সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
নিহত তরুণীর  সোফিয়া ফারুক ছবি: সংগৃহীত
তরুণীর ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বাবা-ভাইয়ের ক্ষোভ, হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক ব্যর্থ

গুজরাটের আহমেদাবাদে ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে হত্যার অভিযোগে তার বাবা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, এক তরুণের সঙ্গে ওই তরুণীর একটি ভিডিও কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এরপর পারিবারিক সম্মান রক্ষার নামে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   নিহত তরুণীর নাম সোফিয়া ফারুক। তিনি আহমেদাবাদের সারখেজ এলাকার বাসিন্দা এবং জুহাপুরার একটি হাসপাতালে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশ তার বাবা ৫৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ ফারুক নওয়াবখান এবং ভাই ৩৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ হাবিল ফারুককে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করেছে।   ঘটনাটি প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনা বা হিট-অ্যান্ড-রান হিসেবে সামনে আসে। গত ১২ আগস্ট রাতে সোফিয়া তার ভাইয়ের সঙ্গে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন এবং পেছন থেকে একটি অজ্ঞাত যান তাদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায় - এমন অভিযোগ করা হয়েছিল। গুরুতর মাথায় আঘাত নিয়ে তাকে জিএমইআরএস সোলা সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।    তবে তদন্তে পুলিশের সন্দেহ হয়, কথিত দুর্ঘটনার ঘটনাটি সাজানো। যে স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছিল, সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ কোনো দুর্ঘটনার অস্তিত্ব পায়নি। ময়নাতদন্তেও মাথায় আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কথা উঠে আসে। এরপর তদন্তের গতিপথ বদলে যায়।   পুলিশের দাবি, সোফিয়াকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তার মৃত্যুকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত দুর্ঘটনার গল্প তৈরি করে তদন্তকে অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।   পুলিশ আরও বলছে, সোফিয়ার এক তরুণ বন্ধুর সঙ্গে কথোপকথনের একটি ভিডিও প্রায় তিন মাস আগে ভাইরাল হওয়ার পর তার বাবা ও ভাই বিষয়টি নিয়ে তাকে ভর্ৎসনা করেছিলেন। এরপর তার অন্য তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। তদন্তকারীদের মতে, পারিবারিক সম্মান রক্ষার ধারণা থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে।   এ ঘটনায় প্রথমে ট্রাফিক পুলিশ তদন্ত করলেও পরে হত্যার সন্দেহ জোরালো হলে মামলা সারখেজ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা হাতুড়িটি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৫:১২
বাংলাদেশি সিনিয়র এআই গবেষক ইরফান আল-হুসাইনির মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা
বাংলাদেশি গবেষক ইরফানের মৃত্যুতে ধোঁয়াশা, আত্মহত্যার দাবি মানতে নারাজ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে এনভিডিয়ার ৩২ বছর বয়সী সিনিয়র এআই গবেষক ইরফান আল-হুসাইনির মৃত্যু নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করলেও সেই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনেরা। পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের দাবিতে এবার ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবার।    ইরফানকে গত জুলাইয়ে পালো আল্টোর নিজ বাসায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় আট দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ জুলাই তার মৃত্যু হয়। এনবিসি বে এরিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখছে। তবে মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে পরিবারের একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।    পরিবারের দাবি, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেও ইরফান একটি পেশাগত প্রেজেন্টেশন করেছিলেন। তার বোন সারাহ আল-হুসেইনি বলেন, ওই সময় ইরফান স্বাভাবিক ছিলেন এবং প্রেজেন্টেশনও ভালোভাবে শেষ করেছিলেন। পরিবারের কাছে তাই আত্মহত্যার সিদ্ধান্তটি অসংগতিপূর্ণ মনে হচ্ছে।    মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে আরও তদন্তের দাবি জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টার কার্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ও জরুরি আবেদন জমা দিয়েছেন। মরদেহ দাহের আগে ফরেনসিক পরীক্ষা, টক্সিকোলজি বিশ্লেষণ এবং স্বাধীন তদন্তের সুযোগ নিশ্চিত করতে তারা হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। পরিবারের আশঙ্কা, মরদেহ দাহ হয়ে গেলে গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক প্রমাণ আর পরীক্ষা করা সম্ভব হবে না।    ইরফানের পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, তার মৃত্যুর তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে স্থানীয় পুলিশ ও সান্তা ক্লারা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ পরিবারের বক্তব্য; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। এনবিসি বে এরিয়া জানিয়েছে, মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় ইরফানের ময়নাতদন্তের ফলাফল সম্পর্কে তাদের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।    ইরফান আল-হুসাইনি ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং জর্জিয়া টেক থেকে পিএইচডি করা একজন গবেষক। স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাখ্যাযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করতেন তিনি। জর্জিয়া টেকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করার পর তিনি এনভিডিয়ায় যোগ দেন।    তার মৃত্যুর পর বাংলাদেশেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক ময়নাতদন্ত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধনের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।    তবে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - ইরফানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করলেও পরিবার সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছে। স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি ও কারণ স্পষ্ট হবে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:৩৩
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শহরে তুলনামূলক কম খরচে বসবাসের সুযোগ রয়েছে
২০২৬ সালে আমেরিকার সবচেয়ে সস্তা আবাসন কোনটি! জেনে নিন, তালিকায় আরো ১০ শহর

নিউইয়র্ক বা লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো বড় শহরে বাড়ি কেনা বা রেন্ট নেওয়ার খরচ যেখানে অনেক বেশি, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শহরে তুলনামূলক কম খরচে বসবাসের সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত AmeriSave-এর তথ্যের ভিত্তিতে নিউইয়র্ক পোস্টের করা তালিকায় সবচেয়ে সাশ্রয়ী বড় আবাসন বাজার হিসেবে উঠে এসেছে পেনসিলভেনিয়ার পিটসবার্গ। তালিকার ১০ শহরের মধ্যে নয়টিই রিপাবলিকান-সমর্থিত বা ‘রেড স্টেট’-এ অবস্থিত।   পিটসবার্গে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা জাতীয় মাঝারি দামের প্রায় ৪ লাখ ২৬ হাজার ডলারের তুলনায় ১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বেশি কম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় মার্কেটগুলোর মধ্যে পিটসবার্গই একমাত্র শহর যেখানে বাড়ি কেনার খরচ রেন্ট নেওয়ার চেয়ে কম হতে পারে। শহরটির জীবনযাত্রার খরচও জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম।    একসময় ইস্পাতশিল্পের জন্য পরিচিত পিটসবার্গ এখন প্রযুক্তি, হেলথ কেয়ার ও উচ্চশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। গুগল, ইউপিএমসি এবং কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির মতো বড় প্রতিষ্ঠান সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। পিটসবার্গ মেট্রো এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ।    তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইলিনয়ের ডেকাটুর। শহরটিতে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ৮৯ হাজার ৮৫৫ ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ২০ শতাংশ কম। তালিকায় এটিই একমাত্র ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত ‘ব্লু স্টেট’-এর শহর। কৃষি, উৎপাদন ও পরিবহন খাত ডেকাটুরের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।    তৃতীয় স্থানে ওকলাহোমার এনিড। সেখানে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের চেয়ে ১১ শতাংশ কম। কৃষি, জ্বালানি ও এয়ারোস্পেস খাত শহরটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।    চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইন্ডিয়ানার ফোর্ট ওয়েন। বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯৯৩ ডলার হলেও জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ৩৯ শতাংশ কম, যা তালিকায় সবচেয়ে বড় ব্যবধান। উৎপাদন ও হেলথ কেয়ার খাত এখানে বড় কর্মসংস্থানের উৎস।    পঞ্চম স্থানে আইওয়ার ডেস ময়েন। শহরটির বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের চেয়ে ২৩ শতাংশ কম। ফাইন্যান্স, ইন্স্যুরেন্স ও ডেটা সার্ভিসেস খাতের জন্য শহরটি পরিচিত।    ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ওকলাহোমা সিটি। এখানে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ১৬৭ ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ২১ শতাংশ কম। এয়ারোস্পেস, হেলথ কেয়ার ও প্রযুক্তি খাত শহরটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   সপ্তম স্থানে কানসাসের উইচিটা। ‘এয়ার ক্যাপিটাল অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামে পরিচিত এই শহরে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের চেয়ে ১১ শতাংশ কম। এয়ারোস্পেস ও উৎপাদন শিল্প এখানে বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র।    অষ্টম স্থানে উইসকনসিনের গ্রিন বে। বাড়ির দাম প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার ৫৯৫ ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কাগজশিল্প ও হেলথ কেয়ার শহরটির প্রধান শিল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে।    নবম স্থানে নেব্রাস্কার ওমাহা। সেখানে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কম। ওয়ারেন বাফেটের বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে, ইউনিয়ন প্যাসিফিকসহ বড় প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতির কারণে শহরটি ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।    দশম স্থানে রয়েছে আইওয়ার সিডার র‌্যাপিডস। বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম। এয়ারোস্পেস ও খাদ্যশিল্প শহরটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।    এই তালিকা থেকে দেখা যায়, কম খরচের আবাসন বাজার মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট ও দক্ষিণাঞ্চলে কেন্দ্রীভূত। তবে শুধু বাড়ির দাম দেখেই কোনো শহরকে বসবাসের জন্য সেরা বলা যায় না। চাকরির সুযোগ, আয়, কর, হেলথ কেয়ার, যাতায়াত ও পরিবারের প্রয়োজনও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। AmeriSave-এর ২০২৬ সালের বিশ্লেষণেও কম খরচের পাশাপাশি স্থানীয় চাকরির বাজার ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৩:৫৫
৪০তম সম্মেলন শেষ হওয়ার পর টেক্সাসের হিউস্টনে ৪১তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৭ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
৪০তম ফোবানা শেষে হিউস্টনে ৪১তম আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু, স্পনসরশিপ প্যাকেজ ঘোষণা

