সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
এফবিআইয়ের 'মোস্ট ওয়ান্টেড' প্রতারক মনজিৎ সিং ভারতে গ্রেপ্তার
৬ লাখ ডলার আত্মসাৎ করে পলাতক, ভারতে ধরা পড়ল এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ প্রতারক

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা মনজিৎ সিং বেদি নামের এক ব্যক্তিকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) 'মোস্ট ওয়ান্টেড' বা শীর্ষ কাঙ্ক্ষিত অপরাধীর তালিকায় থাকা এই প্রতারক প্রায় এক বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন।   তার বিরুদ্ধে ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রাম’ (স্ন্যাপ) তহবিল থেকে অন্তত ৬ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।   তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নিজের পরিচালিত একটি মুদি দোকান বা গ্রোসারি স্টোরকে কেন্দ্র করে এই প্রতারণার সুকৌশল ছক কষেছিলেন বেদি। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের পর গত বছরের কোনো এক সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান।   সেখানে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য এফবিআই সক্রিয়ভাবে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। মনজিৎ সিং বেদির বিরুদ্ধে ওয়্যার ফ্রড (ইলেকট্রনিক মাধ্যমে জালিয়াতি) এবং স্ন্যাপ বেনিফিট ফ্রডসহ একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে।   উল্লেখ্য, মাত্র তিন মাস আগে এফবিআই শীর্ষ প্রতারকদের নিয়ে একটি নতুন 'মোস্ট ওয়ান্টেড' তালিকা তৈরি করে। সেই তালিকা প্রকাশের পর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া পঞ্চম শীর্ষ প্রতারক হলেন মনজিৎ সিং বেদি। বিদেশের মাটিতে লুকিয়ে থাকা এই ধরনের 'হাই-ভ্যালু টার্গেট' বা শীর্ষ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এটিকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।   নতুন এই তালিকা থেকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজন অপরাধী সম্মিলিতভাবে প্রায় ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলারের জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গ্রেপ্তারের আগে এই অপরাধীরা সবাই মিলে প্রায় চার হাজার দিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ২০:১৭
ক্যালিফোর্নিয়ায় দয়া দেখিয়ে ঘরে আশ্রয়, সেই বৃদ্ধাকেই বেসবল ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে সর্বস্ব লুট
ক্যালিফোর্নিয়ায় দয়া দেখিয়ে ঘরে আশ্রয়, সেই বৃদ্ধাকেই বেসবল ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে সর্বস্ব লুট

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ক্রেস্টলাইনে এক মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। মানবিকতার খাতিরে এক অপরিচিত যুবককে বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে চরম পরিণতির শিকার হয়েছেন ৭১ বছর বয়সী থেরেস গার্সিয়া নামের এক বৃদ্ধা।   ২৬ বছর বয়সী ওই যুবক ঘুমন্ত অবস্থায় গার্সিয়াকে অ্যালুমিনিয়ামের বেসবল ব্যাট দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলায় মস্তিষ্কে আঘাতের পাশাপাশি ওই বৃদ্ধার শরীরের বেশ কয়েকটি হাড় ভেঙে গেছে এবং গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, হামলার পর বৃদ্ধার সর্বস্ব লুট করে পালিয়ে যাওয়া ওই যুবক এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।   ভুক্তভোগী বৃদ্ধার মেয়ে অ্যাবি গার্সিয়া সংবাদমাধ্যম এনবিসিএলএ-কে জানান, তার মা প্রায়ই বাড়ির বারান্দায় বসে প্রতিবেশীদের সঙ্গে গল্প করতেন। একদিন ওই যুবক রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় গার্সিয়ার সঙ্গে কথা বলে এবং জানায়, ক্যাম্পিং করার সময় তার সব জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে।   দয়ালু গার্সিয়া তার দুর্দশার কথা শুনে তাকে নিজের বাড়িতে থাকার প্রস্তাব দেন। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ পার হওয়ার পর যুবকটি ধীরে ধীরে বাড়িটির ওপর নিজের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গার্সিয়া তাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ওই যুবক।   ঘটনার রাতে গার্সিয়া ঘুমিয়ে পড়লে ওই যুবক তাকে বেসবল ব্যাট দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে। অ্যাবি গার্সিয়া জানান, তার মা ব্যথায় জ্ঞান হারাচ্ছিলেন এবং একটু জ্ঞান ফিরলেই যুবকটি আবারও তাকে পেটাতে শুরু করে, যতক্ষণ না তিনি পুরোপুরি অজ্ঞান হয়ে যান। হামলার পর ওই পাষণ্ড যুবক বৃদ্ধার বাড়ির চাবি, মোবাইল ফোন এবং ই-বাইক চুরি করে পালিয়ে যায়। পুলিশ বর্তমানে পলাতক ওই হামলাকারীকে ধরতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ২০:৭
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) বিদেশি সরকারি কর্মীদের দেশটিতে জন্ম নেওয়া সন্তানদের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে পরিবর্তন এনেছে। ৪ সেপ্টেম্বর জারি করা এক অন্তর্বর্তীকালীন চূড়ান্ত নিয়মের অধীনে, বাবা-মায়ের অন্তত একজন যদি সন্তান জন্মের সময় বিদেশি সরকারি কর্মী হন এবং দুজনের কেউই মার্কিন নাগরিক না হন, তবে সেই সন্তান এই সুবিধার আওতাভুক্ত হতে পারবে।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৪৪১৮ নম্বর নির্বাহী আদেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগের 'বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা' সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করে 'বিদেশি সরকারি কর্মী' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।   নতুন এই নিয়মের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিক, নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করা দূতাবাস ও কনস্যুলেটের নির্দিষ্ট কর্মী এবং আন্তর্জাতিক ইমিউনিটি পাওয়া সংস্থার কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত হবেন।   তবে বিদেশি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত পরিচারক, তৃতীয় কোনো দেশের নাগরিক যারা বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট কর্মী বা দাপ্তরিক কাজের বদলে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সরকারি কর্মীরা এই সুবিধার বাইরে থাকবেন।   এই পরিবর্তনের ফলে আগের কঠোর কূটনৈতিক সংজ্ঞার বাইরে থাকা অনেক বিদেশি সরকারি কর্মীর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানরা সরাসরি লাভবান হতে পারবেন। এ ছাড়া ডিএইচএস তাদের ইমিগ্রেশন নথিপত্রেও (যেমন: ফর্ম আই-৪৮৫ এবং ফর্ম জি-৩২৫আর) প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনছে, যাতে নতুন নিয়মের বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।   গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মটি কেবল ওই দিন বা তার পর জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় আইনি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। মেরিল্যান্ডের মার্কিন জেলা আদালতে চলমান 'কাসা ইনকর্পোরেটেড বনাম ট্রাম্প' মামলার একটি আদেশের কারণে ডিএইচএস এখনই এই নিয়মের পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ করতে পারছে না।   আদালত থেকে আইনি বাধা অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট শ্রেণিভুক্তদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর করা হবে না বলে জানিয়েছে বিভাগটি। চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে নতুন এই নিয়মটি ভবিষ্যতে কতটা ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৯:২৮
সূর্যের এমন স্পষ্ট ছবি আগে কখনো দেখেনি মানুষ, ধরা পড়ল প্লাজমার রহস্যময় ঘূর্ণন
সূর্যের এমন স্পষ্ট ছবি আগে কখনো দেখেনি মানুষ, ধরা পড়ল প্লাজমার রহস্যময় ঘূর্ণন

