সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

নেপালে ভয়াবহ বন্যার ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দুজনকে জীবিত উদ্ধার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ২১:৮
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন নেপালি সেনা সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন নেপালি সেনা সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ১০ দিন পরও উদ্ধার অভিযানে মিলছে জীবনের সন্ধান। শনিবার ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিক এবং কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়া একটি বাড়ি থেকে ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। এর আগের দিন আরও দুই নেপালি শ্রমিককে সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। ফলে শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে মোট চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলো।

 

শনিবার উদ্ধার হওয়া চীনা নাগরিকের নাম লু হাইতাও। নেপালি সেনাবাহিনী ও বিদেশি উদ্ধার বিশেষজ্ঞদের যৌথ দল রাশুয়া জেলার আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গের প্রায় ২২৫ মিটার ভেতর থেকে তাঁকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

 

সুড়ঙ্গ থেকে লু হাইতাওকে উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পর নুওয়াকোট জেলার বেত্রাবতীতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া চারতলা একটি বাড়ির ওপরের তলা থেকে ৬৪ বছর বয়সী চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠকে উদ্ধার করে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর একটি দল। তিনি প্রায় ১০ দিন ওই বাড়ির ভেতরে আটকে ছিলেন। উদ্ধার করার সময় তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরে তাঁকে হেলিকপ্টারে করে ত্রিশুলি এলাকায় নেপালি সেনাবাহিনীর একটি ব্যারাকে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

এর এক দিন আগে, শুক্রবার আপার ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় সঞ্জয় সাহ ও কবির মহারজনকে। তাঁরা প্রায় নয় দিন ধরে সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে ছিলেন। উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের প্রায় ৪০ মিটার ভেতরে গিয়ে তাঁদের সন্ধান পান। দীর্ঘ সময় ধরে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে তাঁদের কাছে পৌঁছাতে হয়।

 

২৬ আগস্ট নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে একটি হিমবাহ ও পাথরের বিশাল ধসের পর ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বরফ, পানি, কাদা ও পাথরের প্রবল স্রোত ভুটেকোশি নদী দিয়ে নেমে এসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে। এতে বসতি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গে থাকা বহু শ্রমিকের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।

 

নেপাল পুলিশের শনিবারের হিসাব অনুযায়ী, দুর্যোগে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৪ হাজার ৮৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে ৫০১টি এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজ ও নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে মৃত ১ হাজার ২৬০ জন এবং তাঁদের ৯৭২ স্বজনের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৬৩১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩ হাজার ৬৫৫ জন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

 

বন্যায় দেশটির ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনায় কর্মরতসহ মোট ৯৪২ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে। রাশুওয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেই নিখোঁজ রয়েছেন ৯৩ জন। তাঁদের মধ্যে নিয়মিত কর্মী, দৈনিক মজুরির শ্রমিক এবং বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও রয়েছেন।

 

উদ্ধার অভিযানে নেপালি সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। ৫০০-র বেশি প্রকৌশলী একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে উদ্ধারকারীদের সুড়ঙ্গের নকশা, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিন্যাস এবং নিখোঁজ শ্রমিকদের তথ্য দিচ্ছেন। দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে উচ্চক্ষমতার ড্রোন, ভূগর্ভস্থ অনুসন্ধান রাডার, পানি নিষ্কাশন পাম্প এবং অন্যান্য বিশেষ সরঞ্জামেরও প্রয়োজন হচ্ছে।

 

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির হিসাবে, ছয় জেলার ১৭টি পৌরসভার প্রায় ৮৪ হাজার ২৭০ মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো ও ঘরবাড়ির বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

দুর্যোগের প্রভাব শিশুদের ওপরও গুরুতর। ইউনিসেফ জানিয়েছে, অন্তত ২২ হাজার শিশুর জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ পানীয় জল, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি সহায়তা প্রয়োজন। বন্যায় পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২ হাজার ৬০০ শিশুর তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। এছাড়া অন্তত ১০৭ শিশু বাবা-মা বা অভিভাবকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

 

দুর্যোগের ভয়াবহতার কারণে নেপাল সরকার ৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই দিন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে নেপালের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। একই সঙ্গে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

 

দশ দিন পর ধ্বংসস্তূপ ও অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে একের পর এক মানুষকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নিখোঁজদের পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে দুর্গম ভূখণ্ড, কাদা ও পাথরে বন্ধ হয়ে যাওয়া সুড়ঙ্গ এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে উদ্ধার অভিযান এখনো অত্যন্ত কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

সংবাদসূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজসহ ছয়টি জাহাজে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ যুদ্ধজাহাজসহ ৬ জাহাজে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর পাল্টা হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। শনিবার ইরানি বাহিনী জানিয়েছে, তারা তিনটি মার্কিন জাহাজ এবং হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদনহীন পথে চলাচল করা আরও তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এখনো ইরানের এই দাবি নিশ্চিত করেনি।   এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানায়, ইরানের বিপ্লবী গার্ড দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল খার্গ দ্বীপের কাছে থাকা এমটি ডাউনি, জাস্কের কাছে এমটি স্টার্ক-১ এবং ওমান উপসাগরে থাকা এমটি কাইলো, যেটি নক্সেন নামেও পরিচিত। সেন্টকম জানিয়েছে, প্রথম দুটি ট্যাংকারকে স্থায়ীভাবে অচল করে দেওয়া হয়েছে এবং তৃতীয়টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ট্যাংকারগুলো ইরানের একটি বৃহৎ গোপন তেল বাণিজ্য নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এই নেটওয়ার্ক থেকে বিপ্লবী গার্ড ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন করা হয়। তবে ইরান এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। এরপর ইরানের বিপ্লবী গার্ড পাল্টা হামলার দাবি করে। ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচল করা তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি মার্কিন জাহাজকে অন্য এলাকায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরান সতর্ক করে বলেছে, উপসাগর ও হরমুজের আশপাশে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে অনুমোদিত পথ ব্যবহার না করলে সেগুলোও হামলার লক্ষ্য হতে পারে।   যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা ইউকেএমটিওও শনিবার উত্তর আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর পাওয়ার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব হামলায় এমন শক্তিশালী আঘাতের তথ্য পাওয়া গেছে, যা জাহাজগুলোকে অচল করে দিতে সক্ষম। তবে হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানকে আরও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরান যদি মার্কিন জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস ও ডুবিয়ে দেবে।.   হেগসেথ আরও দাবি করেন, ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোর বহর খুবই অরক্ষিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন এসব জাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম। তাঁর বক্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে সমুদ্রপথে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি দুটি মার্কিন জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় অর্থনৈতিক মূল্য চাপিয়ে তিনটি ইরানি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করবে। তাঁর ভাষ্য, প্রয়োজন হলে ইরানের তেলবাহী জাহাজের বহরের বিরুদ্ধেও আরও অভিযান চালানো হবে।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ এই সরু জলপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত নয়, আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।   এদিকে, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার খবর এমন সময়ে সামনে এলো, যখন কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক বিরতির পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। শনিবারের ঘটনাগুলো এই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত সমুদ্র সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যায় কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের অন্যতম উদ্বেগের বিষয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ২২:২
সপ্তাহান্তে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হয়েছেন কয়েকজন। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের সড়কে ছুটির দিনে একের পর এক দুর্ঘটনা, নিহত ২, আহত ৬

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন নেপালি সেনা সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ বন্যার ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দুজনকে জীবিত উদ্ধার

দেশটির প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী

ভয়াবহ বন্যায় ছয় দিনে ১০০ উদ্ধার অভিযান নেপালের প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেনের

তিন সন্তান ও সংসারের কথা ভেবে দীর্ঘদিন দাম্পত্য জীবনে ঘনিষ্ঠতার অভাব মেনে নিয়েছিলেন এক নারী। ছবি: সংগৃহীত
২১ বছরের দাম্পত্যে স্বামী সমকামী জানার পর বদলে গেল সম্পর্ক, সামনে এলো পুরোনো লক্ষণগুলো

তিন সন্তান ও সংসারের কথা ভেবে দীর্ঘদিন দাম্পত্য জীবনে ঘনিষ্ঠতার অভাব মেনে নিয়েছিলেন এক নারী। সম্প্রতি নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, বেশিরভাগ সময় তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই ছিল। তাই সংসার টিকিয়ে রাখার বিনিময়ে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার ঘাটতিকে মেনে নেওয়াই বেছে নিয়েছিলেন তিনি।   ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি সন্তান তাদের দাম্পত্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের কিছু ক্ষেত্রে দূরত্ব তৈরি হলেও পরিবার ও সন্তানদের কথা বিবেচনা করে তিনি তা মেনে নেন।   তিনি বলেন, সন্তানদের কথা মনে করিয়ে নিজেকে সান্ত্বনা দিতেন। তাদের সংসার বেশিরভাগ সময় ভালো থাকায় ঘনিষ্ঠতার অভাবকে তিনি জীবনের একটি মূল্য হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন।   তার এই অভিজ্ঞতা মূলত দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে আবেগিক ও শারীরিক ঘনিষ্ঠতার গুরুত্ব এবং পরিবার টিকিয়ে রাখতে ব্যক্তিগত চাহিদা বিসর্জন দেওয়ার বাস্তবতা সামনে এনেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১০:৫৮
লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলা নিয়ে মায়ের আগ্রহ

লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলা নিয়ে মায়ের আগ্রহ, পরে ২ বছরের ছেলে হত্যার অভিযোগ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে অভিবাসী ফেরানোর পরিকল্পনা ২০২৭ সালেই

ডেনমার্কসহ ৫ দেশের উদ্যোগ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে অভিবাসী ফেরানোর পরিকল্পনা ২০২৭ সালেই

“লিবিয়া ভ্রমণ মানেই নিশ্চিত বিপদ”- যাওয়ার আগেই উইল ও ডিএনএ নমুনা রাখতে বলল যুক্তরাষ্ট্র

“লিবিয়া ভ্রমণ মানেই নিশ্চিত বিপদ”- যাওয়ার আগেই উইল ও ডিএনএ নমুনা রাখতে বলল যুক্তরাষ্ট্র

১৬ বছর বয়সে নারীদের নিরাপত্তায় স্মার্ট কানের দুল
১৬ বছর বয়সে নারীদের নিরাপত্তায় স্মার্ট কানের দুল, হামলাকারীর ছবি তুলে সতর্ক করবে পুলিশকে

দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পোপো প্রদেশের ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী বোহলালে এমফাহলেলে নারীদের নিরাপত্তার জন্য তৈরি করেছেন বিশেষ একটি ডিভাইস, যা দেখতে অনেকটা সাধারণ কানের দুলের মতো। ‘অ্যালার্টিং ইয়ারপিস’ নামের এই প্রোটোটাইপে রয়েছে এমন প্রযুক্তি, যা বিপদের সময় সম্ভাব্য হামলাকারীর ছবি ধারণ করে এবং আগে থেকে সংযুক্ত ডিভাইসে সতর্কবার্তা পাঠাতে পারে। উদ্ভাবনটির জন্য তিনি এসকম এক্সপো ফর ইয়াং সায়েন্টিস্টসে ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিকস ও এমবেডেড সিস্টেমস বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক পান।    লিম্পোপোর এসজে ভ্যান ডার মারভে টেকনিক্যাল হাইস্কুলের শিক্ষার্থী থাকাকালে এমফাহলেলে এই ডিভাইস তৈরি করেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও মানবপাচারের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তার এই উদ্ভাবনের ধারণা আসে। সরকারি সংবাদমাধ্যম সাউথ আফ্রিকান নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিভাইসটি কানের দুলের ভেতরে বসানো যায় এবং বিপদের সময় ছবি ধারণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পাঠাতে পারে।    প্রযুক্তিটির মূল বৈশিষ্ট্য হলো, বাইরে থেকে এটি সাধারণ অলংকারের মতো দেখায়। কিন্তু এর ভেতরে থাকা ক্যামেরা ও সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপদের মুহূর্তে ব্যবহারকারী নীরবে সহায়তার সংকেত দিতে পারেন। ডিভাইসটি আগে থেকে নির্ধারিত ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।    তবে ব্রোঞ্জ পদক পাওয়ার অর্থ এই নয় যে ডিভাইসটি ইতোমধ্যে বাজারে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। বর্তমানে এটি একটি প্রোটোটাইপ। বাস্তব ব্যবহারের উপযোগী করতে ডিভাইসটির প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, নির্ভরযোগ্য সংযোগ ব্যবস্থা এবং বড় পরিসরে উৎপাদনের মতো আরও কাজ প্রয়োজন।   এমফাহলেলের উদ্ভাবন ইতোমধ্যে দেশটির শিক্ষা কর্তৃপক্ষেরও প্রশংসা পেয়েছে। ২০২০ সালে লিম্পোপোর শিক্ষা বিভাগের MEC পলি বোশিয়েলো তাকে প্রযুক্তির মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করা একজন তরুণ উদ্ভাবক হিসেবে প্রশংসা করেন এবং ডিভাইসটির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।    এসকম এক্সপো ফর ইয়াং সায়েন্টিস্টস দক্ষিণ আফ্রিকার শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনের অন্যতম বড় আয়োজন। সেখানে এমফাহলেলের প্রকল্পের স্বীকৃতি তার ধারণাটিকে স্কুলের বিজ্ঞান মেলার গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর আলোচনায় নিয়ে আসে।    এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো উদ্ভাবনটিকে প্রোটোটাইপ থেকে বাস্তব পণ্যে রূপ দেওয়া। এর জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং উৎপাদনের সক্ষমতা। এমফাহলেলের এই উদ্ভাবন তাই শুধু একটি পুরস্কার পাওয়া স্কুল প্রকল্প নয়, বরং সামাজিক সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরির একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ৩:২৭
এক মাসে ব্যয় ১ লাখ ৮০ হাজার রুপি

এক মাসে ব্যয় ১ লাখ ৮০ হাজার রুপি! বিতর্কে নারী বললে এটা খুব নরমাল বিষয়

সিডনিতে গুলিতে নিহত ৪০ বছর বয়সী জোশুয়া ম্যাকডোনাল্ড। পরিবারের দাবি, বন্ধুর দুই শিশুকে রক্ষা করতে তিনি নিজের শরীর সামনে রেখেছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

বন্ধুর দুই মেয়েকে বাঁচাতে গুলির সামনে দাঁড়ালেন, নিজের জীবন দিয়ে রক্ষা করলেন তাদের

রয়্যাল ওল্ডহ্যাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্ল্যারিসা স্ট্রিটকে সংযোগহীন অক্সিজেন মাস্ক দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

রোগীর কষ্টকে 'অজুহাত' ভেবে অক্সিজেন ছাড়াই মাস্ক পরিয়ে দিলেন নার্স, মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তরুণ

0 Comments