- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার পর বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের জন্য থাইল্যান্ডের পর্যটন শহর পাতায়ায় আসছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। প্রায় ৫ হাজার নৌসেনা ও মেরিনকে নিয়ে জাহাজটি দুটি সহযোগী নৌযানসহ ২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর লায়েম চাবাং বন্দরে অবস্থান করবে। মার্কিন বাহিনীর সদস্যরা ২০০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে থাকার পর বিশ্রাম নিতে তীরে নামার সুযোগ পাবেন। থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সফরটির উদ্দেশ্য বিশ্রাম, পুনরুদ্ধার ও প্রয়োজনীয় সরবরাহ নেওয়া; এটি থাইল্যান্ডের সঙ্গে কোনো যৌথ সামরিক মহড়া নয়। মার্কিন সেনা সদস্যদের আগমনকে ঘিরে পাতায়ার ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মেয়রের হিসাবে, প্রত্যেক সদস্য দিনে প্রায় ৩০ থেকে ৯১ ডলার পর্যন্ত খরচ করতে পারেন। ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও বিনোদন ব্যবসায় সাময়িকভাবে বাড়তি আয় হতে পারে। তবে একই সঙ্গে যৌন পর্যটন ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর আগমন সামনে রেখে পাতায়ার পুলিশ সৈকত ও নাইটলাইফ এলাকায় অতিরিক্ত টহলের প্রস্তুতি নিয়েছে। গত সপ্তাহের অভিযানে যৌন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পতিতাবৃত্তি দেশটিতে আইনত নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে শিশু সুরক্ষা, জনশৃঙ্খলা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ২৯ আগস্টের একটি অভিযানে পুলিশ ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মকর্তারা পাতায়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫ জনকে আটক করেন। দীর্ঘ সামুদ্রিক মোতায়েনের কারণে মার্কিন নৌসেনাদের মানসিক চাপ ও জীবনযাত্রার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের এই সফর তাই একদিকে স্থানীয় অর্থনীতির জন্য সম্ভাব্য স্বস্তি, অন্যদিকে পাতায়ার আইনশৃঙ্খলা ও যৌন পর্যটন নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের ধসের ঘটনায় ব্যাংকটির সাবেক মূল কোম্পানির করা ১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলারের দাবি খারিজ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক। রায়ে বলা হয়েছে, ব্যাংকটির সাবেক কর্মকর্তাদের ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের দায় এড়াতে পারবে না মূল কোম্পানি। শুক্রবার দেওয়া ২০৬ পৃষ্ঠার রায়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক বেথ ল্যাবসন ফ্রিম্যান বলেন, সুদের হার বাড়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের কর্মকর্তারা দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ড ও মর্টগেজ-ব্যাকড সিকিউরিটিজে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। এতে ব্যাংকটির কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, এসব সিদ্ধান্তের কারণে ব্যাংকটির প্রায় ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থির সুদের সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের কারণে প্রায় ৪ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। রায়ে বিচারক ফ্রিম্যান বলেন, ব্যাংক পরিচালনায় যে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তার পরিণতি মূল কোম্পানিকেই বহন করতে হবে। ফলে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের মূল কোম্পানির উত্তরসূরি এসভিবি ফাইন্যান্সিয়াল ট্রাস্ট এফডিআইসির কাছ থেকে ১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার আদায়ের দাবি করতে পারবে না। ২০২৩ সালের মার্চে সুদের হার বৃদ্ধির ধাক্কায় ব্যাংকটির বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে বড় ধরনের লোকসান হয়। এরপর গ্রাহকদের মধ্যে অর্থ তুলে নেওয়ার হিড়িক শুরু হলে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের পতন ঘটে। তখন ব্যাংকটির সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২০৯ বিলিয়ন ডলার। সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের পতনের পর ২০২৩ সালে আরও দুটি বড় মার্কিন ব্যাংক - সিগনেচার ব্যাংক ও ফার্স্ট রিপাবলিক ব্যাংক - ধসে পড়ে। এদিকে ব্যাংকটির সাবেক প্রধান নির্বাহী গ্রেগরি বেকারসহ ১৭ জন সাবেক কর্মকর্তা ও পরিচালকের বিরুদ্ধে পৃথক আইনি পদক্ষেপও নিয়েছে এফডিআইসি। সোর্স: Reuters, আদালতের রায় ও সংশ্লিষ্ট নথি।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের র্যাম্পে ওঠার সময় দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল - সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে থার্ড টার্মিনালের র্যাম্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দুর্ঘটনায় নিহত তিনজন হলেন - সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মাহমুদ, করপোরাল মনিরুজ্জামান ও এলএসি জোবায়দুল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, থার্ড টার্মিনালের র্যাম্পে ওঠার সময় তারা দুর্ঘটনার শিকার হন। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত চারজনকে দ্রুত উদ্ধার করে সিএমএইচে নেওয়া হয়। তাদের পরিচয় ও শারীরিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। সোর্স: যুগান্তর প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস সিটিতে একটি বাড়িতে ফেডারেল এজেন্টদের অভিযানের পর জাল গ্রিন কার্ড রাখার দায়ে দুই অভিবাসী দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর গণ-ডিপোর্টেশন এবং অভিবাসন জালিয়াতি বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, গুয়াতেমালার ৩৮ বছর বয়সী সান্তোস রামিরেজ-রামিরেজ এবং মেক্সিকোর ৩২ বছর বয়সী ইয়োলান্ডা মেন্ডোজা-এমিলিয়ানো ইমিগ্রেশন নথির অপব্যবহারের কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। গত ২৮ মে সাউথ সিক্সটিন্থ স্ট্রিটের ওই বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা জাল স্থায়ী বাসিন্দা কার্ড (গ্রিন কার্ড) এবং ভুয়া সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড উদ্ধার করেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত গ্রিন কার্ডগুলোতে আসামিদের নাম ও ছবি থাকলেও, সেগুলোতে ব্যবহৃত ‘এলিয়েন রেজিস্ট্রেশন নম্বর’গুলো সম্পূর্ণ অন্য ব্যক্তিদের নামে নিবন্ধিত ছিল। তদন্তকারী সংস্থা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই)-এর কানসাস সিটি স্পেশাল এজেন্ট রিক সাবাতিনি এক বিবৃতিতে জানান, এই ধরনের জালিয়াতি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার সততাকে ক্ষুণ্ন করে এবং পরিচয় গোপন রেখে অবৈধভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করে। মার্কিন