সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের মেইনে ঘুরে বেড়াচ্ছে লোমশ ‘দানব’ বিগফুট, আতঙ্কে ৯১১ নম্বরে একের পর এক কল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৯:৫
যুক্তরাষ্ট্রের মেইনে ঘুরে বেড়াচ্ছে লোমশ ‘দানব’ বিগফুট, আতঙ্কে ৯১১-তে একের পর এক কল
যুক্তরাষ্ট্রের মেইনে ঘুরে বেড়াচ্ছে লোমশ ‘দানব’ বিগফুট, আতঙ্কে ৯১১-তে একের পর এক কল

যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের ডামারিসকোটা শহরে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়ে 'বিগফুট' বা রহস্যময় বনমানুষের আতঙ্ক। মঙ্গলবার সকালে শহরের রাস্তায় লোমশ অদ্ভুত এক প্রাণী দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। এমনকি স্কুলের প্রথম দিনে শিশুদের নামিয়ে দেওয়ার সময়ও প্রাণীটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।

 

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, জরুরি সেবার ৯১১ নম্বরে একের পর এক কল আসতে থাকে। তবে পুলিশি তদন্তের পর যে সত্যটি বেরিয়ে আসে, তা ছিল বেশ মজাদার।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনায়, পা থেকে মাথা পর্যন্ত পশুর মতো লোমে ঢাকা এবং মাথায় লম্বা টুপি পরা এক বিশাল আকৃতির প্রাণী শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। খবর পেয়ে ডামারিসকোটা পুলিশের কর্মকর্তা উইলিয়াম স্মিথ প্রাণীটির সন্ধানে বের হন। মেইন স্ট্রিটে গিয়ে তিনি দেখতে পান, প্রাণীটি খুব শান্তভাবে বসে আছে।

 

কাছে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, এটি আসলে কোনো দানব বা বিগফুট নয়; বরং নিখুঁত একটি বিগফুট কস্টিউম বা পোশাক পরে থাকা এক সাধারণ মানুষ!

 

পুলিশ ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলে সেখানে ভিড় জমান স্থানীয়রা। অনেকেই অদ্ভুত এই কস্টিউম পরা ব্যক্তির সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলতে শুরু করেন।

 

পুরো ঘটনার পর ডামারিসকোটা পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে রসিকতা করে জানায়, দীর্ঘ ও সম্পূর্ণ ‘সিরিয়াস’ তদন্তের পর তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে বিগফুট বলতে বাস্তবে কিছু নেই।

 

পুলিশের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনেকেই হয়তো এতে হতাশ হবেন, কারণ পুলিশ বিভাগেরও কেউ কেউ গোপনে আশা করছিলেন যে হয়তো বিগফুটের সন্ধান পেয়ে তারা জাতীয় সংবাদের শিরোনাম হবেন।

 

যেহেতু ওই ব্যক্তি কোনো ধরনের অপরাধমূলক কাজ করেননি, তাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে বিনা খরচে ইএমটি প্রশিক্ষণের বৃত্তি
নিউইয়র্কে বিনা খরচে ইএমটি প্রশিক্ষণের বৃত্তি, আবেদন করতে পারবেন ১৭ বছর বয়সীরাও

