যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের যৌথ মহড়া শেষ হতেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার একদিন পর পূর্ব উপকূল থেকে সাগরের দিকে একাধিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। শনিবার স্থানীয় সময় ভোরে চালানো এই উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় শহর ওনসানের এলাকা থেকে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এগুলো প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ব সাগরে গিয়ে পড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সুনির্দিষ্ট ধরন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিস্তারিত বিশ্লেষণ চলছে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উৎক্ষেপণের শুরু থেকেই উত্তর কোরিয়ার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। জাপানের সঙ্গেও এ বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে। সম্ভাব্য আরও উৎক্ষেপণের আশঙ্কায় দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী নজরদারি ও সতর্কতা জোরদার করেছে।
উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তর জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক করে। বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ঘটনাটিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে এবং উত্তর কোরিয়াকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ উৎক্ষেপণ তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড বা দেশটির মিত্রদের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করেনি। তবে দক্ষিণ কোরিয়াসহ আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতিরক্ষায় ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি বহাল রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণটি এমন সময়ে হলো, যখন দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান তাদের পাঁচ দিনের ‘ফ্রিডম এজ’ যৌথ সামরিক মহড়া শেষ করেছে। ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ উপকূলের জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মোকাবিলায় তিন দেশের সামরিক সমন্বয় ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোই ছিল মহড়ার অন্যতম লক্ষ্য।
উত্তর কোরিয়া শুরু থেকেই এই মহড়ার বিরোধিতা করে আসছিল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম সং-গি মহড়া শুরুর দিন সতর্ক করে বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়া শক্ত অবস্থান থেকে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে সম্ভাব্য আগ্রাসনের প্রস্তুতি হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া প্রায়ই দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়ার সময় বা তার পরপরই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। গত ২০ আগস্টও দেশটি পূর্ব সাগরের দিকে একাধিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এবার ২৩ দিনের বিরতির পর আবারও একই ধরনের উৎক্ষেপণ করা হলো।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে দেশটি ‘ক্যাং কন’ নামে প্রায় ৫ হাজার টন ওজনের একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে যুক্ত করেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন জানিয়েছেন, জাহাজটি দেশটির পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে তাই শুধু সামরিক মহড়ার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং দেশটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা প্রদর্শনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে উৎক্ষেপণটি যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সামরিক হামলার প্রস্তুতি নির্দেশ করে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আল জাজিরা
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreনেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পর্যটন এলাকা ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপ ও অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযোগে ১০ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে সবাইকে আরও তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের জন্য দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগে পাঠানো হয়েছে। নেপালের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঠামেলের হোটেল ঢাকা এক্সপ্রেস, হোটেল ডি ভেদা এবং হোটেল আল রহমানসহ কয়েকটি স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়। কাঠমান্ডু ভ্যালি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিসের পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশি নাগরিকদের অবৈধ অবস্থান ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন ফাহিমা আক্তার হাসান, মাহমুদ, মাহবুব হাসান, রিপন মাহমুদ, এমডি কেরামত আলী খান, শহিদুর রহমান, এমডি খলিলুর রহমান, আরিফুর রহমান, এমডি মারুফ মৃধা এবং মোহাম্মদ হানিফ মিয়া। তাদের বয়স ২৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাদের বাংলাদেশের গাজীপুরের গাজীপুর সদর ও গাছাবাড়ি পুলিশ স্টেশন এলাকার বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নেপালের ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক টিকারাম ধাকাল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে আটক ব্যক্তিদের একজনের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি নেপালে অবস্থান করছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশের বরাতে আরও বলা হয়েছে, দলটির সদস্যরা ঠামেলের মুসলিমা টোল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মারামারি এবং ভিসায় যে উদ্দেশ্যে নেপালে প্রবেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, তার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আরেক বাংলাদেশি নারী খাতুন-ই-জান্নাত বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি। নেপালে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে এর আগেও তরুণদের উন্নত দেশে পাঠানোর কথা বলে বাংলাদেশ থেকে নেপালে নেওয়া এবং তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তদন্তের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে বর্তমান ১০ জনের বিরুদ্ধে ওই আগের অভিযোগগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। সর্বশেষ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
“সুযোগ পেলে আবারও করতাম” জার্মান নারীকে ৩৩ ছুরিকাঘাতে হত্যা সোমালি অভিবাসীর
যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের যৌথ মহড়া শেষ হতেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
মার্কিন ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলায় চীনা স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করেছে ইরান
শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের নিয়ে নতুন একটি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বিদেশি শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কাজের জন্য রাশিয়ায় আনা হবে এবং কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।. রাশিয়ার প্রথম উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভিবাসনবিষয়ক বিভাগের প্রধান আন্দ্রেই কিকোত বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পুতিন প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটিকে ‘সভ্য পদ্ধতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে নিউজউইকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কোনো রুশ প্রতিষ্ঠান বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় অভিবাসন পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এরপর বিশেষায়িত একটি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় শ্রমিক খুঁজে দেবে। কর্মীর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে রাশিয়ায় নিয়ে আসা হবে এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে। কর্মীদের জন্য নির্ধারিত আবাসনের ব্যবস্থা করবে নিয়োগকর্তা। কর্মস্থলে যাতায়াতের ব্যবস্থাও থাকবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে কর্মীকে আবার রাশিয়ার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কিকোত এই ব্যবস্থাকে ‘বাড়ি, কাজ, বাড়ি’ মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিকল্পনাটি আগামী বছর থেকে ধাপে ধাপে চালু করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবটি এখনো রুশ পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়নি। রাশিয়ায় বর্তমানে শ্রমিকের ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির বেকারত্বের হার মে মাসে ঐতিহাসিকভাবে কমে ২ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছিল। বর্তমানে তা প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থনৈতিক উন্নয়নমন্ত্রী মাকসিম রেশেতনিকভ চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়াকে ‘শ্রমিক ঘাটতির অর্থনীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এই সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক রুশ নাগরিক সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন জুনে জানিয়েছিলেন, ৭ লাখের বেশি রুশ সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন রয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ২ লাখ মানুষ সামরিক বাহিনীতে চুক্তিভিত্তিকভাবে যোগ দিয়েছেন। একই সময়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণও বেসামরিক খাত থেকে কর্মী টেনে নিচ্ছে। ফলে বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন। রাশিয়ার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দ্রুত কমে যাচ্ছে। ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা চলতি দশকের শেষ নাগাদ প্রায় ৬৩ লাখ কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী তাতিয়ানা গোলিকোভা জানিয়েছেন, ২০৩২ সালের মধ্যে অবসর নেওয়া প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ কর্মীর জায়গা পূরণ করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি শ্রমিক আনা রাশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হতে পারে। তবে অভিবাসন নীতিতে মস্কোর সাম্প্রতিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে কঠোর। পুতিনের একটি ডিক্রিতে রাশিয়ার জনসংখ্যা ও শ্রমবাজার বৃদ্ধির প্রধান উৎস হিসেবে দেশের নিজস্ব জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে অভিবাসন নিয়ে ২২টি পৃথক আইন পাস করা হয়েছে। কিকোত পুতিনকে জানিয়েছেন, গত ১৮ মাসে প্রায় ১ লাখ বিদেশিকে রাশিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজারকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে। নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে রাশিয়া একদিকে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মী নিতে চায়, অন্যদিকে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসনে উৎসাহিত করতে চায় না। ফলে বিদেশি শ্রমিকদের নির্দিষ্ট চাকরি ও চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রেখে কাজ শেষ হওয়ার পর দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও এ ব্যবস্থার কিছু মিল রয়েছে। দেশটিতে নির্দিষ্ট খাতের জন্য এইচ-২ ভিসায় বিদেশি অস্থায়ী কর্মীরা কাজ করতে পারেন। ২০২৬ অর্থবছরের জন্য মার্কিন সরকার অতিরিক্ত ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি অস্থায়ী কর্মী ভিসার অনুমতি দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে কর্মী সংকটের কথা জানিয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান হারানো বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি কর্মীর জন্য তুলনামূলক বেশি সুযোগ রয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ভিসায় থাকা কর্মীরা চাকরি হারানোর পর সাধারণত ৬০ দিন পর্যন্ত নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগ পেতেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রেও সম্প্রতি এ বিষয়ে পরিবর্তনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বিভিন্ন ভিসা শ্রেণির কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের এই সময়সীমা বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চাকরির ভিত্তি শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে। তবে এইচ-২ ভিসার কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের সুরক্ষা বহাল রাখার কথা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য ইতিমধ্যে আরও কিছু কঠোর নিয়ম চালু হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর করের বোঝা বাড়ানোর একটি আইন পুতিন জুলাইয়ে স্বাক্ষর করেছেন। রাশিয়ায় থাকা নির্ভরশীল প্রতিটি সন্তানের জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মাসিক করের পরিমাণ আরও ৫০ শতাংশ বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের সন্তানদের রুশ স্কুলে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রেও গত বছর থেকে কঠোর নিয়ম চালু করা হয়েছে। রুশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এসব নিয়ম চালুর পর কর্মহীন অভিবাসীদের সংখ্যা কমেছে। তবে নতুন প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ধরন আরও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। কর্মীদের নিজস্বভাবে চাকরি খোঁজা বা এক নিয়োগকর্তা থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও রাশিয়া একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসন কমিয়ে রাখতে চাইছে। প্রস্তাবিত ‘বাড়ি, কাজ, বাড়ি’ মডেল সেই দুই নীতির মধ্যে সমন্বয় করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: নিউজউইক
নরওয়ের রাজা হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যের দুই দিন পর মারা গেলেন রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড
মালদ্বীপে বাংলাদেশি বাবুলকে ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ ঘোষণা, তথ্য পেতে সহায়তা চায় কর্তৃপক্ষ
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় গিয়ে ২৬ বছর বয়সী যুবকের শরীরে মিলল জরায়ু, আতঙ্কে যুবক
ভারত সফরে এসে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি ডিউটি-ফ্রি দোকানে পরিবারের সদস্যদের পাসপোর্ট স্ক্যান করার অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক ভারতীয় দম্পতি। তাদের অভিযোগ, কেনাকাটা না করা পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি নয় মাস বয়সী শিশু ও টডলারের পাসপোর্টও স্ক্যান করা হয়। বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দিল্লি পৌঁছানোর পর টার্মিনাল ৩-এর ইমিগ্রেশন এলাকা পার হয়ে একটি ডিউটি-ফ্রি দোকানে যায়। পরিবারের এক সদস্য সেখানে মদের একটি বোতল কেনেন। এরপর দোকানের কর্মীরা পরিবারের অন্য সদস্যদের পাসপোর্টও স্ক্যান করেন বলে অভিযোগ করেছেন পূজা তোমর সিকারওয়ার। পূজার দাবি, তার নয় মাস বয়সী শিশু ও টডলার সন্তানের পাসপোর্টও স্ক্যান করা হয়। তার স্বামী কেন অন্য সদস্যদের পাসপোর্ট স্ক্যান করা হচ্ছে জানতে চাইলে কর্মীরা নাকি অফার যাচাইয়ের কথা জানান। এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে পাসপোর্টের তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশের পর দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, যাত্রীদের পাসপোর্ট বা ব্যক্তিগত তথ্য অননুমোদিত কিংবা অনুপযুক্তভাবে ব্যবহার বা স্ক্যান করা হয়ে থাকলে তা গুরুতর বিষয় এবং অভিযোগটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হবে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য যাচাই করতে পরিবারটির যোগাযোগের নম্বর এবং বিমানবন্দরে তাদের যাতায়াত ও ডিউটি-ফ্রি দোকান পরিদর্শনের বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পাসপোর্ট স্ক্যানের ঘটনাটি অননুমোদিত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই এ বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে।
রাশিয়ার ৫০ ফুট সোভিয়েত যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ঘিরে জাপানের ক্ষোভ
ব্রিকস সম্মেলনের আগে মোদি-পুতিন বৈঠক, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় জোর