সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনায় স্বামীকে ‘লটারি কেনা বোকামি’ প্রমাণ করতে গিয়ে ১০ লাখ ডলার জিতলেন স্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনায় স্বামীকে ‘লটারি কেনা বোকামি’ প্রমাণ করতে গিয়ে ১০ লাখ ডলার জিতলেন স্ত্রী

  যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার বাসিন্দা গ্লেন্ডা ব্ল্যাকওয়েল। ২০১৬ সালে তার স্বামী তাকে দুটি 'পাওয়ারবল' লটারির টিকিট কিনে আনতে বললে তিনি বেশ বিরক্ত হয়েছিলেন।   লটারির পেছনে টাকা খরচ করা যে স্রেফ বোকামি এবং এতে সাধারণত কোনো লাভ হয় না, সেটি স্বামীকে হাতে-কলমে প্রমাণ করে দেখাতে চেয়েছিলেন তিনি।   তাই স্বামীর কথামতো পাওয়ারবল লটারি না কিনে তিনি ১০ ডলার দিয়ে একটি স্ক্র্যাচ-অফ টিকিট কেনেন।   তবে গ্লেন্ডার এই পরিকল্পনাটি এমনভাবে ভেস্তে যাবে, তা হয়তো তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি। স্বামীকে শিক্ষা দিতে কেনা ওই ১০ ডলারের টিকিটেই তিনি জিতে নেন ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বিশাল পুরস্কার!   পুরস্কার জেতার পর পুরো অর্থ এককালীন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন গ্লেন্ডা। কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্যের যাবতীয় কর পরিশোধের পর তার হাতে আসে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৫০৩ ডলার।   স্বামীকে অর্থ অপচয়ের পাঠ শেখাতে গিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে তিনি নিজেই লটারির টিকিট কেনার সবচেয়ে বড় এবং সফল উদাহারণ হয়ে ওঠেন। মজার এই ঘটনাটি সেসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৭:১৯
ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা
ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার বোর্ড অব গভর্নরসের এক ভোটাভুটিতে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।   নতুন এই নীতি অনুযায়ী, যেসব স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সব যোগ্য আবেদনকারীকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনিভাবে অবস্থানরত কোনো শিক্ষার্থী নতুন করে ভর্তি হতে পারবেন না। আগামী ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিতর্কিত এই নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে।   এর কয়েক মাস আগেই ফ্লোরিডার বোর্ড অব এডুকেশন রাজ্যের সরকারি কলেজ এবং বয়স্ক শিক্ষাকার্যক্রমেও অবৈধ অভিবাসীদের ভর্তিতে অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। নতুন এই নিয়মের মধ্য দিয়ে আলাবামা, জর্জিয়া ও সাউথ ক্যারোলাইনার পর চতুর্থ অঙ্গরাজ্য হিসেবে ফ্লোরিডা তাদের উচ্চশিক্ষায় অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করল।   ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। এক পোস্টে তিনি জানান, তাদের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বহিরাগতদের বদলে ফ্লোরিডাবাসী তথা আমেরিকানদেরই সবসময় অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।   তবে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ‘ইউনাইটেড ফ্যাকাল্টি অব ফ্লোরিডা’ এবং ‘ফ্লোরিডা এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন’। ইউনাইটেড ফ্যাকাল্টি অব ফ্লোরিডার প্রেসিডেন্ট রবার্ট ক্যাসানেলো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সবার জন্য উচ্চশিক্ষার সুরক্ষায় বোর্ড অব গভর্নরসের যে দায়িত্ব ছিল, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা তা হারিয়েছে।   রাজ্যের ভবিষ্যৎ কর্মী ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার পরিবর্তে এই নিয়ম বরং উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করবে এবং সম্ভাবনার দরজাগুলো বন্ধ করে দেবে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন ফ্লোরিডায় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং দক্ষ শ্রমিকের তীব্র সংকট চলছে, তখন এই ধরনের সিদ্ধান্ত রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের জন্য চরম ধ্বংসাত্মক হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৬:৫২
মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ৭১ বছরের বৃদ্ধা, পুলিশ স্টেশনে গুলি চালিয়ে পুলিশের পাল্টা গুলিতে নিহত
মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ৭১ বছরের বৃদ্ধা, পুলিশ স্টেশনে গুলি চালিয়ে পুলিশের পাল্টা গুলিতে নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের পোর্ট অরেঞ্জ পুলিশ ডিপার্টমেন্টের লবিতে ঢুকে গুলি চালানোর পর পুলিশের পাল্টা গুলিতে ৭১ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন।   বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও নিহতের পরিবার সংবাদমাধ্যম ডব্লিউইএসএইচ ২-কে নিশ্চিত করেছে। নিহত ওই নারীর নাম লিন্ডা জিন ক্রোটো।   পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।   পোর্ট অরেঞ্জ পুলিশের প্রধান ম্যানুয়েল মারিনো জানান, সকাল ৮টার দিকে লিন্ডা হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুলিশ স্টেশনের লবিতে প্রবেশ করেন।   সেখানে উপস্থিত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি অস্ত্র বের করে কর্মীদের লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালান। এরপর তিনি লবি থেকে বেরিয়ে এলে বাইরে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হন।   পুলিশ প্রধানের ভাষ্যমতে, কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হওয়ার সময়ও লিন্ডার হাতে অস্ত্র ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। তবে এই ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য হতাহত হননি।   ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কালেব লেমনস রাস্তার উল্টো পাশ থেকে পুরো বিষয়টি দেখেছেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, ওই নারী লবি থেকে বের হওয়ার সময় একেবারে জম্বির মতো হাঁটছিলেন।   লেমনসের দাবি, পার্কিং লটে আসার পর ওই নারী তার অস্ত্রটি ফেলে দেন এবং রাস্তার পাশে বসে মাথায় হাত দিয়ে আত্মসমর্পণের ভঙ্গি করেন। এরপরই সেখানে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শোনা যায়।   তবে প্রত্যক্ষদর্শীর এই দাবি অস্বীকার করেছে পুলিশ। নিহতের সৎ ছেলে জানিয়েছেন, লিন্ডা সম্প্রতি তার স্বামীকে হারিয়েছেন এবং এরপর থেকেই তিনি মানসিকভাবে বেশ বিপর্যস্ত সময় পার করছিলেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল এনফোর্সমেন্ট (এফডিএলই)।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৬:৩৪
ডালাস-নিউয়ার্কগামী বিমানে যাত্রীর মাতলামি, সিটের সঙ্গে ডাক্ট টেপে বেঁধে জরুরি অবতরণ
ডালাস-নিউয়ার্কগামী বিমানে যাত্রীর মাতলামি, সিটের সঙ্গে ডাক্ট টেপে বেঁধে জরুরি অবতরণ

