পাঁচ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে প্রথম দিনেই অফিস থেকে আর বাড়ি ফিরলেন না এরিন
নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে সোমবার ছুরিকাঘাতে নিহত ৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্টি ছিলেন ব্যাংক অব আমেরিকার একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট। পাঁচ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফেরার প্রথম দিনেই ঘটে যায় মর্মান্তিক এই ঘটনা। পাঁচ মাসের শিশুকন্যাকে রেখে অফিসে যাওয়া এরিন আর বাড়ি ফিরতে পারেননি।
চেস্টার, নিউ জার্সির বাসিন্দা এরিনকে সোমবার বিকেলে ওয়েস্ট ৪১তম স্ট্রিট ও সেভেনথ অ্যাভিনিউ এলাকায় ছুরিকাঘাত করা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি ছিল আকস্মিক এবং দৃশ্যত কোনো পূর্বপরিচয় বা উসকানি ছাড়াই ঘটেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এরিনের ওপর হামলার কিছুক্ষণ আগে একই এলাকায় ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। দুটি হামলার ঘটনা ঘটে মাত্র প্রায় ২০ সেকেন্ডের ব্যবধানে। আহত ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়।
গুরুতর আহত এরিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি।
এরিনের মৃত্যুর ঘটনাটি আরও হৃদয়বিদারক হয়ে উঠেছে তার পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে। প্রায় পাঁচ মাস আগে স্বামী ফ্র্যাঙ্ক পিয়াচেন্টির সঙ্গে তাদের প্রথম সন্তান, একটি কন্যাশিশুর জন্ম হয়। সন্তান জন্মের পর পাঁচ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন এরিন। সেই সময়টা তিনি স্বামী ও শিশুকন্যার সঙ্গে কাটিয়েছেন।
সোমবার ছিল কর্মস্থলে তার ফিরে আসার প্রথম দিন। অর্থাৎ দীর্ঘ পাঁচ মাস পর নতুন মা হিসেবে কর্মজীবনে ফেরার দিনটিই হয়ে গেল তার জীবনের শেষ কর্মদিবস।
মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগে এরিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী ও ছোট মেয়ের সঙ্গে একটি পারিবারিক ছবি শেয়ার করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ওই সময় পরিবারে ছিল আনন্দের আবহ। সম্প্রতি তারা শিশুকন্যার বাপ্তিস্মও উদযাপন করেছিলেন এবং নিজেদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকীও পালন করেছিলেন।
পেশাগত জীবনেও সফল ছিলেন এরিন। তিনি আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং ২০২১ সালে ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে স্নাতক হন। সেখানেই তার সঙ্গে পরিচয় হয় ভবিষ্যৎ স্বামী ফ্র্যাঙ্কের। পরে তিনি আইন পেশায় কাজ করেন এবং ২০২৫ সালে ব্যাংক অব আমেরিকায় যোগ দেন। সেখানে ব্যবসায়িক নির্বাচন ও স্বার্থসংঘাতবিষয়ক ইউনিটে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
ব্যাংক অব আমেরিকা এক বিবৃতিতে এরিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা এই মর্মান্তিক ঘটনায় হতবাক এবং তাদের সহকর্মীর এমন মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত।
এদিকে, এরিনকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, দুই হাতে ছুরি থাকা অবস্থায় ওই নারীকে অস্ত্র ফেলে দিতে একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। পরে পুলিশ তাকে থামাতে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র ব্যবহার করে।
এরপর তিনি কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে গেলে দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই তাকে গুলিবিদ্ধ করা হয় এবং পরে তার মৃত্যু হয়।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের বাহিনীর গুলিবর্ষণ তদন্ত বিভাগ পুলিশি গুলির ঘটনাটি তদন্ত করছে।
তবে এরিনের পরিবারের কাছে তদন্তের ফলাফল যাই হোক, সবচেয়ে বড় বাস্তবতা বদলাবে না। পাঁচ মাস পর যে মা তার ছোট্ট মেয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নতুন করে কর্মজীবনে ফিরেছিলেন, সেই মা আর কখনো বাড়ির দরজা দিয়ে ফিরে আসবেন না।
