সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
স্কুলের ছবিতে লুকিয়ে থাকতে পারে পরিবারের ঠিকানা
স্কুলের ছবিতে লুকিয়ে থাকতে পারে পরিবারের ঠিকানা, সতর্ক করল ব্রিটিশ পুলিশ

সন্তানদের স্কুলে ফেরার মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের আগে অভিভাবকদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ ও অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থাগুলো। তাদের মতে, একটি সাধারণ স্কুলের ছবিতেও এমন ছোট ছোট তথ্য থাকতে পারে, যা একত্র করে শিশুর পরিচয়, পরিবারের অবস্থান ও দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে ধারণা নেওয়া সম্ভব।    সম্প্রতি সাসেক্স পুলিশের একটি সচেতনতামূলক প্রচারণায় দেখানো হয়েছে, সাধারণ পারিবারিক ছবিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে অপব্যবহার করে ভুয়া ও ক্ষতিকর ছবি তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে অনলাইনে প্রকাশিত শিশুদের ছবি নিয়ে এ ধরনের ঝুঁকি বাড়ছে।    নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছবির পেছনে থাকা রাস্তার সাইনবোর্ড, বাড়ির নম্বর, গাড়ির নম্বরপ্লেট কিংবা স্কুলের পোশাকে সেলাই করা শিশুর নাম-এর মতো তথ্য থেকেও পরিবারের ঠিকানা বা পরিচয় শনাক্ত করা যেতে পারে। একটি ছবিতে থাকা এমন অসংখ্য ছোট তথ্য দীর্ঘ সময় ধরে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করলে পরিবারের চলাফেরা সম্পর্কেও ধারণা তৈরি করা সম্ভব।    গার্নসি পুলিশের গোয়েন্দা পরিদর্শক টম লো বলেন, সন্তানদের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি তোলা বা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া বন্ধ করতে পুলিশ বলছে না। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার আগে ছবির মধ্যে থাকা সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য মানুষের পরিচয় শনাক্ত করার তথ্য সংগ্রহ সহজ করেছে।    গার্নসি, জার্সি ও আইল অব ম্যানের তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের যৌথ পরামর্শেও এআইয়ের অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। গার্নসির ডেটা প্রোটেকশন কমিশনার ব্রেন্ট হোম্যান বলেন, সম্মতি ছাড়া ভুয়া বা ডিপফেক ছবি তৈরিতে এআই ব্যবহারের ঝুঁকি এখন শুধু তারকা বা রাজনীতিবিদদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; সাধারণ মানুষও এর শিকার হতে পারেন।    ওডিপিএর উপ-ডেটা প্রোটেকশন কর্মকর্তা র‍্যাচেল মাস্টারটন বলেন, ছবিতে থাকা সামান্য তথ্যও অপরাধীদের কাজে লাগতে পারে। এমনকি কোনো কফির কাপের ওপর লেখা অভিভাবকের নামও শিশুর আস্থা অর্জনের মতো প্রতারণামূলক কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। স্কুলে যাওয়ার সময় সন্তানের ছবি পোস্ট করলে অজান্তেই বাড়িটি ওই সময়ে খালি থাকার ইঙ্গিতও দেওয়া হতে পারে। ছবির পেছনে থাকা অন্যান্য তথ্য থেকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।    এদিকে এআই দিয়ে তৈরি শিশু যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট বৃদ্ধির খবরের পর যুক্তরাজ্যে এআইয়ের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক আইনগত পদক্ষেপের আওতায় এআই ব্যবহার করে মানুষের পোশাক সরিয়ে দেওয়ার মতো ভুয়া ছবি তৈরির ‘নুডিফিকেশন’ টুল এবং এ ধরনের বিশেষায়িত ইমেজ জেনারেটরকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।    শিশু নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা ইন্টারনেট ম্যাটার্সও ছবি পোস্টের আগে গোপনীয়তা সেটিংস পর্যালোচনার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের মতে, ছবির পেছনে থাকা স্কুলের লোগো, রাস্তার সাইনবোর্ড বা অন্য কোনো শনাক্তকারী তথ্য সরিয়ে বা ছবি ক্রপ করে প্রকাশ করা উচিত।    সংস্থাটি শিশুদের বয়স, শ্রেণি বা শিক্ষাবর্ষ, প্রিয় কাজ কিংবা শখের মতো তথ্য প্রকাশ্যে অতিরিক্তভাবে না দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে। এসব তথ্য একত্র করে অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন ব্যক্তি শিশুর একটি বিস্তারিত প্রোফাইল তৈরি করতে পারে।    তবে পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পরামর্শ সন্তানদের ছবি তোলা বা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া বন্ধ করা নয়। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের আগে ছবিতে বাড়ি, স্কুল, রাস্তা, নাম বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত তথ্য দৃশ্যমান আছে কি না এবং পোস্টটি কারা দেখতে পারবে - তা যাচাই করাই মূল সতর্কতা। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৫:১৩
যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হা/ম/লায় আল-কায়েদার ব্যয়ের হিসাব জানাল তদন্ত কমিশন
যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হা/ম/লায় আল-কায়েদার ব্যয়ের হিসাব জানাল তদন্ত কমিশন

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আল-কায়েদার আনুমানিক ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ ডলার খরচ হয়েছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ কমিশন। কমিশনের তদন্তে হামলার অর্থের প্রবাহ, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয় এবং অর্থের উৎস সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।   ৯/১১ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার সঙ্গে জড়িত ১৯ ছিনতাইকারী যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ৭০ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় করেন। তাদের প্রধান খরচের মধ্যে ছিল ফ্লাইট প্রশিক্ষণ, থাকা-খাওয়া, গাড়ি, বীমা, ভ্রমণ এবং হামলার আগে বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম।   কমিশনের হিসাবে, প্রায় ৩ লাখ ডলার ১৯ ছিনতাইকারীর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার বিদেশ থেকে ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে আসে। বাকিটা নগদ অর্থ, ট্রাভেলার্স চেক এবং বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছিল।   তদন্তে দেখা যায়, অর্থ লেনদেনের বড় অংশই ছিল স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের মতো। হামলাকারীরা নিজেদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন এবং পাসপোর্ট ও অন্যান্য পরিচয়পত্র ব্যবহার করেছিলেন। সে সময় এসব লেনদেন দৈনন্দিন আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের বিশাল প্রবাহের মধ্যে আলাদা করে সন্দেহ তৈরি করেনি।   তবে ৪ থেকে ৫ লাখ ডলারের হিসাবটি শুধু হামলার অপারেশনাল ব্যয়। কমিশন স্পষ্ট করেছে, আফগানিস্তানে আল-কায়েদার প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা কিংবা ছিনতাইকারীদের প্রশিক্ষণের সামগ্রিক খরচ এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।   হামলার অর্থের চূড়ান্ত উৎস কোথায় ছিল, তা তদন্তকারীরা নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারেননি। তবে কমিশনের মতে, হামলার প্রায় পুরো অর্থই আল-কায়েদা সরবরাহ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি বা কোনো বিদেশি সরকার হামলাকারীদের উল্লেখযোগ্য অর্থ দিয়েছিল - এমন বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি।   তদন্তে আরও বলা হয়, ৯/১১-এর আগে আল-কায়েদার বার্ষিক পরিচালন বাজেট ছিল আনুমানিক ৩ কোটি ডলার। এই অর্থ দিয়ে সংগঠনটি কর্মীদের বেতন, প্রশিক্ষণ শিবির, যানবাহন, অস্ত্র ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করত। ৯/১১ হামলার জন্য ৪ থেকে ৫ লাখ ডলারের ব্যয় ছিল সেই সামগ্রিক বাজেটের তুলনায় তুলনামূলকভাবে ছোট অংশ।   কমিশনের নথি অনুযায়ী, হামলার পরিকল্পনায় অর্থ সরবরাহের ক্ষেত্রে আল-কায়েদার তৎকালীন প্রধান অপারেশনাল সমন্বয়কারী খালিদ শেখ মোহাম্মদসহ কয়েকজন সহযোগী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯ হামলাকারীর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর তাদের ভ্রমণ, প্রশিক্ষণ ও জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:২৩
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি
“প্রধানমন্ত্রী মোদি সূর্যের শক্তি চিনেছেন এবং তা ভারতের কল্যাণে কাজে লাগিয়েছেন”: শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সৌরবিদ্যুৎ নীতির প্রশংসা করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি। দিল্লির শ্রী রাম কলেজ অব কমার্সের (এসআরসিসি) শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের আগে সূর্য যেমন ছিল, এখনও তেমনই আছে; তবে মোদি সূর্যের শক্তিকে চিনে তার সম্ভাবনাকে দেশের মানুষের কাজে লাগিয়েছেন।   যোশির দাবি, ২০১৪ সালে ভারতে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ছিল মাত্র প্রায় ২ দশমিক ৬ গিগাওয়াট। বর্তমানে তা বেড়ে ১৬৫ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই ভারতের স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা ছিল ১৬৪ দশমিক ৫৯ গিগাওয়াট।   শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের সম্প্রসারণের ফলে ভারতের বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাঁর বক্তব্যে মোদি সরকারের গত ১২ বছরের নীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিকও উঠে আসে।   এসআরসিসির শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদিও উপস্থিত ছিলেন। ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটির শতবর্ষ উপলক্ষে তিনি ১৩ বছর পর আবার কলেজটিতে যান। এর আগে ২০১৩ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে তিনি এসআরসিসিতে গিয়েছিলেন।   অনুষ্ঠানে যোশি আরও বলেন, ২০১৪ সালে ভারতের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ২৪৯ গিগাওয়াট, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ৫৫২ গিগাওয়াট হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০২ গিগাওয়াট অ-জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক সক্ষমতা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৩:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজের পাশাপাশি মেহেদি শিল্পী হিসেবেও কাজ করছেন প্রিয়াঙ্কা জৈন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের অনুষ্ঠানে মেহেদি দিয়ে ঘণ্টায় ১০০ ডলার আয় ভারতীয় সফটওয়্যার প্রকৌশলীর

যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণকালীন সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি মেহেদি শিল্পী হিসেবেও কাজ করছেন ভারতীয় প্রকৌশলী প্রিয়াঙ্কা জৈন। মেহেদি দেওয়ার জন্য তিনি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার টাকা, পারিশ্রমিক নেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে ১০ ঘণ্টার কাজ থেকে প্রায় ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে প্রিয়াঙ্কা জৈন প্রযুক্তি খাতে নিজের চাকরির পাশাপাশি মেহেদির ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, মেহেদি দেওয়ার কাজটি তার পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি করা একটি শখের ব্যবসা। প্রযুক্তি খাতের চাকরিই তার প্রধান আয়ের উৎস হলেও মেহেদির কাজের প্রতি তার আলাদা আগ্রহ রয়েছে।   প্রিয়াঙ্কার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মেহেদি দেওয়ার জন্য তিনি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ ডলার নেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থ প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকার সমপরিমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বকশিশও পাওয়া যায়। বিশেষ করে বিয়ে বা কনের মেহেদির বুকিংয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয় এবং সেখান থেকে বড় অঙ্কের আয় হয়।   একটি কনের মেহেদির অনুষ্ঠানে প্রায় ১০ ঘণ্টা কাজ করে তিনি প্রায় ১ লাখ টাকা আয় করতে পারেন বলেও জানিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আয় বেশি হলেও সেখানে জীবনযাপনের খরচও বেশি বলে উল্লেখ করেছেন প্রিয়াঙ্কা। তাই মেহেদির কাজ থেকে পাওয়া অর্থকে তিনি নিজের প্রধান আয়ের সঙ্গে তুলনা না করে আলাদা একটি শখের ব্যবসা হিসেবে দেখেন।   প্রিয়াঙ্কার কাছে সবচেয়ে বড় পার্থক্য শুধু আয়ের পরিমাণ নয়, বরং একজন শিল্পী হিসেবে পাওয়া সম্মান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে শিল্পীদের অনেক বেশি মূল্যায়ন ও সম্মান করা হয়। অন্যদিকে ভারতে মেহেদি শিল্পীর কাজকে অনেক সময় ভালো পেশা হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এই বিষয়টিকেই তিনি নিজের অভিজ্ঞতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেছেন।   মেহেদি দেওয়ার কাজকে ছোট বা বড় হিসেবে দেখারও বিরোধিতা করেছেন প্রিয়াঙ্কা। তার বক্তব্যের মূল কথা হলো, কোনো কাজই ছোট বা বড় নয়, কাজ মানেই কাজ। পূর্ণকালীন সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাকরির পাশাপাশি মেহেদি শিল্পী হিসেবে কাজ করাকে তিনি তাই ভিন্ন কোনো ছোট পেশা হিসেবে দেখেন না। বরং নিজের আগ্রহকে কাজে পরিণত করে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।   প্রিয়াঙ্কার এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ কেউ তার নেওয়া পারিশ্রমিকের পরিমাণ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে মেহেদির পারিশ্রমিকের তুলনা করেছেন। কয়েকজন মন্তব্যকারী তার কাজের ধরন ও যুক্তরাষ্ট্রে এর মূল্যায়ন নিয়েও নিজেদের মতামত জানিয়েছেন।   একজন মন্তব্যকারী তাকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আরেকজন বলেছেন, ভারতে অনেক মানুষ পুরো কনের মেহেদির জন্য ১ হাজার টাকা দিতেও আপত্তি করেন। অন্য একজন ভারতীয় সমাজে শিল্পীদের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, শুধু মেহেদি আঁকার জন্য এত বেশি পারিশ্রমিক নেওয়ার বিষয়টি অনেকে সহজভাবে দেখেন না।   আরেক নারী মন্তব্য করেছেন, তিনিও মেহেদি দিয়ে থাকেন। তার অভিজ্ঞতায় ভারতে এই কাজের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সম্মান, আয় ও মূল্যায়ন পাওয়া যায় না। এসব মন্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রিয়াঙ্কার অভিজ্ঞতা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেহেদি শিল্পীদের পারিশ্রমিক, পেশাগত সম্মান এবং ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।   প্রিয়াঙ্কার ক্ষেত্রে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর পূর্ণকালীন চাকরিই প্রধান পেশা ও আয়ের উৎস। এর পাশাপাশি মেহেদি দেওয়ার কাজকে তিনি শখের ব্যবসা হিসেবে চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘণ্টায় প্রায় ১০০ ডলার পারিশ্রমিক, বিয়ের অনুষ্ঠানে দীর্ঘ সময়ের বুকিং এবং বকশিশ মিলিয়ে এই কাজ থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।   সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৩:২০
মেইল ভোটে বিধিনিষেধ কার্যকরে সুপ্রিম কোর্টে  ট্রাম্প প্রশাসন
মেইল ভোটে বিধিনিষেধ কার্যকরে সুপ্রিম কোর্টে আবার ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মেইল ভোটে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর রোববার আবারও জরুরি আবেদন করেছে প্রশাসন।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্চে জারি করা নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে তৈরি নতুন নিয়মে মেইল ব্যালট পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শর্ত আরোপের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রাজ্যগুলোকে মেইল ব্যালট পাওয়ার যোগ্য ভোটারদের তালিকা ইউএস পোস্টাল সার্ভিসকে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যালটের খামে ইউনিক বারকোড ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। নিয়ম না মানা হলে কিছু ব্যালট সরবরাহ না করার সুযোগও থাকবে পোস্টাল সার্ভিসের।   তবে ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি নতুন নিয়ম কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে দেওয়ার পর বিষয়টি আবার সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে গেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের সলিসিটর জেনারেল জন সাওয়ার যুক্তি দিয়েছেন, রাজ্যগুলোতে ইতোমধ্যে মেইল ব্যালট পাঠানো শুরু হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে ভোটার ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।   প্রশাসনের দাবি, নিয়ম কার্যকর না হলে প্রতিটি দিন নির্বাচনী প্রস্তুতিতে অনিশ্চয়তা বাড়াবে। বিশেষ করে নর্থ ক্যারোলাইনায় ইতোমধ্যে ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে। আলাবামা ৯ সেপ্টেম্বর থেকে এবং আরও কয়েকটি রাজ্য সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মেইল ব্যালট পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।   অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত রাজ্য ও ভোটাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে নিয়ম পরিবর্তন করলে বৈধ ভোটারদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। নির্বাচন কর্মকর্তারাও বলছেন, অল্প সময়ের মধ্যে পুরো ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা কঠিন।   মেইল ভোট নিয়ে এই আইনি লড়াই নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার কোনো না কোনোভাবে মেইল ব্যালট ব্যবহার করেন।   এর আগে আগস্টে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আদেশ বাস্তবায়নের সম্ভাব্য পথ খুলে দিলেও আদেশটি আইনসঙ্গত কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফলে নতুন করে আদালতে লড়াই শুরু হয়েছে। এবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন বুধবারের মধ্যে জবাব দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৩:২০
বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত
বিদেশ ভ্রমণে বাংলাদেশিদের বছরে ১৮ হাজার ডলার খরচের অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে একজন বাংলাদেশি নাগরিক বছরে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে পারবেন। এর আগে এই সীমা ছিল ১২ হাজার ডলার।   রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। পরে প্রজ্ঞাপনটি অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো হয়। নতুন নির্দেশনায় বিদেশ ভ্রমণের সময় বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের বার্ষিক সীমা বাড়ানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত ১৮ হাজার ডলারের পুরো অর্থ প্রতিবার নগদে ব্যবহার করা যাবে না। বিদেশ ভ্রমণের সময় প্রতিবার সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ডলার নগদে নেওয়া বা ব্যবহার করা যাবে। ১৮ হাজার ডলারের বাকি অংশ কার্ডের মাধ্যমে ব্যবহার করতে হবে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ্রমণসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজনীয়তা সহজ করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিষয়টিও বিবেচনা করে বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   আগের নিয়মে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে একজন বাংলাদেশি নাগরিক একটি বছরে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে পারতেন। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সীমা বাড়িয়ে ১৮ হাজার ডলার করা হয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় বার্ষিক অনুমোদিত সীমা ছয় হাজার ডলার বেড়েছে।   তবে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য নতুন করে পূর্ণ ১৮ হাজার ডলারের সীমা প্রযোজ্য হবে না। তাদের ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১২ বছরের কম বয়সীরা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনুমোদিত পরিমাণের ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে পারবে।   নতুন সীমা পঞ্জিকাবর্ষ অনুযায়ী কার্যকর হবে। অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের হিসাব প্রতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিবেচনা করা হবে। ফলে প্রতিটি পঞ্জিকাবর্ষে একজন বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক সীমা হবে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ডলার।   প্রজ্ঞাপনে বিদেশ ভ্রমণের সময় নগদ ও কার্ডে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। প্রতিবার ভ্রমণে নগদে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ডলার ব্যবহার করা যাবে। নির্ধারিত বার্ষিক সীমার মধ্যে অবশিষ্ট অর্থ কার্ডের মাধ্যমে ব্যবহার করতে হবে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের এই নির্দেশনা অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের আগের সীমায় পরিবর্তন এসেছে।   নতুন নিয়মে একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিক একটি পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে পারবেন। এর মধ্যে প্রতিবার নগদ ব্যবহারের সর্বোচ্চ সীমা থাকবে পাঁচ হাজার ডলার। বাকি অর্থ কার্ডের মাধ্যমে ব্যবহারের নিয়ম থাকবে।   বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ভ্রমণসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজনীয়তা সহজ করা এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের বাড়তে থাকা চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। ১২ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেক ব্যবহারের আগের নিয়মটি বহাল রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১২:৫২
২০২৪ সালে লুপিতা ভাসকেজের ছেলে জেসির জন্মের পর সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। ছবি: সংগৃহীত
হাঁটবে কিনা ছিল অনিশ্চিত, বিরল রোগের সঙ্গে লড়াই করে পায়ে দাঁড়াল শিশু

