সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

‘কেউ যেন আমাদের ওপর নজর রাখছে’ - ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়ার অজানা ইতিহাস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৫:১০
৯/১১-এর ২৫ বছর পরও আমেরিকায় মুসলিমদের ঘিরে সন্দেহ ও ইসলামোফোবিয়ার অস্বস্তিকর ইতিহাস
৯/১১-এর ২৫ বছর পরও আমেরিকায় মুসলিমদের ঘিরে সন্দেহ ও ইসলামোফোবিয়ার অস্বস্তিকর ইতিহাস

ছোটবেলায় রোজিনা আলীর কাছে আমেরিকা ছিল স্বপ্নের মতো এক দেশ। ক্যালিফোর্নিয়ার ছোট শহরে বেড়ে ওঠা রোজিনা ইতিহাসের বই পড়তেন, ‘বাফি দ্য ভ্যাম্পায়ার স্লেয়ার’-এর ডিভিডি দেখতেন। পাঁচ বছর বয়সে পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা রোজিনা ধীরে ধীরে নিজেকে এই দেশেরই একজন হিসেবে ভাবতে শুরু করেছিলেন।


তিনি বিশ্বাস করতেন, আমেরিকা ধর্মীয় স্বাধীনতা, সহনশীলতা ও বহুত্ববাদের দেশ। তাই ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর বাবা-মা যখন তাকে ও ভাইবোনদের সতর্ক করে বলেছিলেন, এই দেশে এখন মুসলিমদের সবাইকে সন্দেহের চোখে দেখা হতে পারে, তখন কথাগুলো তার কাছে বিশ্বাসই হয়নি।


রোজিনা পরে স্মরণ করে বলেন, তিনি বারবার বাবা-মাকে বলতেন, ‘এটা আমেরিকা। এটা পাকিস্তান নয়। আমরা যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছি।’


কিন্তু বাবা-মায়ের আশঙ্কা ছিল অন্যরকম। তাদের মনে হয়েছিল, দেশ যুদ্ধের মধ্যে ঢুকে গেছে এবং হামলাকারীরা মুসলিম হওয়ায় আমেরিকার মুসলিম পরিবারগুলোকেও এখন সন্দেহের মুখে পড়তে হবে।


বহু বছর পর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে রোজিনা বুঝতে পারেন, তার বাবা-মায়ের ভয় অমূলক ছিল না। বরং ৯/১১-এর পর মুসলিমদের জীবনে যে সন্দেহ, ভয় ও নজরদারি নেমে এসেছিল, তার শিকড় আরও অনেক গভীরে।


এই দীর্ঘ ইতিহাসই তুলে ধরেছেন রোজিনা আলী তার নতুন বই ‘সিজনস অব ফিউরি’-তে। বইটিতে তিনি ৯/১১-এর আগের কয়েক দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং ধীরে ধীরে রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে, তা অনুসন্ধান করেছেন।


রোজিনা সম্প্রতি গার্ডিয়ানের পডকাস্ট ‘স্টেটসাইড উইথ কাই অ্যান্ড কার্টার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ৯/১১-এর পর মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল যে অনেকেরই মনে হতো, ‘দেয়ালেরও কান আছে।’


তার ভাষ্য অনুযায়ী, এফবিআই, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যরা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা, ক্যাফে এমনকি মসজিদেও নজরদারি চালাতেন। কোথাও গোপন তথ্যদাতা ব্যবহার করা হতো, আবার কোথাও মুসলিমদের এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানোর জন্য প্ররোচিত করা হতো, যা পরে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।


অর্থাৎ কেউ অপরাধী কি না, সেটাই সবসময় মূল বিষয় ছিল না। অনেকের ক্ষেত্রেই আগে থেকেই সন্দেহ তৈরি করা হয়েছিল।


তবে রোজিনার অনুসন্ধান বলছে, মুসলিমদের ঘিরে এই সন্দেহের ইতিহাস ৯/১১ দিয়ে শুরু হয়নি।


১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী আরব-আমেরিকানদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা অনেক বেড়ে যায়। ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়, শরণার্থীদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়। আরব-আমেরিকানদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতাও বাড়তে থাকে।


এরপর ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিক হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর ইসরায়েলি অলিম্পিক অ্যাথলেটদের জিম্মি করে হত্যা করার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আরব জনগোষ্ঠীর ওপর নজরদারি শুরু করে।


প্রথমে নজরদারির লক্ষ্য ছিল আরব অভিবাসী ও ভিসাধারীরা। কিন্তু পরে এর আওতা বাড়তে থাকে এবং আরব বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকরাও এর মধ্যে চলে আসেন।