মাত্র পাঁচ মাসের শিশুটির জীবনে মায়ের সঙ্গে কাটানোর অসংখ্য মুহূর্তের জায়গায় এখন থেকে থাকবে এক অপূরণীয় শূন্যতা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত নতুন ১ ডলারের মুদ্রা বিক্রি শুরু করেছে দেশটির টাকশাল। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টাকশাল বা ইউএস মিন্টের মাধ্যমে সংগ্রাহকদের জন্য মুদ্রাটির রোল ও ব্যাগ বিক্রি শুরু হয়। নতুন এই মুদ্রার এক পাশে রয়েছে ট্রাম্পের প্রতিকৃতি। অন্য পাশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি প্রতীক, প্রেসিডেন্সিয়াল সিল। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিশেষ মাইলফলক উদযাপনের অংশ হিসেবে মুদ্রাটি তৈরি করা হলেও জীবিত কোনো প্রেসিডেন্টের ছবি মুদ্রায় ব্যবহারের বিষয়টি এরই মধ্যে বিতর্ক তৈরি করেছে। ইউএস মিন্ট জানিয়েছে, ২৫টি মুদ্রার একটি রোলের দাম ৬১ ডলার। অর্থাৎ প্রতিটি মুদ্রার অভিহিত মূল্য ১ ডলার হলেও সংগ্রাহকদের জন্য বিক্রি করা রোলে প্রতি মুদ্রার দাম পড়ছে ২ ডলার ৪৪ সেন্ট। এ ছাড়া ১০০টি মুদ্রার একটি ব্যাগের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫৪ ডলার ৫০ সেন্ট। মুদ্রাটির সামনের অংশে ট্রাম্পের প্রতিকৃতির সঙ্গে ‘লিবার্টি’, ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ এবং ‘১৭৭৬-২০২৬’ লেখা রয়েছে। নকশাটি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের টাকশালের প্রধান খোদাইশিল্পী জোসেফ মেনা। এর জন্য ট্রাম্পের একটি সরকারি ছবি থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। মুদ্রার অপর পাশে রয়েছে প্রেসিডেন্সিয়াল সিল। সেখানে ডানা মেলা ঈগলের এক পায়ে জলপাইয়ের শাখা এবং অন্য পায়ে তীরের গুচ্ছ রয়েছে। ঈগলের ঠোঁটে থাকা ফিতায় লেখা রয়েছে ‘ই প্লুরিবাস উনুম’, যার অর্থ ‘অনেকের মধ্য থেকে এক’। ঢালের অংশে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি বোঝাতে ‘২৫০’ সংখ্যাটিও রাখা হয়েছে। বিশেষভাবে সংগ্রাহকদের নজর কাড়তে পারে এমন আরও একটি বৈশিষ্ট্য রাখা হয়েছে মুদ্রাগুলোতে। ইউএস মিন্ট জানিয়েছে, ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া টাকশালে ২ লাখ ৫০ হাজার মুদ্রা তৈরি করা হয়েছিল, যেগুলোতে বিশেষ ‘জুলাই ৪’ চিহ্ন রয়েছে। এসব মুদ্রা আলাদাভাবে বিক্রি না করে ২৫টি মুদ্রার রোল ও ১০০টি মুদ্রার ব্যাগের মধ্যে এলোমেলোভাবে রাখা হয়েছে। ফলে কোনো রোল বা ব্যাগে এমন বিশেষ মুদ্রা পাওয়া যেতে পারে। নতুন মুদ্রাগুলো ফিলাডেলফিয়া টাকশালে তৈরি হয়েছে। এগুলো দেখতে স্বাভাবিক প্রচলিত মুদ্রার মতো হলেও এখনো সাধারণ বাজারে প্রচলনের জন্য ছাড়া হয়নি। তবে ইউএস মিন্টের তথ্য অনুযায়ী, এগুলো বৈধ মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। মুদ্রাটির ধাতব গঠনে ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ তামা, ৬ শতাংশ দস্তা, ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ এবং ২ শতাংশ নিকেল রয়েছে। ওজন ৮ দশমিক ১০ গ্রাম এবং ব্যাস ২৬ দশমিক ৪৯ মিলিমিটার। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় একজন ক্রেতা বা একটি পরিবার সর্বোচ্চ দুটি অর্ডার দিতে পারবে। ইউএস মিন্ট জানিয়েছে, এই সীমা বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা পূর্বাঞ্চলীয় সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে। এরপর সীমাটি তুলে নেওয়া হবে। মুদ্রাটিকে ঘিরে বিতর্কের মূল কারণ এর নকশায় একজন জীবিত প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি ব্যবহার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি সাধারণ মুদ্রায় ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে বিশেষ ধরনের স্মারক বা বিশেষ মুদ্রা তৈরির ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অনুমোদন দিতে পারেন। নতুন মুদ্রাটি সেই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় তৈরি হয়েছে। মুদ্রাটির নকশা চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের চারুকলা কমিশনের অনুমোদন পেয়েছে। কমিশনের সদস্যদের ট্রাম্প নিয়োগ করেছিলেন। এর আগে ট্রাম্প নিজেই মুদ্রায় নিজের ছবি ব্যবহারের ধারণাটিকে ‘খুবই অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করলেও একই সঙ্গে এ নিয়ে সম্মানিত বোধ করার কথা জানিয়েছিলেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় তাঁর নাম বা পরিচিতি যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নতুন ১ ডলারের মুদ্রাটিও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের মধ্যে এসেছে। তবে ইউএস মিন্ট মুদ্রাটিকে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি বা সেমিকুইনসেন্টেনিয়াল উদযাপনের অংশ হিসেবেই তুলে ধরছে। ইউএস মিন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই বিশেষ মুদ্রা আমেরিকার আড়াই শতকের ইতিহাসকে স্মরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি একই সঙ্গে সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ সংস্করণ এবং ভবিষ্যতে প্রচলিত মুদ্রা হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন আদেশেও আদালতের স্থগিতাদেশ
মসজিদে গিয়ে হিজাব পরায় নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলকে ‘হিজাব হোকুল’ বলে কটাক্ষ ব্লেকম্যানের
পাঁচ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে প্রথম দিনেই অফিস থেকে আর বাড়ি ফিরলেন না এরিন
নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ওপর এক বছরের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভরতা কমিয়ে শিক্ষকদের মাধ্যমে সরাসরি পাঠদানকে অগ্রাধিকার দিতে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি এবং স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলস। এই নীতির ফলে নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ৬ লাখ সরকারি স্কুল শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হতে যাচ্ছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, টু-কে (2-K) থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এআই এবং এআই-চালিত চ্যাটবটগুলোর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা রাখা হয়েছে। এআইয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হওয়ার আগে এর ঝুঁকি, পক্ষপাতিত্ব এবং নৈতিক দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন করতে তাদের বছরে দুবার 'ক্রিটিকাল থিংকিং' বা সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিশেষ মডিউল সম্পন্ন করতে হবে। হাইস্কুলের সাধারণ শিক্ষার প্রায় ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য কুইল, এডিয়া, ব্রিস্ক টিচিং, প্লেল্যাব এবং ইন্টেল এআই-রেডি স্কুলস নামক পাঁচটি বাছাইকৃত এআই টুল শিক্ষকদের কঠোর তত্ত্বাবধানে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন টাইমের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আনা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণি ও তার নিচের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিভাইস ব্যবহার কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে। এছাড়া তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৪৫ মিনিট স্ক্রিন টাইমের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী, একাধিক ভাষা শেখা শিক্ষার্থী এবং কম্পিউটার সায়েন্সের মতো কর্মমুখী শিক্ষার ক্ষেত্রে এসব নিয়মে শিথিলতা থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষকরা তাঁদের পাঠপরিকল্পনা ও দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে আগের মতোই নিরাপদ এআই টুল ব্যবহার করতে পারবেন। এই নীতিমালার প্রভাব মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের জন্য 'টেকনোলজি ইন স্কুলস কোয়ালিশন' নামে নতুন একটি জোট গঠন করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আগ্রাসী প্রচারণার বিপরীতে দাঁড়িয়ে প্রযুক্তিকে অন্ধভাবে গ্রহণ করার বদলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পর্যালোচনার এই সিদ্ধান্তটিকে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রশাসন।
মসজিদের পাহারায় থেকে মুসল্লিদের আচরণে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন মার্কিন নিরাপত্তারক্ষী
মুদিবাজার থেকে বাড়িভাড়া, সবকিছুতেই ‘বাই নাউ পে লেটার’ ঋণে ঝুঁকছেন মার্কিনিরা
রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি-ভিডিও নিয়ে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা
নতুন স্কুল বছরকে সামনে রেখে নিউইয়র্ক সিটির স্কুল বাসে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জন্য চালু হয়েছে নতুন সুবিধা। এখন থেকে নতুন অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই সন্তানের স্কুল বাসের অবস্থান সরাসরি দেখা যাবে। একই সঙ্গে বাস কখন পৌঁছাতে পারে, দেরি হলে তার নোটিফিকেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পাওয়া যাবে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপটির মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা সন্তানের স্কুল বাসের বর্তমান অবস্থান দেখতে পারবেন। বাসের সম্ভাব্য আসার সময় সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যাবে। কোনো কারণে বাস দেরি হলে অ্যাপের মাধ্যমে অভিভাবকদের কাছে নোটিফিকেশন পাঠানো হবে। এই সুবিধা শুধু পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের মাধ্যমে যারা স্কুল বাস সুবিধা পায়, তাদের মধ্যে পাবলিক, নন-পাবলিক এবং চার্টার স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবারও অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবে। অ্যাপটি ব্যবহার করতে অভিভাবকদের প্রথমে নিউইয়র্ক স্কুলস অ্যাকাউন্টে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর সন্তানের স্কুল থেকে শিক্ষার্থীর পরিচয় নম্বর সংগ্রহ করে অ্যাপে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ব্যবহার শুরু করা যাবে। একই অ্যাকাউন্ট থেকে পরিবারের একাধিক সন্তানের স্কুল বাসসংক্রান্ত তথ্য দেখার সুবিধাও রয়েছে। ফলে প্রতিদিন সন্তানের বাস কখন আসবে বা বাস দেরি করছে কি না, তা জানতে অভিভাবকদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে না। স্কুল বাসের অবস্থান জানার পাশাপাশি শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এবং বাসে যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কিত তথ্যও অ্যাপের মাধ্যমে শেয়ার করা যাবে। এতে স্কুল ও পরিবারের মধ্যে পরিবহনসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান আরও সহজ হবে। বাংলাভাষী পরিবারগুলোর জন্যও রয়েছে সুবিধা। অ্যাপটি ১০টি ভাষায় ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। স্মার্টফোন না থাকলেও কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মাধ্যমে এর ওয়েব সংস্করণ ব্যবহার করা যাবে। নিউইয়র্ক সিটির মতো ব্যস্ত শহরে স্কুল বাসের জন্য দীর্ঘ সময় রাস্তায় অপেক্ষা করা অনেক পরিবারের দৈনন্দিন ভোগান্তির অংশ। নতুন এই অ্যাপের ফলে বাসের অবস্থান ও সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময় আগেই জানা যাবে। ফলে সন্তানকে স্কুল বাসে তুলে দেওয়া বা বাস থেকে ফেরার সময় তাকে গ্রহণ করার পরিকল্পনাও অভিভাবকদের জন্য সহজ হবে।
ফ্লোরিডায় কুমির এড়াতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু, কয়েক ঘণ্টা পরই শেরিফ অফিসে শপথ নেওয়ার কথা ছিল
মিনেসোটায় দুই ছেলেসহ মায়ের মরদেহ উদ্ধার, বড় ছেলের বিরুদ্ধে হত্যা ও আত্মহত্যার সন্দেহ