২০২৪ সালে লুপিতা ভাসকেজের ছেলে জেসির জন্মের পর পরিবারে ছিল আনন্দের মুহূর্ত। গর্ভাবস্থাও স্বাভাবিক ছিল এবং জন্মের পর জেসিকে দেখতে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। কিন্তু জন্মের মাত্র এক সপ্তাহ পর একটি ফোনকল বদলে দেয় পরিবারের সেই আনন্দময় সময়। নবজাতকের নিয়মিত পরীক্ষার ফল জানিয়ে লুপিতাকে বলা হয়, তাঁর ছেলে স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি বা এসএমএ নামের একটি বিরল জেনেটিক রোগে আক্রান্ত।   জন্মের পর জেসির গোড়ালিতে যে নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়েছিল, সেটিকে অন্য অনেক অভিভাবকের মতো লুপিতাও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে ৯৮ শতাংশের বেশি নবজাতকের জন্মের পরপরই এই পরীক্ষা করা হয়। প্রতি বছর নবজাতকের এই পরীক্ষার মাধ্যমে ৭ হাজারের বেশি শিশুর গুরুতর কিন্তু চিকিৎসাযোগ্য বিভিন্ন রোগ শনাক্ত হয়। জেসির ক্ষেত্রেও রোগটি উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই পরীক্ষায় ধরা পড়ে।   ফোনে জেসির রোগের কথা জানার পর লুপিতা ও তাঁর পরিবার হতবাক হয়ে যান। তিনি জানান, ফোনকল পাওয়ার সময় এসএমএ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। পরে ইন্টারনেটে রোগটি সম্পর্কে খোঁজ করতে গিয়ে তাঁর ভয় আরও বেড়ে যায়। তিনি অনেক কেঁদেছেন এবং বুঝতে পারছিলেন না, কীভাবে তাঁর দেখতে সম্পূর্ণ সুস্থ শিশুর এমন একটি রোগ হতে পারে। এমনকি নিজের কোনো ভুলের কারণে সন্তান এই রোগ নিয়ে জন্মেছে কি না, সেই প্রশ্নও তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছিল।   এসএমএ এমন একটি বিরল জেনেটিক রোগ, যা পেশি নড়াচড়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা স্নায়ুকোষকে আক্রান্ত করে। এর ফলে ধীরে ধীরে পেশির দুর্বলতা দেখা দিতে পারে এবং হাঁটা, গিলতে পারা ও শ্বাস নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও প্রভাবিত হতে পারে। জেসির ক্ষেত্রে প্রথম ধরনের এসএমএ শনাক্ত হয়, যা রোগটির সবচেয়ে গুরুতর সাধারণ ধরনগুলোর একটি। সাধারণত জীবনের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে এই ধরনের এসএমএর উপসর্গ দেখা দিতে পারে।   রোগ শনাক্ত হওয়ার পর জেসিকে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার আওতায় নেওয়া হয়। শিশু বিশেষজ্ঞ ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। মাত্র ১৬ দিন বয়সে জেসি প্রতিদিন খাওয়ার একটি ওষুধ নিতে শুরু করে। এই ওষুধ মোটর স্নায়ুকোষের কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের মাত্রা বাড়াতে কাজ করে। রোগটি অগ্রসর হওয়ার আগেই চিকিৎসা শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত এই চিকিৎসা শুরু করা হয়।   পরে জেসি একবারের জিন থেরাপিও পায়। এই চিকিৎসায় রোগটির জন্য দায়ী ত্রুটিপূর্ণ জিন প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কাজ করা হয়। চিকিৎসকেরা অন্য শিশুদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসার ভালো ফল দেখলেও জেসির অগ্রগতি প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছিল না। সে হামাগুড়ি দিচ্ছিল না, খুব বেশি নড়াচড়াও করছিল না এবং হাঁটার কোনো আগ্রহও দেখা যাচ্ছিল না। তখন জেসির স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ উচ্চমাত্রার স্পিনরাজা দেওয়ার পরামর্শ দেন।   স্পিনরাজা সরাসরি মেরুদণ্ডের তরলে দেওয়া হয়। এটি শরীরের বিকল্প এসএমএন২ জিনকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরিতে সহায়তা করে, যা মোটর স্নায়ুকোষের কার্যকারিতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চমাত্রার এই চিকিৎসা নেওয়া জেসি টেক্সাসের প্রথম রোগী। আগের ১২ মিলিগ্রাম মাত্রার তুলনায় নতুন এই চিকিৎসায় ওষুধের ঘনত্ব বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন চলতি বছরের শুরুতে এক দশকের বেশি সময়ের ক্লিনিক্যাল তথ্যের পর নতুন এই মাত্রার অনুমোদন দেয়।   নতুন চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। স্পিনরাজা মেরুদণ্ডে দেওয়ার সময় জেসিকে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে হতো। এত চিকিৎসা, রক্ত নেওয়া ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর লুপিতা এই প্রক্রিয়া নিয়ে ভয় পেয়েছিলেন। তবু শেষ পর্যন্ত পরিবারটি চিকিৎসাটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। লুপিতা জানান, সিদ্ধান্তটি নেওয়ার পর তিনি খুশি যে তাঁরা ঝুঁকিটি নিয়েছিলেন।   এরপরই জেসির জীবনে আসে বড় পরিবর্তন। প্রথম ডোজ নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সে নিজে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু করে এবং দেয়াল ধরে হাঁটতে থাকে। দুটি ডোজ নেওয়ার প্রায় এক মাস পর জেসি স্বাধীনভাবে হাঁটতে শুরু করে। যে পরিবার একসময় আশঙ্কা করেছিল, তাদের সন্তান হয়তো কখনো হাঁটতে পারবে না, তাদের সামনে হঠাৎই বদলে যায় সেই বাস্তবতা।   জেসির হাঁটতে পারার মুহূর্তটি পরিবারের জন্য ছিল গভীর আবেগের। লুপিতা জানান, সবাই কেঁদে ফেলেছিলেন। কারণ তাঁরা আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছিলেন যে হয়তো তাঁদের সন্তান কখনো হাঁটতে পারবে না। চিকিৎসার পর জেসির নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে হাঁটার দৃশ্য পরিবারের কাছে ছিল তাদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও আশঙ্কার পর পাওয়া বড় আনন্দের মুহূর্ত।   এরপরও জেসির অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। যদিও সে সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং ভারসাম্য ঠিক রাখার বিষয়টি এখনও অনুশীলন করছে, তবু লুপিতা তাঁর ছেলেকে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে দেখে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। তিনি বলেন, এসএমএ যেন জেসির পরিচয় হয়ে না ওঠে। তাঁর ছেলে নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে বেড়ে উঠছে এবং ফুটবল, সংগীত ও গাড়ি পছন্দ করে। সে একজন দুঃসাহসী শিশুও হয়ে উঠছে।   এখন দুই বছর বয়সী জেসি সেই শিশুটির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থায় রয়েছে, যার রোগ শনাক্ত হওয়ার ফোনকল একসময় পুরো পরিবারকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। জন্মের পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে পাওয়া সেই কঠিন খবরের পর চিকিৎসা, ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে তার পরিবার। একসময় যে শিশুর হাঁটতে পারা নিয়েই ছিল অনিশ্চয়তা, চিকিৎসার পর সেই জেসিই নিজের পায়ে হাঁটছে।   লুপিতা জানেন, অন্য অভিভাবকরাও এমন ফোনকল পেতে পারেন। তাঁদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ হলো, ইন্টারনেটে সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তায় না গিয়ে সন্তানের দিকে মনোযোগ দেওয়া। তিনি প্রতিদিনকে একদিন করে মোকাবিলা করার এবং সহায়তা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন। অন্য মায়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরই তিনি নিজের পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন বলে জানান।   সূত্র: নিউজউইক