অ্যাটর্নি রায়ান এ. ক্রিগশাউসার পরিচয় চুরির ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে বলেন, জালিয়াতির কারণে নিরীহ মানুষদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হচ্ছে, যার ফলে অপরাধীরা অন্যের নামে চাকরি নেওয়া থেকে শুরু করে ঋণ নেওয়ার মতো কাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে মেন্ডোজা-এমিলিয়ানোকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের দায়ে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে চারবার আটক করে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। ওই বাড়ি থেকে গ্রেপ্তারকৃত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অবৈধ অনুপ্রবেশের পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে। দেশজুড়ে অভিবাসন জালিয়াতি রোধে আরও বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। চলতি মাসের শুরুতেই একটি দশক-ব্যাপী ভুয়া বিয়ের চক্রের সঙ্গে জড়িত ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে বিচার বিভাগ। এই চক্রটি অর্থের বিনিময়ে শত শত চীনা নাগরিককে মার্কিন নাগরিকদের সাথে ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পেতে সহায়তা করত। অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানিয়েছেন, এটি ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দ্বারা পরিচালিত অন্যতম বৃহৎ বিবাহ-জালিয়াতি মামলা। এই চক্রের মাধ্যমে স্থায়ী আবাসনের জন্য বিদেশি নাগরিকেরা প্রায় এক লাখ ডলার পর্যন্ত প্রদান করতেন এবং সম্পর্কগুলোকে সত্যি প্রমাণ করতে ভুয়া বিয়ের অনুষ্ঠান ও ফটোশুটেরও আয়োজন করা হতো।
নেপালে চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ হড়পা বান বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডে নিহতের সংখ্যা এরই মধ্যে ৯০০ ছাড়িয়েছে। তবে এই প্রাণহানির সংখ্যা অনায়াসেই দ্বিগুণ হতে পারত, যদি না নুয়াকোটের ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদি সঠিক সময়ে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিতেন। তাঁর মাত্র কয়েক মিনিটের ত্বরিত পদক্ষেপে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ওই স্কুলের প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে বন্যার বিষয়ে সতর্ক করে অধ্যক্ষ রাজেন্দ্রর কাছে পরপর চারটি ফোন আসে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে বানের আঘাত হানার মাত্র ১০ মিনিট আগে তিনি পুরো স্কুল খালি করার নির্দেশ দেন। যে বাসগুলো শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্কুলের দিকে আসছিল, সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে ঘুরিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর যেসব শিশু ততক্ষণে স্কুলে পৌঁছে গিয়েছিল, তাদের দ্রুত উঁচু স্থানে দৌড়ে আশ্রয় নিতে বলেন তিনি। এক অভিভাবক এসে যখন তাঁর মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন, তখন পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদির মতে, সিদ্ধান্ত নিতে সামান্য দেরি হলেই ঘটে যেত চরম বিপর্যয়। বিবিসির কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমরা যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিতাম, যদি আর মাত্র ১০ মিনিট দেরি হতো, তবে আমি ও আমার শিক্ষার্থীরা আজ আপনাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য বেঁচে থাকতাম না।" এক শিক্ষার্থীও গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছে যে, তারা আক্ষরিক অর্থেই মাত্র ১০ সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রাণে বেঁচে ফিরেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাঝে অধ্যক্ষের এই উপস্থিত বুদ্ধি ও দায়িত্ববোধ এখন চারদিকে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।
পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’ একতরফাভাবে স্থগিত করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই জানিয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপে স্থগিতাদেশ জারি করেছেন দ্য হেগের স্থায়ী সালিশি আদালত। আন্তর্জাতিক আদালতের সর্বসম্মত এই ঐতিহাসিক রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি এখনও পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। ফলে ভারত কোনো অজুহাত দেখিয়ে এই চুক্তি বাতিল বা স্থগিত করতে পারবে না। আদালত বিরোধপূর্ণ হিমালয় অঞ্চলের কাশ্মীর অংশে ভারতের দুটি বিতর্কিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ সীমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। প্রকল্পগুলোর নকশা ও কার্যক্রম আন্তর্জাতিক চুক্তির শর্ত মেনে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা বিশ্বব্যাংক কর্তৃক মনোনীত একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ২০২৭ সালের জুলাই মাসের মধ্যে চূড়ান্তভাবে পর্যালোচনা করবেন। উল্লেখ্য যে, গত বছর কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর এক মর্মান্তিক হামলার ঘটনার পর প্রতিবেশীকে দায়ী করে ভারত একতরফাভাবে এই পানি চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। তবে পাকিস্তান প্রথম থেকেই ভারতের এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছিল। দ্য হেগের আদালতের সাম্প্রতিক রায়কে স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে তাদের আইনি ও সুনির্দিষ্ট অবস্থানের নৈতিক জয় হিসেবে ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায়কে সম্পূর্ণ অবৈধ ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে এবং আদালতের এই আদেশ মানতে তারা বাধ্য নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যার এই যুগে সিন্ধু অববাহিকার পানি বণ্টন নিয়ে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের নতুন এই মুখোমুখি অবস্থান গোটা অঞ্চলের কৃষি ও সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ১১ বছর বয়সী জিওভান্নি ক্রুজ বেসবল খেলার সময় হঠাৎ বুকে ও পিঠে তীব্র ব্যথায় আক্রান্ত হওয়ার পর অত্যন্ত বিরল ইডিওপ্যাথিক মাল্টিসেন্ট্রিক ক্যাসলম্যান রোগে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। জুন মাসে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তার রোগ শনাক্ত করেন। জিওভান্নির মা প্যাট্রিসিয়া জানান, অসুস্থ হওয়ার আগে তার ছেলে নাচছিল, হাসছিল এবং বেসবল খেলছিল। হঠাৎ তার বুকে ব্যথা শুরু হয় এবং শরীর ঘামতে থাকে। পরে ব্যথা বাড়তে থাকলে প্যাট্রিসিয়া তাকে দ্রুত টাকসন মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে একাধিক পরীক্ষা করা হলেও প্রায় এক সপ্তাহ পর কোনো নির্দিষ্ট রোগ শনাক্ত না করেই তাকে বাড়ি পাঠানো