ফিনল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়ম কঠোর করছে সরকার, স্পাউজ ভিসা ও নাগরিকত্ব পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা
ফিনল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অভিবাসন ও বসবাসের নিয়ম আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রী ও সন্তানদের পারিবারিক ভিত্তিতে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীকে দেশটিতে অন্তত এক বছর বসবাস করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্স পারমিটের ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতার শর্তও যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ফিনল্যান্ডের ক্ষমতাসীন ডানপন্থি জোট সরকার প্রস্তাবিত আইনটি দেশটির সংসদে পাঠিয়েছে। সরকারের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক ঝুঁকি কমানো, শিক্ষার্থী অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এবং প্রকৃত শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করাই এসব পরিবর্তনের অন্যতম লক্ষ্য।
উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৩ থেকে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী ফিনল্যান্ডে যান। এর মধ্যে বাংলাদেশ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে। ফলে নতুন প্রস্তাবিত নিয়মগুলো বিদেশি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডে পড়তে যাওয়া কোনো শিক্ষার্থীর স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের রেসিডেন্স পারমিটের আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন অপেক্ষার সময় যুক্ত হবে। শিক্ষার্থী দেশটিতে আসার পর অন্তত এক বছর পার না হলে পরিবারের সদস্যরা পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করতে পারবেন না।
বর্তমানে শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ফিনল্যান্ডে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করতে পারেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে পরিবারকে ফিনল্যান্ডে নেওয়ার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত এক বছরের সময় বিবেচনায় রাখতে হবে।
সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন অপেক্ষার নিয়ম ২০২৭ সালের ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে পারে। তবে এর আগে প্রস্তাবটি সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্স পারমিটের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট ভাষাগত দক্ষতা থাকার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সরকারের যুক্তি, ফিনল্যান্ডে পড়াশোনার জন্য আসা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সফলভাবে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভাষাগত সক্ষমতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
ফিনিশ সরকারের মতে, কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার রেসিডেন্স পারমিটকে ইউরোপের চাকরির বাজারে প্রবেশের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। এ ধরনের প্রবণতা ঠেকাতে এবং প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে ভাষাগত যোগ্যতার শর্ত যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুধু ভাষার শর্ত নয়, ফিনল্যান্ডে অবস্থানকালে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও নতুনভাবে নির্ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশটিতে বসবাসের জন্য শিক্ষার্থীর হাতে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ আইন ও সরকারি ডিক্রির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই অর্থের সীমা প্রতি তিন বছর পরপর পর্যালোচনা করার কথা বলা হয়েছে।
ফিনল্যান্ডের সরকারের দাবি, বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দেশটিতে যাওয়ার পর জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতে সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন নিয়োগ ও শিক্ষার্থী সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং অতিরিক্ত ফি দেওয়ার কারণে কেউ কেউ ঋণ ও আর্থিক সংকটে পড়ছেন। নতুন নিয়মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ফিনল্যান্ডে যাওয়ার আগে তাঁদের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ফিনল্যান্ড গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অভিবাসন ব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তন এনেছে। নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রেও বসবাসের সময়সীমা ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত কঠোর করা হয়েছে। স্থায়ী রেসিডেন্স পারমিটের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় বসবাস, কর্মসংস্থান ও ভাষাগত দক্ষতাকে আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. মজিবুর দফতরি বলেন, শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য অভিবাসীদের পারিবারিক পুনর্মিলন ও রেসিডেন্স পারমিট নবায়নের ক্ষেত্রে আয়সংক্রান্ত শর্ত আরও কঠোর করা হয়েছে। তাঁর মতে, স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে ফিনল্যান্ডে থাকার সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে এবং ফিনিশ ভাষার দক্ষতাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করা হচ্ছে।
