সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
পেনসিলভানিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
পেনসিলভানিয়ায় নতুন আসা বাংলাদেশিদের জন্য চাকরি থেকে স্বাস্থ্যসেবা, ১০টি জরুরী ঠিকানা

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় নতুন করে বসবাস শুরু করা বাংলাদেশি পরিবার ও অভিবাসীদের জন্য চাকরি, শিক্ষা, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা কোথায় পাওয়া যাবে, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফিলাডেলফিয়া, আপার ডারবি, পিটসবার্গ ও অ্যালেন্টাউনের মতো এলাকায় বসবাসকারীরা সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় কমিউনিটি রিসোর্সের মাধ্যমে এসব সহায়তা নিতে পারেন।   এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি রিসোর্স হলো পেনসিলভানিয়া ২১১। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক ও জরুরি সেবার সঙ্গে মানুষকে যুক্ত করে এই বিনামূল্যের সেবা। ২১১ নম্বরে ফোন করে অথবা নিজের এলাকার জিপ কোড ব্যবহার করে খাবার, বাসস্থান, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি এবং শিশুদের সহায়তাসহ বিভিন্ন স্থানীয় সেবা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।   চাকরি খুঁজতে পেনসিলভানিয়ার ক্যারিয়ারলিংকও গুরুত্বপূর্ণ। এটি রাজ্যের সরকারি কর্মসংস্থান সেবা, যেখানে চাকরির সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি ও ক্যারিয়ার উন্নয়নে সহায়তা পাওয়া যায়। নিজের এলাকার কাছাকাছি সেবা খুঁজতে জিপ কোড ব্যবহার করা যায়।   শিশুদের স্কুলে ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে নিজের বাসার ঠিকানা অনুযায়ী স্থানীয় স্কুল জেলার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ইংরেজি ভাষা শেখা শিক্ষার্থীদের জন্য পেনসিলভানিয়া শিক্ষা বিভাগ বিভিন্ন সহায়তার ব্যবস্থা রেখেছে। প্রয়োজন হলে পরিবারগুলো স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ভাষাগত সহায়তা বা দোভাষীর সুবিধা সম্পর্কেও জানতে পারেন।   যারা ইংরেজি শিখতে চান বা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে চান, তাদের জন্যও পেনসিলভানিয়ায় বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। রাজ্যের প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা ও পারিবারিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা, হাইস্কুল সমমানের পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং চাকরি ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।   স্থানীয় গণগ্রন্থাগারও নতুন অভিবাসীদের জন্য কাজে লাগতে পারে। ফিলাডেলফিয়ার ফ্রি লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন পাবলিক লাইব্রেরিতে কম্পিউটার ব্যবহার, চাকরি খোঁজা, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকে। নির্দিষ্ট কোনো ক্লাস বা কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে সময়সূচি ও যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া ভালো।   খাবারের প্রয়োজন হলে পেনসিলভানিয়া ২১১-এর মাধ্যমে কাছাকাছি খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র, খাদ্যভাণ্ডার ও বিনামূল্যের খাবারের ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া যায়। স্থানীয় বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকেও খাবার বিতরণের কর্মসূচির তথ্য পাওয়া যেতে পারে।   আইনি সমস্যায় কম আয়ের পরিবারগুলো পেনসিলভানিয়া লিগ্যাল এইড নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সহায়তা খুঁজতে পারেন। এই নেটওয়ার্ক যোগ্য ব্যক্তিদের বিভিন্ন দেওয়ানি আইনি বিষয়ে সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করে। অভিবাসন, বাসস্থান বা কর্মক্ষেত্রসংক্রান্ত কোনো আইনি সমস্যায় পড়লে যোগ্যতা অনুযায়ী বিনামূল্যে বা কম খরচে আইনি সহায়তার সুযোগ রয়েছে কি না, তা জেনে নেওয়া যেতে পারে।   ড্রাইভিং লাইসেন্স বা স্টেট আইডির প্রয়োজন হলে পেনসিলভানিয়া ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকেলসের নির্ধারিত সেন্টারে যোগাযোগ করতে হবে। কাছের লাইসেন্স বা ছবি তোলার কেন্দ্র খুঁজতে নিজের জিপ কোড ব্যবহার করা যায়। নতুন লাইসেন্স, নবায়ন ও রিয়েল আইডির জন্য আলাদা নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে পারে।   এর পাশাপাশি স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিও নতুনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার জায়গা হতে পারে। বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠন, মসজিদ ও অন্যান্য কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান থেকে সামাজিক অনুষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার বিতরণ, শিক্ষা ও অন্যান্য সহযোগিতার তথ্য পাওয়া যায়। তবে কোনো নির্দিষ্ট সেবা বিনামূল্যে বা সবার জন্য উন্মুক্ত কি না, তা আগে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।   পেনসিলভানিয়ায় নতুন বসবাস শুরু করলে একসঙ্গে সব তথ্য খোঁজার প্রয়োজন নেই। নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে প্রথমে ২১১-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা খুঁজে নেওয়া যেতে পারে। এরপর চাকরি, স্কুল, ইংরেজি শিক্ষা, আইনি সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলেই প্রয়োজনীয় সহায়তার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে আসবে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৯:৩৬
সাম্প্রতিক একাধিক জনমত জরিপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও অনুমোদনের হার কমে ৩৪ শতাংশে নেমেছে। ছবি: সংগৃহীত
জনসমর্থনে তলানিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বাড়ছে নিজ দলের ভেতরেও অসন্তোষ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় আবারও বড় ধরনের চাপের ইঙ্গিত মিলেছে। সাম্প্রতিক একাধিক জনমত জরিপে তার অনুমোদন হার ৩৪ শতাংশের আশপাশে রয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলকভাবে কম। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জুলাইয়ের জরিপেও ট্রাম্পের চাকরির অনুমোদন ৩৪ শতাংশ পাওয়া যায়।    নিউজউইকের প্রতিবেদনে তুলে ধরা সাম্প্রতিক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের নীতিগত অবস্থান নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তার জনসমর্থনে প্রভাব ফেলছে।   ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে তার নিজ দলের সমর্থকদের মনোভাব। পিউ রিসার্চ সেন্টারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে ৮৪ শতাংশ রিপাবলিকান ও রিপাবলিকানঘেঁষা ভোটার ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে অনুমোদন জানিয়েছিলেন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এই হার কমে ৬৯ শতাংশে নেমেছে।    অর্থাৎ, বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকানদের মধ্যেও ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনে কিছুটা ভাটা দেখা যাচ্ছে। তবে দলীয় বিভাজন এখনও অত্যন্ত স্পষ্ট - ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ ট্রাম্পের কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট।    বিশ্লেষকদের নজরে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার জন্য অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিও ভোটারদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি করছে।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য বলছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তার অনুমোদনের ব্যবধান প্রায় ৭৮ শতাংশীয় পয়েন্ট। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি বিশ্লেষণে এটি মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মধ্যে সাত দশকের বেশি সময়ের সবচেয়ে বড় দলীয় বিভাজনগুলোর একটি।    এদিকে সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ফলে ট্রাম্পের জনসমর্থনে এই চাপ রিপাবলিকানদের জন্যও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও পররাষ্ট্রনীতি - এসব ইস্যুতে ভোটারদের মনোভাব আগামী নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৯:১৩
রাশিয়ায় যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা, বিয়ের আইন
রাশিয়ায় যুদ্ধে যাওয়ার আগে সৈনিকদের বিয়ে, ক্ষতিপূরণ পেতে ‘ব্ল্যাক উইডো’ চক্র

