- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার একটি বাড়ি, যা ইতোমধ্যে একাধিক নারী নিখোঁজের ঘটনায় 'হাউস অব হররস' বা আতঙ্কের বাড়ি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, সেখান থেকে এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার একটি রোমহর্ষক ভিডিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারী সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রেমন্ড 'আরসি' হর্স নামের প্রয়াত এক পর্নোগ্রাফারের মালিকানাধীন বাড়ি থেকে জব্দ করা একটি হার্ড ড্রাইভে এই 'স্ন্যাফ মুভি' (বাস্তব হত্যার দৃশ্য সংবলিত ভিডিও) পাওয়া গেছে। ভিডিওটিতে রেমন্ডকে তার ওই বাড়িতে এক নারীকে শ্বাসরোধ করতে দেখা যায়। নিহত ওই নারীর পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও পুলিশ তার এক আত্মীয়কে বিষয়টি অবহিত করেছে। তবে, এই বাড়িটির সাথে সংশ্লিষ্ট যে পাঁচজন নিখোঁজ নারীর নাম উঠে এসেছে, তাদের কারও দেহাংশ এখন পর্যন্ত সেখানে পাওয়া যায়নি। রেমন্ড হর্স তার ছেলে ইউজিন হর্সের (৪৪) সাথে ফিলাডেলফিয়ার ওলনি এলাকার এই বাড়িতে থাকতেন। ২০২৫ সালের মে মাসে ৮২ বছর বয়সে রেমন্ড মারা যান। গত জুনে ইউজিনকে তার এক নারী সঙ্গীসহ গ্রেপ্তার করার পরই মূলত এই বাড়ির বীভৎস সব ইতিহাস সামনে আসতে শুরু করে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছে মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, একটি ভুয়া ডিইএ ব্যাজ এবং ব্লেয়ার টনজেল্লি নামক ২০২৩ সাল থেকে নিখোঁজ এক নারীর পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। এরপর পুলিশ ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি ভস্মীভূত দেহাবশেষের পাত্র (আর্ন), ২০টির বেশি রাসায়নিক পদার্থ ভর্তি কনটেইনার এবং অন্তত ৫০টি হার্ড ড্রাইভ জব্দ করে। এসব হার্ড ড্রাইভে সিরিয়াল কিলার ও লাশ গুমের বর্ণনা লেখা প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার পাণ্ডুলিপি, ৬ লাখ ছবি এবং ৭০ হাজারেরও বেশি ভিডিও পাওয়া যায়, যার মধ্যে এই স্ন্যাফ মুভিটিও ছিল। পুলিশের ধারণা, এই বিপুল ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে নিখোঁজ ওই পাঁচ নারীর মধ্যে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। গত আগস্ট মাসে পুলিশ নিশ্চিত করেছিল যে, হার্ড ড্রাইভে মারিবেল ফ্রেসেস (২০১৮ সাল থেকে নিখোঁজ) এবং গ্যাব্রিয়েল আমারান্দো (২০১২ সাল থেকে নিখোঁজ) নামের দুই নারীর মৃতদেহ ও তাদের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য পাওয়া গেছে। রেমন্ড হর্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি শহরের মাদকাসক্ত ও দুর্বল নারীদের ফাঁদে ফেলে বাড়িতে আনতেন এবং সিরিয়াল কিলারের মতো তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ধারণ করতেন। প্রাক্তন এফবিআই প্রোফাইলার জেমস আর. ফিটজেরাল্ড জানিয়েছেন, রেমন্ডের প্রাক্তন স্ত্রী অ্যামি ম্যাকহেলও ২০১৬ সাল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ছেলে ইউজিনের বিরুদ্ধে বর্তমানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ভুয়া পরিচয়পত্রের ফেডারেল মামলা চললেও, বাবা বা ছেলে কারও বিরুদ্ধেই এখন পর্যন্ত সরাসরি হত্যার কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার তীব্র বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেই একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে নিজেদের ম্যাপে 'লেক অন্টারিও'-এর নাম পরিবর্তন করে 'লেক আমেরিকা' করেছে গুগল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পরপরই শনিবার গুগল এই পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর ফলে এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীরা ম্যাপে এই বিশাল জলাশয়টিকে 'লেক আমেরিকা' হিসেবে দেখতে পাবেন। তবে কানাডায় অবস্থানরত ব্যবহারকারীদের জন্য পুরনো নাম 'লেক অন্টারিও'-ই বহাল থাকছে। অন্যদিকে, এই দুই দেশের বাইরের ব্যবহারকারীরা উভয় নামই দেখতে পাবেন, যেখানে 'লেক আমেরিকা' নামটিকে ব্র্যাকেটের ভেতর প্রদর্শন করা হবে। গুগল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশে ভিন্ন নামে পরিচিত জলাশয়গুলোর ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘদিনের নীতি এবং মার্কিন সরকারি নাম নিবন্ধনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই পরিবর্তন কার্যকর করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের মিত্র এই দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি বাণিজ্য নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত সপ্তাহে কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও আগামী মাসে মার্কিন পণ্যের ওপর সমপরিমাণ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মূলত কানাডার অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের সাথে বাগযুদ্ধে জড়ানোর পর ট্রাম্প এই লেকের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। নির্দেশ অনুযায়ী, মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বারগাম 'জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেম'-এ (জিএনআইএস) নাম হালনাগাদ করার কাজ শুরু করেন। হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর স্টিভেন চেউং এক্সে এই পরিবর্তনকে উদ্যাপন করলেও নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুল স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক কখনোই এই জলাশয়কে নতুন নামে ডাকবে না। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বর্তমান মেয়াদের শুরুতে একইভাবে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে 'গালফ অব আমেরিকা' রেখেছিলেন। কানাডাকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, কানাডা দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে আসছে, যা এখন বন্ধ হতে যাচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কানাডা একটি পূর্ণাঙ্গ অঙ্গরাজ্যের মতো আচরণ চাইলেও তারা আসলে তা নয়। অন্যান্য দেশের নেতাদের সাথে কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, তার দেখা সবচেয়ে বাজে নেতৃত্ব হলো কানাডার। গুগল ম্যাপে এই নতুন নাম যুক্ত হওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিলেও, অন্যান্য দেশ মার্কিন এই একতরফা নামকরণের স্বীকৃতি দিতে বাধ্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস) তাদের 'থার্ড কান্ট্রি' বা তৃতীয় দেশে বিতাড়ন কর্মসূচির আওতা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করেছে। সিবিএস নিউজের হাতে আসা মার্কিন সরকারের কিছু অভ্যন্তরীণ নথি থেকে জানা গেছে, মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে আফগানিস্তান, কিউবা, নিকারাগুয়াসহ অন্যান্য দেশের ১০০ জনের বেশি অভিবাসীকে আফ্রিকা মহাদেশের আটটি দেশে বিতাড়িত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আইসের তিনটি ফ্লাইটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত এসব নারী-পুরুষকে বুরুন্ডি, ক্যামেরুন, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, নিরক্ষীয় গিনি, এসওয়াতিনি, লাইবেরিয়া, রুয়ান্ডা এবং সিয়েরা লিওনে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিতাড়িত এই অভিবাসীদের কেউই সেসব দেশের নাগরিক নন। গত দেড় সপ্তাহে আফগান, কিউবান ও নিকারাগুয়ানদের পাশাপাশি ইরান, নেপাল, তুরস্ক এবং ভেনেজুয়েলার নাগরিকদেরও আফ্রিকার দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে। মার্কিন সরকারের এই অভ্যন্তরীণ নথিগুলো