ফিনল্যান্ডের নতুন অভিবাসন নীতির কারণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা, পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে চাকরি এবং দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের বিষয়গুলো আগের তুলনায় আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে ভাষাগত যোগ্যতা ও আর্থিক সক্ষমতার শর্ত পূরণে শিক্ষার্থীদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে কিছু নিয়ম ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে এবং ভাষাগত দক্ষতাসহ অন্যান্য সংশোধন একই বছরের অক্টোবর থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত আইন সংসদীয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের আবেদন করার সময় দেশটির সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: ফিনল্যান্ড সরকার, ফিনিশ ইমিগ্রেশন সার্ভিস
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreদক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ডেটিং রিয়েলিটি শো ‘দ্য শাইনিং সোলো’-এর চতুর্থ পর্বে ২৭ বছর বয়সী এক প্রতিযোগীর ত্বক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানটিতে ইউ সান নামে পরিচিত ওই তরুণীর মুখের ত্বক এতটাই মসৃণ ও সমান দেখায় যে, দর্শকদের একাংশ সেটিকে নিখুঁত সৌন্দর্যের উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ এটিকে অতিরিক্ত প্রসাধনী ও সৌন্দর্যচর্চার সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে দেখেছেন। উচ্চমানের ক্যামেরায় ধারণ করা অনুষ্ঠানের দৃশ্যে ইউ সানের মুখে দৃশ্যমান কোনো লোমকূপ বা বলিরেখা প্রায় চোখে পড়েনি। আলো তাঁর মুখে পড়লে ত্বকটি অনেকটা চীনামাটির মতো মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। সেই দৃশ্য প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা ধরনের মন্তব্য। একটি ভাইরাল পোস্টে দাবি করা হয়, এই ধরনের ত্বকের চেহারার পেছনে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, রেজুরান ও জুভেলুকের মতো সৌন্দর্যচিকিৎসার ভূমিকা থাকতে পারে। তবে ইউ সান নিজে এসব চিকিৎসা নিয়েছেন কি না, কতবার নিয়েছেন বা তাঁর ত্বকের বর্তমান চেহারার প্রকৃত কারণ কী, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে প্রসাধনী ও নান্দনিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি উপাদান। রেজুরান ও জুভেলুকও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ত্বকের সৌন্দর্য ও গঠন উন্নত করার জন্য ব্যবহৃত নান্দনিক চিকিৎসার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এসব চিকিৎসার ফল ব্যক্তি ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যবহারের সঙ্গে ইউ সানের চেহারার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো চিকিৎসাগত প্রমাণও প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়াও ছিল বিভক্ত। চীনা ও দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু ব্যবহারকারী তাঁর মুখের চেহারাকে কৃত্রিম পুতুল বা সিলিকনের তৈরি মূর্তির সঙ্গে তুলনা করেছেন। আবার অনেকে এমন ত্বককে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও নিখুঁত বলে প্রশংসা করেছেন। তবে এই আলোচনা শুধু একজন টেলিভিশন ব্যক্তিত্বের চেহারা নিয়ে মন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সৌন্দর্যচর্চা এবং তরুণদের ওপর নিখুঁত চেহারা ধরে রাখার সামাজিক চাপ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ত্বকের যত্ন ও নান্দনিক চিকিৎসার জনপ্রিয়তা বহুদিনের। দেশটির সৌন্দর্যশিল্পে ত্বকের গঠন, উজ্জ্বলতা ও বয়সের ছাপ কমিয়ে দেখানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা ও প্রসাধনী ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং উচ্চমানের ক্যামেরার যুগে মানুষের চেহারা আরও কাছ থেকে ও বিস্তারিতভাবে দেখা যায়। ফলে সামান্য ত্বকের দাগ, লোমকূপ বা বলিরেখাও দর্শকের চোখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি অদৃশ্য করে দেওয়াকে সৌন্দর্যের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখলে মানুষের মধ্যে অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা সম্পাদিত ছবি, ফিল্টার এবং অতিরিক্ত মসৃণ ত্বকের সঙ্গে নিজের চেহারার তুলনা করার প্রবণতা আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে। ‘দ্য শাইনিং সোলো’-তে ইউ সানের উপস্থিতি তাই সৌন্দর্যের সংজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ক্যামেরায় নিখুঁত দেখানো ত্বককে কেউ সৌন্দর্যের চূড়ান্ত প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, মানুষের স্বাভাবিক ত্বকের বৈশিষ্ট্যগুলোও সৌন্দর্যের অংশ। তবে ইউ সানের ব্যক্তিগত সৌন্দর্যচর্চা বা কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যকে তাঁর চিকিৎসার প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের আলো, মেকআপ, ক্যামেরার প্রযুক্তি এবং ছবি প্রক্রিয়াকরণের কারণেও ত্বকের চেহারা বাস্তবের তুলনায় আলাদা দেখা যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই ঘটনা সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা কতটা বদলে যাচ্ছে, সেই পুরোনো প্রশ্নটিকেই সামনে এনেছে। প্রযুক্তি যখন মানুষের চেহারার প্রতিটি সূক্ষ্ম বিষয়কে দৃশ্যমান করে তুলছে, তখন স্বাভাবিক ত্বককে গ্রহণ করা এবং সৌন্দর্যের জন্য কতটা পরিবর্তন প্রয়োজন, তা নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে। সূত্র: ইউপিএসওসিএল, দ্য শাইনিং সোলো
