সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ব্রিকস সম্মেলনে মোদি ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক ঘিরে ভারত চীন বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায়
মোদি-শি বৈঠক ঘিরে ভারত ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার আশা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই দেশের সম্পর্ক। ব্রিকস সম্মেলনে ১১টি দেশের নেতারা অংশ নিলেও ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার একটি হতে পারে মোদি-শির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে নতুন করে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের সম্পর্কে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ছয় বছর পর নাথু লা পাস দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য আবার চালু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলও পুনরায় শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী দেশগুলো থেকে ভারতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধও শিথিল করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত বাণিজ্যনীতি এবং পশ্চিম এশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এশিয়ার দুই বড় অর্থনীতির দেশ ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারত বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে চীনের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে কম শুল্ক সুবিধা পাওয়ার বিষয়েও ভারতের আগ্রহ রয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ জোরপূর্বক শ্রম-সংক্রান্ত শুল্ক আরোপ করে, যা চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের ওপর আরোপিত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের তুলনায় কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদি-শি বৈঠকে চীনে ভারতীয় পণ্যের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো, দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোর সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিও আলোচনায় আসতে পারে। ভারতের ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলো চীন থেকে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও কাঁচামালের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তবে একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে ভারতের বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতিও রয়েছে। পোশাক, চামড়া, ইলেকট্রনিকস, গাড়ির যন্ত্রাংশ, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও ব্যাটারিসহ বিভিন্ন পণ্যে চীন ভারতের অন্যতম প্রধান আমদানি উৎস। ইনস্টিটিউট ফর স্টাডিজ ইন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট আমদানির প্রায় ১৯ দশমিক ২ শতাংশ আসে চীন থেকে। ফলে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য ঘাটতি কমানোও ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ব্রিকসের মাধ্যমে ভারত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও নতুন উৎপাদন অংশীদারত্বের সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে দ্রুত আন্তঃসীমান্ত অর্থ লেনদেন, সহজ বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং ছোট ও মাঝারি ব্যবসার মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি রয়েছে। তবে চীনের বড় অর্থনৈতিক প্রভাব ভারতের জন্য একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা ভারতীয় ব্যবসার জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর শিল্পে চীনের দীর্ঘদিনের আধিপত্য এখনো বড় বাধা। তবুও বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হলে দুই দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই মোদি-শি বৈঠক শুধু দুই দেশের সম্পর্কের জন্য নয়, পুরো ব্রিকস জোটের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৭:৩৬
ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত ব্রিকসের, শিগগিরই আসছে দিল্লি ঘোষণা
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকসে বড় সমঝোতা, দিল্লি থেকে আসছে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা

ইরান যুদ্ধ নিয়ে অবশেষে ঐকমত্যে পৌঁছেছে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশের বিষয়ে কয়েক দিনের টানা আলোচনার পর সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে। শিগগিরই এই যৌথ ঘোষণা গ্রহণ করা হবে। পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকসের সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে মতবিরোধ ছিল। বিশেষ করে যুদ্ধ নিয়ে যৌথ ঘোষণাপত্রের ভাষা কী হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়। চলতি বছরের মে মাসে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও এ বিষয়ে কোনো ঐকমত্য হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশের শীর্ষ আলোচকরা যৌথ ঘোষণাপত্রে সম্মতি আনতে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যান। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৪ সালে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দুই দেশকে নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা তৈরির চেষ্টা করছে ভারত। এবারও যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় করতে ভারতীয় কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘাঁটিও ছিল। এ নিয়ে গত ছয় মাস ধরে ইরান ও আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই মতপার্থক্য কাটিয়ে ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশ যৌথ ঘোষণার বিষয়ে একমত হওয়ায় নয়াদিল্লি সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ একটি সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৭:২৩
হুতিদের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধের দাবি ট্রাম্পের
ট্রাম্পকে হুতিদের অনুরোধ, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবেন না’

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ জানিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   শনিবার আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চায় না। তারা চায় না, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান চালাক।   ট্রাম্প বলেন, “হুতিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে চায় না।” তিনি আরও বলেন, হুতিরা চায় না যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর হামলা চালাক। একই সঙ্গে অঞ্চলটির পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ভালোভাবেই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।   ট্রাম্প এ সময় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও কথা বলার কথা জানান। তিনি সৌদি যুবরাজকে নিজের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সৌদি যুবরাজ দুবার ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধে সম্মতি দেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   এদিকে, এই সপ্তাহেই হুতিরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপরও প্রভাব বিস্তার করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফলে অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৭:৯
সৌদি আরবের মরুভূমিতে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে হামলা, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ মিসরের

সৌদি আরবের রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে মিসর। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।   মিসর জানিয়েছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি তৈরি করে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তারা সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। দেশটি সৌদি আরবের সঙ্গে পূর্ণ সংহতিও প্রকাশ করেছে।   সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর সকালে রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পাইপলাইনটিতে একাধিকবার হামলা চালানো হয়। হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।   সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ইরাক থেকে উড্ডয়ন করেছিল। তবে এখন পর্যন্ত হামলার সরাসরি নির্দেশদাতা বা হামলাকারী কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।   ইরাকের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবকে তাৎক্ষণিক পাল্টা ব্যবস্থা না নিয়ে ইরাকি সরকারকে হামলার উৎস বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। সেই অনুরোধের পর সৌদি আরব আপাতত পাল্টা হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকারও বহাল রেখেছে।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হামলার জন্য ইরান সম্ভবত দায়ী। তবে এটি এখনো সৌদি সরকারের চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা কোনো অভিযোগ নয়।   হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে ইরাক তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৬:৫১
গ্র্যাজুয়েশনের আনন্দঘন মুহূর্তে হাসিমুখে ডিডি হেইস, নতুন জীবনের পথে পা রাখার বিশেষ দিনে
গৃহহীন শিক্ষার্থীকে স্কুলে রাখতে চাকরি হারালেন প্রধান শিক্ষক, পরে হলেন সেই ছাত্রেরই অভিভাবক