প্রকাশ্যে আসার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির একটি ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে। নিজ দেশের সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও চুক্তির মাধ্যমে অভিবাসীদের সম্পূর্ণ অপরিচিত ও দূরবর্তী দেশে নির্বাসিত করার এই অভিযান ক্রমশ জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। লাতিন আমেরিকার কোস্টারিকা, পানামা ও প্যারাগুয়েসহ বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ ধরনের অভিবাসীদের গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে। তবে বর্তমানে আফ্রিকার অনেক দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে এই চুক্তিতে জড়াচ্ছে, যার মধ্যে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং দক্ষিণ সুদানের মতো সশস্ত্র সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনে জর্জরিত দেশগুলোও রয়েছে। ঘানা ও সিয়েরা লিওনের মতো দেশগুলো কেবল আফ্রিকার অন্যান্য স্থানের অভিবাসীদের গ্রহণ করলেও এসওয়াতিনি, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক এবং লাইবেরিয়ার মতো দেশগুলো লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়া থেকে আসা বন্দীদেরও গ্রহণ করছে। আফ্রিকায় বিতাড়িত এসব অভিবাসীর মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও অনেকেই কেবল অবৈধভাবে প্রবেশ বা বৈধ নথিপত্রের অভাবের কারণে আইসের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সর্বশেষ ফ্লাইটে সিয়েরা লিওন এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে বন্দীদের নামানো হয়। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও রুশ ভাড়াটে যোদ্ধাদের উপস্থিতির কারণে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক দেশ হিসেবে পরিচিত, যেখানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের 'লেভেল ফোর' সতর্কতা জারি রয়েছে। এদিকে, এ বিষয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, যদি কোনো অবৈধ অভিবাসী নিজ দেশে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আদালতে আবেদন করে, তবে আইন অনুযায়ী তাদের জন্য একটি নিরাপদ দেশের ব্যবস্থা করতে হয়। অন্যদিকে তারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরতে চাইলে তাদের বিনা মূল্যে ফ্লাইট এবং ৩ হাজার ডলারের চেক দেওয়া হয়। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে বিতাড়িত হওয়া এক ২৪ বছর বয়সী আফগান যুবকের ঘটনা এই নীতির ভয়াবহ দিকটি ফুটিয়ে তুলেছে। খলিল নামের ওই যুবকের পরিবার আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর হয়ে কাজ করেছিল এবং সে নিজেও মার্কিন অভিবাসন আদালতে আইনি সুরক্ষা পেয়েছিল। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন তাকে তৃতীয় এই দেশে বিতাড়িত করেছে। মার্কিন মেরিন কর্নেল জাচারি শ্মিডট, যিনি খলিলের ভাইয়ের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন, তিনি খলিলের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শ্মিডট জানান, খলিলকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হলে তালেবানরা তাকে হত্যা করবে। খলিলের আইনজীবী আলমা ডেভিডের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী শরণার্থী সুরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার শামিল।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসাধারী বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নির্ভরশীল জীবনসঙ্গীদের (এইচ-৪ ভিসা) ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতি বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই প্রস্তাবনা কার্যকর হলে দেশটিতে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে, যা বহু প্রবাসী পরিবারের কর্মজীবন ও আর্থিক আয়ের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের 'অফিস অব ইনফরমেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স'-এর ওয়েবসাইটে (Reginfo.gov) সম্প্রতি প্রস্তাবিত এই বিধিটি প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের আমলে চালু হওয়া একটি নিয়মকে বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে এইচ-৪ ভিসাধারীরা কাজের অনুমতি বা 'এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট' (ইএডি) পেয়ে আসছিলেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এইচ-১বি ভিসা থাকা কর্মীর গ্রিন কার্ডের আবেদন (ফর্ম আই-১৪০) অনুমোদিত হলে কিংবা গ্রিন কার্ড ব্যাকলগের কারণে ভিসার মেয়াদ ছয় বছরের বেশি বাড়ানো হলে, তাদের এইচ-৪ ভিসাধারী স্বামী বা স্ত্রী কাজের অনুমতির আবেদন করতে পারেন। নতুন প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অর্থায়নসহ বিভিন্ন পেশাগত খাতে কর্মরত হাজার হাজার দক্ষ এইচ-৪ ভিসাধারী তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হারাবেন। বিশেষ করে যারা বছরের পর বছর ধরে কর্মসংস্থান-ভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং পরিবারের ব্যয় নির্বাহে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ওপর এটি সরাসরি নেতিবাচক আর্থিক চাপ তৈরি করবে। এই প্রস্তাবের সমর্থকরা দাবি করছেন, এইচ-৪ ক্যাটাগরির ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হলে প্রায় ৬ লাখ কর্মসংস্থান স্থানীয় আমেরিকান কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কেবলই একটি প্রাথমিক অনুমান এবং চূড়ান্ত নীতিমালার ওপর ভিত্তি করেই এর প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হবে। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর হয়নি এবং বর্তমান কার্ডধারীদের কাজের অনুমতি অবিলম্বে বাতিল হচ্ছে না। যেকোনো প্রশাসনিক প্রস্তাব চূড়ান্ত বিধিতে রূপ নেওয়ার আগে ফেডারেল প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জনসাধারণের মতামত গ্রহণ ও পর্যালোচনার প্রয়োজন হয়। ফলে প্রশাসন থেকে চূড়ান্ত কোনো আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান এইচ-৪ ইএডি কার্ডধারীরা তাঁদের নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী আগের নিয়মেই কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। অভিবাসন নীতিমালা কঠোর করার সামগ্রিক কৌশলের অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার ইরান সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তাঁর নতুন এক বার্তায় এই আহ্বান জানানো হয়। খামেনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান যেকোনো বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংকটের একমাত্র সমাধান হলো মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য, বন্ধুত্ব এবং কল্যাণের পথে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। মোজতবা খামেনির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই বার্তায় আরও বলা হয়, যারা জেনে বা না জেনে, ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে এবং ইসলামি সমাজে সংঘাত উসকে দিচ্ছে, তারা মূলত ইসলামের শত্রুদেরই উদ্দেশ্য পূরণ করছে। আঞ্চলিক শাসকদের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত করে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রকৃত শত্রুকে নিখুঁতভাবে চিনতে হবে এবং তাদের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র বুঝে সে অনুযায়ী মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে। আঞ্চলিক উত্তেজনার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঐক্যের ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছেন খামেনি। ইরানের সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিকদের ভেতরের সব ধরনের মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সামাজিক সংহতি বিনষ্টকারী যেকোনো কাজকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে তিনি মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানো এবং দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। উল্লেখ্য, বিগত দিনগুলোতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার জেরে ওই দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কের কিছুটা অবনতি ঘটেছিল। কয়েক মাসের মার্কিন নৌ অবরোধ এবং বছরের পর বছর ধরে চলা কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতি বর্তমানে ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে, যেখান থেকে উত্তরণে এই ঐক্যের ডাক দিয়েছেন খামেনি।
নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ বন্যার তাণ্ডবের পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে টানা তিন দিন পর ছয় বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি ভোতে কোশি নদীর পানি উপচে জেলার তিমুরে গ্রামে আকস্মিক ও ভয়ংকর বন্যা দেখা দেয়। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় কাদামাটি ও আবর্জনার নিচ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) সদস্যরা। উদ্ধারকাজ পরিচালনার সময় মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান তারা। এরপর দ্রুত ও সতর্কতার সঙ্গে খননকাজ চালিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটিকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। অলৌকিক এই উদ্ধারের ভিডিওটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে নেটিজেনরা উদ্ধারকর্মীদের অসীম সাহসিকতার ব্যাপক প্রশংসা করছেন। উদ্ধারের পর জানা যায়, সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে ফেরা এই শিশুটির নাম মানিশা মাগার। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ তার পরিবার ও স্বজনদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধারের পরপরই তিমুরেতে এপিএফের সীমান্ত চৌকিতে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডু নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। খারাপ আবহাওয়া ও দৃষ্টিসীমা কম থাকায় সেদিন তা সম্ভব হয়নি। পরদিন শনিবার দুপুরে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলে হেলিকপ্টারে করে শিশুটিকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। এদিকে, ভয়াবহ এই বন্যায় নেপালজুড়ে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত বন্যার ছোবলে ৭৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ। দেশজুড়ে উদ্ধারকাজ এখনও পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দেশের সার্বিক পুনর্গঠন ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। উদ্ভূত এই বিশাল মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
সৌদি আরবের তায়েফ শহরে কামরুল জামান নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) ভোরে তায়েফের হাওয়াইয়া এলাকায় এক সৌদি তরুণের বন্দুক হামলায় প্রাণ হারান তিনি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর ওই হামলাকারী নিজেও নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহত কামরুল জামানের দেশের বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে। ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে স্থানীয় একটি সুপার মার্কেটে নিজের রাতের ডিউটি শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন কামরুল। পথিমধ্যে হঠাৎ অস্ত্র হাতে ওই সৌদি তরুণ তার দিকে তেড়ে আসে। আকস্মিক এই হামলায় প্রাণ বাঁচাতে কামরুল দৌড়ে পুনরায় তার কর্মস্থল সেই সুপার মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় সেখানে কর্মরত অন্য দুই কর্মী পরিস্থিতি বুঝতে পেরে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি কামরুলের। হামলাকারী পিছু নিয়ে তাকে তাড়া করে সুপার মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর খুব কাছ থেকে পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালিয়ে কামরুলের মৃত্যু নিশ্চিত করে সে। নিরীহ এই প্রবাসীকে হত্যার পরপরই ঘাতক ওই তরুণ নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে সেখানেই আত্মহনন করে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পূর্বশত্রুতার জেরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং হামলাকারীর আত্মহত্যার পেছনের রহস্য কী, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের পাশাপাশি গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টোর এক বাসিন্দা কলেজ ভর্তিতে এশিয়ানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগে করা নাগরিক অধিকারের মামলায় বড় এক আইনি জয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি এক ফেডারেল বিচারক মামলাটির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। ন্যান ঝং এবং তার ছেলে স্ট্যানলি ঝং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান এবং কর্নেল ইউনিভার্সিটির মতো অভিজাত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছিলেন। তাদের অভিযোগ, এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বর্ণবাদী ভর্তি প্রক্রিয়ার চর্চা করে, যা অত্যন্ত যোগ্য এশিয়ান-আমেরিকান আবেদনকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে করা মামলাটির কিছু অংশ খারিজের আবেদন আংশিক নাকচ করে দিয়েছেন বিচারক জেমস এল. রবার্ট। ২১ বছর বয়সী স্ট্যানলি ঝং গত বছর সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন। কারণ, দুর্দান্ত একাডেমিক রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও আবেদন করা ১৮টি কলেজের মধ্যে ১৬টি থেকেই তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। ২০২৩ সালে গান হাই স্কুল থেকে স্নাতক করা স্ট্যানলি স্যাট (SAT) পরীক্ষায় ১৬০০-এর মধ্যে ১৫৯০ পেয়েছিলেন। তার জিপিএ ছিল ৪.৪২ এবং একটি ফ্রি ই-সাইনিং স্টার্টআপ চালু করে তিনি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের নজরও কেড়েছিলেন। এতগুলো নামিদামি কলেজ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরপরই প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল তাকে পূর্ণকালীন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিয়োগ দেয়। অথচ এই পদের জন্য সাধারণত পিএইচডি বা সমমানের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। জানা যায়, মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকেই কোডিং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গুগলের নজরে ছিলেন এই তরুণ। আদালতের এই যুগান্তকারী রায়ের বিষয়ে বাবা ন্যান ঝং ফক্স নিউজকে বলেন, "এটি আমাদের জন্য একটি দারুণ খবর। বিচারক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের খারিজের আবেদন নাকচ করে মূলত আমাদের পক্ষেই রায় দিয়েছেন।" এই রায়ের ফলে এখন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নথি, ইমেইল যোগাযোগ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—ভর্তির ডেটা পর্যালোচনার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সন্তুষ্ট যে আদালত মামলার কিছু অংশ খারিজ করেছে। তারা আরও জানায়, ওয়াশিংটনের ফ্ল্যাগশিপ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তারা ভর্তির ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের বেশি অগ্রাধিকার দেয় বলেই বাইরের রাজ্যের বেশিরভাগ আবেদনকারী সুযোগ পান না। স্ট্যানলি ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড এবং ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস-অস্টিনে ভর্তির সুযোগ পেলেও তা বাদ দিয়ে ২০২৩ সালের শরতে গুগলের চাকরিতেই যোগ দেন। এই দীর্ঘ আইনি লড়াই নিয়ে ন্যান ঝং বলেন, "এই গল্পটি শুধু আমার ছেলের বা আমাদের পরিবারের চেয়েও অনেক বড়।" তার মতে, সাম্প্রতিক কিছু আইনি নজির থাকা সত্ত্বেও কলেজ ভর্তিতে এশিয়ান-বিরোধী বৈষম্য এখনো একটি পদ্ধতিগত সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। তিনি জানান, তাদের এই লড়াই প্রকাশ্যে আসার পর সারা দেশ থেকে আরও অনেক এশিয়ান-আমেরিকান পরিবার একই ধরনের বঞ্চনার গল্প শেয়ার করে তাদের সাথে যোগাযোগ করেছে। আগামী প্রজন্মের জন্য এই বৈষম্য দূর করতেই আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় এই পরিবার।