- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
জার্মানির বাডেন-ভুর্টেমবার্গের ভিসলখ শহরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মনোরোগ ক্লিনিক থেকে পালিয়ে ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় সোমালি নাগরিক আহমাদ এন.-এর বিরুদ্ধে ওঠা মামলায় আদালত তাকে মানসিক অসুস্থতার কারণে অপরাধের জন্য দায়ী নয় বলে বিবেচনা করেছে। ঘটনার পর তাকে আবারও ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিক চিকিৎসার আওতায় রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি এখনো ভেইনসবের্গের ক্লিনিকাম আম ভেইসেনহফে চিকিৎসাধীন। ২০২৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভিসলখের সাইকিয়াট্রিশেস জেন্ট্রুম নর্ডবাডেনের ফরেনসিক সাইকিয়াট্রি ইউনিট থেকে বের হওয়ার সময় আহমাদ এন. পালিয়ে যান। এর আগে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে তাকে ওই প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের মূল্যায়নে তার চিকিৎসায় অগ্রগতি হওয়ায় ধাপে ধাপে কিছুটা ছাড়ের আওতায় তিনি প্রতিষ্ঠানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। পালানোর পর তিনি শহরের একটি TEDi দোকানে যান। সেখানে ৩০ বছর বয়সী লিসা এস.-কে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় তাকে ৩৩ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। আহমাদ এন.-এর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অপরাধের অভিযোগ ছিল। আদালতের নথি ও জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে যৌন হয়রানি, শারীরিক হামলা, হুমকি এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার মতো অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে হাইডেলবার্গের একটি আদালত মানসিক অসুস্থতার কারণে তাকে অপরাধের জন্য দায়ী না বলে বিবেচনা করে এবং নিরাপত্তামূলক মানসিক চিকিৎসার আওতায় রাখার নির্দেশ দেয়। তার অভিবাসন অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বাডেন-ভুর্টেমবার্গের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সাল থেকেই তার বিরুদ্ধে দেশ ছাড়ার নির্দেশ ছিল। তবে মানসিক চিকিৎসা ও আদালতের নির্দেশে তাকে জার্মানিতে রাখা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ওঠে কীভাবে এমন একজন ব্যক্তিকে ক্লিনিকের বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং তার পালিয়ে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব ছিল কি না। চিকিৎসা কর্তৃপক্ষের ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও তখন রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইডেলবার্গের ল্যান্ড কোর্টে হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রসিকিউশন পক্ষের বক্তব্য ছিল, আহমাদ এন. প্যারানয়েড স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত থাকায় ঘটনার সময় নিজের কাজের বেআইনি চরিত্র বুঝতে সক্ষম ছিলেন না। পরে তাকে শাস্তিমূলক কারাদণ্ডের পরিবর্তে মানসিক চিকিৎসা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার আওতায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে জার্মানির অভিবাসন ব্যবস্থা, মানসিকভাবে অসুস্থ অপরাধীদের ব্যবস্থাপনা এবং ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিতে ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে সমালোচনা করা হয়। তবে রাজনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগগুলো মতামতভিত্তিক; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় বা অবহেলা নিয়ে পৃথকভাবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তদন্তের বিষয় রয়েছে।
ভাইকে বিয়ে করে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার মাধ্যমে অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন বলে যে অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে রয়েছে, তা নিয়ে ফেডারেল তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওমরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনে রক্ষণশীল ধারার উপস্থাপক বেনি জনসনের সঙ্গে আলাপকালে মুলিন ইলহান ওমরের অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে চলমান তদন্তের কথা জানান। তিনি দাবি করেন, ওমর তাঁর ভাইকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার উদ্দেশ্যে তাকে বিয়ে করেছিলেন। মুলিন বলেন, তদন্তে আরও কিছু বিষয় সামনে আসতে পারে। ওমরের পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে আসার প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড যুক্ত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে মুলিন একই সঙ্গে বলেন, তদন্ত এখনো চলছে এবং কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, প্রমাণের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে অভিবাসন আবেদনের সময় ওমর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অধিকার তাঁর শুরু থেকেই ছিল না, তাহলে তাঁকে বহিষ্কারের বিষয়টি সামনে আসতে পারে। মুলিনের বক্তব্যের পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র চলমান তদন্ত সম্পর্কে নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিভাগটি চলমান তদন্ত, তদন্তের নির্দিষ্ট কৌশল বা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কোনো পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণত মন্তব্য করে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কংগ্রেস সদস্যসহ কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। ইলহান ওমর অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ভাইকে বিয়ের অভিযোগ বহু বছর ধরে অস্বীকার করে আসছেন। ২০১৬ সালে মিনেসোটা পাবলিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আহমেদ নুর সাঈদ এলমি তাঁর ভাই, এমন ইঙ্গিত ভিত্তিহীন ও আপত্তিকর। ওমর ২০০৯ সালে আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন। পরে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। ২০১৮ সালে তিনি আহমেদ আবদিসালান হিরসিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন। ওমর তাঁর এলমির সঙ্গে সম্পর্ককে স্বল্পস্থায়ী বলে বর্ণনা করেছেন এবং দাবি করেছেন, তাঁদের দাম্পত্য জীবনের বড় একটি সময় তারা আলাদা ছিলেন। ওমরকে ভাইকে বিয়ে করার অভিযোগ প্রথমে কয়েক বছর আগে অনলাইন আলোচনায় ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে অভিযোগটির পক্ষে প্রকাশ্যে উপস্থাপিত তথ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। ওমর কোনো সময়ই এলমি তাঁর ভাই ছিলেন বা তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য বিয়ে করেছিলেন, এমন দাবি স্বীকার করেননি। সাম্প্রতিক সময়ে রিপাবলিকান নেতারাও বিষয়টি আবার সামনে এনেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দুজনই প্রকাশ্যে ওমর অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ভ্যান্স মার্চে দাবি করেছিলেন, ওমর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন বলে তাঁদের বিশ্বাস। ট্রাম্পও মে মাসে একই ধরনের অভিযোগ করেন। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি বিষয়টিকে শুধু পুরোনো রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবে নয়, চলমান ফেডারেল তদন্তের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। ইলহান ওমর ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। সে সময় তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর। ফলে তাঁকে সরাসরি বহিষ্কার করা হবে, এমন সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া যায় না। কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বলে সরকার প্রমাণ করতে চাইলে নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয়। ইউএসসিআইএসের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাকৃতিকীকরণের মাধ্যমে পাওয়া নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে সরকারের কাছে স্পষ্ট ও শক্ত প্রমাণ থাকতে হয় এবং বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে অভিবাসন আইন এড়ানোর উদ্দেশ্যে জেনে-শুনে বিয়ে করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এমন অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে এই অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে এমন কোনো আদালতের রায় এখন পর্যন্ত নেই। বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত ও রাজনৈতিক বিতর্কের পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তে কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং ফেডারেল কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওমরের বিরুদ্ধে এই তদন্ত মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং মিনেসোটা থেকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য। তাঁর অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন করে সামনে আসায় আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় আরও গুরুত্ব পেতে পারে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার একদিন পর পূর্ব উপকূল থেকে সাগরের দিকে একাধিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। শনিবার স্থানীয় সময় ভোরে চালানো এই উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় শহর ওনসানের এলাকা থেকে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এগুলো প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ব সাগরে গিয়ে পড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সুনির্দিষ্ট ধরন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিস্তারিত বিশ্লেষণ চলছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উৎক্ষেপণের শুরু থেকেই উত্তর কোরিয়ার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। জাপানের সঙ্গেও এ বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে। সম্ভাব্য আরও উৎক্ষেপণের আশঙ্কায় দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী নজরদারি ও সতর্কতা জোরদার করেছে। উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তর জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক করে। বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ঘটনাটিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে এবং উত্তর কোরিয়াকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ উৎক্ষেপণ তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড বা দেশটির মিত্রদের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করেনি। তবে দক্ষিণ কোরিয়াসহ আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতিরক্ষায় ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি বহাল রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণটি এমন সময়ে হলো, যখন দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান তাদের পাঁচ দিনের ‘ফ্রিডম এজ’ যৌথ সামরিক মহড়া শেষ করেছে। ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ উপকূলের জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মোকাবিলায় তিন দেশের সামরিক সমন্বয় ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোই ছিল মহড়ার অন্যতম লক্ষ্য। উত্তর কোরিয়া শুরু থেকেই এই মহড়ার বিরোধিতা করে আসছিল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম সং-গি মহড়া শুরুর দিন সতর্ক করে বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়া শক্ত অবস্থান থেকে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে সম্ভাব্য আগ্রাসনের প্রস্তুতি হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া প্রায়ই দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়ার সময় বা তার পরপরই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। গত ২০ আগস্টও দেশটি পূর্ব সাগরের দিকে একাধিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এবার ২৩ দিনের বিরতির পর আবারও একই ধরনের উৎক্ষেপণ করা হলো। এদিকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে দেশটি ‘ক্যাং কন’ নামে প্রায় ৫ হাজার টন ওজনের একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে যুক্ত করেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন জানিয়েছেন, জাহাজটি দেশটির পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে তাই শুধু সামরিক মহড়ার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং দেশটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা প্রদর্শনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে উৎক্ষেপণটি যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সামরিক হামলার প্রস্তুতি নির্দেশ করে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরও সৌদি আরবের সঙ্গে হামলাকারীদের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ উত্তর মেলেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হামলায় নিহতদের স্বজনেরা। হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার নিউইয়র্কে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রশাসনগুলোর ভূমিকা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে হামলার কথিত যোগসূত্র নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন টেরি স্ট্রাডা। তাঁর স্বামী টম স্ট্রাডা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলায় নিহত হন। টেরি স্ট্রাডা ৯/১১ ফ্যামিলিজ ইউনাইটেডের জাতীয় চেয়ারম্যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হামলার সঙ্গে সৌদি নাগরিকদের সম্ভাব্য যোগাযোগ এবং এ বিষয়ে মার্কিন তদন্তের নথি প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছেন। শুক্রবারের স্মরণ অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেন, একাধিক মার্কিন প্রশাসন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে সৌদি আরবকে রক্ষা করার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। তাঁর বক্তব্যের সময় উপস্থিত কয়েকজন নিহতের স্বজনও সমর্থন জানান। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সদস্যরা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালায়। দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার এবং একটি ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আঘাত করে। আরেকটি বিমান পেনসিলভানিয়ার একটি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। হামলায় অংশ নেওয়া ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জনই সৌদি নাগরিক ছিলেন। এ কারণেই হামলার পর থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে হামলাকারীদের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ কমিশনের তদন্তে সৌদি সরকার হামলার অর্থায়ন করেছিল এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবও হামলার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে মার্কিন তদন্তে সৌদি নাগরিকদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে হামলাকারীদের যোগাযোগের তথ্য সামনে আসে। বিশেষ করে নওয়াফ আল-হাজমি ও খালিদ আল-মিহধার নামের দুই হামলাকারী ২০০০ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো এলাকায় অবস্থান করেন। সেখানে তাঁদের সঙ্গে সৌদি নাগরিক ওমর আল-বায়োমির যোগাযোগ হয়। বায়োমি তাঁদের বাসা খুঁজে পেতে, ব্যাংক হিসাব খুলতে এবং স্থানীয় পরিবেশে মানিয়ে নিতে সহায়তা করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে। এতদিন এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে বায়োমির সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎকে অনেকটা আকস্মিক ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত নথি ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। প্রোপাবলিকার সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ২০০১ সালে বায়োমির বাসা থেকে বেশ কিছু নথি ও সামগ্রী জব্দ করেছিল। এর মধ্যে একটি হাতে আঁকা চিত্র ছিল, যা একটি বিমানের গতিপথের হিসাবের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবন ঘুরে দেখার একটি ভিডিওও উদ্ধার করা হয়েছিল। পরিবারের আইনজীবীরা মনে করেন, এসব তথ্য হামলার আগে বায়োমির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরও তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখায়। প্রকাশিত এফবিআই নথিতে বায়োমির সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং সেখান থেকে মাসিক অর্থ পাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে সৌদি সরকার ৯/১১ হামলার পরিকল্পনা বা অর্থায়নে সরাসরি জড়িত ছিল এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সৌদি নাগরিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে এফবিআই পরবর্তী সময়ে ‘অপারেশন এনকোর’ নামে একটি তদন্ত চালায়। তদন্তকারীরা নওয়াফ আল-হাজমি ও খালিদ আল-মিহধারের সঙ্গে বায়োমি এবং সৌদি কূটনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মকর্তাদের যোগাযোগের বিষয়টি অনুসন্ধান করেন। তদন্তে এমন সাক্ষ্যও পাওয়া যায়, যাতে সৌদি কূটনীতিক ও ধর্মীয় নেতা ফাহাদ আল-থুমাইরির সঙ্গে ওই দুই হামলাকারীর যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তকারীদের কিছু তথ্য অনুযায়ী, থুমাইরি হামলাকারীদের সঙ্গে বায়োমির পরিচয় ঘটাতে ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অপারেশন এনকোর শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালে বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং এফবিআইয়ের হাতে থাকা বিভিন্ন নথি নিয়ে প্রশ্ন অব্যাহত রয়েছে। ৯/১১ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের একটি অংশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়ানি মামলা করেছে। ২০১৬ সালে জাস্টিস এগেইনস্ট স্পনসরস অব টেররিজম অ্যাক্ট, সংক্ষেপে জাস্টা, আইনে পরিণত হওয়ার পর এই ধরনের মামলা করার আইনি পথ আরও সহজ হয়। ২০২৫ সালে মার্কিন জেলা বিচারক জর্জ ড্যানিয়েলস সৌদি আরবের বিরুদ্ধে মামলাটি এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন। আদালত সৌদি সরকারের সঙ্গে হামলাকারীদের সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়ে পরিবারের উপস্থাপিত প্রমাণকে মামলা চালানোর পর্যায়ে যথেষ্ট বলে বিবেচনা করেন। সৌদি আরব ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। মামলাটির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুনানি ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর ম্যানহাটনে হওয়ার কথা রয়েছে। পরিবারগুলোর আইনজীবীরা মনে করছেন, মামলা এগিয়ে গেলে আরও নথি, যোগাযোগের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য আদালতের সামনে আসতে পারে। তবে মামলাটি কোনো পর্যায়ে ব্যক্তিগত সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনসমক্ষে না আসার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তাঁরা। ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরও এর প্রভাব শুধু হামলার দিন নিহত ব্যক্তিদের পরিবারেই সীমাবদ্ধ নেই। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসাবশেষ থেকে ছড়িয়ে পড়া ধুলা ও বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসা উদ্ধারকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিয়েছে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হেলথ প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৫৭ হাজারের বেশি মানুষের ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি কর্মসূচির আওতায় প্রত্যয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯/১১-পরবর্তী বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে ভুক্তভোগীদের মৃত্যুও অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের স্বজনেরা বলছেন, ২৫ বছর পরও তাঁদের লড়াই শুধু অতীতের ঘটনা জানার জন্য নয়, বরং মার্কিন সরকারের হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়ার জন্য। তাঁদের দাবি, ৯/১১ হামলার সঙ্গে সৌদি নাগরিকদের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে যেসব প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে, সেগুলোর উত্তর জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন। সূত্র: নিউজউইক
জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে গত জুলাইয়ে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ও পরে চীনা উৎস থেকে পাওয়া উচ্চমানের উপগ্রহচিত্র ব্যবহার করেছিল ইরান। ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটির উচ্চ রেজল্যুশনের উপগ্রহচিত্র সংগ্রহ করেছিল। ঘাঁটিটি দেশটির আজরাক এলাকায় অবস্থিত এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, আম্মান থেকে ঘাঁটিটির দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানকে এসব ছবি সরবরাহকারী চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম তারা প্রকাশ করেননি। একই সঙ্গে চীনের সরকার সরাসরি এই কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল এমন অভিযোগও তোলা হয়নি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বিষয়টি চীনা প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরেছেন। চীনের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে এ বিষয়ে প্রমাণ চাওয়া হয়েছে বলে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৭ জুলাই মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় প্রথমে দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। আরও একজন সেনা নিখোঁজ ছিলেন এবং চারজন আহত হন। পরে নিখোঁজ ওই সেনার অবস্থাও মৃত হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। ফলে ওই হামলায় মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় তিনে। মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় বারবার ইরানের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ঘাঁটিটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ মোতায়েন রয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘাঁটিটি এফ-৩৫, এফ-১৬ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। উপগ্রহচিত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলায় লক্ষ্য নির্ধারণের সক্ষমতা বাড়ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা উৎস থেকে পাওয়া চিত্র ইরানকে ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সেখানে থাকা সামরিক সম্পদের অবস্থান সম্পর্কে আরও নির্ভুল ধারণা দিতে পারে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে চীনা প্রযুক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে এর আগেও ওয়াশিংটন উদ্বেগ জানিয়েছে। মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগে চীন ও হংকংভিত্তিক বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের মে মাসের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় উপগ্রহচিত্র সরবরাহের এই নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় না। ফলে ইরানের হামলায় চীনা উৎসের উপগ্রহচিত্র ব্যবহারের খবরটি মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হলেও, এতে চীন সরকার সরাসরি জড়িত ছিল এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো প্রকাশ্য প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। ঘটনাটি বরং ইরানের সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণে বেসরকারি বা চীনা বাণিজ্যিক উপগ্রহতথ্যের সম্ভাব্য ব্যবহার এবং এ ধরনের সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার এক নারীকে হত্যার ঘটনায় রাজ্যটির অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৩৮ বছর বয়সী শালিনী ঠাকুরকে গত ৮ সেপ্টেম্বর স্যাক্রামেন্টোর একটি শপিং সেন্টারের বাইরে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ থাকা ২২ বছর বয়সী রোহিত রোহিত পরে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের সময় নিজের গুলিতে মারা যান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মামলাটিতে শালিনীর পরিবারের পক্ষ থেকে আগে থেকেই প্রশাসনের কাছে সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, রোহিতের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ, হয়রানি, তাঁর গাড়িতে হস্তক্ষেপ এবং হুমকির অভিযোগ করেছিলেন শালিনী। মে মাসে তিনি রোহিতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আদেশও নিয়েছিলেন। জুলাইয়ে সেই আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনি আবার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর হাও অ্যাভিনিউ ও নর্থরপ অ্যাভিনিউ এলাকার একটি শপিং সেন্টারে গুলির ঘটনা ঘটে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, শালিনী কর্মস্থলে পৌঁছানোর পর রোহিত তাঁর কাছে এগিয়ে যান। তিনি পালানোর চেষ্টা করলে রোহিত তাঁকে অনুসরণ করে গুলি করেন। পরে রোহিত গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পুলিশ দ্রুত তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে এবং হাইওয়ে ৫০ এলাকায় তাঁর গাড়ি থামায়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের পর তিনি নিজের গুলিতে মারা যান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি করোনার অফিস বৃহস্পতিবার নিহত নারীর পরিচয় শালিনী ঠাকুর হিসেবে নিশ্চিত করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁর পরিবারের সদস্যদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, শালিনী ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান এবং তাঁর মা দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। এদিকে শুক্রবার মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, রোহিত ভারতের নাগরিক এবং ২০২৩ সালে অ্যারিজোনা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। সীমান্তে তাঁকে আটক করেছিল মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তবে পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। এই তথ্য প্রকাশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার তথাকথিত ‘অভয়ারণ্য আইন’ বা স্যাংচুয়ারি নীতিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। ফেডারেল কর্মকর্তারা যুক্তি দিচ্ছেন, রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা সীমিত থাকায় অভিবাসন আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার আইন সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব আইন স্থানীয় পুলিশকে অপরাধ তদন্ত বা অপরাধের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা থেকে বিরত রাখে না। ২০১৭ সালে কার্যকর হওয়া সিনেট বিল ৫৪, যা ‘ক্যালিফোর্নিয়া ভ্যালুজ অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত, মূলত রাজ্য ও স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে সহায়তার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। আইনটিতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এসব বিধান স্থানীয় পুলিশকে অপরাধ তদন্ত, আটক বা গ্রেপ্তার থেকে বিরত রাখে না। তবে অভিবাসন আইন প্রয়োগের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তিকে তদন্ত, আটক বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংস্থাগুলোর ভূমিকা সীমিত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগও রয়েছে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের সমালোচনার একটি বড় অংশ স্থানীয় কারাগার থেকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যক্তিকে হস্তান্তর এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার নিয়মকে ঘিরে। ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, সাধারণভাবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুধু ফেডারেল অভিবাসন অনুরোধের ভিত্তিতে কাউকে অতিরিক্ত সময় আটক রাখা বা হস্তান্তর করা সীমিত। তবে বৈধ বিচারিক পরোয়ানা বা আইনে নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত থাকলে ভিন্ন ব্যবস্থা হতে পারে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে এই সীমাবদ্ধতা মোকাবিলায় ‘অপারেশন গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’ নামে একটি কর্মসূচি চালু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ৭৬৯টি ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং ৩৬২ জনকে স্থানীয় কারাগার থেকে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৪৭ জনের বিরুদ্ধে অপসারণের পর অবৈধভাবে আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা বা অন্য কোনো ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এই কর্মসূচি বর্তমানে মূলত দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সাতটি কাউন্টিতে কার্যকর। ফলে স্যাক্রামেন্টোসহ উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার ক্ষেত্রে এর সরাসরি প্রভাব নেই। এই সীমাবদ্ধতাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শালিনী ঠাকুরের ঘটনাটি স্যাক্রামেন্টো কাউন্টিতে ঘটেছে। শালিনী হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে এখনো এমন কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাংচুয়ারি আইন সরাসরি তাঁর হত্যাকাণ্ডের কারণ হয়েছে। বরং নিশ্চিতভাবে যা জানা যাচ্ছে তা হলো, তিনি রোহিতের বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশ নিয়েছিলেন এবং জুলাইয়ে সেই আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগও জানিয়েছিলেন। পরে সেপ্টেম্বরের ৮ তারিখে তিনি গুলিতে নিহত হন। ঘটনাটি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব এবং জননিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে পুরোনো বিতর্ককে সামনে এনেছে। ফেডারেল কর্মকর্তারা স্থানীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে আরও বেশি সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার বলছে, স্থানীয় পুলিশকে মূলত স্থানীয় অপরাধ মোকাবিলায় মনোযোগ দেওয়া উচিত এবং ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগ ফেডারেল সরকারের দায়িত্ব। শালিনী ঠাকুর হত্যার তদন্ত এবং তাঁর আগে করা অভিযোগগুলো নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিবাসন নীতির কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: কেসিএএআর
অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ‘আইফোন ডুও’র ডিসপ্লে সরবরাহে স্যামসাংয়ের সঙ্গে তিন বছরের বিশেষ চুক্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। চুক্তির আওতায় প্রতিটি ডিসপ্লে প্যানেলের জন্য অ্যাপলকে প্রায় ২৫০ ডলার দিতে হতে পারে। ফলে ফোনটির সবচেয়ে ব্যয়বহুল উপাদানগুলোর একটি হতে যাচ্ছে এই ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাকরিউমার্স শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্যামসাং ডিসপ্লে আইফোন ডুও এবং ভবিষ্যতের কয়েকটি ভাঁজযোগ্য আইফোনের জন্য ডিসপ্লে প্যানেল সরবরাহ করবে। চীনা প্রযুক্তি তথ্যদাতা ইনস্ট্যান্ট ডিজিটালের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে অ্যাপল বা স্যামসাং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতি প্যানেলের ২৫০ ডলারের দাম নিশ্চিত করেনি। অ্যাপল ৯ সেপ্টেম্বর আইফোন ডুও উন্মোচন করে। এটি কোম্পানির প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন। খোলা অবস্থায় ফোনটিতে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির অভ্যন্তরীণ ডিসপ্লে থাকে, আর ভাঁজ করা অবস্থায় বাইরের ডিসপ্লের আকার ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি। অ্যাপলের দাবি, খোলা অবস্থায় এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পাতলা আইফোন। আইফোন ডুওর ভাঁজযোগ্য পর্দায় স্যামসাংয়ের নতুন এম১৬ ওএলইডি উপাদান প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে ম্যাকরিউমার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে আগের প্রজন্মের ওএলইডি পর্দার তুলনায় উজ্জ্বলতা, রঙের মান, স্থায়িত্ব এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতায় উন্নতি হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। আইফোন ডুওর অভ্যন্তরীণ পর্দার কাঠামোও বেশ জটিল। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লেটিতে মোট ১০টি অতি পাতলা স্তর রয়েছে। পর্দার বাইরের অংশে বিশেষ ন্যানো-টেক্সচারযুক্ত আবরণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা আলো প্রতিফলন কমানোর পাশাপাশি ভাঁজের দাগ বা রেখা কম দৃশ্যমান করতে সহায়তা করে। ডিসপ্লের স্তরগুলোকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ফোন ভাঁজ ও খোলার সময় সেগুলো পরস্পরের ওপর সামান্য সরে যেতে পারে। অ্যাপলের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে ভাঁজের জায়গায় চাপ কম পড়ে এবং পর্দার স্থায়িত্ব বাড়ে। আইফোন ডুওর দুই ডিসপ্লেতেই প্রোমোশন প্রযুক্তি, অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে এবং সর্বোচ্চ ৩ হাজার নিট পর্যন্ত উজ্জ্বলতার সুবিধা রয়েছে। খোলা অবস্থায় বড় পর্দাটি একসঙ্গে একাধিক কাজ, ভিডিও দেখা, গেম খেলা ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। স্যামসাংয়ের সঙ্গে অ্যাপলের ডিসপ্লে সরবরাহ চুক্তির বিষয়টি অবশ্য পুরোপুরি নতুন নয়। চলতি বছরের এপ্রিলেই ম্যাকরিউমার্স জানিয়েছিল, ভাঁজযোগ্য আইফোনের জন্য আগামী তিন বছর স্যামসাং থেকেই ওএলইডি প্যানেল নেওয়ার বিষয়ে অ্যাপলের চুক্তি হয়েছে। সে সময়ও স্যামসাংকে একমাত্র সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রতি প্যানেলের সম্ভাব্য ২৫০ ডলারের খরচ আইফোন ডুওর উচ্চ মূল্যের একটি কারণও ব্যাখ্যা করতে পারে। ফোনটির প্রাথমিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার। এটি অ্যাপলের সবচেয়ে দামি আইফোনগুলোর একটি এবং ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে কোম্পানিটির প্রথম বড় প্রবেশ। অ্যাপলের এই পদক্ষেপ স্যামসাংয়ের জন্যও কিছুটা ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একদিকে স্যামসাং ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে অ্যাপলের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী, অন্যদিকে অ্যাপলের নতুন ফোনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে স্যামসাং ডিসপ্লে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপলের বাজারে প্রবেশের পর স্যামসাং নিজেদের ভাঁজযোগ্য ফোনের অবস্থান আরও জোরালো করতে প্রচারণা বাড়িয়েছে। তবে ২৫০ ডলার মূল্যের তথ্যটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। ম্যাকরিউমার্সও জানিয়েছে, এই তথ্য চীনা তথ্যদাতা ইনস্ট্যান্ট ডিজিটালের কাছ থেকে এসেছে। তাই চূড়ান্ত সরবরাহমূল্য চুক্তির প্রকৃত শর্তের সঙ্গে ভিন্ন হতে পারে। আইফোন ডুওর প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১৬ অক্টোবর এবং বাজারে বিক্রি শুরু হওয়ার কথা ২৩ অক্টোবর। অ্যাপলের এই নতুন ফোন ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনের বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: ম্যাকরিউমার্স, অ্যাপল
শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের নিয়ে নতুন একটি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বিদেশি শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কাজের জন্য রাশিয়ায় আনা হবে এবং কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।. রাশিয়ার প্রথম উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভিবাসনবিষয়ক বিভাগের প্রধান আন্দ্রেই কিকোত বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পুতিন প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটিকে ‘সভ্য পদ্ধতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে নিউজউইকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কোনো রুশ প্রতিষ্ঠান বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় অভিবাসন পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এরপর বিশেষায়িত একটি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় শ্রমিক খুঁজে দেবে। কর্মীর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে রাশিয়ায় নিয়ে আসা হবে এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে। কর্মীদের জন্য নির্ধারিত আবাসনের ব্যবস্থা করবে নিয়োগকর্তা। কর্মস্থলে যাতায়াতের ব্যবস্থাও থাকবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে কর্মীকে আবার রাশিয়ার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কিকোত এই ব্যবস্থাকে ‘বাড়ি, কাজ, বাড়ি’ মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিকল্পনাটি আগামী বছর থেকে ধাপে ধাপে চালু করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবটি এখনো রুশ পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়নি। রাশিয়ায় বর্তমানে শ্রমিকের ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির বেকারত্বের হার মে মাসে ঐতিহাসিকভাবে কমে ২ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছিল। বর্তমানে তা প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থনৈতিক উন্নয়নমন্ত্রী মাকসিম রেশেতনিকভ চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়াকে ‘শ্রমিক ঘাটতির অর্থনীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এই সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক রুশ নাগরিক সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন জুনে জানিয়েছিলেন, ৭ লাখের বেশি রুশ সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন রয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ২ লাখ মানুষ সামরিক বাহিনীতে চুক্তিভিত্তিকভাবে যোগ দিয়েছেন। একই সময়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণও বেসামরিক খাত থেকে কর্মী টেনে নিচ্ছে। ফলে বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন। রাশিয়ার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দ্রুত কমে যাচ্ছে। ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা চলতি দশকের শেষ নাগাদ প্রায় ৬৩ লাখ কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী তাতিয়ানা গোলিকোভা জানিয়েছেন, ২০৩২ সালের মধ্যে অবসর নেওয়া প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ কর্মীর জায়গা পূরণ করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি শ্রমিক আনা রাশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হতে পারে। তবে অভিবাসন নীতিতে মস্কোর সাম্প্রতিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে কঠোর। পুতিনের একটি ডিক্রিতে রাশিয়ার জনসংখ্যা ও শ্রমবাজার বৃদ্ধির প্রধান উৎস হিসেবে দেশের নিজস্ব জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে অভিবাসন নিয়ে ২২টি পৃথক আইন পাস করা হয়েছে। কিকোত পুতিনকে জানিয়েছেন, গত ১৮ মাসে প্রায় ১ লাখ বিদেশিকে রাশিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজারকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে। নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে রাশিয়া একদিকে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মী নিতে চায়, অন্যদিকে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসনে উৎসাহিত করতে চায় না। ফলে বিদেশি শ্রমিকদের নির্দিষ্ট চাকরি ও চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রেখে কাজ শেষ হওয়ার পর দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও এ ব্যবস্থার কিছু মিল রয়েছে। দেশটিতে নির্দিষ্ট খাতের জন্য এইচ-২ ভিসায় বিদেশি অস্থায়ী কর্মীরা কাজ করতে পারেন। ২০২৬ অর্থবছরের জন্য মার্কিন সরকার অতিরিক্ত ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি অস্থায়ী কর্মী ভিসার অনুমতি দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে কর্মী সংকটের কথা জানিয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান হারানো বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি কর্মীর জন্য তুলনামূলক বেশি সুযোগ রয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ভিসায় থাকা কর্মীরা চাকরি হারানোর পর সাধারণত ৬০ দিন পর্যন্ত নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগ পেতেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রেও সম্প্রতি এ বিষয়ে পরিবর্তনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বিভিন্ন ভিসা শ্রেণির কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের এই সময়সীমা বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চাকরির ভিত্তি শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে। তবে এইচ-২ ভিসার কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের সুরক্ষা বহাল রাখার কথা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য ইতিমধ্যে আরও কিছু কঠোর নিয়ম চালু হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর করের বোঝা বাড়ানোর একটি আইন পুতিন জুলাইয়ে স্বাক্ষর করেছেন। রাশিয়ায় থাকা নির্ভরশীল প্রতিটি সন্তানের জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মাসিক করের পরিমাণ আরও ৫০ শতাংশ বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের সন্তানদের রুশ স্কুলে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রেও গত বছর থেকে কঠোর নিয়ম চালু করা হয়েছে। রুশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এসব নিয়ম চালুর পর কর্মহীন অভিবাসীদের সংখ্যা কমেছে। তবে নতুন প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ধরন আরও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। কর্মীদের নিজস্বভাবে চাকরি খোঁজা বা এক নিয়োগকর্তা থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও রাশিয়া একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসন কমিয়ে রাখতে চাইছে। প্রস্তাবিত ‘বাড়ি, কাজ, বাড়ি’ মডেল সেই দুই নীতির মধ্যে সমন্বয় করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: নিউজউইক
নরওয়ের রাজপরিবারে নেমে এসেছে আরও এক দফা শোক। দেশটির প্রয়াত রাজা হ্যারাল্ডের বড় বোন রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড ৯৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। শুক্রবার তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে নরওয়ের রাজপ্রাসাদ। রাজা হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যের মাত্র দুই দিন পর রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যু হলো। গত বুধবার অসলোতে অনুষ্ঠিত ভাইয়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়াই ছিল তাঁর শেষ প্রকাশ্য উপস্থিতি। রাজপরিবারের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ জীবনে রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড উষ্ণতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রাজা হাকন অষ্টম তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং রাজপরিবারের জন্য তাঁর দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালনের কথা স্মরণ করেছেন। রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের ভাই রাজা হ্যারাল্ড গত ২৮ আগস্ট ৮৯ বছর বয়সে মারা যান। তিন দশকেরও বেশি সময় নরওয়ের সিংহাসনে থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়। ৯ সেপ্টেম্বর অসলোতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে নরওয়ের রাজপরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাজপরিবার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ভাইয়ের শেষকৃত্যে অ্যাস্ট্রিডকে রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দেখা যায়। এরপর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তাঁর নিজের মৃত্যুর খবর আসে। রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড নরওয়ের রাজপরিবারে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক আয়োজনে তিনি রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রাজপ্রাসাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার সঙ্গে এসব দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রাজা হ্যারাল্ডের মৃত্যুর পর নরওয়ের সিংহাসনে বসেছেন তাঁর ছেলে হাকন অষ্টম। হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যের মধ্য দিয়ে দেশটির রাজপরিবারে একটি দীর্ঘ অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটে। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যু রাজপরিবারে নতুন করে শোকের আবহ তৈরি করেছে। রাজা হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যে অসলো শহরের রাস্তায় বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। তাঁর কফিন রাজপ্রাসাদ থেকে অসলো ক্যাথেড্রালে নেওয়ার সময় হাজারো মানুষ শ্রদ্ধা জানান। পরে তাঁকে আকর্শুস দুর্গের রাজকীয় সমাধিতে সমাহিত করা হয়। রয়টার্স জানিয়েছে, রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসপ্তাহ ৪০ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৩২ ঘণ্টা করার প্রস্তাব উঠেছে কংগ্রেসে। নতুন এই বিল পাস হলে নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মীরা সপ্তাহে ৩২ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য দেড় গুণ হারে পারিশ্রমিক পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এটি কার্যকর হলে সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে সপ্তাহে চার দিন কাজ করতে হবে, এমন নয়। ‘থার্টি-টু আওয়ার ওয়ার্কউইক অ্যাক্ট’ নামের বিলটি ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রতিনিধি পরিষদে পুনরায় উত্থাপন করেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি মার্ক তাকানো। একই উদ্যোগে সিনেটে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভার্মন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত বিলটি শিক্ষা ও কর্মশক্তি বিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার সীমা ধীরে ধীরে ৪০ ঘণ্টা থেকে ৩২ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা। তবে পরিবর্তনটি একবারে হবে না। বিল অনুযায়ী, আইন কার্যকর হওয়ার পর প্রথম পর্যায়ে সপ্তাহে ৩৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে অতিরিক্ত সময়ের পারিশ্রমিক প্রযোজ্য হবে। দ্বিতীয় বছরে সীমা হবে ৩৬ ঘণ্টা এবং তৃতীয় বছরে ৩৪ ঘণ্টা। এরপর চতুর্থ পর্যায় থেকে ৩২ ঘণ্টার বেশি কাজ করলেই অতিরিক্ত সময়ের পারিশ্রমিক দেওয়ার নিয়ম কার্যকর হবে। বর্তমান মার্কিন ফেডারেল আইনে অধিকাংশ অতিরিক্ত সময়ের পারিশ্রমিকের আওতাভুক্ত কর্মীকে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার বেশি কাজের জন্য স্বাভাবিক মজুরির অন্তত দেড় গুণ দিতে হয়। প্রস্তাবিত আইনে এই সীমা কমে ৩২ ঘণ্টায় নেমে আসবে। অর্থাৎ, আইনটি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর কোনো আওতাভুক্ত কর্মী সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করলে ৩২ ঘণ্টার পরের ৮ ঘণ্টার জন্য অতিরিক্ত সময়ের পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা। একই সঙ্গে দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কর্মী দিনে আট ঘণ্টার বেশি এবং সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা কাজ করলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য স্বাভাবিক হারের দেড় গুণ পারিশ্রমিক দিতে হবে। ১২ ঘণ্টার বেশি কাজের ক্ষেত্রে তা দ্বিগুণ হারে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি সরাসরি চার দিনের কর্মসপ্তাহ বাধ্যতামূলক করছে না। কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে ৩২ ঘণ্টার কাজ চার দিনে ভাগ করে দিতে পারে, আবার প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যভাবেও কর্মঘণ্টা সাজাতে পারে। মূল পরিবর্তনটি হবে অতিরিক্ত সময়ের পারিশ্রমিকের নিয়মে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিলটি সব কর্মীর ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হবে না। এটি ১৯৩৮ সালের ফেয়ার লেবার স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাক্ট সংশোধনের মাধ্যমে কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই আইনে ইতিমধ্যেই কিছু নির্বাহী, প্রশাসনিক ও পেশাজীবী কর্মীসহ নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মী অতিরিক্ত সময়ের পারিশ্রমিকের নিয়ম থেকে অব্যাহতি পান। ফলে নতুন প্রস্তাবটিও সংশ্লিষ্ট আইনি শ্রেণিবিন্যাসের আওতাভুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। প্রস্তাবে কর্মীদের বেতন ও সুবিধা সুরক্ষার বিষয়টিও রাখা হয়েছে। কর্মসপ্তাহের নতুন সীমার আওতায় আসার কারণে কোনো কর্মীর মোট সাপ্তাহিক পারিশ্রমিকের হার বা অন্যান্য সুবিধা কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ না রাখার কথা বলা হয়েছে। ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহের ধারণাটি যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নয়। মার্ক তাকানো ২০২১ সালেও একই ধরনের বিল প্রতিনিধি পরিষদে তুলেছিলেন। ২০২৪ সালে বার্নি স্যান্ডার্স সিনেটে এ বিষয়ে আলাদা বিল উত্থাপন করেন। এর আগে ২০২৩ সালেও প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি আবার তোলা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান ৪০ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহও একদিনে চালু হয়নি। ১৯৩৮ সালের ফেয়ার লেবার স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাক্টে শুরুতে অতিরিক্ত সময়ের সীমা ৪৪ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে তা ধাপে ধাপে কমে ৪০ ঘণ্টায় আসে, যা দীর্ঘদিন ধরে দেশটির প্রচলিত ফেডারেল মানদণ্ড। প্রস্তাবটির সমর্থকদের যুক্তি হলো, প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নতির ফলে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। তাই প্রযুক্তি থেকে পাওয়া উৎপাদনশীলতার সুফলের একটি অংশ কর্মীদের কম কর্মঘণ্টা ও উন্নত জীবনযাপনের মাধ্যমে পাওয়া উচিত। স্যান্ডার্স বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির আর্থিক সুফল শুধু বড় প্রতিষ্ঠান বা ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মজীবী পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নেও ব্যবহার করা উচিত। তবে প্রস্তাবটির বিরোধিতাও রয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের এক সিনেট শুনানিতে রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি সতর্ক করেছিলেন, বেতন অপরিবর্তিত রেখে কর্মঘণ্টা কমানো হলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শ্রম ব্যয় বাড়তে পারে। এর ফলে কিছু প্রতিষ্ঠান পণ্যের দাম বাড়াতে, নতুন নিয়োগ কমাতে কিংবা অন্য জায়গায় কাজ সরিয়ে নিতে পারে বলে তিনি যুক্তি দেন। এদিকে কম কর্মঘণ্টার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঞ্চল ও বিশ্বের অন্যান্য দেশেও হয়েছে। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সান জুয়ান কাউন্টি ২০২৩ সালে কর্মীদের একটি অংশের জন্য ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহ চালু করে। পরে ২০২৫ সালের শেষ দিকে কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা এই ব্যবস্থা স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এতে অসুস্থতাজনিত ছুটি কমা এবং চাকরির আবেদন বাড়ার মতো কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। তবে কর্মসূচিতে কর্মীদের সময়সূচি ও জনসেবা চালু রাখার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার কথাও স্বীকার করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যেও ২০২২ সালে ৬১টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ২ হাজার ৯০০ কর্মীকে নিয়ে কম কর্মঘণ্টার একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালায়। সেখানে বেতন না কমিয়ে কাজের সময় ২০ শতাংশ কমানো হয়েছিল। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রতিবেদনে ওই পরীক্ষায় অসুস্থতাজনিত ছুটি এবং কর্মী চলে যাওয়ার হার কমার কথা উঠে আসে। তবে সেটি ছিল স্বেচ্ছামূলক পরীক্ষা, কোনো জাতীয় আইন নয়। বর্তমান বিলটি এখনো আইন হয়নি। প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপনের পর এটি সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এরপর কমিটির পর্যালোচনা, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরসহ আরও কয়েকটি ধাপ পেরোতে হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের জন্য ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহ কবে বাস্তবে কার্যকর হবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। সূত্র: নিউজউইক
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বর কাপ্রি ডিরামাস। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী বিয়ের আয়োজন আর করা সম্ভব না হলেও শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন তিনি ও তাঁর বাগদত্তা তায়াসিয়া থমাস। গত সপ্তাহের শেষ দিকে ফ্লোরিডার অল্টামন্টে স্প্রিংস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিয়ের পোশাকে প্রস্তুত হয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তায়াসিয়া। ঠিক সেই সময় খবর আসে, বিয়ের পথে গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন কাপ্রি। হারমিটস ট্রেইল ও স্টেট রোড ৪৩৬ এলাকার কাছে গাড়ি চালানোর সময় কাপ্রির গাড়ির সঙ্গে একটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর তায়াসিয়া বিয়ের পোশাক পরেই গাড়িতে করে অ্যাম্বুলেন্সের পিছু নিয়ে হাসপাতালে যান। সেখানে পৌঁছে তিনি কাপ্রিকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্য দেখেন। সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তায়াসিয়া বলেন, তাঁকে ওই অবস্থায় দেখে বিষয়টি খুবই ভীতিকর ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক ছিল। গাড়িতে বসে তাঁর সবচেয়ে বড় ভয় ছিল, তিনি যেন কাপ্রিকে হারিয়ে না ফেলেন। অন্যদিকে দুর্ঘটনার পর কাপ্রি কিছু সময় অচেতন ও বিভ্রান্ত অবস্থায় ছিলেন। জ্ঞান ফেরার পরও তাঁর কাছে বিয়েটি সম্পন্ন করার ইচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। হাসপাতালেই বিয়ে করার বিষয়ে দুজন সম্মত হন। পরে হাসপাতালেই তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। নির্ধারিত বিয়ের মঞ্চের পরিবর্তে হাসপাতালের পরিবেশেই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেন তাঁরা। তায়াসিয়া বলেন, সেই সময় কাপ্রির পাশে থাকতে পারাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিয়ের ওই মুহূর্তে কিছুক্ষণের জন্য তাঁদের চারপাশের সব উদ্বেগ ও অস্থিরতা যেন থেমে গিয়েছিল। দুর্ঘটনায় কাপ্রির দুই হাত, পাঁজর ও চোয়ালে গুরুতর আঘাত লাগে। এসব আঘাতের চিকিৎসায় তাঁকে তিনটি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। শারীরিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্যেও কাপ্রি বিয়ের আংটিটিকে তাঁদের সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষায়, ছয় বছর ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে তিনি এখন সারাজীবনের বন্ধনে নিয়ে যেতে চান। দুর্ঘটনার কারণে তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনা বদলে গেলেও দুজনের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসেনি। নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে বিয়ে না হলেও হাসপাতালেই তাঁরা একে অপরের সঙ্গে জীবনের নতুন যাত্রা শুরু করেন। এদিকে দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি দম্পতি। তাঁদের আইনজীবীরা দুর্ঘটনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সূত্র: ডব্লিউইএসএইচ, সিএনএন নিউজসোর্স
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের স্পিনার বা সুতাকল মালিকদের কাঁচামাল সংগ্রহের সময়সীমা ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনতে আগামী নভেম্বরে চট্টগ্রামে চালু হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম মার্কিন তুলার গুদাম। ‘অ্যামেরিবংলা ইউএস কটন ওয়্যারহাউস’ নামের এই গুদামটি ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ইজারা নেওয়া একটি জায়গায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে। প্রাথমিকভাবে এখানে ৮০ থেকে ১০০ টন তুলা মজুত থাকবে এবং পরবর্তীতে এটি আনোয়ারা ফ্রি ট্রেড জোনের স্থায়ী স্থাপনায় স্থানান্তরিত হবে। এই যুগান্তকারী উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের ব্যবসায়ী নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক এবং বিকেএমইএ-এর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করতে প্রায় ৩০-৪০ দিন সময় লাগে। গুদামটি চালু হলে দেশে বসেই কাঁচামাল পাওয়ার কারণে এই দীর্ঘ সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। তবে তিনি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য তুলার দাম প্রতিযোগিতামূলক রাখার ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে বিজিএমইএ পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল জানান, স্পিনাররা দ্রুত তুলা পাওয়ার পাশাপাশি এই মার্কিন তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধাও পেতে পারে, যা দেশের পুরো পোশাক খাতের জন্যই ইতিবাচক। অ্যামেরিবংলা করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আসওয়ার রহমান জানিয়েছেন, ২০৪৫ সালের মধ্যে দুই দেশের বর্তমান ১০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যকে ১০ গুণ বাড়িয়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। এই লক্ষ্যে মার্কিন কাঁচা তুলা নিলামের জন্য তারা ‘কটনপোর্ট’ নামের একটি ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসও চালু করেছেন। আগামী ৮ অক্টোবর ম্যানহাটনে তাদের ‘অল আমেরিকান কটন সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এই প্রত্যয়িত তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে ১০ থেকে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক হ্রাসের সুবিধা পাবে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করা মেক্সিকান বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তিকে গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যেই অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইস) আটক করেছে। তবে তাঁর আইনজীবীর দাবি, কর্মকর্তারা আসলে তাঁকে আটক করতে যাননি। অন্য একজনকে খুঁজতে গিয়ে ভুল পরিচয়ের কারণে তাঁকে আটক করা হয়ে থাকতে পারে। ৪৬ বছর বয়সী হুয়ান জেরার্দো আলাতোরে মার্তিনেজকে গত ৩০ জুলাই ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কনওয়ে শহরের একটি গ্যাস স্টেশনে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় আটক করা হয়। আইনজীবী লিসা সেইফার্ট নিউজউইককে জানান, মার্তিনেজ সেখানে পূর্ণকালীন কাজ করতেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে তিনি পরিচিত মুখ ছিলেন। সেইফার্টের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্তিনেজ ২০০০ সালের বসন্তে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তাঁর বড় ভাইয়ের মাধ্যমে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার আবেদন করেন। আটকের আগের দিন বা তার কাছাকাছি সময়ে মার্তিনেজ ওই গ্যাস স্টেশনের বাইরে আইসের এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তাদের দেখতে পান। পরে আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রসিকিউটররা স্বীকার করেন যে ওই সময় কর্মকর্তারা অন্য একজনকে খুঁজছিলেন বলে আইনজীবী দাবি করেছেন। মার্তিনেজের আইনজীবীর ধারণা, এর সঙ্গে তাঁর সম্প্রতি কেনা একটি রুপালি রঙের হোন্ডা গাড়ির বিষয়টি জড়িত থাকতে পারে। গাড়িটি তিনি আগের মালিকের কাছ থেকে কিনেছিলেন, কিন্তু তখনও গাড়িটির নিবন্ধন নিজের নামে পরিবর্তন করেননি। সেইফার্টের মতে, আইস কর্মকর্তারা গাড়িটির খোঁজ করতে গিয়ে সেটির বর্তমান মালিক মার্তিনেজের কাছে পৌঁছে থাকতে পারেন। তবে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি শুক্রবার জানায়, ৩০ জুলাই কনওয়েতে মার্তিনেজকে আটকের জন্য আইস একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করেছিল। বিভাগটি তাঁকে অপরাধে দণ্ডিত অনিবন্ধিত অভিবাসী হিসেবে উল্লেখ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্তিনেজ ২০১৬ সালে স্থগিত বা বাতিল হওয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। ২০২০ সালে একই অভিযোগে আবারও তাঁর সাজা হয়। ওই মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের মদ পান করতে দেওয়া বা সরবরাহ করার অভিযোগেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তবে মার্তিনেজের আইনজীবী বলছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং বর্তমানে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। আদালতে তাঁর অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইসের হেফাজতে রয়েছেন। বর্তমানে মার্তিনেজ ওয়াশিংটনের টাকোমায় অবস্থিত নর্থওয়েস্ট আইস প্রসেসিং সেন্টারে আটক আছেন। আগামী ৮ অক্টোবর তাঁর পরবর্তী আদালত শুনানির তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। আইনজীবী আশা করছেন, আদালত তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন বিবেচনা করে তাঁকে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ দেবে। মার্তিনেজের সহায়তায় অনলাইনে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযানও শুরু হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে ৯ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি অর্থ জমা পড়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগে মার্তিনেজকে কনওয়ের পরিচিত ও প্রিয় একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে তাঁকে মজা করে ‘কনওয়ের মেয়র’ বলে ডাকতেন, কারণ তিনি এলাকার অনেক মানুষকে চিনতেন এবং গ্যাস স্টেশনে কাজ করার সময় নিয়মিত গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলতেন। প্রায় নয় বছর আগে মার্তিনেজের সঙ্গে পরিচয় হয় ওয়াশিংটনের বিগ লেকের বাসিন্দা টিম ফেরেলের। তিনি তাঁর বাড়িতে বাগানের কাজসহ বিভিন্ন কাজে মার্তিনেজকে নিয়োগ করেছিলেন। ফেরেল মার্তিনেজকে বুদ্ধিমান, বন্ধুবৎসল ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং আটকের পর তাঁকে আইনি সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করতেও ভূমিকা রাখেন। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা লিন্ডসে ব্রুকস জানান, গ্যাস স্টেশনে মার্তিনেজের অনুপস্থিতি স্থানীয়দের চোখে পড়ছে। তাঁর ছেলে মার্তিনেজকে আটকের খবর শুনে কষ্ট পেয়েছিল বলেও তিনি জানান। এদিকে আটকের পরও মার্তিনেজ মানসিকভাবে দৃঢ় থাকার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। আটক কেন্দ্রে তিনি ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন এবং সেখানে অন্য আটক ব্যক্তিদের সঙ্গেও বন্ধুত্ব তৈরি করেছেন বলে আইনজীবী জানান। মার্তিনেজের মামলায় একদিকে তাঁর অতীতের ফৌজদারি দণ্ডের বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে তিনি যে বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন, সেটিও আদালতের বিবেচনায় রয়েছে। তাঁর পরবর্তী শুনানিতে এসব বিষয় কীভাবে সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। সূত্র: নিউজউইক, মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সম্প্রতি ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) একটি নতুন প্রস্তাবনা প্রকাশ করেছে, যেখানে চাকরি হারানোর পর নতুন কাজ খোঁজার জন্য দেওয়া ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা অতিরিক্ত সময়সীমা বাতিলের কথা বলা হয়েছে। এই নিয়ম চূড়ান্ত হলে চাকরি হারানোর পর এইচ-১বি ভিসাধারীদের তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে। বৃহস্পতিবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এই প্রস্তাবনাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের জন্য একটি বড় ধাক্কা। ২০১৭ সাল থেকে চালু থাকা এই ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ডের কারণে চাকরিচ্যুত বিদেশি কর্মীরা নতুন স্পন্সর বা নিয়োগদাতা খোঁজার সুযোগ পেতেন। দেশ ছাড়ার আগে বাড়ি বিক্রি বা সন্তানদের স্কুল থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার মতো জরুরি কাজগুলো গুছিয়ে নেওয়ার জন্যও এই সময়টুকু তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নতুন প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, এই নিয়ম বাতিল হলে শূন্য হওয়া পদগুলোতে মার্কিন নাগরিকরাই কাজ করার সুযোগ পাবেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ অভিবাসন সীমিত করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে, যার মধ্যে দক্ষ কর্মীদের ভিসা ফি বৃদ্ধি ও বিশ্বব্যাপী মার্কিন মিশনগুলোতে অভিবাসী ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িক স্থগিত করা অন্যতম। তবে এই কড়াকড়ি কেবল এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্যই নয়; এর প্রভাব পড়বে অন্যান্য সাময়িক ওয়ার্ক ভিসার ওপরও। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী, নির্বাহী, বিজ্ঞানী, ক্রীড়াবিদ ও শিল্পীদের জন্য নির্ধারিত ই-১, ই-২, এল-১, ও-১ এবং টিএন ভিসাধারীরাও এই নতুন প্রস্তাবনার আওতাভুক্ত হবেন। এছাড়া সিঙ্গাপুর ও চিলির দক্ষ কর্মী এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ কর্মীদের ভিসার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। আপাতত দুই মাসের জন্য প্রস্তাবনাটি জনমত যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যার পরেই এটি চূড়ান্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এক ভারতীয় নাগরিককে অভিনব উপায়ে স্বর্ণ জালিয়াতির দায়ে ৩০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। ভেঙ্কটেশ্বর চাগামরেডি (৩৭) নামের ওই ব্যক্তি এক প্রবীণ ভিয়েতনাম যুদ্ধফেরত সেনাকে (ভেটেরান) ধোঁকা দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। টেক্সাসের সান আন্তোনিওর বাসিন্দা ভেঙ্কটেশ্বরকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৯৯,৪৯৬ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ জন ডি. রাসেল। সাজা ভোগের পর তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় বহিষ্কারের সম্মুখীন হতে হবে। মার্কিন অ্যাটর্নি ক্রিস্টোফার জে. নাসার জানান, এই প্রতারক চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে প্রবীণদের দুর্বলতার সুযোগ নিত। গত ২০২৫ সালের আগস্টে ভুক্তভোগী ওই প্রবীণ তার কম্পিউটারে সমস্যা দেখে মাইক্রোসফট সাপোর্টের একটি ভুয়া নম্বরে কল করেন। তখন তাকে বলা হয়, তার কম্পিউটারে অপরাধমূলক কার্যক্রম ধরা পড়েছে এবং বিষয়টি সরকারের কাছে রিপোর্ট করা হবে। পরবর্তীতে ভুয়া ফেডারেল অফিসার এবং ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তা সেজে ওই প্রবীণকে ভয় দেখানো হয় যে, তার পরিচয় চুরি করে অপরাধীরা গুরুতর ফেডারেল অপরাধ সংঘটিত করেছে। তাকে তার জমানো অর্থ রক্ষার্থে দ্রুত সেগুলো স্বর্ণে রূপান্তর করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং বলা হয়, একজন কর্মকর্তা সরাসরি তার বাড়িতে গিয়ে সেই স্বর্ণ সংগ্রহ করে নিরাপদ হেফাজতে রাখবেন। প্রতারকদের কথামতো ওই প্রবীণ স্বর্ণ কিনে তাদের প্রতিনিধির হাতে তুলেও দেন। কিন্তু কয়েকদিন পর তারা আবারও অর্থের দাবি করলে পরিবারের এক সদস্যের মাধ্যমে তিনি বুঝতে পারেন যে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরে তিনি ডেলাওয়্যার কাউন্টি শেরিফ অফিসের সাথে যোগাযোগ করে পুলিশকে বিস্তারিত জানান। পুলিশের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ভেঙ্কটেশ্বর যখন দ্বিতীয়বার ওই প্রবীণের বাড়ি থেকে স্বর্ণ আনতে যান, তখন তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার গাড়ি থেকে নগদ ৫০০ ডলার, একটি মোবাইল ফোন এবং ২৩ আউন্স স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে, মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিনি একাধিক অঙ্গরাজ্য ঘুরে একাধিক প্রবীণের কাছ থেকে একইভাবে স্বর্ণ সংগ্রহ করেছিলেন। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে দেখা যায়, ভেঙ্কটেশ্বর টেক্সাস থেকে নর্থ ক্যারোলাইনা এবং ক্যানসাস হয়ে ওকলাহোমা পর্যন্ত ভ্রমণ করেছিলেন শুধুমাত্র বয়স্কদের টার্গেট করে স্বর্ণ সংগ্রহের জন্য। হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজ ও লোকেশন ডেটা থেকে তার অপরাধের প্রমাণ মেলে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রবীণদের লক্ষ্য করে এমন প্রতারণা দেশটিতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন শত শত মামলায় অপরাধীরা এক মিলিয়নেরও বেশি আমেরিকানের কাছ থেকে প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। প্রবীণদের সুরক্ষায় মার্কিন প্রশাসন এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে আড়াই লাখ ডলার মূল্যের একটি বিলাসবহুল মার্সিডিজ গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এক হোমলেস নারী। ওয়েস্ট ৪৫ স্ট্রিটের 'বেন্টলি মিকার লাইটিং অ্যান্ড স্টেজিং' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সামনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানের মালিক বেন্টলি মিকার জানান, গত বৃহস্পতিবার এক নারী তার আড়াই লাখ ডলারের মার্সিডিজ-বেঞ্জ জি৬৩ গাড়ির আয়নায় একটি টি-শার্ট পেঁচিয়ে লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা দ্রুত বিষয়টি টের পেয়ে তা প্রতিহত করতে সক্ষম হন, যার ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে। ম্যানহাটনের ওয়েস্ট সাইডে হোমলেসদের অবৈধ ক্যাম্প বা তাঁবু বসানোর প্রবণতা পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বেন্টলি মিকার জানান, গত জুলাই থেকে তাদের অফিসের বাইরে হোমলেসদের আনাগোনা শুরু হলেও চলতি মাসে পরিস্থিতি বেশ ভয়ংকর ও আগ্রাসী রূপ নিয়েছে। গাড়ি পোড়ানোর চেষ্টার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীকে লোহার রড নিয়ে ধাওয়া করার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া, কোম্পানির একটি ট্রাকের নিচে আরেক হোমলেস ত্রিপল টাঙিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন; চালক গাড়ি ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে তা টের পাওয়ায় অল্পের জন্য ওই ব্যক্তি চাকায় পিষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পান। গাড়ি পোড়ানোর ঘটনার পরপরই নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) এবং স্যানিটেশন বিভাগ দ্রুত ওই এলাকার অবৈধ ক্যাম্পগুলো উচ্ছেদ করে। তবে শুক্রবারই সেখান থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে আবারও নতুন করে তাঁবু খাটাতে দেখা যায় তাদের। নিউইয়র্ক সিটি হলের নিয়ম অনুযায়ী, উচ্ছেদের আগে হোমলেসদের টানা সাত দিন আশ্রয় ও অন্যান্য সেবার প্রস্তাব দিতে হয়, যা প্রশাসন ও স্থানীয়দের জন্য এক অন্তহীন ইঁদুর-বিড়াল খেলায় পরিণত হয়েছে। বেন্টলি মিকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে শতাধিক কর্মী কাজ করেন। কর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব হলেও, শহরের রাস্তাগুলোকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। হোমলেস সমস্যার এমন আগ্রাসী রূপে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন।
অস্ট্রিয়ায় এক পাষণ্ড স্বামীর বিরুদ্ধে নিজের স্ত্রীকে নিয়মিত মাদক খাইয়ে অন্য পুরুষদের দিয়ে ধর্ষণ করানোর ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে। রবার্ট আইচিংগার (৫১) নামের ওই ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে অচেতন স্ত্রীকে একাধিক পুরুষের হাতে তুলে দিতেন। গত ২৫ জুন মারাত্মক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে স্ত্রী ড্যানিয়েলার (৩৯) মৃত্যু হলে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত 'পেলিকট' মামলার সঙ্গে মিল থাকায় রোমহর্ষক এই ঘটনাকে 'পেলিকট ২.০' আখ্যা দিয়েছেন প্রসিকিউটররা। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, পেশায় ট্রাকচালক রবার্ট প্রতি সেশনের জন্য প্রায় ৫০০ ইউরো নিতেন। তার বোন পুলিশকে জানিয়েছেন, রবার্ট এই জঘন্য কাজ নিয়ে গর্ব করতেন এবং স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে টাকা উপার্জনের কথা বলতেন। তদন্তে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে তার মেসেজ আদান-প্রদানের প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ। সেসব মেসেজে রবার্ট স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছিলেন এবং তাকে 'মৃত মাংস' (dead meat) বলে উপহাস করতেন। ওই প্রতিবেশীও ড্যানিয়েলাকে একাধিকবার ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন এবং তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত জুনে ড্যানিয়েলার কিশোরী মেয়ে তাকে শোবার ঘরে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। প্যারামেডিকরা চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও অমানবিক আঘাতেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর রবার্ট প্রমাণ নষ্ট করতে তার ফোন থেকে অ্যাপ ও মেসেজ মুছে ফেলেছিলেন এবং রক্তমাখা বিছানা গায়েব করার চেষ্টা করেছিলেন। বর্তমানে রবার্ট পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তার সাবেক স্ত্রীও পুলিশকে রবার্টের চরম আগ্রাসী ও ভয়ংকর শারীরিক নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পূর্ব অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই আকর্ষণীয় চাকরির সুযোগ দিচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ। যারা অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতায় ভালো কাজের সন্ধান করছেন, তাদের জন্য নিউইয়র্ক সিটির অফিশিয়াল ক্যারিয়ার ওয়েবসাইট ‘জবসএনওয়াইসি’ (JobsNYC) পোর্টালে বেশ কিছু এন্ট্রি-লেভেল পদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এসব পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। কেবল ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং সাধারণ নির্দেশনা বুঝে কাজ করার সক্ষমতা থাকলেই এই পদগুলোর জন্য আবেদন করা যাবে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডিপার্টমেন্ট অব প্রোবেশন তাদের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনার জন্য ছয়জন ‘কমিউনিটি অ্যাসিস্ট্যান্ট’ নিয়োগ দিচ্ছে। তাদের মূল কাজ হবে সাধারণ দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করা এবং ফ্রন্ট ডেস্ক সামলানো। অন্যদিকে, ডিপার্টমেন্ট অব হোমলেস সার্ভিসেসও একই পদে দুজন কর্মী খুঁজছে। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মালামাল ওঠানো-নামানো ও গুদামজাত করা এবং ক্লায়েন্টদের কার্যক্রম তদারকিতে সহায়তা করা। এই পদের কর্মীদের রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা অথবা মঙ্গলবার থেকে শনিবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত শিফটে কাজ করতে হবে। উভয় বিভাগের এই পদগুলোর জন্যই বার্ষিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৯৭০ ডলার থেকে ৪৯ হাজার ৩০ ডলার পর্যন্ত। এছাড়াও, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) হিউম্যান রিসোর্সেস ডিভিশন তাদের প্রি-এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস ইউনিটের জন্য দুজন ‘কমিউনিটি অ্যাসিস্ট্যান্ট’ নিয়োগ দিচ্ছে। এই পদে কর্মরতদের প্রধান দায়িত্ব হবে সম্ভাব্য চাকরিপ্রার্থীদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করা, নিয়োগ সংক্রান্ত ইভেন্টের ক্যালেন্ডার পরিচালনা করা এবং সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারণ করা। নির্বাচিত কর্মীদের সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার শিফটে কাজ করতে হবে।
নিউইয়র্কের সিরাকিউজে নাগরিকত্ব গ্রহণের অনুষ্ঠানে ১১ দেশের ১২ জন নতুন মার্কিন নাগরিক হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর চার সদস্য। বৃহস্পতিবার জেমস এম. হ্যানলি ফেডারেল কোর্টহাউসে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাদের কয়েক বছরের নাগরিকত্বের যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। নতুন নাগরিকদের একজন জোসেফ ইয়াওসন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার স্বপ্নের সঙ্গে তাঁর আরেকটি স্বপ্ন জড়িয়ে ছিল, আর সেটি হলো মার্কিন সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া। সেই স্বপ্নও পূরণ করেছেন তিনি। “আমার স্বপ্ন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া, আর আমি তা করতে পেরেছি,” বলেন ইয়াওসন। তবে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথটি তাঁর জন্য সহজ ছিল না। ইয়াওসন জানান, পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাঁর প্রায় তিন থেকে চার বছর সময় লেগেছে। “এটি খুব কঠিন একটি প্রক্রিয়া। এমন নয় যে শুধু উঠে দাঁড়ালেন আর পেয়ে গেলেন। এখানে পৌঁছাতে তিন থেকে চার বছর লেগেছে,” বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে মার্কিন দেউলিয়া আদালতের বিচারক প্যাট্রিক রাডেল সভাপতিত্ব করেন। এটি ছিল তাঁর পঞ্চম নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠান। নতুন নাগরিকদের স্বাগত জানিয়ে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বক্তব্যও তুলে ধরেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিভিন্ন দেশের মানুষের মার্কিন নাগরিক হওয়ার সুযোগের কথা বলা হয়। নাগরিকত্বের শপথ নেওয়ার মাধ্যমে নতুন নাগরিকদের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার একটি অধ্যায় শেষ হয়েছে এবং শুরু হয়েছে জীবনের নতুন অধ্যায়। সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া এবং মার্কিন নাগরিক হওয়ার দুটি লক্ষ্যই পূরণ করেছেন ইয়াওসন। এখন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও ঠিক করা আছে। “যখন আমার সময় আসবে, আমি অবসর নিতে চাই। আমি আমেরিকা উপভোগ করতে চাই,” বলেন তিনি। সিএনওয়াই সেন্ট্রালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে ব্রাজিল, ঘানা, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও সিয়েরা লিওনসহ ১১টি দেশের নাগরিকরা মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মন্তব্য করেছেন যে, পশ্চিমা দেশগুলো যেকোনো উপায়ে—এমনকি অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করে হলেও নিজেদের হারানো বৈশ্বিক নেতৃত্ব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিকস বিজনেস ফোরামে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই দাবি করেন। পুতিনের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বর্তমানে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন চলছে এবং পুরনো নেতৃত্বের জায়গা দখল করে নিচ্ছে নতুন নতুন প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রগুলো। আর এই পরিবর্তনের মাঝেই পশ্চিমা প্রতিদ্বন্দ্বীরা মরিয়া হয়ে নিজেদের আধিপত্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর সমালোচনা করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, নিজেদের স্বার্থ হাসিলে তারা এখন শিল্প ও সরবরাহ অবকাঠামোয় সরাসরি আঘাত, পাইপলাইন ধ্বংস, আন্তর্জাতিক পরিবহন করিডর আটকে দেওয়া, সমুদ্রগামী জাহাজ জব্দ এবং অন্য দেশগুলোর ওপর ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’র হুমকির মতো ধ্বংসাত্মক পন্থা ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, ব্রিকসের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, গত পাঁচ বছরে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪০ শতাংশের বেশি এসেছে ব্রিকস দেশগুলো থেকে, যেখানে একই সময়ে জি৭-এর অবদান ছিল মাত্র ২৯ শতাংশ। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা অধ্যুষিত ব্রিকস দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক পর্যায়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা বিশ্বের আরোপিত ৩০ হাজারের বেশি নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ টেনে পুতিন বলেন, এটি বিশ্বের অন্য সব দেশের ওপর আরোপিত মোট নিষেধাজ্ঞার প্রায় দ্বিগুণ। তবে এসব বাধা সত্ত্বেও মস্কো নিজেদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব আরও সুসংহত করেছে এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য ও সহযোগিতা বাড়িয়েছে। গত তিন বছরে রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির জিডিপি ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রুশ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী, স্থিতিস্থাপক ও গতিশীল করেছে। ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যকার এই নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়িক সম্পর্ক আগামী দিনে বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল ও যেকোনো সংকট মোকাবেলায় সক্ষম করে তুলবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।