ভিসা জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত
ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের নতুন পার্ম আবেদন স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধাপ হওয়ায় এই সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের প্রক্রিয়ায় যেতে চাওয়া বিদেশি কর্মীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো ৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, কগনিজ্যান্টের পার্ম ফাইলিং স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার দপ্তর শ্রম বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হোয়াইট হাউস ফ্রড টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে কাজ করছে। তদন্তে ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার এবং মার্কিন কর্মীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই সময়ে সফটওয়্যার কোম্পানি ক্লাউডেরার পার্ম আবেদনও স্থগিতের কথা জানানো হয়েছে। তবে কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে, কতটি আবেদন এর আওতায় পড়েছে এবং স্থগিতাদেশ কতদিন থাকবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত জানায়নি। এই ঘটনায় কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও ঘোষণা করা হয়নি।
পার্ম হলো যুক্তরাষ্ট্রে অনেক কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। সাধারণত কোনো নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে স্পনসর করার আগে শ্রম বিভাগকে দেখাতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য যোগ্য ও আগ্রহী কোনো মার্কিন কর্মী সহজলভ্য নেই এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে থাকা মার্কিন কর্মীদের মজুরি বা কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
পার্ম অনুমোদনের পর নিয়োগকর্তা সাধারণত গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যেতে পারেন। ফলে নতুন পার্ম আবেদন জমা দিতে না পারার কারণে কগনিজ্যান্টের যেসব কর্মীর ক্ষেত্রে এখনো এই ধাপ শুরু হয়নি, তাদের গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে।
তবে এই স্থগিতাদেশের অর্থ কগনিজ্যান্টের কর্মীদের আগে থেকে অনুমোদিত গ্রিন কার্ড বাতিল হয়ে গেছে, এমন নয়। একইভাবে, আগে অনুমোদিত পার্ম সার্টিফিকেশন বা বিদ্যমান ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাতিলের কথাও কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় বলা হয়নি।
কগনিজ্যান্ট যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় এইচ-ওয়ান-বি স্পনসরকারী আইটি সেবা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৪ সালে ভারতের চেন্নাইয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে এর সদর দপ্তর নিউ জার্সির টিনেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের কার্যক্রম রয়েছে।
কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে তদন্তটি কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বৃহত্তর নজরদারির অংশ। এর আগে শ্রম বিভাগ এইচ-ওয়ান-বি ও পার্ম কর্মসূচির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক আইটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ইন্সপেক্টর জেনারেল ডি’এসপোসিটো পরবর্তী এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে কগনিজ্যান্ট ও ক্লাউডেরার এইচ-ওয়ান-বি প্রসেসিং স্থগিতের কথাও উল্লেখ করেন। তবে এইচ-ওয়ান-বি সংক্রান্ত এই পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট আইনি পরিধি, কোন ধরনের প্রসেসিং এর আওতায় পড়ছে এবং বিদ্যমান এইচ-ওয়ান-বি কর্মীদের ওপর এর প্রভাব কী হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ্যে আসেনি।
কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিতের খবরটি এমন সময়ে এসেছে, যখন প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের কর্মীসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এক দিন আগে কগনিজ্যান্ট জানায়, তারা ১ হাজার ৫০০ মার্কিন কলেজ গ্র্যাজুয়েট নিয়োগ করবে এবং ফ্রন্টিয়ার সার্টিফায়েড ইঞ্জিনিয়ার ও ফ্রন্টিয়ার বিজনেস অপারেটর কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে ১৫ হাজার কর্মী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফেডারেল তদন্ত চলমান থাকায় কগনিজ্যান্টের কর্মীদের ক্ষেত্রে পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে তদন্তের ফল এবং শ্রম বিভাগের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। তবে বর্তমান ঘোষণার ভিত্তিতে নতুন পার্ম আবেদন স্থগিত হওয়ায় যেসব কর্মীর গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপ এখনো এই ধাপে পৌঁছায়নি, তাদের জন্য অপেক্ষার সময় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ধনীদের শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে থাকতে একটি পরিবারের নিট সম্পদ অন্তত ১৮ লাখ ডলার হতে হবে। ভিসার (Visa) এক বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাড়ি ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মূল্য বাড়ায় দেশটিতে ধনী হিসেবে বিবেচিত হওয়ার আর্থিক সীমাও বেড়েছে। এই হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ পরিবার সম্পদের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। তবে এই অঙ্ক কোনো স্থায়ী বা সরকারি সংজ্ঞা নয়, বরং ভিসার নির্ধারিত আর্থিক মানদণ্ড। ভিসার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার মানুষ নতুন করে কোটিপতির তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। বাড়ি ও শেয়ারের মতো সম্পদের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের মোট সম্পদের পরিমাণ বাড়িয়েছে। ফলে আগে যে পরিমাণ সম্পদকে আর্থিক সচ্ছলতার বড় মাপকাঠি হিসেবে দেখা হতো, এখন তার চেয়ে বেশি সম্পদ প্রয়োজন হচ্ছে। ভিসার হিসাবে, জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হতে নিট সম্পদ কমপক্ষে ১৮ লাখ ডলার হতে হবে। তবে অঞ্চলভেদে এই সীমা ভিন্ন। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হতে নিট সম্পদ প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ ডলার। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই সীমা ১৯ লাখ ডলার, দক্ষিণাঞ্চলে ১৮ লাখ ডলার এবং মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে ১৭ লাখ ডলার। জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসনের মূল্য এবং সম্পদের বাজারদরের পার্থক্যের কারণে অঞ্চলভেদে এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, একই পরিমাণ সম্পদ নিয়ে একটি পরিবার কোনো অঞ্চলে শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে থাকলেও অন্য অঞ্চলে একই অবস্থানে নাও থাকতে পারে। নিট সম্পদ বলতে কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের মোট সম্পদ থেকে সব ধরনের দায়দেনা বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থমূল্যকে বোঝায়। এর মধ্যে বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংকে থাকা অর্থ, বিনিয়োগ, অবসরকালীন সঞ্চয় এবং স্বর্ণ বা মূল্যবান সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীর মতো সম্পদ থাকতে পারে। অন্যদিকে, বাড়ি বা গাড়ির ঋণ, শিক্ষাঋণ, ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া এবং অন্যান্য ঋণ দায়দেনার মধ্যে পড়ে। তাই শুধু আয় বা ব্যাংকে জমা অর্থ দিয়ে কারও মোট সম্পদের অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না। সম্পদের বর্তমান মূল্য ও মোট ঋণের হিসাব একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের ব্যয়ের ধরনও অন্য পরিবারের তুলনায় আলাদা। পোশাক, বিমানে ভ্রমণ এবং হোটেলে থাকার মতো খাতে তাদের ব্যয় তুলনামূলক বেশি। তবে বেশি সম্পদ থাকলেই সব পরিবার একইভাবে অর্থ ব্যয় করে, এমন নয়। পরিবারের আয়, বয়স, বসবাসের স্থান এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনও ব্যয়ের ধরনকে প্রভাবিত করে। ভিসার বিশ্লেষণে আর্থিক সচ্ছলতা বোঝার ক্ষেত্রে শুধু সম্পদের পরিমাণ নয়, ভৌগোলিক অবস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয়কেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিকে, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের ২০২৬ সালের বৈশ্বিক সম্পদ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিবারের গড় নিট সম্পদ প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার। তবে গড় সম্পদ ও শীর্ষ ১০ শতাংশে প্রবেশের সীমা এক বিষয় নয়। অল্পসংখ্যক অত্যন্ত ধনী পরিবারের বিপুল সম্পদও জাতীয় গড়কে বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে গড় পরিবারের আর্থিক অবস্থার সঙ্গে শীর্ষ ধনীদের সম্পদের ব্যবধান উল্লেখযোগ্য হতে পারে। নিট সম্পদ বাড়াতে আর্থিক পরিকল্পনা, জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য সঞ্চয়, উচ্চ সুদের ঋণ পরিশোধ এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা। ফিডেলিটির মতে, নিয়মিত সঞ্চয়, ঋণ কমানো এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী বিনিয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন আয়স্তরের মানুষই ইতিবাচক নিট সম্পদ গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারেন। তবে ১৮ লাখ ডলারের সীমাটি ভিসার বিশ্লেষণভিত্তিক মানদণ্ড; সম্পদের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ শতাংশে অবস্থানের হিসাব জরিপ ও তথ্যের সময়কাল অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, ভিসা, ইউবিএস।
নিউ ইয়র্কের কুইন্স পার্কে গর্ত থেকে নারীর পচনশীল মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় অজানা
প্রশাসনের সাড়া না পেয়ে শিশুদের নিরাপত্তায় নিজেই রাস্তায় স্পিডব্রেকার বসালেন নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বললেন ‘নরওয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না’
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের চিকো শহরে অভিবাসী পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি জানাতে স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে প্লেজ্যান্ট ভ্যালি হাইস্কুলের কয়েক ডজন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তারা স্কুলের বাইরে জড়ো হয়ে অভিবাসন ও সীমান্ত প্রয়োগকারী সংস্থা আইসের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। চিকোসোল নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আয়োজন করে। নিজের পরিবারের অভিবাসী পরিচয়ের কথা তুলে ধরে সে জানায়, পরিবারের সদস্যদের আটক করা হতে পারে—এই আশঙ্কা তার মধ্যে কাজ করে। তার ভয়, কোনো দিন হয়তো বাড়ি ফিরে সে বাবা-মাকে পাশে পাবে না। প্রতিবাদে অংশ নেওয়া অন্য শিক্ষার্থীরাও পরিবারের ত্যাগ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানায়। ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলে, তার পরিবার তাকে ভালো ভবিষ্যৎ দেওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছে। অন্য শিক্ষার্থীরা অভিবাসী পরিবারগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানায়। তবে প্রতিবাদস্থলে ভিন্নমতের মানুষও উপস্থিত ছিলেন। একজন পাল্টা প্রতিবাদকারী অভিবাসন আইন প্রয়োগের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। ফলে একই এলাকায় অভিবাসননীতি নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটে।স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা ক্লাস থেকে বেরিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নিলেও স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সম্ভাবনা ছিল। প্রতিবেদনটি স্কুল ক্যাম্পাসে আইসের অভিযান চালানোর কোনো তথ্য দেয়নি। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসননীতি নিয়ে চলমান সামাজিক বিতর্কের একটি স্থানীয় উদাহরণ।অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের জন্য পরিবারের নিরাপত্তা, স্কুলে উপস্থিতি এবং মানসিক স্বস্তি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, আইনি প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের উদ্বেগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে।
ফ্লোরিডায় ক্যানসারের চিকিৎসার মধ্যেও স্কুলছাত্রীর জন্য বেঞ্চ বানালেন দম্পতি, ভিডিও ভাইরাল
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই ডেটা সেন্টার নিয়ে জনঅসন্তোষ, বিদ্যুৎ বিল ও পরিবেশ নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক
স্বস্তি পেলেন লাখো অভিবাসী, আপাতত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হচ্ছে না ইউক্রেনীয়দের
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার আশায় আবেদন করে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করছেন বহু অভিবাসী। সাক্ষাৎকারের তারিখ, আবেদন যাচাই এবং নাগরিকত্বের শপথ অনুষ্ঠানে বিলম্বের কারণে তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭২ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে নাগরিকত্বের অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ থেকে বেড়ে আট লাখের বেশি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে গড় অপেক্ষার সময় প্রায় ১৩ মাসে পৌঁছেছে। কিছু আবেদনকারী সাক্ষাৎকারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করছেন, আবার কারও নির্ধারিত শপথ অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে বা কমানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে প্রতিটি আবেদন একই সময়ে নিষ্পত্তি হয় না; আবেদনকারীর পরিস্থিতি, যাচাইয়ের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজের চাপের ওপর সময় নির্ভর করতে পারে। নাগরিকত্বের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব শুধু কাগজপত্রের সমস্যা নয়। অনেক অভিবাসীর জন্য এটি পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বিদেশে থাকা আত্মীয়দের কাছে যাওয়া, চাকরির সুযোগ এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সঙ্গে জড়িত। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব না পাওয়া স্থায়ী বাসিন্দারা ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য সাধারণত মার্কিন নাগরিক হতে হয়; স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীরা শুধু গ্রিন কার্ড থাকার কারণে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। ট্রাম্প প্রশাসন নাগরিকত্বের আবেদন যাচাই আরও কঠোর করার কথা বলেছে। প্রতিবেদনে ইংরেজি ও নাগরিকত্ব পরীক্ষার শর্ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাই এবং আবেদনকারীর চরিত্র ও অতীত নথি আরও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে অভিবাসন অধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের উদ্বেগ, দীর্ঘ বিলম্বের কারণে যোগ্য আবেদনকারীরাও অযথা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন। প্রশাসন বলছে, নাগরিকত্বের প্রক্রিয়ায় যথাযথ যাচাই নিশ্চিত করা জরুরি। কিছু আবেদনকারী দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে ফেডারেল আদালতে মামলা করার পথ বেছে নিচ্ছেন। এ ধরনের মামলায় আদালতের কাছে আবেদন নিষ্পত্তিতে অযৌক্তিক বিলম্বের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। তবে মামলা করলেই নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয় না, আর আইনি সহায়তার খরচও অনেক পরিবারের জন্য বড় বাধা হতে পারে। তাই কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে নিজের আবেদনের অবস্থা এবং প্রযোজ্য আইনি বিকল্প সম্পর্কে যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি গ্রিন কার্ডধারীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকত্বের যোগ্যতা পূরণ করে থাকলে আবেদনের শর্ত, প্রয়োজনীয় নথি এবং বর্তমান প্রক্রিয়ার সময় সম্পর্কে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের সরকারি তথ্য যাচাই করা ভালো। আবেদন জমা দেওয়ার পর রসিদ ও অন্যান্য নথি সংরক্ষণ করতে হবে, ঠিকানা পরিবর্তন হলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং আবেদনসংক্রান্ত বার্তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটেও কয়েক দিন চলবে আবাসন, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ব্যাটারি প্রযুক্তিতে বড় উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রে চালকবিহীন পাতালরেলের পরিকল্পনা, বদলে যেতে পারে যাতায়াতের ভবিষ্যৎ