৪০তম ফোবানা কনভেনশন শেষ হওয়ার পর এবার ৪১তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৭ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে টেক্সাসের হিউস্টনে। উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় এই আয়োজনের হোস্ট হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টন। এরই মধ্যে সম্মেলনের ভেন্যু, হোস্ট এক্সিকিউটিভ কমিটি এবং বিভিন্ন স্তরের স্পনসরশিপ প্যাকেজের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।   আয়োজকরা জানিয়েছেন, ৪১তম ফোবানা কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে হিউস্টনের Wyndham Houston-এ। ভেন্যুটির ঠিকানা ৮৬৮৬ কিরবি ড্রাইভ, হিউস্টন, টেক্সাস ৭৭০৫৪। সম্মেলনে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   ৪১তম ফোবানার আয়োজনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টন ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি নিবন্ধিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন। গ্রেটার হিউস্টনের বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক ও মানবিক বিভিন্ন কার্যক্রমে সংগঠনটি কাজ করে আসছে। তাদের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে হেলথ ক্লিনিক, বাংলা ক্লাস, ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, SAT/PSAT প্রোগ্রাম, দুর্যোগ সহায়তা, খেলাধুলা, কনস্যুলার সার্ভিস, ফুড ব্যাংক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পরিবারকে সহায়তার বিভিন্ন উদ্যোগ।   ৪১তম ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট এক্সিকিউটিভ কমিটিতেও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। কমিটির কনভেনার হিসেবে রয়েছেন ইমতিয়াজ আহমেদ পাভেল। মেম্বার সেক্রেটারি খন্দকার ইসলাম রিয়াজ এবং ডেপুটি কনভেনার ইশফাক হোসাইন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে রয়েছেন সোহেলা সাবুর হাসান লাভলি।   এ ছাড়া চিফ অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ আমানউল্লাহ, চিফ প্যাট্রন ইকবাল চৌধুরী, ডিরেক্টর অব ফাইন্যান্স মুহাম্মদ মান্নাফ ডায়মন্ড, চিফ কো-অর্ডিনেটর মুহাম্মদ জামান টুটুল এবং কালচারাল কমিটির চেয়ার হিসেবে রয়েছেন কায়সার আবেদিন শিবলী।   এবারের আয়োজনকে ঘিরে ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিভিন্ন স্পনসরশিপ প্যাকেজও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্র্যান্ড স্পনসরশিপের মূল্য ৫০ হাজার ডলার, টাইটেল স্পনসরশিপ ২৫ হাজার ডলার, প্লাটিনাম স্পনসরশিপ ১০ হাজার ডলার, গোল্ড স্পনসরশিপ ৫ হাজার ডলার এবং সিলভার স্পনসরশিপের মূল্য ১ হাজার ৮০০ ডলার।   আয়োজকরা জানিয়েছেন, ৫০ হাজার ডলারের গ্র্যান্ড স্পনসর প্যাকেজ ইতোমধ্যে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে টাইটেল, প্লাটিনাম, গোল্ড ও সিলভার স্পনসরশিপ প্যাকেজগুলোর মধ্যে এখনও অ্যাভেলেবেল আছে।   সিলভার স্পনসরদের জন্য রয়েছে আর্লি বার্ড অফারও। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলভার স্পনসরশিপের মূল্য ১ হাজার ৮০০ ডলারের পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।   ফোবানা ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ও কমিউনিটিকে একটি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ সংরক্ষণে কাজ করে আসছে। সংগঠনটির বার্ষিক কনভেনশনে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণ থাকে।   ৪০তম ফোবানা শেষ হওয়ার পর এবার হিউস্টনে ৪১তম আয়োজনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বড় পরিসরের অংশগ্রহণের লক্ষ্য, বিভিন্ন স্পনসরশিপ সুবিধা এবং হিউস্টনের সক্রিয় বাংলাদেশি কমিউনিটির অংশগ্রহণে ২০২৭ সালের এই আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৩:২৪
দীর্ঘদিনের ভিসা জটিলতা ও পেশাগত বাধা পেরিয়ে অবশেষে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাইমন শেট্টি। ছবি: সংগৃহীত
ভিসা জটিলতা ও পেশাগত বাধা পেরিয়ে মার্কিন নাগরিক হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা

কর্ণাটকের একটি ছোট গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে দীর্ঘদিনের ভিসা জটিলতা ও পেশাগত নানা বাধা পেরিয়ে মার্কিন নাগরিক হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাইমন শেট্টি। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পথে তাকে বিভিন্ন অভিবাসনসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জনকে তিনি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।   যুক্তরাষ্ট্রে নিজের পেশাগত জীবন গড়ে তোলার পথে শেট্টিকে দীর্ঘ সময় ধরে ভিসা সংক্রান্ত নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এর পাশাপাশি পেশাগত ক্ষেত্রেও তাকে বিভিন্ন বাধা মোকাবিলা করতে হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন এবং শেষ পর্যন্ত দেশটির নাগরিকত্ব অর্জন করেন।   শেট্টি আরও জানিয়েছেন, তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্দেশ্যে একটি প্রতারণার অভিযোগ করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। তিনি ওই অভিযোগকে মিথ্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এই অভিযোগটি শেট্টির নিজের বক্তব্য হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে। অভিযোগটি স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতার মধ্যেও শেট্টি যুক্তরাষ্ট্রে নিজের পেশাগত জীবন এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান। ভিসা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং পেশাগত বাধার পাশাপাশি তাকে অভিযোগসংক্রান্ত পরিস্থিতিও মোকাবিলা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এসব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে নাগরিকত্ব পাওয়াকে তিনি নিজের দীর্ঘ যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন।   নিজের যাত্রার কথা বলতে গিয়ে শেট্টি কর্ণাটকের একটি ছোট গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে পেশাগত জীবন গড়ে তোলা এবং পরে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব পাওয়া তার জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।   শেট্টির অভিজ্ঞতায় ভিসা জটিলতা ও পেশাগত বাধার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রক্রিয়ার নানা চ্যালেঞ্জও ছিল। তিনি জানিয়েছেন, এসব পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। দীর্ঘ সময়ের এই প্রক্রিয়ার পর মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন তার জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।   কর্ণাটকের ছোট একটি গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পর নাগরিকত্ব অর্জনকে শেট্টি তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন। তার এই যাত্রায় ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা, পেশাগত বাধা এবং তাকে বহিষ্কারের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে বর্ণনা করা অভিযোগের মতো পরিস্থিতি ছিল।   শেষ পর্যন্ত এসব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জনের মাধ্যমে শেট্টির দীর্ঘ অভিবাসনযাত্রা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিজের অভিজ্ঞতার দিকে ফিরে তাকিয়ে তিনি নাগরিকত্বকে শুধু একটি আইনি মর্যাদা নয়, বরং ছোট একটি গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার দীর্ঘ পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরেছেন।   সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১২:৫৪
ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোয় আজ নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি উন্মোচন অনুষ্ঠান আয়োজন করছে অ্যাপল। ছবি: সংগৃহীত
বড় চমক নিয়ে আজ অ্যাপলের ইভেন্ট, আসছে আইফোন ১৮ ও ভাঁজ করা আইফোন!

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোয় অ্যাপল পার্কে আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি উন্মোচন অনুষ্ঠান আয়োজন করছে অ্যাপল। ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’ নামের এই অনুষ্ঠান বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হওয়ার কথা।   অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স। গুঞ্জন রয়েছে, নতুন মডেল দুটিতে ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির এ২০ প্রো চিপ ব্যবহার করা হতে পারে। এতে ফোনের কর্মক্ষমতা, তাপ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাটারি ব্যবস্থাপনায় উন্নতি আসতে পারে।   ক্যামেরাতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। বিশেষ করে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার ক্যামেরা যুক্ত হতে পারে। ফলে বিভিন্ন আলোতে আরও ভালো ছবি তোলা সম্ভব হবে।   এবারের অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে অ্যাপলের প্রথম ভাঁজ করা আইফোন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সম্ভাব্য নাম হিসেবে ‘আইফোন আলট্রা’র কথা বলা হচ্ছে।   গুঞ্জন অনুযায়ী, বইয়ের মতো ভাঁজ করা যাবে ফোনটি। খোলা অবস্থায় এতে প্রায় ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চির পর্দা এবং বাইরে প্রায় ৫ দশমিক ৩ ইঞ্চির পর্দা থাকতে পারে। ফোনটিতে ১২ গিগাবাইট মেমোরি, দুটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং ফেস আইডির পরিবর্তে টাচ আইডি ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে দাম হতে পারে বেশ চড়া, প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত।   আইফোনের পাশাপাশি অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২, অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা ৪ এবং এয়ারপডস ৫ উন্মোচনের সম্ভাবনাও রয়েছে। নতুন ঘড়িতে স্বাস্থ্যসেবা ও সেন্সর প্রযুক্তিতে উন্নতি এবং এয়ারপডসে হৃৎস্পন্দন পরিমাপের সুবিধা আসতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।   এদিকে, নতুন আইফোনের দামও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন পূর্বাভাস অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রোর দাম ১ হাজার ১৯৯ ডলার থেকে শুরু হতে পারে।   অ্যাপলের আমন্ত্রিত অতিথিরা সরাসরি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। আর বিশ্বজুড়ে দর্শকরা অ্যাপলের ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল এবং অ্যাপল টিভি অ্যাপের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখতে পারবেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১২:৪১
স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবল ক্লাব সিডি এলদেনসে কিনতে প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছেন লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত
স্পেনে দ্বিতীয় ফুটবল ক্লাব কিনছেন মেসি!’ এলদেনসেতে মালিকানা চুক্তি

বার্সেলোনার জার্সিতে স্প্যানিশ ফুটবলে ইতিহাস গড়ার পরও দেশটির ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব সিডি এলদেনসে কিনতে প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছেন তিনি।   আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামাধ্যম ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলদেনসের মালিকানা হস্তান্তর নিয়ে মেসির পক্ষ ও ক্লাব কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। তবে এখনো চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়নি। মালিকানা হস্তান্তরের আগে ক্লাবটির আর্থিক অডিট, আইনি যাচাই এবং স্পেনের ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।   সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্পেনে মেসির মালিকানাধীন এটি হবে দ্বিতীয় ফুটবল ক্লাব। এর আগে চলতি বছর তিনি স্পেনের পঞ্চম বিভাগের আধা-পেশাদার ক্লাব ইউসি কর্নেয়া কিনেছেন। ফলে এলদেনসে হবে স্প্যানিশ ফুটবলে মেসির মালিকানাধীন প্রথম পূর্ণাঙ্গ পেশাদার ক্লাব।   ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এলদেনসের বর্তমান মালিক কলম্বিয়াভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গ্রুপো টিএইচ। ২০২৩ সালে দীর্ঘ বিরতির পর দলটি দ্বিতীয় বিভাগে ফিরেছিল। তবে দুই বছর পর অবনমন হলেও চলতি মৌসুমে আবারও দ্বিতীয় বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে ক্লাবটি।   বর্তমানে অবশ্য মাঠের পারফরম্যান্সে ভালো সময় যাচ্ছে না এলদেনসের। ৫ হাজার ৭৭৬ আসনের নুয়েভো পেপিকো আমাত স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম চার ম্যাচে জয়হীন রয়েছে দলটি। দুর্বল শুরুর কারণে প্রধান কোচ ক্লদিও বারাগানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন কোচের অপেক্ষায় রয়েছে দলটি।   তবে মেসির দুই ক্লাবের মালিকানা নিয়ে আপাতত বড় কোনো আইনি জটিলতার আশঙ্কা নেই। কারণ কর্নেয়া খেলছে পঞ্চম বিভাগে, আর এলদেনসে দ্বিতীয় বিভাগে। তবে ভবিষ্যতে দুই দল একই বিভাগে উঠে এলে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের মালিকানা-সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী জটিলতা তৈরি হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১২:৩১
বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সিক্যুয়েল তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। ছবি: সংগৃহীত
২০ বছর পর ফিরছে ‘থ্রি ইডিয়টস’! একই চরিত্রে আমির-মাধবন-শারমান

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সিক্যুয়েল তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। পরিচালক রাজকুমার হিরানি জানিয়েছেন, সিনেমাটির গল্প ও স্ক্রিপ্ট এখনো লেখা হচ্ছে এবং এটি মূল ছবির প্রায় ২০ বছর পরের সময়কে কেন্দ্র করে তৈরি হবে। একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেছেন, মূল তিন চরিত্র র‍্যাঞ্চো, ফারহান ও রাজুর চরিত্রে আমির খান, আর মাধবন ও শারমান যোশীকে নিয়েই গল্প এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে।    ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘থ্রি ইডিয়টস’ পরিচালনা করেছিলেন রাজকুমার হিরানি। আমির খান, আর মাধবন ও শারমান যোশীর অভিনীত র‍্যাঞ্চো, ফারহান ও রাজু চরিত্র তিনটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সিনেমাটিতে শিক্ষাব্যবস্থা, ক্যারিয়ার, বন্ধুত্ব ও নিজের পছন্দের পথে এগিয়ে যাওয়ার মতো বিষয় উঠে এসেছিল।   সিক্যুয়েল প্রসঙ্গে হিরানি জানিয়েছেন, নতুন সিনেমাটি কলেজজীবনের গল্প নিয়ে নয়। বরং দুই দশক পর চরিত্রগুলোর জীবন কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটিই হবে গল্পের মূল বিষয়। অর্থাৎ র‍্যাঞ্চো, ফারহান ও রাজুকে এবার দেখা যাবে তাদের পেশাগত ও পারিবারিক জীবনের নতুন বাস্তবতায়।    পরিচালকের ভাষ্য অনুযায়ী, গল্পটি শুরু থেকেই ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সিক্যুয়েল হিসেবে লেখা হচ্ছিল না। অন্য একটি গল্প নিয়ে কাজ করার সময় হিরানি ও তাঁর লেখক সহযোগী অভিজাত জোশির মনে হয়, সেই গল্পটি ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর চরিত্রগুলোর জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের সঙ্গে মানিয়ে যেতে পারে। সেখান থেকেই সিক্যুয়েলের ধারণাটি তৈরি হয়।    তবে সিনেমাটির কাজ এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। হিরানি জানিয়েছেন, স্ক্রিপ্ট পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেমাটি নিয়ে এগোতে চান না। গল্পটি যথেষ্ট শক্তিশালী মনে হলেই সিক্যুয়েলটি নির্মাণের দিকে যাওয়া হবে।    এর আগে আমির খানও জানিয়েছিলেন, তিনি সিক্যুয়েলের প্রাথমিক গল্প শুনেছেন এবং সেটি তাঁর পছন্দ হয়েছে। তবে স্ক্রিপ্টে আরও কাজ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।    হিরানি আরও জানিয়েছেন, ‘থ্রি ইডিয়টস ২’-এ নতুন কোনো ‘চতুর্থ ইডিয়ট’ যোগ করার পরিকল্পনা নেই। মূল তিন বন্ধুকেই কেন্দ্র করে গল্প এগোবে। ফলে দুই দশক পর র‍্যাঞ্চো, ফারহান ও রাজুর জীবনে কী পরিবর্তন এসেছে, সেটিই এখন সিনেমাপ্রেমীদের আগ্রহের মূল বিষয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১২:১০
কানাডায় আট বছর বসবাসের পর অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ভারত ফিরে গেছে কুমার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
অ্যাসাইলাম বাতিল: ৮ বছর পর কানাডা ছাড়তে হলো এক ভারতীয় পরিবারকে!

কানাডার ক্যুবেক প্রদেশে আট বছর বসবাসের পর অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ভারত ফিরে গেছে কুমার পরিবার। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া, মানবিক কারণে কানাডায় থাকার আবেদন এবং আদালতে পর্যালোচনার উদ্যোগের পর ৭ সেপ্টেম্বর পরিবারটি ভারতগামী ফ্লাইটে ওঠে। ২০১৮ সালের এপ্রিলে কানাডায় আসার পর পরিবারটি ক্যুবেকেই নিজেদের জীবন গড়ে তুলেছিল।    হরিশ কুমার, তার স্ত্রী সোনিকা এবং তাদের দুই সন্তান গৌরেশ ও জাপেশ ২০১৮ সালে কানাডায় আসার পর অ্যাসাইলাম আবেদন করেন। হরিশের দাবি ছিল, ভারতে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় ছিলেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তাদের অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে মানবিক ও সহানুভূতিশীল কারণে কানাডায় থাকার আবেদনও ব্যর্থ হয়।   পরিবারটির বিরুদ্ধে কানাডা ছাড়ার নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর ৭ সেপ্টেম্বর তাদের ভারত ফেরার কথা ছিল। এর আগে ৪ আগস্ট পরিবারটিকে জানানো হয় যে তাদের অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়তে হবে। পরে হরিশের স্ত্রী সোনিকাকে কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএ হেফাজতে নেয় বলে হরিশ জানিয়েছেন।    পরিবারটির সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তাদের দুই সন্তানকে ঘিরে। ১৪ বছর বয়সী জাপেশ ও ১২ বছর বয়সী গৌরেশের শৈশবের বড় অংশ কেটেছে ক্যুবেকে। তারা কানাডার স্কুলে পড়েছে, ফরাসি ভাষা শিখেছে এবং সেখানেই বন্ধু ও পরিচিত পরিবেশ গড়ে তুলেছে।   বিদায়ের আগে ১৪ বছর বয়সী জাপেশ গণমাধ্যমকে জানায়, সে ক্যুবেকেই বড় হয়েছে এবং সেখানে তার বন্ধুরা রয়েছে। ভারতের জীবন সম্পর্কে তার খুব কম ধারণা। তার ১২ বছর বয়সী ভাই গৌরেশও জীবনের বড় অংশ কানাডায় কাটিয়েছে। ফলে ভারত ফিরে গিয়ে তাদের নতুন পরিবেশ, শিক্ষা ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।    কানাডায় থাকার সময় হরিশ কুমার ট্রাক ড্রাইভার হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৯ সাল থেকে তিনি এই পেশায় ছিলেন এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও পণ্য পরিবহনের কাজ চালিয়ে যান। ওই সময়ে ট্রাকিং ও পরিবহন খাতকে জরুরি সেবার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তার স্ত্রী সোনিকাও পরিবারের ব্যয় চালাতে কাজ করেছেন।    কুমার পরিবারকে সহায়তা করা ইমিগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স সেন্টার তাদের অপসারণের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য, পরিবারটি আট বছর ধরে কানাডায় বসবাস, কাজ ও স্থানীয় কমিউনিটিতে অবদান রাখার পরও তাদের অবস্থান বৈধ করার সুযোগ হয়নি।   অন্যদিকে, কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি জানিয়েছে, অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর। পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডে আপিল, ফেডারেল কোর্টে জুডিশিয়াল রিভিউ বা প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্টের মতো আইনি সুযোগ পেতে পারেন। কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি প্রোটেকশন অ্যাক্টের ৪৮ নম্বর ধারায় কার্যকর রিমুভাল অর্ডার থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব সরিয়ে নেওয়ার বিধান রয়েছে।    কুমার পরিবার ইতোমধ্যে ভারত পৌঁছালেও তাদের আইনি লড়াই পুরোপুরি শেষ হয়নি। পরিবারটি ফেডারেল কোর্টে তাদের মামলাটি পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    আট বছর পর ভারতে ফিরে এখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি পরিবারটি। বিশেষ করে দুই সন্তানের জন্য এটি শুধু একটি দেশ পরিবর্তন নয়, বরং শৈশব থেকে পরিচিত ক্যুবেকের জীবন ছেড়ে এমন একটি দেশে নতুন করে শুরু করা, যাকে তারা নিজেদের ভাষায় খুব কমই চেনে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১১:৫৬
গ্রেপ্তারের আহ্বানের মাঝেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
গ্রেফতারের হুমকির পরও জাতিসংঘে ভাষণ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন নেতানিয়াহু!

