- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
নিজস্ব আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে এবং শত্রুপক্ষের যেকোনো সম্ভাব্য হামলা রুখে দিতে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ইরান। এই লক্ষ্যে দেশের তিন হাজার আটশটিরও বেশি স্থানে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার খাতাম আল-আনবিয়া এয়ার ডিফেন্স বেস প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় বিমান প্রতিরক্ষা দিবস উপলক্ষে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-সমন্বয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাদেঘিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, ইরানের এই সুবিশাল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ, সার্বক্ষণিক নজরদারি, অনুপ্রবেশে বাধা প্রদান এবং প্রয়োজনে তা ধ্বংস করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করে থাকে। জেনারেল সাদেঘিয়ান জানান, দেশের আকাশসীমা এবং এর বাইরেও যেকোনো উড়ন্ত বস্তুকে দ্রুততম সময়ে শনাক্ত করে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনায় যুদ্ধবিমান বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে ইরানি বাহিনী। শত্রুপক্ষের যেকোনো বিমানকে তাদের মিশন সম্পন্ন করতে না দেওয়াই এই ব্যবস্থার চূড়ান্ত লক্ষ্য। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির পাশাপাশি শান্তিকালেও ইরানের এই আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আকাশসীমায় প্রবেশকারী সব ধরনের যাত্রীবাহী ও বাণিজ্যিক বিমান, অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট এবং উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত হেলিকপ্টারের গতিবিধি সরাসরি এই কর্তৃপক্ষের সমন্বয় ও অনুমতির আওতায় পরিচালিত হয়। দেশের মরুভূমি, উপকূলীয় অঞ্চল, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলেও এই বাহিনীর সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। উন্নত রাডার নেটওয়ার্ক, আধুনিক ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল প্রযুক্তি এবং নজরদারি ইউনিটগুলোর মাধ্যমে ইরানের আকাশসীমা ও এর বাইরের আকাশপথ এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সুরক্ষিত।
ভারতীয় র্যাপার ও গায়ক বাদশাহ এবং পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখি বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে নিজেদের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিবৃতিতে বাদশাহ ও ইশা বলেন, তারা দুজনেই নিজেদের আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে এই সময় তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ জানান তারা। সম্পর্ক নিয়ে আর কোনো জল্পনা বা অনুমান না করার কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন দুজন। ২০২১ সালে একটি পার্টিতে পারস্পরিক বন্ধুদের মাধ্যমে বাদশাহ ও ইশার পরিচয় হয়। এরপর ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে তাদের। কয়েক বছর সম্পর্কের বিষয়টি আড়ালে রাখার পর চলতি বছরের মার্চে ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ব্যক্তিগত আয়োজনে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের খবরও শুরুতে প্রকাশ্যে আনেননি দুজন। পরে ইশার মা পুনম রিখি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের কিছু ছবি প্রকাশ করলে বিষয়টি সামনে আসে। এরপর ইশা নিজেও ইনস্টাগ্রামের ‘আস্ক মি এনিথিং’ সেশনে বিয়ের কথা নিশ্চিত করেন। তবে বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়। জুলাই থেকে দাম্পত্যে টানাপোড়েনের গুঞ্জন ছড়াতে থাকে। যদিও তখন এ বিষয়ে বাদশাহ বা ইশার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি। শেষ পর্যন্ত ৩১ আগস্ট দুজনের যৌথ বিবৃতিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়। বাদশাহর এটি দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে ২০১২ সালে জেসমিন মাসিহকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। ২০২০ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের কারণ সম্পর্কে বাদশাহ ও ইশা কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। বরং যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি নিয়ে আর কোনো মন্তব্য না করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদের সম্পর্ক নিয়ে অনুমান বা জল্পনা এড়িয়ে চলার অনুরোধ করেছেন।
সৌদি আরবে পবিত্র কাবা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মো. সাদ্দাম হাওলাদার নামে এক সক্রিয় বিএনপি কর্মী। তিনি বর্তমানে জিয়া সাইবার ফোর্সের বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৩১ আগস্ট নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন সাদ্দাম। একই সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা জানান তিনি। ফেসবুক পোস্টে সাদ্দাম হাওলাদার বলেন, তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নিজেও দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি সৌদি প্রবাসী হওয়ায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান। তিনি লেখেন, “আমি স্ব-সম্মানে সজ্ঞানে বাংলাদেশ নামক সকল রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি এবং পদত্যাগ করলাম।” একই সঙ্গে পবিত্র কাবা শরীফকে সামনে রেখে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার ঘোষণা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। সাদ্দাম আরও বলেন, বিএনপির প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত এবং দলের নেত্রী ও নেতাদের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। রাজনীতি ছাড়লেও মানুষের সেবা থেকে সরে যাবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতির বাইরে থেকেও মানবসেবা করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে থাকার চেষ্টা করবেন। সাদ্দামের এই ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হঠাৎ করে তার রাজনীতি ছাড়ার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বিদেশি নাগরিকত্ব, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং সাংবিধানিকভাবে শপথ গ্রহণের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসলাম মিয়া। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এ নোটিশ পাঠানো হয়। আইনজীবী আসলাম মিয়া জানান, নোটিশের বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে জবাব না পেলে তিনি হাইকোর্টে রিটসহ আইনগত প্রতিকার চাইবেন। নোটিশে সংবিধানের ৫৬, ৬৬ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তফসিলের আলোকে দুই মন্ত্রীর নিয়োগ, যোগ্যতা, নাগরিকত্ব, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও শপথের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। এতে বিশেষভাবে দুই মন্ত্রীর নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট, অভিবাসন এবং নাগরিকত্ব গ্রহণ বা ত্যাগের রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ ও পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। নোটিশে সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করলে সংসদ সদস্য হিসেবে তার যোগ্যতার বিষয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ৬৬(২এ)-এর বিধানও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ড. খলিলুর রহমানের ক্ষেত্রে তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিক কি না, কখনো বিদেশি নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট নিয়েছেন কি না এবং কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ঘোষণা দিয়েছেন কি না—এসব বিষয় যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। একইভাবে হুমায়ুন কবিরের নাগরিকত্ব ও বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টিও যাচাই করতে বলা হয়েছে। তবে আইনি নোটিশটি কোনো চূড়ান্ত অভিযোগ বা আদালতের সিদ্ধান্ত নয়। নোটিশদাতার পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই চাওয়া হয়েছে। নোটিশে আরও বলা হয়েছে, কোনো সাংবিধানিক অযোগ্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর কোনো অযোগ্যতা না থাকলে দুই মন্ত্রীর নিয়োগ ও দায়িত্বে বহাল থাকার সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি স্পষ্ট করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি না হলে হাইকোর্টসহ উপযুক্ত বিচারিক ফোরামে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আইনজীবী আসলাম মিয়া।