- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চাকরি করতে চান এমন গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফেডারেল, স্টেট ও স্থানীয় সরকারের চাকরির যোগ্যতার নিয়ম এক নয়। বিশেষ করে ফেডারেল সরকারের বেশিরভাগ চাকরিতে মার্কিন নাগরিকত্ব প্রয়োজন হলেও কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। তাই গ্রিন কার্ড থাকলেই সব ধরনের সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট বা সরকারি কর্মী ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণভাবে ফেডারেল সরকারের চাকরিতে কাজ করতে হলে আবেদনকারীকে মার্কিন নাগরিক বা জাতীয় হতে হয়। বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নির্বাহী আদেশ ১১৯৩৫ অনুযায়ী মার্কিন নাগরিক বা জাতীয় ছাড়া কাউকে নিয়োগ দেওয়া যায় না। তবে ফেডারেল সরকারের সব চাকরিকে একই নিয়মে দেখা যাবে না। সরকারি কর্মী ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল চাকরি মূলত প্রতিযোগিতামূলক চাকরি, বিশেষ নিয়োগের আওতাভুক্ত চাকরি এবং জ্যেষ্ঠ নির্বাহী চাকরি - এই তিন ধরনের কাঠামোর মধ্যে পড়ে। বিশেষ নিয়োগের আওতাভুক্ত কিছু পদে নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে ভিন্ন যোগ্যতা থাকতে পারে। তাই প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীর যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। ফেডারেল চাকরির জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কেন্দ্রীয় চাকরির ওয়েবসাইট ইউএসএজবস ব্যবহার করা হয়। সেখানে প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে কারা আবেদন করতে পারবেন, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত কোনো পদে সাধারণত মার্কিন নাগরিক বা জাতীয়রা আবেদন করতে পারেন। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে অ-মার্কিন নাগরিকদের জন্যও ব্যতিক্রম থাকতে পারে। এ কারণে গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য প্রথম ধাপ হলো শুধু সরকারি চাকরি খোঁজা নয়, বরং নির্দিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীর যোগ্যতার শর্ত দেখা। কোনো পদে মার্কিন নাগরিকত্ব বাধ্যতামূলক হলে গ্রিন কার্ড থাকলেও সেই পদে আবেদন করা যাবে না। তবে সুযোগ শুধু ফেডারেল সরকারের চাকরিতে সীমাবদ্ধ নয়। স্টেট ও স্থানীয় সরকারের চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগের যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট স্টেট, কাউন্টি, সিটি বা স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিজস্ব নিয়মের ওপর নির্ভর করে। তাই গ্রিন কার্ডধারী কোনো ব্যক্তি স্টেট বা স্থানীয় সরকারের নির্দিষ্ট পদে আবেদন করতে পারবেন কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তের ওপর নির্ভর করবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু কাজের অনুমতি থাকলেই সব সরকারি পদে আবেদন করার অধিকার তৈরি হয় না। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের শর্ত, নিয়োগের ধরন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট পদের অন্যান্য যোগ্যতা আলাদাভাবে পূরণ করতে হয়। প্রয়োজনীয় নিয়োগের শ্রেণির আওতায় না পড়লে আবেদন গ্রহণ নাও করা হতে পারে। ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করার সময় জীবনবৃত্তান্তের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদন প্রক্রিয়া উল্লেখ থাকে। পদভেদে জীবনবৃত্তান্ত, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ, কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য এবং অন্যান্য নথি জমা দিতে হতে পারে। কিছু পদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই বা নিরাপত্তা ছাড়পত্রও প্রয়োজন হতে পারে। তাই গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য সহজ নিয়ম হলো, ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে প্রথমে নাগরিকত্বের শর্ত যাচাই করা। এরপর বিজ্ঞপ্তিতে কারা আবেদন করতে পারবেন, সেই অংশটি দেখা এবং সবশেষে সংশ্লিষ্ট পদের যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজের তথ্য মিলিয়ে আবেদন করা। স্টেট, কাউন্টি, সিটি বা স্কুল ডিস্ট্রিক্টের চাকরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত নির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্রিন কার্ড থাকলেই সরকারি চাকরি করা যায় না - এমন কথা যেমন সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়, তেমনি গ্রিন কার্ড থাকলেই সব সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যায় - এটিও সঠিক নয়। চাকরির স্তর, নিয়োগের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট যোগ্যতার ওপর সুযোগ নির্ভর করে। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতার শর্ত যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া থেকে বর্তমানে পাঁচটি কোম্পানিকে নিষিদ্ধ করেছে দেশটির শ্রম বিভাগ। সর্বশেষ তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ফ্লোরিডার ডেইন ভিঞ্চি অ্যাট হান্টার্স ক্রিক, ইনকরপোরেটেড, যা ডেইন ভিঞ্চি একাডেমি নামে পরিচালিত হয়। শ্রম বিভাগের তালিকাটি ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর এবং ২৮ আগস্ট সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ কোম্পানিগুলো হলো গোয়ারাটেক এলএলসি, রেনোটেক গ্রুপ এলএলসি, সিলোজ ইনকরপোরেটেড, শেরউড অ্যাট মাউন্ট ডোরা ইনকরপোরেটেড, যা শেরউড একাডেমি নামে পরিচালিত, এবং ডেইন ভিঞ্চি অ্যাট হান্টার্স ক্রিক ইনকরপোরেটেড, যা ডেইন ভিঞ্চি একাডেমি নামে পরিচিত। শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানকে এইচ-১বি কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে ডিবারমেন্টের আওতায় আনা হয়েছে। তালিকায় গোয়ারাটেকের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০২৫ সালের ১২ মে থেকে ২০২৭ সালের ১১ মে পর্যন্ত। রেনোটেক গ্রুপ ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের ৭ আগস্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ। সিলোজের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের ৪ মার্চ থেকে ২০২৮ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত। শেরউড একাডেমির নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের ২৬ মে থেকে ২০২৮ সালের ২৫ মে পর্যন্ত। নতুন করে যুক্ত হওয়া ডেইন ভিঞ্চি একাডেমির নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০২৮ সালের ২ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের ওয়েজ অ্যান্ড আওয়ার ডিভিশন এসব প্রতিষ্ঠানকে এইচ-১বি প্রোগ্রামের ‘উইলফুল ভায়োলেটর’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এইচ-১বি প্রোগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ শ্রম ও কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। উইলফুল ভায়োলেটর হিসেবে চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে শ্রম বিভাগের বাড়তি নজরদারির আওতায়ও আনা হতে পারে। এইচ-১বি প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত পেশায় প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ পায় নিয়োগদাতারা। তবে কর্মীদের মজুরি, চাকরির শর্ত, মার্কিন কর্মীদের ওপর প্রভাব এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়। নিয়ম লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে শ্রম বিভাগ বকেয়া মজুরি আদায়, আর্থিক জরিমানা এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এইচ-১বি প্রোগ্রাম থেকে প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ করতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো কোম্পানি এইচ-১বি প্রোগ্রাম থেকে ডিবার করা হলে সেই কোম্পানির অধীনে থাকা কর্মীদের বিদ্যমান এইচ-১বি ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। তবে ডিবারমেন্ট চলাকালে ওই নিয়োগদাতা নতুন এইচ-১বি আবেদন করতে পারে না এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ভিসা এক্সটেনশন বা গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায়ও বাধার মুখে পড়তে পারে। শ্রম বিভাগের এই তালিকা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি স্পনসরশিপের ওপর নির্ভরশীল চাকরিপ্রার্থী ও বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কোম্পানিতে চাকরি নেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে এইচ-১বি স্পনসর করতে পারছে কি না, তা যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা এই তালিকা আবারও সামনে এনেছে।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মদ্যপ অবস্থায় টেসলা গাড়ি চালিয়ে কাঠামোর সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় ২৭ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা ঘনিষ্ঠ বন্ধু এলিস সুয়োমি নিহত হয়েছেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, গাড়ি চালানোর সময় ওই নারীর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল আইনগত সীমার প্রায় তিন গুণ। অভিযুক্ত আলেহান্দ্রা পাহারসিংহের বিরুদ্ধে যানবাহনজনিত অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড এবং দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ত্যাগের অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে ম্যানহাটনের মিডটাউন এলাকায় ২০২৪ সালের একটি টেসলা চালানোর সময় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান বলে অভিযোগ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে ম্যাডিসন অ্যাভিনিউ ও পূর্ব ৪২তম স্ট্রিটের কাছে গাড়িটি ফুটপাতে উঠে একটি ডাকবাক্সে আঘাত করে। এরপর সেটি রাস্তার পাশে নির্মাণকাজের জন্য স্থাপন করা কাঠামোতে ধাক্কা দেয়। গাড়িতে যাত্রী হিসেবে ছিলেন ২৭ বছর বয়সী এলিস সুয়োমি। দুর্ঘটনার পরও পাহারসিংহ গাড়ি চালিয়ে কয়েক ব্লক এগিয়ে যান। পরে পূর্ব ৪২তম স্ট্রিট ও সেকেন্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছে গাড়ি থামলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গুরুতর আহত সুয়োমিকে দ্রুত বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ৩টার কিছু পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পাহারসিংহও দুর্ঘটনায় সামান্য আহত হন এবং চিকিৎসা নেওয়ার পর পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। ম্যানহাটন প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, পাহারসিংহের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল দশমিক ২২৯। নিউইয়র্কে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে আইনগত সীমা দশমিক শূন্য আট। অর্থাৎ তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা নির্ধারিত সীমার প্রায় তিন গুণ ছিল। মামলার নথিতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা থমাস ডিলনের বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে পাহারসিংহ ওই রাতে একাধিকবার মদ্যপানের কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি পুলিশকে জানান, ৪২তম স্ট্রিটে গাড়ি চালানোর ঘটনা তাঁর মনে নেই। পাহারসিংহ কানেকটিকাটের বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে তাঁর আগে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। বুধবার রাতে ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় তাঁকে হেফাজতে রাখার জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার নগদ জামিন অথবা ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ড চেয়েছিল। তবে বিচারক জেফরি গেরশুনি জামিনের পরিমাণ ৫০ হাজার ডলার নির্ধারণ করেন। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পাহারসিংহ রাইকার্স আইল্যান্ডে হেফাজতে ছিলেন। আগামী সোমবার তাঁকে আবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। নিহত এলিস সুয়োমি হারলেমে থাকতেন এবং তাঁর তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। দুর্ঘটনার পর তাঁর বাসার বাইরে স্বজন ও বন্ধুরা স্মরণসভা করেন। সেখানে নীল ও সাদা মোমবাতি, তাঁর ছবি এবং ছোট মেয়ের সঙ্গে তাঁর একটি ছবিও রাখা হয়। সুয়োমির প্রতিবেশী জর্জ কার্টাগেমা নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, তিনি সুয়োমিকে ভালো মানুষ হিসেবে চিনতেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সুয়োমি অন্যদের সাহায্য করতেন এবং কারও খাবার বা পোশাকের প্রয়োজন হলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করতেন। পাহারসিংহ ও সুয়োমি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বলে তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট থেকেও ধারণা পাওয়া যায়। দুর্ঘটনার আগে তাঁদের একসঙ্গে থাকার ছবি ও বন্ধুত্বের নানা স্মৃতিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিল। তবে দুর্ঘটনার কারণ ও ঘটনাটির পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে। আইনগতভাবে পাহারসিংহের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তিনি দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। উৎস: নিউইয়র্ক পোস্ট