রাশিয়ায় ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর আগে কিছু নারী সৈনিকদের দ্রুত বিয়ে করে পরে তাদের মৃত্যুর পর সরকারি ক্ষতিপূরণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাশিয়ার গণমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এমন নারীদের ‘ব্ল্যাক উইডো’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। অভিযোগগুলোকে ঘিরে একাধিক পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।    সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি সের্গেই খানদোঝকোর। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ৪০ বছর বয়সী এই রুশ নাগরিক সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার পরের দিন এলেনা সোকোলোভাকে বিয়ে করেন। এরপর তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে যান এবং কয়েক মাস পর নিহত হন। পরে তার স্ত্রী সামরিক মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন।  খানদোঝকোর পরিবারের সদস্যরা ওই বিয়ের বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, বিয়েটি প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্ক গড়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং স্বামীর মৃত্যু বা আহত হওয়ার পর সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল বলে রায় দেওয়া হয়। পরে বিয়েটি বাতিল করা হয়। তবে ওই নারী আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    রাশিয়ায় যুদ্ধে নিহত সেনাদের পরিবারের জন্য সরকারি ক্ষতিপূরণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই অর্থ কয়েক মিলিয়ন রুবল থেকে ১০০ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি হতে পারে। ফলে যুদ্ধকবলিত দরিদ্র অঞ্চলে এসব অর্থকে ঘিরে প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।  অভিযোগের ধরনও প্রায় একই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুদ্ধের জন্য চুক্তিতে সই করার পরপরই সৈনিকরা অল্প পরিচিত কোনো নারীকে বিয়ে করছেন। এরপর তারা যুদ্ধক্ষেত্রে গেলে ওই নারী আইনগত স্ত্রী হিসেবে মৃত্যুকালীন সুবিধা পাওয়ার দাবি করছেন। কিছু ঘটনায় নিহত সৈনিকের পরিবার দাবি করেছে, তারা ওই বিয়ের কথাই আগে জানত না।  ২০২৬ সালের একটি তদন্তে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের একাধিক কথিত বিয়ের ঘটনা এবং আদালতের মামলার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কিছু ঘটনায় সরকারি ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে এবং পরিবারগুলো আদালতের মাধ্যমে বিয়ে বাতিলের চেষ্টা করেছে। তবে এই ধরনের ঘটনার প্রকৃত সংখ্যা কত, তা নির্ভরযোগ্যভাবে নির্ধারণ করা কঠিন।    বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ায় যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা, বিয়ের আইন এবং নিহত সেনাদের পরিবারের অধিকার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, যুদ্ধের সময় দ্রুত বিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ এবং বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতারণার সুযোগ তৈরি করছে কি না।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৮:৩৬
ভারতীয় যুবক যুবান ইবানেজ গারওয়ার
একই চিকিৎসা ভারতে ৪৮ হাজার, যুক্তরাষ্ট্রে ২২ লাখ! ক্ষোভে ছাড়তে চান যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় যুবক যুবান ইবানেজ গারওয়ারে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেছেন, চিকিৎসার খরচের কারণে তিনি ভারতে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি ভারতে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫০০ ডলার খরচের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া ২৩ হাজার ডলারের হাসপাতাল বিলের তুলনা করেছেন।  যুবানের দাবি, কয়েক বছর আগে ভারতে বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কোনো দীর্ঘ কাগজপত্রের ঝামেলা ছাড়াই তাকে একটি প্রাইভেট রুম দেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসিজি, এমআরআই, সিটি স্ক্যান ও বিভিন্ন রক্ত পরীক্ষা করা হয়। কয়েক দিন চিকিৎসার পর রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার পরিকল্পনা দেওয়া হয় এবং পুরো চিকিৎসায় তার খরচ হয়েছিল প্রায় ৫০০ ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৭ হাজার রুপি।    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বাস্কেটবল খেলার সময় হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেন বলে জানান যুবান। তার দাবি, অ্যাম্বুলেন্সের খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যান। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল বলেও তিনি জানান। পরে চিকিৎসকেরা তাকে জানান, তার ছোট ধরনের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে।  যুবানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালের বিল শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায় প্রায় ২৩ হাজার ডলারে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২২ লাখ রুপি। তার আরও দাবি, ভালো হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকা সত্ত্বেও নিজের পকেট থেকে প্রায় ৭ হাজার ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৬ লাখ ৬৭ হাজার রুপি দিতে হয়েছে।    এই অভিজ্ঞতার পর যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে ভাবছেন বলে জানিয়েছেন যুবান। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামো ও জীবনযাপনের কিছু সুবিধা থাকলেও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় তার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলছে।    তবে যুবানের অভিজ্ঞতা তার ব্যক্তিগত বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার খরচ রোগীর হেলথ ইন্স্যুরেন্স, চিকিৎসার ধরন, হাসপাতাল, ডিডাক্টিবল, কো-পে এবং অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে পুরো যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সার্বিক চিত্র হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৮:১১
প্রায় ৩৭০ ফিলিস্তিনি শিশু ইসরায়েলি কারাগারে
খেলাধুলার বয়সে কারাগারে, খাবার-পানির সংকটে প্রায় ৩৭০ ফিলিস্তিনি শিশু

ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্টের শুরু পর্যন্ত প্রায় ৩৭০ ফিলিস্তিনি শিশু ইসরায়েলি কারাগারে আটক রয়েছে। তাদের অধিকাংশকে মেগিদ্দো ও ওফার কারাগারে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি হেফাজতে থাকা ৯ হাজার ৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি ও আটক ব্যক্তির মধ্যে এসব শিশুও রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে শিশুদের আটক এখন নিয়মিত গ্রেপ্তার অভিযানের অংশ হয়ে উঠেছে।   সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীর ও জেরুজালেম থেকে ২৭৬ ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করেছে। শিশুদের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক আটক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যবস্থায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাউকে আটক রাখা যায় এবং পরবর্তী সময়ে সেই মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি আটককেন্দ্রগুলোর পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছে। এসব অভিযোগের মধ্যে বন্দিদের মারধর, পর্যাপ্ত খাবার ও পানি না দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার বিষয় রয়েছে।   তবে এসব তথ্য ও অভিযোগ মূলত ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে। আটক শিশুদের সংখ্যা এবং তাদের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পৃথক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৭:২৮
যুক্তরাজ্যের সাসেক্সে ইউনিভার্সিটি হসপিটালস
যুক্তরাজ্যের সাসেক্সের হাসপাতালে শিশুমৃত্যু, ১ হাজারের বেশি ঘটনা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিশন

যুক্তরাজ্যের সাসেক্সে ইউনিভার্সিটি হসপিটালস সাসেক্স এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের মাতৃ ও নবজাতক সেবায় শিশুমৃত্যু ও ক্ষতির অভিযোগ নিয়ে বড় পরিসরে স্বাধীন তদন্ত শুরু হচ্ছে। তদন্তে ২০১৮ সাল থেকে এক হাজারের বেশি পরিবার ও ঘটনার তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিজ্ঞ ধাত্রী ও তদন্তকারী ডোনা ওকেন্ডেন।  এই তদন্তের পেছনে রয়েছে কয়েক বছর ধরে চলা শোকাহত পরিবারগুলোর অভিযোগ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় উঠে আসে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে মারা যাওয়া অন্তত ৫৫ শিশুর ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসা পেলে ফল ভিন্ন হতে পারত বলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মোট ২২৭টি মাতৃমৃত্যু-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করেছিল।    এর পরই বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত তদন্তের দাবি জোরালো হয়। যুক্তরাজ্য সরকার মে মাসে নিশ্চিত করে, তদন্তটি ২০১৮ সাল থেকে মাতৃ ও নবজাতক সেবার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর উদ্বেগও এতে বিবেচনায় নেওয়া হবে।  সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তদন্তকারী দল আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শোকাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করবে। তদন্তের কাঠামো নির্ধারণে পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা ও মতামত নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে জবাবের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর কাছে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।  তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাতৃসেবা নিরাপদ করতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। চারটি মাতৃসেবা ইউনিটে ৪০ জন অতিরিক্ত ধাত্রী নিয়োগ, পরিকল্পিত সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য থিয়েটার সুবিধা বাড়ানো এবং জরুরি টেলিফোন ট্রায়াজ সেবা চালুর কথা জানিয়েছে তারা।    হাসপাতালের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাদের প্রতি এক হাজার জন্মে প্রসবকালীন ও নবজাতক মৃত্যুর হার ২ দশমিক ১৯, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় কম। তবে পশ্চিম সাসেক্সের দুটি মাতৃসেবা ইউনিটকে গত মাসে আবারও ‘উন্নতি প্রয়োজন’ হিসেবে রেটিং দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রক সংস্থা।    সরকারি তদন্তের লক্ষ্য শুধু অতীতের মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করা নয়, বরং মাতৃ ও নবজাতক সেবায় কোথায় কাঠামোগত সমস্যা ছিল এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা কীভাবে ঠেকানো যায়, সেটিও নির্ধারণ করা। তদন্তের আওতায় এক হাজারের বেশি ঘটনা আসায় এটিকে সাসেক্সের মাতৃসেবা নিয়ে অন্যতম বড় স্বাধীন পর্যালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৭:৫
সাগর শেখ (২৮), অ্যাম্বুলেন্সচালক. আরটিভি
গৃহবধূর মরদেহের সঙ্গে অনৈতিক কাজের চেষ্টা, হাতেনাতে ধরা অ্যাম্বুলেন্সচালক!

নড়াইলের লোহাগড়ায় এক গৃহবধূর মরদেহের সঙ্গে অনৈতিক কাজের চেষ্টার অভিযোগে সাগর শেখ (২৮) নামে এক অ্যাম্বুলেন্সচালককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন বলে জানিয়েছে আরটিভি।    সাগর শেখ লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা তেলপাম্প এলাকার মৃত কামরুল শেখের ছেলে। ঘটনার পর তাকে হেফাজতে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, শনিবার সকালে লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছেঁড়া গ্রামে সাদিয়া আক্তার লামিয়া নামে ওই গৃহবধূ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। রাতে মরদেহ থানায় নেওয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সে রাখা হয়।    পরিবারের অভিযোগ, গভীর রাতে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে থাকা চালক সাগর শেখ মরদেহটির সঙ্গে অনৈতিক কাজের চেষ্টা করেন। এ সময় নিহত নারীর মা সেখানে গিয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।  নিহতের মায়ের অভিযোগ, চালক মরদেহটির শরীরের কাপড় খুলে অনৈতিক কাজের চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি যেন বাইরে থেকে দেখা না যায়, সে জন্য অ্যাম্বুলেন্সের জানালা গামছা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।    লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সাগর শেখকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  সূত্র: আরটিভি

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৬:২৬
সাপের কামড়ের পর প্রাণ বাঁচাতে নিজের তর্জনী কেটে ফেলেন
সাপের কামড়ে বিষ ছড়িয়ে যাওয়ার ভয়ে কেটে ফেললেন আঙুল! পরে জানলেন শাপটি বিষধর ছিল না

চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের ৬০ বছর বয়সী এক কৃষক সাপের কামড়ের পর প্রাণ বাঁচাতে নিজের তর্জনী কেটে ফেলেছিলেন। স্থানীয়ভাবে ‘ফাইভ স্টেপ স্নেক’ নামে পরিচিত একটি সাপ তাঁকে কামড়েছে মনে করে বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসকেরা জানান, এতটা চরম পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। ঘটনাটি ২০১৯ সালের অক্টোবরের, যা সে সময় চীনা সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়।    ঝেজিয়াংয়ের শাংইউ এলাকায় পাহাড়ি অঞ্চলে কাঠ কাটার সময় ওই কৃষকের আঙুলে সাপটি কামড় দেয়। সাপটিকে তিনি স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ‘ফাইভ স্টেপ স্নেক’ হিসেবে শনাক্ত করেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সাপের কামড়ের পর আক্রান্ত ব্যক্তি মাত্র কয়েক পা হাঁটতেই মারা যেতে পারেন। সেই ভয় থেকেই বিষ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে তিনি নিজেই ছুরি দিয়ে তর্জনীর একটি অংশ কেটে ফেলেন। এরপর হাত কাপড় দিয়ে বেঁধে তিনি প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের হাংঝোউ হাসপাতালে যান। তবে কেটে ফেলা আঙুলটি ঘটনাস্থলেই ফেলে আসায় সেটি পুনরায় জোড়া লাগানোর সুযোগও নষ্ট হয়ে যায়।  হাসপাতালে পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা দেখতে পান, তাঁর রক্ত জমাট বাঁধার কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল এবং গুরুতর বিষক্রিয়ার লক্ষণও দেখা যায়নি। চিকিৎসকেরা জানান, স্থানীয়ভাবে ‘ফাইভ স্টেপ স্নেক’ নামে পরিচিত সাপটি বিষধর হলেও এর বিষক্রিয়া নিয়ে প্রচলিত ধারণা বাস্তবতার তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ। সাপটির বৈজ্ঞানিক নাম।   চিকিৎসকেরা স্পষ্ট করে বলেন, সাপের কামড়ের পর নিজের শরীরের কোনো অংশ কেটে ফেলা, পোড়ানো বা শক্ত করে বেঁধে ফেলা নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। চীনের সাপের কামড় ব্যবস্থাপনা বিষয়ক চিকিৎসা নির্দেশিকাতেও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং আক্রান্ত অঙ্গ স্থির রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।    এই ঘটনার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, সাপের কামড়ের পর আতঙ্কে নিজে কোনো অস্ত্রোপচার বা ঘরোয়া চিকিৎসা না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। সাপটি বিষধর কি না নিশ্চিত না হলে সেটি নিজে শনাক্ত করার চেষ্টা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৬:৫
ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবিতে এআই-নির্মিত ভিডিও
ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই-নির্মিত ভিডিও পোস্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। তবে রয়টার্সের যাচাইয়ে ভিডিওটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি বলে নিশ্চিত হয়েছে এবং খার্গ দ্বীপে এমন হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।  রোববার ট্রুথ সোশ্যালে ভিডিওটি পোস্ট করে ট্রাম্প লেখেন, “খার্গ দ্বীপ টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে”। ভিডিওতে দ্বীপের তেল অবকাঠামোতে ব্যাপক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। কিন্তু ভিডিও প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরও সেখানে কোনো হামলার প্রমাণ মেলেনি।    ইরানের সরকারি ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির প্রধান হামিদ বোভার্ড ট্রাম্পের দাবি নাকচ করে বলেছেন, খার্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং তেল কার্যক্রম চালু আছে।  খার্গ দ্বীপ ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ফলে সেখানে সত্যিকারের হামলা হলে ইরানের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।    ট্রাম্পের এই পোস্ট এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায়। এরপর ইরান জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মার্কিন অবস্থানে হামলার কথা জানায়। জর্ডান কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে, আর সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি অস্বীকার করেছে।    এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এআই-নির্মিত যুদ্ধের ভিডিও নতুন করে তথ্য বিভ্রান্তি ও যুদ্ধকালীন ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৫:৪২
সরকারি ও কমিউনিটি সেবা
নিউ ইয়র্কে নতুনদের জানা জরুরি ১০ সরকারি ও কমিউনিটি রিসোর্স

