সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

১৩ বছর পর আমেরিকা ছেড়ে জার্মানির পথে ইউএস আর্মির বাংলাদেশি পঙ্কজ তালুকদার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১:৩১
১৩ বছর পর আমেরিকা ছেড়ে জার্মানির পথে ইউএস আর্মির বাংলাদেশি পঙ্কজ তালুকদার
১৩ বছর পর আমেরিকা ছেড়ে জার্মানির পথে ইউএস আর্মির বাংলাদেশি পঙ্কজ তালুকদার

চাকরির কারণে ১৩ বছরের পরিচিত জীবন পেছনে ফেলে আমেরিকা থেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য জার্মানিতে পাড়ি জমিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি পঙ্কজ তালুকদার। পরিবার, বন্ধু, পরিচিত শহর আর অসংখ্য স্মৃতি ছেড়ে নতুন দেশে যাত্রা তার জন্য যেমন আবেগের, তেমনি নতুন অভিজ্ঞতারও।

 

ভোর রাতে মিজৌরির সেন্ট লুইস এয়ারপোর্ট থেকে শুরু হয় পঙ্কজের যাত্রা। সেন্ট লুইস থেকে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর, এরপর বাল্টিমোর থেকে জার্মানির রামস্টেইন এয়ার বেস। সেখান থেকে আরও প্রায় ছয় ঘণ্টার বাসযাত্রা শেষে পৌঁছান নিজের নতুন ইউনিটে।

 

অচেনা জায়গা আর অচেনা মানুষ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই মনে ছিল নানা ভাবনা। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর রিসেপশনে পাওয়া আন্তরিক অভ্যর্থনা অনেকটাই স্বস্তি দেয় তাকে। সবচেয়ে বড় চমক ছিল, তার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল আলাদা একটি রুম, বাথরুম ও কিচেনসহ পুরো একটি অ্যাপার্টমেন্ট।

 

দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তির মধ্যে এই আয়োজনই যেন হয়ে ওঠে নতুন জীবনের প্রথম স্বস্তি। আগামী কয়েক বছর এই জায়গাটিই হবে পঙ্কজের ঠিকানা। অচেনা এই পরিবেশেই তৈরি হবে নতুন গল্প, নতুন অভিজ্ঞতা আর নতুন স্মৃতি।

 

তবে নতুন জীবনের শুরু হলেও নিউইয়র্ককে পেছনে ফেলে আসার অনুভূতি সহজ নয়। শহরটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার জীবনের দীর্ঘ ১৩ বছরের অসংখ্য স্মৃতি। নিউইয়র্কের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে যেমন অনেক স্বপ্ন দেখেছেন, তেমনি সেখানে পেয়েছেন আনন্দের মুহূর্ত এবং কঠিন সময় পার করার অভিজ্ঞতাও।

 

তাই নিউইয়র্ক ছেড়ে আসা তার কাছে কেবল একটি শহর ছেড়ে যাওয়া নয়। এটি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে সাময়িকভাবে পেছনে রেখে নতুন অধ্যায়ের পথে যাত্রা।

 

প্রিয় নিউইয়র্ক এখন পেছনে, সামনে জার্মানি। নতুন দেশ, নতুন ঠিকানা, নতুন মানুষ আর নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হলো পঙ্কজ তালুকদারের জীবনের আরেকটি অধ্যায়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আলিঙ্গন বদলে দিল নবজাতকদের চিকিৎসার গল্প
এক বোন মৃত্যুর মুখে, আরেক বোনের সেই আলিঙ্গন বদলে দিল নবজাতকদের চিকিৎসার গল্প

১৯৯৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের একটি হাসপাতালে সংকটাপন্ন এক প্রিম্যাচিউর শিশুকে তার যমজ বোনের সঙ্গে একই ইনকিউবেটরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নার্স গেইল কাসপারিয়ান। এরপর দুই বোনের একটি মুহূর্তের ছবি ‘দ্য রেসকিউইং হাগ’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং প্রিম্যাচিউর যমজ শিশুদের কো-বেন্ডিং নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়।    ব্রিয়েল ও কাইরি জ্যাকসন ১৯৯৫ সালের ১৭ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১২ সপ্তাহ আগে ম্যাসাচুসেটসের ওরচেস্টারের দ্য মেডিকেল সেন্টার অব সেন্ট্রাল ম্যাসাচুসেটসে জন্ম নেয়। জন্মের পর দুজনকেই আলাদা ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছিল। সে সময় সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে প্রিম্যাচিউর যমজদের আলাদা রাখাই প্রচলিত ছিল।    কাইরি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও ব্রিয়েলের অবস্থা ছিল উদ্বেগজনক। তার শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছিল এবং হৃদস্পন্দনও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছিল। ১২ নভেম্বর তার অবস্থা আরও খারাপ হলে চিকিৎসাকর্মীরা প্রচলিত বিভিন্ন পদ্ধতিতে তাকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছিল না।    এমন পরিস্থিতিতে নার্স গেইল কাসপারিয়ান ইউরোপের কিছু হাসপাতালে ব্যবহৃত একটি পদ্ধতির কথা মনে করেন। সেটি হলো কো-বেন্ডিং, অর্থাৎ যমজ শিশুদের একই ইনকিউবেটরে রাখা। যুক্তরাষ্ট্রে তখন এটি প্রচলিত পদ্ধতি ছিল না। বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে কাসপারিয়ান ব্রিয়েলকে তার যমজ বোন কাইরির ইনকিউবেটরে রাখেন।    ইনকিউবেটরের দরজা বন্ধ করার পরপরই ব্রিয়েল তার বোনের কাছে সরে যায় এবং শান্ত হতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যে তার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়তে থাকে। এরপর কাইরি তার ছোট্ট হাত দিয়ে ব্রিয়েলকে জড়িয়ে ধরে। তখন ব্রিয়েলের হৃদস্পন্দন স্থিতিশীল হয় এবং শরীরের তাপমাত্রাও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে।    সেই মুহূর্তের ছবিতে দেখা যায়, ছোট্ট কাইরির একটি হাত ব্রিয়েলের শরীরের ওপর রাখা। ছবিটি পরে ‘দ্য রেসকিউইং হাগ’ নামে পরিচিত হয়। ১৯৯৬ সালে এটি লাইফ ম্যাগাজিন ও রিডার্স ডাইজেস্টে প্রকাশিত হলে ঘটনাটি ব্যাপক পরিচিতি পায় এবং প্রিম্যাচিউর যমজ, এমনকি একাধিক শিশুর ক্ষেত্রে কো-বেন্ডিং নিয়ে হাসপাতালগুলোতে আগ্রহ বাড়ে।    পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস মেমোরিয়ালে অন্তত ১০০ সেট প্রিম্যাচিউর যমজ বা একাধিক শিশুকে কো-বেন্ডিং করার অভিজ্ঞতার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনাটিকে এককভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিবর্তনের কারণ বা একটি শিশুর জীবন বাঁচানোর নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং এটি প্রিম্যাচিউর যমজদের একসঙ্গে রাখার সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা ও চিকিৎসা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে পরিচিত হয়ে আছে।    শেষ পর্যন্ত ব্রিয়েল ও কাইরি দুজনই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরে। কয়েক বছর পরও তাদের একসঙ্গে ঘুমানোর কথা পরিবার জানিয়েছিল। দুই বোনের সেই ছোট্ট আলিঙ্গন আজও চিকিৎসা ইতিহাসের আলোচিত এক মানবিক মুহূর্ত হিসেবে স্মরণ করা হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১:৫২
১৩ বছর পর আমেরিকা ছেড়ে জার্মানির পথে ইউএস আর্মির বাংলাদেশি পঙ্কজ তালুকদার

১৩ বছর পর আমেরিকা ছেড়ে জার্মানির পথে ইউএস আর্মির বাংলাদেশি পঙ্কজ তালুকদার

ক্যালিফোর্নিয়ায় বাগান নিয়ে শহরের সঙ্গে লড়াই মাইকেলের

ঘরে খাবার ফলাতে গিয়ে জরিমানা, ক্যালিফোর্নিয়ায় বাগান নিয়ে শহরের সঙ্গে লড়াই মাইকেলের

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ৩৬ বছর বয়সী স্টেফানো ক্রেমাস্কো সিসারো। (ছবি: সংগৃহীত)

মায়ামিতে নিজের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার

৩৬ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জে একটি দল ‘ইট এন্ডস’ সিনেমাটি মোট ২৪ বার দেখেছে। ছবি: সংগৃহীত
একই সিনেমা ২৪ বার দেখলেন, ৩৬ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ শেষে পেলেন ১ হাজার ডলার

একটি সিনেমা একবার দেখেই অনেকের মনে তার গল্প, চরিত্র কিংবা দৃশ্য গেঁথে যায়। কিন্তু সেই একই সিনেমা যদি টানা ৩৬ ঘণ্টা ধরে বারবার দেখতে হয়, তাহলে কেমন হবে অভিজ্ঞতা? যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এমনই এক ব্যতিক্রমী চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে একটি দল একই সিনেমা ২৪ বার দেখেছে। শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক সদস্য পেয়েছেন ১ হাজার ৪০ ডলার।   সিনেমাটির নাম ‘ইট এন্ডস’। আলেকজান্ডার উলমের পরিচালনায় তৈরি এই ভৌতিক থ্রিলারটি কয়েকজন সদ্য কলেজ শেষ করা বন্ধুর গল্প। তারা রাতে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে একটি খাবারের দোকানে যাওয়ার পথে এমন একটি দুই লেনের সড়কে ঢুকে পড়ে, যার কোনো শেষ নেই। সামনে যতই এগোয়, পথ যেন ততই দীর্ঘ হতে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নানা রহস্যময় ও ভয়ংকর ঘটনা।   সিনেমাটির এই ‘শেষহীন’ ধারণাকেই বাস্তব জীবনের এক অদ্ভুত চ্যালেঞ্জে পরিণত করেছিল এর পরিবেশক প্রতিষ্ঠান নিয়ন। নিউইয়র্কের চেলসির মেট্রো প্রাইভেট সিনেমায় আয়োজন করা হয় ৩৬ ঘণ্টার ‘দ্য এন্ডলেস স্ক্রিনিং’ নামে একটি বিশেষ প্রদর্শনী। ২১ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা থেকে ২৩ আগস্ট সকাল ৭টা পর্যন্ত চলে এই আয়োজন। চারজনের দলগুলোকে সিনেমাটি বারবার দেখার পাশাপাশি প্রেক্ষাগৃহে অবস্থান করতে হতো।   নিয়ম ছিল, প্রতিটি অংশগ্রহণকারী যত মিনিট প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবেন, তার জন্য পাবেন ২৫ সেন্ট করে। পুরো ৩৬ ঘণ্টা শেষ করলে একজনের আয় দাঁড়ায় ৫৪০ ডলার। আর কোনো দলের চার সদস্যই যদি পুরো সময় শেষ করতে পারেন, তাহলে প্রত্যেকে আরও ৫০০ ডলার বোনাস পান। অর্থাৎ পুরো চ্যালেঞ্জ শেষ করা একজনের সর্বোচ্চ আয় ১ হাজার ৪০ ডলার। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে খাবার ও পানীয় কেনার জন্য ২৫০ ডলারের থিয়েটার ক্রেডিটও দেওয়া হয়েছিল, যদিও এতে মদ কেনার সুযোগ ছিল না।   এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ২৭ বছর বয়সী ফোলা ওলুসানিয়া জানান, দীর্ঘ সময় প্রেক্ষাগৃহে থাকার কথা মাথায় রেখে তিনি কম্বল, পানির বোতল, খাবার, কাশির লজেন্স, ব্যথানাশক ও একটি ছোট হাতপাখাসহ প্রয়োজনীয় নানা জিনিস সঙ্গে নিয়েছিলেন। তবে সিনেমা দেখার চেয়েও কঠিন হয়ে উঠেছিল ঘুমের অভাব ও দীর্ঘ সময় বসে থাকার বিষয়টি। ফোলা জানান, কয়েকবার সিনেমা দেখার পর তার তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়। তার দলের আরও দুজনেরও একই সমস্যা হয়েছিল।   ফোলার দল শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি পাঁচবার দেখতে পেরেছিল। তবে তারা পুরো ৩৬ ঘণ্টা শেষ করতে পারেনি। তার ভাষ্য, তৃতীয়বার সিনেমাটি দেখার সময়ই ক্লান্তির প্রভাব এতটা বেড়ে গিয়েছিল যে দলের সদস্যদের বলা প্রায় সব কথাই অস্বাভাবিকভাবে মজার লাগছিল। তবু অভিজ্ঞতাটি উপভোগ করেছেন তিনি। অন্যদিকে চারজনের একটি দল পুরো ৩৬ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ শেষ করে। ওই দলের সদস্য ২৪ বছর বয়সী ভেরোনিকা গিলিগান জানান, শুরুতেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে ৩৬ ঘণ্টা শেষ হওয়ার আগে কেউ বের হবেন না। শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে পেরেছেন তারা।   এই দলটি ‘ইট এন্ডস’ সিনেমাটি মোট ২৪ বার দেখেছে। ৩৬ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ শেষ করে প্রত্যেক সদস্য পেয়েছেন ১ হাজার ৪০ ডলার। নিয়নও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এতবার একই সিনেমা দেখার পর সেটি যে তাদের মাথায় গেঁথে যাবে, সেটাই স্বাভাবিক। দলের আরেক সদস্য জেক জানান, সিনেমাটির প্রায় পুরো সংলাপই তার মুখস্থ হয়ে গেছে। তিনি মজা করে বলেছেন, সিনেমাটি এখন তার অবচেতন মনেও যেন জায়গা করে নিয়েছে। দলের আরেক সদস্য ইয়াসেমিন নিজের লেটারবক্সড পর্যালোচনায় লিখেছেন, এই অভিজ্ঞতার মধ্যে তারা হেসেছেন, একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন এবং আবেগের নানা মুহূর্তের মধ্য দিয়ে গেছেন।   মজার বিষয় হলো, টানা এতবার সিনেমাটি দেখার পরও প্রত্যেকবার তাদের অভিজ্ঞতা একরকম ছিল না। ফোলা জানান, প্রথমবার সিনেমাটির গল্প ও ঘটনার আকস্মিকতায় যে ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল, পরেরবারগুলোতে তা বদলে যায়। কারণ কোন দৃশ্যে কী ঘটবে, সেটি তিনি আগেই জানতেন। তবে এর ফলে সিনেমার অন্য দিকগুলো খেয়াল করার সুযোগ তৈরি হয়। সম্পাদনা, দৃশ্যধারণের কৌশল, চরিত্রের নির্মাণ এবং গল্পের বিভিন্ন স্তর নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করতে করতে সিনেমাটিকে ভিন্নভাবে দেখতে শুরু করেন তিনি।   একপর্যায়ে সিনেমাটি শুধু দেখার বিষয় থাকেনি, বরং দলের সদস্যদের যৌথ অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে উঠেছিল। ভেরোনিকা জানান, ৩৬ ঘণ্টা শেষে সিনেমাটির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ মনে হচ্ছিল। তারা সিনেমার বিভিন্ন সংলাপ মুখস্থ করে ফেলেছিলেন এবং গল্পের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে নিজেদের মধ্যে নানা রসিকতাও তৈরি করেছিলেন। পুরো আয়োজনের একটি বড় অংশ ছিল বন্ধুত্ব। ভেরোনিকার ভাষায়, দলের সদস্যরা আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। ফলে টানা দুই দিন প্রেক্ষাগৃহে থাকা তাদের কাছে শুধু সিনেমা দেখার চ্যালেঞ্জ ছিল না, বরং একসঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগও ছিল।   নিয়নের এই আয়োজন মূলত ‘ইট এন্ডস’ সিনেমার প্রচারণার অংশ। তবে সিনেমার গল্পের সঙ্গে আয়োজনটির একটি মজার মিলও রয়েছে। সিনেমায় কয়েকজন বন্ধু এমন এক অন্তহীন পথে আটকা পড়ে, যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো সহজ উপায় নেই। বাস্তবে দর্শকদেরও প্রায় একই ধরনের একটি পরিস্থিতির মধ্যে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, যদিও এখানে পথের বদলে ছিল প্রেক্ষাগৃহ আর ভয়ের বদলে ছিল দীর্ঘ সময় সিনেমা দেখার পরীক্ষা। ‘ইট এন্ডস’ আলেকজান্ডার উলমের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। সিনেমাটি ২১ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এবং নিয়ন এটি পরিবেশনা করছে। নিউইয়র্কের আইএফসি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটির দৈর্ঘ্য ৮৭ মিনিট।   সিনেমাটি তরুণ নির্মাতাদের তৈরি নতুন ধারার ভৌতিক চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনার মধ্যেও জায়গা করে নিয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র প্রায় ৮০ হাজার ডলারের বাজেটে তৈরি সিনেমাটি সীমিত পরিসরে মুক্তির পরও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। ৩৬ ঘণ্টার সেই অদ্ভুত সিনেমা-চ্যালেঞ্জ শেষ হওয়ার পর ভেরোনিকার দলের সদস্যরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু অভিজ্ঞতাটি আবার করতে বলা হলে তিনি রাজি হবেন বলেই জানিয়েছেন। আর ২৪ বার দেখার পর সিনেমাটির সংলাপ যখন প্রায় মুখস্থ, তখন ‘ইট এন্ডস’ তাদের জন্য শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং জীবনের এক অদ্ভুত ৩৬ ঘণ্টার স্মৃতি হয়ে গেছে।   তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ২৩:২৬
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে রাজ্য সরকার। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের জন্য কোটি টাকার শিক্ষা সহায়তা, ক্ষুব্ধ স্থানীয় শিক্ষার্থীরা

নিউইয়র্কের নোবি সুশি রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে বিল না দিয়েই চলে যান এক গ্রাহক। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে রেস্তোরাঁ কর্মীদের বিরুদ্ধে অপমানের অভিযোগ, বিল না দিয়েই চলে গেলেন ট্রান্সজেন্ডার গ্রাহক

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিজের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করায় সমালোচনার মুখে পড়েন সাংবাদিক রুলা জেব্রিয়াল। ছবি: সংগৃহীত

হাকিম জেফরিসকে ‘বানর’ বলায় সমালোচনার মুখে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক রুলা জিবরিয়েল

হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই গাড়ির ভেতর জন্ম নিল ফুটফুটে কন্যাসন্তান। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে গাড়িতেই কন্যাসন্তান প্রসব, বাবার সহায়তায় রক্ষা পেলেন মা-সন্তান

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে গাড়ির সামনের সিটেই কন্যাসন্তান প্রসব করেছেন এক নারী। পরিস্থিতি সামলাতে প্রথমবার বাবা হতে যাওয়া ইয়াসের সোলোরজানো নিজেই প্রসবে সহায়তা করেন।   বৃহস্পতিবার রাতে ইয়াসের সোলোরজানো ও তাঁর সঙ্গী আয়শা তেনোরি হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথে আয়শার প্রসববেদনা দ্রুত বেড়ে গেলে তিনি বুঝতে পারেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর মতো সময় আর নেই। মাত্র কয়েক মিনিটের পথ যাওয়ার পরই তিনি গাড়ি থামাতে বলেন।   সোলোরজানো দ্রুত ফ্লোরিডার ব্র্যান্ডনের একটি ভ্যালু পন অ্যান্ড জুয়েলারি দোকানের পার্কিং লটে গাড়ি থামিয়ে ৯১১-এ ফোন করেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, শিশুটি উল্টো অবস্থানে বা ব্রিচ পজিশনে আছে। এরপর গাড়ির সামনের সিটেই নিজের কন্যাসন্তানকে প্রসব করাতে সহায়তা করেন তিনি।   প্রায় ছয় মিনিট পর জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে মা ও নবজাতককে অ্যাম্বুলেন্সে করে এইচসিএ ফ্লোরিডা ব্র্যান্ডন হাসপাতালে নেওয়া হয়। শিশুটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার সপ্তাহ আগেই জন্ম নেয়।   পরিবার পরে মেয়ের নাম রাখে লিয়ানা ভ্যালেনটিনা সোলোরজানো। জন্মের সময় তার ওজন ছিল ৪ পাউন্ড ১০ আউন্স। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকলেও তাকে এনআইসিইউতে নিতে হয়নি। মা ও মেয়ে দুজনই সুস্থ আছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।   প্রথমবার বাবা হওয়ার এই অভিজ্ঞতাকে সোলোরজানো জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন। হাসপাতাল থেকে শনিবার মা ও মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার আশা করছে পরিবার।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ২০:৪৬
ক্যালিফোর্নিয়ায় দয়া দেখিয়ে ঘরে আশ্রয়, সেই বৃদ্ধাকেই বেসবল ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে সর্বস্ব লুট

ক্যালিফোর্নিয়ায় দয়া দেখিয়ে ঘরে আশ্রয়, সেই বৃদ্ধাকেই বেসবল ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে সর্বস্ব লুট

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন

লস অ্যাঞ্জেলেসে বেপরোয়া স্ট্রিট রেসিংয়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, জব্দ শতাধিক গাড়ি

লস অ্যাঞ্জেলেসে বেপরোয়া স্ট্রিট রেসিংয়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, জব্দ শতাধিক গাড়ি

0 Comments