ভারতের একদল গবেষক মানুষের পয়ঃবর্জ্য থেকে তৈরি জৈবকয়লা বা বায়োচার ব্যবহার করে এমন কংক্রিট তৈরি করেছেন, যার নির্দিষ্ট মিশ্রণ প্রচলিত কংক্রিটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি শক্তিশালী হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত সিমেন্টের ১০ শতাংশের পরিবর্তে পয়ঃবর্জ্য থেকে তৈরি বায়োচার ব্যবহার করলে ৯১ দিন পর কংক্রিটের চাপ সহনশীলতা ২১ শতাংশ এবং বাঁক সহনশীলতা ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ভারতের মণিপাল ইউনিভার্সিটি জয়পুরের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার রঘুভেশ তিওয়ারির নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণায় ব্যবহৃত পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহ করা হয় ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের ওয়ারাঙ্গালের একটি পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার থেকে। সেখানে সেপটিক ট্যাংক ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করা মানববর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে বায়োচার তৈরি করা হয়। বায়োচার হলো কার্বনসমৃদ্ধ এক ধরনের সূক্ষ্ম পদার্থ, যা জৈববস্তু খুব কম অক্সিজেনের পরিবেশে উচ্চ তাপে উত্তপ্ত করে তৈরি করা হয়। গবেষণায় পয়ঃবর্জ্য প্রথমে শুকিয়ে নেওয়া হয়। এরপর প্রায় ৩৫০ থেকে ৪৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কম অক্সিজেনের পরিবেশে উত্তপ্ত করে সেটিকে বায়োচারে রূপান্তর করা হয়। পরে তা গুঁড়া করে ছেঁকে সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করা হয়, যাতে কংক্রিটের সঙ্গে মেশানো যায়। গবেষকেরা প্রচলিত সিমেন্টের বিভিন্ন অংশের পরিবর্তে ৫, ১০ ও ১৫ শতাংশ করে এই বায়োচার ব্যবহার করে আলাদা কংক্রিটের নমুনা তৈরি করেন। এরপর এসব নমুনার চাপ সহনশীলতা, বাঁক সহনশীলতা, পানি শোষণ, ছিদ্রতা এবং শুকানোর সময় সংকোচনের মতো বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায় দীর্ঘ সময় ধরে কংক্রিট শক্ত হওয়ার পর। ৯১ দিন ধরে পরিচর্যার পর ১০ শতাংশ বায়োচারযুক্ত কংক্রিটে প্রচলিত মিশ্রণের তুলনায় চাপ সহনশীলতা ২১ শতাংশ এবং বাঁক সহনশীলতা ৪২ শতাংশ বেশি পাওয়া যায়। ৫ শতাংশ বায়োচার ব্যবহার করা মিশ্রণেও শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। গবেষণায় ৫ শতাংশ মিশ্রণে ৯১ দিন পর চাপ সহনশীলতা প্রায় ২০ শতাংশ এবং বাঁক সহনশীলতা ৩৬ শতাংশ বেশি পাওয়া যায়। গবেষকদের মতে, এই শক্তি বৃদ্ধির পেছনে বায়োচারের বিশেষ গঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বায়োচারের ভেতরে অসংখ্য ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে, যা কংক্রিট তৈরির সময় পানি ধরে রাখতে পারে। পরে কংক্রিট শক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় সেই পানি ধীরে ধীরে বের হয়ে আসে। এতে সিমেন্টের সঙ্গে পানির রাসায়নিক বিক্রিয়া বা জলযোজন প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে, যা কংক্রিটের শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তবে বেশি পরিমাণ বায়োচার ব্যবহার করলেই কংক্রিট আরও শক্তিশালী হবে এমন নয়। গবেষণায় ৫ ও ১০ শতাংশের মাত্রায় সবচেয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। ১৫ শতাংশ বায়োচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগের মাত্রার মতো শক্তি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়নি। অর্থাৎ বায়োচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক অনুপাত নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় কংক্রিটের স্থায়িত্ব নিয়েও কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। ১৫ শতাংশ বায়োচারযুক্ত মিশ্রণে ২৮ দিন পর পানি শোষণ ও ছিদ্রতার মাত্রা প্রচলিত কংক্রিটের নিয়ন্ত্রণ মিশ্রণের কাছাকাছি ছিল। অন্যদিকে ১০ শতাংশ বায়োচারযুক্ত মিশ্রণের ১২০ দিনের শুকানোর সময়ের সংকোচন সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের মিশ্রণের কাছাকাছি ছিল। গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভারী ধাতু নিয়ন্ত্রণ। গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, কংক্রিটের মিশ্রণে বায়োচারের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে পয়ঃবর্জ্য থেকে আসা কিছু ভারী ধাতুর ঘনত্ব কমেছে। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, সিমেন্টের ক্ষারীয় পরিবেশে বায়োচার এসব ক্ষতিকর পদার্থকে আটকে রাখতে সহায়তা করতে পারে, ফলে পরিবেশে সেগুলোর বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে। এই গবেষণার পরিবেশগত গুরুত্বও রয়েছে। কংক্রিটের প্রধান উপাদান সিমেন্ট উৎপাদনে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন হয় এবং এর সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন জড়িত। তাই সিমেন্টের একটি অংশের পরিবর্তে বর্জ্য থেকে তৈরি উপাদান ব্যবহার করা গেলে একদিকে সিমেন্টের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে, অন্যদিকে পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন একটি ব্যবহারিক পথ তৈরি হতে পারে। গবেষণাপত্রেও পয়ঃবর্জ্যকে ফেলে দেওয়ার পরিবর্তে নির্মাণসামগ্রীর কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের জন্য অবশ্য আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজা প্রয়োজন। গবেষণাটি মূলত পরীক্ষাগারভিত্তিক কংক্রিটের কর্মক্ষমতা যাচাই করেছে। বাস্তব নির্মাণকাজে বড় পরিসরে ব্যবহারের আগে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব, বিভিন্ন আবহাওয়া ও পরিবেশে কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বর্জ্য থেকে তৈরি উপাদানের নিরাপত্তা আরও বিস্তৃতভাবে পরীক্ষা করতে হবে। গবেষণাটিও বিভিন্ন মাত্রায় বায়োচার ব্যবহার করে কংক্রিটের যান্ত্রিক, স্থায়িত্ব ও ক্ষুদ্র কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। গবেষণাটি ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার লেখকদের মধ্যে রঘুভেশ তিওয়ারি, প্রিয়াংশা মেহরা, শাইক হুসেইন ও সঞ্চিত আনন্দ রয়েছেন।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের চায়নাটাউনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে পড়া একটি পণ্যবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ৭৭ বছর বয়সী এক পথচারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৫২ ও ৭১ বছর বয়সী দুই নারী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ৬৬ বছর বয়সী ট্রাকচালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে ব্যস্ত বোওয়ারি স্ট্রিট ও ক্যানাল স্ট্রিটের সংযোগস্থলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) তথ্য অনুযায়ী, চালক ম্যানহাটন ব্রিজ থেকে নেমে ক্যানাল স্ট্রিট দিয়ে পশ্চিম দিকে যাচ্ছিলেন। পরে বোওয়ারি স্ট্রিটে ডান দিকে মোড় নেওয়ার সময় ট্রাকটি হঠাৎ ফুটপাতে উঠে যায় এবং সেখানে থাকা তিন পথচারীকে ধাক্কা দেয়। ট্রাকটিতে কাঠের প্যালেট বোঝাই ছিল। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের ছবিতে পথচারীদের রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। গুরুতর আহত ৭৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে দ্রুত বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত দুই নারীকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পথচারীদের ধাক্কা দেওয়ার পরও ট্রাকটি সঙ্গে সঙ্গে থামেনি। পুলিশ জানিয়েছে, চালক বোওয়ারি স্ট্রিট ধরে আরও এগিয়ে হেস্টার স্ট্রিটের কাছে একটি সেডান গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার পর থামেন। ঘটনাটির সময় ট্রাকটির সামনের কাচ ভেঙে যায় এবং চারটি টায়ারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কাঠের প্যালেট বোঝাই ট্রাকটিকে আশপাশের যানবাহনের তুলনায় দ্রুতগতিতে চলতে দেখা যায়। ভিডিওতে ট্রাকটির অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগার দৃশ্যও রয়েছে। তবে পথচারীদের ধাক্কা দেওয়ার সরাসরি মুহূর্ত ভিডিওতে ধরা পড়েনি। পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাকচালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবের স্পষ্ট কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং চালকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগও আনা হয়নি। এনওয়াইপিডির হাইওয়ে ডিস্ট্রিক্টের সংঘর্ষ তদন্তকারী দল ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা ট্রাকটি কেন ফুটপাতে উঠে গেল, চালকের আচরণ, গাড়ির অবস্থা এবং দুর্ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন। দুর্ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাস্থলটি ম্যানহাটন ব্রিজের কাছের ব্যস্ত এলাকা। ক্যানাল স্ট্রিট ও বোওয়ারির সংযোগস্থলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পথচারী ও যানবাহনের চলাচল থাকে। স্থানীয়দের কাছে এ এলাকা আগে থেকেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ১০১০ উইনসের প্রতিবেদনে এলাকাবাসীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ম্যানহাটন ব্রিজ থেকে নামার সময় কিছু গাড়ি দ্রুতগতিতে চলাচল করে। স্থানীয় নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ১০১০ উইনসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়েও ম্যানহাটন ব্রিজ থেকে নামার পর একটি চুরি করা গাড়ির ধাক্কায় একজন সাইকেল আরোহী ও একজন পথচারী নিহত হয়েছিলেন। ফলে বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনার পর ওই এলাকার সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত ৭৭ বছর বয়সী ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার নাম প্রকাশ না করার নীতি অনুসরণ করছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নিউইয়র্কে পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বড় যানবাহন ফুটপাতে উঠে গেলে পথচারীদের গুরুতর আহত বা নিহত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি আবারও ব্যস্ত নগর সড়কে ভারী যানবাহনের চলাচল ও পথচারী নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে দুর্ঘটনার জন্য চালকের গতি, গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি, চালকের শারীরিক অবস্থা বা অন্য কোনো কারণ দায়ী কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো একটি কারণকে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে না। এনওয়াইপিডির সংঘর্ষ তদন্তকারী দল তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে চালকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, সেটিও নির্ধারণ করা হবে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম আইন ও এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির নিয়ম ভঙ্গের কারণে বর্তমানে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে এইচ-১বি কর্মসূচিতে নতুন কর্মী নেওয়া বা সংশ্লিষ্ট সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করেছে দেশটির শ্রম বিভাগ। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সরকারি তালিকা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর এক থেকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের মজুরি ও কর্মঘণ্টা বিভাগ (WHD) প্রতি মাসে এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ বা অযোগ্য ঘোষিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর সর্বশেষ তালিকায় রয়েছে গোয়ারাটেক এলএলসি, রেনোটেক গ্রুপ এলএলসি, সিলোজ ইনক., শেরউড অ্যাট মাউন্ট ডোরা ইনক. এবং দা ভিঞ্চি অ্যাট হান্টার্স ক্রিক ইনক. শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গোয়ারাটেক এলএলসিকে ১২ মে ২০২৫ থেকে ১১ মে ২০২৭ পর্যন্ত, রেনোটেক গ্রুপ এলএলসিকে ৮ আগস্ট ২০২৫ থেকে ৭ আগস্ট ২০২৭ পর্যন্ত এবং সিলোজ ইনক.-কে ৪ মার্চ ২০২৬ থেকে ৩ মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া শেরউড অ্যাট মাউন্ট ডোরা ইনক., যা শেরউড একাডেমি নামে ব্যবসা করে, ২৬ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৮ পর্যন্ত এবং দা ভিঞ্চি অ্যাট হান্টার্স ক্রিক ইনক., যা দা ভিঞ্চি একাডেমি নামে পরিচালিত, ৩ আগস্ট ২০২৬ থেকে ২ আগস্ট ২০২৮ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গোয়ারাটেকের ক্ষেত্রে ছয়টি এবং রেনোটেকের ক্ষেত্রে ৩৪টি এইচ-১বি আবেদন সংশ্লিষ্ট তথ্য সরকারি নথিতে পাওয়া যায়। সিলোজের ক্ষেত্রে চারটি এইচ-১বি আবেদন ছিল। সর্বশেষ দুই প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকারি তথ্য থেকে সংশ্লিষ্ট এইচ-১বি আবেদনের সংখ্যা স্পষ্ট নয়। তবে এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে নিষিদ্ধ তালিকায় থাকলেও শ্রম বিভাগের আলাদা ‘উইলফুল ভায়োলেটর’ বা গুরুতর নিয়মভঙ্গকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা অনেক বড়। সেখানে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এর মধ্যে গোয়ারাটেক, রেনোটেক, সিলোজ, শেরউড একাডেমি এবং দা ভিঞ্চি একাডেমিও রয়েছে। অন্যদিকে সব ‘উইলফুল ভায়োলেটর’ প্রতিষ্ঠান একই সময়ে সক্রিয়ভাবে এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ থাকে না। দুটি তালিকা তাই এক নয়। এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ কী এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে কোনো নিয়োগকর্তাকে নিষিদ্ধ করা হলে সেটি সাধারণভাবে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব বিদেশি কর্মীর ভিসা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদ্যমান এইচ-১বি কর্মীদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। তবে নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় নিয়োগকর্তা নতুন এইচ-১বি অনুমোদন নিতে পারে না এবং অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যমান কর্মীর ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা স্থায়ী বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নিতে পারে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসন পরিকল্পনা করা বিদেশি কর্মীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কোনো কর্মীর বর্তমান অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি চলে এলে তাকে অন্য যোগ্য নিয়োগকর্তার কাছে যাওয়ার পথ খুঁজতে হতে পারে। তবে কোনো নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন বলেই সংশ্লিষ্ট কর্মীকে সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছাড়তে হবে বা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, এমন নিয়ম নেই। শ্রম বিভাগের বিধিতে গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার ওপর জরিমানা, বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অভিবাসন কর্মসূচি থেকে নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। লঙ্ঘনের ধরন ও মাত্রা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ সাধারণত এক থেকে দুই বছর হতে পারে, আর কিছু গুরুতর ক্ষেত্রে তা তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে। কেন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয় এইচ-১বি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজের সুযোগ দেওয়া। একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে থাকা মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকানোর ব্যবস্থা রয়েছে। শ্রম বিভাগ বলছে, এইচ-১বি নিয়োগদাতাদের সাধারণভাবে সংশ্লিষ্ট পেশায় প্রচলিত মজুরি বা নিজেদের একই ধরনের কর্মীদের দেওয়া প্রকৃত মজুরি, যেটি বেশি, সেটি দিতে হয়। বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে একই ধরনের মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়া উচিত নয়। গুরুতর নিয়মভঙ্গের ক্ষেত্রে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ধরনের ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনের জন্য প্রতি ঘটনায় সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা এবং তিন বছর পর্যন্ত সব অভিবাসন কর্মসূচি থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিধান রয়েছে। মার্কিন কর্মীদের চাকরি কি বাড়ে এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পদগুলো শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত হয় কি না, সেটি নিয়ে পরিষ্কার সরকারি তথ্য নেই। কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে না পারলে স্থানীয় কর্মী নিয়োগ করতে পারে, আবার কাজের ধরন পরিবর্তন, অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করানো, বিদেশে কাজ সরিয়ে নেওয়া বা প্রতিষ্ঠানের অন্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করার পথও বেছে নিতে পারে। ফলে একটি প্রতিষ্ঠানের এইচ-১বি সুবিধা বন্ধ হলেই একই সংখ্যক চাকরি মার্কিন কর্মীদের কাছে চলে যাবে, এমন সরল সমীকরণ করা যায় না। এই বিষয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। কির্ক ডোরান, আলেকজান্ডার গেলবার ও অ্যাডাম আইসেনের গবেষণায় এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অন্য কর্মীদের কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। তবে গবেষকেরা এটিও দেখেছেন যে এই প্রভাব প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের ধরনভেদে ভিন্ন হতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর সঙ্গে যুক্ত গবেষণায় ২০০৭ সালের এইচ-১বি লটারির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশি এইচ-১বি কর্মী পাওয়ার সুযোগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ, ব্যবসার আকার ও টিকে থাকার হার বেড়েছিল। গবেষণাটিতে সামগ্রিকভাবে একই প্রতিষ্ঠানে জন্মসূত্রে মার্কিন কলেজশিক্ষিত কর্মীদের সরাসরি স্থানচ্যুত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ছোট, দক্ষতানির্ভর এবং উচ্চ উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রভাব আরও বেশি ছিল। শুরু ও নতুন উদ্যোগের ক্ষেত্রেও গবেষণার ফল একমুখী নয়। ২০২১ সালে ‘ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, এইচ-১বি লটারিতে বেশি কর্মী পাওয়ার সুযোগ পাওয়া স্টার্টআপগুলো বেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংগ্রহ, বেশি পেটেন্ট এবং অধিগ্রহণ বা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার মতো সফলতার ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল। মজুরি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে এইচ-১বি কর্মসূচিকে ঘিরে আরেকটি বড় বিতর্ক হলো বিদেশি কর্মীদের মজুরি। ২০২৬ সালে অর্থনীতিবিদ জর্জ বোরহাসের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, শিক্ষা, পেশা, বয়স ও অবস্থানের মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে এইচ-১বি কর্মীরা তুলনামূলক মার্কিন কর্মীদের চেয়ে কম আয় করেন। গবেষণায় গড়ে প্রায় ১৬ শতাংশ মজুরি ব্যবধানের হিসাব পাওয়া গেছে। তবে এই ফলকে পুরো এইচ-১বি কর্মসূচির চিত্র হিসেবে দেখা উচিত নয়। সমর্থকেরা বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান এমন বিশেষায়িত দক্ষতার কর্মী খুঁজে পায় না, যাদের জন্য এইচ-১বি ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। শ্রম বিভাগের নিয়মেও নিয়োগকর্তাদের বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত মজুরি ও কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত শ্রম বিভাগের সরকারি তালিকায় সক্রিয়ভাবে এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা পাঁচ। সংখ্যাটি পুরো এইচ-১বি কর্মসূচির তুলনায় খুবই ছোট হলেও, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সেখানে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যেসব কর্মীর দীর্ঘমেয়াদি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পরিকল্পনা নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা নিষিদ্ধ হলে ভবিষ্যৎ ভিসা নবায়ন বা গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সময়ে, নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই পদগুলো শেষ পর্যন্ত মার্কিন কর্মীদের হাতে যাচ্ছে কি না, তা পরিমাপ করার মতো পূর্ণাঙ্গ সরকারি তথ্য এখনো নেই। এই কারণেই এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিয়োগকর্তাকে নিষিদ্ধ করার নীতির প্রভাব শুধু কতটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হলো, তা দিয়ে বিচার করা কঠিন। এর প্রভাব বুঝতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পরবর্তী কর্মসংস্থান, নতুন ভিসা গ্রহণ, গ্রিন কার্ডের আবেদন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ নীতির পরিবর্তনও দেখতে হবে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ, নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরো ও ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানোর পর নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি কর্মীদের যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়, তা বাতিলের