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তায় ওয়াশিংটন বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ আলড্রিচ। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সারাহ আলড্রিচ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। ভবিষ্যতে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। স্মরণসভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যানসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, মার্কিন কর্মকর্তারা ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন। মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সূচনা করেছে, তা বিশ্বের অন্যান্য তরুণদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘জুলাইকন্যা’ প্রদর্শন করা হয়। এতে আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ও অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৬০ দিনের এক যৌথ ফেডারেল অভিযানে ৩০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ২৪ নিখোঁজ শিশুকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ‘অপারেশন নিউ ডন’ নামে এই অভিযানে ১১টি ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা সংস্থা অংশ নেয়। মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ১৪০টি নতুন ফেডারেল ফৌজদারি মামলা করা হয়। এসব মামলায় ১৭৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ডাকাতি, অপহরণ, হত্যাকাণ্ড, ফেন্টানিল ও অন্যান্য মাদক পাচার, অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধ এবং শিশুদের শোষণের মতো গুরুতর অপরাধ রয়েছে। অভিযানটি শুরু হয় ১ মে এবং এতে এফবিআই, ডিইএ, এটিএফ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসসহ বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থা অংশ নেয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা পৃথক পরিচয়ের বদলে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফলাফলগুলোর একটি হলো ২৪ শিশুকে খুঁজে বের করা। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের অনেককেই অপহৃত বা নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছিল। পরে শিশুদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে মাদক পাচার ও সহিংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ডিইএর কর্মকর্তারা বলেছেন, মাদক পাচার ও সহিংস অপরাধের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে কাজ করা হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘোষণায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের সবাইকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ৩০৫ জনের মধ্যে ১৭৯ জনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল কর্মকর্তারা বলছেন, অপারেশন নিউ ডনের লক্ষ্য ছিল শিকাগো ও আশপাশের এলাকায় সহিংস অপরাধ এবং অপরাধী নেটওয়ার্কের কার্যক্রম ব্যাহত করা। শিশুদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার ঘটনাটি অভিযানের মানবিক দিকটিকেও সামনে এনেছে।
১৯৯৭ সালে ওমরা করতে সৌদি আরবের মদিনায় গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড সিস্টেমে একটি সমস্যা চোখে পড়ে তুরস্কের অডিও ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ টেকিন টুপুজদাগের। ইমামের কণ্ঠ স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছিল না, ছিল অতিরিক্ত প্রতিধ্বনি ও শব্দের প্রতিক্রিয়া। সেই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগই পরে তাকে পবিত্র দুই মসজিদের সাউন্ড সিস্টেম উন্নয়নের দীর্ঘ ১০ বছরের কাজে যুক্ত করে। মসজিদে নববীর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কথা বলে নিজের পদ্ধতি পরীক্ষা করার সুযোগ পান টুপুজদাগ। একটি নির্দিষ্ট অংশে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করার পর শব্দের মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। এরপর পুরো সাউন্ড সিস্টেম উন্নয়নের কাজে তাকে যুক্ত করা হয়। পরবর্তী এক দশকে মসজিদে নববীর অডিও ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। মাইক্রোফোন, কেবল, স্পিকারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরিবর্তন ও সমন্বয় করা হয়। ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কণ্ঠের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সাউন্ড সেটিংও আলাদাভাবে সমন্বয় করা হয়। শব্দের প্রতিধ্বনি ও ফিডব্যাক কমানোর পাশাপাশি পুরো মসজিদকে সাতটি অডিও জোনে ভাগ করা হয়। নামাজের বিভিন্ন অবস্থায়ও যেন ইমামের কণ্ঠ মুসল্লিদের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছায়, সে জন্য অতিরিক্ত মাইক্রোফোন ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়। মসজিদে নববীর পাশাপাশি মক্কার মসজিদুল হারামের সাউন্ড সিস্টেম নিয়েও কাজ করেন টুপুজদাগ। তার কাজের ফলে সাউন্ডের স্বচ্ছতা বাড়ে এবং বিস্তৃত ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জে শব্দ পৌঁছানোর সক্ষমতা উন্নত হয় বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরব ছাড়ার আগে টুপুজদাগ স্থানীয় সৌদি প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদেরও প্রশিক্ষণ দেন। পরবর্তীতে তারা দেশটির বিভিন্ন মসজিদের অডিও সিস্টেম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত হন। একটি ওমরা সফরে গিয়ে সাউন্ডের একটি সমস্যা চোখে পড়া থেকে শুরু হয়েছিল যে উদ্যোগ, সেটিই শেষ পর্যন্ত মসজিদে নববী ও মসজিদুল হারামের অডিও ব্যবস্থা উন্নয়নের এক দশকের দীর্ঘ প্রকল্পে পরিণত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০ বছরের যুদ্ধের অধ্যায় পেছনে ফেলে নতুন সম্পর্ক গড়তে চায় আফগানিস্তান। একই সঙ্গে দেশটিতে মার্কিন বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। সোমবার (৩১ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-আফগানিস্তান সম্পর্ককে অতীতের যুদ্ধ দিয়ে নয়, ভবিষ্যতের সহযোগিতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। মুত্তাকি জানান, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আফগানিস্তানের খনি, অবকাঠামো, কৃষি ও বাণিজ্য খাতে বিনিয়োগ করতে পারে। আফগানিস্তানে বিপুল পরিমাণ সোনা, তামা, লিথিয়াম, কোবাল্টসহ বিভিন্ন খনিজ সম্পদ রয়েছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়ার পর তালেবান দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর চীন ও ইরানের সঙ্গে খনিজ সম্পদ উত্তোলনে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে তালেবান সরকার। এদিকে কাবুলের বাগরাম বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মুত্তাকি বলেছেন, আফগানিস্তানের জাতীয় সম্পদ অন্য কোনো দেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে দুই ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের পর পুলিশের গুলিতে পামেলা সিসনেরোস (৪৯) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। সোমবার বিকেলে ওয়েস্ট ৪১তম স্ট্রিট ও সেভেন্থ অ্যাভিনিউয়ের কাছে এ ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (NYPD) কর্মকর্তারা জানান, সিসনেরোসের হাতে দুটি ছুরি ছিল। তিনি প্রথমে ৬৮ বছর বয়সী এক পুরুষের পেটে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর ৩২ বছর বয়সী এক নারীর পেটে ছুরিকাঘাত করেন। পরে আহত ওই নারীকে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত পুরুষের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের তথ্যমতে, হামলার পর সিসনেরোস ছুরি হাতে একটি পুলিশ সাবস্টেশনের দিকে এগিয়ে যান। কর্মকর্তারা প্রায় চার মিনিট ধরে তাকে ছুরি ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে তিনি নির্দেশ মানেননি এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকি দেন বলে দাবি পুলিশের। পুলিশ জানায়, তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে টেজার ব্যবহার করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। একপর্যায়ে ছুরি হাতে তিনি কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে এলে দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালান। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। NYPD কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, ঘটনাটি অনেকটা আকস্মিক ও বিনা উসকানিতে হামলার মতো মনে হচ্ছে। ঘটনার সময় টাইমস স্কয়ারে বিপুলসংখ্যক মানুষ, পর্যটক ও পরিবার উপস্থিত ছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিসনেরোসের ২০১৮ ও ২০১৯ সালে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ঘটনায় NYPD-তে নথিবদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। তবে হামলার সঠিক কারণ এখনো তদন্তাধীন। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে। পুলিশের বডি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হতে পারে। ঘটনায় নিহত নারী ও আহত পুরুষের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে মায়ের ওপর হামলা ঠেকাতে ছুরি হাতে এগিয়ে যায় ১২ বছরের এক কিশোর। প্রিন্স জর্জস কাউন্টির টেম্পল হিলসে শনিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মায়ের প্রেমিক তাকে গলা টিপে ধরার পর কিশোরটি রান্নাঘর থেকে ছুরি নিয়ে হামলাকারীকে ছুরিকাঘাত করে। কিশোরটির নাম জেভিয়ার লেদারস। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সে ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ মায়ের চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে দেখে, তার মায়ের প্রেমিক তাকে আক্রমণ করছেন। মাকে বাঁচাতে জেভিয়ার রান্নাঘর থেকে একটি ছুরি নিয়ে ফিরে আসে এবং ওই ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করে। এতে হামলাকারী সামান্য আহত হন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির নাম ৪২ বছর বয়সী রনি ম্যাককেইন। তাকে গ্রেপ্তার করে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। চিকিৎসার পর তাকে আবার পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনার পর জেভিয়ার জানান, ওই মুহূর্তে তার একটাই চিন্তা ছিল, মাকে বাঁচানো। তিনি বলেন, সে সেখানে না থাকলে কী ঘটত, তা সে জানে না। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা জেভিয়ারের সাহসের প্রশংসা করেন। কিশোরটি জানায়, পুলিশ তাকে বলেছে যে সে ভালো কাজ করেছে। তবে একই সঙ্গে সে বলেছে, এত অল্প বয়সে তাকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হওয়াটা উচিত ছিল না। ঘটনাটি এখন তদন্ত করছে প্রিন্স জর্জস কাউন্টি পুলিশ। মায়ের ওপর হামলার পরিস্থিতি এবং ছুরিকাঘাতের পুরো ঘটনাক্রম নিয়েও তদন্ত চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনোতে দারিদ্র্য, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যে বেড়ে ওঠা জেমস হ্যারিস জুনিয়রের জীবন একসময় ধ্বংসের দিকেই এগোচ্ছিল। কিশোর বয়সে স্কুলে পড়াশোনা ছেড়ে গাড়ি চুরিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বাবা হন। কিন্তু একজন কাউন্সেলরের সহায়তা ও নিজের কঠোর পরিশ্রমে সেই জীবন বদলে দিয়ে আজ তিনি জনস হপকিন্সের একজন স্বনামধন্য জেনারেল সার্জন। হ্যারিস বর্তমানে মেরিল্যান্ডের কলাম্বিয়ায় Johns Hopkins Howard County Medical Center-এর সার্জারি বিভাগের চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি তরুণ সার্জনদের প্রশিক্ষণেও যুক্ত। জনস হপকিন্সের তথ্য অনুযায়ী, তিনি জেনারেল সার্জারিতে বোর্ড সার্টিফায়েড এবং প্রতিষ্ঠানটির স্কুল অব মেডিসিনে ক্লিনিক্যাল সার্জারির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তবে চিকিৎসক হওয়ার এই অবস্থানে পৌঁছানো তার জন্য সহজ ছিল না। ফ্রেসনোতে বড় হওয়ার সময় তার পরিবারে মাদকাসক্তি ও অস্থিরতা ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। তার বাবা মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই করতেন এবং জীবনে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন না। মায়ের উপস্থিতিও ছিল সীমিত। ফলে কৈশোরেই পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন হ্যারিস। এক পর্যায়ে তিনি স্কুলের দুই বছর পিছিয়ে পড়েন এবং গাড়ি চুরির মতো অপরাধে জড়িয়ে যান। ১৫ বছর বয়সে বাবা হওয়ার পরও তার জীবন দ্রুত বদলায়নি। নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েই আশাবাদী ছিলেন না। জীবনের সেই কঠিন সময়ে একজন কাউন্সেলর তার মধ্যে সম্ভাবনা দেখতে পান। সেই সহায়তা হ্যারিসকে নতুন করে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করে। এরপর ধীরে ধীরে তিনি নিজের জীবন বদলাতে শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যান এবং ২০০৭ সালে UCLA-এর David Geffen School of Medicine থেকে মেডিকেল ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর Johns Hopkins-এ সার্জারির রেসিডেন্সি সম্পন্ন করেন। জনস হপকিন্সের প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ২০১৪ সালে জেনারেল সার্জারিতে বোর্ড সার্টিফিকেশনও অর্জন করেন। হ্যারিসের এই পরিবর্তনের গল্প এখন তার নিজের স্মৃতিকথা Not Who I Once Was: My Unusual Path to Becoming a Surgeon-এও উঠে এসেছে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত বইটিতে তিনি দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট, কৈশোরে বাবা হয়ে যাওয়া এবং নিজের জীবন ঘুরিয়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তার গল্পের মূল বার্তা হলো, জীবনের শুরুর পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয় না। সঠিক দিকনির্দেশনা, শিক্ষা, পরিশ্রম ও সুযোগ পেলে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবন গড়ে তোলা সম্ভব। আজ হ্যারিস শুধু রোগীদের চিকিৎসাই করছেন না, নতুন প্রজন্মের সার্জনদেরও প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। ২০২২ সালে জনস হপকিন্সের Physician of the Year সম্মাননাতেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। সেই সময় হাসপাতালে জরুরি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল চিকিৎসাসেবায় সংকট তৈরি হলে তিনি স্বেচ্ছায় অন-কল দায়িত্ব নিয়ে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তা করেছিলেন। কৈশোরের সেই অস্থির জীবন থেকে অপারেশন থিয়েটার এবং জনস হপকিন্সের নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছানো তাই জেমস হ্যারিসের জন্য শুধু পেশাগত সাফল্যের গল্প নয়, এটি নিজের অতীতকে পেছনে ফেলে নতুন জীবন গড়ে তোলার এক বিরল উদাহরণ।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে প্রায় ৬০ হাজার বাতের বারের বিল পরিশোধ করতে না পারায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ২৫ আগস্ট পিংকলাও এলাকার একটি হোস্ট বারে ঘটনাটি ঘটে। পরে মাথা ন্যাড়া করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং ঘটনার তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণীটি বারে গিয়ে ২০০টির বেশি পানীয়ের অর্ডার করেছিলেন। এতে তার বিল দাঁড়ায় প্রায় ৬০ হাজার থাই বাত, যা প্রায় ১ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলারের সমান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বারে প্রবেশ করেছিলেন এবং বিল পরিশোধ না করেই বের হওয়ার চেষ্টা করেন। বার কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই তরুণীর কাছে বিল পরিশোধের মতো টাকা ছিল না। পুলিশের কাছে বিষয়টি না দিয়ে তার চুল বিক্রির মাধ্যমে বিলের একটি অংশ সমন্বয়ের জন্য একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো হয়। এরপর বারটির এক কর্মী ইলেকট্রিক ট্রিমার দিয়ে তার মাথার চুল পুরোপুরি কেটে দেন। চুলের মূল্য হিসেবে প্রায় ৩ হাজার বাত ধরা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তরুণীকে একটি চুক্তিতে সম্মতি দিতে দেখা যায় এবং পরে তার মাথার চুল কেটে ফেলা হয়। বার কর্তৃপক্ষের দাবি, কাটা চুল দান করার কথা ছিল। তবে তরুণীর বক্তব্য ভিন্ন। ২৮ আগস্ট তিনি তার মায়ের সঙ্গে থানায় গিয়ে বার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তার দাবি, ওই সময় তিনি মানসিক চাপে ছিলেন এবং প্রথমে ভেবেছিলেন শুধু কিছু চুল কাটা হবে। পুরো মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হবে, তা তিনি জানতেন