নারীটি আরও দাবি করেন, তিনি ফেডারেল সরকারের সঙ্গে কাজ করেন। তবে পুলিশের তদন্তে ওই বাবার বিরুদ্ধে পাচারের অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ঘটনার ভিডিওটি ওই বাবা নিজেই ধারণ করেছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িতে থাকা নারীটি একাধিকবার তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন। তিনি মেয়েটির চেহারা ও বাবার গায়ের রঙের পার্থক্যকে কেন্দ্র করে সন্দেহ প্রকাশ করেন। ওই বাবা পরে বিষয়টি পুলিশকে জানান। সান জোসে পুলিশ ঘটনাটিকে শুরু থেকেই সম্ভাব্য হেট মোটিভেটেড বা বিদ্বেষপ্রসূত ঘটনা হিসেবে তদন্ত করে। তদন্তের সময় পুলিশ অটোমেটেড লাইসেন্স প্লেট রিডার বা এএলপিআর ক্যামেরার সহায়তায় ওই গাড়ি ও সন্দেহভাজন নারীকে শনাক্ত করে। পরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, একই নারী সান জোসে এলাকায় আরও কয়েকটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সান জোসের একটি হাইস্কুলে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাও রয়েছে। এসব ঘটনার পর সান জোসে পুলিশ ডিপার্টমেন্টের অ্যাসল্টস ইউনিটের গোয়েন্দারা সমন্বিত তদন্ত শুরু করেন। এদিকে স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষও অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে। সান জোসে ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানায়, একজন ব্যক্তি স্কুল কমিউনিটির সদস্যদের হয়রানি করছেন, ভিডিও ও ছবি ধারণ করছেন এবং সেগুলো সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করছেন—এমন অভিযোগ তারা পেয়েছে। এ ঘটনায় স্কুল ডিস্ট্রিক্ট পুলিশে রিপোর্ট করে এবং সান জোসে পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে কাজ শুরু করে। তদন্ত শেষে পুলিশ সান জোসেতে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে এবং তাকে সান্তা ক্লারা কাউন্টি মেইন জেলে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে স্টকিং, হেট ক্রাইমসহ একাধিক অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্ত এখনো চলমান। পুলিশও ওই নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত আইনি অবস্থান বা পরবর্তী কোর্ট হিয়ারিংয়ের তথ্য প্রকাশ করেনি। সান জোসে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলোর বিষয়ে তাদের তদন্ত সক্রিয় ও চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে অ্যাসল্টস ইউনিটের গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশ আলাদাভাবে ঘটনাগুলোর তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসপ্তাহের নির্ধারিত সময় ৪০ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৩২ ঘণ্টায় নামানোর প্রস্তাব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও প্রতিনিধি মার্ক তাকানো ‘থার্টি-টু আওয়ার ওয়ার্কউইক অ্যাক্ট’ পুনরায় উত্থাপন করেছেন। প্রস্তাবটি পাস হলে ধাপে ধাপে ওভারটাইম পাওয়ার সীমা ৪০ ঘণ্টা থেকে ৩২ ঘণ্টায় নামবে এবং কর্মীদের বেতন ও সুবিধা কমানোর সুযোগ না রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি সরাসরি সব কর্মীর জন্য চার দিনের কর্মসপ্তাহ বাধ্যতামূলক করবে না। বরং ফেডারেল শ্রম আইনের আওতাভুক্ত নন-এক্সেম্পট কর্মীদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি কাজ করলে ওভারটাইম পাওয়ার সীমা ধাপে ধাপে কমানো হবে। অর্থাৎ শেষ ধাপে ৩২ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য ওভারটাইম মজুরি প্রযোজ্য হবে। প্রস্তাবিত পরিবর্তন একবারে কার্যকর করার বদলে চার বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম বছরে ওভারটাইমের সীমা ৩৮ ঘণ্টা, পরের ধাপে ৩৬ ও ৩৪ ঘণ্টা এবং চতুর্থ বছরে ৩২ ঘণ্টায় নামানোর কথা বলা হয়েছে। ফলে কর্মীদের স্বাভাবিক কর্মঘণ্টা কমানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের জন্য বেশি পারিশ্রমিক নিশ্চিত করাই প্রস্তাবটির মূল কাঠামো। স্যান্ডার্স ও তাকানোর যুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও প্রযুক্তির অগ্রগতিতে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সুফল শুধু প্রতিষ্ঠান বা মালিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মীদেরও দেওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন। তাদের মতে, একই বেতন ও সুবিধা বজায় রেখে কর্মঘণ্টা কমানো হলে কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে ভারসাম্য বাড়তে পারে। প্রস্তাবটির পক্ষে যুক্তি থাকলেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, কর্মীদের বেতন ও সুবিধা অপরিবর্তিত রেখে কর্মঘণ্টা কমানো হলে নিয়োগকর্তাদের শ্রম ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব পণ্যের দাম, নিয়োগের হার কিংবা ব্যবসার খরচের ওপর পড়তে পারে। ফলে কর্মঘণ্টা কমানোর সুফল এবং বাড়তি শ্রম ব্যয়ের ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মঘণ্টা নিয়ে চলমান ভিন্নমুখী আলোচনার সঙ্গে মিলেছে। কোথাও প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতার সুফল কর্মীদের বেশি অবসর দেওয়ার মাধ্যমে ভাগ করে নেওয়ার আলোচনা চলছে, আবার কোথাও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে বেশি কাজের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসছে। ফ্রান্সে দীর্ঘদিন ধরে ৩৫ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহের কাঠামো থাকলেও দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জনসংখ্যার বার্ধক্য ও সরকারি অর্থের চাপের মধ্যে বেশি কাজ করা উচিত কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে কর্মঘণ্টা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্পর্কও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। জার্মানিতেও এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। দেশটির শিল্পখাতের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা ৩৫ ঘণ্টার পরিবর্তে ৪০ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহে ফেরার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, বাড়তি কর্মঘণ্টা উৎপাদনশীলতা ও শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এ নিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর আপত্তিও রয়েছে। ব্রাজিলেও কর্মঘণ্টা কমানোর উদ্যোগ রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের চেয়ে সেখানে লক্ষ্য আলাদা। দেশটির নিম্নকক্ষ ৪৪ ঘণ্টার সর্বোচ্চ কর্মসপ্তাহ কমিয়ে ৪০ ঘণ্টায় নামানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। একই সঙ্গে সপ্তাহে দুই দিন ছুটির ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ বিভিন্ন দেশে কর্মঘণ্টা নিয়ে আলোচনা চললেও সবার লক্ষ্য বা কাঠামো এক নয়। বিশ্বজুড়ে এই ভিন্নমুখী অবস্থান মূলত একটি প্রশ্নকে সামনে এনেছে: প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতা বাড়লে তার সুফল কর্মীদের বেশি অবসর হিসেবে দেওয়া হবে, নাকি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য আরও বেশি কাজ করানো হবে? যুক্তরাষ্ট্রের ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহের প্রস্তাব সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। তবে এখনই যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসপ্তাহ ৩২ ঘণ্টায় নেমে যাচ্ছে না। এটি একটি প্রস্তাবিত আইন এবং কংগ্রেসে পাস হয়ে আইনে পরিণত হলেই এর বিধান কার্যকর হবে। তাই আপাতত এটি মার্কিন শ্রমনীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের একটি উদ্যোগ, নিশ্চিতভাবে চালু হয়ে যাওয়া নতুন কর্মব্যবস্থা নয়। সূত্র: নিউজম্যাক্স