সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে গাছে ঝুলছিল তাসিয়া, ময়নাতদন্তে বেরিয়ে এলো হত্যার রহস্য

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৫:২৬
তাসিয়া ফরচুনের স্মরণে ফুল ও খেলনা দিয়ে সাজানো হয়েছে স্মৃতিচিহ্ন
তাসিয়া ফরচুনের স্মরণে ফুল ও খেলনা দিয়ে সাজানো হয়েছে স্মৃতিচিহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ২৯ বছর বয়সী তাসিয়া ফরচুনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের পর রাজ্যের মেডিকেল পরীক্ষক তাসিয়ার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার পরই গ্রেপ্তার করা হয় ওই ব্যক্তিকে।

 

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম জার্কুয়েস র‍্যাটলিফ। তাঁর বয়স ৫১ বছর। তাসিয়া ফরচুনকে হত্যার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আগামী সোমবার আদালতে তাঁর প্রথম হাজিরা হওয়ার কথা রয়েছে।

 

গত ৩ আগস্ট জ্যাকসনের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির বাইরে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাসিয়ার মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের ভাষ্য, মরদেহে তখন পচন ধরার বিভিন্ন পর্যায়ের চিহ্ন ছিল।

 

জ্যাকসন পুলিশের প্রধান রাশাল ব্র্যাকনি শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগের রাতে রাজ্যের মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয় তাসিয়ার মৃত্যুকে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপরই তদন্তে নতুন করে গতি আসে।

 

পুলিশ দুটি তল্লাশি পরোয়ানা এবং একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একটি নির্দিষ্ট স্থানে র‍্যাটলিফকে খুঁজতে গিয়ে পুলিশ তাঁকে না পেয়ে সদর দপ্তরে ফিরছিল। এ সময় শহরের একটি রাস্তায় হাঁটারত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পেয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, তাসিয়ার সঙ্গে র‍্যাটলিফের কোনো ধরনের পরিচয় বা সম্পর্ক ছিল। তবে তাদের সম্পর্কের ধরন কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি পুলিশ প্রধান।

 

ব্র্যাকনি বলেন, তাসিয়াকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে বা হত্যার পেছনে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে এখনই কোনো অনুমান করতে চায় না পুলিশ। তদন্তে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতেই সবকিছু পরিষ্কার হবে।

 

তিনি বলেন, “এই গ্রেপ্তার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে এটিই তদন্তের শেষ নয়।”

 

তাসিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় এরই মধ্যে প্রায় ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ এবং বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত চালানো হয়েছে।

 

তাসিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় কমিউনিটিতেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ, এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মিসিসিপিতে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আরও দুজনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

 

এর মধ্যে ২১ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থী ট্রে রিডকে ডেল্টা স্টেট ইউনিভার্সিটির কাছে এবং ভিক্সবার্গে ৩০-এর কোঠায় থাকা গৃহহীন শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি কোরি জুকাটিসকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ তাদের দুজনের মৃত্যুকেই আত্মহত্যা বলে জানিয়েছিল।

 

তাসিয়ার ঘটনায় অবশ্য তদন্তের চিত্র ভিন্ন। ময়নাতদন্তে তাঁর মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এরই মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

তবে পুলিশ প্রধান স্পষ্ট করে বলেছেন, র‍্যাটলিফের গ্রেপ্তারকে তদন্তের সমাপ্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তদন্ত এখনো চলছে এবং সামনে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ইরফান আল-হুসাইনি—স্মৃতিতে বেঁচে থাকা এক তরুণের করুণ পরিণতি
স্বাধীন ফরেনসিক পরীক্ষার দাবি, ১৪ হাজার স্বাক্ষর- তবু দাফন হয়ে গেল ইরফানের

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলাদেশি গবেষক ও প্রযুক্তিবিদ ইরফান আল হুসেইনীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সান্টা ক্লারার এমসিএ ফিউনারেল হোমে জোহরের নামাজের পর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রেই তাকে দাফন করা হয়। তবে দাফন সম্পন্ন হলেও ইরফানের মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্ন এখনো কাটেনি। পরিবারের দাবি, সরকারি ময়নাতদন্তের পাশাপাশি তারা স্বাধীন ফরেনসিক পরীক্ষা চেয়েছিল। সেই দাবি পূরণ হওয়ার আগেই দাফন হয়ে যাওয়ায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়ে গেছে। গত ২২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে নিজের বাসায় গুরুতর আহত অবস্থায় ইরফানকে পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আট দিন পর, ৩০ জুলাই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছে না ইরফানের পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা। পরিবারের দাবি, ঘটনার আগে ইরফান স্বাভাবিক ছিলেন। ঘটনার দিন ২২ জুলাই সকালে তিনি অফিসের একটি প্রেজেন্টেশনেও অংশ নেন। পরে অসুস্থ বোধ করায় দিনের বাকি সময় ছুটি নেওয়ার কথা সহকর্মীদের জানান। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পরিবার স্বাধীন ফরেনসিক পরীক্ষা চেয়েছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে একজন স্বাধীন চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া আর এগোয়নি। এর মধ্যেই ইরফানের জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। পরিবার দাফন বিলম্বিত করার অনুরোধ জানিয়েছিল। তাদের ইচ্ছা ছিল মরদেহ বাংলাদেশে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার। তবে ইরফানের স্ত্রী ফাবিয়া ফারলিন এথেনার আইনজীবীর বরাতে জানা গেছে, ধর্মীয় কারণে দ্রুত দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্বাধীন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে বিদ্যমান নথি ও প্রমাণ পর্যালোচনায় তাদের আপত্তি নেই বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে সান্তা ক্লারা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের অফিস গত ৩১ আগস্ট পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত করে। তবে পরিবারের দাবি ছিল, সরকারি ময়নাতদন্তের বাইরে স্বাধীন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পৃথক পরীক্ষা করা। ইরফানের মৃত্যুর তদন্ত নিয়েও পরিবারের প্রশ্ন রয়েছে। তাদের অভিযোগ, পালো আল্টো পুলিশ ও কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তরের মধ্যে তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এ বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টাকে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেছিল পরিবার। ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণ, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং স্বাধীন পরীক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এ দাবিতে করা আবেদনে ১৪ হাজারের বেশি মানুষের স্বাক্ষরও পড়ে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরে পরিবার। ইরফানের বোন সারা পালো আল্টো সিটি মেয়র ও সিটি কাউন্সিলের সামনে বক্তব্য দেন। সেখানে পরিবারের উদ্বেগ তুলে ধরে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। দাফনের আগে স্বাধীন ময়নাতদন্তের অনুমতি চেয়ে ইরফানের বাবা-মা ও বোনেরা আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে আদালত তাদের আবেদন নাকচ করে দেয়। ইরফান আল হুসেইনী ছিলেন বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদ ও গবেষক। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়াশোনা করেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং ও স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি নিয়ে তার গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ায় ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করেন। জর্জিয়া টেকের তথ্য অনুযায়ী, ইরফান ও তার স্ত্রী ফাবিয়া ফারলিন এথেনা দুজনই সেখানে ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২২ সালে তাদের বিয়ে হয় এবং ২০২৪ সালে দুজনই পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ইরফানের দাফন সম্পন্ন হলেও তার মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে পরিবারের প্রশ্নের অবসান হয়নি। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘটনাটি আত্মহত্যা হলেও পরিবার বলছে, মৃত্যুর ঘটনাটি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে গুরুতর আহত হওয়ার আগে কী ঘটেছিল, জরুরি সেবা ৯১১-এ কলের আগে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, শারীরিক ও টক্সিকোলজি পরীক্ষায় কী পাওয়া গেছে এবং মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করার পেছনে কী কী প্রমাণ রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের ভাষ্য, স্বাধীন ফরেনসিক পরীক্ষা হলে এসব প্রশ্নের আরও নির্ভরযোগ্য উত্তর পাওয়া যেত। কিন্তু জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় এখন সেই ধরনের স্বাধীন পরীক্ষার সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে ইরফান আল হুসেইনীর দাফন সম্পন্ন হলেও তার মৃত্যুকে ঘিরে থাকা প্রশ্নগুলো এখনো রয়ে গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৫:৫৭
তাসিয়া ফরচুনের স্মরণে ফুল ও খেলনা দিয়ে সাজানো হয়েছে স্মৃতিচিহ্ন

পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে গাছে ঝুলছিল তাসিয়া, ময়নাতদন্তে বেরিয়ে এলো হত্যার রহস্য

নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ

নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ, প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

সাংবাদিকের দিকে তেড়ে গেলেন ট্রাম্প

৫ হাজার ডলারের চেক নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিকের দিকে তেড়ে গেলেন ট্রাম্প, বললেন, 'নট ইউ'

২ যুগের মার্কিন যুদ্ধে ৩ হাজার নিহতের বদলায় প্রাণ গেছে ৪৫ লাখ মানুষের
২ যুগের মার্কিন যুদ্ধে ৩ হাজার নিহতের বদলায় প্রাণ গেছে ৪৫ লাখ মানুষের

