সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ফ্লোরিডায় নিজের বিলাসবহুল ইয়টে নারী কর্মীকে মাদক খাইয়ে ধ র্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার মালিক
ফ্লোরিডায় নিজের বিলাসবহুল ইয়টে নারী কর্মীকে মাদক খাইয়ে ধ র্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার মালিক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এক বাসিন্দার বিরুদ্ধে ম্যাসাচুসেটসের ন্যানটুকেটে নিজের বিলাসবহুল ইয়টে এক নারী কর্মীকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। ৫৪ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ান ব্র্যাডলি উইলিয়ামস নামের ওই ব্যক্তির স্ত্রী, দুই বছরের সন্তান এবং আয়া ফ্লোরিডায় ফিরে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি এই জঘন্য কাণ্ডটি ঘটান বলে অভিযোগ। ৯ আগস্ট রাতের ওই ঘটনায় গত শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।   ন্যানটুকেটের পুলিশ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২২ বছর বয়সী ভুক্তভোগী তরুণীটি গত জুন মাস থেকে উইলিয়ামসের 'কাইমেরা' নামের ইয়টটিতে ডেকহ্যান্ড হিসেবে কাজ করছিলেন। ৯ আগস্ট বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে উইলিয়ামসের পরিবার ইয়ট ছেড়ে যাওয়ার পর তিনি ওই তরুণীকে একটি সুন্দর জায়গায় ডিনারে যাওয়ার প্রস্তাব দেন এবং তাকে একটি ড্রেস পরতে বলেন।   তরুণীটি ড্রেস পরে এলে উইলিয়ামসের হাবভাব দেখে তিনি প্রথমবারের মতো অস্বস্তি বোধ করেন। ডিনারের সময় উইলিয়ামস বারবার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন এবং বিল পরিশোধের সময় তার স্ত্রীর কাছে লেনদেনের তথ্য গোপন রাখতে তরুণীর কার্ড ব্যবহার করেন। পরে তিনি নগদ ৫০০ ডলার তুলে ওই তরুণীকে দেন, যদিও বিল ছিল মাত্র ২৫০ ডলার।   রাত আটটার দিকে তরুণীটি ইয়টে ফিরে আসার পর তিনি ঘুমাতে যেতে চাইলেও উইলিয়ামস জোরাজুরি করে তাকে একটি রাম (মদ) পান করান। তরুণীর অভিযোগ, ওই পানীয় পানের পরই তিনি মাথা ঘোরা অনুভব করেন এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। এরপর উইলিয়ামস জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন।   পরদিন সকালে ওই তরুণী নিজেকে উইলিয়ামসের বিছানায় নগ্ন ও রক্তাক্ত অবস্থায় আবিষ্কার করেন। তিনি দ্রুত ইয়ট থেকে নেমে তার কোম্পানি ন্যানটুকেটের মালিক ম্যাক্স শাপিরোকে ঘটনাটি জানালে তিনি কোনো সাহায্য করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তরুণীটি পদত্যাগ করে হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষা করান। ১ সেপ্টেম্বর ফরেনসিক রিপোর্টে তার শরীরে পুরুষের ডিএনএ পাওয়ার পর উইলিয়ামসকে গ্রেপ্তার করা হয়।   সাবেক মার্কিন নৌবাহিনীর সাবমেরিন কমান্ডার হিসেবে পরিচিত উইলিয়ামস আদালতে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে তাকে ৫০ হাজার ডলার নগদ বা ৫ লাখ ডলার শিউরিটি বন্ডে জামিনের শর্তে রাখা হয়েছে এবং তার আইনজীবী জানিয়েছেন, উইলিয়ামসের স্ত্রী জামিনের অর্থ নিয়ে ন্যানটুকেটে আসছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ২২:২৬
আফগানিস্তানে তালেবানের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেসমেন্টে পড়াশোনা, বিশ্ববাসীর কাছে মেয়েদের চিঠি
আফগানিস্তানে তালেবানের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেসমেন্টে পড়াশোনা, বিশ্ববাসীর কাছে মেয়েদের চিঠি

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের এক শান্ত এলাকার একটি গোপন বেসমেন্টে চলছে মেয়েদের একটি বিশেষ স্কুল। তালেবানদের কঠোর বিধিনিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সেখানে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে একদল অদম্য কিশোরী। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ বিরল এক সুযোগ পেয়ে সেই গোপন স্কুলে প্রবেশ করে।   সেখানে ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী ২১ জন আফগান ছাত্রী সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেয় তাদের নিজ হাতে লেখা কিছু চিঠি। এই চিঠিগুলো মূলত বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে লেখা, যেখানে তারা গত পাঁচ বছর ধরে তালেবান শাসনে অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তির আকুতি জানিয়েছে।   ২০২১ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর তালেবান সরকার ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যার ফলে বিকল্প হিসেবে এই গোপন স্কুলগুলোর জন্ম হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সিবিএস নিউজ ছাত্রীদের এবং শিক্ষকের পরিচয় গোপন রেখেছে।   এই গোপন স্কুলে পড়তে আসার জন্য মেয়েদের প্রতিদিন ভয়াবহ ঝুঁকি নিতে হয়। তালেবানদের কুখ্যাত নৈতিকতা পুলিশের সন্দেহ এড়াতে তারা যতটা সম্ভব রক্ষণশীল পোশাক পরে এবং ব্যাগে কেবল কলম ও খাতা লুকিয়ে রাখে। অনেকেই ব্যাগের ভেতর কাপড়ের টুকরো নিয়ে ঘোরে, যেন রাস্তায় কেউ জেরা করলে বলতে পারে যে তারা সেলাইয়ের ক্লাস করতে যাচ্ছে।   ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রী জানায়, প্রতিদিন বেসমেন্টের এই শ্রেণিকক্ষে আসার সময় সে গ্রেপ্তার হওয়ার চরম আতঙ্কে ভোগে, কিন্তু তবুও সে নিজের ভবিষ্যতের জন্য এই ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, তালেবানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল কাহার বালখি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন যে, শিশুদের শিক্ষার মৌলিক অধিকার রয়েছে এবং তাদের শিক্ষাব্যবস্থা কেবল সাময়িকভাবে 'স্থগিত' রাখা হয়েছে। তবে বাস্তবে কাবুলের ওই বেসমেন্টে আটকে পড়া নারীদের কাছে এই যুক্তির কোনো অর্থ নেই।   গোপন এই স্কুলটি পরিচালনা করছেন ২৫ বছর বয়সী এক নারী শিক্ষক। তালেবান যখন নারীদের উচ্চশিক্ষা নিষিদ্ধ করে, তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানের শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে তিনি জানান, তার মা সব সময় তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার এবং অন্য মেয়েদের শিক্ষিত করার তাগিদ দিতেন।   গত বছর মায়ের মৃত্যুর পর তার সেই স্বপ্ন পূরণের জন্যই তিনি এই স্কুলটি চালাচ্ছেন, যেন ২০ বছর আগের নারীদের মতো আজকের মেয়েরা অশিক্ষিত থেকে না যায়।   বিদেশি সাংবাদিকরা স্কুলে আসার খবর পেয়ে ছাত্রীরা আগেই নিজেদের স্বপ্ন ও হতাশার কথা চিঠিতে লিখে রেখেছিল। একটি চিঠিতে এক ছাত্রী লিখেছে, সে কোনো বিশাল বা জাঁকজমকপূর্ণ স্বপ্ন দেখে না, বরং সে শুধু একটি সাধারণ জীবন চায়। পড়াশোনা করা, কাজ করা এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার মৌলিক অধিকার টুকুই তার একমাত্র চাওয়া।   চিঠিতে তার জোরালো আকুতি ছিল, "বিশ্ববাসী, আমি আপনাদের কাছে একটি সাধারণ জীবন চাই—এমন একটি জীবন যেখানে খাবার পাওয়াটা কোনো স্বপ্ন হবে না, কাজ পাওয়াটা নিছক ভাগ্যের বিষয় হবে না এবং নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা শুধুই কল্পনা হবে না।" মেয়েদের এই গোপন স্কুলটি মূলত 'ইনভিজিবল ইনিশিয়েটিভ' নামের একটি নেটওয়ার্কের অংশ।   তালেবানের ভয়ে আড়ালে থাকতে বাধ্য হলেও, এই খোলা চিঠির মাধ্যমে আফগান মেয়েরা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিচ্ছে—তারা অদৃশ্য হয়ে যায়নি, তারা এখনও অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখে নিজেদের অধিকারের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ২২:৯
বাজেট ঘাটতি মেটাতে টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টিতে প্রপার্টি ট্যাক্স বৃদ্ধি, চাপে বাড়ির মালিকরা
বাজেট ঘাটতি মেটাতে টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টিতে প্রপার্টি ট্যাক্স বৃদ্ধি, চাপে বাড়ির মালিকরা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হ্যারিস কাউন্টিতে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রপার্টি ট্যাক্স বা সম্পত্তি কর বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। হিউস্টন শহর এবং ৫০ লাখেরও বেশি বাসিন্দার এই কাউন্টিটি লস অ্যাঞ্জেলেস ও কুক কাউন্টির পর যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম কাউন্টি।   মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক ভোটাভুটিতে কাউন্টি কমিশনাররা ৩-২ ভোটে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রপার্টি ট্যাক্স ৭.৬ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেন। এর ফলে করযোগ্য সম্পত্তির প্রতি ১০০ ডলার মূল্যের বিপরীতে বাসিন্দাদের বর্তমান ৬২ সেন্টের পরিবর্তে ৬৭ সেন্ট করে কর দিতে হবে। মূলত ১৮ কোটি ডলারেরও বেশি বিশাল বাজেট ঘাটতি মেটাতেই এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।     হ্যারিস কাউন্টির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বেতন বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং আদালতে সরকারি আইনজীবীদের ফি বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই বিশাল আর্থিক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। শুধু হ্যারিস কাউন্টি নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক স্থানীয় সরকারই বর্তমানে জননিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধির মতো একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।   তবে এই কর বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে কাউন্টির ভেতরেই রাজনৈতিক মতবিরোধ দেখা গেছে। রিপাবলিকান কমিশনার টম রামসে এবং ডেমোক্র্যাট কাউন্টি জজ লিনা হিডালগো কর বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। লিনা হিডালগো এক বিবৃতিতে জানান, কাউন্টি তাদের ব্যয়ের ক্ষেত্রে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো খাতের জন্য টাকা না থাকলে তিনি কখনোই সেখানে অর্থায়নের পক্ষে নন এবং সেটাই প্রকৃত আর্থিক দায়িত্বশীলতা। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট কমিশনার আড্রিয়ান গার্সিয়া প্রথমে কিছুটা কম কর বৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত ঘাটতি মেটাতে ৬৭ সেন্টের পক্ষেই ভোট দেন।   এই কর বৃদ্ধির প্রস্তাবটি আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এক গণশুনানির পর চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে হ্যারিস কাউন্টির সাধারণ বাড়ির মালিকদের বছরে গড়ে প্রায় ১৯৮ ডলার অতিরিক্ত কর গুনতে হবে, যা কাউন্টির কোষাগারে প্রায় দেড় কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি করবে। টেক্সাসের আইনপ্রণেতারা এবং গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট দীর্ঘদিন ধরেই প্রপার্টি ট্যাক্স কমানোর চেষ্টা করে আসছেন।   কারণ, সেখানে ব্যক্তিগত আয়কর না থাকায় বাড়ির মালিকদের জন্য প্রপার্টি ট্যাক্স একটি বড় মাথাব্যথার কারণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিউস্টন এলাকায় বাড়ির দাম, ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম এবং করের পরিমাণ লাগামহীনভাবে বেড়েছে। মহামারির আগে ২০১৯ সালে হিউস্টনে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য যেখানে আড়াই লাখ ডলার ছিল, তা এখন বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে।   একইসঙ্গে হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের খরচও আকাশচুম্বী হয়ে টেক্সাসে গড়ে বার্ষিক ৪,৬৪৪ ডলারে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে, আগামী ১ অক্টোবরের নতুন অর্থবছরের আগে এই বাড়তি প্রপার্টি ট্যাক্স চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে তা সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ২১:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই হেফাজতে চিকিৎসার অভাবে ২৯ বছর বয়সী যুবকের মৃ ত্যু, বিচার দাবি পরিবারের
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই হেফাজতে চিকিৎসার অভাবে ২৯ বছর বয়সী যুবকের মৃ ত্যু, বিচার দাবি পরিবারের

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা আইস-এর একটি ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকার পর ২৯ বছর বয়সী এক মেক্সিকান যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রিসিলিয়ানো ত্রেজো রিকানো নামের ওই যুবক আইস হেফাজতে থাকা অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের অভিযোগ, হেফাজতে থাকাকালীন তাকে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।   মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে তাকে একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করে আইস হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তিনি অ্যাকিউট লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। অথচ এর আগে তার শরীরে বড় কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যার লক্ষণ ছিল না।   নর্থ ক্যারোলাইনার ডারহামের বাসিন্দা প্রিসিলিয়ানো মাত্র তিন বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। গত ১৯ জুন তাকে গ্রেপ্তার করে জর্জিয়ার স্টুয়ার্ট ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। সেখানে আটক থাকার তিন সপ্তাহের মধ্যেই তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারকে ভিডিও কল করে তিনি নিয়মিত তার শারীরিক যন্ত্রণার কথা জানাতেন।   এমনকি নিজের ২৯তম জন্মদিনে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন যে, তীব্র গলাব্যথা, রক্তকাশি এবং মাইগ্রেনের যন্ত্রণায় ভুগলেও তাকে কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি এবং কর্তৃপক্ষের কাছে তারা কেবলই একটি 'সংখ্যা' মাত্র।   গত ১৬ জুলাই আইনজীবীর মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে যে, প্রিসিলিয়ানোকে জর্জিয়ার অগাস্টার একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে পরিবারের সদস্যদের তার সাথে দেখা করার সুযোগ করে দিতে শেষ মুহূর্তে আইস তাকে তাদের হেফাজত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেয়। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় অবশেষে ২৪ জুলাই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।   এই ঘটনায় মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, ডিটেনশন সেন্টারে যদি তিনি সঠিক সময়ে চিকিৎসাসেবা পেতেন, তবে হয়তো তাকে এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে হতো না। যেহেতু মৃত্যুর ঠিক আগে তাকে আইস হেফাজত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তাই সরকারি পরিসংখ্যানে এই মৃত্যুকে 'হেফাজতে মৃত্যু' হিসেবে দেখানো হচ্ছে না, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম হয়েছে।   প্রিসিলিয়ানোর পরিবার এখন আইস-এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এবং এই মর্মান্তিক অবহেলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ২১:২৪
যুক্তরাষ্ট্রের ২০৩০ সালের আদমশুমারি থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বাদ দেওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের
যুক্তরাষ্ট্রের ২০৩০ সালের আদমশুমারি থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বাদ দেওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন ২০৩০ সালের জাতীয় আদমশুমারি বা সেনসাস থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার মার্কিন সেনসাস ব্যুরোর উত্থাপিত এই নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আদমশুমারিতে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ নাগরিক এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের (Permanent Residents) গণনা করা হবে।   এর মানে হলো, যারা অবৈধভাবে দেশটিতে বসবাস করছেন বা বৈধ উপায়ে সাময়িকভাবে অবস্থান করছেন, তারা এই গণনার বাইরে থাকবেন। এছাড়া ১৭৯০ সাল থেকে আদমশুমারিতে চলে আসা জাতি বা বর্ণ (Race or Ethnicity) সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অংশটিও বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।   এই প্রস্তাবের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং কেন্দ্রীয় তহবিলের বরাদ্দে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে কংগ্রেসের প্রতিনিধি সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। যদি বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে গণনার বাইরে রাখা হয়, তবে অভিবাসী-অধ্যুষিত শহর ও অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের ন্যায্য রাজনৈতিক আসন এবং কেন্দ্রীয় অনুদান থেকে বঞ্চিত হবে।   ডেমোগ্রাফি বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক অধিকারকর্মীরা সতর্ক করেছেন যে, এই পদক্ষেপটি চরম বৈষম্যমূলক এবং এর ফলে দেশের একটি ভুল চিত্র তৈরি হবে। সিভিল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের লিডারশিপ কনফারেন্সের জ্যেষ্ঠ পরিচালক মিতা আনন্দ জানিয়েছেন, ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নীতি নির্ধারণ করা হলে তা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই আদমশুমারিতে অবৈধ অভিবাসীদের অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন। তার প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালের আদমশুমারিতেও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রশ্ন যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট আটকে দেয়।   গত ২ সেপ্টেম্বর মার্কিন বিচার বিভাগও এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, যেসব অঙ্গরাজ্য তাদের অঞ্চলে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের তথ্য ঠিকমতো রিপোর্ট করবে না, তারা কেন্দ্রীয় সরকারের বিলিয়ন ডলারের কল্যাণ তহবিল থেকে বঞ্চিত হতে পারে। বর্তমানে এই নতুন আদমশুমারি প্রস্তাবটি ৩০ দিনের জন্য জনসাধারণের মতামতের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ২১:১
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের জেরে তলোয়ার হাতে পুলিশের ওপর হা মলা, গু লিবিদ্ধ যুবক
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের জেরে তলোয়ার হাতে পুলিশের ওপর হা মলা, গু লিবিদ্ধ যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতিবেশীর সঙ্গে সাধারণ একটি বিবাদের জেরে পুলিশের ওপর তলোয়ার নিয়ে হামলার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। রোজামন্ড শহরের ডেজার্ট ওয়েসিস মোবাইল এস্টেট এলাকায় ঘটা এই ঘটনার বডি-ক্যামেরা ফুটেজ সম্প্রতি প্রকাশ করেছে কার্ন কাউন্টি শেরিফ অফিস। গত ৩ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এক পুলিশ কর্মকর্তা।   সেখানে পৌঁছানোর পর ২২ বছর বয়সী জশুয়া ড্রিবিন নামের এক যুবক পুলিশ কর্মকর্তাকে জানান, তিনি ঘুমানোর চেষ্টা করছিলেন কিন্তু তার এক প্রতিবেশী বারবার নিজের ট্রাকের ইঞ্জিন জোরে চালু করে শব্দদূষণ করছিলেন। ড্রিবিন ওই প্রতিবেশীকে নিষেধ করার পরও সে শোনেনি। তাই তিনি নিজেই বিষয়টির চরম ফয়সালা করতে যাচ্ছেন বলে পুলিশকে জানান।   কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং নিজে গিয়ে প্রতিবেশীর সাথে কথা বলার আশ্বাস দেন। কিন্তু ড্রিবিন ক্রমশ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং চিৎকার করে প্রতিবেশীকে খুন করার হুমকি দিয়ে নিজের ঘরের ভেতর চলে যান।   কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ড্রিবিন হাতে একটি ধারালো তলোয়ার নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন এবং সরাসরি ওই পুলিশ কর্মকর্তার দিকে তেড়ে যান। প্রকাশিত ফুটেজে তাকে চিৎকার করে পুলিশকে গুলি করার উস্কানি দিতেও শোনা যায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালালে ড্রিবিন আহত হন।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার আঘাত প্রাণঘাতী ছিল না এবং ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য বা সাধারণ নাগরিক আহত হননি। ড্রিবিনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাকে মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে হামলা ও গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়াসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে কার্ন কাউন্টি শেরিফ অফিসের হোমিসাইড বিভাগ পুরো ঘটনাটির তদন্ত করছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ২০:৫০
লেবার ডে লং উইকেন্ডে মিসিসিপি বাংলা একাডেমির মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা
লেবার ডে লং উইকেন্ডে মিসিসিপি বাংলা একাডেমির মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

প্রবাসের জীবন মানেই ব্যস্ততা। জীবিকার তাগিদে ছুটে চলা, কাজের ফাঁকে সময় বের করা, আর হাজার মাইল দূরে ফেলে আসা আপন দেশটাকে বুকের ভেতর লালন করে বেঁচে থাকা। তবে কখনো কখনো এমন কিছু সন্ধ্যা আসে, যখন দূরত্বের সব হিসাব যেন মুছে যায়। মনে হয়—দেশটা খুব বেশি দূরে নয়, বরং ঠিক পাশেই আছে।   গত ৫ সেপ্টেম্বর, লেবার ডে লং উইকেন্ডে মিসিসিপি বাংলা একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাটি ছিল তেমনই এক সন্ধ্যা।   ক্লিনটনের ব্যাপ্টিস্ট চার্চের হলরুম সেদিন আর কেবল একটি অনুষ্ঠানস্থল ছিল না; প্রবাসের মাটিতে সেটি যেন হয়ে উঠেছিল এক টুকরো বাংলাদেশ। মিসিসিপির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা বাংলাদেশি পরিবারগুলোর প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে চারপাশে তৈরি হয়েছিল আপন এক আবহ—বাংলা ভাষা, পরিচিত মুখ, নতুন পরিচয়, হাসি-আড্ডা আর গানের সুরে ভরে উঠেছিল পুরো পরিবেশ।   অনুষ্ঠানের শুরুটাও ছিল একেবারে বাঙালিয়ানায় ভরা। অতিথি আপ্যায়নে চটপটি, চানাচুর, মুড়ি আর চা—এই সামান্য আয়োজনই যেন অনেক বড় এক স্মৃতির দরজা খুলে দিয়েছিল। এক কাপ চায়ের পাশে জমে ওঠা গল্প, পরিচিত-অপরিচিত মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়—সব মিলিয়ে শুরুতেই বোঝা গিয়েছিল, এটি শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি প্রবাসী বাঙালিদের মিলনমেলাও।   স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক পর্বের সূচনা। এরপর মিসিসিপিতে নবাগত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর পরিচিতি পর্ব। প্রবাসে একটি নতুন পরিবার মানে শুধু একটি নতুন ঠিকানা নয়—বাংলাদেশি কমিউনিটিতে যুক্ত হচ্ছে আরও কিছু মানুষ, আরও কিছু গল্প, আরও কিছু সম্পর্ক।   এরপর মঞ্চে শুরু হলো সুরের মায়াজাল। রবীন্দ্রসংগীতের কোমল আবেশ, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গানের ঐতিহ্য, নজরুলগীতির প্রাণময়তা এবং আধুনিক বাংলা গানের বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা—একটির পর একটি পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে ওঠেন দর্শক-শ্রোতারা।   গানের সুর যেন কখনো নিয়ে যাচ্ছিল বাংলার কোনো বর্ষার বিকেলে, কখনো শৈশবের স্মৃতির উঠোনে, আবার কখনো ফেলে আসা প্রিয় শহর কিংবা গ্রামের মেঠোপথে। প্রবাসে বসে বাংলা গান শোনার অনুভূতিটা যে কত গভীর, তা সেদিন হলরুমে উপস্থিত মানুষগুলোর চোখেমুখেই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।   সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাবেক মাইলস ব্যান্ডের ড্রামারের  নেতৃত্বে ব্যান্ড সংগীত পরিবেশনা। অভিজ্ঞতার ছোঁয়ায় পরিবেশনাটি খুব দ্রুতই দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। গানের তালে তালে হলরুমের পরিবেশ বদলে যায়; একসময় মনে হচ্ছিল, আমরা যেন মিসিসিপির ক্লিনটনে নয়—বাংলাদেশের কোনো প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আসরে বসে আছি।   এরপর ছিল খাবারের বিরতি। আবারও জমে উঠল গল্প, আড্ডা আর পরিচিত হওয়ার পর্ব। কেউ পুরোনো দিনের স্মৃতি হাতড়ালেন, কেউ নতুন পরিচয়ে যোগ করলেন নতুন গল্প। খাবারের টেবিলও হয়ে উঠল একেকটি ছোট্ট আড্ডার আসর।   বিরতির পর আবার শুরু হলো সমবেত সংগীত। প্রবাসে থেকেও ভাষা, সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা গভীর হতে পারে, সেই অনুভূতিই যেন ফুটে উঠেছিল সমবেত কণ্ঠে।   এরপর আবারও ব্যান্ড সংগীত। গানের পর গান চলতে থাকে। সময় পেরিয়ে যায়, কিন্তু আনন্দের যেন কোনো বিরতি নেই। শেষ পর্যন্ত রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে এই প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আয়োজন।   অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে, কিন্তু শেষ হয়নি সন্ধ্যার রেশ। কারণ প্রবাসে এমন একটি সন্ধ্যার মূল্য শুধু বিনোদনে নয়। এর মূল্য আরও গভীরে—এটি মানুষকে মানুষের কাছে নিয়ে আসে, নতুনদের পরিচিত করে, পুরোনো সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে এবং নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির পরিচয়।   মিসিসিপি বাংলা একাডেমির এই আয়োজন তাই কেবল একটি সংগীতসন্ধ্যা ছিল না; এটি ছিল শেকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার এক সুন্দর উপলক্ষ।   হয়তো সেদিন ক্লিনটনের আকাশে বাংলাদেশের চাঁদ উঠেনি, হলরুমের বাইরে ছিল না বাংলার মেঠোপথ, ছিল না গ্রামের সেই চিরচেনা বাতাস। কিন্তু ভেতরে ছিল বাংলা গান, বাংলা ভাষা, বাঙালির আড্ডা, দেশীয় খাবারের ঘ্রাণ আর একে অপরের প্রতি আন্তরিকতা।   আর এসবই তো বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রাখে।দেশ থেকে হাজার মাইল দূরেও বাংলাদেশ হারিয়ে যায় না—বাংলাদেশ বেঁচে থাকে মানুষের হৃদয়ে, গানের সুরে, ভাষায়, সংস্কৃতিতে এবং একসঙ্গে মিলিত হওয়ার এমন সুন্দর মুহূর্তগুলোতে।   সেদিন ক্লিনটনের সেই হলরুমে তাই শুধু একটি অনুষ্ঠান হয়নি—প্রবাসের মাটিতে সত্যিই তৈরি হয়েছিল একখণ্ড বাংলাদেশ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ২০:১৭
‘ধান নিয়ে গবেষণা না করে কবিতা লিখলে এদেশে বুদ্ধিজীবী হতাম’, আক্ষেপ আবেদ চৌধুরীর
‘ধান নিয়ে গবেষণা না করে কবিতা লিখলে এদেশে বুদ্ধিজীবী হতাম’, আক্ষেপ আবেদ চৌধুরীর

২০১৭ সালে সিলেটটুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রখ্যাত জিনবিজ্ঞানী ও ধান গবেষক ড. আবেদ চৌধুরী আক্ষেপ করে বলেছিলেন, তিনি ধানের নতুন জাত আবিষ্কার করেন, কিন্তু সমাজ তাকে বুদ্ধিজীবী বলে না; অথচ ধান নিয়ে কবিতা লিখলে ঠিকই বুদ্ধিজীবী হতেন।   দেশীয় ধানের বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং যুগান্তকারী বিজ্ঞান সাধনার পরও সমাজে বিজ্ঞানীদের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়ার বিষয়টি তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।   দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন ও কৃষির জিনতাত্ত্বিক গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন ড. চৌধুরী। তার নিরলস গবেষণার ফলেই কৃষিখাতে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা এবং সংরক্ষিত হচ্ছে দেশীয় ধানের বিলুপ্তপ্রায় অসংখ্য জাত।   কিন্তু সমাজব্যবস্থায় বিজ্ঞানচর্চাকে বুদ্ধিবৃত্তিক মাপকাঠিতে না মাপার যে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি, তা নিয়ে ২০১৭ সালের ওই সাক্ষাৎকারে তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করেন।   তার এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বলতে সাধারণত সাহিত্য, দর্শন বা রাজনীতিকেই বোঝানো হয়, যেখানে ল্যাবরেটরি বা মাঠপর্যায়ের বৈজ্ঞানিক সাধনা প্রায়শই নিছক কারিগরি কাজ হিসেবে উপেক্ষিত থাকে।   একবার চারা রোপণ করে পাঁচবার ফসল পাওয়ার 'পঞ্চব্রীহি' ধানের মতো যুগান্তকারী উদ্ভাবন কেবল কোনো যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি প্রকৃতির রহস্য উদ্ঘাটনের এক অসামান্য সৃজনশীল কাজ।   বছর কয়েক আগে করা ড. আবেদ চৌধুরীর সেই মন্তব্য আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, একটি আধুনিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে সাহিত্য ও দর্শনের পাশাপাশি বিজ্ঞানীদেরও তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দেওয়া অপরিহার্য।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ২০:৫
মার্কিন যুদ্ধজাহাজে প্রথমবার ইরানের অত্যাধুনিক ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার
মার্কিন যুদ্ধজাহাজে প্রথমবার ইরানের অত্যাধুনিক ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো নিজেদের তৈরি অত্যাধুনিক ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইরান। বুধবার রাতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌযান ও বাহিনীর ওপর প্রতিশোধমূলক ব্যাপক হামলার অংশ হিসেবে এই আক্রমণ চালায় তেহরান।   জানা গেছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালির কাছে অন্তত ১০টি মার্কিন জাহাজ এবং জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।   তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, জর্ডান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ছোড়া এসব ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি হয়নি।   ইরানের ব্যবহৃত এই নতুন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রটিতে মূলত ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সিকার বা বিশেষ সেন্সর যুক্ত রয়েছে, যা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা এবং আলোর সাহায্যে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি জিপিএস প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে কাজ করে, যার ফলে আধুনিক জ্যামিং সিস্টেম দিয়ে একে সহজে বিভ্রান্ত করা যায় না।   গত বছরের শেষের দিকে ইরান ‘কাসেম বাসির’ নামের মাঝারি পাল্লার এমনই একটি অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকাশ্যে এনেছিল। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নবনিযুক্ত সেক্রেটারি মহসিন রেজাই বুধবারের এই হামলাকে তার দেশের প্রতিরক্ষা নীতির একটি নতুন কৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি এই নতুন অস্ত্রটিকে বিশেষ ‘অ্যান্টি-ডেস্ট্রয়ার’ বা ডেস্ট্রয়ার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে মার্কিন বাহিনী পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করার পরই তার কড়া জবাব দিতে এই পাল্টা হামলা চালাল তেহরান। এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার থেকেই তারা জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং উপসাগরে থাকা মার্কিন জাহাজে এই হামলা চালিয়েছে।   পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে আইআরজিসি বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা সামরিক ঘাঁটি এবং তেলবাহী ট্যাংকারগুলোতেও যেকোনো মুহূর্তে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং জাহাজের নাবিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী রুট হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক চলাচল চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।   আঞ্চলিক এই সংঘাত এবং সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হুতি বিদ্রোহীদের হামলার প্রভাবে জুলাই মাসের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৯:৪০
যুক্তরাজ্যে আকাশপথে ভয়াবহ অচলাবস্থা, এয়ার ট্রাফিক ত্রুটিতে বাতিল ২ হাজারের বেশি ফ্লাইট
যুক্তরাজ্যে আকাশপথে ভয়াবহ অচলাবস্থা, এয়ার ট্রাফিক ত্রুটিতে বাতিল ২ হাজারের বেশি ফ্লাইট

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (NATS)-এর সিস্টেমে দেখা দেওয়া ভয়াবহ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেশজুড়ে অন্তত দুই হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে শুরু হওয়া এই বিপর্যয়ের জেরে বুধবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তরাজ্যের ১৫টি প্রধান বিমানবন্দরে চরম অচলাবস্থা দেখা দেয়।   হাজার হাজার যাত্রীকে রানওয়েতে থাকা উড়োজাহাজের ভেতর কিংবা টার্মিনালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে থাকতে হয়। অনেক বিমানবন্দর বাধ্য হয়ে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে এবং ভুল গন্তব্যে আটকে থাকা প্লেনগুলোকে সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।   এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের দায়িত্বে থাকা সংস্থা এনএটিএস (NATS) জানিয়েছে, তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমের একটি ত্রুটির কারণেই মূলত এই বিপত্তি ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেলের দিকে মূল কারিগরি সমস্যাটির সমাধান করা হলেও, এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব মোকাবিলায় এয়ারলাইনসগুলোকে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে। গত তিন বছরে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এয়ার ট্রাফিক সিস্টেম ধসে পড়ার ঘটনায় এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলো চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।   পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার এনএটিএস-এর প্রধান নির্বাহী মার্টিন রোলফের সাথে জরুরি বৈঠক করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবং পুরো ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   যুক্তরাজ্যের সরকারি অংশীদারিত্বে পরিচালিত এই সংস্থাটির প্রধান হিসেবে মার্টিন রোলফ অবশ্য যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখপ্রকাশ করে দাবি করেছেন, যুক্তরাজ্যের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থা এখনো বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ ও কার্যকর সিস্টেম।   এদিকে আকস্মিক এই বিপর্যয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। পশ্চিম ইংল্যান্ডের বাসিন্দা ও 'দ্য ওয়াকিং ডেড' কমিক সিরিজের কার্টুনিস্ট চার্লি অ্যাডলার্ড ইতালির সিসিলিতে একটি সম্মেলনে যাওয়ার পথে হিথ্রো বিমানবন্দরে এই বিশৃঙ্খলার কবলে পড়েন।   ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে তিনি তার এই সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতাকে একটি "অযথা ও অপচয়মূলক যাত্রা" হিসেবে আখ্যায়িত করে শেষ পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হন। শুধু হিথ্রো নয়, লন্ডনের গ্যাতউইক বিমানবন্দরেও যাত্রীদের স্যুটকেসের পাশে খালি মেঝেতে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে।   পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আগ পর্যন্ত ইউরোপের অন্যতম ব্যস্ত হিথ্রো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৯:৯
ফোবানা অ্যালামনাই: ৩৪ বছরের গল্প, স্মৃতির পাতায় এক সকাল
ফোবানা অ্যালামনাই: ৩৪ বছরের গল্প, স্মৃতির পাতায় এক সকাল

গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার  সকাল ৯.৩০ মিনিট ইউনিভার্সেল হিলটনের একটি মাঝারি মানের রুমে বসেছিল ফোবানার এলামনাই এর মিলন মেলা। শুক্রবার রাতের দেরীতে ঘুমের পর সকালে অনেকের উঠতে দেরী হচ্ছিল৷ এলামনাই এর চেয়ারম্যান ড্ক্টর আব্দুস সাত্তার এর টেনশন৷  কেমন হবে এলামনাই এর মিটিং।   আগেরদিন তিনি আলাউদ্দিন রেস্টুরেন্টে গিয়ে সকালের নাস্তার অর্ডার করেন৷ আমার সাথে আলাউদ্দিনে দেখা৷ বললেন, নাস্তা এখন থেকে নিচ্ছি। বললাম, নেন৷ ভাল হবে। বললেন নিউজ করেন। নিউজ করে সবাইকে জানালাম।    শনিবার সকাল পৌনে দশটা।  সবাই সময়মত আসবেন বললেও  সবাই আসলে দেরীতে ৷ সকাল ১০ টার পর আমরা আনুষ্ঠানিক এলামনাই এর অনুষ্ঠান শুরু করলাম৷  জনাব আব্দুস সাত্তার শুরু করলেন। সঞ্চালনার দায়িত্ব পড়ল মাহবুব রহিম এর উপর৷ চমৎকার কথা বলেন তিনি। সবাই আসন গ্রহণ করলেন। মঞ্চে আসন গ্রহণ করলেন, ফোবানার সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। রেহান রেজা, জসিম উদ্দিন, এটর্নি আলমগীর, ডিউক খান, দিলু মওলা, এম রহমান জহির, ডক্টর জয়নাল আবেদীন, ফারুক আহমদ, হাসমত মোবিন, রবিউল করিম বেলাল ইন্জিনিয়ার আবু হানিফ, মিসেস নার্গিস।   মঞ্চের বাহিরেও হল রুমে অনেকেই বসলেন। মাহবুব রহিম সহজ সরল উপস্থাপনায় জমিয়ে রাখলেন।  ফোবানায় ৩৩/৩৪  বছর যাদের তাদের আলোচনা শুরু হল। তারপর ৩২ বছর, ৩০ বছর হিসাবে সিনিয়ররা বলতে লাগলেন ফোবানায় জড়িত হবার সুখ দু:খের গল্প।  