তাদেরই একজন ছিলেন আরব-আমেরিকান আইনজীবী আবদিন জাবারা। রোজিনার বইয়ে তার গল্প গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছে। জাবারাকে শুধু কয়েক মাস নয়, বছরের পর বছর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছিল। পরে তিনি ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির নজরদারির আওতায় থাকা প্রথম স্বীকৃত মার্কিন নাগরিক হিসেবে পরিচিত হন।


রোজিনার মতে, এই সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে আরব ও পরে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে দেখার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ধারণা শক্তিশালী হতে থাকে—ফিলিস্তিন, আরব পরিচয় ও মুসলিম পরিচয়কে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে এক করে দেখা।


নব্বইয়ের দশকে সেই ধারণা আরও বিস্তৃত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসলামপন্থী সন্ত্রাসবাদ ক্রমেই বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে সামনে আসে। ধীরে ধীরে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে মুসলিমদের একটি সরল যোগসূত্র তৈরি হতে থাকে।


১৯৯৫ সালের ওকলাহোমা সিটি বোমা হামলা এর একটি বড় উদাহরণ। হামলার পরপরই অনেকের সন্দেহ চলে যায় মুসলিমদের দিকে। এমনকি কিছু সংবাদমাধ্যমও শুরুতে এটিকে আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের সন্ত্রাসীদের কাজ বলে ধারণা করেছিল।


কিন্তু হামলাকারী ছিলেন টিমোথি ম্যাকভেই—একজন শ্বেতাঙ্গ সাবেক সেনাসদস্য।


রোজিনার মতে, এই ঘটনা দেখিয়ে দেয়, ৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়েই যুক্তরাষ্ট্রে একটি শক্তিশালী ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছিল—দেশে সন্ত্রাসী হামলা হলে তার পেছনে মুসলিমদের থাকার সম্ভাবনাই আগে ভাবা হবে।


এর পেছনে আরও কিছু পরিবর্তন কাজ করছিল। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসন বাড়ছিল, মুসলিমরা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় আরও প্রকাশ্যে তুলে ধরছিলেন এবং রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবেও তাদের প্রভাব বাড়ছিল। একই সময়ে ফিলিস্তিন ইস্যুতে মুসলিম সম্প্রদায়ের সক্রিয়তাও অব্যাহত ছিল।


রোজিনার মতে, এসব ঘটনাকে আলাদা করে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যায় না। ফিলিস্তিন প্রশ্ন, আরব-আমেরিকানদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা, মুসলিম পরিচয় এবং জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা—সবকিছু ধীরে ধীরে একটি বড় রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে ঢুকে যায়।


আজকের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সেই ইতিহাস যেন নতুন করে সামনে এসেছে।


রোজিনা বলেন, প্রায় এক দশক আগে যখন তিনি বইটির ভাবনা শুরু করেন, তখন তার ধারণা ছিল এটি হবে অতীতের একটি ইতিহাস। কিন্তু এখন তিনি এমন এক সময়ের মধ্যে বসবাস করছেন, যখন মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ শুধু প্রকাশ্য নয়, অনেক ক্ষেত্রেই তা আরও আক্রমণাত্মক ও সহিংস হয়ে উঠেছে।


তার মতে, ইসলামবিদ্বেষ এখন আর শুধু সমাজের প্রান্তিক কিছু মানুষের বক্তব্য নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিরও একটি অংশ হয়ে উঠেছে।


মুসলিম রাজনীতিকদের ঘিরে সাম্প্রতিক নানা বক্তব্যেও রোজিনা ৯/১১-পরবর্তী সময়ের পুরোনো সন্দেহের প্রতিধ্বনি দেখতে পান। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি কিংবা মিশিগানের রাজনীতিক আবদুল এল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত বা তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশকে তিনি আগের দশকের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণার সঙ্গে তুলনা করেন।


রোজিনার ভাষায়, ‘ইসলামবিদ্বেষ আমেরিকান রাজনীতির একটি বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।’


তিনি মনে করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজা যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থানও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তার মতে, ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সরকারের দৃঢ় সমর্থনের বিপরীতে আমেরিকার সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের মতামতে পরিবর্তন এসেছে। ফলে নীতিনির্ধারকদের অবস্থান এবং জনমতের মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের দূরত্ব।


একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম রাজনীতিকদের সংখ্যাও বাড়ছে। রোজিনার মতে, এই দুই প্রবণতা মিলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে রাজনৈতিক মতের সঙ্গে লড়াই করার বদলে মুসলিম পরিচয়কে আক্রমণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।


