- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে একসময় যেখানে নিয়মিত মদের আসর বসত, আজ সেখানে আজানের ধ্বনি আর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের সুর ভেসে আসে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরম শান্তিতে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। চট্টগ্রামের রাউজানের সন্তান ও লন্ডনপ্রবাসী বিশিষ্ট বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জিয়া বিন রাসেলের একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই অভাবনীয় পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে তিনি একটি পুরোনো মদের বার কিনে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরিত করেছেন। প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, রূপান্তরিত এই সম্পত্তিটির বর্তমান বাজারমূল্য সাড়ে ৪ মিলিয়ন (৪৫ লাখ) পাউন্ড ছাড়িয়েছে। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসা থেকে তিনি এই মসজিদটির নামকরণ করেছেন নিজের মায়ের নামে। তবে শুধু পূর্ব লন্ডনের এই মসজিদ নির্মাণেই জিয়া বিন রাসেলের দাতব্য কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নেই। প্রচারের আড়ালে থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশে-বিদেশে বহুমুখী মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন। ফিলিস্তিনের গাজা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে অসহায় পরিবারগুলোর জন্য রান্না করা খাবার, রুটি, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশে শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের সহায়তা, পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন ও আর্থিক অনুদান প্রদান, দুর্যোগ ও বন্যা মোকাবিলায় ত্রাণ বিতরণ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাদ্রাসাগুলোতে কোরআনিক শিক্ষায় নিয়মিত সহায়তা করে আসছেন তিনি। তার এই নিরবচ্ছিন্ন সহায়তায় ইতোমধ্যে অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করার সুযোগ পেয়েছেন। বাংলাদেশে তার দীর্ঘমেয়াদি মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাভারের নবীনগরে ‘হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ’-এর অধীনে প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি বিশেষ দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষদের সম্মানজনকভাবে বাঁচার ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জিয়া বিন রাসেল বর্তমানে এই দাতব্য সংস্থাটির একজন সম্মানিত উপদেষ্টা ও অভিভাবক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। প্রচারবিমুখ এই মানুষটির অসংখ্য মহৎ কাজই কোনো ছবি বা ভিডিও ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। তবে কেবল সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের মানবিক কাজে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যেই তার সহকর্মীরা সম্প্রতি কিছু উদ্যোগ জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। লন্ডনে বার থেকে মসজিদ নির্মাণ হোক কিংবা গাজা-সুদানের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—তার প্রতিটি পদক্ষেপই মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে খুনি ভাড়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। ‘টিন্ডার’-এর মাধ্যমে পেশাদার খুনি ভাড়া করে নিজের সাবেক প্রেমিক এবং তার কিশোরী মেয়েকে হত্যার ছক কষার অভিযোগে জ্যাকলিন ডিওরিও নামের ২৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে অভিযুক্ত করেছে মার্কিন ফেডারেল প্রশাসন। পেশায় হেয়ারড্রেসার এই তরুণীর বিরুদ্ধে আন্তঃরাজ্য বাণিজ্য সুবিধা ব্যবহার করে ভাড়ায় খুনের ষড়যন্ত্রের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন আদালতের তথ্য অনুযায়ী, জ্যাকলিনের সাবেক প্রেমিক ম্যাথিউ ও’হ্যানলন ফিলাডেলফিয়া পুলিশ বিভাগের একজন কর্মকর্তা। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার প্রায় এক মাস পর জ্যাকলিন টিন্ডারে এক ‘হিটম্যান’ বা ভাড়াটে খুনির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সাবেক প্রেমিক ও তার ১৯ বছর বয়সী মেয়েকে হত্যার প্রস্তাব দেন। তবে জ্যাকলিন যাকে খুনি ভেবেছিলেন, তিনি আসলে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন গোপন সোর্স বা চর। গত ৩১ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের মধ্যে একাধিক বার্তা ও ফোন কলে এই জোড়া খুনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এমনকি জ্যাকলিন ওই গোপন সোর্সের সঙ্গে দেখা করে ১২ হাজার ডলারের চুক্তির অংশ হিসেবে অগ্রিম ৫০০ ডলার নগদ প্রদান করেন। চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই ওই সোর্স স্থানীয় পুলিশকে সতর্ক করে দেন। এরপর গত এপ্রিলে গ্লুচেস্টার টাউনশিপ এলাকা থেকে জ্যাকলিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের স্পেশাল রেসপন্স টিম। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে লেবেলবিহীন কিছু সন্দেহভাজন পিল পাওয়া যায়। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এটিই জ্যাকলিনের প্রথম হত্যাচেষ্টা ছিল না। এর আগেও তিনি অন্য লোকদের ভাড়া করার চেষ্টা করেছিলেন, যারা তাকে খুনের ভুয়া ছবি দেখিয়ে প্রতারণা করেছিল। বর্তমানে জ্যাকলিন ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন। যদিও তার আইনজীবীর দাবি, পুলিশ ফাঁদ পেতে সোর্সের মাধ্যমে তার মক্কেলকে ফাঁসিয়েছে। তবে আগামী দিনে আদালতে এই সুপরিকল্পিত খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণিত হলে জ্যাকলিনের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণের চিত্র নিয়ে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ২০ শতাংশই শৈশবে অন্য ধর্ম বা ধর্মহীন পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। পরবর্তীতে তারা ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। জরিপের আওতাভুক্ত ১৩টি দেশের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের এই হার যুক্তরাষ্ট্রেই সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। গবেষণার তথ্যমতে, নতুন ধর্মান্তরিত হওয়া এসব মুসলিমের ১৭ শতাংশ শৈশবে অন্য কোনো ধর্মীয় পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন, যাদের একটি বড় অংশই এসেছেন খ্রিষ্টান পরিবার থেকে। বাকি ৩ শতাংশের শৈশবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয় ছিল না। জীবনের নানা পর্যায়ে ইসলামের একত্ববাদ, প্রার্থনার নিয়ম, আধ্যাত্মিকতা, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তারা ধীরে ধীরে এই ধর্মটি গ্রহণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষের ইসলাম গ্রহণের যে দাবিটি প্রচলিত রয়েছে, পিউ রিসার্চ নির্দিষ্ট করে সেই বার্ষিক পরিসংখ্যান নিশ্চিত না করলেও দীর্ঘমেয়াদে ধর্ম পরিবর্তনের এই বৃহৎ ও ধারাবাহিক চিত্রটি তুলে ধরেছে। তবে গবেষণায় এ-ও বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিকভাবে মুসলিম জনসংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। ইসলাম গ্রহণের পাশাপাশি ধর্ম ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও সেখানে রয়েছে, যা অনেকটাই পরস্পরকে ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। বরং দেশটির মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে অভিবাসন, জন্মহার এবং জনসংখ্যার বয়স কাঠামো সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। তা সত্ত্বেও, বর্তমান মার্কিন মুসলিম সমাজের এক-পঞ্চমাংশই যে নতুন করে ইসলামের ছায়াতলে এসেছেন, তা সেখানকার মুসলিম কমিউনিটির একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হিসেবেই স্বীকৃতি পাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিউইয়র্কের শৈশবের বাড়িটি আবারও হাতবদল হয়েছে। আট মাসের ব্যাপক সংস্কারকাজের পর জ্যামাইকা এস্টেটস এলাকায় অবস্থিত টিউডর-শৈলীর এই ঐতিহাসিক বাড়িটি সম্প্রতি ১.৯৩ মিলিয়ন বা ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ‘রি/ম্যাক্স এজ’-এর লিস্টিং এজেন্ট জো ঝু আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত বছর ডেভেলপার টমি লিন যখন জরাজীর্ণ অবস্থায় বাড়িটি কিনেছিলেন, তখন এর দাম ছিল ৮ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। এরপর তিনি পাঁচ লাখ ডলারের বেশি খরচ করে আট মাস ধরে বাড়িটির পুরো ভোল পালটে ফেলেন। সংস্কারের পর বাড়িটির দাম হাঁকা হয়েছিল ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ডলার। শেষ পর্যন্ত ক্রেতারা এর খুব কাছাকাছি দামেই বাড়িটি কিনে নেন। জো ঝু জানান, বাড়িটির সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম জড়িয়ে থাকায় সম্ভাব্য ক্রেতাদের মধ্যে এটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। অনেকেই কেবল একটি সুন্দর বাড়ির চেয়ে এর ঐতিহাসিক মূল্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ১৯৪০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাবা রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার ফ্রেড ট্রাম্প এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। ট্রাম্পের বয়স যখন চার বছর, তখন তাদের পরিবার জ্যামাইকা এস্টেটসের অন্য একটি বড় বাড়িতে চলে যায়। তবে ৮৫-১৫ ওয়্যারহ্যাম প্লেসের এই বাড়িটি দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত থাকার পর টমি লিনের হাতে নতুন জীবন পেয়েছে। পুরোনো স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ, ভাঙা পাইপলাইন আর ভবঘুরে বিড়ালের আড্ডাস্থল থেকে বাড়িটিতে এখন যুক্ত হয়েছে বিলাসবহুল কিচেন, আধুনিক বাথরুম এবং নজরকাড়া মেঝে। তবে এর বাইরের ঐতিহাসিক টিউডর-শৈলীটি অবিকৃত রাখা হয়েছে। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রথমবার হোয়াইট হাউসে যাওয়ার পর বাড়িটি ২১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল এবং পরে এটি পর্যটকদের জন্য এয়ারবিএনবিতেও (Airbnb) ভাড়া দেওয়া হতো।
অনলাইনে প্রেমের ফাঁদ পেতে শতাধিক মার্কিন নারীর কাছ থেকে প্রায় ৬ মিলিয়ন বা ৬০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ছয় নাইজেরীয় নাগরিককে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ সাইবার অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত এই ছয় প্রতারককে শুক্রবার মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)-এর কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে জালিয়াতির (ওয়্যার ফ্রড) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হবে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহর থেকে এই ছয় নাইজেরীয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা কুখ্যাত আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র 'ব্ল্যাক এক্স'-এর সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে। ইন্টারপোলের মতে, বিশ্বজুড়ে অনলাইনে রোমান্স স্ক্যাম বা প্রেমের প্রতারণা, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও বিনিয়োগ জালিয়াতির একটি বড় অংশের পেছনে এই চক্রটির হাত রয়েছে। প্রতারকদের মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিক এবং নারী উদ্যোক্তারা। অনলাইনে ভুয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে অত্যন্ত সুকৌশলে তারা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশের মুখপাত্র কাতলেগো মোগালে জানিয়েছেন, ইন্টারপোলের সমন্বয়ে এই ছয় আসামিকে কেপটাউনের একটি কারাগার থেকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে শুক্রবার সকালে পৌঁছানো এফবিআই ও ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত মাসে পশ্চিম আফ্রিকার অপরাধী গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে ইন্টারপোলের এক বিশাল অভিযানে ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গেও একটি বড় অভিযানে ৩৯ জনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ২.