চার সন্তান সামলাতে হিমশিম মা, শেষে ৯১১-এ ফোন: ‘আমাকে ইমারজেন্সি বাঁচান'
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের চার সন্তানের মা কাইলি গ্রাইমস এক রাতে ৯১১-এ ফোন করেছিলেন সন্তানদের কোনো জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতির জন্য নয়, নিজের ভেঙে পড়ার মুহূর্তে সাহায্য চেয়ে। দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতি, একসঙ্গে দুই সন্তানের টাইপ ১ ডায়াবেটিসের যত্ন এবং চার সন্তান সামলানোর চাপের মধ্যে তিনি বুঝতে পারেন, আর একা সামলানো সম্ভব হচ্ছে না।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই রাতে। সেদিন স্বামী কাইল কাজে থাকায় সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে একাই ছিলেন কাইলি। এর আগের কয়েক মাসে পরিবারের ওপর একের পর এক চাপ তৈরি হয়। তাদের ছোট ছেলে নোবেলের বয়স যখন মাত্র সাত মাস, তখন তার টাইপ ১ ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। এর ৬৩ দিন পর একই রোগে আক্রান্ত হয় তাদের ছয় বছর বয়সী মেয়ে গোল্ডিও। পরিবারের আগে এমন রোগের ইতিহাস ছিল না।
দুই সন্তানের ডায়াবেটিসের যত্ন নিতে গিয়ে কাইলির ঘুম ও বিশ্রাম প্রায় হারিয়ে যায়। ছোট সন্তানের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ওষুধ ও খাবারের হিসাবসহ প্রতিদিনের নানা দায়িত্ব তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছিল।
৩১ জুলাই রাতেও পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। সন্তানরা রাতের খাবারের জন্য অপেক্ষা করছিল। এর মধ্যেই ছোট নোবেল একটি ঘরের গাছের টবের মাটি মুখে নিয়ে ফেললে কাইলি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরও তিনি বুঝতে পারেন, মানসিকভাবে তিনি আর স্বাভাবিক অবস্থায় নেই।
কাইলি প্রথমে স্বামীকে ফোন করে সাহায্য চান। কিন্তু তিনি তখনও প্রায় ৩০ মিনিট দূরে ছিলেন। একপর্যায়ে কাইলি ৯১১-এ ফোন করেন।
ডিসপ্যাচার জানতে চান, জরুরি পরিস্থিতি কী। কাইলি বলেন, তিনি আর পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না, তিনি ভীষণ চাপে আছেন এবং সাহায্য প্রয়োজন। এরপর যখন আবার জানতে চাওয়া হয়, আসল জরুরি বিষয়টি কী, তখন তার উত্তর ছিল, “আমাকে ইমারজেন্সি বাঁচান'।”
কাইলি স্পষ্ট করে জানান, তিনি নিজেকে বা সন্তানদের ক্ষতি করতে যাচ্ছেন না। তিনি শুধু বুঝতে পেরেছিলেন যে তার জরুরি সহায়তা প্রয়োজন এবং সন্তানদের নিরাপদ রাখার জন্যও তাকে কিছুটা সহায়তা নিতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন পুলিশ অফিসার বাড়িতে পৌঁছান। পরে অন্য ফার্স্ট রেসপন্ডাররাও আসেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাকে একজন সোশ্যাল ওয়ার্কারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন।
এই ঘটনার পর কাইলি পরিবার ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে আরও সহায়তা নিতে শুরু করেন। পরে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে তুলে ধরে তিনি জানান, সন্তানের যত্ন নিতে গিয়ে কোনো মা বা কেয়ারগিভার মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে সেটিকে লুকিয়ে রাখার বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়।
কাইলির অভিজ্ঞতা বিশেষ করে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান বা পরিবারের সদস্যের অতিরিক্ত যত্নের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, সাহায্যের প্রয়োজন হওয়া ব্যর্থতার লক্ষণ নয়। বরং নিজের সীমা বুঝে সময়মতো সহায়তা চাওয়াও দায়িত্বশীলতার অংশ।
কাইলি পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মাতৃত্ব, টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত সন্তানদের যত্ন এবং কেয়ারগিভার হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তার এই খোলামেলা অবস্থান অনেক অভিভাবকের মধ্যে সন্তান লালনপালনের চাপ, মানসিক ক্লান্তি এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের কর্মক্ষেত্রে ইমেইল শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একজন কর্মীর professional communication-এরও অংশ। তাই ম্যানেজার বা সহকর্মীকে ইমেইল করার সময় Subject থেকে Greeting, ভাষা, বানান এবং শেষের Signature পর্যন্ত কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের Department of Labor-এর বিভিন্ন গাইডলাইনেও professional email-এ পরিষ্কার Subject, উপযুক্ত Greeting, সংক্ষিপ্ত ভাষা, সঠিক বানান এবং পাঠানোর আগে ইমেইল পুনরায় পড়ে দেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইমেইলের শুরুতেই Subject Line পরিষ্কার ও সংক্ষিপ্ত হওয়া উচিত। শুধু “Question” বা “Update” না লিখে কী বিষয়ে ইমেইল করা হচ্ছে, তা উল্লেখ করা ভালো। যেমন, “Request for Day Off - October 25” অথবা “Update on Inventory Task - Store #1234”। Greeting-এর ক্ষেত্রেও পেশাদার ভাষা ব্যবহার করা জরুরি। “Bro”, “Dude” বা অতিরিক্ত informal সম্বোধন এড়িয়ে চলুন। পরিচিত হলে “Hi John,” অথবা “Hello Mr. Smith,” ধরনের সম্বোধন ব্যবহার করা যেতে পারে। পরিস্থিতি ও কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি অনুযায়ী Greeting কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। ইমেইলের মূল বক্তব্য সাধারণত সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি হওয়া ভালো। প্রথমে কেন লিখছেন তা বলুন, এরপর প্রয়োজনীয় Details দিন এবং শেষে আপনি কী চান বা কী ধরনের Action আশা করছেন তা পরিষ্কার করুন। অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ ব্যাখ্যার বদলে ছোট, সহজে বোঝা যায় এমন বাক্য ব্যবহার করা উচিত। ভদ্র ও professional শব্দের ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ। “Please”, “Thank you”, “I appreciate your time” এবং “Could you please...” এর মতো বাক্য ইমেইলের Tone-কে পেশাদার রাখতে সাহায্য করে। তবে একই শব্দ বারবার ব্যবহার করে ইমেইল কৃত্রিম করে তোলার প্রয়োজন নেই। অসুস্থতার কারণে কাজে যেতে না পারলে ইমেইল হতে পারে এমন: Subject: Sick Leave Today Hi [Manager Name], I am not feeling well today and am unable to come to work. I will keep you updated. Thank you for your understanding. Best, [Your Name] Day Off চাইতে হলে সরাসরি কারণ জানিয়ে অনুমোদন চাওয়া যায়। যেমন, কোনো family appointment থাকলে জানিয়ে বলতে পারেন যে আপনার প্রয়োজনীয় কাজগুলো শেষ করেছেন এবং প্রয়োজন হলে সহকর্মীর সঙ্গে কাজ সমন্বয় করবেন। দেরিতে অফিসে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ ব্যাখ্যা না দিয়ে সংক্ষেপে জানানো ভালো। যেমন, “I am stuck in traffic and will be approximately 15 minutes late. I apologize for the inconvenience.” ইন্টারভিউয়ের পর Thank You Email পাঠানোও professional practice হিসেবে কাজে আসতে পারে। সেখানে ইন্টারভিউয়ের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে Position বা Team সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করা যায়। যেমন, “Thank you for taking the time to meet with me today. I enjoyed learning more about the team and am excited about the opportunity.” আরও কিছু বিষয় এড়িয়ে চলা উচিত। ইমেইলে ALL CAPS ব্যবহার করলে তা অনেক সময় চিৎকার করার মতো মনে হতে পারে। অপ্রয়োজনীয় Emoji, Joke, Sarcasm, Gossip বা আবেগপ্রবণ মন্তব্যও professional email-এ না রাখাই ভালো। Department of Labor-এর professional email etiquette guidance-এ সংক্ষিপ্ত, ব্যবসায়িক ভাষা ব্যবহার এবং পাঠানোর আগে spelling ও পুরো বার্তাটি আবার পড়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সবশেষে Send বাটনে চাপ দেওয়ার আগে অন্তত একবার To, Subject, নাম, বানান, Attachment এবং মূল বক্তব্য পরীক্ষা করুন। বিশেষ করে ভুল ব্যক্তির কাছে ইমেইল চলে গেলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বা ব্যক্তিগত তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি, কারণ ইমেইল সবসময় নিরাপদ যোগাযোগের মাধ্যম নাও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের Department of Labor-এর সাম্প্রতিক Employment Workshop গাইডেও professional email-এর ক্ষেত্রে পরিষ্কার Subject Line, উপযুক্ত Greeting, সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি ভাষা, ভদ্র Tone এবং যথাযথ Closing ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই আমেরিকায় চাকরির ক্ষেত্রে ভালো ইমেইলের সহজ সূত্র হলো: পরিষ্কার Subject, professional Greeting, সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, ভদ্র ভাষা এবং Send করার আগে একবার ভালোভাবে Check।
চার সন্তান সামলাতে হিমশিম মা, শেষে ৯১১-এ ফোন: ‘আমাকে ইমারজেন্সি বাঁচান'
যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়াহ আইন নিয়ে রিপাবলিকানদের কঠোর অবস্থান, প্রতিবাদে মুসলিমরা
২০ ডলারে শিশুর পড়াশোনায় এআই টিউটর! নিউইয়র্কে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অভিবাসী ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য যে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছিল, তা বাতিল হয়ে গেছে। নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতের রায়ের পর গত ২১ আগস্ট থেকে ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২৮ আগস্ট হালনাগাদ করা ওয়েবসাইটে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের যুক্তি ছিল, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী দেশটিতে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। সেই কারণে আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারি সুবিধার ওপর সম্ভাব্য নির্ভরতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে নীতিটি চালু করা হয়েছিল। তবে নীতিটি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়। ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্কসহ অভিবাসন অধিকার সংগঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন আবেদনকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২১ আগস্ট নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস ওই নীতি বাতিল করে দেন। আদালতের মতে, শুধু আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা ইস্যু বন্ধ করে দেওয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রীর আইনগত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আদালত আরও বলেন, মার্কিন অভিবাসন আইনে ভিসা আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা বিবেচনা করার যে কাঠামো রয়েছে, দেশভিত্তিক এই নিষেধাজ্ঞা তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে ২১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশসহ ওই ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য আগের স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে এসব দেশের সব আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিবাসী ভিসা পেয়ে যাবেন। প্রত্যেক আবেদনকারীকে অন্যান্য ভিসা-সংক্রান্ত যোগ্যতা ও আইনগত শর্ত পূরণ করতে হবে এবং তাদের আবেদন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আলাদাভাবে যাচাই করা হবে। স্থগিতাদেশের সময়ও আবেদনকারীরা আবেদন জমা দিতে ও সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারতেন। মূলত চূড়ান্ত পর্যায়ে অভিবাসী ভিসা ইস্যু করার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ওই নীতির আওতায় আগে ইস্যু করা কোনো বৈধ অভিবাসী ভিসা বাতিল করা হয়নি। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারভিত্তিক অভিবাসন, কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাস এবং অন্যান্য অভিবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশি আবেদনকারীদের একটি অংশ এই স্থগিতাদেশের কারণে ভিসা ইস্যুর পর্যায়ে আটকে ছিলেন। আদালতের রায়ের ফলে এখন তাদের আবেদন ব্যক্তিগত যোগ্যতার ভিত্তিতে বিবেচনার সুযোগ আবার তৈরি হয়েছে। তবে অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন এখানেই শেষ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, অভিবাসীদের সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঠেকাতে তারা ভিসা যাচাই প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে। আগস্টে বিভাগটি কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য বিশেষ বন্ডের ব্যবস্থাও চালু করেছে। এ ছাড়া ২৬ আগস্ট অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার নিয়ে বিশ্বব্যাপী নতুন করে সাময়িক স্থবিরতার খবরও সামনে আসে। মার্কিন প্রশাসন এর কারণ হিসেবে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কথা জানিয়েছে। ফলে ৭৫ দেশের ওপর আগের দেশভিত্তিক স্থগিতাদেশ বাতিল হলেও অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়ে আবেদনকারীদের সতর্ক থাকতে হচ্ছে। বাংলাদেশসহ যে ৭৫ দেশের ওপর জানুয়ারির স্থগিতাদেশ প্রযোজ্য ছিল, সেগুলোর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটান; মধ্যপ্রাচ্যের ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেন; আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের একাধিক দেশ ছিল। সম্পূর্ণ তালিকাটি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত নথিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের রায়টি অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও নতুন নীতিমালা, যাচাই প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে আবেদনকারীদের নিজ নিজ মামলার সর্বশেষ অবস্থা নিয়মিত যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়াকে ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, রয়টার্স।
