সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নতুন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পার্লামেন্টে জানান, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি বসতি সম্প্রসারণে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে।   ব্রিটিশ সরকারের নতুন পদক্ষেপের আওতায় পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণে নির্মাণ, অবকাঠামো, অর্থায়ন ও রিয়েল এস্টেট কার্যক্রমে জড়িত নির্দিষ্ট কোম্পানি ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুক্তরাজ্যে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির বিজ্ঞাপনও নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা জানিয়েছে সরকার।   ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ইসরায়েল নয়, বরং অধিকৃত ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি ও এর সম্প্রসারণ। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে স্বীকৃত সীমার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।   লন্ডনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধিকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের মতে, এসব কর্মকাণ্ড ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি কার্যকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পথে বড় বাধা তৈরি করছে।   বিশেষ করে পশ্চিম তীরের E1 এলাকায় নতুন বসতি প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাজ্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্রিটিশ সরকারের মতে, ওই এলাকায় বসতি সম্প্রসারণ পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের মধ্যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সংযোগ দুর্বল করে দিতে পারে।   নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন আগামী ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি মঙ্গলবার থেকেই বসতি স্থাপনকারী ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা সমর্থন বা উসকানির সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।   যুক্তরাজ্য একা এই পদক্ষেপ নেয়নি। একই দিনে ফ্রান্স ও কানাডাও অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। আরও কয়েকটি দেশ বসতি-সম্পর্কিত বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।   যুক্তরাজ্যের এই ঘোষণার পর ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর জানিয়েছেন, পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। ওই কনস্যুলেট ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত কনস্যুলার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্য, বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করা এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা রক্ষা করাই নতুন পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। তবে যুক্তরাজ্য একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তার অধিকার এবং হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৯:২৩
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় কস্টকোর ১৪ নতুন শোরুম, জেনে নিন কোথায় কোথায় খুলছে
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় কস্টকোর ১৪ নতুন শোরুম, জেনে নিন কোথায় কোথায় খুলছে

খুচরা বিক্রয় বাজারের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘কস্টকো হোলসেল’ তাদের বৈশ্বিক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ১৪টি নতুন ওয়্যারহাউস বা শোরুম চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসেই বাজারে আসছে এক ডজনের বেশি নতুন শাখা।   নতুন এসব ওয়্যারহাউসে গ্রাহকরা তাঁদের জনপ্রিয় কির্কল্যান্ড (Kirkland) ব্র্যান্ডের পণ্য, সাশ্রয়ী মূল্যের ফুড কোর্ট আইটেম এবং সুলভ মূল্যে জ্বালানি তেল নেওয়ার সুবিধা পাবেন। চলতি বছরের শুরু থেকেই অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, মিনেসোটা, নিউইয়র্ক, টেক্সাস, ইউটাহ ও উইসকনসিনের পাশাপাশি মেক্সিকো এবং তাইওয়ানে সফলভাবে স্টোর চালুর পর এবার এই বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারণের কাজ চলছে।   প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রন ভ্যাচ্রিস এবং প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) গ্যারি মিলারচিপের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে ৩০টি বা তার বেশি নতুন ওয়্যারহাউস চালুর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কস্টকো। যার অর্ধেকটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক বাজারে বাস্তবায়িত হবে।   তবে রোড আইল্যান্ড, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া বা ওয়োমিংয়ের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে এখনই নতুন কোনো শাখা খোলার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরের মধ্যে মিসৌরির লিস সামিট, টেক্সাসের দ্য কলোনি, নিউইয়র্কের অ্যামহার্স্ট, কানসাসের লরেন্স এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যামেরিলোতে পাঁচটি নতুন স্টোর চালু হওয়ার কথা রয়েছে।   এছাড়া নভেম্বর মাসে কানাডার অ্যালবার্টা ও অন্টারিওর বিভিন্ন এলাকাসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো, ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা, ভার্জিনিয়া এবং উইসকনসিনে আরও নয়টি নতুন ওয়্যারহাউস বা বিজনেস সেন্টার খোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৮:৫৪
লং আইল্যান্ডে নিজের ছেলের ছুরিকাঘাতে ৬৯ বছরের বাবার মৃত্যু, মৃত্যুর আগে ৯১১-এ শেষ ফোন
লং আইল্যান্ডে নিজের ছেলের ছুরিকাঘাতে ৬৯ বছরের বাবার মৃত্যু, মৃত্যুর আগে ৯১১-এ শেষ ফোন

যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডে নিজ বাড়িতে ছেলের ছুরিকাঘাতে ৬৯ বছর বয়সি এডওয়ার্ড ব্রাউন নামের এক প্রবীণ বাবা নিহত হয়েছেন। লেবার ডে-এর প্রথম প্রহরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ৩৩ বছর বয়সি ছেলে সেজ এরিয়াস-ব্রাউনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   পুলিশ ও সাফক কাউন্টি প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে লং আইল্যান্ডের ম্যাস্টিক এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন সেজ এরিয়াস-ব্রাউন।   এরপর তিনি তার বাবা এডওয়ার্ড ব্রাউনের পেটে ও বুকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। ঘটনার সময় এক প্রত্যক্ষদর্শী হামলাকারীর অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ, বাবার চিৎকার এবং হামলাকারীকে দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখেন।   গুরুতর আহত অবস্থায়ও এডওয়ার্ড ব্রাউন নিজের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে ফোনের কাছে পৌঁছে ৯১১-এ কল করে হামলার বিবরণ দেন এবং পুলিশের সহায়তা চান। তবে সাহায্য পৌঁছানোর আগেই তিনি ঘটনাস্থলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পুলিশ আসার সামান্য দূর থেকেই অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়।   আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এরিয়াস-ব্রাউনের মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে একটি ডাকাতির মামলাও বিচারাধীন ছিল। মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে তার আইনজীবী ক্যাথরিন ফার্নান্দেজ উপস্থিত ছিলেন। এই নৃশংস হত্যা মামলায় দ্বিতীয় ডিগ্রি খুনের অভিযোগ আনা হলেও অভিযুক্ত নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।   আদালত তাকে জামিনঅযোগ্য ঘোষণা করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে এবং আগামী শুক্রবার তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই পারিবারিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৮:২৯