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি গ্রেফতারের আহ্বান জানানোর পরও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের জাতিসংঘ দূত ড্যানি ড্যানন জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষ দিকে নেতানিয়াহু ২৪ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে নিউইয়র্কে যাবেন এবং জাতিসংঘের অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন।   ড্যানন বলেন, গাজা যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মামদানি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করছেন। মামদানি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী আখ্যা দিয়ে গ্রেফতারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, নিউইয়র্ক সিটির নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করার আইনগত ক্ষমতা নেই। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন।   আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের আরেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ওই পরোয়ানায় গাজায় মানবিক সহায়তা সীমিত করার মাধ্যমে অনাহারকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার এবং বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ আনা হয়। ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।   নিউইয়র্ক সিটির ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনগত ক্ষমতা না থাকলেও মামদানির আহ্বানকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ড্যানন জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর জাতিসংঘে উপস্থিত হওয়া ইসরায়েলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ ও চাপের মধ্যেও নেতানিয়াহু তার বক্তব্য দেবেন।   ড্যাননের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এরপর একই রাতেই তিনি ইসরায়েলে ফিরে যাবেন। জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের নেতাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে নিউইয়র্কে বিক্ষোভের আশঙ্কাও রয়েছে। ড্যানন বলেন, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলাকালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ নিউইয়র্কের রাস্তায় আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। গত বছর নেতানিয়াহু জাতিসংঘে বক্তব্য দেওয়ার সময় সাধারণ পরিষদের হল থেকে বহু প্রতিনিধি বেরিয়ে গিয়েছিলেন। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।   তবে ড্যানন বলেন, নেতানিয়াহু এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভিজ্ঞ এবং প্রতিবাদ বা বিরোধিতার মধ্যেও তিনি জাতিসংঘে তার বক্তব্য দেবেন। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিকভাবে ক্রমেই বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন। ফলে এবারের জাতিসংঘ সফরও ব্যাপক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মনোযোগের কেন্দ্রে থাকবে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১১:৪৬
১৯৩৭ সালে ইতালীয় চিত্রশিল্পী উমবার্তো রোমানোর আঁকা চিত্রকর্মে এক আদিবাসীর হাতে স্মার্টফোনের মতো বস্তু দেখা গেছে। ছবি: সংগৃহীত
৯০ বছরের পুরোনো ছবিতে ‘স্মার্টফোন’! টাইম ট্রাভেল নিয়ে তুমুল জল্পনা

প্রায় ৯০ বছর আগে আঁকা একটি ছবিতে এক আদিবাসী ব্যক্তির হাতে স্মার্টফোনের মতো একটি বস্তু দেখা যাওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে অদ্ভুত জল্পনা। কেউ কেউ দাবি করছেন, এটি যেন সময় ভ্রমণের কোনো প্রমাণ। তবে ইতিহাসবিদদের ব্যাখ্যা, বস্তুটি আসলে একটি আয়না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।   ‘মিস্টার পিনচন অ্যান্ড দ্য সেটলিং অব স্প্রিংফিল্ড’ নামের ম্যুরালটি এঁকেছিলেন ইতালীয়-আমেরিকান শিল্পী উমবের্তো রোমানো। ১৯৩৭ সালে তৈরি এই ছবিতে ১৭ শতকের ম্যাসাচুসেটসের স্প্রিংফিল্ডে ইংরেজ উপনিবেশবাদী ও স্থানীয় আদিবাসীদের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।   ছবিটির সামনের অংশে থাকা এক আদিবাসী ব্যক্তিকে একটি ছোট, আয়তাকার বস্তু হাতে নিয়ে সেটির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। বস্তুটির পেছনের অংশ গাঢ় রঙের এবং চারপাশে চকচকে প্রান্ত থাকায় বর্তমান সময়ের স্মার্টফোনের সঙ্গে এর মিল খুঁজে পেয়েছেন সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা।   ছবিটি নতুন করে ভাইরাল হওয়ার পর কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ১৯৩৭ সালের একটি ছবিতে স্মার্টফোনের মতো বস্তু কীভাবে থাকতে পারে। সেখান থেকেই টাইম ট্রাভেল বা সময় ভ্রমণ নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে।   তবে ইতিহাসবিদদের ব্যাখ্যা এই জল্পনার চেয়ে অনেক বেশি সরল। তাদের মতে, বস্তুটি সম্ভবত একটি আয়না। ১৭ শতকের আমেরিকান উপনিবেশগুলোতে আয়না ছিল পরিচিত বাণিজ্যপণ্য। ছবিতে ওই ব্যক্তিকে নিজের প্রতিবিম্ব দেখার মতো ভঙ্গিতে বস্তুটির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়, যা আয়না হওয়ার ধারণাটিকেই সমর্থন করে।   ম্যুরালটি ম্যাসাচুসেটসের একটি স্টেট অফিস ভবনে সংরক্ষিত রয়েছে। ভবনটি একসময় স্প্রিংফিল্ডের প্রধান পোস্ট অফিস ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট ডিপ্রেশনের সময় শিল্পীদের কর্মসংস্থানের জন্য চালু হওয়া ফেডারেল আর্টস প্রজেক্টের অর্থায়নে পোস্ট অফিসটির জন্য তৈরি ছয়টি ম্যুরালের একটি ছিল এটি।   ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, শিল্পী রোমানো স্থানীয় ইতিহাসবিদ হ্যারি অ্যান্ড্রুজ রাইট এবং লেখক এসথার ফোর্বসের সঙ্গে পরামর্শ করে কাজটি তৈরি করেছিলেন। ছবিতে ১৬৩৬ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত ওই অঞ্চলের বিকাশ ও বসতি স্থাপনের ইতিহাসকে একটি দৃশ্যের মধ্যে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।   ফলে ছবিতে আধুনিক স্মার্টফোন দেখা যাচ্ছে বলে যে দাবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তার পক্ষে কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং শিল্পকর্মের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রহস্যময় বস্তুটি একটি আয়নাই হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১১:২৭
বাংলাদেশে এসে গরুর মাংস ও ইলিশ মাছকে নিজের পছন্দের খাবার বলে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। ছবি: সংগৃহীত
‘আমার টাকা, আমার পেট, আমার সিদ্ধান্ত’, গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে বিশ্বজিতের জবাব

বাংলাদেশের খাবারের প্রশংসা করতে গিয়ে গরুর মাংসকে নিজের পছন্দের খাবার হিসেবে উল্লেখ করে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন টালিউডের অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। বাংলাদেশে শুটিং করতে এসে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি গরুর মাংস ও ইলিশ মাছ পছন্দের কথা জানান। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একদিকে সমালোচনা, অন্যদিকে তার খাদ্যপছন্দের অধিকারের পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকে।    বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী জানান, বাংলাদেশে এসে তিনি দুপুরে মাংস-ভাত খেয়েছেন এবং রাতে গরুর মাংস খাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় বিতর্ক। কেউ কেউ তার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন, আবার অনেকে বলেছেন, একজন মানুষ কী খাবেন, সেটি একান্তই তার ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়।    বিতর্কের মূল জায়গাটি অবশ্য শুধু খাদ্যপছন্দে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সমাজে গরুর মাংস নিয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতা রয়েছে। ফলে একজন পরিচিত পাবলিক পার্সোনালিটি নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললে তার বক্তব্যের সামাজিক প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় আসে।   একটি পক্ষের বক্তব্য, খাদ্য বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা মানুষের মৌলিক ব্যক্তিগত অধিকারের অংশ। কে গরুর মাংস খাবেন, কে খাবেন না কিংবা কে কোন খাবার পছন্দ করবেন, সেটি নিয়ে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা বা চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয়।   অন্যদিকে, সমালোচকদের যুক্তি হলো, ব্যক্তিগত পছন্দের অধিকার থাকলেও পাবলিক পার্সোনালিটির প্রকাশ্য বক্তব্যে সামাজিক সংবেদনশীলতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো খাবার বা অভ্যাস যখন ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তখন সে বিষয়ে মন্তব্য করার সময় সম্ভাব্য সামাজিক প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।   এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। কেউ বিশ্বজিতের বক্তব্যকে ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতি অসংবেদনশীলতা হিসেবে দেখেছেন। আবার অন্যরা মনে করছেন, শুধু কোনো খাবার পছন্দ করার কারণে একজন মানুষকে আক্রমণ করা বা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়।    এর আগেও বাংলাদেশি খাবার ও গরুর মাংস নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিনোদন অঙ্গনে বিতর্ক হয়েছে। ২০২৪ সালে সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের বাংলাদেশি রান্নার একটি ভিডিও ঘিরেও একই ধরনের সমালোচনা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    সব মিলিয়ে বিশ্বজিতের মন্তব্য নতুন করে সামনে এনেছে একটি পুরোনো প্রশ্ন: ব্যক্তিগত খাদ্যস্বাধীনতা যেমন সম্মান পাওয়ার দাবি রাখে, তেমনি ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়ে প্রকাশ্য বক্তব্যের ক্ষেত্রেও কি একজন পরিচিত ব্যক্তির বাড়তি দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন? সামাজিক মাধ্যমের বিতর্কে আপাতত দুই মতই জোরালোভাবে সামনে এসেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১০:৫৯
কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পা হারানো বাংলাদেশি প্রবাসী মাসুদ বিশ্বাস ও গুরুতর আহত তাঁর ছেলে মারিফ বর্তমানে বাফেলো এলাকায় চিকিৎসাধীন। ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়েছেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশি প্রবাসী মাসুদ, ছেলের পা বাঁচাতে লড়াই চলছে