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি পরিবার নতুন বাসায় উঠলেও রান্নাঘরে থাকা ডিশওয়াশার নিয়মিত ব্যবহার করেন না। দিনের পর দিন হাতে থালা-বাসন ধোয়ার অভ্যাসের কারণে অনেকের কাছেই ডিশওয়াশার এখনো প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সরঞ্জামের চেয়ে অতিরিক্ত একটি যন্ত্র হিসেবেই থেকে গেছে। অথচ সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ডিশওয়াশার দৈনন্দিন জীবনে সময়, শ্রম ও পানি ব্যবহারের পরিমাণ কমাতে পারে। বিশেষ করে কর্মজীবী পরিবারে রান্না, খাওয়া এবং এরপর একের পর এক প্লেট, বাটি, গ্লাস ও রান্নার বাসন পরিষ্কার করতে গিয়ে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সময় চলে যায়। ডিশওয়াশারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বাসনগুলো একসঙ্গে মেশিনে রেখে দেওয়া যায় এবং মেশিন নিজেই নির্দিষ্ট ধাপে সেগুলো পরিষ্কার ও শুকানোর কাজ সম্পন্ন করে। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের সেন্টার ফর সাসটেইনেবল সিস্টেমসের গবেষণায় হাতে বাসন ধোয়া এবং মেশিনে ডিশওয়াশিংয়ের তুলনা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত হাতে বাসন ধোয়ার পদ্ধতিতে একজন ব্যবহারকারীর সরাসরি সময় অনেক বেশি লাগে। বিপরীতে মেশিন ডিশওয়াশারে ব্যবহারকারীর সরাসরি কাজের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গবেষণাটি আরও দেখিয়েছে, প্রচলিত হাতে বাসন ধোয়ার তুলনায় সঠিকভাবে ব্যবহার করা ডিশওয়াশার পানি ও পরিবেশগত প্রভাব কমাতেও সুবিধা দিতে পারে। তবে ডিশওয়াশার ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি। ডিশওয়াশার থাকলেই প্রতিটি সাইকেলে বাসন জীবাণুমুক্ত হয়ে যাবে, এমন নয়। মডেলভেদে তাপমাত্রা ও স্যানিটাইজিং সুবিধা আলাদা হতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, স্যানিটাইজিং সাইকেল থাকা ডিশওয়াশার ব্যবহার করা যেতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে উচ্চ তাপমাত্রার পানি ও হিটেড ড্রাইং জীবাণু কমাতে সহায়তা করে। তাই নিজের ডিশওয়াশারের ম্যানুয়াল দেখে উপযুক্ত সাইকেল ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। হাতে বাসন ধোয়া মানেই যে বাসন অপরিষ্কার থাকে, সেটিও ঠিক নয়। সঠিকভাবে সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করলে সাধারণত বেশিরভাগ জীবাণু ও ময়লা দূর করা সম্ভব। তবে হাতে ধোয়ার ক্ষেত্রে পানির তাপমাত্রা, ধোয়ার পদ্ধতি, সময় এবং বাসন পুরোপুরি শুকানোর বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। ডিশওয়াশারের স্যানিটাইজিং ও হিটেড ড্রাইং সুবিধা থাকলে নির্দিষ্ট ধরনের বাসনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জীবাণু কমাতে তা কাজে আসতে পারে। বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য ডিশওয়াশার ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি করার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো এটিকে প্রতিদিনের রুটিনের অংশ করে নেওয়া। খাবার শেষ হওয়ার পর প্লেট বা বাসনে থাকা খাবারের অবশিষ্টাংশ সরিয়ে বাসনগুলো ডিশওয়াশারে সাজিয়ে রাখা যায়। প্রতিটি প্লেট আলাদা করে কলের পানিতে দীর্ঘ সময় ধরে ধুয়ে নেওয়ার প্রয়োজন সাধারণত নেই। অতিরিক্ত প্রি-রিন্সিং করলে বরং পানি ও সময়ের ব্যবহার বাড়তে পারে। দিনের শেষে ডিশওয়াশার পূর্ণ হলে রাতের খাবারের পর সেটি চালিয়ে দেওয়া যেতে পারে। অনেক পরিবারের জন্য রাতের সময়টি সুবিধাজনক, কারণ তখন দিনের সব বাসন একসঙ্গে মেশিনে দিয়ে সাইকেল চালানো যায়। সকালে উঠে পরিষ্কার ও শুকনো বাসন বের করে আবার ব্যবহার করা সম্ভব। যারা রাতে ডিশওয়াশার চালাতে চান না, তারা দিনের এমন একটি সময়ে এটি চালাতে পারেন যখন কয়েক ঘণ্টা পরিষ্কার বাসনের প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ প্রতিবার খাওয়ার পর হাতে বাসন ধোয়ার পরিবর্তে পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে একবার বা প্রয়োজনমতো পূর্ণ লোডে ডিশওয়াশার চালানোর অভ্যাস করা যায়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডিশওয়াশারে সাধারণ হাত ধোয়ার ডিশ সোপ ব্যবহার করা যাবে না। এর জন্য আলাদা ডিশওয়াশার ডিটারজেন্ট, পড, ট্যাবলেট বা পাউডার পাওয়া যায়। এগুলো সাধারণত বড় সুপারমার্কেটসহ বিভিন্ন দোকানে সহজেই পাওয়া যায়। ডিশওয়াশারের প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক ধরনের ডিটারজেন্ট ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ডিশওয়াশার অনেক পরিবারের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত হাতে বাসন ধোয়ার পদ্ধতিতে পানি ব্যবহারের পরিমাণ মেশিন ডিশওয়াশারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে। বিশেষ করে বাসন ধোয়ার সময় কলের পানি দীর্ঘক্ষণ চালু রাখলে পানির অপচয় আরও বাড়ে। তবে ডিশওয়াশার ব্যবহার করলেও কিছু নিয়ম মানতে হবে। মেশিন অতিরিক্ত বোঝাই করা যাবে না, বাসন এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে পানি ও ডিটারজেন্ট প্রতিটি জায়গায় পৌঁছাতে পারে এবং ডিশওয়াশার নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। কোন ধরনের প্লেট, প্যান বা রান্নার বাসন ডিশওয়াশারে দেওয়া যাবে, সেটিও প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় সময় বাঁচানো এখন পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন মানুষকে প্রতিদিন রান্না, খাবার পরিবেশন এবং খাবারের পর পরিষ্কার করার কাজ করতে হয়। সেখানে প্রতিবার হাতে দাঁড়িয়ে বাসন পরিষ্কার করার পরিবর্তে ডিশওয়াশার ব্যবহার করলে সেই সময়ের একটি অংশ অন্য প্রয়োজনীয় কাজে দেওয়া সম্ভব। বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তাই ডিশওয়াশারকে শুধু বিলাসিতা হিসেবে দেখার পরিবর্তে একটি ব্যবহারিক গৃহস্থালি সরঞ্জাম হিসেবে দেখার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যেসব বাসায় ডিশওয়াশার আগে থেকেই রয়েছে কিন্তু নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না, তাদের জন্য যন্ত্রটির সঠিক ব্যবহার শেখা হতে পারে দৈনন্দিন কাজ সহজ করার একটি কার্যকর উপায়। সবশেষে, ডিশওয়াশার ব্যবহার মানেই হাতে বাসন ধোয়া সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে এমন নয়। কিছু বিশেষ ধরনের বাসন হাতে ধোয়া প্রয়োজন হতে পারে এবং সব বাসন ডিশওয়াশার-সেইফ নয়। তবে যেসব বাসন নিরাপদে ডিশওয়াশারে পরিষ্কার করা যায়, সেগুলোর ক্ষেত্রে নিয়মিত মেশিন ব্যবহার করলে একটি পরিবারের প্রতিদিনের সময় ও শ্রমের চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