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের দুই বছরের সন্তানকে ফাঁস দিয়ে হত্যার পর নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা, গ্রেপ্তার মা
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের দুই বছরের সন্তানকে ফাঁস দিয়ে হত্যার পর নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা, গ্রেপ্তার মা

যুক্তরাষ্ট্রের এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন ও লোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির প্রসিকিউটররা। দুই বছরের শিশুপুত্র ব্যারেটকে ফাঁস দিয়ে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ৪০ বছর বয়সী কোরি ওয়ালশ নামের এক নারীকে মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।   প্রসিকিউটরদের দাবি, অভিযুক্ত কোরি ওয়ালশ পূর্বে আলোচিত অপরাধী লিন্ডসে ক্ল্যান্সির কর্মকাণ্ডের প্রতি মানসিকভাবে আচ্ছন্ন ছিলেন। এই নৃশংস ঘটনার সময় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরা তার অপর দুই শিশু সন্তান এক বিভীষিকাময় দৃশ্যের মুখোমুখি হয়।   এনবিসি ফাইভ শিকাগোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে দুই শিশু ঘরে এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখতে পায় এবং তৎক্ষণাৎ দৌড়ে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে সাহায্য চায়। প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে ছাদের বাতা থেকে শিশু ব্যারেটকে নিচে নামান এবং বাঁচানোর জন্য সিপিআর (CPR) প্রয়োগ করেন, তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।   শিশুটিকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এরপর ওই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বাড়ির বাথরুমে প্রবেশ করে কোরি ওয়ালশকে নিজের ক্ষতি করার চেষ্টা করতে দেখেন। শুধু তাই নয়, প্রসিকিউটররা আদালতে দাবি করেছেন যে ওয়ালশ এর আগে তার স্বামীকেও বিষ প্রয়োগে হত্যার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।   আদালতে শুনানির সময় এই লোমহর্ষক ঘটনার বিবরণ শুনে উপস্থিত সবাই স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। বর্তমানে অভিযুক্ত কোরি ওয়ালশকে পুলিশি হেফাজতে রেখে আইনি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। পারিবারিক কলহ ও মানসিক অবসাদের জেরে এমন নৃশংস ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৮:২
আপনার পরিবারের আয় কত? যুক্তরাষ্ট্রে আপনি কোন আয়ের শ্রেণিতে পড়েন?
আপনার পরিবারের আয় কত? যুক্তরাষ্ট্রে আপনি কোন আয়ের শ্রেণিতে পড়েন?

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের বার্ষিক আয় কত হলে তাকে নিম্ন আয়ের, মধ্যম আয়ের বা উচ্চ আয়ের পরিবার বলা যায়? এর কোনো একক সরকারি সীমা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য এবং পিউ রিসার্চ সেন্টারের বহুল ব্যবহৃত আয়ভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি তার পরিবারের আয় কোন স্তরে রয়েছে, সে সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়।   আদমশুমারি ব্যুরোর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একটি পরিবারের প্রকৃত মধ্যম আয় ছিল ৮৩ হাজার ৭৩০ ডলার। অর্থাৎ অর্ধেক পরিবারের আয় এর চেয়ে বেশি এবং বাকি অর্ধেকের আয় এর চেয়ে কম। ২০২৩ সালে এই আয় ছিল ৮২ হাজার ৬৯০ ডলার।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে, মধ্যম আয়ের পরিবার বলতে সাধারণভাবে জাতীয় মধ্যম আয়ের দুই-তৃতীয়াংশ থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত আয়কে বোঝানো হয়। তবে এই হিসাব করার সময় পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং বসবাসের এলাকার জীবনযাত্রার খরচও বিবেচনায় নেওয়া হয়।   শুধু জাতীয় মধ্যম আয় ৮৩ হাজার ৭৩০ ডলার ধরে সরল হিসাব করলে এর দুই-তৃতীয়াংশ প্রায় ৫৫ হাজার ৮২০ ডলার এবং দ্বিগুণ প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬০ ডলার। ফলে এই পদ্ধতিতে প্রায় ৫৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ডলারের মধ্যে আয় করা পরিবারকে মোটামুটি মধ্যম আয়ের পরিসরে দেখা যেতে পারে। তবে এটি কোনো সরকারি নির্ধারিত সীমা নয় এবং পরিবারের আকার ও এলাকার জীবনযাত্রার খরচ অনুযায়ী প্রকৃত শ্রেণি পরিবর্তিত হতে পারে।   এর নিচে থাকা পরিবারগুলোকে পিউ রিসার্চ সেন্টারের পদ্ধতিতে নিম্ন আয়ের এবং এর ওপরে থাকা পরিবারগুলোকে উচ্চ আয়ের শ্রেণিতে ধরা হয়। তবে নিম্ন আয় মানেই সরকারি হিসাবে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা নয়।   এখানেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ২০২৬ সালের দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী, ৪ সদস্যের একটি পরিবারের জন্য ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে বার্ষিক দারিদ্র্যসীমা ৩৩ হাজার ডলার। এই সীমা মূলত কিছু সরকারি সুবিধার আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।   অর্থাৎ বছরে ৫০ হাজার ডলার আয় করা একটি পরিবারকে সরাসরি দরিদ্র পরিবার বলা যাবে না। একইভাবে ১ লাখ ডলার আয় করলেই যে প্রতিটি পরিবারের জীবনযাত্রা একই রকম হবে, সেটিও ঠিক নয়। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া বা বোস্টনের মতো ব্যয়বহুল এলাকায় একই আয় দিয়ে যে জীবনযাপন সম্ভব, কম খরচের এলাকায় তার চেয়ে ভিন্ন হতে পারে।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২২ সালের বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মধ্যম আয়ের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই হিসাবও পরিবারের আকার ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের পার্থ্যক্য বিবেচনা করে করা হয়েছে।   তাই আপনার পরিবারের আয় যদি ৬০ হাজার, ৮০ হাজার, ১ লাখ, ১ লাখ ৫০ হাজার বা ২ লাখ ডলার হয়, শুধু একটি জাতীয় সংখ্যা দেখে নিজের অবস্থান চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা ঠিক হবে না। পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং আপনি কোথায় থাকেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে ‘নিম্ন-মধ্যম’, ‘মধ্যম’ বা ‘উচ্চ’ আয়ের কোনো একক ফেডারেল আয়সীমা নেই। এগুলো মূলত আয় তুলনা করার বিভিন্ন অর্থনৈতিক পদ্ধতির অংশ। তাই নিজের পরিবারের আয় দিয়ে হিসাব করার সময় জাতীয় মধ্যম আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং স্থানীয় জীবনযাত্রার খরচ একসঙ্গে বিবেচনা করাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৭:৩৬