ফিনল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়ম কঠোর করছে সরকার, স্পাউজ ভিসা ও নাগরিকত্ব পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা
জার্মানির অপরচুনিটি কার্ডে নতুন সুবিধা, ভিসা ছাড়াই যেতে পারবেন ৮ দেশের নাগরিক
বাইশ বছর হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন গ্রিসের এক নারী
মুসলিম ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তাদের পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো সমস্যা নেই। তেহরান শুধু নিজেদের আন্তর্জাতিক অধিকার ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান চায়। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের পার্শ্ববর্তী এক বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনার সময় এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। বৈঠকে দুই নেতা আঞ্চলিক পরিস্থিতি, ইরান-মালয়েশিয়া সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করেন। পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান চায় বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হোক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, “আমেরিকা চায়, আমরা যারা বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ, তারা যেন একে অপরের শত্রুতে পরিণত হই।” তিনি বলেন, ইরানের মূল দাবি হলো দেশটির আন্তর্জাতিক অধিকারকে সম্মান করা। পেজেশকিয়ান আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা এবং ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। তার দাবি, এ অঞ্চলের স্বাধীন দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক হামলার প্রসঙ্গ তুলে পেজেশকিয়ান বলেন, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শিশু ও বিজ্ঞানীরাও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে কিছু ভ্রাতৃপ্রতিম ও মুসলিম দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষা ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো পথ ছিল না। প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ডে থাকা হামলাকারীদের সামরিক স্থাপনাগুলোকে ইরান সেই কারণেই লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান যুদ্ধ বা সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে চায় না। তিনি বলেন, তেহরান তার অধিকারকে সম্মান করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়। “আমরা কখনো আত্মসমর্পণ করব না”, বলেন পেজেশকিয়ান। ইরান তার জনগণের অধিকার ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় নিজেদের সক্ষমতা ব্যবহার করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো বাইরের ‘আঞ্চলিক পুলিশ’ বা নিয়ন্ত্রকের প্রয়োজন নেই। তার মতে, এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অঞ্চলটির প্রধান দেশগুলোরই হওয়া উচিত। তিনি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেন। পেজেশকিয়ানের মতে, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপের সুযোগ কমবে এবং আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ আরও কার্যকরভাবে রক্ষা করতে পারবে। বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, শুরু থেকেই এ বিষয়ে মালয়েশিয়া নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি দেশটির সম্মান রয়েছে। আনোয়ার ইব্রাহিম ইরানের জনগণের প্রতিরোধ ও দেশটির সরকারের অবস্থানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ইরান ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে এবারের আলোচনায় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্মেলনের নেতারা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া আরোপিত একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছেন। ইরান ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক এই বৈঠক এমন এক সময়ে হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং ইরান একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে, অন্যদিকে প্রতিবেশী ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি।
ইরানের শাহেদ ড্রোন নকল করে যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস তৈরির দাবি তেহরানের
জাভা সাগরে ২৪৩ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ সেই ফেরির সন্ধান মিলল, উদ্ধার ১০২
শি’র দিল্লি সফরের মধ্যেই অরুণাচল সীমান্তের দিকে এগোচ্ছে চীনা সেনারা