৬৭ মিলিয়ন ডলার জব্দ ও ২৫০টির বেশি ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৬৪ হাজারেরও বেশি আমেরিকান এমন রোমান্স স্ক্যামের শিকার হয়ে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খুইয়েছেন, যা মাত্র চার বছর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ৯/১১-এর স্মরণসভা চলাকালে সিটি হলের বাইরে উগ্র ডানপন্থী নেতা জেক ল্যাংয়ের ডাকা এক বিতর্কিত মিছিলে চরম বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার আয়োজিত ‘ক্রুসেডার মার্চ’ নামের এই চরমপন্থী ও ইসলামবিদ্বেষী কর্মসূচিতে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক হাতাহাতির সৃষ্টি হয়, যার জেরে অন্তত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রগুলোর তথ্যমতে, লোয়ার ম্যানহাটনের চার্চ স্ট্রিট এবং কোর্টল্যান্ড ওয়ের কাছে উগ্র ডানপন্থী ও এর বিরোধিতাকারী পাল্টা-প্রতিবাদকারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রায় ২০০ জন বিক্ষোভকারী এই ঘটনায় জড়ান। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি জেক ল্যাংয়ের কট্টর সমর্থক নাকি বিরোধী পক্ষের কেউ, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চরমপন্থীদের এই মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার জন্য ঢালাওভাবে ইসলাম ধর্মকে দায়ী করে। এ সময় তাদের হাতে ‘সব মুসলিমকে বিতাড়িত করো’ লেখা উসকানিমূলক প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এই ন্যক্কারজনক দৃশ্য ও বর্ণবাদী আচরণের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা-বিক্ষোভ শুরু করেন বর্ণবাদবিরোধীরা। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় যখন মিছিলে নাৎসিদের স্বস্তিকা চিহ্ন সংবলিত বাহুবন্ধনী পরা একদল নব্য-নাৎসি (neo-Nazis) গোষ্ঠীর উপস্থিতিও চোখে পড়ে। উসকানিমূলক এই জমায়েত এবং এর বিরুদ্ধে হওয়া তীব্র প্রতিবাদ নিউইয়র্কের রাস্তায় সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল কার্যালয় (এইচএইচএস-ওআইজি) ৯৩ মিলিয়ন ডলারের জেনেটিক টেস্ট জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক খাদের খান মোহাম্মদকে খুঁজছে। ৪৬ বছর বয়সী মোহাম্মদের সম্ভাব্য অবস্থান ভারতের হায়দরাবাদ বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মোহাম্মদ মেডিকেয়ারের কাছে জেনেটিক পরীক্ষার নামে বিপুল পরিমাণ ভুয়া ও প্রতারণামূলক ক্লেইম জমা দেওয়ার একটি পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। এসব পরীক্ষার অনেকগুলো অনুমোদিত চিকিৎসক অর্ডার করেননি এবং রোগীদের চিকিৎসায়ও ব্যবহার করা হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মোহাম্মদ চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য তাদের অজান্তে বা অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে জেনেটিক টেস্টের ক্লেইম জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে এইচএইচএস-ওআইজি। এসব চিকিৎসকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেডিকেয়ার রোগীদের কোনো চিকিৎসাসংক্রান্ত সম্পর্কও ছিল না। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ টেক্সাসের রিচার্ডসনে অবস্থিত আমেরিকান প্রিমিয়ার ল্যাবসের মালিক ছিলেন। তার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৯৩ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া মেডিকেয়ার ক্লেইম জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে মেডিকেয়ার অন্তত ৬৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুধু ২০২৩ সালের একটি ১০ দিনের সময়েই সন্দেহজনক এসব ক্লেইমের বিপরীতে মেডিকেয়ার প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার জব্দ করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে মোহাম্মদের বিরুদ্ধে হেলথ কেয়ার ফ্রডের অভিযোগে ফেডারেল ইনডাইটমেন্ট দাখিল করা হয়। মার্কিন বিচার বিভাগ তখন জানিয়েছিল, জেনেটিক টেস্টের নামে এমন বিল জমা দেওয়া হয়েছিল, যেগুলো রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল না, যথাযথভাবে অর্ডার করা হয়নি এবং কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষাগুলো আদৌ সম্পন্ন হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ছিল। বর্তমানে এইচএইচএস-ওআইজির মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় মোহাম্মদের নাম রয়েছে। কর্তৃপক্ষ তার সম্ভাব্য অবস্থান হিসেবে ভারতের হায়দরাবাদের কথা উল্লেখ করেছে এবং তাকে শনাক্ত বা তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে মোহাম্মদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মার্কিন কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, অভিযোগ কেবল অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একদিনেই নিজের দুই ঘনিষ্ঠ বান্ধবীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত নারী প্রথমবার সান্তা ক্লারা কাউন্টি আদালতে হাজির হয়েছেন। ৩৩ বছর বয়সী অ্যানিলা বেবির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সান হোসে এলাকায় অ্যান মেরি ম্যাথিউকে শ্বাসরোধ ও ছুরিকাঘাতে হত্যার মাত্র দেড় ঘণ্টার মাথায় মিলপিটাসে অঞ্জনা হরি নামের আরেক বান্ধবীকে গাড়িচাপা দিয়ে খুন করেন। ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার বা পূর্বপরিকল্পিত খুনের এই জোড়া অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে ৫০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। তদন্তকারীদের তথ্যমতে, গত ২৮ আগস্ট সান হোসের লিন্ডা ভিস্তা স্ট্রিটে ম্যাথিউয়ের বাড়িতে প্রথম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটররা জানান, অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়িতে হাজির হয়ে অ্যানিলা এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। পরবর্তীতে ম্যাথিউয়ের স্বামী তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এই ঘটনার পরপরই মিলপিটাসের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের পার্কিং লটে অঞ্জনাকে ডেকে পাঠানো হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি গাড়ির সামনে আসতেই চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে তাকে চাপা দিয়ে হত্যা করেন। ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি নিয়ে পালানোর সময় রক্তমাখা পোশাক ও মুখমণ্ডলে আঘাতসহ অ্যানিলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তে আরও জানা যায়, হামলার সময় ম্যাথিউয়ের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলা হলেও বাইরে অ্যানিলার স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায়। ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিসা ম্যাককিউন জানিয়েছেন, দুটি হত্যাকাণ্ডই ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং নৃশংস। ফরেনসিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দুই খুনের যোগসূত্র নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তিনি বলেন, এই ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো অভিযুক্ত ও নিহতরা প্রত্যেকেই মা ছিলেন এবং একে অপরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। ঠিক কী কারণে অ্যানিলা নিজের কাছের বন্ধুদের এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন, তা নিয়ে নিহতদের পরিবার চরম বিভ্রান্তি ও শোকের মধ্যে রয়েছে। আগামী ১৭ নভেম্বর অ্যানিলাকে পুনরায় আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে এবং বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়াই কারাগারে রাখা হয়েছে।
মালাউইয়ের মাঙ্গোচি জেলায় মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সমস্যার কথা বিবেচনা করে ৮৬ বছর বয়সে নিজের অর্থে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন চিকওয়ায়া কামুলোনি। প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মালাউইয়ান কোয়াচা ব্যয়ে নির্মিত মসজিদটি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মালাউই২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাঙ্কি বে এলাকার চিলোম্বো গ্রামে মসজিদটি নির্মাণ করেন কামুলোনি। স্থানীয় মুসল্লিরা আগে একটি অস্থায়ী স্থাপনায় নামাজ আদায় করতেন। বিষয়টি দেখে তাদের জন্য স্থায়ী একটি উপাসনালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেন তিনি। কামুলোনি জানান, মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করেন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। পুরো প্রকল্পের ব্যয় তিনি নিজের অর্থ থেকেই বহন করেছেন। এ কাজে কোনো আর্থিক সহায়তা নেননি বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৮৬ বছর বয়সে সুস্থভাবে পৌঁছাতে পারার জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপায় হিসেবেও তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন। মসজিদটি নির্মাণের আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের নামাজ আদায়ের জন্য দূরের এলাকায় যেতে না হয়। ফলে এটি স্থানীয় মুসলিমদের জন্য নিয়মিত ইবাদতের একটি স্থায়ী জায়গা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২৯ আগস্ট ২০২৬, শনিবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মসজিদটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় কমিউনিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে আশপাশের এলাকার মানুষ ছাড়াও কেপ ম্যাকলিয়ার, মসাকা ও মাঙ্কি বে এলাকার মুসলিম ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নিজের অর্থ ও সামর্থ্য ব্যবহার করে কমিউনিটির প্রয়োজন মেটানোর এই উদ্যোগ মালাউইয়ে প্রশংসা পেয়েছে। ৮৬ বছর বয়সেও কামুলোনি দেখিয়েছেন, বয়স বেশি হলেও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সমাজ ও কমিউনিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।
লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ ‘বাবেল-মানদেব প্রণালি’ অবরুদ্ধ করার লক্ষ্যে ইয়েমেনে নিজেদের বিশেষ সামরিক বাহিনী আইআরজিসি-এর (IRGC) শত শত কর্মকর্তা পাঠিয়েছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক অভিযানে সরাসরি মাঠপর্যায়ে সহায়তা করছে এই ইরানি বাহিনী। টানা সংঘর্ষের পর ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর হাত থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘মোখা’ বন্দরটি পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে হুথিরা। এই বন্দরটি বাবেল-মানদেব প্রণালির খুব কাছে অবস্থিত হওয়ায় পুরো সমুদ্রপথটি এখন হুথি ও ইরানি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়েছে। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে আগে থেকেই ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল থমকে আছে। এর ওপর বাবেল-মানদেব প্রণালিও যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক ধাক্কা খাবে। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে তখন সুয়েজ খালের সংক্ষিপ্ত পথ ছেড়ে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে যাতায়াত করতে হবে। এর ফলে যাতায়াতের সময় ও খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। যদিও ইরান বরাবরের মতো এবারও হুথিদের সরাসরি পরিচালনার কথা অস্বীকার করেছে, তবে মাঠপর্যায়ে ইরানি সৈন্যদের উপস্থিতির প্রমাণ মিলছে। গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথ অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর অন্যতম অভিজাত ও ব্যয়বহুল এলাকা ‘সি ক্লিফ’-এ ৪০ লাখ ডলার মূল্যের একটি বিলাসবহুল বাড়ি দখল করে নিয়েছে একদল অনুপ্রবেশকারী বা ‘স্কোয়াটার’। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে (২০২৫ সালের মে মাস থেকে) এই বাড়িতে অপরিচিত লোকজনের সন্দেহজনক আনাগোনা চলছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। গভীর রাতে অপরিচিতদের সুটকেস নিয়ে গাড়িতে ওঠা থেকে শুরু করে চুরি ও ভাঙচুরের মতো ঘটনায় অতিষ্ঠ প্রতিবেশীরা বাধ্য হয়ে ‘watch 250’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও দীর্ঘ সময় ধরে তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এই অবৈধ দখলের পেছনে রয়েছে ব্র্যানডন অ্যাডি এবং ডায়ানা পেং নামের দুই সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী। পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ভুয়া দলিল ও নোটারি জালিয়াতির মাধ্যমে তারা গত এক বছরে অন্তত সাতবার বাড়িটির মালিকানা নিজেদের মধ্যে হাতবদল করেছে। ব্র্যানডন অ্যাডির বিরুদ্ধে এর আগে ২০০৮ সালে হারিকেন ক্যাটরিনার ত্রাণ তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল। অন্যদিকে ডায়ানা পেং-ও পরিচয় চুরি ও জালিয়াতির দায়ে একাধিকবার সাজা খেটেছেন। এই প্রতারক চক্রটি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে বাড়িটির দখল নিয়ে সেটি কয়েক মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে দেওয়ারও চেষ্টা করেছিল। প্রকৃতপক্ষে বাড়িটির বৈধ মালিক ওয়েই ওয়াং নামের এক চীনা নাগরিক। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারায় ২০১৯ সাল থেকেই বাড়িটি ফাঁকা পড়ে ছিল। অবশেষে টানা অভিযোগ এবং পানির লাইন ভেঙে এলাকায় বড় ধরনের বন্যার পর সান ফ্রান্সিসকো সিটি অ্যাটর্নির কার্যালয় নড়েচড়ে বসেছে। সিটি অ্যাটর্নি ডেভিড চিউ জানিয়েছেন, ভুয়া দলিলের মাধ্যমে বাড়িটি হাতিয়ে নিয়ে বিপুল অর্থ বানানোর এই অবৈধ চক্রের বিরুদ্ধে তারা এরই মধ্যে মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বাড়িটির ৩ লাখ ২৪ হাজার ডলারের বেশি সম্পত্তি কর বকেয়া থাকায় ট্যাক্স কালেক্টর এটি নিলামে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। নিলাম শুরু হতে পারে মাত্র ৫ লাখ ডলারে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার বর্তমান আইনের কারণে অনুপ্রবেশকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে উচ্ছেদ করা পুলিশের জন্য বেশ কঠিন। ফলে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার গ্যাঁড়াকলে পড়ে আপাতত চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই দিন পার করতে হচ্ছে অভিজাত সি ক্লিফ এলাকার বাসিন্দাদের।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ঘটে যাওয়া এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনার পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য এবার প্রকাশ্যে এসেছে। চলতি বছরের জুন মাসে মেকানিকসভিলে চার শিশুসন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর নিজেরাও আত্মহত্যা করেছিলেন এক মা ও নানি। সম্প্রতি প্রকাশিত টক্সিকোলজি বা বিষবিদ্যা রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য তারা মাত্রাতিরিক্ত অ্যালার্জির ওষুধ ব্যবহার করেছিলেন। নিহতরা ছিলেন ৬৪ বছর বয়সী নানি অ্যামি স্টেডম্যান এবং তার ৪৪ বছর বয়সী মেয়ে সারাহ মায়ার্স। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ১০ জুন তারা দুজনেই ‘ডাইফেনহাইড্রামিন’ নামক একটি অ্যান্টিহিস্টামিন বা অ্যালার্জির ওষুধ প্রাণঘাতী মাত্রায় সেবন করে আত্মহত্যা করেন। তবে মৃত্যুর আগে এই মা ও মেয়ে মিলে সারাহ মায়ার্সের চার সন্তান—১৩ বছরের হার্পার, ১১ বছরের হাডসন এবং ১০ বছর বয়সী যমজ শিশু গ্রেসলিন ও গ্যাভিন হারমনকেও একই ওষুধ অতিরিক্ত মাত্রায় খাইয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেন। ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর, ২৩ জুন পুলিশ তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে। মেকানিকসভিল পুলিশ ডিপার্টমেন্টের প্রধান বিল র্যাবিট জানিয়েছেন, তদন্তে প্রাপ্ত টক্সিকোলজি রিপোর্ট ঘটনাটির পেছনের ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিহত চার শিশুর শরীরে ‘মিট্রাজিনিন’ নামক একটি রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে, যা মূলত ক্র্যাটম (Kratom) নামক উদ্ভিদে পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, শিশুদের হত্যার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবেই এই জোরালো ও বিষাক্ত ওষুধের মিশ্রণ প্রয়োগ করা হয়েছিল। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনাটি স্থানীয়দের গভীরভাবে শোকাহত করেছে এবং পারিবারিক কলহ ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ৪০তম ফোবানা সম্মেলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধান এবং দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শুক্রবার সন্ধ্যায় লস অ্যাঞ্জেলেসের হিলটন ইউনিভার্সেল হোটেলে তিন দিনব্যাপী ফোবানা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনটি ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয়। প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে চারজন সচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ সেল কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী। প্রবাসীরা তাদের অভিযোগ ইমেইলের মাধ্যমে পাঠালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। দেশে বিনিয়োগের বিষয়ে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। বিনিয়োগের