আমেরিকায় চাকরির ইমেইলে ভালো ইমপ্রেশনের জন্য ১০টি জরুরি নিয়ম জানা প্রয়োজন
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মক্ষেত্রে ইমেইল শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একজন কর্মীর professional communication-এরও অংশ। তাই ম্যানেজার বা সহকর্মীকে ইমেইল করার সময় Subject থেকে Greeting, ভাষা, বানান এবং শেষের Signature পর্যন্ত কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের Department of Labor-এর বিভিন্ন গাইডলাইনেও professional email-এ পরিষ্কার Subject, উপযুক্ত Greeting, সংক্ষিপ্ত ভাষা, সঠিক বানান এবং পাঠানোর আগে ইমেইল পুনরায় পড়ে দেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইমেইলের শুরুতেই Subject Line পরিষ্কার ও সংক্ষিপ্ত হওয়া উচিত। শুধু “Question” বা “Update” না লিখে কী বিষয়ে ইমেইল করা হচ্ছে, তা উল্লেখ করা ভালো। যেমন, “Request for Day Off - October 25” অথবা “Update on Inventory Task - Store #1234”।
Greeting-এর ক্ষেত্রেও পেশাদার ভাষা ব্যবহার করা জরুরি। “Bro”, “Dude” বা অতিরিক্ত informal সম্বোধন এড়িয়ে চলুন। পরিচিত হলে “Hi John,” অথবা “Hello Mr. Smith,” ধরনের সম্বোধন ব্যবহার করা যেতে পারে। পরিস্থিতি ও কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি অনুযায়ী Greeting কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
ইমেইলের মূল বক্তব্য সাধারণত সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি হওয়া ভালো। প্রথমে কেন লিখছেন তা বলুন, এরপর প্রয়োজনীয় Details দিন এবং শেষে আপনি কী চান বা কী ধরনের Action আশা করছেন তা পরিষ্কার করুন। অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ ব্যাখ্যার বদলে ছোট, সহজে বোঝা যায় এমন বাক্য ব্যবহার করা উচিত।
ভদ্র ও professional শব্দের ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ। “Please”, “Thank you”, “I appreciate your time” এবং “Could you please...” এর মতো বাক্য ইমেইলের Tone-কে পেশাদার রাখতে সাহায্য করে। তবে একই শব্দ বারবার ব্যবহার করে ইমেইল কৃত্রিম করে তোলার প্রয়োজন নেই।
অসুস্থতার কারণে কাজে যেতে না পারলে ইমেইল হতে পারে এমন:
Subject: Sick Leave Today
Hi [Manager Name],
I am not feeling well today and am unable to come to work. I will keep you updated.
Thank you for your understanding.
Best,
[Your Name]
Day Off চাইতে হলে সরাসরি কারণ জানিয়ে অনুমোদন চাওয়া যায়। যেমন, কোনো family appointment থাকলে জানিয়ে বলতে পারেন যে আপনার প্রয়োজনীয় কাজগুলো শেষ করেছেন এবং প্রয়োজন হলে সহকর্মীর সঙ্গে কাজ সমন্বয় করবেন।
দেরিতে অফিসে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ ব্যাখ্যা না দিয়ে সংক্ষেপে জানানো ভালো। যেমন, “I am stuck in traffic and will be approximately 15 minutes late. I apologize for the inconvenience.”
ইন্টারভিউয়ের পর Thank You Email পাঠানোও professional practice হিসেবে কাজে আসতে পারে। সেখানে ইন্টারভিউয়ের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে Position বা Team সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করা যায়। যেমন, “Thank you for taking the time to meet with me today. I enjoyed learning more about the team and am excited about the opportunity.”