না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তাকে ধরে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। বার কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তরুণীর মা জানান, প্রথমে বারের বকেয়া বিল কিস্তিতে পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। পরে চুল বিক্রি করে বিলের টাকা সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি ভেবেছিলেন মেয়ের চুল শুধু ছোট করে কাটা হবে। কিন্তু মেয়েকে পুরো মাথা ন্যাড়া অবস্থায় দেখে তিনি হতবাক হন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থাইল্যান্ডের সামাজিক উন্নয়ন ও মানব নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের কাছে তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সামাজিক সংগঠন Be One Foundation-এর প্রতিষ্ঠাতা চালিদা ফালামাতও ঘটনাটির সমালোচনা করেছেন। তার বক্তব্য, বকেয়া বিল বা প্রতারণার অভিযোগ থাকলে সেটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে সমাধান করা উচিত, কাউকে এভাবে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। পরে বার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং তরুণীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করার কথা জানানো হয়েছে। তরুণী ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করেছিলেন কি না, বকেয়া বিলের প্রকৃত পরিমাণ কত ছিল এবং মাথা ন্যাড়া করার সময় তিনি স্বেচ্ছায় সম্মতি দিয়েছিলেন কি না, এসব বিষয় এখন তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায়।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মক্ষেত্রে ইমেইল শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একজন কর্মীর professional communication-এরও অংশ। তাই ম্যানেজার বা সহকর্মীকে ইমেইল করার সময় Subject থেকে Greeting, ভাষা, বানান এবং শেষের Signature পর্যন্ত কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের Department of Labor-এর বিভিন্ন গাইডলাইনেও professional email-এ পরিষ্কার Subject, উপযুক্ত Greeting, সংক্ষিপ্ত ভাষা, সঠিক বানান এবং পাঠানোর আগে ইমেইল পুনরায় পড়ে দেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইমেইলের শুরুতেই Subject Line পরিষ্কার ও সংক্ষিপ্ত হওয়া উচিত। শুধু “Question” বা “Update” না লিখে কী বিষয়ে ইমেইল করা হচ্ছে, তা উল্লেখ করা ভালো। যেমন, “Request for Day Off - October 25” অথবা “Update on Inventory Task - Store #1234”। Greeting-এর ক্ষেত্রেও পেশাদার ভাষা ব্যবহার করা জরুরি। “Bro”, “Dude” বা অতিরিক্ত informal সম্বোধন এড়িয়ে চলুন। পরিচিত হলে “Hi John,” অথবা “Hello Mr. Smith,” ধরনের সম্বোধন ব্যবহার করা যেতে পারে। পরিস্থিতি ও কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি অনুযায়ী Greeting কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। ইমেইলের মূল বক্তব্য সাধারণত সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি হওয়া ভালো। প্রথমে কেন লিখছেন তা বলুন, এরপর প্রয়োজনীয় Details দিন এবং শেষে আপনি কী চান বা কী ধরনের Action আশা করছেন তা পরিষ্কার করুন। অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ ব্যাখ্যার বদলে ছোট, সহজে বোঝা যায় এমন বাক্য ব্যবহার করা উচিত। ভদ্র ও professional শব্দের ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ। “Please”, “Thank you”, “I appreciate your time” এবং “Could you please...” এর মতো বাক্য ইমেইলের Tone-কে পেশাদার রাখতে সাহায্য করে। তবে একই শব্দ বারবার ব্যবহার করে ইমেইল কৃত্রিম করে তোলার প্রয়োজন নেই। অসুস্থতার কারণে কাজে যেতে না পারলে ইমেইল হতে পারে এমন: Subject: Sick Leave Today Hi [Manager Name], I am not feeling well today and am unable to come to work. I will keep you updated. Thank you for your understanding. Best, [Your Name] Day Off চাইতে হলে সরাসরি কারণ জানিয়ে অনুমোদন চাওয়া যায়। যেমন, কোনো family appointment থাকলে জানিয়ে বলতে পারেন যে আপনার প্রয়োজনীয় কাজগুলো শেষ করেছেন এবং প্রয়োজন হলে সহকর্মীর সঙ্গে কাজ সমন্বয় করবেন। দেরিতে অফিসে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ ব্যাখ্যা না দিয়ে সংক্ষেপে জানানো ভালো। যেমন, “I am stuck in traffic and will be approximately 15 minutes late. I apologize for the inconvenience.” ইন্টারভিউয়ের পর Thank You Email পাঠানোও professional practice হিসেবে কাজে আসতে পারে। সেখানে ইন্টারভিউয়ের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে Position বা Team সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করা যায়। যেমন, “Thank you for taking the time to meet with me today. I enjoyed learning more about the team and am excited about the opportunity.” আরও কিছু বিষয় এড়িয়ে চলা উচিত। ইমেইলে ALL CAPS ব্যবহার করলে তা অনেক সময় চিৎকার করার মতো মনে হতে পারে। অপ্রয়োজনীয় Emoji, Joke, Sarcasm, Gossip বা আবেগপ্রবণ মন্তব্যও professional email-এ না রাখাই ভালো। Department of Labor-এর professional email etiquette guidance-এ সংক্ষিপ্ত, ব্যবসায়িক ভাষা ব্যবহার এবং পাঠানোর আগে spelling ও পুরো বার্তাটি আবার পড়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সবশেষে Send বাটনে চাপ দেওয়ার আগে অন্তত একবার To, Subject, নাম, বানান, Attachment এবং মূল বক্তব্য পরীক্ষা করুন। বিশেষ করে ভুল ব্যক্তির কাছে ইমেইল চলে গেলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বা ব্যক্তিগত তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি, কারণ ইমেইল সবসময় নিরাপদ যোগাযোগের মাধ্যম নাও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের Department of Labor-এর সাম্প্রতিক Employment Workshop গাইডেও professional email-এর ক্ষেত্রে পরিষ্কার Subject Line, উপযুক্ত Greeting, সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি ভাষা, ভদ্র Tone এবং যথাযথ Closing ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই আমেরিকায় চাকরির ক্ষেত্রে ভালো ইমেইলের সহজ সূত্র হলো: পরিষ্কার Subject, professional Greeting, সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, ভদ্র ভাষা এবং Send করার আগে একবার ভালোভাবে Check।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাবেক ট্যাক্সিচালক গুরমিত সিংয়ের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। ২০১১ সালে ট্যাক্সিতে এক নারী যাত্রীকে ছুরি দেখিয়ে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় ২০১৪ সালে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সিং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ওই অপরাধের তথ্য গোপন করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালত গত ২৬ আগস্ট সিংয়ের ন্যাচারালাইজেশন বাতিলের আদেশ দেন। বিচার বিভাগ সোমবার, ৩১ আগস্ট এ তথ্য প্রকাশ করে। গুরমিত সিং ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছয় মাসের অস্থায়ী ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। পরে কয়েক বছর অনুমোদনহীনভাবে দেশটিতে থাকার পর পারিবারিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০০০ সালের জুনে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ডধারী হন। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের মে মাসে, মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার কয়েক সপ্তাহ আগে, সিং ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ করছিলেন। এক নারী যাত্রী ট্যাক্সিতে ঘুমিয়ে পড়লে তিনি তাকে এমন একটি স্থানে নিয়ে যান যেখানে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না। ঘুম থেকে উঠে ওই নারী দেখতে পান, সিং তার ওপর চেপে বসে আছেন এবং তার গলায় ছুরি ধরে রেখেছেন। এরপর সিং ওই নারীকে বেঁধে ও মুখ বন্ধ করে ধর্ষণ করেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভোরে ওই নারী ট্যাক্সি থেকে পালিয়ে রাস্তায় গিয়ে সাহায্য চান। অপরাধের কয়েক মাস পরও সিং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় এসব তথ্য গোপন রাখেন। ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালে নিউইয়র্কে তিনি প্রথম ডিগ্রির ধর্ষণ এবং যৌন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ হিসেবে দ্বিতীয় ডিগ্রির অপহরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। আদালত তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সিংয়ের ন্যাচারালাইজেশন বাতিলের জন্য মামলা করে। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই ফেডারেল আদালত তার নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেন, নাগরিকত্ব অপরাধীদের জন্য কোনো সুরক্ষা নয়। বিচার বিভাগের ভাষ্য, সিং নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধের তথ্য গোপন করায় তিনি আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না। আদেশ অনুযায়ী, সিংকে তার ভুলভাবে পাওয়া নাগরিকত্বের নথি হস্তান্তর করতে হবে। তিনি বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। নাগরিকত্ব বাতিলের পর কারাদণ্ড শেষ হলে তার অভিবাসন সংক্রান্ত পরবর্তী ব্যবস্থা কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের চার সন্তানের মা কাইলি গ্রাইমস এক রাতে ৯১১-এ ফোন করেছিলেন সন্তানদের কোনো জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতির জন্য নয়, নিজের ভেঙে পড়ার মুহূর্তে সাহায্য চেয়ে। দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতি, একসঙ্গে দুই সন্তানের টাইপ ১ ডায়াবেটিসের যত্ন এবং চার সন্তান সামলানোর চাপের মধ্যে তিনি বুঝতে পারেন, আর একা সামলানো সম্ভব হচ্ছে না। ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই রাতে। সেদিন স্বামী কাইল কাজে থাকায় সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে একাই ছিলেন কাইলি। এর আগের কয়েক মাসে পরিবারের ওপর একের পর এক চাপ তৈরি হয়। তাদের ছোট ছেলে নোবেলের বয়স যখন মাত্র সাত মাস, তখন তার টাইপ ১ ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। এর ৬৩ দিন পর একই রোগে আক্রান্ত হয় তাদের ছয় বছর বয়সী মেয়ে গোল্ডিও। পরিবারের আগে এমন রোগের ইতিহাস ছিল না। দুই সন্তানের ডায়াবেটিসের যত্ন নিতে গিয়ে কাইলির ঘুম ও বিশ্রাম প্রায় হারিয়ে যায়। ছোট সন্তানের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ওষুধ ও খাবারের হিসাবসহ প্রতিদিনের নানা দায়িত্ব তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছিল। ৩১ জুলাই রাতেও পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। সন্তানরা রাতের খাবারের জন্য অপেক্ষা করছিল। এর মধ্যেই ছোট নোবেল একটি ঘরের গাছের টবের মাটি মুখে নিয়ে ফেললে কাইলি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরও তিনি বুঝতে পারেন, মানসিকভাবে তিনি আর স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। কাইলি প্রথমে স্বামীকে ফোন করে সাহায্য চান। কিন্তু তিনি তখনও প্রায় ৩০ মিনিট দূরে ছিলেন। একপর্যায়ে কাইলি ৯১১-এ ফোন করেন। ডিসপ্যাচার জানতে চান, জরুরি পরিস্থিতি কী। কাইলি বলেন, তিনি আর পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না, তিনি ভীষণ চাপে আছেন এবং সাহায্য প্রয়োজন। এরপর যখন আবার জানতে চাওয়া হয়, আসল জরুরি বিষয়টি কী, তখন তার উত্তর ছিল, “আমাকে ইমারজেন্সি বাঁচান'।” কাইলি স্পষ্ট করে জানান, তিনি নিজেকে বা সন্তানদের ক্ষতি করতে যাচ্ছেন না। তিনি শুধু বুঝতে পেরেছিলেন যে তার জরুরি সহায়তা প্রয়োজন এবং সন্তানদের নিরাপদ রাখার জন্যও তাকে কিছুটা সহায়তা নিতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন পুলিশ অফিসার বাড়িতে পৌঁছান। পরে অন্য ফার্স্ট রেসপন্ডাররাও আসেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাকে একজন সোশ্যাল ওয়ার্কারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। এই ঘটনার পর কাইলি পরিবার ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে আরও সহায়তা নিতে শুরু করেন। পরে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে তুলে ধরে তিনি জানান, সন্তানের যত্ন নিতে গিয়ে কোনো মা বা কেয়ারগিভার মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে সেটিকে লুকিয়ে রাখার বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। কাইলির অভিজ্ঞতা বিশেষ করে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান বা পরিবারের সদস্যের অতিরিক্ত যত্নের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, সাহায্যের প্রয়োজন হওয়া ব্যর্থতার লক্ষণ নয়। বরং নিজের সীমা বুঝে সময়মতো সহায়তা চাওয়াও দায়িত্বশীলতার অংশ। কাইলি পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মাতৃত্ব, টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত সন্তানদের যত্ন এবং কেয়ারগিভার হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তার এই খোলামেলা অবস্থান অনেক অভিভাবকের মধ্যে সন্তান লালনপালনের চাপ, মানসিক ক্লান্তি এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
টেক্সাসে শরিয়া আইন নিয়ে রিপাবলিকানদের অবস্থান কঠোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ নিয়ে বিতর্কও তীব্র হয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা শরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে মুসলিম নাগরিক ও ইসলামবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্মীয় ধারণা হিসেবে শরিয়ার অর্থকে রাজনৈতিক বক্তব্যে অতিরঞ্জিত ও বিকৃত করা হচ্ছে। টেক্সাসের অস্টিনের বাসিন্দা শাইমা জায়ানের কাছে শরিয়া কোনো বিকল্প আইনি ব্যবস্থা নয়। তাঁর ভাষায়, এটি মুসলিমদের দৈনন্দিন ধর্মীয় ও নৈতিক জীবনযাপনের একটি পথ। যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিকদের ওপর এটি অন্যদের জন্য চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়ও নয় বলে তিনি মনে করেন। টেক্সাসে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) রাজ্য শাখায় কাজ করা জায়ান বলেন, মসজিদে নিয়মিত ধর্মীয় আলোচনায় বাবা-মায়ের সঙ্গে আচরণ, প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব, ভালো চরিত্র, নামাজ ও রোজার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ‘শরিয়া’ শব্দটি আলাদাভাবে বারবার উচ্চারিত না হলেও এসব নৈতিক ও ধর্মীয় অনুশীলন ইসলামী জীবনযাপনের অংশ। টেক্সাস আইনসভার প্রথম মুসলিম সদস্য সালমান ভোজানি শরিয়াকে ব্যক্তিগত নৈতিক ও ধর্মীয় কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, দান-সদকা করা, নিয়মিত সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করা, প্রতিবেশী ও অন্যদের সঙ্গে সৎ আচরণ করা এর অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি অন্য কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। রিপাবলিকান নেতাদের বক্তব্য অবশ্য ভিন্ন। তারা শরিয়াকে এমন একটি আইনি কাঠামো হিসেবে দেখছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। টেক্সাসের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ব্রেন্ট মানি বলেছেন, ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাসনা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে সুরক্ষিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, টেক্সাসের আইন বা অন্যদের সমঅধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিদেশি আইনি ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার কেউ পায় না। এ অবস্থান থেকেই চলতি বছরের মার্চে মানি টেক্সাস আইনসভায় ‘শরিয়া ফ্রি টেক্সাস ককাস’ গঠন করেন। এর আগে টেক্সাসের দুই রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য কিথ সেলফ ও চিপ রয় কংগ্রেসে ‘শরিয়া-ফ্রি আমেরিকা ককাস’ গঠন করেছিলেন। জুনে সেলফ জানিয়েছিলেন, ২৫টি অঙ্গরাজ্যের ৬৮ জন রিপাবলিকান সদস্য ওই ককাসে যুক্ত হয়েছেন। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটও গত এক বছরে ইসলাম ও শরিয়া নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুড ও সিএআইআরকে টেক্সাসের আইনের অধীনে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন ও আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেন। অ্যাবটের কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে ওই সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে বাড়তি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় এবং টেক্সাসে তাদের জমি বা সম্পত্তি অর্জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এ ছাড়া ২০২৬ সালের শুরুতে অ্যাবট সিএআইআর-সংশ্লিষ্ট একটি ইসলামিক ক্রীড়া আয়োজন নিয়ে স্কুলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান এবং শরিয়া আদালত নিয়ে তদন্তের কথাও বলেন। রিপাবলিকান পার্টি অব টেক্সাসের চলতি বছরের প্ল্যাটফর্মেও শরিয়া নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ‘ডোন্ট শরিয়া মাই টেক্সাস’ নামে একটি প্রস্তাবে শরিয়াকে অঙ্গরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি শরিয়া বাস্তবায়ন বা প্রচারের বিরুদ্ধে আইন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এমনকি শরিয়া প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সরকারি চাকরি, সামরিক বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব থেকে অযোগ্য ঘোষণার মতো প্রস্তাবও এতে রয়েছে। অন্যদিকে ইসলামবিষয়ক গবেষকরা বলছেন, শরিয়াকে একটি একক, সুনির্দিষ্ট আইনবিধি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। রাইস ইউনিভার্সিটির ইসলামবিষয়ক অধ্যাপক ডেভিড কুকের মতে, শরিয়া একক কোনো বিষয় নয়। ইসলামের নবী মুহাম্মদের শিক্ষা ও ঐতিহ্য, সেগুলো থেকে তৈরি বিভিন্ন আইনগত ব্যাখ্যা এবং সময়ের সঙ্গে এসব ব্যাখ্যার পরিবর্তন ও আলোচনা মিলিয়ে শরিয়ার ধারণা গড়ে উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেসের ইসলামি আইন ও শরিয়াবিষয়ক অধ্যাপক খালেদ আবু আল ফাদলও বলেন, আরবি ভাষায় ‘শরিয়া’ শব্দের মূল অর্থ পথ বা পানির দিকে যাওয়ার পথের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর মতে, ইসলামী ঐতিহ্যে এটি কল্যাণের পথ বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়। প্রায় দেড় হাজার বছরের ইসলামী ইতিহাসে শরিয়া নিয়ে বহু ধরনের ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা এটিও স্বীকার করেন যে, কিছু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে শরিয়ার নামে কঠোর ও দমনমূলক আইন চালু রয়েছে। কিন্তু সেসব আইনকে বিশ্বের সব মুসলিমের ধর্মীয় বিশ্বাস বা শরিয়ার একমাত্র ব্যাখ্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এই জায়গাতেই টেক্সাসের মুসলিম নাগরিকদের আপত্তি। তাদের বক্তব্য, কিছু দেশে ধর্মীয় আইনের কঠোর প্রয়োগের উদাহরণ থাকলেও তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মুসলিমদের দৈনন্দিন ধর্মচর্চাকে এক করে দেখা হচ্ছে। টেক্সাসে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মুসলিমদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশ বলে পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক ধর্মীয় জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলিম নারীদের হিজাব পরা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জায়ানের বক্তব্য, হিজাব পরা ব্যক্তিগত ধর্মীয় সিদ্ধান্ত। সিএআইআর টেক্সাসে কর্মরত ছয় মুসলিম নারীর মধ্যে তিনজন হিজাব পরেন বলে তিনি জানান। তাঁর প্রশ্ন, ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলনকে কীভাবে অন্যদের ওপর একটি আইন চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা হিসেবে দেখা যায়? ইসলামবিষয়ক গবেষক কামবিজ ঘানিয়াবাসিরি মনে করেন, মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাস মার্কিন সংবিধানের বিকল্প কোনো কর্তৃত্ব তৈরি করে, এমন ধারণা মূলত ভয় তৈরি করার রাজনৈতিক কৌশল। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ক্যাথলিকদের নিয়েও একসময় একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। অস্টিনের মুসলিম নাগরিক শাকিল রাশেদের ভাষায়, মুসলিমরাও অন্য আমেরিকানদের মতোই সংবিধান মেনে নিজেদের ধর্ম পালন করতে চান। ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রেখে এবং প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়ে নিজ নিজ বিশ্বাস পালন করাই তাদের প্রত্যাশা। টেক্সাসে মুসলিমদের নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন শুধু শরিয়া আইনেই সীমাবদ্ধ নেই। কিছু রিপাবলিকান ও রক্ষণশীল নেতা হিজাব ও অন্যান্য ইসলামী পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ, ইসলামিক চার্টার স্কুল বন্ধ এবং মুসলিমদের পেশাগত লাইসেন্স নিয়ে কঠোর পদক্ষেপের কথাও বলছেন। জানুয়ারিতে টেক্সাস আইনসভা অধিবেশনে বসার পর এসব প্রস্তাব নিয়ে আরও বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মুসলিম নেতারা বলছেন, ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার এবং কোনো ধর্মীয় আইনের নামে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন পরিবর্তনের প্রশ্নকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, শরিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের আগে এর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক অর্থ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। সূত্র: দ্য টেক্সাস ট্রিবিউন
নিউইয়র্কের কুইন্সে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআইয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এআই কনফারেন্স অ্যান্ড ওয়ার্কশপ ২০২৬। গত ৩০ আগস্ট, রোববার সন্ধ্যায় জামাইকায় আয়োজিত এই সম্মেলনে শিশু, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রযুক্তিপ্রেমীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। এআইকে শিক্ষা, ব্যবসা, সৃজনশীলতা ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করার বিভিন্ন সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি শিশুদের সরাসরি এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন ছিল আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ। সম্মেলনে বিশেষভাবে দেখানো হয়, কীভাবে এআইকে শিশুদের শেখার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। লাইভ ডেমোনস্ট্রেশনে শিশুরাই টিউটরমিগো এআই ব্যবহার করে প্রশ্ন করা, বিষয় বুঝে নেওয়া, কুইজ দেওয়া এবং নিয়মিত অনুশীলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। এতে এআইয়ের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে শেখার একটি ইন্টার্যাকটিভ পদ্ধতিও উপস্থিতদের সামনে আসে। ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআই নিজেদের একটি এআই ইকোসিস্টেম হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে বর্তমানে দুটি প্রধান প্রোডাক্ট রয়েছে, টিউটরমিগো এআই এবং চ্যাটারমেট এআই। সম্মেলনে দুটি প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারিক সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ভূঁইয়া। প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গ্রোথ সাবস্ক্রিপশনের মাসিক মূল্য ১৯.৯৯ ডলার। এই সাবস্ক্রিপশনের আওতায় টিউটরমিগো এআই ও চ্যাটারমেট এআই দুটিই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। টিউটরমিগোতে একটি সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে তিনজন শিশুকে এক বছর পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় শেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। টিউটরমিগো এআইকে একটি অ্যাডাপটিভ এআই টিউটর হিসেবে তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়। শিক্ষার্থীর শেখার ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি এতে বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্নোত্তর, কুইজ ও অনুশীলনের সুবিধা রয়েছে। অভিভাবকদের জন্যও রয়েছে আলাদা ড্যাশবোর্ড, যেখানে সন্তানের শেখার কার্যক্রম ও অগ্রগতি দেখা যাবে। শুধু শিশুদের জন্য নয়, প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষার ক্ষেত্রেও টিউটরমিগো ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে সম্মেলনে জানানো হয়। অভিভাবকরা প্রয়োজনে শিক্ষার্থী মোডে গিয়ে IELTS, TOEFL, GRE ও GMATসহ বিভিন্ন পরীক্ষা এবং চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, আরও বেশি সুবিধার জন্য প্রো সাবস্ক্রিপশনের মাসিক মূল্য ৪৯.