সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
অভিবাসন অভিযানের সময় গুলি চালানোর ঘটনায় আইসিই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ
ভেনেজুয়েলীয়কে গুলি, তদন্তকারীদের মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আইসিই কর্মকর্তা আটক

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় এক ভেনেজুয়েলীয় নাগরিককে গুলি করার ঘটনায় তদন্তকারীদের মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আইসিই কর্মকর্তা ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। জানুয়ারিতে জুলিও সেসার সোসা-সেলিস নামে ওই ব্যক্তির পায়ে গুলি লাগার ঘটনায় কাস্ত্রোকে অভিযুক্ত করা হয়।  অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফেডারেল তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলো এখনো সিলগালা রয়েছে। একই ঘটনায় মিনেসোটা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে হামলা এবং অপরাধের মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগও করেছে।  ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পল এলাকায় চালানো ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ অভিযানের সময়। ওই অভিযানে হাজার হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছিল, যা তৎকালীন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সবচেয়ে বড় অভিবাসন অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হয়।  মিনেসোটা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কাস্ত্রো এবং আরেক কর্মকর্তা এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ডুপ্লেক্সে যান। সেখানে কাস্ত্রো বাড়িটির সামনের দরজা দিয়ে গুলি চালিয়ে সোসা-সেলিসের উরুতে আঘাত করেন। পরে তিনি দাবি করেন, সোসা-সেলিস ও আরেক ব্যক্তি ঝাড়ুর হাতল ও তুষার সরানোর কোদাল দিয়ে এক আইসিই কর্মকর্তার ওপর হামলা করেছিলেন।  তবে পরে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে ওই ঘটনার বিষয়ে কর্মকর্তাদের দেওয়া বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ফেডারেল প্রসিকিউটররা সোসা-সেলিস ও অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করেন এবং কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।  কাস্ত্রো ফেব্রুয়ারি থেকে বেতন ছাড়া আইসিই থেকে সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। পরে মে মাসে তাকে মিনেসোটার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের একটি জেলে রাখা হয়। মিনেসোটায় হস্তান্তরের জন্য টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। তবে অ্যাবট তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যর্পণ অনুমোদন না করায় কাস্ত্রোকে গত সপ্তাহে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন কাস্ত্রো। এই ঘটনায় তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এর কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রথম ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা হিসেবে ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন। এদিকে সোসা-সেলিসের আইনজীবী অভিযোগ করেছেন, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা ফেডারেল অভিযোগ যথেষ্ট নয় এবং গুলি চালানোর ঘটনাটি আড়াল করতেই তিনি তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। তার পক্ষ থেকে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। তবে কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। গুলি চালানোর ঘটনায় আরও গুরুতর নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হবে কি না, সে বিষয়ে ফেডারেল  তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৯:২৯
পেন্সিল ব্যবহার করে জেলের সেলের দরজা খুলে পালিয়ে যান ৩০ বছর বয়সী এক বন্দী
পেন্সিল দিয়েই কারাগারের সেল খুলে পালালেন বন্দী, ৩০ মিনিটেই ফের আটক

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনার একটি কাউন্টি জেল থেকে মাত্র একটি পেন্সিল ব্যবহার করে সেলের দরজা খুলে পালিয়েছিলেন ৩০ বছর বয়সী এক বন্দী। তবে তার পালিয়ে থাকার সময় বেশি দীর্ঘ হয়নি। প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই তাকে জেল থেকে কিছু দূরে আটক করেন ডেপুটিরা। পুরো ঘটনার কিছু অংশ নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজেও ধরা পড়ে।  ঘটনাটি ঘটে ১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে চেস্টারফিল্ড কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে। বন্দীর নাম চার্লস আলেকজান্ডার ডিটারিখ। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সেলের দরজাটি সামান্য ওপরে তুলে লকিং মেকানিজমের ভেতর পেন্সিল ঢুকিয়ে সেটি নাড়াচাড়া করেন। এরপর দরজাটি সরিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।  সেল থেকে বের হওয়ার পর ডিটারিখ জেলের রান্নাঘর দিয়ে এগিয়ে একটি আনলকড দরজা দিয়ে বাইরে চলে যান। দরজাটি জেলের রান্নাঘরের দায়িত্বে থাকা বন্দীদের ময়লা বাইরে নেওয়া এবং বড় একটি রেফ্রিজারেটরে যাওয়ার জন্য নিয়মিত ব্যবহার করা হতো বলে জানিয়েছে শেরিফের কার্যালয়। এরপরও তিনি পুরোপুরি মুক্ত ছিলেন না। জেলের বাইরের একটি সুরক্ষিত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া ছিল। ডিটারিখ সেই বেড়া টপকে পালানোর চেষ্টা করেন এবং এতে শরীরে কেটে যায়। পরে তিনি জেল এলাকা থেকে দূরে চলে যান।  প্রায় ২০ মিনিট পর নিয়মিত তল্লাশির সময় জেলকর্মীরা সেলের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। অন্য বন্দীরা ডিটারিখ পালিয়ে যাওয়ার কথা জানালে দ্রুত ডেপুটিদের খবর দেওয়া হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডেপুটিরা তাকে জেল থেকে কিছু দূরে জোন্স রোড এলাকায় শনাক্ত করেন। তাকে আটক করার সময় তিনি এক ডেপুটিকে হামলা করেন বলে শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে। পরে কাঁটাতারের কারণে হওয়া আঘাতের চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা ছাড়পত্র দেওয়ার পর তাকে আবার চেস্টারফিল্ড কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।  ডিটারিখ এর আগে চুরি করা গাড়ি সংক্রান্ত অভিযোগ, নিয়ন্ত্রিত মাদক বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার অভিযোগ এবং পুলিশের সংকেত অমান্য করে গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ১৩ আগস্ট এসব মামলায় তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং সময়ের সাজা পান। তবে নর্থ ক্যারোলাইনার একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হোল্ড থাকায় তাকে হেফাজতেই রাখা হয়েছিল।  পালানোর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এখন বেআইনিভাবে পালানো, গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া, পুলিশ অফিসারের ওপর হামলা এবং সম্পত্তির ক্ষতিসহ নতুন অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার পর চেস্টারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা শুরু করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে সেল ও লকিং মেকানিজম ব্যবহার করে ডিটারিখ বেরিয়ে যান, সেটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। শেরিফ ক্যাম্বো স্ট্রিটার বলেছেন, ঘটনাটি জেলের নিরাপত্তাব্যবস্থার একটি দুর্বলতা সামনে এনেছে। জেলের পুরোনো অংশের কিছু স্থাপনা ১৯৭২ সালের বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৯:১৭
সিজারিয়ান প্রসবের সাত স্তরের প্রতীকী গাউনে উগান্ডার প্রতিনিধি ট্রিভিয়া এল মুহোজা
সিজারিয়ান প্রসবের সাত স্তর, মিস ওয়ার্ল্ডের গাউনে ফুটে উঠল মায়েদের জীবনের গল্প

ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় ব্যতিক্রমী এক গাউন পরে নজর কেড়েছেন উগান্ডার প্রতিনিধি ট্রিভিয়া এল মুহোজা। ‘ল্যাপার্স অব লাইফ’ নামের গাউনটি শুধু সৌন্দর্যের প্রদর্শন নয়, বরং সিজারিয়ান সেকশনের সময় শরীরের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করা সাতটি স্তরের প্রতীকী উপস্থাপন।  উগান্ডার ডিজাইনার কিশা আবদাল্লাহ গাউনটি তৈরি করেছেন মিস ওয়ার্ল্ডের ওয়ার্ল্ড ডিজাইনার অ্যাওয়ার্ডের জন্য। ডিজাইনে সাদা, হলুদ, গোলাপি ও লাল রঙের বিভিন্ন স্তর ব্যবহার করে সিজারিয়ান প্রসবের শারীরিক প্রক্রিয়াকে পোশাকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।  ডিজাইনের পেছনে রয়েছে আবদাল্লাহর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও। নতুন মা হওয়ার পর সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়া তাকে এই ধারণা নিয়ে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। তিনি সিজারিয়ান প্রসবের সঙ্গে জড়িত সাতটি অ্যানাটমিক্যাল স্তর নিয়ে গবেষণা করে সেগুলোকে কুট্যুর গাউনের নকশায় রূপ দেন।  গাউনটির প্রতিটি স্তর সিজারিয়ান প্রসবের সময় অতিক্রম করা বিভিন্ন শারীরিক স্তরের প্রতীক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ত্বক, চর্বি, ফ্যাসিয়া, রেক্টাস মাংসপেশি, পেরিটোনিয়াম, জরায়ুর পেশি এবং অ্যামনিওটিক স্যাক।  আয়োজনে গাউনটি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে ফ্যাশনের সঙ্গে মাতৃত্ব ও সন্তান জন্মদানের অভিজ্ঞতাকে যুক্ত করা হয়েছে। ডিজাইনারের উদ্দেশ্য ছিল একটি পরিচিত চিকিৎসা প্রক্রিয়াকে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে তা শুধু পোশাকের সৌন্দর্য নয়, নারীর মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে। মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬-এর ৭৩তম আসর ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আয়োজনের অংশ হিসেবেই ওয়ার্ল্ড ডিজাইনার অ্যাওয়ার্ডে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশের ডিজাইনারদের তৈরি বিশেষ পোশাক উপস্থাপন করছেন।  তবে ‘ল্যাপার্স অব লাইফ’ গাউনটি ওয়ার্ল্ড ডিজাইনার অ্যাওয়ার্ড জিতেছে বলে কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দাবি করা হলেও, পাওয়া নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে এটিকে পুরস্কারজয়ী হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। নিশ্চিত তথ্য হলো, গাউনটি ওই প্রতিযোগিতায় উগান্ডার প্রতিনিধির জন্য তৈরি ও প্রদর্শন করা হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৯:৩