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের লাকোটা ইস্ট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রব বার্নসাইড জানতে পারেন, তার শিক্ষার্থী ল্যান্ডেরিয়াস ‘ডিডি’ হেইস অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মায়ের সঙ্গে থাকা সম্ভব ছিল না, আর বাবার মোবাইল হোমে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়লে কখনো গাড়িতে হিটার চালিয়ে রাত কাটাত ডিডি। তবুও সে স্কুলে যাওয়া চালিয়ে যাচ্ছিল। ডিডির জুনিয়র বছরে স্কুলে একটি চিঠি আসে। সেখানে জানানো হয়, তার মা নতুন ঠিকানায় চলে গেছেন এবং সেই ঠিকানা স্কুল জেলার বাইরে। জেলা কর্তৃপক্ষের অবস্থান ছিল, ডিডি আর লাকোটা ইস্টে পড়তে পারবে না। কিন্তু বার্নসাইড শুধু কাগজপত্রের ভিত্তিতে তাকে স্কুল থেকে বাদ দিতে রাজি হননি। তিনি ডিডিকে স্কুলে আসতে দেন। এরপর বার্নসাইডকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয় এবং তার সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ৩১ বছরের শিক্ষাজীবনের পর তিনি প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তবে চাকরি হারানোর পরও নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো আফসোস নেই। তিনি বলেন, একজন তরুণের জীবনের মূল্য দিয়ে কোনো কিছু পরিমাপ করা যায় না। এর মধ্যেই বার্নসাইড তার স্ত্রী অ্যাঞ্জেলকে ডিডির পরিস্থিতির কথা জানান। অ্যাঞ্জেল তাকে তাদের সঙ্গে থাকার প্রস্তাব দেন। ডিডির মায়ের সম্মতিতে সে বার্নসাইড পরিবারের সঙ্গে থাকতে শুরু করে। পরে রব ও অ্যাঞ্জেল তার আইনি অভিভাবক হন। ডিডি পরে নতুন একটি স্কুল থেকে ২০২৬ সালের মে মাসে হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করে। সেই অনুষ্ঠানে দর্শকসারিতে ছিলেন রব ও অ্যাঞ্জেল - যাদের ডিডি এখন ‘পপস’ ও ‘মা’ বলে ডাকে। বার্নসাইড পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কও এখন অনেকটা নিজের পরিবারের মতো; বার্নসাইড দম্পতির অন্য সন্তানরাও তাকে ভাই হিসেবে গ্রহণ করেছে। ডিডির সামনে এখন নতুন লক্ষ্য - এভিয়েশন মেকানিক হওয়া। অন্যদিকে, বার্নসাইডের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষ অধ্যায়টি চাকরি হারানোর মধ্য দিয়ে হলেও, তার একটি সিদ্ধান্ত একজন গৃহহীন তরুণকে দিয়েছে নিরাপদ একটি পরিবার, স্থিতিশীল পরিবেশ এবং নতুন ভবিষ্যতের সুযোগ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৬:৩৪
১৩২ বছর পর লাইব্রেরিতে ফিরল ১৮৯৪ সালের পুরোনো ম্যাগাজিন
১৩২ বছর পর লাইব্রেরিতে ম্যাগাজিন ফেরত, বেঁচে গেল ১২ হাজার ডলারের জরিমানা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের কনকর্ড পাবলিক লাইব্রেরিতে ১৩২ বছর পর একটি ম্যাগাজিন ফেরত দিয়েছেন এক ব্যক্তি। ১৮৯৪ সালের সেপ্টেম্বর সংখ্যার ‘দ্য সেঞ্চুরি ইলাস্ট্রেটেড মান্থলি ম্যাগাজিন’টি তিনি কয়েক দশক ধরে নিজের বাড়িতে রেখেছিলেন।  ব্যক্তিটির নাম জন হ্যানসন। তিনি জানান, ম্যাগাজিনটি কীভাবে তার বাড়িতে এসেছিল, তা তিনি জানেন না। কয়েক দশক ধরে সেটি তার কাছে ছিল। লাইব্রেরিতে বই ফেরত দেওয়ার ওপর এক বছরের জন্য জরিমানা স্থগিতের খবর দেখে তিনি অবশেষে ম্যাগাজিনটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।  লাইব্রেরির হিসাব অনুযায়ী, ম্যাগাজিনটি ৪৮ হাজার ২২০ দিন দেরিতে ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত জরিমানা কার্যকর থাকলে তার বিল দাঁড়াত প্রায় ১২ হাজার ৫৫ ডলার। তবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে কনকর্ড পাবলিক লাইব্রেরি এক বছরের জন্য পুরোনো জরিমানা স্থগিত করেছে। ফলে হ্যানসনকে কোনো অর্থই দিতে হচ্ছে না।  লাইব্রেরি জানিয়েছে, ম্যাগাজিনটি আর সাধারণ সংগ্রহে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না। বরং ঐতিহাসিক নথিপত্র সংরক্ষণের কনকর্ড রুমে এটি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।  মজার বিষয় হলো, ম্যাগাজিনটি যখন ধার নেওয়া হয়েছিল, তখন কনকর্ড পাবলিক লাইব্রেরির বয়সও ছিল মাত্র প্রায় ২০ বছর। লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭৩ সালে।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৬:১৪
ইরফান আল-হুসাইনি—স্মৃতিতে বেঁচে থাকা এক তরুণের করুণ পরিণতি
স্বাধীন ফরেনসিক পরীক্ষার দাবি, ১৪ হাজার স্বাক্ষর- তবু দাফন হয়ে গেল ইরফানের