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর শুরু হওয়া ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ ২৫ বছরে যুদ্ধ ও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে অন্তত ৪৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্প। এই হিসাবের মধ্যে সরাসরি সহিংসতায় নিহতের পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থা, অর্থনীতি ও অবকাঠামো ধ্বংসের ফলে পরোক্ষ মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার হামলায় নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ও পেনসিলভানিয়ায় মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। ওই হামলার পর আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে ২০০৩ সালে ইরাকে আক্রমণসহ মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক অভিযান বিস্তৃত হয়।   ব্রাউন ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন ও পাকিস্তানে যুদ্ধের সরাসরি সহিংসতায় ৯ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৩২ হাজারের বেশি ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।    তবে যুদ্ধের প্রকৃত মানবিক ক্ষয়ক্ষতি আরও অনেক বেশি বলে গবেষণাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো ভেঙে পড়া, অর্থনৈতিক সংকট, রোগের বিস্তার এবং খাদ্য ও পানির সংকটের মতো পরোক্ষ প্রভাবে আরও প্রায় ৩৬ থেকে ৩৮ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ৪৫ থেকে ৪৭ লাখ হতে পারে।    গবেষকদের মতে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও এর মানবিক ক্ষতি থেমে যায় না। বোমা হামলা ও সামরিক সংঘাতের সরাসরি প্রাণহানির পাশাপাশি ধ্বংস হয়ে যাওয়া হাসপাতাল, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং জনসেবার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বহু বছর ধরে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে রাখে। এ কারণে যুদ্ধের মোট প্রাণহানির সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন।    ব্রাউন ইউনিভার্সিটির আগের হিসাবেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধগুলোর বিপুল মানবিক ও আর্থিক ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। ২০২১ সালের ২০ বছর পূর্তির হিসাবে শুধু যুদ্ধগুলোর সরাসরি মৃত্যুই ৯ লাখের বেশি বলে জানানো হয়েছিল এবং এসব সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।    এদিকে ১১ সেপ্টেম্বর হামলার ২৫ বছর পূর্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে নিহতদের স্মরণ করার পাশাপাশি পরবর্তী যুদ্ধগুলোর মানবিক মূল্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এসব সামরিক অভিযানের প্রভাব এখনো যুদ্ধকবলিত দেশগুলোর মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর ওপর রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১:১
বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পরও সোমালিকে গুয়ানতানামো বে-তে পাঠাল আইসিই

বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পরও সোমালিকে গুয়ানতানামো বে-তে পাঠাল আইসিই

অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তের কথা জানিয়েছেন মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

ভাইকে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রে আনার অভিযোগ, ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে

৯/১১ হামলায় নিহত স্বামী টম স্ট্রাডার নামের পাশে টেরি স্ট্রাডা। ছবি: সংগৃহীত

৯/১১ হামলায় সৌদি যোগসূত্রের অভিযোগ, ২৫ বছর পরও জবাব চান নিহতদের স্বজনেরা

ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে অবৈধ অভিবাসীর হাতে নির্মম হত্যার শিকার হয়েছেন শলিনী ঠাকুর। ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ অভিবাসীর হাতে নারীর মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিবাসন নীতি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার এক নারীকে হত্যার ঘটনায় রাজ্যটির অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৩৮ বছর বয়সী শালিনী ঠাকুরকে গত ৮ সেপ্টেম্বর স্যাক্রামেন্টোর একটি শপিং সেন্টারের বাইরে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ থাকা ২২ বছর বয়সী রোহিত রোহিত পরে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের সময় নিজের গুলিতে মারা যান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   মামলাটিতে শালিনীর পরিবারের পক্ষ থেকে আগে থেকেই প্রশাসনের কাছে সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, রোহিতের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ, হয়রানি, তাঁর গাড়িতে হস্তক্ষেপ এবং হুমকির অভিযোগ করেছিলেন শালিনী। মে মাসে তিনি রোহিতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আদেশও নিয়েছিলেন। জুলাইয়ে সেই আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনি আবার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।   স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর হাও অ্যাভিনিউ ও নর্থরপ অ্যাভিনিউ এলাকার একটি শপিং সেন্টারে গুলির ঘটনা ঘটে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, শালিনী কর্মস্থলে পৌঁছানোর পর রোহিত তাঁর কাছে এগিয়ে যান। তিনি পালানোর চেষ্টা করলে রোহিত তাঁকে অনুসরণ করে গুলি করেন। পরে রোহিত গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পুলিশ দ্রুত তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে এবং হাইওয়ে ৫০ এলাকায় তাঁর গাড়ি থামায়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের পর তিনি নিজের গুলিতে মারা যান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি করোনার অফিস বৃহস্পতিবার নিহত নারীর পরিচয় শালিনী ঠাকুর হিসেবে নিশ্চিত করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁর পরিবারের সদস্যদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, শালিনী ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান এবং তাঁর মা দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।   এদিকে শুক্রবার মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, রোহিত ভারতের নাগরিক এবং ২০২৩ সালে অ্যারিজোনা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। সীমান্তে তাঁকে আটক করেছিল মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তবে পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন।   এই তথ্য প্রকাশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার তথাকথিত ‘অভয়ারণ্য আইন’ বা স্যাংচুয়ারি নীতিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। ফেডারেল কর্মকর্তারা যুক্তি দিচ্ছেন, রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা সীমিত থাকায় অভিবাসন আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়ে।   তবে ক্যালিফোর্নিয়ার আইন সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব আইন স্থানীয় পুলিশকে অপরাধ তদন্ত বা অপরাধের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা থেকে বিরত রাখে না। ২০১৭ সালে কার্যকর হওয়া সিনেট বিল ৫৪, যা ‘ক্যালিফোর্নিয়া ভ্যালুজ অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত, মূলত রাজ্য ও স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে সহায়তার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। আইনটিতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এসব বিধান স্থানীয় পুলিশকে অপরাধ তদন্ত, আটক বা গ্রেপ্তার থেকে বিরত রাখে না। তবে অভিবাসন আইন প্রয়োগের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তিকে তদন্ত, আটক বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংস্থাগুলোর ভূমিকা সীমিত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগও রয়েছে।   ফেডারেল কর্মকর্তাদের সমালোচনার একটি বড় অংশ স্থানীয় কারাগার থেকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যক্তিকে হস্তান্তর এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার নিয়মকে ঘিরে। ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, সাধারণভাবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুধু ফেডারেল অভিবাসন অনুরোধের ভিত্তিতে কাউকে অতিরিক্ত সময় আটক রাখা বা হস্তান্তর করা সীমিত। তবে বৈধ বিচারিক পরোয়ানা বা আইনে নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত থাকলে ভিন্ন ব্যবস্থা হতে পারে।   ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে এই সীমাবদ্ধতা মোকাবিলায় ‘অপারেশন গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’ নামে একটি কর্মসূচি চালু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ৭৬৯টি ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং ৩৬২ জনকে স্থানীয় কারাগার থেকে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৪৭ জনের বিরুদ্ধে অপসারণের পর অবৈধভাবে আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা বা অন্য কোনো ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে।   তবে এই কর্মসূচি বর্তমানে মূলত দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সাতটি কাউন্টিতে কার্যকর। ফলে স্যাক্রামেন্টোসহ উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার ক্ষেত্রে এর সরাসরি প্রভাব নেই। এই সীমাবদ্ধতাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শালিনী ঠাকুরের ঘটনাটি স্যাক্রামেন্টো কাউন্টিতে ঘটেছে।   শালিনী হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে এখনো এমন কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাংচুয়ারি আইন সরাসরি তাঁর হত্যাকাণ্ডের কারণ হয়েছে। বরং নিশ্চিতভাবে যা জানা যাচ্ছে তা হলো, তিনি রোহিতের বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশ নিয়েছিলেন এবং জুলাইয়ে সেই আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগও জানিয়েছিলেন। পরে সেপ্টেম্বরের ৮ তারিখে তিনি গুলিতে নিহত হন।   ঘটনাটি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব এবং জননিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে পুরোনো বিতর্ককে সামনে এনেছে। ফেডারেল কর্মকর্তারা স্থানীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে আরও বেশি সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার বলছে, স্থানীয় পুলিশকে মূলত স্থানীয় অপরাধ মোকাবিলায় মনোযোগ দেওয়া উচিত এবং ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগ ফেডারেল সরকারের দায়িত্ব।   শালিনী ঠাকুর হত্যার তদন্ত এবং তাঁর আগে করা অভিযোগগুলো নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিবাসন নীতির কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   সূত্র: কেসিএএআর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ২২:৪৪
৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহের প্রস্তাবের অন্যতম উদ্যোক্তা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার বদলে ৩২ ঘণ্টা কাজের প্রস্তাব, কংগ্রেসে নতুন বিল

দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে বিয়ে করেন কাপ্রি ডিরামাস ও তায়াসিয়া থমাস। ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বর, হাসপাতালেই বিয়ে সারলেন নবদম্পতি

আইসের হাতে আটক হুয়ান মার্তিনেজ। ছবি: সংগৃহীত

২৫ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, গ্রিন কার্ডের আবেদন চলাকালে আইসের হাতে আটক

0 Comments