আমেরিকায় নতুন আসা প্রবাসীদের জন্য সরকারি ও কমিউনিটি সেবার সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সরকারি সহায়তা, ইমিগ্রেশন এবং কম খরচে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিউ ইয়র্ক সিটিতে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেবা। নতুন প্রবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগতে পারে এমন ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক রিসোর্স  তুলে ধরা হলো।   ১. ৩১১ সেবা নিউ ইয়র্ক সিটিতে সরকারি তথ্য ও জরুরি নয় এমন বিভিন্ন সেবার জন্য ৩১১ একটি গুরুত্বপূর্ণ নম্বর। সিটি সার্ভিস, সরকারি সহায়তা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে তথ্য জানতে ৩১১-এ ফোন করা যায়। এই সেবায় ১৭৫টির বেশি ভাষা ও ডায়ালেক্টে ইন্টারপ্রেটার সুবিধা রয়েছে। স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও অন্যান্য সিটি সার্ভিস সম্পর্কেও ৩১১ থেকে তথ্য পাওয়া যায়। ২. পাবলিক লাইব্রেরি কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরি, নিউ ইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি এবং ব্রুকলিন পাবলিক লাইব্রেরি নতুন প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রিসোর্স। বিভিন্ন শাখায় ইংরেজি শেখার ক্লাস, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ, শিশুদের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং চাকরি খোঁজার সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। তবে কোন শাখায় কী ধরনের সেবা রয়েছে, তা আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো।   ৩. এনওয়াইসি এইচআরএ ও অ্যাক্সেস এনওয়াইসি খাবারের সহায়তা হিসেবে স্ন্যাপ, নগদ সহায়তা এবং মেডিকেইডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধার জন্য নিউ ইয়র্ক সিটির মানবসম্পদ প্রশাসন বা এইচআরএর মাধ্যমে আবেদন করা যায়। অ্যাক্সেস এনওয়াইসি প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা, যোগ্যতার শর্ত এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। একাধিক সুবিধার জন্য একই আবেদনের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগও রয়েছে। ৪. এনওয়াইসি হেলথ + হসপিটালস ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও নিউ ইয়র্ক সিটির পাবলিক হাসপাতাল ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোন হাসপাতালে কী ধরনের চিকিৎসা এবং ভাষা সহায়তা রয়েছে, তা যাওয়ার আগে জেনে নেওয়া ভালো। গুরুতর বা জীবনঝুঁকির জরুরি অবস্থায় অবশ্যই ৯১১-এ কল করতে হবে।   ৫. আইডিএনওয়াইসি আইডিএনওয়াইসি হলো নিউ ইয়র্ক সিটির সরকারি ফ্রি ফটো আইডি। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে যোগ্য নিউইয়র্ক সিটি বাসিন্দারা এই আইডির জন্য আবেদন করতে পারেন। পরিচয় প্রমাণের পাশাপাশি কিছু ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়নে অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান থেকেও আইডিএনওয়াইসি ব্যবহার করে কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। ৬. এনওয়াইসি পাবলিক স্কুল ও ওয়েলকাম সেন্টার সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে এনওয়াইসি পাবলিক স্কুলের সঠিক তথ্য জানা জরুরি। বাসার ঠিকানা ও জিপ কোড অনুযায়ী স্কুল এবং ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে শিক্ষা বিভাগের অফিসিয়াল সেবা থেকে তথ্য নেওয়া যায়। স্কুলসংক্রান্ত তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথির অনুবাদের জন্যও শহরের পক্ষ থেকে ভাষা সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলা ভাষাতেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অনুবাদ ও ইন্টারপ্রেটার সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।   ৭. সিইউএনওয়াই অ্যাডাল্ট এডুকেশন ইংরেজি শেখা, জিইডি প্রস্তুতি এবং অন্যান্য প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক বা সিইউএনওয়াইয়ের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সুযোগ রয়েছে। কোন কোর্স ফ্রি এবং কারা অংশ নিতে পারবেন, তা সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পাস বা প্রোগ্রামের অফিসিয়াল তথ্য থেকে যাচাই করা উচিত। ৮. ফুড প্যান্ট্রি খাবারের খরচ সামলাতে সমস্যায় থাকা পরিবারগুলো ফুড প্যান্ট্রির সহায়তা নিতে পারে। কাছাকাছি কোথায় খাবার বিতরণ করা হয়, সে তথ্য ৩১১সহ বিভিন্ন কমিউনিটি রিসোর্সের মাধ্যমে জানা যায়। হালাল খাবারের প্রয়োজন হলে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ফুড প্যান্ট্রিতে ফোন করে সে সুবিধা রয়েছে কি না নিশ্চিত করা ভালো। ৯. লিগ্যাল এইড ও সিটিজেনশিপ সহায়তা ইমিগ্রেশন ও সিটিজেনশিপ সংক্রান্ত সহায়তার জন্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি, সিইউএনওয়াই সিটিজেনশিপ নাও এবং অন্যান্য স্বীকৃত লিগ্যাল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তবে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা আইনজীবীর যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।   ১০. ফেয়ার ফেয়ার্স এনওয়াইসি কম আয়ের যোগ্য নিউ ইয়র্ক সিটি বাসিন্দারা ফেয়ার ফেয়ার্স এনওয়াইসি কর্মসূচির মাধ্যমে সাবওয়ে ও নির্দিষ্ট বাস ভাড়ায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পেতে পারেন। অ্যাক্সেস-এ-রাইডের ক্ষেত্রেও ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুবিধা রয়েছে। যোগ্যতা আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যাসহ নির্দিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করে। আবেদন করার আগে সরকারি যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা নিশ্চিত করা উচিত।   নতুন প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো সরকারি বা কমিউনিটি সেবা নেওয়ার আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা। আপনার জিপ কোড উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সেবার নাম দিয়ে অনলাইনে খোঁজার পাশাপাশি নিউ ইয়র্ক সিটির সরকারি প্ল্যাটফর্ম ও ৩১১ সেবা ব্যবহার করলে সঠিক তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। সরকারি সুবিধার যোগ্যতা ও নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ শর্ত দেখে নেওয়াই নিরাপদ।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৫:২৮
ইউসুফ হাসান আলিফ (২৭)
"আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে" মৃত্যুর আগে স্পেনপ্রবাসী আলিফ

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে একটি বাইসাইকেল গ্যারেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ইউসুফ হাসান আলিফ (২৭) নামে এক বাংলাদেশি তরুণ নিহত হয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় আরগানসুয়েলা এলাকার একটি গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে কাজের অনুমতি পেয়েছিলেন আলিফ।    গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার উত্তরগাঁও এলাকার আব্দুল মোতালিব ও রহিমা খাতুনের ছেলে আলিফ ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় গত জুনে স্পেনে যান। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে অগ্নিকাণ্ডের দুই দিন আগে তিনি ওয়ার্ক পারমিট পান। এরপর ফুড ডেলিভারি রাইডার হিসেবে নতুন করে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।  রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটের দিকে ফুড ডেলিভারির কাজে ব্যবহৃত সাইকেল নিতে মাদ্রিদের পালোস দে লা ফ্রন্তেরা এলাকার কাইয়ে ক্যানারিয়াস সড়কের একটি বাইসাইকেল গ্যারেজে যান আলিফ। সেখানে থাকা একটি ইলেকট্রিক বাইসাইকেলের ব্যাটারি বিস্ফোরণের পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।  আগুনের সঙ্গে গ্যারেজের ভেতর ঘন ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে আলিফসহ তার দুই সহকর্মী আটকা পড়েন। মৃত্যুর আগে সহকর্মীদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তিনি আকুতি জানিয়েছিলেন, “আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে।”    খবর পেয়ে মাদ্রিদ সিটি কাউন্সিলের ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে গ্যারেজে জমে থাকা গ্যাস বের করে দেওয়া হয় এবং নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সেখানে থাকা অন্যান্য ইলেকট্রিক বাইসাইকেল সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে আলিফকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  অগ্নিকাণ্ডে আহত আলিফের দুই সহকর্মীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ইলেকট্রিক বাইসাইকেলের ব্যাটারি বিস্ফোরণ অথবা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।    আলিফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্পেনের বাংলাদেশি কমিউনিটি ও গাজীপুরের কালীগঞ্জে শোক নেমে এসেছে। তাঁর মরদেহ বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র: ঢাকা পোস্ট

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৫:১০
জ্যোতিষীর আয় বছরে ৩ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা
জ্যোতিষীর আয় বছরে ৩ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বছরে দেখেন শুধু ১ হাজার ক্লায়েন্ট!

দিল্লির এক জ্যোতিষী বছরে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টটিতে বলা হয়েছে, ওই জ্যোতিষী বছরে তিনটি ৩০ মিনিটের পরামর্শ সেশনের জন্য একজন ক্লায়েন্টের কাছ থেকে ২৫ হাজার রুপি নেন এবং তাঁর প্রায় এক হাজার ক্লায়েন্ট রয়েছে। তবে আয়ের এই হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।    দাবিটি ৩০ আগস্ট এক্সে প্রকাশ করেন নীতু খান্ডেলওয়াল। তিনি জানান, এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ওই জ্যোতিষীর বিষয়ে তথ্য পেয়েছেন। ওই আত্মীয় সম্প্রতি তাঁর পরামর্শ নেওয়া শুরু করেছেন এবং তাঁকেও একই সেবা নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছেন বলে জানান নীতু।   পোস্টে বলা হয়, প্রায় এক হাজার মানুষ বর্তমানে ওই জ্যোতিষীর সঙ্গে যুক্ত এবং এই সংখ্যা বাড়ছে। বছরে ২৫ হাজার রুপি করে এক হাজার ক্লায়েন্ট থাকলে মোট আয় দাঁড়ায় ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি। তিনটি সেশন হিসেবে হিসাব করলে প্রতিটি ৩০ মিনিটের পরামর্শের খরচ পড়ে প্রায় ৮ হাজার ৩৩৩ রুপি।    এই হিসাবই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ কেউ জ্যোতিষচর্চার চেয়ে এর ব্যবসায়িক দিক নিয়েই বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন। অনেকে মন্তব্য করেছেন, এত বড় ক্লায়েন্টভিত্তি থাকলে ব্যক্তিগত পরামর্শের ব্যবসা থেকেই বড় অঙ্কের আয় করা সম্ভব।   তবে ২ কোটি ৫০ লাখ রুপির অঙ্কটি প্রকৃত আয় নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ফি ও ক্লায়েন্ট সংখ্যার ভিত্তিতে করা একটি হিসাব। ক্লায়েন্টদের সবাই পুরো বার্ষিক ফি দেন কি না, কিংবা ওই জ্যোতিষীর প্রকৃত আয় ও খরচ কত, সে বিষয়ে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।   এদিকে পোস্টটি ঘিরে অনলাইনে জ্যোতিষশাস্ত্রের পাশাপাশি এর ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়েও নানা মন্তব্য এসেছে। কেউ কেউ রসিকতা করে বলেছেন, ওই জ্যোতিষী হয়তো তারার চেয়ে ‘বাজার’টাই ভালো পড়তে পেরেছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৪:৪৮
প্রসবের ভয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছিলেন নারী
প্রসবের ভয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছিলেন নারী, ৪৬ বছর পর পেটে মিলল ‘পাথরের শিশু’

মরক্কোর জাহরা আবুতালিবের ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে লিথোপেডিয়নের অন্যতম আলোচিত উদাহরণ। ১৯৫৫ সালে গর্ভাবস্থার শেষ দিকে প্রসববেদনা শুরু হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলেও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনের কথা শুনে এবং সেখানে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা দেখে তিনি হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। পরবর্তী সময়ে প্রসববেদনা থেমে যায়, কিন্তু গর্ভের ভ্রূণ আর জন্ম নেয়নি।    প্রায় ৪৬ বছর পর, ২০০১ সালে বৃদ্ধ বয়সে জাহরার তীব্র পেটব্যথা শুরু হলে চিকিৎসকের কাছে যান তিনি। পরীক্ষায় প্রথমে পেটের ভেতরের শক্ত অংশটিকে টিউমার বলে ধারণা করা হলেও স্ক্যানের পর চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন, সেখানে কয়েক দশক ধরে একটি মৃত ও ক্যালসিয়াম জমে শক্ত হয়ে যাওয়া ভ্রূণ রয়েছে। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা হয়।    চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল অবস্থাকে বলা হয় ‘লিথোপেডিয়ন’। শব্দটির অর্থ ‘পাথরের শিশু’। সাধারণত এটি পেটের ভেতরে হওয়া এক ধরনের একটোপিক বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে। ভ্রূণটি মারা যাওয়ার পর শরীর সেটিকে শোষণ করতে না পারলে সময়ের সঙ্গে তার চারপাশে ক্যালসিয়াম জমে শক্ত আবরণ তৈরি হতে পারে।    লিথোপেডিয়ন অত্যন্ত বিরল একটি চিকিৎসাবস্থা। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন ঘটনা সাধারণত আল্ট্রাসাউন্ড, এক্স-রে বা অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি বহু বছর পর্যন্ত শরীরে অবস্থান করলেও উপসর্গ স্পষ্ট না হওয়ায় পরে অন্য কোনো কারণে পরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়ে।    জাহরার ঘটনাটি পরে চিকিৎসাবিষয়ক বিভিন্ন লেখায় আলোচিত হয় এবং লিথোপেডিয়নের সবচেয়ে পরিচিত নথিবদ্ধ ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের ঘটনাকে স্বাভাবিক গর্ভধারণের দীর্ঘস্থায়ী রূপ হিসেবে দেখা ঠিক নয়; এটি মূলত বিরল ও জটিল একটোপিক গর্ভধারণের পরিণতি।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৪:৪০
ছবি: এআই দ্বারা নির্মিত
কলকাতার মুসলিম কলোনিতে মাসজুড়ে পানি বন্ধ, পাশের হিন্দু এলাকায় স্বাভাবিক

ভারতের কলকাতার কাশীপুর এলাকার জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় এক মাস ধরে পানির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কলকাতা পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এই এলাকায় প্রায় ৫০০ পরিবার বসবাস করে। স্থানীয়ভাবে ‘মোল্লা পাড়া’ বা ‘মুসলিম কলোনি’ নামে পরিচিত এলাকাটির অধিকাংশ বাসিন্দা মুসলিম। পানির সংকটের কারণে বাসিন্দাদের অনেকে বাধ্য হয়ে দৈনন্দিন কাজের জন্য হুগলি নদীর ঘাটের পানি ব্যবহার করছেন।    বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত ২৭ জুলাই কলকাতা পুরসভার কর্মীরা এলাকায় পানির পাইপলাইন মেরামতের কাজ শুরু করেন। ২৯ জুলাই পর্যন্ত কাজ চলার পর ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাঁচটি রাস্তার কল থেকে পানি আসা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।    পানির অভাবে অনেক পরিবারকে দূর থেকে পানি কিনে আনতে হচ্ছে। কেউ কেউ হুগলি নদীর ঘাটে গিয়ে গোসল, কাপড় ধোয়া ও অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নদীর ঘাটে যেতে গিয়ে শিশু ও সাঁতার না জানা ব্যক্তিদের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। কাদামাটির সিঁড়িতে পিছলে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।   নদীর পানি ব্যবহারের পর কয়েকজন শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলেও স্থানীয়দের দাবি। জ্বর, মাথাব্যথা ও ত্বকের সমস্যার কথা জানিয়েছেন কয়েকটি পরিবার। তবে এসব অসুস্থতার সঙ্গে নদীর পানি ব্যবহারের সরাসরি চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক সম্পর্ক স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।   বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, তাদের এলাকার কলগুলোতে পানি না থাকলেও একই সড়কের আশপাশের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে পানি সরবরাহ চালু রয়েছে। এ কারণে পানি বন্ধের পেছনে বৈষম্যের অভিযোগও তুলেছেন তারা।    এদিকে পানি সরবরাহ বন্ধের সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির একটি নির্বাচনী বক্তব্যের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের দাবি, নির্বাচনের পর তিওয়ারি মুসলিম ভোটারদের নিয়ে এমন মন্তব্য করেছিলেন যে যারা তাকে ভোট দেয়নি, তাদের জন্য আগামী পাঁচ বছর তিনি কাজ করবেন না। তবে পানি সরবরাহ বন্ধের সঙ্গে ওই বক্তব্যের সরাসরি সম্পর্কের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।    তিওয়ারি অবশ্য বিষয়টিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জ্যোতিনগরের বাসিন্দাদের ওই এলাকায় বসবাসের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং জায়গাটি কলকাতা পোর্টের বলে দাবি করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এলাকাটি খালি করার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।    কলকাতা পুরসভা অবশ্য ইচ্ছাকৃতভাবে পানির লাইন কেটে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ১৯ আগস্ট পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই এলাকার পানির মূল লাইন কেটে দেওয়া হয়নি। দুটি কলের কারিগরি সমস্যা বা সংযোগের ত্রুটি থাকতে পারে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে।    পানির সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় বামপন্থী সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি কয়েক দিন পরপর পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই সাময়িক ব্যবস্থায় কয়েক হাজার মানুষের দৈনন্দিন পানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।    প্রায় ছয় দশক ধরে জ্যোতিনগর কলোনিতে মানুষ বসবাস করছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই পানির সংকটের কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়লেও, এখন পর্যন্ত পানি সরবরাহ বন্ধের নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে পুরসভা ও বাসিন্দাদের বক্তব্যে স্পষ্ট মিল পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৪:৮
ট্রাম্পের গলফ কোর্স প্রকল্পে কাটা হলো ওয়াশিংটন ডিসির শতবর্ষী জাপানি চেরি গাছ
ট্রাম্পের গলফ কোর্স প্রকল্পে কাটা হলো ওয়াশিংটন ডিসির শতবর্ষী জাপানি চেরি গাছ

ওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহাসিক ইস্ট পোটোম্যাক পার্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গলফ কোর্স সংস্কার প্রকল্পকে ঘিরে গাছ কাটার ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে সেখানে ৬০টির বেশি গাছ কাটা হয়েছে বলে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে জাপানের উপহার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা শতবর্ষী চেরি গাছও রয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।    ওয়াশিংটন ডিসির হেইন্স পয়েন্ট এলাকার ইস্ট পোটোম্যাক গলফ লিংকসে ব্লু কোর্সের ১৪তম হোলের কাছে একটি চেরি গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি প্রথম নজরে আনে পার্ক সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা একটি পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী। গাছটি জাপান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ঐতিহাসিক চেরি গাছগুলোর একটি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে জাপান ১৯১০ সালের দিকে ওয়াশিংটন ডিসিতে হাজার হাজার চেরি গাছ পাঠিয়েছিল। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ইস্ট পোটোম্যাক এলাকার পুরোনো ইয়োশিনো চেরি গাছগুলোর কিছু ১৯১৩ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে সেখানে লাগানো হয়েছিল। এসব গাছের ঐতিহাসিক গুরুত্ব দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃত।  দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ৬০টির বেশি গাছ কাটা হয়েছে। বেশির ভাগ গাছ পার্কের সীমানা ও পার্কিং এলাকার আশপাশে থাকলেও গলফ কোর্সের খেলার অংশ থেকেও কিছু গাছ সরানো হয়েছে। এর মধ্যে চেরি গাছটির পাশাপাশি দুটি বড় সাইকামোর গাছও রয়েছে।    তবে গাছ কাটার ঘটনাটি সরাসরি ট্রাম্পের গলফ কোর্স সংস্কার প্রকল্পের অংশ কি না, তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর বলছে, এগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ, আক্রমণাত্মক প্রজাতির এবং মৃত বা এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গাছ, যেগুলো আর চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করা সম্ভব নয়, সেগুলো বাছাই করে সরানো হচ্ছে।    অন্যদিকে, পার্ক সংরক্ষণবাদীরা গাছ কাটার সময় ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইস্ট পোটোম্যাক গলফ কোর্সকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়ে এরই মধ্যে আদালতে মামলা চলছে। মামলায় পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সংরক্ষণসংক্রান্ত আইনসহ পার্কের ব্যবহার নিয়ে ফেডারেল আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২৮ জুন বলেছিলেন, ঐতিহাসিক এই পাবলিক গলফ ফ্যাসিলিটির সংস্কারকাজ ১ সেপ্টেম্বর শুরু হবে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বর্তমান তিনটি কোর্সের পরিবর্তে একটি ১৮ হোলের চ্যাম্পিয়নশিপ কোর্স তৈরির কথা রয়েছে। এতে বর্তমানে গলফের বাইরে ব্যবহৃত পার্কের কিছু এলাকাও প্রকল্পের আওতায় আসতে পারে বলে আদালতের নথি ও প্রকাশিত পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    তবে এখনো চূড়ান্ত নকশা, নির্মাণ ব্যয় বা পূর্ণাঙ্গ নির্মাণসূচি প্রকাশ করা হয়নি। প্রকল্প শুরুর আগে পরিবেশগত ও ঐতিহাসিক সংরক্ষণসংক্রান্ত পর্যালোচনা এবং ন্যাশনাল ক্যাপিটাল প্ল্যানিং কমিশনের অনুমোদনের মতো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে।    ফলে শতবর্ষী চেরি গাছসহ সাম্প্রতিক গাছ কাটার ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠলেও, ট্রাম্পের গলফ কোর্স সম্প্রসারণের জন্য সব গাছ কাটা হচ্ছে এমন দাবি এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তত সাম্প্রতিক কাটার একটি অংশ নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণেই করা হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৩:৫৯
ঈদ উৎসব উদযাপনে বন্ধ থাকতে পারে স্কুল!
ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন বিল, ঈদ উৎসব উদযাপনে বন্ধ থাকতে পারে স্কুল!

ক্যালিফোর্নিয়ায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার একটি বিল চূড়ান্ত অনুমোদনের দিকে এগোচ্ছে। অ্যাসেম্বলি বিল ২০১৭ ইতোমধ্যে স্টেট অ্যাসেম্বলিতে ৬৪-১ ভোটে পাস হয়েছে। এখন স্টেট সিনেটের অনুমোদন পেলেই বিলটি গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হতে পারে।   ডেমোক্র্যাট অ্যাসেম্বলিম্যান ম্যাট হ্যানির প্রস্তাব করা বিলটিতে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পাবলিক স্কুল ও কমিউনিটি কলেজগুলোকে এসব দিনে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে স্কুল বন্ধের বিষয়টি কর্মীদের সঙ্গে চুক্তির ওপর নির্ভর করবে।    বিলটি আইনে পরিণত হলে স্টেট কর্মীরাও বিদ্যমান পেইড হলিডে ক্রেডিট ব্যবহার করে ঈদ পালনের জন্য ছুটি নিতে পারবেন। ঈদ উপলক্ষে স্কুলে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের জন্যও ছুটির বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ থাকবে।    গত ২৬ মে ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাসেম্বলিতে ৬৪-১ ভোটে বিলটি পাস হয়। মুসলিম শিক্ষার্থী ও কর্মীদের ধর্মীয় উৎসব পালনে সমান সুযোগ দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বলে সমর্থকেরা বলছেন। বিলটির অন্যতম উদ্যোক্তা ম্যাট হ্যানে বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে ঈদ পালন ও স্কুলে উপস্থিত থাকার মধ্যে একটি বেছে নিতে হওয়া উচিত নয়।    তবে বিলটির কিছু বিধান নিয়ে আপত্তি তুলেছে ক্যালিফোর্নিয়া ফ্যামিলি কাউন্সিল নামের একটি রক্ষণশীল খ্রিস্টান সংগঠন। সংগঠনটির অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ার আইনে পাবলিক স্কুলগুলোকে ক্রিসমাস, ইস্টার বা গুড ফ্রাইডে উদযাপনের জন্য একই ধরনের বিশেষ বিধান দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে স্কুলে ঈদ উপলক্ষে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে পাঠ বা উদযাপনের সুযোগ দেওয়া নিয়ে তারা ধর্মীয় নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলেছে।    সমর্থকেরা অবশ্য বলছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার মুসলিম পরিবারগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় এই স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যে আনুমানিক পাঁচ লাখ মুসলিম বাস করেন বলে বিলটির সমর্থকেরা উল্লেখ করেছেন।    ঈদুল ফিতর রমজান মাসের শেষে পালিত হয়। আর ঈদুল আজহা হজের সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং প্রতিবছর ইসলামিক চান্দ্র পঞ্জিকা অনুযায়ী এর তারিখ পরিবর্তিত হয়।   বিলটি এখন ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট সিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আইনসভা অধিবেশন সোমবার শেষ হওয়ার আগে সিনেটে পাস হলে এরপর এটি গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের কাছে যাবে। গভর্নর স্বাক্ষর করলে ক্যালিফোর্নিয়ার আইনে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি যুক্ত হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৩:৪৭
কোমার ঝুঁকিতে থাইরয়েড ক্যানসারজয়ী নারী
আইসিই হেফাজতে ওষুধ বন্ধ, কোমার ঝুঁকিতে থাইরয়েড ক্যানসারজয়ী নারী

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে আইসিই হেফাজতে থাকা ৩৩ বছর বয়সী বেলারুশের নাগরিক কাতসিয়ারিনা বার্তকোর চিকিৎসা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি অস্ত্রোপচারে অপসারণের পর গত ১১ বছর ধরে নিয়মিত হরমোন ও ক্যালসিয়াম ওষুধের ওপর নির্ভরশীল এই নারীকে ওষুধ সরবরাহে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, তার হরমোনের মাত্রা মারাত্মকভাবে অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে এবং চিকিৎসকরা মিক্সিডিমা কোমার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন।   বার্তকোকে গত জুনে ফ্লোরিডা থেকে কানসাসের লিভেনওয়ার্থে আইসিইর একটি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। তার আগে ৬ থেকে ৯ জুনের মধ্যে মাত্র চার দিনে তাকে তিনবার হাসপাতালে নিতে হয়েছিল। একটি জরুরি বিভাগে তাকে তীব্র শারীরিক সংকটে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং শিরায় ক্যালসিয়াম দেওয়া হয়।   বার্তকোর পার্টনার দিমিত্রি শিশভের অভিযোগ, কানসাসের ডিটেনশন সেন্টারে যাওয়ার পর তার প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহে একাধিকবার সমস্যা হয়। চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, ২৩ জুন তার লেভোথাইরক্সিন ওষুধটি নিয়ে নেওয়া হয় এবং ১০ জুলাই পর্যন্ত সেটি তাকে নিয়মিত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।   ওষুধ বন্ধ থাকার কয়েক দিনের মধ্যেই বার্তকো চিকিৎসাকর্মীদের কাছে বুকের নিচে তীব্র ব্যথা, মাথা ঘোরা ও ঝাপসা দেখার কথা জানান। ২৬ জুনের একটি মেডিকেল ফর্মে এসব উপসর্গের কথা লিখলেও নিচে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসাকর্মী উল্লেখ করেন, এ সময় কোনো চিকিৎসা হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেই এবং তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন।   ২ জুলাইয়ের একটি মেডিকেল নোটে বলা হয়, বার্তকো লেভোথাইরক্সিনে অ্যালার্জির কথা জানিয়েছেন। তবে ফিজিশিয়ান  ফর হিউম্যান রাইটস -এর চিকিৎসক সারাহ রাজা আদালতে দেওয়া নথিতে প্রশ্ন তোলেন, ওই নোটে বার্তকোর স্বাক্ষর নেই এবং তার দীর্ঘদিনের চিকিৎসা নথিতে লেভোথাইরক্সিন ও ক্যালসিয়াম নিয়মিত ব্যবহারের তথ্য রয়েছে।   এর মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির ইঙ্গিত মিলেছে রক্ত পরীক্ষায়। ১১ আগস্টের পরীক্ষায় তার TSH মাত্রা ১৪৮ দশমিক ৭৭ mIU/L পাওয়া যায়, যেখানে স্বাভাবিক মাত্রার সর্বোচ্চ সীমা প্রায় ৪ দশমিক ৫। চিকিৎসক সারাহ রাজা এই ফলকে গুরুতর হরমোন ঘাটতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।   রাজা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসা ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বার্তকোর মিক্সিডিমা কোমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আমেরিকান থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, মিক্সিডিমা কোমায় পৌঁছানো রোগীদের মৃত্যুহার ২৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে বার্তকো বর্তমানে কোমায় রয়েছেন এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   কানসাসে স্থানান্তরের পর দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে তাকে কোনো এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা অন্য কোনো বাইরের বিশেষজ্ঞ দেখেননি বলে ফেডারেল কোর্টে জমা দেওয়া নথিতে আইসিই স্বীকার করেছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিটেনশন সেন্টারের মেডিকেল স্টাফ তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং অফসাইট বিশেষজ্ঞের পরামর্শকে জরুরি নয়, বরং রুটিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।   আইসিই ও ডিটেনশন সেন্টার পরিচালনাকারী কোর সার্ভিক বার্তকো যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে। তবে তার আইনজীবী ও পার্টনার চিকিৎসা নথির ভিত্তিতে এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন।   বার্তকোর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শুরু হয় ২০২২ সালের মার্চে এফ -১ স্টুডেন্ট ভিসায়। বেলারুশে ২০২০ সালের সরকারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর এবং ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতি বেলারুশের সমর্থনের প্রকাশ্য বিরোধিতা করার কারণে তিনি দেশটি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বলে তার পার্টনার জানিয়েছেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি অ্যাসাইলামের জন্য আবেদন করেন।   এর আগে গত ৫ মে মিয়ামিতে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বিরোধের ঘটনায় তাকে মিসডিমিনর ব্যাটারি অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে ২ জুন ফ্লোরিডার স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয় মামলাটি আর এগোয়নি এবং তার বিরুদ্ধে কোনো দণ্ড হয়নি। এরপর মেয়াদোত্তীর্ণ স্টুডেন্ট ভিসা সংক্রান্ত অভিবাসন বিষয়কে কেন্দ্র করে আইসিই তাকে হেফাজতে নেয়।   ২২ জুলাই একজন ইমিগ্রেশন জাজ বার্তকোর বন্ড আবেদন নাকচ করেন এবং তাকে ফ্লাইট রিস্ক হিসেবে বিবেচনা করেন। একই সময়ে তিনি অন্যদের জন্য হুমকি নন বলে বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছিল বলে তার পক্ষের বক্তব্য।   এদিকে বার্তকোর চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে ফেডারেল আদালতে নতুন আইনি লড়াইও শুরু হয়েছে। আগস্টে তিনি হেবিয়াস কর্পাস আবেদন করে চিকিৎসা নিশ্চিত করা অথবা তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।   বর্তমানে লিভেনওয়ার্থের ডিটেনশন সেন্টারেই রয়েছেন বার্তকো। তার অ্যাসাইলাম শুনানি ২৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত রয়েছে। তার পার্টনার দিমিত্রি শিশভের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহতভাবে ব্যাহত হলে তার শারীরিক অবস্থা আরও গুরুতর হতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৩:১৪
১৩ বছর বয়সেই এআই দিয়ে অ্যাপ বানিয়ে তিন দিনে আয় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা
১৩ বছর বয়সেই এআই দিয়ে অ্যাপ বানিয়ে তিন দিনে আয় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা

চীনের সাংহাইয়ের ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী ঝু শুহান কোনো প্রোগ্রামিং অভিজ্ঞতা ছাড়াই এআইয়ের সহায়তায় একটি অ্যাপ তৈরি করে মাত্র তিন দিনে ১৮ হাজার ইউয়ান আয় করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থ প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। হাংজৌতে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের একটি এআই পণ্য বিপণন প্রতিযোগিতায় অ্যাপটি প্রায় ৯০টি অর্ডার পায় এবং শুহান তৃতীয় স্থান অর্জন করে।    শুহান সাংহাইয়ের একটি জুনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। প্রায় এক বছর আগে সে এআই ব্যবহার শুরু করে। গত ২১ থেকে ২৩ আগস্ট হাংজৌতে অনুষ্ঠিত মার্কেটিং হ্যাকাথনে ৫০টির বেশি দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতাটির বিশেষত্ব ছিল, প্রচলিত অর্থে কোনো প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের বিচার বা স্কোরিংয়ের বদলে বাস্তব গ্রাহকরা পণ্য কিনছেন কি না, সেটিকেই সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি ধরা হয়।  শুহানের তৈরি অ্যাপটির নাম ‘জাইচ্যাং’। ইংরেজিতে যার অর্থ ‘অন সাইট’। এটি মূলত শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করার জন্য তৈরি একটি ভার্চুয়াল স্টাডি কম্প্যানিয়ন।   অ্যাপটিতে কোনো অভিভাবক নিজের ছবি আপলোড করলে সেটি ব্যবহার করে একটি ভার্চুয়াল অভিভাবক তৈরি করা যায়। এরপর শিশু বাড়ির কাজ করার সময় ক্যামেরার মাধ্যমে তার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে অ্যাপটি। শিশু পড়াশোনার বদলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে কিংবা পড়ার জায়গা ছেড়ে উঠে গেলে ভার্চুয়াল অভিভাবক কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে তাকে সতর্ক করে। পড়াশোনার সময় শেষ হলে অ্যাপটি শিশুর মনোযোগের মাত্রা নিয়ে একটি রিপোর্টও তৈরি করে।    অ্যাপটির ধারণা শুহান পেয়েছে নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই। তার বাবা-মা কাজে ব্যস্ত থাকায় পড়ার সময় সবসময় তার পাশে থাকতে পারতেন না। ফলে বাড়ির কাজ করার সময় তার মনোযোগ অন্যদিকে চলে যেত, এমনকি কখনো কখনো লুকিয়ে মোবাইল ফোনও ব্যবহার করত সে। একই ধরনের সমস্যায় তার অনেক সহপাঠীও পড়ে বলে জানিয়েছে শুহান।   এই অভিজ্ঞতা থেকেই শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে পড়াশোনার সময় পাশে থাকার মতো একটি ডিজিটাল অভিভাবক তৈরির চিন্তা আসে তার মাথায়।   শুহানের প্রোগ্রামিং জ্ঞান খুবই সীমিত। অ্যাপ তৈরির সময় সে নিজের ভাষায় এআইকে তার ধারণা ও প্রয়োজন বোঝায়। এরপর এআইয়ের সহায়তায় প্রয়োজনীয় কোড তৈরি করে সে। ধারণা থেকে অ্যাপটির মূল কার্যক্রম দাঁড় করাতে তার তিন থেকে চার দিন সময় লাগে।    শুহান শুরুতে অ্যাপটিতে ‘মা রেগে যাচ্ছে’ ধরনের একটি ফিচার রাখার পরিকল্পনা করেছিল। কোনো শিশু বারবার পড়াশোনায় মনোযোগ হারালে অভিভাবককে বিষয়টি জানানোর কথা ছিল এই ফিচারের মাধ্যমে। পরে সেটি বাদ দেয় শুহান। তার ভাষ্য, শিশুদের নিয়ে নালিশ করার মতো কোনো ব্যবস্থা সে চায়নি। বরং অ্যাপটি যেন কোমলভাবে শিশুদের মনে করিয়ে দেয় এবং নিজেদের ভুল বুঝে সংশোধনের সুযোগ দেয়, সেটিই ছিল তার লক্ষ্য।   শুহানের ছোট ভাইও অ্যাপটির প্রাথমিক ব্যবহারকারীদের একজন। তার দাবি, অ্যাপটি ব্যবহার শুরু করার পর ভাই পড়াশোনায় আগের চেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করেছে। এই অভিজ্ঞতা তাকে অ্যাপটি আরও উন্নত করার উৎসাহ দিয়েছে।   প্রতিযোগিতায় শুহানের অ্যাপটি প্রায় ৯০টি অর্ডার পায় এবং ১৮ হাজার ইউয়ান আয় করে। এর ফলে সে তৃতীয় স্থান অর্জন করে এবং পুরস্কার হিসেবে আরও ৫ হাজার ইউয়ান পায়।    এখন অ্যাপটির আরও উন্নয়ন এবং কম দামে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে শুহান। তার লক্ষ্য শুধু প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া নয়, বাস্তবে অভিভাবকদের কাজে লাগে এমন একটি পণ্য তৈরি করা।   শুহানের এই ঘটনা চীনে এআইয়ের মাধ্যমে তরুণদের প্রযুক্তি পণ্য তৈরির নতুন সম্ভাবনার দিকটি সামনে এনেছে। প্রোগ্রামিংয়ের প্রচলিত দক্ষতা ছাড়াই নিজের ধারণাকে এআইয়ের সাহায্যে একটি ব্যবহারযোগ্য পণ্যে রূপ দেওয়ার এই উদাহরণ প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে প্রবেশের বাধা কতটা কমে আসছে, সেটিও দেখাচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৩:২
বিয়ের দাওয়াত ভেবে গেলেন পার্টি সেন্টারে
বিয়ের দাওয়াত ভেবে গেলেন পার্টি সেন্টারে, গিয়ে দেখলেন নিজেরই বিয়ে!

মেক্সিকোর মিচোয়াকান অঙ্গরাজ্যে ১৯৯২ সালে ঘটে যাওয়া এক অদ্ভুত বিয়ের গল্পের পুরোনো ছবি কয়েক দশক পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, বিয়ের পোশাকের বদলে সাধারণ পোলো শার্ট ও জিনস পরেই নিজের বিয়েতে হাজির হয়েছিলেন হেক্টর মোরালেস।   পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে ছড়িয়ে পড়া গল্প অনুযায়ী, হেক্টর ভেবেছিলেন তিনি একটি সাধারণ পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন। তাই পরেছিলেন ডোরাকাটা পোলো শার্ট ও জিনস। বিয়ের অনুষ্ঠানের সঙ্গে মানানসই কোনো পোশাকই ছিল না তার।   কিন্তু সেখানে পৌঁছে হেক্টর দেখেন, প্রায় ১৫০ অতিথি আনুষ্ঠানিক পোশাকে উপস্থিত। অনুষ্ঠানে ছিলেন একজন পুরোহিত, ছিল মারিয়াচি ব্যান্ডও। সবচেয়ে বড় চমক ছিল, সেখানে তার প্রেমিকা লুপিতাও অপেক্ষা করছিলেন তাকে বিয়ে করার জন্য।   হেক্টরকে নাকি আগে জানানোই হয়নি যে ওই আয়োজনের আসল উদ্দেশ্য ছিল তার বিয়ে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি আপত্তি না করে লুপিতাকে সেখানেই বিয়ে করেন। আর পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই তার পরনে ছিল সেই পোলো শার্ট ও জিনস।   পুরোনো ছবিতে দেখা যায়, আনুষ্ঠানিক পোশাকে থাকা নববধূ লুপিতার পাশে সাধারণ পোশাকে দাঁড়িয়ে আছেন হেক্টর। পরে বিয়ের কেক কাটার ছবিতেও একই পোশাকে দেখা যায় তাকে।   বিয়ের কয়েক দশক পর সেই ছবিগুলো আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়। অন্য অনেক বিয়ের ছবি সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয়ে গেলেও হেক্টরের অপ্রস্তুত পোশাকের সেই ছবিগুলো বরং সময় পেরিয়ে আরও মজার স্মৃতি হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ২:২১
সিটি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিকে জানাতে হবে ডাইভারসিটি ও আইসিই-সংযোগের তথ্য
শিকাগোতে নতুন নিয়ম, সিটি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিকে জানাতে হবে ডাইভারসিটি ও আইসিই-সংযোগের তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে সরকারি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিগুলোকে এখন তাদের নেতৃত্বে ডাইভারসিটির তথ্য এবং আইসিইসহ বিভিন্ন সরকারি বা আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন ২৬ আগস্ট নতুন নির্বাহী আদেশে এসব নিয়ম চালু করেন।   নতুন নীতির আওতায় সিটি কন্ট্রাক্টর ও সাবকন্ট্রাক্টরদের নিজেদের কর্মী ও নেতৃত্বের ডাইভারসিটি সম্পর্কিত তথ্য জানাতে হবে। বিশেষ করে বড় কোম্পানিগুলোকে তাদের করপোরেট নেতৃত্ব ও পরিচালনা পর্ষদের গঠন এবং ডাইভারসিটি বাড়াতে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।   একই সঙ্গে কোনো কোম্পানি গত পাঁচ বছরে আইসিই বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নির্দিষ্ট অঙ্কের ব্যবসা করেছে কি না, সেটিও প্রকাশ করতে হবে। সরকারি কন্ট্রাক্টের সঙ্গে সম্পর্কিত নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক বা বৈষম্যের অভিযোগের তথ্যও প্রকাশের আওতায় থাকবে।   মেয়র জনসন বলেছেন, কর্মক্ষেত্রের তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে বৈষম্য শনাক্ত করা সহজ হবে। তার ভাষায়, শিকাগোর সঙ্গে ব্যবসা করতে চাইলে কোম্পানির নেতৃত্ব শহরের যেসব মানুষের করের অর্থে ওই কন্ট্রাক্ট দেওয়া হচ্ছে, তাদের ডাইভারসিটিকে কতটা প্রতিফলিত করে তা জানা প্রয়োজন।   নতুন নির্বাহী আদেশে শুধু ডাইভারসিটির তথ্য নয়, কোম্পানির ব্যবসায়িক আচরণ নিয়েও কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, মজুরি চুরি বা নির্দিষ্ট ধরনের ‘পাবলিক ইন্টিগ্রিটি ভায়োলেশন’-এ জড়িত থাকলে সেটি সিটি কন্ট্রাক্টের জন্য অযোগ্য হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।   এ জন্য ১২ সদস্যের একটি Ethical Procurement Standards Task Force গঠনের কথাও বলা হয়েছে। শহরের প্রধান procurement কর্মকর্তা আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়মগুলোর বিস্তারিত বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করবেন।   শিকাগোর এই পদক্ষেপের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জনসন প্রশাসন এমন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারি অর্থের সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে চাইছে, যেগুলো ফেডারেল সরকারের অভিবাসন অভিযান বা ডিপোর্টেশন কার্যক্রমে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত।   তবে নতুন নিয়মের অর্থ এই নয় যে কোনো কোম্পানির আইসিইর সঙ্গে কন্ট্রাক্ট থাকলেই তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিকাগোর ব্যবসা থেকে বাদ পড়বে। বরং কোম্পানিগুলোর সম্পর্ক ও কর্মকাণ্ড প্রকাশের পর সিটি কর্তৃপক্ষ সেগুলো মূল্যায়ন করবে।   শিকাগো সিটি ক্লার্কের রেকর্ড অনুযায়ী, জনসনের এই নির্বাহী আদেশের নাম Executive Order 2026-6 এবং এটি ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষর করা হয়। আদেশটির লক্ষ্য হিসেবে করদাতা ও স্থানীয় কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষা এবং সিটি কন্ট্রাক্টে নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।   এই সিদ্ধান্তের ফলে শিকাগোর সরকারি অর্থ কোন কোম্পানির কাছে যাচ্ছে এবং সেই কোম্পানিগুলো অন্য সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কী ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখছে, সে বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ২:১৬