প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এইচ-১বি-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ক ভিসার কর্মীরা চাকরি শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন চাকরি বা স্পনসর খোঁজার বর্তমান সুযোগ হারাতে পারেন। এতে ভারতীয় কর্মীদের ওপর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি পড়তে পারে, কারণ ভারতীয় নাগরিকরা এইচ-১বি কর্মীদের বড় একটি অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের প্রস্তাবটির নাম দেওয়া হয়েছে “৬০ দিনের বিবেচনামূলক গ্রেস পিরিয়ড বাতিল”। প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো বর্তমান অভিবাসন বিধির সেই অংশটি বাদ দেওয়া, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিদেশি কর্মীরা চাকরি শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান। বর্তমান নিয়মে যোগ্য কর্মীর চাকরি নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হয়ে গেলে তিনি সর্বোচ্চ ৬০ দিন অথবা আই-৯৪-এ অনুমোদিত থাকার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে আসে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। এই সময়ে নতুন চাকরি খোঁজা, নতুন নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্পনসরশিপের ব্যবস্থা করা, স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে এই ৬০ দিনের সুরক্ষা আর থাকবে না। চাকরি বা সংশ্লিষ্ট যোগ্যতাভিত্তিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীর বর্তমান নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাসের ভিত্তি শেষ হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অন্য কোনো বৈধ ভিত্তি না থাকলে তাকে দেশ ছাড়তে হতে পারে। প্রস্তাবটি শুধু এইচ-১বি কর্মীদের জন্য নয়। এইচ-১বি১, এল-১, ও-১, টি-এন, ই-১, ই-২ এবং ই-৩ ভিসার কর্মীরাও এর আওতায় পড়তে পারেন। সংশ্লিষ্ট নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ওপরও পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে। এইচ-১বি কর্মীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও চীন থেকে আসা কর্মীদের ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হতে পারে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের যুক্তি হলো, কর্মসংস্থানভিত্তিক নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চাকরি বা যোগ্যতাভিত্তিক কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক থাকা উচিত। চাকরি শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় একই স্ট্যাটাস বজায় রাখার সুযোগ বর্তমান ব্যবস্থায় সেই সম্পর্ককে দুর্বল করে বলে মনে করছে বিভাগটি। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে কোনো কর্মীর নতুন নিয়োগকর্তা চাইলে কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাওয়ার পর নতুন আই-১২৯ আবেদন করতে পারেন। আবেদন অনুমোদন এবং অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণ হলে কর্মী নতুন চাকরির জন্য আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়ম নয়। প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর জনগণ, নিয়োগকর্তা, অভিবাসন আইনজীবী ও বিভিন্ন সংগঠনকে মতামত জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। এই মতামত পর্যালোচনার পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রস্তাবটি পরিবর্তন, প্রত্যাহার অথবা চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অর্থাৎ এখনই এইচ-১বি বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ভিসার ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়নি। বর্তমান নিয়ম এখনো কার্যকর রয়েছে। চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত যোগ্য কর্মীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধা পাবেন। প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে যাবে। বিশেষ করে ভারতীয়সহ অন্যান্য দেশের দক্ষ কর্মী এবং তাদের পরিবারের জন্য এটি অভিবাসন পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় অ্যানথ্রপিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ক্লড চারটি ঘটনায় পরীক্ষার নির্ধারিত সীমা পেরিয়ে বাস্তব কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করেছিল। অ্যানথ্রপিকের নতুন এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষার পরিবেশে ভুল কনফিগারেশনের কারণে ইন্টারনেট সংযোগ খোলা ছিল। সেই সুযোগে ক্লড এমন কিছু বাস্তব অবকাঠামোর সঙ্গে যোগাযোগ করে, যেগুলো পরীক্ষার অংশ ছিল না। ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, ঘটনাগুলো সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নের সময় ঘটেছে। ক্লডকে বলা হয়েছিল, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ও ইন্টারনেটবিহীন কৃত্রিম পরিবেশে কাজ করছে। কিন্তু পরীক্ষার অবকাঠামোর একটি ভুল কনফিগারেশনের কারণে মডেলগুলো বাস্তব ইন্টারনেটে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। অ্যানথ্রপিক পরে প্রায় ৪৮ কোটি কথোপকথন বা পরীক্ষার নথি পর্যালোচনা করে এবং একই ধরনের চারটি ঘটনা শনাক্ত করে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চারটি ঘটনাতেই ক্লডকে সাইবার নিরাপত্তার ‘ক্যাপচার দ্য ফ্ল্যাগ’ ধরনের পরীক্ষা দেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের পরীক্ষায় মডেলকে একটি নির্দিষ্ট কম্পিউটার ব্যবস্থায় লুকানো তথ্য খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু কোথায় খোঁজ করা যাবে, সে বিষয়ে পরীক্ষার নির্দেশনায় নির্দিষ্ট সীমা ছিল না। ফলে বাস্তব ইন্টারনেটে পৌঁছে যাওয়ার পর ক্লড কিছু ক্ষেত্রে সেখানকার ব্যবস্থাকেও পরীক্ষার অংশ হিসেবে ধরে নেয়। অ্যানথ্রপিকের ভাষায়, ঘটনাগুলোতে দুটি আচরণ বিশেষভাবে দেখা গেছে। প্রথমটি হলো বাস্তব পরিবেশের প্রমাণকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা বা উপেক্ষা করা। দ্বিতীয়টি হলো নির্ধারিত কাজ শেষ করার জন্য প্রয়োজনের চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া। প্রতিষ্ঠানটি এগুলোকে যথাক্রমে ‘বায়াসড রিজনিং’ এবং ‘রেকলেসনেস’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে ক্লড মিথস ৫-এর ক্ষেত্রে। পরীক্ষার সময় মডেলটি একটি ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্যাকেজ তৈরি করে তা পাইপিআইতে আপলোড করেছিল। পাইপিআই হলো পাইথন সফটওয়্যার প্যাকেজ বিতরণের একটি বহুল ব্যবহৃত উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম। প্যাকেজটি সরিয়ে নেওয়ার আগেই বাস্তব কম্পিউটার সিস্টেমে সেটি ডাউনলোড করা হয়েছিল। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, এ ঘটনায় মডেলটির কর্মকাণ্ড পরীক্ষার পরিবেশের বাইরেও প্রভাব ফেলেছিল। অ্যানথ্রপিকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, মিথস ৫-এর ঘটনাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ মডেলটি নিজের যুক্তিতেই বুঝতে পেরেছিল যে এটি বাস্তব ইন্টারনেট হতে পারে। এমনকি বাস্তব হলে সফটওয়্যার প্রকাশের ফলে বাস্তব ক্ষতি হতে পারে বলেও মডেলটি বিবেচনা করেছিল। পরে কিছু ভুল অনুমানের ভিত্তিতে আবার ধরে নেয় যে সে একটি কৃত্রিম পরীক্ষার পরিবেশেই রয়েছে এবং কাজ চালিয়ে যায়। আরেকটি ঘটনায় ক্লড ওপাস ৪.৭ একটি বাস্তব প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অবকাঠামোয় পৌঁছে যায়। পরীক্ষার জন্য তৈরি কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাস্তব একটি প্রতিষ্ঠানের নামের মিল থাকায় মডেলটি বাস্তব প্রতিষ্ঠানটিকেই পরীক্ষার লক্ষ্য হিসেবে ধরে নেয়। পরে সেটির বিভিন্ন ব্যবস্থায় প্রবেশ করে তথ্য ও পরিচয়পত্রসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, চারটি পৃথক পরীক্ষায় একই বাস্তব প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। এই ঘটনায় মডেলটি বাস্তব ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করছে এমন কিছু লক্ষণও পেয়েছিল। কিন্তু সেটি গভীরভাবে যাচাই করেনি যে বাস্তব প্রতিষ্ঠানটিতে প্রবেশের অনুমতি আদৌ দেওয়া হয়েছিল কি না। অ্যানথ্রপিকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরবর্তী পর্যায়ে মডেলটি ওই প্রতিষ্ঠানের আরও তথ্য সংগ্রহ করে, প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে কিছু সেটিং পরিবর্তন করে এবং একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্যও দেখে। অন্য একটি ঘটনায় ক্লড ওপাস ৪.৬-এর একটি পুরোনো সংস্করণ পরীক্ষার নির্ধারিত লক্ষ্য মেশিনে কাজ করতে গিয়ে সেটিকে অপ্রাপ্য করে ফেলে। এরপর মডেলটি আটবার কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করলেও পরীক্ষার আরেকটি ত্রুটির কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে একটি তৃতীয় পক্ষের কম্পিউটারে পৌঁছে যায় এবং সংরক্ষিত পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রশাসনিক পর্যায়ের প্রবেশাধিকার পায়। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, সেশন শেষ হওয়ার আগে মডেলটি ব্যক্তিগত তথ্যও দেখেছিল। চতুর্থ ঘটনায় অ্যানথ্রপিকের একটি অভ্যন্তরীণ গবেষণা মডেল নির্ধারিত লক্ষ্য ছাড়িয়ে পাশের কিছু ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। পরে সেটি বুঝতে পারে যে বাস্তব অবকাঠামোর মুখোমুখি হয়েছে। এই পর্যায়ে মডেলটি কাজ থামিয়ে দেয় বলে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে। তবে অ্যানথ্রপিক স্পষ্ট করেছে, ঘটনাগুলোকে এমনভাবে দেখা উচিত নয় যে ক্লড নিজে থেকে কোনো নতুন লক্ষ্য তৈরি করে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। চারটি ঘটনাতেই মডেলগুলো তাদের দেওয়া সাইবার নিরাপত্তা কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছিল। কোনো ঘটনায় একাধিক এআই মডেলের মধ্যে সমন্বয়, আলাদা কোনো গোপন লক্ষ্য বা নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এসব ঘটনার তাৎক্ষণিক কারণ ছিল পরীক্ষার অবকাঠামোর ভুল কনফিগারেশন। অর্থাৎ ক্লডকে ইন্টারনেটবিহীন পরিবেশে কাজ করতে বলা হলেও বাস্তবে সেই সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ ছিল না। জুলাইয়ে অ্যানথ্রপিক প্রথম তিনটি ঘটনার কথা প্রকাশ করার পর আরও বড় পরিসরে নথি পর্যালোচনা করে জানুয়ারির একটি অতিরিক্ত ঘটনা শনাক্ত করে। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, চারটি ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষগুলোকে তারা অবহিত করেছে। পাশাপাশি স্বাধীন তদন্তের জন্য মূল্যায়ন সংস্থা এমইটিআর-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে। এই তদন্তে অ্যানথ্রপিকের কর্মীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার বাইরের নথিও পর্যালোচনা করার সুযোগ থাকবে। ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন এআই ব্যবস্থাকে আরও বেশি স্বায়ত্তশাসিত ক্ষমতা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সফটওয়্যার লেখা, সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষা, গবেষণা এবং অন্যান্য কাজে এআইকে নিজে থেকে একাধিক ধাপ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে একটি মডেল কোনো নির্দেশনা ভুলভাবে বুঝলে বা পরিবেশ সম্পর্কে ভুল ধারণা করলে তার প্রভাব কতদূর যেতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অ্যানথ্রপিক নিজেও বলেছে, ভবিষ্যতের আরও শক্তিশালী এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একই ধরনের ভুলের সম্ভাব্য ক্ষতি আরও বড় হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, উন্নত এআই ব্যবস্থাকে নির্ভরযোগ্যভাবে মানুষের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা এখনো একটি অমীমাংসিত প্রযুক্তিগত সমস্যা। তাই মডেলের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পরীক্ষার অবকাঠামো, নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি। তবে প্রতিষ্ঠানটি এটিও জানিয়েছে, তাদের বর্তমান পরীক্ষায় এখন এই নির্দিষ্ট ধরনের পরিস্থিতি যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যানথ্রপিক মনে করছে, অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সূত্র: অ্যানথ্রপিক, নিউজউইক।
ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর স্ত্রী ও দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস যুক্তরাষ্ট্রে কারাবন্দি অবস্থায় তার হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার অবনতি হয়েছে দাবি করে গৃহবন্দিত্বের আবেদন করেছেন। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ কারাগারে নেই দাবি করে নিউইয়র্কের একটি আদালতে আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। বুধবার আদালতে দাখিল করা আবেদনে ফ্লোরেসের আইনজীবীরা তাকে নিউইয়র্কের একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে স্থানান্তর করে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে আটক রাখার অনুমতি চেয়েছেন। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, তাকে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হবে, ইলেকট্রনিক নজরদারি করা হবে, তার চলাচল সীমিত থাকবে এবং আদালতের অনুমোদন ছাড়া কেউ তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। তার ফোনকলও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে। ৬৯ বছর বয়সী ফ্লোরেস বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে আটক আছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে যাওয়ার আগে তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন এবং হৃদ্যন্ত্রের একটি ভালভের সমস্যার নিয়ন্ত্রণে মাসে একবার একটি ওষুধের ইনজেকশন ছাড়া নিয়মিত কোনো ওষুধ গ্রহণ করতেন না। তবে কারাবন্দির পর তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করেছে তার প্রতিরক্ষা দল। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাকে চার ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। বুকে ব্যথা হলে ব্যবহারের জন্য তার কাছে নাইট্রোগ্লিসারিনও রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা হৃদ্যন্ত্রের আরও পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ফ্লোরেসের আইনজীবীরা আরও দাবি করেছেন, গত ২৯ জুলাই হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার এমন একটি শারীরিক সমস্যা হয়েছিল, যা হালকা মাত্রার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। তবে এটি চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত হয়েছে এমন তথ্য নেই। আবেদনে বুকে ব্যথা, হৃদ্স্পন্দনে অস্বাভাবিকতা, শ্বাসকষ্ট এবং আটক হওয়ার পর উল্লেখযোগ্য ওজন কমার কথাও বলা হয়েছে। তার আইনজীবীরা অবশ্য আদালতের নথিতে স্বীকার করেছেন, কারাগারের চিকিৎসাকর্মীরা তাকে ভালো চিকিৎসা দিয়েছেন। তাদের মূল যুক্তি হলো, সম্ভাব্য হৃদ্যন্ত্রের চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য একটি আটককেন্দ্র উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারবে না। এ কারণে তারা ব্যক্তিগত বাসভবনে রেখে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার আবেদন করেছেন। প্রস্তাবিত গৃহবন্দিত্বে ফ্লোরেস পুরোপুরি স্বাধীন থাকবেন না। আইনজীবীরা নিজেরাই কঠোর নজরদারির শর্ত মেনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নিরাপত্তা, ইলেকট্রনিক অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্র, সীমিত সাক্ষাৎ এবং ফোনকল পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। তার ভ্রমণ নথি আদালতের কাছে জমা রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। ফ্লোরেস ও মাদুরো দুজনকেই ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করা হয়। পরে তাদের নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তারা মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারাধীন অবস্থায় আছেন। দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্র এবং অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ফ্লোরেসের বিরুদ্ধেও মাদক পাচারসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার কাঠামো ব্যবহার করে তারা যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেছিলেন। তবে মামলাটি এখনো বিচার শুরুর পর্যায়ে রয়েছে এবং আদালতে অভিযোগগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। মাদুরো ও ফ্লোরেসের আইনজীবীরা মামলাটি বাতিলেরও চেষ্টা করছেন। তাদের অন্যতম যুক্তি হলো মাদুরো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কূটনৈতিক বা সার্বভৌম দায়মুক্তির অধিকার ভোগ করেন। ফ্লোরেসের আইনজীবীরাও তার সাবেক ফার্স্ট লেডি হিসেবে সংশ্লিষ্ট দায়মুক্তির প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে তাদের আটক ও দেশ থেকে নিয়ে আসার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রতিরক্ষা দল। ফ্লোরেস ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মাদুরো প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি দেশটির ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন এবং চার বছরের বেশি সময় জাতীয় পরিষদের নেতৃত্ব দেন। ২০১৩ সালে মাদুরো প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি দেশটির ফার্স্ট লেডি হন। মাদুরো সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলা সরকারের বিরুদ্ধে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনেছিল। একই সময়ে মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগও মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে চলমান রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের অংশ। নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক আলভিন কে. হেলারস্টেইন এখনো ফ্লোরেসের গৃহবন্দিত্বের আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত দেননি। মাদুরো ও ফ্লোরেসের মূল বিচার ২০২৭ সালের ১ জুন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আগামী ১৭ নভেম্বর তাদের আইনজীবীদের মামলাটি বাতিলের আবেদনের বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ফ্লোরেসের আইনজীবীদের আবেদনের মূল বিষয় এখন তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং কারাগারের বাইরে চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া যায় কি না। আদালত তার চিকিৎসা পরিস্থিতি, পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এবং প্রস্তাবিত কঠোর নজরদারির শর্ত বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। সূত্র: আল জাজিরা
শৈশব থেকেই আকাশে ওড়ার প্রতি ছিল গভীর আগ্রহ। কিন্তু জন্মগত নানা জটিলতা, ডাউন সিনড্রোম এবং গুরুতর শ্বাসনালির সমস্যার কারণে শ্যান্টেল ‘শ্যানি’ পুজারের জীবন কেটেছে হাসপাতাল আর চিকিৎসার মধ্যে। বারবার অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার ধকলের মধ্যেও তার স্বপ্ন ছিল একদিন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হওয়ার। শেষ পর্যন্ত ১৭তম জন্মদিনে সেই স্বপ্নই বাস্তবে রূপ দেয় আমেরিকান এয়ারলাইন্স। ২০১৮ সালে জন্মদিনের বিশেষ আয়োজনে শ্যানিকে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম সম্মানসূচক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাকে দেওয়া হয় আনুষ্ঠানিক ইউনিফর্ম, ব্যাজ ও ডানা প্রতীক। এরপর বিভিন্ন ফ্লাইটে তিনি কেবিন ক্রুদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার ডেনমার্কের বাসিন্দা শ্যান্টেলের শৈশব অন্য অনেক শিশুর মতো ছিল না। ডাউন সিনড্রোমের পাশাপাশি তার ছিল হৃদযন্ত্রের সমস্যা এবং ল্যারিঙ্গোম্যালেশিয়া, ট্র্যাকিওম্যালেশিয়া ও ট্র্যাকিওব্রঙ্কোম্যালেশিয়াসহ গুরুতর শ্বাসনালির জটিলতা। এসব সমস্যার কারণে তার শ্বাসনালি কখনো কখনো ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হয়ে যেত বলে তার মা ডিয়ানা মিলার-ব্যারি জানিয়েছিলেন। চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়মিত দক্ষিণ ক্যারোলাইনা থেকে ওহাইওর সিনসিনাটি চিলড্রেনস হাসপাতালে যেতে হতো। দীর্ঘ যাত্রার জন্য বিমানই ছিল তার পরিবারের অন্যতম ভরসা। আর সেই নিয়মিত বিমানযাত্রার মধ্যেই শ্যানির মনে জন্ম নেয় নতুন স্বপ্ন। একটি ফ্লাইটে এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট তার সঙ্গে বিশেষভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন এবং তাকে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ব্যবহৃত ডানা প্রতীক দেন। এরপর থেকেই শ্যানি নিজেও এই পেশায় কাজ করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। বিমানে তিনি কেবিন ক্রুদের কাজ গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখতেন এবং তাদের নিরাপত্তা নির্দেশনাও অনুকরণ করার চেষ্টা করতেন। শ্যানির মা ডিয়ানা একসময় মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে কিছু স্মারক সামগ্রী চেয়েছিলেন। কিন্তু বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে যে সাড়া আসে, তা পরিবারের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যায়। শ্যানির জন্য আয়োজন করা হয় বিশেষ জন্মদিনের অনুষ্ঠান। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে তার বন্ধু, পরিবারের সদস্য এবং বিশেষ অতিথিদের নিয়ে উদযাপন করা হয় দিনটি। তাকে দেওয়া হয় ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের আনুষ্ঠানিক পোশাক ও পরিচয়পত্র। পাশাপাশি তাকে সম্মানসূচক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের মর্যাদা দেওয়া হয়। এরপর থেকে চিকিৎসার জন্য যখনই তিনি বিমানে যাতায়াত করতেন, ইউনিফর্ম পরে কেবিন ক্রুদের সঙ্গে বিভিন্ন কাজে অংশ নিতেন। ফ্লাইটের আগে প্রস্তুতিতে সহায়তা করা, যাত্রীদের নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রদর্শনে অংশ নেওয়া এবং অন্যান্য ছোটখাটো কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতেন তিনি। শ্যানির জন্য এই স্বীকৃতি ছিল আরও বিশেষ একটি কারণে। তার ১৭তম জন্মদিনে পৌঁছানো নিয়েও চিকিৎসকদের একসময় গভীর উদ্বেগ ছিল। গুরুতর শ্বাসনালির সমস্যার কারণে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ২০১৬ সালে তার একটি বড় অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু জ্ঞান ফেরার পর শ্যানি ‘ফ্রোজেন’ চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান ‘লেট ইট গো’ গাইতে শুরু করেন বলে তার মা জানিয়েছেন। ঘটনাটি পরিবারের কাছে তার লড়াই করার মানসিকতার একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে। শ্যানির গল্প শুধু একটি জন্মদিনের বিশেষ আয়োজনের গল্প নয়। দীর্ঘ চিকিৎসা ও শারীরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও একটি শিশুর স্বপ্নকে গুরুত্ব দিয়ে তা বাস্তবে রূপ দেওয়ার উদাহরণ হিসেবেও ঘটনাটি সামনে এসেছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের নিউজরুমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে শ্যানি পুজারকে সম্মানসূচক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তখন পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য আমেরিকান এয়ারলাইন্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পিএসএ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইটে তিনি ৫০টিরও বেশি যাত্রা করেছিলেন। ২০১৭ সালে এমনই একটি যাত্রায় পাইলট ম্যাট কোয়েলিন ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ভ্যালারি বাটলারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের সঙ্গে শ্যানির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারের আগে আমেরিকান এয়ারলাইন্স ও পিএসএর কর্মীরা শ্যানির যাত্রাপথের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিশেষ আয়োজন করেন। কোম্পানির পক্ষ থেকে তার চিকিৎসাযাত্রাকে স্মরণীয় করে তুলতে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়। শ্যানির মা ডিয়ানা মেয়ের জন্য একটি দীর্ঘ ইচ্ছেতালিকাও তৈরি করেছিলেন। জীবনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও শ্যানি একে একে নিজের পছন্দের অনেক অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করেছেন। বিমানকর্মী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ তার সেই তালিকার অন্যতম বড় অর্জন হয়ে ওঠে। তার গল্পে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শারীরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে সামনে রেখে তার স্বপ্নকে থামিয়ে না দিয়ে পরিবার ও বিমান সংস্থার কর্মীরা তাকে নিজের আগ্রহের জগতে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। সেই সুযোগই শ্যানির জন্য বিমানযাত্রাকে চিকিৎসার প্রয়োজনের পাশাপাশি আনন্দ ও স্বপ্নপূরণের অভিজ্ঞতায় পরিণত করে। সূত্র: আমেরিকান এয়ারলাইন্স নিউজরুম, এবিসি নিউজ ও সিবিএস নিউজ।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বাড়ি কিনতে আগ্রহী আমেরিকানদের সংখ্যা বাড়ছে। একসময় ধনী মার্কিন নাগরিকদের জন্য প্যারিসে বাড়ি কেনা মূলত ছুটির সময় ব্যবহারের জন্য একটি অতিরিক্ত ঠিকানা বা বিনিয়োগের বিষয় ছিল। এখন সেই প্রবণতা বদলে অনেকেই স্থায়ীভাবে প্যারিসে বসবাসের জন্য বাড়ি কিনছেন। রাজনৈতিক পরিবেশ, জীবনযাত্রার মান, তুলনামূলকভাবে কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইউরোপের কেন্দ্র থেকে জীবন শুরু করার সুযোগ আমেরিকানদের আকৃষ্ট করছে। একই সঙ্গে তাদের তুলনামূলক বেশি ব্যয়ের কারণে প্যারিসের বিলাসবহুল আবাসন বাজারেও তৈরি হচ্ছে নতুন চাপ। বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ১৫ হাজার ৩৮৮ জন আমেরিকান ফ্রান্সে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করেন। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। আবাসন বাজারে আমেরিকানদের উপস্থিতিও বেশ চোখে পড়ার মতো। প্যারিসে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে আমেরিকানদের অংশ উল্লেখযোগ্য এবং তাদের গড় ক্রয় বাজেট অন্যান্য অনেক বিদেশি ও স্থানীয় ক্রেতার তুলনায় বেশি। নোটারি দ্য গ্রঁ প্যারির তথ্যেও প্যারিসের আবাসন বাজারে আমেরিকানদের শক্ত অবস্থানের প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২৫ সালে ফ্রান্সের বাইরে বসবাসকারী বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে আমেরিকানরা প্যারিসে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন। তারা ২২০টি বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনেন, যা বিদেশি অনাবাসী ক্রেতাদের মোট কেনাকাটার ২৬ শতাংশ। তাদের মধ্যম ক্রয়মূল্য ছিল প্রায় ৮ লাখ ৬৪ হাজার ইউরো এবং গড় আয়তন ৬৫ বর্গমিটার। এই প্রবণতার পেছনে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণও কাজ করছে। প্রতিবেদনে এমন কয়েকজন আমেরিকানের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবেশে হতাশ হয়ে প্যারিসে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মার্টি ইয়াব্রো ও তার স্ত্রী অ্যাঞ্জির গল্পটি তার একটি উদাহরণ। ২০২৪ সালে ইউরোপের তিনটি শহর ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করছিলেন তারা। কিন্তু ভ্রমণের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে তাদের মনে হয়, কয়েক সপ্তাহের সফরের বদলে ইউরোপেই যদি নতুন জীবন শুরু করা যায়। শেষ পর্যন্ত আটলান্টার বাড়ি বিক্রি করে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তারা প্যারিসে চলে যান। অবসরপ্রাপ্ত এই দম্পতির কাছে শুধু রাজনীতি নয়, জীবনযাত্রার হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ফ্রান্সে স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক সুবিধার কাঠামো তাদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। প্যারিসের হাঁটাচলার উপযোগী পরিবেশের কারণে গাড়ির প্রয়োজনও কম, যা দীর্ঘমেয়াদে জীবনযাত্রার খরচ কমাতে পারে। প্যারিসে আগ্রহী আমেরিকানদের একটি বড় অংশ ঐতিহাসিক ও অভিজাত এলাকাগুলোর প্রতি আকৃষ্ট। সাঁ-জার্মাঁ-দে-প্রে, ওদেয়োঁ, ল্য মারেঁ এবং ত্রিয়ঁগল দ'অর এলাকার মতো জায়গাগুলো তাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। তবে এখন তারা শহরের আরও কিছু এলাকায়ও যেতে শুরু করেছেন, যেখানে তুলনামূলকভাবে স্থানীয় প্যারিসবাসীদের বসবাস বেশি। নুভেল আথেন ও মনপারনাসের মতো এলাকাও আমেরিকান ক্রেতাদের নজরে এসেছে। এসব এলাকার কাছাকাছি দ্বিভাষিক স্কুল, বড় পার্ক ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা রয়েছে। কেউ কেউ প্যারিসের বাইরে অভিজাত শহরতলিতেও বাড়ি খুঁজছেন। এই পরিবর্তন প্যারিসের আবাসন বাজারে শুধু ক্রেতার সংখ্যা বাড়াচ্ছে না, বাড়ির ধরন ও সংস্কারের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনছে। আমেরিকান ক্রেতারা সাধারণত সংস্কার করা রান্নাঘর, সংযুক্ত বাথরুম, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও লিফটের মতো সুবিধা চান। ফলে পুরোনো অ্যাপার্টমেন্ট কিনে সেগুলো আধুনিক করে বিক্রি করার ব্যবসাও বাড়ছে। ফরাসি আবাসন বাজারে এই প্রবণতার আরেকটি দিক হলো আমেরিকান ক্রেতাদের তুলনামূলক বেশি অর্থ ব্যয় করার প্রবণতা। ব্যবসা-বাণিজ্যভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারিসে আমেরিকান ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দাম পাওয়া সম্ভব বলে বাজারে একটি ধারণা রয়েছে। এর পেছনে ফরাসি আবাসন বাজারের কাঠামোগত পার্থক্যও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো ফ্রান্সে বাড়ি বিক্রির জন্য একটি একক বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নেই। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও স্থানীয় সংস্থার মাধ্যমে সম্পত্তির তথ্য ছড়িয়ে থাকে। ফলে নতুন বিদেশি ক্রেতাদের জন্য একই এলাকার বিভিন্ন বাড়ির দাম তুলনা করা কঠিন হতে পারে। ফরাসি ক্রেতারা সাধারণত নিজের জন্য আলাদা ক্রেতা প্রতিনিধি নিয়োগ করেন না। তারা অনেক সময় সরাসরি বিক্রেতার প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিপরীতে আমেরিকান ক্রেতারা নিজেদের স্বার্থ দেখার জন্য আলাদা আবাসন প্রতিনিধি নিয়োগে বেশি আগ্রহী। এই পার্থক্য থেকে দুই দেশের ক্রয়প্রক্রিয়ার মধ্যেও বড় ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। ফরাসি বাজারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসাবগুলোর একটি হলো প্রতি বর্গমিটারের দাম। আমেরিকান ক্রেতারা অনেক সময় মোট বাজেট এবং বাড়িতে কী কী সুবিধা চান, সেটিকে বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে একই দামে কতটুকু জায়গা পাওয়া যাচ্ছে, সেটি তুলনায় কম গুরুত্ব পেতে পারে। নোটারি দ্য গ্রঁ প্যারির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফ্রান্সের বাইরে বসবাসকারী বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে আমেরিকানদের মধ্যম বাজেট ছিল ৮ লাখ ৬৪ হাজার ইউরো। একই সময়ে ফ্রান্সে বসবাসকারী ক্রেতাদের মধ্যম বাজেট ছিল ২ লাখ ৮৫ হাজার ইউরোর কাছাকাছি। এতে বোঝা যায়, অনাবাসী আমেরিকান ক্রেতারা প্যারিসের তুলনামূলক উচ্চমূল্যের বাজারে বেশি সক্রিয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে বিদেশি ক্রেতারাই পুরো প্যারিসের আবাসন বাজারের দাম নির্ধারণ করছেন। নোটারিদের আগের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, বিদেশি অনাবাসী ক্রেতাদের মোট অংশ সামগ্রিক বাজারে তুলনামূলকভাবে ছোট। তবে শহরের নির্দিষ্ট অভিজাত এলাকা ও উচ্চমূল্যের বাজারে তাদের প্রভাব বেশি হতে পারে। প্যারিসের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই প্রবণতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। একদিকে বিদেশি ক্রেতাদের অর্থ বাজারে নতুন লেনদেন ও বিনিয়োগ তৈরি করছে। পুরোনো বাড়ি সংস্কার, বিক্রি এবং মালিকদের বাড়ি বদলের ক্ষেত্রেও এটি সুযোগ তৈরি করছে। অন্যদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, বেশি অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত বিদেশি ক্রেতাদের সংখ্যা বাড়লে বিশেষ করে অভিজাত এলাকাগুলোতে বাড়ির দাম আরও বাড়তে পারে। এতে স্থানীয় ক্রেতাদের জন্য বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ২০২৬ সালের নোটারি বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, প্যারিসের উচ্চমূল্যের আবাসন বাজারে বিদেশি ক্রেতাদের ভূমিকা বাড়ছে। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত পুরো ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে পুরোনো বাড়ির বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ শতাংশ কমলেও প্যারিসের উচ্চমূল্যের বাজারে বিদেশি ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক শক্তিশালী। আমেরিকানদের জন্য প্যারিসের বাড়ি শুধু বসবাসের জায়গা নয়, সম্পদ বৈচিত্র্য করার মাধ্যমও হয়ে উঠছে। ইউরোর মাধ্যমে সম্পদ রাখা তাদের জন্য মার্কিন ডলারের বাইরে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে। প্যারিসের সীমিত ভৌগোলিক পরিসর, ঐতিহাসিক ভবন সংরক্ষণের নীতি এবং ইউরোপের অন্যান্য শহরে সহজ যোগাযোগও দীর্ঘমেয়াদি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। তবে বাড়ি কেনার খরচও কম নয়। সম্পত্তি কেনার সময় কর, নোটারি ফি এবং অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে মোট লেনদেন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হতে পারে। নোটারি দ্য গ্রঁ প্যারির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেটার প্যারিস এলাকায় ২০২৫ সালের পরিবর্তনের পর এসব কর ও ফি মিলিয়ে ক্রয়মূল্যের প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। তারপরও আমেরিকানদের আগ্রহ কমছে না। বরং প্যারিসের বিলাসবহুল আবাসন বাজারে তাদের উপস্থিতি নতুন ধরনের ব্যবসার জন্ম দিচ্ছে। ক্রেতাদের হয়ে সম্পত্তি খোঁজা, দাম নিয়ে দরকষাকষি এবং স্থানীয় বাজার বোঝাতে বিশেষায়িত প্রতিনিধি বা ক্রেতা-পরামর্শকের সংখ্যা বাড়ছে। প্যারিসের আবাসন বাজারে আমেরিকানদের এই প্রবেশ তাই কেবল বিদেশিদের বাড়ি কেনার গল্প নয়। এটি শহরের অভিজাত আবাসন বাজারের চাহিদা, সম্পত্তির সংস্কারের ধরন, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বিদেশি ক্রেতাদের সম্পর্কেও পরিবর্তন আনছে।, তবে প্যারিসের সামনে বড় প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অর্থনৈতিক সুবিধা ধরে রেখেও কীভাবে শহরটিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সাশ্রয়ী ও বাসযোগ্য রাখা যায়। বাজারে আমেরিকানদের আগ্রহ আপাতত কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার
যুক্তরাষ্ট্রে ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় থাকা প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের দাবি, আগের প্রশাসনের সময়ে স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থার অতিরিক্ত ফি গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়েছিল। সেই অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ এখন ফেরত দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার ওভাল অফিস থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যোগ্য গ্রাহকদের কাছে ৫০০ ডলারের ফেরত অর্থ পাঠানো শুরু হবে অক্টোবর থেকে। তবে এই অর্থ সব ওবামাকেয়ার গ্রাহক পাবেন না। প্রাথমিকভাবে তাদের জন্যই ফেরতের অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে, যারা ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা বাজার, অর্থাৎ Healthcare.gov ব্যবহার করেন এবং স্বাস্থ্যবিমার মাসিক প্রিমিয়াম পরিশোধে সরকারি ভর্তুকি পান না। এই সুবিধা ৩০টি অঙ্গরাজ্যের গ্রাহকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, বাইডেন প্রশাসনের সময়ে ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ‘ইউজার ফি’ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি নেওয়া হয়েছিল। এসব ফি শেষ পর্যন্ত বিমার প্রিমিয়ামের মাধ্যমে গ্রাহকদের ওপর পড়েছিল। প্রশাসনের দাবি, এর ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বড় একটি তহবিল উদ্বৃত্ত থেকে যায়, যা গ্রাহকদের সুবিধায় ব্যবহার করা হয়নি। ট্রাম্প তার ভিডিও বার্তায় বলেন, অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তা ফেরত দেওয়াই তার প্রশাসনের লক্ষ্য এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। হোয়াইট হাউস এই অর্থকে আগের প্রশাসনের সময়ে নেওয়া অতিরিক্ত ফি ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে। যেসব অঙ্গরাজ্যের গ্রাহক এই ফেরত পাওয়ার আওতায় থাকবেন, সেগুলো হলো আলাবামা, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওরেগন, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, ইউটাহ, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিং। এই ৩০টি অঙ্গরাজ্য ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা বাজার ব্যবহার করে তাদের ওবামাকেয়ার বাজার পরিচালনা করে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কের মতো যেসব অঙ্গরাজ্য নিজেদের স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থা পরিচালনা করে, সেগুলো এই তালিকায় নেই। তবে এই ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার অর্থ ঠিক কোন উৎস থেকে আসবে এবং এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত পরিষ্কার করা হয়নি। একই সঙ্গে প্রত্যেক যোগ্য গ্রাহক প্রকৃতপক্ষে ৫০০ ডলার অতিরিক্ত পরিশোধ করেছিলেন কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ফেরতের অর্থের সঙ্গে আগের সময়ে সংগৃহীত অব্যবহৃত ইউজার ফি তহবিলের সম্পর্ক থাকতে পারে। ফলে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার পুরো দায় কেবল বাইডেন প্রশাসনের ওপর দেওয়ার বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমার খরচ বর্তমানে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেওয়া অতিরিক্ত সরকারি সহায়তা শেষ হওয়ার পর অনেক গ্রাহকের স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়েছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানো নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপরও রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা তার আরেকটি বড় আর্থিক প্রতিশ্রুতির পরপরই এসেছে। এর একদিন আগে তিনি রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাবের কথা বলেন। তবে সেই প্রস্তাব আলাদা এবং এর বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয় জড়িত। অন্যদিকে ৫০০ ডলারের ওবামাকেয়ার ফেরতকে প্রশাসন অতিরিক্ত ফি ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে অর্থ পাঠানো শুরু হবে অক্টোবর ২০২৬ থেকে। সূত্র: হোয়াইট হাউস, রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডায় চুরি করা শিশুখাদ্য বা বেবি ফর্মুলা কেনাবেচার ১১ লাখ ডলারের এক বিশাল চক্রের মূল হোতা হিসেবে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তরা হলেন ৫৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলসাইদি এবং ৪৯ বছর বয়সী জেইনা আব্দুল-হাসান সু জাবিব। ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার এবং পাম বিচ শেরিফ অফিস গত বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও চুরি করা সম্পত্তি কেনাবেচার ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ মাসের নিবিড় তদন্ত শেষে লেক ওয়ার্থের একটি বাড়ি এবং ডেভি এলাকার একটি গুদাম থেকে এই অবৈধ চক্রটি পরিচালিত হওয়ার প্রমাণ পায় কর্তৃপক্ষ। চক্রের সাথে জড়িত পেশাদার চোরেরা (যাদের বুস্টার বলা হয়) পুবলিক্স, টার্গেট, ওয়ালমার্ট, সিভিএস এবং ওয়ালগ্রিনসের মতো বড় স্টোর থেকে বেবি ফর্মুলা চুরি করে আনত। এরপর তারা বাজারদরের মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ দামে, অর্থাৎ প্রতি কৌটা ১০ ডলারে সেগুলো ওই দম্পতির কাছে বিক্রি করে দিত। পরবর্তীতে আলসাইদি এবং জাবিব বেশি লাভের আশায় এই শিশুখাদ্যগুলো গুদামে মজুত করে পুনরায় চড়া দামে বিক্রি করতেন। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ফ্লোরিডাজুড়ে ১৫০টিরও বেশি চুরির ঘটনার সাথে এই সংঘবদ্ধ চক্রের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এই ন্যক্কারজনক অপরাধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার বলেন, যেসব বাবা-মা সন্তানদের খাওয়ানোর জন্য বেবি ফর্মুলার ওপর নির্ভরশীল, তাদের কাছ থেকে এটি চুরি করা অত্যন্ত বিবেকহীন কাজ। পাম বিচ শেরিফ রিক ব্র্যাডশ জানান, স্টোরগুলোতে শিশুখাদ্যের সংকট দেখা দিলে তা সাধারণ পরিবারগুলোর মধ্যে মারাত্মক ভীতি ও ভোগান্তির সৃষ্টি করে। এই ঘটনার সাথে জড়িত কেনেথ এল. জোন্স জুনিয়রসহ মোট ৯ জন পেশাদার চোরকে ইতোমধ্যে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু কেনেথই ৭০ হাজার ডলারেরও বেশি মূল্যের শিশুখাদ্য চুরি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলার পঁচিশ বছর পূর্তিতে নতুন করে ইসলামভীতির মুখে পড়েছেন টেক্সাসের মুসলিম সম্প্রদায়। ২০০১ সালের ওই মর্মান্তিক ঘটনার দীর্ঘ আড়াই দশক পেরিয়ে গেলেও দেশটিতে মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ ও সন্দেহ এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি, বরং সাম্প্রতিক সময়ে তা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে এই আতঙ্ক ও নিরাপত্তা শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য পবিত্র জুমার দিন এবং একই সঙ্গে ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকী হওয়ায় টেক্সাসের ডালাস এলাকার মসজিদগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সাধারণ মুসল্লিদের সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে মসজিদ ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বাড়তি টহল ও নিবিড় নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ওই হামলার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে এবং বিশেষ করে আমেরিকায় ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। সেই ঘটনার সিকি শতাব্দী পর আজ শুক্রবার যখন মুসলিমরা তাদের সাপ্তাহিক পবিত্র জুমার নামাজ আদায়ে সমবেত হবেন, তখন সম্প্রদায়ের মধ্যে আবারও নিরাপত্তা নিয়ে চাপা উদ্বেগ বিরাজ করছে। টেক্সাসের মুসলিম নেতারা জানিয়েছেন, নিজেদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে তারা প্রতিনিয়ত এই নতুন করে বাড়তে থাকা ইসলামভীতির মোকাবিলা করছেন। নাগরিক অধিকার কর্মীদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে যেকোনো সম্প্রদায়ের মানুষের নিজ ধর্ম পালনে এমন নিরাপত্তা শঙ্কার মুখে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ওয়েলেসলিতে নিজের দুই শিশুসন্তানকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত মা জ্যানেট ম্যাকঅসল্যান্ডের ‘প্রোবাবেল কজ’ বা সম্ভাব্য কারণ নির্ণয়ের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আদালতে এই শুনানি হয়। জ্যানেটের বিরুদ্ধে তার ৭ বছর বয়সী ছেলে কাই এবং ৬ বছর বয়সী মেয়ে এলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। গত এপ্রিলে নিজ বাড়িতে দুই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারের পর পার্শ্ববর্তী ভারমন্ট অঙ্গরাজ্য থেকে এই নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে সময় তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুনানিতে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস মামলার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির জন্য আদালতের কাছে আরও সময় প্রার্থনা করে। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের চার মাস পেরিয়ে গেলেও চিফ মেডিকেল এক্সামিনার অফিস এখনো শিশুদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করতে পারেনি। চলতি বছরের শুরুর দিকে জ্যানেট ম্যাকঅসল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি খুনের দুটি অভিযোগ আনা হলেও এখনো তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত বা ইন্ডিক্ট করা হয়নি। বিচারক প্রসিকিউশনের সময় বাড়ানোর এই আবেদন মঞ্জুর করেছেন এবং আগামী অক্টোবরের শেষদিকে উভয় পক্ষকে আবারও আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। জ্যানেটের এই বিচার প্রক্রিয়া এমন এক সময়ে চলছে, যখন লিন্ডসে ক্ল্যান্সি নামের আরেক মার্কিন মায়ের বিচার নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে। লিন্ডসে প্রসবোত্তর মানসিক বিষণ্ণতার (পোস্টপার্টাম সাইকোসিস) কারণে নিজের সন্তানদের হত্যা করেছিলেন বলে দাবি করেছিলেন, যার বিচার সম্প্রতি বাতিল (মিসট্রায়াল) ঘোষণা করা হয়েছে। জ্যানেটের আইনজীবী জোসেফ ক্রোস্কি স্বীকার করেছেন যে তার মক্কেলের সন্তানদের বয়স লিন্ডসের সন্তানদের চেয়ে বেশি ছিল, তবে ওই মামলাটি তাদের বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, মানসিক অসুস্থতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত কি না, তা নিয়ে বর্তমানে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে একটি বড় পরিসরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনলাইনে শিশু নিপীড়কদের ধরতে গিয়ে নিউইয়র্কের একটি কফি শপে উল্টো ছুরিকাহত হয়েছিলেন পেনসিলভানিয়ার এক ইনফ্লুয়েন্সার। গত বছরের ওই ঘটনার জেরে এবার তাকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৩৪ বছর বয়সী নিকোলাস আতালা, যিনি অনলাইনে ‘নিকি সাল’ নামে পরিচিত, গত ৪ সেপ্টেম্বর থার্ড-ডিগ্রি হামলা, অপরাধমূলক উপদ্রব এবং শিশুর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, আতালা মূলত অনলাইনে অপ্রাপ্তবয়স্ক সেজে শিশু নিপীড়কদের শনাক্ত করার কাজ করেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জেমসটাউনের একটি টিম হর্টনস কফি শপে তিনি ৪৩ বছর বয়সী জেমস মরিস এবং ৪২ বছর বয়সী এরিক স্পেন্সারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। আতালা দাবি করেছিলেন, তিনি ডেটিং