- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
গত ২৬ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ বিনোদ। রাসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। ছেলের সন্ধানে চোখেমুখে ক্লান্তি ও বিষাদ নিয়ে মাইলের পর মাইল পাহাড়ি পথ হেঁটে চলেছেন প্রায় ৫০ বছর বয়সী টালকা সদা। সমতলভূমির জেলা সপ্তরীর বাসিন্দা সদার একমাত্র ছেলে বিনোদের সঙ্গে ওই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে থাকা ১৭ থেকে ১৯ বছর বয়সী আরও চার তরুণের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়িতে শোকাহত স্ত্রীর কান্না ও নিজের বুক ফাটা হাহাকার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন এই বাবা। ছেলের খোঁজে বের হওয়ার জন্য চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে সদাকে। প্রতি ১০০ রুপিতে ২০ রুপি সুদের শর্তে মাত্র ২ হাজার নেপালি রুপি ধার করে ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন তিনি। প্রথমে বাসে করে ৯ ঘণ্টার দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে তারা পৌঁছান রাজধানী কাঠমান্ডুতে। বন্যার পর অনেককে সেখানে বিমানে করে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রথমে বিভিন্ন হাসপাতাল ও মর্গে বেঁচে যাওয়া মানুষ এবং লাশের তালিকায় ছেলেকে খুঁজেছেন সদা। মর্গের বাইরে রাখা বিকৃত ও শনাক্তকরণের অনুপযোগী লাশের ছবিগুলোর ভিড়েও তন্নতন্ন করে খুঁজেছেন সন্তানকে, তবে কোনো খোঁজ মেলেনি। কাঠমান্ডুতে সন্ধান না পেয়ে বিনোদের কর্মস্থলের নিকটবর্তী জেলা নুয়াকোটের দিকে হেঁটে রওনা দেন দুই ভাই। ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে টানা কয়েক ঘণ্টা হাঁটার পর ত্রিশূলী শহরে পৌঁছান তারা। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে একটি কমলা রঙের পলিথিনকে রেইনকোট হিসেবে ব্যবহার করছেন সদা। ত্রিশূলীতে একটি লজে থাকতে গিয়ে ধার করা টাকার ১ হাজার ৫০০ রুপিই খরচ হয়ে যায়, বিনিময়ে জোটে কেবল এক বাটি ভাত। ক্ষুধা ও ক্লান্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থ ফুরিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক, যা তাদের বাড়ি ফেরা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অসংখ্যবার ছেলের মুঠোফোনে কল করেও কোনো সাড়া পাননি সদা। চরম অসহায়ত্বের মাঝেও তিনি অলৌকিক কিছুর আশায় বুক বাঁধছেন, হয়তো ছেলে দৌড়ে কোথাও আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু পরক্ষণেই বাস্তবতার কঠিন ধাক্কায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। অন্তত ছেলের কর্মস্থলে না পৌঁছানো পর্যন্ত হাল ছাড়তে রাজি নন এই বাবা। তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে পুনরায় রওনা দেওয়ার সময় চরম ক্ষোভ ও হতাশায় তিনি চিৎকার করে জানান, কেউ সাহায্য না করলে বা জবাব না দিলে তিনি থানায় আগুন ধরিয়ে দেবেন। এক অসহায় বাবার এই হুঁশিয়ারি মূলত সন্তান হারানোর তীব্র যন্ত্রণারই বহিঃপ্রকাশ।
আমেরিকার ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল পেরিয়ে শিকড়ের টানে একত্রিত হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ফেনী জেলার প্রবাসীরা। প্রবাসে ফেনীবাসীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘আমরা ফেনীবাসী ইউএসএ’র প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ২০২৬। “একসাথে মিলি বন্ধন গড়ি, আমরা সবাই ফেনীবাসী”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সামাজিক সংগঠন ‘আমরা ফেনীবাসী ইউএসএ’ আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় অবস্থিত মনোরম ফোর্ট হান্ট পার্কে দিনব্যাপী এই মহা মিলনমেলার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠান শুরু হবে দুপুর ১২টায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবাসে ফেনীর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখা, শৈশব ও কৈশোরের বন্ধুদের সঙ্গে পুরোনো স্মৃতি ভাগ করে নেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ফেনীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। দিনব্যাপী এই পুনর্মিলনীতে প্রবাসী ফেনীবাসীদের জন্য থাকছে নানা ধরনের আয়োজন। থাকবে স্মৃতিময় আড্ডা, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রতিভা বিকাশের সুযোগ এবং ছোট-বড় সবার জন্য আনন্দঘন পরিবেশ। শিশুদের জন্য বিশেষভাবে থাকছে বিভিন্ন খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা। পাশাপাশি অতিথিদের জন্য থাকবে ঐতিহ্যবাহী ও বৈচিত্র্যময় খাবারের আয়োজন। পুনর্মিলনীর অন্যতম আকর্ষণ হবে জমকালো সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এতে গান পরিবেশন করবেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ড. সীমা খান ও জহির। ফেনীর মাটি ও মানুষের গানসহ ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত পরিবেশন করবেন কণ্ঠশিল্পী ইসরাত শর্মী। অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় সাজাবেন জনপ্রিয় সঞ্চালিকা রূপা। আয়োজকরা জানান, কর্মব্যস্ত প্রবাসজীবনের মাঝেও ফেনীর মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন আরও দৃঢ় করা এবং নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ‘আমরা ফেনীবাসী ইউএসএ’র পরিচালনা ও অ্যাডমিন প্যানেল পরিবারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সকল ফেনী প্রবাসী, তাঁদের স্বজন ও পরিবারবর্গকে সপরিবারে এই পুনর্মিলনীতে অংশ নেওয়ার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, মাটির টান ও নাড়ির বন্ধনে সাড়া দিয়ে বিপুলসংখ্যক ফেনীবাসী এই মিলনমেলায় অংশ নেবেন এবং দিনটি প্রবাসে ফেনীবাসীদের জন্য একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) ২৬তম সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের একটি যৌথ ছবি নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) সম্মেলন শুরুর আগে তোলা একটি ঐতিহ্যবাহী ছবি সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছে। সম্পাদিত সেই ছবিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ একাধিক বিশ্বনেতাকে সুকৌশলে বাদ দিয়ে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মূল ছবির কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে আছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ছবিটি প্রকাশের পরপরই তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। পাকিস্তান পিএমওর প্রকাশিত ওই ছবিতে কেবল চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারোভসহ নির্দিষ্ট কয়েকজন নেতাকে দেখা যায়। কিন্তু ঘটনার মোড় ঘোরে যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থেকে সেই যৌথ ছবির পূর্ণাঙ্গ সংস্করণটি প্রকাশ করেন। আসল ছবিটিতে স্পষ্ট দেখা যায়, শাহবাজ শরিফ মোটেও কেন্দ্রে ছিলেন না, বরং তিনি ডানদিক থেকে চতুর্থ স্থানে দাঁড়িয়েছিলেন। পূর্ণাঙ্গ ওই ছবিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ আরও বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন, যাঁদের পাকিস্তান সরকারের প্রকাশিত ছবিতে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছিল। আসল ছবিটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে ‘ফটোশপ কূটনীতি’ আখ্যা দিয়ে উপহাস করতে শুরু করেন। আন্তর্জাতিক একটি সরকারি মাধ্যম থেকে এমন আচরণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নেটিজেনরা। ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে মোদিকে বাদ দিয়ে শাহবাজকে কেন্দ্রে দেখানোর এই অপচেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তোলে। পরবর্তীতে প্রবল সমালোচনার মুখে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বা পরিস্থিতি সামাল দিতে শাহবাজ শরিফ তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে সম্মেলনের আসল ছবিটি শেয়ার করলেও, প্রথম প্রকাশিত সম্পাদিত ছবিটিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখনো থামেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় ৫ বছর বয়সী এক অটিস্টিক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অথচ গ্রেপ্তারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিহত মেয়েকে ‘মামিস লিটল অ্যাঞ্জেল’ বা ‘মায়ের ছোট্ট পরি’ বলে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছিলেন তার মা। গত মঙ্গলবার টেনেসি অঙ্গরাজ্য থেকে শিশুটির বাবা ৭০ বছর বয়সী জন হার্ব হেইস থ্রি এবং ৩১ বছর বয়সী মা জিওর্ডিন নিকোল হেইসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্তানকে বেআইনিভাবে ঝুঁকিতে ফেলা ও ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহত শিশু সেইলর হেইস কথা বলতে পারত না এবং তার একা একা বাড়ির বাইরে চলে যাওয়ার প্রবণতা ছিল। গত সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে সাউথ ক্যারোলাইনার পাওলেস আইল্যান্ডে পরিবারের ভাড়া করা বাড়ির কাছের একটি জলাশয় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পানিতে খেলতে ভীষণ ভালোবাসতো সেইলর। নিরাপত্তার জন্য তাকে সবসময় 'প্রজেক্ট লাইফসেভার' নামের একটি ট্র্যাকিং ডিভাইস পরিয়ে রাখা হতো। কিন্তু ভার্জিনিয়া থেকে ছুটিতে সাউথ ক্যারোলাইনায় যাওয়ার আগেই কেউ একজন সেই ডিভাইসটি কেটে খুলে ফেলেছিল। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, শিশুটির বাবা-মা শুরু থেকেই তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। মেয়েটি ট্র্যাকার পরা নেই জেনেও তারা পুলিশকে ট্র্যাকারের সংকেত খোঁজার দিকে মনোযোগ দিতে বলেন এবং জলাশয়ের দিক থেকে তল্লাশি সরিয়ে নিতে প্ররোচিত করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ট্র্যাকিং সংকেত অনুসরণ করে ভার্জিনিয়ায় থাকা তাদের একটি গাড়ির ভেতরে ডিভাইসটি খুঁজে পায়। ওয়াশিংটন কাউন্টির শেরিফ জানান, এই বিশেষ ডিভাইসটি চাইলেই খোলা যায় না, এটি খোলার জন্য ফিতাটি কেটে ফেলতে হয়। জর্জটাউন কাউন্টির শেরিফ কার্টার উইভার এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, যে শিশুরা নিজেদের রক্ষা করতে পারে না, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাবা-মায়ের প্রধান দায়িত্ব। তিনি আরও জানান, সেইলরের সুরক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর ছিল, তারাই তাকে চরম বিপদে ফেলেছিল। শিশুটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সময় নিশ্চিত হতে শুক্রবার ময়নাতদন্ত করা হবে।
ভার্জিনিয়ার ওয়েনসবরোর ওয়েস্টউড হিলস এলিমেন্টারি স্কুলে বুধবার সকালে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক প্রাপ্তবয়স্ক আহত হলেও স্কুলের কোনো শিশু আহত হয়নি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে স্কুলে গুলির খবর পাওয়ার পর ওয়েনসবরো পুলিশ, অগাস্টা কাউন্টি শেরিফের অফিস, ভার্জিনিয়া স্টেট পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফেডারেল ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস বা ATF-এর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে সাড়া দেন। অগাস্টা কাউন্টি শেরিফের অফিস জানায়, সকাল ১০টা ২৩ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি ‘contained and secured’ অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণে এনে ঘটনাস্থল নিরাপদ করা হয়েছে। এর আগে স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হয় এবং অভিভাবকদের স্কুলে না এসে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়। ওয়েনসবরো সিটি কাউন্সিলের সদস্য জিম উড অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, ঘটনাটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং হামলাকারীর কাছ থেকে আর কোনো হুমকি নেই। আহত প্রাপ্তবয়স্ককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তার আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে তিনি জানান। ভার্জিনিয়া স্টেট পুলিশের একজন মুখপাত্রও একজন প্রাপ্তবয়স্ক আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং জানান, কোনো শিশু আহত হয়নি। তবে হামলাকারীর পরিচয়, আহত ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্ক কিংবা গুলির ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়েনসবরো পুলিশ পরে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের তাদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের ব্যবস্থা করা হয় কাছাকাছি ওয়েস্টমিনস্টার প্রেসবাইটেরিয়ান চার্চে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, ওয়েস্টউড হিলস এলিমেন্টারির সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্টাফের হিসাব পাওয়া গেছে এবং তারা নিরাপদ। পরে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও গার্ডিয়ানদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ওয়েনসবরোর অন্যান্য কয়েকটি স্কুলেও সাময়িক লকডাউন জারি করা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেই লকডাউন তুলে নেওয়া হয়। ঘটনার পর ভার্জিনিয়ার গভর্নর অ্যাবিগেইল স্প্যানবার্গার জানান, তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি শিক্ষার্থী, তাদের পরিবার, শিক্ষক ও স্কুলের কর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ঘটনাস্থলে কাজ করা প্রথম সাড়াদানকারীদের ধন্যবাদ জানান। ওয়েস্টউড হিলস এলিমেন্টারি স্কুলটি ভার্জিনিয়ার ওয়েনসবরো শহরে অবস্থিত, যা রাজ্যের রাজধানী রিচমন্ড থেকে প্রায় ৯৬ মাইল উত্তর-পশ্চিমে। গুলির ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে এবং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য আসার অপেক্ষা রয়েছে।