আইসিইর চাওয়া ১২ লাখ ৮০ হাজার মানুষের তথ্য আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্রের আপিল কোর্ট
আইসিইর চাওয়া ১২ লাখ ৮০ হাজার মানুষের তথ্য আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্রের আপিল কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রে করদাতাদের ব্যক্তিগত তথ্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়ার নীতিতে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের ফেডারেল আপিল কোর্ট আইআরএসের এমন একটি নীতি বন্ধ রাখার আগের আদালতের আদেশ বহাল রেখেছে। ওই নীতির মাধ্যমে আইসিই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ থাকা প্রায় ১২ লাখ ৮০ হাজার মানুষের সর্বশেষ ঠিকানা চেয়েছিল।    আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে আইআরএস প্রায় ৪৭ হাজার করদাতার ঠিকানা আইসিইকে দিয়েছিল। আপিল কোর্টের তিন বিচারকের বেঞ্চ বলেছে, তথ্য দেওয়ার যে পদ্ধতি আইআরএস ব্যবহার করেছিল, তা ফেডারেল আইনের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেনি।    আইআরএস ও আইসিইর মধ্যে করা একটি চুক্তির আওতায় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে আইসিই করদাতাদের সর্বশেষ জানা ঠিকানা চাওয়া শুরু করে। আইসিইর অনুরোধে এমন ব্যক্তিদের তথ্যও ছিল, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধতা নিয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন ছিল।   মামলাটি করা সংগঠনগুলোর অভিযোগ ছিল, করদাতার তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় ফেডারেল আইনে যে কঠোর নিয়ম রয়েছে, আইআরএসের নতুন পদ্ধতিতে তা পাশ কাটানো হয়েছে। আদালতও বলেছে, তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ব্যক্তির তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিল না।    এই রায়ের গুরুত্ব অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অনেক ইমিগ্র্যান্ট নিয়মিত ট্যাক্স ফাইল করেন। ফেডারেল আইনে সাধারণভাবে আইআরএসের কাছে থাকা করদাতার তথ্য গোপন রাখার ওপর কঠোর সুরক্ষা রয়েছে। আপিল কোর্টের সিদ্ধান্ত সেই সুরক্ষার সীমা এবং সরকারের তথ্য ব্যবহারের ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।   তবে আদালতের রায়ের অর্থ এই নয় যে আইআরএস কোনো পরিস্থিতিতেই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করতে পারবে না। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে কর সংক্রান্ত কিছু তথ্য শেয়ার করার সুযোগ রয়েছে। মঙ্গলবারের রায়ের মূল বিষয় হলো, আইসিইর জন্য ঠিকানা সংগ্রহ ও শেয়ার করার যে নির্দিষ্ট পদ্ধতি আইআরএস ২০২৫ সালে চালু করেছিল, সেটি ফেডারেল আইন অনুযায়ী বৈধ ছিল না।    এখন এই সিদ্ধান্তের পর আইআরএস ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে। মঙ্গলবারের রায়ের মাধ্যমে আপিল কোর্ট আপাতত ওই তথ্য শেয়ারিং নীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৭:১৫
কানাডার পাল্টা শুল্কে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র, হুমকিতে আমেরিকান ব্যবসা ও চাকরি
আজ থেকে কানাডার পাল্টা ট্যারিফ, আমেরিকানদের ব্যবসা ও চাকরিতে কতটা প্রভাব?

মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে নতুন পাল্টা ট্যারিফ কার্যকর করেছে কানাডা। পণ্যভেদে এই শুল্কের হার ১৫, ২৫ ও ৫০ শতাংশ। কানাডার সরকারি তালিকায় স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম, ডেইরি, অ্যাপ্লায়েন্স, কৃষি সরঞ্জাম, পাল্প ও পেপার, প্লাস্টিক এবং ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।    তবে এই ট্যারিফ সরাসরি আমেরিকান ভোক্তার ওপর বসানো হয়নি। কানাডায় এসব মার্কিন পণ্য আমদানি করার সময় কানাডার ব্যবসায়ীদের বাড়তি শুল্ক দিতে হবে।   ফলে প্রথম চাপ পড়বে কানাডার বাজারে পণ্য বিক্রি করা মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্যারিফের কারণে কানাডায় মার্কিন পণ্যের দাম বাড়লে কিছু পণ্যের চাহিদা কমতে পারে এবং এতে মার্কিন ব্যবসাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।    বিশেষ করে স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, ফার্নিচার, পোশাক ও ইলেকট্রনিকসের মতো খাত এখন নজরে রয়েছে। কিছু পণ্যে ট্যারিফ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হওয়ায় কানাডার বাজারে মার্কিন পণ্যের প্রতিযোগিতা কঠিন হতে পারে।    এর প্রভাব কি আমেরিকান চাকরিতেও পড়তে পারে?   এখনই বড় ধরনের চাকরি হারানোর কোনো প্রমাণ নেই। তবে কানাডার বাজারে কোনো মার্কিন কোম্পানির বিক্রি দীর্ঘদিন কমে গেলে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কানাডার বাজারের ওপর বেশি নির্ভরশীল কোম্পানিগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে।   এর মধ্যেই বাণিজ্য উত্তেজনার আরেকটি উদাহরণ সামনে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার বিমান নির্মাতা বোম্বার্ডিয়ারকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিক্রি বন্ধের হুমকি দিয়েছেন, যদি কোম্পানিটি উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে না নেয়।   জবাবে বোম্বার্ডিয়ার জানিয়েছে, তাদের ৪৭টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২ হাজার ৮০০ মার্কিন সরবরাহকারী রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাদের উল্লেখযোগ্য কর্মী ও উৎপাদন কার্যক্রম রয়েছে।    অর্থাৎ কানাডার পাল্টা ট্যারিফের প্রভাব শুধু দুই দেশের সীমান্তের ওপারে পণ্যের দামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বাণিজ্য সংঘাত দীর্ঘ হলে আমেরিকান কোম্পানির বিক্রি, উৎপাদন এবং কিছু ক্ষেত্রে চাকরির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।   তবে এই মুহূর্তে আমেরিকানদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, দুই দেশ আবার আলোচনায় ফিরবে, নাকি পাল্টাপাল্টি ট্যারিফ আরও বাড়বে। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই বাণিজ্য সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৬:৫৮
৯/১১-এর ২৫ বছর পর ট্রাম্পের দাবি, ‘গ্রাউন্ড জিরো থেকে আমাকে উদ্ধার করেছিলেন দমকলকর্মীরা’
৯/১১-এর ২৫ বছর পর ট্রাম্পের দাবি, ‘গ্রাউন্ড জিরো থেকে আমাকে উদ্ধার করেছিলেন দমকলকর্মীরা’