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে জরুরি চিকিৎসাসেবা পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ দিচ্ছে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল। ২০২৭ সালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ইএমটি) বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় ১০ জনকে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। হাসপাতালের প্রশিক্ষণ অংশীদার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ফর মেডিকেল ইমার্জেন্সিজ অ্যান্ড রেসকিউয়ের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের ক্লাস শুরু হবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে।   কারা আবেদন করতে পারবেন? প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৭ বছর বা তার বেশি বয়সীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। জরুরি চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা জনসেবামূলক পেশায় আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য এ কর্মসূচি তৈরি করা হয়েছে। তবে বয়স ছাড়া অন্য কোনো অতিরিক্ত যোগ্যতার শর্ত রয়েছে কি না, তা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়নি। তাই আবেদন করার আগে মূল আবেদনপত্রের নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।   আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে: আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর, উচ্চবিদ্যালয়ের নম্বরপত্র, একটি সুপারিশপত্র এবং একটি প্রচ্ছদপত্র। সুপারিশপত্রে সুপারিশকারীর নাম, ফোন নম্বর ও আবেদনকারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক উল্লেখ করতে হবে। প্রচ্ছদপত্রে ‘আপনি কেন একজন ইএমটি হতে চান?’—এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রচ্ছদপত্র পিডিএফ আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।   আবেদনের শেষ তারিখ সোমবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৭। আবেদন জমা দেওয়ার জন্য নিচের লিংকে প্রবেশ করা যাবে:   প্রশিক্ষণে কী শেখানো হবে? ইএমটি বা জরুরি চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদরা জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীর প্রাথমিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। প্রশিক্ষণে রোগীর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন, দুর্ঘটনাজনিত আঘাতের প্রাথমিক চিকিৎসা, রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ, সিপিআর, জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম ব্যবহার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীকে নিরাপদে হাসপাতালে নেওয়ার মতো দক্ষতা শেখানো হয়।   প্রশিক্ষণ শেষে কী সনদ পাওয়া যাবে?প্রশিক্ষণ শেষ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ইএমটি সনদ পাওয়া যায় না। প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর প্রার্থীদের অঙ্গরাজ্যের নির্ধারিত ব্যবহারিক দক্ষতা মূল্যায়ন ও সনদ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে তাঁরা নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ইএমটি-বেসিক সনদ অর্জন করতে পারবেন।   এই সনদ অর্জনের মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসাসেবা খাতে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় একটি পেশাগত যোগ্যতা অর্জিত হয়। তবে প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি পাওয়া নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শর্ত, যাচাইপ্রক্রিয়া এবং অন্যান্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হতে পারে। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটি চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে সহায়তা করলেও চাকরির নিশ্চয়তা দেয় না।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৭:৪৮
ডা. নাদিয়া হামিদ

নিউইয়র্কের স্টোনি ব্রুক মেডিসিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে যোগ দিলেন নাদিয়া হামিদ

রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার টন ডিজেল আনছে যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার টন ডিজেল আনছে যুক্তরাষ্ট্র, নিষেধাজ্ঞা শিথিলে বাধ্য ট্রাম্প

নিউইয়র্কের সাবওয়েতে গাঁজা সেবন নিয়ে বিরোধে যুবক নিহত, কিশোর গ্রেপ্তার

নিউইয়র্কের সাবওয়েতে গাঁজা সেবন নিয়ে বিরোধে যুবক নিহত, কিশোর গ্রেপ্তার

পাসপোর্ট প্রতারণার জেরে মার্কিন নাগরিকত্ব হারালেন অভিবাসী নারী
অন্যের পরিচয়ে পাসপোর্ট, প্রতারণার জেরে মার্কিন নাগরিকত্ব হারালেন অভিবাসী নারী

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রতারণা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগে নাগরিকত্ব হারিয়েছেন নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ভিভিয়ান চিকি ওবিচেরে। গত ১৩ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালত তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ২১ অক্টোবর প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওবিচেরে ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। তবে এর আগে তিনি অন্য এক মার্কিন নাগরিকের নাম ও ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছিলেন। সরকারি নথিতে ওই নাগরিককে ‘সি.সি.ও.’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সালে ওবিচেরে ওই ব্যক্তির নাম, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, জন্মস্থান ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে মার্কিন পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। ২০০২ সালে তিনি সেই পাসপোর্ট নবায়নও করেন। পরে ২০০৩ সালে নিজের প্রকৃত পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পান।   তবে ২০১২ সালে নিজের প্রকৃত পরিচয়ে মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় তিনি ভিন্ন পরিচয়ে ইস্যু করা পাসপোর্টটি আবার নবায়নের চেষ্টা করেন। একই সময়ে নাগরিকত্বের আবেদনের সাক্ষাৎকারে শপথ নিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘সি.সি.ও.’ নামটি তিনি ব্যবহার করেননি। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি জানতেন যে তাঁর এই বক্তব্য সত্য নয়।   ২০১৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে পাসপোর্টের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং পাসপোর্ট ব্যবহারের অপরাধে ওবিচেরে দোষী সাব্যস্ত হন। বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই মামলায় তিনি সরকারের কাছে দেওয়া একাধিক মিথ্যা তথ্যের বিষয়ও স্বীকার করেছিলেন।   চলতি বছরের ৩০ জুলাই বিচার বিভাগ তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য আদালতে দেওয়ানি মামলা করে। পরে ৭ অক্টোবর উভয় পক্ষ সম্মতিভিত্তিক রায় দেওয়ার জন্য যৌথ আবেদন জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ অক্টোবর আদালত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের রায় দেন। অর্থাৎ, মামলাটির নিষ্পত্তি হয় উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে; এটি সব অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘ বিচারিক লড়াইয়ের পর দেওয়া রায় ছিল না।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অপরাধের তথ্য গোপন করে বা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জনের ঘটনায় নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এই ঘটনা থেকে এমন সিদ্ধান্তে আসার সুযোগ নেই যে, কোনো স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তি অপরাধে দোষী হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায়। এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য প্রযোজ্য আইনি ভিত্তি ও বিচারিক প্রক্রিয়া রয়েছে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ২১ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৫:৩৭
সন্তানের হাতে উচ্চগতির ইলেকট্রিক বাইক