আরও কিছু বিষয় এড়িয়ে চলা উচিত। ইমেইলে ALL CAPS ব্যবহার করলে তা অনেক সময় চিৎকার করার মতো মনে হতে পারে। অপ্রয়োজনীয় Emoji, Joke, Sarcasm, Gossip বা আবেগপ্রবণ মন্তব্যও professional email-এ না রাখাই ভালো। Department of Labor-এর professional email etiquette guidance-এ সংক্ষিপ্ত, ব্যবসায়িক ভাষা ব্যবহার এবং পাঠানোর আগে spelling ও পুরো বার্তাটি আবার পড়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে Send বাটনে চাপ দেওয়ার আগে অন্তত একবার To, Subject, নাম, বানান, Attachment এবং মূল বক্তব্য পরীক্ষা করুন। বিশেষ করে ভুল ব্যক্তির কাছে ইমেইল চলে গেলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বা ব্যক্তিগত তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি, কারণ ইমেইল সবসময় নিরাপদ যোগাযোগের মাধ্যম নাও হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের Department of Labor-এর সাম্প্রতিক Employment Workshop গাইডেও professional email-এর ক্ষেত্রে পরিষ্কার Subject Line, উপযুক্ত Greeting, সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি ভাষা, ভদ্র Tone এবং যথাযথ Closing ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তাই আমেরিকায় চাকরির ক্ষেত্রে ভালো ইমেইলের সহজ সূত্র হলো: পরিষ্কার Subject, professional Greeting, সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, ভদ্র ভাষা এবং Send করার আগে একবার ভালোভাবে Check।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টিতে ক্রসিং গার্ড হিসেবে শপথ নিয়েছেন হিজাব পরিহিত নারী বি. মান্না। তাঁর শপথ গ্রহণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ছবিতে তাঁকে আনুষ্ঠানিক পোশাকে শপথ গ্রহণের পর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর এই নতুন দায়িত্বের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে জননিরাপত্তা ও শিশুদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার কাজে যুক্ত হলেন তিনি। প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টি পুলিশ বিভাগের ক্রসিং গার্ড ইউনিট স্কুলগামী শিশুদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারে সহায়তা করে। স্কুলের আশপাশের সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত পারাপারের স্থানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই পেশার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কাউন্টি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই পদে কাজ করার জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিতে হয় এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল ক্রসিং গার্ডরা স্থানীয় জননিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন স্কুল শুরুর আগে ও ছুটির সময় ব্যস্ত সড়কে শিশুদের নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করেন তাঁরা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় শিক্ষার্থীদের সড়ক পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়, সেখানে ক্রসিং গার্ডদের উপস্থিতি দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বি. মান্নার শপথ গ্রহণের ছবিতে তাঁর হিজাব পরিহিত উপস্থিতি বিশেষভাবে নজরে এসেছে। তবে তাঁর জাতীয়তা, ব্যক্তিগত পরিচয় এবং এই পদে যোগদানের বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাঁকে বাংলাদেশি বা নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার মতো তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়। সূত্র: প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টি পুলিশ বিভাগের ক্রসিং গার্ড-সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রকাশিত ছবি।
অভিবাসন অভিযানে চাপে যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন খাত, বাড়ি নির্মাণ ব্যয় বাড়ার নতুন আশঙ্কা
এইচ-১বি ভিসায় বেতনের সীমা ৬০ হাজার থেকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে নিতে চায় রিপাবলিকানরা
ওয়াশিংটনে হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড পেলেন ড. ইউনূস, দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন প্রায় ৪০০ অতিথি
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ড্যানভিল শহরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পেনশন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন নিয়মিত সমন্বয় না হওয়ায় মাসিক পেনশনের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। ড্যানভিল সিটি রিটায়ারমেন্ট এমপ্লয়ি কোয়ালিশনের মাধ্যমে তাঁরা সিটি কাউন্সিলের কাছে এই দাবি তুলেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউডিবিজে সেভেনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা পেনশনে কস্ট অব লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট বা কোলা পুনর্বহাল চান। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে অবসরভাতা সমন্বয়ের এই ব্যবস্থা ২০০৮ সালের পর আর পাননি বলে জানিয়েছেন তাঁরা। সাবেক ফায়ারফাইটার স্ট্যান লটন ড্যানভিলে ২৪ বছর কাজ করেছেন। ঘাড়ে আঘাত ও অস্ত্রোপচারের পর ২০০৩ সালে অবসর নেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নিয়মিত সমন্বয় না হওয়ায় পেনশন দিয়ে আগের তুলনায় অনেক কম খরচ মেটানো যাচ্ছে। উদ্বেগ জানিয়ে সিটি কাউন্সিলকে চিঠি দিয়েও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পাননি বলে জানান লটন। ড্যানভিল পুলিশ বিভাগের সাবেক জনতথ্য কর্মকর্তা মাইকেল ওয়ালেসও এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। তিনি ৩৩ বছর চাকরির পর ২০২১ সালে অবসর নেন। কয়েক দশক আগে অবসর নেওয়া কর্মীদের অনেকেই প্রায় একই অঙ্কের পেনশন পাচ্ছেন জানতে পেরে তিনি বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হন। কোয়ালিশনের আশা, শহরে নতুন রাজস্বের উৎস তৈরি হওয়ায় পেনশন বাড়ানোর সুযোগ বিবেচনা করবে কাউন্সিল। শহর কর্তৃপক্ষের ২০২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১২ সালে অনুমোদিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে অবসরপ্রাপ্তদের কোলা বন্ধ করা হয়। একই সময়ে নির্দিষ্ট শর্তে এককালীন বোনাস দেওয়ার নীতি নেওয়া হয়েছিল। ফলে নিয়মিত পেনশন বৃদ্ধি বন্ধ থাকলেও অবসরপ্রাপ্তদের কোনো ধরনের বাড়তি অর্থই দেওয়া হয়নি, এমনটি নয়। ওই নীতিতে বোনাসের পরিমাণ একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর মাসিক ভাতার সর্বোচ্চ অর্ধেক পর্যন্ত হতে পারে। তবে অর্থ বরাদ্দ ও অনুমোদন সিটি কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিলে সর্বশেষ বোনাস বাবদ মোট ৬ লাখ ৮১ হাজার ৯৭১ ডলার দেওয়া হয়েছিল। এককালীন এই অর্থ মাসিক পেনশনের স্থায়ী বৃদ্ধি নয়। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বর্তমান দাবি নিয়মিত ব্যয় সমন্বয়ের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।
সাইবার হামলায় অচল হতে পারে হাসপাতাল! কম্পিউটার ছাড়াই চিকিৎসার প্রস্তুতির আহ্বান
রিফর্মেশন কাজে গ্রাহকদের ৩ লাখ ডলারের বেশি আত্মসাৎ, ঠিকাদারের ৩০ বছরের কারাদণ্ড
আইএমএফে বেতনসহ ইন্টার্নশিপের সুযোগ, ১০–১২ সপ্তাহ ওয়াশিংটনে কাজের সুযোগ
প্রায় এক দশকের অপেক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্রে আকাশে লাফ দেওয়ার বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন নতুন রোডস্টার গাড়ি উন্মোচন করেছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান টেসলা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি স্থাপনায় গাড়িটি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে পাশাপাশি রাখা পাঁচটি গাড়ির ওপর দিয়ে লাফ দেওয়া, উল্টো অবস্থায় চলা এবং আকাশে ঘূর্ণির মতো বিশেষ কৌশল দেখানো হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক গাড়িটি ২০২৮ সালে বাজারে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে সাধারণ সড়কে এটি চালানোর আইনি অনুমোদন পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে অবস্থিত স্পেসএক্সের স্থাপনায় নতুন রোডস্টার প্রদর্শন করা হয়। স্থানটি হিউস্টন থেকে প্রায় ৩৫৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। অনুষ্ঠানে