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১২:৩৯
যুক্তরাজ্যের প্রথম দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও বধির চিকিৎসক হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন আলেকজান্দ্রা অ্যাডামস। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবন্ধী বলে যাকে চিকিৎসক হওয়া অসম্ভব বলা হয়েছিল, তিনিই গড়লেন ইতিহাস

ছোটবেলায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও বধির হওয়ায় আলেকজান্দ্রা অ্যাডামসকে বলা হয়েছিল, তাঁর পক্ষে কখনো চিকিৎসক হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে যুক্তরাজ্যের প্রথম দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও বধির চিকিৎসক হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।   কার্ডিফ ইউনিভার্সিটি মেডিকেল স্কুলে চিকিৎসাবিদ্যা পড়ার সময় নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক সমাধান তৈরি করেন আলেকজান্দ্রা। এর মধ্যে অন্যতম ব্লুটুথ স্টেথোস্কোপ, যা রোগীর হৃদ্‌স্পন্দনের শব্দ সরাসরি তাঁর হিয়ারিং এইডে পৌঁছে দেয়। প্রযুক্তির এই ব্যবহার চিকিৎসাশিক্ষা ও রোগী দেখার ক্ষেত্রে তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হয়ে ওঠে।   তবে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নের পেছনে রয়েছে আরও গভীর এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। কৈশোরে পাকস্থলীর অস্ত্রোপচারের জটিলতার কারণে তাঁকে টানা ১৭ মাস হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। এই দীর্ঘ সময়ে তাঁকে আরও প্রায় ২০টি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।   হাসপাতালে রোগী হিসেবে থাকার সময় নিজের কথা অনেকবার যথাযথভাবে শোনা হয়নি বলে অনুভব করেছিলেন আলেকজান্দ্রা। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে চিকিৎসক হওয়ার সিদ্ধান্তে আরও দৃঢ় করে। তিনি উপলব্ধি করেন, প্রতিবন্ধী রোগীদের প্রয়োজন ও অভিজ্ঞতা বুঝতে চিকিৎসাব্যবস্থায় আরও বেশি সংবেদনশীলতা প্রয়োজন।   একসময় যে শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে তাঁর স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা হয়েছিল, সেটিকেই নিজের শক্তিতে পরিণত করেছেন আলেকজান্দ্রা।   তাঁর এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলে দিয়েছে। আলেকজান্দ্রা প্রমাণ করেছেন—সঠিক সুযোগ, প্রযুক্তির সহায়তা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১২:১৪
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার একই পরিবারের চার ভাই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
চার ছেলেই বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার, প্রশংসায় ভাসছেন এক রত্নগর্ভা মা

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামের একটি পরিবার থেকে একে একে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়ার সুযোগ পেয়েছেন চার ভাই। বাবা আমিনুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, মা আলেয়া বেগম গৃহিণী। নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ না থাকলেও সন্তানদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখিয়েছেন তারা। সেই স্বপ্ন পূরণ করে চার ভাইই বুয়েটে পড়েছেন বা পড়ছেন।    রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের ছাইনীপাড়া গ্রামের এই চার ভাই হলেন হাসান মনির, হাসান মুরাদ, হাসান মাসুম ও হাসান মামুন। বুয়েটের সঙ্গে পরিবারের যাত্রা শুরু হয় ২০০৯ সালে বড় ভাই হাসান মনিরের ভর্তির মধ্য দিয়ে। ওই বছর ভর্তি পরীক্ষায় তিনি ৫৭তম হন। এরপর মুরাদ ৭৪তম, মাসুম ৮০তম এবং সবার ছোট মামুন ৩২৪তম হয়ে বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পান।    ২০২২ সালে মামুন বুয়েটের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর চার ভাইয়ের বুয়েটযাত্রা পূর্ণতা পায়। তখন বড় ভাই মনির বুয়েট থেকে স্নাতক শেষ করে ঢাকার মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বুয়েটে এমএসসি করছিলেন। মুরাদ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ছিলেন। আর মাসুম তখন বুয়েটের তৃতীয় বর্ষে পড়ছিলেন।  চার ভাইয়ের বড় বোন আয়েশা সুলতানাও চিকিৎসক। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের ছোট মেয়ে আইমান সুলতানা ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।    হাসান মামুনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের বাবা-মা নিজেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাননি। কিন্তু গ্রামের পরিবেশ থেকেই সন্তানদের বড় স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন। বুয়েটেই পড়তে হবে, এমন কোনো চাপও ছিল না। বরং সন্তানরা যে বিষয়ে আগ্রহী, সে পথেই এগিয়ে যেতে বাবা-মা তাদের সহযোগিতা করেছেন।    ছোটবেলায় সন্তানদের পড়াশোনায় বাবা-মায়ের সরাসরি ভূমিকা ছিল। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মা এবং সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বাবা তাদের পড়িয়েছেন। এরপর বড় ভাইয়েরাই ছোটদের পড়াশোনায় সহায়তা করেছেন। গণিতের মৌলিক ধারণা শক্ত করার ওপরও বাবা বিশেষ গুরুত্ব দিতেন বলে জানিয়েছেন মামুন।    চার ভাইয়ের বুয়েটে পড়ার পেছনে তারা কোনো বিশেষ কৌশল নয়, নিয়মিত পড়াশোনা, মৌলিক ধারণা পরিষ্কার রাখা এবং কঠোর পরিশ্রমকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। ভর্তি পরীক্ষার আগের বছরের প্রশ্ন অনুশীলন ও বড় ভাইদের অভিজ্ঞতাও তাদের প্রস্তুতিতে সহায়তা করেছে।    একই পরিবারের চার ভাইয়ের দীর্ঘ সময় ধরে বুয়েটে পড়ার এই গল্প ২০২২ সালে প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। একটি সাধারণ শিক্ষক পরিবার থেকে সন্তানদের একের পর এক দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া পরিবারটির শিক্ষা ও পরিশ্রমের অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে। সূএ: প্রথম আলো

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১১:৫৪
পাঁচ দিনের বন্দর সফর শেষে থাইল্যান্ড ছেড়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি আব্রাহাম লিংকন। ছবি: সংগৃহীত
৫ দিন পর থাইল্যান্ড ছেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ‘আব্রাহাম লিংকন’

পাঁচ দিনের বন্দর সফর শেষে থাইল্যান্ড ছেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ‘আব্রাহাম লিংকন’। দীর্ঘ সময়ের সামরিক মোতায়েন ও মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান শেষে কিছুটা বিরতির পর আবারও সমুদ্রযাত্রা শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী এই যুদ্ধজাহাজ।   মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, রবিবার থাইল্যান্ডের বন্দর ত্যাগ করে রণতরিটি। এর আগে বুধবার ভোরে ‘আব্রাহাম লিংকন’সহ কয়েকটি মার্কিন নৌযান থাইল্যান্ডে পৌঁছায়। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, এই সফর পাঁচ দিন স্থায়ী হবে।   থাইল্যান্ড ছাড়ার আগে এক বিবৃতিতে ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন ড্যান কিলার বলেন, থাইল্যান্ডের জনগণের অসাধারণ আতিথেয়তার জন্য তারা কৃতজ্ঞ।   সাধারণত মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলোকে ছয় থেকে নয় মাসের জন্য বিদেশে মোতায়েন রাখা হয়। তবে যুদ্ধ বা সংঘাতের পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা আরও দীর্ঘ হতে পারে। ‘আব্রাহাম লিংকন’ও সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করেছে।   প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্য নিয়ে চলা এই পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় মার্কিন নৌ-অবরোধ ও সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিল। ডেমোক্র্যাটিক দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতার দাবি, টানা দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের ক্ষেত্রে রণতরিটি আধুনিক সময়ে একটি রেকর্ড গড়েছে।   থাইল্যান্ডে অবস্থানকালে রণতরিটির নাবিক ও মেরিন সদস্যদের কিছুটা অবসর কাটানোর সুযোগ দেওয়া হয়। জাহাজগুলো বন্দরে ভেড়ার পরপরই বাসভর্তি মার্কিন নাবিক ও মেরিন সদস্যদের বেসামরিক পোশাকে থাইল্যান্ডের পর্যটন শহর পাতায়ার একটি হোটেলের দিকে যেতে দেখা যায়। তাদের অনেককেই হাসিমুখে স্থানীয়দের দিকে হাত নাড়তে দেখা গেছে।   ব্যাংকক থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পাতায়া থাইল্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন শহর। সেখানে অবস্থানকালে মার্কিন সেনাসদস্যরা অবসর ও বিনোদনের সময় কাটান।   দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র চুক্তিভিত্তিক মিত্র থাইল্যান্ড। দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের অংশ হিসেবেই মার্কিন নৌযানগুলোর থাইল্যান্ড সফর হয়ে থাকে।   পাঁচ দিনের বিরতির পর আবার সমুদ্রে যাত্রা শুরু করায় এখন রণতরিটির পরবর্তী গন্তব্য ও সামরিক কার্যক্রমের দিকে নজর রয়েছে। দীর্ঘ সময়ের মোতায়েন শেষে ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর এই নতুন যাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১১:৩৯
ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো বিমানবন্দর এলাকায় ছোট উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের দুর্ঘটনাস্থলে আগুন নেভানোর কাজ চলছে। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল দুই শিশুর

ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ফ্রেসনো বিমানবন্দর এলাকায় একটি ছোট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুই প্রাপ্তবয়স্ক। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) চারজন আরোহী নিয়ে উড়োজাহাজটি সান জোয়াকিন নদীর কাছাকাছি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।   ফ্রেসনো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের তথ্য কর্মকর্তা টনি বোটি দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টকে জানান, দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে সিয়েরা স্কাই পার্কের কাছে একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও শেরিফের একটি যৌথ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীর পাশের পাহাড়ি ঢালে উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ দেখতে পায়।   দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষের আশপাশের ঝোপঝাড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তবে জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি হতাহতদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে।   উদ্ধারকারীরা গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় দুই প্রাপ্তবয়স্ককে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাদের চিকিৎসা চলছে। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে দুই শিশু। তাদের পরিচয় ও বয়স তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।   এদিকে, ঠিক কী কারণে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   তদন্তের স্বার্থে দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি৩০ জানিয়েছে, প্রাথমিক উদ্ধারকাজে ফ্রেসনো পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি নর্থ সেন্ট্রাল ফায়ার ডিপার্টমেন্টও অংশ নেয়। দুর্ঘটনার প্রভাবে ওই এলাকায় কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে তা মেরামত করে স্বাভাবিক করা হয়।   মাত্র কয়েক মুহূর্তের একটি দুর্ঘটনায় দুই শিশুর প্রাণহানিতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১১:১৭
থাইল্যান্ডে কসমেটিক চিকিৎসার পর ব্রিটিশ-নাইজেরীয় ইনফ্লুয়েন্সার ইঘো ‘টাইনি’ উবিরিবো মারা গেছেন। ছবি: সংগৃহীত
গোপন অঙ্গ বড় করার ইনজেকশনে মৃত্যু, বিলাসী ইনফ্লুয়েন্সারের করুণ পরিণতি

বিলাসবহুল জীবনযাপনের ছবি ও ভিডিওর জন্য পরিচিত ব্রিটিশ-নাইজেরীয় ব্যবসায়ী ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ইঘো ‘টাইনি’ উবিরিবো থাইল্যান্ডে কসমেটিক চিকিৎসার পর মারা গেছেন। ৪৩ বছর বয়সী এই ইনফ্লুয়েন্সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডেনিসি’ বা ‘ইগো’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় লাখ।   ২০২৬ সালের মার্চে স্ত্রী ড্যানিয়েল সিম্বা অ্যালেনকে নিয়ে ব্যাংককে ছুটি কাটাচ্ছিলেন উবিরিবো। তারা একটি ম্যারিয়ট হোটেলে অবস্থান করছিলেন। ছুটির সময় তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে গোপন অঙ্গ বড় করার কসমেটিক চিকিৎসা নেন। এ সময় তাঁর শরীরে ৪০ মিলিলিটার হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলার ও লিডোকেন প্রয়োগ করা হয়।   চিকিৎসা শেষে হোটেলে ফিরে স্ত্রীকে নিয়ে ম্যাসাজ নিচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং দুবার অচেতন হয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সুখুমভিত হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুরুতে তিনি সচেতন থাকলেও সিটি স্ক্যান করার আগেই আবার অচেতন হয়ে পড়েন।   পরে চিকিৎসকেরা তাঁর পালমোনারি এম্বোলিজম শনাক্ত করেন। অর্থাৎ ফুসফুসে রক্তপ্রবাহে প্রাণঘাতী বাধা তৈরি হয়েছিল। তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়ার পর ১০০ মিনিটেরও বেশি সময় সিপিআর চালানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ৬ মার্চ ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।   পরে যুক্তরাজ্যে করা ময়নাতদন্তে তাঁর ফুসফুসে এমন উপাদান পাওয়া যায়, যা ব্যবহৃত ফিলারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। করোনার জিন হারকিনের রায়ে বলা হয়, কসমেটিক চিকিৎসার ফলেই সৃষ্ট পালমোনারি এম্বোলিজম তাঁর মৃত্যুর কারণ।   বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ ধরনের ফিলার চিকিৎসায় রক্তনালিতে বাধা, সংক্রমণ ও অন্যান্য গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি রয়েছে। অথচ এর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে মাত্র ছয় থেকে নয় মাস স্থায়ী হয়।   মে মাসে লন্ডনে তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। সোনালি রঙের বিলাসবহুল কফিনে তাঁকে সমাহিত করা হয়। শেষকৃত্যে তাঁর শৈশবের বন্ধু ও নাইজেরীয় সংগীতশিল্পী ডেভিডোও উপস্থিত ছিলেন। বিলাসী জীবনের জন্য পরিচিত এই ইনফ্লুয়েন্সারের এমন করুণ মৃত্যু নতুন করে কসমেটিক চিকিৎসার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১১:৬
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসের দুই অধ্যাপক নিখোঁজ রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ ক্যালিফোর্নিয়ার দুই অধ্যাপক

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসের দুই অধ্যাপক নিখোঁজ রয়েছেন। ২৬ আগস্ট তিব্বত সীমান্তের কাছে বন্যা আঘাত হানার সময় হানুমান্থা রাও উননাভা ও তার স্ত্রী বাসুন্ধরা ‘বাসু’ উননাভা দেশটির তিমুরে এলাকায় একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।    রাও উননাভা চলতি বছরের ১ জুলাই পর্যন্ত এক দশক ইউসি ডেভিসের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি সাব্বাটিক্যালে রয়েছেন এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে ফিরবেন। তার স্ত্রী বাসু একই স্কুলের অ্যাডজাঙ্ক্ট অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং মার্কেটিং পড়ান।    পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দম্পতি অবসর-পরবর্তী একটি ভ্রমণে নেপালে গিয়েছিলেন। তাদের পরিকল্পনায় ছিল তিব্বতের কৈলাশ পর্বত সফর এবং এরপর ভারতে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো। বন্যার খবর পাওয়ার পর তাদের মেয়ে ফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু বার্তা পৌঁছায়নি।    ইউসি ডেভিস জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সংকট মোকাবিলা দলের সদস্যরা নেপালের কর্তৃপক্ষ এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের সন্ধানে কাজ করছেন। নিখোঁজ দম্পতির সন্তান ও পরিবারের সদস্যরাও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলোর সহায়তা চেয়েছেন।    নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেপালি কর্তৃপক্ষের হিসাবে ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ এবং মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে।    এই পরিস্থিতিতে ইউসি ডেভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাও ও বাসুকে নিরাপদে খুঁজে পাওয়ার আশা তারা এখনও ছাড়েনি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১০:৫১
নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের এক ডেলি দোকানি শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য নগদ পুরস্কার দিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত
ভালো রেজাল্ট করলেই ১০০ ডলার, শিক্ষার্থীদের জন্য দোকানির অভিনব উদ্যোগ

নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের এক ডেলি দোকানি শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ ডলার নগদ পুরস্কার দিচ্ছেন। শুধু ভালো ফল নয়, আগের তুলনায় ফলাফল উন্নত করলেও মিলছে খাবার, স্কুলের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও অন্যান্য উপহার। তাঁর এই উদ্যোগ এখন স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।   জ্যাক’স ফাইনেস্ট ডেলি অ্যান্ড গ্রোসারির সহমালিক ও ম্যানেজার ওয়াইল আলসেলভি, যিনি ‘আইল্যান্ড অক’ নামে পরিচিত, ২০২৩ সালে ‘গ্রেডস ফর গ্র্যাবস’ নামে উদ্যোগটি শুরু করেন। শুরুটা হয়েছিল এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছোট্ট এক বাজি থেকে। শিক্ষার্থী জামেইর ডেভিস ভালো ফল করলে তাকে পছন্দের একটি মিল্কশেক দেওয়ার কথা দিয়েছিলেন আলসেলভি। পরে সেই ঘটনা থেকেই বড় পরিসরে পুরস্কার দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়।   বর্তমানে শিক্ষার্থীরা রিপোর্ট কার্ড নিয়ে তার দোকানে আসে। ৯০ শতাংশের বেশি গড় নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীরা ১০০ ডলার নগদসহ দোকান থেকে পছন্দের জিনিস নেওয়ার সুযোগ পায়। তবে উদ্যোগটির লক্ষ্য শুধু সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা নয়। যারা আগের তুলনায় ফলাফল উন্নত করেছে, তাদেরও উৎসাহ দেওয়া হয়।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত তিন বছরে হাজারো শিক্ষার্থী এই উদ্যোগের আওতায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলসেলভির পোস্ট করা ভিডিওগুলোও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী খাবারের পাশাপাশি পরিবারের জন্য ডিম, রুটি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসও নিয়ে যায়।   আলসেলভির নিজের জীবনেও কঠিন সময় ছিল। তিনি জানিয়েছেন, জীবনের একটি অন্ধকার সময়ে তার ভাই তাকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা পান তিনি।   আলসেলভি মনে করেন, সামান্য উৎসাহও একটি শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে। তার উদ্যোগে কেউ ৫৫ শতাংশ থেকে ৯৮ শতাংশে উন্নতি করলেও সেটিকে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হয়।   ‘গ্রেডস ফর গ্র্যাবস’ চালিয়ে যেতে তিনি নিজেও অর্থ ব্যয় করছেন। উদ্যোগটি চালু রাখতে কমিউনিটির কাছ থেকেও অনুদান সংগ্রহ করা হচ্ছে। আলসেলভির লক্ষ্য এখন স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে আরও শিক্ষার্থী পড়াশোনায় উৎসাহ পায়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১০:৩৯
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের পর জাকার্তার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ার ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, ছাইয়ে বন্ধ জাকার্তার বিমানবন্দর

ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের পর আকাশে ছড়িয়ে পড়া ছাইয়ে জাকার্তার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ কয়েকটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। রোববারের এই অগ্ন্যুৎপাতের ছাই ১৫ হাজার ২০০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।    দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাভা ও সুমাত্রার মাঝামাঝি সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতোয়ায় শুক্রবার থেকেই অস্বাভাবিক আগ্নেয়গিরি কার্যকলাপ দেখা যাচ্ছিল। রোববার ভোরে প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে অগ্ন্যুৎপাত হয়। আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে লাভার ঝলকও দেখা গেছে।    অগ্ন্যুৎপাতের ছাই জাকার্তা, বানতেন, পশ্চিম জাভা ও ল্যাম্পুংয়ের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। একটি ছাইয়ের মেঘ প্রায় ৬ হাজার ১০০ মিটার উচ্চতায় এবং আরেকটি প্রায় ১৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় পৌঁছায়। বিমান চলাচলের জন্য আগ্নেয় ছাই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নিরাপত্তার কারণে বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।    দেশটির ব্যস্ততম বিমানবন্দর সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কয়েক ঘণ্টার জন্য ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখে। ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ২০৯টি ফ্লাইট মুভমেন্ট এবং প্রায় ২২ হাজার ৮০০ যাত্রী এই পরিস্থিতির কারণে প্রভাবিত হন। আন্তর্জাতিক রুটের মধ্যে সিঙ্গাপুরগামী ফ্লাইট সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হয়েছে। হংকং, সিডনি, আমস্টারডাম, সিউল, দোহা ও কুয়ালালামপুরের ফ্লাইটও বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে।    ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ছাইয়ের কারণে মানুষের চোখে জ্বালাপোড়া ও অন্যান্য অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। কয়েকটি এলাকায় স্কুলের কার্যক্রম বাতিল এবং জেলেদের মাছ ধরায় বিরতি দিতে হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাস্ক ও চোখের সুরক্ষা ব্যবহার, বাইরে চলাচল কমানো এবং ছাই পড়ার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।    তবে অগ্ন্যুৎপাতের কারণে তাৎক্ষণিক সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগ্নেয়গিরির সক্রিয় জ্বালামুখ থেকে অন্তত তিন কিলোমিটার দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং কোনো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও জারি করা হয়নি।    আনাক ক্রাকাতোয়া ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতোয়া অগ্ন্যুৎপাতের পর সমুদ্র থেকে গড়ে ওঠা নতুন আগ্নেয় দ্বীপ। ২০১৮ সালে এর অগ্ন্যুৎপাতের পর সৃষ্ট সুনামিতে জাভা ও সুমাত্রা উপকূলে অন্তত ৪৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১০:১১
যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি বিমানবন্দরে টিকিট না থাকা ব্যক্তিদেরও টার্মিনালের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
‘টিকিট ছাড়াই বিমানবন্দরের টার্মিনালে প্রবেশ!’ যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ বিমানবন্দরে নতুন সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি বিমানবন্দরে টিকিট না থাকা ব্যক্তিদেরও টার্মিনালের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের নতুন পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ব্যক্তিরা নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে টার্মিনালে গিয়ে স্বজন ও পরিচিতদের স্বাগত জানাতে বা বিদায় দিতে পারবেন। ২০০১ সালের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে টিকিট না থাকা ব্যক্তিদেরও নিরাপত্তা এলাকা পেরিয়ে গেট পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ ছিল। পরে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর হওয়ার পর সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।   নতুন এই সুবিধার নাম দেওয়া হয়েছে গেটসাইড পাস। এর মাধ্যমে যারা বিমানে ভ্রমণ করছেন না, তারাও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বিমানবন্দরের টার্মিনালের ভেতরে যেতে পারবেন। সেখানে তারা স্বজনদের বিদায় জানাতে বা স্বাগত জানাতে পারবেন। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট বিমানবন্দরে টার্মিনালের ভেতরের খাবার ও কেনাকাটার সুবিধাও ব্যবহার করতে পারবেন।   তবে গেটসাইড পাস পেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীর আগে থেকেই পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের প্রি-চেক অনুমোদন থাকতে হবে অথবা পরিচিত ভ্রমণকারী নম্বর থাকতে হবে। এরপর বিমানবন্দরে যাওয়ার অন্তত তিন দিন আগে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গেটসাইড পাসের জন্য আবেদন করতে হবে।   আবেদন অনুমোদিত হলে টিকিটধারী যাত্রীদের মতোই ওই ব্যক্তিকেও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। অর্থাৎ টিকিট না থাকলেও টার্মিনালের নিরাপত্তা এলাকায় প্রবেশের আগে তাকে নির্ধারিত নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পরই সরাসরি টার্মিনালে প্রবেশ করা যাবে না, নিরাপত্তা তল্লাশির নিয়মও মেনে চলতে হবে।   তবে প্রতিদিন সব আবেদনকারীকে এই সুবিধা দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরগুলো প্রতিদিনের গেটসাইড পাসের সংখ্যা সীমিত করতে পারে। ব্যস্ত সময়েও এই সুবিধার প্রাপ্যতা সীমিত হতে পারে। প্রয়োজন হলে কোনো বিমানবন্দর সাময়িকভাবে গেটসাইড পাস দেওয়া বন্ধও করতে পারে বলে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন জানিয়েছে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি নির্দিষ্ট বিমানবন্দরে এই সুবিধা চালু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যারিজোনার মেসা গেটওয়ে বিমানবন্দর, ওহাইওর জন গ্লেন কলম্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মিশিগানের ডেট্রয়েট মেট্রোপলিটন ওয়েন কাউন্টি বিমানবন্দর এবং কানসাসের উইচিটা ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার জাতীয় বিমানবন্দর।   এ ছাড়া ইন্ডিয়ানার ইন্ডিয়ানাপোলিস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নেভাদার হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আরকানসাসের বিল অ্যান্ড হিলারি ক্লিনটন জাতীয় বিমানবন্দর এবং ওকলাহোমার উইল রজার্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও গেটসাইড পাসের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।   তালিকার অন্য তিনটি বিমানবন্দর হলো নেব্রাস্কার এপলি এয়ারফিল্ড, ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং উটাহর সল্ট লেক সিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এসব বিমানবন্দরে অনুমোদিত দর্শনার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে নিরাপত্তা তল্লাশি সম্পন্ন করে টার্মিনালের ভেতরে যেতে পারবেন।   ২০০১ সালের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বজনরা নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে গেট পর্যন্ত যেতে পারতেন। ফলে পরিবারের সদস্য বা পরিচিতরা বিমানে ওঠার আগে যাত্রীদের সঙ্গে দেখা করতে এবং তাদের বিদায় জানাতে পারতেন। ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে এবং টিকিট ছাড়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা এলাকার ভেতরে প্রবেশের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।   নতুন কর্মসূচির আওতায় সেই পুরোনো ব্যবস্থার সীমিত একটি সুযোগ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে টিকিট ছাড়া টার্মিনালে প্রবেশ করলেও দর্শনার্থীদের জন্য বিমানবন্দরের আচরণবিধি একইভাবে প্রযোজ্য থাকবে। পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের ফেডারেল ও স্থানীয় নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বিমানবন্দরে প্রদর্শিত নির্দেশনাও অনুসরণ করতে হবে।   কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তার গেটসাইড পাস বাতিল করা হতে পারে। প্রয়োজনে তাকে বিমানবন্দর থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে। গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দেওয়ানি বা ফৌজদারি শাস্তির মুখোমুখিও হতে পারেন ওই ব্যক্তি। ফলে টিকিট ছাড়া টার্মিনালে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও এটি নিরাপত্তা বিধিনিষেধের বাইরে কোনো প্রবেশাধিকার নয়।   বর্তমানে পরীক্ষামূলক এই সুবিধা নির্দিষ্ট ১৩টি বিমানবন্দরে সীমাবদ্ধ রয়েছে। আবেদনকারীদের আগে অনুমোদন নিতে হবে এবং বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় যাত্রীদের মতোই নিরাপত্তা তল্লাশি সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি বিমানবন্দরের দৈনিক সীমা ও সাময়িক বিধিনিষেধও প্রযোজ্য হবে।   সূত্র: ডব্লিউএফএলএ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ৯:৫৯
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চারজন বাড়ির মালিকের প্রায় একজন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দ্রুত গৃহঋণ পরিশোধ করছেন। ছবি: সংগৃহীত
‘কম সুদের ঋণ, তবু বেশি কিস্তি!’ কেন দ্রুত ঋণ শোধ করছেন মার্কিন বাড়ির মালিকরা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চারজন বাড়ির মালিকের প্রায় একজন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দ্রুত গৃহঋণ পরিশোধ করছেন। তবে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ২০২০ ও ২০২১ সালে যখন গৃহঋণের সুদের হার খুব কম ছিল, তখন ঋণ নেওয়া ব্যক্তিরাই বর্তমানে বেশি সুদের হারে ঋণ নেওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি হারে অতিরিক্ত কিস্তি দিচ্ছেন। বড় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান রকেট মর্টগেজের প্রায় ৩০ লাখ ঋণের তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।   রকেট মর্টগেজ গত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে তাদের প্রায় ৩০ লাখ ঋণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের আগে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ ও ২০২১ সালের কম সুদের ঋণগ্রহীতারা বর্তমান সময়ের তুলনামূলক বেশি সুদের হারে ঋণ নেওয়া ব্যক্তিদের চেয়ে দ্রুত ঋণ পরিশোধের প্রবণতা বেশি দেখিয়েছেন।   প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, অতিরিক্ত পরিশোধের গড় পরিমাণ বছরে আরও একটি পূর্ণ মাসিক কিস্তি দেওয়ার সমান। ৩০ বছরের গৃহঋণের ক্ষেত্রে এই হারে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করা হলে ঋণের মেয়াদ পাঁচ বছরেরও বেশি কমে যেতে পারে। অতিরিক্ত অর্থ সরাসরি ঋণের মূল অর্থ কমাতে ব্যবহৃত হওয়ায় ভবিষ্যতে ওই অর্থের ওপর সুদ জমা হয় না। ফলে পুরো ঋণের মেয়াদে মোট সুদের খরচও কমে যায়।   গৃহঋণের প্রতিটি মাসিক কিস্তিতে ঋণের মূল অর্থ এবং সুদের একটি অংশ থাকে। ঋণগ্রহীতা নির্ধারিত কিস্তির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিলে সেই অর্থ পুরোপুরি মূল ঋণ কমাতে যায়। এর ফলে পরবর্তী সময়ে কম মূল অর্থের ওপর সুদ দিতে হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ মেয়াদে এভাবে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করলে মোট সুদের খরচ কয়েক দশ হাজার ডলার পর্যন্ত কমতে পারে।   তবে অতিরিক্ত কিস্তি দেওয়া সব ক্ষেত্রেই সবচেয়ে ভালো আর্থিক সিদ্ধান্ত কি না, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কারণ ঋণগ্রহীতাকে বিবেচনা করতে হয়, ওই অতিরিক্ত অর্থ অন্য কোথাও বিনিয়োগ করলে কতটা আয় হতে পারে। বর্তমানে গৃহঋণের সুদের হার পাঁচ বছর আগের তুলনায় বেশি হলেও ব্যাংক হিসাব ও বিনিয়োগ থেকেও তুলনামূলক বেশি আয় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   আর্থিক পরিকল্পনাবিদ ক্রিস্টোফার প্রাইসের মতে, কারও গৃহঋণের সুদের হার যদি ২ দশমিক ৫ শতাংশের মতো কম হয়, তাহলে আর্থিক দিক থেকে ঋণটি যত ধীরে এবং দীর্ঘ সময় ধরে পরিশোধ করা যায়, তত ভালো হতে পারে। তার যুক্তি, ওই অর্থ অন্যত্র বিনিয়োগ করে ঋণের সুদের হারের চেয়ে বেশি আয় করার সুযোগ থাকতে পারে।   কিন্তু রকেট মর্টগেজের তথ্য বলছে, বাস্তবে অনেক ঋণগ্রহীতা উল্টোভাবে ঋণ পরিশোধ করছেন। ২০২০ সালে গৃহঋণ নেওয়া ব্যক্তিদের চারজনের মধ্যে একজনেরও বেশি প্রায় পুরো ঋণের সময়জুড়েই অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করে আসছেন। ২০২১ সালে ঋণ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেও প্রায় একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ঋণ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের হার প্রায় পাঁচজনের একজন।   প্রাইসের মতে, মানুষ কেন কম সুদের ঋণও দ্রুত পরিশোধ করতে চান, তার কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। কেউ কেউ মনে করেন, ঋণ থাকা মানেই খারাপ এবং অবসরে যাওয়ার সময় কোনো ঋণ থাকা উচিত নয়। এমনকি সুদের হার কম হলেও তারা ঋণকে বোঝা হিসেবে দেখেন। আবার অনেকের বিনিয়োগ সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগের পরিবর্তে গৃহঋণের কিস্তি হিসেবে পরিশোধ করার প্রবণতা রয়েছে।   তবে ওয়াশিংটন পোস্টের আর্থিক কলাম লেখক মিশেল সিঙ্গেলটারি এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি নিজেই ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদের গৃহঋণ নির্ধারিত সময়ের আট বছর আগে পরিশোধ করেছিলেন। তার মতে, ঋণ পরিশোধ করে দেওয়ার ফলে মাসিক নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়ে এবং ভবিষ্যতে যে সুদ আর দিতে হবে না, সেই সাশ্রয় নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়। এর বিপরীতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ আয় নিশ্চিত নয়।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কম সুদের ঋণ থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে অতিরিক্ত কিস্তি দেওয়ার হার বেশি হওয়ার অর্থ এই নয় যে বেশি সুদের ঋণ নেওয়া ব্যক্তিরা দ্রুত ঋণ পরিশোধ করতে চান না। বরং সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের মাসিক গৃহঋণের কিস্তিই তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। একই সময়ে সুদের হার প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার পাশাপাশি বাড়ির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ি কেনা অনেক মানুষের হাতে গৃহঋণের নির্ধারিত কিস্তির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ থাকে না। এমনকি বেশি সুদের কারণে দ্রুত ঋণ পরিশোধের আগ্রহ থাকলেও অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার সামর্থ্য অনেকের নেই। অন্যদিকে ২০২০ ও ২০২১ সালের কম সুদের ঋণগ্রহীতাদের তুলনামূলক কম মাসিক ব্যয়ের কারণে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের সুযোগ বেশি রয়েছে।   রকেট মর্টগেজের তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের গৃহঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে একটি অপ্রত্যাশিত প্রবণতা দেখাচ্ছে। কম সুদের ঋণ নেওয়া ব্যক্তিরাই তুলনামূলক বেশি হারে নির্ধারিত কিস্তির বাইরে অর্থ পরিশোধ করছেন। তবে এ সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবে কতটা উপযোগী, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যেই মতভেদ রয়েছে। কেউ কম সুদের ঋণ ধরে রেখে অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগের পক্ষে, আবার কেউ ঋণমুক্ত হওয়ার নিশ্চয়তাকে বেশি গুরুত্ব দেন।   সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ৯:৪১
নাচের ক্লাসে যাওয়ার জন্য খাবার রান্না না করাকে কেন্দ্র করে স্বামীর মারধরে গুরুতর আহত যামিনী যাদব মারা গেছেন। ছবি: সংগৃহীত
রান্না না করে নাচের ক্লাসে যাওয়ায় ঝগড়া, স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করেন স্বামী

ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে নাচের ক্লাসে যাওয়ার জন্য খাবার রান্না না করাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ৩৮ বছর বয়সী যামিনী কৃষ্ণলাল যাদব চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় তার স্বামী ৪১ বছর বয়সী কৃষ্ণলাল যাদবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ঝিংগাবাই টাকলি এলাকার একটি আবাসিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, কাজ শেষে বাড়ি ফিরে কৃষ্ণলাল স্ত্রী ও দুই সন্তানের জন্য খাবার প্রস্তুত করতে বলেন। এ সময় যামিনী তাদের আবাসিক এলাকায় আয়োজিত নাচের ক্লাসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রান্না না করা নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।   পুলিশের অভিযোগ, একপর্যায়ে কৃষ্ণলাল যামিনীর ঘাড় ও পেটে আঘাত করেন। সে সময় তাদের দুই সন্তানও সেখানে ছিল। মারধরের পর যামিনী ঘাড় ও পেটে তীব্র ব্যথার কথা জানান এবং স্বামীকে ওষুধ আনতে বলেন। কৃষ্ণলাল ওষুধ কিনতে গেলেও দোকান বন্ধ থাকায় ফিরে আসেন।   এরপর যামিনীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   প্রথমে ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ঘাড়ের হাড় ভেঙে যাওয়া এবং অন্ত্রে গুরুতর আঘাতসহ একাধিক ক্ষত ধরা পড়ে। প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের সন্দেহ বাড়ে এবং কৃষ্ণলালকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয়।   পুলিশ তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে। ঘটনাটি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী অভিযুক্তকে দোষী বলা যায় না।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ৯:১৪
কর্মজীবী বাবা-মায়ের তহবিলেই ঘরে থাকা অভিভাবকদের ভর্তুকির পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের
কর্মজীবী বাবা-মায়ের তহবিল থেকে ঘরে থাকা অভিভাবকদের ভর্তুকি দিতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালন করা বিবাহিত দম্পতিদেরও সরকারি শিশু যত্ন ভর্তুকির আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে এ জন্য নতুন অর্থ বরাদ্দের বদলে কর্মজীবী বাবা-মায়ের শিশু যত্নে ব্যবহৃত একটি ফেডারেল তহবিল থেকেই অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।  দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অন্যতম অগ্রাধিকার। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো বিবাহিত দম্পতির একজন সপ্তাহে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা কাজ করলে এবং অন্যজন বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনা করলে তারা এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। প্রস্তাবিত অর্থ আসবে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের চাইল্ড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে। ১৯৯০-এর দশকে চালু হওয়া এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মজীবী বাবা-মাকে শিশু যত্নের খরচে সহায়তা করা, যাতে তারা কাজ, পড়াশোনা বা কর্মপ্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে পারেন। বর্তমানে এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি শিশুর জন্য বছরে গড়ে প্রায় ৯ হাজার ডলারের সহায়তা দেওয়া হয়।  নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালনকারী অভিভাবকদের জন্য এটিই হবে ফেডারেল পর্যায়ে সরাসরি শিশু যত্ন সহায়তা পাওয়ার একটি নতুন পথ। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সঙ্গে ঘরে থেকে সন্তান পালনের সুযোগকে উৎসাহিত করার রক্ষণশীল পারিবারিক ধারণারও মিল রয়েছে। মে মাসে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, প্রশাসন ঘরে থাকা বাবা-মায়ের জন্য শিশু যত্ন ব্যবস্থায় আরও সুযোগ তৈরি করতে চায়।  তবে প্রস্তাবটি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, একই তহবিলের অর্থ ঘরে থাকা অভিভাবকদের জন্য ব্যবহার করা হলে কর্মজীবী বাবা-মায়ের জন্য বরাদ্দ সহায়তা কমে যেতে পারে। এতে শিশু যত্ন কেন্দ্রগুলোও আর্থিক চাপের মুখে পড়তে পারে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান সেবার মূল্য বাড়ানো বা কার্যক্রম কমিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারে।  সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই শিশু যত্ন ভর্তুকি পাওয়া প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার পরিবারের প্রায় ৮০ শতাংশই একক কর্মজীবী অভিভাবকের পরিবার। তাদের বেশিরভাগই নারী। ফলে নতুন শ্রেণির পরিবারকে একই তহবিলের আওতায় আনা হলে বিদ্যমান সুবিধাভোগীদের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমালোচকরা। খসড়া প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। হোয়াইট হাউসের অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে এটি জনসাধারণের মতামতের জন্য প্রকাশিত হতে পারে। চূড়ান্ত হলে আগামী বছর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ৯:১
কুকুর দিয়ে মুসলিম ট্যাক্সিচালককে ভয় দেখানোর ভিডিও ঘিরে যুক্তরাজ্যে ব্যাপক সমালোচনা
যুক্তরাজ্যে মুসলিম ট্যাক্সি চালককে কুকুর দিয়ে হেনস্তা! ভিডিও ভাইরাল

যুক্তরাজ্যে এক মুসলিম ট্যাক্সি চালককে যাত্রীদের কুকুর দিয়ে ভয় দেখানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি চলন্ত অবস্থায় পেছনের আসনে থাকা যাত্রীরা একটি ছোট কুকুরকে চালকের দিকে এগিয়ে দেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে চালক গাড়ি থামিয়ে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চালক কুকুরটি দেখে স্পষ্টভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে যাত্রীদের একজন কুকুরটিকে চালকের মাথার দিকে এগিয়ে দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চালক গাড়ি থামিয়ে বাইরে চলে যান এবং আর গাড়িতে ফিরতে রাজি হননি। যাত্রীরা ঘটনাটিকে ‘প্র্যাঙ্ক’ বা মজা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করলেও ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।  ভিডিওটি ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পোস্টে ঘটনাটিকে মুসলিম পরিচয়ের কারণে চালককে লক্ষ্য করে হয়রানি হিসেবে দাবি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে চালকের নাম, ঘটনাস্থলের নির্দিষ্ট শহর কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে ঘটনাটিকে নিছক মজা নয়, বরং চালকের জন্য বিপজ্জনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ গাড়ি চলন্ত অবস্থায় চালককে ভয় দেখানো হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ৮:৫১