তার ভাষায়, ইসলামবিদ্বেষ এখন একটি ‘অস্ত্র’ হয়ে উঠেছে।


আর এখানেই রোজিনার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। ৯/১১-এর পর মুসলিমদের লক্ষ্য করে যে নিরাপত্তা কাঠামো ও আইনগত ক্ষমতা তৈরি বা বিস্তৃত করা হয়েছিল, সেগুলো এখন অন্য জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হচ্ছে।


বিশেষ করে লাতিনো অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিবাসন অভিযান ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি এর প্রভাব দেখতে পাচ্ছেন।


রোজিনার মতে, ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্র ‘সন্ত্রাসবাদ’ কী—তার একটি পরিষ্কার ও সীমিত সংজ্ঞা তৈরি করতে পারেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা আরও বিস্তৃত হয়েছে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে সরকারের হাতে এমন অনেক ক্ষমতা এসেছে, যা পরে ভিন্নমতাবলম্বী বা সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা সম্ভব।


তার আশঙ্কা, যে ব্যবস্থা একসময় মুসলিমদের লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছিল, সেটি এখন আরও অনেক মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে।


রোজিনার কাছে তাই ৯/১১ শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলার ইতিহাস নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রে ভয়, সন্দেহ, নজরদারি, ধর্মীয় পরিচয় এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার গত ২৫ বছরের একটি দীর্ঘ গল্প।


আর সেই গল্পের শুরু ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সকালেই নয়—তারও বহু আগে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
৫০০ ডলারের রিবেট চেক দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের, অক্টোবর থেকে পেতে পারেন যোগ্য আমেরিকানরা
১০ লাখ আমেরিকানকে ৫০০ ডলার করে দিচ্ছেন ট্রাম্প! যারা পাবেন এই টাকা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ১০ লাখ আমেরিকানকে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রশাসনের দাবি, ‘অতিরিক্ত ফি’ নেওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আগামী অক্টোবর থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে এই অর্থ পাঠানোর কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত এক ভিডিওতে ট্রাম্প এই ‘রিবেট চেক’ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রায় ১০ লাখ পরিশ্রমী আমেরিকানকে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের (এসিএ) আওতায় ভুলভাবে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়েছিল। এক নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, ৩০টি অঙ্গরাজ্যের এমন বাসিন্দারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবেন, যারা স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামে কোনো সরকারি ভর্তুকি পাননি এবং ফেডারেল ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসে সম্পূর্ণ ফি পরিশোধ করেছেন। যেসব অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন, সেগুলো হলো—আলাবামা, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওরেগন, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, ইউটা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিং। ট্রাম্প দাবি করেন, এসব মানুষকে অতিরিক্ত ফি হিসেবে অন্তত ৫০ কোটি ডলার দিতে হয়েছিল। তার ভাষ্য, আগের প্রশাসন বিষয়টি জানত এবং এ নিয়ে পর্যালোচনাও করেছিল, কিন্তু অর্থ ফেরত দেয়নি। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ৫০০ ডলারের এই অর্থ অনেক ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের নীতির কারণে স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়ে যাওয়ার পুরোটা বা বড় একটি অংশ পূরণ করবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই দাবির সঙ্গে একমত নন এমআইটির অর্থনীতির অধ্যাপক ও ওবামাকেয়ারের অন্যতম স্থপতি হিসেবে পরিচিত জনাথন গ্রুবার। তিনি এই দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থায় প্রশাসনিক খরচ থাকা স্বাভাবিক এবং ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের ফিগুলো তুলনামূলকভাবে যৌক্তিক ছিল। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করা সংগঠন প্রোটেক্ট আওয়ার কেয়ার এই ৫০০ ডলারের অর্থকে ‘লোক দেখানো উদ্যোগ’ বলে সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমার বাড়তি খরচের তুলনায় ৫০০ ডলার খুবই কম। সংগঠনটি আরও বলেছে, আরবান ইনস্টিটিউটের হিসাবে একজন আমেরিকানের স্বাস্থ্যবিমার গড় মাসিক খরচ প্রায় ৬১১ ডলার। ফলে ৫০০ ডলারের এই অর্থ অনেকের এক মাসের স্বাস্থ্যবিমার খরচও পুরোপুরি মেটাতে পারবে না। ট্রাম্পের ৫০০ ডলারের এই ঘোষণা এসেছে এর ঠিক একদিন পর, যখন তিনি রিপাবলিকানরা নভেম্বরে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। এই ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাব নিয়েও ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সঙ্গে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির আইনগত বৈধতা, এত বড় অর্থ ব্যয়ের জন্য ট্রাম্পের ক্ষমতা এবং এই অর্থের উৎস নিয়ে আইনপ্রণেতা ও অর্থনীতিবিদরা প্রশ্ন তুলেছেন। কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্ক গোল্ডওয়েইন হিসাব করে বলেছেন, ৫ হাজার ডলারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এক বছরে প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এত বিপুল অর্থ অর্থনীতিতে ঢোকানো হলে পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং সরকারের ঋণ আরও বেড়ে যেতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৫:৫১
ট্রাম্পের সঙ্গে সমর্থকদের শপথ, সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা

সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে প্রতারণা করে হলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতার শপথ নিলেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ওসামা বিন লাদেনের ‘লেটার টু আমেরিকা’

৯/১১-এর ২৫ বছর পরও আমেরিকায় মুসলিমদের ঘিরে সন্দেহ ও ইসলামোফোবিয়ার অস্বস্তিকর ইতিহাস

‘কেউ যেন আমাদের ওপর নজর রাখছে’ - ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়ার অজানা ইতিহাস

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের জাতীয় গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৬ ডলার ছাড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম গ্যালনে ৬ ডলার ছাড়াল

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের জাতীয় গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৬ ডলার ছাড়িয়েছে। জ্বালানির দাম পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশটির ডিজেলের গড় দাম ৬ ডলারের ওপরে ওঠে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং রাশিয়ার পরিশোধনাগারে হামলার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকুচিত হওয়ায় এই রেকর্ড দাম তৈরি হয়েছে।   ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায়। ট্রাক, মালবাহী ট্রেন, জাহাজ ও ভারী যন্ত্রপাতিতে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্য পরিবহনের খরচও বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের কেনাকাটার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে। গ্যাসবাডির বিশ্লেষক প্যাট্রিক ডি হানও সতর্ক করেছেন, রেকর্ড ডিজেলের দাম সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে।   ডিজেলের দাম চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। এর পাশাপাশি ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল পরিশোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডিজেলের বৈশ্বিক সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে।   রাশিয়া ডিজেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হলেও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশটি ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। চীনও নিজস্ব বাজারে ঘাটতি এড়াতে জ্বালানি রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ফলে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ আরও সংকুচিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল মজুতও পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম রয়েছে বলে দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য জানিয়েছে।   বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ডিজেলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৬৩ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ১০২ দশমিক ৪৮ ডলারে স্থির হয়। চলমান সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় জ্বালানি বাজারে দামের ঊর্ধ্বমুখী চাপ অব্যাহত রয়েছে।   ডিজেলের বাড়তি দাম বিশেষ করে পরিবহন ও কৃষি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। ট্রাকিং কোম্পানি, কৃষক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানির জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে সেই বাড়তি ব্যয় পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের বিভিন্ন ধাপে যুক্ত হয়ে যেতে পারে। এর ফলে খাদ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   কৃষি খাতেও এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর গোলার্ধে ফসল কাটার মৌসুম শুরু হওয়ায় কৃষি যন্ত্রপাতিতে ডিজেলের চাহিদা বাড়ছে। একই সময়ে শীত মৌসুম সামনে থাকায় ডিজেলের সঙ্গে সম্পর্কিত হিটিং অয়েলের চাহিদাও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সরবরাহ সংকটের মধ্যে জ্বালানির বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ ডিজেলের দাম মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে এবং আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত জ্বালানি বাজার অস্থির থাকার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিশোধনাগারগুলো উচ্চ সক্ষমতায় কাজ করলেও আগামী কয়েক মাসে রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ডিজেলের মজুত পুনর্গঠন কঠিন হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।   এদিকে শুক্রবারও যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেলের রেকর্ড দামের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে থাকায় এবং মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার সরবরাহব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় ডিজেলের দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে সাধারণ ভোক্তাদের পণ্য কেনার খরচেও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৪:৫৩
যুক্তরাষ্ট্রের একটি কার ডিলারশিপ লটে বিক্রির জন্য সারি সারি সাজিয়ে রাখা ক্রাইসলার প্যাসিফিকা মডেলের গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় ২০২৬ সালে কোন গাড়ির দাম কত, নতুন ও পুরাতন গাড়ির বাজারদর জেনে নিন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুদ্ধ শুরু করায় অনুতপ্ত নই! আবার সুযোগ পেলেও একই সিদ্ধান্ত নিতাম, ট্রাম্পের দাবি

টেক্সাসের উচ্চবিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান শিক্ষাক্রমে ইসলাম ও মুসলিম ইতিহাস উপস্থাপনের ধরন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসের নতুন শিক্ষাক্রমে দাসপ্রথা ও জিহাদসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক, মুসলমানদের আপত্তি

ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তিকর ফিচার থেকে সুরক্ষায় নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। ছবি: সংগৃহীত
১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি ঠেকাতে ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন আইন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তিকর ফিচার থেকে সুরক্ষায় নতুন আইন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম শিশুদের প্রযুক্তিগত ঝুঁকি থেকে সুরক্ষায় ১৩টি বিলে স্বাক্ষর করেন। নতুন আইনের আওতায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু আসক্তিকর ফিচার ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।   নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য এমন কিছু ফিচার নিষিদ্ধ করা, যেগুলো দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে উৎসাহিত করে। এর মধ্যে রয়েছে অসীমভাবে স্ক্রল করার ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া এবং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ধারাবাহিক কনটেন্ট দেখানোর মতো ফিচার। এসব ব্যবস্থাকে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বাধ্যতামূলক বা অতিরিক্ত ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে বিবেচনা করা হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন পদক্ষেপের আরেকটি বড় অংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটকে ঘিরে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চ্যাটবট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তি চালুর আগে ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হবে। শিশুদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ এবং আত্মহত্যা বা আত্মক্ষতির মতো সংকটপূর্ণ বিষয়ে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল রাখার বিধানও রয়েছে। কোনো শিশু নিরাপত্তা সেটিংস বন্ধ করলে অভিভাবকদের জানানোর ব্যবস্থাও নতুন আইনের অংশ।   এ ছাড়া নতুন আইনের মাধ্যমে শিশু যৌন নিপীড়নের উপকরণসংক্রান্ত আইনি সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। কোনো ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিকে যৌন কর্মকাণ্ডে দেখানো ডিজিটালি পরিবর্তিত বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি ও উপকরণও এর আওতায় আনা হয়েছে। ফলে প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বা পরিবর্তিত এমন যৌন নিপীড়নমূলক উপকরণের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়ল।   বড় সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন আর্থিক দায় তৈরি করা হয়েছে। কোনো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিশুদের ক্ষতির বিষয়ে অবহেলা করেছে বলে প্রমাণিত হলে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি শিশুর জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর আরও জবাবদিহি তৈরিই এর অন্যতম লক্ষ্য।   নতুন আইনগুলোর মধ্যে স্কুল থেকে দেওয়া প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও একটি বিধান রয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো স্কুল থেকে দেওয়া ল্যাপটপ গ্রহণ না করার সুযোগ পাবে। এর পাশাপাশি শিশু ও কিশোরদের অনলাইন গোপনীয়তা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আরও জোরদার করার জন্যও কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার এই উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে সবচেয়ে বিস্তৃত আইনগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যও শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এবং প্রযুক্তি কোম্পানির দায়িত্ব নিয়ে নতুন নিয়ম করছে। ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন আইনে বিশেষ করে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তিকর নকশা থেকে সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।   গভর্নর নিউসমের স্বাক্ষর করা ১৩টি বিলের মধ্যে শিশুদের ডিজিটাল গোপনীয়তা, সোশ্যাল মিডিয়ার নকশা, এআই চ্যাটবট, শিশু যৌন নিপীড়নের উপকরণ এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন বিধান রয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আরও বাড়ানো হয়েছে।   তবে নতুন আইন নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। ডিজিটাল অধিকারকর্মীদের কেউ কেউ মনে করছেন, শিশুদের সুরক্ষার নামে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ তৈরি হলে অনলাইনে মতপ্রকাশ ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও নতুন বিধানগুলোর কিছু অংশ আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   গভর্নর নিউসমের প্রশাসনের বক্তব্য, শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করা নয়, বরং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এসব আইনের লক্ষ্য। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার এমন নকশা এবং এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে, যেগুলো শিশুদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আইনপ্রণেতারা মনে করছেন। নতুন বিধানগুলোর মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়া প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে শিশু সুরক্ষার মধ্যে আরও শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি করতে চেয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১:৪
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় সুদের হার আবারও ৭ শতাংশের ওপরে উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ রেট ৭% ছাড়াল, এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য সরকারি চাকরির যোগ্যতার নিয়ম ফেডারেল ও স্টেট ভেদে ভিন্ন হয়। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিন কার্ড থাকলেই ফেডারেল চাকরি নয়, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চাকরির ৩ কৌশল

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া থেকে বর্তমানে পাঁচটি কোম্পানিকে নিষিদ্ধ করেছে শ্রম বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত

এইচ-১বি ভিসায় পাঁচ কোম্পানি নিষিদ্ধ, কোম্পানি ব্যান হলে কী হয়, জেনে নিন

0 Comments