ডিউক খান, দিলু মওলা সবচেয়ে প্রবীন ফোবানায়। একই সাথে হাসমত মোবিন, এম রহমান জহির, নুরুল আমিন নুরু বললেন তাদের গল্প। মিসেস নুরু কথা বললেন, কথা বললেন নাহিদা নাসের ইয়াামিন৷ তিনি জানালেন। ফোবানার এই পরিবার তাকে নতুন করে সাংগঠনিক হতে শক্তি যোগায় ।  তিনি বলতে লাগলেন, ফোবানার সবাই তাকে এত সম্মান করেন যে, তিনি ফোবানার সাথেই আছেন সব সময়।    ডিউক খান বলেন, লস এনজেলস থেকে ফোবানার সাথে সম্পৃক্ত, এখন আটলান্টায় থাকলেও ফোবানার সাথে সাড়ে তিন দশক। জসিম উদ্দিন বলেন, ফোবানার সাথে তার সম্পর্কের কথা,আটলান্টায় একাধিক ফোবানার করার গল্প। হাসমত মোবিন বলেন সাড়ে তিন দশক কিভাবে ফোবানার  সাথে ছিলেন। নুরুল আমিন নুরু বলেন, ফোবানায় সব সময় পরিবার নিয়ে আসেন।   রাতে খাবার পাওয়া যায় না, উনার স্ত্রী ও মিসেস করিম কিভাবে ভাত তরকারি নিয়ে আসেন৷ তাদের দুজনের কনট্রিবিউশন মাহবুব রহিম সুন্দর করে বলতে থাকেন। মিসেস নুরু, মিসেস করিম তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তাদেরকে সম্মানিত করায় ধন্যবাদ জানান।    ফোবানার এলামনাই, এর গেট টুগেদার এর খবর ছড়িয়ে পড়লে, হোটেলের ফোবানার সবাই হল রুমে আসেন। চেয়ার পর্যাপ্ত ছিল না, অনেকেই দাড়িয়ে কথা শুনেন। মাহবুব রহিম ফোবানার নির্বাচনের উত্তাপে কি হচ্ছে হোটেলের রুমে বলেন মজা করে।    নাস্তা আসে নাই দুপুর ১২ টা, তখন ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান সহ ৩ দশক বা ২ দশক থেকে যারা ফোবানায় আসেন তাদের গল্প, স্মৃতিচারণ করতেই থাকেন।  আটলান্টার আরেফিন বাবুল, চমৎকার করে বলতে থাকেন৷ তিনি কিভাবে এজিএম এ প্রতিবাদ করে যান বছরের পর বছর। সবার কাছে মাপ ও চান ভুল কিছু হলে।  ফোবানার এলামনাই ৮ বছর পর আবার ড. আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে সচল হওয়ায় উনাকে ধন্যবাদ দেন সবাই৷    নিউইয়র্কের  মিসেস নার্সিস আহমেদ  , নিউজার্সির  ফারুক আহমদ ফোবানার স্মৃতি চারন করেন৷। নাস্তার সময় পেরিয়ে যায়, গল্প চলতেই থাকে। মাহবুব রহিম একজন অনন্য সঞ্চালক, মজার মজার কথা বলে আটকে রাখেন সবাইকে। সবার জন্য চা ছিল। আলাউদ্দিন থেকে নাস্তা আসতে দেরী হচ্ছিল, আর কথার ফুলঝুরি চলতেই থাকে।    ফোবানার চেয়ারম্যান রবিউল করিম বেলাল ও নতুন চেয়ারম্যান এম রহমান জহির বলেন তাদের গল্প৷ নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব আবির আলমগীর বলেন তিনি প্রায় তিন দশকের মত ফোবানায়।  সোয়া বারোটায় আব্দুস সাত্তারের অর্ডার করা নাস্তা আসে ১০০ জনের মত তখন ছিলেন, সবাইকে টেবিলে নাস্তা দেয়া হয়৷ তখনও কথা চলতেই থাকে।  সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিন মাত্র ২ বছর ফোবানায় আসছেন, উনাকে  কিছু বলতে বললে তিনি  কিছুই বলেন নাই, কারন সবাই নাস্তাই চাচ্ছেন। কথা শুনবেন না কেউ৷  এক স্মৃতির নাটক চলতেই থাকে। ফোবানা নিয়ে সবার দীর্ঘদিনের ভালবাসার এক বন্ধন দৃশ্যমান হতে থাকে।  পাবেল আহমদ ৪১ তম ফোবানায় সবাইকে দাওয়াত করেন। ইনস্টলমেন্টে প্যাকেজ কেনার ঘোষনা দেন৷ তিনি বলেন ১০০ ডলার করে দিতে শুরু করেন৷ পাবেল আহমদ সবাইকে সপরিবারে হিউস্টনে আমন্ত্রন জানান।  মাহবুব ভুইয়া সবাইকে বিজনেস লাঞ্চ এ আহবান জানান৷  সমাপতির বক্তব্য ড. আব্দুস সাত্তার ফোবানায় সাংবাদিকদের অবদান স্বীকার করে ধন্যবাদ জানান। ফোবানায় পজেটিভ নিউজ থাকে বলেই ফোবানা গতিশীল ৷  তিনি আরও বলেন। ফোবানা এলামনাই আগামীতে আরও বড় ভুমিকা রাখবে৷    ২ ঘন্টার এলামনাই ব্রেকফাষ্ট মিটিংটা হয়ে উঠেছিল এক স্মৃতি রোমান্থন।  সবাই ফোবানাকেই ভালবাসেন৷ ফোবানা করতে করতে অনেকের ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে তারাও ফোবানায় আসতে শুরু করেছে। ফোবানার ভেটারান এটিএম আলম,বলেন - ফোবানার গল্প বলে শেষ করা যাবে না৷ অনেকেই এসেছেন। চলেও গেছেন। আমরা ফোবানাকে ভালবেসেই আছি। জি আই রাসেল, ফোবানার একাধিক কনভেনশন এর কনভেনর৷ দীর্ঘ দিন ফোবানায় আছেন৷ রাসেল বলেন - চক্রান্ত করে গত ৫ বছর তাকে বাহিরে রাখা হলেও মুল ফোবানা ছাড়েন নাই৷ তিনি জানেন না কি তার অপরাধ ছিল?   এখন আর জানতেও চান না৷ সবার সাথেই থাকবেন।    ৪০ বছরের ফোবানায় এখনও অনেকেই আছেন যারা ৩৩ বা ৩৪ টি ফোবানায় এসেছেন৷ তাদের গল্পের শেষ নাই৷ সেই সময়টায় নানা শহরে এত মানুষ জন ছিল না৷ সংগঠন ছিল না৷ কিছু স্বপ্নবোনা মানুষ ফোবানা তৈরী করেছিলেন৷ তাদের অনেকেই ছিলেন এই এলামনাই মিটিং এর রুমে।। সুখ দুঃখের গল্পের শেষ নাই৷  আটলান্টার ডাক্তার মানিক ও মিসেস মানিক লস এনজেলস কমিউনিটির সবাইকে ও ফোবানা পরিবারকে স্মরন করে বলেন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন। মিসেস মানিক এই ফোবানা পরিবারকে একটি অনন্য প্লাটফর্ম দাবী করে সবার জন্য শুভেচ্ছা জানান।    ফোবানা এলামনাই এর গেট টুগেদার ব্রেকফাষ্ট এ আরও উপস্থিত ছিলেন ডক্টর প্রিয়লাল কর্মকার , মহিউদ্দিন দুলাল, কাজী নাহিদ ও মিসেস নাহিদ, বাবুল হাই, রানা খান,মিম খান,সাম রিয়া, সামসুূূ্দ্দিন, শামসুদ্দিন সাগর,এস আই জুয়েল, আবু রুমি,করিম সালাউদ্দিন, ফরহাদ হোসেন, মোহাম্মদ ইকবাল, জাবেদ চৌধুরী, মারুফ ভুইয়া, মুজিব উদ্দিন, জুয়েল সাদত,রিয়াজ আহমেদ, এন্থনি পিউস গোমেজ, সানি, মোহাম্মদ কাজল, মিসেস কাজল সহ আরো অনেকেই। প্রায় শতাধিক উপস্থিতি ছিল।    এই গল্প আমাদের অমিমাংসিত রয়ে গেল, আবার আমরা শুনব হিউষ্টনে।   

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৮:৫৯
ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার
ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ লন্ডনের বাসিন্দা কারা মিলারের পেটের সমস্যাকে চিকিৎসকরা প্রথমে সাধারণ 'ফুড পয়জনিং' বা খাদ্যে বিষক্রিয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু নিজের উপসর্গের বিষয়ে সন্দেহ থাকায় তিনি আরও পরীক্ষার জন্য জোর দেন এবং শেষ পর্যন্ত তার তৃতীয় ধাপের কলোরেক্টাল বা অন্ত্রের ক্যানসার ধরা পড়ে।   ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে টিভিতে ক্যানসারের লক্ষণ বিষয়ক একটি অনুষ্ঠান দেখে তিনি প্রথম চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সে সময় টেলিফোনে পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসক তাকে জানান যে এটি কেবল পাইলসের সমস্যা। পারিবারিক একটি শোকের কারণে তখন তিনি বিষয়টি নিয়ে আর এগোতে পারেননি এবং নিজের করপোরেট চাকরি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।   ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠার পর কারা হঠাৎ খুব অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। সাধারণ চিকিৎসক এবং একজন বেসরকারি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল বিশেষজ্ঞ উভয়েই তার এই অবস্থাকে ফুড পয়জনিং বলে ধারণা করেন। এমনকি চিকিৎসকরা তাকে এ-ও বলেছিলেন যে ক্যানসার হওয়ার জন্য তার বয়স নিতান্তই কম। তবে কারা দমে না গিয়ে রক্ত পরীক্ষা এবং এফআইটি (FIT) টেস্টের জন্য চিকিৎসকদের বাধ্য করেন।   টেস্টের ফল পজিটিভ আসার পর ২০২২ সালের মার্চ মাসে তার কোলোনোস্কোপি করা হয় এবং তখনই মলদ্বারে একটি টিউমারের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এক্স-রে, এমআরআই এবং সিটি স্ক্যানের পর ৫ এপ্রিল চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয় যে, ক্যানসারটি ইতোমধ্যেই তার লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি তৃতীয় ধাপের কলোরেক্টাল ক্যানসার।   ছয় সেন্টিমিটার লম্বা টিউমারটি তার মলদ্বারের প্রায় অর্ধেক অংশ আটকে রেখেছিল। টিউমারটি ছোট করার জন্য তাকে প্রথমে পাঁচ সপ্তাহের কেমোরেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। কিন্তু সার্জারির জন্য চারপাশের কোষগুলো সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত না হওয়ায় তাকে আরও ১২ সপ্তাহের কেমোথেরাপি নিতে হয়। এরপর দীর্ঘ ছয় ঘণ্টার সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসকরা টিউমারটি অপসারণ করতে সক্ষম হন।   এ সময় তার শরীরে একটি অস্থায়ী ইলিওস্টোমি ব্যাগ পরানো হয়। বড়দিন হাসপাতালে কাটানোর পর তাকে আরও ১২ সপ্তাহের কেমোথেরাপি নিতে হয়েছিল। টানা নয় মাস পর ২০২৩ সালের আগস্টে রিভার্সাল সার্জারির মাধ্যমে তার ইলিওস্টোমি ব্যাগটি খুলে ফেলা হয়।   বর্তমানে কারা মিলার ক্যানসারমুক্ত জীবনের তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছেন। রোগমুক্তির পর নিজের আগের করপোরেট পেশা ছেড়ে তিনি ক্যানসার পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এখন তিনি একটি দাতব্য সংস্থার হয়ে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা ও ক্যানসারের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই কঠিন যাত্রার কথা শেয়ার করতে শুরু করেছেন কারা।   তবে সবাইকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে তিনি জানিয়েছেন, নিজের শরীরের যেকোনো অস্বাভাবিক উপসর্গের ক্ষেত্রে রোগীদেরকেই সবার আগে সচেতন হতে হবে এবং সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকদের কাছে দাবি জানাতে হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৮:২৩
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
জালিয়াতির অভিযোগের মুখে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল!