উনিশ শতকের এক যুগান্তকারী বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব অবশেষে বাস্তবে প্রমাণিত হলো সৌরপৃষ্ঠে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সোলার টেলিস্কোপের অত্যাধুনিক লেন্সে সম্প্রতি ধরা পড়েছে সূর্যের বুকে থাকা ফুটন্ত প্লাজমার এক বিস্ময়কর প্যাঁচানো প্যাটার্ন। ভিন্ন গতির দুটি প্রবাহ পাশাপাশি চললে তাদের ঘর্ষণে যে বিশেষ ধরনের ঘূর্ণন বা প্যাঁচানো তরঙ্গের সৃষ্টি হয়, তা পদার্থবিজ্ঞানে একটি সুপরিচিত ধারণা।   এতদিন বিজ্ঞানীরা কেবল অনুমান করতেন যে, প্রচণ্ড তাপ ও অস্থিতিশীলতায় পূর্ণ সূর্যের বুকেও এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এর কোনো চাক্ষুষ প্রমাণ এতদিন মানুষের হাতে ছিল না। অত্যাধুনিক টেলিস্কোপের মাধ্যমে ধারণ করা নতুন এই ছবি বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের সেই অনুমানেরই বাস্তব স্বীকৃতি দিল।   আজ থেকে প্রায় দেড় শতাব্দী আগে উনিশ শতকের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী লর্ড কেলভিন এবং হারমান ফন হেল্মহোল্টজ প্রথম গাণিতিকভাবে এই তরঙ্গের প্রবাহ প্রমাণ করেছিলেন। তাদের নামানুসারে তরঙ্গের এই প্যাটার্নটি ‘কেলভিন-হেল্মহোল্টজ ইনস্ট্যাবিলিটি’ নামে পরিচিত। এতদিন এই জটিল গাণিতিক তত্ত্বটি মূলত বইয়ের পাতাতেই সীমাবদ্ধ ছিল।   পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল বা মেঘের ক্ষেত্রে এর কিছু প্রমাণ মিললেও সৌরপৃষ্ঠে এর উপস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ তাত্ত্বিক। প্রবল বেগে ছুটে চলা সৌরঝড় ও গ্যাসীয় প্লাজমার ঘর্ষণে সৃষ্ট এই তরঙ্গের নিখুঁত ছবি মহাকাশবিদদের রীতিমতো মুগ্ধ করেছে।   মহাকাশ গবেষণায় এই যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ সৌরবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। গবেষকদের মতে, সূর্যের পৃষ্ঠে প্লাজমার এই প্যাঁচানো প্যাটার্নের বিস্তারিত বিশ্লেষণ সূর্যের বায়ুমণ্ডলের অনেক অজানা রহস্য সমাধানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   বিশেষ করে সৌরশিখা, সৌরঝড় এবং মহাকাশের আবহাওয়া কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, সে সম্পর্কে আরও গভীর ও নিখুঁত তথ্য পেতে এই চাক্ষুষ প্রমাণ বিজ্ঞানীদের নতুনভাবে দিকনির্দেশনা দেবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৯:২
প্রাক্তন প্রেমিকাকে ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে ফেলে হ ত্যা, পুলিশের সামনে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহ ত্যা
প্রাক্তন প্রেমিকাকে ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে ফেলে হ ত্যা, পুলিশের সামনে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহ ত্যা

ইতালিতে সম্পর্ক ভাঙার জের ধরে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। লোরেনা ইসেরি (৪৬) নামের এক নারীকে অপহরণের পর ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে নিচে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছেন তার প্রাক্তন প্রেমিক ফেদেরিকো ভেল্লা (৩৬)। এই নির্মম ঘটনার পর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নিজেও ব্রিজ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই যুবক।   সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহ পর এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। আত্মহত্যার কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "সবাইকে বিদায়" লিখে একটি রহস্যময় পোস্ট দিয়েছিলেন ভেল্লা।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘কোরিয়েরে দেল্লা সেরা’র সূত্রে জানা যায়, গাড়ি ভাড়া দেওয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ভেল্লা লোরেনার ফ্লোরেন্সের বাড়ির গ্যারেজে আগে থেকেই লুকিয়ে ছিলেন। লোরেনা সেখানে পৌঁছালে তাকে মারধর করে পা বেঁধে তার নিজের অডি গাড়ির ট্রাঙ্কে ভরে ফেলেন ভেল্লা। এরপর গাড়িটি নিয়ে উত্তরের শহর বোলোনিয়ার দিকে রওনা হন তিনি।   ট্রাঙ্কের ভেতর একটি ব্যাকপ্যাকে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে লোরেনা প্রথমে তার মা ও এক বন্ধুকে কল করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তিনি পুলিশকে কল করতে সক্ষম হন এবং আততায়ীর বর্ণনা দিয়ে বাঁচার জন্য আকুতি জানান।   পুলিশ লোরেনার ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে এগিয়ে আসতে থাকে। এদিকে ভেল্লা গাড়িটি একটি ভায়াডাক্টের পাশের ফাঁকা জায়গায় থামান। তিনি ট্রাঙ্ক খুলে লোরেনার হাতে ফোন দেখতে পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সেটি ছিনিয়ে নেন। এরপর চরম আক্রোশে তাকে ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে নিচে ফেলে দেন।   পুলিশ ভেল্লাকে ঘিরে ফেলে এই নৃশংসতার কারণ জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, লোরেনা তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং খারাপ আচরণ করেছেন। এই কথা বলার পরপরই পুলিশের সামনে তিনি নিজেও ব্রিজ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। উল্লেখ্য, বিচ্ছেদের ঠিক আগের দিন ভেল্লা তাদের সম্পর্কের নানা মুহূর্তের ভিডিও ও ছবি পোস্ট করে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৮:৪২
লস অ্যাঞ্জেলেসে বেপরোয়া স্ট্রিট রেসিংয়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, জব্দ শতাধিক গাড়ি
লস অ্যাঞ্জেলেসে বেপরোয়া স্ট্রিট রেসিংয়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, জব্দ শতাধিক গাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ লস অ্যাঞ্জেলেসে অবৈধ স্ট্রিট রেসিং এবং বেপরোয়া গাড়ি মহড়ার বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে পরিচালিত এই বড় ধরনের অভিযানে শতাধিক গাড়ি জব্দ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আটক করা হয়েছে শত শত বেপরোয়া চালক ও দর্শককে।   স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ২১ মিনিটে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এলএপিডি) একটি ট্যাকটিক্যাল অ্যালার্ট জারি করে এবং সকাল ৯টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে তাদের সাঁড়াশি তৎপরতা অব্যাহত থাকে।   সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সাউথ ফিগেরোয়া স্ট্রিট ও ওয়েস্ট অলোনড্রা বুলেভার্ডের মোড়ে রাস্তা আটকে থাকা বিপুল সংখ্যক গাড়ি ও মানুষকে ঘিরে রেখেছেন কয়েক ডজন পুলিশ কর্মকর্তা। অবৈধ এই আসরটি ভেঙে দিতে তৈরি রাখা হয় বেশ কয়েকটি টো-ট্রাক।   সংবাদ সংস্থা আরএমজি নিউজের বরাতে জানা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফ ডিপার্টমেন্ট এবং এলএপিডি যৌথভাবে এই অভিযানটি পরিচালনা করে। ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৩০০ চালক ও দর্শককে আটক করা হয় এবং প্রায় ১০০টি গাড়ি জব্দ করে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়। অবৈধ সমাবেশে অংশ নেওয়ার কারণে অনেককে জরিমানার নোটিশও দেওয়া হয়েছে।   অভিযুক্তদের হেফাজতে নিতে ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক প্রিজন ভ্যান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে মোট গ্রেপ্তার বা জরিমানার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি।   এলএপিডির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত সবার বিস্তারিত তথ্য ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে ব্যস্ততম সড়ক ও মোড় দখল করে গাড়ির বেপরোয়া কসরত সাধারণ মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন কঠোর ও বিশাল অভিযানকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৮:১৭
গাজা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এর প্রকৃত মালিক ফিলিস্তিনিরাই: চীন
গাজা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এর প্রকৃত মালিক ফিলিস্তিনিরাই: চীন