সাইটে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী সেজে ১৬ বছর বয়সী পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কেবল কণ্ঠস্বরের ভিত্তিতে কফি শপে থাকা মরিস ও স্পেন্সারকে সন্দেহ করে তিনি তাদের ওপর চড়াও হন। বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মরিস আতালার হাতে মারাত্মকভাবে ছুরিকাঘাত করেন। শুধু তাই নয়, তাদের এই তুমুল হাতাহাতির মধ্যে কফি শপে থাকা এক বছর বয়সী এক শিশু ও তার পরিবারও আটকা পড়ে এবং শিশুটির সঙ্গে তাদের ধাক্কা লাগে। পরবর্তীতে জেমসটাউন পুলিশের তদন্তে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। সন্দেহভাজনদের মোবাইল ফোন তল্লাশি করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, ঘটনার আগে আতালা, মরিস বা স্পেন্সারের মধ্যে কোনো ধরনের যোগাযোগই হয়নি। মূলত ভুল মানুষের ওপর চড়াও হওয়ার কারণেই এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল। এই ঘটনার পর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মরিস ও স্পেন্সারকে গ্রেপ্তার করা হয়। মরিসের বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি হামলাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়। সর্বশেষ গত ৪ সেপ্টেম্বর সংঘাতের সময় এক বছর বয়সী ওই শিশুকে বিপদে ফেলার দায়ে তিনজনের বিরুদ্ধেই সেকেন্ড-ডিগ্রি অপরাধমূলক উপদ্রব এবং শিশুর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ। এদিকে, ছুরিকাঘাতের পর আতালার চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে খোলা একটি অনলাইন তহবিল থেকে ইতোমধ্যেই ১২ হাজার ডলারেরও বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। ফেসবুকে প্রায় ৪৭ হাজার অনুসারী থাকা আতালা দীর্ঘদিন ধরে শিশু নিপীড়কদের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করে আসছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, প্রকাশ্যে মাদকের রমরমা কারবার এবং পুলিশের মন্থর কার্যক্রমে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শহরটির শীর্ষস্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সিয়াটলের মেয়র কেটি উইলসনের কাছে অবিলম্বে একটি কার্যকর ও দৃশ্যমান ‘জননিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনা’ দাবি করেছে মাইক্রোসফট, স্টারবাকস, কস্টকো, টি-মোবাইলের মতো প্রভাবশালী কোম্পানিগুলো। গত বৃহস্পতিবার সিয়াটল ম্যারিনার্সসহ ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের স্বাক্ষরিত এক কড়া চিঠিতে সিটি কাউন্সিলের কাছে এই দাবি জানানো হয়। সম্প্রতি বেলটাউন এলাকায় গোলাগুলিতে তিন তরুণের প্রাণহানি ও তিনজন গুরুতর আহতের মর্মান্তিক ঘটনার পর এই অভূতপূর্ব চাপের মুখে পড়লেন মেয়র। ব্যবসায়িক জোটের পক্ষ থেকে আগামী ১০০ দিনের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট জননিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্রতি মাসে এর অগ্রগতি প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। চিঠিতে ৯১১-এ আসা জরুরি কলে পুলিশের সাড়া দেওয়ার সময়সীমা সাত মিনিটে নামিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে নর্ডস্ট্রমের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, তাদের ডাউনটাউন স্টোর থেকে করা জরুরি কলের মাত্র ২৯ শতাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ সাড়া দিয়েছে, যেখানে অন্যান্য এলাকায় এই হার শতভাগ। এছাড়া পায়োনিয়ার স্কোয়ারসহ জনবহুল এলাকাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা চালু, মাদকের বাজার উচ্ছেদ এবং স্কুল-পার্কের ২৫০ ফুটের মধ্যে থাকা ভাসমান ক্যাম্পগুলো ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জোটের করা এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, শহরের মাত্র ৩৪ শতাংশ ভোটার বর্তমান নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে সন্তুষ্ট। ২০২৫ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী’ হিসেবে পরিচিত মেয়র কেটি উইলসনের জন্য এই পরিস্থিতি একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে জুলাই মাসে ‘বাইট অব সিয়াটল’ গোলাগুলির ঘটনায় প্রশাসনের তথ্য সরবরাহে গাফিলতির সমালোচনার জেরে মেয়রের চাপে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তৎকালীন পুলিশ প্রধান শন বার্নস। বর্তমানে আন্দ্রে সেলস অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানের দায়িত্বে থাকলেও, নতুন পুলিশ প্রধান খোঁজার প্রক্রিয়া চলছে। তবে শীর্ষ ব্যবসায়ীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নিছক প্রতিশ্রুতি আর যথেষ্ট নয়; ভোটার ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণে একটি বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং এর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাউনটাউনে স্কিড রো এলাকার গৃহহীনদের অর্থ দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী ব্যালট পিটিশনে ভুয়া স্বাক্ষর করানোর অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে ৪৭ বছর বয়সী জেমস ব্রাসকে (যিনি ‘লর্ড’ নামেও পরিচিত) বৃহস্পতিবার সকালে ভিক্টরভিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই। ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার বিকেলেই রিভারসাইডের যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাকে প্রথমবারের মতো হাজির করা হবে। চুরি করা ভোটার পরিচয় ব্যবহার করে এই সুপরিকল্পিত জালিয়াতির ঘটনাটি মার্কিন প্রশাসনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। জেমস ব্রাসের পাশাপাশি এই অভিযোগনামায় তার হয়ে পিটিশন প্রচারের কাজ করা আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলের ৪৯ বছর বয়সী কোর্টনি প্রাইস এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বোরন শহরের ৩৩ বছর বয়সী জাটেইশা হেরন। এই তিনজনের সবার বিরুদ্ধেই পরিচয় জালিয়াতির ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া ব্রাস ও প্রাইসের বিরুদ্ধে পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অতিরিক্ত আরও একটি গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার বিষয়ে এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস ফিল্ড অফিসের সহকারী পরিচালক প্যাট্রিক গ্র্যান্ডি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের ভোট ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী অবকাঠামোর ওপর আমেরিকানদের পূর্ণ আস্থা থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। অভিযুক্তদের এই জালিয়াতি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের একটি অপরিহার্য স্তম্ভকে দুর্বল করার অপচেষ্টা। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপকারী এবং ভোটার জালিয়াতির মতো যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে এফবিআই সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযোগের আগ্রাসী তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলেও দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘চ্যাম্পিয়ন অব অনার’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে ন্যাশনাল মেডেল অব অনার মিউজিয়াম ফাউন্ডেশন। সামরিক বাহিনীর সাহসিকতার সর্বোচ্চ পদক ‘মেডেল অব অনার’ প্রাপ্তদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং জাতীয় পর্যায়ে এই পদক সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ট্রাম্পের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গত বৃহস্পতিবার তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ও সমর্থকদের পাশাপাশি পদকপ্রাপ্তরাও উপস্থিত ছিলেন। ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে পদকপ্রাপ্তদের স্মরণে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের লক্ষ্যে প্রণীত ‘হার্শেল “উডি” উইলিয়ামস ন্যাশনাল মেডেল অব অনার মনুমেন্ট লোকেশন অ্যাক্ট’-এর প্রতি জোরালো সমর্থনের জন্যও ট্রাম্প অনুষ্ঠানে ব্যাপক প্রশংসিত হন। তবে সম্মাননা গ্রহণের এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানেও স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে এক অদ্ভুত মন্তব্য করে বসেন ট্রাম্প। উপস্থিত ১৬ জন জীবিত মেডেল অব অনার বিজয়ীর মধ্যে ১৫ জনের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমি নিজেকেই এটি দিতে চাই, আমার কোনো সমস্যা নেই, তবে আমাকে সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।" তিনি আরও বলেন, নিজেকে দিলে এই সংখ্যাটি ১৫ এর বদলে ১৬ হতো। যদিও পরক্ষণেই তিনি দাবি করেন যে তিনি নিছকই মজা করছিলেন। তবে কংগ্রেসের হয়ে প্রেসিডেন্ট এই পদক প্রদান করলেও সামরিক বাহিনীতে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় আইন অনুযায়ী ট্রাম্প এটি পাওয়ার যোগ্য নন। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও তিনি ২০১৮ সালের ইরাক সফরকে অত্যন্ত সাহসী আখ্যা দিয়ে নিজেকে মেডেল অব অনার দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সর্বোচ্চ এই সামরিক পদক নিয়ে ট্রাম্পের নানা মন্তব্য মার্কিন রাজনীতিতে বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। গত আগস্টে নিউজার্সিতে এক নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বেসামরিক নাগরিকদের দেওয়া ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’-কে ‘মেডেল অব অনার’-এর চেয়ে ‘উন্নত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, সামরিক বাহিনীর সদস্যরা এই পদক পাওয়ার সময় হয় বুলেটের আঘাতে মারাত্মক জখম অবস্থায় থাকেন, নয়তো মৃত্যুবরণ করেন। অন্যদিকে বেসামরিক ব্যক্তিরা সুস্থ অবস্থায় এটি গ্রহণ করেন। তার এমন অসংবেদনশীল মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে একে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছিল ভেটেরান্স অব ফরেন ওয়ার্স নামের সংগঠন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে একটি টেসলা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নির্মাণাধীন ভবনের ভারা (স্ক্যাফোল্ডিং) ও বাস স্টপেজে আছড়ে পড়ে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। গত বুধবার ভোরে ইস্ট ৪২ নম্বর স্ট্রিটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং হত্যার অভিযোগে গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বুধবার রাত ২টা ৪৩ মিনিটের দিকে ২৭ বছর বয়সী আলেহান্দ্রা পাহারসিং একটি ২০২৪ মডেলের ধূসর রঙের টেসলা মডেল ওয়াই (Model Y) এসইউভি চালাচ্ছিলেন। পূর্ব দিকে যাওয়ার সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের স্ক্যাফোল্ডিং, একটি বাস স্টপ ও মেইলবক্সে সজোরে ধাক্কা দেয়। এই ঘটনায় গাড়িতে থাকা চালকের বান্ধবী ও ২৭ বছর বয়সী যাত্রী এলিস সুওমি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। চালক পাহারসিংও এই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, চালক পাহারসিংয়ের বাড়ি কানেকটিকাটে এবং নিহত এলিস সুওমি হারলেমের বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমবার ধাক্কা খাওয়ার পরও চালক গাড়ি থামাননি, বরং কয়েক ব্লক দূরে যাওয়ার পর একটি ট্র্যাফিক ক্যামেরার আওতায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত গাড়িটি থেমে যায়। বর্তমানে এনওয়াইপিডি-র হাইওয়ে ডিস্ট্রিক্ট কলিশন ইনভেস্টিগেশন স্কোয়াড এই মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।