সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

আজ থেকে কানাডার পাল্টা ট্যারিফ, আমেরিকানদের ব্যবসা ও চাকরিতে কতটা প্রভাব?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৬:৫৮
কানাডার পাল্টা শুল্কে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র, হুমকিতে আমেরিকান ব্যবসা ও চাকরি
কানাডার পাল্টা শুল্কে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র, হুমকিতে আমেরিকান ব্যবসা ও চাকরি

মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে নতুন পাল্টা ট্যারিফ কার্যকর করেছে কানাডা। পণ্যভেদে এই শুল্কের হার ১৫, ২৫ ও ৫০ শতাংশ। কানাডার সরকারি তালিকায় স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম, ডেইরি, অ্যাপ্লায়েন্স, কৃষি সরঞ্জাম, পাল্প ও পেপার, প্লাস্টিক এবং ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। 

 

তবে এই ট্যারিফ সরাসরি আমেরিকান ভোক্তার ওপর বসানো হয়নি। কানাডায় এসব মার্কিন পণ্য আমদানি করার সময় কানাডার ব্যবসায়ীদের বাড়তি শুল্ক দিতে হবে।

 

ফলে প্রথম চাপ পড়বে কানাডার বাজারে পণ্য বিক্রি করা মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্যারিফের কারণে কানাডায় মার্কিন পণ্যের দাম বাড়লে কিছু পণ্যের চাহিদা কমতে পারে এবং এতে মার্কিন ব্যবসাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

 

বিশেষ করে স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, ফার্নিচার, পোশাক ও ইলেকট্রনিকসের মতো খাত এখন নজরে রয়েছে। কিছু পণ্যে ট্যারিফ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হওয়ায় কানাডার বাজারে মার্কিন পণ্যের প্রতিযোগিতা কঠিন হতে পারে। 

 

এর প্রভাব কি আমেরিকান চাকরিতেও পড়তে পারে?

 

এখনই বড় ধরনের চাকরি হারানোর কোনো প্রমাণ নেই। তবে কানাডার বাজারে কোনো মার্কিন কোম্পানির বিক্রি দীর্ঘদিন কমে গেলে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কানাডার বাজারের ওপর বেশি নির্ভরশীল কোম্পানিগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে।

 

এর মধ্যেই বাণিজ্য উত্তেজনার আরেকটি উদাহরণ সামনে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার বিমান নির্মাতা বোম্বার্ডিয়ারকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিক্রি বন্ধের হুমকি দিয়েছেন, যদি কোম্পানিটি উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে না নেয়।

 

জবাবে বোম্বার্ডিয়ার জানিয়েছে, তাদের ৪৭টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২ হাজার ৮০০ মার্কিন সরবরাহকারী রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাদের উল্লেখযোগ্য কর্মী ও উৎপাদন কার্যক্রম রয়েছে। 

 

অর্থাৎ কানাডার পাল্টা ট্যারিফের প্রভাব শুধু দুই দেশের সীমান্তের ওপারে পণ্যের দামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বাণিজ্য সংঘাত দীর্ঘ হলে আমেরিকান কোম্পানির বিক্রি, উৎপাদন এবং কিছু ক্ষেত্রে চাকরির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

 

তবে এই মুহূর্তে আমেরিকানদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, দুই দেশ আবার আলোচনায় ফিরবে, নাকি পাল্টাপাল্টি ট্যারিফ আরও বাড়বে। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই বাণিজ্য সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ইংল্যান্ডের নটিংহ্যামশায়ারের স্ট্যাপলফোর্ডের বাসিন্দা
পারিবারিক ভ্রমণে গিয়ে বাহামায় স্রোতে ভেসে যাওয়া দুই ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু

বাহামায় পারিবারিক ভ্রমণে গিয়ে সমুদ্রের প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া দুই ছেলেকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে এক ব্রিটিশ মায়ের মৃত্যু হয়েছে। ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার বিমিনি দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তের কাছে ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন পুলিশের বরাতে জানিয়েছে, ৩৬ বছর বয়সী ওই নারী স্বামী ও দুই ছেলের সঙ্গে স্নরকেলিং করছিলেন। ছেলেদের বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তিনিও স্রোতে ভেসে যান।    পরিবারটি একটি প্রমোদতরীর যাত্রাবিরতিতে বিমিনি বেড়াতে গিয়েছিল বলে স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডএনএসের বরাতে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া এল অ্যান্ড এ ওয়াটার ট্যাক্সির মালিক ও নৌকার ক্যাপ্টেন লিন্টি স্টুয়ার্ট জানান, দুই ছেলেকে পানি থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তাঁদের মাকেও পানি থেকে তুলে আনা হয়। তবে বড় ঢেউয়ের কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে জানান তিনি।  পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই নারীকে উদ্ধারের পর নর্থ বিমিনি ফেরিঘাটে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। এরপর স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সকাল ১০টার কিছু পর অ্যালিস টাউন পুলিশ স্টেশনে ফেরিঘাটে এক নারী অচেতন অবস্থায় থাকার খবর পৌঁছায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই তাঁকে ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছিল।   পরবর্তী প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান নিহত নারীর নাম লিয়ান গ্রেগরি বলে জানিয়েছে। তিনি ইংল্যান্ডের নটিংহ্যামশায়ারের স্ট্যাপলফোর্ডের বাসিন্দা। পরিবারের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, তাঁর স্বামী নাথানও তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। দুই ছেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে পুলিশের প্রাথমিক বিবৃতিতে শিশুদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ছিল না।    রয়্যাল বাহামাস পুলিশ ফোর্স জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এই মৃত্যুর পেছনে অপরাধমূলক কোনো ঘটনার সংশ্লিষ্টতা সন্দেহ করা হচ্ছে না। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত করা হবে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং নিহত নারীর পরিবারকে সহায়তা দিচ্ছে।   

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১:১৩
তরুণী এরিন বেনেট

গোয়েন্দা হওয়ার স্বপ্ন পূরণের আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণীর

মোহাম্মদ মাসুম (৪৫)  এবং সোহেল হায়দার (৫৫)

কানাডায় বাংলাদেশি নারীকে পাচার ও ধর্ষণের দায়ে দুই বাংলাদেশির কারাদণ্ড

পশ্চিম তীরে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত

পশ্চিম তীরে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত, বড় অভিযানের হুমকি নেতানিয়াহুর

ওমানের সাগরে গোলাপি আভার ডলফিন
ওমানের সাগরে গোলাপি আভার ডলফিন, প্রজাতি শনাক্ত করলেন বিশেষজ্ঞরা

ওমানের রাজধানী মাসকাটের কান্তাব সৈকতের কাছে অন্য ডলফিনের সঙ্গে সাঁতার কাটতে দেখা গেছে ফিকে গোলাপি আভার একটি ডলফিনকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে কৌতূহলের মধ্যে দেশটির পরিবেশ কর্তৃপক্ষের এক বিশেষজ্ঞ প্রাণীটিকে রিসোস ডলফিন হিসেবে শনাক্ত করেছেন। ২২ অক্টোবর ওমান অবজারভারে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।    সংবাদমাধ্যমটিকে ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষের সামুদ্রিক পরিবেশ বিশেষজ্ঞ আইদা আল জাবরি জানান, কান্তাবের প্রথম ভিডিওতে দেখা প্রাণীটি রিসোস প্রজাতির ডলফিন। এর আগে বিভিন্ন সংবাদে প্রজাতি শনাক্ত না হওয়ার কথা বলা হলেও তাঁর বক্তব্যে সেই বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়া যায়। তবে প্রাণীটির গায়ে গোলাপি আভা দেখা যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে কোনো পরীক্ষার ফল ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।    রিসোস ডলফিনের গায়ের রং বয়সের সঙ্গে হালকা হতে পারে। যুক্তরাজ্যের সি ওয়াচ ফাউন্ডেশনের প্রজাতি পরিচিতি অনুযায়ী, এদের পিঠ ও পাশের রং গাঢ় থেকে হালকা ধূসর হয় এবং বয়স্ক ডলফিন অনেক সময় প্রায় সাদা দেখায়। পূর্ণবয়স্ক প্রাণীর শরীরে অসংখ্য সাদা ক্ষতচিহ্নও এই প্রজাতির পরিচিত বৈশিষ্ট্য।    ওমান অবজারভারের প্রতিবেদনে সূর্যের আলো ও পানির প্রতিফলনকে গোলাপি আভা আরও দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সাধারণ এই ব্যাখ্যাকে কান্তাবের ডলফিনটির রঙের নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক কারণ হিসেবে ধরা যায় না।    একই ঘটনার নামে ছড়ানো সব ভিডিও নিয়েও সতর্কতা এসেছে। ওমান অবজারভার জানিয়েছে, কান্তাবের প্রথম ভিডিওটিকে বিশেষজ্ঞরা গ্রহণযোগ্য বললেও মাসকাটের বলে প্রচারিত গোলাপি হাম্পব্যাক ডলফিনের আরেকটি ভিডিওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে পৃথক ভিডিওকে একই স্থানের একই ঘটনার দৃশ্য হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ নয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১২:৫৫
দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে মারুফ ব্যাপারী

দক্ষিণ আফ্রিকায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতির পর বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

সৌদি আরবে হামলার পর মার্কিন কূটনীতিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ

সৌদি আরবে হামলার পর মার্কিন কূটনীতিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ, বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা

ফসলহানি ও খাদ্যসংকটে বিপর্যস্ত সুদান

ফসলহানি ও খাদ্যসংকটে বিপর্যস্ত সুদান, অনিশ্চয়তায় লাখো মানুষের জীবন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন
কোরআনের শিক্ষা তুলে ধরে মুসলমানদের প্রতি বৈষম্যের নিন্দা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন মুসলমানদের কেবল তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হেয় করা এবং তাঁদের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন। ধর্মীয় বিভেদ ও সাংস্কৃতিক সংঘাতের পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া এবং সহাবস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় সহনশীলতা ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আচরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার হলিউড–পেমব্রোক পার্ক এলাকায় অবস্থিত কইনোনিয়া ওয়ারশিপ সেন্টারে ‘মাল্টিপল ফেইথস, ওয়ান ফ্লোরিডা’ শীর্ষক আন্তধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ক্লিনটন এসব কথা বলেন। ২২ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদে তাঁর বক্তব্যের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।   ক্লিনটন বলেন, “মুসলমানদের শুধু মুসলমান হওয়ার কারণে হেয় করা হচ্ছে—এতে আমি ক্লান্ত।” তাঁর এই বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল, কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়কে অপমান বা বৈষম্যের কারণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।   বক্তব্যে তিনি নিজের মেয়ে চেলসি ক্লিনটনের কোরআন পাঠের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চেলসি ১৫ বছর বয়সে সম্পূর্ণ কোরআন পড়েছিলেন এবং পরে বাবাকেও তা পড়তে উৎসাহিত করেন। সেই অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে ক্লিনটন ধর্মীয় গ্রন্থের শিক্ষা থেকে পারস্পরিক পরিচিতি, বোঝাপড়া ও মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।   তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা আল-হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতের ভাবার্থ উল্লেখ করেন। আয়াতটিতে বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছেন, যাতে তারা পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। ক্লিনটনের বক্তব্যে এই শিক্ষার তাৎপর্য ছিল—মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে বিরোধের কারণ না বানিয়ে একে অপরকে জানার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।   সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, প্রতিটি ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেই খারাপ আচরণকারী মানুষ থাকতে পারে, কারণ মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেরই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কোনো ব্যক্তির অন্যায়কে পুরো একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ন্যায়সংগত নয়—তাঁর বক্তব্যে এই ধারণাটিই গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় যুদ্ধ ও সাংস্কৃতিক সংঘাত নিয়েও বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি।   ক্লিনটনের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য, ধর্মীয় পরিচয় এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি আচরণ নিয়ে বিতর্ক চলছে। তবে তাঁর বক্তব্যের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য ও ঘটনার মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। এই অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যের সরাসরি বিষয় ছিল মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে অপমানের বিরোধিতা।   যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতা, সামাজিক মর্যাদা এবং বৈষম্যহীন পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাঁর প্রতি অসম্মানজনক আচরণ সামাজিক সম্প্রীতি ও সমান অধিকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে মুসলমানদের পাশাপাশি খ্রিষ্টান, ইহুদি, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর অধিকারও সমানভাবে বিবেচ্য।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১০:২৬
গোলাপি আভার ডলফিন

ওমানের সাগরে গোলাপি আভার ডলফিন, প্রজাতি শনাক্ত করলেন বিশেষজ্ঞরা

গাজার সাধারণ মানুষ

এক টুকরো রুটির অপেক্ষায় গাজার সাধারণ মানুষ, ক্ষুধার সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াই

ক্যাথলিক যাজক জিয়াননিকোলা মারিয়া সিমোনে

ইতালিতে বিক্ষোভের সময় তরুণের অশালীন ইঙ্গিতে মধ্যমা দেখিয়ে আলোচনায় যাজক

0 Comments