মহাকাশবিদ্যা এবং মহাজাগতিক নানা অজানা রহস্য উন্মোচনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে নাসার নতুন ফ্ল্যাগশিপ অবজারভেটরি ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’। প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই শক্তিশালী স্পেস টেলিস্কোপটি গত রোববার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটে চড়ে মহাশূন্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। ডার্ক এনার্জি এবং ডার্ক ম্যাটারের মতো মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলো অনুসন্ধানের পাশাপাশি বিশাল পরিসরে অভিকর্ষ বলের পরীক্ষা এবং সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কারের জন্য এই টেলিস্কোপটির নকশা করা হয়েছে। উৎক্ষেপণের আগে কিছুটা বৈরী আবহাওয়ার শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পরিষ্কার আকাশ ভেদ করে সফলভাবেই মহাকাশে পাড়ি জমায় এটি। পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ লাখ কিলোমিটার দূরে ‘ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ২’ নামক একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথের দিকে অগ্রসর হচ্ছে রোমান। প্রাথমিকভাবে এর মিশনকাল পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হলেও নাসার মতে, টেলিস্কোপটিতে আরও পাঁচ বছর চলার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে। ১৯৯০ সালে উৎক্ষেপিত হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এবং ২০২১ সালের জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সক্ষমতাকে ভিত্তি করেই রোমান তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। নাসার বিজ্ঞান মিশন অধিদপ্তরের প্রধান নিকোলা ফক্স জানান, হাবল এবং জেমস ওয়েব যেখানে মহাবিশ্বের দিকে অনেকটা চাবির ছিদ্র দিয়ে উঁকি দিয়েছে, সেখানে রোমান স্পেস টেলিস্কোপ আক্ষরিক অর্থেই পুরো দরজা ভেঙে ফেলবে। হাবল টেলিস্কোপের সমকক্ষ তীক্ষ্ণতা ও সংবেদনশীলতা থাকলেও রোমান অনেক দ্রুততার সঙ্গে বিস্তীর্ণ আকাশ পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প বিজ্ঞানী জুলি ম্যাকএনারির মতে, রোমান মাত্র এক মাসে আমাদের গ্যালাক্সির যে পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করতে পারবে, হাবল টেলিস্কোপের তা করতে প্রায় এক শতাব্দী সময় লেগে যেত। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ যেমন মহাবিশ্বের গভীরে অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অনুসন্ধান করতে পারে, তেমনি রোমানের ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল বা প্যানোরামিক ভিউ সেই গভীর পর্যবেক্ষণের পরিপূরক হিসেবে একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই টেলিস্কোপটি মহাবিশ্বের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তারিত ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করে ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটারের রহস্য সমাধানে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও হাজার হাজার নতুন এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কারের মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণায় নতুন এক দিগন্তের সূচনা করবে ন্যান্সি গ্রেস রোমান।
যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় নিজের ছবি প্রকাশ্যে এনেছেন ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের পরিবার এবং রাজনৈতিক সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিতেই তিনি এই ছবিগুলো শেয়ার করেছেন। প্রকাশিত এসব ছবিকে মাদুরো তাঁর পরিবার ও অনুসারীদের জন্য 'ভালোবাসা ও আশার ছোট উপহার' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মার্কিন হেফাজতে যাওয়ার পর তার এই ছবি ও বার্তা প্রকাশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। কারাবন্দী অবস্থাতেও নিজের সমর্থকদের মনোবল ধরে রাখতে এবং তাদের সাথে মানসিক সংযোগ বজায় রাখতেই তিনি এমন আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে জরুরি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট তাকে ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থানকালে তিনি ইরানের গুপ্তহত্যার শিকার হতে পারেন—এমন গুরুতর আশঙ্কার কারণেই তড়িঘড়ি করে এই সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েলি প্রশাসন। কয়েকদিন আগেই মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'নিউজম্যাক্স'-এর এক প্রতিবেদনে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ ফ্লোরিডায় অবস্থান করার সময় তিনি ইরানি গুপ্তঘাতকদের প্রধান নিশানায় পরিণত হয়েছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তার নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে তাকে ত্বরিতগতিতে দেশে ফেরানো হলো। অন্যদিকে, ইয়াইর নেতানিয়াহুর পিতা ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেও বর্তমানে মারাত্মক আন্তর্জাতিক আইনি চাপের মুখে রয়েছেন। ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের দায়ে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। একদিকে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, অন্যদিকে ছেলের ওপর সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার শঙ্কা—সব মিলিয়ে নেতানিয়াহু পরিবার এখন বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি মা ও তাঁর বড় মেয়ে নিহত হয়েছেন। গত শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বেথেসডায় ইন্টারস্টেট ২৭০ (আই-২৭০) হাইওয়েতে এই ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের তথ্যমতে, নিহতরা হলেন মুসাম্মাত শামীমা বেগম (৪৬) এবং তাঁর মেয়ে আরিবা জাহিন (২৩)। তাঁরা ভার্জিনিয়ার বার্ক এবং আলেকজান্দ্রিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এই দুর্ঘটনায় তাঁদের টয়োটা ক্যামরি গাড়ির চালকের আসনে থাকা শামীমা বেগমের স্বামী ফারুক (৬২) এবং তাঁদের আট বছর বয়সী ছোট মেয়ে গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় ভার্জিনিয়া কমিউনিটি জানিয়েছে, আহত বাবা ও মেয়ের অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ডেমোক্রেসি বুলেভার্ডের ঠিক দক্ষিণে হাইওয়ের দক্ষিণমুখী অংশে একটি ফোর্ড মুস্তাং গাড়ি ভুল পথে (উত্তর দিকে) তীব্র বেগে ছুটছিল। একপর্যায়ে সেটি বিপরীত দিক থেকে আসা বাংলাদেশি ওই পরিবারের গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীমা ও আরিবা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ ও প্রাথমিক তদন্তের জন্য হাইওয়েটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছিল। তদন্ত শেষে পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ঘাতক ফোর্ড মুস্তাং গাড়ির চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। অভিযুক্ত ওই চালককে শনাক্ত করা হয়েছে, যার নাম জোসে ক্যাবালেরো নোলাস্কো (৩২)। মন্টগোমেরি কাউন্টির জার্মেনটাউনের এই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে চরম অবহেলাজনিত জোড়া নরহত্যা এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানোর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে রকভিলের মন্টগোমেরি কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী রাখা হয়েছে। এদিকে, মৃত্যুর সঙ্গে লড়তে থাকা ফারুক ও তাঁর ছোট মেয়ের দ্রুত আরোগ্য কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছে শোকাচ্ছন্ন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি।