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলাদেশি গবেষক ও প্রযুক্তিবিদ ইরফান আল হুসেইনীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সান্টা ক্লারার এমসিএ ফিউনারেল হোমে জোহরের নামাজের পর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রেই তাকে দাফন করা হয়। তবে দাফন সম্পন্ন হলেও ইরফানের মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্ন এখনো কাটেনি। পরিবারের দাবি, সরকারি ময়নাতদন্তের পাশাপাশি তারা স্বাধীন ফরেনসিক পরীক্ষা চেয়েছিল। সেই দাবি পূরণ হওয়ার আগেই দাফন হয়ে যাওয়ায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়ে গেছে। গত ২২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে নিজের বাসায় গুরুতর আহত অবস্থায় ইরফানকে পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আট দিন পর, ৩০ জুলাই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছে না ইরফানের পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা। পরিবারের দাবি, ঘটনার আগে ইরফান স্বাভাবিক ছিলেন। ঘটনার দিন ২২ জুলাই সকালে তিনি অফিসের একটি প্রেজেন্টেশনেও অংশ নেন। পরে অসুস্থ বোধ করায় দিনের বাকি সময় ছুটি নেওয়ার কথা সহকর্মীদের জানান। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পরিবার স্বাধীন ফরেনসিক পরীক্ষা চেয়েছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে একজন স্বাধীন চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া আর এগোয়নি। এর মধ্যেই ইরফানের জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। পরিবার দাফন বিলম্বিত করার অনুরোধ জানিয়েছিল। তাদের ইচ্ছা ছিল মরদেহ বাংলাদেশে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার। তবে ইরফানের স্ত্রী ফাবিয়া ফারলিন এথেনার আইনজীবীর বরাতে জানা গেছে, ধর্মীয় কারণে দ্রুত দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্বাধীন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে বিদ্যমান নথি ও প্রমাণ পর্যালোচনায় তাদের আপত্তি নেই বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে সান্তা ক্লারা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের অফিস গত ৩১ আগস্ট পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত করে। তবে পরিবারের দাবি ছিল, সরকারি ময়নাতদন্তের বাইরে স্বাধীন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পৃথক পরীক্ষা করা। ইরফানের মৃত্যুর তদন্ত নিয়েও পরিবারের প্রশ্ন রয়েছে। তাদের অভিযোগ, পালো আল্টো পুলিশ ও কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তরের মধ্যে তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এ বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টাকে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেছিল পরিবার। ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণ, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং স্বাধীন পরীক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এ দাবিতে করা আবেদনে ১৪ হাজারের বেশি মানুষের স্বাক্ষরও পড়ে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরে পরিবার। ইরফানের বোন সারা পালো আল্টো সিটি মেয়র ও সিটি কাউন্সিলের সামনে বক্তব্য দেন। সেখানে পরিবারের উদ্বেগ তুলে ধরে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। দাফনের আগে স্বাধীন ময়নাতদন্তের অনুমতি চেয়ে ইরফানের বাবা-মা ও বোনেরা আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে আদালত তাদের আবেদন নাকচ করে দেয়। ইরফান আল হুসেইনী ছিলেন বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদ ও গবেষক। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়াশোনা করেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং ও স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি নিয়ে তার গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ায় ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করেন। জর্জিয়া টেকের তথ্য অনুযায়ী, ইরফান ও তার স্ত্রী ফাবিয়া ফারলিন এথেনা দুজনই সেখানে ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২২ সালে তাদের বিয়ে হয় এবং ২০২৪ সালে দুজনই পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ইরফানের দাফন সম্পন্ন হলেও তার মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে পরিবারের প্রশ্নের অবসান হয়নি। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘটনাটি আত্মহত্যা হলেও পরিবার বলছে, মৃত্যুর ঘটনাটি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে গুরুতর আহত হওয়ার আগে কী ঘটেছিল, জরুরি সেবা ৯১১-এ কলের আগে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, শারীরিক ও টক্সিকোলজি পরীক্ষায় কী পাওয়া গেছে এবং মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করার পেছনে কী কী প্রমাণ রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের ভাষ্য, স্বাধীন ফরেনসিক পরীক্ষা হলে এসব প্রশ্নের আরও নির্ভরযোগ্য উত্তর পাওয়া যেত। কিন্তু জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় এখন সেই ধরনের স্বাধীন পরীক্ষার সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে ইরফান আল হুসেইনীর দাফন সম্পন্ন হলেও তার মৃত্যুকে ঘিরে থাকা প্রশ্নগুলো এখনো রয়ে গেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৫:৫৭
তাসিয়া ফরচুনের স্মরণে ফুল ও খেলনা দিয়ে সাজানো হয়েছে স্মৃতিচিহ্ন
পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে গাছে ঝুলছিল তাসিয়া, ময়নাতদন্তে বেরিয়ে এলো হত্যার রহস্য

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ২৯ বছর বয়সী তাসিয়া ফরচুনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের পর রাজ্যের মেডিকেল পরীক্ষক তাসিয়ার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার পরই গ্রেপ্তার করা হয় ওই ব্যক্তিকে।   গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম জার্কুয়েস র‍্যাটলিফ। তাঁর বয়স ৫১ বছর। তাসিয়া ফরচুনকে হত্যার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আগামী সোমবার আদালতে তাঁর প্রথম হাজিরা হওয়ার কথা রয়েছে।   গত ৩ আগস্ট জ্যাকসনের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির বাইরে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাসিয়ার মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের ভাষ্য, মরদেহে তখন পচন ধরার বিভিন্ন পর্যায়ের চিহ্ন ছিল।   জ্যাকসন পুলিশের প্রধান রাশাল ব্র্যাকনি শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগের রাতে রাজ্যের মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয় তাসিয়ার মৃত্যুকে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপরই তদন্তে নতুন করে গতি আসে।   পুলিশ দুটি তল্লাশি পরোয়ানা এবং একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একটি নির্দিষ্ট স্থানে র‍্যাটলিফকে খুঁজতে গিয়ে পুলিশ তাঁকে না পেয়ে সদর দপ্তরে ফিরছিল। এ সময় শহরের একটি রাস্তায় হাঁটারত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পেয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, তাসিয়ার সঙ্গে র‍্যাটলিফের কোনো ধরনের পরিচয় বা সম্পর্ক ছিল। তবে তাদের সম্পর্কের ধরন কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি পুলিশ প্রধান।   ব্র্যাকনি বলেন, তাসিয়াকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে বা হত্যার পেছনে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে এখনই কোনো অনুমান করতে চায় না পুলিশ। তদন্তে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতেই সবকিছু পরিষ্কার হবে।   তিনি বলেন, “এই গ্রেপ্তার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে এটিই তদন্তের শেষ নয়।”   তাসিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় এরই মধ্যে প্রায় ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ এবং বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত চালানো হয়েছে।   তাসিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় কমিউনিটিতেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ, এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মিসিসিপিতে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আরও দুজনের মরদেহ পাওয়া গেছে।   এর মধ্যে ২১ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থী ট্রে রিডকে ডেল্টা স্টেট ইউনিভার্সিটির কাছে এবং ভিক্সবার্গে ৩০-এর কোঠায় থাকা গৃহহীন শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি কোরি জুকাটিসকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ তাদের দুজনের মৃত্যুকেই আত্মহত্যা বলে জানিয়েছিল।   তাসিয়ার ঘটনায় অবশ্য তদন্তের চিত্র ভিন্ন। ময়নাতদন্তে তাঁর মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এরই মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   তবে পুলিশ প্রধান স্পষ্ট করে বলেছেন, র‍্যাটলিফের গ্রেপ্তারকে তদন্তের সমাপ্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তদন্ত এখনো চলছে এবং সামনে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৫:২৬
২ বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ৪৭ বাংলাদেশি
২ বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ৪৭ বাংলাদেশি

ভারতে দুই বছর কারাভোগ শেষে ৪৭ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ৪৩ জন পুরুষ ও চারজন নারী।   রাত প্রায় ৮টার দিকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করে। ফেরত আসা ব্যক্তিদের বাড়ি নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকায়।   বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, প্রায় আড়াই বছর আগে উন্নত কর্মসংস্থানের আশায় মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে তারা অবৈধভাবে ভারতের তামিলনাড়ুতে প্রবেশ করেন। পরে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করার সময় স্থানীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন।   ভারতের আদালতের দেওয়া দুই বছরের কারাদণ্ড শেষ করার পর তাদের তামিলনাড়ুর আত্তুর, সালেম ও তিরুচিরাপল্লির বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগের পর ভারত সরকার তাদের দেশে ফেরার জন্য বিশেষ ট্রাভেল পারমিট দেয়।   বাংলাদেশে ফেরার পর ইমিগ্রেশন আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় নেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ উইমেন ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, রাইটস যশোর এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাদের দায়িত্ব নেয় এবং পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।   এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও দুই বছর বা তার বেশি সময় ভারতের কারাগারে থাকার পর কয়েক দফায় বাংলাদেশি নাগরিকদের বেনাপোল দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৪:৩০
বাগদত্তা মাইকেল পোলানস্কির সঙ্গে প্রথম সন্তানের আগমন
মা হলেন লেডি গাগা, বাগদত্তা মাইকেল পোলানস্কির সঙ্গে প্রথম সন্তানের আগমন

দীর্ঘদিনের মা হওয়ার স্বপ্ন এবার পূরণ হলো মার্কিন পপ তারকা লেডি গাগার। ৪০ বছর বয়সী এই গায়িকা ও তার বাগদত্তা প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মাইকেল পোলানস্কি তাদের প্রথম সন্তানকে স্বাগত জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম। তবে সন্তানের নাম, লিঙ্গ বা জন্মের সঠিক তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।    সম্প্রতি উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় পোলানস্কির সঙ্গে হাঁটতে দেখা যায় গাগাকে। এ সময় তার বুকে নবজাতককে জড়িয়ে রাখতে দেখা যায়। এটিই মা হওয়ার পর গাগার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি বলে জানিয়েছে পেজ সিক্স।    মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষার কথা গাগা বহু বছর ধরেই প্রকাশ্যে বলে আসছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্টিফেন কোলবার্টের অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, মা হওয়াই তার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা এবং মাতৃত্বকে তিনি নিজের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে দেখতে চান।    ২০২৫ সালের মার্চে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও গাগা জানিয়েছিলেন, মা হওয়ার বিষয়ে তিনি খুবই আগ্রহী। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ সন্তানদের নিজেদের পরিচয় ও পছন্দ নিজেরাই আবিষ্কার করার সুযোগ দিতে চান বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।    গাগা ও পোলানস্কির সম্পর্ক শুরু হয় ২০২০ সালে। ২০২৪ সালের মার্চে তাদের বাগদান হয়, যদিও বিষয়টি পরে প্রকাশ্যে আসে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত জীবন অনেকটাই আড়ালে রাখা এই দম্পতি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও কম জনসমক্ষে এসেছেন।    এবার সেই দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তব হলো। সংগীত ও অভিনয়ের ব্যস্ত ক্যারিয়ারের পাশাপাশি জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন লেডি গাগা, এবার একজন মা হিসেবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৪:২
জীবন বাঁচাতে ডোনারের হার্ড নিয়ে ২০ কিমি পথ ১৬ মিনিটে পাড়ি দিল পুলিশ!
জীবন বাঁচাতে ডোনারের হার্ড নিয়ে ২০ কিমি পথ ১৬ মিনিটে পাড়ি দিল পুলিশ!

ভারতের উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় জীবন বাঁচাতে মাত্র ১৬ মিনিটে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে একটি ডোনার হার্ট। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানবন্দর থেকে ফোর্টিস হাসপাতাল নয়ডায় হৃদ্‌যন্ত্রটি পৌঁছে দিতে গ্রিন করিডোর তৈরি করে ট্রাফিক পুলিশ। পরে ৫০ বছর বয়সী এক রোগীর শরীরে সফলভাবে হৃদ্‌যন্ত্র প্রতিস্থাপন করা হয়।    হৃদ্‌যন্ত্রটি চণ্ডীগড় থেকে বিমানযোগে গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানবন্দরে আনা হয়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নয়ডার সেক্টর ৬২-এর ফোর্টিস হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল। হৃদ্‌যন্ত্র বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরই দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তর করা হয়।   জীবন রক্ষার এই অভিযানে গাজিয়াবাদ ও গৌতমবুদ্ধনগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সমন্বয় করে পুরো রুটে গ্রিন করিডোর তৈরি করে। ফলে যানজট এড়িয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ মাত্র ১৬ মিনিটে অতিক্রম করে হাসপাতালে পৌঁছায়।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ অভিযানে শতাধিক পুলিশ সদস্যকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছিল। গাজিয়াবাদ কন্ট্রোল রুম থেকেও অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল সমন্বয় করা হয়। পুলিশের একটি এসকর্ট গাড়িও অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে ছিল।    হাসপাতালে ডোনার হার্ট পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা দ্রুত প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া শুরু করেন। ৯ সেপ্টেম্বর সফলভাবে রোগীর শরীরে হৃদ্‌যন্ত্রটি প্রতিস্থাপন করা হয়।   হৃদ্‌যন্ত্র প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দাতার শরীর থেকে বের করার পর হৃদ্‌যন্ত্র দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা যায় না। অঙ্গটি যত বেশি সময় শরীরের বাইরে থাকে, রক্ত ও অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত ক্ষতির ঝুঁকি তত বাড়ে। এ কারণে অঙ্গ সংগ্রহ, পরিবহন ও প্রতিস্থাপনের প্রতিটি ধাপে দ্রুত সমন্বয় প্রয়োজন।    চণ্ডীগড় থেকে হিন্ডন বিমানবন্দর পর্যন্ত আকাশপথে এবং এরপর গ্রিন করিডোরে সড়কপথে দ্রুত হৃদ্‌যন্ত্রটি হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় চিকিৎসক, হাসপাতাল প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সমন্বয় ছিল। এই সমন্বিত উদ্যোগেই সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সফল হয়ে একজন রোগীর জন্য নতুন জীবনের সুযোগ তৈরি হয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৩:১৮
দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি পেয়েছিলেন, এবার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক
দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি পেয়েছিলেন, এবার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবন নির্মাণে অনিয়মের তদন্তে শাস্তি পাওয়া প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জুয়েল এবার খুলনা ওয়াসার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরিচালক হয়েছেন। ২ সেপ্টেম্বর তাকে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানা গেছে।   খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবন নির্মাণের পর ভবনে হাঁটাচলার সময় কম্পন অনুভূত হওয়ায় ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত ওই কমিটি ভবনের ছাদের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করে নির্মাণকাজে অনিয়মের তথ্য পায়।   তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নকশা অনুযায়ী ছাদের কংক্রিটের পুরুত্ব সাড়ে ৫ ইঞ্চি থাকার কথা থাকলেও কোথাও তা ৩ ইঞ্চি এবং কোথাও ৩ দশমিক ৭৫ ইঞ্চি পাওয়া যায়। এতে ভবনের স্থায়িত্ব ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তদন্তের পর সাতজনকে শাস্তি দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে আরিফুল ইসলাম জুয়েলকে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে পদাবনতি দেওয়া হয় এবং চার বছরের জন্য তার পদোন্নতি স্থগিত করা হয়েছিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্মাণকাজের একটি পর্যায়ে জুয়েল বিদেশে ছিলেন। দেশে ফিরে অনুপস্থিত সময়ের নির্মাণকাজের মেজারমেন্ট বুক যাচাই না করেই তাতে স্বাক্ষর করে ঠিকাদারকে বিল পরিশোধে সহযোগিতা করার অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে।   তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জুয়েল। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ওই সময় তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগের শাস্তি প্রত্যাহার করে তাকে পদোন্নতি দেয়।   ২০২৫ সালে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপ্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পান। পরে ২৮ জুন তাকে প্রেষণে খুলনা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর খুলনা ওয়াসার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তিনি।   খুলনা ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বা ফেজ-২ গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদন হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা। এর আওতায় নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, নতুন পাইপলাইন ও পানির সংযোগসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।   প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ নিয়ে এর আগে খুলনা ওয়াসায় একাধিক দফায় পরিবর্তন ও আলোচনা হয়েছে। প্রকল্পটির রুটিন দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলামকে এ বছরের এপ্রিলে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফিরোজ শাহকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২ সেপ্টেম্বর আরিফুল ইসলাম জুয়েলকে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।   জুয়েলের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনিয়ম, নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না হওয়া এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের বদলি ও পদায়নে হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে। ২০২৫ সালের ২৬ জুন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) সভাপতি ও আইইবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলামকে এ বিষয়ে একটি চিঠি দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগও অস্বীকার করেছেন জুয়েল।   এদিকে এত বড় একটি পানি সরবরাহ প্রকল্পের দায়িত্ব এমন একজন কর্মকর্তাকে দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন খুলনার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, নগরীর সুপেয় পানি সরবরাহ, বিলের ভোগান্তি ও সড়ক খোঁড়াখুঁড়িসহ নানা সমস্যায় ওয়াসা সংকটে রয়েছে। এ অবস্থায় দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রকল্প পরিচালনা করা প্রয়োজন।   তবে আরিফুল ইসলাম জুয়েলের বিরুদ্ধে আগের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং তাকে নতুন করে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৩:৯
মেয়ের পোষা ছাগল হারানোকে জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা বললেন আসিফ নজরুল
মেয়ের পোষা ছাগল হারানোকে জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা বললেন আসিফ নজরুল

ছোট মেয়ের পোষা ছাগল হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে নিজের জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।   আসিফ নজরুল জানান, হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে থাকার সময় সাড়ে ৯ বছর বয়সী ছোট মেয়ের একাকিত্ব কাটাতে একটি ছাগল কিনে দেওয়া হয়েছিল। ধীরে ধীরে ছাগলটির সঙ্গে শিশুটির গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। প্রতিদিন মেয়ের স্কুলে যাওয়া ও ফেরার সঙ্গে ছাগলটিরও যেন অভ্যাস তৈরি হয়েছিল। স্কুল থেকে ফিরে মেয়েটি ছাগলটির সঙ্গে খেলত। এমনকি নিজের মুঠোফোনের ওয়ালপেপারেও ছাগলটির সঙ্গে তোলা ছবি রেখেছিল সে।   ২০২৪ সালের শেষ দিকে সরকারি বাসভবন থেকে ছাগলটি হারিয়ে যাওয়ার পর মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বলে জানান আসিফ নজরুল। তার ভাষ্য, কাঁদতে কাঁদতে একপর্যায়ে মেয়েটি বমি করে এবং প্রায় দেড় দিন কোনো খাবার খেতে পারেনি।   ছাগলটি পরে জবাই করে খেয়ে ফেলা হয়েছিল বলে জানতে পারলেও বিষয়টি এখনো মেয়েকে জানানো হয়নি। আসিফ নজরুল জানান, শিশুটিকে বলা হয়েছে দরজা খোলা থাকায় ছাগলটি পালিয়ে গেছে। সত্যটি জানলে সে আরও বেশি ভেঙে পড়তে পারে বলে পরিবারটি বিষয়টি গোপন রেখেছে।   ছাগলটি কীভাবে জবাই করা হয়েছিল, সে সম্পর্কেও আসিফ নজরুল অনুষ্ঠানে বিস্তারিত জানান। তার দাবি, প্রথমে ভোঁতা বঁটি দিয়ে ছাগলটি কাটার চেষ্টা করা হলেও সেটি সম্ভব হয়নি। পরে কারওয়ান বাজার থেকে ধারালো বঁটি এনে ছাগলটি জবাই করা হয়।   ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ ছিল বলে যে আলোচনা রয়েছে, তা নাকচ করে আসিফ নজরুল বলেন, ছাগলটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়নি, বরং মজা করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ছাত্রনেতাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও তিনি বলেন, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে তার শেষ দিন পর্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।   ২০২৪ সালের শেষ দিকে হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন থেকে আসিফ নজরুলের ছোট মেয়ের পোষা ছাগল উধাও হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘ সময় পর টকশোতে অংশ নিয়ে ঘটনাটির পেছনের বিষয় এবং মেয়ের ওপর এর প্রভাবের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরলেন তিনি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ২:৫০
সন্তান জন্মের পর মাকে নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করে হত্যা
সন্তান জন্মের পর মাকে নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করে হত্যা! মৃত্যুর আগে করা হয় মাথা ন্যাড়া

রাশিয়ার চেচনিয়া অঞ্চলে তিন সন্তানের ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীকে তাঁর বাবা হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জুখরা মুজায়েভা নামের ওই নারীকে স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে তাঁর মাথা ন্যাড়া করে নিজেই নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করা হয় এবং পরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ঘটনাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।    চেচনিয়ার কুরচালয় গ্রামে বসবাসকারী জুখরা এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, তাঁর বাবা সামরাদি মুজায়েভ মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন, জুখরা জীবিত ও সুস্থ আছেন। পরে জানান, তিনি বিদেশে চলে গেছেন। তবে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।    স্বাধীনভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কহীন তিনটি সূত্র দাবি করেছে, জুখরাকে তাঁর বাবা হত্যা করে থাকতে পারেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে তাঁর মাথা ন্যাড়া করা হয়, এরপর তাঁকে নিজের কবর নিজেকেই খুঁড়তে বাধ্য করা হয় এবং পরে গুলি করা হয়। স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহ থেকেই কথিত হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।    জুখরার স্বামী ইয়াকুব মাগোমাদভ ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর হয়ে অংশ নিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জুখরার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল কিশোরী বয়সে। ১৭ বছর বয়সে তিনি যমজ সন্তানের মা হন। পরে তাঁদের আরও একটি কন্যাসন্তান হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রসাধনী বিক্রির ছোট ব্যবসাও পরিচালনা করতেন তিনি।    ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ‘অনার কিলিং’ বা কথিত সম্মান রক্ষার নামে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, জুখরাকে হত্যার পেছনে পরিবারের ‘সম্মান’ রক্ষার ধারণা কাজ করে থাকতে পারে। এ ঘটনায় চেচনিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।    তবে জুখরা সত্যিই নিহত হয়েছেন কি না, সেটিও এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ককেশাস নটসহ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও হত্যার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১:৫৪
নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ
নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ, প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এমনকি অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান বা চিকিৎসার খরচ বহনের সক্ষমতা না থাকলেও নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মাধ্যমে কম খরচে বা বিনা খরচে চিকিৎসা পাওয়া যায়। সিটির অভিবাসী বিষয়ক দপ্তর এবং স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নয়।   এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুবিধা হলো এনওয়াইসি কেয়ার। এটি কোনো স্বাস্থ্যবিমা নয়। যারা মেডিকেইড বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নেই কিংবা বিমার খরচ বহন করতে পারেন না, তাদের জন্য নিউইয়র্ক সিটির এই কর্মসূচির মাধ্যমে কম খরচে বা বিনা খরচে স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   এনওয়াইসি কেয়ারের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ, টিকা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যায়। পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে চিকিৎসার খরচ নির্ধারণ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো খরচ ছাড়াই সেবা পাওয়া সম্ভব। এ কর্মসূচির জন্য কোনো মাসিক সদস্য ফি বা প্রিমিয়াম দিতে হয় না।   এনওয়াইসি কেয়ারের জন্য অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান জানতে চাওয়া হয় না। তবে আবেদনকারীর নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাস, পরিচয়, পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যা সম্পর্কে তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে ৬৪৬-৬৯২-২২৭৩ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়।   নিউইয়র্ক সিটির সরকারি হাসপাতাল ও বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রেও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। স্বাস্থ্যবিমা না থাকলে কিংবা প্রয়োজনীয় বিমার খরচ বহন করতে না পারলে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করা যায়। হাসপাতালের আর্থিক পরামর্শদাতার সঙ্গে কথা বললে নিজের যোগ্যতা এবং সম্ভাব্য চিকিৎসা খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব।   ম্যানহাটানে স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এনওয়াইসি ফ্রি ক্লিনিকও একটি বিকল্প। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে পরিচালিত এই ক্লিনিকে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের বিনা খরচে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ১৬ ইস্ট ১৬তম স্ট্রিটে অবস্থিত এই ক্লিনিকে সাধারণত আগে থেকে সময় নিতে হয়। যাওয়ার আগে বর্তমান সময়সূচি ও রোগী গ্রহণের নিয়ম নিশ্চিত করা উচিত।   ইস্ট হারলেম এলাকায় মাউন্ট সিনাইয়ের ইস্ট হারলেম হেলথ আউটরিচ পার্টনারশিপও স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনামূল্যের চিকিৎসাকেন্দ্র। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়।   নিউইয়র্কে আরও কিছু শিক্ষার্থী পরিচালিত কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক টেকের পিলার্স এনওয়াইসি কমিউনিটি ফ্রি ক্লিনিক হারলেম এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেয়। স্বাস্থ্যবিমা না থাকা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থানও এসব সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নয়।   যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হলে নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের যৌনস্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলো থেকেও কম খরচে বা বিনা খরচে চিকিৎসা নেওয়া যায়। ১২ বছর বা তার বেশি বয়সীরা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নির্বিশেষে যৌনবাহিত সংক্রমণ ও এইচআইভি পরীক্ষা এবং চিকিৎসা, এইচআইভি প্রতিরোধের ওষুধ, জরুরি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা, জন্মনিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন সেবা নিতে পারেন। অধিকাংশ সেবা সরাসরি গিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   টিকা ও যক্ষ্মা চিকিৎসার জন্যও সিটির আলাদা ক্লিনিক রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের টিকাদান কেন্দ্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নির্বিশেষে কম খরচে বা বিনা খরচে কিছু টিকা দেওয়া হয়। যক্ষ্মা পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বিনা খরচে যক্ষ্মা পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থাও রয়েছে।   কুইন্সসহ নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় থাকা প্রবাসীদের জন্য প্রথমে কাছের সরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে আর্থিক সহায়তা বিভাগের সঙ্গে কথা বলা ভালো। সেখানে এনওয়াইসি কেয়ার, আর্থিক সহায়তা কিংবা অন্য কোনো স্বাস্থ্যবিমার জন্য আপনি যোগ্য কি না, তা যাচাই করে দেওয়া যেতে পারে।   তবে জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কম খরচের ক্লিনিকের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। জরুরি পরিস্থিতিতে অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান বা অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা নির্বিশেষে জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ৯১১ নম্বরে কল করে নিকটস্থ জরুরি বিভাগে যেতে হবে।   প্রবাসীদের আরও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিবাসনসংক্রান্ত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসা নেওয়া বন্ধ না করে বিশ্বস্ত অভিবাসন আইনজীবী বা সিটি পরিচালিত আইনি সহায়তা কেন্দ্রের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ সময়সূচি, সেবার ধরন, যোগ্যতার শর্ত এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১:৪৩
বাংলাদেশে চিকিৎসায় নতুন সাফল্য
কনুইয়ের জয়েন্টসহ সম্পূর্ণ বাহু প্রতিস্থাপন, বাংলাদেশে চিকিৎসায় নতুন সাফল্য