আগে তাদের প্রয়োজনীয় চেকলিস্ট দেওয়া হবে, যাতে প্রক্রিয়াটি সহজ হয় এবং অযথা সময় নষ্ট না হয়। প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগের কথাও জানান মন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন। বিদেশে নতুন শ্রমবাজার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশনে প্রবাসীরা যাতে প্রয়োজনীয় সেবা পান, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে ফোবানার নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও জোরদারে সংগঠনটির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের কনসাল জেনারেল কাজী মোহাম্মদ জাবেদ ইকবাল বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের উদ্বোধনী আয়োজনে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। তিন দিনের এই আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দেশীয় খাবার, পোশাক ও বিভিন্ন পণ্যের স্টলসহ নানা কর্মসূচি রাখা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের হিলটন ইউনিভার্সেল হোটেলকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। সূত্র: প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় তিন দশক ধরে বসবাস এবং ২০১৩ সাল থেকে গ্রিন কার্ড থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভেঙ্কটা নরসামাম্বা ভাসামসেট্টিকে আটক করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। নর্থ ক্যারোলিনায় নিয়মিত ইমিগ্রেশন চেক-ইনের জন্য হাজির হওয়ার পর ১১ আগস্ট তাকে আটক করা হয়। তার মেয়ে যশস্বিনী ভাসামসেট্টি নিজেও একজন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি। ভেঙ্কটা ভাসামসেট্টি নর্থ ক্যারোলিনার ওয়েক কাউন্টি পাবলিক স্কুল সিস্টেমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন এবং তার দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনিরা মার্কিন নাগরিক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে ৬০ বছর বয়সী এবং কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড না থাকা গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আটকের পেছনে মূল বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় সাত মাস যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান। ভেঙ্কটা ২০২২ সালের জুলাইয়ে অসুস্থ বাবার দেখাশোনার জন্য ভারতে যান। পরে কোভিডে আক্রান্ত হওয়ায় তার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় আরও পিছিয়ে যায়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফেরার পর কর্তৃপক্ষ তার দীর্ঘ অনুপস্থিতিকে গ্রিন কার্ডের রেসিডেন্সি পরিত্যাগের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখায়। এ নিয়ে ভেঙ্কটার বিরুদ্ধে আগের একটি ডিপোর্টেশন মামলা চলছিল। তবে ১৯ মে ২০২৬ ইমিগ্রেশন জজ সরকারের সেই মামলা বাতিল করে দেন। আদালতের সিদ্ধান্তের পর তিনি আবার গ্রিন কার্ডের বৈধ স্ট্যাটাসে ছিলেন বলে তার আইনজীবী ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এরপরও আইসিইর সঙ্গে তার নিয়মিত চেক-ইন নির্ধারিত ছিল। ১১ আগস্ট নির্ধারিত সাক্ষাতে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে শার্লটের আইসিই অফিসে গেলে তাকে আটক করা হয় এবং পরে জর্জিয়ার একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়। পরদিন কর্তৃপক্ষ নতুন করে তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু করে। ভেঙ্কটার মেয়ে যশস্বিনী ভাসামসেট্টি টেক্সাস ও নিউ জার্সিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত একজন এমপ্লয়মেন্ট-বেজড ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি। মায়ের আটকের পর পরিবারের পক্ষ থেকে তার মুক্তির দাবিতে “ফ্রি ভেঙ্কটা” নামে একটি ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে। তার আইনজীবী দলও আটকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ফেডারেল আদালতে জরুরি হ্যাবিয়াস করপাস পিটিশন দাখিল করেছে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকার কারণে ভেঙ্কটার গ্রিন কার্ডের স্ট্যাটাস পরিত্যাগের অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন ইমিগ্রেশন আইনে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকা একজন গ্রিন কার্ডধারীর স্থায়ী বসবাসের অভিপ্রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে ভেঙ্কটার পরিবার ও আইনজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তার বাড়ি, চাকরি ও পরিবারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং তিনি তার রেসিডেন্সি পরিত্যাগ করতে চাননি।
মালদ্বীপে ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক মো. বাবুল মিয়াকে ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পেতে জনসাধারণের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাবুল মিয়ার নাম, বয়স ও নাগরিকত্বের তথ্য প্রকাশ করে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন। বিজ্ঞপ্তিতে তাকে ২৫ বছর বয়সী পুরুষ বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাবুল মিয়ার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনকে জানাতে হবে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে তাকে কেন ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তথ্য দিতে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের নির্ধারিত যোগাযোগ নম্বর ও ইমেইলে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটির রেফারেন্স নম্বর IF-RM/2026/04। তবে বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ বা মামলার তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই; কর্তৃপক্ষের ব্যবহৃত ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ শব্দটি শুধুমাত্র তাদের বিজ্ঞপ্তির ভাষা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের দিল্লির রাজৌরি গার্ডেনের আরজি হাসপাতালে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ২৬ বছর বয়সী এক যুবকের শরীরের ভেতরে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো গঠন পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় তার দুটো অণ্ডকোষও স্বাভাবিক অবস্থানে না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে জটিল এই শারীরিক অবস্থাকে Persistent Müllerian Duct Syndrome বা PMDS হিসেবে শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসকদের কাছে ওই যুবক প্রাথমিক বন্ধ্যাত্বের সমস্যা নিয়ে যান। পরীক্ষায় তার বীর্যে কোনো শুক্রাণু পাওয়া যায়নি, যাকে অ্যাজুস্পার্মিয়া বলা হয়। একই সঙ্গে দেখা যায়, তার দুটো অণ্ডকোষই শরীরের ভেতরে রয়ে গেছে এবং অণ্ডথলিতে নামেনি। এসব অস্বাভাবিকতার কারণ জানতে আরও পরীক্ষা করা হয়। এমআরআই পরীক্ষায় পেলভিসের ভেতরে জরায়ুর মতো একটি গঠন এবং ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো নালির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। জেনেটিক পরীক্ষায় তার ক্রোমোজোম প্যাটার্ন ৪৬,XY বলে নিশ্চিত হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা PMDS শনাক্ত করেন। PMDS একটি অত্যন্ত বিরল জন্মগত শারীরিক অবস্থা। এতে সাধারণত ৪৬,XY ক্রোমোজোম ও পুরুষ শারীরিক বৈশিষ্ট্য থাকা ব্যক্তির শরীরে ভ্রূণ অবস্থায় তৈরি হওয়া মুলেরিয়ান ডাক্ট পুরোপুরি বিলীন হয় না। ফলে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো অভ্যন্তরীণ গঠন থেকে যেতে পারে। এ অবস্থার সঙ্গে অণ্ডকোষ না নামা এবং বন্ধ্যাত্বের সম্পর্কও রয়েছে। চিকিৎসাবিষয়ক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এ রোগের কয়েকশরও কম ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সাধারণত শৈশবেই অণ্ডকোষ না নামা বা অন্য সমস্যার চিকিৎসার সময় এটি ধরা পড়ে। তবে কখনো কখনো বন্ধ্যাত্বের পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও রোগটি শনাক্ত হয়। আরজি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ওই যুবকের দুটো অণ্ডকোষই দীর্ঘদিন ধরে শরীরের ভেতরে থাকায় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মুলেরিয়ান গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত দুটো অণ্ডকোষ অপসারণ করা হয়। পরে টিস্যু পরীক্ষায় বাম অণ্ডকোষে Germ Cell Neoplasia In Situ বা GCNIS নামের ক্যানসারের পূর্ববর্তী পরিবর্তন পাওয়া যায়। চিকিৎসকেরা জানান, দীর্ঘদিন অণ্ডকোষ শরীরের ভেতরে থাকা অবস্থায় ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এ কারণেই বন্ধ্যাত্বের পাশাপাশি অণ্ডকোষের অস্বাভাবিক অবস্থানও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত সফরে এসে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি ডিউটি-ফ্রি দোকানে পরিবারের সদস্যদের পাসপোর্ট স্ক্যান করার অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক ভারতীয় দম্পতি। তাদের অভিযোগ, কেনাকাটা না করা পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি নয় মাস বয়সী শিশু ও টডলারের পাসপোর্টও স্ক্যান করা হয়। বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দিল্লি পৌঁছানোর পর টার্মিনাল ৩-এর ইমিগ্রেশন এলাকা পার হয়ে একটি ডিউটি-ফ্রি দোকানে যায়। পরিবারের এক সদস্য সেখানে মদের একটি বোতল কেনেন। এরপর দোকানের কর্মীরা পরিবারের অন্য সদস্যদের পাসপোর্টও স্ক্যান করেন বলে অভিযোগ করেছেন পূজা তোমর সিকারওয়ার। পূজার দাবি, তার নয় মাস বয়সী শিশু ও টডলার সন্তানের পাসপোর্টও স্ক্যান করা হয়। তার স্বামী কেন অন্য সদস্যদের পাসপোর্ট স্ক্যান করা হচ্ছে জানতে চাইলে কর্মীরা নাকি অফার যাচাইয়ের কথা জানান। এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে পাসপোর্টের তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশের পর দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, যাত্রীদের পাসপোর্ট বা ব্যক্তিগত তথ্য অননুমোদিত কিংবা অনুপযুক্তভাবে ব্যবহার বা স্ক্যান করা হয়ে থাকলে তা গুরুতর বিষয় এবং অভিযোগটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হবে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য যাচাই করতে পরিবারটির যোগাযোগের নম্বর এবং বিমানবন্দরে তাদের যাতায়াত ও ডিউটি-ফ্রি দোকান পরিদর্শনের বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পাসপোর্ট স্ক্যানের ঘটনাটি অননুমোদিত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই এ বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের স্টার্লিং হাইটস সিটি হলে আগামী ১৪ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ছয় দিনব্যাপী পাসপোর্ট ওয়াক-ইন উইক অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে আগ্রহীরা কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই সরাসরি সিটি হলে গিয়ে আবেদন জমা দিতে পারবেন। স্টার্লিং হাইটস সিটির অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ সুবিধা শহরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি অন্য এলাকার বাসিন্দারাও নিতে পারবেন। পাসপোর্ট আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রের পাশাপাশি প্রসেসিং ফি পরিশোধের জন্য দুটি পৃথক চেক অথবা মানি অর্ডার সঙ্গে আনতে হবে। একটি পেমেন্ট দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের নামে এবং অন্যটি স্টার্লিং হাইটস সিটির নামে। নগদ টাকা গ্রহণ করা হবে না। ওয়াক-ইন সেবার সময়সূচি অনুযায়ী, ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেবা দেওয়া হবে। ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা এবং ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই সেবা চালু থাকবে। আবেদনকারীদের পূরণ করা পাসপোর্ট অ্যাপ্লিকেশন সঙ্গে আনতে হবে, তবে আবেদনপত্রে আগে থেকে স্বাক্ষর করা যাবে না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং বর্তমান ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র প্রয়োজন হবে। আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নথির তালিকা স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। স্টার্লিং হাইটস সিটির পাসপোর্ট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট বুকের জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফি ১৩০ ডলার। এর সঙ্গে সিটি কর্তৃপক্ষের পাসপোর্ট অ্যাকসেপ্ট্যান্স ফ্যাসিলিটি ফি ৩৫ ডলার এবং পাসপোর্ট ছবির জন্য ২০ ডলার দিতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী এক্সপেডাইটেড সার্ভিস ও দ্রুত ডেলিভারির জন্য অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হতে পারে। পাসপোর্ট ওয়াক-ইন উইক অনুষ্ঠিত হবে স্টার্লিং হাইটস সিটি হলে, ৪০৫৫৫ ইউটিকা রোড, স্টার্লিং হাইটস, মিশিগান। বিস্তারিত তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা স্টার্লিং হাইটস সিটির পাসপোর্ট বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করে আবেদনকারীদের প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ২০২৬ সালে ফি, সাক্ষাৎকারের স্থান এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম কার্যকর হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আবেদনকারীদের ভিসার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ অধিকাংশ নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি বর্তমানে ১৮৫ ডলার। এই ফি ফেরতযোগ্য নয়। তবে কাজের জন্য H, L, O, P ও R শ্রেণির মতো পিটিশনভিত্তিক কিছু ভিসার আবেদন ফি ২০৫ ডলার। E শ্রেণির ভিসায় ৩১৫ ডলার এবং মার্কিন নাগরিকের বাগদত্তা বা স্বামী-স্ত্রীর জন্য K শ্রেণির ভিসায় ২৬৫ ডলার ফি নির্ধারিত রয়েছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রেও আলাদা ফি প্রযোজ্য। অনুমোদিত I-130, I-600 বা I-800 পিটিশনের ভিত্তিতে পারিবারিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি ৩২৫ ডলার। কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় ফি ৩৪৫ ডলার এবং অন্যান্য কিছু ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় ২০৫ ডলার নির্ধারিত রয়েছে। ভিসা আবেদন করার ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকার কোথায় হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনকারীদের সাধারণত নিজেদের নাগরিকত্বের দেশ বা বসবাসের দেশে সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। অন্য দেশে আবেদন করলে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসই ভিসা প্রসেসিংয়ের নির্ধারিত স্থানগুলোর একটি। তবে ভিসা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবেদন ও সাক্ষাৎকারের পর কনস্যুলার অফিসার প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন। এদিকে ২০২৬ সালে কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত ভিসা সাক্ষাৎকারের সুযোগ নিয়েও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পরীক্ষামূলক একটি কর্মসূচিতে নির্বাচিত কিছু পোস্টে যোগ্য B ভিসা আবেদনকারীরা অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার ফি দিয়ে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এই সুবিধা সব দূতাবাসে চালু নয় এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ভিসার ধরন, বর্তমান ফি, সাক্ষাৎকারের নিয়ম এবং দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে ফি পরিশোধের পর তা সাধারণত ফেরতযোগ্য নয় বলে আবেদনকারীদের সতর্কতার সঙ্গে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১০ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে প্রায় তিন মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক আল আমিনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে এবং মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে আটক করে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের বরাতে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় প্রায় পাঁচ বছর আগে মারকাজুল উম্মাহ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান। প্রায় তিন বছর আগে সেখানে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন আল আমিন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা এলাকার ১০ বছর বয়সী ওই ছাত্র নাজেরা বিভাগে ভর্তি হয়ে আবাসিকভাবে থাকতে শুরু করে। পরিবারের অভিযোগ, এরপর থেকে প্রায় তিন মাস ধরে বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে ও প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করেন শিক্ষক আল আমিন। পরিবারের দাবি, নির্যাতনের পর শিশুটির পেটে ব্যথা এবং পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্ত পড়াসহ শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। অসুস্থতার কথা জানালে তার মা তাকে ছুটিতে বাড়িতে নিয়ে যান। বাড়িতে যাওয়ার পর এক সকালে শিশুটির নানা আজিজুর রহমান টয়লেটে রক্ত দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি শিশুটির মাকে জানান। তবে ভয় ও আতঙ্কে শিশুটি প্রথমে নির্যাতনের কথা পরিবারের কাছে প্রকাশ করেনি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শুক্রবার সকালে স্থানীয় লোকজন মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষক আল আমিন ও মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে আটক করে। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বা মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। শিশুটির ওপর নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। সূত্র: বার্তা বাজার