৪০ হাজার ডলারের বিলাসবহুল ঘড়ির বদলে কারাগারে মাদুরোর হাতে এখন ৪০ ডলারের ক্যাসিও ঘড়ি
যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোতে মসজিদে হামলার লাইভ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কিশোরীর বিরুদ্ধে ৩ হত্যা মামলা
পুরোনো ম্যাট্রেস নিয়ম না মেনে ফেলে দেওয়ায় ৮ হাজার ডলার জরিমানার মুখে প্রবাসী বাংলাদেশি
যুক্তরাষ্ট্রে বসে ঘরে থেকেই অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে চান এমন বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য Amazon হতে পারে একটি সম্ভাব্য ব্যবসার প্ল্যাটফর্ম। তবে শুরুতেই মনে রাখতে হবে, এটি দ্রুত অর্থ উপার্জনের সহজ কোনো পথ নয়। পণ্য নির্বাচন থেকে শুরু করে বাজার যাচাই, পণ্য সংগ্রহ, বিক্রয়, পণ্য পাঠানো এবং হিসাব পরিচালনা, প্রতিটি ধাপেই পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রথম ধাপ হলো কী ধরনের পণ্য বিক্রি করবেন তা ঠিক করা। বাজারে কোন পণ্যের চাহিদা আছে, কতজন বিক্রেতা একই পণ্য বিক্রি করছেন, পণ্যের বিক্রয়মূল্য কত এবং সব খরচ বাদ দেওয়ার পর সম্ভাব্য লাভ কত হতে পারে, এসব আগে যাচাই করতে হবে। শুধু অন্য কেউ ভালো বিক্রি করছে দেখে একই পণ্য কিনে ব্যবসা শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এরপর আসে পণ্য সংগ্রহের বিষয়টি। স্থানীয় পাইকার, প্রস্তুতকারক, পরিবেশক অথবা বিদেশি সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করা যায়। সরবরাহকারী বাছাইয়ের সময় পণ্যের মান, মূল্য, সরবরাহের সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পরিবহন খরচ যাচাই করা জরুরি। কিছু পণ্য অ্যামাজনে বিক্রির আগে নির্দিষ্ট অনুমোদন বা অতিরিক্ত শর্তের আওতায় থাকতে পারে। পণ্য সংগ্রহের পর অ্যামাজনে বিক্রেতা হিসেবে নিবন্ধন করে পণ্যের তালিকা তৈরি করতে হয়। এতে পণ্যের ছবি, বিবরণ, মূল্য এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করা হয়। এরপর উদ্যোক্তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তিনি নিজে ক্রেতার কাছে পণ্য পাঠাবেন, নাকি অ্যামাজনের গুদাম ও পণ্য পাঠানোর সেবা ব্যবহার করবেন। অ্যামাজনের পণ্য পূরণ সেবা ব্যবহার করলে আগে থেকেই পণ্য অ্যামাজনের গুদামে পাঠিয়ে রাখা যায়। ক্রেতার অর্ডার আসার পর প্যাকেট তৈরি, পণ্য পাঠানো এবং অনেক ক্ষেত্রে ফেরত পণ্যের ব্যবস্থাপনাও অ্যামাজন পরিচালনা করে। এতে উদ্যোক্তার দৈনন্দিন কাজ কিছুটা কমে, তবে এর জন্য বিভিন্ন ধরনের ফি দিতে হয়। অন্যদিকে নিজে পণ্য পাঠানোর পদ্ধতিতে বাড়িতে পণ্য রেখে অর্ডার পাওয়ার পর প্যাকেট তৈরি করে ক্রেতার কাছে পাঠানো যায়। ব্যবসা শুরুর আগে সব খরচের হিসাব করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পণ্য কেনার মূল্য, পরিবহন, গুদামজাতকরণ, অ্যামাজনের ফি, প্যাকেজিং, বিজ্ঞাপন এবং ফেরত পণ্যের সম্ভাব্য খরচ বাদ দিয়ে প্রকৃত লাভ কত থাকবে, তা হিসাব করতে হবে। লাভের হিসাব পরিষ্কার না করে বড় অঙ্কের পণ্য কেনা নতুন উদ্যোক্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অ্যামাজন নতুন বিক্রেতাদের জন্য বিনামূল্যের প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকে। সেখানে পণ্য তালিকাভুক্ত করা, মূল্য নির্ধারণ, পণ্য পাঠানো, বিজ্ঞাপন, মজুত ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় শেখানো হয়। ফলে শুরু করার আগে এসব বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া যেতে পারে। সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ছোট পরিসরে শুরু করা। প্রথমেই বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ না করে একটি বা কয়েকটি পণ্য নিয়ে বাজার পরীক্ষা করা, বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণ করা এবং অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে ব্যবসা বড় করা তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত পদ্ধতি। ঘরে বসে অ্যামাজনে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হলেও সফলতার জন্য প্রয়োজন সঠিক পণ্য নির্বাচন, নির্ভুল হিসাব, নিয়ম মেনে চলা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নারী নিহত, পুলিশের গুলিতে হামলাকারীও নিহত
নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের তথ্য যাচাইয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলবে মার্কিন ইমিগ্রেশন, ফিরল ৩৫ বছর আগের নিয়ম