গাজা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর প্রকৃত মালিক কেবল ফিলিস্তিনের জনগণ। গাজার মর্যাদা নিয়ে নিজেদের এই শক্ত অবস্থান আবারও পরিষ্কার করেছে চীন। সম্প্রতি এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এই মন্তব্য করেন।   তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গাজাকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক খেলায় দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে বেইজিং যে জোরালো অবস্থান নিয়ে আসছে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেটি আবারও স্পষ্ট করা হলো।   চীনের এই বক্তব্য মূলত ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার এবং দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি দেশটির অব্যাহত সমর্থনকে প্রতিফলিত করে। ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা এবং গাজার বর্তমান মর্যাদা বা ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের লক্ষ্যে নেওয়া যেকোনো একতরফা পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে দেশটি।   সংঘাত-পরবর্তী গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্প্রতি যেসব প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলোর প্রেক্ষিতেই সরকারি সংবাদ সম্মেলনে গুও জিয়াকুন বেইজিংয়ের কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন। ফিলিস্তিনিদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে চীন বরাবরই এই সংঘাতের একটি সুষ্ঠু ও স্থায়ী সমাধানের পক্ষে বিশ্বমঞ্চে কথা বলে আসছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৭:৫৫
চার দশকের ঐক্যের ফোবানা এখন চার ‘টুকরো’, নেতৃত্বের কোন্দলে হারাচ্ছে জৌলুস
চার দশকের ঐক্যের ফোবানা এখন চার ‘টুকরো’, নেতৃত্বের কোন্দলে হারাচ্ছে জৌলুস

উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ করার প্রত্যয় নিয়ে যে সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, চার দশকের মাথায় এসে সেই ‘ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা’ বা ফোবানা এখন চার ভাগে বিভক্ত। বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা ও প্রবাসীদের স্বার্থ সংরক্ষণের বদলে সংগঠনটি এখন নেতৃত্বের কোন্দল ও সাংগঠনিক বিভক্তির কারণে বিতর্কের মুখে পড়েছে।   এবারের লেবার ডে উইকেন্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চার শহর—নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, অরল্যান্ডো এবং টরন্টোতে একই সময়ে পৃথক চারটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আয়োজকদের প্রায় প্রতিটি পক্ষই নিজেদের আয়োজনকে ‘৪০তম ফোবানা সম্মেলন’ হিসেবে দাবি করছে, যা সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে চরম বিস্ময় ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।   চার শহরে আয়োজিত এই সম্মেলনগুলোর প্রতিপাদ্য ও আয়োজন ভিন্ন। নিউইয়র্কের এস্টোরিয়ায় ‘এনআরবি অ্যাসোসিয়েশন’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটিতে ৫৪টি নিবন্ধিত সংগঠনের অংশগ্রহণে দ্বিতীয় সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।   ফ্লোরিডার কিসিমি এলাকায় তৃতীয় আয়োজনে থাকছে চলচ্চিত্র ও সংগীত তারকাদের অংশগ্রহণে জমকালো সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। আর কানাডার টরন্টোতে আয়োজিত চতুর্থ সম্মেলনে জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ ও অভিনেত্রী ববিতাসহ বিশিষ্টজনদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বিনোদন ও উৎসবের আমেজ থাকলেও এই দৃশ্যমান বিভক্তি ফোবানার মূল উদ্দেশ্যকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।   সচেতন প্রবাসীদের অভিযোগ, ফোবানা এখন কেবলই সামাজিক মর্যাদা ও প্রভাব প্রদর্শনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। নেতৃত্বের এই প্রতিযোগিতার নেপথ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত অহমিকা।   এর পাশাপাশি ‘দাওয়াত বাণিজ্য’ নিয়ে উঠেছে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ। ফোবানা সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে বলে অনেকেই দাবি করছেন।   যদিও আয়োজকরা বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের স্বচ্ছতার কথা জানিয়েছেন। ১৯৮৭ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে যে ঐক্যের বার্তা নিয়ে ফোবানার জন্ম হয়েছিল, তা আজ ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বন্দ্বে ম্লান। উৎসবের আমেজে প্রবাসীরা সাময়িক আনন্দ পেলেও, সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন—ফোবানা কি আবারও তার পুরনো জৌলুস ফিরে পেয়ে প্রবাসীদের সত্যিকারের ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম হতে পারবে?