কানাডার মিসিসাগায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দুই পা হারিয়েছেন নিউইয়র্কের অ্যামহার্স্টের বাংলাদেশি প্রবাসী মাসুদ বিশ্বাস। একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তাঁর ১২ বছর বয়সী ছেলে মারিফের দুই পা বাঁচাতে চিকিৎসকেরা একের পর এক অস্ত্রোপচার করছেন। বর্তমানে বাবা ও ছেলে দুজনই বাফেলো এলাকায় চিকিৎসাধীন।   গত ১১ আগস্ট বিকেলে টরন্টো বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িতে ফিরছিলেন মাসুদ ও তাঁর ছেলে। হাইওয়ে ৪০৩-এর মিসিসাগা এলাকায় তাঁদের গাড়ির সঙ্গে আরেকটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর মাসুদ ও অপর গাড়ির চালক নিজেদের গাড়ি হাইওয়ের ডান পাশের শোল্ডারে থামিয়ে ক্ষয়ক্ষতি দেখছিলেন এবং ইন্স্যুরেন্সের তথ্য বিনিময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।   এর মধ্যেই একটি তৃতীয় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শোল্ডারে থাকা গাড়িটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পর ওই গাড়িটি ছিটকে এসে মাসুদ ও মারিফকে আঘাত করে। এতে বাবা-ছেলে দুজনই গাড়ির নিচে আটকে গুরুতর আহত হন। পরে উদ্ধার করে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।   মাসুদের দুই পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে বাদ দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাফেলোর ইসিএমসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার পর তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক ছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।   অন্যদিকে, অ্যামহার্স্ট মিডল স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মারিফের দুই পা বাঁচাতে চিকিৎসকেরা একাধিক অস্ত্রোপচার করেছেন। তাকে বাফেলোর গোলিসানো চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁর পা রক্ষা করে স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।   দুর্ঘটনার পর মাসুদের পরিবার আর্থিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে মাসুদ এখন কাজ করতে পারছেন না। একই সঙ্গে তাঁর নিজের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, ছেলের একাধিক অস্ত্রোপচার এবং ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।   এই পরিস্থিতিতে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁদের পাশের বাড়ির প্রতিবেশী ম্যাট হিগিন্স ও তাঁর পরিবার। তাঁরা মাসুদ ও মারিফের চিকিৎসা এবং পরিবারের জীবনযাত্রার খরচে সহায়তার জন্য একটি GoFundMe ক্যাম্পেইন চালু করেছেন।   ক্যাম্পেইনে চিকিৎসা ব্যয়, পরিবারের দৈনন্দিন খরচ এবং ভবিষ্যতে বাড়িতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। GoFundMe-এর তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পথ দীর্ঘ হতে পারে এবং মারিফের আরও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।   দুর্ঘটনার পর নিউইয়র্কের অ্যামহার্স্ট কমিউনিটিতেও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। প্রতিবেশী ও পরিচিতরা এই কঠিন সময়ে মাসুদ ও তাঁর ছেলের চিকিৎসা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ সামলাতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।    গো ফান্ড লিংক: https://gofund.me/57fbf9c15

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১০:৫২
ইরফানের মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অস্পষ্টতা তৈরি হওয়ার পর স্ত্রী এথেনার আচরণকে ঘিরে তীব্র সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইরফানের মৃত্যু নিয়ে রহস্য, স্ত্রী এথেনার আচরণ ঘিরে বাড়ছে প্রশ্ন, ময়নাতদন্ত ছাড়াই হচ্ছে দাফন