ইতালির কাতানিয়া শহরে উজবেকিস্তানের দুই পর্যটকের ফেলে যাওয়া প্রায় ১০ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা) এবং পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ফিরিয়ে দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি মো. ইরান শিকদার। প্রবাসের মাটিতে তার এই মানবিকতা ও সততা বর্তমানে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। গত ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টার দিকে কাতানিয়া শহরের ‘লা বারকা’ নামক রেস্টুরেন্টে খেতে আসেন উজবেকিস্তানের ওই দুই পর্যটক। খাওয়া শেষে চলে যাওয়ার সময় তারা মনের ভুলে নিজেদের ব্যাগটি রেস্টুরেন্টেই ফেলে যান। ব্যাগটিতে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও পাসপোর্টের মতো জরুরি নথিপত্র ছিল। রেস্টুরেন্টে কর্মরত ওয়েটার ইরান শিকদার বিষয়টি খেয়াল করে ব্যাগটি নিরাপদে নিজের কাছে রেখে দেন এবং প্রকৃত মালিকের সন্ধানে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তা নিয়ে ওই দুই পর্যটক ব্যাগের খোঁজে রেস্টুরেন্টে ফিরে আসেন। তখন ইরান শিকদার তাদের হাতে অক্ষত অবস্থায় ব্যাগটি তুলে দেন। হারানো অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন তারা এবং এই বাংলাদেশির সততায় মুগ্ধ হয়ে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। মাদারীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওমর আলী শিকদারের ছেলে ইরান শিকদার ইতালির সিসিলি প্রদেশে সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। তার এই মহৎ কাজ বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।
মিশরের সিনাই উপদ্বীপে একটি যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত এবং আরও ২৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মিশরীয় ও জর্ডানের নাগরিক রয়েছেন। দক্ষিণ সিনাই প্রদেশের জনপ্রিয় পর্যটন শহর দাহাব ও নুওয়েইবার সংযোগকারী একটি সড়কে গত বুধবার এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে বলে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। মিশরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ২০টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়। উদ্ধারকর্মীরা নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হতাহতদের জাতীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু না জানালেও জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, নিহতদের মধ্যে তাদের দেশের নাগরিকরাও রয়েছেন। জর্ডানের রাজধানী আম্মানভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল-মামলাকা জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন জর্ডানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। যাত্রীবাহী বাসটি মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে আম্মানের দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে মিশরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু না জানালেও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলন্ত অবস্থায় বাসের একটি টায়ার ফেটে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং বাসটি সড়কের ওপর উল্টে যায়। মিশরে পরিবহন নিরাপত্তার রেকর্ড বেশ উদ্বেগজনক এবং দেশটিতে প্রতি বছর এ ধরনের মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান। মূলত অতিরিক্ত গতি, বেহাল রাস্তাঘাট এবং ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগই বেশিরভাগ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসেও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ বেনি সুয়েফের কাছে একাধিক গাড়ির মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে ২১ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছিলেন।
কলম্বিয়া জার্নালিজম রিভিউ-এর সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রশাসনের পক্ষে প্রচার চালানোর জন্য প্রায় ২০০ জন সোশ্যাল মিডিয়া ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ বা প্রভাবশালীর একটি বিশাল বাহিনী গড়ে তুলেছেন মেয়র মামদানি। এসব ইনফ্লুয়েন্সারকে ভিআইপি সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনের সরকারি বিভিন্ন বার্তা ও ভিডিও ক্লিপ সরবরাহ করা হচ্ছে। সিটি হলের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ‘সিগন্যাল’ (Signal) নামের একটি এনক্রিপ্টেড বা গোপন মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সরকারি কাজে এমন গোপন অ্যাপের ব্যবহার শহরের রেকর্ড সংরক্ষণের আইনি বাধ্যবাধকতাকে লঙ্ঘন করতে পারে বলে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, ‘ক্রিয়েটরসফোরজোহরান’ (Creators4Zohran) নামের একটি গ্রুপের মাধ্যমে গত বছরের নির্বাচনী প্রচারণায় এই ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রথম কাজে লাগানো হয়েছিল। বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র কার্যালয়ের নিউ মিডিয়া এবং কালচারাল কমিউনিকেশনস বিভাগের পরিচালক এমিলিয়া রোল্যান্ড ও তাঁর দল এই গ্রুপটি পরিচালনা করছেন। সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইনফ্লুয়েন্সারদের অর্থায়নের বিষয়টি। সরাসরি তাদের কভারেজের জন্য অর্থ প্রদান না করা হলেও, কিছু নির্দিষ্ট মেসেজিং ক্যাম্পেইনে কাজের জন্য তারা করদাতাদের অর্থ পকেটে পুরছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও তাদের ঠিক কী পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে, তা এখনও অস্পষ্ট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ কোনো সরকারি ক্যাম্পেইনের ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েন্সাররা সাধারণত বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেন না। এই ইনফ্লুয়েন্সার বাহিনীর কয়েকজন আবার নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাও নন। অ্যালি ও’ব্রায়েন নামের একজন ইনফ্লুয়েন্সার সম্প্রতি মেয়র মামদানিকে ‘অনিয়ন্ত্রিত আনন্দের মেয়র’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট করেছেন, অথচ অনলাইনে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী তিনি কানেকটিকাটের বাসিন্দা। একইভাবে ‘ব্যানানাডটগভ’ (bananadotgov) নামের ইনস্টাগ্রাম আইডি থেকে আরেক ইনফ্লুয়েন্সার ওহাইও অঙ্গরাজ্য থেকে মেয়রের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সরকারি বার্তা আদান-প্রদানে সিগন্যাল অ্যাপ ব্যবহারের বিষয়টি সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর আমলের কথা মনে করিয়ে দেয়, সে সময়ও এমন এনক্রিপ্টেড যোগাযোগের কারণে তুমুল সমালোচনা হয়েছিল। কারণ, আইনের বিধান অনুযায়ী সরকারি সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সিটি হলের সব ধরনের বার্তা ও রেকর্ড সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক। এই আইনি লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মেয়র মামদানি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে তথ্য ছড়ানো আর রেডিও বা টিভির মাধ্যমে প্রচারণার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে পরবর্তীতে তিনি আইন মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে নেন। তিনি জানান, তাঁর প্রশাসন সরকারি রেকর্ড উপস্থাপনের সব আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণে বদ্ধপরিকর। আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সংশোধনী ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন মেয়র মামদানি।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রস্তাবের কথা জানান। পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ কারণে প্রণালিটির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখা উচিত কি না, তা নিয়ে ভাবা যেতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, নাম পরিবর্তন করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের মতোই এই প্রণালিও ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। পোস্টের শেষে বিষয়টি নিয়ে সবাইকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প’।