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৭:৩০
লস অ্যাঞ্জেলেসে টেসলার ভ য়াবহ ধাক্কায় নিহত ১, আহত ৪; চালকের দাবি, ব্রেক কাজ করেনি
লস অ্যাঞ্জেলেসে টেসলার ভ য়াবহ ধাক্কায় নিহত ১, আহত ৪; চালকের দাবি, ব্রেক কাজ করেনি

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি ব্যস্ত সুপারমার্কেটের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারানো টেসলা গাড়ির ধাক্কায় একজন নিহত এবং অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ২১ মিনিটে দ্য গ্রোভের বিপরীতে থার্ড স্ট্রিটের ৭৯০০ ব্লকে অবস্থিত ট্রেডার জো’স স্টোরের পার্কিং লটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।   পুলিশ জানায়, ৯১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা তার সাদা রঙের টেসলা গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি পার্ক করা গাড়ি ও কয়েকজন পথচারীকে ধাক্কা দেন এবং পরে পার্কিং লটের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আছড়ে পড়েন।   দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যায়, গাড়িটির সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে গেছে এবং উদ্ধারকর্মীরা নিহতের মরদেহ একটি সাদা শামিয়ানার নিচে ঢেকে রেখেছেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই ৩০ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়। আহত অন্যদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া ৩০ ও ৫৭ বছর বয়সী আরও দুই নারী সামান্য আঘাত পেয়েছেন।   গাড়িচালক ওই বৃদ্ধাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে তার আঘাত গুরুতর নয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।   দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ড্রেক পিসিওন জানান, গাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ওই বৃদ্ধা চালক রীতিমতো হতবাক ছিলেন এবং তিনি বুঝতে পারছিলেন না ঠিক কী ঘটেছে। চালক দাবি করেন, তিনি গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করছিলেন এবং তার পা ব্রেকের ওপরই ছিল, কিন্তু গাড়িটি নিজে থেকেই গতি বাড়িয়ে ছুটতে থাকে।   তিনি যে একজনকে চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছেন, তা তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস গভীর শোক প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৭:৫
টেনেসিতে কিন্ডারগার্টেনে পড়ুয়া ছেলের স্কুলের খাবারে বছরে ৫৪০ ডলার খরচ, হিসাব দেখে হতবাক শিক্ষিকা মা
টেনেসিতে কিন্ডারগার্টেনে পড়ুয়া ছেলের স্কুলের খাবারে বছরে ৫৪০ ডলার খরচ, হিসাব দেখে হতবাক শিক্ষিকা মা

সন্তান কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হওয়ার পর তার দুপুরের খাবারের খরচ হিসাব করে রীতিমতো হতবাক হয়ে গেছেন দুই সন্তানের জননী ক্যাথরিন ভন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামীণ পশ্চিম টেনেসির একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকা এই নারী স্থানীয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ।   কিন্তু বড় ছেলে উইন্টন স্কুলে ভর্তি হওয়ার পরই তিনি শিক্ষার্থীদের খাবারের এই বিশাল খরচের বাস্তবতার মুখোমুখি হন। তার ছেলে পড়াশোনা ও নতুন ভাষা শিখতে ভালোবাসে এবং স্কুলের পরিবেশে দারুণ করবে বলে তিনি ও তার স্বামী ল্যান্স সবসময় আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু সন্তানের জন্য স্কুলে পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করতে গিয়ে খরচের অঙ্ক দেখে তিনি চিন্তায় পড়ে যান।   টিপটন কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের অধীনে থাকা ক্যাথরিনের স্কুলে একসময় শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে দুপুরের খাবার পেত। কিন্তু চলতি গ্রীষ্মে সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে। ক্যাথরিন হিসাব করে দেখেন, বছরে ১৮০ দিন স্কুল খোলা থাকে এবং প্রতিদিন খাবারের দাম বেড়ে ৩ ডলার হয়েছে। অর্থাৎ, ছেলের স্কুলের খাবারের জন্য তার নির্ধারিত বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত ৫৪০ ডলারের ব্যবস্থা করতে হবে।   স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহামারির সময়ের ভর্তুকি শেষ হয়ে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। টিপটন কাউন্টি স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট রেবেকা বার্ড জানান, তারা ফেডারেল ও রাষ্ট্রীয় নিয়ম মেনেই চলছেন এবং নির্দিষ্ট আয়ের শর্ত পূরণ করা পরিবারগুলো এখনো বিনামূল্যে বা কম মূল্যে খাবারের জন্য আবেদন করতে পারবে।   তবে ক্যাথরিন মনে করেন, প্রতিদিন তিন ডলার খুব বড় অঙ্ক না হলেও অনেক পরিবার এই সামান্য খরচ মেটাতেও হিমশিম খায়। বিনামূল্যে খাবারের আবেদনের ক্ষেত্রে অনেকেই সামাজিক লজ্জার সম্মুখীন হন, আবার অনেক অভিভাবকের নানাবিধ মানসিক বা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে দীর্ঘ ফর্ম পূরণ করা সম্ভব হয় না।   এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবারের বিল বকেয়া পড়ার হার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ‘স্কুল নিউট্রিশন অ্যাসোসিয়েশন’-এর ২০২৫ সালের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯৬.৮ শতাংশ স্কুল ডিস্ট্রিক্টই বকেয়া বিলের সমস্যায় ভুগছে। এমনকি বিল পরিশোধ না করা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের রিপোর্ট কার্ড আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটছে।   একটি শিশুর সুষ্ঠু শিক্ষার জন্য পুষ্টিকর খাবার অত্যন্ত জরুরি। ২০২১ ও ২০২৪ সালের একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাসা থেকে আনা খাবারের চেয়ে স্কুলের খাবার বেশি পুষ্টিকর হয়, যা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পরীক্ষার ফলাফল উন্নত করতে সাহায্য করে। তাই শিশুদের পেটে ক্ষুধা রেখে শিক্ষা প্রদানকে ক্যাথরিন টেনেসির পরিবারগুলোর প্রতি অবিচার বলে মনে করেন।   বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ হয়েও কেন শিশুদের খাবারের দায়িত্ব নেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি অবিলম্বে রাজ্যের আইনপ্রণেতাদের সব শিশুর জন্য বিনামূল্যে স্কুলের খাবার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৬:৪৭
বাবার সহায়তায় রক্ষা পেলেন মা-সন্তান
ফ্লোরিডায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে গাড়িতেই কন্যাসন্তান প্রসব, বাবার সহায়তায় রক্ষা পেলেন মা-সন্তান

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে গাড়ির সামনের সিটেই কন্যাসন্তান প্রসব করেছেন এক নারী। পরিস্থিতি সামলাতে প্রথমবার বাবা হতে যাওয়া ইয়াসের সোলোরজানো নিজেই প্রসবে সহায়তা করেন।   বৃহস্পতিবার রাতে ইয়াসের সোলোরজানো ও তাঁর সঙ্গী আয়শা তেনোরি হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথে আয়শার প্রসববেদনা দ্রুত বেড়ে গেলে তিনি বুঝতে পারেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর মতো সময় আর নেই। মাত্র কয়েক মিনিটের পথ যাওয়ার পরই তিনি গাড়ি থামাতে বলেন।   সোলোরজানো দ্রুত ফ্লোরিডার ব্র্যান্ডনের একটি ভ্যালু পন অ্যান্ড জুয়েলারি দোকানের পার্কিং লটে গাড়ি থামিয়ে ৯১১-এ ফোন করেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, শিশুটি উল্টো অবস্থানে বা ব্রিচ পজিশনে আছে। এরপর গাড়ির সামনের সিটেই নিজের কন্যাসন্তানকে প্রসব করাতে সহায়তা করেন তিনি।   প্রায় ছয় মিনিট পর জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে মা ও নবজাতককে অ্যাম্বুলেন্সে করে এইচসিএ ফ্লোরিডা ব্র্যান্ডন হাসপাতালে নেওয়া হয়। শিশুটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার সপ্তাহ আগেই জন্ম নেয়।   পরিবার পরে মেয়ের নাম রাখে লিয়ানা ভ্যালেনটিনা সোলোরজানো। জন্মের সময় তার ওজন ছিল ৪ পাউন্ড ১০ আউন্স। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকলেও তাকে এনআইসিইউতে নিতে হয়নি। মা ও মেয়ে দুজনই সুস্থ আছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।   প্রথমবার বাবা হওয়ার এই অভিজ্ঞতাকে সোলোরজানো জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন। হাসপাতাল থেকে শনিবার মা ও মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার আশা করছে পরিবার।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৬:৪০
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় বৃষ্টিতে কাদার সাগরে পরিণত বার্নিং ম্যান উৎসব, ৬ মাইল হেঁটে ফিরলেন ডিজে ডিপলো
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় বৃষ্টিতে কাদার সাগরে পরিণত বার্নিং ম্যান উৎসব, ৬ মাইল হেঁটে ফিরলেন ডিজে ডিপলো

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা মরুভূমিতে আয়োজিত জনপ্রিয় ‘বার্নিং ম্যান’ উৎসব আবারো বৃষ্টির কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভারী বর্ষণের ফলে উৎসবস্থলের ব্ল্যাক রক ডেজার্টের মূল প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন দর্শনার্থীরা।   এই অচলাবস্থা থেকে বাঁচতে বিশ্ববিখ্যাত ডিজে ডিপলোকে কাদামাখা পথ ধরে টানা ছয় মাইল পায়ে হেঁটে ফিরতে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিওতে তিনি নিজেই এই দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য যাত্রার অভিজ্ঞতা ভক্তদের সাথে শেয়ার করেছেন।   ভিডিওতে কাদামাখা পথে হাঁটতে হাঁটতে তাকে বলতে শোনা যায়, "আমি আবারও বার্নিং ম্যান থেকে হেঁটে ফিরছি। পরিস্থিতি জঘন্য হলেও আমি এটি উপভোগ করছি। জীবনে অনেক চ্যালেঞ্জ আসে, আপনাকে কেবল লেগে থাকতে হবে।" একটি অ্যাপে এই হাঁটার পথ ৩৯ মিনিটের দেখালেও, ডিপলো জানান তাদের প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে।   বার্নিং ম্যানে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি ডিপলো এবারই প্রথম হননি। এর আগে ২০২৩ সালেও ভারী বৃষ্টিতে যখন উৎসবটি কাদার সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল এবং প্রায় ৭৩ হাজার মানুষ আটকা পড়েছিলেন, তখনো তিনি অভিনেতা ক্রিস রককে সাথে নিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটেছিলেন। সেবার এক ভক্তের পিকআপ ভ্যানে করে তারা উদ্ধার পান।   এবারের উৎসবে ডিপলো টানা বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত পারফর্ম করেন এবং শুক্রবার ভোর সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত পার্টিতে মেতে ছিলেন। তবে এবারের উৎসবের আনন্দে অনাকাঙ্ক্ষিত বিষাদও নেমে এসেছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।   এসএফগেট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার মাত্র ০.২২ ইঞ্চি বৃষ্টিপাতেই মরুভূমির বুকে অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা নয় দিনব্যাপী এই শিল্প ও সঙ্গীতের আসর কাদায় পরিণত হয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৯ সালে জনপ্রিয়তার চূড়ায় থাকার পর থেকে উৎসবটির আকার ধীরে ধীরে ছোট হতে থাকলেও, এতে অংশ নেওয়া চল্লিশ ও পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। একইসঙ্গে এই বিলাসবহুল উৎসবে যোগ দেওয়ার ব্যয়ভারও আগের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৬:২৩
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিখোঁজ ক্যালিফোর্নিয়ার বৈমানিক, ৮২ বছর পর শনাক্ত দেহাবশেষ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিখোঁজ ক্যালিফোর্নিয়ার বৈমানিক, ৮২ বছর পর শনাক্ত দেহাবশেষ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ইতালির আকাশে বি-২৪ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এক বৈমানিক। ঘটনার আট দশকেরও বেশি সময় পর অবশেষে তার দেহাবশেষ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ইউএস আর্মি এয়ার ফোর্সের সার্জেন্ট অ্যাডলফ পি. আগুইরে নামের ওই তরুণের বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর।   ১৯৪৩ সালের ১৬ আগস্ট একটি মিশন শেষে ফেরার পথে তার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দীর্ঘ ৮২ বছর পর তার পরিবার অবশেষে প্রিয়জনের অন্তিম পরিণতির কথা জানতে পেরেছে।   চলতি মাসেই তুলারে কাউন্টির এক্সেটার ডিস্ট্রিক্ট সমাধিস্থলে বাবা-মায়ের পাশে তাকে সমাহিত করার প্রস্তুতি চলছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার ভিসালিয়ায় ১৯২১ সালের ২৯ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন আগুইরে। তার বাবা মার্গারিটো আগুইরে এবং মা মারি পিমেন্টেল। ১৯৪১ সালে এক্সেটার ইউনিয়ন হাইস্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ১৯৪২ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।   পরিবারের কাছে তিনি ‘পাঞ্চো’ বা ‘চিকো’ নামে পরিচিত ছিলেন। বি-২৪ লিবারেটর হেভি বোম্বারে রেডিও অপারেটর ও গানার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এই তরুণ পাইলট। বীরত্বপূর্ণ সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘পার্পল হার্ট’ এবং ‘এয়ার মেডেল’ লাভ করেছিলেন।   বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর নিখোঁজ হওয়ার খবর জানিয়ে তার বাবা-মাকে একটি টেলিগ্রাম পাঠানো হলেও, ঠিক কী ঘটেছিল তা তারা কখনই জানতে পারেননি। দশকের পর দশক ধরে তার পরিণতি অজানা থেকে যায়।   ২০২১ সালে মার্কিন সেনাবাহিনী মামলাটি পুনরায় চালু করলে তদন্তে নতুন মোড় আসে। ইতালির লাসেডোনিয়া থেকে নেপলসে স্থানান্তরিত কিছু দেহাবশেষ নিয়ে কাজ শুরু হয়। এই শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় মূল ভূমিকা পালন করেন আগুইরের চাচাতো ভাই জুয়ান আগুইরে।   ২০২২ সালের মে মাসে কেনটাকির ফোর্ট নক্স-এ অবস্থিত ইউএস আর্মি হিউম্যান রিসোর্সেস কমান্ড জুয়ানকে ডিএনএ নমুনা প্রদানের অনুরোধ জানায়। পরবর্তীতে নেপলসের একটি সমাধিস্থল থেকে দেহাবশেষ তুলে ডিএনএ বিশ্লেষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণাগারে আনা হয়।   ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জুয়ান ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে নিখোঁজ মার্কিন সেনাদের হিসাবরক্ষক সংস্থা 'পাও/এমআইএ অ্যাকাউন্টিং এজেন্সি'-এর সাথে বৈঠক করেন। সে সময় তদন্তকারীদের আরও নিখুঁত জেনেটিক তুলনা করার সুবিধার্থে জুয়ানের ছেলে জুলিয়ানও ডিএনএ নমুনা প্রদান করেন।   টানা কয়েক বছর ধরে চলা এই প্রক্রিয়ার পর, ২০২৬ সালের মে মাসে পরিবারটি কাঙ্ক্ষিত সেই খবরটি পায়—আগুইরেকে সফলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এরপর ১৬ জুন তারা জানতে পারেন যে, এই বীর সেনানির দেহাবশেষ ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।   আট দশক আগে যে বাবা-মা সন্তানের ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, আজ তাদের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি। শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর এক্সেটার মেমোরিয়াল বিল্ডিংয়ে বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় এক্সেটার ডিস্ট্রিক্ট সমাধিস্থলে তাকে সমাহিত করা হবে। অনুষ্ঠানে সর্বসাধারণকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৬:১
সহকর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই আটকা, অন্ধকার সুড়ঙ্গে ৯ দিনের মৃত্যুযুদ্ধ শেষে ফিরলেন সঞ্জয়
সহকর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই আটকা, অন্ধকার সুড়ঙ্গে ৯ দিনের মৃত্যুযুদ্ধ শেষে ফিরলেন সঞ্জয়

নেপালে প্রলয়ংকরী বন্যার জেরে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে টানা নয় দিন আটকে থাকার পর অবশেষে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন এক কর্মী। ভয়ংকর সেই অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ জানান, বন্যার পানি যখন সুড়ঙ্গে ঢুকতে শুরু করে, তখন তিনি তার সহকর্মীদের দ্রুত ওই স্থান থেকে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে অন্যদের নিরাপদে সরিয়ে দিতে গিয়ে নিজে বের হওয়ার আর পর্যাপ্ত সময় পাননি তিনি।   নিজের কর্তব্যের প্রতি অবিচল সঞ্জয় বলেন, বিপদের মুহূর্তে সহকর্মীদের ফেলে নিজে পালিয়ে যাওয়াটা তার কাছে কোনোভাবেই সঠিক মনে হয়নি; কারণ তার প্রধান দায়িত্বই ছিল অন্যদের জীবন রক্ষা করা।   সুড়ঙ্গের ঘুটঘুটে অন্ধকারে কাটানো সেই দীর্ঘ নয় দিনের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, বেঁচে ফেরার আশা জাগিয়ে রাখতে তিনি অনবরত মন্ত্র জপ করতেন।   সেই চরম প্রতিকূল ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেও সুড়ঙ্গের অন্য প্রান্তে আটকে থাকা আরও তিন-চারজন কর্মীর সঙ্গে কোনোমতে যোগাযোগ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি।   দীর্ঘ ও শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযানের পর অবশেষে সঞ্জয় সাহকে জীবিত অবস্থায় সুড়ঙ্গ থেকে বের করে আনা হয়। তার সঙ্গে উদ্ধার পাওয়া আরেকজন ভাগ্যবান কর্মী হলেন মেকানিক্যাল সুপারভাইজার কবির মহার্জন।   নেপালের এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে তাদের এই ফিরে আসা শুধু বেঁচে ফেরার গল্প নয়, বরং চরম বিপদের মুহূর্তে দায়িত্ববোধ ও অদম্য সাহসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৫:৩৫
নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসস্তূপে বেঁচে যাওয়া ‘সারভাইভার ট্রি
নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসস্তূপে বেঁচে যাওয়া ‘সারভাইভার ট্রি’, ৯/১১-এর ক্ষত বুকে আজও দাঁড়িয়ে

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রায় এক মাস পর, উদ্ধারকর্মীরা গ্রাউন্ড জিরোর ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার সময় বিস্ময়কর এক আবিষ্কার করেন।   সেখানে তারা একটি ‘ক্যালারি পিয়ার’ (Callery pear) গাছ খুঁজে পান, যা তখনও বেঁচে ছিল। গাছটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ; এর শিকড় ছিঁড়ে গিয়েছিল, শাখা-প্রশাখা পুড়ে ও ভেঙে গিয়েছিল এবং এর বড় একটি অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।   তবে গাছটিকে কেটে ফেলার পরিবর্তে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অফ পার্কস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন এটি উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেয়।   তারা গাছটিকে ব্রঙ্কসের একটি নার্সারিতে নিয়ে যায় এবং বছরের পর বছর ধরে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করে। সব প্রতিকূলতাকে জয় করে গাছটি অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় এবং ধীরে ধীরে নতুন পাতা মেলতে শুরু করে।     দীর্ঘ পরিচর্যার পর, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে গাছটিকে আবারও ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সেই একই স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়।   বর্তমানে এটি ৯/১১ মেমোরিয়ালে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে এবং ‘সারভাইভার ট্রি’ বা ‘বেঁচে ফেরা গাছ’ নামে পরিচিত। গাছটির নতুন, সতেজ শাখা-প্রশাখার মাঝে এর পুরোনো ক্ষতচিহ্নগুলো এখনও দৃশ্যমান।   এই গাছটি এখন কেবল একটি উদ্ভিদ নয়, বরং এটি এক অদম্য জীবনীশক্তির প্রতীক; যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অকল্পনীয় ধ্বংসের পরও কীভাবে জীবন আবার নতুন করে শুরু হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৫:১৭
নাথানিয়েল মাইকেল কারাসকোর কথোপকথন ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
এআই চ্যাটে স্কুলে হামলার পরিকল্পনা, এফবিআইয়ের কাছে তথ্য যাওয়ার পর টেক্সাসে যুবক গ্রেপ্তার