অস্ট্রেলিয়া সরকার ২০২৬-২৭ কর্মসূচির আওতায় ৩০ দেশের নাগরিকদের জন্য প্রথম ‘ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে’ ভিসা চালু রেখেছে। এই ভিসার আওতায় নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী তরুণরা অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ভ্রমণের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি কাজ করতে পারবেন। তবে চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের নাগরিকদের জন্য আবেদন করার আগে লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার শর্ত রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ও নাগরিকত্ববিষয়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ‘ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে’ ভিসা সাবক্লাস ৪৬২ মূলত তরুণদের জন্য তৈরি একটি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ১২ মাস পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় ছুটি কাটানোর সুযোগ পাওয়া যায় এবং সেই সময় ভ্রমণের খরচ চালাতে স্বল্পমেয়াদি কাজ করা যায়। এটি মূলত কাজের জন্য আলাদা শ্রমিক ভিসা নয়, বরং ভ্রমণকে কেন্দ্র করে কাজের সুযোগ দেওয়া একটি কর্মসূচি। বর্তমানে সাবক্লাস ৪৬২-এর আওতায় যেসব দেশের নাগরিকরা আবেদন করতে পারেন, সেগুলো হলো আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, ব্রাজিল, চিলি, চীন, চেক প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েডর, গ্রিস, হাঙ্গেরি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইসরায়েল, লুক্সেমবার্গ, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, পেরু, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, সান মারিনো, সিঙ্গাপুর, স্লোভাক প্রজাতন্ত্র, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, উরুগুয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনাম। তবে সব দেশের নাগরিকের জন্য আবেদনের নিয়ম এক নয়। চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের নাগরিকদের প্রথমে নির্ধারিত লটারি বা ব্যালট প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন করতে হয়। সেখান থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে নির্বাচিত হলে তবেই তারা ভিসার মূল আবেদন করতে পারেন। অস্ট্রেলিয়া এই ব্যবস্থা চালু করেছে কারণ এসব দেশের ক্ষেত্রে ভিসার নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় আবেদনকারীর চাহিদা অনেক বেশি। ২০২৬-২৭ কর্মবর্ষের জন্য চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের ব্যালট নিবন্ধন ২৫ জুন ২০২৬ বন্ধ হয়েছে বলে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। অর্থাৎ এসব দেশের নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির পরবর্তী ব্যালটের সময়সূচির জন্য সরকারি ঘোষণার দিকে নজর রাখতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশভেদে প্রথম সাবক্লাস ৪৬২ ভিসার বার্ষিক সংখ্যাতেও সীমা রয়েছে। যেমন চীনের জন্য ৫ হাজার, ভারতের জন্য ১ হাজার এবং ভিয়েতনামের জন্য ১ হাজার ৫০০টি পর্যন্ত প্রথম ভিসা দেওয়ার সীমা রয়েছে। অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রেও নির্ধারিত বার্ষিক সীমা রয়েছে। কোনো দেশের নির্ধারিত সীমা পূরণের কাছাকাছি গেলে আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হতে পারে। ভিসাটির ক্ষেত্রে বয়সের পাশাপাশি অন্যান্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়। সাবক্লাস ৪৬২ ভিসায় বয়সসীমা সাধারণভাবে ১৮ থেকে ৩০ বছর। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান এবং অন্যান্য ভিসা শর্ত পূরণ করতে হয়। তাই শুধু তালিকাভুক্ত দেশের নাগরিক হলেই ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। ভিসা পেলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা অবস্থায় কাজ করা গেলেও একই নিয়োগকর্তার অধীনে সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ছয় মাস কাজ করার সীমা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই সীমার ব্যতিক্রম বা বাড়তি অনুমতির সুযোগ থাকতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য মূলত দীর্ঘ ছুটির সময় ভ্রমণ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা। অস্ট্রেলিয়ার Working Holiday Maker কর্মসূচি ১৯৭৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশের তরুণদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে কাজ করছে। বর্তমানে দুটি ভিসা শ্রেণির মাধ্যমে ৪০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের নাগরিকদের জন্য এ ধরনের সুযোগ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর সম্ভাব্য আবেদনকারীদের ভিসা অনুমোদনের আগে বিমান টিকিট বা ভ্রমণসংক্রান্ত চূড়ান্ত ব্যবস্থা না করার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে এবং ভিসা পাওয়ার আগ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের নিশ্চয়তা থাকে না। তবে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এই নির্দিষ্ট সাবক্লাস ৪৬২ ভিসার সুযোগ নেই। অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ৩০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই। ফলে বাংলাদেশি তরুণদের অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণ ও কাজের জন্য অন্য উপযুক্ত ভিসা শ্রেণির যোগ্যতা ও শর্ত বিবেচনা করতে হবে। সূত্র: অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর, Working Holiday Maker Program; Legit.ng।
ইউনিসেফে ইন্টার্নশিপের সূবর্ণ সুযোগ, শিক্ষার্থী ও নতুন স্নাতকদের জন্য রয়েছে ভাতা
‘ভারত দরিদ্র ছিল না’, ব্রিটিশ শাসন নিয়ে মার্কিন শিল্পীর মন্তব্য ভাইরাল