গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৪৪৯, ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ আরও হাজারো
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৪৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় আরও নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে নয়জনের মরদেহ পৌঁছেছে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর আহত ফিলিস্তিনির মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭২ জনে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের নিচে এবং বিভিন্ন সড়কে আরও বহু মানুষ আটকে রয়েছেন। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। তাদের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলি হামলা বা অন্যান্য লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৩১৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৩৬১ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে গাজায় নিখোঁজ ও জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনি নিখোঁজ ও জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেন্দ্রের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে গাজায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষ জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। সংগঠনটি ৩১৭টি নথিভুক্ত ঘটনা বিশ্লেষণ করে এই অনুমান করেছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, বিশ্লেষণ করা ৩১৭টি ঘটনার মধ্যে ৩০২টি ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তি ছিলেন পুরুষ এবং ১৫টি ঘটনায় ছিলেন নারী। এসব ঘটনার মধ্যে ৪১ জন শিশু এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী ১৭ জন মানুষও ছিলেন। গাজা শহরে নথিভুক্ত ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি ৮৯টি। এরপর উত্তর গাজায় ৭৪টি, খান ইউনিসে ৫৯টি, মধ্য গাজায় ৩৭টি এবং রাফাহতে ৩২টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাগুলোর মধ্যে ৭৬টি ঘটেছে বাড়িতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বা কোনো এলাকার অবরোধের সময়। আরও ৬০টি ঘটনা ঘটেছে বাড়িতে ফেরার চেষ্টা বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহের সময়। বাস্তুচ্যুতি কিংবা সামরিক তল্লাশিচৌকি অতিক্রমের সময় ৪২টি এবং খাবার খোঁজা বা মানবিক সহায়তা পাওয়ার অপেক্ষায় ৩৯টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া চিকিৎসাকেন্দ্র অবরোধ বা দখল এবং রোগী স্থানান্তরের সঙ্গে ২২টি ঘটনা যুক্ত ছিল। সাংবাদিক বা মাঠপর্যায়ে কাজ করা ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কিত ১০টি ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটি আলাদাভাবে জানিয়েছে, ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মানুষ চাপা পড়ে নিখোঁজ থাকতে পারেন। তবে এসব ঘটনাকে জোরপূর্বক গুমের ঘটনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি।
নিখোঁজ ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে এর আগে ফিলিস্তিনের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ১১ হাজার ২০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে নিখোঁজ বা জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জনের বেশি নারী ও শিশু ছিলেন।
ফিলিস্তিনি নিখোঁজ ও জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেন্দ্র নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পেতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটিকে প্রবেশাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। অভিযোগ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘ সংঘাতের কারণে গাজাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। যুদ্ধের ফলে গাজার বেসামরিক অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে।
সূত্র: ডেইলি সাবাহ
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreপাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’ একতরফাভাবে স্থগিত করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই জানিয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপে স্থগিতাদেশ জারি করেছেন দ্য হেগের স্থায়ী সালিশি আদালত। আন্তর্জাতিক আদালতের সর্বসম্মত এই ঐতিহাসিক রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি এখনও পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। ফলে ভারত কোনো অজুহাত দেখিয়ে এই চুক্তি বাতিল বা স্থগিত করতে পারবে না। আদালত বিরোধপূর্ণ হিমালয় অঞ্চলের কাশ্মীর অংশে ভারতের দুটি বিতর্কিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ সীমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। প্রকল্পগুলোর নকশা ও কার্যক্রম আন্তর্জাতিক চুক্তির শর্ত মেনে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা বিশ্বব্যাংক কর্তৃক মনোনীত একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ২০২৭ সালের জুলাই মাসের মধ্যে চূড়ান্তভাবে পর্যালোচনা করবেন। উল্লেখ্য যে, গত বছর কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর এক মর্মান্তিক হামলার ঘটনার পর প্রতিবেশীকে দায়ী করে ভারত একতরফাভাবে এই পানি চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। তবে পাকিস্তান প্রথম থেকেই ভারতের এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছিল। দ্য হেগের আদালতের সাম্প্রতিক রায়কে স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে তাদের আইনি ও সুনির্দিষ্ট অবস্থানের নৈতিক জয় হিসেবে ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায়কে সম্পূর্ণ অবৈধ ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে এবং আদালতের এই আদেশ মানতে তারা বাধ্য নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যার এই যুগে সিন্ধু অববাহিকার পানি বণ্টন নিয়ে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের নতুন এই মুখোমুখি অবস্থান গোটা অঞ্চলের কৃষি ও সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে।
গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৪৪৯, ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ আরও হাজারো
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ৩৯ দেশের অন্তত ৫৯০ বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ
ভারতে ইসলামের প্রশংসা, হজ পালনের ইচ্ছা জানিয়ে বিতর্কে মন্ত্রী
ভারতের কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলায় মদ্যপ অবস্থায় খাবারে বেশি মুরগি নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার জেরে বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৩ আগস্ট মুদালগি তালুকের হুনাশিয়াল পিজি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম সতিরাম চন্দ্রদেব। তিনি উত্তর প্রদেশের পিলিভিত জেলার কবিরগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। অভিযুক্ত অরুণকুমার বালিশ্তার চভানও একই গ্রামের বাসিন্দা। তারা দুজনই হুনাশিয়াল পিজি গ্রামের একটি স্টিল কারখানায় কাজ করতেন। পুলিশের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ঘটনার সময় চার থেকে পাঁচজন শ্রমিক তাদের থাকার শেডে বসে মুরগির মাংস খাওয়ার পাশাপাশি মদ পান করছিলেন। একপর্যায়ে সতিরাম ও অরুণকুমারের মধ্যে কে কতটুকু মুরগি নিয়েছেন, তা নিয়ে তর্ক শুরু হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অরুণকুমার সতিরামের বিরুদ্ধে বেশি মুরগি নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি তীব্র হলে পাশে থাকা একটি ছুরি দিয়ে অরুণকুমার সতিরামের বুকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ। গুরুতর রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই সতিরামের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর হত্যার বিষয়টি আড়াল করতে অরুণকুমার সতিরামের মরদেহ গোকাক সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। সেখানে তিনি সতিরাম ওয়েল্ডিংয়ের সময় পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে চিকিৎসকরা বুকের গভীরে ছুরিকাঘাতের মতো আঘাত দেখতে পান। বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, সতিরামের মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনাজনিত পড়ে যাওয়ার কারণে হয়নি। এরপর ঘাটপ্রভা পুলিশ অরুণকুমারকে গ্রেপ্তার করে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা ছুরিটিও জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বন্যার ধ্বংসস্তূপে ছোট বোনকে আগলে ভাই, নেপালের দৃশ্য মনে করাল ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’
রাশিয়ায় যুদ্ধে যাওয়ার আগে সৈনিকদের বিয়ে, ক্ষতিপূরণ পেতে ‘ব্ল্যাক উইডো’ চক্র
যুক্তরাজ্যের সাসেক্সের হাসপাতালে শিশুমৃত্যু, ১ হাজারের বেশি ঘটনা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিশন
লারাক দ্বীপে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত আইআরজিসির একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ‘পানিশমেন্ট অব দ্য অ্যাগ্রেসর’ বা ‘আগ্রাসীর শাস্তি’ নামের এই বিশেষ সামরিক অভিযানে মিসাইল ও ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে বলা হয়, এই সফল অভিযানের মাধ্যমে জর্ডানের কিং হুসেইন এবং আল আজরাক ঘাঁটিতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় শত্রুপক্ষের প্রযুক্তিগত ও মেরামত অবকাঠামোর পাশাপাশি যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক মাত্রায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার যে মরিয়া চেষ্টা শত্রুরা করছে, আগ্রাসন ও অপরাধ দিয়ে তার কোনো সমাধান হবে না। তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের ওপর শত্রুদের করা প্রতিটি হামলার আরও ধ্বংসাত্মক ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
ট্রাম্পের নির্দেশে গুগল ম্যাপে ‘লেক অন্টারিও’র নাম বদলে রাখা হলো ‘লেক আমেরিকা’
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মোকাবিলায় মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক খামেনির