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা নাইন-ইলেভেনের (৯/১১) আসন্ন ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের নিকটবর্তী এলিপসে বক্তব্য দেওয়ার সময় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।   মঙ্গলবারের ওই অনুষ্ঠানে তিনি নিজের প্রশাসনের অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রশংসার পাশাপাশি দাবি করেন, হামলার পরপরই তিনি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসস্তূপে (গ্রাউন্ড জিরো) উপস্থিত ছিলেন।   সেখানে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা একটি ভবন থেকে দুজন শক্তিশালী দমকলকর্মী তাকে আক্ষরিক অর্থেই তুলে নিয়ে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছিলেন।   ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, হামলার পরপর তিনি যখন ঘটনাস্থলে ছিলেন, তখন কাছাকাছি থাকা ইউএস স্টিল বিল্ডিংটি মারাত্মকভাবে মড়মড় শব্দ করছিল এবং সবার ধারণা ছিল সেটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়বে।   ঠিক তখনই দুজন বিশালদেহী দমকলকর্মী তাকে বগলদাবা করে তুলে নিয়ে দৌড়াতে শুরু করেন। ট্রাম্প বলেন, "আমি তাদের বলেছিলাম আমি নিজেই দৌড়াতে পারি, কিন্তু তারা ছিলেন অসাধারণ।"   শুধু তাই নয়, নিজের নির্মাণাধীন প্রকল্প থেকে উদ্ধারকর্মীদের একটি বড় দল পাঠিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও সেদিনের প্রথম সাড়াদানকারী উদ্ধারকর্মীরা বরাবরই বলে আসছেন, তারা কখনোই ট্রাম্পকে সেখানে দেখেননি।   ২০১৬ সালের নির্বাচনি প্রচারণাতেও তিনি এমন একটি গল্প শুনিয়েছিলেন। সমালোচকদের মতে, প্রতি বছরই হামলার বার্ষিকী এলেই নিজেকে এই মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।   ভাষণের শেষের দিকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন যে, শেয়ার বাজার ও কর্মসংস্থানের দিক থেকে দেশটি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আগামী শুক্রবার হামলার মূল বার্ষিকীতে তিনি পেন্টাগনে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্য রাখবেন।   তবে নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোতে চার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে যে প্রধান স্মরণসভাটি অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে তিনি যোগ দেবেন না। তার পরিবর্তে সেখানে উপস্থিত থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৬:৪৪
‘দেরি করবেন না, চিকিৎসকের কাছে যান’; প্রোস্টেট ক্যান্সার নিয়ে বাইডেনের আবেগঘন বার্তা
‘দেরি করবেন না, চিকিৎসকের কাছে যান’; প্রোস্টেট ক্যান্সার নিয়ে বাইডেনের আবেগঘন বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রোস্টেট ক্যান্সার সচেতনতা মাস উপলক্ষে নিজের স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে একটি আবেগঘন ও ব্যক্তিগত বার্তা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় ৮৩ বছর বয়সী এই নেতা পুরুষদের দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান, যাতে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়।   হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর গত বছর তিনি নিজের ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার খবরটি জনসমক্ষে প্রকাশ করেছিলেন। বাইডেন জানান, যখন তার ক্যান্সার ধরা পড়ে, তখন তা ইতোমধ্যে হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে পাঁচ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।   নিজের সফল চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি উল্লেখ করেন, গত শরতে নেওয়া রেডিয়েশন থেরাপি প্রত্যাশিতভাবেই কাজ করেছে।   চিকিৎসক দলের দক্ষতা, আন্তরিকতা ও মমতায় মুগ্ধ বাইডেন জানান, তাদের নিরলস সহযোগিতার কারণেই তিনি আগামী নভেম্বরে নির্বাচনের পর প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা নিজের আত্মজীবনীর কাজ শেষ করতে পারছেন।   গত অক্টোবরে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে সেসময় বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন তার বাবার শারীরিক অবস্থাকে 'অত্যন্ত দুর্বল' বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করতে না পারায় হোয়াইট হাউসের চিকিৎসকদের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন জিল বাইডেন। যদিও সাধারণত বাইডেনের বয়সীদের ক্ষেত্রে এই রোগের পরীক্ষা খুব একটা করা হয় না।   নিজের এই কঠিন অভিজ্ঞতা শেয়ার করার মাধ্যমে মানুষের জীবন বাঁচানোর আশা ব্যক্ত করেছেন জো বাইডেন। তিনি সবাইকে দ্বিধা ঝেড়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার এবং নিজেদের ও প্রিয়জনদের খাতিরে স্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন।   এদিকে, আগামী শুক্রবার নাইন-ইলেভেন (৯/১১) সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে লোয়ার ম্যানহাটনের গ্রাউন্ড জিরোতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, বিল ক্লিনটন ও জর্জ ডব্লিউ বুশের সঙ্গে জো বাইডেনেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৬:১৮
যুদ্ধের ময়দানে এবার মানুষ নয়, রোবট! হিউম্যানয়েড সেনা তৈরিতে চীনের তোড়জোড়
যুদ্ধের ময়দানে এবার মানুষ নয়, রোবট! হিউম্যানয়েড সেনা তৈরিতে চীনের তোড়জোড়

সম্প্রতি চীনে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে রোবটদের নাচানাচি ও স্প্রিন্টের মতো নৈপুণ্য বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিল। তবে এই বিনোদনের আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য এক সামরিক লক্ষ্য। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে গবেষণাগার থেকে সরাসরি সামরিক প্রশিক্ষণ মাঠে নিয়ে আসার তাগিদ দিচ্ছে।   শতাধিক চীনা সামরিক ক্রয় নোটিশ, গবেষণা ও সরকারি নথির ভিত্তিতে রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের প্রতিরক্ষা খাত হিউম্যানয়েড রোবটের সামরিক ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রে এদের মোতায়েনের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। গত কয়েক বছরে, বিশেষ করে ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে এই গবেষণায় অভাবনীয় গতি এসেছে।   বর্তমানে চীনা সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো যুদ্ধক্ষেত্রের নানা চাহিদার বিপরীতে রোবটগুলোর কার্যকারিতা পরীক্ষা করছে। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজি (এনইউডিটি)-এর গবেষকদের একটি ধারণাপত্রে বলা হয়েছে, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে শহুরে যুদ্ধে অংশ নিতে পারবে এসব অত্যাধুনিক রোবট। পদাতিক বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করে শত্রুর দখলে থাকা বহুতল ভবনে তল্লাশি চালানো ও ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে এগুলো ব্যবহৃত হতে পারে।   শুধু তাই নয়, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান নোরিনকোর তৈরি 'ফুসি' (Fuxi)-এর মতো হিউম্যানয়েড রোবটগুলো যেকোনো আবহাওয়ায় নজরদারি, টহল এবং বিপজ্জনক মিশনে অংশ নিতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে। মানুষের প্রাণহানি কমানোর লক্ষ্যেই মূলত রিমোট কন্ট্রোল ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এই রোবটগুলোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।   বর্তমানের বৈশ্বিক হিউম্যানয়েড রোবট চালানের প্রায় ৯৫ শতাংশই চীনের দখলে, যা তাদের এই সামরিক রূপান্তরকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীও সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য রোবট তৈরি নিয়ে কাজ করছে, তবে এক্ষেত্রে তারা চীনের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ড্রোনের মতো স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের সাফল্য বিশ্বজুড়েই রোবট সেনার কদর বাড়িয়েছে।   তবে যুদ্ধক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার নিয়ে নৈতিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ নাগরিক ও যোদ্ধাদের মধ্যে পার্থক্য করা কিংবা আত্মসমর্পণের সংকেত বোঝার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের সীমাবদ্ধতা নিয়ে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস। এসব বাধা পেরিয়ে উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হলে খুব শিগগিরই রণাঙ্গনে চীনা রোবট সেনার আধিপত্য দেখা যেতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৬:৫
ফ্লোরিডায় প্রেমিকাকে খুন করে হোটেলে আশ্রয়, পুলিশের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির পর গ্রেপ্তার ঘাতক
ফ্লোরিডায় প্রেমিকাকে খুন করে হোটেলে আশ্রয়, পুলিশের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির পর গ্রেপ্তার ঘাতক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজের প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যার পর একটি হোটেলে পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস গোলাগুলিতে জড়িয়েছেন এক ব্যক্তি। টড ওয়েগরিখ (৫৩) নামের ওই ব্যক্তিকে ওয়েস্ট পাম বিচ এলাকার 'দ্য বেন হোটেল' থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ এনেছে পাম বিচ কাউন্টি শেরিফ অফিস (পিবিএসও)।   পুলিশ জানিয়েছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার টড ওয়েগরিখ তার প্রেমিকাকে হত্যার পর বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের ফোন এবং টেক্সট মেসেজ করে খুনের বিষয়টি জানান। তবে তিনি কোথায় পালিয়ে গেছেন, সে বিষয়ে কাউকে কিছু বলেননি। ওই মেসেজ ও ফোন পেয়ে অন্তত চারজন ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবগত করেন।   খবর পেয়ে শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা লক্সাহ্যাচি এলাকার ট্যাঙ্গেলড অরচার্ড ট্রেসের ১৪০০ ব্লকের ওই বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে তারা মূল দরজার ঠিক ভেতরেই একাধিক গুলির আঘাতসহ এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। বাড়িটির আশপাশেও গোলাগুলির আলামত পাওয়া যায়।   তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে যে, ঘাতক টড ওয়েস্ট পাম বিচ শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দ্য বেন হোটেলে অবস্থান করছেন। পুলিশ তাকে ফোনে আত্মসমর্পণ করার জন্য দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি রাজি হননি। পরে সোয়াট (SWAT) টিমের সদস্যরা হোটেলের সপ্তম তলায় অবস্থিত তার রুমে ঢোকার চেষ্টা করলে তিনি পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং অবশেষে তাকে অক্ষত অবস্থায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই গোলাগুলির ঘটনায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা ওই সন্দেহভাজন আহত হননি। গ্রেপ্তারের পর টড ওয়েগরিখ পুলিশের কাছে নিজের প্রেমিকাকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাকে পাম বিচ কাউন্টির কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৫:৪১
নিউইয়র্কে আফগান শরণার্থীদের জন্য চালু হলো বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি
নিউইয়র্কে আফগান শরণার্থীদের জন্য চালু হলো বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নাসাউ কাউন্টিতে বসবাসরত আফগান শরণার্থীদের বিনামূল্যে কাউন্সেলিং ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে সরকারি অর্থায়নে একটি নতুন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এই অত্যন্ত জরুরি কর্মসূচির জন্য নিউইয়র্ক স্টেট অফিস অব মেন্টাল হেলথ ২ লাখ মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে।   এই তহবিলের মাধ্যমে শরণার্থীদের বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মূল্যায়ন, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসাসহ সার্বিক পরিচর্যার সমন্বয় করা হবে। ভাষা যেন কোনো বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেজন্য এই সেবার আওতায় বিনামূল্যে অনুবাদক সুবিধাও রাখা হয়েছে।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, ধর্মীয় ও জাতিগত নিপীড়ন এবং স্বজন হারানোর মতো ভয়াবহ ট্রমার মধ্য দিয়ে যাওয়া আফগানদের মানসিক সুরক্ষা দিতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘ দুই দশকের সম্পৃক্ততার পর ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার সময় বাইডেন প্রশাসন 'অপারেশন অ্যালিস ওয়েলকাম' নামের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল।   এর অধীনে হাজার হাজার আফগান নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে এনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। তবে ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর এই কর্মসূচিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য প্রচলিত বেশ কয়েকটি শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি স্থগিত করে দেয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী অনেক আফগান নাগরিক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যান।   মানসিক চিকিৎসার পাশাপাশি এই নতুন কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্য শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক উপকরণ সরবরাহ এবং সুস্থতাভিত্তিক বিভিন্ন দলবদ্ধ কার্যক্রমও পরিচালনা করা হবে।   সিএন গাইডেন্সের আওতাধীন এই কর্মসূচির পরিচালক কেইশা গ্রাহাম-উইলসন বলেন, এই শরণার্থীদের অনেকেই নিজেদের দেশে তীব্র মানসিক আঘাতের শিকার হয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে আসার দীর্ঘ সময় পরও সেই ট্রমা বয়ে বেড়াচ্ছেন।   তিনি আরও বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো তাদেরকে এমন একটি সহানুভূতিশীল ও সংস্কৃতিবান্ধব সহায়তা প্রদান করা, যা তাদের মানসিক ক্ষত সারিয়ে নতুন পরিবেশে ঘুরে দাঁড়াতে এবং একটি পরিপূর্ণ জীবন গড়তে সাহায্য করবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৫:১৯
মিশিগানের ডিট্রইটে আয়োজিত হচ্ছে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের কনভেনশন আয়োজন
মিশিগানের ডিট্রইটে আয়োজিত হচ্ছে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের কনভেনশন আয়োজন

অ্যামেরিকায় বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের পেশাগত অর্জন, অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে মিশিগানের ডিট্রইটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, অ্যামেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস—আবিয়ার ২০২৬ সালের দ্বিবার্ষিক কনভেনশন ও সেমিনার। এ উপলক্ষে মিশিগানের স্টার্লিং হাইটসে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা জানান, আগামী ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ডিট্রইট ডাউনটাউনের রেনেসাঁ সেন্টার ও হান্টিংটন প্লেইসে অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনের এই আয়োজন। মিশিগানের ডিট্রইটে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া- আবিয়ার ২০২৬ সালের দ্বিবার্ষিক কনভেনশন ও সেমিনারে নর্থ অ্যামেরিকা, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রকৌশলী, স্থপতি, শিক্ষার্থী, গবেষক ও পেশাজীবীরা সপরিবারে অংশ নেবেন। অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকবে ক্যারিয়ার ও স্টেম ফেয়ার। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক শিক্ষা এবং পেশায় আগ্রহী শিক্ষার্থী- তরুণদের জন্য ক্যারিয়ার ও পেশাগত উন্নয়নমূলক বিভিন্ন সেশন থাকবে বলে জানান, আবিয়ার প্রেসিডেন্ট মনির জামান ও সেক্রেটারি সাদেক রহমান। পাশাপাশি বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং এবং নতুন প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করতেও গুরুত্ব দিচ্ছেন আয়োজকরা। তিন দিনের আয়োজনে থাকবে মিট অ্যান্ড গ্রিট, গালা ডিনার ও সানসেট রিভার ক্রুয। সংগঠনটির মিশিগান চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ফয়েজুল মোমেন জানান, এ সম্মেলনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন সামিনা চৌধুরী, দিলশাদ নাহার কণা, প্রতীক হাসান ও ইমরানসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পী। আয়োজকদের আশা, এই সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশি-অ্যামেরিকান প্রকৌশলী ও স্থপতিদের পেশাগত সাফল্য, উদ্ভাবন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে প্রকৌশল, স্থাপত্য ও স্টেম পেশায় উৎসাহিত করতেও ভূমিকা রাখবে। সংবাদ সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার ড. নাজমুল হাসান শাহীন, জাকিরুল হক, গোলাম মর্তুজা, মাহমুদ সালাম, কাজী সোহেল আহমেদ ও মৌলি আহমেদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:৫৭
মায়ামিতে অ্যামাজনের কার্গো বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৫ জনের পরিচয় প্রকাশ, তদন্তে ব্ল্যাক বক্স
মায়ামিতে অ্যামাজনের কার্গো বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৫ জনের পরিচয় প্রকাশ, তদন্তে ব্ল্যাক বক্স

মায়ামি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের পরিচয় প্রকাশ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত আরও জোরদার করেছে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড বা এনটিএসবি।   রোববার দুপুরে পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মায়ামিতে আসা বোয়িং ৭৬৭-৩০০ বিমানটি রানওয়েতে অবতরণের সময় নির্ধারিত অংশের বাইরে চলে যায়। বিমানটি রানওয়ের শেষ প্রান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফুট এগিয়ে গিয়ে প্রথমে একটি ভ্যানে ধাক্কা দেয়। পরে বিমানবন্দরের সীমানার বেড়া ভেঙে পাশের সড়কে গিয়ে একটি গাড়িতেও আঘাত করে।   মায়ামি-ডেড শেরিফ রোজি কর্দেরো-স্টুটজ মঙ্গলবার নিহত পাঁচজনের পরিচয় প্রকাশ করেন। তারা হলেন ৫৫ বছর বয়সী রোলান্ডো আলেমান লিওন, ৫৩ বছর বয়সী ইয়োয়েল রদ্রিগেজ নারানহো, ৭৫ বছর বয়সী হুলিও সি. পিনেদা, ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস আকোস্তা ফাহার্দো এবং ৪৭ বছর বয়সী হাভিয়েরকিস রেইস কেভেদো।   তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচজনই প্রফেশনাল ওশান সার্ভিস কর্পোরেশনের কর্মী ছিলেন। বিমান পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত একটি ভ্যানে তারা ছিলেন। ওই ভ্যানে মোট সাতজন ছিলেন।   দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুইজনের অবস্থা গুরুতর বা সংকটজনক। আরেকজনের অবস্থা স্থিতিশীল। বিমানে থাকা পাইলট ও সহকারী পাইলটও আহত হয়েছিলেন। তবে চিকিৎসার পর তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।   দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এনটিএসবি’র ৩২ সদস্যের একটি তদন্তকারী দল বিমানটির গতি, আবহাওয়া, বিমানের যান্ত্রিক অবস্থা, পাইলটদের সিদ্ধান্ত এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে।   তদন্তে বিমানের ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো সাধারণভাবে ব্ল্যাক বক্স নামে পরিচিত। এসব রেকর্ডার বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার ঠিক আগে বিমানের গতি, অবস্থান এবং ককপিটে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।   রানওয়ের শেষ প্রান্তে বিমান থামানোর জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। মায়ামি বিমানবন্দরে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাটেরিয়ালস অ্যারেস্টিং সিস্টেম বা ইমাস নেই। রানওয়ের শেষে থাকা এই বিশেষ ব্যবস্থাটি দ্রুতগতির বিমানকে থামাতে সাহায্য করতে পারে।   তবে মায়ামি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বিমানবন্দরটি বর্তমানে ফেডারেল নিরাপত্তা নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।   তদন্তকারীরা এখনো দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ ঘোষণা করেননি। তাই পাইলটের ভুল, আবহাওয়া বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণকে এখনই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে না। ব্ল্যাক বক্সের তথ্যসহ তদন্তের পরবর্তী ধাপগুলো থেকেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:৪১
বাহামাসে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ হারালেন মিয়ামির একই পরিবারের চার সদস্য
বাহামাসে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ হারালেন মিয়ামির একই পরিবারের চার সদস্য

বাহামাসের উপকূলে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে বাহামাসের আন্দ্রোস দ্বীপের উপকূল থেকে প্রায় ১৫ মাইল দূরে সাগরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর কোস্টগার্ড ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানে সমুদ্র থেকে ওই চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।   নিহতরা হলেন ৮০ বছর বয়সী মারিও লামার সিনিয়র, তার ৭৯ বছর বয়সী স্ত্রী লিলি লামার এবং তাদের দুই নাতি-নাতনি ২৮ বছর বয়সী সোফি সোসা ও ২২ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ান সোসা। বিমানটি ফ্লোরিডার ওপা-লোকা এলাকায় অবস্থিত মিয়ামি এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল।   শোকাহত পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিহত মারিও লামার নিজে বিমানটি চালাচ্ছিলেন। তিনি একজন অত্যন্ত দক্ষ পাইলট ছিলেন এবং বিমান চালনায় তার ৪০ বছরেরও বেশি সময়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ছিল।   রয়্যাল বাহামাস ডিফেন্স ফোর্স সোমবার দুপুর ২টার দিকে প্রথম এই দুর্ঘটনার খবর পায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজের জন্য মার্কিন কোস্টগার্ডের সহায়তা তলব করে। কোস্টগার্ডের দেওয়া তথ্যমতে, দুপুর আড়াইটার ঠিক আগেই ছোট বিমানটি সাগরে আছড়ে পড়ে।   তবে একজন অভিজ্ঞ পাইলট থাকার পরও ঠিক কী কারণে এই আকস্মিক বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:৩২
১০৪ বছর বয়সেও রেহাই নেই, দুই যুগের পুরোনো মামলায় কারাগারে নুর মোহাম্মদ
১০৪ বছর বয়সেও রেহাই নেই, দুই যুগের পুরোনো মামলায় কারাগারে নুর মোহাম্মদ

কিশোরগঞ্জে দুই যুগ আগে সংঘটিত ডাকাতি ও জোড়া হত্যার মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।   মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন নুর মোহাম্মদ। তবে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।   নুর মোহাম্মদের আইনজীবী জানান, তার মক্কেলের বয়স ১০৪ বছর। তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না এবং বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয় তাকে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল।   মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নামে দুজনকে হত্যা করা হয়।   ডাকাতরা দোকানের সিন্দুক থেকে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।   এ ঘটনায় দোকানের মালিক ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।   ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। ওই রায়ে নুর মোহাম্মদসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া নামে এক আসামির মৃত্যু হয়।   পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত বিভিন্ন আসামির সাজা পরিবর্তন করেন। ওই পর্যায়ে নুর মোহাম্মদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।   মামলার নথি অনুযায়ী, রায়ের সময়ও নুর মোহাম্মদ পলাতক ছিলেন। এর আগে তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পরে জামিনে গিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।   দীর্ঘ সময় পর মঙ্গলবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। বয়স ও অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জামিন চাওয়া হলেও আদালত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:১২
চোখে সাধারণ চশমা, রেকর্ড হচ্ছে সবকিছু! মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন পুলিশ
চোখে সাধারণ চশমা, রেকর্ড হচ্ছে সবকিছু! মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেটার তৈরি 'স্মার্ট গ্লাস' বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চশমা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নিউইয়র্ক পুলিশের কাউন্টার-টেররিজম ইউনিট সম্প্রতি তাদের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে জারি করা এক অভ্যন্তরীণ মেমোতে 'রে-ব্যান মেটা গ্লাস'-কে নতুন "নিরাপত্তা ও কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ঝুঁকি" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।   সাধারণ চশমার মতো দেখতে এই ডিভাইসে থাকা ক্ষুদ্র ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ব্যবহার করে অপরাধীরা বা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা পুলিশ স্টেশন এবং কারাগারের ভেতরের স্পর্শকাতর তথ্য গোপনে ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।   'প্রপার্টি অব দ্য পিপল' নামের একটি অলাভজনক সংস্থার প্রকাশ করা নথিতে দেখা গেছে, মেইন থেকে শুরু করে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ কর্মকর্তারা এই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অপরাধী ও সন্ত্রাসীরাও এই চশমার মাধ্যমে পুলিশি স্থাপনার লেআউট, নজরদারি ক্যামেরার অবস্থান এবং টহল ব্যবস্থার গোপন তথ্য সংগ্রহ করে বড় ধরনের নাশকতা চালাতে পারে।   দৃষ্টান্ত হিসেবে মেমোটিতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে টিকটকে প্রকাশিত একটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করা হয়েছে; যেখানে এক ব্যক্তি মেটা গ্লাস ব্যবহার করে সাউথ ক্যারোলিনার একটি ডিটেনশন সেন্টারের ভেতরের শোচনীয় অবস্থা গোপনে ধারণ করে প্রকাশ করে দিয়েছিলেন।   নিরাপত্তার এই ঝুঁকির কারণে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ইতোমধ্যে তাদের ফেডারেল ওয়ার্কস্পেসে কর্মীদের মেটা গ্লাস পরা নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে মেটা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের চশমাগুলো গোপনে রেকর্ডিংয়ের জন্য তৈরি হয়নি; বরং ছবি বা ভিডিও ধারণ করার সময় ডিভাইসে থাকা একটি উজ্জ্বল সাদা এলইডি আলো জ্বলে ওঠে যা বন্ধ করার কোনো উপায় নেই।   তবে ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ যখন সাধারণ মানুষের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালায় তখন সেটি বৈধ থাকে, কিন্তু জনগণ যখন পুলিশের কর্মকাণ্ড রেকর্ড করতে সক্ষম হয়, তখনই তারা একে 'নিরাপত্তা ঝুঁকি' বলে অভিহিত করে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৩:৫৭
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে দেশে ফিরতে পারেন শেখ হাসিনা
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে দেশে ফিরতে পারেন শেখ হাসিনা

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরতে পারেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—এমন দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউ দিল্লি পোস্ট। সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাব্য পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও সাবেক কূটনীতিকদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।   প্রতিবেদনটির দাবি অনুযায়ী, ওই পর্যবেক্ষক দলে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন সাবেক কূটনীতিককেও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের উপস্থিতিতে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   নিউ দিল্লি পোস্ট আরও দাবি করেছে, বাংলাদেশের সাবেক জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোলৎস সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ওই সাক্ষাতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষণযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য করার একটি কৌশল হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো কর্মপরিকল্পনা, সম্ভাব্য সময়সূচি কিংবা পর্যবেক্ষক দলের সদস্যদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।   এদিকে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি বিষয়। তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনগত বিষয় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা আলোচনা হয়েছে। ফলে নতুন এই দাবিটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলেও এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন সূত্রের প্রয়োজন রয়েছে।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শেখ হাসিনা নিজে, আওয়ামী লীগ কিংবা পিটার ফারেনহোলৎসের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। একই সঙ্গে নিউ দিল্লি পোস্টের এই দাবিটি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বা বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে যাচাই করে নিশ্চিত করেনি।   ফলে আপাতত শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টিকে একটি সংবাদমাধ্যমের দাবি হিসেবে দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং আরও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য সামনে এলে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।   সূত্র: নিউ দিল্লি পোস্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৩:৩৩
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান

বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার পর নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।   সদ্য সমাপ্ত ৮০তম অধিবেশনের বিদায়ী সভাপতি আন্নালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হলেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক। এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৯টায় এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে আগামী এক বছর বৈশ্বিক এই ফোরামে নিজের কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।   শপথ গ্রহণের পর আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভায় তিনি সভাপতিত্ব করবেন। বিগত চার দশক পর এটি বাংলাদেশের জন্য এক অভাবনীয় কূটনৈতিক অর্জন। উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন প্রয়াত হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী।   দীর্ঘ সময় পর বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল ফোরামে বাংলাদেশের এই প্রত্যাবর্তন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ও দৃশ্যমানতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   গত ২ জুন অনুষ্ঠিত এক গোপন ব্যালট নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে ৯৯-৯১ ভোটে পরাজিত করে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। চার দশকের বেশি সময়ের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ড. রহমান এমন এক সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, যখন বিশ্বব্যাপী সংঘাত, জলবায়ু সংকট, মানবাধিকার ইস্যু এবং জাতিসংঘের সংস্কারের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যের তীব্র প্রয়োজন।   আগামী এক বছর তিনি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং উদীয়মান প্রযুক্তির সুশাসনের মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বৈশ্বিক এই ফোরামের নেতৃত্ব দেবেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৩:১৪
মার্কিন সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের নতুন নিয়মে ২০২৬ সালে ৬২ বছরে পৌঁছানো ব্যক্তিদের পূর্ণ অবসরের বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭ বছর। ছবি: সংগৃহীত
‘বদলে গেছে অবসরের বয়স!’ ২০২৬ সালে মার্কিন সোশ্যাল সিকিউরিটিতে বড় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধার পূর্ণ অবসরের বয়স ২০২৬ সালে নতুন ধাপে পৌঁছেছে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ৬২ বছর বয়সে পৌঁছানো ব্যক্তিদের পূর্ণ অবসরের বয়স ৬৭ বছর। তবে এর অর্থ এই নয় যে ৬৭ বছরের আগে অবসর নেওয়া যাবে না। ৬২ বছর বয়স থেকেই সোশ্যাল সিকিউটি সুবিধা নেওয়া যায়, কিন্তু পূর্ণ অবসরের বয়সের আগে সুবিধা নিলে মাসিক অর্থ স্থায়ীভাবে কমে যায়।   পূর্ণ অবসরের বয়স নির্ধারণ করা হয় একজন ব্যক্তির জন্মসাল অনুযায়ী। ১৯৪৩ থেকে ১৯৫৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের পূর্ণ অবসরের বয়স ৬৬ বছর। এরপর জন্মসাল অনুযায়ী বয়স ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে। ১৯৫৫ সালে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের পূর্ণ অবসরের বয়স ৬৬ বছর ২ মাস, ১৯৫৬ সালে জন্ম নেওয়াদের ৬৬ বছর ৪ মাস এবং ১৯৫৭ সালে জন্ম নেওয়াদের ৬৬ বছর ৬ মাস।   এই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৮ সালে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের পূর্ণ অবসরের বয়স ৬৬ বছর ৮ মাস এবং ১৯৫৯ সালে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ৬৬ বছর ১০ মাস। ১৯৬০ সালে বা তার পরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পূর্ণ অবসরের বয়স ৬৭ বছর। অর্থাৎ ২০২৬ সালে এই দীর্ঘদিনের ধাপে ধাপে বাড়ার প্রক্রিয়া ৬৭ বছর বয়সে এসে পৌঁছেছে।   তবে ৬২ বছর বয়সে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা নেওয়ার সুযোগ এখনও রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের হিসাবে, ১৯৬০ সালে বা তার পরে জন্ম নেওয়া কেউ ৬২ বছর বয়সে অবসর সুবিধা নেওয়া শুরু করলে পূর্ণ সুবিধার তুলনায় তার মাসিক অর্থ প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, পূর্ণ অবসরের বয়সে ১ হাজার ডলার পাওয়ার যোগ্য কেউ ৬২ বছর বয়সে সুবিধা নেওয়া শুরু করলে প্রায় ৭০০ ডলার পেতে পারেন।   অন্যদিকে, পূর্ণ অবসরের বয়স পার হওয়ার পরও কেউ চাইলে সোশ্যাল সিকিউটি সুবিধা নেওয়া শুরু করতে পারেন। ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করলে বিলম্বিত অবসর সুবিধার কারণে মাসিক অর্থ বাড়ে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন জানিয়েছে, পূর্ণ অবসরের বয়সের পর ৭০ বছর পর্যন্ত সুবিধা নেওয়া বিলম্বিত করলে মাসিক সুবিধার পরিমাণ বাড়তে থাকে।   অবসরের বয়স নিয়ে এই পরিবর্তন আসলে ১৯৮৩ সালের সামাজিক নিরাপত্তা সংশোধনের মাধ্যমে শুরু হওয়া দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার অংশ। নির্দিষ্ট জন্মসালের মানুষের পূর্ণ অবসরের বয়স কয়েক ধাপে বাড়িয়ে ৬৭ বছরে নেওয়া হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের পরিবর্তনকে হঠাৎ করে সবার অবসরের বয়স বাড়িয়ে দেওয়ার নতুন সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক নয়।   ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ব্যবস্থায় আরও কিছু অর্থনৈতিক পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সোশ্যাল সিকিউরিটি করের আওতাভুক্ত সর্বোচ্চ আয় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে।   পূর্ণ অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে যারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা নিচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রেও আয়ের সীমা রয়েছে। ২০২৬ সালে পূর্ণ অবসরের বয়সের নিচে থাকা ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট সীমার বেশি আয় হলে সুবিধার একটি অংশ কেটে রাখা হতে পারে। তবে পূর্ণ অবসরের বয়সে পৌঁছানোর পর পুরো বছর কাজ করলেও আয়ের ওপর এই সীমা থাকে না।   সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা কখন নেওয়া শুরু করা হবে, তা তাই অবসর পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ৬২ বছর বয়সে সুবিধা নেওয়া শুরু করলে দ্রুত অর্থ পাওয়া যায়, কিন্তু মাসিক অর্থ কমে যায়। পূর্ণ অবসরের বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করলে পুরো সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকে। আবার ৭০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করলে মাসিক সুবিধা আরও বাড়তে পারে। ফলে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্মসাল ও আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সুবিধা নেওয়ার সময় নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: কেটিএলএ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১২:৫৭