ইরফানের মৃত্যুর কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও অস্পষ্টতা। তার স্ত্রী এথেনার আচরণ ও বিভিন্ন কার্যকলাপকে ঘিরে সন্দেহ তৈরি হওয়ার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।   ইরফানের পরিবার ও বন্ধুদের উদ্যোগে তার মরদেহ দ্রুত দাফনের পরিবর্তে অটোপসি করার চেষ্টা করা হয়। তাদের প্রচেষ্টায় তড়িঘড়ি করে দাফনের উদ্যোগ রুখে দেওয়া সম্ভব হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সুরাহা হয়নি।   এর মধ্যেই কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত বা ব্যাখ্যা ছাড়াই আজ ইরফানের জানাজা সম্পন্ন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে তার পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতজনদের মধ্যে মৃত্যুর কারণ নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।   ইরফানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে অটোপসির ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট তদন্তের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসা তথ্যের ভিত্তিতে তার মৃত্যুকে ঘিরে কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১০:১৯
চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ ও ইউনিভার্সিটির ভার্জিনিয়া ক্যাম্পাস | ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি মালিকানাধীন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটিতে ১০০ শিক্ষার্থীর জন্য ৬৫ লাখ ডলারের টিউশন সহায়তা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বাংলাদেশি উদ্যোক্তা আবুবকর হানিপের মালিকানাধীন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বা ডব্লিউইউএসটি শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ৬৫ লাখ ডলারের টিউশন সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির আওতায় ১০০ জন যোগ্য শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত টিউশন সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত প্রচারণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য এই সুযোগ নির্ধারিত ব্যাচেলর ডিগ্রি প্রোগ্রামে প্রযোজ্য এবং পূর্ণ টিউশন সহায়তার জন্য হাইস্কুলে ন্যূনতম ৩ দশমিক ৫ জিপিএ বা সমমানের ফল প্রয়োজন।   আলেকজান্দ্রিয়া, ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত ডব্লিউইউএসটির এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য উচ্চশিক্ষার খরচের কারণে যেন যোগ্য শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে না পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচারণায় ক্যারিয়ারকেন্দ্রিক ডিগ্রি, হাতে কলমে শেখার সুযোগ এবং কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   ডব্লিউইউএসটির নিয়মিত টিউশন সহায়তা ব্যবস্থাতেও মেধাভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মেধার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট হারে টিউশন সহায়তা দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ট্রান্সফার করে আসা শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে এসব সহায়তার জন্য বিবেচিত হতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমতে, আর্থিক সহায়তা সাধারণত টিউশন ক্রেডিট হিসেবে দেওয়া হয় এবং সব ধরনের সহায়তা মিলিয়ে কোনো টার্মে টিউশনের ১০০ শতাংশের বেশি দেওয়া হয় না।   ডব্লিউইউএসটির বর্তমান নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা আবুবকর হানিপ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ একাডেমিক ক্যাটালগে আবুবকর হানিপকে নতুন মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, তার মালিকানায় আসার পর প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি করা হয়।   আবুবকর হানিপের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে তিনি পিপলএনটেক ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও চাকরিমুখী দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হন। পিপলএনটেকের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা ও চাকরির প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে এবং তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৫ হাজার ৮০০ এর বেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন চাকরিতে প্লেসমেন্ট পেয়েছেন।   পিপলএনটেকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতা তৈরি, চাকরির প্রস্তুতি এবং কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ওপর প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্ব দিয়ে আসছে।   এই দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ডব্লিউইউএসটির শিক্ষাদর্শনেও ডিগ্রির পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলরের বার্তায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করাই তাদের লক্ষ্য, যাতে গ্র্যাজুয়েশনের পর তারা নিজেদের ক্ষেত্রে চাকরির জন্য প্রস্তুত থাকতে পারেন।   ডব্লিউইউএসটির সাম্প্রতিক কার্যক্রমেও তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়টি ২৯০ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দিয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮৩ জন তথ্যপ্রযুক্তি এবং ১০৭ জন ব্যবসা প্রশাসন বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।   এদিকে, ডব্লিউইউএসটির আর্থিক সহায়তার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির এক বাসিন্দা। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি আমেরিকা বাংলাকে বলেন, তার ছোট ভাই ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির একটি মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়ছেন এবং তিনি একজন ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট।   ওই বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুদিন আগে তিনি তার ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার জন্য স্কলারশিপের বিষয়ে সরাসরি আবুবকর হানিপের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার দাবি, বিষয়টি জানার পর আবুবকর হানিপ তাৎক্ষণিকভাবে তার ছোট ভাইয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্কলারশিপের ব্যবস্থা করেন। তিনি জানান, পুরো মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারের ওপর পড়াশোনার খরচের চাপ অনেকটাই কমেছে।   ওই বাংলাদেশি বলেন, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট হিসেবে তার ছোট ভাইয়ের জন্য এই স্কলারশিপ বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা। এর ফলে ভবিষ্যৎ পড়াশোনার খরচ নিয়ে পরিবারের উদ্বেগও অনেকটা কমেছে। তিনি আবুবকর হানিপ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত টিউশন সহায়তা নীতিতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং ট্রান্সফার শিক্ষার্থীদের জন্য মেধাভিত্তিক সহায়তার সুযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ট্রান্সফার করে আসা শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী একাডেমিক ফলাফল বিবেচনায় নিয়ে নির্দিষ্ট স্কলারশিপ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সহায়তার পরিমাণ শিক্ষার্থীর যোগ্যতা, প্রোগ্রাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নীতিমালার ভিত্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ঘোষিত নতুন কর্মসূচির আওতায় ১০০ জন যোগ্য শিক্ষার্থীর জন্য ৬৫ লাখ ডলারের টিউশন সহায়তা উচ্চশিক্ষার ব্যয় কমানোর একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ব্যাচেলর পর্যায়ে পড়তে আগ্রহী যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে আবেদনকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও টিউশন সহায়তার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১০:৩
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির ফলে বৈশ্বিক চাকরির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিল গেটস। ছবি: সংগৃহীত
এআইয়ে কোন চাকরি টিকবে? বিল গেটসের ভবিষ্যদ্বাণীতে রয়েছে ৩ পেশা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতিতে আগামী বছরগুলোতে চাকরির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। ২০২৫ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সফটওয়্যার প্রোগ্রামিং, জৈববিজ্ঞান এবং জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের কাজ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ থাকতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রও এআইয়ের প্রভাবের বাইরে থাকবে, এমন নিশ্চয়তা তিনি দেননি।    গেটসের বক্তব্য অনুযায়ী, এআই অনেক পেশার মানুষের কাজ দ্রুত ও দক্ষভাবে করতে পারবে। চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো ক্ষেত্রেও এআইয়ের সক্ষমতা বাড়বে। তবে জটিল সমস্যা সমাধান, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি তৈরি এবং বাস্তব জগতের জটিল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা কিছু সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে তিনি মনে করেন।   তিনটি ক্ষেত্রের মধ্যে সফটওয়্যার প্রোগ্রামিংকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এআই ইতোমধ্যে কোড লেখা, কোড বিশ্লেষণ ও ত্রুটি শনাক্ত করার মতো কাজে সক্ষম হলেও জটিল সফটওয়্যার তৈরি ও পরিচালনায় মানুষের তদারকি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে গেটসের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টও এআইয়ের কারণে চাকরির চাহিদা পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।    জৈববিজ্ঞান বা বায়োসায়েন্সও গেটসের তালিকায় রয়েছে। এআই বিপুল পরিমাণ বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ, রোগ শনাক্তকরণ ও ডিএনএ গবেষণায় সহায়তা করতে পারলেও নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে মানুষের সৃজনশীলতা ও গবেষণার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।    তৃতীয় ক্ষেত্র জ্বালানি। জ্বালানি উৎপাদন, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মতো জটিল বিষয় থাকায় এ খাত পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করা কঠিন বলে গেটসের মত।    তবে ২০২৬ সালে গেটসের অবস্থান আরও বিস্তৃত হয়েছে। তার সাম্প্রতিক লেখায় তিনি বলেছেন, এআই আইন, কাস্টমার সার্ভিস, চিকিৎসা, সফটওয়্যার ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে কাজের ধরন দ্রুত বদলে দেবে এবং অনেক চাকরি স্থায়ীভাবেও হারিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি কিছু কাজ মানুষের জন্য সংরক্ষণ করার পক্ষেও মত দিয়েছেন।    গেটসের মতে, ভবিষ্যতে শুধু কোন চাকরি থাকবে বা থাকবে না, সেই প্রশ্নের চেয়ে এআইয়ের কারণে শ্রমবাজারে যে পরিবর্তন আসবে, সেটি কীভাবে সামলানো হবে সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, নীতিগত প্রস্তুতি এবং মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো সংরক্ষণে এখন থেকেই পরিকল্পনা করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৯:৪৯
ইংল্যান্ডের সারেতে দীর্ঘ ৬ বছর ভ্যাপিংয়ে আসক্তির পর গুরুতর শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের সমস্যায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফ্রেডি জানম্যান। ছবি: সংগৃহীত
হাসপাতালে শুয়েও লুকিয়ে ভ্যাপ, ৬ বছরের আসক্তির পর স্ট্র দিয়ে শ্বাসের মতো অবস্থা

ইংল্যান্ডের সারেতে ভ্যাপিংয়ে ছয় বছরের আসক্তির পর গুরুতর শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় ফ্রেডি জানম্যান নামে এক তরুণকে। এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও আসক্তি এতটাই তীব্র ছিল যে, চিকিৎসক ও স্বজনদের আড়ালে হাসপাতালের বেড থেকেই ভ্যাপ টানতেন তিনি।    ফ্রেডি মাত্র ১২ বছর বয়সে ভ্যাপিং শুরু করেন। তখন তার মনে হয়েছিল, সিগারেটের ধোঁয়ার তুলনায় ভ্যাপ অনেক কম ক্ষতিকর। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটিই পরিণত হয় তীব্র নিকোটিন আসক্তিতে। দিনে প্রায় ১ হাজার ২০০ বার পর্যন্ত ভ্যাপের টান নিতেন তিনি এবং ছয় বছরে ভ্যাপ ও রিফিলে প্রায় ৪ হাজার পাউন্ড খরচ করেছেন বলে জানান।    শৈশব থেকেই ফ্রেডির অ্যাজমা ছিল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বারবার বুকে সংক্রমণ দেখা দিতে থাকে এবং চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিকও নিতে হয়েছে। শুরুতে বাবা-মা ও চিকিৎসকদের কাছ থেকে ভ্যাপিংয়ের বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে শারীরিক সমস্যা বাড়তে থাকায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।    চলতি বছরের ৩০ মার্চ সকালে হঠাৎ বুকে তীব্র চাপ অনুভব করেন ফ্রেডি। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে তার মনে হচ্ছিল, যেন সরু একটি স্ট্র দিয়ে শ্বাস নিচ্ছেন। পরে তার বান্ধবী জো হেনরিক তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। হাসপাতালে পরীক্ষা করার পর চিকিৎসকেরা জানান, তার অক্সিজেনের মাত্রা খুব কম ছিল এবং তাকে ভর্তি করা প্রয়োজন।    পরে জানা যায়, ফ্রেডির ফুসফুসের একটি অংশ ধসে পড়েছিল, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় নিউমোথোরাক্স বলা হয়। চার দিন হাসপাতালে অক্সিজেন নিয়ে চিকিৎসা নিতে হয় তাকে। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও তিনি গোপনে ভ্যাপিং চালিয়ে যান, যা তার দীর্ঘদিনের নিকোটিন আসক্তির গভীরতা প্রকাশ করে।    শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ফেরার পর ফ্রেডি বুঝতে পারেন, এভাবে চলা তার জন্য বিপজ্জনক। এরপর তিনি ভ্যাপিং পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অন্য তরুণদের ভ্যাপিংয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করছেন তিনি।    শিশু ও কিশোরদের ভ্যাপিং নিয়ে চিকিৎসকদের উদ্বেগও বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় শিশু ও কিশোরদের ভ্যাপিংয়ের সঙ্গে কাশি, শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কাইটিসের মতো উপসর্গ এবং অ্যাজমা বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৯:৩৪
নিউ ইয়র্ক সিটিতে গত ১৫ বছরে সন্তানদের প্রচলিত স্কুলের পরিবর্তে ঘরে বসেই হোমস্কুলিং করানোর প্রবণতা ২০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে হোমস্কুলিং বেড়েছে ২০০%, স্কুলব্যবস্থা নিয়ে হতাশ হয়ে মুখ ফিরাচ্ছে পরিবারগুলো

নিউ ইয়র্ক সিটিতে সন্তানদের হোমস্কুলিং করানোর প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। গত ১৫ বছরে নগরীতে হোমস্কুলিং করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে হোমস্কুলিংয়ের বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। ক্রমবর্ধমান এই প্রবণতায় অনেক বাবা-মা সন্তানদের প্রচলিত স্কুলে পাঠানোর পরিবর্তে ঘরে বসেই পড়াশোনার ব্যবস্থা করছেন।   অভিভাবকদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বিভিন্ন কারণ কাজ করছে। সন্তান কী শিখবে, কীভাবে শিখবে এবং পড়াশোনার পরিবেশ কেমন হবে, সে বিষয়ে বাড়তি নিয়ন্ত্রণ রাখার সুযোগকে অনেকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি প্রচলিত স্কুলব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষও কিছু পরিবারের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।   নিউ ইয়র্কে হোমস্কুলিংয়ের এই বৃদ্ধি শুধু একটি শিক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তন নয়, বরং সন্তানদের শিক্ষা ও বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিয়ে অভিভাবকদের অগ্রাধিকার বদলেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।   তবে হোমস্কুলিংয়ের সঙ্গে বাড়তি দায়িত্বও রয়েছে। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ, বয়সভিত্তিক শেখার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত মান নিশ্চিত করাও অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   নিউbইয়র্কে হোমস্কুলিংয়ের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আগামী দিনে নগরীর শিক্ষা ব্যবস্থায় এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিও নজরে রাখার বিষয় হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৯:১৩
মাইক্রোফোন হাতে অভিবাসী অধিকার নিয়ে সরব অধ্যাপক মেলিনা আবদুল্লাহ
আইসিই এজেন্টের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ, ‘আক্রমণের’ আহ্বানে বিতর্কে ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক

ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেসের অধ্যাপক মেলিনা আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে এক আইসিই এজেন্টের পরিচয় ও সম্ভাব্য অবস্থান প্রকাশ করে তাকে লক্ষ্য করার আহ্বান জানানোর অভিযোগ উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অক্সনার্ডে রোববার এক সমাবেশে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, আবদুল্লাহ এক আইসিই এজেন্টের নাম উল্লেখ করে বলেন, ওই কর্মকর্তা অক্সনার্ডের একটি হোটেলে থাকতে পারেন। এরপর তাঁকে উদ্দেশ করে একাধিকবার অশালীন ভাষায় ‘ফাক হিম আপ’ মন্তব্য করেন। নিরাপত্তার কারণে এজেন্টটির সম্ভাব্য অবস্থানের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আবদুল্লাহ বলেন, তিনি ওই শব্দগুলো ‘অনেকভাবে’ বোঝাতে ব্যবহার করেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, আইসিই এজেন্টদের কর্মকাণ্ড গোপন রাখা উচিত নয়; বরং তাঁদের কার্যক্রম জনসমক্ষে তুলে ধরা দরকার। তবে নির্দিষ্ট একজন এজেন্টের পরিচয় ও সম্ভাব্য অবস্থান প্রকাশের পর এমন মন্তব্য করায় সমালোচকেরা এটিকে ওই কর্মকর্তার জন্য সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। ঘটনাটি ঘটে ‘লা ডিফেনসা দেল পুয়েবলো’ নামে একটি সম্মেলনে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিবাসী কমিউনিটির অধিকার এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নীতির বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়। আবদুল্লাহ ক্যাল স্টেট এলএ-তে প্যান-আফ্রিকান স্টাডিজের অধ্যাপক এবং ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার লস অ্যাঞ্জেলেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা। ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন। যে আইসিই এজেন্টকে নিয়ে আবদুল্লাহ বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি এর আগে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসে দায়িত্বের বাইরে থাকা অবস্থায় একটি প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনায় কিথ পোর্টার জুনিয়র নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, পোর্টার একটি রাইফেল থেকে গুলি ছুড়ছিলেন এবং সংঘর্ষের একপর্যায়ে ওই এজেন্ট আত্মরক্ষায় গুলি চালান। এ ঘটনায় এজেন্টটির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আবদুল্লাহর সাম্প্রতিক বক্তব্যের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে তাঁর মন্তব্য আইনগতভাবে সহিংসতায় উসকানির পর্যায়ে পড়ে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৮:৪৯
এক পরিবার, ছয় সন্তান—সবারই ঠিকানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; শিক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত ছায়েদ উল্লাহর পরিবার
এক পরিবারের ৬ সন্তানই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে! বাবার ত্যাগের অনন্য গল্প

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের স্কুলশিক্ষক ছায়েদ উল্লাহর পরিবারের শিক্ষাসাফল্য এখন অনন্য এক দৃষ্টান্ত। একে একে তাঁর ছয় সন্তানই পড়ার সুযোগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ছোট ছেলে আরফাত হোসেন ‘এ’ ইউনিটে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে পূর্ণ হয়েছে এই অর্জন। এই পরিবারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় বড় ছেলে শামসুল আলম দিপুর মাধ্যমে। ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন তিনি। পড়াশোনা শেষে ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এরপর লোক প্রশাসন বিভাগে পড়েছেন দ্বিতীয় ছেলে শাজাহান সিরাজ আল মামুন। তিনি বর্তমানে কর্মসংস্থান ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার। তৃতীয় ছেলে আশরাফুল ইসলাম শহীদ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মরত। চতুর্থ ছেলে শরীফুল ইসলাম বিজয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরিবারের একমাত্র মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী। আর সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ছোট ছেলে আরফাত। প্রায় ৩০ বছর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন ছায়েদ উল্লাহ। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে একসময় পারিবারিক সম্পত্তিও বিক্রি করতে হয়েছে তাঁকে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী শামীমা বেগম। ছয় সন্তানের এই সাফল্য শুধু একটি পরিবারের অর্জন নয়—এটি প্রমাণ করে, বড় স্বপ্ন পূরণে অর্থের চেয়ে বেশি প্রয়োজন শিক্ষার প্রতি বিশ্বাস, পরিশ্রম ও বাবা-মায়ের ত্যাগ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৮:২৯