নিউইয়র্কে পরপর দুটি নৃশংস খুনের পর এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা এক দুর্ধর্ষ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) ব্রঙ্কসের একটি পার্ক থেকে ৩১ বছর বয়সী জেসুস অ্যাকোস্টা নামের ওই ঘাতককে আটক করে। জোড়া খুনের মতো ভয়ংকর অপরাধে হাতকড়া পরা অবস্থায় ব্রঙ্কস ক্রিমিনাল কোর্টে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে অদ্ভুত এক মন্তব্য করে সে। কোনো অনুশোচনা না দেখিয়ে সে বলে ওঠে, "ঈশ্বর মঙ্গলময়, ঈশ্বর মহান।" পুলিশ জানিয়েছে, নিছক ডাকাতির উদ্দেশ্যেই এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটিয়েছিল অ্যাকোস্টা। গত ২৩ আগস্ট ব্রুকলিনের একটি উইংস-রেস্তোরাঁয় ডাকাতি করতে গিয়ে এমডি ইউসুফ (৪৪) নামের এক কর্মীকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে সে। নিহত ইউসুফ অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন মানুষ এবং দুই সন্তানের জনক ছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ব্রঙ্কসের ১৪৯ নম্বর স্ট্রিটের একটি দোকানে আবারও সশস্ত্র ডাকাতি করে এই ঘাতক। সেখানে টেভন শুলার (৩৩) নামের এক ক্রেতাকে গুলি করে হত্যা করে সে। জেসুস অ্যাকোস্টা মূলত একজন দাগী অপরাধী। অনলাইনে প্রাপ্ত রেকর্ড অনুযায়ী, অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং হামলার অভিযোগে দীর্ঘ ১০ বছর কারাভোগের পর গত ২৩ এপ্রিল প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিল সে। প্যারোলে থাকা অবস্থাতেই সে পুনরায় এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটায়। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এফবিআই ২৫ হাজার ডলার এবং ছোট ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন 'ইউনাইটেড বোদেগাস অব আমেরিকা' আরও ১০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। অবশেষে শনিবার ব্রঙ্কসের ৪৩ নম্বর প্রিসিনক্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। থানা থেকে বের করার সময় সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেও, অপ্রত্যাশিতভাবে নিজের ওই অদ্ভুত কথাগুলো বলে ওঠে এই অপরাধী।
যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রচলিত সামরিক উপায়ে ইরানের নেতৃত্বকে উৎখাত করতে ব্যর্থ হয়, তবে শেষ পর্যন্ত দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পথে হাঁটতে পারে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সন্ত্রাসবিরোধী সাবেক উপদেষ্টা জো কেন্ট জনপ্রিয় পডকাস্টার টাকার কার্লসনের এক সাক্ষাৎকারে এমন ভয়াবহ আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন। গত শুক্রবার ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কেন্ট স্পষ্ট করেন, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের এই আশঙ্কাকে নিছক হুমকি হিসেবে না দেখে বাস্তব পরিস্থিতি হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত। তাঁর মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া চরম বোকামি হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত এপ্রিল মাসেই হুমকি দিয়েছিলেন, তেহরান যদি ওয়াশিংটনের দাবি মেনে না নেয়, তবে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’। পরবর্তীতে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন। জো কেন্টের মতে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ট্রাম্প প্রশাসন বারবার তাদের লক্ষ্য পরিবর্তন করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্দেশ্যই অর্জন করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রায় সবকিছু ব্যবহার করার পরও তারা এখন এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার সম্মানজনক পথ খুঁজতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। কেন্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওয়াশিংটন যদি এখনো ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে সরিয়ে দেশটিকে পুরোপুরি আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চায়, তবে ট্রাম্পের সামনে এখন মাত্র দুটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমটি হলো পুরোদমে স্থলপথে সামরিক অভিযান এবং দ্বিতীয়টি হলো পারমাণবিক হামলা। তবে ইরানের বিশাল ভৌগোলিক আয়তন ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে দেশটিতে স্থল অভিযান পরিচালনা করা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন কেন্ট। তিনি কার্লসনকে জানান, দীর্ঘমেয়াদি এই পরিস্থিতির কথা গভীরভাবে চিন্তা করলে খুব দ্রুতই গণবিধ্বংসী অস্ত্রের প্রসঙ্গটি সামনে চলে আসে। তাত্ত্বিকভাবে ওয়াশিংটন হয়তো ইরানের পার্বত্য এলাকায় মাটির গভীরে থাকা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোতে সীমিত পরিসরে পারমাণবিক হামলার পথই বেছে নিতে পারে। সম্প্রতি পেন্টাগনের উচ্চ নির্ভুলতার অস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসার খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যার জেরে গত মাসের শেষ দিকে ইরানের ওপর একটি সম্ভাব্য হামলা হঠাৎ স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা গোলাবারুদ সংকটের এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরান যুদ্ধে কৌশল পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে গত সপ্তাহে ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ নামে একটি ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সতর্ক করেছেন দেশটির শীর্ষ সামরিক নেতারা। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় ধরে ইরান অভিযানে বিপুলসংখ্যক সেনা, যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও অস্ত্র ব্যবহৃত হলে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের হুমকি মোকাবিলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা-সংক্রান্ত একটি গোপন নথিতে সামরিক নেতাদের এই উদ্বেগ উঠে এসেছে। গত ১৪ আগস্টের ওই নথি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী চার তারকা কর্মকর্তারা হেগসেথকে তাদের মূল্যায়ন জানিয়েছেন। ওই নথিতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনাকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং কিছু সেনাকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত রাখার নির্দেশনার কথা রয়েছে। ইরান অভিযানে এসব বাহিনীর উপস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত করার সম্ভাবনাই সামরিক নেতাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইউরোপ, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের নেতৃত্ব এবং নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এই বাহিনী বাড়ানোর বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে নির্দেশনা কার্যকর করার কথা তারা জানিয়েছেন। ইরান যুদ্ধের কারণে ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী কমান্ডগুলোর জাহাজ, বিমান ও অন্যান্য সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলগুলোর নিজস্ব দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিশেষ করে নৌবাহিনীকে যুদ্ধকালীন চাহিদা পূরণে নিজেদের সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে। নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগ জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান অভিযানে নৌবাহিনী যে মাত্রায় সহায়তা দিচ্ছে, তা আর দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা সম্ভব নয়, কারণ যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। যুদ্ধের কারণে নৌবাহিনীর জাহাজ ও নাবিকদের মোতায়েনের মেয়াদও কয়েক মাস করে বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নৌবাহিনীর ধ্বংসকারী জাহাজের মাত্র প্রায় এক-চতুর্থাংশ মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ইরান অভিযানের বর্তমান চাপ অব্যাহত থাকলে জাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো সংঘাত তৈরি হলে নৌবহরের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে সামরিক নেতৃত্ব আশঙ্কা করছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাব শুধু নৌবাহিনীতেই সীমাবদ্ধ নেই। সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার সেনা মার্চে ইরান যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছিল। তাদের অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই অঞ্চলে থাকার কথা রয়েছে। কিছু সামরিক কর্মকর্তা ধারণা করছেন, এই মোতায়েনের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে। এদিকে বিমানবাহিনীর যেসব ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে নিয়মিত বোমা হামলা ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাদের অনেককেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত ওই অঞ্চলে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ইরান যুদ্ধ এবং ইউক্রেনকে আগের দেওয়া অস্ত্রের কারণে প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের থাড প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও চাপের মধ্যে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের রীপার ড্রোন বহরের প্রায় ২৫ শতাংশ হারিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো সঠিক নয় বলে দাবি করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করেছিলেন যে দীর্ঘমেয়াদি বড় আকারের সামরিক অভিযান চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও মিত্রদের সহায়তা নেই। সাম্প্রতিক সময়েও ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেউইচ পর্যাপ্ত নৌবাহিনীর সক্ষমতা না থাকার বিষয়ে পেন্টাগনকে সতর্ক করেছিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, নির্দিষ্ট কোনো সামরিক কমান্ডে কতটা এবং কতদিন বাহিনী মোতায়েন থাকবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বর্তমান হুমকি, প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত কৌশলগত অগ্রাধিকার এবং সামরিক নেতৃত্বের পরামর্শের ভিত্তিতে। তবে পেন্টাগন গোপন নির্দেশনা নথির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, সামরিক কমান্ডগুলোর মতপার্থক্য বা ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
উত্তর সাইপ্রাসের কাছে ২৬৭ জন আরোহী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বঘোষিত টার্কিশ রিপাবলিক অব নর্দার্ন সাইপ্রাসের প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল এ তথ্য জানিয়েছেন। নৌকাটিতে থাকা ২৩৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো ২৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সর্বশেষ এক আপডেটে দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতার বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, নিখোঁজ ২৩ জনকে উদ্ধারে বর্তমানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। নৌকাটিতে বিপুলসংখ্যক যাত্রী থাকায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে আটজন নাবিকসহ মোট ২৬৭ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ২৩৭ জনকে ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে ২৩ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নৌকাটিতে থাকা সব ব্যক্তির বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিরেনিয়া বন্দর থেকে প্রায় চার নটিক্যাল মাইল দূরে যাওয়ার পর নৌকাটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে নৌকাটি ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। পরে নৌকাটি ডুবে যায় এবং সেখানে থাকা যাত্রী ও নাবিকদের উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, রোববার স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে নৌকাটি উত্তর সাইপ্রাসের একটি বন্দর ছেড়ে যায়। যাত্রা শুরুর পর কিরেনিয়া বন্দর থেকে প্রায় চার নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করার সময় নৌকাটিতে পানি ঢোকার ঘটনা ঘটে। এরপর নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের লাইফ জ্যাকেট পরা অবস্থায় অন্য একটি নৌকায় করে বন্দরে পৌঁছাতে দেখা গেছে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার করা ব্যক্তিদের নিরাপদে বন্দরে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে নৌকাটিতে থাকা ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য জানা যায়নি। এ ছাড়া উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ আহত হয়েছেন কি না এবং আহতদের আঘাত কতটা গুরুতর, সে বিষয়েও এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বর্তমান অবস্থা এবং তাদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ ২৩ জনকে উদ্ধারে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২৩৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। নৌকাটিতে কী কারণে পানি ঢুকতে শুরু করেছিল এবং ঠিক কী কারণে সেটি শেষ পর্যন্ত ডুবে যায়, সে বিষয়ে দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে নৌকাটিতে থাকা ব্যক্তিদের জাতীয়তা এবং আহতদের শারীরিক অবস্থার বিষয়েও এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাটি উত্তর সাইপ্রাসের কাছে ঘটেছে এবং কিরেনিয়া বন্দর থেকে চার নটিক্যাল মাইল দূরের এলাকায় নৌকাটিতে পানি ঢোকার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়। এরপর যাত্রীদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের লাইফ জ্যাকেট পরা অবস্থায় অন্য একটি নৌকায় করে বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নিখোঁজ ২৩ জনের সন্ধান। সাতজনের মৃত্যুর পাশাপাশি ২৩৭ জনকে উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজদের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাদের সন্ধানে চলমান তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজবাড়ীতে কাপড় বাজার ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় এক নারী ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুরে ঘটা এই অমানবিক ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সচেতন মহলের মতে, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলেও পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় প্রকাশ্যে তাকে মারধর বা লাঞ্ছিত করার অধিকার কারও নেই। এমন ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য চরম অবমাননাকর। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, কাদেরিয়া মার্কেটের তৃতীয় তলায় ভুক্তভোগী ওই নারী ব্যবসায়ীর একটি কাপড়ের দোকান রয়েছে। সম্প্রতি তার দোকানের এক নারী কর্মচারী নিজেই একটি নতুন দোকান দেওয়ার উদ্যোগ নিলে মালিক তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনো সমাধান পাননি। উল্টো শনিবার তিনি শতাধিক নারী নিয়ে মার্কেটের নিচতলায় হ্যান্ডমাইক হাতে মিছিল বের করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় কাপড় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে ওই নারীর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানায় যান। পরবর্তীতে পুলিশ ওই নারীকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার সময় তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, একজন নারী পুলিশ কনস্টেবল তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন তাকে লাথি ও ঘুষি মারে। তবে বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, হামলাকারীরা তাদের কেউ নয়, তারা বহিরাগত। ভুক্তভোগী ওই নারী ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, দীর্ঘ এক যুগ ধরে তিনি ব্যবসা করছেন। তার কর্মচারীদের অন্য ব্যবসায়ীরা ফুসলিয়ে নিয়ে যায় বলেই তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন এবং এর জের ধরেই ব্যবসায়ীরা তার ওপর হামলা করেছে। প্রকাশ্যে এমন লাঞ্ছনার শিকার হওয়ায় তিনি মামলা দায়ের করার কথা ভাবছেন। অন্যদিকে, রাজবাড়ী বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক বেনজির আহমেদ জানান, ওই নারীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই নানা অভিযোগ ছিল এবং তাকে কাপড় বাজারে আর ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে সমিতি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শাসমুল হক জানান, এখনও কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ দিলে ভিডিও খতিয়ে দেখে লাঞ্ছনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রি হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গরুর মাংস আমদানির ঘোষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বন্য ঘোড়া নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফ্যাক্টচেক করে দেখা গেছে, আমদানি করা মাংসের প্রজাতি ও লেবেল যাচাইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর পরিদর্শন ব্যবস্থা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি পোস্টে দাবি করা হয়, বিদেশি দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঘোড়া কিনে জবাই করছে এবং পরে সেই মাংস গরুর মাংসের নামে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাঠানো হচ্ছে। একটি ভাইরাল টিকটক ভিডিওতেও ভোক্তাদের গরুর মাংস কেনা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। এই দাবির সূত্র হিসেবে ট্রাম্পের ২১ আগস্টের বক্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জমিতে থাকা বন্য ঘোড়াগুলোকে নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাম্প গরুর মাংসের দাম কমাতে ৯০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩ লাখ মেট্রিক টন গরুর মাংস শুল্কমুক্তভাবে আমদানির সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সময়ে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে সরকারি জমি থেকে হাজার হাজার বন্য ঘোড়া সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিস বা এফএসআইএস আমদানি করা মাংসের নিরাপত্তা, লেবেল এবং পণ্যের ধরন যাচাই করে। সংস্থাটি আমদানি করা মাংসের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে সেটি লেবেলে উল্লেখ করা প্রাণীর মাংস কি না, তাও যাচাই করে। ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ইউএসডিএ-পরিদর্শিত কোনো ঘোড়া জবাইয়ের প্ল্যান্ট নেই। ঘোড়া মানব খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য পরিদর্শনের ক্ষেত্রে ফেডারেল অর্থ ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে। মাংস আমদানির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মাংস রপ্তানি করতে চাওয়া দেশগুলোর পরিদর্শন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরও আমদানি করা মাংস পরিদর্শনের আওতায় থাকে। কোনো পণ্য যথাযথভাবে পরিদর্শিত না হলে সেটি বাজার থেকে প্রত্যাহারও করা হতে পারে। তবে ঘোড়ার মাংস নিয়ে উদ্বেগ একেবারে নতুন নয়। ২০১৩ সালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রির বড় কেলেঙ্কারি ধরা পড়েছিল। কিন্তু সেই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটের মাংসের কোনো সম্পর্কের প্রমাণ নেই। ফ্যাক্টচেকাররা ২৫ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রির কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদ, ইউএসডিএর রিকল বা সরকারি প্রমাণ খুঁজে পাননি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গুরুতর হৃদ্যন্ত্রের অকার্যকারিতায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে ফ্রান্সের তৈরি কৃত্রিম হৃদযন্ত্র ‘এইসন’। ফরাসি মেডিকেল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কারমাটের তৈরি এই যন্ত্রটি হৃদ্যন্ত্রের দুই ভেন্ট্রিকলের কাজ একসঙ্গে প্রতিস্থাপন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এইসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, রোগীর শারীরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। রোগী বিশ্রামে থাকলে রক্তপ্রবাহ কমে যায়, আবার শারীরিক পরিশ্রমের সময় শরীরের বাড়তি চাহিদা অনুযায়ী প্রবাহ বাড়াতে পারে। যন্ত্রটির সেন্সর ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রোগীর শারীরবৃত্তীয় প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তপ্রবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করে। বর্তমানে এইসন মূলত ‘ব্রিজ টু ট্রান্সপ্লান্ট’ হিসেবে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত। অর্থাৎ শেষ পর্যায়ের দুই ভেন্ট্রিকলের হৃদ্যন্ত্র বিকল হয়ে যাওয়া কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হয়, যাতে তারা উপযুক্ত দাতা হৃদ্যন্ত্রের অপেক্ষায় থাকতে পারেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ইউরোপে এই ব্যবহারের জন্য যন্ত্রটি সিই অনুমোদন পায়। কৃত্রিম হৃদ্যন্ত্রটি শরীরের ভেতরে বসানো হয় এবং এর দুই ভেন্ট্রিকল হৃদ্যন্ত্রের স্বাভাবিক পাম্পিংয়ের মতো রক্ত সারা শরীরে সঞ্চালন করে। তবে এটি পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। যন্ত্রটির সঙ্গে বাইরে থাকা একটি বহনযোগ্য সিস্টেম বিদ্যুৎ সরবরাহ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের কাজ করে। কারমাটের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য আরও বড়। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে এমন ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়ার লক্ষ্য রাখছে, যেখানে রোগীর আর পরবর্তী সময়ে দাতা হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হবে না। তবে সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে আরও গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল প্রমাণ প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে এইসনের ব্যবহারও এখনো সীমিত। কারমাটের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে যন্ত্রটি বর্তমানে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ অনুমোদিত একটি প্রাথমিক গবেষণার কাঠামোর মধ্যেই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ফলে এইসন এখনো সবার জন্য স্থায়ী কৃত্রিম হৃদ্যন্ত্রের বিকল্প নয়। তবে রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তপ্রবাহ সামঞ্জস্য করতে সক্ষম এই প্রযুক্তি হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা গুরুতর রোগীদের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিটি আরও উন্নত হলে দাতা হৃদ্যন্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর পথও তৈরি হতে পারে।