২০২২ সালে সাইপ্রাসে বিয়ে করা এই দম্পতির সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ব্রাইট যুক্তরাজ্যে স্পাউস ভিসায় আসেন এবং পরে নিখোঁজ হয়ে যান বলে ডনের অভিযোগ
৬৮ বছরের ইংরেজ নারীকে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বিয়ে, ভিসা পাওয়ার পরই উধাও যুবক

যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের ৬৮ বছর বয়সী ডন ওটেওয়েল তার ৩১ বছর বয়সী নাইজেরিয়ান স্বামী ব্রাইট এমোকপেকে খুঁজে পাচ্ছেন না। ২০২২ সালে সাইপ্রাসে বিয়ে করা এই দম্পতির সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ব্রাইট যুক্তরাজ্যে স্পাউস ভিসায় আসেন এবং পরে নিখোঁজ হয়ে যান বলে ডনের অভিযোগ। এখন বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত করতে না পারায় নিজের সম্পত্তি ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। ডনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে একাকীত্বের সময় টিন্ডার ও প্লেন্টি অব ফিশ নামের ডেটিং অ্যাপে ব্রাইটের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। শুরুতে ব্রাইট নিজেকে ‘ব্রায়ান থমাস’ নামে পরিচয় দেন এবং বয়স ত্রিশের কোঠায় বলে জানান। পরে হোয়াটসঅ্যাপে তিনি নিজের আসল নাম ব্রাইট এমোকপে এবং নাইজেরিয়ার বেনিন সিটিতে ফ্যাশন নিয়ে পড়াশোনার কথা জানান। বয়সের বড় পার্থক্য এবং শুরুতে পরিচয় গোপনের বিষয়টি জানার পরও ডন সম্পর্কটি এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২২ সালের ২২ মার্চ সাইপ্রাসের নিকোসিয়ায় একটি রেজিস্ট্রি অফিসে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ব্রাইট নাইজেরিয়ায় ফিরে যান এবং যুক্তরাজ্যে যাওয়ার জন্য স্পাউস ভিসার আবেদন করেন। প্রায় এক বছর পর ভিসা পেয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে গেলে ডন নিজেই হিথরো বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। ডনের ভাইয়ের সহায়তায় একটি দরজা তৈরির কারখানায় ব্রাইটের চাকরিও হয়। কিন্তু ডনের দাবি, যুক্তরাজ্যে আসার পরপরই তাদের সম্পর্কে পরিবর্তন দেখা দেয়। ডন অভিযোগ করেন, ব্রাইট তার কাছে বারবার টাকা চাইতেন, নাইজেরিয়ায় অর্থ পাঠাতেন এবং সংসারের খরচে নিয়মিত অংশ নিতেন না। ২০২৩ সালের অক্টোবরে তারা আলাদা হয়ে যান। প্রায় ছয় মাস পর ডন স্বাস্থ্যসেবাজনিত একটি সমস্যার জন্য ৬৩ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পর তারা আবার একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। তবে সেই সম্পর্কও বেশি দিন টেকেনি। ডনের দাবি, ২০২৪ সালের বড়দিনের আগে ভাইয়ের সঙ্গে ক্যারিবিয়ান ক্রুজ থেকে ফেরার পর তিনি দেখতে পান ব্রাইট বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হয়নি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ডনকে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। ডনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে। তিনি মনে করেন, ব্রাইট বিবাহবিচ্ছেদের কাগজে স্বাক্ষর করতে অনাগ্রহী, কারণ এতে তার যুক্তরাজ্যে থাকার ভিসার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে ব্রাইটের বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতি বা বিয়ের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ডনের অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের সময় ব্রাইট দাবি করেছেন যে তিনি ইতোমধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের কাগজে স্বাক্ষর করেছেন। সাত নাতি-নাতনির দাদি ডন আরও জানান, তিনি কোনো উইল তৈরি করেননি। তাই বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার আগে তার মৃত্যু হলে নিজের সম্পত্তি ও ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। ব্রাইটকে খুঁজে বের করে বিবাহবিচ্ছেদের নথি আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে দিতে ডন এখন সিটিজেনস অ্যাডভাইসের সহায়তা নিচ্ছেন। এদিকে ব্রাইট এমোকপের নামে যুক্তরাজ্যের কোম্পানি নিবন্ধন নথিতে ২০২৬ সালের জুনে স্কটল্যান্ডের হাওইকে ঠিকানায় একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে তার নাম পাওয়া গেছে। ডনের এই ঘটনা অনলাইন সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক বিয়ে এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিচয় ও পরিস্থিতি যাচাইয়ের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে তার ব্যক্তিগত অভিযোগ ও ব্রাইটের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় বিষয়টি এখনো মূলত একটি ভেঙে যাওয়া দাম্পত্য সম্পর্ক ও চলমান বিবাহবিচ্ছেদসংক্রান্ত বিরোধ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৮:৩৮
নিউইয়র্কে গ্যাং সহিংসতায় বাংলাদেশি তরুণদের নাম, কমিউনিটিতে আতঙ্ক
নিউইয়র্কে গ্যাং সহিংসতায় বাংলাদেশি তরুণদের নাম, কমিউনিটিতে আতঙ্ক

নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে কিশোরদের একটি অংশের গ্যাং সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোর ও তরুণদের বিরুদ্ধে মারামারি, ছিনতাই, ডাকাতি, অস্ত্র বহন ও প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে এসব বিচ্ছিন্ন মামলার ভিত্তিতে পুরো বাংলাদেশি তরুণ সমাজকে গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক হবে না। ঠিকানা নিউজের এক প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য ও কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির মামলার নথির বরাতে কিশোরদের সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরে সামগ্রিকভাবে গুলির ঘটনা কমলেও সহিংস অপরাধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৫ সালে নিউইয়র্কে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের ১৪ শতাংশের বয়স ছিল ১৮ বছরের নিচে। একই বছরে গুলি চালানোর ঘটনায় সন্দেহভাজন বা অভিযুক্তদের ১৮ শতাংশই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক। ২০১৮ সালে এই তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর এটি ছিল সর্বোচ্চ হার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কুইন্সে সাম্প্রতিক একটি মামলায় কথিত ব্লিটজ গ্যাং-৪-এর ২২ সদস্যের বিরুদ্ধে ৯৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২৩ সাল থেকে ওই গ্যাং ও প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলোর সংঘর্ষে অন্তত ১১টি গুলির ঘটনা এবং একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ ক্যামব্রিয়া হাইটসের একটি ম্যাকডোনাল্ডসের পার্কিং লটে সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রসিকিউটরদের অভিযোগ। ওই কিশোর প্রতিপক্ষের দিকে একাধিক গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলাটির অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। কিশোরদের সহিংসতার আরও কয়েকটি ঘটনাও সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ফ্লাশিংয়ের কিসেনা পার্কে দুই কিশোরকে মারধরের ঘটনায় সাতজন ১৭ বছর বয়সী কিশোরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। একই বছরের আরেক ঘটনায় অ্যাস্টোরিয়ার একটি সাবওয়ে স্টেশনে ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে একটি দল মারধর ও টেজার দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। চলতি বছরের এপ্রিলেও কুইন্সের রয় উইলকিনস পার্কে কিশোরদের একটি বড় জমায়েতে ১৫ বছর বয়সী জাদেন পিয়েরেকে দলবদ্ধভাবে হামলা এবং পরে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে হত্যা ও গ্যাং অ্যাসাল্টের অভিযোগ এবং ১৬ বছর বয়সী আরেক কিশোরের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগও আদালতে প্রমাণসাপেক্ষ। নিউইয়র্কের কিশোর গ্যাং সংস্কৃতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের মতে, ইনস্টাগ্রাম পোস্ট, ভিডিও, গান এবং অনলাইনে প্রতিপক্ষকে অপমান বা হুমকি দেওয়ার ঘটনা কখনো কখনো বাস্তব জীবনের সংঘর্ষকে উসকে দিতে পারে। বর্তমান সময়ের কিশোর গ্যাং সবসময় বড় কোনো সংগঠিত অপরাধী চক্রের অংশ হিসেবে গড়ে ওঠে না। একই স্কুল, মহল্লা, হাউজিং কমপ্লেক্স বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতদের নিয়ে তৈরি ছোট গ্রুপও ধীরে ধীরে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে শুরু হওয়া ঘটনা পরে পুরো গ্রুপের প্রতিশোধের লড়াইয়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা থাকে। নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, কোনো একটি লক্ষণ দেখেই কিশোরকে গ্যাং সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। স্কুলে অনুপস্থিতি, হঠাৎ নতুন ও গোপন বন্ধুমহল, রাতে বাড়ির বাইরে থাকা, অজানা উৎস থেকে টাকা বা দামি জিনিস পাওয়া, মারামারির ভিডিও ধারণ কিংবা অস্ত্র ও গ্যাং-সম্পর্কিত ছবি প্রকাশের মতো একাধিক পরিবর্তন একসঙ্গে দেখা দিলে অভিভাবকদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। নিউইয়র্কের আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে হলেই গুরুতর অপরাধের দায় থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুক্তি পাওয়া যায় না। রাজ্যের রেইজ দ্য এজ আইনের অধীনে সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে ফৌজদারি বিচারের বয়স ১৮ করা হলেও নির্দিষ্ট গুরুতর ও সহিংস অপরাধে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের বিরুদ্ধেও ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা চলতে পারে। বাংলাদেশি কমিউনিটির অধিকাংশ কিশোর স্বাভাবিক শিক্ষা ও পারিবারিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত। তাই কয়েকটি মামলার কারণে পুরো কমিউনিটিকে দায়ী করা যেমন অনুচিত, তেমনি কিশোরদের মধ্যে সহিংসতার ঝুঁকির ঘটনাগুলো উপেক্ষা করাও বিপজ্জনক। পরিবার, স্কুল ও কমিউনিটির সমন্বিত নজরদারি এবং সময়মতো সহায়তা কিশোরদের অপরাধের পথে যাওয়া ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: ঠিকানা নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৮:৪৯
টেট বর্তমানে তার ভাই ট্রিস্টান টেটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামির ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন
নাবালিকাকে যৌন শোষণের অভিযোগে ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেটের বিরুদ্ধে রোমানিয়ায় নতুন মামলা

নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের জন্য পরিচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচিত ব্যক্তিত্ব অ্যান্ড্রু টেটের বিরুদ্ধে নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক, মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগে রোমানিয়ায় নতুন করে অভিযোগপত্র দিয়েছে দেশটির প্রসিকিউটররা। শুক্রবার রোমানিয়ার সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাস তদন্ত অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, টেট ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে নিয়োগ করেছিলেন।   ৩৯ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু টেট বর্তমানে তার ভাই ট্রিস্টান টেটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামির ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন। যুক্তরাজ্যে ২০১০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সংঘটিত কথিত অপরাধের অভিযোগে তাদের যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া চলছে। নতুন রোমানিয়ান মামলায় ট্রিস্টান টেটের বিরুদ্ধেও সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে দুই ভাইই তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।   রোমানিয়ার প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, অ্যান্ড্রু টেট ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে প্রথমে নিজের প্রতি আবেগগতভাবে আকৃষ্ট করেন। পরে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে জোরজবরদস্তি, মানসিক চাপ ও শারীরিক আগ্রাসনের আশ্রয় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাজ্য ও রোমানিয়ায় ওই কিশোরীকে যৌনভাবে শোষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   তদন্তকারীদের দাবি, অ্যান্ড্রু টেট ওই কিশোরীকে যৌনভাবে স্পষ্ট ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য করেন। পাশাপাশি তার মাধ্যমে ভিডিওচ্যাটভিত্তিক যৌন কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম থেকে টেট ভাইয়েরা মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ আয় করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং টেটের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপরাধের রায়ও হয়নি।   অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রিস্টান টেটও তার ভাইকে সহযোগিতা করেছিলেন এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাননি। তিনি ওই কিশোরীর ভিডিওচ্যাটের হিসাব পরিচালনা করতেন এবং তার কার্যক্রম নজরদারি করতেন বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কিশোরীটির ওপর ট্রিস্টান শারীরিক আগ্রাসন চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, কথিত যৌন শোষণ থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ পরে বিলাসবহুল গাড়ি কেনায় ব্যবহার করা হয়।   রোমানিয়ার তদন্তকারীদের দাবি, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ওই অর্থ ব্যবহার করে চারটি গাড়ি কেনা হয়েছিল। গাড়িগুলোর সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। তদন্তকারীরা এসব গাড়ি জব্দ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এর পাশাপাশি অ্যান্ড্রু টেটের বিরুদ্ধে আরেক ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে রোমানিয়ার দুটি সম্পত্তিতে ওই ঘটনা ঘটে।   অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেট ২০১৬ সাল থেকে রোমানিয়ায় বসবাস করছিলেন। দেশটিতে তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার, ধর্ষণ, সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠী গঠন ও অর্থপাচারের অভিযোগ নিয়ে আগে থেকেই তদন্ত চলছিল। এরই মধ্যে নতুন অভিযোগপত্র দেওয়া হলো। যুক্তরাজ্যেও দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং তাদের প্রত্যর্পণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি লড়াই চলছে।   টেট ভাইদের আইনজীবী ইউজেন কনস্টান্টিন ভিদিনিয়াক বলেন, তার মক্কেলরা এখনো তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন অভিযোগপত্র দাখিলের অর্থ এই নয় যে অ্যান্ড্রু বা ট্রিস্টান টেট দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। তার দাবি, আগের অভিযোগপত্র নিয়ে আদালতে গুরুতর কিছু অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছিল, যার কারণে মামলাটি বিচারে এগোতে পারেনি।   আইনজীবী আরও বলেন, নতুন অভিযোগপত্রের প্রতিটি বিষয় তারা কঠোরভাবে পর্যালোচনা করবেন। কোনো প্রমাণগত, আইনি বা প্রক্রিয়াগত দুর্বলতা থাকলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলো চ্যালেঞ্জ করা হবে। তার মতে, মামলার আগের কার্যক্রমের ইতিহাসও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তিনি টেট ভাইদের জামিনে মুক্তির পক্ষেও যুক্তি দিয়ে আসছেন।   সম্প্রতি মিয়ামির একটি আদালতে অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেটকে হাতকড়া পরা অবস্থায় আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে অ্যান্ড্রু টেট আশঙ্কা প্রকাশ করেন, রোমানিয়ায় আটক থাকলে তিনি অন্যায্যভাবে দীর্ঘমেয়াদি বা যাবজ্জীবন সাজা পেতে পারেন। অন্যদিকে ট্রিস্টান টেট দাবি করেন, কারাগারে থাকায় তিনি নিজের নির্দোষিতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রস্তুতি নিতে পারছেন না।   যুক্তরাজ্যে অ্যান্ড্রু টেটের বিরুদ্ধে মোট ৪২টি অভিযোগ রয়েছে এবং এসব অভিযোগ সাতজন ভুক্তভোগীকে কেন্দ্র করে। এর মধ্যে ধর্ষণ, পতিতাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ এবং যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে মানবপাচারে সহায়তা বা তা আয়োজনের অভিযোগ রয়েছে। গত জুলাইয়েও অ্যান্ড্রু টেটের বিরুদ্ধে শিশুদের অশালীন ছবি ও চরম পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত আরও ১৯টি অভিযোগ যুক্ত করা হয়েছিল।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোমানিয়ার নতুন অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেট উভয়েই তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং মামলাটি এখনো বিচারাধীন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৮:১
নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বন্ধের সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ
ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিষিদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নথিবিহীন বা বৈধ অভিবাসন মর্যাদা না থাকা শিক্ষার্থীদের নতুন করে ভর্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডা বোর্ড অব গভর্নরসের ভোটে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যারা ভবিষ্যতে ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান, তাদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে অবস্থানের প্রমাণ থাকতে হবে। সিদ্ধান্তটি নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিবাসী পরিবার ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   নতুন এই নিষেধাজ্ঞা ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। তবে নিয়মটি মূলত নতুন করে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ বর্তমানে ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করছেন এমন নথিবিহীন শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তের কারণে তাদের বর্তমান পড়াশোনা হারাবেন না। কিন্তু ভবিষ্যতে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাওয়া নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে।   এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছেন ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী আলেকজান্ডার ভ্যালেহোস। তিনি বলেন, খবরটি শুনে তার হৃদয় ভেঙে গেছে এবং পুরো বিষয়টি তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। ভ্যালেহোসকে মাত্র এক বছর বয়সে তার বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন। তিনি আগে পাম বিচ স্টেট কলেজে পড়াশোনা করেছেন এবং আগামী বসন্তে ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা থেকে স্নাতক হওয়ার কথা রয়েছে।   নতুন সিদ্ধান্তে ভ্যালেহোসের নিজের পড়াশোনায় কোনো প্রভাব পড়ছে না। তবে তার চেয়ে কম বয়সী নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তার আশঙ্কা, যারা এখনো উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি, তারা ফ্লোরিডার সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হারাবে। ভ্যালেহোস বলেন, তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। কিন্তু একই পরিস্থিতিতে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে তার খুব খারাপ লাগছে।   ফ্লোরিডায় সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের বিষয়ে এটি সাম্প্রতিক সময়ে নেওয়া দ্বিতীয় বড় সিদ্ধান্ত। এর আগে গত জুনে স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন ফ্লোরিডা কলেজ ব্যবস্থার আওতাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি নিয়ে নতুন নিয়ম অনুমোদন করে। ওই নিয়ম অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মার্কিন নাগরিক অথবা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে অবস্থানরত হতে হবে। ফলে ফ্লোরিডার সরকারি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের সুযোগ আরও সংকুচিত হয়েছে।   বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেস্যান্টিস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ফ্লোরিডার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধভাবে থাকা অভিবাসীদের ভর্তি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট। ডেস্যান্টিসের বক্তব্য, ফ্লোরিডার বাসিন্দা এবং আমেরিকান নাগরিকদের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তার এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যের আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।   ফ্লোরিডার লেফটেন্যান্ট গভর্নর জে কলিন্সও এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদেরই পড়াশোনার সুযোগ থাকা উচিত যারা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে অবস্থান করছেন। ফ্লোরিডার করদাতাদের অর্থ এমন ব্যক্তিদের শিক্ষার সুযোগে ব্যয় করা উচিত নয়, যারা আইন ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডা ও আমেরিকার নাগরিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই রাজ্য সরকারের দায়িত্ব।   অন্যদিকে, নথিবিহীন শিক্ষার্থী ভ্যালেহোস বলেছেন, তার মতো শিক্ষার্থীরা কোনো বিশেষ সুবিধা বা সরকারি সহায়তা চাইছেন না। তারা শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ চান এবং সেই সুযোগ পেলে নিজেদের পরিশ্রমে এগিয়ে যেতে চান। তিনি বলেন, তারা কারও কাছ থেকে দান বা বিনামূল্যের সুবিধা চাইছেন না। শুধু পড়াশোনা করার সুযোগ পেলে পরবর্তী পথ তারা নিজেদের যোগ্যতা ও পরিশ্রম দিয়েই তৈরি করতে চান।   এদিকে, বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্যের জন্য ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় এর বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ কতটা সীমিত হবে, সেটিই আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৭:২৬
ড্রোন হামলার পর কোকা-কোলার কারখানা এলাকায় ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়
কিয়েভে কোকা-কোলার কারখানায় রুশ ড্রোন হামলা, জেলেনস্কির দাবি ‘আমেরিকার জন্য স্পষ্ট বার্তা’

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে কোকা-কোলার একটি কারখানায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই হামলাকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ‘স্পষ্ট বার্তা’ বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।   কিয়েভ অঞ্চলে টানা অষ্টম দিনের মতো রুশ হামলার সময় ব্রোভারি এলাকার কাছে কোকা-কোলার উৎপাদনকেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই দিনের হামলায় অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। তবে কারখানাটিতে কর্মরত কোনো কর্মী আহত হননি বলে জানিয়েছে ইউক্রেনে থাকা আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স।   বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ভালোভাবেই জানে যে কোকা-কোলা একটি আমেরিকান প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, কোকা-কোলার মতো একটি প্রতিষ্ঠানে রুশ ড্রোন হামলা চালানোকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বার্তা হিসেবেই দেখা উচিত।   জেলেনস্কি আরও বলেন, “কোকা-কোলা এখন তাদের কাছে এমন এক শত্রু হয়ে গেছে যে তারা শাহীদ ড্রোন দিয়ে সেটিতেও হামলা চালাচ্ছে।” হামলার বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে।   হামলার পর ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবিতে কারখানা এলাকায় আগুন নেভাতে জরুরি বিভাগের কর্মীদের কাজ করতে দেখা যায়। কারখানার ওপর ও আশপাশের মাঠের দিকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতেও দেখা গেছে।   ইউক্রেনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি হান্ডার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। তিনি বলেন, কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।   এদিকে হামলার পর ইউক্রেনের কয়েকটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে কোকা-কোলার পণ্য দেশটির বাজার থেকে সাময়িকভাবে উধাও হয়ে যেতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো কোকা-কোলা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি।   একই দিনে ইউক্রেনের আরেকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে। ডিনিপ্রো শহরে নোভা পোশতার একটি ডিপো ও শাখায় ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন হামলায় একজন কর্মী নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।   নোভা পোশতা এক বিবৃতিতে বলেছে, রাশিয়া আবারও বেসামরিক সরবরাহ ও লজিস্টিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে এবং এতে তাদের একজন সহকর্মীর প্রাণ গেছে।   অন্যদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরেও দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়াচ্ছে ইউক্রেন। শুক্রবার স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনুযায়ী, ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরে রাশিয়ার বাশকোর্তোস্তান অঞ্চলের স্টেরলিতামাকে একটি সামরিক-শিল্প স্থাপনায় হামলা হয়েছে।   স্থানীয় রুশ টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোর দাবি, স্টেরলিতামাক পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য ছিল। ওই কারখানায় বিমান জ্বালানিসহ রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উৎপাদন করা হয়।   এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাতেও রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় শহর সোচিতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। ইউক্রেনের নৌবাহিনী প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রাশিয়ার সামুদ্রিক ও জ্বালানি অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ‘নেফ্রিত’ নামের একটি জাহাজে নৌ-ড্রোন হামলার পরের দৃশ্য দেখানো হয়েছে।   রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলার মধ্যে কিয়েভের কাছে একটি মার্কিন কোম্পানির কারখানায় হামলার ঘটনা নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া উত্তেজনার বিষয়টিকে সামনে এনেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৭:৬
নয় দিন অন্ধকার টানেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে কবির মহার্জনকে
৯ দিন পর টানেল থেকে আরও এক শ্রমিক জীবিত উদ্ধার, নেপালে ফিরছে আশার আলো

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসের নয় দিন পর ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে আরও এক শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে একই দুর্যোগের পর একজন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় শ্রমিকেরও জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় দীর্ঘদিনের উদ্ধার অভিযানে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে।   শুক্রবার নেপালি সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল আপার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে শ্রমিক কবির মহার্জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। এর আগে উদ্ধার করা হয়েছিল আরেক শ্রমিককে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আরও মানুষ আটকা থাকতে পারেন—এমন আশায় তল্লাশি অব্যাহত রেখেছেন উদ্ধারকারীরা।   গত ২৬ আগস্ট ত্রিশূলী নদীর উজানে ভয়াবহ হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটে। বরফ, পাথর, কাদা ও পানির বিশাল স্রোত মুহূর্তের মধ্যে নেমে আসে উপত্যকার দিকে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি, সড়ক, স্কুল ও একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্যোগের সময় বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলগুলোতে। এরপর থেকেই নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে মরিয়া হয়ে অভিযান শুরু করেন নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল।   নয় দিন ধরে টানেলের ভেতরে জীবিতদের সন্ধান চালানোর পর শুক্রবার উদ্ধারকারীরা সাফল্যের মুখ দেখেন। একটি সরু পথ দিয়ে কবির মহার্জনকে টানেল থেকে বের করে আনা হয়। পরে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর আগে উদ্ধার করা শ্রমিকের ক্ষেত্রেও একইভাবে দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর জীবনের সন্ধান পাওয়া যায়। ফলে একের পর এক শ্রমিক জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় উদ্ধারকারীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।   এর আগে উদ্ধার হওয়া শ্রমিক সঞ্জয় সাহ ওই প্রকল্পের যান্ত্রিক ফোরম্যান হিসেবে কাজ করতেন। দুর্ঘটনার সময় সহকর্মীদের দ্রুত নিরাপদে বেরিয়ে যেতে বললেও তিনি নিজে নিয়ন্ত্রণকক্ষে থেকে যান। অন্যদের বের হওয়ার সুযোগ করে দিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনিও টানেলের ভেতরে আটকা পড়েন।   দীর্ঘ সময় অন্ধকারের মধ্যে আটকে থাকা সঞ্জয় সাহ উদ্ধারকারীদের জানান, টানেলের ভেতরে তিনি প্রার্থনার মন্ত্র পাঠ করে সময় কাটিয়েছেন। তার দাবি, টানেলের আরও গভীরে কয়েকজন মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল। ফলে সেখানে এখনো কেউ জীবিত থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন উদ্ধারকারীরা।   এই তথ্যের পর টানেলের ভেতরে নতুন করে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। নেপালি সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাশাপাশি ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরাও উদ্ধারকাজে সহায়তা করছেন। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপাল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো নিখোঁজ। ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন আটকা পড়ে আছেন, তারও সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি।   তবে দুর্যোগের নয় দিন পর একের পর এক শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করার ঘটনা উদ্ধারকারীদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সময় যতই গড়াক, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ বেঁচে থাকতে পারেন—এই আশায় অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। নয় দিনের অন্ধকার পেরিয়ে একের পর এক জীবিত মানুষ ফিরে আসার ঘটনা যেন নেপালের বিধ্বস্ত উপত্যকায় নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৬:৪৬
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীকে বহনকারী গাড়ি সড়কের পাশের ধানখেতে গিয়ে পড়ে
জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারী, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

বগুড়ার শিবগঞ্জে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীকে বহনকারী সরকারি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত নারী পথচারী ফিরোজা বেগম (৬০) মারা গেছেন। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। মোকামতলা–জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ফিরোজা বেগম গুরুতর আহত হন। নিহত ফিরোজা বেগম গোপীনাথপুর এলাকার মৃত নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি গাড়িতে করে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যাচ্ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। তাঁর সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন স্ত্রী নাজমা আরা বেগম। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের একটি গাড়িও তাঁদের সঙ্গে ছিল। গোপীনাথপুর এলাকায় পৌঁছানোর সময় মহাসড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন ফিরোজা বেগম। মহাসড়ক পার হওয়ার সময় হঠাৎ তিনি প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির সামনে চলে আসেন। তাঁকে বাঁচাতে চালক দ্রুত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। পরে সরকারি গাড়িটি সড়কের পাশের ধানখেতে নেমে যায় এবং ফিরোজা বেগম গুরুতর আহত হন। এ দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী ও তাঁর স্ত্রী নাজমা আরা বেগমও আহত হন। দুর্ঘটনার পর আহত ফিরোজা বেগমকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ফিরোজা বেগমের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী নাজমা আরা বেগম জানিয়েছিলেন, ওই নারীকে বাঁচাতে গিয়ে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন। এরপর গাড়িটি সড়কের পাশের ধানখেতে নেমে যায় বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহীনুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফিরোজা বেগমের মৃত্যুর পর ঘটনাটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৫:৫০
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় রোগীর সঙ্গে গোপন যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে থেরাপিস্ট মিশেল লুচাউ-রেবোরা গ্রেফতার হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
থেরাপি সেশনে রোগীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ, নারী থেরাপিস্ট গ্রেফতার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন এক রোগীর সঙ্গে গোপন যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে ৩২ বছর বয়সী নারী থেরাপিস্ট মিশেল লুচাউ-রেবোরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তিনি রোগীর সঙ্গে থেরাপি সেশনের সময়ও যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পাশাপাশি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ওই রোগীকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে বিভিন্ন অজুহাত তৈরিতে সহায়তা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।   মিশেল লুচাউ-রেবোরা ফ্লোরিডার হোমস্টেডের নিউ হোপ কর্পস নামের মাদক ও অ্যালকোহল চিকিৎসাকেন্দ্রে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক থেরাপিস্ট হিসেবে শিক্ষানবিশ ছিলেন। সেখানে চিকিৎসাধীন ৪২ বছর বয়সী এক পুরুষ রোগীর সঙ্গে তার প্রায় তিন মাসের যৌন সম্পর্ক ছিল বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই রোগীই পরে বিষয়টি তদন্তকারীদের জানান।   আটকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ওই তিন মাসের সময়ে তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক চলেছিল। কখনো কখনো থেরাপি সেশনের মধ্যেও তারা যৌন সম্পর্কে জড়াতেন বলে রোগী তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। তবে এসব তথ্য বর্তমানে তদন্তে উঠে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে, যা আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   কর্তৃপক্ষের আরও অভিযোগ, চিকিৎসাকেন্দ্রের কঠোর নিয়মের মধ্যে থাকা ওই রোগীকে বাইরে বের হওয়ার সুযোগ করে দিতে লুচাউ-রেবোরা বিভিন্ন অজুহাত তৈরিতে সহায়তা করতেন। এর ফলে রোগী অনুমতি নিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে বের হয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে পারতেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   অভিযোগ অনুযায়ী, রোগীর সঙ্গে দেখা করার কয়েকটি স্থান ছিল লুচাউ-রেবোরার নিজের বাড়ি, তার মায়ের বাড়ি এবং একটি স্থানীয় হাসপাতাল। অর্থাৎ চিকিৎসাকেন্দ্রের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় তাদের দেখা হতো বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে। এসব তথ্যও পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেছে।   তদন্তকারীদের কাছে ওই রোগী আরও অভিযোগ করেন, লুচাউ-রেবোরা তাকে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ হলে থেরাপিস্ট হিসেবে তার চাকরিতে প্রভাব পড়তে পারে বলেও তিনি রোগীকে সতর্ক করেছিলেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   পরে লুচাউ-রেবোরা ওই সম্পর্ক শেষ করে দেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এরপর ৪২ বছর বয়সী ওই রোগী চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ করেন। অভিযোগ জানার পর প্রতিষ্ঠানটি লুচাউ-রেবোরার শিক্ষানবিশ পদ বাতিল করে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানায়।   নিউ হোপ কর্পসের নির্বাহী পরিচালক স্টিফেন আলভারেজ জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়টি জানার পর প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাগুলোকে অবহিত করে। একই সঙ্গে লুচাউ-রেবোরার শিক্ষানবিশ পদ বাতিল করা হয় এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।   মিশেল লুচাউ-রেবোরা ১ সেপ্টেম্বর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তার জামিনের অর্থ ৫ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেন। তার বিরুদ্ধে একজন রোগীর সঙ্গে অনুমতি ছাড়া যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে দ্বিতীয় মাত্রার গুরুতর অপরাধের মামলা করা হয়েছে।   লুচাউ-রেবোরা অভিযোগ স্বীকার করেছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। একইভাবে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিয়েছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে মামলাটিতে বর্তমানে পুলিশের অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্যই সামনে রয়েছে।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর চিকিৎসক বা থেরাপিস্ট এবং রোগীর মধ্যকার পেশাগত সম্পর্কের সীমারেখা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে চিকিৎসাধীন একজন রোগীর সঙ্গে থেরাপিস্টের যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ এবং তাকে চিকিৎসাকেন্দ্রের বাইরে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ মামলাটিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।   সূত্র: পিপল, এনবিসি মায়ামি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৫:১৯
গোলাবারুদের ঘাটতির খবর নাকচ করে সমালোচকদের কড়া জবাব ট্রাম্পের
গোলাবারুদের ঘাটতি নেই দাবি করে সমালোচকদের ‘বিশ্বাসঘাতক আবর্জনা’ বললেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত কমে যাচ্ছে—এমন খবর প্রকাশের পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া দুটি পোস্টে তিনি এসব প্রতিবেদনকে ‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন।   বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই এসব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। বৃহস্পতিবার এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে গোলাবারুদ নেই—এমন দাবি করা সংবাদমাধ্যমগুলো ‘১০০ শতাংশ ভুল’। তার অভিযোগ, এসব সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জয় দেখতে চায় না। ট্রাম্প লেখেন, যারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে প্রচার করছে, তারা আসলে ‘বিশ্বাসঘাতক’। তার ভাষায়, এসব সংবাদমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে হেরে যাক—এটাই যেন চায়। এর কিছুক্ষণ পর আরও কড়া ভাষায় আরেকটি পোস্ট দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি সমালোচকদের ‘বিশ্বাসঘাতক আবর্জনা’ বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ‘প্রায় সীমাহীন’ পরিমাণ মাঝারি থেকে উচ্চমানের গোলাবারুদ রয়েছে।   ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন মাত্রায় গোলাবারুদ মজুত করছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবেই এই মজুত গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনেরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, বাইডেন প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে থাকা ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারের চেয়েও বেশি পরিমাণ গোলাবারুদ বিনামূল্যে দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেন ও ন্যাটোকে শত শত বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে, যার মূল্য ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে নেওয়া যেত। ভবিষ্যতে মিত্রদের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টিও আবার শুরু হবে বলে জানান তিনি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৫:১৮
ইসরায়েলের বাজারে একক জুতা বিক্রির প্রচারণায় সাবেক সেনাসদস্য শালেভ বিটনকে যুক্ত করেছে অ্যাডিডাস। ছবি: সংগৃহীত
গাজা যুদ্ধে এক পা হারানো সাবেক ইসরায়েলি সেনা অ্যাডিডাসের জুতার বিজ্ঞাপনে; সমালোচনা

জার্মান ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস ইসরায়েলের বাজারে চালু করা একক জুতা বিক্রির নতুন কর্মসূচির প্রচারণায় শালেভ বিটন নামের এক সাবেক ইসরায়েলি সেনাসদস্যকে যুক্ত করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে। ২০২১ সালে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় এক পা হারানো বিটনকে এই প্রচারণায় ব্যবহার করায় মানবাধিকারকর্মী ও ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।   অ্যাডিডাসের ইসরায়েল শাখা সম্প্রতি ‘একক জুতা সেবা’ নামে এই কর্মসূচি চালু করেছে। এর আওতায় নিম্নাঙ্গের কোনো অংশ হারানো বা এমন শারীরিক অবস্থার মানুষ, যাদের একটির বেশি জুতার প্রয়োজন নেই, তারা পুরো জোড়ার বদলে একটি জুতা কিনতে পারবেন। একটি জুতার দাম রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ জোড়ার দামের অর্ধেক।   এই কর্মসূচির প্রচারণায় শালেভ বিটনকে বিভিন্ন অ্যাডিডাসের দোকানে দেখা যাচ্ছে। ২০২১ সালের মে মাসে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় গুরুতর আহত হওয়ার পর তার একটি পা কেটে ফেলতে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি কৃত্রিম পা ব্যবহার করে হাঁটতে শেখেন।   বিটনের এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই একক জুতা বিক্রির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে আনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সাধারণত জুতা জোড়ায় বিক্রি হওয়ায় একটি পা হারানো ব্যক্তিদেরও দুটি জুতা কিনতে হয়। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে একটি জুতারই প্রয়োজন থাকায় অন্যটি অব্যবহৃত থেকে যায়। অ্যাডিডাসের নতুন কর্মসূচি সেই সমস্যার একটি বাণিজ্যিক সমাধান হিসেবে চালু করা হয়েছে।   তবে বিটনের সামরিক পরিচয় সামনে আসার পরই প্রচারণাটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। মানবাধিকারকর্মী ও ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত একজন সাবেক সেনাসদস্যকে ব্যবহার করে অ্যাডিডাস তাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ভাবমূর্তি তুলে ধরছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন ব্যবহারকারী প্রশ্ন করেছেন, পা হারানো ফিলিস্তিনিদের জন্যও অ্যাডিডাস একই ধরনের সুবিধা দিচ্ছে কি না। অন্য এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, অ্যাডিডাসের উচিত দ্বিতীয় জুতাটি গাজার শিশুদের দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা।   কেউ কেউ আবার অ্যাডিডাসের এই প্রচারণা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আপত্তির মূল বিষয় হলো, গাজা যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন সাবেক ইসরায়েলি সেনাকে কেন প্রতিষ্ঠানটির এই কর্মসূচির প্রচারণার মুখ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণাটিকে কেন্দ্র করে অ্যাডিডাসের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও বর্জনের আহ্বানও দেখা গেছে।   অ্যাডিডাসের একক জুতা বিক্রির কর্মসূচি অবশ্য শুধু ইসরায়েলেই শুরু হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের শুরুতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই সেবা চালু করেছিল। পরে আগস্টে ইসরায়েলের বাজারেও কর্মসূচিটি চালু করা হয়। ইসরায়েলে অ্যাডিডাসের নিজস্ব দোকান ও ছাড়ের দোকানগুলোতে এই সুবিধা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।   অ্যাডিডাসের এই উদ্যোগের লক্ষ্য মূলত নিম্নাঙ্গের প্রতিবন্ধকতা বা অঙ্গহানির কারণে যাদের একটি জুতার প্রয়োজন, তাদের জন্য আলাদা করে জুতা কেনার সুযোগ তৈরি করা। তবে সেই কর্মসূচির প্রচারণায় শালেভ বিটনের অংশগ্রহণের কারণে বিষয়টি এখন মানবাধিকার ও ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।   অ্যাডিডাসকে ঘিরে এ ধরনের বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিষ্ঠানটির একটি জুতার প্রচারণা থেকে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন সুপারমডেল বেলা হাদিদকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তও আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়েছিল। সে সময় ইসরায়েলি সরকার ও ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপের বিষয়টি সামনে এসেছিল।   বর্তমান ঘটনাতেও একদিকে অঙ্গহানির শিকার মানুষের জন্য একক জুতা কেনার সুবিধার কথা সামনে এসেছে, অন্যদিকে সেই কর্মসূচির প্রচারণায় গাজা যুদ্ধে এক পা হারানো সাবেক ইসরায়েলি সেনাকে যুক্ত করায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ফলে অ্যাডিডাসের নতুন এই বাণিজ্যিক প্রচারণা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৫:৫
ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ এলাকার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
‘চিকেনস নেক’-এ চার লেনের মহাসড়ক বানাচ্ছে ভারত, ব্যয় ২ হাজার কোটি রুপি

ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ এলাকায় ৩১ দশমিক ২ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সরকার। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় বাগডোগরা, পানিটঙ্কি, খড়িবাড়ি ও গালগালিয়া অংশের এই মহাসড়ক উন্নয়নে ব্যয় হবে ২ হাজার ৭৭ কোটি ১৮ লাখ রুপি। প্রকল্পটি জাতীয় মহাসড়ক ৩২৭-এর ওই অংশে বাস্তবায়ন করা হবে।   ভারতের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়কমন্ত্রী নিতিন গড়করি বৃহস্পতিবার প্রকল্পটির অনুমোদনের কথা জানান। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাগডোগরা থেকে পানিটঙ্কি, খড়িবাড়ি হয়ে গালগালিয়া পর্যন্ত ৩১ দশমিক ২ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করা হবে। প্রকল্পের আওতায় তিনটি বড় সেতু, একটি সড়ক উড়ালসেতু এবং দুই পাশে সেবা সড়ক নির্মাণ করা হবে।   প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পাঁচটি হাতি চলাচলের নিচপথ নির্মাণ। মহাসড়কের যেসব এলাকায় হাতির চলাচল রয়েছে, সেসব স্থানে এসব নিচপথ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে একদিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি অন্যদিকে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচলের সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।   ভারতের জন্য শিলিগুড়ি করিডোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগপথ। দেশটির মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই করিডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে এই এলাকায় সড়ক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি যানজট কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।   চার লেনে উন্নীত হওয়ার পর বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি ও পানিটঙ্কি এলাকার যান চলাচল সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাগডোগরা বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগও আরও উন্নত হবে। প্রকল্পটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের দিকে যাতায়াতের পথও আরও কার্যকর করবে বলে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   এই মহাসড়ক দিয়ে কৃষি, উদ্যানজাত পণ্য, চা এবং অন্যান্য স্থানীয় পণ্য বড় বাজারে দ্রুত পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। ফলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার পণ্য পরিবহন ও আঞ্চলিক যোগাযোগে প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় মহাসড়ক ৩২৭-এর এই অংশটি জাতীয় মহাসড়ক ২৭-এর একটি বিকল্প পথ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বাগডোগরার কাছে এই মহাসড়ক জাতীয় মহাসড়ক ২৭-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ফলে শিলিগুড়ি করিডোরের ওপর যোগাযোগের চাপ কমানোর পাশাপাশি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ করার সুযোগ তৈরি হবে।   তবে প্রকল্পটির জন্য বনভূমি ব্যবহারের প্রয়োজন হওয়ায় পরিবেশগত অনুমোদন প্রক্রিয়ায় আপত্তির বিষয়ও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে বন্যপ্রাণীর চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পাঁচটি হাতি চলাচলের নিচপথ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় মানুষ ও হাতির সংঘাত কমানোও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।   ভারত সরকারের এই অনুমোদনের ফলে শিলিগুড়ি করিডোরের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে বড় একটি প্রকল্প এগিয়ে গেল। ২ হাজার ৭৭ কোটি ১৮ লাখ রুপি ব্যয়ে চার লেনের এই মহাসড়কের পাশাপাশি সেতু, উড়ালসেতু, সেবা সড়ক ও হাতি চলাচলের নিচপথ নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৪:৪৯
থাইল্যান্ডে মারামারিতে জড়ানো দুই মার্কিন সেনাসদস্যকে রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডে মদ্যপ অবস্থায় মারামারি, মার্কিন রণতরিতে ফেরত পাঠানো হলো দুই সেনাকে

থাইল্যান্ড সফরের সময় মদ্যপ অবস্থায় মারামারিতে জড়িয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনাসদস্যকে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে রণতরীটি থাইল্যান্ডের একটি বন্দরে অবস্থান করছে। প্রায় ২৮৬ দিন সমুদ্রে থাকার পর অবকাশ কাটাতে থাইল্যান্ডে আসা সেনাসদস্যদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে।   ওই দুই সেনাসদস্যের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাদের থাইল্যান্ডের পাতায়ায় রণতরীটির পাঁচ দিনের অবস্থানের বাকি সময় জাহাজেই থাকতে হবে। পাতায়া থাইল্যান্ডের সমুদ্রতীরবর্তী একটি জনপ্রিয় পর্যটননগরী এবং রাতের বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।   বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১টার দিকে একজন থাই নাগরিক জরুরি নম্বরে ফোন করে জানান, শহরের একটি বারের কাছে দুই মার্কিন সেনাসদস্যের মধ্যে হাতাহাতি চলছে। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।   পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দুই সেনাসদস্যকে পাতায়ার হার্ড রক ক্যাফেতে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডের যৌথ পরিচালনা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাদের রণতরীতে ফেরত পাঠানো হয়। থাই পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি, কারণ তারা থাইল্যান্ডের কোনো আইন ভঙ্গ করেননি।   এক থাই কর্মকর্তা ঘটনাটিকে ছোটখাটো ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই সেনাসদস্যই মদ্যপ ছিলেন এবং তারা মারামারির পাশাপাশি উচ্চস্বরে কথা বলছিলেন। জরুরি নম্বরে ফোন করা ব্যক্তি আশঙ্কা করেছিলেন, হাতাহাতির ঘটনা আরও বড় আকার নিতে পারে। সে কারণেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।   ঘটনার পর দুই সেনাসদস্যকে রণতরীতে ফেরত পাঠানো হলেও থাই পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। রণতরীতে ফেরার পর তাদের পাতায়ায় অবস্থানের বাকি সময় জাহাজের মধ্যেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছায়। রণতরীটির প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্যের জন্য এটি ছিল দীর্ঘ সময় পর তীরে নামার সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে রণতরীটি মোট ২৮৬ দিন সমুদ্রে ছিল এবং এর আগে টানা ২৬৪ দিন সমুদ্রে অবস্থান করেছিল।   রণতরীটির থাইল্যান্ড সফরটি দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার পর নাবিক ও মেরিন সদস্যদের বিশ্রামের সুযোগ হিসেবে এসেছে। তারা পাতায়াসহ আশপাশের এলাকায় অবকাশ কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যেই দুই সেনাসদস্যের মদ্যপ অবস্থায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং তাদের আবার রণতরীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।   থাই পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে গুরুতর হিসেবে দেখা হয়নি। তবে স্থানীয় একজন বাসিন্দার জরুরি ফোনের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও বড় আকার নেওয়ার আগেই তা থামানো সম্ভব হয়। পরে দুই সেনাসদস্যকে রণতরীতে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৪:২১
যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং সঠিক নম্বরে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া সহজ হয়। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় নতুন? ৯১১ ছাড়াও জরুরি সময়ে কাজে লাগবে যেসব নম্বর, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা অনেক প্রবাসীই জরুরি পরিস্থিতি মানেই ৯১১ মনে করেন। কিন্তু সব ধরনের সমস্যা ৯১১-এর আওতাভুক্ত নয়। জীবন বা সম্পদের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি না থাকলে স্থানীয় নন-ইমার্জেন্সি সেবা, পয়জন কন্ট্রোল বা মানসিক সংকটের জন্য ৯৮৮-এর মতো আলাদা নম্বর রয়েছে। সঠিক পরিস্থিতিতে সঠিক নম্বরে যোগাযোগ করলে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া সহজ হয়।   ৯১১ হলো জীবনহানির আশঙ্কা, গুরুতর অপরাধ চলমান থাকা, আগুন, গুরুতর মেডিকেল ইমার্জেন্সি বা বড় দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতির জন্য। কল করার সময় নিজের সঠিক লোকেশন, কী ঘটেছে এবং কেউ আহত বা বিপদে আছে কি না, তা পরিষ্কারভাবে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। ভাষাগত সমস্যা হলে ৯১১ কল সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দোভাষী সহায়তা চাওয়া যায়।    শহরের সাধারণ সমস্যা বা নন-ইমার্জেন্সি সেবার জন্য অনেক জায়গায় ৩১১ ব্যবহার করা হয়। তবে ৩১১ জাতীয় একটি সর্বজনীন নম্বর নয়, এটি স্থানীয় সরকারের সেবা। যেমন হিউস্টনে ৩১১ দিয়ে রাস্তার গর্ত, পানি বা স্যুয়ার লিক, আবর্জনা সংগ্রহের সমস্যা ও অন্যান্য নন-ইমার্জেন্সি বিষয় জানানো যায়। জরুরি পরিস্থিতিতে হিউস্টন কর্তৃপক্ষও ৯১১-এ কল করতে বলেছে।    কেউ ভুল করে ওষুধ, ক্লিনিং কেমিক্যাল বা অন্য কোনো সম্ভাব্য বিষাক্ত পদার্থ খেয়ে ফেললে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পয়জন কন্ট্রোল নম্বর ১-৮০০-২২২-১২২২-এ যোগাযোগ করা যায়। পয়জন কন্ট্রোলের সেবা বিনামূল্যে, গোপনীয় এবং ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। তবে আক্রান্ত ব্যক্তি অচেতন হয়ে গেলে, শ্বাস নিতে সমস্যা হলে, খিঁচুনি হলে বা জাগানো না গেলে অপেক্ষা না করে ৯১১-এ কল করতে হবে।   মানসিক সংকট বা আত্মহত্যার চিন্তার ক্ষেত্রে ৯৮৮ সুইসাইড অ্যান্ড ক্রাইসিস লাইফলাইন গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারে। এটি মানসিক সংকটে থাকা ব্যক্তি বা তার পরিবারের সদস্যদের জন্য ব্যবহার করা যায়। তবে সংকটের ধরন অনুযায়ী জরুরি শারীরিক ঝুঁকি থাকলে ৯১১-এর প্রয়োজন হতে পারে।   পুলিশের এমন ঘটনায় যেখানে তাৎক্ষণিক বিপদ নেই, স্থানীয় পুলিশ বিভাগের নন-ইমার্জেন্সি নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। যেমন চুরি বা প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে কিন্তু অপরাধী ঘটনাস্থলে নেই, কিংবা কোনো নথি হারিয়ে গেছে। এই নম্বর শহর ও পুলিশ বিভাগের ওপর নির্ভর করে, তাই নিজের এলাকার অফিসিয়াল পুলিশ ওয়েবসাইট থেকে নম্বরটি সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।   হাইওয়েতে গাড়ি নষ্ট হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ৯১১, স্থানীয় ট্রাফিক সেবা বা গাড়ির ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির রোডসাইড অ্যাসিস্ট্যান্স ব্যবহার করতে হয়। ৫১১ নম্বরটি অনেক অঙ্গরাজ্যে ট্রাফিক ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ব্যবহৃত হলেও এটি সব ধরনের জরুরি সেবার বিকল্প নয়। তাই ৫১১ সব জায়গায় একই ধরনের সেবা দেবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।   নতুন প্রবাসীদের জন্য আরও একটি ভালো অভ্যাস হলো ফোনে জরুরি কন্টাক্ট সংরক্ষণ করা এবং আইফোনের মেডিক্যাল আইডি বা অ্যান্ড্রয়েডের ইমারজেন্সি ইনফরমেশন সেটআপ করে রাখা। সেখানে জরুরি যোগাযোগের ব্যক্তির তথ্য ও প্রয়োজনীয় মেডিকেল তথ্য রাখা যেতে পারে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জরুরি পরিস্থিতিতে আগে বুঝতে হবে সেটি জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করছে কি না। তাৎক্ষণিক বিপদ থাকলে ৯১১-ই প্রথম পছন্দ। আর নন-ইমার্জেন্সি সমস্যার ক্ষেত্রে নিজের শহর বা অঙ্গরাজ্যের নির্দিষ্ট সেবা নম্বর ব্যবহার করাই নিরাপদ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ২:৫৪
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে সীমিত পরিসরে চালকবিহীন ‘সাইবারক্যাব’ রাইড চালু করেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে চালকবিহীন ‘সাইবারক্যাব’ চালু করল টেসলা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে সীমিত পরিসরে চালকবিহীন ‘সাইবারক্যাব’ রাইড চালু করেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা। স্টিয়ারিং হুইল ও প্যাডেলবিহীন দুই আসনের এই গাড়ির মাধ্যমে রোবোট্যাক্সি ব্যবসায় ওয়েমোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামার পথে আরও এক ধাপ এগোল ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানটি। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সাইবারক্যাব চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।    সোনালি রঙের সাইবারক্যাব প্রথমবার প্রদর্শন করা হয়েছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে। গাড়িটিতে প্রচলিত স্টিয়ারিং হুইল বা ব্রেক ও অ্যাক্সিলারেটর প্যাডেল নেই। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলার জন্য গাড়িটি ক্যামেরা ও বিভিন্ন সেন্সরনির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করে।    প্রথম ধাপে অস্টিনের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সাইবারক্যাব রাইড দেওয়া হচ্ছে। এর আগে টেসলা অস্টিনসহ কয়েকটি শহরে মডেল ওয়াই গাড়ি ব্যবহার করে চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি সেবা চালু করেছিল। টেসলার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অস্টিন, ডালাস ও হিউস্টনসহ টেক্সাসের কয়েকটি শহর এবং ফ্লোরিডার মিয়ামি, অরল্যান্ডো ও টাম্পায় তাদের রোবোট্যাক্সি সেবা চলছে।    সাইবারক্যাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রাকে টেসলার স্বয়ংক্রিয় পরিবহন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে এই বিশেষভাবে তৈরি গাড়িকে তাদের রোবোট্যাক্সি বহরের মূল যান হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। জুলাইয়ে টেসলা জানিয়েছিল, সাইবারক্যাবের উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং পাবলিক রোডে এর ইঞ্জিনিয়ারিং টেস্ট ড্রাইভও শুরু করা হয়েছিল।    অন্যদিকে, চালকবিহীন রাইড-হেইলিং বাজারে ওয়েমো ইতিমধ্যেই বড় পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি ১ সেপ্টেম্বর ডেনভার, সান ডিয়েগো ও টাম্পায় পাবলিক রাইড চালু করে জানায়, এর মাধ্যমে ১৪টি শহরে তাদের সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় রাইড সেবা পৌঁছেছে।    তবে টেসলার নতুন সেবার বিস্তার নিয়ে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এনএইচটিএসএ জানিয়েছে, অস্টিনে সাইবারক্যাব চালুর বিষয়টি তারা মূল্যায়ন করছে।    সাইবারক্যাবের যাত্রা শুরু হলেও টেসলা কত দ্রুত এই সেবা বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে পারবে এবং এটি কতটা লাভজনক হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের আস্থাই রোবোট্যাক্সি ব্যবসায় টেসলার ভবিষ্যৎ সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ২:৩৯
পাঁচ বছরের মেয়ে শার্লট বাসকিকে অনাহার ও পানিশূন্যতায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অনাহারে মৃত্যু ৫ বছরের শিশুর, আলমারিতে মিলল মল ও উকুনে ঢাকা অবস্থায় দেহ, বাবা আটক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের শেনেকট্যাডিতে পাঁচ বছরের মেয়ে শার্লট বাসকিকে অনাহার ও পানিশূন্যতায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় তার বাবা রবার্ট এস. বাসকি জুনিয়রকে ২৭ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা ও শিশুকে নিয়ন্ত্রিত মাদক দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি।    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আদালতে দোষ স্বীকার করেন ৩৫ বছর বয়সী বাসকি। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি মেয়েকে বাড়ির একটি শোবার ঘরে আটকে রাখতেন। ঘরের বাইরে খাবার থাকলেও শিশুটিকে খাবার ও পানি দেওয়া হতো না। দীর্ঘদিন অবহেলা ও অপুষ্টির পর ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল পুলিশ তাকে ওই ঘর থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।  ঘটনাস্থলে বাসকির তিন বছর বয়সী ছেলেকেও একটি অস্থায়ী খাঁচার মতো কাঠামোর মধ্যে পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা জানান, দুই শিশুকেই কয়েক মাস ধরে পরিবারের অন্য সদস্য ও বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল। তারা চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছিল না এবং স্কুলেও ভর্তি ছিল না। পরে দুই শিশুর শরীরে কোকেনের উপস্থিতিও পাওয়া যায়।    প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসকি মাদক ব্যবহার ও ভিডিও গেম খেলায় ব্যস্ত থাকতেন এবং শিশুদের দায়িত্ব নেওয়া এড়াতে তাদের আটকে রাখতেন। শার্লটের মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তে তার শরীরে চরম অপুষ্টি ও পানিশূন্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়।    আদালতের নথি অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় শার্লটের ওজন ছিল মাত্র ৩০ পাউন্ড। আড়াই বছর বয়সে তার ওজন ছিল ৪০ পাউন্ড। প্রসিকিউটর ক্রিস্টিনা ট্রেমান্তে-পেলহাম বলেন, শিশুটির অবস্থা কয়েক মাস ধরে খারাপ হচ্ছিল।    জানুয়ারিতে দোষ স্বীকারের পর আদালত বাসকিকে হত্যা মামলায় ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন এবং মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে আরও দুই বছরের সাজা নির্ধারণ করে। ৩ এপ্রিল ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মোট ২৭ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার জীবিত ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ নিষিদ্ধ করার আদেশও দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ২:২৮
মধ্যপ্রদেশের ২০ বছর বয়সী সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী নিজের উদ্যোগে দূষিত অজনার নদী পরিষ্কার করে আলোচনায় এসেছেন। ছবি: সংগৃহীত
প্রশাসনের অপেক্ষা না করে, হাতে ইনফেকশন হওয়া স্বত্তেও একাই নদী পরিষ্কারে ২০ বছরের এই ছাত্র

মধ্যপ্রদেশের বিয়াওরার ২০ বছর বয়সী সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিট্টু তাবাহি’ নামে পরিচিত, নিজের উদ্যোগে দূষিত অজনার নদী পরিষ্কার করে আলোচনায় এসেছেন। নদীর পানিতে ও আশপাশে জমে থাকা প্লাস্টিক, বোতল ও নানা ধরনের বর্জ্য দেখে তিনি অন্য কারও অপেক্ষা না করে নিজেই পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেন। তার আগে ও পরের ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।   বিএসসি পড়ুয়া বিট্টু ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি বন্ধুদের নিয়ে নদী পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। পরে অন্যরা সরে গেলেও তিনি কাজ চালিয়ে যান। কোনো বড় আয়োজন বা সরকারি পরিচ্ছন্নতা দলের ওপর নির্ভর না করে নিজের অর্থে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে বর্জ্য সরাতে থাকেন। কিছু অংশ পরিষ্কার করতে তাকে কয়েক মাস ধরে নিয়মিত পরিশ্রম করতে হয়েছে।    এই কাজ করতে গিয়ে সমালোচনাও শুনতে হয়েছে বিট্টুকে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়ার জন্যই তিনি নদী পরিষ্কার করছেন। তবে এসব সমালোচনা তাকে থামাতে পারেনি। দীর্ঘ সময় দূষিত পানিতে কাজ করার কারণে তার হাতে সংক্রমণসহ স্বাস্থ্যগত সমস্যাও দেখা দিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    বিট্টুর কাজের আগে ও পরের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রশংসা শুরু হয়। বিষয়টি নজরে আসে ভারতের শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রারও। তিনি বিট্টুর উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তাকে যদি বাস্তব ও অর্থবহ কাজে ব্যবহার করা যায়, সেটি ইতিবাচক বিষয়।    বিট্টুর উদ্যোগ এখন শুধু একটি নদী পরিষ্কারের গল্প নয়, স্থানীয় পরিবেশ রক্ষায় একজন তরুণের ব্যক্তিগত উদ্যোগের উদাহরণ হিসেবেও আলোচনায় এসেছে। তার কাজ একই সঙ্গে নদী দূষণ এবং পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ২:২১
সৌদি আরবে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ইসলাম গ্রহণ করেন সাইমন কলিস। ছবি: সংগৃহীত
৩০ বছর মুসলিমদের সাথে কাজের পর ইসলাম গ্রহণ ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সাইমন কলিসের

সৌদি আরবে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আলোচনায় আসেন সাইমন কলিস। ২০১১ সালে স্ত্রী হুদা মুজারকেশকে বিয়ের আগে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। ২০১৬ সালে সৌদি আরবের মক্কায় হজ পালন করে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। কলিস নিজেই জানিয়েছিলেন, মুসলিম সমাজে প্রায় ৩০ বছর বসবাস ও কাজের অভিজ্ঞতার পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।    কলিস ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে হজ পালনের সময় তাকে সাদা ইহরাম পরা অবস্থায় মক্কায় দেখা যায়। স্ত্রী হুদা মুজারকেশের সঙ্গে তাঁর হজ পালনের ছবিও সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।    তাঁর ইসলাম গ্রহণের খবর আগে থেকেই কিছু কূটনীতিক ও সাংবাদিকের মধ্যে জানা থাকলেও ২০১৬ সালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সৌদি লেখক ও শিক্ষাবিদ ফাওজিয়া আল-বাকর হজের সময় কলিস ও তাঁর স্ত্রীর ছবি প্রকাশ করে জানান, ইসলাম গ্রহণের পর তিনিই ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে হজ পালন করছেন। এরপর কলিস নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ইসলাম গ্রহণের কথা নিশ্চিত করেন।    দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে কলিস মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় দায়িত্ব পালন করেন। ব্রিটিশ সরকারের জীবনী অনুযায়ী, তিনি বাহরাইন, তিউনিস, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, সিরিয়া, কাতার ও সৌদি আরবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। তিনি আরবি ভাষাও শিখেছিলেন এবং ১৯৭৮ সালে ব্রিটিশ ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসে যোগ দেন।    তিনি ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কাতারে, ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সিরিয়ায় এবং ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইরাকে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ছিলেন। এরপর ২০১৫ সালে সৌদি আরবে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেন। ২০২০ সালে তাঁর কূটনৈতিক দায়িত্বের অধ্যায় শেষ হয়।    ২০১৬ সালের হজের ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়, কারণ তখন দায়িত্বে থাকা অবস্থায় একজন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের হজ পালনের ঘটনা হিসেবে এটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল। তবে সে সময়ের সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁকে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে প্রথম হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে কিছু প্রতিবেদনে ‘সম্ভবত প্রথম’ বলেও সতর্কতা রাখা হয়েছিল।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ২:১২