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বুধবার তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়ার শর্তে দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছেন। রয়টার্স তাঁর পদত্যাগপত্র দেখে নিশ্চিত করেছে।    সায়মা ওয়াজেদ বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে। তিনি ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। ডব্লিউএইচওর নিজস্ব নথিতেও তাঁর পাঁচ বছরের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।    তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২৫ সালের মার্চে তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও নথি জাল করার অভিযোগে মামলা করে। এর পর জুলাই ২০২৫ সালে ডব্লিউএইচও তাঁকে ছুটিতে পাঠায়। পরে তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়।   রয়টার্সের দেখা নথি অনুযায়ী, ডব্লিউএইচওর তদন্তে চীনে তাঁর একটি সফরসংক্রান্ত আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগও তোলা হয়। তবে সায়মা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।   সায়মার আইনজীবীরা জুলাইয়ে ডব্লিউএইচওকে জানান, চীন সফরের অর্থ ফেরত নেওয়ার বিষয়টি ছিল তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুল এবং অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ ডলার। শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের ক্ষেত্রেও সায়মার দাবি, তাঁর একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ছিল এবং বিষয়টি তিনি ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালককে জানিয়েছিলেন।   পদত্যাগপত্রে সায়মা লিখেছেন, দায়িত্ব পালনে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের বাধার কারণে তিনি সংস্থাটির নেতৃত্বের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছেন। প্রায় এক বছর কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তাঁর আর্থিক পরিস্থিতিও অসহনীয় হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   এদিকে ডব্লিউএইচও এখন তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রয়টার্সের দুটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১২ অক্টোবর মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে, ডিসেম্বরে প্রার্থীদের যাচাই এবং আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সংস্থাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ সময়সূচি ঘোষণা করেনি।   সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপরও রাজনৈতিক ও আইনি চাপের প্রভাব পড়ার বিষয়টিকে সামনে এনেছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে এবং তিনি সেগুলো অস্বীকার করেছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৭:৫৮
৫০ বছর বয়সী ইরসি এসপেরানজা মাচাদো রিভেরা
স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার জেড়ে প্রতিবেশী নারীর মুখে মল ছুরলেন স্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ওপা-লকার এক নারীকে প্রতিবেশীর বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধর এবং মুখে মল ছোড়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৫০ বছর বয়সী ইরসি এসপেরানজা মাচাদো রিভেরার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রতিবেশী নারীর সঙ্গে তার স্বামীর যৌন সম্পর্ক রয়েছে - এমন সন্দেহ থেকেই তিনি ওই নারীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান।   ঘটনাটি ঘটে ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রয়্যাল কান্ট্রি মোবাইল হোমস এলাকায়। পুলিশি নথি অনুযায়ী, মাচাদো রিভেরা প্রতিবেশীর বাসার দরজায় গিয়ে জোরে ধাক্কা দিতে থাকেন। দরজা খোলার পর তিনি ওই নারীকে তার স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন।   অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে মাচাদো রিভেরা জোর করে প্রতিবেশীর বাসায় ঢুকে তাকে ধাক্কা দেন। এরপর বেরিয়ে যাওয়ার আগে একটি বালতিতে থাকা মানবমল ওই নারীর দিকে ছুড়ে মারেন বলে পুলিশ অভিযোগ করেছে।   পুলিশ আরও বলেছে, ঘটনার আগে মাচাদো রিভেরা এক প্রত্যক্ষদর্শীকে জানিয়েছিলেন যে তিনি একটি বালতিতে মল রেখে সেটি প্রতিবেশীর মুখে ছুড়ে মারার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন।   তবে পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে মাচাদো রিভেরা ভিন্ন দাবি করেন। তার ভাষ্য, বাড়ির টয়লেট নষ্ট থাকায় তিনি বালতিটি ব্যবহার করছিলেন এবং সেটির মল ফেলার চেষ্টা করছিলেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে তাদের মধ্যে বালতির মলের দুর্গন্ধ নিয়ে তর্ক হয়েছিল।   মাচাদো রিভেরা আরও অভিযোগ করেন, ওই নারী তাকে মাথায় ব্যাট দিয়ে আঘাত করেছিলেন। তিনি প্রতিবেশীর বাড়িতে ঢোকা এবং তার দিকে মল ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে পুলিশের নথিতে তার এক প্রত্যক্ষদর্শীকে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে এই দাবির অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়েছে।   এ ঘটনায় মাচাদো রিভেরার বিরুদ্ধে বসতবাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং ব্যাটারি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে মিয়ামি-ডেড কাউন্টির টার্নার গিলফোর্ড নাইট কারেকশনাল সেন্টারে রাখা হয়েছে। আদালত তাকে জামিন না দেওয়া পর্যন্ত হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৭:২৪
জ্যামাইকার ফুটপাতে নিউ ইয়র্ক পুলিশের অভিযান
জ্যামাইকার ফুটপাতে নিউ ইয়র্ক পুলিশের অভিযান, ছোট দোকান ও ভ্যান সরিয়ে জায়গা খালি

নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় হিলসাইড অ্যাভিনিউ ও ১৬৯ স্ট্রিটের আশপাশে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাতের দুই পাশে ছোট ভ্যান, স্টল ও পণ্য সাজিয়ে বিক্রি করায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। সাম্প্রতিক অভিযানে এসব স্থাপনা ও ভ্যান সরিয়ে এলাকা পরিষ্কার করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   বিশেষ করে সবজি ও অন্যান্য পণ্য বিক্রির ছোট ভ্যান এবং ফুটপাতের ওপর বসানো অস্থায়ী দোকান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, ফুটপাতের বড় অংশ ব্যবসার কাজে ব্যবহার হওয়ায় অনেক সময় সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না।   সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন শিশুদের স্ট্রলার নিয়ে চলা মা-বাবা, বয়স্ক ব্যক্তি এবং হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা। ফুটপাত দিয়ে চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে গেলে অনেককে রাস্তার কাছাকাছি বা কখনো রাস্তার ওপর দিয়ে চলতে হয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। ব্যস্ত হিলসাইড অ্যাভিনিউ এলাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি পথচারীদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।   এলাকায় ভেন্ডরদের কার্যক্রম নিয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারি অবশ্য নতুন নয়। কুইন্স কমিউনিটি বোর্ড ৮-এর ২০২৫ সালের এক সভায় ১৬৪ থেকে ১৬৯ স্ট্রিট পর্যন্ত হিলসাইড অ্যাভিনিউ এলাকায় ভেন্ডরদের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগের কথা উঠে আসে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা অবৈধ ভেন্ডিং, আবর্জনা এবং ফুটপাত ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন। স্যানিটেশন বিভাগের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল, এলাকায় এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে ভেন্ডিং কার্ট জব্দ করা হয়েছে।    নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ লাইসেন্স ও পারমিট থাকলেও ভেন্ডরদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে হয়। পথচারীদের চলাচলের রাস্তা, ভবনের প্রবেশপথ, বাসস্টপ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। শহরের নিয়মে ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের পথ বাধামুক্ত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।    শহরের স্যানিটেশন বিভাগ ২০২৩ সাল থেকে স্ট্রিট ভেন্ডর এনফোর্সমেন্টে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের এনফোর্সমেন্টের অন্যতম লক্ষ্য হলো ফুটপাত, কার্ব, গণপরিবহনের প্রবেশপথ এবং দোকানের প্রবেশপথ যেন ভেন্ডিং বা পণ্য দিয়ে বাধাগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করা।    অন্যদিকে, ফুটপাতে ব্যবসা করা অনেক ছোট ভেন্ডরের জন্য এটি জীবিকার বিষয়। তাই স্থানীয় কমিউনিটির আলোচনায় একদিকে যেমন পথচারীদের জন্য ফুটপাত খোলা রাখার দাবি রয়েছে, অন্যদিকে বৈধভাবে ব্যবসা করা ছোট ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   হিলসাইড অ্যাভিনিউ জ্যামাইকার অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক ও যাতায়াত করিডোর। এলাকায় যানবাহন ও পথচারীর চাপ বেশি হওয়ায় ফুটপাত দখল এবং ভেন্ডিং নিয়ে নিয়মিত অভিযোগ তৈরি হয়। কুইন্স কমিউনিটি বোর্ডের নথিতেও এই করিডোরে ভেন্ডরদের কার্যক্রম ও এনফোর্সমেন্ট নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।    স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ফুটপাত কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসার ব্যক্তিগত জায়গা নয়। এটি সবার চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকা দরকার। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা জরুরি।   তবে সাম্প্রতিক অভিযানে ঠিক কোন সংস্থা কতগুলো ভ্যান বা দোকানের সরঞ্জাম সরিয়েছে এবং কতজনকে জরিমানা বা সামন্স দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি তথ্য এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই অভিযানের নির্দিষ্ট পরিসর সম্পর্কে চূড়ান্ত সংখ্যা বা দাবি করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করাই যথাযথ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৭:৯
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নাটালি হার্প
ছুটির উপহার হিসেবে চার হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাকে ট্রাম্প দিলেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ছুটির মৌসুমে হোয়াইট হাউসের চার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাকে মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ডলার নগদ উপহার দিয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক বিবরণীতে এসব উপহারের তথ্য উঠে এসেছে।    আর্থিক নথি অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট নাটালি হার্প, কমিউনিকেশনস অ্যাডভাইজার মার্গো মার্টিন এবং ওভাল অফিস অপারেশন্সের ডেপুটি ডিরেক্টর চেম্বারলেন হ্যারিস প্রত্যেকে ৪৫ হাজার ডলার করে পেয়েছেন। নথিতে এসব অর্থকে ছুটির উপলক্ষে নগদ উপহার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   অন্যদিকে, ওভাল অফিস অপারেশন্সের ডিরেক্টর ওয়াল্ট নাউটা পেয়েছেন ২০ হাজার ডলার। সব মিলিয়ে চার কর্মকর্তাকে দেওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ডলার।    হোয়াইট হাউসের কংগ্রেসে জমা দেওয়া বেতনসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, হার্প, মার্টিন ও হ্যারিসের প্রত্যেকের বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। নাউটার বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। অর্থাৎ তিন কর্মকর্তাকে দেওয়া ৪৫ হাজার ডলারের উপহার তাদের এক বছরের সরকারি বেতনের প্রায় ৩০ শতাংশের সমান।    হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের একটি রীতি রয়েছে, যেখানে তিনি নিজের ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে কখনো কখনো কর্মী ও সহযোগীদেরও ক্রিসমাস বা ছুটির উপহার দেন। ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, এসব অর্থ কর্মকর্তাদের সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এবং প্রযোজ্য আইন ও নৈতিকতার নিয়ম অনুযায়ী তা অনুমোদিত।   তবে বিষয়টি নিয়ে নৈতিকতা ও সরকারি কর্মীদের অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেডারেল কর্মীরা সাধারণভাবে তাদের সরকারি বেতনের বাইরে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পাওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত বিধিনিষেধের আওতায় থাকেন। ফলে ব্যক্তিগত উপহার হিসেবে দেওয়া এসব অর্থের আইনগত ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।    নাটালি হার্প ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রেসিডেন্টের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন। মার্গো মার্টিন ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদ থেকেই তার সঙ্গে কাজ করছেন এবং বর্তমানে কমিউনিকেশনস অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চেম্বারলেন হ্যারিস ওভাল অফিস অপারেশন্সের ডেপুটি ডিরেক্টর।    ওয়াল্ট নাউটা ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সহযোগী। তিনি বর্তমানে ওভাল অফিস অপারেশন্সের ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন। ২০২৩ সালে ট্রাম্পের গোপন নথি সংক্রান্ত ফেডারেল মামলায় নাউটার বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগগুলো খারিজ করা হয়।    নতুন আর্থিক বিবরণীতে প্রকাশিত এই উপহারগুলো ২০২৫ সালের ছুটির সময় দেওয়া হলেও তথ্যটি প্রকাশ্যে এসেছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। প্রকাশের পর থেকেই সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত উপহার, সরকারি বেতন এবং ফেডারেল নৈতিকতা বিধির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৬:৩৮
মদিনায় মসজিদে নববীর পাশে ১২০ বিলাসবহুল বাড়ি
মদিনায় মসজিদে নববীর পাশে ১২০ বিলাসবহুল বাড়ি, কিনতে পারবেন বিদেশি মুসলিমরাও

মদিনায় মসজিদে নববীর পাশে ১২০টি বিলাসবহুল আবাসিক ইউনিট নিয়ে নতুন একটি আবাসিক প্রকল্পে আগ্রহীদের মালিকানা নিতে নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ফেয়ারমন্ট রেসিডেন্সেস রুয়া আল মদিনাহ নামের এই প্রকল্পটি রুয়া আল মদিনাহ হোল্ডিংয়ের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মালিকানাধীন একটি কোম্পানি। প্রকল্পটির অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিটে বিলাসবহুল আবাসনের পাশাপাশি ফেয়ারমন্ট ব্র্যান্ডের হোটেলধাঁচের সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।   রুয়া আল মদিনাহ হোল্ডিং ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে প্রকল্পটির ১২০টি ইউনিটের জন্য আগ্রহী ক্রেতাদের নিবন্ধন শুরু করেছে। প্রকল্পটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও মালিকানার আগ্রহ জানাতে নিবন্ধনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এখনো ইউনিটগুলোর বিক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। নিবন্ধনের পর সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে ইউনিটের আকার, মূল্য এবং পেমেন্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।   প্রকল্পটির অবস্থান মসজিদে নববীর একেবারে পাশে রুয়া আল মদিনাহ উন্নয়ন এলাকার মধ্যে। প্রকল্পের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, কিছু আবাসিক ইউনিট থেকে মসজিদে নববীর আংশিক দৃশ্যও দেখা যাবে। মদিনার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত নকশার সঙ্গে আধুনিক বিলাসবহুল আবাসনের সমন্বয় করা হয়েছে।   ফেয়ারমন্ট রেসিডেন্সেস রুয়া আল মদিনাহকে মদিনার প্রথম ব্র্যান্ডেড রেসিডেন্সেস প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ১২০টি আবাসিক ইউনিটের পাশাপাশি একই কমপ্লেক্সে ফেয়ারমন্ট ব্র্যান্ডের হোটেল সুবিধাও রয়েছে। বাসিন্দাদের জন্য ফেয়ারমন্টের আতিথেয়তা সেবা এবং বিভিন্ন রেসিডেন্ট সার্ভিস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির মালিকরা ফেয়ারমন্টের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে কনসিয়ার্জ ও অন্যান্য হোটেলধাঁচের সেবা রয়েছে। এছাড়া অ্যাকোরের মালিকানা সুবিধা কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫ হাজার ৬০০টির বেশি হোটেল ও রিসোর্টে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।   এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো বিদেশি মুসলিমদের জন্য মালিকানার সুযোগ। সৌদি আরবের নতুন নন-সৌদি প্রপার্টি মালিকানা আইনে মক্কা ও মদিনা শহরে বিদেশি ব্যক্তিদের সম্পত্তি মালিকানা মুসলিম ব্যক্তিদের জন্য সীমিত করা হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি নাগরিক নন এমন মুসলিম ব্যক্তিরা নির্ধারিত ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে মদিনায় সম্পত্তি মালিকানার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই সুযোগ সৌদিতে বসবাসকারী মুসলিমদের পাশাপাশি বিদেশে বসবাসকারী মুসলিমদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে নির্দিষ্ট প্রকল্প ও ভৌগোলিক এলাকার নিয়ম এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।   সৌদি আরবের নন-সৌদি প্রপার্টি মালিকানা ব্যবস্থা ২২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় সৌদির বাইরে বসবাসকারী নন-সৌদি নাগরিকরাও নির্ধারিত নিয়ম মেনে সম্পত্তি মালিকানার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে মক্কা ও মদিনায় মালিকানার ক্ষেত্রে মুসলিম হওয়ার শর্ত রয়েছে।   তবে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। মদিনায় বিদেশি মুসলিমদের সম্পত্তি কেনার সুযোগ তৈরি হলেও শহরের যেকোনো স্থানে যেকোনো সম্পত্তি কেনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। নন-সৌদি মালিকানা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা এবং সরকারের নির্ধারিত নিয়মের আওতায় রয়েছে। তাই কোনো বিদেশি ক্রেতাকে চূড়ান্তভাবে সম্পত্তি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের মালিকানা অধিকার এবং সরকারি নিবন্ধনের শর্ত যাচাই করতে হবে।   ফেয়ারমন্ট রেসিডেন্সেস রুয়া আল মদিনাহ প্রকল্পের ক্ষেত্রে বর্তমানে যে বিষয়টি নিশ্চিত, তা হলো ১২০টি বিলাসবহুল আবাসিক ইউনিটের জন্য আগ্রহ নিবন্ধন শুরু হয়েছে। এখনো আনুষ্ঠানিক বিক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো নির্দিষ্ট মূল্যকে প্রকল্পটির চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।   রুয়া আল মদিনাহ হোল্ডিং সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের একটি কোম্পানি এবং মদিনায় মসজিদে নববীর আশপাশে বৃহৎ নগর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য মদিনায় হোটেল, আবাসিক স্থাপনা, বাণিজ্যিক এলাকা, জনপরিসর ও পর্যটন অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়ন।   মসজিদে নববীর কাছাকাছি একটি আন্তর্জাতিক হোটেল ব্র্যান্ডের আবাসিক ইউনিটের মালিকানার সুযোগ চালু হওয়ায় প্রকল্পটি সৌদি নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশি মুসলিম ক্রেতাদের কাছেও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে বর্তমানে এটি মূলত আগ্রহ নিবন্ধনের পর্যায়ে রয়েছে। ইউনিটের চূড়ান্ত দাম, বিক্রয় প্রক্রিয়া, পেমেন্ট পরিকল্পনা এবং মালিকানার বিস্তারিত শর্ত পরবর্তী পর্যায়ে প্রকাশ করা হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৬:২০
ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত
ভিসা জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত

ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের নতুন পার্ম আবেদন স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধাপ হওয়ায় এই সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের প্রক্রিয়ায় যেতে চাওয়া বিদেশি কর্মীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো ৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, কগনিজ্যান্টের পার্ম ফাইলিং স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার দপ্তর শ্রম বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হোয়াইট হাউস ফ্রড টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে কাজ করছে। তদন্তে ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার এবং মার্কিন কর্মীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   একই সময়ে সফটওয়্যার কোম্পানি ক্লাউডেরার পার্ম আবেদনও স্থগিতের কথা জানানো হয়েছে। তবে কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে, কতটি আবেদন এর আওতায় পড়েছে এবং স্থগিতাদেশ কতদিন থাকবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত জানায়নি। এই ঘটনায় কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও ঘোষণা করা হয়নি।   পার্ম হলো যুক্তরাষ্ট্রে অনেক কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। সাধারণত কোনো নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে স্পনসর করার আগে শ্রম বিভাগকে দেখাতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য যোগ্য ও আগ্রহী কোনো মার্কিন কর্মী সহজলভ্য নেই এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে থাকা মার্কিন কর্মীদের মজুরি বা কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।   পার্ম অনুমোদনের পর নিয়োগকর্তা সাধারণত গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যেতে পারেন। ফলে নতুন পার্ম আবেদন জমা দিতে না পারার কারণে কগনিজ্যান্টের যেসব কর্মীর ক্ষেত্রে এখনো এই ধাপ শুরু হয়নি, তাদের গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে।   তবে এই স্থগিতাদেশের অর্থ কগনিজ্যান্টের কর্মীদের আগে থেকে অনুমোদিত গ্রিন কার্ড বাতিল হয়ে গেছে, এমন নয়। একইভাবে, আগে অনুমোদিত পার্ম সার্টিফিকেশন বা বিদ্যমান ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাতিলের কথাও কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় বলা হয়নি।   কগনিজ্যান্ট যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় এইচ-ওয়ান-বি স্পনসরকারী আইটি সেবা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৪ সালে ভারতের চেন্নাইয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে এর সদর দপ্তর নিউ জার্সির টিনেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের কার্যক্রম রয়েছে।   কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে তদন্তটি কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বৃহত্তর নজরদারির অংশ। এর আগে শ্রম বিভাগ এইচ-ওয়ান-বি ও পার্ম কর্মসূচির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক আইটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।   ইন্সপেক্টর জেনারেল ডি’এসপোসিটো পরবর্তী এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে কগনিজ্যান্ট ও ক্লাউডেরার এইচ-ওয়ান-বি প্রসেসিং স্থগিতের কথাও উল্লেখ করেন। তবে এইচ-ওয়ান-বি সংক্রান্ত এই পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট আইনি পরিধি, কোন ধরনের প্রসেসিং এর আওতায় পড়ছে এবং বিদ্যমান এইচ-ওয়ান-বি কর্মীদের ওপর এর প্রভাব কী হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ্যে আসেনি।   কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিতের খবরটি এমন সময়ে এসেছে, যখন প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের কর্মীসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এক দিন আগে কগনিজ্যান্ট জানায়, তারা ১ হাজার ৫০০ মার্কিন কলেজ গ্র্যাজুয়েট নিয়োগ করবে এবং ফ্রন্টিয়ার সার্টিফায়েড ইঞ্জিনিয়ার ও ফ্রন্টিয়ার বিজনেস অপারেটর কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে ১৫ হাজার কর্মী করার পরিকল্পনা রয়েছে।   ফেডারেল তদন্ত চলমান থাকায় কগনিজ্যান্টের কর্মীদের ক্ষেত্রে পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে তদন্তের ফল এবং শ্রম বিভাগের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। তবে বর্তমান ঘোষণার ভিত্তিতে নতুন পার্ম আবেদন স্থগিত হওয়ায় যেসব কর্মীর গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপ এখনো এই ধাপে পৌঁছায়নি, তাদের জন্য অপেক্ষার সময় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৬:৮
গ্র্যানভিলে জন্মদিনের পার্টিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মা-ছেলের মৃত্যু
গ্র্যানভিলে জন্মদিনের পার্টিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মা-ছেলের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের গ্র্যানভিলে জন্মদিনের পার্টি চলাকালে একটি বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন ৪৬ বছর বয়সী সারাহ ও’সুলিভান এবং তার ২০ বছর বয়সী ছেলে লিয়াম ও’সুলিভান। পার্টিটি ছিল পরিবারের একজনের জন্মদিন উপলক্ষে।   গত ৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটে গ্র্যানভিলের কানেকটিকাট ট্রেইলের একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর লিয়ামকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়। গুরুতর আহত সারাহকে গিফোর্ড মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে পরে তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তে দুজনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিস্ফোরণে সৃষ্ট আঘাতের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।   ঘটনার সময় বাড়িটিতে জন্মদিনের আয়োজন চলছিল। বিস্ফোরণে আরও তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক আহত হন। তাদের মধ্যে ৬৯ বছর বয়সী শিলা হ্যামন্ড গুরুতর আহত অবস্থায় অন্য অঙ্গরাজ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর দুজন তুলনামূলকভাবে সামান্য আহত হয়েছেন।   বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকট শব্দের পর কয়েকটি বাড়িতে জানালা ও দেয়ালের জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন প্রতিবেশী জানান, বিস্ফোরণের কয়েক মিনিট পর তিনি বাতাসে গ্যাসের গন্ধও পেয়েছিলেন।   প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি সন্দেহজনক নয় বলে জানিয়েছিল ভারমন্ট স্টেট পুলিশ। পরে ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটির ফায়ার অ্যান্ড এক্সপ্লোশন ইনভেস্টিগেশন ইউনিট নিশ্চিত করে, বাড়ির ভেতরে প্রোপেন গ্যাস লিক থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটে। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত একটি গ্রিলের সঙ্গে প্রোপেন গ্যাস লিকের সম্ভাব্য সম্পর্ক ছিল। তবে কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তদন্তে মূল কারণ হিসেবে বাড়ির ভেতরের প্রোপেন লিককেই চিহ্নিত করা হয়েছে।   বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে ভারমন্ট স্টেট পুলিশের ফায়ার অ্যান্ড এক্সপ্লোশন ইনভেস্টিগেশন ইউনিট, ব্যুরো অব ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন, ফিল্ড ফোর্স ডিভিশন, ভিকটিম সার্ভিসেস ইউনিট, ডিভিশন অব ফায়ার সেফটি এবং গ্র্যানভিল ভলান্টিয়ার ফায়ার ডিপার্টমেন্ট কাজ করে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৫:৪২
নিহত তরুণীর  সোফিয়া ফারুক ছবি: সংগৃহীত
তরুণীর ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বাবা-ভাইয়ের ক্ষোভ, হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক ব্যর্থ

গুজরাটের আহমেদাবাদে ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে হত্যার অভিযোগে তার বাবা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, এক তরুণের সঙ্গে ওই তরুণীর একটি ভিডিও কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এরপর পারিবারিক সম্মান রক্ষার নামে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   নিহত তরুণীর নাম সোফিয়া ফারুক। তিনি আহমেদাবাদের সারখেজ এলাকার বাসিন্দা এবং জুহাপুরার একটি হাসপাতালে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশ তার বাবা ৫৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ ফারুক নওয়াবখান এবং ভাই ৩৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ হাবিল ফারুককে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করেছে।   ঘটনাটি প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনা বা হিট-অ্যান্ড-রান হিসেবে সামনে আসে। গত ১২ আগস্ট রাতে সোফিয়া তার ভাইয়ের সঙ্গে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন এবং পেছন থেকে একটি অজ্ঞাত যান তাদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায় - এমন অভিযোগ করা হয়েছিল। গুরুতর মাথায় আঘাত নিয়ে তাকে জিএমইআরএস সোলা সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।    তবে তদন্তে পুলিশের সন্দেহ হয়, কথিত দুর্ঘটনার ঘটনাটি সাজানো। যে স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছিল, সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ কোনো দুর্ঘটনার অস্তিত্ব পায়নি। ময়নাতদন্তেও মাথায় আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কথা উঠে আসে। এরপর তদন্তের গতিপথ বদলে যায়।   পুলিশের দাবি, সোফিয়াকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তার মৃত্যুকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত দুর্ঘটনার গল্প তৈরি করে তদন্তকে অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।   পুলিশ আরও বলছে, সোফিয়ার এক তরুণ বন্ধুর সঙ্গে কথোপকথনের একটি ভিডিও প্রায় তিন মাস আগে ভাইরাল হওয়ার পর তার বাবা ও ভাই বিষয়টি নিয়ে তাকে ভর্ৎসনা করেছিলেন। এরপর তার অন্য তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। তদন্তকারীদের মতে, পারিবারিক সম্মান রক্ষার ধারণা থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে।   এ ঘটনায় প্রথমে ট্রাফিক পুলিশ তদন্ত করলেও পরে হত্যার সন্দেহ জোরালো হলে মামলা সারখেজ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা হাতুড়িটি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৫:১২