৯৯ ডলার। বার্ষিক সাবস্ক্রিপশনের জন্য রয়েছে আলাদা মূল্য কাঠামো ও ডিসকাউন্ট। অন্যদিকে, চ্যাটারমেট এআইকে একটি মাল্টি-মডেল এআই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এতে ব্যবহারকারীরা একাধিক এআই মডেল ব্যবহার করে তাদের তৈরি উত্তর তুলনা করার সুযোগ পাবেন। সম্মেলনে জানানো হয়, প্ল্যাটফর্মটিতে ওপেনএআই, ক্লড, জেমিনি ও গ্রকসহ বিভিন্ন এআই মডেল ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি ডকুমেন্টভিত্তিক এআই, স্মার্ট মডেল রাউটিং এবং বিভিন্ন প্রোডাক্টিভিটি টুলও এতে যুক্ত রয়েছে। চ্যাটারমেটের মূল ধারণা হলো, একটি এআই মডেলের ওপর নির্ভর না করে কাজের ধরন অনুযায়ী একাধিক মডেল ব্যবহার করা। এই ধারণাকে সামনে রেখে প্ল্যাটফর্মটির বার্তা হিসেবে রাখা হয়েছে, “Don’t choose one AI. Use them all.” ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআই জানিয়েছে, টিউটরমিগো ও চ্যাটারমেটের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও এআইভিত্তিক প্রোডাক্ট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ফোর্জ আইডিই নামে একটি নতুন এআইভিত্তিক প্রোডাক্ট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের এআই সক্ষমতাকে এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে একটি বিস্তৃত ও ব্যবহারিক এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য। সম্মেলনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল শিশুদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। তারা শুধু দর্শক হিসেবে নয়, নিজেদের হাতে এআই ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শেখার প্রক্রিয়ায় এআই কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তার একটি ব্যবহারিক চিত্র তুলে ধরা হয়। নিউইয়র্কের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশুদের শিক্ষা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যবসা ও দৈনন্দিন কাজ পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা সামনে আসে। ক্লেভারক্রিয়েটর ডট এআই বলছে, ভবিষ্যতে আরও নতুন প্রোডাক্ট যুক্ত করে এআইকে আরও সহজ ও ব্যবহারিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছে। সূত্র: আওয়াজ বিডি
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অভিবাসী ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য যে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছিল, তা বাতিল হয়ে গেছে। নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতের রায়ের পর গত ২১ আগস্ট থেকে ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২৮ আগস্ট হালনাগাদ করা ওয়েবসাইটে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের যুক্তি ছিল, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী দেশটিতে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। সেই কারণে আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারি সুবিধার ওপর সম্ভাব্য নির্ভরতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে নীতিটি চালু করা হয়েছিল। তবে নীতিটি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়। ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্কসহ অভিবাসন অধিকার সংগঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন আবেদনকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২১ আগস্ট নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস ওই নীতি বাতিল করে দেন। আদালতের মতে, শুধু আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা ইস্যু বন্ধ করে দেওয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রীর আইনগত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আদালত আরও বলেন, মার্কিন অভিবাসন আইনে ভিসা আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা বিবেচনা করার যে কাঠামো রয়েছে, দেশভিত্তিক এই নিষেধাজ্ঞা তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে ২১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশসহ ওই ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য আগের স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে এসব দেশের সব আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিবাসী ভিসা পেয়ে যাবেন। প্রত্যেক আবেদনকারীকে অন্যান্য ভিসা-সংক্রান্ত যোগ্যতা ও আইনগত শর্ত পূরণ করতে হবে এবং তাদের আবেদন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আলাদাভাবে যাচাই করা হবে। স্থগিতাদেশের সময়ও আবেদনকারীরা আবেদন জমা দিতে ও সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারতেন। মূলত চূড়ান্ত পর্যায়ে অভিবাসী ভিসা ইস্যু করার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ওই নীতির আওতায় আগে ইস্যু করা কোনো বৈধ অভিবাসী ভিসা বাতিল করা হয়নি। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারভিত্তিক অভিবাসন, কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাস এবং অন্যান্য অভিবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশি আবেদনকারীদের একটি অংশ এই স্থগিতাদেশের কারণে ভিসা ইস্যুর পর্যায়ে আটকে ছিলেন। আদালতের রায়ের ফলে এখন তাদের আবেদন ব্যক্তিগত যোগ্যতার ভিত্তিতে বিবেচনার সুযোগ আবার তৈরি হয়েছে। তবে অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন এখানেই শেষ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, অভিবাসীদের সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঠেকাতে তারা ভিসা যাচাই প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে। আগস্টে বিভাগটি কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য বিশেষ বন্ডের ব্যবস্থাও চালু করেছে। এ ছাড়া ২৬ আগস্ট অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার নিয়ে বিশ্বব্যাপী নতুন করে সাময়িক স্থবিরতার খবরও সামনে আসে। মার্কিন প্রশাসন এর কারণ হিসেবে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কথা জানিয়েছে। ফলে ৭৫ দেশের ওপর আগের দেশভিত্তিক স্থগিতাদেশ বাতিল হলেও অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়ে আবেদনকারীদের সতর্ক থাকতে হচ্ছে। বাংলাদেশসহ যে ৭৫ দেশের ওপর জানুয়ারির স্থগিতাদেশ প্রযোজ্য ছিল, সেগুলোর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটান; মধ্যপ্রাচ্যের ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেন; আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের একাধিক দেশ ছিল। সম্পূর্ণ তালিকাটি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত নথিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের রায়টি অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও নতুন নীতিমালা, যাচাই প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে আবেদনকারীদের নিজ নিজ মামলার সর্বশেষ অবস্থা নিয়মিত যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়াকে ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার সিলাকগায়া শহরের একটি সাধারণ দুপুর। ঘরের সোফায় শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন অ্যান হজেস। হঠাৎ ছাদ ভেদ করে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ল মহাকাশ থেকে আসা একটি পাথর। সেটি প্রথমে একটি রেডিওতে আঘাত করে দিক পরিবর্তন করে সরাসরি আঘাত হানে হজেসের শরীরে। ঘটনাটি ঘটে ১৯৫৪ সালের ৩০ নভেম্বর। মহাকাশ থেকে আসা সেই পাথরটি ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৫ পাউন্ড বা ৩ দশমিক ৮৫ কেজি ওজনের একটি উল্কাপিণ্ড। আঘাতে হজেসের শরীরে বড় ধরনের কালশিটে পড়ে গেলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনাটি পরবর্তীতে ইতিহাসে মানুষের শরীরে সরাসরি উল্কাপিণ্ড আঘাতের প্রথম সুস্পষ্টভাবে নথিবদ্ধ ঘটনা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। ঘটনাটি এতটাই অস্বাভাবিক ছিল যে প্রথমে স্থানীয়দের অনেকে বুঝতেই পারেননি কী ঘটেছে। বিকট শব্দে ঘর কেঁপে ওঠার পর কেউ কেউ বিমান দুর্ঘটনা বা বিস্ফোরণের কথা ভেবেছিলেন। পরে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায়, বস্তুটি পৃথিবীর কোনো সাধারণ পাথর নয়, এটি একটি উল্কাপিণ্ড। তখন ৩১ বা ৩৪ বছর বয়সী হজেস নিজের ঘরের সোফায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। উল্কাপিণ্ডটি ছাদ ভেদ করে ঘরে ঢুকে একটি বড় রেডিওতে আঘাত করার পর তার নিতম্ব ও উরুর অংশে লাগে। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, আঘাতে তার শরীরে বড় আকারের কালশিটে তৈরি হয়েছিল। তবে স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পর অবশ্য শারীরিক আঘাতের চেয়ে অন্য এক ধরনের ঝামেলাই হজেসের জীবনে বেশি প্রভাব ফেলেছিল। রাতারাতি তিনি সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে আসেন। সাংবাদিক ও দর্শনার্থীরা তার বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন। বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সাময়িকীতে তার ছবি প্রকাশিত হয়। এমনকি তাকে টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘আই হ্যাভ গট আ সিক্রেট’-এও অংশ নিতে হয়। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবন পছন্দ করা হজেস এই অতিরিক্ত পরিচিতি মোটেও উপভোগ করেননি। এরপর শুরু হয় উল্কাপিণ্ডটির মালিকানা নিয়ে আইনি বিরোধ। হজেসরা যে বাড়িতে থাকতেন, সেটির মালিক ছিলেন বার্ডি গাই। বাড়ির ছাদ ভেদ করে উল্কাপিণ্ডটি ভেতরে পড়ায় বাড়ির মালিক সেটির মালিকানা দাবি করেন। এ নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে আইনি টানাপোড়েন চলে। শেষ পর্যন্ত ৫০০ ডলারের বিনিময়ে মালিকানা নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি হয় এবং উল্কাপিণ্ডটি হজেসদের কাছেই থাকে। উল্কাপিণ্ডটি বিক্রি করে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করা হলেও তা সহজ হয়নি। একপর্যায়ে হজেস পরিবার সেটিকে দরজার ঠেকনা হিসেবেও ব্যবহার করেছিল। পরে ১৯৫৬ সালে অ্যান হজেস সেটি আলাবামা মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে দান করে দেন। বর্তমানে উল্কাপিণ্ডটি সেখানেই সংরক্ষিত রয়েছে। এই ঘটনার সময় একই উল্কাবৃষ্টির আরেকটি অংশও কাছাকাছি এলাকায় পড়েছিল। কৃষক জুলিয়াস কে. ম্যাককিনি পরদিন একটি আলাদা খণ্ড খুঁজে পান। পরে সেটি স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের সংগ্রহে যায়। ওই অংশটি বিক্রি করে ম্যাককিনি একটি ছোট খামার ও ব্যবহৃত গাড়ি কেনার মতো অর্থ পেয়েছিলেন বলে ঐতিহাসিক নথিতে উল্লেখ রয়েছে। উল্কাপিণ্ডের পৃথিবীতে পতন অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। তবে একটি উল্কাপিণ্ড সরাসরি কোনো মানুষের শরীরে আঘাত করা অত্যন্ত বিরল। ১৯৫৪ সালের সিলাকগায়া ঘটনার কারণেই অ্যান হজেসের নাম এই বিরল ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন সূত্র তাকে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে আহত হওয়া প্রথম নথিবদ্ধ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে। অ্যান হজেসের ঘটনাটি আরও বিস্ময়কর হয়ে ওঠে কারণ উল্কাপিণ্ডটি পৃথিবীর বাইরে কোটি কোটি বছর ধরে থাকা এক মহাজাগতিক বস্তুর অংশ ছিল। গবেষণায় এটিকে ‘সিলাকগায়া’ উল্কাপিণ্ড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে এবং এটি এক ধরনের সাধারণ কনড্রাইট উল্কাপিণ্ড। মূল উল্কাপিণ্ডের একটি অংশই হজেসের বাড়ির ছাদ ভেদ করে তার শরীরে আঘাত করেছিল। পরবর্তী জীবনেও ওই ঘটনার প্রভাব থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেননি হজেস। অতিরিক্ত প্রচার, আইনি বিরোধ এবং ঘটনাটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তার ব্যক্তিগত জীবনে চাপ তৈরি করেছিল। ১৯৬৪ সালে তার স্বামী হিউলেট হজেসের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। ১৯৭২ সালে মারা যান অ্যান হজেস। আজও তার গল্প বিজ্ঞান ও মহাকাশের ইতিহাসে অন্যতম অদ্ভুত ঘটনা হিসেবে আলোচিত। যে নারী সেদিন দুপুরে ঘরে একটু বিশ্রাম নিতে চেয়েছিলেন, একটি মহাজাগতিক পাথর ছাদ ভেদ করে তার ঘরে ঢুকে তাকে এমন এক ইতিহাসের অংশ করে দেয়, যার নজির আজও অত্যন্ত বিরল। সূত্র: স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন, এনসাইক্লোপিডিয়া অব আলাবামা, মেটিওরিটিক্যাল সোসাইটি।
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নতুন কারাগারের ছবি প্রকাশের পর তার হাতঘড়ি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। ক্ষমতায় থাকার সময় যেখানে তাকে কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার ডলারের দামি সুইস ঘড়ি পরতে দেখা গেছে, নিউইয়র্কের কারাগারে প্রকাশিত নতুন ছবিতে তার হাতে দেখা গেছে প্রায় ৪০ ডলারের ক্যাসিও ঘড়ি। ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে তোলা বলে প্রকাশিত ছবিতে মাদুরোকে ধূসর পোশাকে হাসিমুখে এবং দুই হাতে ‘ভি’ চিহ্ন দেখাতে দেখা যায়। তার বাঁ হাতে থাকা ঘড়িটি ক্যাসিও জি-শক বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন কারা কর্তৃপক্ষের নথি অনুযায়ী, কারাগারের ক্যান্টিনে এই ধরনের একটি ক্যাসিও ঘড়ির দাম ৪০ দশমিক ৩০ ডলার। তবে প্রকাশিত ছবির ঘড়িটি ঠিক কোন মডেলের, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ঘড়িটির দাম নিয়ে আলোচনা তৈরি হওয়ার মূল কারণ মাদুরোর আগের জীবনযাপন। ক্ষমতায় থাকাকালে তাকে একাধিক দামি ঘড়ি পরতে দেখা গেছে। ঘড়ি বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট ওয়াচেস অব এসপিওনাজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মাদুরোর হাতে একটি হুবলো ক্লাসিক ফিউশন ক্রুজ-দিয়েজ প্লাটিনাম ট্যুরবিলন দেখা যায়। একই ধরনের ঘড়ির বাজারমূল্য প্রায় ৮৫ হাজার ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও মাদুরোকে প্রায় ৪০ হাজার ডলার মূল্যের হুবলো বিগ ব্যাং কিং পাওয়ার মারাদোনা ঘড়ি পরতে দেখা যায়। ঘড়িটি আর্জেন্টিনার প্রয়াত ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনা তাকে উপহার দিয়েছিলেন বলে ওয়াচেস অব এসপিওনাজ জানিয়েছে। তবে মাদুরোর ঘড়ির তালিকায় শুধু বিলাসী ব্র্যান্ডই ছিল না। বিভিন্ন সময়ে তাকে অপেক্ষাকৃত কম দামের সিটিজেনসহ অন্য ঘড়িও পরতে দেখা গেছে। ফলে নতুন ছবিতে ক্যাসিও ঘড়ি দেখা যাওয়াকে তার কারাগারের বর্তমান জীবনযাপনের সঙ্গে আগের বিলাসী জীবনযাপনের একটি দৃশ্যমান পার্থক্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। মাদুরোর কারাগারে যাওয়ার পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধের নাটকীয় পরিণতি। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি রাতের অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে। পরে নিউইয়র্কে তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারসহ একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়। দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ১৯৯৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মাদুরো ও তার সহযোগীরা ক্ষমতার অবস্থান ব্যবহার করে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মামলায় মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদে ষড়যন্ত্র এবং কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্রসহ চারটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হতে পারে। মাদুরো ও ফ্লোরেস বর্তমানে ব্রুকলিনের কারাগারে আটক রয়েছেন। জুলাইয়ে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইন তাদের মামলার বিচার শুরুর তারিখ ২০২৭ সালের ১ জুন নির্ধারণ করেন। মাদুরোর আইনজীবীরা মামলাটি বাতিলের জন্য বিভিন্ন আইনি যুক্তি তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কারাগারে যাওয়ার পর মাদুরো নিজেকে আর্থিকভাবে অসচ্ছল দাবি করে তার আইনি ব্যয়ের দায়িত্ব ভেনেজুয়েলা সরকারের নেওয়া উচিত বলেও বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এর আগে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করার কথা জানানো হয়েছিল। এসব সম্পদের মধ্যে বাড়ি, গাড়ি, বিমান ও গয়না রয়েছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি। মাদুরোর দীর্ঘ শাসনামলে তার সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ছিল। সমালোচকেরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনীতি সংকটে থাকলেও ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর একটি অংশ বিলাসী জীবনযাপন করত। নতুন কারাগারের ছবিতে ৪০ ডলারের ঘড়ি সেই বৈপরীত্যকে আবারও আলোচনায় এনেছে। তবে নতুন ছবির ঘড়িটি মাদুরোর নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি কি না, কিংবা তিনি এটি কীভাবে পেয়েছেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছবিটি মূলত তার বর্তমান বন্দিজীবনের একটি দৃশ্য তুলে ধরছে, যা ক্ষমতায় থাকার সময়কার জীবনযাপনের সঙ্গে বেশ আলাদা। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট