- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা আসতে যাচ্ছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এইচ-১বি ভিসার জন্য নতুন করে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। এর আগে আরোপিত ১ লাখ ডলারের ফি এবং নতুন প্রস্তাবিত ফি—উভয়ই যদি একসঙ্গে কার্যকর হয়, তবে একজন বিদেশি কর্মীকে স্পন্সর করতে মার্কিন নিয়োগদাতাদের ২ লাখ ডলারেরও বেশি গুনতে হবে। উচ্চতর ডিগ্রির ক্ষেত্রে ছাড়প্রাপ্ত আবেদনসহ বার্ষিক কোটার আওতাধীন সকল এইচ-১বি পিটিশনের ক্ষেত্রেই এই নতুন ফি প্রযোজ্য হবে। বিদ্যমান ফাইলিং ফি এবং অন্যান্য খরচের সঙ্গে সম্পূর্ণ অতিরিক্ত হিসেবে এই বিপুল অর্থ পরিশোধ করতে হবে নিয়োগদাতাদের। এই প্রস্তাব মার্কিন নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর, বিশেষ করে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এইচ-১বি ভিসার সিংহভাগ অনুমোদন যেহেতু ভারতীয় নাগরিকরাই পেয়ে থাকেন, তাই এই নিয়মের ফলে মার্কিন টেক জায়ান্টগুলোর পাশাপাশি ভারতীয় পেশাজীবীরা আনুপাতিক হারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ডিএইচএস জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই ফি-এর মাধ্যমে সংগৃহীত কোটি কোটি ডলার রাজস্ব হিসেবে সরকারের অভিবাসন ব্যবস্থা পরিচালনার ব্যয়ভার মেটাতে ব্যবহার করা হবে। বিচার বিভাগ, পররাষ্ট্র দফতর এবং শ্রম বিভাগের অভিবাসন সংশ্লিষ্ট কাজের খরচও এই খাত থেকে নির্বাহ করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এইচ-১বি কর্মসূচি ঢেলে সাজানো এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের খরচ বাড়ানোর ধারাবাহিক আইনি পদক্ষেপেরই অংশ এই নতুন প্রস্তাব। তবে নতুন এই ফি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। ডিএইচএস প্রস্তাবটিকে একটি খসড়া নিয়ম হিসেবে প্রকাশ করেছে এবং আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত এটি জনসাধারণের মতামতের জন্য উন্মুক্ত রেখেছে। এই সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত মতামতগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত নিয়ম জারির পরই কেবল এটি বাস্তবায়িত হতে পারে। এদিকে, আগের ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে আইনি লড়াই চলছে। আইনি এই জটিলতা এবং নতুন ফি-এর প্রস্তাব মিলে মার্কিন নিয়োগদাতা ও বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান পরিষ্কার পানির অধিকার নিশ্চিত করে না বলে রায় দিয়েছে দেশটির পঞ্চম সার্কিট আপিল আদালত। ৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া রায়ে আদালত মিসিসিপির জ্যাকসন শহরের বাসিন্দাদের করা একটি মামলা খারিজের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। মামলায় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছিলেন, শহর কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনার কারণে তাদের পানিতে সীসা দূষণ ছড়ায় এবং কর্মকর্তারা পানি নিরাপদ বলে ভুল তথ্য দেন। মামলাটি করেছিলেন প্রিসিলা স্টার্লিং, রেইন বেকার, শন মিলার ও জন বেনেট। তারা জ্যাকসন শহর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বাদীদের অভিযোগ ছিল, শহরের পানি ব্যবস্থাপনায় নানা ত্রুটির কারণে পানিতে সীসা, ই-কোলাই ও অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। পাশাপাশি শহর কর্তৃপক্ষ দূষণের বিষয়টি জানার পরও বাসিন্দাদের পানি নিরাপদ বলে আশ্বস্ত করেছিল বলে তারা দাবি করেন। বাদীপক্ষ যুক্তি দিয়েছিল, সীসা দূষিত পানি পান করতে বাধ্য হওয়া তাদের শারীরিক অখণ্ডতার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সংক্রান্ত ধারার অধীনে এই দাবি তুলে মামলা করে। তবে আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা এই যুক্তি গ্রহণ করেননি। আদালত বলেছে, দূষিত পানির সংস্পর্শকে শারীরিক অখণ্ডতার সাংবিধানিক অধিকারের আওতায় নেওয়ার মতো দেশের ইতিহাস বা সুপ্রিম কোর্টের কোনো নজির নেই। বিচারপতি কার্ট এঙ্গেলহার্ডটের নেতৃত্বে দেওয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে বলা হয়, সংবিধান সরকারের প্রতিটি ভুলের প্রতিকার নিশ্চিত করে না। আদালতের মতে, পৌরসভা পানি সরবরাহ করলেও সংবিধান সেই সেবা নির্দিষ্ট মানে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না। সীসা দূষিত পানির কারণে যে ক্ষতির অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিকে জোরপূর্বক অস্ত্রোপচার, অনিচ্ছাকৃত ওষুধ প্রয়োগ বা শারীরিক হামলার মতো শারীরিক অখণ্ডতার সরাসরি লঙ্ঘনের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। আদালত একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জনস্বাস্থ্য সংকটের সময় সত্য তথ্য পাওয়ার দাবিকেও সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। মামলার বাদীরা অভিযোগ করেছিলেন, পানি দূষিত হওয়ার বিষয়টি জানার পরও কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের পানি নিরাপদ বলে জানিয়েছিলেন। আদালত বলেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্যের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার মতো কোনো সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জ্যাকসনের পানি সংকট নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত বহু বছরের সমস্যাকে ঘিরে। আদালতের নথি অনুযায়ী, শহরের পানি ব্যবস্থায় সীসা ও ব্যাকটেরিয়া থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বাসিন্দাদের পানি ফুটিয়ে পান করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল। বাদীরা দাবি করেন, শহরের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে পানিতে সীসা মিশেছে এবং পরে কর্মকর্তারা পানি নিরাপদ বলে ভুল আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আদালত বলেছে, পানি দূষণের সমস্যা মোকাবিলায় অন্যান্য সরকারি ও আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। মিসিসিপি অঙ্গরাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার জ্যাকসনের পানি ব্যবস্থার মান উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি, তদন্ত ও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। আদালতের মতে, এসব ব্যবস্থা এবং অন্যান্য আইনি পথের মাধ্যমে পানির দূষণ মোকাবিলা করা সম্ভব হলেও এই নির্দিষ্ট অভিযোগকে সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রায়ে আরও বলা হয়, এই মামলায় বাদীরা এমন কোনো সুপ্রিম কোর্টের নজির বা শক্তিশালী আইনি ভিত্তি দেখাতে পারেননি, যা সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে সীসা দূষিত পানির সংস্পর্শে আসাকে প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ফলে পঞ্চম সার্কিটের পূর্ণ বেঞ্চ নিম্ন আদালতের মামলা খারিজের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যে নিরাপদ পানির অধিকার বাতিল করে না। রায়টি নির্দিষ্টভাবে মিসিসিপির জ্যাকসন শহরের পানি দূষণ নিয়ে করা মামলায় সংবিধানের অধীনে অধিকার দাবির বিষয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পানি নিরাপত্তা নিয়ে আলাদা আইন ও সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। এই রায়ের মূল বিষয় হলো, জ্যাকসনের ওই মামলায় পরিষ্কার বা সীসামুক্ত পানিকে ফেডারেল সংবিধানের অধীনে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। সূত্র: ইউএসএ টুডে
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ২৫ বছর বয়সী ব্রায়ান হোসে মোরালেস গার্সিয়াকে মেক্সিকোয় ডিপোর্ট করার পর প্রায় চার মাসের আইনি লড়াই শেষে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে দেওয়া হয়েছে। টেক্সাসে একটি ট্রাফিক থামানোর ঘটনার পর তিনি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে যান এবং পরে ৭ এপ্রিল তাকে মেক্সিকোয় পাঠানো হয়। পরে তার আইনজীবীরা তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণ সামনে এনে দেশে ফেরানোর জন্য আইনি পদক্ষেপ নেন। মোরালেস গার্সিয়ার জন্ম ডেনভারে। তবে শৈশবের বড় একটি সময় তিনি মেক্সিকোয় কাটিয়েছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কাজের উদ্দেশ্যে তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় তিনি নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন। পরে টেক্সাসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপনের কাজ করছিলেন তিনি। এপ্রিল মাসে ফ্রেডেরিক্সবার্গের কাছে বসকে সঙ্গে নিয়ে একটি গাড়িতে করে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় টেক্সাসের এক রাজ্য পুলিশ কর্মকর্তা তাদের গাড়ি থামান। অভিযোগ ছিল গাড়ির জানালার কাচে অতিরিক্ত কালো রং করা নিয়ে। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো টিকিট দেওয়া হয়নি। এরপর মোরালেস গার্সিয়াকে কয়েকটি আটককেন্দ্রে নেওয়া হয় এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখা হয়। মোরালেস গার্সিয়া তখন নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে দাবি করেন এবং তার নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখানোর কথা জানান। তার আইনজীবীর অভিযোগ, আটক থাকার সময় তাকে শারীরিকভাবে হয়রানি করা হয় এবং কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। চার দিন বিভিন্ন হেফাজতকেন্দ্রে থাকার পর তাকে মেক্সিকোয় পাঠানো হয়। সরকারপক্ষ অবশ্য আদালতে দাবি করেছে, মোরালেস গার্সিয়া শুরুতে নিজেকে মেক্সিকোয় জন্ম নেওয়া ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং স্বেচ্ছায় মেক্সিকোয় ফেরার কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। মেক্সিকোয় যাওয়ার পর তার আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের বিষয়টি সামনে এনে ফেডারেল আদালতে মামলা করেন। তারা যুক্তি দেন, মোরালেস গার্সিয়া ডেনভারে জন্মেছেন এবং তার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসনদ রয়েছে। অন্যদিকে সরকারপক্ষ মেক্সিকোর কিছু নথির কথা তুলে ধরে, যেখানে তার নামের বানান ও জন্মতারিখে পার্থক্য রয়েছে। এসব নথিতে তার জন্মস্থানও মেক্সিকোর জাকাতেকাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার সময় দুই দেশের নথিতে থাকা তথ্যের এই পার্থক্য নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। তার আইনজীবীদের দাবি, মেক্সিকোয় তার জন্ম নিবন্ধনের সময় তথ্যের ভুল হয়েছিল। কয়েক মাস ধরে নথিপত্র ও জন্মসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের পর শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার সুযোগ পান মোরালেস গার্সিয়া। আগস্টের শেষ দিকে মেক্সিকোর আগুয়াসকালিয়েন্তেস থেকে বাসে করে তিনি সীমান্তের দিকে যান। ৩০ আগস্ট সীমান্তে পৌঁছানোর পর তার কলোরাডোর জন্মসনদ গ্রহণ করা হয় এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ মাস দেশের বাইরে থাকার পর তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন। দেশে ফেরার পর তার আইনজীবীরা তাকে একটি কফি শপে নিয়ে যান। তবে দেশে ফিরলেও পুরো ঘটনার মানসিক চাপ কাটেনি বলে জানিয়েছেন মোরালেস গার্সিয়া। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে চেহারা ও ইংরেজিতে কথা বলতে না পারার কারণে বিচার করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। ভবিষ্যতে আবার কোনো পুলিশি তল্লাশির মুখে পড়লে একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কাও রয়েছে তার। এদিকে তাকে মেক্সিকোয় পাঠানোর ঘটনায় দায়বদ্ধতা নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে করা মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলো নিয়মিতভাবে কতজন নাগরিককে অভিবাসন ব্যবস্থার আওতায় আটক বা বহিষ্কার করেছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করে না। সরকারি হিসাব পর্যালোচনা করে অতীতেও এমন ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের আটক ও বহিষ্কারের নজির পাওয়া গেছে। মোরালেস গার্সিয়ার ঘটনাটি সেই বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। সূত্র: ইউএসএ টুডে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথ খুঁজছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের কর্মকর্তারা বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য কৌশলগতভাবে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল এসব দেশ এখন দক্ষিণ কোরিয়া, ইউক্রেন ও তুরস্কের মতো অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সামরিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হিলি ফোরাম ২০২৬-এ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এর অর্থ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ও আস্থাভিত্তিক অংশীদারত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং শক্তির উৎস হিসেবে থাকবে। নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব বজায় রাখা পরস্পরবিরোধী নয় বলেও তিনি জানান। গারগাশ বলেন, ইরান তাদের প্রতিবেশী দেশ এবং কোনো এক পর্যায়ে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজে বের করতে হবে। ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর সম্পর্ক পুনর্গঠন করা এবং ভেঙে যাওয়া আস্থা পুনর্গঠন করা এক বিষয় নয়। তার মতে, সম্পর্ক পুনর্গঠন প্রয়োজনীয় হলেও আস্থা ফিরিয়ে আনা অনেক বেশি কঠিন হবে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছে। একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি ও জনগণের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় মার্কিন চাপের প্রভাব যেন তাদের ওপর বড় ধরনের ক্ষতি না করে, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সীমিত পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। এর একটি ছিল দেশটির প্রধান তেল টার্মিনাল খার্গ দ্বীপের কাছে। এর আগে ইরান দুটি মার্কিন নৌযানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে, নতুন করে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা কম। এর পরিবর্তে নৌ অবরোধ ও একাধিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক চাপ ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারাও সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনীতিতে চাপের কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু আলোচনায় আগ্রহ বাড়ানোর পরিবর্তে দেশটি হামলা ও কঠোর বক্তব্য আরও বাড়িয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির উপদেষ্টা মাজেদ আল-আনসারি বলেন, সংকটটি ধীরে ধীরে নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাই এখন বড় হুমকি। তার মতে, পরিস্থিতিকে আর শুরু ও শেষের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা সাময়িক সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি ইরানের ওপর কাঙ্ক্ষিত প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। কারণ ইরান দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করে আসছে এবং নতুন চাপ উল্টো দেশটির মানুষের মধ্যে ঐক্য বাড়াতে পারে। যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রেও বড় বাধা রয়েছে বলে মনে করেন আল-আনসারি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কিংবা ইরান, কোনো পক্ষই যুদ্ধে নিজেদের ব্যর্থ হিসেবে দেখাতে চায় না। ফলে উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য ফল নির্ধারণ করে যুদ্ধ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জোট গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা যথেষ্ট নয়। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ বলে তিনি মন্তব্য করেন। যুদ্ধের প্রভাব শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই। হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে খাদ্য, জ্বালানি ও সার পণ্যের দাম বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ওমান হরমুজ প্রণালির বাইরে থাকা বন্দর ব্যবহার করে তেল রপ্তানি এবং অন্যান্য পণ্য আমদানি চালিয়ে যেতে পারছে। অন্যদিকে কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো বেশি সমস্যায় পড়েছে, কারণ তাদের এমন স্থলসীমান্ত নেই, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সহজে পণ্য পরিবহন করা যায়। কাতারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়েছে। আল-আনসারি বলেন, একটি ড্রোন হামলার মাধ্যমে ইরান কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৭০ শতাংশ অচল করে দিতে সক্ষম হয়েছিল। কাতারের এই গ্যাস সরবরাহ বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশের সমান। যুদ্ধ থেকে সামুদ্রিক শক্তির সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ভাইস অ্যাডমিরাল জন ডব্লিউ. মিলার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ও পঞ্চম নৌবহরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী স্থল ও সমুদ্রে ইরানের উল্লেখযোগ্য লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সাফল্য পেলেও ইরান থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এখনও হরমুজ প্রণালিতে পৌঁছাতে পারছে। মিলার বলেন, সামরিক সাফল্য থাকলেও এর সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তিনি সোমালিয়ার জলদস্যুদের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ছোট নৌযান ব্যবহার করেও তারা বড় পণ্যবাহী জাহাজ দখল করে জিম্মি করতে এবং মুক্তিপণ দাবি করতে সক্ষম হয়েছিল। তার মতে, সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এখন কী করা সম্ভব, তা নতুন করে বিবেচনা করতে হবে। হুমকি শুধু হরমুজ প্রণালিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বাব আল-মান্দাব প্রণালিতেও রয়েছে। ওই এলাকাতেও হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বাড়ছে। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতা ‘বোর্নিও আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতা (বিআইআইসিসি) ২০২৬’-এর আন্তর্জাতিক পর্বে জোড়া সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ উদ্ভাবক আব্দুল্লাহ আলিম। নিজের উদ্ভাবনী প্রকল্প ‘বিন টু বেনিফিট’-এর জন্য তিনি প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন বিআইআইসিসি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পরিবেশ পুরস্কার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংসভিত্তিক প্রকল্প আব্দুল্লাহ আলিমের উদ্ভাবিত ‘বিন টু বেনিফিট’ মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিভিন্ন ধরনের সেন্সর এবং ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তিনির্ভর একটি স্মার্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মডেল। প্রকল্পটির মাধ্যমে স্মার্ট ডাস্টবিনে জমা হওয়া বর্জ্যের পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডাস্টবিনের অবস্থান ও তথ্য অনুসরণ করা এবং উৎস পর্যায়েই বর্জ্য পৃথকীকরণের ব্যবস্থা করার ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ মানুষকে সঠিকভাবে বর্জ্য ফেলতে উৎসাহিত করতে প্রকল্পটিতে ‘গ্রিন কয়েন’ পুরস্কার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণকারী নাগরিকদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব আচরণে উৎসাহিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের সাফল্যের পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এর আগে বিআইআইসিসি ২০২৬-এর জাতীয় পর্যায়েও ‘বিন টু বেনিফিট’ প্রকল্পের জন্য স্বর্ণপদক অর্জন করেন আব্দুল্লাহ আলিম। জাতীয় পর্যায়ের এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তিনি আন্তর্জাতিক পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বর্ণপদকের পাশাপাশি পরিবেশবিষয়ক পুরস্কার অর্জন তাঁর প্রকল্পের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সম্ভাব্য অবদানকেও স্বীকৃতি দিয়েছে। তরুণ উদ্ভাবকের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই অর্জন প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ আলিম বলেন, “এই অর্জন কেবল আমার একার নয়, এটি বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণের স্বপ্ন, সাহস ও সম্ভাবনার প্রতিফলন।” আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা তুলে ধরতে পেরে গর্বিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে দেশের তরুণরা প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারবেন। ‘বিন টু বেনিফিট’ প্রকল্পে প্রযুক্তি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক অংশগ্রহণকে একসঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পাওয়া এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের তরুণদের উদ্ভাবনী সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের তীব্র সংকট তৈরি হলেও দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার সাশ্রয়ী হিসেবে চিহ্নিত আবাসন ইউনিট খালি পড়ে আছে। অস্টিন, ডেনভার ও পোর্টল্যান্ডের মতো শহরে এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যেখানে কম আয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত কিছু বাড়ি ভাড়াটে পাচ্ছে না। কারণ, এসব আবাসনের ভাড়া অনেক দরিদ্র মানুষের সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে। ফলে একদিকে সবচেয়ে কম আয়ের মানুষ বাসস্থানের জন্য সংগ্রাম করছেন, অন্যদিকে তাদের জন্য নির্ধারিত কিছু ইউনিট খালি থাকছে। টেক্সাসের অস্টিনে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ম্যাথিউ ডেভিস নিজের একটি অ্যাপার্টমেন্ট চান। কিন্তু রক্তের প্লাজমা দান করে মাসে কয়েকশ ডলার আয় করা ডেভিসের জন্য মাসে ৪৫০ ডলারের একটি ছোট ঘরের ভাড়াও বহন করা কঠিন। ওই ছোট ঘরটিতে পানির সরবরাহ নেই এবং বাথরুমও যৌথভাবে ব্যবহার করতে হয়। অথচ অস্টিনে শহর কর্তৃপক্ষের হিসাবে সাশ্রয়ী আবাসন হিসেবে চিহ্নিত ৪ হাজার ৫০০টির বেশি ইউনিট খালি পড়ে আছে, যা মোট ইউনিটের প্রায় ১৬ শতাংশ। এই বৈষম্যের বড় কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থায়ন পাওয়া নিম্নআয়ের আবাসনের বড় অংশ এমন মানুষের জন্য তৈরি হয়েছে, যাদের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ বা তার বেশি। কিন্তু সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের আয় তার চেয়ে অনেক কম। ফলে কাগজে-কলমে এসব বাড়ি সাশ্রয়ী হিসেবে বিবেচিত হলেও দেশের সবচেয়ে কম আয়ের মানুষের কাছে সেগুলো বাস্তবে সাশ্রয়ী নয়। কিছু শহরে এসব ইউনিটের ভাড়া বাজারদরের কাছাকাছি চলে আসায় খালি থাকার হারও বেড়েছে। ন্যাশনাল লো ইনকাম হাউজিং কোয়ালিশনের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত কম আয়ের ১ কোটি ১০ লাখ ভাড়াটে পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী ও খালি থাকা ভাড়ার আবাসনের ঘাটতি ৭২ লাখ। অর্থাৎ প্রতি ১০০টি অত্যন্ত কম আয়ের ভাড়াটে পরিবারের বিপরীতে এমন আবাসন রয়েছে মাত্র ৩৫টি। এই শ্রেণির মানুষের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার নিচে অথবা তাদের এলাকার মধ্যম আয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে, যেটি বেশি। এই পরিবারগুলোর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ তাদের আয়ের অর্ধেকের বেশি বাড়িভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ব্যয় করে। ফলে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের জন্য তাদের হাতে খুব কম অর্থ থাকে। এর মধ্যে রয়েছেন কম বেতনের চাকরিজীবী, প্রবীণ এবং নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও। সবচেয়ে কম আয়ের ভাড়াটেদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্য ও বড় মহানগর এলাকাতেই রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাশ্রয়ী আবাসন তৈরিতে ব্যবহৃত ফেডারেল নিম্নআয়ের আবাসন কর সুবিধা কর্মসূচির আওতায় ২০২৪ সালে অর্থায়ন পাওয়া ইউনিটগুলোর মাত্র প্রায় ১২ শতাংশ অত্যন্ত কম আয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত ছিল। অধিকাংশ ইউনিট এমন মানুষের জন্য তৈরি হয়েছে, যাদের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ। অস্টিনে উদাহরণ হিসেবে, একক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এলাকার মধ্যম আয়ের ৫০ শতাংশ পর্যায়ের আয় প্রায় ৪৭ হাজার ডলার, যেখানে অত্যন্ত কম আয়ের একজনের আয় ২৮ হাজার ডলারের নিচে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, সাশ্রয়ী আবাসন তৈরির বর্তমান ব্যবস্থা জটিল এবং ভাড়া ভাউচারের তুলনায় বেশি ব্যয়বহুল। অন্যদিকে কিছু আবাসন বিশেষজ্ঞের মতে, কর সুবিধার মাধ্যমে তৈরি আবাসন ও ভাড়া ভাউচার একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তবে ভাড়া ভাউচারের ক্ষেত্রেও বড় ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, যোগ্য পরিবারগুলোর মাত্র চারটির মধ্যে একটি পরিবার ভাড়া ভাউচার পায় এবং অনেক ক্ষেত্রে অপেক্ষার তালিকায় থাকতে হয় বছরের পর বছর। অস্টিনে এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশ পর্যায়ের মানুষের জন্য তৈরি সাশ্রয়ী আবাসনের ভাড়া বাজারদরের কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে কিছু মানুষ সামান্য বেশি ভাড়া দিয়ে বাজারদরের অ্যাপার্টমেন্টে উঠতে আগ্রহী হচ্ছেন, কারণ সেখানে আয় যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুত। বিপরীতে সাশ্রয়ী আবাসনের আবেদনকারীদের ব্যাংক হিসাব, বেতন, বিলসহ বিভিন্ন আর্থিক তথ্য যাচাই করা হয়। ডেনভারে ফেডারেল কর সুবিধা কর্মসূচির আওতায় এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশ পর্যায়ের ইউনিটে খালি থাকার হার ১৩ শতাংশ এবং ৮০ শতাংশ পর্যায়ের ইউনিটে ২১ শতাংশ। পোর্টল্যান্ডে ১ হাজার ৭০০টির বেশি সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট খালি রয়েছে। সেখানে এসব ইউনিটের বড় অংশ এমন মানুষের জন্য নির্ধারিত, যাদের আয় এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। অস্টিনে ২০১৮ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে অত্যন্ত কম আয়ের মানুষের জন্য ২০ হাজার আবাসন ইউনিট তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৈরি হয়েছে মাত্র ৫৪৩টি। বিপরীতে এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যায়ের মানুষের জন্য পরিকল্পিত ১৫ হাজার ইউনিটই নির্মাণ করা হয়েছে। শহরের আবাসন বিভাগ জানিয়েছে, সবচেয়ে কম আয়ের মানুষের জন্য আরও আবাসন তৈরির প্রয়োজন তারা স্বীকার করছে এবং ৩০ শতাংশ মধ্যম আয় পর্যায়ের মানুষের জন্য ইউনিটসহ প্রকল্পে অর্থায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ম্যাথিউ ডেভিসের মতো মানুষের কাছে এই পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। গাড়িতে এক বছর বসবাস করার পর অস্টিনের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার সুযোগ পাওয়া ডেভিস এমন একটি জায়গা চান, যেখানে রাতে দরজা বন্ধ করে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন। কিন্তু সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ঘাটতি এবং বিদ্যমান সাশ্রয়ী আবাসনের ভাড়া ও আবেদন প্রক্রিয়ার কারণে সেই সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
যুক্তরাষ্ট্রের সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য একাধিক পরিবারভিত্তিক ও চাকরিভিত্তিক অভিবাসী ভিসা শ্রেণিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে এফ-১, এফ-২এ, এফ-২বি, এফ-৩ ও এফ-৪ শ্রেণিতে অগ্রাধিকারের তারিখ এগিয়েছে। বাংলাদেশকে আলাদা কোনো দেশের তালিকায় রাখা হয়নি। তাই বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হয়েছে আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত নয় এমন দেশগুলোর সাধারণ শ্রেণির তারিখ। আগস্টের তুলনায় এফ-১ শ্রেণিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে এগিয়ে ২২ জানুয়ারি ২০২০ হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ১৩ মাসের বেশি অগ্রগতি হয়েছে। এই শ্রেণিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত ছেলে-মেয়েরা অন্তর্ভুক্ত। এফ-২এ শ্রেণিতেও অগ্রগতি হয়েছে। আগস্টে যেখানে তারিখ ছিল ২২ জুলাই ২০২৬, সেপ্টেম্বরে তা এগিয়ে হয়েছে ২২ আগস্ট ২০২৬। এই শ্রেণিতে স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানরা অন্তর্ভুক্ত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেপ্টেম্বরের আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের তালিকায় এফ-২এ শ্রেণি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এফ-২বি শ্রেণিতে আগস্টের ১ জানুয়ারি ২০১৮ থেকে তারিখ এগিয়ে ২২ আগস্ট ২০১৯ হয়েছে। এফ-৩ শ্রেণিতে ১৫ মে ২০১২ থেকে এগিয়ে ২২ অক্টোবর ২০১৪ এবং এফ-৪ শ্রেণিতে ১ সেপ্টেম্বর ২০০৯ থেকে এগিয়ে ২২ অক্টোবর ২০১১ হয়েছে। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য কয়েক বছর পর্যন্ত অগ্রগতি দেখা গেছে। চাকরিভিত্তিক অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিদের জন্য পরিস্থিতি ইতিবাচক। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং পঞ্চম শ্রেণির সাধারণ অংশে সেপ্টেম্বরে ভিসা নম্বর পাওয়ার সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ অপরিবর্তিত রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির তারিখ আগস্টের ১৫ অক্টোবর ২০২২ থেকে এগিয়ে ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ হয়েছে। তবে ভিসা বুলেটিনে তারিখ এগিয়ে যাওয়াকে সরাসরি ভিসা পাওয়া নিশ্চিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। একজন আবেদনকারীর অগ্রাধিকারের তারিখ সংশ্লিষ্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখের আগের হতে হবে। এছাড়া আবেদনকারীর কাগজপত্র, আবেদন প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। এবারের বুলেটিনে কেন এত অগ্রগতি হয়েছে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার হার কমে যাওয়ায় ২০২৬ অর্থবছরে অন্য দেশগুলোর আবেদনকারীদের জন্য বরাদ্দ থাকা ভিসা সংখ্যা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন অভিবাসী ভিসা শ্রেণির তারিখ এগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়লে ভবিষ্যতে এসব তারিখ আবার পিছিয়েও যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য আরেকটি ইতিবাচক পরিবর্তন হলো, জানুয়ারি ২০২৬ সালে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ওপর যে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছিল, আদালতের আদেশের পর ২১ আগস্ট থেকে সেটি আর কার্যকর নেই। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকরা আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য বেশ ইতিবাচক। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক একাধিক শ্রেণিতে অগ্রাধিকারের তারিখ কয়েক বছর পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা অনেক পরিবারের জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নিজের অগ্রাধিকারের তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা শ্রেণির সর্বশেষ তারিখ মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৮ সালের ৪২তম ফোবানা হোস্ট করবে মিশিগানের সবচেয়ে সুসংগঠিত সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগান। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগান প্রতিবছর মিশিগানে দুই দিনের বড় ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করে থাকে। সেই ফেস্টিভ্যালে ১০ থেকে ১৫ হাজার প্রবাসী অংশ নেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর ৪০তম লস অ্যাঞ্জেলেস ফোবানার এজিএমে ৪২তম ফোবানার হোস্ট হিসেবে বিএএম নির্বাচিত হয়। মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার কয়েকটি সংগঠন ৪২তম ফোবানার হোস্ট হওয়ার আগ্রহ দেখালেও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানকে সবাই ৪২তম ফোবানার হোস্ট হিসেবে নির্বাচিত করেন। এজিএমে বিএএমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি জাবেদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জনাব নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক তাহমিদ, অ্যাডভাইজার সুমন কবির ও ইঞ্জিনিয়ার আহাদ চৌধুরী। ২০২৭ সালের ৪১তম ফোবানা হবে হিউস্টনে। বিএএমের সভাপতি জাবেদ চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন ধরে মিশিগানে মানসম্পন্ন ফোবানা হচ্ছে না। মিশিগানে লাখের ওপর প্রবাসী বসবাস করেন। নিউইয়র্কের পর সবচেয়ে বড় প্রবাসীবান্ধব জনপদ মিশিগান। আমরা এবার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে এজিএমে এসেছিলাম। আমাদের ৪২তম ফোবানার পুরো পরিকল্পনা আমরা নিয়ে এসেছি এবং উপস্থাপন করেছিলাম। সবচেয়ে বড় ভেন্যুসহ একটি চমৎকার ফোবানা করার প্রস্তুতি আমাদের। আমরা হিউস্টনের মতোই ২০২৮ সালের ৪২তম ফোবানা করতে পারব। এই আশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে ইসি আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা এর পূর্ণ মর্যাদা রাখব। আগাম শুধু এটাই বলব, আমাদের ফোবানা মানসম্মত হবে। অতীতে যতগুলো ভুল হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি হবে না। সবাই সহযোগিতা করবেন। মিশিগানে এলে সবাই পাশের কানাডা ঘুরে যাবেন। আমরা সব ধরনের ট্যুরের ব্যবস্থা রাখব। বিএএমের অ্যাডভাইজার সুমন কবির জানান, মিশিগানে আমাদের ক্রাউডের জন্য চিন্তা করতে হয় না। আমাদের একটি মানসম্পন্ন ফোবানা উপহার দেওয়ার যে সুযোগ দিয়েছেন, আমরা তা বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে করে দেখাব। বিএএমের সাধারণ সম্পাদক জনাব নয়ন বলেন, কোনো মিথ্যা আশ্বাস বা ভুল প্রচারণা বিএএম করবে না। আমরা একটি কোয়ালিটি ফোবানা উপহার দেব।
বিশ্বজুড়ে পরোক্ষ ধূমপানের ভয়াবহ প্রভাবে প্রতি বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ২০২৩ সালে বিশ্বের ২ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে এসেছেন। তাদের মধ্যে শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু ছিল প্রায় ৭৬ কোটি ৭০ লাখ। দ্য ল্যানসেট সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, তামাক বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। ২০২৩ সালে ধূমপানজনিত রোগে মারা যাওয়া আনুমানিক ৮০ লাখ মানুষের মধ্যে এমন অনেক অধূমপায়ীও ছিলেন, যারা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়েছেন। প্রতিবেদনে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শকে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের ২০৪টি দেশ ও ভূখণ্ডে পরোক্ষ ধূমপানের প্রাদুর্ভাব এবং এর ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির পরিমাণ নির্ধারণ করতে গবেষণাটি করা হয়েছে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের পাবমেড ডাটাবেস এবং জনসংখ্যা জরিপের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষণায় ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসা মানুষের সংখ্যা এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে, ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ১৬ লাখ ৬০ হাজার অকালমৃত্যু ঘটেছে। একই সঙ্গে এটি অকাল পঙ্গুত্ব ও বিভিন্ন রোগের কারণ হয়েছে। এসব রোগের মধ্যে হৃদপিণ্ডের পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহের অভাবে সৃষ্ট ইসকেমিক হার্ট ডিজিজও রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে আনুমানিক ৫২ লাখ শিশুর শ্বাসনালির সংক্রমণ হয়েছে। গবেষণায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ধূমপায়ীর কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিরা একই সময়ে দুটি উৎস থেকে ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসেন। এর একটি হলো তামাকজাত পণ্য পোড়ার ফলে সরাসরি নির্গত ধোঁয়া, যাকে সাইডস্ট্রিম স্মোক বলা হয়। অন্যটি হলো ধূমপায়ীর বুক থেকে বের হওয়া ধোঁয়া। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সাইডস্ট্রিম স্মোক বা তামাকজাত পণ্য পোড়ার সরাসরি ধোঁয়াই সাধারণত অধূমপায়ীদের নেওয়া বাতাসের অধিকাংশ অংশজুড়ে থাকে। এই ধোঁয়া ফিল্টার করা থাকে না। ফলে এতে ধূমপায়ী নিজে যে ধোঁয়া গ্রহণ করেন, তার চেয়েও বেশি ঘনত্বের বিষাক্ত ও ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান থাকে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ধূমপান না করেও আশপাশে থাকা মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েন। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ১৯৯০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ধূমপানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে পরোক্ষ ধূমপানের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এর সংস্পর্শে আসা মানুষের মোট সংখ্যা অপরিবর্তিতই রয়েছে। অর্থাৎ ধূমপানের হার কমলেও পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসা মানুষের মোট সংখ্যা একইভাবে কমেনি। নারীরাও পরোক্ষ ধূমপানের মাধ্যমে আনুপাতিক হারের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে নারীদের মধ্যে ধূমপানের হার কম, সেখানে পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাব বেশি দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরোক্ষ ধূমপানের এই বড় ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য এটি অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে খুব কমই স্বীকার বা আলোকপাত করা হয়। নারী ও শিশুদের পরোক্ষ ধূমপানের হাত থেকে আরও কার্যকরভাবে রক্ষার জন্য জনপরিসর এবং বাসাবাড়িতে আরও কঠোর তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে গবেষণাটি। গবেষণায় পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসা মানুষের সংখ্যা, এর সঙ্গে সম্পর্কিত অকালমৃত্যু, শিশুদের শ্বাসনালির সংক্রমণ এবং নারী ও শিশুদের ওপর এর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।
জার্মানির রাউডারফেনে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছয় বছরের কিলিয়ানের ছোট্ট একটি ইচ্ছা পূরণ করতে ২০২১ সালের জুলাইয়ে তার বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিলেন ১৫ হাজারেরও বেশি মোটরসাইকেল আরোহী। মোটরসাইকেলের প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকা কিলিয়ান জানালা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেই বিশাল বহর দেখেছিল, শুনেছিল প্রিয় বাইকের গর্জন। কিলিয়ানের ইচ্ছা ছিল খুব সাধারণ। সে চেয়েছিল, অনেকগুলো মোটরসাইকেল তার বাড়ির সামনে দিয়ে যাবে এবং সে সেগুলো দেখতে ও ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পারবে। পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ইচ্ছার কথা জানালে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জার্মানির বিভিন্ন এলাকা থেকে বাইকাররা রাউডারফেনে ছুটে আসেন। ২৪ জুলাই ২০২১-এ শুরু হয় ‘কিলিয়ানের জন্য গর্জন’ নামে ওই বিশেষ আয়োজন। পুলিশ জানিয়েছিল, এতে প্রায় ১৫ হাজার বাইকার অংশ নেন। কেউ কেউ ১০ থেকে ২০ হাজারের মতো অংশগ্রহণকারীর হিসাবও দিয়েছিলেন। বিশাল বহরটি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যাত্রা শুরু করে এবং প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে একের পর এক মোটরসাইকেল কিলিয়ানের বাড়ির সামনে দিয়ে যায়। মোটরসাইকেলের পাশাপাশি সেখানে ছিল কোয়াড, ট্রাইক, স্কুটার ও অন্যান্য দুই চাকার যান। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ হাততালি দিয়ে বাইকারদের স্বাগত জানান। কিলিয়ানও বাড়ির জানালা থেকে দীর্ঘ সময় ধরে সেই দৃশ্য দেখেছিল। তার বাবা এই বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন। কিলিয়ান তখন দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল। মোটরসাইকেল ছিল তার সবচেয়ে বড় ভালোবাসাগুলোর একটি। তাই হাজার হাজার অপরিচিত মানুষের এই উদ্যোগ তার জন্য ছিল জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। তবে সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৭ আগস্ট ২০২১, আয়োজনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর, ছয় বছর বয়সী কিলিয়ান ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মারা যায়। তার চলে যাওয়ার পরও ‘কিলিয়ানের জন্য গর্জন’ আয়োজনটি মানুষের মনে দাগ কেটে যায়। একটি শিশুর শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে রাস্তায় নেমে আসার সেই ঘটনা আজও মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে শীতলতার মধ্যে আগস্টে বড় ৫০টি মহানগরের ৩৬টিতে বাড়ির প্রতি বর্গফুটের মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে অস্টিনে, যেখানে দাম কমেছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। এরপর রয়েছে টাম্পা ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মেমফিস ৪ দশমিক ১ শতাংশ। উচ্চ বন্ধকি ঋণের সুদহার, বাড়ির বাড়তি সরবরাহ এবং করোনাভাইরাস মহামারির পর বাজারের পুনর্বিন্যাসের কারণে এসব এলাকায় দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। রিয়েলটর ডটকমের আগস্টের আবাসন বাজারের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে বাড়ির প্রতি বর্গফুটের দাম টানা ১০ম মাসের মতো বার্ষিক হিসাবে কমেছে। জাতীয়ভাবে এই দাম গত বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, দক্ষিণাঞ্চলে ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পশ্চিমাঞ্চলে ২ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে দাম অপরিবর্তিত ছিল। শীর্ষ ৫০টি মহানগরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে অস্টিন-রাউন্ড রক-সান মারকোস এলাকায়। সেখানে প্রতি বর্গফুটের মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৮ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। টাম্পা-সেন্ট পিটার্সবার্গ-ক্লিয়ারওয়াটারে প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সেখানে মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৫০ ডলার। মেমফিসে প্রতি বর্গফুটের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৫ ডলার। এ তালিকায় এরপর রয়েছে সান ফ্রান্সিসকো-অকল্যান্ড-ফ্রেমন্ট, যেখানে প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। ওই এলাকার মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৯ লাখ ৮ হাজার ৭০০ ডলার। সান অ্যান্টোনিও-নিউ ব্রাউনফেলসে দাম কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ ডলার। ডেনভার-অরোরা-সেন্টেনিয়ালে প্রতি বর্গফুটের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৩ ডলারে। বাল্টিমোর-কলাম্বিয়া-টাওসনে প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। সান ডিয়েগো-চুলা ভিস্তা-কার্লসবাডে কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৮ লাখ ৯৯ হাজার ডলার। অরল্যান্ডো-কিসিমি-স্যানফোর্ডে কমেছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৪ লাখ ১৭ হাজার ডলার। পোর্টল্যান্ড-ভ্যাঙ্কুভার-হিলসবোরো এলাকায় প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৫ লাখ ৯৫ হাজার ডলার। রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেল বলেন, অস্টিন, টাম্পা, সান অ্যান্টোনিও ও ডেনভারের মতো বাজারে ২০২০ থেকে ২০২২ সালের আবাসন বাজারের দ্রুত উত্থানের পর এখন মহামারির সময়ের মূল্যবৃদ্ধির একটি অংশ কমে আসছে। এসব এলাকায় মহামারির আগের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়ির মজুতও বেশি রয়েছে। ফলে বিক্রেতাদের আগের তুলনায় আরও বাস্তবসম্মত দামে বাড়ি তালিকাভুক্ত করতে হচ্ছে। সান ফ্রান্সিসকোতে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। সেখানে প্রতি বর্গফুটের তালিকাভুক্ত দাম ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমলেও জুলাইয়ে সক্রিয় বাড়ির তালিকা আগের বছরের তুলনায় ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছিল। শহরটির মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দামও গত বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৯ লাখ ৮ হাজার ৭০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ক্রিমেলের মতে, সেখানে দামের পরিবর্তনের পেছনে বাজারে আসা বাড়ির ধরনও ভূমিকা রাখছে। ফ্রেমন্ট এলাকার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ভেরোনিকা পিটার বলেন, প্রযুক্তি খাতের পরিবর্তনও সান ফ্রান্সিসকো এলাকার আবাসন বাজারে প্রভাব ফেলছে। ওই এলাকার অনেক কর্মী প্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন ও কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে কিছু ক্রেতা চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এর সঙ্গে উচ্চ সুদের হার এবং প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দরপতনও বাড়ি কেনার জন্য রাখা অর্থের ওপর চাপ তৈরি করেছে। রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বাজারে বাড়ির দামের নিম্নমুখী সমন্বয় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ি কেনার সামর্থ্যের সমস্যায় থাকা সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করছে। দেশজুড়ে সক্রিয় বাড়ির মজুতও বাড়ছে এবং ২০১৯ সালের শেষের পর দেখা যায়নি এমন মাত্রার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে। ফলে বিক্রেতাদের তুলনামূলক বেশি বেছে নেওয়া ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নিজেদের দাম নির্ধারণের কৌশল নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। তবে এসব বাজারে বাড়ির দাম কমার প্রবণতা সাময়িক নাকি আরও বড় আঞ্চলিক পরিবর্তনের সূচনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সামনে বন্ধকি ঋণের সুদহারে সম্ভাব্য পরিবর্তন শরৎকালীন বাড়ি কেনাবেচার মৌসুমে বাজারের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: রিয়েলটর ডটকম
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় সাড়ে ১৩ বছর ধরে কারাগারে থাকা নিরাপত্তাপ্রহরী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবীর এনামুলের জামিন ও মুক্তি চেয়েছে নিহত দম্পতির পরিবার। মামলার তদন্তে তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ কারাবাসের কারণে এনামুল বর্তমানে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। ওই ভবনের নিরাপত্তাপ্রহরী ছিলেন এনাম আহমেদ। হত্যাকাণ্ডের পর তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে এনামুলের বিরুদ্ধে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০২৬ সালের ২২ এপ্রিল কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি, অনেক কিছু মনে করতে পারছিলেন না এবং এলোমেলো উত্তর দিচ্ছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে তার মানসিক ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন বন্দি থাকার কারণে এনামুল মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। বর্তমানে তাকে সাধারণ বন্দিদের থেকে আলাদা একটি ওয়ার্ডে রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রুনির ভাই নওশের আলম বলেছেন, প্রকৃত অপরাধীদের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে বিচার নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে এনামুলের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না থাকায় তাকে জামিনে মুক্তি দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ১২৮তমবারের মতো পিছিয়ে ২৭ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিল ২০৩২ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ট্যাক্স বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলছেন। দীর্ঘদিন ধরে ট্যাক্স বাড়ানোর বিরোধিতা করে আসা রিপাবলিকানদের মধ্যে এই অবস্থান পরিবর্তন এসেছে এমন এক সময়ে, যখন সোশ্যাল সিকিউরিটির ঘাটতি এত বড় ও জরুরি হয়ে উঠেছে যে শুধু ভবিষ্যৎ সুবিধা কমিয়ে সংকট মোকাবিলা করা কঠিন বলে মনে করছেন কয়েকজন আইনপ্রণেতা। কংগ্রেস ব্যবস্থা না নিলে ছয় বছরের মধ্যে লাখো সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীর অর্থপ্রদান ২২ শতাংশ কমে যেতে পারে। ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের সঙ্গে যৌথভাবে বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। এর ফলে উচ্চ আয়ের মানুষদের কর্মসূচিতে আরও বেশি অর্থ দিতে হবে। একই সময়ে প্রতিনিধি পরিষদের অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির চেয়ারম্যান টম কোলও ট্যাক্সের হার এবং ট্যাক্সের আওতায় থাকা আয়ের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। কোল বলেছেন, সোশ্যাল সিকিউরিটির সংকট সমাধানে বর্তমান আয়ের সীমা বা ট্যাক্সের হারের মধ্যেই আটকে থাকার প্রয়োজন নেই। তিনি ট্যাক্সের হার পরিবর্তন এবং ট্যাক্সের আওতায় থাকা আয়ের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনার পক্ষে। তার মতে, সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা কমানোর রাজনৈতিক ক্ষতি ট্যাক্স বাড়ানোর তুলনায় আরও বড় হতে পারে। তহবিল ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে মানুষ নিজেদের প্রতারিত মনে করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। সোশ্যাল সিকিউরিটি যুক্তরাষ্ট্রের ৭ কোটির বেশি মানুষকে মাসিক নগদ সুবিধা দেয়। এটি দেশটির ৭ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ফেডারেল বাজেটের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি। চলতি বছর এই কর্মসূচিতে ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হওয়ার কথা। কর্মীরা ৬২ বছর বয়স থেকে সুবিধা নেওয়া শুরু করতে পারেন, আর পূর্ণ অবসর গ্রহণের বয়স ৬৭ বছর। কর্মসূচিটি বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়। কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়েই ৬ দশমিক ২ শতাংশ করে ট্যাক্স দেন। বছরের পর বছর বার্ষিক ট্যাক্স সংগ্রহ সুবিধা প্রদানের ব্যয়ের চেয়ে বেশি থাকায় সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিলে উদ্বৃত্ত জমেছিল। কিন্তু বেবি বুম প্রজন্ম অবসরে যাওয়ার পর হিসাব বদলে গেছে। এখন সোশ্যাল সিকিউরিটি যে পরিমাণ ট্যাক্স সংগ্রহ করছে, তার চেয়ে বেশি অর্থ সুবিধা হিসেবে দিচ্ছে। ফলে ঘাটতি পূরণে তহবিলের সঞ্চিত অর্থ ব্যবহার করতে হচ্ছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিল ২০৩২ সালে শেষ হয়ে যেতে পারে। এরপর কর্মসূচিটিকে শুধু তখনকার সময়ে সংগৃহীত ট্যাক্সের ওপর নির্ভর করতে হবে। কংগ্রেস কোনো ব্যবস্থা না নিলে গড়ে মাসিক সুবিধা প্রায় ৪৪০ ডলার কমে যেতে পারে বলে বাইপার্টিজান পলিসি সেন্টারের হিসাব। সংস্থাটির হিসাবে, ২০৩৩ সালেই ঘাটতি পূরণ করতে ৪৫৯ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ ব্যয় কমানো অথবা নতুন রাজস্বের প্রয়োজন হবে। পরবর্তী বছরগুলোতে এই প্রয়োজন আরও বাড়বে। মোরেনো ও ওয়ারেনের প্রস্তাবে উচ্চ আয়ের কর্মীদের পুরো আয়ের ওপর বেতনভিত্তিক সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স আরোপের কথা বলা হয়েছে। তাদের যুক্তি, মধ্যবিত্ত একজন নার্সের তুলনায় একজন ধনী করপোরেট আইনজীবী কেন নিজের আয়ের ছোট অংশে ট্যাক্স দেবেন, সেই প্রশ্নের সমাধান প্রয়োজন। তাদের উদ্ধৃত একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ রিপাবলিকান বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার পক্ষে। দায়িত্বশীল ফেডারেল বাজেট কমিটির হিসাবে, উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য ট্যাক্সের সীমা তুলে দিয়ে তাদের সুবিধা না বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির ঘাটতির অর্ধেকেরও বেশি পূরণ করা সম্ভব হতে পারে। তবে জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের মারকাটাস সেন্টারের গবেষক চার্লস ব্লাহাসসহ কয়েকজন এই পদ্ধতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, এতে কর্মীদের দেওয়া ট্যাক্স এবং ভবিষ্যতে পাওয়া সুবিধার মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে কেউ কেউ আরও বেশি ট্যাক্স আরোপের পক্ষে। রোড আইল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেলডন হোয়াইটহাউস বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের সীমা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি ধনী পরিবারের বিনিয়োগ আয়ের ওপর ট্যাক্স আরোপ এবং ব্যবসার মালিকদের ব্যক্তিগত ট্যাক্স কমানোর সুযোগ থাকা একটি ফাঁক বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। ২০২৩ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, তার প্রস্তাব অন্তত ৭৫ বছর সোশ্যাল সিকিউরিটির পুরো অর্থায়ন নিশ্চিত করার মতো রাজস্ব আনতে পারে। পেনসিলভানিয়ার রিপাবলিকান প্রতিনিধি লয়েড কে. স্মাকারও সোশ্যাল সিকিউরিটির সমাধানে অতিরিক্ত ট্যাক্স রাজস্বের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন। তিনি বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের মাধ্যমে কর্মসূচিতে আসা অর্থের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি ধনীদের জন্য সুবিধা কমিয়ে এবং নিম্ন আয়ের অবসরপ্রাপ্তদের সুরক্ষিত রাখার জন্য আয়ভিত্তিক সুবিধা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছেন। তবে রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্যাক্স বাড়ানোর বিরোধিতা এখনো রয়েছে। আমেরিকানস ফর ট্যাক্স রিফর্মের প্রতিষ্ঠাতা গ্রোভার নরকুইস্ট মনে করেন, রিপাবলিকানদের ব্যয় কমানোর দাবিতেই থাকা উচিত। তার মতে, ট্যাক্স বাড়ানোর পক্ষে গেলে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটারদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে পারেন রিপাবলিকানরা। সোশ্যাল সিকিউরিটি সংকট মোকাবিলায় ট্যাক্স বাড়ানোর ধারণা নতুন নয়। ১৯৮৩ সালে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান এবং ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার টিপ ও'নিল কর্মসূচিটিকে তৎকালীন দেউলিয়াত্বের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে বেতনভিত্তিক ট্যাক্স বাড়ানো এবং ধীরে ধীরে অবসর গ্রহণের বয়স বাড়ানোর মতো পদক্ষেপে একমত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়েও ট্যাক্সের সীমা বাড়ানো ও সুবিধা কমানোর বিভিন্ন প্রস্তাব সামনে এসেছে। সোশ্যাল সিকিউরিটি সংস্কারের আলোচনায় হোয়াইট হাউসের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। কোল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কর্মসূচিটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প কীভাবে প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানাননি। তিনি বলেছেন, তার নেতৃত্বে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থপ্রদানে কোনো কমতি হবে না। সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠার পর মাদারীপুরের ধুরাইল ইউনিয়নে অভিযুক্ত মনিরুল হাওলাদারের বাড়ি জনশূন্য হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে তার মা, ভাই ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হামলার ঘটনায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য বাড়িটিতে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে খালাসীকান্দি গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড ঘরগুলোর দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। বাড়িতে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তবে তারা ঠিক কোথায় গেছেন, তা তিনি জানেন না। মনিরুল হাওলাদার ধুরাইল ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে আসিবুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যান মনিরুল। অভিনেত্রী বাঁধন অভিযোগ করেছেন, ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে একটি পার্কে গেলে একদল ব্যক্তি তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও আঘাত করেন। তার শরীরে পানি ও কোমল পানীয় ছোড়া হয় এবং ফোন ফেলে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজনকে তাকে ঘিরে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট জুলকারনাইন সায়ের হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনের নাম প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে মনিরুল হাওলাদারের নামও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই বা ইতালির পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য মনিরুল প্রায় ২৮ লাখ টাকা খরচ করেছিলেন এবং এখনো সেই ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ হয়নি। তার দাবি, পরিবারের সদস্যরা মনিরুলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে একমত নন। ওবায়দুল বলেন, “ওর বিচার হোক, আমরা ওর সঙ্গে নেই। ওর মা-বোন-ভাই সবাই পালিয়েছে।” স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাওলাদার জানান, সকালে কয়েকজন ব্যক্তি মনিরুলের বাড়ির সামনে এসেছিলেন। তাদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাড়িতে হামলা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, খবর পাওয়ার পরই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ যাতে বাড়িঘরে হামলা করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। চেয়ারম্যানকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য জানানো হয়েছে। সূত্র: চ্যানেল ২৪
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি মানচিত্র পোস্ট করেছেন, যেখানে আইসল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশ ও অঞ্চলকে মার্কিন পতাকার আওতায় দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আইসল্যান্ডে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিলি লংকে তলব করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরইউভির (আরিউভি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার রাষ্ট্রদূত বিলি লংকে তলব করে আইসল্যান্ড। তিনি মাত্র গত মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে আইসল্যান্ডে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিয়েছেন। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা মানচিত্রটির সঙ্গে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলকে মার্কিন পতাকার নিচে দেখানো হয়েছে। পুরো ভূখণ্ডের ওপর লেখা ছিল ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা’। আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরইউভিকে জানিয়েছে, মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে ট্রাম্পের এই পোস্ট ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত’। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। কোপেনহেগেন ও রেইকিয়াভিকে থাকা মার্কিন দূতাবাস এবং নুকের মার্কিন কনস্যুলেট থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিকবার বলেছেন। এতে ন্যাটোর সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং ইউরোপজুড়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এদিকে গত মাসে আইসল্যান্ডের একটি গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানও ওই ভোটের পটভূমিতে আলোচনায় ছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বিষয়গুলোই ভোটের ফলাফলে বেশি প্রভাব ফেলেছে। ট্রাম্পের এই পোস্টের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউরোপীয় কমিশন গ্রিনল্যান্ডে ২০ কোটি ইউরো বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইনের গ্রিনল্যান্ড সফরের সময় এ ঘোষণা আসে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে সাংবাদিকদের বলেন, গ্রিনল্যান্ডের সরকার ও জনগণ বারবার স্পষ্ট করেছে যে তারা আমেরিকান হতে চান না। যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো বিশ্বের কারও এ বিষয়ে সন্দেহ থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় আইসিইর হাতে আটক হওয়ার পর রাস্তায় বা পার্কিং এলাকায় পড়ে থাকা অভিবাসীদের গাড়ি পরিবারের কাছে বিনামূল্যে ফিরিয়ে দিচ্ছেন টো ট্রাক ব্যবসায়ী হুয়ান লিওন। গত ডিসেম্বর থেকে তার ছোট দলটি প্রায় ২৫০টি গাড়ি উদ্ধার করে মালিকদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলে লিওন জানিয়েছেন। মিনেসোটার টুইন সিটিজ এলাকায় আইসিইর অভিযান বাড়ার পর গাড়ি ফেলে রেখে মানুষ আটক হওয়ার ঘটনা লিওনের নজরে আসে। অনেক গাড়ি দিনের পর দিন রাস্তায়, পার্কিং লটে বা বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকছিল। পরে এসব গাড়ি পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। কাজটি করতে লিওনের দলকে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবীরা তথ্য দেন। কোথায় গাড়ি পড়ে আছে, তারা তা জানালে লিওনের দলের একটি অনুসন্ধানী গাড়ি আগে সেখানে গিয়ে অবস্থান নিশ্চিত করে। এরপর টো ট্রাক নিয়ে গাড়িটি সরিয়ে পরিবারের কাছে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হয়। লিওনের মালিকানাধীন লিও’স টো ওয়েস্ট সেন্ট পলে অবস্থিত। তার দল অনেক ক্ষেত্রে কোনো টো বিল না নিয়েই গাড়ি ফিরিয়ে দেয়। শুরুতে স্থানীয়ভাবে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগটি পরে দেশজুড়ে মানুষের অনুদানের মাধ্যমে আরও বড় আকার নেয়। অনুদানের অর্থেই তারা নিয়মিত ব্যবসার পাশাপাশি দিনরাত এই সেবা চালিয়ে যেতে পারছেন। সাধারণত কোনো গাড়ি রাস্তায় পড়ে থাকলে সেটি টো করে ইমপাউন্ড লটে নেওয়া হতে পারে। সেখানে টো ও সংরক্ষণ ফি যোগ হওয়ায় পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি এড়াতেই লিওনের দল সরাসরি গাড়িগুলো পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। মিনিয়াপোলিস কর্তৃপক্ষও পরে আইসিইর হাতে আটক হওয়ার কারণে ইমপাউন্ড লটে যাওয়া গাড়ি মালিকদের বিনা খরচে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা ঘোষণা করে। তবে এই উদ্যোগের জন্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকিতে পড়েছেন লিওন। সিবিএস মিনেসোটাকে তিনি জানান, তার ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার পর টানা তিন সপ্তাহ ধরে তিনি মৃত্যুর হুমকি পাচ্ছিলেন। এরপরও তিনি ও তার দল গাড়ি ফেরত দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই উদ্যোগ শুধু গাড়ি ফেরানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। একটি ঘটনায় গাড়ির মালিকের খোঁজ করতে গিয়ে লিওন এমন এক পরিবারের সন্ধান পান, যেখানে আইসিইর হাতে বাবা-মা আটক হওয়ার পর শিশুরা একা ছিল। পরে তিনি তাদের আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন এবং পরিবারের খোঁজখবরও নেন। লিওনের এই উদ্যোগ মিনেসোটায় আইসিই অভিযানকে ঘিরে গড়ে ওঠা স্থানীয় সহায়তা কার্যক্রমের একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ব্যবসা ও কমিউনিটি সংগঠনও আটক হওয়া অভিবাসীদের পরিবারকে খাবার, পরিবহন ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার কাজে যুক্ত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে ভয়াবহ দাবানলের পর খাবারের সংকটে পড়া বিপন্ন ব্রাশ-টেইলড রক ওয়ালাবিদের বাঁচাতে হেলিকপ্টার থেকে আকাশপথে গাজর ও মিষ্টি আলু ফেলা হয়েছিল। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত চলা এই বিশেষ উদ্যোগে ১৪ হাজার ৫০০ কেজিরও বেশি খাবার পৌঁছে দেওয়া হয় ওয়ালাবিদের বিভিন্ন আবাসস্থলে। ২০১৯-২০ সালের ভয়াবহ দাবানলে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল পুড়ে যায়। আগুন থেকে অনেক রক ওয়ালাবি বেঁচে গেলেও তাদের প্রধান খাবারের উৎস হিসেবে থাকা গাছপালা ও অন্যান্য উদ্ভিদ ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে আগুন থেমে যাওয়ার পরও খাবারের অভাবে প্রাণীগুলো নতুন সংকটে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে নিউ সাউথ ওয়েলসের ন্যাশনাল পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জরুরি খাদ্য সরবরাহের উদ্যোগ নেয়। হেলিকপ্টারের পাশাপাশি গাড়ি, নৌকা ও পায়ে হেঁটেও দুর্গম এলাকায় খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। রাজ্যের এক ডজনের বেশি ওয়ালাবি কলোনিতে এই খাবার সরবরাহ করা হয়েছিল। গাজর ও মিষ্টি আলু বেছে নেওয়ার পেছনেও ছিল বিশেষ কারণ। এগুলো ওয়ালাবিদের খাদ্যচাহিদা মেটানোর পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশে ক্ষতিকর প্রভাব তৈরির ঝুঁকিও তুলনামূলক কম ছিল। প্রাকৃতিক উদ্ভিদ ও খাবারের উৎস আবার জন্মাতে শুরু করা পর্যন্ত এই সরবরাহ চালু রাখা হয়। এই উদ্যোগে সেভিং আওয়ার স্পিসিস কর্মসূচি, ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড অস্ট্রেলিয়া, উলওয়ার্থস ও ফুডব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। শুধু হেলিকপ্টারে খাবার পৌঁছানোর জন্যই ডব্লিউডব্লিউএফ অস্ট্রেলিয়া ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার সহায়তা দিয়েছিল। ব্রাশ-টেইলড রক ওয়ালাবি নিউ সাউথ ওয়েলসে বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। দাবানলের পর তাদের জন্য এই জরুরি খাদ্য সরবরাহ কর্মসূচি কতটা কার্যকর হয়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক খাবারের উৎস পুনরুদ্ধার শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে এই জরুরি সহায়তার প্রয়োজন কমে আসে। ক্যাঙ্গারু ভ্যালিতে জরুরি খাদ্য সরবরাহের সহায়তায় একটি পুরো রক ওয়ালাবি কলোনি দাবানল থেকে বেঁচে যায় বলেও পরবর্তী পর্যবেক্ষণে নিশ্চিত করা হয়। ক্যামেরা ও জিপিএস কলারের মাধ্যমে তাদের টিকে থাকার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়েছিল।
লেবার ডে’র ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িচালকদের জন্য জ্বালানির খরচ বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। এবারের লেবার ডে’র আগে নিয়মিত পেট্রলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৪ দশমিক ১৪ ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই দাম প্রায় ১ ডলার বেশি। একই সঙ্গে ডিজেলের দামও রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। এএএ মোটর ক্লাবের তথ্য অনুযায়ী, লেবার ডে’র সময় পেট্রলের আগের সর্বোচ্চ গড় দাম ছিল ২০১২ সালে—প্রতি গ্যালনে ৩ দশমিক ৮২ ডলার। এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত জ্বালানির বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ইরান এখনো জলপথটি পুরোপুরি খুলে দেয়নি। এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডিজেলের সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। চীনের তেল শোধনাগারগুলোতেও উৎপাদন কমেছে বলে জানিয়েছেন নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ম্যাথিউ মেটজগার। তবে পেট্রলের দাম বাড়লেও তা এখনো ২০২২ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ওই বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত পেট্রলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৫ দশমিক ০২ ডলারে উঠেছিল। অন্যদিকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৫ দশমিক ৮৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা নতুন রেকর্ড। ট্রাক ও পণ্য পরিবহনে ডিজেলের ব্যবহার বেশি হওয়ায় এর বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও পড়ছে। পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে মুদি পণ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্য সরবরাহের খরচ বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, জ্বালানির দাম বর্তমানে বেশি হলেও তা কমাতে সরকার কাজ করছে। তবে দাম কমাতে প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলের ৪৫ বছর বয়সী দুই সন্তানের বাবা আলী চিফচি জন্মদিনে বাড়িতে ঢোকা এক চোরের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় তৃতীয় তলার জানালা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এতে তার মাথার খুলির প্রায় ৮৩ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ চিকিৎসার মাধ্যমে বিশেষ প্রযুক্তিতে তার খুলির বড় অংশ পুনর্গঠন করেন। ঘটনার পর আলী মাসের পর মাস আইসিইউতে ছিলেন। পরবর্তী দুই বছরেও তাকে একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা তখন তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ১০ শতাংশ বলে জানিয়েছিলেন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তার মাথার খুলির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্গঠনে ব্যবহার করা হয় বিশেষভাবে তৈরি টাইটানিয়ামের অংশ। এগুলো তৈরি করা হয়েছিল তুরস্কের হেলথ সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির গুলহানে ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ হাসপাতালের মেডিকেল ডিজাইন অ্যান্ড প্রোডাকশন সেন্টারে। চিকিৎসকেরা জানান, দুর্ঘটনার পর আলীর কথা বলা, স্মৃতি, ভারসাম্য ও হাঁটার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু শারীরিক সক্ষমতায় গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছিল। খুলির পুনর্গঠনের পর এসব স্নায়বিক সমস্যার প্রায় ৯০ শতাংশের উন্নতি হয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে আলীর জন্মদিনে। বাড়িতে ঢোকা চোরকে আটকাতে গিয়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে নিচে পড়ে যান। আলী নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন, আর চোর তার ওপর পড়ে পরে পালিয়ে যায় বলে আলী জানিয়েছেন। দুই বছর চিকিৎসার পর আলীর মাথার আকৃতি অনেকটাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে কাজও শুরু করেন। আলীর ঘটনা দেখিয়েছে, গুরুতর মাথার আঘাতের চিকিৎসায় আধুনিক মেডিকেল ডিজাইন ও টাইটানিয়াম ইমপ্লান্ট কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও প্রযুক্তির সমন্বয় ক্ষতিগ্রস্ত খুলির বড় অংশ পুনর্গঠনে সহায়তা করেছে।
আবুধাবির একটি নিলামে বিরল সাদা বাজপাখি বিক্রি হয়েছে ১৫ লাখ সংযুক্ত আরব আমিরাত দিরহামে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। মেয়ের পছন্দের এই পাখিটি কিনতে তার মামা এই বিপুল অর্থ খরচ করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়িয়েছে। তবে নিলাম কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যে ক্রেতার পরিচয় বা মেয়েকে খুশি করতেই পাখিটি কেনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। ঘটনাটি ঘটে আবুধাবি ইন্টারন্যাশনাল হান্টিং অ্যান্ড ইকুয়েস্ট্রিয়ান এক্সিবিশন ২০২৬ বা এডিআইএইচইএক্সের পঞ্চম দফার বাজপাখি নিলামে। সেখানে ‘কারমুশা পিওর আল্ট্রা হোয়াইট’ নামে একটি বিরল সাদা গাইর কারমুশা বাজপাখির বাচ্চা ১৫ লাখ দিরহামে বিক্রি হয়। চলতি প্রদর্শনীর নিলামে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া বাজপাখি। যুক্তরাষ্ট্রের মার্ক মগলিশ ফ্যালকন ফার্মে পাখিটি প্রজনন করা হয়েছিল। এর ওজন প্রায় ১ কেজি এবং দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় ১৬ দশমিক ৫ ইঞ্চি। সম্পূর্ণ সাদা পালক ও বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে নিলামে পাখিটি ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। এই নিলাম ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাইখা আল মানসুরি নামের এক তরুণী ও তার মামার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে শাইখাকে বাজপাখি ও পাখির প্রতি নিজের আগ্রহের কথা বলতে দেখা যায়। কে তাকে পাখি সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলেছেন জানতে চাইলে তিনি তার মামার কথা বলেন। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়ায়, তার ইচ্ছা পূরণ করতে মামাই ১৫ লাখ দিরহামের বাজপাখিটি কিনেছেন। তবে ভিডিওতে ওই ব্যক্তি যে ১৫ লাখ দিরহামের পাখিটির ক্রেতা, এমন সরাসরি প্রমাণ নেই। তাই মেয়ের ইচ্ছা পূরণে মামা পাখিটি কিনেছেন, বিষয়টি এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাবি হিসেবেই রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাজপাখি পালন ও শিকার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এডিআইএইচইএক্সে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাজপাখি প্রজননকারী, ব্যবসায়ী ও শিকারপ্রেমীরা অংশ নেন। এবারের প্রদর্শনীতে ৫৫টি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজপাখি প্রজনন ও পরিচর্যা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।