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কনুইয়ের জয়েন্টসহ সম্পূর্ণ বাহু প্রতিস্থাপনের জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা। ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার আলোক হেলথ কেয়ার অ্যান্ড হাসপাতালে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, নিটোরের অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসক দল প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচারটি পরিচালনা করে।   অস্ত্রোপচারটির বিশেষত্ব হলো, ক্যানসারে আক্রান্ত অংশ অপসারণ করেও রোগীর পুরো বাহু ও কনুইয়ের কার্যকারিতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের অঙ্গ সংরক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাকে লিম্ব স্যালভেজ বলা হয়। এতে ক্যানসারের কারণে অঙ্গচ্ছেদ না করে আক্রান্ত অংশ অপসারণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম ইমপ্লান্ট বা প্রস্থেসিস ব্যবহার করা হয়।   চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ক্যানসার আক্রান্ত অংশ সম্পূর্ণভাবে অপসারণের পাশাপাশি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও স্নায়ু নিরাপদ রাখা। অস্ত্রোপচারে ভাস্কুলার সার্জন ডা. এস এম পারভেজ আহমেদ সোহেল সংবেদনশীল রক্তনালি ও স্নায়ুগুলো সংরক্ষণে কাজ করেন। আক্রান্ত অংশ অপসারণের পর রোগীর শারীরিক গঠনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি বিশেষ প্রস্থেসিস সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়।   এই চিকিৎসা পদ্ধতির লক্ষ্য শুধু ক্যানসার আক্রান্ত টিস্যু অপসারণ নয়, সম্ভব হলে রোগীর আক্রান্ত অঙ্গের কার্যক্ষমতাও ধরে রাখা। হাড় ও নরম টিস্যুর ক্যানসারের ক্ষেত্রে লিম্ব স্যালভেজ সার্জারি বর্তমানে অঙ্গচ্ছেদ এড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীনের পেশাগত প্রোফাইলেও অর্থো অনকোলজি এবং লিম্ব স্যালভেজ সার্জারির বিশেষায়িত কাজের উল্লেখ রয়েছে।    সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দলের দাবি অনুযায়ী, এর আগে ২০১৯ সালে একই বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ উরুর হাড় প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারও করেছিল। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের রয়্যাল অর্থোপেডিক হসপিটাল থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের এই অভিজ্ঞতা জটিল অর্থোপেডিক অনকোলজি চিকিৎসায় দেশে সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।   চিকিৎসকদের এই সাফল্য দেশে জটিল হাড়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় অঙ্গচ্ছেদ এড়িয়ে আধুনিক লিম্ব স্যালভেজ সার্জারির সুযোগ আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিদেশে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হওয়া রোগীদের জন্য দেশে তুলনামূলক কম খরচে এ ধরনের জটিল চিকিৎসা দেওয়ার পথও আরও শক্তিশালী হতে পারে। সূত্র: সাইন্স বী

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১:৩০
সাংবাদিকের দিকে তেড়ে গেলেন ট্রাম্প
৫ হাজার ডলারের চেক নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিকের দিকে তেড়ে গেলেন ট্রাম্প, বললেন, 'নট ইউ'

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে প্রশ্ন করায় এবিসি নিউজের সিনিয়র পলিটিক্যাল করেসপন্ডেন্ট র‍্যাচেল স্কটের দিকে তেড়ে যাওয়ার মতো করে এগিয়ে যান তিনি। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ডালাস ফোর্ট ওর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে ঘটে।   রিপাবলিকানদের মিডটার্ম কনভেনশন শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার আগে ট্রাম্পকে ওই ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন করেন স্কট। ট্রাম্প তাকে বারবার থামিয়ে দিয়ে বলেন, “নট ইউ, নট ইউ। হেই, নট ইউ।” এ সময় তিনি আঙুল নাড়ানোর পাশাপাশি স্কটের দিকে এক পা এগিয়ে ঝুঁকে পড়েন। তবে প্রতিবেদনে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে স্কটকে শারীরিকভাবে আঘাত করার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।    স্কটের প্রশ্ন ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পরও অর্থনীতি ভালো চলছে বলে দাবি করলে ভোটারদের ভোট দেওয়ার জন্য ৫ হাজার ডলারের মতো আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার প্রয়োজন কেন হচ্ছে। ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেন, এই অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা ভোটারদের ভোটে উৎসাহিত করার জন্য নয়। তিনি এটিকে বাইডেন প্রশাসনের সময়কার পরিস্থিতি সহ্য করার পর মার্কিন নাগরিকদের জন্য “পুরস্কার” হিসেবে বর্ণনা করেন।    ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেট দুটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে। পরিকল্পনাটির সম্ভাব্য ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। তবে অর্থের উৎস, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে এখনো বড় প্রশ্ন রয়েছে।    এদিকে স্কটের দিকে ট্রাম্পের এই আচরণকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন করার কারণে তিনি স্কটকে প্রকাশ্যে অপমান করেছেন। মে মাসে তাকে “স্টুপিড”, “ওয়ান অব দ্য ওয়ার্স্ট রিপোর্টার্স” এবং “আ হরর শো” বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে স্কটকে “দ্য মোস্ট অবনক্সিয়াস রিপোর্টার” এবং “টেরিবল রিপোর্টার” বলেও আক্রমণ করেছিলেন তিনি।    ঘটনার পর এবিসি নিউজ এক বিবৃতিতে র‍্যাচেল স্কট এবং তাদের পুরো ওয়াশিংটন টিমের প্রতি সমর্থন জানায়। স্কট নিজে অবশ্য এ ঘটনা নিয়ে আলাদা কোনো মন্তব্য না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করেছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১:১৭
২ যুগের মার্কিন যুদ্ধে ৩ হাজার নিহতের বদলায় প্রাণ গেছে ৪৫ লাখ মানুষের
২ যুগের মার্কিন যুদ্ধে ৩ হাজার নিহতের বদলায় প্রাণ গেছে ৪৫ লাখ মানুষের