হয়। বাড়ি ফেরার পরও জিওভান্নির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তার মা জানান, এক মুহূর্তের মধ্যে সে প্রচণ্ড ব্যথায় চিৎকার করতে শুরু করত, ঘামত এবং পিঠের ব্যথার কথা বলত। পরে তাকে আবার টাকসন মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ব্যানার ডায়মন্ড চিলড্রেনস মেডিকেল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ইডিওপ্যাথিক মাল্টিসেন্ট্রিক ক্যাসলম্যান রোগ শনাক্ত করেন। ইডিওপ্যাথিক মাল্টিসেন্ট্রিক ক্যাসলম্যান একটি অত্যন্ত বিরল রোগ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি ১০ লাখ আমেরিকানের মধ্যে মাত্র প্রায় তিনজন এই রোগে আক্রান্ত হন। এই রোগে শরীরের বিভিন্ন অংশের লসিকা গ্রন্থি আক্রান্ত হয়ে বড় হয়ে যেতে পারে। রোগটি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে অতিরিক্ত সক্রিয় করে দেওয়ায় শরীরজুড়ে ব্যাপক প্রদাহ তৈরি হতে পারে এবং বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্যাট্রিসিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, জিওভান্নির অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়েছিল। সে প্রচণ্ড ব্যথায় ভুগছিল, ঘামছিল এবং পরে প্রচুর বমি করতে শুরু করে। তার গালও লাল হয়ে উঠেছিল। পরবর্তী পরীক্ষায় দেখা যায়, তার শরীরের বিভিন্ন লসিকা গ্রন্থি আক্রান্ত হয়েছে। প্যাট্রিসিয়া জানান, ক্যাসলম্যান রোগের এমন একটি ধরন রয়েছে যেখানে একটি মাত্র লসিকা গ্রন্থি আক্রান্ত হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা যায়। তবে জিওভান্নির ক্ষেত্রে রোগটি শরীরের বিভিন্ন লসিকা গ্রন্থিতে ছড়িয়ে রয়েছে। পরিবারের জন্য তৈরি তহবিল সংগ্রহের তথ্য অনুযায়ী, জিওভান্নির চিকিৎসায় একাধিক অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনবার নমুনা পরীক্ষা, তিনটি লসিকা গ্রন্থি অপসারণ করে বিস্তারিত পরীক্ষা, চৌম্বকীয় অনুরণন পরীক্ষা, কম্পিউটারভিত্তিক স্ক্যান, হৃদ্যন্ত্রের পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড, এক্স-রে এবং বহুবার রক্ত পরীক্ষা রয়েছে। তহবিল সংগ্রহের তথ্যে আরও বলা হয়েছে, জিওভান্নির পেট, ফুসফুস ও হৃদ্যন্ত্রের চারপাশে তরল জমেছিল। এর কারণে তার শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল এবং অতিরিক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হচ্ছিল। একই সঙ্গে তার কিডনিতেও জটিলতা দেখা দিয়েছে এবং দীর্ঘস্থায়ী জ্বর রয়েছে। বর্তমানে তাকে আইএল-৬নির্ভর চিকিৎসা, উচ্চমাত্রার শিরাপথে স্টেরয়েড এবং ডায়ালাইসিস দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রায় ছয় থেকে আট সপ্তাহ চলতে পারে বলে তহবিল সংগ্রহের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান চিকিৎসায় সাড়া না দিলে পরবর্তী সময়ে কেমোথেরাপি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে জিওভান্নি কতদিন হাসপাতালে থাকবে এবং চিকিৎসায় তার শারীরিক সাড়া কেমন হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইডিওপ্যাথিক মাল্টিসেন্ট্রিক ক্যাসলম্যান রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। এই রোগে লিভার, কিডনি ও অস্থিমজ্জাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ আক্রান্ত হতে পারে। জিওভান্নির মা তার হাসপাতালে থাকার পুরো সময় তার পাশে রয়েছেন এবং এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কাজেও যেতে পারেননি। অসুস্থ হওয়ার আগে জিওভান্নি সাহুয়ারিটায় ষষ্ঠ শ্রেণি ও মধ্য বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করার অপেক্ষায় ছিল। সে বেসবলের প্রতি আগ্রহী এবং প্রথম ও তৃতীয় বেসে খেলার পাশাপাশি পিচার হিসেবেও খেলত। বর্তমানে বিরল এই রোগের চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ১১ বছর বয়সী শিশুটি। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। রোববার স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার হারের পর সোমবার জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। মেসির ভাষ্য অনুযায়ী, বাবার মৃত্যুর পর এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি আরও বেশি নিশ্চিত হয়েছেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ ছিল চলতি বছরের বিশ্বকাপের ফাইনাল। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। মেসি জানান, তিনি ২১ জুলাই নিজের হাতে লেখা একটি বার্তা তৈরি করেছিলেন, অর্থাৎ স্পেনের কাছে হারের দুই দিন পরই তিনি কথাগুলো লিখে রেখেছিলেন। মেসির জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা এসেছে তার বাবা জর্জ মেসির মৃত্যুর তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পর। ৬৮ বছর বয়সে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াইয়ের পর মারা যান মেসির বাবা। বাবার মৃত্যুর পর জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার হয়েছে বলে জানান মেসি। জাতীয় দলের হয়ে মেসির অর্জনও ছিল দীর্ঘ ও গৌরবময়। আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি ১২৫টি গোল করেছেন এবং ২০৭টি ম্যাচ খেলেছেন, যা দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ গোল ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড। জাতীয় দলের জার্সিতে দীর্ঘ পথচলায় তিনি বারবার শিরোপার কাছাকাছি গিয়েও হতাশ হয়েছেন। বিশ্বকাপের প্রথম দুই আসর ২০০৬ ও ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ফাইনালে হারে দলটি। এরপর ২০১৮ সালে ফ্রান্সের কাছে শেষ ষোলোতে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকার তিনটি ফাইনালে হারের হতাশাও মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বড় আক্ষেপ হয়ে ছিল। তবে ২০২১ সালের কোপা আমেরিকায় ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে অবশেষে আর্জেন্টিনার হয়ে বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতেন মেসি। পরের বছর ২০২২ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন তিনি। দেশটির হয়ে ১৯৮৬ সালের পর সেটিই ছিল প্রথম বিশ্বকাপ জয়। মেসি তার বিদায়ী বার্তায় জানান, জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় তিনি সবসময় নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। শুধু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নয়, এর আগেও তিনি আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য লড়াই করেছেন এবং দেশবাসীকে আনন্দ ও গর্বিত করার চেষ্টা করেছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, জাতীয় দলের হয়ে তার দেওয়ার মতো আর কিছু নেই এবং এখন নতুন প্রজন্মের কয়েকজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় সামনে এগিয়ে আসছে, যারা জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্য। জাতীয় দলের হয়ে খেলা তার কাছে সবসময় বিশেষ ছিল এবং এই অধ্যায় শেষ হওয়ায় সিদ্ধান্তটি তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে বলেও জানান তিনি। মেসি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন। তবে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে তার পথচলা শেষ হলো চলতি বছরের বিশ্বকাপ ফাইনালের মধ্য দিয়ে। বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকা শিরোপা এবং দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোল ও ম্যাচ খেলার রেকর্ড রেখে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি টানলেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা।
ক্যালিফোর্নিয়ায় দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের নিজেদের জন্মসনদ পাওয়ার সুযোগ দিতে নতুন একটি আইন পাসের দাবি উঠেছে। বর্তমানে দত্তক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর রাজ্য তাদের জন্মসনদ সিল করে রাখে। এই অবস্থায় নিজেদের জন্মপরিচয় জানার অধিকার নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত আইনটির পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছেন দত্তক নেওয়া ব্যক্তিরা। এই দাবির পক্ষে কথা বলেছেন ৬৩ বছর বয়সী পল কিমবল। তিনি জানিয়েছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার ফোর্ট ব্র্যাগে জন্মের পর তাকে অন্য একটি নাম দেওয়া হয়েছিল। জীবদ্দশায় নিজের জন্মসনদ দেখার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি আইনটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কিমবল এক বছর বয়সে দত্তক নেওয়া হয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, দত্তক পরিবারের সঙ্গে তার বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ছিল চমৎকার। তারপরও নিজের জন্মসনদ হাতে পাওয়াকে তিনি নিজের পরিচয় সম্পর্কে পূর্ণতার অনুভূতির সঙ্গে দেখছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ৬৩ বছর বয়সেও নিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ নথির ওপর রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ থাকা তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। প্রায় একশ বছর ধরে ক্যালিফোর্নিয়ায় দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের জন্মসনদ সিল করে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল জন্মদাতা মায়েদের পরিচয় সুরক্ষিত রাখা। তবে বর্তমানে দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের নিজেদের জন্মপরিচয় ও জৈবিক সম্পর্ক জানার সুযোগ দেওয়ার দাবি সামনে এসেছে। কিমবলসহ অন্য সমর্থকেরা প্রস্তাবিত আইনটির পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। যদিও বিলটির বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক বিরোধিতা নেই, রাজ্যের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্যারোলিন মেনজিভার জন্মদাতা মায়েদের সম্ভাব্য উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তার মতে, যেসব জন্মদাতা মা সন্তানকে দত্তক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তারা হয়তো প্রকাশ্যে এসে বিলটির বিরোধিতা করতে চাইবেন না। বিলটির সমর্থকেরা আরও বলেছেন, বর্তমানে বংশপরিচয় অনুসন্ধানের জন্য বংশগত পরীক্ষা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে দত্তক নেওয়া ব্যক্তিরা সরকারি নথি ছাড়াও তাদের জৈবিক আত্মীয়দের খুঁজে পেতে পারেন। তবে কিমবলের মতে, নিজের জন্মসনদ হাতে পাওয়ার গুরুত্ব আলাদা। এদিকে প্রস্তাবিত আইনটি এখনো পূর্ণাঙ্গ আইন হিসেবে পাস হয়নি। আইনসভার নেতারা বিলটিকে পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভোটের জন্য তুলছেন না। ফলে চলতি অধিবেশনে এর অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিমবল আশা করছেন, আগামী আইনসভা অধিবেশনে অন্য কোনো আইনপ্রণেতা বিলটি গ্রহণ করে এগিয়ে নেবেন। এতে তার মতো দত্তক নেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের জন্মপরিচয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে।
লেবার ডে ছুটির আগে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে জ্বালানির গড় দাম গ্যালনপ্রতি ১ সেন্ট বেড়েছে। এএএ-এর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, মিশিগানে নিয়মিত গ্যাসোলিনের গড় দাম এখন গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ১৭ সেন্ট। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার জ্বালানির দাম ৮৪ সেন্ট বেশি। এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের তুলনায় দাম সামান্য বাড়লেও এক মাস আগের তুলনায় মিশিগানে গ্যাসের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ১১ সেন্ট কম। তবে গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকায় লেবার ডে ছুটিতে সড়কপথে ভ্রমণকারীদের জ্বালানি খরচ বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমান গড় দামে মিশিগানে ১৫ গ্যালনের একটি গাড়ির জ্বালানি ট্যাংক পূরণ করতে প্রায় ৬২ ডলার খরচ হচ্ছে। এএএ-এর হিসাবে, গত বছরের লেবার ডেতে অঙ্গরাজ্যটিতে গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল গ্যালনপ্রতি ৩ ডলার ৩০ সেন্ট। অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানির দামে পার্থক্য রয়েছে। এ সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি গড় দাম রয়েছে জ্যাকসনে, যেখানে গ্যালনপ্রতি দাম ৪ ডলার ২৬ সেন্ট। এরপর অ্যান আর্বারে ৪ ডলার ২২ সেন্ট এবং ল্যান্সিংয়ে ৪ ডলার ২০ সেন্ট। অন্যদিকে, তুলনামূলক কম দামের এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে মারকেটে, যেখানে গ্যালনপ্রতি গড় দাম ৩ ডলার ৯৯ সেন্ট। ট্রাভার্স সিটিতে গড় দাম ৪ ডলার ৪ সেন্ট এবং ফ্লিন্টে ৪ ডলার ৭ সেন্ট। এএএ বলছে, লেবার ডে ছুটির আগে মিশিগানে গ্যাসের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও গত বছরের তুলনায় এবার চালকদের পাম্পে বেশি অর্থ খরচ করতে হবে। ফলে ছুটির সময়ে সড়কপথে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা চালকদের জ্বালানি ব্যয় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জারমেইন ডুপ্রি ও সনি মিউজিক এন্টারটেইনমেন্টের মধ্যে ১৮ মিলিয়ন ডলারের রয়্যালটি বিরোধের সমাধান হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডুপ্রি ও তার প্রতিষ্ঠানগুলো সনি মিউজিকের বিরুদ্ধে করা ফেডারেল মামলা স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার করেছে। ডুপ্রি, সো সো ডেফ রেকর্ডিংস এবং সো সো ডেফ প্রোডাকশনস গত ২৮ আগস্ট নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতে মামলাটি প্রত্যাহারের নোটিশ দেয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার পর মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। ডুপ্রি ও তার প্রতিষ্ঠানগুলো গত ৬ জুলাই সনি মিউজিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ক্রিস ক্রস, এক্সস্কেপ, ডা ব্র্যাট ও জ্যাগড এজসহ বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়্যালটির হিসাব কম দেখানো, অর্থ আটকে রাখা অথবা যথাযথভাবে হিসাব না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মামলায় অন্তত ১৮ মিলিয়ন ডলার, এর সঙ্গে সুদ ও আইনজীবীর খরচ দাবি করা হয়েছিল। অভিযোগের মধ্যে ক্রিস ক্রসের প্রথম দুটি অ্যালবামের জন্য ২ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারের বেশি, এক্সস্কেপের একটি অ্যালবামের জন্য ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের বেশি এবং ডা ব্র্যাটের একটি অ্যালবামের জন্য ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি রয়্যালটির দাবি ছিল। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পরিচালিত একটি নিরীক্ষার মাধ্যমে কথিত রয়্যালটি সংক্রান্ত অসঙ্গতিগুলো সামনে আসে। এরপর ডুপ্রি ও তার প্রতিষ্ঠানগুলো সনি মিউজিকের কাছ থেকে পাওনা রয়্যালটি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়। তবে সমঝোতার বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। আদালতে জমা দেওয়া নোটিশে কোনো অর্থ পরিশোধ হয়েছে কি না, সেটিও জানানো হয়নি। একইভাবে সনি মিউজিক মামলায় উত্থাপিত অভিযোগ স্বীকার করেনি এবং আদালতও অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে কোনো রায় দেয়নি। মামলাটি অবশ্য স্থায়ীভাবে নিষ্পত্তির রায় দিয়ে শেষ হয়নি। এটি স্বেচ্ছায় এবং ভবিষ্যতে পুনরায় মামলা করার সুযোগ রেখে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আদালতের নথিতে দুই পক্ষ বিরোধের সমাধান করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় দুই মাসের মধ্যেই ডুপ্রি ও সনি মিউজিকের এই আইনি বিরোধের সমাপ্তি হলো। তবে দুই পক্ষের মধ্যে কী ধরনের সমঝোতা হয়েছে এবং রয়্যালটি নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করা হলে সেসব সম্প্রদায় অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়বে এবং দরিদ্র হয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ডাটা সেন্টার নির্মাণকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব সম্প্রদায় ডাটা সেন্টার চায় না, তাদের এমন অবস্থানের কারণে তারা পিছিয়ে ও দরিদ্র হয়ে পড়তে পারে। তার দাবি, এসব স্থাপনা গড়ে উঠলে স্থানীয় পর্যায়ে কম কর এবং বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। ডাটা সেন্টার নির্মাণের সুযোগ প্রত্যাখ্যান করলে অন্য অনেক এলাকা সেই সুযোগ গ্রহণ করতে আগ্রহী হবে বলেও সতর্ক করেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ডাটা সেন্টার স্থাপনের জন্য আরও অনেক জায়গা প্রস্তুত রয়েছে। তাই কোনো সম্প্রদায় এসব প্রকল্প প্রত্যাখ্যান করলে তার জায়গা অন্য কোনো এলাকা নিতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, ডাটা সেন্টার নির্মাণের সুযোগ নষ্ট করলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকেই এর দায় নিতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ডাটা সেন্টারবিরোধী আন্দোলন চীনের জন্য আনন্দের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধিতা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানেনবার্গ পাবলিক পলিসি সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, ৬১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের এলাকায় নতুন ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করছেন। বসন্তকালের জরিপে এই হার ছিল ৪৯ শতাংশ। জরিপে দেখা গেছে, ডাটা সেন্টারের বিরোধিতা কোনো একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ডেমোক্র্যাটদের ৬৯ শতাংশ, রিপাবলিকানদের ৫৪ শতাংশ এবং স্বতন্ত্রদের ৫৩ শতাংশ নিজেদের এলাকায় নতুন ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করেছেন। ডাটা সেন্টার নিয়ে মানুষের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা, স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও পানির ওপর চাপ এবং শব্দদূষণ। একই সঙ্গে ডাটা সেন্টার নির্মাণের ফলে স্থানীয়ভাবে দীর্ঘমেয়াদে কতটা কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অ্যানেনবার্গের জরিপে আরও দেখা গেছে, ডাটা সেন্টার নিয়ে মানুষের অবস্থান বদলালেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন আসেনি। জরিপে ৬৮ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। এদিকে ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্কও বাড়ছে। একদিকে এসব স্থাপনা থেকে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুবিধার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ, পানি, পরিবেশ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিরোধিতা তৈরি হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৪৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় আরও নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে নয়জনের মরদেহ পৌঁছেছে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর আহত ফিলিস্তিনির মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭২ জনে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের নিচে এবং বিভিন্ন সড়কে আরও বহু মানুষ আটকে রয়েছেন। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। তাদের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলি হামলা বা অন্যান্য লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৩১৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৩৬১ জন আহত হয়েছেন। এদিকে গাজায় নিখোঁজ ও জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনি নিখোঁজ ও জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেন্দ্রের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে গাজায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষ জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। সংগঠনটি ৩১৭টি নথিভুক্ত ঘটনা বিশ্লেষণ করে এই অনুমান করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বিশ্লেষণ করা ৩১৭টি ঘটনার মধ্যে ৩০২টি ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তি ছিলেন পুরুষ এবং ১৫টি ঘটনায় ছিলেন নারী। এসব ঘটনার মধ্যে ৪১ জন শিশু এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী ১৭ জন মানুষও ছিলেন। গাজা শহরে নথিভুক্ত ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি ৮৯টি। এরপর উত্তর গাজায় ৭৪টি, খান ইউনিসে ৫৯টি, মধ্য গাজায় ৩৭টি এবং রাফাহতে ৩২টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাগুলোর মধ্যে ৭৬টি ঘটেছে বাড়িতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বা কোনো এলাকার অবরোধের সময়। আরও ৬০টি ঘটনা ঘটেছে বাড়িতে ফেরার চেষ্টা বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহের সময়। বাস্তুচ্যুতি কিংবা সামরিক তল্লাশিচৌকি অতিক্রমের সময় ৪২টি এবং খাবার খোঁজা বা মানবিক সহায়তা পাওয়ার অপেক্ষায় ৩৯টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসাকেন্দ্র অবরোধ বা দখল এবং রোগী স্থানান্তরের সঙ্গে ২২টি ঘটনা যুক্ত ছিল। সাংবাদিক বা মাঠপর্যায়ে কাজ করা ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কিত ১০টি ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটি আলাদাভাবে জানিয়েছে, ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মানুষ চাপা পড়ে নিখোঁজ থাকতে পারেন। তবে এসব ঘটনাকে জোরপূর্বক গুমের ঘটনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি। নিখোঁজ ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে এর আগে ফিলিস্তিনের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ১১ হাজার ২০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে নিখোঁজ বা জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জনের বেশি নারী ও শিশু ছিলেন। ফিলিস্তিনি নিখোঁজ ও জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেন্দ্র নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পেতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটিকে প্রবেশাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। অভিযোগ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থারও আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে দীর্ঘ সংঘাতের কারণে গাজাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। যুদ্ধের ফলে গাজার বেসামরিক অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। সূত্র: ডেইলি সাবাহ
নেপালে গত সপ্তাহে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যার পর ৩৯টি দেশের অন্তত ৫৯০ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। তিব্বতে গত সপ্তাহে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যার পর নেপালেও এর প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পর থেকে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকরা ৩৯টি দেশের নাগরিক। তাদের মধ্যে মোট অন্তত ৫৯০ জনের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। বন্যার পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে কোন দেশের কতজন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন, সে বিষয়ে দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ভয়াবহ বন্যার পর নেপালে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের সন্ধান এবং তাদের অবস্থান শনাক্ত করতেও কাজ চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের বেলস শহরে সশস্ত্র ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি শাহেদ রানা মহসিনের জানাজা মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের পর নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। জানাজা শেষে শাহেদ রানার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। শনিবার সকালে টেনেসি থেকে তার মরদেহ নিউইয়র্কে আনা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জানাজার পর মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। গত ২৩ আগস্ট বেলস শহরের সাফারি কর্নার মার্কেটে কর্মরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন শাহেদ রানা। টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র ডাকাতির সময় তাকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, নিহতের নাম শাহেদ রানা মহসিন এবং তার বয়স ৩৬ বছর। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে শাহেদ রানা ও হামলাকারীর মধ্যে আগে থেকে কোনো পরিচয় ছিল কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়। এ ঘটনায় কোরি উইলিয়াম ডগলাস হিউজ নামে ২৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্র্যান্ড জুরি হত্যাসহ আটটি অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, ডাকাতির সময় হত্যা এবং আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়াই হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রসিকিউশন এ মামলায় মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে শাহেদ রানা ও অভিযুক্তের মধ্যে পূর্বপরিচয়ের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে প্রসিকিউটর জানিয়েছেন। ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে আকস্মিক সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের উদ্দেশ্যে শাহেদ রানা যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। টেনেসিতে কর্মরত অবস্থায় তার এমন মৃত্যুতে স্বজন ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি স্ত্রী ও দুই নাবালক সন্তান রেখে গেছেন। এদিকে শাহেদ রানার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একটি তহবিল খোলা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এই কঠিন সময়ে সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার ব্রুকলিনে জানাজা শেষে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বাসবরাজ রায়ারেড্ডি ইসলামকে বিশ্বের ‘শ্রেষ্ঠ ও বৈজ্ঞানিক ধর্ম’ হিসেবে উল্লেখ করে জীবনে অন্তত একবার হজ পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজ্যটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। শনিবার কপ্পাল জেলার কুকানুরে মুসলিম সম্প্রদায়ের আয়োজিত একটি গণবিবাহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় রায়ারেড্ডি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ইসলাম মানবতার শিক্ষা দেয় এবং সমাজে একজন মানুষের কীভাবে জীবনযাপন করা উচিত, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। একই সঙ্গে ইসলাম সম্পর্কে সমাজে নানা ভুল ধারণা ছড়ানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রায়ারেড্ডি বলেন, কোরআন শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, যে কেউ এটি পড়তে পারেন। নিজেও কোরআন পড়তে ও ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী বলে জানান তিনি। হজ পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করে রায়ারেড্ডি বলেন, জীবনে অন্তত একবার মক্কায় গিয়ে হজ করার তাঁর ইচ্ছা রয়েছে। তবে অমুসলিম হওয়ায় হজ পালনের সুযোগ না পাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। ধর্মীয় সম্প্রীতির আহ্বান জানিয়ে রায়ারেড্ডি বলেন, কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায়ের প্রতি উগ্র হওয়া উচিত নয়। সব ধর্মের ভালো শিক্ষা ও মূল্যবোধ গ্রহণ করে তা জীবনে প্রয়োগ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তবে তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কর্ণাটকে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজেপির নেতারা রায়ারেড্ডির বক্তব্যের সমালোচনা করে দাবি করেছেন, তাঁর মন্তব্যে হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। বিজেপি নেতা ও বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা আর অশোক রায়ারেড্ডির কাছে বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে সমালোচনার পর রায়ারেড্ডি তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, কোনো ধর্মকে ছোট করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। তাঁর দাবি, তিনি ইসলামের কিছু মূল্যবোধ ও আদর্শের প্রশংসা করেছেন। সব ধর্মই মহান এবং কোনো ধর্মই খারাপ নয় বলেও পরে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতের কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলায় মদ্যপ অবস্থায় খাবারে বেশি মুরগি নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার জেরে বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৩ আগস্ট মুদালগি তালুকের হুনাশিয়াল পিজি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম সতিরাম চন্দ্রদেব। তিনি উত্তর প্রদেশের পিলিভিত জেলার কবিরগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। অভিযুক্ত অরুণকুমার বালিশ্তার চভানও একই গ্রামের বাসিন্দা। তারা দুজনই হুনাশিয়াল পিজি গ্রামের একটি স্টিল কারখানায় কাজ করতেন। পুলিশের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ঘটনার সময় চার থেকে পাঁচজন শ্রমিক তাদের থাকার শেডে বসে মুরগির মাংস খাওয়ার পাশাপাশি মদ পান করছিলেন। একপর্যায়ে সতিরাম ও অরুণকুমারের মধ্যে কে কতটুকু মুরগি নিয়েছেন, তা নিয়ে তর্ক শুরু হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অরুণকুমার সতিরামের বিরুদ্ধে বেশি মুরগি নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি তীব্র হলে পাশে থাকা একটি ছুরি দিয়ে অরুণকুমার সতিরামের বুকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ। গুরুতর রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই সতিরামের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর হত্যার বিষয়টি আড়াল করতে অরুণকুমার সতিরামের মরদেহ গোকাক সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। সেখানে তিনি সতিরাম ওয়েল্ডিংয়ের সময় পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে চিকিৎসকরা বুকের গভীরে ছুরিকাঘাতের মতো আঘাত দেখতে পান। বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, সতিরামের মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনাজনিত পড়ে যাওয়ার কারণে হয়নি। এরপর ঘাটপ্রভা পুলিশ অরুণকুমারকে গ্রেপ্তার করে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা ছুরিটিও জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের পুলিশ একাডেমিতে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সদস্যদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়, আসন্ন কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন সদস্যরা। সভায় বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে সংগঠনের বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি সামনে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়েও মতবিনিময় করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে সভায় অংশ নেওয়া সব সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। তাদের অংশগ্রহণ, সহযোগিতা এবং সংগঠনের কার্যক্রমের প্রতি অব্যাহত নিষ্ঠার জন্যও সদস্যদের প্রশংসা করা হয়েছে। সভায় বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদেরও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সংগঠনটি বিভিন্ন কমান্ডে প্রতিনিধিদের নিয়োগ দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন কমান্ডে প্রতিনিধিদের নিয়োগের মাধ্যমে সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা, প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সাধারণ সদস্যদের এই সভার মাধ্যমে সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রম, আসন্ন কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়ে সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কমান্ডে প্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন কাঠামো হিসেবে সামনে এসেছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সদস্যদের অব্যাহত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতাকে সংগঠনের কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সভায় সদস্যদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনের বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়।
নেপালের ভয়াবহ বন্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ছোট এক শিশুকে তার বোনকে পিঠে নিয়ে ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। মুখে আঘাতের চিহ্ন নিয়েও ছোট বোনকে আগলে রাখার ভাইয়ের দৃশ্যটি দর্শকদের মনে করিয়ে দিচ্ছে জাপানি অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’-এর ভাইবোনের করুণ কাহিনি। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বিপর্যস্ত পরিবেশের মধ্যে শিশুটি তার ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। দুই শিশুর মুখেই আঁচড় ও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। ভাইরাল পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, বন্যার মধ্যে তারা বাবা-মাকে খুঁজছিল। ভিডিওটি ৩০ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আবেগ তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ছোট বোনকে রক্ষা করতে বড় ভাইয়ের নিরন্তর চেষ্টা। দুর্যোগের ভয়াবহতার মধ্যেও ভাইবোনের এই দৃশ্য অনেকের কাছে যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের মধ্যে একে অপরকে আগলে রাখা ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’-এর সেতা ও সেতসুকোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। ১৯৮৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানে এক ভাই ও তার ছোট বোনের বেঁচে থাকার সংগ্রামের গল্প। বাবা-মাকে হারানোর পর ভাই সেতা তার ছোট বোন সেতসুকোকে আগলে রাখার চেষ্টা করে। চলচ্চিত্রটির সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিকগুলোর একটি হলো, ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও ভাইয়ের বোনকে রক্ষা করার চেষ্টা। নেপালের ভাইরাল ভিডিওর ঘটনাটি অবশ্য চলচ্চিত্রটির গল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। ভিডিওতে থাকা শিশুদের পরিচয়, তাদের বাবা-মায়ের বর্তমান অবস্থা কিংবা তারা সত্যিই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল কি না, এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। তবে নেপালের সাম্প্রতিক বন্যায় শিশুদের ঝুঁকির বিষয়টি বাস্তব। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে অন্তত ১৭ হাজার শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক শিশু পরিবার বা অভিভাবকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। শিশুদের শনাক্ত করে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের কাজও চলছে। বন্যার পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অনেক এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা ও শিশু দুটির পরিচয় নিয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকলেও, ছোট বোনকে আগলে রাখা ভাইয়ের দৃশ্যটি নেপালের দুর্যোগে শিশুদের অসহায়ত্ব এবং পারস্পরিক নির্ভরতার এক গভীর প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। আর সেই কারণেই দৃশ্যটি অনেকের মনে ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’-এর সেই করুণ ভাইবোনের গল্পের প্রতিধ্বনি তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় নতুন করে বসবাস শুরু করা বাংলাদেশি পরিবার ও অভিবাসীদের জন্য চাকরি, শিক্ষা, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা কোথায় পাওয়া যাবে, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফিলাডেলফিয়া, আপার ডারবি, পিটসবার্গ ও অ্যালেন্টাউনের মতো এলাকায় বসবাসকারীরা সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় কমিউনিটি রিসোর্সের মাধ্যমে এসব সহায়তা নিতে পারেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি রিসোর্স হলো পেনসিলভানিয়া ২১১। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক ও জরুরি সেবার সঙ্গে মানুষকে যুক্ত করে এই বিনামূল্যের সেবা। ২১১ নম্বরে ফোন করে অথবা নিজের এলাকার জিপ কোড ব্যবহার করে খাবার, বাসস্থান, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি এবং শিশুদের সহায়তাসহ বিভিন্ন স্থানীয় সেবা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। চাকরি খুঁজতে পেনসিলভানিয়ার ক্যারিয়ারলিংকও গুরুত্বপূর্ণ। এটি রাজ্যের সরকারি কর্মসংস্থান সেবা, যেখানে চাকরির সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি ও ক্যারিয়ার উন্নয়নে সহায়তা পাওয়া যায়। নিজের এলাকার কাছাকাছি সেবা খুঁজতে জিপ কোড ব্যবহার করা যায়। শিশুদের স্কুলে ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে নিজের বাসার ঠিকানা অনুযায়ী স্থানীয় স্কুল জেলার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ইংরেজি ভাষা শেখা শিক্ষার্থীদের জন্য পেনসিলভানিয়া শিক্ষা বিভাগ বিভিন্ন সহায়তার ব্যবস্থা রেখেছে। প্রয়োজন হলে পরিবারগুলো স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ভাষাগত সহায়তা বা দোভাষীর সুবিধা সম্পর্কেও জানতে পারেন। যারা ইংরেজি শিখতে চান বা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে চান, তাদের জন্যও পেনসিলভানিয়ায় বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। রাজ্যের প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা ও পারিবারিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা, হাইস্কুল সমমানের পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং চাকরি ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় গণগ্রন্থাগারও নতুন অভিবাসীদের জন্য কাজে লাগতে পারে। ফিলাডেলফিয়ার ফ্রি লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন পাবলিক লাইব্রেরিতে কম্পিউটার ব্যবহার, চাকরি খোঁজা, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকে। নির্দিষ্ট কোনো ক্লাস বা কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে সময়সূচি ও যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া ভালো। খাবারের প্রয়োজন হলে পেনসিলভানিয়া ২১১-এর মাধ্যমে কাছাকাছি খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র, খাদ্যভাণ্ডার ও বিনামূল্যের খাবারের ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া যায়। স্থানীয় বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকেও খাবার বিতরণের কর্মসূচির তথ্য পাওয়া যেতে পারে। আইনি সমস্যায় কম আয়ের পরিবারগুলো পেনসিলভানিয়া লিগ্যাল এইড নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সহায়তা খুঁজতে পারেন। এই নেটওয়ার্ক যোগ্য ব্যক্তিদের বিভিন্ন দেওয়ানি আইনি বিষয়ে সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করে। অভিবাসন, বাসস্থান বা কর্মক্ষেত্রসংক্রান্ত কোনো আইনি সমস্যায় পড়লে যোগ্যতা অনুযায়ী বিনামূল্যে বা কম খরচে আইনি সহায়তার সুযোগ রয়েছে কি না, তা জেনে নেওয়া যেতে পারে। ড্রাইভিং লাইসেন্স বা স্টেট আইডির প্রয়োজন হলে পেনসিলভানিয়া ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকেলসের নির্ধারিত সেন্টারে যোগাযোগ করতে হবে। কাছের লাইসেন্স বা ছবি তোলার কেন্দ্র খুঁজতে নিজের জিপ কোড ব্যবহার করা যায়। নতুন লাইসেন্স, নবায়ন ও রিয়েল আইডির জন্য আলাদা নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে পারে। এর পাশাপাশি স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিও নতুনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার জায়গা হতে পারে। বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠন, মসজিদ ও অন্যান্য কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান থেকে সামাজিক অনুষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার বিতরণ, শিক্ষা ও অন্যান্য সহযোগিতার তথ্য পাওয়া যায়। তবে কোনো নির্দিষ্ট সেবা বিনামূল্যে বা সবার জন্য উন্মুক্ত কি না, তা আগে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত। পেনসিলভানিয়ায় নতুন বসবাস শুরু করলে একসঙ্গে সব তথ্য খোঁজার প্রয়োজন নেই। নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে প্রথমে ২১১-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা খুঁজে নেওয়া যেতে পারে। এরপর চাকরি, স্কুল, ইংরেজি শিক্ষা, আইনি সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলেই প্রয়োজনীয় সহায়তার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে আসবে।