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার টাম্বলার রিজ শহরে গত ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ স্কুল হামলার ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং এর সিইও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে হামলায় বেঁচে ফেরা শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা এই মামলাটি করেন। তাদের অভিযোগ, হামলাকারী তরুণের চ্যাটজিপিটিতে করা বিপজ্জনক কথোপকথনের তথ্য পুলিশের কাছে গোপন করে ওপেনএআই পরোক্ষভাবে এই হত্যাকাণ্ডকে উৎসাহিত করেছে। এর আগে গত এপ্রিলে নিহতদের পরিবারও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মুনাফাকে নিরাপত্তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছিল। ১৮ বছর বয়সী হামলাকারী জেসি ভ্যান রুটসেলার একজন ট্রান্সজেন্ডার তরুণ ছিল, যে স্কুলে হামলা চালিয়ে পাঁচ শিশু ও এক প্রাপ্তবয়স্ককে হত্যা করে। এই ঘটনায় ১২ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশুসহ আরও দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। স্কুলে তাণ্ডব চালানোর আগে সে নিজের বাড়িতে মা ও ১১ বছর বয়সী সৎ ভাইকেও হত্যা করেছিল। হামলার পর ঘটনাস্থলেই সে নিজের বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করে। ভয়াবহ সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে সপ্তম গ্রেডের শিক্ষিকা ডিয়ারড্রে রাস্লো এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, চোখের সামনে সহপাঠীদের মৃত্যু দেখার যে ট্রমা তৈরি হয়েছে, তা তাদের আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। মামলার পক্ষের আইনজীবী জে এডেলসন এক বিবৃতিতে জানান, ওপেনএআই এমন একটি বিপজ্জনক পণ্য তৈরি করেছে যা একজন মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরকে নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে প্ররোচিত করেছিল। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, হামলার সাত মাস আগে গত জুনেই হামলাকারীর চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টটি অস্বাভাবিক ও হিংসাত্মক বার্তার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব নিরাপত্তা দলের ১২ জন কর্মী কানাডিয়ান পুলিশকে বিষয়টি জানানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে দু'বার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু ভবিষ্যতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়মিত তথ্য দেওয়ার ‘দৃষ্টান্ত’ তৈরি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় ওপেনএআইয়ের জনসংযোগ ও রাজনৈতিক দল সেই অনুরোধ নাকচ করে দেয়। তবে ওপেনএআই-এর চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার জেসন কোয়ান পিআর টিমের হস্তক্ষেপের দাবিটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, তাদের দল সবসময় মানুষের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। এর আগে গত এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটির সিইও স্যাম অল্টম্যান পুলিশকে তথ্য না জানানোর বিষয়টি স্বীকার করে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছিলেন। ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে তাদের নিরাপত্তা নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে এবং বর্তমান নিয়মে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
ফ্লোরিডায় মার্চ মাসে গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঘটনায় করা মামলায় সমঝোতার পর গলফ তারকা টাইগার উডসের ড্রাইভিং লাইসেন্স পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে এক হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। বুধবারের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ১৫ বারের মেজর চ্যাম্পিয়ন উডস বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগটি মেনে নিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। ৫০ বছর বয়সী উডস ফ্লোরিডার স্টুয়ার্টে মার্টিন কাউন্টি কোর্টহাউসে হাজির হন। সেখানে তিনি বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে আদালতের প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন। এটি তার বিরুদ্ধে করা মূল মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগের তুলনায় কম গুরুতর অভিযোগ। এই অভিযোগে তাকে এক হাজার ডলার জরিমানা করা হয় এবং তার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। উডসের বিরুদ্ধে মাদক পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে অস্বীকৃতির অভিযোগও ছিল। ওই পৃথক অভিযোগের বিষয়টিও মামলার সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। মার্চের ২৭ তারিখ জুপিটার আইল্যান্ডে দুর্ঘটনার পর উডসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার গাড়িটি একটি পিকআপ ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং পরে উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় কোনো আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কয়েক দিন পর উডস জানিয়েছিলেন, তিনি কিছু সময়ের জন্য পেশাদার গলফ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। দুর্ঘটনার পর চিকিৎসা নেওয়া এবং নিজের স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য তিনি সাময়িকভাবে পেশাদার গলফ থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর উডস মদ্যপানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তবে মাদক পরীক্ষার জন্য প্রস্রাবের নমুনা দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় করা পুলিশি নথিতে দুর্ঘটনার সময় উডসের আচরণ সম্পর্কেও উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের হলফনামা অনুযায়ী, কর্মকর্তারা উডসকে অতিরিক্ত ঘামতে দেখেছিলেন। তাকে অলস ও ধীরগতির আচরণ করতে দেখা যায় বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তার চোখ লাল ও কাচের মতো দেখাচ্ছিল বলেও পুলিশ কর্মকর্তারা বর্ণনা দিয়েছেন। তদন্তকারীদের কাছে উডস জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনার আগে তিনি নিজের মুঠোফোনের দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং গাড়ির রেডিও স্টেশন পরিবর্তন করছিলেন। এ কারণে তার সামনে থাকা গাড়িটি গতি কমিয়ে দিয়েছিল, সেটি তিনি খেয়াল করেননি বলে তদন্তকারীদের জানান উডস। মার্চের এই দুর্ঘটনাটি উডসের গাড়ি-সংক্রান্ত আলোচিত ঘটনার অন্তত চতুর্থ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ওই দুর্ঘটনায় তার ডান পা ও গোড়ালিতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়েছিল। টাইগার উডস গলফের অন্যতম সফল খেলোয়াড়। তিনি ১৫টি মেজর চ্যাম্পিয়নশিপ এবং পিজিএ ট্যুরের ৮২টি প্রতিযোগিতায় জয় পেয়েছেন। মার্চের দুর্ঘটনার পর পেশাদার গলফ থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এবার গাড়ি চালানোর মামলায়ও আদালতের সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হলেন তিনি। ফ্লোরিডার আদালতে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে মামলাটি নিষ্পত্তির পর উডসের পাঁচ বছরের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত এবং এক হাজার ডলার জরিমানার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে অস্বীকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত পৃথক অভিযোগটিও নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
লন্ডনের মেয়র সাদিক খানকে ২৪ বছর পুরোনো একটি নিসান মাইক্রার ভেহিকল ট্যাক্স না দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে জরিমানা করা হয়েছে। তবে খান ও লন্ডন সিটি হলের কর্মকর্তারা বলছেন, গাড়িটি তার নয় এবং তার নামে ভুলভাবে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। বিষয়টি এখন তদন্ত করছে ব্রিটেনের ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকল লাইসেন্সিং এজেন্সি বা ডিভিএলএ। ডিভিএলের করা মামলায় গত ১৮ আগস্ট হেরেফোর্ডশায়ার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে সিঙ্গেল জাস্টিস প্রসিডিউরের মাধ্যমে অনুপস্থিতিতে খানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাকে ২২০ পাউন্ড জরিমানা, ৮৫ পাউন্ড কোর্ট খরচ এবং গাড়িটির বকেয়া ৩৫.৮৪ পাউন্ড ট্যাক্স পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তাকে ৩৪০.৮৪ পাউন্ড দিতে হবে। আদালতের নথি অনুযায়ী, নীল রঙের নিসান মাইক্রাটি ২০০২ সালে প্রথম রেজিস্ট্রেশন করা হয়। গাড়িটির বার্ষিক ট্যাক্স ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়ে যায়। এরপর চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি গাড়িটি ট্যাক্সবিহীন অবস্থায় শনাক্ত হলে ডিভিএলএ নথিতে খানকে গাড়িটির কিপার হিসেবে পাওয়া যায়। ডিভিএলএ জানায়, গাড়িটির মালিকানা নিশ্চিত করতে জানুয়ারিতে খানকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তবে সেই চিঠির জবাব না পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তবে মামলায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে চিঠি পাঠানোর ঠিকানা নিয়ে। আদালতের নথিতে দেখা যায়, খানের নামে পাঠানো ডিভিএলের চিঠি তার বা ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের অফিসে না গিয়ে লন্ডনের একটি গর্ডন রামসে রেস্তোরাঁয় পৌঁছায়। ফলে খান মামলাটি সম্পর্কে সময়মতো জানতে পারেননি বলে তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। লন্ডন সিটি হলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাড়িটি খান বা ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের কোনোটিরই নয়। খানের একজন মুখপাত্র ঘটনাটিকে প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এর আগেও তার নামে ভুয়া গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের ঘটনা ঘটেছে। সাদিক খানের বিরুদ্ধে এমন ভুয়া রেজিস্ট্রেশনের ঘটনা তার আল্ট্রা লো এমিশন জোন বা ইউলেজ সম্প্রসারণের বিরোধিতার সঙ্গেও যুক্ত বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ইউলেজ পুরো লন্ডনে সম্প্রসারণের পর কিছু মোটরচালক খানের নামে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন, যাতে গাড়ির দায় তার ওপর পড়ে। এদিকে ডিভিএলএ জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে। মামলাটি পুনরায় খোলার সুযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিঙ্গেল জাস্টিস প্রসিডিউর নিয়ে যুক্তরাজ্যে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। এই ব্যবস্থায় তুলনামূলক কম গুরুতর মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট একাই, অনেক সময় ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে, সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।
নিউইয়র্কের কপিয়াগের ৩৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাসাউ কাউন্টির দুটি ব্যাংকে প্রায় ৬৬ হাজার ডলারের জাল চেক জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নাসাউ কাউন্টি পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, রিচার্ড আলমন্টেকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, গত জানুয়ারিতে আলমন্টে দুটি ব্যাংকে এসব চেক জমা দেন। ৭ জানুয়ারি প্ল্যান্ডোম ম্যানরের গালস কোভ এলাকার ক্যাপিটাল ওয়ান ব্যাংকে এবং ২৯ জানুয়ারি বল্ডউইনের গ্র্যান্ড অ্যাভিনিউয়ের ফোর লিফ ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নে তিনি চেকগুলো জমা দেন। এ ঘটনায় আলমন্টের বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড লারসেনির দুটি অভিযোগ, অ্যাটেম্পটেড গ্র্যান্ড লারসেনি এবং জাল দলিল ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার হেম্পস্টেডের ফার্স্ট ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাকে হাজির করার কথা রয়েছে। নাসাউ কাউন্টি পুলিশ বাসিন্দাদের এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে পরিবারের বয়স্ক বা প্রতারণার ঝুঁকিতে থাকা সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের এ ধরনের জালিয়াতি সম্পর্কে সচেতন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলা চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ড্যানবারিতে গত সপ্তাহের আইসিই অভিযানে ৭০ জনের বেশি বাসিন্দাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র রবার্তো আলভেস। তবে আইসিই আনুষ্ঠানিকভাবে আটকের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। অভিযানের পর শহরের অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে স্কুলে উপস্থিতি ও স্থানীয় ব্যবসায়ও। সোমবার ড্যানবারির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিবাসী অধিকারকর্মী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল এবং মেয়র আলভেস। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তারা জানান, আইসিই আবার অভিযান চালাতে পারে এমন আশঙ্কায় অনেকে কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন। সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়েও অনেক অভিভাবক উদ্বিগ্ন। মেয়র আলভেসের হিসাবে, গত সপ্তাহে ড্যানবারিতে ৭০ জনের বেশি মানুষকে আইসিই আটক করেছে। স্থানীয় অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর কাছ থেকেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। আইসিই অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে অপারেশনাল তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে। অভিযানের প্রভাব স্থানীয় ব্যবসাগুলোতেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, নিয়মিত ক্রেতা ও কর্মীদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় দোকান ও রেস্তোরাঁগুলোতে স্বাভাবিক ব্যস্ততা নেই। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অভিবাসী বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক শহরের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলছে। ড্যানবারিতে আইসিইর তৎপরতা বাড়ার খবর প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের কর্মকর্তারা উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। সিনেটর ব্লুমেনথাল আইসিইর অভিযানের পর আটকদের বিষয়ে তথ্য এবং অভিযানের পদ্ধতি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেছেন। কানেকটিকাটে গত সপ্তাহের অভিযানে ড্যানবারিসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আইসিই তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, অভিযান শেষ হয়ে গেলেও এর কারণে তৈরি হওয়া আতঙ্ক দ্রুত কাটবে না। মেয়র আলভেসও সতর্ক করে বলেছেন, আইসিই আবার কখন অভিযান চালাবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় এখনো রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির নতুন জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদের সমর্থন ৫০ শতাংশ এবং রজার্সের ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ জরিপে এল-সাইয়েদ রজার্সের চেয়ে ৫ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে এই আসনটি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এল-সাইয়েদের বর্তমান অবস্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ গত ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তিনি দলীয় নেতৃত্বের সমর্থন পাওয়া প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সকে মাত্র প্রায় ১ শতাংশ ব্যবধানে হারিয়ে মনোনয়ন পান। ফল ঘোষণার সময় এল-সাইয়েদের ভোট ছিল ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্টিভেন্সের ভোট ছিল ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অল্প ব্যবধানে পাওয়া এই জয় তাকে নভেম্বরের মূল নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। প্রাইমারির পর এল-সাইয়েদকে ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের একাংশের সমালোচনা আরও তীব্র হয়। ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ নিয়ে তাঁর অবস্থান, ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য এবং কিছু বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে দলের মধ্যেই মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এসব সমালোচনার মধ্যেই তিনি সাধারণ নির্বাচনের প্রচারে এগিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি মিশিগানের একটি সিনাগগে হামলা নিয়ে তাঁর করা মন্তব্যের জন্যও তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। এল-সাইয়েদ নিজেকে প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে মেডিকেয়ার ফর অল, করপোরেট অর্থের রাজনৈতিক প্রভাব কমানো এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য করের বোঝা কমানোর মতো নীতি। ২০২৬ সালের প্রাইমারিতে তিনি সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সসহ প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন পেয়েছিলেন। এসব নীতিগত অবস্থানকে সামনে রেখেই তিনি নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স সাবেক মিশিগান কংগ্রেসম্যান এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। মিশিগানের বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসরে যাওয়ায় এবার আসনটি উন্মুক্ত হয়েছে। ফলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের কাছেই আসনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প মিশিগানে প্রায় ২ শতাংশ ব্যবধানে জয় পাওয়ায় রাজ্যটি এবারের সিনেট লড়াইয়ে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীর জয় এবং এবার সিনেট আসনটি উন্মুক্ত থাকার কারণে নভেম্বরের নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে নতুন জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সাইয়েদ এগিয়ে রয়েছেন। নতুন মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির জরিপে শুধু সামগ্রিক ব্যবধানই নয়, বয়সভিত্তিক ভোটারদের মধ্যেও এল-সাইয়েদের শক্ত অবস্থান দেখা গেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর সমর্থন বেশি। অন্যদিকে বয়স্ক ভোটারদের মধ্যে রজার্স তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন। ফলে বয়সভেদে দুই প্রার্থীর সমর্থনের পার্থক্যও জরিপে উঠে এসেছে। এর আগে আরেকটি সাম্প্রতিক জরিপেও এল-সাইয়েদকে এগিয়ে দেখা যায়। ইপিক-এমআরএ-এর জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদের সমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ এবং রজার্সের ৪৩ শতাংশ। ওই জরিপেও এল-সাইয়েদ ৪ শতাংশ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। অর্থাৎ প্রাইমারির পর বিতর্ক ও দলীয় অভ্যন্তরীণ সমালোচনা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি জরিপে তিনি রজার্সের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। প্রাইমারিতে অল্প ব্যবধানে মনোনয়ন পাওয়ার পর এল-সাইয়েদকে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের একাংশের সমালোচনা তৈরি হলেও নতুন জরিপগুলোতে তার প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে না। বরং মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির জরিপে তিনি রজার্সের চেয়ে ৫ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। এর আগে ইপিক-এমআরএ-এর জরিপেও তাঁর এগিয়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে নভেম্বরের নির্বাচন এখনো অনেক দূরে এবং দুই প্রার্থীর ব্যবধান তুলনামূলকভাবে কম। ফলে বর্তমান জরিপের ফলাফল চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল নির্দেশ করছে না। নির্বাচনের আগে ভোটারদের অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে এবং দুই প্রার্থীর প্রচারও অব্যাহত থাকবে। মিশিগানের এই সিনেট লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, তা ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এল-সাইয়েদ বর্তমানে কয়েকটি জরিপে এগিয়ে থাকলেও রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও শক্তিশালী। বিশেষ করে বয়স্ক ভোটারদের মধ্যে রজার্সের তুলনামূলক ভালো অবস্থান নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এদিকে তরুণ ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদের বেশি সমর্থন এবং সামগ্রিকভাবে জরিপে তার এগিয়ে থাকা ডেমোক্র্যাট শিবিরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। অন্যদিকে প্রাইমারির পর তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় অভ্যন্তরীণ সমালোচনা অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত তা জরিপে তাঁর অবস্থানকে পিছিয়ে দিতে পারেনি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়াকে অশোভন আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমানের দাবি, এ অভিযোগের জেরেই তাকে সার্টিফিকেট নিতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশ ছাড়া এভাবে সার্টিফিকেট আটকে রাখার নিয়ম নেই। মুজিবুর রহমান মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার ভাষ্য, ইন্টার্নশিপের ফলাফল প্রকাশের পর তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিনকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেসেজ দেন। শিক্ষক এর জবাব দিলে সেখানে তিনি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন। পরে ওই প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ইন্টার্নশিপে শিক্ষার্থী যথাযথ মনোযোগ ও আন্তরিকতা দেখাননি এবং নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন। পরে তার শিক্ষাজীবনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয় এবং প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুযায়ী নম্বর দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী শিক্ষককে ধন্যবাদ জানানোর সময় ব্যঙ্গাত্মক ও শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করেন এবং শিক্ষকের জবাবে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন। এটিকে শিক্ষকের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী শিক্ষক মাশিয়াত যাহিন বলেন, বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রারকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেবে। অন্যদিকে মুজিবুর রহমানের দাবি, সার্টিফিকেট নিতে বিভাগে গেলে তাকে জানানো হয় যে রেজিস্ট্রার দপ্তরে অভিযোগ থাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ইন্টার্নশিপে পাওয়া নম্বর নিয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই, তবে একটি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’-এর কারণে সার্টিফিকেট আটকে রাখা যায় কি না, সেটিই তার প্রশ্ন। এ বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগার বলেন, শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোর্স শিক্ষকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। সার্টিফিকেট আটকে রাখার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেন, এভাবে সরাসরি সার্টিফিকেট আটকে রাখা যায় না। কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে তারা সাময়িকভাবে সার্টিফিকেট আটকে রাখার সুপারিশ করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি উপ-উপাচার্যের কাছে পাঠানো হবে। এরপর প্রশাসন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। সূত্র: ইত্তেফাক
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় মদিনা মসজিদের একটি অংশ ভেঙে দিয়েছে স্থানীয় পৌরসভা। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কেডি গেট এলাকায় ভারী পুলিশ মোতায়েনের মধ্যে জেসিবি দিয়ে মসজিদের সড়কের দিকে থাকা অংশ অপসারণ করা হয়। এ সময় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকজন প্রতিবাদ করেন। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য নির্ধারিত এলাকার মধ্যে মসজিদের ওই অংশ পড়েছে। উজ্জয়ন পৌর করপোরেশনের অতিরিক্ত পৌর কমিশনার সন্তোষ ঠাকোর বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশ অপসারণের কাজ পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে করা হচ্ছে। কেডি গেট থেকে নিকাস চৌরাস্তা হয়ে বড়া পুল পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক ১৮ মিটার প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সড়কটি উজ্জয়নের ২০২৮ সালের সিমহাস্থ মেলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও উন্নয়ন করা হচ্ছে। অভিযানের সময় মদিনা মসজিদের পাশাপাশি জামিয়াতুল কুরাইশ কস্সাবান মসজিদের কিছু অংশ নিয়েও অপসারণের কাজ শুরু হয়। মসজিদ কমিটির সদস্য শহিদ খান দাবি করেন, মদিনা মসজিদটি প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ বছরের পুরোনো। সড়ক প্রশস্তকরণে স্থানীয়রা আগে দোকানের কিছু অংশ ছেড়ে সহযোগিতা করেছেন বলেও তিনি জানান। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় অংশ নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি না থাকলেও মসজিদের আরও প্রায় ২ থেকে ৩ ফুট অংশ রেখে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। জেসিবি দিয়ে কাজ শুরু হলে এ নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় মুসলিম প্রতিনিধিদের আলোচনা হয়। উজ্জয়ন শহরের কাজি খালিকুর রহমান জানান, বিষয়টি প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা করা হবে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মসজিদের আরও অংশ অপসারণের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, সড়ক প্রশস্ত হলে কেডি গেট ও আশপাশের এলাকায় যানজট কমবে এবং চলাচল সহজ হবে। অন্যদিকে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় ধর্মীয় স্থাপনার অবশিষ্ট অংশ রক্ষার দাবি জানিয়েছে। প্রকল্পের পরবর্তী পদক্ষেপ প্রশাসন ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের আলোচনার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ইউক্রেনকে ঘিরে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। জার্মানির সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন স্থাপনায় সরাসরি হামলার হুমকি দিয়েছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের সামরিক স্থাপনায় রাশিয়া হামলা চালাতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, বিষয়টি ‘সামরিক গোপনীয়তা’। জার্মানি গত মঙ্গলবার অভিযোগ করেছে, গত মাসে লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন হামলার চেষ্টার পেছনে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশি তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য এবং হামলার ধরন বিশ্লেষণ করে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। এর পরই মেদভেদেভ জার্মানির বিরুদ্ধে কঠোর হুমকি দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, জার্মানির সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী স্থাপনাগুলো সরাসরি হামলার লক্ষ্য হতে পারে। বার্লিনের আরও কিছু স্থাপনাকেও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। গত ৪ আগস্ট লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এলাকায় একটি বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন পাওয়া যায়। জার্মান কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ইউক্রেনের একটি কার্গো বিমানের কাছে ছিল এবং এতে বিস্ফোরক ও ডেটোনেটর ছিল। পরে ড্রোনটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। জার্মান সরকার ঘটনাটিকে রাশিয়ার বৃহত্তর ‘হাইব্রিড অপারেশন’-এর অংশ হিসেবে দেখছে। অভিযোগের পর রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে জার্মানি। পাশাপাশি বন শহরে রাশিয়ার কনস্যুলেট বন্ধ এবং বার্লিনে রাশিয়ান হাউসের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রুশ নাগরিকদের প্রবেশে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। তবে মস্কো জার্মানির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। রুশ কর্মকর্তারা বলেছেন, বার্লিনের অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। পুতিনও জার্মানির পদক্ষেপকে গুরুতর ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এদিকে যুক্তরাজ্যকে নিয়েও রাশিয়ার হুঁশিয়ারি নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইউক্রেনকে ব্রিটিশ তৈরি দীর্ঘপাল্লার স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে আরও সক্ষম করে তুলতে ব্রিটেনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর মস্কো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে। কিরগিজস্তানে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিনকে প্রশ্ন করা হয়, রাশিয়া ব্রিটিশ ভূখণ্ডে যুক্তরাজ্যের সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা বিবেচনা করছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, এটি ‘সামরিক গোপনীয়তা’। এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সতর্ক করে জানিয়েছিল, ইউক্রেনকে ব্রিটিশ অস্ত্র সরবরাহের কারণে যুক্তরাজ্য রাশিয়ার হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়ছে। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন জার্মানির পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে ইউরোপে রাশিয়ার কথিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত ও নিষেধাজ্ঞা জোরদারের আলোচনা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্তকারীরা হামাসের অর্থ সংগ্রহ ও অনলাইন কার্যক্রমে ব্যবহৃত ৫ লাখ ৬০ হাজারc ডলারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করেছে। একই অভিযানে হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের নিয়ন্ত্রিত ওয়েবসাইট ও সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সংগঠনটির জন্য পাঠানো অনুদান আটকে দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে হামাসকে অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করা হাজার হাজার ব্যক্তির তথ্যও সংগ্রহ করেছে এফবিআই। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ তথ্য জানায়। আদালতের অনুমোদিত জব্দ আদেশের ভিত্তিতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি এনক্রিপ্টেড অনলাইন গ্রুপ চ্যাটে সমর্থকদের একটি অর্থ সংগ্রহের ওয়েবসাইটে যেতে বলা হতো। সেখানে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অনুদান পাঠানোর জন্য বিভিন্ন সময় পরিবর্তিত একাধিক ডিজিটাল ওয়ালেটের ঠিকানা দেওয়া হতো। তদন্তকারীরা মানবসূত্র থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে এসব লেনদেন শনাক্ত ও অনুসরণ করেন। ২০২৫ সালের মার্চ, জুন ও অক্টোবর মাসে তিনটি পৃথক আদালত অনুমোদিত জব্দ কার্যক্রমে প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করা হয়। অর্থগুলো হামাসের আল-কাসাম ব্রিগেডের জন্য পাঠানো হচ্ছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর এফবিআইয়ের আলবুকার্কি ফিল্ড অফিস মানবসূত্রের সহায়তায় আল-কাসাম ব্রিগেডের প্রধান ওয়েবসাইট আলকাসাম ডট পিএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডোমেইন ও সার্ভার শনাক্ত করে সেগুলোও জব্দ করে। তদন্তকারীদের দাবি, এসব অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ফলে হামাসের উদ্দেশে পাঠানো নতুন ক্রিপ্টো অনুদানও আটকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। শুধু অর্থ ও ওয়েবসাইট জব্দেই অভিযান সীমাবদ্ধ থাকেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও তদন্ত পদ্ধতি ব্যবহার করে এফবিআই এমন হাজার হাজার ব্যক্তির তথ্যও পেয়েছে, যারা অনলাইনে হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা প্রচলিত পদ্ধতিতে অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এসব তথ্য ভবিষ্যতের সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ হামাসকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বিভাগটির কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইন নেটওয়ার্ক ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ বন্ধ করা তাদের সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। মার্কিন বিচার বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ. আইজেনবার্গ বলেন, এই জব্দ কার্যক্রম হামাসের অনলাইন নিয়োগ ও অর্থ সংগ্রহের সক্ষমতা কমাতে সহায়তা করবে। এফবিআইয়ের সাইবার বিভাগের সহকারী পরিচালক ব্রেট লেদারম্যানও বলেন, সংগঠনটি প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। মামলাটি এফবিআইয়ের আলবুকার্কি ফিল্ড অফিস তদন্ত করছে। এর সঙ্গে এফবিআইয়ের কাউন্টারটেররিজম বিভাগ, সাইবার বিভাগ এবং নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসও যুক্ত রয়েছে।
টেক্সাসের আলভারাডোতে প্রেইরিল্যান্ড ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে আটক এক অভিবাসীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন কংগ্রেসম্যান মার্ক ভিসির কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা। একই সময়ে ওই ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। আইসিইর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তি বার্নার্ডো মাসেও সাবন। সংস্থাটির দাবি, ১৯৮২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে টেক্সাসের বিভিন্ন এলাকায় তাকে ২৫ বার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে চুরির অভিযোগ এবং একটি বাসায় দুই দফা চুরির ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ওই মামলায় তাকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে হামলা, গ্রেপ্তারে বাধা, অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ, চুরি ও বাসায় চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। আইসিই আরও জানিয়েছে, ১৯৯৮ সালে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক সাবনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমানে তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে আইসিই। অন্যদিকে, কংগ্রেসম্যান মার্ক ভিসির কার্যালয় গত কয়েক মাসে প্রেইরিল্যান্ড ডিটেনশন সেন্টারে আটক ব্যক্তিদের পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ জানিয়েছে। মার্চে ভিসি নিজেও ওই ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করে আটক ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা, স্বচ্ছতা এবং মানবিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আগস্টেও তার কার্যালয় ওই কেন্দ্রে আটক এক ইরানি ধর্মযাজকের মুক্তির দাবি জানিয়েছিল। তবে বার্নার্ডো মাসেও সাবনকে নিয়ে আইসিইর পোস্টে উল্লেখ করা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার আইনজীবী বা কংগ্রেসম্যান ভিসির কার্যালয়ের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইসিইর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ীই বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে।