- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
মিশরের ফাইয়ুম প্রদেশের এক নির্মাণশ্রমিক বাবার দীর্ঘ ৩৫ বছরের সংগ্রামের গল্প এখন দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সালাহ নামের ওই বাবা নির্মাণকাজ করে জীবিকা চালানোর পাশাপাশি নিজের আট মেয়ের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে তার আট মেয়েই মেডিকেল কলেজের পড়াশোনা শেষ করে চিকিৎসক হয়েছেন। মিশরীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানা যায়, ফাইয়ুমের ইউসুফ আল-সিদ্দিক এলাকার কারুন গ্রামের বাসিন্দা সালাহ ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজ করেছেন। ইট ও সিমেন্ট বহনের মতো কঠিন কাজ করে সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি মেয়েদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। সংসারের এই দীর্ঘ লড়াইয়ে সালাহর স্ত্রীও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পরিবারের দৈনন্দিন দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তিনি পশুখাদ্য বিক্রি করে আয় করতেন। স্বামী-স্ত্রীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আট মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। অর্থনৈতিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন এই দম্পতি। একে একে আট মেয়েই মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা শেষ করেন এবং চিকিৎসক হিসেবে স্নাতক হন। তাদের এই সাফল্যই কয়েক দশকের পারিবারিক সংগ্রামের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়ে ওঠে। সালাহর বক্তব্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, জীবনে প্রাপ্তি শুধু অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সন্তানদের সঠিকভাবে মানুষ করাও বড় ধরনের প্রাপ্তি। আট মেয়েকে চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলতে পারাকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তার এই গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই সন্তানদের শিক্ষার প্রতি তার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে সীমিত আয়ের একটি পরিবার থেকে আটজন চিকিৎসক হয়ে ওঠার ঘটনাটি মানুষের আগ্রহ তৈরি করেছে। মেয়েদের পড়াশোনা শেষ করার স্বপ্ন পূরণের পর এখন সালাহর আরেকটি ইচ্ছা রয়েছে। স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে পবিত্র হজ পালন করতে চান তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনের পর এটিকেই তিনি জীবনের পরবর্তী বড় স্বপ্ন হিসেবে দেখছেন। ফাইয়ুমের এই পরিবারের গল্পে যেমন রয়েছে দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, তেমনি রয়েছে বাবা-মায়ের যৌথ প্রচেষ্টা এবং সন্তানদের শিক্ষার প্রতি অটুট অঙ্গীকার। ৩৫ বছরের সংগ্রামের পর আট মেয়ের চিকিৎসক হয়ে ওঠা সেই প্রচেষ্টারই পরিণতি।
নিউ ইয়র্কে এভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ দিচ্ছে এভিয়েশন প্রেপ অ্যাকাডেমি। প্রতিষ্ঠানটির চতুর্থ ব্যাচের ৫৫ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হবে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। প্রশিক্ষণটি নিউ ইয়র্কের রকভিল সেন্টারে সরাসরি উপস্থিত হয়ে করতে হবে। এভিয়েশন প্রেপ অ্যাকাডেমির তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটি মূলত এভিয়েশন খাতের প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরির জন্য অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুত করতে তৈরি করা হয়েছে। যেসব চাকরির জন্য চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না, সেসব পেশায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক জ্ঞান ও কর্মদক্ষতার ওপর প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আবেদনকারীদের উচ্চবিদ্যালয়ের ডিপ্লোমা অথবা জিইডি থাকতে হবে। পাশাপাশি এভিয়েশন খাতে কাজ করার আগ্রহ থাকতে হবে। চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি না থাকলেও এ কর্মসূচির মাধ্যমে এভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানা এবং চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটির অর্থায়নে রয়েছে এমঅ্যান্ডটি ব্যাংক। রকভিল সেন্টারের হিস্পানিক ব্রাদারহুডের সহযোগিতায় এটি পরিচালিত হচ্ছে। অ্যাকাডেমির তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যাচটি হবে কর্মসূচিটির চতুর্থ ব্যাচ। এভিয়েশন প্রেপ অ্যাকাডেমি জানিয়েছে, কর্মসূচিটি শুধু নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নয়। যারা পেশা পরিবর্তন করতে চান কিংবা ইতিমধ্যে এভিয়েশন খাতে কাজ করছেন এবং ক্যারিয়ারে আরও এগিয়ে যেতে চান, তারাও এই প্রশিক্ষণ থেকে উপকৃত হতে পারেন। অ্যাকাডেমির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এভিয়েশন খাতে এমন বেশ কিছু পেশা রয়েছে যেখানে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি ছাড়াই ভালো বেতন ও বিভিন্ন সুবিধাসহ ক্যারিয়ার শুরু করার সুযোগ রয়েছে। সেই সম্ভাব্য কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা দেওয়াও প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য। ২৪ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া নতুন ব্যাচে আসন সীমিত। তাই এভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের আবেদন ও যোগ্যতার বিস্তারিত তথ্য জেনে দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলাইনার এক কিশোরের জীবন শুরু হয়েছিল তীব্র মাথাব্যথা দিয়ে। প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়ি ফিরে যায় পরিবার। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা যায়, তার শরীরে বাসা বেঁধেছে বিরল ও প্রায়ই প্রাণঘাতী এক ধরনের অ্যামিবা। কিশোরটির নাম মোইসেস পন্সে মেন্দোজা। উত্তর ক্যারোলাইনা স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ জানিয়েছে, নেগলেরিয়া ফাওলেরি নামের অ্যামিবার সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার পর ৩১ আগস্ট তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অনলাইনে প্রকাশিত তহবিল সংগ্রহের পাতায় তার মা মোনিকা মেন্দোজাও ছেলের নাম ও অসুস্থতার বিস্তারিত জানিয়েছেন। ঘটনাটি শুরু হয় ২১ আগস্ট রাতে। মোনিকা মেন্দোজার ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন তার ছেলে প্রচণ্ড মাথাব্যথায় আক্রান্ত হয়। তাকে আলামান্স কাউন্টির বার্লিংটনের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করার পর পরিবারকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরদিন সকালেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। মোনিকা জানান, সকাল ৭টার দিকে তিনি ছেলেকে নিয়ে নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ছুটে যান। সেখানকার চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নেগলেরিয়া ফাওলেরি সংক্রমণ শনাক্ত করেন। তখন পর্যন্ত সংক্রমণটি তার মস্তিষ্কে গুরুতর প্রদাহ ও ক্ষতি তৈরি করেছিল। নেগলেরিয়া ফাওলেরি একটি অতি ক্ষুদ্র এককোষী জীব, যা সাধারণত উষ্ণ মিঠা পানিতে পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দূষিত পানি নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করলে বিরল এই জীব মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে। এরপর এটি প্রাথমিক অ্যামিবিক মেনিনজোএনসেফালাইটিস বা পিএএম নামে গুরুতর মস্তিষ্কের সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এই সংক্রমণ অত্যন্ত বিরল। যুক্তরাষ্ট্রে বছরে সাধারণত ১০টিরও কম সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়। তবে উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর রোগটি দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এবং অধিকাংশ আক্রান্ত ব্যক্তি বাঁচেন না। ১৯৩৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৮০টি নিশ্চিত সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মোইসেসের ক্ষেত্রেও রোগটি দ্রুত এগিয়ে যায়। পরিবারের প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জীবন বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি কোমায় চলে যান। কয়েক দিন চিকিৎসার পর ৩১ আগস্ট তার মৃত্যু হয়। কিশোরটির সংক্রমণ কোথা থেকে হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। নর্থ ক্যারোলাইনা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস খতিয়ে দেখছেন। পরিবারের বর্ণনায় ধারণা করা হয়েছে, উষ্ণ মিঠা পানিতে সাঁতার কাটার সময় তার শরীরে অ্যামিবা প্রবেশ করে থাকতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট জলাশয়কে এখনো সংক্রমণের উৎস হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেগলেরিয়া ফাওলেরি সাধারণত উষ্ণ পুকুর, হ্রদ, নদী ও অন্যান্য মিঠা পানিতে পাওয়া যায়। এটি লবণাক্ত পানিতে থাকে না এবং যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত ও ক্লোরিনযুক্ত সুইমিং পুলে এর ঝুঁকি অত্যন্ত কম। অ্যামিবা-যুক্ত পানি নাক দিয়ে প্রবেশ করাই সংক্রমণের প্রধান পথ। পানি গিলে ফেললে সাধারণত এই সংক্রমণ হয় না। তবে এই সংক্রমণ একজন মানুষ থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়ায় না। অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা থেকে অন্য কারও সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। মূল ঝুঁকি তৈরি হয় উষ্ণ মিঠা পানির সঙ্গে নাকের সরাসরি সংস্পর্শে। রোগটির শুরুতে উপসর্গ অনেকটা সাধারণ অসুস্থতার মতো হতে পারে। তীব্র মাথাব্যথা, জ্বর, বমি বমি ভাব বা বমি দিয়ে শুরু হওয়ার পর দ্রুত ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি ও অচেতনতার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। মোইসেসের মৃত্যু এমন সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের আরও একটি মৃত্যুর ঘটনা স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। লুইজিয়ানায় সম্প্রতি আট বছর বয়সী এক শিশুও নেগলেরিয়া ফাওলেরি সংক্রমণে মারা যায়। একই সময়ে একাধিক ঘটনা সামনে আসায় উষ্ণ মিঠা পানিতে বিনোদনমূলক কার্যক্রমের সময় সতর্কতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, উষ্ণ মিঠা পানিতে সাঁতার বা ডুব দেওয়ার সময় নাক চেপে রাখা বা নাকের ক্লিপ ব্যবহার করা যেতে পারে। পানির তলদেশের মাটি নাড়াচাড়া না করা এবং নাক পরিষ্কারের জন্য অপরিশোধিত কলের পানি ব্যবহার না করাও গুরুত্বপূর্ণ। নাক পরিষ্কারের ক্ষেত্রে পাতিত বা সঠিকভাবে ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। মোইসেসের মা মোনিকা অনলাইনে ছেলের চিকিৎসা ব্যয় ও অন্যান্য জরুরি খরচ মেটাতে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ছেলেকে প্রাণবন্ত তরুণ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং চিকিৎসার জন্য মানুষের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। পরে সেই প্রচেষ্টার মধ্যেই ছেলের মৃত্যুসংবাদ আসে। নেগলেরিয়া ফাওলেরি সংক্রমণ অত্যন্ত বিরল হলেও এর দ্রুত অগ্রগতি চিকিৎসকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। মোইসেসের ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল, উষ্ণ মিঠা পানিতে এমন ঝুঁকি খুবই কম হলেও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে উষ্ণ জলাশয়ে সাঁতার কাটার সময় নাক দিয়ে পানি প্রবেশ ঠেকানোই এই বিরল সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়। সংবাদসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আগামী এক দশকের মধ্যে বিশ্বে অন্তত ১০০ কোটি হিউম্যানয়েড বা মানবাকৃতির রোবট তৈরি হবে। আর এই রোবটগুলো পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতার চেয়েও বেশি উৎপাদনশীল হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের জি-২০ সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান নির্বাহী এই মন্তব্য করেন। তিনি ধারণা করছেন, একটি হিউম্যানয়েড রোবটের উৎপাদন ক্ষমতা সাধারণ একজন মানুষের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি হবে। এরপর রোবটরাই অন্যান্য রোবট তৈরি করা শুরু করবে, যা একটি রিকার্সিভ বা চক্রাকার প্রভাব তৈরি করবে। ইলন মাস্ক বলেন, শুরুতে এটি খুব ধীরগতিতে এগোলেও পরে তা বিস্ফোরক গতিতে বাড়বে। আজ থেকে ১০ বছর পর আমি বলতে পারি যে, পৃথিবীতে ১০০ কোটিরও বেশি হিউম্যানয়েড রোবট থাকবে। প্রতিটি রোবটের উৎপাদন ক্ষমতা সম্ভবত একজন মানুষের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি হবে। এর মানে হলো, এই ১০০ কোটি রোবট পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত ক্ষমতার চেয়েও বেশি কাজ করতে পারবে। তিনি এটিকে একটি রক্ষণশীল হিসাব বলে উল্লেখ করে জানান, তিনি এই বিষয়ে বাজি ধরতেও প্রস্তুত। মাস্কের মতে, একটি রোবটের কার্যকারিতা তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। সেগুলো হলো এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যার কতটা উন্নত, রোবটের ভেতরের এআই চিপ কতটা শক্তিশালী এবং রোবটের ইলেকট্রোমেকানিকাল দক্ষতা বা হাত দিয়ে সূক্ষ্ম কাজ করার ক্ষমতা কতটা নিখুঁত। এই তিনটি বিষয়ই দ্রুতগতিতে উন্নত হচ্ছে বলে তিনি জানান। এদিকে স্মার্ট অ্যানালিটিকস গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯ হাজার ১০০টি হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, চলতি বছর শেষে এই সংখ্যা ৬০ হাজারে পৌঁছাবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৫ লাখে গিয়ে দাঁড়াবে। বর্তমানে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির বাজারে আধিপত্য বিস্তার করছে চীন। বৈশ্বিক সরবরাহের ৯৭ শতাংশেরও বেশি আসছে চীনা নির্মাতাদের কাছ থেকে। এর মধ্যে সাংহাই ভিত্তিক অ্যাজিবট ৮ হাজার ৪০০টি রোবট সরবরাহ করে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এরপরই রয়েছে হাংঝু ভিত্তিক ইউনিটি রোবোটিক্স। অন্যদিকে, ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান টেসলাও তাদের নিজস্ব হিউম্যানয়েড রোবট অপটিমাস বাজারে আনছে। এটি মূলত ঝুঁকিপূর্ণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। টেসলার লক্ষ্য বছরে ১০ লাখ এমন রোবট উৎপাদন করা। মাস্ক আগেই জানিয়েছিলেন, এই অপটিমাস রোবট ভবিষ্যতে টেসলার মোট মূল্যের প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গা দখল করে নিতে পারে। সম্প্রতি চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে চীনা রোবটগুলো মানুষের গড়া রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দুটি রোবট কিংবদন্তি অ্যাথলেট উসাইন বোল্টের ৯.৫৮ সেকেন্ডের বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দেয়। বেইজিং হিউম্যানয়েড রোবট ইনোভেশন সেন্টারের তৈরি তিয়ানগং আল্ট্রা ৯.৩৯ সেকেন্ডে এবং অনারস লাইটনিং ৯.৪৭ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করে। গত বছর তিয়ানগং আল্ট্রা এই দৌড় শেষ করতে ২১.৫০ সেকেন্ড সময় নিয়েছিল, যা প্রমাণ করে মাত্র এক বছরে প্রযুক্তির কতটা বিস্ময়কর উন্নতি হয়েছে। জি-২০ সম্মেলনে মাস্ক আরও বলেন, হিউম্যানয়েড রোবোটিক্স অবিশ্বাস্য পরিবর্তন আনবে। তার ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব অর্থনীতিকে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেবে, যার পরিমাণ বছরে ২০ থেকে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, আগামী বছরের শেষের দিকে এআই এমন যেকোনো ডিজিটাল কাজ করতে পারবে, যার জন্য মানুষের হাতের দরকার নেই। এটি দাবার জনপ্রিয় প্রোগ্রাম স্টকফিশ এর মতো শক্তিশালী হয়ে উঠবে, যা বিশ্বের সেরা দাবাড়ুদের অনায়াসে হারাতে পারে।
নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত ও পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র টাইমস স্কয়ার। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে আসেন। চারপাশে থাকে পুলিশের টহল, নজরদারি ক্যামেরা ও নানা ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা। তারপরও গত তিন বছরের কম সময়ে টাইমস স্কয়ার ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক প্রাণঘাতী ঘটনার খবর সামনে এসেছে। প্রকাশ্যে যাচাই করা ঘটনাগুলোর হিসাবে এ সময়ে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রাণঘাতী তিনটি ঘটনা ঘটে। পশ্চিম ৪৩তম সড়কের কাছাকাছি একটি আবাসিক ভবনে ছুরিকাঘাতে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। একই বছর টাইমস স্কয়ারের কাছাকাছি এক সহকর্মীর ঘুষিতে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান ট্যাক্সি বিভাগের কর্মী এফরেইন পাতিনো গুয়েরা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে টাইমস স্কয়ারের একটি হোটেলের সামনে হামলার শিকার ২৩ বছর বয়সী লেসলি টোরেসও মারা যান। ২০২৫ সালে ৪৫ টাইমস স্কয়ার হোটেল থেকে পড়ে ৩৯ বছর বয়সী এমানুয়েল ভেলেজের মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করেছিল। একই বছরের নভেম্বরে পশ্চিম ৪৯তম সড়ক ও সপ্তম অ্যাভিনিউয়ের কাছে ২৩ বছর বয়সী ডেভন সিলভাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হলে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ওই বছর টাইমস স্কয়ারে গুলির ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছিলেন, তবে তারা প্রাণে বেঁচে যান। ২০২৬ সালের মে মাসে টাইমস স্কয়ারের ৪৩তম সড়কে ছুরিকাঘাতে মারা যান ৩৯ বছর বয়সী লিওনিদাস বায়েজ। আর সর্বশেষ ৩১ আগস্টের ঘটনায় প্রাণ হারান ৩২ বছর বয়সী ব্যাংক অব আমেরিকার সহসভাপতি এরিন পিয়াচেন্তি। একই ঘটনায় একজন ৬৮ বছর বয়সী ব্যক্তি আহত হন। পরে ছুরি হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশের গুলিতে সন্দেহভাজন পামেলা সিসনেরোসও নিহত হন। ফলে ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাই করা এসব প্রাণঘাতী ঘটনায় মোট আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এই হিসাবে হামলার শিকার ব্যক্তি, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি এবং পুলিশের গুলিতে নিহত সন্দেহভাজন সবাই অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি টাইমস স্কয়ারের জন্য পুলিশের আলাদা কোনো সরকারি মোট হিসাব নয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সাধারণত বৃহত্তর এলাকার ভিত্তিতে অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। তাই এই সংখ্যা প্রকাশ্যে যাচাই করা টাইমস স্কয়ার ও সংলগ্ন এলাকার প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর সমন্বিত হিসাব। বিশ্বের আলো ঝলমলে এই পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের ভিড়, পুলিশি উপস্থিতি ও ব্যাপক নজরদারির মধ্যেও বারবার প্রাণঘাতী ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, টাইমস স্কয়ার আসলে কতটা নিরাপদ?
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত নতুন ১ ডলারের মুদ্রা বিক্রি শুরু করেছে দেশটির টাকশাল। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টাকশাল বা ইউএস মিন্টের মাধ্যমে সংগ্রাহকদের জন্য মুদ্রাটির রোল ও ব্যাগ বিক্রি শুরু হয়। নতুন এই মুদ্রার এক পাশে রয়েছে ট্রাম্পের প্রতিকৃতি। অন্য পাশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি প্রতীক, প্রেসিডেন্সিয়াল সিল। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিশেষ মাইলফলক উদযাপনের অংশ হিসেবে মুদ্রাটি তৈরি করা হলেও জীবিত কোনো প্রেসিডেন্টের ছবি মুদ্রায় ব্যবহারের বিষয়টি এরই মধ্যে বিতর্ক তৈরি করেছে। ইউএস মিন্ট জানিয়েছে, ২৫টি মুদ্রার একটি রোলের দাম ৬১ ডলার। অর্থাৎ প্রতিটি মুদ্রার অভিহিত মূল্য ১ ডলার হলেও সংগ্রাহকদের জন্য বিক্রি করা রোলে প্রতি মুদ্রার দাম পড়ছে ২ ডলার ৪৪ সেন্ট। এ ছাড়া ১০০টি মুদ্রার একটি ব্যাগের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫৪ ডলার ৫০ সেন্ট। মুদ্রাটির সামনের অংশে ট্রাম্পের প্রতিকৃতির সঙ্গে ‘লিবার্টি’, ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ এবং ‘১৭৭৬-২০২৬’ লেখা রয়েছে। নকশাটি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের টাকশালের প্রধান খোদাইশিল্পী জোসেফ মেনা। এর জন্য ট্রাম্পের একটি সরকারি ছবি থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। মুদ্রার অপর পাশে রয়েছে প্রেসিডেন্সিয়াল সিল। সেখানে ডানা মেলা ঈগলের এক পায়ে জলপাইয়ের শাখা এবং অন্য পায়ে তীরের গুচ্ছ রয়েছে। ঈগলের ঠোঁটে থাকা ফিতায় লেখা রয়েছে ‘ই প্লুরিবাস উনুম’, যার অর্থ ‘অনেকের মধ্য থেকে এক’। ঢালের অংশে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি বোঝাতে ‘২৫০’ সংখ্যাটিও রাখা হয়েছে। বিশেষভাবে সংগ্রাহকদের নজর কাড়তে পারে এমন আরও একটি বৈশিষ্ট্য রাখা হয়েছে মুদ্রাগুলোতে। ইউএস মিন্ট জানিয়েছে, ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া টাকশালে ২ লাখ ৫০ হাজার মুদ্রা তৈরি করা হয়েছিল, যেগুলোতে বিশেষ ‘জুলাই ৪’ চিহ্ন রয়েছে। এসব মুদ্রা আলাদাভাবে বিক্রি না করে ২৫টি মুদ্রার রোল ও ১০০টি মুদ্রার ব্যাগের মধ্যে এলোমেলোভাবে রাখা হয়েছে। ফলে কোনো রোল বা ব্যাগে এমন বিশেষ মুদ্রা পাওয়া যেতে পারে। নতুন মুদ্রাগুলো ফিলাডেলফিয়া টাকশালে তৈরি হয়েছে। এগুলো দেখতে স্বাভাবিক প্রচলিত মুদ্রার মতো হলেও এখনো সাধারণ বাজারে প্রচলনের জন্য ছাড়া হয়নি। তবে ইউএস মিন্টের তথ্য অনুযায়ী, এগুলো বৈধ মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। মুদ্রাটির ধাতব গঠনে ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ তামা, ৬ শতাংশ দস্তা, ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ এবং ২ শতাংশ নিকেল রয়েছে। ওজন ৮ দশমিক ১০ গ্রাম এবং ব্যাস ২৬ দশমিক ৪৯ মিলিমিটার। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় একজন ক্রেতা বা একটি পরিবার সর্বোচ্চ দুটি অর্ডার দিতে পারবে। ইউএস মিন্ট জানিয়েছে, এই সীমা বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা পূর্বাঞ্চলীয় সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে। এরপর সীমাটি তুলে নেওয়া হবে। মুদ্রাটিকে ঘিরে বিতর্কের মূল কারণ এর নকশায় একজন জীবিত প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি ব্যবহার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি সাধারণ মুদ্রায় ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে বিশেষ ধরনের স্মারক বা বিশেষ মুদ্রা তৈরির ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অনুমোদন দিতে পারেন। নতুন মুদ্রাটি সেই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় তৈরি হয়েছে। মুদ্রাটির নকশা চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের চারুকলা কমিশনের অনুমোদন পেয়েছে। কমিশনের সদস্যদের ট্রাম্প নিয়োগ করেছিলেন। এর আগে ট্রাম্প নিজেই মুদ্রায় নিজের ছবি ব্যবহারের ধারণাটিকে ‘খুবই অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করলেও একই সঙ্গে এ নিয়ে সম্মানিত বোধ করার কথা জানিয়েছিলেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় তাঁর নাম বা পরিচিতি যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নতুন ১ ডলারের মুদ্রাটিও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের মধ্যে এসেছে। তবে ইউএস মিন্ট মুদ্রাটিকে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি বা সেমিকুইনসেন্টেনিয়াল উদযাপনের অংশ হিসেবেই তুলে ধরছে। ইউএস মিন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই বিশেষ মুদ্রা আমেরিকার আড়াই শতকের ইতিহাসকে স্মরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি একই সঙ্গে সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ সংস্করণ এবং ভবিষ্যতে প্রচলিত মুদ্রা হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নতুন নির্বাহী আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন দেশটির একজন ফেডারেল বিচারক। এর আগে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী একটি আদেশ বাতিল করার পর, গত ৬ আগস্ট তিনি নতুন এই আদেশটি জারি করেছিলেন। মূলত 'বার্থ ট্যুরিজম' বা সন্তানকে নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্মদানের প্রবণতা ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে অবস্থিত ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ ডেবোরাহ বোর্ডম্যান গত বুধবার এই প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন 'কাসা' (CASA) এবং 'অ্যাসাইলাম সিকার অ্যাডভোকেসি প্রজেক্ট'-এর পক্ষে আইনজীবীরা এই স্থগিতাদেশের আবেদন করেছিলেন। ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগকৃত এই বিচারক গত শুক্রবার প্রাথমিক শুনানিতে তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানালেও, আবেদনকারীদের মামলা সংশোধনের সুযোগ দেন। সংশোধিত আবেদনের ভিত্তিতে বিচারক বোর্ডম্যান ট্রাম্পের এই আদেশকে 'নজিরবিহীন' আখ্যা দিয়ে শেষ পর্যন্ত এটি কার্যকরের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। গত ৩০ জুন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ২০২৫ সালের অনুরূপ একটি বিস্তৃত আদেশ বাতিল করে দেয়। সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব বাতিল করার ওই সিদ্ধান্ত মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর পরিপন্থী। সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের পরই ট্রাম্প আগস্ট মাসে কিছুটা পরিবর্তন এনে নতুন আদেশটিতে স্বাক্ষর করেন। নতুন আদেশে বলা হয়েছিল, বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তান, নাগরিকত্ব পেতে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তি এবং 'শত্রু' হিসেবে চিহ্নিত বিদেশিদের ক্ষেত্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন যে, ট্রাম্পের এই নতুন আদেশটি আগেরটির চেয়ে অনেক বেশি সুনির্দিষ্ট। তাদের যুক্তি ছিল, আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো এই আদেশ বাস্তবায়নের কোনো নির্দেশিকা প্রকাশ করছে না, তাই এর আগেই মামলা করাটা তাড়াহুড়োমূলক পদক্ষেপ। তবে আদালতের এই স্থগিতাদেশের ফলে আইনি লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন নীতিটি আপাতত স্থগিতই থাকছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টির মুসলিম নেতারা রিপাবলিকান গভর্নর পদপ্রার্থী ও কাউন্টি এক্সিকিউটিভ ব্রুস ব্লেকম্যানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকীর ঠিক আগে এমন উসকানিমূলক মন্তব্য করে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইসলামবিদ্বেষী মনোভাব ছড়াচ্ছেন। গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে বর্তমান ডেমোক্র্যাট গভর্নর ক্যাথি হোকুলের কঠোর সমালোচনা করেন ব্লেকম্যান। গত সপ্তাহে একটি মসজিদ পরিদর্শনের সময় ক্যাথি হোকুল মাথায় হিজাব পরেছিলেন। ব্লেকম্যান তাঁর পোস্টে গভর্নরকে 'হিজাব হোকুল' বলে কটাক্ষ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকীর মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে ভোটারদের তোষামোদ করতেই তিনি এই 'নতুন পোশাক' পরেছেন। ব্লেকম্যানের দাবি, হোকুলের এই পদক্ষেপ নারী অধিকারের পরিপন্থী এবং বাস্তবতাবিবর্জিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্লেকম্যানের এই পোস্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা নাসাউ কাউন্টির মুসলিম সম্প্রদায়ের নজরে আসে। আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য হিজাব এবং মুসলিমদের জড়িয়ে এমন বিরূপ মন্তব্য করায় স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে সোমবার ছুরিকাঘাতে নিহত ৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্টি ছিলেন ব্যাংক অব আমেরিকার একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট। পাঁচ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফেরার প্রথম দিনেই ঘটে যায় মর্মান্তিক এই ঘটনা। পাঁচ মাসের শিশুকন্যাকে রেখে অফিসে যাওয়া এরিন আর বাড়ি ফিরতে পারেননি। চেস্টার, নিউ জার্সির বাসিন্দা এরিনকে সোমবার বিকেলে ওয়েস্ট ৪১তম স্ট্রিট ও সেভেনথ অ্যাভিনিউ এলাকায় ছুরিকাঘাত করা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি ছিল আকস্মিক এবং দৃশ্যত কোনো পূর্বপরিচয় বা উসকানি ছাড়াই ঘটেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এরিনের ওপর হামলার কিছুক্ষণ আগে একই এলাকায় ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। দুটি হামলার ঘটনা ঘটে মাত্র প্রায় ২০ সেকেন্ডের ব্যবধানে। আহত ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। গুরুতর আহত এরিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। এরিনের মৃত্যুর ঘটনাটি আরও হৃদয়বিদারক হয়ে উঠেছে তার পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে। প্রায় পাঁচ মাস আগে স্বামী ফ্র্যাঙ্ক পিয়াচেন্টির সঙ্গে তাদের প্রথম সন্তান, একটি কন্যাশিশুর জন্ম হয়। সন্তান জন্মের পর পাঁচ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন এরিন। সেই সময়টা তিনি স্বামী ও শিশুকন্যার সঙ্গে কাটিয়েছেন। সোমবার ছিল কর্মস্থলে তার ফিরে আসার প্রথম দিন। অর্থাৎ দীর্ঘ পাঁচ মাস পর নতুন মা হিসেবে কর্মজীবনে ফেরার দিনটিই হয়ে গেল তার জীবনের শেষ কর্মদিবস। মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগে এরিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী ও ছোট মেয়ের সঙ্গে একটি পারিবারিক ছবি শেয়ার করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ওই সময় পরিবারে ছিল আনন্দের আবহ। সম্প্রতি তারা শিশুকন্যার বাপ্তিস্মও উদযাপন করেছিলেন এবং নিজেদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকীও পালন করেছিলেন। পেশাগত জীবনেও সফল ছিলেন এরিন। তিনি আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং ২০২১ সালে ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে স্নাতক হন। সেখানেই তার সঙ্গে পরিচয় হয় ভবিষ্যৎ স্বামী ফ্র্যাঙ্কের। পরে তিনি আইন পেশায় কাজ করেন এবং ২০২৫ সালে ব্যাংক অব আমেরিকায় যোগ দেন। সেখানে ব্যবসায়িক নির্বাচন ও স্বার্থসংঘাতবিষয়ক ইউনিটে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। ব্যাংক অব আমেরিকা এক বিবৃতিতে এরিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা এই মর্মান্তিক ঘটনায় হতবাক এবং তাদের সহকর্মীর এমন মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। এদিকে, এরিনকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, দুই হাতে ছুরি থাকা অবস্থায় ওই নারীকে অস্ত্র ফেলে দিতে একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। পরে পুলিশ তাকে থামাতে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র ব্যবহার করে। এরপর তিনি কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে গেলে দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই তাকে গুলিবিদ্ধ করা হয় এবং পরে তার মৃত্যু হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের বাহিনীর গুলিবর্ষণ তদন্ত বিভাগ পুলিশি গুলির ঘটনাটি তদন্ত করছে। তবে এরিনের পরিবারের কাছে তদন্তের ফলাফল যাই হোক, সবচেয়ে বড় বাস্তবতা বদলাবে না। পাঁচ মাস পর যে মা তার ছোট্ট মেয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নতুন করে কর্মজীবনে ফিরেছিলেন, সেই মা আর কখনো বাড়ির দরজা দিয়ে ফিরে আসবেন না। মাত্র পাঁচ মাসের শিশুটির জীবনে মায়ের সঙ্গে কাটানোর অসংখ্য মুহূর্তের জায়গায় এখন থেকে থাকবে এক অপূরণীয় শূন্যতা।
নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ওপর এক বছরের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভরতা কমিয়ে শিক্ষকদের মাধ্যমে সরাসরি পাঠদানকে অগ্রাধিকার দিতে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি এবং স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলস। এই নীতির ফলে নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ৬ লাখ সরকারি স্কুল শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হতে যাচ্ছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, টু-কে (2-K) থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এআই এবং এআই-চালিত চ্যাটবটগুলোর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা রাখা হয়েছে। এআইয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হওয়ার আগে এর ঝুঁকি, পক্ষপাতিত্ব এবং নৈতিক দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন করতে তাদের বছরে দুবার 'ক্রিটিকাল থিংকিং' বা সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিশেষ মডিউল সম্পন্ন করতে হবে। হাইস্কুলের সাধারণ শিক্ষার প্রায় ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য কুইল, এডিয়া, ব্রিস্ক টিচিং, প্লেল্যাব এবং ইন্টেল এআই-রেডি স্কুলস নামক পাঁচটি বাছাইকৃত এআই টুল শিক্ষকদের কঠোর তত্ত্বাবধানে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন টাইমের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আনা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণি ও তার নিচের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিভাইস ব্যবহার কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে। এছাড়া তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৪৫ মিনিট স্ক্রিন টাইমের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী, একাধিক ভাষা শেখা শিক্ষার্থী এবং কম্পিউটার সায়েন্সের মতো কর্মমুখী শিক্ষার ক্ষেত্রে এসব নিয়মে শিথিলতা থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষকরা তাঁদের পাঠপরিকল্পনা ও দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে আগের মতোই নিরাপদ এআই টুল ব্যবহার করতে পারবেন। এই নীতিমালার প্রভাব মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের জন্য 'টেকনোলজি ইন স্কুলস কোয়ালিশন' নামে নতুন একটি জোট গঠন করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আগ্রাসী প্রচারণার বিপরীতে দাঁড়িয়ে প্রযুক্তিকে অন্ধভাবে গ্রহণ করার বদলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পর্যালোচনার এই সিদ্ধান্তটিকে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের প্ল্যানো শহরে অবস্থিত ইস্ট প্ল্যানো ইসলামিক সেন্টারে (এপিক মসজিদ) নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন অফিসার গ্রিফিন। প্রতিদিন মসজিদে আগত মুসল্লিদের সঙ্গে তাঁর দেখা হতো। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি খুব কাছ থেকে মুসলমানদের জীবনাচরণ, নিয়মশৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ দেখার সুযোগ পান। দীর্ঘ সময় ধরে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা এবং তাঁদের আচার-আচরণে গভীরভাবে প্রভাবিত হয়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে মসজিদ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। মসজিদ কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা একটি ভিডিও এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অফিসার গ্রিফিনের ইসলাম গ্রহণের পেছনে মূল অনুঘটক ছিল সাধারণ মুসল্লিদের অমায়িক আচরণ। গ্রিফিন নিজে জানিয়েছেন, প্রতিদিন নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের নিয়মানুবর্তিতা, দয়া, আতিথেয়তা এবং তাঁর প্রতি দেখানো ভ্রাতৃত্ববোধ ও অগাধ সম্মান তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী একজন নিরাপত্তারক্ষী হওয়া সত্ত্বেও মসজিদ প্রাঙ্গণে তিনি যে সম্মান, ভালোবাসা ও সমতা পেয়েছেন, তা তাঁর হৃদয় গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়। অফিসার গ্রিফিনের ইসলাম গ্রহণের মুহূর্তের ভিডিওটি সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে মানুষের প্রশংসা কুড়ায়। কালেমা শাহাদাত পাঠ করার পরপরই মসজিদের মুসল্লিরা তাঁকে জড়িয়ে ধরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তাঁর এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, মানুষের সুন্দর আচরণ, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ কীভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতে তেহরানকে পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ১০ দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক জোট সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলন শেষে তিনি এ কথা জানান। পশ্চিমাদের 'ক্ষুধার্ত হাঙর' আখ্যা দিয়ে পুতিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কেউ যদি তাদের গিলে খেতে বা গ্রাস করতে চায়, তবে রাশিয়া তার দাঁতভাঙা জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। ইউক্রেন সংকট সমাধানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পুতিন। সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফের বিরল মস্কো সফরের পরপরই রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, ট্রাম্পের আস্থাভাজন এই দুই দূতের সঙ্গে কাজ করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা নিয়ে ভলোদিমির জেলেনস্কির বক্তব্যকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে পুতিন স্পষ্ট করেছেন যে, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না। উল্টো ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে আরও ব্যাপক হামলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি, যা দেশটির অর্থনীতি ও কৃষিপণ্য রপ্তানিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া রাশিয়ায় নতুন করে সেনা নিয়োগের গুঞ্জনকে তিনি ‘আজেবাজে কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে হওয়া এক বৈঠকে তেহরানের প্রতি মস্কোর জোরালো সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন পুতিন। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই রাশিয়া দেশটিকে সমর্থন দিয়ে আসছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তেহরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি ড্রোন তৈরির যন্ত্রাংশও পাঠিয়েছে মস্কো। ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দেশটির জনগণের সাহস ও দৃঢ়তার প্রশংসা করে পুতিন আশ্বাস দেন যে, এই কঠিন সময়ে তেহরানের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া কাজ করে যাবে।
শুরুতে মূলত দামি ইলেকট্রনিকস বা বিলাসবহুল জিনিসপত্র কেনার সুবিধার্থে ‘বাই নাউ পে লেটার’ বা বিএনপিএল (BNPL) ঋণের প্রচলন শুরু হলেও, এখন তা নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বাড়িভাড়া, মুদিবাজার, বিদ্যুৎ বিল এমনকি চিকিৎসার খরচ মেটাতেও এই স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়ার জন্য গ্রাহকদের উৎসাহিত করছে। ন্যাশনাল কনজ্যুমার ল সেন্টারের জ্যেষ্ঠ অ্যাটর্নি এরিয়েল নেলসন জানান, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বিপর্যস্ত বহু মার্কিন নাগরিক যে বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে কতটা সংগ্রাম করছেন, এটি তারই একটি স্পষ্ট প্রমাণ। কোনো ক্রেডিট চেক ছাড়াই চেকআউটের সময় তাৎক্ষণিকভাবে ঋণ পাওয়ার সুবিধার কারণে ভোক্তাদের মধ্যে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের অর্থনীতিবিদদের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে মার্কিনিরা প্রায় ১৬০ বিলিয়ন ডলারের বিএনপিএল ঋণ নিয়েছেন, যা মাত্র দুই বছর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। লেন্ডিংট্রির সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকেরও বেশি (৫৪%) গ্রহীতা জানিয়েছেন, এই ঋণ ছাড়া তাদের পক্ষে দৈনন্দিন খরচ সামলানো সম্ভব নয়। বর্তমানে প্রায় ৩০% ব্যবহারকারী মুদিবাজারের খরচ মেটাতে এই ঋণ ব্যবহার করছেন, যা দুই বছর আগে ছিল মাত্র ১৪%। আফার্ম (Affirm) এবং ফ্লেক্স (Flex)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়িভাড়া একাধিক কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দিচ্ছে। এসব ঋণে সুদ বা লেট ফি না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ৩৫ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি বা প্রসেসিং ফি গুনতে হয়। ভোক্তা অধিকার কর্মীরা সতর্ক করে বলছেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কিস্তির টাকা কেটে নেওয়ায় অনেক সময় গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলে তা ‘ওভারড্রাফট ফি’-র মতো জরিমানা ডেকে আনে। সঠিক সময়ে কিস্তি পরিশোধ করতে পারলে এটি বাজেট ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হলেও, একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা ভোক্তাদের মারাত্মক ঋণফাঁদে ফেলে দিতে পারে।
রেস্টুরেন্টে খাবার পরিবেশনের পর ছবি বা ভিডিও তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এখন অনেকেরই স্বাভাবিক অভ্যাস। তবে এই প্রবণতা ঘিরে রেস্টুরেন্টের পরিবেশ, অন্য ক্রেতাদের গোপনীয়তা এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালা নিয়ে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশি কমিউনিটির কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপে রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি ও ভিডিও ধারণের বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করা হলে সেখানে নানা ধরনের মন্তব্য আসে। কেউ খাবারের ছবি বা ভিডিওকে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ারের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ মনে করছেন, রেস্টুরেন্টে ছবি বা ভিডিও করার সময় আশপাশের ক্রেতা ও কর্মীদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত। এ বিষয়ে নিউইয়র্ক সিটির একটি রেস্টুরেন্টের মালিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি তোলা বা ভিডিও করার বিষয়ে সরকারি কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে বাস্তবে কিছু পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে বিড়ম্বনা তৈরি হতে পারে। তিনি আরও জানান, অনেক সময় কোনো কাস্টমার ছবি বা ভিডিও করতে গিয়ে আশপাশের অন্য কাস্টমারদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেন। আবার কেউ কেউ ছবি বা ভিডিও করতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন, যা রেস্টুরেন্টের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়াও রেস্টুরেন্টে কর্মরত ব্যক্তিদের গোপনীয়তা রক্ষা করাও মালিকপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের ছবি বা ভিডিও ধারণের সময় কর্মীরা ক্যামেরায় চলে এলে কিংবা তাদের কাজের দৃশ্য অনুমতি ছাড়া ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে সেটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তবে খাবারের ছবি বা ভিডিও করা নিয়ে এর বাইরে বড় কোনো সমস্যা সাধারণত হওয়ার কথা নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নিউইয়র্কে খাবারের ছবি তোলা নিয়ে এমন আলোচনা নতুন নয়। এর আগে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ক্রেতাদের ছবি তোলা, ভিডিও করা কিংবা ফ্ল্যাশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজস্ব নিয়ম চালু করেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান বিষয়টিকে খাবারের প্রচারের সুযোগ হিসেবে দেখে, আবার কোনো রেস্টুরেন্ট অন্য ক্রেতাদের স্বাচ্ছন্দ্য ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কথা বিবেচনা করে ছবি বা ভিডিও সীমিত করতে পারে। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুড কনটেন্টের জনপ্রিয়তার কারণে রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি ও ভিডিও করা আরও বেড়েছে। অনেক ক্রেতা নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, আবার ফুড ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা রেস্টুরেন্টের খাবার ও পরিবেশ নিয়ে নিয়মিত ভিডিও তৈরি করছেন। এতে একদিকে রেস্টুরেন্টের প্রচার বাড়ছে, অন্যদিকে ছবি বা ভিডিও ধারণের ধরন নিয়ে নতুন করে কিছু প্রশ্নও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে নিজের খাবারের ছবি তোলার সময় আশপাশের অন্য ক্রেতা বা কর্মীরা যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে ভিডিওতে না চলে আসেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে কোনো রেস্টুরেন্টের নিজস্ব ছবি বা ভিডিও নীতিমালা থাকলে সেটিও মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায়ও বিষয়টির দুই দিক উঠে এসেছে। কেউ মনে করছেন, খাবারের মান ও পরিবেশ সম্পর্কে অন্যদের জানাতে ছবি বা ভিডিও করা স্বাভাবিক। আবার কেউ মনে করছেন, ছবি বা ভিডিও করার সময় রেস্টুরেন্টে উপস্থিত অন্য মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য ও গোপনীয়তার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। সব মিলিয়ে রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি বা ভিডিও করা নিয়ে নিউইয়র্কে কোনো সাধারণ সরকারি নিষেধাজ্ঞার বিষয় সামনে না এলেও, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং রেস্টুরেন্টের নিজস্ব নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আর এই ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা যায়, তা নিয়েই নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে চলছে আলোচনা।
মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’র নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২ সেপ্টেম্বর (বুধবার) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আলোকপাত করেন। বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়, তাই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত ওই পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, প্রণালিটির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করা উচিত কি না, তা নিয়ে এখন চিন্তাভাবনা করার সময় এসেছে। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতোই এই জলপথটি এখন ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। পোস্টের শেষে সবাইকে বিষয়টি নিয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প’ হিসেবে নিজের স্বাক্ষর যুক্ত করেন। ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি আন্তর্জাতিক জলপথের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্টের তরফ থেকে আসায় তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
নতুন স্কুল বছরকে সামনে রেখে নিউইয়র্ক সিটির স্কুল বাসে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জন্য চালু হয়েছে নতুন সুবিধা। এখন থেকে নতুন অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই সন্তানের স্কুল বাসের অবস্থান সরাসরি দেখা যাবে। একই সঙ্গে বাস কখন পৌঁছাতে পারে, দেরি হলে তার নোটিফিকেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পাওয়া যাবে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপটির মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা সন্তানের স্কুল বাসের বর্তমান অবস্থান দেখতে পারবেন। বাসের সম্ভাব্য আসার সময় সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যাবে। কোনো কারণে বাস দেরি হলে অ্যাপের মাধ্যমে অভিভাবকদের কাছে নোটিফিকেশন পাঠানো হবে। এই সুবিধা শুধু পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের মাধ্যমে যারা স্কুল বাস সুবিধা পায়, তাদের মধ্যে পাবলিক, নন-পাবলিক এবং চার্টার স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবারও অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবে। অ্যাপটি ব্যবহার করতে অভিভাবকদের প্রথমে নিউইয়র্ক স্কুলস অ্যাকাউন্টে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর সন্তানের স্কুল থেকে শিক্ষার্থীর পরিচয় নম্বর সংগ্রহ করে অ্যাপে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ব্যবহার শুরু করা যাবে। একই অ্যাকাউন্ট থেকে পরিবারের একাধিক সন্তানের স্কুল বাসসংক্রান্ত তথ্য দেখার সুবিধাও রয়েছে। ফলে প্রতিদিন সন্তানের বাস কখন আসবে বা বাস দেরি করছে কি না, তা জানতে অভিভাবকদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে না। স্কুল বাসের অবস্থান জানার পাশাপাশি শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এবং বাসে যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কিত তথ্যও অ্যাপের মাধ্যমে শেয়ার করা যাবে। এতে স্কুল ও পরিবারের মধ্যে পরিবহনসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান আরও সহজ হবে। বাংলাভাষী পরিবারগুলোর জন্যও রয়েছে সুবিধা। অ্যাপটি ১০টি ভাষায় ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। স্মার্টফোন না থাকলেও কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মাধ্যমে এর ওয়েব সংস্করণ ব্যবহার করা যাবে। নিউইয়র্ক সিটির মতো ব্যস্ত শহরে স্কুল বাসের জন্য দীর্ঘ সময় রাস্তায় অপেক্ষা করা অনেক পরিবারের দৈনন্দিন ভোগান্তির অংশ। নতুন এই অ্যাপের ফলে বাসের অবস্থান ও সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময় আগেই জানা যাবে। ফলে সন্তানকে স্কুল বাসে তুলে দেওয়া বা বাস থেকে ফেরার সময় তাকে গ্রহণ করার পরিকল্পনাও অভিভাবকদের জন্য সহজ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে মহাসড়কে চলে আসা একটি কুমিরের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ এক গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। নিহতের নাম ক্যাসি টেইলর এবং তিনি ফ্লোরিডার ইন্ডিয়ান রিভার কাউন্টি শেরিফ অফিসের ডেপুটি স্কট বার্কের মেয়ে। মর্মান্তিক এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই শেরিফ অফিসে বেসামরিক সংশোধন সহকারী (সিভিলিয়ান কারেকশন অ্যাসিস্ট্যান্ট) হিসেবে তাঁর আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল। গত রোববার মধ্যরাতের ঠিক আগে ফ্লোরিডার টাইটাসভিলের আই-৯৫ মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফ্লোরিডা হাইওয়ে পেট্রোল (এফএইচপি) জানিয়েছে, ৫৮ বছর বয়সী কানাডার এক নাগরিক মার্সিডিজ গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ মহাসড়কে থাকা একটি কুমিরকে সজোরে ধাক্কা দেন। ঠিক তাঁর পেছনেই টয়োটা টাকোমা পিকআপ চালিয়ে আসছিলেন ক্যাসি টেইলর। সামনে দুর্ঘটনায় পড়া মার্সিডিজ গাড়িটিকে এড়িয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করতে গিয়ে ক্যাসি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং তাঁর পিকআপটি সড়কের ওপর উল্টে যায়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্যাসি সিটবেল্ট পরা অবস্থায় ছিলেন না। ফলে গাড়িটি উল্টে যাওয়ার সময় তিনি ছিটকে রাস্তার ওপর পড়ে যান। রাস্তায় আহত অবস্থায় পড়ে থাকার সময় পেছন দিক থেকে আসা আরেকটি অজ্ঞাত গাড়ি তাঁকে চাপা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ক্যাসির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। অন্যদিকে গাড়ির ধাক্কায় কুমিরটিও মারা গেছে। মার্সিডিজ গাড়ির চালক অক্ষত ছিলেন এবং তিনি দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই অবস্থান করছিলেন। পুলিশ বর্তমানে পলাতক ওই গাড়িচালকের সন্ধানে জোর তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। এই অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে ইন্ডিয়ান রিভার কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, ক্যাসি মাত্র এক মাসের কিছু সময় আগে তাদের দলে যোগ দিয়েছিলেন। সহকর্মী ও বন্ধুরা তাঁকে ‘বিশুদ্ধ হৃদয়ের অধিকারী’ এক চমৎকার তরুণী হিসেবে স্মরণ করে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে নিজ বাসভবন থেকে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেসহ এক নার্সের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি দুই জনকে হত্যা করে বড় ছেলের নিজের আত্মহত্যা বা 'ডাবল মার্ডার-সুইসাইড'। গত রবিবার ইনভার গ্রোভ হাইটসের একটি টাউনহাউসে ওয়েলফেয়ার চেকের জন্য গিয়ে পুলিশ জেমি লি চার্লস (৪৩) এবং তাঁর দুই ছেলে জেমিসন স্যামুয়েল শ (২২) ও উইলিয়াম স্যামুয়েল শ জুনিয়রের (১৯) মরদেহ উদ্ধার করে। মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রধান মেলিসা চিওদো এই ঘটনার কথা নিশ্চিত করেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, ঘটনাটি ওই বাড়ির ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং এতে কোনো বাইরের লোকের সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিহত বড় ছেলে জেমিসন শ-কে এই হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে কী পরিস্থিতিতে বা কার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়েছিল কিংবা ঠিক কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু এখনও প্রকাশ করা হয়নি। নিহত জেমি লি চার্লস দীর্ঘ নয় বছর ধরে মিনিয়াপলিস ভিএ হেলথ কেয়ার সিস্টেমে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মর্মান্তিক এই ঘটনার মাত্র তিন দিন আগে তিনি মিনেসোটা স্টেট ফেয়ার ভ্রমণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন। আরও হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, মৃত্যুর দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে গত ১৬ আগস্ট তিনি নিজের অসুস্থতা থেকে বেঁচে ফেরার এক বছর পূর্তি উদযাপন করে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ঠিক এক বছর আগে তিনি হাসপাতালে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং সেই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন। দুই সন্তানের স্নেহময়ী মা ছিলেন চার্লস। গত জুন মাসেই বড় ছেলে জেমিসন তাঁর ২২তম জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন এবং ছোট ছেলে উইলিয়াম গত বছর হাইস্কুল সম্পন্ন করেন। তাঁদের এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চার্লসের ভাগ্নি পলি মরগান এক ফান্ডরেইজিং বার্তায় শোক প্রকাশ করে বলেন, একসঙ্গে তিনটি অমূল্য প্রাণ হারানোর এই ক্ষত কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। স্থানীয় পুলিশ বর্তমানে এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে থাকা প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে গভীর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ ও সাবেক স্টেট সিনেটর নাবিলা পার্কস ডেমোক্রেটিক গভর্নর প্রার্থী কিশা ল্যান্স বটমসের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বুধবার লরেন্সভিলের বাংলাদেশি মালিকানাধীন হালাল গ্রোসারি স্টোর আল হুদা গ্রোসারিতে বটমসের প্রচারণামূলক কর্মসূচিতে ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন নাবিলা। বিষয়টি তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টেও তুলে ধরেছেন। আল হুদা গ্রোসারিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে বটমস জর্জিয়ার পরিবারগুলোর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ কমানোর লক্ষ্যে তাঁর পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে গ্রোসারি পণ্যের ওপর স্থানীয় পর্যায়ের সেলস ট্যাক্স কমানো বা বাতিলের উদ্যোগ। পাশাপাশি ডায়াপার ও মাসিক স্বাস্থ্যসামগ্রীর ওপর জর্জিয়ার ৪ শতাংশ স্টেট সেলস ট্যাক্স বাতিলের প্রস্তাবও তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে। বটমসের প্রচারণায় দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। কর্মজীবী পরিবারগুলোর ওপর ব্যয়ের চাপ কমাতে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর করের বোঝা কমানোর কথা বলছেন তিনি। তাঁর প্রচারণায় সাশ্রয়ী মূল্যের খাবারের উদাহরণ হিসেবে ৫ ডলারের রোটিসেরি চিকেনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। নাবিলা পার্কস তাঁর পোস্টে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী হওয়া উচিত, কর্মজীবী পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরির কারণ হওয়া উচিত নয়। বটমসের পরিকল্পনায় তিনি তাঁর পরিবারের সমর্থনের কথাও জানান। বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে নাবিলা পার্কসের সম্পৃক্ততা তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ২০২২ সালের নির্বাচনে নাবিলা পার্কস জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ৭ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হন। তিনি জর্জিয়া স্টেট সিনেটে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। তাঁর সিনেট মেয়াদ ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ছিল। চলতি বছর তিনি লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন, তবে সেই নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। নাবিলার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কর্মজীবী পরিবার, হেলথ কেয়ার, নারীদের স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে বটমসের সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা সংক্রান্ত পরিকল্পনার অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি জর্জিয়ার বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির দৃষ্টিতেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনকে সামনে রেখে বটমস ও রিপাবলিকান প্রার্থী রিক জ্যাকসন দুজনই মেট্রো আটলান্টায় নিজেদের নীতিগত অগ্রাধিকার তুলে ধরছেন। বুধবার একই দিনে দুই প্রার্থীর কর্মসূচিকে ঘিরে জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনের প্রচারণা আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। নাবিলা পার্কসের আল হুদা গ্রোসারিতে উপস্থিতি এবং বটমসের সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য সমর্থনের বিষয়টি জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার আরেকটি দৃশ্যমান উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।
গত ২৬ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ বিনোদ। রাসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। ছেলের সন্ধানে চোখেমুখে ক্লান্তি ও বিষাদ নিয়ে মাইলের পর মাইল পাহাড়ি পথ হেঁটে চলেছেন প্রায় ৫০ বছর বয়সী টালকা সদা। সমতলভূমির জেলা সপ্তরীর বাসিন্দা সদার একমাত্র ছেলে বিনোদের সঙ্গে ওই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে থাকা ১৭ থেকে ১৯ বছর বয়সী আরও চার তরুণের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়িতে শোকাহত স্ত্রীর কান্না ও নিজের বুক ফাটা হাহাকার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন এই বাবা। ছেলের খোঁজে বের হওয়ার জন্য চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে সদাকে। প্রতি ১০০ রুপিতে ২০ রুপি সুদের শর্তে মাত্র ২ হাজার নেপালি রুপি ধার করে ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন তিনি। প্রথমে বাসে করে ৯ ঘণ্টার দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে তারা পৌঁছান রাজধানী কাঠমান্ডুতে। বন্যার পর অনেককে সেখানে বিমানে করে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রথমে বিভিন্ন হাসপাতাল ও মর্গে বেঁচে যাওয়া মানুষ এবং লাশের তালিকায় ছেলেকে খুঁজেছেন সদা। মর্গের বাইরে রাখা বিকৃত ও শনাক্তকরণের অনুপযোগী লাশের ছবিগুলোর ভিড়েও তন্নতন্ন করে খুঁজেছেন সন্তানকে, তবে কোনো খোঁজ মেলেনি। কাঠমান্ডুতে সন্ধান না পেয়ে বিনোদের কর্মস্থলের নিকটবর্তী জেলা নুয়াকোটের দিকে হেঁটে রওনা দেন দুই ভাই। ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে টানা কয়েক ঘণ্টা হাঁটার পর ত্রিশূলী শহরে পৌঁছান তারা। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে একটি কমলা রঙের পলিথিনকে রেইনকোট হিসেবে ব্যবহার করছেন সদা। ত্রিশূলীতে একটি লজে থাকতে গিয়ে ধার করা টাকার ১ হাজার ৫০০ রুপিই খরচ হয়ে যায়, বিনিময়ে জোটে কেবল এক বাটি ভাত। ক্ষুধা ও ক্লান্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থ ফুরিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক, যা তাদের বাড়ি ফেরা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অসংখ্যবার ছেলের মুঠোফোনে কল করেও কোনো সাড়া পাননি সদা। চরম অসহায়ত্বের মাঝেও তিনি অলৌকিক কিছুর আশায় বুক বাঁধছেন, হয়তো ছেলে দৌড়ে কোথাও আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু পরক্ষণেই বাস্তবতার কঠিন ধাক্কায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। অন্তত ছেলের কর্মস্থলে না পৌঁছানো পর্যন্ত হাল ছাড়তে রাজি নন এই বাবা। তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে পুনরায় রওনা দেওয়ার সময় চরম ক্ষোভ ও হতাশায় তিনি চিৎকার করে জানান, কেউ সাহায্য না করলে বা জবাব না দিলে তিনি থানায় আগুন ধরিয়ে দেবেন। এক অসহায় বাবার এই হুঁশিয়ারি মূলত সন্তান হারানোর তীব্র যন্ত্রণারই বহিঃপ্রকাশ।