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর শুরু হওয়া ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ ২৫ বছরে যুদ্ধ ও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে অন্তত ৪৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্প। এই হিসাবের মধ্যে সরাসরি সহিংসতায় নিহতের পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থা, অর্থনীতি ও অবকাঠামো ধ্বংসের ফলে পরোক্ষ মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার হামলায় নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ও পেনসিলভানিয়ায় মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। ওই হামলার পর আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে ২০০৩ সালে ইরাকে আক্রমণসহ মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক অভিযান বিস্তৃত হয়।   ব্রাউন ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন ও পাকিস্তানে যুদ্ধের সরাসরি সহিংসতায় ৯ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৩২ হাজারের বেশি ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।    তবে যুদ্ধের প্রকৃত মানবিক ক্ষয়ক্ষতি আরও অনেক বেশি বলে গবেষণাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো ভেঙে পড়া, অর্থনৈতিক সংকট, রোগের বিস্তার এবং খাদ্য ও পানির সংকটের মতো পরোক্ষ প্রভাবে আরও প্রায় ৩৬ থেকে ৩৮ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ৪৫ থেকে ৪৭ লাখ হতে পারে।    গবেষকদের মতে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও এর মানবিক ক্ষতি থেমে যায় না। বোমা হামলা ও সামরিক সংঘাতের সরাসরি প্রাণহানির পাশাপাশি ধ্বংস হয়ে যাওয়া হাসপাতাল, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং জনসেবার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বহু বছর ধরে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে রাখে। এ কারণে যুদ্ধের মোট প্রাণহানির সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন।    ব্রাউন ইউনিভার্সিটির আগের হিসাবেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধগুলোর বিপুল মানবিক ও আর্থিক ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। ২০২১ সালের ২০ বছর পূর্তির হিসাবে শুধু যুদ্ধগুলোর সরাসরি মৃত্যুই ৯ লাখের বেশি বলে জানানো হয়েছিল এবং এসব সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।    এদিকে ১১ সেপ্টেম্বর হামলার ২৫ বছর পূর্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে নিহতদের স্মরণ করার পাশাপাশি পরবর্তী যুদ্ধগুলোর মানবিক মূল্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এসব সামরিক অভিযানের প্রভাব এখনো যুদ্ধকবলিত দেশগুলোর মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর ওপর রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১:১
বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পরও সোমালিকে গুয়ানতানামো বে-তে পাঠাল আইসিই
বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পরও সোমালিকে গুয়ানতানামো বে-তে পাঠাল আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে ২০২৩ সালে আসা সোমালিয়ার নাগরিক অ্যাডাম আবদুল্লাহকে কিউবার গুয়ানতানামো বে-তে পাঠিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। ৩১ বছর বয়সী আবদুল্লাহর কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই। তিনি বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ও সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর নিয়ে মিনেসোটার সেন্ট পলে অটো মেকানিক হিসেবে কাজ করছিলেন।    মিনেসোটা পাবলিক রেডিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় আবদুল্লাহ জানান, গত ১২ ডিসেম্বর ফেডারেল এজেন্টরা তাকে আটক করে। ওই সময় মিনেসোটার টুইন সিটিজ এলাকায় ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ অভিযান চলছিল। আইসিইর নিয়মিত চেক-ইনেও তিনি অংশ নিতেন বলে জানিয়েছে এমপিআর নিউজ।    আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে প্রথমে জানানো হয়েছিল সোমালিয়ায় ডিপোর্ট করা হবে। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তাকে হাত ও পায়ে শেকল পরিয়ে একটি বিমানে নেওয়া হয় গুয়ানতানামো বে-তে। সেখানে তাকে ক্যাম্প সিক্সে রাখা হয়েছে। গুয়ানতানামোর এই সামরিক কারাগার মূলত ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটক রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।    আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, গুয়ানতানামোতে তার সঙ্গে আরও সাতজন সোমালি নাগরিক আটক আছেন। সেখানে ফোনে কথা বলার সুযোগ সীমিত এবং বাইরে শরীরচর্চার সুযোগও কম বলে তিনি জানান। তার আইনজীবী মার্ক প্রোকোশ এমপিআর নিউজকে বলেন, ক্লায়েন্টের সঙ্গে পাঁচ থেকে ১০ মিনিটের ফোন কলে যোগাযোগ করতে হচ্ছে এবং এসব কল আইনজীবী ও মক্কেলের গোপনীয় যোগাযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে কি না, সেটিও সবসময় পরিষ্কার নয়।    গুয়ানতানামো বে-তে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আটকের নীতিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি চ্যালেঞ্জও চলছে। ২০২৫ সালে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গুয়ানতানামোতে অভিবাসন আটক ব্যবস্থা স্থানান্তর করে সরকার কঠোর ও শাস্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করেছে এবং আটক ব্যক্তিদের আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগও সীমিত করা হয়েছে। মামলাটি এখনো চলমান।    আবদুল্লাহর ঘটনা গুয়ানতানামো বে-তে অভিবাসন আটক ব্যবস্থাকে আবারও আলোচনায় এনেছে। তবে তার ব্যক্তিগত অভিবাসন মামলার চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরানো বা সোমালিয়ায় ডিপোর্ট করার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ০:৪০
কাঠমান্ডুর ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপের অভিযোগে হোটেল থেকে ১০ বাংলাদেশি আটক
কাঠমান্ডুর ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপের অভিযোগে হোটেল থেকে ১০ বাংলাদেশি আটক

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পর্যটন এলাকা ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপ ও অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযোগে ১০ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে সবাইকে আরও তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের জন্য দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগে পাঠানো হয়েছে।    নেপালের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঠামেলের হোটেল ঢাকা এক্সপ্রেস, হোটেল ডি ভেদা এবং হোটেল আল রহমানসহ কয়েকটি স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়। কাঠমান্ডু ভ্যালি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিসের পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশি নাগরিকদের অবৈধ অবস্থান ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়।    আটক ব্যক্তিরা হলেন ফাহিমা আক্তার হাসান, মাহমুদ, মাহবুব হাসান, রিপন মাহমুদ, এমডি কেরামত আলী খান, শহিদুর রহমান, এমডি খলিলুর রহমান, আরিফুর রহমান, এমডি মারুফ মৃধা এবং মোহাম্মদ হানিফ মিয়া। তাদের বয়স ২৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাদের বাংলাদেশের গাজীপুরের গাজীপুর সদর ও গাছাবাড়ি পুলিশ স্টেশন এলাকার বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    নেপালের ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক টিকারাম ধাকাল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে আটক ব্যক্তিদের একজনের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি নেপালে অবস্থান করছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চলছে।    পুলিশের বরাতে আরও বলা হয়েছে, দলটির সদস্যরা ঠামেলের মুসলিমা টোল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মারামারি এবং ভিসায় যে উদ্দেশ্যে নেপালে প্রবেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, তার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান।    এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আরেক বাংলাদেশি নারী খাতুন-ই-জান্নাত বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।    নেপালে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে এর আগেও তরুণদের উন্নত দেশে পাঠানোর কথা বলে বাংলাদেশ থেকে নেপালে নেওয়া এবং তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তদন্তের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে বর্তমান ১০ জনের বিরুদ্ধে ওই আগের অভিযোগগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। সর্বশেষ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ০:২৩