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস থেকে নিউয়ার্কগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এক উচ্ছৃঙ্খল যাত্রীকে ডাক্ট টেপ দিয়ে সিটের সাথে বেঁধে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাল্টিমোরে বিমানটির অপ্রত্যাশিত ও জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হন পাইলট। শুক্রবার এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম টিএমজেড-এর প্রকাশিত ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ওই যাত্রী মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং হঠাৎ করেই তার পাশের সিটের যাত্রীর ওপর চিৎকার করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট এগিয়ে এলে ওই যাত্রী তাকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী ও সমকামিতাবিদ্বেষী কটূক্তি করেন।   একপর্যায়ে তিনি সহিংস হয়ে উঠলে বিমানের ক্রু এবং অন্য যাত্রীরা মিলে তাকে ডাক্ট টেপ দিয়ে সিটের সাথে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন। ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, ফার্স্ট ক্লাসের সিটে বসা ওই ব্যক্তির কবজি, শরীর ও মাথা ডাক্ট টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে।   বাল্টিমোরে বিমানটি অবতরণের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই ব্যক্তিকে আটক করে বিমান থেকে নামিয়ে নেয়। এরপর ফ্লাইটটি পুনরায় নিউয়ার্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।   এক বিবৃতিতে আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, গ্রাহক ও কর্মীদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং কোনো ধরনের সহিংসতা তারা বরদাস্ত করবে না। পেশাদারিত্বের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কর্মীদের ধন্যবাদও জানিয়েছে সংস্থাটি।   অন্যদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিযুক্ত যাত্রী বর্তমানে স্টেট পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।   তার বিরুদ্ধে ফেডারেল চার্জ গঠন করা হবে কি না, তা নির্ধারণে ম্যারিল্যান্ড জেলার ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সাথে আলোচনা করে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম বা পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৬:৬
ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে মুসলিমদের হত্যার হুমকি, অ স্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ
ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে মুসলিমদের হত্যার হুমকি, অ স্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি মসজিদে চিঠি পাঠিয়ে মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যার হুমকির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লুই হোয়াইট (৬০) নামের ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে সিরিয়াল নম্বরবিহীন একটি এআর-১৫ স্টাইলের রাইফেলসহ বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ফেডারেল আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট রিভারসাইড কাউন্টির ‘ইসলামিক সেন্টার অফ টেমিকুলা ভ্যালি’ নামের একটি মসজিদে হুমকিসংবলিত চিঠিটি আসে। চিঠিতে লেখা ছিল, "তোমাদের প্রত্যেককে হত্যা করার দিনটির জন্য আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না!" বার্তার ঠিক নিচে ক্রসহেয়ার বা বন্দুকের টার্গেটের আদলে একটি নকশা আঁকা ছিল।   সেই টার্গেটের ভেতরে চোখ কাটা ও টুপি পরা এক দাড়িওয়ালা ব্যক্তির ছবি এবং আল্লাহকে নিয়ে একটি আপত্তিকর মন্তব্য লেখা ছিল। চিঠিটি পাওয়ার পরই মসজিদ কর্তৃপক্ষ দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানায়।   তদন্তে নেমে পুলিশ চিঠিটির সূত্র ধরে সান দিয়েগো কাউন্টির ওয়ার্নার স্প্রিংসের বাসিন্দা লুই হোয়াইটের সন্ধান পায়। গত ২৯ আগস্ট তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিরিয়াল নম্বরবিহীন ওই এআর-১৫ স্টাইলের শর্ট-ব্যারেল রাইফেলটি উদ্ধার করা হয়, যা সাধারণত ‘গোস্ট গান’ নামে পরিচিত।   বর্তমানে লুই হোয়াইট রিভারসাইড কাউন্টির একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাকে ফেডারেল হেফাজতে স্থানান্তর করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাগারে সাজা হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৫:৪৯
ম্যাসাচুসেটসে তিন সন্তান হত্যার দায়ে অভিযুক্ত মার্কিন মায়ের মামলায় মিসট্রায়াল ঘোষণা
ম্যাসাচুসেটসে তিন সন্তান হত্যার দায়ে অভিযুক্ত মার্কিন মায়ের মামলায় মিসট্রায়াল ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে নিজের তিন শিশু সন্তানকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বহুল আলোচিত বিচারকাজ স্থগিত (মিসট্রায়াল) ঘোষণা করা হয়েছে। টানা সাত দিনের দীর্ঘ আলোচনা শেষে জুরি বোর্ড আসামির অপরাধমূলক দায়বদ্ধতার বিষয়ে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় গত শুক্রবার বিচারক এই নির্দেশ দেন।   এই আদেশের ফলে মামলাটি এখন অমীমাংসিত রয়ে গেল। তবে প্রসিকিউটররা চাইলে ৩৬ বছর বয়সী সাবেক এই নার্সের বিরুদ্ধে পুনরায় বিচারকাজ শুরু করতে পারবেন।   ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবারিতে লিন্ডসে ক্ল্যান্সি তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে কোরা, তিন বছরের ছেলে ডসন এবং আট মাস বয়সী শিশু ক্যালানকে এক্সারসাইজ ব্যান্ড দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর তিনি দোতলার জানালা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, যার ফলে তিনি বর্তমানে কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত পক্ষাঘাতগ্রস্ত।   প্রসিকিউটরদের দাবি, লিন্ডসে পুরোপুরি সজ্ঞানে এবং পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ঘটনার দিন স্বামী প্যাট্রিক ক্ল্যান্সিকে ওষুধ ও রাতের খাবার আনার কথা বলে সুকৌশলে বাড়ির বাইরে পাঠিয়েছিলেন তিনি।   অন্যদিকে, লিন্ডসের আইনজীবী কেভিন রেডিংটন হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অস্বীকার না করলেও দাবি করেন যে, তার মক্কেল সেই সময় 'পোস্টপার্টাম সাইকোসিস' নামক এক বিরল মানসিক রোগে ভুগছিলেন। সন্তান জন্মের পর অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব এবং হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে এই চরম মানসিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়।   বিচার চলাকালীন ২১ দিনের সাক্ষ্যগ্রহণে উঠে আসে, কীভাবে ছোট সন্তান ক্যালানের জন্মের পর লিন্ডসের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছিল। তিনি বিভিন্ন সাইক্রিয়াট্রিক ওষুধ সেবন করছিলেন এবং জানুয়ারির শুরুতে একটি মানসিক হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছিলেন।   বিচারকাজটি শেষ পর্যায়ে এসে মূলত চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের যুক্তিতর্কে পরিণত হয়। প্রসিকিউশনের এক বিশেষজ্ঞ দাবি করেন, লিন্ডসে তীব্র সাইকোসিসে ভুগছিলেন না; বরং আত্মহত্যার পর সন্তানরা যেন কষ্ট না পায়, সেই ভাবনা থেকেই তিনি তাদের হত্যা করেছিলেন।   বিপরীত দিকে, আত্মপক্ষ সমর্থনের চিকিৎসকদের মতে, লিন্ডসে সেসময় পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না।   মর্মান্তিক এই ঘটনার পর লিন্ডসের সাবেক স্বামী প্যাট্রিক জানিয়েছিলেন, তিনি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন মানসিক অসুস্থতার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। মামলাটির ভবিষ্যৎ এখন প্রসিকিউটরদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৫:২
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫ আসনের গাড়িতে ৬ যাত্রী, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৪ জনের মৃত্যু
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫ আসনের গাড়িতে ৬ যাত্রী, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৪ জনের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রাইটউড এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে হাইওয়ে ২ বা অ্যাঞ্জেলেস ক্রেস্ট হাইওয়েতে ফ্লুম ক্যানিয়ন ড্রাইভের কাছে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।   জানা গেছে, পাঁচ আসনের হুন্দাই ভেলোস্টার মডেলের ওই হ্যাচব্যাক গাড়িটিতে মোট ছয়জন যাত্রী গাদাগাদি করে বসেছিলেন।   অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি ইউটিলিটি পোলে সজোরে ধাক্কা খায় এবং পাহাড়ের খাদে একটি তৃণভূমিতে গিয়ে পড়ে।   ভয়াবহ এই সংঘর্ষের ফলে গাড়িতে থাকা পাঁচজন যাত্রী বাইরে ছিটকে পড়েন, যাদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া অপর দুই যাত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে অন্তত একজন সিটবেল্ট পরা অবস্থায় ছিলেন।   উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচে পড়ার পর গাড়িটি পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে যায়। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল (সিএইচপি) বর্তমানে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:৪৫
অভিবাসী তাড়াতে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে বর্ণবাদী ভিডিও গেম
অভিবাসী তাড়াতে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে বর্ণবাদী ভিডিও গেম, তীব্র সমালোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বিতর্কিত কিছু ভিডিও গেম উন্মুক্ত করেছে, যার মূল উদ্দেশ্য অভিবাসী বিতাড়ন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক নীতিগুলোর প্রচার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ক্যান্ট স্টপ উইনিং’ স্লোগান দিয়ে এই আর্কেড গেমগুলোর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।   পরিচিত পুরোনো কিছু গেমের আদলে তৈরি এই গেমগুলোতে অভিবাসীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে রীতিমতো সমালোচনার ঝড় বইছে।   হোয়াইট হাউসের এই আর্কেডে মোট পাঁচটি গেম রয়েছে। এর মধ্যে 'বিল্ড দ্য ওয়াল' গেমটি তৈরি হয়েছে নব্বই দশকের জনপ্রিয় গেম টেট্রিসের অনুকরণে। এখানে খেলোয়াড়দের ব্লক সাজিয়ে দেয়াল তৈরির মাধ্যমে দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে আসা অভিবাসীদের আটকাতে হয়। গেমটিতে অভিবাসীদের 'আক্রমণকারী দল' বা 'হোর্ড' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।   অন্যদিকে 'রিও রান' নামের গেমটি স্নেক গেমের আদলে তৈরি, যেখানে খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রের 'বর্ডার সিজার' টম হোম্যানের চরিত্রে অভিনয় করেন। এখানে রিও গ্র্যান্ডে নদীর পাড় ধরে ছুটে চলা ভিন্ন বর্ণের অভিবাসীদের বন্দি করে নির্বাসন বা ডিপোর্টেশন পয়েন্ট বাড়ানোই মূল লক্ষ্য।   অভিবাসন ছাড়াও রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের 'মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন' উদ্যোগের অধীনে স্কুলের খাবার বাছাই করা এবং শিশুদের জন্য 'ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট' ভরার মতো বিষয়গুলো নিয়েও গেম রয়েছে এই তালিকায়। গেমগুলোর চরম অমানবিক উপস্থাপনার কারণে মানবাধিকার কর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।   এমনকি টেট্রিস কোম্পানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মানুষকে বিভক্ত করার বদলে একত্র করায় বিশ্বাসী এবং বিনা অনুমতিতে কপিরাইট লঙ্ঘনের বিষয়টি তারা গুরুত্বের সাথে দেখছে। একসময় ভিডিও গেমের সহিংসতা নিয়ে সরব থাকা প্রশাসন এখন নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে গেমকে বর্ণবাদ ও বিদ্বেষ ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:১৭
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ছাত্রীদের লকার রুমে গোপন ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রিন্সিপাল
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ছাত্রীদের লকার রুমে গোপন ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রিন্সিপাল

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ছাত্রীদের লকার রুমে গোপন ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে একটি হাই স্কুলের প্রিন্সিপালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরিক জেমস নামের ওই ব্যক্তি ব্রুক হাই স্কুলের প্রিন্সিপালের দায়িত্বে ছিলেন। খোদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের এমন ন্যক্কারজনক কাণ্ডে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।     ব্রুক কাউন্টির শেরিফ রিচার্ড বিটি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনার বিস্তারিত জানান। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, স্কুলের মেয়েদের শারীরিক শিক্ষা (পিই) লকার রুম এবং ড্যান্স টিমের সদস্যদের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে এই গোপন ক্যামেরাগুলো পাওয়া যায়।   এরপরই প্রিন্সিপাল এরিক জেমসকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে ইলেকট্রনিক যোগাযোগে আড়িপাতা এবং অননুমোদিত স্থানে বেআইনিভাবে প্রবেশের দুটিসহ মোট তিনটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   কর্তৃপক্ষের মতে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর পরই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে জরুরি বৈঠক করেছে পুলিশ। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল এরিক জেমসকে নর্দান রিজিওনাল জেলে পাঠানো হয়েছে এবং আদালত তার জামিন বন্ড এক লাখ ডলার নির্ধারণ করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
জন্মদিনে ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছেলেকে দেখতে ৩২০ মাইল পথ পাড়ি, তবু জড়িয়ে ধরতে পারলেন না মা
জন্মদিনে ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছেলেকে দেখতে ৩২০ মাইল পথ পাড়ি, তবু জড়িয়ে ধরতে পারলেন না মা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে বড় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) ডিটেনশন সেন্টারে বন্দিদের সাথে স্বজনদের আলিঙ্গন বা শারীরিক স্পর্শ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের উত্তরে অবস্থিত প্রায় ১,৬০০ বন্দি ধারণক্ষমতার 'ক্যালিফোর্নিয়া সিটি' নামের এই বন্দিশালায় গত এক বছর ধরে 'কন্টাক্ট ভিজিট' বা সরাসরি সাক্ষাতের এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।   কোরসিভিক নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত এই কারাগারে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পরিবারের সদস্যরা কাঁচের দেয়ালের ওপাশ থেকে শুধু ফোনেই কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রিয়জনকে একটু ছুঁয়ে দেখার বা সান্ত্বনা দেওয়ার কোনো সুযোগ তাদের দেওয়া হচ্ছে না।   এই অমানবিক নিয়মের কারণে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বন্দি ও তাদের স্বজনরা। তেরেসা রেয়েস নামের এক মা ৩২০ মাইল পাড়ি দিয়ে ছেলের ৩২তম জন্মদিনে দেখা করতে এলেও তাকে একটু জড়িয়ে ধরতে বা কোনো উপহার দিতে পারেননি। অন্যদিকে, অ্যালেন টেসন নামের এক ফিলিপিনো-বংশোদ্ভূত বন্দি গত ফেব্রুয়ারি থেকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন।   তার স্ত্রী সামান্থা সানচেজ বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অথচ কাঁচের দেয়ালের কারণে স্বামীর একটু স্পর্শ বা মানসিক সমর্থন থেকে তিনি পুরোপুরি বঞ্চিত। সামান্থা ও তার সন্তানেরা এখন ব্যয়বহুল ভিডিও কলের ওপর নির্ভরশীল, যা তাদের আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।   মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কন্টাক্ট ভিজিট নিষিদ্ধ করা যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি বন্দিশালার জন্যই একটি চরম ও বিরল সিদ্ধান্ত। তারা অভিযোগ করছেন, বন্দিদের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করে দ্রুত ডিপোর্টেশন বা দেশে ফেরতের আদেশে বাধ্য করতেই এমন কারাগার-সদৃশ অমানবিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।   সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস-এর অডিটে উঠে এসেছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা খোদ কোরসিভিকের নিজস্ব নীতির পরিপন্থী, যেখানে স্পষ্ট বলা আছে নিরাপত্তার ঝুঁকি না থাকলে শারীরিক স্পর্শের সুযোগ দেওয়া উচিত। কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত জায়গার অভাব ও মাদক পাচারের আশঙ্কার কথা বললেও, দর্শনার্থী কক্ষে টেবিল ও পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে।   অমানবিক এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে এবার রুখে দাঁড়িয়েছেন বন্দি ও তাদের পরিবার। 'হাগস বিয়ন্ড বারস' (Hugs Beyond Bars) নামক একটি প্রচারণার মাধ্যমে তারা একজোট হয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া কোলাবোরেটিভ ফর ইমিগ্রান্ট জাস্টিস (CCIJ)-এর মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সহায়তায় তারা সরাসরি কারারক্ষী বা ওয়ার্ডেনের কাছে চিঠি দিচ্ছেন এবং কংগ্রেসে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছেন।   নিরাপত্তার খোঁড়া যুক্তিতে কর্তৃপক্ষ এই নিয়ম বহাল রাখলেও, স্বজনদের একটাই দাবি— দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর শেষে প্রিয়জনকে অন্তত একবার আলিঙ্গন করার মানবিক অধিকারটুকু তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৩:৪৩
নেপালে কৈলাস তীর্থযাত্রায় গিয়ে ভূমিধসে নি হত টেক্সাসের ভারতীয়-আমেরিকান দম্পতি
নেপালে কৈলাস তীর্থযাত্রায় গিয়ে ভূমিধসে নি হত টেক্সাসের ভারতীয়-আমেরিকান দম্পতি

পুণ্যভূমি কৈলাসে তীর্থযাত্রায় গিয়ে নেপালে এক ভয়াবহ ভূমিধসের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন টেক্সাস প্রবাসী এক ভারতীয়-আমেরিকান দম্পতি। নিহতদের নাম দীপক আহুজা এবং মধু আহুজা।   একটি সংঘবদ্ধ তীর্থযাত্রী দলের অংশ হিসেবে তারা টেক্সাস থেকে নেপালে গিয়েছিলেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তাদের বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী এবং কমিউনিটির সদস্যদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   ড. কুশল সাংভি নামের এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে এই দম্পতির মৃত্যুর খবরটি শেয়ার করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েকদিন ধরে পরিবার তাদের সন্ধান পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তাদের মৃত্যুর হৃদয়বিদারক খবরটিই নিশ্চিত হয়।   সংবাদমাধ্যম ও মার্কেটিং কমিউনিটির পরিচিত মুখ দীপক ও মধুর এই অকাল প্রয়াণকে পরিবার, বন্ধু এবং সহকর্মীদের জন্য এক 'অপূরণীয় ক্ষতি' বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এই ট্র্যাজেডিকে জীবনের ক্ষণস্থায়ী রূপের একটি বেদনাদায়ক অনুস্মারক হিসেবে অভিহিত করে সাংভি লেখেন, "জীবন সত্যিই খুব ছোট।"   টেক্সাসের ডালাস-ভিত্তিক দক্ষিণ এশীয় রেডিও স্টেশন 'রেডিও রংরেজ ৯৪.১ এফএম এইচডি৩'-এর সঙ্গেও এই দম্পতির নিবিড় যোগাযোগ ছিল। রেডিও স্টেশনটি তাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।   এক বিবৃতিতে তারা জানায়, দীপক ও মধুর আন্তরিকতা এবং অমায়িক ব্যবহার বহু মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল। কমিউনিটিতে তাদের ইতিবাচক প্রভাব এবং তৈরি করা সুন্দর সম্পর্কগুলোর জন্যই মানুষ তাদের চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৩:৩৪
দ্য হার্ভার্ড শপের সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থী আসিফ মুকতাদির।
হার্ভার্ডের হুডির দাম দেখে নতুন শিক্ষার্থীর চোখ কপালে, ‘একটাতেই সারা বছরের কাপড়ের বাজেট!’

ক্যামব্রিজ, ম্যাসাচুসেটস: হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হওয়ার পর নিজের প্রথম দিকের অভিজ্ঞতা ফেসবুকে শেয়ার করেছেন বাফেলো, নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আসিফ মুকতাদির। হার্ভার্ডের অফিসিয়াল শপে গিয়ে নিজের জন্য হুডি ও টি-শার্ট কিনতে গিয়ে দাম দেখে তাঁর যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটিই মজার ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন তিনি।   আসিফ মুকতাদির একজন হেলথকেয়ার প্রফেশনাল ও লেখক। তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, তিনি হার্ভার্ডে মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথ (এমপিএইচ) পড়ছেন। পাশাপাশি তিনি দুইটি বইয়ের লেখক এবং বাফেলো, নিউইয়র্কে বসবাস করেন।   ফেসবুকে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে আসিফ মুকতাদির লেখেন, “আমি সাধারণত ব্র্যান্ডেড কাপড়চোপড় কিনি না। আমার কাছে মনে হয়, কাপড় ভালো হলেই হলো। শুধু ব্র্যান্ডের নামের জন্য এত টাকা খরচ করার কোনো মানে নেই। তারচেয়ে এই টাকা জমিয়ে ট্যুর দেওয়া ভালো।”   তবে হার্ভার্ডে নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হওয়ার পর সেই ভাবনায় কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটেছে বলে জানান তিনি। নিজের অনুভূতি তুলে ধরে আসিফ আরও লেখেন, “কিন্তু হার্ভার্ডে পড়ার এক্সাইটমেন্ট বলে কথা! ভাবলাম, হার্ভার্ডের অফিসিয়াল শপ থেকে নিজের জন্য কয়েকটা হুডি আর টি-শার্ট কিনি।”   দোকানে গিয়ে পোশাক পছন্দ করা পর্যন্ত সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু প্রাইস ট্যাগ দেখার পরই আসে চমক। আসিফ লেখেন, “দোকানে ঢুকে কাপড় পছন্দ করা পর্যন্ত সবকিছু ঠিকই ছিল, কিন্তু প্রাইস ট্যাগ দেখার পর মনে হলো, একটা হুডির দামই বোধ হয় আমার সারা বছরের কাপড়ের বাজেটের সমান!”   হার্ভার্ডের হুডি ও টি-শার্টের দাম দেখে এই অভিজ্ঞতা তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের স্মৃতিতে। আসিফ আরও লেখেন, “বাংলাদেশে ভার্সিটিতে টি-শার্টের ডিজাইন করে চাঁদা তুলে তারপর ডিপার্টমেন্টের হুডি কেনার কথা মনে পড়ল। শীতের সময় প্রায় সব ডিপার্টমেন্টের নতুন হুডি।”   বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভাগ, ব্যাচ কিংবা বিভিন্ন সংগঠনের নিজস্ব নকশার টি-শার্ট ও হুডি তৈরি করা পরিচিত একটি ক্যাম্পাস সংস্কৃতি। বন্ধুদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে শীতের মৌসুমে একই ডিজাইনের হুডি পরার স্মৃতিও অনেক শিক্ষার্থীর কাছে বিশেষ হয়ে থাকে।   হার্ভার্ডের ক্ষেত্রে অবশ্য এই পোশাকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য। ১৬৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হার্ভার্ড যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ম্যাসাচুসেটসের ক্যামব্রিজে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় চার শতাব্দী ধরে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।   হার্ভার্ডের নাম ও প্রতীকযুক্ত পোশাক তাই অনেক শিক্ষার্থীর কাছে শুধু সাধারণ কাপড় নয়। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিজের পরিচয় এবং শিক্ষাজীবনের স্মৃতি বহন করার একটি মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে।   তবে ‘দ্য হার্ভার্ড শপ’-এর বিশেষত্ব শুধু হার্ভার্ডের নাম ও প্রতীকযুক্ত পণ্য বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি শিক্ষার্থীদের পরিচালিত একটি ব্যবসা। দোকানটির তথ্য অনুযায়ী, এর কার্যক্রমের সঙ্গে হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীরা সরাসরি যুক্ত থাকেন এবং ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের মজুরি, আর্থিক সহায়তা ও পরিচালন ব্যয়ে ব্যবহার করা হয়।   হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য দোকানটিতে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। হার্ভার্ডের ইমেইল ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীরা কেনাকাটায় ২৫ শতাংশ ছাড় পান।   বাফেলোতে বসবাসকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আসিফ মুকতাদিরের কাছে তাই হার্ভার্ডের হুডি কেনার অভিজ্ঞতাটি শুধু দামের চমক নয়, বরং নতুন বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের একটি স্মরণীয় মুহূর্তও। বাংলাদেশের ক্যাম্পাসজীবনের হুডির স্মৃতির সঙ্গে হার্ভার্ডের হুডির দামের তুলনা করে করা তাঁর ফেসবুক পোস্টে সেই অভিজ্ঞতাই উঠে এসেছে।   একদিকে বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে শিক্ষাজীবন শুরুর আনন্দ, অন্যদিকে পছন্দের একটি হুডির প্রাইস ট্যাগ দেখে বাজেটের হিসাব। আসিফ মুকতাদিরের সেই অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে হার্ভার্ডের নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর ক্যাম্পাসজীবনের একটি মজার স্মৃতি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৩:৯
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ৯ মাস গর্ভে সন্তান, অথচ টেরই পাননি ২১ বছরের কলেজছাত্রী; হঠাৎ কন্যাসন্তানের জন্ম
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ৯ মাস গর্ভে সন্তান, অথচ টেরই পাননি ২১ বছরের কলেজছাত্রী; হঠাৎ কন্যাসন্তানের জন্ম

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক অবিশ্বাস্য ঘটনার জন্ম দিয়েছেন ২১ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রী। গর্ভাবস্থার কোনো লক্ষণ বা শারীরিক পরিবর্তন ছাড়াই সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে নিজের ফ্ল্যাটে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি।   ঘটনাটি ঘটেছে গত ২০ ফেব্রুয়ারি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি ‘ক্রিপটিক প্রেগন্যান্সি’ বা গুপ্ত গর্ভাবস্থা, যেখানে একজন নারী সন্তান প্রসবের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের গর্ভধারণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত থাকেন।   অপরাধবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা এই তরুণীর স্বপ্ন ছিল ল স্কুলে পড়ার। ২০২৩ সালে প্রেমিক প্রেস্টনের সঙ্গে পরিচয়ের পর থেকেই তিনি সতর্ক ছিলেন এবং নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল গ্রহণ করছিলেন। প্রতি মাসে তার স্বাভাবিক পিরিয়ডও হতো। ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি লন্ডনে ঘুরতে যান এবং আগস্টে ক্যাম্পাসে ফেরেন।   এরপর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তার ওজন ১০ পাউন্ডের মতো বেড়ে যায়, যাকে তিনি শুধুমাত্র অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের অভাব বলে ধরে নিয়েছিলেন। কোনো বমি বমি ভাব, ক্লান্তি বা অন্য কোনো গর্ভাবস্থার লক্ষণ তার মধ্যে ছিল না।   চিকিৎসকরা পরবর্তীতে জানান, তার প্লাসেন্টা বা অমরা জরায়ুর সামনের দিকে থাকায় তিনি গর্ভস্থ শিশুর কোনো নড়াচড়া টের পাননি।   ঘটনার দিন সকালে ক্লাস থেকে ফিরে পেটে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। ব্যথানাশক ওষুধ খেয়েও কোনো কাজ হয়নি। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে টয়লেটে যাওয়ার তীব্র চাপ অনুভব করেন এবং হঠাৎ করেই বুঝতে পারেন অস্বাভাবিক কিছু ঘটছে। প্রথমে টিউমার ভেবে আতঙ্কিত হলেও দ্রুত প্রবৃত্তিগত তাড়নায় তিনি বেডরুমে গিয়ে একটি তোয়ালে বিছিয়ে ফ্লোরে বসে পড়েন।   অ্যাড্রেনালিনের প্রভাবে কোনো ব্যথা অনুভব না করেই মাত্র তিনটি পুশে তিনি নিজেই এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এরপর ৯১১ নম্বরে কল করে সাহায্য চান এই হতবাক তরুণী।   খবর পেয়ে প্যারামেডিক দল এসে মা ও শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ছুটে আসেন হতবাক প্রেমিক প্রেস্টন। বয়স ও আর্থিক দিক বিবেচনা করে প্রথমে তারা সন্তান দত্তক দেওয়ার কথা ভাবলেও, পরদিনই প্রেস্টন একটি খেলনা নিয়ে এসে জানান তিনি সন্তানটিকে নিজেদের কাছেই রাখতে চান। তরুণীও একই অনুভূতি পোষণ করেন এবং তারা মেয়ের নাম রাখেন 'নেভি'।   সন্তান জন্মের আট দিন পর তারা পরিবারকে এই সুখবর জানান। শুরুতে তরুণী পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের মধ্য দিয়ে গেলেও মায়ের সাহায্যে তিনি ধীরে ধীরে মানিয়ে নেন।   মাতৃত্বের কারণে সাময়িকভাবে পড়াশোনায় বিরতি দিলেও আগামী শরতেই গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে যাচ্ছেন এই তরুণী। অনাকাঙ্ক্ষিত এই মাতৃত্ব এখন তার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১২:১৩
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের নতুন কল সেন্টার চালু
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের নতুন কল সেন্টার চালু, মিলবে দ্রুত কনস্যুলার সেবা

প্রবাসী বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা আরও সহজ ও দ্রুত করতে নিউইয়র্কে চালু হয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের নতুন কল সেন্টার। ১ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হওয়া এই সেবার মাধ্যমে কনস্যুলেটের আওতাধীন বিভিন্ন স্টেটে বসবাসরত বাংলাদেশিরা কনস্যুলার সেবা নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা নিতে পারবেন।   কনস্যুলেট জেনারেলের তথ্য অনুযায়ী, কল সেন্টারে প্রশিক্ষিত ও প্রযুক্তি-সচেতন তরুণ কর্মীরা প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার সেবা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেবেন।   কল সেন্টারে যোগাযোগের জন্য দুটি নম্বর রয়েছে। টোল-ফ্রি নম্বর ৮৪৪-৮৬১-১৯৭১ এবং ২১২-৫৯৯-৬৭৬৭ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।   বর্তমানে কনস্যুলেটের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ কল সেন্টার সেবা সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পাওয়া যায়। সরকারি ছুটির দিনে সাধারণ সেবা বন্ধ থাকে। তবে অফিস সময়ের পর এবং সপ্তাহান্তে জরুরি প্রয়োজনে ৬৪৬-৬৪৫-৭২৪২ নম্বরে যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে।   ফোনে তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ না হলে ভয়েসমেইল রেখে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা বার্তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী কলদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।   কনস্যুলেটের এই উদ্যোগের ফলে নিউইয়র্কসহ এর আওতাধীন এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা সংক্রান্ত তথ্য পেতে সরাসরি কনস্যুলেটে যাওয়ার ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পাসপোর্ট, ভিসা, নথিপত্র ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা নিয়ে প্রাথমিক তথ্য ও নির্দেশনা পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন কল সেন্টারটি প্রবাসীদের জন্য সহায়ক হতে পারে।   কনস্যুলেটের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয় লং আইল্যান্ড সিটির ৩১-১০, ৩৭তম অ্যাভিনিউতে অবস্থিত।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১১:৫৮
ভিটামিন সি’র নামে প্রাণঘাতী ফেন্টানিলের রাসায়নিক পাচার
ভিটামিন সি’র নামে প্রাণঘাতী ফেন্টানিলের রাসায়নিক পাচার, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়র কারাদণ্ড

ভারতের গুজরাটের সুরাটের এক কেমিক্যাল ব্যবসায়ীকে ফেন্টানিল তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের দায়ে ৫৪ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ভাভেশ রাঞ্চোদভাই লাথিয়া নামের ৩৭ বছর বয়সী ওই ব্যবসায়ী রাসায়নিকগুলোকে ভিটামিন সি ও অ্যান্টাসিড হিসেবে মিথ্যা পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছিলেন বলে আদালতের নথি ও প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ফেডারেল কোর্টে বুধবার বিচারক পামেলা কে. চেন লাথিয়াকে এই সাজা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, কারাদণ্ড শেষে তাকে ভারতে ডিপোর্ট করা হবে। একই সঙ্গে তাকে ২৪ হাজার ৫৬০ ডলার বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   লাথিয়া সুরাটভিত্তিক রাক্সুটার কেমিক্যালসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর ক্রেতাদের কাছে ফেন্টানিল তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সরবরাহ করা হতো। মার্কিন প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, তিনি ৫০ পাউন্ডের বেশি ফেন্টানিল প্রিকার্সর রাসায়নিক অবৈধভাবে বিক্রি ও পাচারে জড়িত ছিলেন।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুনে নিউইয়র্কের একটি ঠিকানায় পাঠানো একটি চালানে ভিটামিন সি থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই প্যাকেটে ছিল ১-বিওসি-৪-পাইপারিডোন, যা ফেন্টানিল তৈরিতে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রিকার্সর রাসায়নিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি নিষিদ্ধ।   পরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বা এইচএসআইয়ের আন্ডারকভার অভিযানে লাথিয়ার কার্যক্রম ধরা পড়ে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আন্ডারকভার এজেন্টদের সঙ্গে ভিডিও কলে তিনি ২০ কেজি ১-বিওসি-৪-পাইপারিডোন বিক্রিতে সম্মতি দেন। রাসায়নিকগুলোকে অ্যান্টাসিড হিসেবে মিথ্যা লেবেল দেওয়ার প্রস্তাবও তিনি দিয়েছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   এরপর ২০২৪ সালের নভেম্বরে একই রাসায়নিক অ্যান্টাসিডের নামে লেবেল লাগিয়ে নিউইয়র্কে পাঠানো হয়।   লাথিয়াকে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নিউইয়র্ক সিটিতে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ফেন্টানিল তৈরিতে ব্যবহৃত তালিকাভুক্ত রাসায়নিক পাচার ও বিতরণসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তিনি দোষ স্বীকার করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, কোনো ভারতভিত্তিক সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে ফেন্টানিল প্রিকার্সর পাচারের ঘটনায় এটি প্রথম ধরনের ফৌজদারি দোষ স্বীকারের ঘটনা।   মার্কিন প্রসিকিউটরদের মতে, ফেন্টানিলের সরবরাহব্যবস্থার একেবারে শুরুতেই এ ধরনের রাসায়নিক সরবরাহ করা হয়। মেক্সিকোর বিভিন্ন মাদক পাচারকারী সংগঠন, যার মধ্যে সিনালোয়া কার্টেলও রয়েছে, ভারত ও চীনের মতো দেশ থেকে সরবরাহ করা ফেন্টানিল প্রিকার্সর রাসায়নিক ব্যবহার করে আসছে।   ফেন্টানিল অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সিনথেটিক ওপিওয়েড। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া এটি গ্রহণ করলে অল্প পরিমাণেও প্রাণঘাতী হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ওপিওয়েড সংকটে ফেন্টানিল অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১১:৪৯
নিউইয়র্কে নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা এরিনের ৫ মাসের শিশুর জন্য ফান্ডে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ডলার
নিউইয়র্কে নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা এরিনের ৫ মাসের শিশুর জন্য ফান্ডে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ডলার

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিন পিয়াচেন্তির পাঁচ মাসের মেয়ে ম্যাডিসনের ভবিষ্যৎ ও দেখভালের জন্য চালু করা GoFundMe ফান্ডে এরই মধ্যে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭ হাজার ৯০০ জন এই ফান্ডে অনুদান দিয়েছেন। ফান্ডটির বর্তমান লক্ষ্য ১২ লাখ ডলার।    মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই অনুদানের পরিমাণ এত দ্রুত বেড়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ফান্ডে ৫ লাখ থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি জমা পড়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এরপরও অনুদান আসতে থাকায় বর্তমানে তা ৭ লাখ ৬৪ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে।    ফান্ডটি মূলত এরিনের পাঁচ মাসের মেয়ে ম্যাডিসনের যত্ন, ভবিষ্যৎ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে। GoFundMe-তে বলা হয়েছে, এরিনকে যারা চিনতেন, তার সঙ্গে কাজ করেছেন কিংবা এই মর্মান্তিক ঘটনায় যাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে, তাদের জন্য এটি তার মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ।   এরিন পিয়াচেন্তি ছিলেন ৩২ বছর বয়সী এবং ব্যাংক অব আমেরিকার একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট। ৩১ আগস্ট, সোমবার, মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফেরার প্রথম দিনেই ম্যানহাটনের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে তিনি নিহত হন।    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ছিল আকস্মিক ও উদ্দেশ্যহীন হামলা। ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনেরোস প্রথমে ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর এরিনকে পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলের কাছেই থাকা নিউইয়র্ক পুলিশ অফিসাররা হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করেন। দুই হাতে ছুরি নিয়ে পুলিশের দিকে এগিয়ে আসার পর অফিসাররা তাকে গুলি করেন। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।    সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, এরিনের মৃত্যুর মাত্র পাঁচ মাস আগে তার ও স্বামী ফ্র্যাঙ্ক পিয়াচেন্তির প্রথম সন্তান ম্যাডিসনের জন্ম হয়েছিল। GoFundMe-র বর্ণনায় বলা হয়েছে, মা হওয়া ছিল এরিনের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবং মেয়েকে নিয়ে নতুন পরিবার গড়ে তোলাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের অধ্যায়গুলোর একটি।    এরিন ও ফ্র্যাঙ্কের বিয়ের দ্বিতীয় বার্ষিকীও চলতি গ্রীষ্মে উদযাপিত হয়েছিল। তারা নিউ জার্সির চেস্টারে নিজেদের বাড়িতে নতুন সন্তানকে নিয়ে ভবিষ্যৎ সাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এরিনের মৃত্যুর পর তাদের সেই জীবন এক মুহূর্তেই বদলে গেছে।    এরিন শুধু একজন ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন না। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিতে পড়াশোনা শেষে তিনি ফোর্ডহ্যাম ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল থেকে ম্যাগনা কাম লডে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি ডেভিস পোলক আইন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন এবং প্রায় ১৮ মাস আগে ব্যাংক অব আমেরিকায় যোগ দেন। সেখানে তিনি বিজনেস সিলেকশন অ্যান্ড কনফ্লিক্টস বিভাগে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন।    ফান্ডটি পরিচালনা করছেন এরিনের স্বামী ফ্র্যাঙ্কের ভাইয়ের স্ত্রী বা পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য শ্রে গুপ্তা। GoFundMe-র তথ্য অনুযায়ী, ফান্ডটি ফ্র্যাঙ্ক ও এরিনের পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করেই তৈরি করা হয়েছে এবং সংগৃহীত অর্থ সরাসরি ফ্র্যাঙ্কের কাছে যাবে ম্যাডিসনের দেখভাল ও ভবিষ্যতের জন্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যে।    পরিবারের পক্ষ থেকে এরিনের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে সবার কাছে গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফুল বা অন্য কোনো উপহার পাঠানোর পরিবর্তে ম্যাডিসনের ভবিষ্যতের জন্য নির্ধারিত এই ফান্ডে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।    এদিকে এরিনকে হত্যার ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিউইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় পুলিশের গুলিতে হামলাকারী পামেলা সিসনেরোসের মৃত্যুর ঘটনাটিও পর্যালোচনা করছে, যা পুলিশ-জড়িত কোনো মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রক্রিয়ার অংশ।    এরিনের মৃত্যুর পর তার পাঁচ মাসের শিশুকে ঘিরে যে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হয়েছে, সেটিই এখন ফান্ডটির দ্রুত বাড়তে থাকা অনুদানে প্রতিফলিত হচ্ছে। ১২ লাখ ডলারের লক্ষ্যের বিপরীতে ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ডলারের বেশি জমা পড়ায় ফান্ডটি লক্ষ্যের প্রায় ৬৪ শতাংশে পৌঁছে গেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১১:২৭
বিদ্যুৎ বিল বেশি আসায় প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগ
বিদ্যুৎ বিল বেশি আসায় প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগ, কলেজশিক্ষার্থী কারাগারে

গাজীপুরে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার কলেজশিক্ষার্থী সিফাত আব্দুল্লাহকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।   শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতে তাকে হাজির করা হলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।   এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরের গাছা থানা এলাকা থেকে সিফাত আব্দুল্লাহকে আটক করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। পরে রাত ৯টার দিকে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।   সিফাত আব্দুল্লাহ গাজীপুর মহানগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের টিনের মসজিদ এলাকার মো. সিকান্দর আলীর ছেলে। তিনি রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, সিফাত আব্দুল্লাহ বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সরকারকে নিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর বক্তব্য ও লেখালেখি করে আসছিলেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে দেখা যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।   ভিডিওতে সিফাত দাবি করেন, চলতি মাসে তার বাসায় ৪ হাজার টাকা এবং আগের মাসে ৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। তার অভিযোগ, এই বিল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেই তিনি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।   পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এরপর গাছা থানা পুলিশ তাকে আটক করে।   গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।   ওসি আরও বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে সিফাত আব্দুল্লাহর রিমান্ড চাওয়া হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১০:৪৪
ফিলিস্তিনি বন্দিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ
ফিলিস্তিনি বন্দিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ মামলা

ফিলিস্তিনি এক বন্দির ওপর গুরুতর নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত তিন ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনা দেশটির রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮০ লাখ শেকেল, প্রায় ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন। চলতি বছরের মার্চে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদেরসহ পাঁচ সেনার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করার কয়েক মাস পর এ মামলা করা হলো।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, ‘ফোর্স ১০০’ রিজার্ভ ইউনিটের ওই তিন সেনা ডানপন্থি আইনি সহায়তা সংগঠন হনেনুর মাধ্যমে জেরুজালেমের একটি আদালতে মামলাটি করেছেন। মামলায় ইসরায়েল রাষ্ট্র, সেনাবাহিনী, সামরিক পুলিশ, ইসরায়েল পুলিশসহ মোট ১৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।   ২০২৪ সালের ৫ জুলাই দক্ষিণ ইসরায়েলের স্দে তেইমান সামরিক আটককেন্দ্রে এক ফিলিস্তিনি বন্দির ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই ঘটনায় পাঁচ রিজার্ভ সেনার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল।   অভিযোগপত্র অনুযায়ী, চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরানো অবস্থায় ওই বন্দিকে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে লাথি মারা, পায়ে মাড়ানো, লাঠি দিয়ে পেটানো এবং মাটিতে টেনে নেওয়া হয়। তাকে বারবার টেজারও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।   অভিযোগে আরও বলা হয়, এক সেনা ধারালো বস্তু দিয়ে বন্দির মলদ্বারের কাছে আঘাত করেন, এতে তার রেকটামে গুরুতর ক্ষত তৈরি হয়। বন্দির সাতটি পাঁজর ভেঙে যায়, ফুসফুসে ছিদ্র হয় এবং শরীরের ভেতরে ব্যাপক আঘাত লাগে। পরে তার বৃহদান্ত্রে অস্ত্রোপচার করতে হয় এবং সাময়িকভাবে স্টোমা স্থাপন করা হয়েছিল।   ঘটনার ভিডিও পরে প্রকাশ্যে আসে। ২০২৪ সালের আগস্টে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২তে আটককেন্দ্রের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ সম্প্রচার করা হলে ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও ফুটেজটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছিল।   তবে চলতি বছরের ১২ মার্চ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মিলিটারি অ্যাডভোকেট জেনারেল ইতাই অফির পাঁচ সেনার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের প্রমাণভিত্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া, মামলার প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং আসামিদের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বন্দি গাজায় ফিরে যাওয়ায় তার সাক্ষ্য ও মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছিল।   অভিযোগ প্রত্যাহারের পর এবার ওই পাঁচজনের মধ্যে তিনজন উল্টো রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করেছেন। মামলায় তারা দাবি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের মিথ্যা সন্দেহ তৈরি করা হয়েছে, বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মানহানিকর ও অন্যায়ভাবে মামলা করা হয়েছে।   মামলায় বিভিন্ন দাবির মধ্যে যৌন অপরাধের অভিযোগের কারণে ক্ষতির জন্য ১৫ লাখ শেকেল, ১৫ দিনের কথিত বেআইনি আটকের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার শেকেল, মানহানির জন্য ৩০ লাখ শেকেল এবং কথিত অন্যায় অভিযোগপত্রের জন্য ১০ লাখ শেকেল চাওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তাদের ক্ষতিপূরণের দাবি ১ কোটি ৮০ লাখ শেকেল।   এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার মতো প্রমাণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। নতুন ক্ষতিপূরণ মামলার বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১০:১৮
গ্রিন কার্ড স্পনসরদের ক্রেডিট তথ্য যাচাইয়ের নতুন সুযোগ পেল ইউএসসিআইএস
গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে ইউএসসিআইএসের নতুন পদক্ষেপ, বাড়ছে যাচাই

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যের গ্রিন কার্ডের জন্য স্পনসর করা ব্যক্তিদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। নতুন ব্যবস্থায় গ্রিন কার্ড স্পনসরদের ক্রেডিট-সংক্রান্ত তথ্য ভোক্তা রিপোর্টিং এজেন্সির কাছ থেকে সংগ্রহ করার সুযোগ পেয়েছে সংস্থাটি। পরিবর্তনটি মূলত ফর্ম আই-৮৬৪, অর্থাৎ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্টকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পরিবারের সদস্যকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্পনসর করার ক্ষেত্রে এই ফর্মে স্বাক্ষর করে স্পনসরকে ওই অভিবাসীর আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার অঙ্গীকার করতে হয়। নতুন ফর্মে যুক্ত করা হয়েছে একটি প্রাইভেসি রিলিজ বা তথ্য সংগ্রহের অনুমতিসংক্রান্ত ধারা। এর মাধ্যমে ইউএসসিআইএস এক বা একাধিক কনজিউমার রিপোর্টিং এজেন্সির কাছ থেকে স্পনসরের তথ্য চাইতে পারবে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো দেওয়া হয়নি। নতুন ব্যবস্থাটি ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে যারা এখন পরিবারের সদস্যের গ্রিন কার্ডের জন্য অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট জমা দিচ্ছেন, তাদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট শুধু একটি সাধারণ ফর্ম নয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, এটি স্পনসর ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে একটি আইনগতভাবে কার্যকর চুক্তি। স্পনসরকে নির্দিষ্ট শর্তে অভিবাসীর আর্থিক সহায়তার দায়িত্ব নিতে হয়। স্পনসরকে সাধারণত নির্দিষ্ট আয়ের যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। কেউ সেই আয়সীমা পূরণ করতে না পারলে যোগ্য জয়েন্ট স্পনসর ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, জয়েন্ট স্পনসরকে নিজস্ব আয়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আর্থিক যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। স্পনসরশিপের দায়িত্বও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। সাধারণভাবে স্পনসর করা ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া, ৪০টি কোয়ালিফাইং কোয়ার্টারের কাজের ক্রেডিট অর্জন করা, স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি না হওয়া পর্যন্ত এই দায়িত্ব বহাল থাকতে পারে। শুধু বিবাহবিচ্ছেদ হলে স্পনসরশিপের দায়িত্ব শেষ হয় না। নতুন ক্রেডিট-তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড স্পনসরদের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে আরও তথ্য ব্যবহারের পথ তৈরি করতে পারে। তবে বর্তমানে ইউএসসিআইএস প্রতিটি স্পনসরের ক্রেডিট রিপোর্ট কীভাবে বা কোন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করেনি। ফলে গ্রিন কার্ডের জন্য পরিবারের সদস্যকে স্পনসর করতে যাওয়া ব্যক্তিদের নতুন ফর্মের সর্বশেষ সংস্করণ এবং ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৯:৫৩
শরীরে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে আহত নারীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে
মুসলিম পরিচয়ের কারণে দিল্লিতে দুই নারী সাংবাদিককে মারধর, পুলিশের নির্যাতন

ভারতের দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি অনুষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশি হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন দুই নারী সাংবাদিক। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিল্লির সাকেত এলাকায় ম্যাক্স স্মার্ট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে একটি নতুন উইং উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ তাদের। সাংবাদিক শাহীন খান ও নাফিসা খান ৪পিএম নিউজ নেটওয়ার্কের হয়ে অনুষ্ঠানটি কাভার করছিলেন। শাহীন খানের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তকে প্রশ্ন করার চেষ্টা করার পর পুলিশ তাদের আটক করে সাকেত থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মারধর ও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। শাহীন আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ সদস্যরা তাদের পরিচয় ও ধর্ম সম্পর্কে জানতে চান। তারা মুসলিম জানার পর মারধরের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে তার দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুই সাংবাদিকের শরীরে আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে। তবে দিল্লি পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, সাংবাদিকরা ভিভিআইপি চলাচলের নির্ধারিত পথে স্কুটি রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করেছিলেন এবং বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরও তা সরাননি। এ কারণে তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দক্ষিণ দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার অনন্ত মিত্তল অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও তথ্যগতভাবে ভুল বলে দাবি করেছেন। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, থানায় নেওয়ার পর ওই পথ আবার সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সাংবাদিকদের চলে যেতে বলা হয়। তবে তারা পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে পুলিশের দাবি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান উইমেনস প্রেস কর্পস, দিল্লি ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস, প্রেস অ্যাসোসিয়েশন এবং কেরালা ইউনিয়ন অব ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস যৌথ বিবৃতিতে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তা, পুলিশি আচরণ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ওঠা পুলিশের অভিযোগ এবং সাংবাদিকদের পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৯:৪২