টেসলার গাড়িপ্রেমী ও সম্ভাব্য ক্রেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও ছিলেন, যাঁরা প্রায় নয় বছর আগে গাড়িটি পাওয়ার আশায় আড়াই লাখ ডলার অগ্রিম জমা দিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে উপস্থিত পর্যবেক্ষকদের বরাতে বলা হয়েছে, নতুন রোডস্টার প্রদর্শনীর সময় বেশ কয়েকটি অস্বাভাবিক কৌশল দেখিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উল্টো অবস্থায় গাড়ি চালানো, পাশাপাশি রাখা পাঁচটি টেসলা গাড়ির ওপর দিয়ে লাফ দেওয়া এবং আকাশে থাকা অবস্থায় নিজের অক্ষ বরাবর সম্পূর্ণ ঘুরে যাওয়া। এসব কৌশল দেখাতে স্পেসএক্সের তৈরি থ্রাস্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। টেসলার দাবি, বিশেষ থ্রাস্টার চালু থাকলে নতুন রোডস্টার স্থির অবস্থা থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৯৭ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে মাত্র এক সেকেন্ড সময় নেবে। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ঘণ্টায় প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার। তবে এগুলো প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত সক্ষমতা। সাধারণ সড়কে বাস্তব ব্যবহারের ক্ষেত্রে একই ধরনের পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নতুন রোডস্টারের অন্যতম আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো এর থ্রাস্টার প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির সাহায্যে গাড়িটি প্রচলিত বৈদ্যুতিক গাড়ির তুলনায় ভিন্ন ধরনের কৌশল দেখাতে সক্ষম বলে দাবি করেছে টেসলা। তবে প্রদর্শনীতে আকাশে ওঠা বা বিশেষ কৌশল দেখানোর অর্থ এই নয় যে, গাড়িটি প্রচলিত উড়োজাহাজের মতো নিয়মিত আকাশপথে চলাচলের অনুমোদন পেয়েছে। অনুষ্ঠানে ইলন মাস্ক জানান, নতুন রোডস্টার এমন একটি গাড়ি হবে, যা সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগতভাবে কিনতে পারবেন। সাধারণ সড়কে চলাচলের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তবে একই সঙ্গে স্বীকার করেন, সব এলাকায় গাড়িটি চালানোর আইনি অনুমোদন পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, কোন সড়ক বা এলাকায় গাড়িটি চালানো যাবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। গাড়িশিল্পের বিশেষজ্ঞরাও জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত পরীক্ষামূলক ট্র্যাকে বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন গাড়ি চালানো এবং সাধারণ সড়কে ব্যবহারের আইনি অনুমোদন পাওয়া দুটি আলাদা বিষয়। টেসলার নতুন রোডস্টার প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে বিলম্বের মুখে রয়েছে। প্রায় নয় বছর আগে কিছু ক্রেতা গাড়িটি পাওয়ার জন্য আড়াই লাখ ডলার করে অগ্রিম অর্থ জমা দিয়েছিলেন। তবে এতদিনেও গাড়িটির বাণিজ্যিক সরবরাহ শুরু হয়নি। নতুন ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানটি ২০২৮ সালকে সম্ভাব্য বাজারে আনার সময় হিসেবে নির্ধারণ করেছে। অবশ্য ২০২৮ সালে বাজারে আনার পরিকল্পনা জানানো হলেও নতুন রোডস্টারের চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য প্রকাশ করেনি টেসলা। গাড়িটির ব্যাটারির ধারণক্ষমতা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে রোডস্টারের পূর্বঘোষিত একবার পূর্ণ চার্জে প্রায় ৯৯৮ কিলোমিটার চলার সক্ষমতার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে নতুন থ্রাস্টারযুক্ত সংস্করণটির একবার চার্জে চলার দূরত্ব সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য জানানো হয়নি। দীর্ঘ বিলম্বের পর নতুন রোডস্টারের প্রদর্শনী এবং ২০২৮ সালে বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে টেসলা। তবে গাড়িটির বাণিজ্যিক উৎপাদন, চূড়ান্ত মূল্য, সরবরাহের সময় এবং সাধারণ সড়কে চলাচলের অনুমোদন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান বাড়ায় শ্রমিক সংকটে হিউস্টনের নির্মাণশিল্প, পিছিয়ে পড়ছে বাড়ি নির্মাণ
জালিয়াতি রোধে ওবামাকেয়ারের করছাড়ে কড়াকড়ি, সুবিধা হারাতে পারেন অভিবাসীদের একাংশ