এআই চ্যাটবটে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ওপর গুলি চালানোর পরিকল্পনার কথা লেখার অভিযোগে টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কর্মকর্তাদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নাথানিয়েল মাইকেল কারাসকোর কথোপকথনে সার্না এলিমেন্টারি স্কুলকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকির কথা উঠে আসে। স্কুলটি তার বাসার পাশেই অবস্থিত।   আদালতের হলফনামা অনুযায়ী, ১১ আগস্ট কারাসকো অ্যানথ্রপিকের এআই চ্যাটবট ক্লডে একাধিক হুমকিমূলক বার্তা লেখেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি দ্রুত একটি আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে স্কুলে ঢুকে শিশুদের ওপর হামলা চালানোর কথা বলেন। এমনকি স্কুলে আহত বা মৃত শিশুদের ছবি খুঁজে দিতে চাওয়ার কথাও ওই কথোপকথনে ছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   কারাসকোর কথোপকথন নিয়ে ২৮ আগস্ট এফবিআইয়ের ন্যাশনাল থ্রেট অপারেশনস সেকশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে। এরপর তদন্তকারীরা টি-মোবাইল, চার্টার কমিউনিকেশনস ও গুগলের কাছ থেকে জরুরি তথ্য সংগ্রহ করে ওই এআই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কারাসকোর ফোন নম্বর, আইপি তথ্য ও বাসার ঠিকানা মিলিয়ে দেখেন।    এরপর ২৯ আগস্ট রাত ১১টার পর সান অ্যান্টোনিও পুলিশ কারাসকোকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়ার তৃতীয়-শ্রেণির গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ডে বেক্সার কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।    ঘটনায় কোনো হামলা হয়নি এবং কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। পুলিশও কারাসকোর কাছে কোনো অস্ত্র পাওয়া গেছে বা তিনি হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিলেন - এমন তথ্য প্রকাশ করেনি। তিনি এখনো অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত নন।    ঘটনার আরেকটি দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সার্না এলিমেন্টারি স্কুলের অধ্যক্ষ জেনিফার লোমাস জানিয়েছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ শুরুতে হুমকিটির পূর্ণ বিবরণ জানতে পারেনি। সংবাদমাধ্যমে বিস্তারিত প্রকাশের পর ৩১ আগস্ট তিনি অভিভাবকদের পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি জানান।    এদিকে অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব নীতিমালায় গুরুতর সহিংসতার ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং জীবনহানির আশঙ্কা থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি তথ্য-অনুরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৫:১৩
ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসিইর অভিযান জোরদার
“আমেরিকান সড়ক, আমেরিকান গাড়িচালক” - ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসিইর অভিযান জোরদার

“আমেরিকান সড়ক, আমেরিকান গাড়িচালক” - এই স্লোগান সামনে রেখে ক্যালিফোর্নিয়ায় কমার্শিয়াল ড্রাইভার্স লাইসেন্স বা সিডিএল জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট - আইসিই।   আইসিইর সান ফ্রান্সিসকো কার্যালয়ের স্পেশাল এজেন্টরা স্টকটন, স্যাক্রামেন্টো ও সান হোসে এলাকায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অংশ নিচ্ছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। আইসিইর ভাষ্য, সিডিএল জালিয়াতির কারণে সড়ক নিরাপত্তায় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   সাম্প্রতিক সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় সিডিএল নিয়ে ফেডারেল সরকারের কড়াকড়িও বেড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকেলস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চে ফেডারেল সরকারের নির্দেশে প্রায় ১৩ হাজার নন-ডোমিসাইলড কমার্শিয়াল ড্রাইভার্স লাইসেন্স বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে ডিএমভি স্পষ্ট করেছে, সংশ্লিষ্ট সব লাইসেন্সধারী জালিয়াতি করেছেন - এমন নয়; অনেকেই তখন বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও কাজের অনুমতি নিয়ে লাইসেন্স পেয়েছিলেন।   ফেডারেল নিয়মে নন-ডোমিসাইলড সিডিএল ইস্যুর ক্ষেত্রে অনিয়ম নিয়ে তদন্তের পর ক্যালিফোর্নিয়ায় লাইসেন্স ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে সীমিত মেয়াদের বৈধ উপস্থিতির ভিত্তিতে নন-ডোমিসাইলড সিডিএল দেওয়া স্থগিত রেখেছে ক্যালিফোর্নিয়া ডিএমভি।   ডিএমভির তথ্য অনুযায়ী, জালিয়াতির মাধ্যমে বা অযোগ্য ব্যক্তির হাতে লাইসেন্স গেলে তা সরাসরি সড়ক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে জালিয়াতির তথ্য পেলে ডিএমভি লাইসেন্স যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।   আইসিইর সাম্প্রতিক পোস্টগুলোতেও দেশজুড়ে সিডিএল জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটি দাবি করছে, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য আমেরিকার সড়ক নিরাপদ রাখা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সিডিএল পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:৫৫
ট্রাম্প নিজের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করছেন
‘ক্ষমতা ছাড়লে কেউ স্মৃতিস্তম্ভ বানাবে না’, তাই সবকিছুতেই নিজের নাম দিচ্ছেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়ার পর তার জন্য কেউ স্মৃতিস্তম্ভ বা স্থাপনা নির্মাণ করবে না - এমন কারণেই নিজের নামে বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রকল্প করার উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ‘নিউইয়র্ক ম্যাগাজিন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেন তিনি।   সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক বেন টেরিস ট্রাম্পকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের একটি মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। অসফের বক্তব্য ছিল, ট্রাম্প নিজের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করছেন, কারণ তিনি মনে করেন, ক্ষমতা ছাড়ার পর আর কেউ তাকে সম্মান জানিয়ে এমন স্থাপনা তৈরি করবে না।   জবাবে ট্রাম্প বলেন, “এটা সত্যি। আমি চলে যাওয়ার পর কেউ এটা করবে না। আমি যখন এখান থেকে চলে যাব, তখন কেউ করবে না।”    দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ওয়াশিংটন ডিসিতে একাধিক বড় নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে রয়েছে হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ের জায়গায় বিশাল বলরুম নির্মাণ, কেনেডি সেন্টারে তার নাম যুক্ত করার উদ্যোগ, লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার এবং আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেট্রির কাছে একটি প্রায় ২৫০ ফুট উচ্চতার বিজয় তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনা।    হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙে সেখানে নতুন বলরুম নির্মাণ নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক ও আইনি লড়াই হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, নতুন স্থাপনাটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পে একটি ভূগর্ভস্থ নিরাপত্তা স্থাপনা ও ছাদে ড্রোন পরিচালনার সুবিধার কথাও বলা হয়েছে।   এদিকে আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেট্রির কাছে প্রস্তাবিত বিজয় তোরণ নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার এক ফেডারেল বিচারক প্রশাসনকে সেখানে কোনো কার্যক্রম শুরুর আগে অন্তত ৪৮ ঘণ্টার নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তোরণটির চূড়ান্ত অনুমোদনও এখনো পাওয়া যায়নি।   নিজের নাম ব্যবহারের প্রবণতা শুধু স্থাপনা নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের নামেও তার নাম যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’, ‘ট্রাম্পআরএক্স’ এবং ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’। সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় তার ছবি ও নাম ব্যবহারের ঘটনাও নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ে ওয়াশিংটনের স্থাপত্য ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজের দীর্ঘমেয়াদি ছাপ রেখে যাওয়ার নানা প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। তার সমর্থকেরা এসবকে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখলেও সমালোচকেরা এগুলোকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচার ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:২১
দেশটির প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী
ভয়াবহ বন্যায় ছয় দিনে ১০০ উদ্ধার অভিযান নেপালের প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেনের

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে ঝুঁকিপূর্ণভাবে হেলিকপ্টার উড়িয়ে মাত্র ছয় দিনে প্রায় ১০০টি উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন দেশটির প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে তিমুরে এলাকায় সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পর আকাশপথে দুর্গতদের সরিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।   ৪০ বছর বয়সী প্রিয়া অধিকারী উচ্চ উচ্চতায় উদ্ধার অভিযানে অভিজ্ঞ পাইলট। গত কয়েক দিনে তিমুরে ও আশপাশের দুর্গম এলাকায় প্রায় ২০টি হেলিকপ্টার একসঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। একই এলাকায় একাধিক হেলিকপ্টারকে প্রায় একই সময়ে অবতরণ ও উড্ডয়ন করতে হয়েছে। এ সময় পাইলটদের রেডিওতে নিয়মিত সমন্বয় করতে হয়েছে।    উদ্ধার অভিযানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ধসে পড়া পাহাড়ি মাটি ও কাদায় তৈরি অনিরাপদ ভূমি। অনেক জায়গায় মাটি এতটাই নরম ও অস্থিতিশীল ছিল যে হেলিকপ্টার নিরাপদে অবতরণ করে ইঞ্জিন বন্ধ করাও সম্ভব হয়নি। ফলে যাত্রীদের দ্রুত তুলে নিয়ে আবার উড্ডয়ন করতে হয়েছে।    প্রিয়া অধিকারী জানিয়েছেন, এবারের দুর্যোগের ভয়াবহতা তার বহু বছরের অভিজ্ঞতাকেও কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। তিমুরে এলাকায় তিনি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন, আবার একই সঙ্গে হেলিকপ্টারের অপেক্ষায় থাকা জীবিত মানুষকেও উদ্ধার করেছেন। প্রথম দুই দিনেই তিমুরে থেকে ২০০ জনের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।    অধিকারীর বিমান চালনার যাত্রা শুরু হয় কিছুটা ভিন্নভাবে। পরিবেশবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার পর তিনি কেবিন ক্রু হিসেবে কাজ করেন। পরে হেলিকপ্টার চালানোর প্রতি আগ্রহ তৈরি হলে ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণ নেন। ২০১৭ সালে পূর্ণকালীন হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর উচ্চ উচ্চতায় উদ্ধার অভিযানে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন। তার কয়েকটি উদ্ধার অভিযান প্রায় ৬ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছে।    নেপালে গত ২৬ আগস্ট শুরু হওয়া ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টারই হয়ে উঠেছে প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। আজও বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকাজ চলছে।    প্রিয়া অধিকারী বলেন, টানা উদ্ধার অভিযানে পাইলটরা শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াই তাদের প্রশিক্ষণের অংশ। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও জীবিত মানুষকে হেলিকপ্টারের দিকে হাত নাড়তে দেখা তাদের আবারও আকাশে উড়তে অনুপ্রাণিত করেছে। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৩:৫৭
স্বাধীনতার পর প্রথম, শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল শোধনাগার
স্বাধীনতার পর প্রথম, শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল শোধনাগার

স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো দেশের দ্বিতীয় ও সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার নির্মাণের পথে বাংলাদেশ। দীর্ঘ ৫৮ বছর পর চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে বড় অগ্রগতি হয়েছে। নতুন এই শোধনাগার চালু হলে বছরে অতিরিক্ত ৩০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল শোধন করা যাবে এবং দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে।    বর্তমানে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইআরএলের বার্ষিক শোধন সক্ষমতা ১৫ লাখ টন। নতুন ইউনিটে আরও ৩০ লাখ টন সক্ষমতা যুক্ত হলে ইআরএলের মোট শোধন ক্ষমতা দাঁড়াবে ৪৫ লাখ টনে। এর ফলে ডিজেল, অকটেনসহ পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।    প্রকল্পটির অর্থায়নের বড় বাধাও এখন দূর হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের মধ্যে ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়ন চুক্তি সই হয়েছে। পুরো প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৫০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক দিচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ডলার এবং বাকি অর্থ বাংলাদেশ সরকার বহন করবে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।    ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের হিসাবে, নতুন শোধন সক্ষমতার কারণে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল দেশে পরিশোধনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৩৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে আধুনিক শোধনাগারে ইউরো-৫ মানের জ্বালানি উৎপাদন এবং ১৫ ধরনের পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে।    দেশের প্রথম রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগারটি ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রতিষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা প্রথম নেওয়া হয়েছিল ২০১২ সালে। এরপর প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাব একাধিকবার সংশোধন হলেও অর্থায়নসহ বিভিন্ন জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। এবার বিদেশি অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ায় দীর্ঘ ৫৮ বছরের অপেক্ষার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে।    ট্যাগ: ইস্টার্ন রিফাইনারি, তেল শোধনাগার, জ্বালানি নিরাপত্তা, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, চট্টগ্রাম, জ্বালানি তেল, বাংলাদেশ, তেল আমদানি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৩:২২