- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি হাইস্কুলে স্কুল রিসোর্স অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা রেমন্ড কার্নারকে একাধিক নারীর করা অনৈতিক ও যৌন আচরণের অভিযোগের পর চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোরাল স্প্রিংস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষ হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কার্নার কোরাল স্প্রিংসের জে.পি. তারাভেলা হাইস্কুলে ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় আট বছর স্কুল রিসোর্স অফিসার হিসেবে কাজ করেন। ২০২২ সালে তিনি পুলিশ বিভাগ থেকে অবসর নেন। পরে একই বছর পার্টটাইম মৌসুমি স্কুল রিসোর্স অফিসার হিসেবে আবার কাজে ফেরেন এবং ঈগল রিজ এলিমেন্টারি স্কুলেও দায়িত্ব পালন করেন। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন নারী তার বিরুদ্ধে যৌন প্রকৃতির অনুপযুক্ত আচরণ ও কথাবার্তার অভিযোগ করার পর অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ ওঠার পরই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তদন্ত শেষে তাকে আর পুলিশ বিভাগে রাখা হয়নি। তদন্তে যেসব অভিযোগ উঠে এসেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর পর্যালোচনা করা পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। এক সাবেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ২১ বছর বয়সে কার্নার তার পোশাকের ভেতর হাত দিয়ে টাকা রাখার চেষ্টা করেছিলেন। আরেক সাবেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তিনি শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কার্নার ফেসটাইমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে পর্নোগ্রাফি দেখান এবং অশালীন আচরণ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও কয়েকটি যৌন আচরণ ও অনুপযুক্ত মন্তব্যের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। লোকাল ১০-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তে কার্নারের বিরুদ্ধে ব্যাটারি, অশ্লীল প্রদর্শন, অপ্রাপ্তবয়স্ককে অশ্লীল উপকরণ দেখানো এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগসহ কয়েকটি নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয় বহাল রাখা হয়। তবে এগুলো অভ্যন্তরীণ তদন্তের অভিযোগ ও প্রশাসনিক findings, আদালতে প্রমাণিত অপরাধ নয়। কেন ফৌজদারি মামলা হচ্ছে না? ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কার্নারের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা বা অভিযোগ আনা হচ্ছে না। পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলোর কিছু ঘটনা আইনে নির্ধারিত স্ট্যাটিউট অব লিমিটেশনের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় সেগুলোতে ফৌজদারি মামলা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ, পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদন্তে গুরুতর অভিযোগ বহাল থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে কার্নার কোনো ফৌজদারি মামলায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আরও ভুক্তভোগী আছেন কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ কোরাল স্প্রিংস পুলিশ প্রধান ব্র্যাড মক ঘটনাটিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, স্কুলে দায়িত্ব পালনকারী একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে শিক্ষার্থী ও পরিবারের আস্থা রক্ষা এবং পেশাগত সীমারেখা বজায় রাখার দায়িত্ব আরও বেশি। পুলিশ প্রধান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এমন আরও কেউ থাকতে পারেন যারা একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েও বিষয়টি কখনো জানাননি। তাদের সামনে এসে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। কার্নার-সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে কোরাল স্প্রিংস পুলিশ বিভাগের সার্জেন্ট আর্নেস্তো ব্রুনার সঙ্গে ৯৫৪-৩৪৬-১২৩৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সূত্র: WSVN 7News, CBS News Miami
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার কমানো বা বিভিন্ন ফি মওকুফের জন্য কার্ড কোম্পানির কাছে অনুরোধ করে বড় ধরনের সাড়া পাচ্ছেন গ্রাহকরা। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, গত এক বছরে সুদের হার কমানোর অনুরোধ করা ৮৪ শতাংশ গ্রাহকই সফল হয়েছেন। ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক প্রতিষ্ঠান লেন্ডিংট্রির জরিপ অনুযায়ী, সুদের হার কমানোর পর গড়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। জরিপে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের জন্য এটি ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সাফল্যের হার। শুধু সুদের হার নয়, বিভিন্ন ফি কমানো বা মওকুফের ক্ষেত্রেও সাফল্যের হার বেশ বেশি। বিলম্ব ফি মওকুফের অনুরোধ করা ৯২ শতাংশ গ্রাহক সফল হয়েছেন। বার্ষিক ফি কমানো বা মওকুফের ক্ষেত্রে সফলতার হার ৯৪ শতাংশ। বিদেশি লেনদেনের ফি কমানো বা মওকুফের ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ব্যালান্স ট্রান্সফার ফি কমানো বা মওকুফের ক্ষেত্রে ৬১ শতাংশ অনুরোধ অনুমোদন পেয়েছে। তবে এমন সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক গ্রাহক এসব ছাড়ের জন্য আবেদন করছেন না। জরিপে দেখা গেছে, ৫২ শতাংশ কার্ডধারী বলেছেন, মূল্যস্ফীতির কারণে তারা ছাড় চাইতে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হয়েছেন। আবার প্রায় ১০ জনে ৪ জন জানিয়েছেন, কাস্টমার সার্ভিস প্রতিনিধির সঙ্গে কথা না বলেই তারা সুদের হার কমানো বা কোনো ফি মওকুফের সুবিধা পেয়েছেন। লেন্ডিংট্রির উদাহরণ অনুযায়ী, কারও ক্রেডিট কার্ডে ৭ হাজার ডলার ঋণ থাকলে এবং সুদের হার ২৫ শতাংশ থেকে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে নামানো গেলে, প্রতি মাসে ২৫০ ডলার করে পরিশোধ চালিয়ে গেলে প্রায় ১ হাজার ৩৪৬ ডলার সুদ সাশ্রয় হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সময়মতো বিল পরিশোধের রেকর্ড বা উন্নত ক্রেডিট স্কোর থাকলে সুদের হার কমানোর অনুরোধ করা যেতে পারে। অন্য প্রতিষ্ঠানের কম সুদের অফার থাকলেও সেটি দর-কষাকষিতে কাজে লাগতে পারে। অনুরোধ নাকচ হলে পরে আবার চেষ্টা করা বা অন্য প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে অটোরিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেন (৫৮) পিটুনিতে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে মো. আরিফও গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলতাফ হোসেন এসবির মালিবাগ জোনে কর্মরত ছিলেন। তিনি পরিবার নিয়ে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলমের বরাতে জানা গেছে, রাতে বাসায় ফেরার পথে আলতাফ হোসেন কয়েকজন যুবককে এক বৃদ্ধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালককে মারধর করতে দেখেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা তাঁকেও মারধর করে। পরে আলতাফ নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে সেখান থেকে সরে গিয়ে তাঁর কারখানায় ঢুকে পড়েন। এরপর হামলাকারীরা আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই কারখানায় হামলা চালায়। তারা কারখানার মেশিনপত্র ও বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর ছেলে আরিফ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার কারণ ও হামলায় জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: চ্যানেল ২৪
১৯৯৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের একটি হাসপাতালে সংকটাপন্ন এক প্রিম্যাচিউর শিশুকে তার যমজ বোনের সঙ্গে একই ইনকিউবেটরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নার্স গেইল কাসপারিয়ান। এরপর দুই বোনের একটি মুহূর্তের ছবি ‘দ্য রেসকিউইং হাগ’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং প্রিম্যাচিউর যমজ শিশুদের কো-বেন্ডিং নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়। ব্রিয়েল ও কাইরি জ্যাকসন ১৯৯৫ সালের ১৭ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১২ সপ্তাহ আগে ম্যাসাচুসেটসের ওরচেস্টারের দ্য মেডিকেল সেন্টার অব সেন্ট্রাল ম্যাসাচুসেটসে জন্ম নেয়। জন্মের পর দুজনকেই আলাদা ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছিল। সে সময় সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে প্রিম্যাচিউর যমজদের আলাদা রাখাই প্রচলিত ছিল। কাইরি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও ব্রিয়েলের অবস্থা ছিল উদ্বেগজনক। তার শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছিল এবং হৃদস্পন্দনও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছিল। ১২ নভেম্বর তার অবস্থা আরও খারাপ হলে চিকিৎসাকর্মীরা প্রচলিত বিভিন্ন পদ্ধতিতে তাকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে নার্স গেইল কাসপারিয়ান ইউরোপের কিছু হাসপাতালে ব্যবহৃত একটি পদ্ধতির কথা মনে করেন। সেটি হলো কো-বেন্ডিং, অর্থাৎ যমজ শিশুদের একই ইনকিউবেটরে রাখা। যুক্তরাষ্ট্রে তখন এটি প্রচলিত পদ্ধতি ছিল না। বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে কাসপারিয়ান ব্রিয়েলকে তার যমজ বোন কাইরির ইনকিউবেটরে রাখেন। ইনকিউবেটরের দরজা বন্ধ করার পরপরই ব্রিয়েল তার বোনের কাছে সরে যায় এবং শান্ত হতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যে তার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়তে থাকে। এরপর কাইরি তার ছোট্ট হাত দিয়ে ব্রিয়েলকে জড়িয়ে ধরে। তখন ব্রিয়েলের হৃদস্পন্দন স্থিতিশীল হয় এবং শরীরের তাপমাত্রাও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে। সেই মুহূর্তের ছবিতে দেখা যায়, ছোট্ট কাইরির একটি হাত ব্রিয়েলের শরীরের ওপর রাখা। ছবিটি পরে ‘দ্য রেসকিউইং হাগ’ নামে পরিচিত হয়। ১৯৯৬ সালে এটি লাইফ ম্যাগাজিন ও রিডার্স ডাইজেস্টে প্রকাশিত হলে ঘটনাটি ব্যাপক পরিচিতি পায় এবং প্রিম্যাচিউর যমজ, এমনকি একাধিক শিশুর ক্ষেত্রে কো-বেন্ডিং নিয়ে হাসপাতালগুলোতে আগ্রহ বাড়ে। পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস মেমোরিয়ালে অন্তত ১০০ সেট প্রিম্যাচিউর যমজ বা একাধিক শিশুকে কো-বেন্ডিং করার অভিজ্ঞতার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনাটিকে এককভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিবর্তনের কারণ বা একটি শিশুর জীবন বাঁচানোর নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং এটি প্রিম্যাচিউর যমজদের একসঙ্গে রাখার সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা ও চিকিৎসা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে পরিচিত হয়ে আছে। শেষ পর্যন্ত ব্রিয়েল ও কাইরি দুজনই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরে। কয়েক বছর পরও তাদের একসঙ্গে ঘুমানোর কথা পরিবার জানিয়েছিল। দুই বোনের সেই ছোট্ট আলিঙ্গন আজও চিকিৎসা ইতিহাসের আলোচিত এক মানবিক মুহূর্ত হিসেবে স্মরণ করা হয়।
চাকরির কারণে ১৩ বছরের পরিচিত জীবন পেছনে ফেলে আমেরিকা থেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য জার্মানিতে পাড়ি জমিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি পঙ্কজ তালুকদার। পরিবার, বন্ধু, পরিচিত শহর আর অসংখ্য স্মৃতি ছেড়ে নতুন দেশে যাত্রা তার জন্য যেমন আবেগের, তেমনি নতুন অভিজ্ঞতারও। ভোর রাতে মিজৌরির সেন্ট লুইস এয়ারপোর্ট থেকে শুরু হয় পঙ্কজের যাত্রা। সেন্ট লুইস থেকে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর, এরপর বাল্টিমোর থেকে জার্মানির রামস্টেইন এয়ার বেস। সেখান থেকে আরও প্রায় ছয় ঘণ্টার বাসযাত্রা শেষে পৌঁছান নিজের নতুন ইউনিটে। অচেনা জায়গা আর অচেনা মানুষ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই মনে ছিল নানা ভাবনা। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর রিসেপশনে পাওয়া আন্তরিক অভ্যর্থনা অনেকটাই স্বস্তি দেয় তাকে। সবচেয়ে বড় চমক ছিল, তার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল আলাদা একটি রুম, বাথরুম ও কিচেনসহ পুরো একটি অ্যাপার্টমেন্ট। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তির মধ্যে এই আয়োজনই যেন হয়ে ওঠে নতুন জীবনের প্রথম স্বস্তি। আগামী কয়েক বছর এই জায়গাটিই হবে পঙ্কজের ঠিকানা। অচেনা এই পরিবেশেই তৈরি হবে নতুন গল্প, নতুন অভিজ্ঞতা আর নতুন স্মৃতি। তবে নতুন জীবনের শুরু হলেও নিউইয়র্ককে পেছনে ফেলে আসার অনুভূতি সহজ নয়। শহরটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার জীবনের দীর্ঘ ১৩ বছরের অসংখ্য স্মৃতি। নিউইয়র্কের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে যেমন অনেক স্বপ্ন দেখেছেন, তেমনি সেখানে পেয়েছেন আনন্দের মুহূর্ত এবং কঠিন সময় পার করার অভিজ্ঞতাও। তাই নিউইয়র্ক ছেড়ে আসা তার কাছে কেবল একটি শহর ছেড়ে যাওয়া নয়। এটি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে সাময়িকভাবে পেছনে রেখে নতুন অধ্যায়ের পথে যাত্রা। প্রিয় নিউইয়র্ক এখন পেছনে, সামনে জার্মানি। নতুন দেশ, নতুন ঠিকানা, নতুন মানুষ আর নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হলো পঙ্কজ তালুকদারের জীবনের আরেকটি অধ্যায়।
ক্যালিফোর্নিয়ার চিনো শহরের বাসিন্দা মাইকেল শেরম্যান নিজের পরিবারের জন্য ফল ও সবজি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে বাড়ির সামনের লনকে ‘ফুড ফরেস্টে’ পরিণত করেছিলেন। কিন্তু সেই বাগানই এখন তাকে গুনতে হচ্ছে একের পর এক জরিমানা। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত তাকে ৭৫০ ও ৫০০ ডলারের দুটি জরিমানা করা হয়েছে। আরও ৫০০ ডলারের জরিমানার আশঙ্কাও রয়েছে। ৪৯ বছর বয়সী শেরম্যান পেশায় ল্যান্ডস্কেপ কনট্রাক্টর। ২০১৯ সালে তিনি বাড়ির সামনের প্রচলিত ঘাসের লন সরিয়ে সেখানে ফল ও সবজি চাষ শুরু করেন। প্যাশনফ্রুট, মূলা, কলা, মিষ্টি আলু, স্কোয়াশসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ রয়েছে তার বাগানে। পরিবারের খাবারের খরচ কমানো এবং বাজারের খাবারে কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। উৎপাদিত কিছু খাবার প্রতিবেশীদেরও দেন। তবে বাগান নিয়ে সবার মত এক নয়। কিছু প্রতিবেশী শেরম্যানের উদ্যোগকে সমর্থন করলেও অন্যরা এটিকে অপরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিকটু বলে অভিযোগ করেছেন। কারও কারও আশঙ্কা, অতিরিক্ত গাছপালা ইঁদুরসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের সমস্যা তৈরি করতে পারে। এপ্রিল মাসে চিনো শহরের কোড এনফোর্সমেন্ট কর্তৃপক্ষ ‘অতিরিক্ত বেড়ে ওঠা গাছপালা’সহ কয়েকটি নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে শেরম্যানকে ৭৫০ ডলার জরিমানা করে। তাকে অতিরিক্ত গাছপালা ছাঁটাই, পথচারীদের চলাচলের ক্ষেত্রে দৃশ্যমানতা নিশ্চিত করা এবং প্রতিবেশীর সম্পত্তির সীমানা থেকে অন্তত ১৫ ফুট দূরে গাছপালা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি আপিলও করেন। আগস্টে তাকে আরও ৫০০ ডলারের জরিমানা করা হয়। এরপর শহরের নির্দেশনা মেনে শেরম্যান কিছু ঝোপঝাড় সরিয়ে গাছপালা ছাঁটাই করেন এবং পথচারীদের চলাচলের দৃষ্টিসীমা পরিষ্কার করেন। তবে তার দাবি, নিয়ম মেনে পরিবর্তন আনার পরও নতুন করে জরিমানার মুখে পড়ছেন। সেপ্টেম্বরে সিবিএস লস অ্যাঞ্জেলেসকে শেরম্যান জানান, চলতি মাসের ১৬ তারিখের মধ্যে বাগানের বাকি অংশ ছাঁটাই না করলে আরও ৫০০ ডলারের জরিমানা হতে পারে। শহর কর্তৃপক্ষ বলছে, যেসব গাছপালা এখনো কোডের আওতায় অতিরিক্ত বেড়ে আছে, সেগুলো ছাঁটাই বা সরানো না পর্যন্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি বহাল থাকবে। অন্যদিকে শেরম্যানের যুক্তি, নিজের পরিবারের খাবার উৎপাদনের জন্য বাড়ির জায়গা ব্যবহার করার অধিকার তার থাকা উচিত। তিনি জানান, নিরাপত্তা ও পথচারীদের দৃশ্যমানতার মতো যৌক্তিক নিয়ম মানতে তার আপত্তি নেই। তবে বাগানের কারণে সরাসরি কোনো প্রতিবেশীর ক্ষতি বা প্রকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি না হলে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করছেন তিনি। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরতলিতে বাড়ির সৌন্দর্য, স্থানীয় কোড এবং ব্যক্তিগতভাবে খাদ্য উৎপাদনের স্বাধীনতার মধ্যে তৈরি হওয়া টানাপোড়েনকেও সামনে এনেছে। বিশেষ করে চিনো শহরের সরকারি স্লোগান ‘Where Everything Grows’ হওয়ায় শেরম্যানের বাগান নিয়ে বিতর্কটি আরও আলোচনায় এসেছে। শহরের এই স্লোগানটির সঙ্গে এলাকার কৃষিভিত্তিক ঐতিহ্যেরও সম্পর্ক রয়েছে। শেরম্যান এখন বাগানের পুরোটা সরিয়ে ফেলার বদলে শহরের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে নিজের ‘ফুড ফরেস্ট’ ধরে রাখতে চান।
তাইওয়ানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বার্বি শুর মৃত্যুর দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাকে ভুলতে পারছেন না স্বামী দক্ষিণ কোরিয়ার সংগীতশিল্পী ডিজে কু। বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিবেদন ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, স্ত্রীকে হারানোর পরও নিয়মিত তার কবরের কাছে যান তিনি। বার্বি শু ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জাপানে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটানোর সময় ইনফ্লুয়েঞ্জাজনিত নিউমোনিয়ায় ৪৮ বছর বয়সে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছিলেন ছোট বোন ও টেলিভিশন উপস্থাপক ডি শু। পরে তাইওয়ানের নিউ তাইপেই সিটির চিন পাও সান কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। বার্বি শু ও ডিজে কুর প্রেমের গল্পও ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার। ১৯৯৮ সালে তাদের সম্পর্ক শুরু হলেও একপর্যায়ে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। প্রায় দুই দশক পর, ২০২১ সালে আবার তাদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তারা বিয়ে করেন। কিন্তু বহু বছর পর ফিরে পাওয়া সেই সম্পর্কও স্থায়ী হয়নি। বিয়ের মাত্র তিন বছরের মাথায় আকস্মিকভাবে মারা যান বার্বি শু। স্ত্রীর মৃত্যুর পর ডিজে কুকে নিউ তাইপেইয়ের চিন পাও সান কবরস্থানে নিয়মিত দেখা যাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ২০২৫ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি প্রায় প্রতিদিন সেখানে গিয়ে দীর্ঘ সময় নীরবে বসে থাকতেন। বৃষ্টি বা প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও তার এই যাতায়াত অব্যাহত ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কখনো তিনি স্ত্রীর পছন্দের খাবার ও পানীয় নিয়ে যেতেন, আবার কখনো কবরের পাশে বসে বার্বি শুর ছবি আঁকতেন বা পুরোনো স্মৃতি দেখতেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এসব প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কবরের পাশে বসে তিনি স্ত্রীর একটি ভাস্কর্যের নকশা নিয়েও কাজ করছিলেন। ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বার্বি শুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ উন্মোচন করেন ডিজে কু। স্মৃতিস্তম্ভটি তিনি নিজেই নকশা করেছিলেন এবং চিন পাও সান কবরস্থানেই এটি স্থাপন করা হয়। বার্বি শু ও ডিজে কুর সম্পর্কের গল্প তাই শুধু দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর পুনর্মিলনের নয়, অল্প সময়ের জন্য ফিরে পাওয়া ভালোবাসা হারানোর বেদনাও বয়ে চলেছে। বহু বছর পর যে মানুষটিকে জীবনে ফিরে পেয়েছিলেন ডিজে কু, তার মৃত্যুর পরও সেই সম্পর্কের স্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি।
ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন চিকিৎসক ডা. ইরফান মাহমুদ। কিন্তু জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ থাকায় শরীরে স্যালাইন চলা অবস্থাতেই আবার চেয়ারে বসে রোগীদের চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে তাকে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতের এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। রাত প্রায় ১২টার দিকে জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ ছিল। চিকিৎসকের কক্ষের সামনে রোগী ও স্বজনদের অপেক্ষার মধ্যে খবর আসে, দায়িত্বে থাকা ডা. ইরফান মাহমুদ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কর্তব্যরত নার্স তাকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন। একপর্যায়ে হাতে ক্যানুলা লাগানো অবস্থাতেই জরুরি বিভাগের রোগীদের চিকিৎসা দিতে বসেন তিনি। কালবেলার প্রতিবেদনে ডা. ইরফান মাহমুদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাত সাড়ে ১২টার দিকে দুই থেকে তিনবার বমি হওয়ার পর তিনি অসুস্থ বোধ করেন। তখন তার রক্তচাপ ৬০/৯০-এ নেমে যায় বলে জানান তিনি। পরে নার্সরা তাকে স্যালাইন দেন। তবে জরুরি বিভাগে কয়েকজন গুরুতর রোগী আসায় স্যালাইন চলা অবস্থাতেই তাদের চিকিৎসা দিতে হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। ফলে সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকদের ওপর চাপ বেশি। ডা. ইরফান মাহমুদ জানান, হাসপাতালে ৮৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১৭ জন। কনসালট্যান্ট ছাড়া পাঁচজন চিকিৎসক দুই শিফটে জরুরি বিভাগের রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। পরে রাত প্রায় ৩টার দিকে অন্য একজন চিকিৎসক জরুরি বিভাগের দায়িত্ব নিলে ডা. ইরফান মাহমুদ বাসায় ফেরেন। তিনি বর্তমানে কিছুটা সুস্থ বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন। হাসপাতালে একজন চিকিৎসক নিজে অসুস্থ থাকা অবস্থায় স্যালাইন চলতে চলতেই রোগী দেখার ঘটনায় চিকিৎসক সংকট এবং জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত কর্মচাপের বিষয়টি সামনে এসেছে। সূত্র: সময় নিউজ ডট টিভি
সাধারণ মানুষ যখন দৈনন্দিন জীবনের খরচ মেটাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে, তখন ভার্চুয়াল জগতে ঘটছে এক অদ্ভুত ঘটনা। রক্তমাংসের কোনো মানুষ নয়, বরং একটি অ্যানিমেটেড কার্টুন চরিত্র আপনার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি আয় করছে। এটি শুনতে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও বর্তমান বাস্তবতায় এটাই সত্যি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন রাজত্ব করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা তৈরি বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সার। এমনই একটি জনপ্রিয় চরিত্র হলো নোবডি সসেজ। এটি মূলত অ্যানিমেশনের মাধ্যমে তৈরি একটি সসেজ, যার হাত পা রয়েছে এবং এটি নাচানাচি করে। মজার ব্যাপার হলো, টিকটকে এই চরিত্রটির অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২১ লাখেরও বেশি। তার ঝুলিতে রয়েছে নামিদামি সব ব্র্যান্ডের চুক্তি। এমনকি ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপনের জন্য সে যে পরিমাণ অর্থ পায়, তা অনেক বাস্তব অভিনয়শিল্পীর চেয়েও বেশি। চরিত্রটির বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই, তবে তার আয় করা অর্থের পুরোটাই বাস্তব। ডিজিটাল যুগের এই নতুন ধারাকে বলা হচ্ছে ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সার ইকোনমি। এখানে লু অব মাগালু, বিশ্বখ্যাত বার্বি এবং জ্যাঙ্কি ও গুগিমনের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি চরিত্রগুলো কোটি কোটি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করছে। তারা শুধু অনুসারীই বাড়াচ্ছে না, সেই সঙ্গে আয় করছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। এগুলো কোনো সাধারণ থ্রিডি কার্টুন নয়, বরং এদের এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন তারা মানুষের মতো জীবনযাপন করে, বিভিন্ন পণ্যের প্রচার করে এবং ব্র্যান্ডের প্রতি ক্রেতাদের বিশ্বস্ততা ধরে রাখে। আর এই কৌশলটি দারুণভাবে সফলও হচ্ছে। প্রযুক্তিবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ক্যাপউইং সম্প্রতি এসব ভার্চুয়াল চরিত্রের অনুসারীর সংখ্যা এবং ইনস্টাগ্রামে তাদের বিজ্ঞাপনের হারের ওপর ভিত্তি করে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যম ভাইসের প্রতিবেদনে উঠে আসা সেই তথ্য অনুযায়ী, আয়ের দিক থেকে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিলের জনপ্রিয় চরিত্র লু অব মাগালু। শুরুতে এটি একটি রিটেইল কোম্পানির মাসকট হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এখন সে পুরোদস্তুর একজন সেলিব্রিটি। গত এক বছরে লু ৭৪টি স্পনসরড বা অর্থের বিনিময়ে করা বিজ্ঞাপন পোস্ট করেছে। এর মাধ্যমে তার আনুমানিক আয় হয়েছে ২৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় কয়েক কোটি টাকার সমান। মাগালু কোম্পানির সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার পেদ্রো আলভিম জানান, লুর জনপ্রিয়তার মূল কারণ হলো তাকে মানুষের মতো করে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার প্রতিটি ছবির পেছনে একটি গল্প থাকে। সামাজিক মাধ্যমে দেখা যায় লু স্মুদি বানাচ্ছে বা সুইমিংপুলের পাশে বিশ্রাম নিচ্ছে। এসব দৃশ্য দর্শকদের আকৃষ্ট করে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নোবডি সসেজ। ধারণা করা হয়, একটি মাত্র স্পনসরড পোস্টের জন্য সে প্রায় ৩৩ হাজার ৮৮০ ডলার আয় করে। যদিও গত এক বছরে সে মাত্র একটি পোস্ট করেছে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র একটি ভিডিও আপলোড করেই সে লাখ টাকা পকেটে পুরেছে। অন্যদিকে বার্বির ইনস্টাগ্রামে ৩৫ লাখ অনুসারী রয়েছে। তবে সে অন্যান্য পণ্যের খুব একটা প্রচার করে না, কারণ বার্বি নিজেই একটি বড় ব্র্যান্ড। টিকটকেও পিছিয়ে নেই এসব ভার্চুয়াল চরিত্র। সুপারপ্লাস্টিক নামের একটি কোম্পানির তৈরি অ্যানিমেটেড চরিত্র জ্যাঙ্কি এবং গুগিমন টিকটকে তুমুল জনপ্রিয়। তাদের অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ১৬ লাখ। তারা ইতিমধ্যে প্রাইম ভিডিওর সঙ্গে একটি চুক্তিও সম্পন্ন করেছে। সুপারপ্লাস্টিকের প্রতিষ্ঠাতা পল বুডনিটজ মনে করেন, বাস্তব জগতের অনেক তারকার চেয়ে গুগিমন কোনো অংশে কম নয়। এই পুরো বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন একটি কাল্পনিক চরিত্র অ্যালগরিদমের সাহায্যে কোটি টাকা আয় করে নিচ্ছে। ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সারদের কোনো বয়স বাড়ে না, তারা কখনো বিতর্কে জড়িয়ে বাতিল হয়ে যায় না বা তাদের কোনো সবেতন ছুটির প্রয়োজন হয় না। আর ঠিক এ কারণেই বড় বড় কোম্পানিগুলো এখন তাদের দিকে ঝুঁকছে। এটি যেমন চমকপ্রদ, তেমনি ভবিষ্যতের জন্য কিছুটা ভীতিকরও বটে। তথ্যসূত্র: ভাইস, ক্যাপউইং, অ্যাক্সিওস ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামিতে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে নিজের মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্টেফানো ক্রেমাস্কো সিসারো নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার বা দ্বিতীয় মাত্রার খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে ব্রিকল এলাকার একটি বহুতল ভবন থেকে ওই নারীর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মিয়ামি পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে সাউথওয়েস্ট এইটথ স্ট্রিটের সলিটেয়ার ব্রিকল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পুলিশের কাছে একটি জরুরি কল আসে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ভবনের নিচতলার লবিতে স্টেফানোকে দেখতে পান পুলিশ কর্মকর্তারা। সে সময় তার জুতা, হাত ও পোশাকে রক্তের দাগ লেগে ছিল। পুলিশকে দেখেই তিনি বলে ওঠেন, আমি কেবল আত্মরক্ষা করছিলাম। পুলিশ জানিয়েছে, ফ্ল্যাটের দরজা খুলতেই তারা এক নারীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার শরীরে ছুরিকাঘাতের একাধিক চিহ্ন ছিল এবং পুরো শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। মিয়ামি ফায়ার রেসকিউ টিমের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভোর ৫টা ৮ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ নিশ্চিত করে যে, নিহত নারী স্টেফানোর মা। তবে তার বয়স ও নাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মা ও ছেলেকে একসঙ্গে লিফটে উঠতে দেখা যায়। এরপর শুক্রবার ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে স্টেফানোকে সাদা শার্ট ও প্যান্ট পরা অবস্থায় লিফটে দেখা যায়। তখন তার পোশাকে রক্তের ছাপ ছিল এবং হাতে একটি ছুরি ছিল। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি ছুরিটি হাত থেকে ফেলে দেন এবং পরে সেটি কুড়িয়ে নিয়ে অন্য একটি লিফটে করে ওপরে চলে যান। কিছুক্ষণ পর অন্য একটি নীল রঙের ফুলহাতা শার্ট পরে তাকে লিফট থেকে নামতে দেখা যায়। ঘটনার পর ভবনের লবিতে খাবার সরবরাহ করতে আসা এক কর্মীর সঙ্গে স্টেফানোর দেখা হয়। ওই নারী কর্মী পুলিশকে জানান, স্টেফানো ভেতর থেকে লবির দরজা খুলে দেন এবং তার কাছে সাহায্য চান। স্টেফানো নিজেই জরুরি সেবা ৯১১ নম্বরে ফোন করেন, কিন্তু ঠিকানা বলার জন্য ফোনটি ওই কর্মীর হাতে ধরিয়ে দেন। এ সময় ওই কর্মী স্টেফানোর শরীরে রক্তের দাগ দেখতে পান। কল শেষ হওয়ার পর ফোনটি ফেরত দিতে চাইলে স্টেফানো তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পুলিশ এলে কর্মীটি ফোনটি তাদের কাছে হস্তান্তর করেন। হত্যাকাণ্ডের পর মিয়ামি পুলিশের হোমিসাইড ইউনিটের গোয়েন্দারা ওই ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান। সেখানে তারা রক্তের দাগযুক্ত রান্নাঘরের কয়েকটি ছুরি, রক্তমাখা দুটি সাদা শার্ট, ভাঙা কাচ এবং একটি ভাঙা মদের বোতল উদ্ধার করেন। এছাড়া ভবনের লবি থেকে রক্তমাখা জুতা, চশমা, মোবাইল চার্জার এবং স্টেফানোর একটি কমলা রঙের আইফোন ১৭ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, স্টেফানো ইনভেস্টর ভিসায় মায়ামিতে বসবাস করছিলেন। গত জুলাই মাস থেকে ওই ফ্ল্যাটে তিনি ও তার স্ত্রীর নামে চুক্তি ছিল। ঘটনার পর পুলিশ ফ্রান্সে অবস্থানরত স্টেফানোর স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে। তিনি জানান, স্টেফানোর মা মেক্সিকো থেকে তাদের কাছে বেড়াতে এসেছিলেন। বাবা মায়ের বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে মায়ের সঙ্গে স্টেফানোর সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। এছাড়া কোকোনাট গ্রোভ এলাকায় একটি নতুন রেস্তোরাঁ চালু করা নিয়ে স্টেফানো বেশ মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ওই ভবনের অন্যান্য বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জ্যাক কারসন নামের এক বাসিন্দা জানান, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত ভীতিকর। তিনি ভয়ে নিজের ফ্ল্যাটের ব্যালকনির দরজা বন্ধ করে দেন এবং প্রায় ১০ মিনিট দরজার ছিদ্র দিয়ে বাইরের পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করেন। পরে লিফট ব্যবহার না করে ৪৭ তলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসেন। সেবাস্তিয়ান নামের আরেক বাসিন্দা জানান, এত পুলিশ দেখে তিনি অবাক হয়েছিলেন। তিনি বলেন, যা ঘটেছে তা সত্যিই ভয়ংকর। গ্রেপ্তারের পর স্টেফানো নিজের আইনজীবীর উপস্থিতির দাবি জানান। বর্তমানে তাকে টার্নার গিলফোর্ড নাইট কারেকশনাল সেন্টারে আটকে রাখা হয়েছে এবং তার জামিন এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ঠিক কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।
একটি সিনেমা একবার দেখেই অনেকের মনে তার গল্প, চরিত্র কিংবা দৃশ্য গেঁথে যায়। কিন্তু সেই একই সিনেমা যদি টানা ৩৬ ঘণ্টা ধরে বারবার দেখতে হয়, তাহলে কেমন হবে অভিজ্ঞতা? যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এমনই এক ব্যতিক্রমী চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে একটি দল একই সিনেমা ২৪ বার দেখেছে। শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক সদস্য পেয়েছেন ১ হাজার ৪০ ডলার। সিনেমাটির নাম ‘ইট এন্ডস’। আলেকজান্ডার উলমের পরিচালনায় তৈরি এই ভৌতিক থ্রিলারটি কয়েকজন সদ্য কলেজ শেষ করা বন্ধুর গল্প। তারা রাতে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে একটি খাবারের দোকানে যাওয়ার পথে এমন একটি দুই লেনের সড়কে ঢুকে পড়ে, যার কোনো শেষ নেই। সামনে যতই এগোয়, পথ যেন ততই দীর্ঘ হতে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নানা রহস্যময় ও ভয়ংকর ঘটনা। সিনেমাটির এই ‘শেষহীন’ ধারণাকেই বাস্তব জীবনের এক অদ্ভুত চ্যালেঞ্জে পরিণত করেছিল এর পরিবেশক প্রতিষ্ঠান নিয়ন। নিউইয়র্কের চেলসির মেট্রো প্রাইভেট সিনেমায় আয়োজন করা হয় ৩৬ ঘণ্টার ‘দ্য এন্ডলেস স্ক্রিনিং’ নামে একটি বিশেষ প্রদর্শনী। ২১ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা থেকে ২৩ আগস্ট সকাল ৭টা পর্যন্ত চলে এই আয়োজন। চারজনের দলগুলোকে সিনেমাটি বারবার দেখার পাশাপাশি প্রেক্ষাগৃহে অবস্থান করতে হতো। নিয়ম ছিল, প্রতিটি অংশগ্রহণকারী যত মিনিট প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবেন, তার জন্য পাবেন ২৫ সেন্ট করে। পুরো ৩৬ ঘণ্টা শেষ করলে একজনের আয় দাঁড়ায় ৫৪০ ডলার। আর কোনো দলের চার সদস্যই যদি পুরো সময় শেষ করতে পারেন, তাহলে প্রত্যেকে আরও ৫০০ ডলার বোনাস পান। অর্থাৎ পুরো চ্যালেঞ্জ শেষ করা একজনের সর্বোচ্চ আয় ১ হাজার ৪০ ডলার। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে খাবার ও পানীয় কেনার জন্য ২৫০ ডলারের থিয়েটার ক্রেডিটও দেওয়া হয়েছিল, যদিও এতে মদ কেনার সুযোগ ছিল না। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ২৭ বছর বয়সী ফোলা ওলুসানিয়া জানান, দীর্ঘ সময় প্রেক্ষাগৃহে থাকার কথা মাথায় রেখে তিনি কম্বল, পানির বোতল, খাবার, কাশির লজেন্স, ব্যথানাশক ও একটি ছোট হাতপাখাসহ প্রয়োজনীয় নানা জিনিস সঙ্গে নিয়েছিলেন। তবে সিনেমা দেখার চেয়েও কঠিন হয়ে উঠেছিল ঘুমের অভাব ও দীর্ঘ সময় বসে থাকার বিষয়টি। ফোলা জানান, কয়েকবার সিনেমা দেখার পর তার তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়। তার দলের আরও দুজনেরও একই সমস্যা হয়েছিল। ফোলার দল শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি পাঁচবার দেখতে পেরেছিল। তবে তারা পুরো ৩৬ ঘণ্টা শেষ করতে পারেনি। তার ভাষ্য, তৃতীয়বার সিনেমাটি দেখার সময়ই ক্লান্তির প্রভাব এতটা বেড়ে গিয়েছিল যে দলের সদস্যদের বলা প্রায় সব কথাই অস্বাভাবিকভাবে মজার লাগছিল। তবু অভিজ্ঞতাটি উপভোগ করেছেন তিনি। অন্যদিকে চারজনের একটি দল পুরো ৩৬ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ শেষ করে। ওই দলের সদস্য ২৪ বছর বয়সী ভেরোনিকা গিলিগান জানান, শুরুতেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে ৩৬ ঘণ্টা শেষ হওয়ার আগে কেউ বের হবেন না। শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে পেরেছেন তারা। এই দলটি ‘ইট এন্ডস’ সিনেমাটি মোট ২৪ বার দেখেছে। ৩৬ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ শেষ করে প্রত্যেক সদস্য পেয়েছেন ১ হাজার ৪০ ডলার। নিয়নও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এতবার একই সিনেমা দেখার পর সেটি যে তাদের মাথায় গেঁথে যাবে, সেটাই স্বাভাবিক। দলের আরেক সদস্য জেক জানান, সিনেমাটির প্রায় পুরো সংলাপই তার মুখস্থ হয়ে গেছে। তিনি মজা করে বলেছেন, সিনেমাটি এখন তার অবচেতন মনেও যেন জায়গা করে নিয়েছে। দলের আরেক সদস্য ইয়াসেমিন নিজের লেটারবক্সড পর্যালোচনায় লিখেছেন, এই অভিজ্ঞতার মধ্যে তারা হেসেছেন, একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন এবং আবেগের নানা মুহূর্তের মধ্য দিয়ে গেছেন। মজার বিষয় হলো, টানা এতবার সিনেমাটি দেখার পরও প্রত্যেকবার তাদের অভিজ্ঞতা একরকম ছিল না। ফোলা জানান, প্রথমবার সিনেমাটির গল্প ও ঘটনার আকস্মিকতায় যে ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল, পরেরবারগুলোতে তা বদলে যায়। কারণ কোন দৃশ্যে কী ঘটবে, সেটি তিনি আগেই জানতেন। তবে এর ফলে সিনেমার অন্য দিকগুলো খেয়াল করার সুযোগ তৈরি হয়। সম্পাদনা, দৃশ্যধারণের কৌশল, চরিত্রের নির্মাণ এবং গল্পের বিভিন্ন স্তর নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করতে করতে সিনেমাটিকে ভিন্নভাবে দেখতে শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে সিনেমাটি শুধু দেখার বিষয় থাকেনি, বরং দলের সদস্যদের যৌথ অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে উঠেছিল। ভেরোনিকা জানান, ৩৬ ঘণ্টা শেষে সিনেমাটির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ মনে হচ্ছিল। তারা সিনেমার বিভিন্ন সংলাপ মুখস্থ করে ফেলেছিলেন এবং গল্পের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে নিজেদের মধ্যে নানা রসিকতাও তৈরি করেছিলেন। পুরো আয়োজনের একটি বড় অংশ ছিল বন্ধুত্ব। ভেরোনিকার ভাষায়, দলের সদস্যরা আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। ফলে টানা দুই দিন প্রেক্ষাগৃহে থাকা তাদের কাছে শুধু সিনেমা দেখার চ্যালেঞ্জ ছিল না, বরং একসঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগও ছিল। নিয়নের এই আয়োজন মূলত ‘ইট এন্ডস’ সিনেমার প্রচারণার অংশ। তবে সিনেমার গল্পের সঙ্গে আয়োজনটির একটি মজার মিলও রয়েছে। সিনেমায় কয়েকজন বন্ধু এমন এক অন্তহীন পথে আটকা পড়ে, যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো সহজ উপায় নেই। বাস্তবে দর্শকদেরও প্রায় একই ধরনের একটি পরিস্থিতির মধ্যে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, যদিও এখানে পথের বদলে ছিল প্রেক্ষাগৃহ আর ভয়ের বদলে ছিল দীর্ঘ সময় সিনেমা দেখার পরীক্ষা। ‘ইট এন্ডস’ আলেকজান্ডার উলমের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। সিনেমাটি ২১ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এবং নিয়ন এটি পরিবেশনা করছে। নিউইয়র্কের আইএফসি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটির দৈর্ঘ্য ৮৭ মিনিট। সিনেমাটি তরুণ নির্মাতাদের তৈরি নতুন ধারার ভৌতিক চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনার মধ্যেও জায়গা করে নিয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র প্রায় ৮০ হাজার ডলারের বাজেটে তৈরি সিনেমাটি সীমিত পরিসরে মুক্তির পরও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। ৩৬ ঘণ্টার সেই অদ্ভুত সিনেমা-চ্যালেঞ্জ শেষ হওয়ার পর ভেরোনিকার দলের সদস্যরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু অভিজ্ঞতাটি আবার করতে বলা হলে তিনি রাজি হবেন বলেই জানিয়েছেন। আর ২৪ বার দেখার পর সিনেমাটির সংলাপ যখন প্রায় মুখস্থ, তখন ‘ইট এন্ডস’ তাদের জন্য শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং জীবনের এক অদ্ভুত ৩৬ ঘণ্টার স্মৃতি হয়ে গেছে। তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে রাজ্য সরকার। অন্যদিকে রাজ্যের স্থানীয় বাসিন্দা বা মার্কিন নাগরিকরা তাদের নিজেদের পড়াশোনার বিপুল খরচ জোগাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। নিজ দেশে এমন বৈষম্যের শিকার হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের রাজ্য তহবিলের অনুদানসহ নানা ধরনের আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এর পাশাপাশি হাজার হাজার অবৈধ শিক্ষার্থী ইন স্টেট টিউশন রেট বা স্থানীয়দের সমান ফি, কমিউনিটি কলেজের ফি মওকুফ এবং ভর্তুকিযুক্ত ঋণের সুবিধাও পাচ্ছেন। ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন যা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো রাজ্যের তুলনায় সর্বোচ্চ। মধ্যবিত্ত মার্কিন পরিবারগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। কারণ তাদের অনেকেই পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হন, অথচ তাদের বছরে ৪৫ হাজার ডলারের বেশি কলেজ ফি গুনতে হয়। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আভা শ্মিট এই বৈষম্যকে সম্পূর্ণ হাস্যকর বলে আখ্যায়িত করেছেন। বে এরিয়াতে বেড়ে ওঠা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই ছাত্রী দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টকে জানান, গত বছর তিনি মাত্র ২ হাজার ডলার আর্থিক সহায়তা পেয়েছিলেন। বাকি খরচ মেটাতে তার বাবাকে নিজের অবসরের জমানো টাকা ভাঙতে হয়েছে এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। বর্তমানে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বছরে ৭৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। পড়াশোনার খরচ জোগাতে আভা ক্যাম্পাসের বাইরে একটি কাজ করেন। তারপরও বাড়িভাড়া এবং মুদি বাজারের খরচ মেটাতে তাকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। আভা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের জায়গা করে নিতে অনেক পরিশ্রম করেছি। অথচ আমি কোনো আর্থিক সহায়তা পাচ্ছি না, আর নথিপত্রবিহীন অবৈধ অভিবাসীরা সেই টাকা পেয়ে যাচ্ছেন। যোগ্য অবৈধ শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে ক্যালিফোর্নিয়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ একটি ব্যবস্থা পরিচালনা করছে। যারা আয় ও শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেন তারা ক্যালিফোর্নিয়া ড্রিম অ্যাক্ট অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের ক্যাল গ্রান্টের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই কর্মসূচি চালু করার সময় এর ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ৬ কোটি ডলার। এছাড়া এসব শিক্ষার্থী ক্যালিফোর্নিয়া ড্রিম লোন কর্মসূচির সুবিধাও নিতে পারেন, যার আওতায় কেন্দ্রীয় সরকারের ছাত্র ঋণ পাওয়ার অযোগ্য অবৈধ স্নাতকদের ভর্তুকিযুক্ত ঋণ দেওয়া হয়। ২০০১ সালে পাস হওয়া একটি আইনের আওতায় শর্ত পূরণকারী নথিপত্রবিহীন শিক্ষার্থীরা ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সমান টিউশন ফি দেওয়ার সুযোগ পান। এছাড়া কমিউনিটি কলেজগুলোতে যোগ্য অবৈধ শিক্ষার্থীরা ক্যালিফোর্নিয়া কলেজ প্রমিজ গ্রান্ট পান, যা তাদের প্রতি ইউনিটের ৪৬ ডলার নিবন্ধন ফি পুরোপুরি মওকুফ করে দেয়। সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবাসন ও খাবারের খরচ যেখানে প্রতি শিক্ষাবর্ষে হাজার হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়, সেখানে এই ধরনের আর্থিক সহায়তা অবৈধ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় করে। কিন্তু পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়া মার্কিন নাগরিক ও বৈধ বাসিদারা বিশাল ঋণের মুখে পড়ছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে অবস্থিত চ্যাপম্যান ইউনিভার্সিটির ছাত্র কুপার ভিনসিক ধারণা করছেন, স্নাতক শেষ করার পর তিনি বিশাল ঋণের জালে আটকে পড়বেন। ২১ বছর বয়সী এই তরুণ চিত্রনাট্যকার হতে চান। তিনি জানান, তার চোখের সামনে অবৈধ সহপাঠীরা নানা ধরনের সহায়তা পেলেও তিনি নিজে কোনো বড় আর্থিক সহায়তা পাননি। এর ফলে তাকে কয়েক হাজার ডলারের ঋণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে হবে। তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান টিউশন ফি বছরে প্রায় ৭০ হাজার ডলার। সান দিয়েগোর বাসিন্দা ভিনসিক জানান, খরচ কমানোর জন্য তিনি প্রথম দুই বছর সান্তা বারবারা সিটি কলেজে পড়েছিলেন। কিন্তু তার অভিযোগ, ওই কমিউনিটি কলেজে নথিপত্রবিহীন শিক্ষার্থীদের বেশি আর্থিক সুবিধা দেওয়া হতো। এমনকি ক্যাম্পাসে অভিবাসন কর্মকর্তারা এলে কীভাবে তাদের কাছ থেকে লুকাতে হবে সেই বিষয়েও শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া হতো। ভিনসিকের মতে, যেহেতু কমিউনিটি কলেজগুলো জনগণের করের টাকায় চলে, তাই কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়ার জন্য সেই অর্থ ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার ড্রিম লোন কর্মসূচির জন্য প্রতি বছর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বা ইউসি সিস্টেমকে ২৫ লাখ ডলার দেয় এবং ইউসি নিজস্ব তহবিল থেকে সমপরিমাণ অর্থ যোগ করে। তবে রাজ্য আইনসভার কাছে জমা দেওয়া ইউসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচিতে যে পরিমাণ তহবিল রয়েছে সেই অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ঋণের আবেদন পাওয়া যাচ্ছে না। এই পুরো বিষয়টি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। রিপাবলিকান দলের গভর্নর পদপ্রার্থী স্টিভ হিলটন বলেছেন, রাজ্যের অনেক বাসিন্দা যখন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সংগ্রাম করছেন তখন অবৈধ শিক্ষার্থীদের পেছনে এই বিশাল ব্যয় কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, আমরা সবচেয়ে খারাপ ফলাফলের জন্য দেশের সর্বোচ্চ কর পরিশোধ করছি। গভর্নর নির্বাচিত হলে তিনি অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা কমানোর এবং বছরে দেড় লাখ ডলারের কম আয়কারী কর্মীদের রাজ্য আয়কর বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের এক মুখপাত্র এই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীরা শুধু তাদের অভিবাসন মর্যাদার কারণে বেশি আর্থিক সহায়তা পান না। ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের কলেজ শিক্ষাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ক্যালিফোর্নিয়ার পূর্ণকালীন স্নাতক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ২৩ শতাংশ ছাত্র ঋণ নিয়েছেন, যেখানে জাতীয় পর্যায়ে এই হার ৩৮ শতাংশ। খবরের উৎস: দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট
ভারতের মধ্যপ্রদেশের একটি দূষিত নদী পরিষ্কারে দীর্ঘদিন ধরে একাই কাজ করে আলোচনায় এসেছেন ২১ বছর বয়সী তরুণ সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিট্টু তাবাহি’ নামে পরিচিত এই শিক্ষার্থীর উদ্যোগ এবার আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নজর কেড়েছে। তাঁর কাজ দেখে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক পরিবেশবিষয়ক সংগঠন দ্য ওশান ক্লিনআপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বোয়ান স্লাট তাঁকে নিজেদের সঙ্গে কাজ করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার বিওরার কাছে অজনার নদীর একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে প্লাস্টিক, বোতল, শেওলা, কাদা ও নানা ধরনের বর্জ্যে ভরে ছিল। নদীর পাশের একটি স্থানীয় মন্দিরের আশপাশেও জমেছিল বিপুল আবর্জনা। দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে অন্য কারও উদ্যোগের অপেক্ষা না করে নদী পরিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন সুরেন্দ্র। ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে তিনি নদী পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। প্রথম দিকে কয়েকজন বন্ধু তাঁকে সহযোগিতা করলেও পরে কাজটি মূলত একাই চালিয়ে যান। নিজের জমানো অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও বর্জ্য রাখার পাত্র কিনে নদীতে নেমে প্লাস্টিক, বোতল, শেওলা ও অন্যান্য আবর্জনা তুলে আনতে থাকেন। নদী পরিষ্কারের এই কাজ মোটেই সহজ ছিল না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই তাঁকে দূষিত পানিতে কাজ করতে হয়েছে। এমনকি সুরেন্দ্র সাঁতারও জানতেন না। দীর্ঘদিন দূষিত পানিতে কাজ করার কারণে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে সংক্রমণ ও ত্বকে চুলকানির সমস্যাও দেখা দেয়। কাজের সময় কয়েকবার সাপের মুখোমুখি হওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন। তারপরও তিনি কাজ চালিয়ে যান। সুরেন্দ্রের এই উদ্যোগের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ধীরে ধীরে ব্যাপক মানুষের নজরে আসে। নদী পরিষ্কারের আগে ও পরে তোলা ছবিতে পরিবর্তনটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তাঁর কাজ নিয়ে আলোচনা শুরু হয় এবং বিভিন্ন মহল থেকে প্রশংসাও আসে। এরপর সুরেন্দ্রের উদ্যোগের খবর পৌঁছে যায় বোয়ান স্লাটের কাছে। দ্য ওশান ক্লিনআপের প্রতিষ্ঠাতা স্লাট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সুরেন্দ্রের কাজ নিয়ে করা একটি পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় তাঁকে সরাসরি সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার আমন্ত্রণ জানান। তিনি সংক্ষেপে লেখেন, ‘আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আসুন।’ দ্য ওশান ক্লিনআপ সমুদ্র ও নদীতে প্লাস্টিক দূষণ কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে কাজ করে। ফলে অজনার নদীর মতো স্থানীয় একটি নদী পরিষ্কারে সুরেন্দ্রের ব্যক্তিগত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পরিবেশ আন্দোলনের একটি পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নজরে আসা তাঁর জন্য বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সুরেন্দ্রের পরিচয়ও এই গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি মধ্যপ্রদেশের বিওরার বাসিন্দা এবং বর্তমানে বিএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সাধারণ পরিবারের এই তরুণ বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবেশ পরিষ্কারের কাজে সময় দিচ্ছেন তিনি। তাঁর কাজ নিয়ে অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নও উঠেছে। কেউ কেউ জানতে চেয়েছেন, তিনি প্রচারের জন্য এসব করছেন কি না। জবাবে সুরেন্দ্র তাঁর কাজের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে বলেন, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নদীর ওই অংশ পরিষ্কার করছেন। তাঁর প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে নদীর আগের ও পরের অবস্থার পার্থক্যও তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়েও তাঁর কাজ নজরে এসেছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় পৌরসভা পরে বর্জ্য সরানোর জন্য যন্ত্রপাতি দিয়ে তাঁকে সহায়তা করেছে। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবও সুরেন্দ্রের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে নিজের বাসভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একটি দূষিত নদীর পাশে দাঁড়িয়ে সমস্যাটি দেখার পর নিজ উদ্যোগে কাজ শুরু করেছিলেন সুরেন্দ্র। সেই স্থানীয় উদ্যোগই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হয়ে পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। এখন দ্য ওশান ক্লিনআপের প্রতিষ্ঠাতার আমন্ত্রণ তাঁর পরিবেশকর্মী হিসেবে ভবিষ্যৎ পথচলায় নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। সংবাদসূত্র: এনডিটিভি
নিউইয়র্কের একটি সুশি রেস্তোরাঁয় কর্মীরা তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি করছেন, এমনটা মনে হওয়ায় খাবারের বিল দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এক রূপান্তরকামী নারী। ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ভিডিওতে কর্মীরা ওই গ্রাহককে নিয়ে উপহাস করছেন, এমন কোনো স্পষ্ট দৃশ্য দেখা যায়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে অনলাইনে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের কিপস বে এলাকার নোবি সুশি রেস্তোরাঁয়। রেস্তোরাঁটির ঠিকানা ৪৩৭ থার্ড অ্যাভিনিউ। এটি জাপানি খাবার ও সুশির জন্য পরিচিত একটি স্থানীয় রেস্তোরাঁ। প্রকাশিত ভিডিও অনুযায়ী, ওই নারী রেস্তোরাঁয় বসে খাবার অর্ডার করেন এবং হ্যান্ড রোল খান। শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও পরে তিনি নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, রেস্তোরাঁর কাউন্টারের পেছনে থাকা কর্মীরা তাঁর দিকে তাকাচ্ছেন এবং হাসছেন। এতে তিনি অস্বস্তি বোধ করছেন বলেও জানান। এরপর তিনি কর্মীদের জানান, তিনি খাবারের বিল পরিশোধ করবেন না। একই সঙ্গে কর্মীদের কাছে জানতে চান, তাঁরা কি পুলিশ ডাকবেন। ভিডিওতে থাকা কর্মী শান্তভাবে বিষয়টির জবাব দেন। তাঁকে উত্তেজিত হতে বা উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত ওই নারী বিল না দিয়েই রেস্তোরাঁ থেকে চলে যান বলে ভিডিওসংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ঘটনাটির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে অভিযোগের পক্ষে ভিডিওতে থাকা দৃশ্যমান প্রমাণের অভাব। ওই নারী কর্মীদের আচরণকে উপহাস হিসেবে দেখলেও ভিডিওতে কর্মীদের তাঁর সঙ্গে হাসাহাসি করা বা তাঁকে নিয়ে মন্তব্য করার কোনো স্পষ্ট দৃশ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে দুটি ভিন্ন মত তৈরি হয়েছে। এক পক্ষের বক্তব্য, কেউ কোনো জায়গায় নিজেকে অপমানিত বা অস্বস্তিকর মনে করলে তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষ করে রূপান্তরকামী মানুষদের সামাজিকভাবে নানা ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন। অন্য পক্ষের দাবি, শুধু একজনের অনুভূতি বা ধারণার ভিত্তিতে রেস্তোরাঁর কর্মীদের বিরুদ্ধে উপহাসের অভিযোগ নিশ্চিত করা যায় না। তাঁদের মতে, খাবার খাওয়ার পর বিল না দেওয়ার সিদ্ধান্তও প্রশ্ন তৈরি করেছে। ভিডিওতে অভিযোগের পক্ষে পরিষ্কার প্রমাণ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। ঘটনার আরেকটি দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভিডিওতে রেস্তোরাঁর কর্মীকে শান্ত থাকতে দেখা যায়। তিনি ওই গ্রাহকের সঙ্গে তর্কে জড়াননি এবং পুলিশ ডাকার বিষয়েও উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখাননি। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি আর না বাড়িয়ে তাঁকে চলে যেতে দেওয়া হয়। নোবি সুশি ম্যানহাটনের ৪৩৭ থার্ড অ্যাভিনিউতে অবস্থি
যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর পাল্টা হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। শনিবার ইরানি বাহিনী জানিয়েছে, তারা তিনটি মার্কিন জাহাজ এবং হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদনহীন পথে চলাচল করা আরও তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এখনো ইরানের এই দাবি নিশ্চিত করেনি। এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানায়, ইরানের বিপ্লবী গার্ড দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল খার্গ দ্বীপের কাছে থাকা এমটি ডাউনি, জাস্কের কাছে এমটি স্টার্ক-১ এবং ওমান উপসাগরে থাকা এমটি কাইলো, যেটি নক্সেন নামেও পরিচিত। সেন্টকম জানিয়েছে, প্রথম দুটি ট্যাংকারকে স্থায়ীভাবে অচল করে দেওয়া হয়েছে এবং তৃতীয়টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ট্যাংকারগুলো ইরানের একটি বৃহৎ গোপন তেল বাণিজ্য নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এই নেটওয়ার্ক থেকে বিপ্লবী গার্ড ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন করা হয়। তবে ইরান এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। এরপর ইরানের বিপ্লবী গার্ড পাল্টা হামলার দাবি করে। ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচল করা তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি মার্কিন জাহাজকে অন্য এলাকায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরান সতর্ক করে বলেছে, উপসাগর ও হরমুজের আশপাশে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে অনুমোদিত পথ ব্যবহার না করলে সেগুলোও হামলার লক্ষ্য হতে পারে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা ইউকেএমটিওও শনিবার উত্তর আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর পাওয়ার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব হামলায় এমন শক্তিশালী আঘাতের তথ্য পাওয়া গেছে, যা জাহাজগুলোকে অচল করে দিতে সক্ষম। তবে হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানকে আরও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরান যদি মার্কিন জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস ও ডুবিয়ে দেবে।. হেগসেথ আরও দাবি করেন, ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোর বহর খুবই অরক্ষিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন এসব জাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম। তাঁর বক্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে সমুদ্রপথে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি দুটি মার্কিন জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় অর্থনৈতিক মূল্য চাপিয়ে তিনটি ইরানি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করবে। তাঁর ভাষ্য, প্রয়োজন হলে ইরানের তেলবাহী জাহাজের বহরের বিরুদ্ধেও আরও অভিযান চালানো হবে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ এই সরু জলপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত নয়, আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার খবর এমন সময়ে সামনে এলো, যখন কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক বিরতির পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। শনিবারের ঘটনাগুলো এই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত সমুদ্র সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যায় কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের অন্যতম উদ্বেগের বিষয়।
ইসরায়েলে সপ্তাহান্তজুড়ে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৪৮ বছর বয়সী এক মোটরসাইকেল আরোহী রয়েছেন। আরেকজন নিহত হয়েছেন গাড়ির ধাক্কায়, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার মোশাভ পোরাতের কাছে ৫৫৩ নম্বর সড়কে একটি গাড়ির ধাক্কায় ৪০-এর কোঠার এক ব্যক্তি নিহত হন। ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদমের (এমডিএ) চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে গুরুতর বহু অঙ্গের আঘাত নিয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর শরীরে প্রাণের কোনো লক্ষণ না থাকায় ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার অভিযোগে ৩০-এর কোঠার এক নারীকে অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ ও ওই সময় গাড়িটি কীভাবে ওই ব্যক্তিকে ধাক্কা দেয়, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর আগের রাতে, শুক্রবার, সোরেক ইন্টারচেঞ্জের কাছে ৭ নম্বর মহাসড়কে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। এমডিএর চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে সড়কের ওপর অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন ছিল না। চিকিৎসাকর্মীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। শুক্রবারই জেরুজালেমের পিসগাত জিভ এলাকায় বাড়ির পার্কিংয়ের কাছে একটি গাড়ির ধাক্কায় চার বছর বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়। তাকে সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও কয়েকটি দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। ৩৭৫৫ নম্বর সড়কে দুটি গাড়ির সংঘর্ষে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। ওই দুর্ঘটনায় আরও দুজন সামান্য থেকে মাঝারি মাত্রার আঘাত পান। গাড়ির ভেতরে আটকে পড়া দুজনকে উদ্ধার করতে দমকলকর্মীদের হস্তক্ষেপ করতে হয়। কায়সারিয়া বন্দরের কাছে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। বহু অঙ্গের আঘাত নিয়ে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। নেতানিয়ায়ও একটি গাড়ির ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হন। এমডিএর প্যারামেডিক ওরিয়ান লুকাক এবং জ্যেষ্ঠ জরুরি চিকিৎসাকর্মী মাওর নিনো জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, একটি গাড়ি ওই মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দিয়েছিল। আহত ব্যক্তি অচেতন ছিলেন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন। ঘটনাস্থলেই তাঁকে চিকিৎসা দেওয়ার পর নিবিড় চিকিৎসাসুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সড়ক দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতায় সপ্তাহান্তে দেশটির বিভিন্ন মহাসড়ক ও শহর এলাকায় জরুরি সেবাদানকারী দলগুলোকে একাধিকবার কাজ করতে হয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এবং গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইসরায়েলের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। দেশটির সড়কে দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপদ গতিসীমা, চালকদের সতর্কতা এবং মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তবে সপ্তাহান্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা নতুন করে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে।
মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্রেটিক দলের নেতা হাকিম জেফরিসকে ‘এআইপ্যাকের বানর’ বলে মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও লেখক রুলা জিবরিয়েল। জেফরিস কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় তাঁর এই মন্তব্যকে বর্ণবাদী বলে আখ্যা দিয়েছে কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাসসহ একাধিক ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা। পরে নিজের ব্যবহৃত শব্দকে ‘অনুপযুক্ত ও আপত্তিকর’ বলে ক্ষমা চেয়েছেন জিবরিয়েল। শুক্রবার বামপন্থী ভাষ্যকার ওয়াজাহাত আলীর ‘দ্য লেফট হুক’ পডকাস্টে অংশ নিয়ে জিবরিয়েল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিসের ইসরায়েল-সমর্থন নিয়ে সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি জেফরিসকে আমেরিকান-ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি বা এআইপ্যাকের স্বার্থে কাজ করার অভিযোগ তুলে ‘এআইপ্যাকের কেনা ও বেতনভুক্ত বানর’ বলে অভিহিত করেন। জিবরিয়েল বলেন, ‘হাকিম’ একটি আরবি নাম, যার অর্থ নিরাময়কারী। কিন্তু তাঁর ভাষায়, জেফরিস নিরাময়কারী নন, বরং বিভাজন তৈরি করছেন। এরপরই তিনি ওই বিতর্কিত শব্দ ব্যবহার করেন। একই আলোচনায় জেফরিসকে ‘দৌড়ঝাঁপের কর্মী’ অর্থাৎ অন্যের হয়ে কাজ করা ব্যক্তি হিসেবেও উল্লেখ করেন। মন্তব্যটি করার পর পডকাস্টের সঞ্চালক ওয়াজাহাত আলী বিষয়টির বর্ণবাদী অর্থের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, ‘বানর’ শব্দটির সঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভয়াবহ বর্ণবাদী অর্থ জড়িয়ে আছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, জিবরিয়েল নিজেই বলেছেন যে তাঁর মন্তব্যের পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য ছিল না। এরপর নিজের বক্তব্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জিবরিয়েল বলেন, তিনি জাপানের ‘তিন জ্ঞানী বানর’-এর কথা মনে করে ওই শব্দ ব্যবহার করেছেন। সেই প্রচলিত প্রতীকে তিনটি বানরকে যথাক্রমে না দেখা, না শোনা এবং না বলার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়। তবে তাঁর এই ব্যাখ্যা কংগ্রেসের কৃষ্ণাঙ্গ সদস্যদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাস এক বিবৃতিতে জিবরিয়েলের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছে, কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হাকিম জেফরিসকে ‘বানর’ বা ‘দৌড়ঝাঁপের কর্মী’ বলা বর্ণবাদমুক্ত কোনো বক্তব্য হতে পারে না। তাদের ভাষায়, রাজনৈতিক ডান বা বাম, কোনো পক্ষ থেকেই কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী ভাষা ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে জেফরিসের পক্ষে সরব হন নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি রিচি টরেসও। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে ‘বানর’ বলা বর্ণবাদী। রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক না কেন, এ ধরনের ভাষার নিন্দা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জিবরিয়েলের মন্তব্যের পর তাঁর সমালোচনায় শুধু কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাস বা টরেসই নন, আরও কয়েকজন ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা যোগ দেন। প্রতিনিধি পিট আগুইলারও বলেন, জেফরিসকে ‘বানর’ ও ‘দৌড়ঝাঁপের কর্মী’ বলা স্পষ্টতই বর্ণবাদী এবং বিপজ্জনক। সমালোচনার মুখে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের বক্তব্য নিয়ে ক্ষমা চান জিবরিয়েল। তবে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি তিনি জেফরিসের এআইপ্যাক-সম্পর্কিত সমালোচনাও পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি লেখেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান পরিস্থিতির মধ্যে জেফরিস এআইপ্যাকের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছেন বলে তিনি ক্ষুব্ধ। এরপর তিনি স্বীকার করেন, জেফরিসকে বর্ণনা করতে যে শব্দ ব্যবহার করেছিলেন তা অনুপযুক্ত ও আপত্তিকর ছিল এবং সেটি ব্যবহার করা উচিত হয়নি। শেষে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে এই ক্ষমা চাওয়াকেও অনেকে পুরোপুরি গ্রহণ করেননি। কারণ, ক্ষমা চাওয়ার বক্তব্যেই জিবরিয়েল জেফরিস ও এআইপ্যাক নিয়ে তাঁর মূল রাজনৈতিক সমালোচনা আবারও তুলে ধরেছেন। ফলে বিতর্কটি শুধু একটি শব্দের ব্যবহার নিয়ে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক রাজনীতিতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু, রাজনৈতিক বক্তব্যের সীমা এবং বর্ণবাদবিরোধী অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। হাকিম জেফরিস বর্তমানে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটিক দলের সংখ্যালঘু নেতা এবং কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গ রাজনীতিক। তাঁর ইসরায়েলনীতি নিয়ে বামপন্থী ও ফিলিস্তিনপন্থী মহলে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে। তবে সমালোচকেরাও ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বর্ণবাদী ভাষা ব্যবহার করলে তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন মাত্রা তৈরি হয়। এদিকে, এ ঘটনার বিষয়ে জেফরিসের কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে।
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ১০ দিন পরও উদ্ধার অভিযানে মিলছে জীবনের সন্ধান। শনিবার ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিক এবং কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়া একটি বাড়ি থেকে ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। এর আগের দিন আরও দুই নেপালি শ্রমিককে সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। ফলে শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে মোট চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলো। শনিবার উদ্ধার হওয়া চীনা নাগরিকের নাম লু হাইতাও। নেপালি সেনাবাহিনী ও বিদেশি উদ্ধার বিশেষজ্ঞদের যৌথ দল রাশুয়া জেলার আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গের প্রায় ২২৫ মিটার ভেতর থেকে তাঁকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হচ্ছে। সুড়ঙ্গ থেকে লু হাইতাওকে উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পর নুওয়াকোট জেলার বেত্রাবতীতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া চারতলা একটি বাড়ির ওপরের তলা থেকে ৬৪ বছর বয়সী চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠকে উদ্ধার করে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর একটি দল। তিনি প্রায় ১০ দিন ওই বাড়ির ভেতরে আটকে ছিলেন। উদ্ধার করার সময় তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরে তাঁকে হেলিকপ্টারে করে ত্রিশুলি এলাকায় নেপালি সেনাবাহিনীর একটি ব্যারাকে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর এক দিন আগে, শুক্রবার আপার ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় সঞ্জয় সাহ ও কবির মহারজনকে। তাঁরা প্রায় নয় দিন ধরে সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে ছিলেন। উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের প্রায় ৪০ মিটার ভেতরে গিয়ে তাঁদের সন্ধান পান। দীর্ঘ সময় ধরে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে তাঁদের কাছে পৌঁছাতে হয়। ২৬ আগস্ট নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে একটি হিমবাহ ও পাথরের বিশাল ধসের পর ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বরফ, পানি, কাদা ও পাথরের প্রবল স্রোত ভুটেকোশি নদী দিয়ে নেমে এসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে। এতে বসতি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গে থাকা বহু শ্রমিকের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি। নেপাল পুলিশের শনিবারের হিসাব অনুযায়ী, দুর্যোগে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৪ হাজার ৮৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে ৫০১টি এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজ ও নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে মৃত ১ হাজার ২৬০ জন এবং তাঁদের ৯৭২ স্বজনের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৬৩১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩ হাজার ৬৫৫ জন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। বন্যায় দেশটির ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনায় কর্মরতসহ মোট ৯৪২ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে। রাশুওয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেই নিখোঁজ রয়েছেন ৯৩ জন। তাঁদের মধ্যে নিয়মিত কর্মী, দৈনিক মজুরির শ্রমিক এবং বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও রয়েছেন। উদ্ধার অভিযানে নেপালি সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। ৫০০-র বেশি প্রকৌশলী একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে উদ্ধারকারীদের সুড়ঙ্গের নকশা, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিন্যাস এবং নিখোঁজ শ্রমিকদের তথ্য দিচ্ছেন। দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে উচ্চক্ষমতার ড্রোন, ভূগর্ভস্থ অনুসন্ধান রাডার, পানি নিষ্কাশন পাম্প এবং অন্যান্য বিশেষ সরঞ্জামেরও প্রয়োজন হচ্ছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির হিসাবে, ছয় জেলার ১৭টি পৌরসভার প্রায় ৮৪ হাজার ২৭০ মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো ও ঘরবাড়ির বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগের প্রভাব শিশুদের ওপরও গুরুতর। ইউনিসেফ জানিয়েছে, অন্তত ২২ হাজার শিশুর জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ পানীয় জল, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি সহায়তা প্রয়োজন। বন্যায় পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২ হাজার ৬০০ শিশুর তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। এছাড়া অন্তত ১০৭ শিশু বাবা-মা বা অভিভাবকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। দুর্যোগের ভয়াবহতার কারণে নেপাল সরকার ৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই দিন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে নেপালের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। একই সঙ্গে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। দশ দিন পর ধ্বংসস্তূপ ও অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে একের পর এক মানুষকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নিখোঁজদের পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে দুর্গম ভূখণ্ড, কাদা ও পাথরে বন্ধ হয়ে যাওয়া সুড়ঙ্গ এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে উদ্ধার অভিযান এখনো অত্যন্ত কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংবাদসূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে গাড়ির সামনের সিটেই কন্যাসন্তান প্রসব করেছেন এক নারী। পরিস্থিতি সামলাতে প্রথমবার বাবা হতে যাওয়া ইয়াসের সোলোরজানো নিজেই প্রসবে সহায়তা করেন। বৃহস্পতিবার রাতে ইয়াসের সোলোরজানো ও তাঁর সঙ্গী আয়শা তেনোরি হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথে আয়শার প্রসববেদনা দ্রুত বেড়ে গেলে তিনি বুঝতে পারেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর মতো সময় আর নেই। মাত্র কয়েক মিনিটের পথ যাওয়ার পরই তিনি গাড়ি থামাতে বলেন। সোলোরজানো দ্রুত ফ্লোরিডার ব্র্যান্ডনের একটি ভ্যালু পন অ্যান্ড জুয়েলারি দোকানের পার্কিং লটে গাড়ি থামিয়ে ৯১১-এ ফোন করেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, শিশুটি উল্টো অবস্থানে বা ব্রিচ পজিশনে আছে। এরপর গাড়ির সামনের সিটেই নিজের কন্যাসন্তানকে প্রসব করাতে সহায়তা করেন তিনি। প্রায় ছয় মিনিট পর জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে মা ও নবজাতককে অ্যাম্বুলেন্সে করে এইচসিএ ফ্লোরিডা ব্র্যান্ডন হাসপাতালে নেওয়া হয়। শিশুটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার সপ্তাহ আগেই জন্ম নেয়। পরিবার পরে মেয়ের নাম রাখে লিয়ানা ভ্যালেনটিনা সোলোরজানো। জন্মের সময় তার ওজন ছিল ৪ পাউন্ড ১০ আউন্স। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকলেও তাকে এনআইসিইউতে নিতে হয়নি। মা ও মেয়ে দুজনই সুস্থ আছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। প্রথমবার বাবা হওয়ার এই অভিজ্ঞতাকে সোলোরজানো জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন। হাসপাতাল থেকে শনিবার মা ও মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার আশা করছে পরিবার।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা মনজিৎ সিং বেদি নামের এক ব্যক্তিকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) 'মোস্ট ওয়ান্টেড' বা শীর্ষ কাঙ্ক্ষিত অপরাধীর তালিকায় থাকা এই প্রতারক প্রায় এক বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রাম’ (স্ন্যাপ) তহবিল থেকে অন্তত ৬ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নিজের পরিচালিত একটি মুদি দোকান বা গ্রোসারি স্টোরকে কেন্দ্র করে এই প্রতারণার সুকৌশল ছক কষেছিলেন বেদি। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের পর গত বছরের কোনো এক সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। সেখানে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য এফবিআই সক্রিয়ভাবে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। মনজিৎ সিং বেদির বিরুদ্ধে ওয়্যার ফ্রড (ইলেকট্রনিক মাধ্যমে জালিয়াতি) এবং স্ন্যাপ বেনিফিট ফ্রডসহ একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, মাত্র তিন মাস আগে এফবিআই শীর্ষ প্রতারকদের নিয়ে একটি নতুন 'মোস্ট ওয়ান্টেড' তালিকা তৈরি করে। সেই তালিকা প্রকাশের পর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া পঞ্চম শীর্ষ প্রতারক হলেন মনজিৎ সিং বেদি। বিদেশের মাটিতে লুকিয়ে থাকা এই ধরনের 'হাই-ভ্যালু টার্গেট' বা শীর্ষ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এটিকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই তালিকা থেকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজন অপরাধী সম্মিলিতভাবে প্রায় ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলারের জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গ্রেপ্তারের আগে এই অপরাধীরা সবাই মিলে প্রায় চার হাজার দিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।