সন্তানের হাতে উচ্চগতির ইলেকট্রিক বাইক, ক্যালিফোর্নিয়ায় ১২ অভিভাবকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোট জালিয়াতির অভিযোগে ২৮ গ্রিন কার্ডধারী বিপাকে

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোট জালিয়াতির অভিযোগে ২৮ গ্রিন কার্ডধারী বিপাকে, নাগরিকত্বও অনিশ্চিত

লাইসেন্সের কার্ড হারানো এবং গাড়ি চালানোর অনুমতি বাতিল হওয়া এক বিষয় নয়

নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসে ড্রাইভিং লাইসেন্স হারালে, ৩০ মিনিটেই সমাধান! জানুন নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও ধীর হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পেতে বড় হতাশা, আট মাসে অনুমোদন কমেছে ৭২ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও ধীর হয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদনের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭২ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে নাগরিকত্বের জন্য অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ থেকে বেড়ে আট লাখের বেশি হয়েছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।    এই পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়া বহু অভিবাসীর নাগরিকত্ব গ্রহণের পরিকল্পনা পিছিয়ে যাচ্ছে। নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের গড় অপেক্ষার সময় প্রায় ১৩ মাসে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কারও ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের সময় পেতে দেরি হচ্ছে, আবার কারও নির্ধারিত সাক্ষাৎকার বা নাগরিকত্ব গ্রহণের অনুষ্ঠান বাতিল কিংবা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন আরও কঠোর হয়েছে। নাগরিকত্বপ্রার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা, নাগরিকত্ববিষয়ক জ্ঞান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য এবং ব্যক্তিগত আচরণ ও অতীত রেকর্ড খতিয়ে দেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগের প্রশাসনের সময় অনুমোদিত কিছু নাগরিকত্বের আবেদনও পুনরায় যাচাইয়ের আওতায় আনা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।    নাগরিকত্বের সিদ্ধান্ত পেতে দেরি হওয়ায় আবেদনকারীদের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব পড়ছে। কাজ, বিদেশ ভ্রমণ, পারিবারিক পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যাঁরা আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্যতা অর্জনের আশায় নাগরিকত্বের আবেদন করেছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ সময়মতো প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারায় ভোট দেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।    প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে কিছু আবেদনকারী আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। তাঁরা আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার নির্দেশ চাচ্ছেন। তবে এ ধরনের মামলা করতে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত আইনি খরচ হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আর্থিকভাবে দুর্বল আবেদনকারীদের জন্য এই পথও সহজ নয়।    যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন বা আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের বর্তমান আবেদন-অবস্থা ও সরকারি নির্দেশনা নিয়মিত যাচাই করা উচিত। তবে এই পরিসংখ্যানের অর্থ এই নয় যে সব বাংলাদেশির আবেদন একই হারে কম অনুমোদিত হচ্ছে; প্রতিবেদনে বাংলাদেশিদের জন্য আলাদা অনুমোদনের হার দেওয়া হয়নি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১০:৫৬
দ্য গান্ড কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর ৭৫ বছরে কখনো কর্মী ছাঁটাই করেনি

৭৫ বছরে কর্মী ছাঁটাই করেনি আমেরিকার এই কোম্পানি, কর্মীদের যত্ন নিয়েই ব্যবসা বাড়ানোর কৌশল

২৩০ ইস্ট ৫১তম স্ট্রিট, নিউইয়র্ক, এনওয়াই ১০০২২

নিউইয়র্কে সস্তায় থাকার ঠিকানা: ম্যানহাটনে ৫টি ভেরিফাইড বাজেট হোটেল

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির খরচ কমাতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির খরচ কমাতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ, উপকার পাবেন কারা?

0 Comments