সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

এইচ-৪ ভিসাধারীদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চয়তায় প্রবাসী পরিবার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৭:২৫
এইচ-৪ ভিসাধারীদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চয়তায় প্রবাসী পরিবার
এইচ-৪ ভিসাধারীদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চয়তায় প্রবাসী পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসাধারী বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নির্ভরশীল জীবনসঙ্গীদের (এইচ-৪ ভিসা) ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতি বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই প্রস্তাবনা কার্যকর হলে দেশটিতে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে, যা বহু প্রবাসী পরিবারের কর্মজীবন ও আর্থিক আয়ের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের 'অফিস অব ইনফরমেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স'-এর ওয়েবসাইটে (Reginfo.gov) সম্প্রতি প্রস্তাবিত এই বিধিটি প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের আমলে চালু হওয়া একটি নিয়মকে বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে এইচ-৪ ভিসাধারীরা কাজের অনুমতি বা 'এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট' (ইএডি) পেয়ে আসছিলেন।

 

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এইচ-১বি ভিসা থাকা কর্মীর গ্রিন কার্ডের আবেদন (ফর্ম আই-১৪০) অনুমোদিত হলে কিংবা গ্রিন কার্ড ব্যাকলগের কারণে ভিসার মেয়াদ ছয় বছরের বেশি বাড়ানো হলে, তাদের এইচ-৪ ভিসাধারী স্বামী বা স্ত্রী কাজের অনুমতির আবেদন করতে পারেন।

 

নতুন প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অর্থায়নসহ বিভিন্ন পেশাগত খাতে কর্মরত হাজার হাজার দক্ষ এইচ-৪ ভিসাধারী তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হারাবেন। বিশেষ করে যারা বছরের পর বছর ধরে কর্মসংস্থান-ভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং পরিবারের ব্যয় নির্বাহে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ওপর এটি সরাসরি নেতিবাচক আর্থিক চাপ তৈরি করবে।

 

এই প্রস্তাবের সমর্থকরা দাবি করছেন, এইচ-৪ ক্যাটাগরির ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হলে প্রায় ৬ লাখ কর্মসংস্থান স্থানীয় আমেরিকান কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কেবলই একটি প্রাথমিক অনুমান এবং চূড়ান্ত নীতিমালার ওপর ভিত্তি করেই এর প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হবে।

 

তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর হয়নি এবং বর্তমান কার্ডধারীদের কাজের অনুমতি অবিলম্বে বাতিল হচ্ছে না। যেকোনো প্রশাসনিক প্রস্তাব চূড়ান্ত বিধিতে রূপ নেওয়ার আগে ফেডারেল প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জনসাধারণের মতামত গ্রহণ ও পর্যালোচনার প্রয়োজন হয়।

 

ফলে প্রশাসন থেকে চূড়ান্ত কোনো আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান এইচ-৪ ইএডি কার্ডধারীরা তাঁদের নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী আগের নিয়মেই কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। অভিবাসন নীতিমালা কঠোর করার সামগ্রিক কৌশলের অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভাইনে চুরি করা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ৩৮ হাজার ডলারের কেনাকাটা, তিনজনকে খুঁজছে পুলিশ
ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভাইনে চুরি করা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ৩৮ হাজার ডলারের কেনাকাটা, তিনজনকে খুঁজছে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের অরেঞ্জ কাউন্টির ইরভাইন শহরে চুরি করা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে ৩৮ হাজার ডলারেরও বেশি মূল্যের বিলাসবহুল পণ্য কেনার অভিযোগে তিন সন্দেহভাজনকে খুঁজছে স্থানীয় পুলিশ।   ইরভাইন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, স্থানীয় এক বাসিন্দার ক্রেডিট কার্ডের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রটি।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই তিন সন্দেহভাজন স্থানীয় বিভিন্ন নামিদামি দোকানে গিয়ে চুরি করা তথ্যের সাহায্যে মোট ৩৮ হাজার ৪৩৫ ডলার ৫০ সেন্ট খরচ করে।   তাদের এই বিলাসবহুল কেনাকাটার তালিকায় ছিল মূলত নামী ব্র্যান্ডের পোশাক এবং উচ্চমূল্যের সব গয়না। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   তদন্তের স্বার্থে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ওই দুই নারী ও এক পুরুষের ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ। সাধারণ মানুষের কাছে তাদের শনাক্ত করার বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।   ইরভাইন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ এই তিনজনকে চিনতে পারলে বা তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে ডিটেকটিভ মেনার সঙ্গে ৯৪৯-৭২৪-৭১২৪ নম্বরে অথবা amena@cityofirvine.org ই-মেইলে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, সাধারণ মানুষের সহায়তায় ছবিগুলো প্রকাশের মাধ্যমে দ্রুতই এই প্রতারকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৮:৪২
ফিলাডেলফিয়ার ‘হাউস অব হররস’ নামের সেই বাড়িতে মিলল নারীকে শ্বাসরোধে হ ত্যার ভিডিও

ফিলাডেলফিয়ার ‘হাউস অব হররস’ নামের সেই বাড়িতে মিলল নারীকে শ্বাসরোধে হ ত্যার ভিডিও

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত অভিবাসীদের নিজ দেশে না পাঠিয়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত অভিবাসীদের নিজ দেশে না পাঠিয়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

এইচ-৪ ভিসাধারীদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চয়তায় প্রবাসী পরিবার

এইচ-৪ ভিসাধারীদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চয়তায় প্রবাসী পরিবার

মহাবিশ্বের অজানা রহস্যের খোঁজে নাসার ৪ বিলিয়ন ডলারের ‘রোমান’ টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণ
মহাবিশ্বের অজানা রহস্যের খোঁজে নাসার ৪ বিলিয়ন ডলারের ‘রোমান’ টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণ

মহাকাশবিদ্যা এবং মহাজাগতিক নানা অজানা রহস্য উন্মোচনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে নাসার নতুন ফ্ল্যাগশিপ অবজারভেটরি ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’। প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই শক্তিশালী স্পেস টেলিস্কোপটি গত রোববার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটে চড়ে মহাশূন্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।   ডার্ক এনার্জি এবং ডার্ক ম্যাটারের মতো মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলো অনুসন্ধানের পাশাপাশি বিশাল পরিসরে অভিকর্ষ বলের পরীক্ষা এবং সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কারের জন্য এই টেলিস্কোপটির নকশা করা হয়েছে। উৎক্ষেপণের আগে কিছুটা বৈরী আবহাওয়ার শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পরিষ্কার আকাশ ভেদ করে সফলভাবেই মহাকাশে পাড়ি জমায় এটি।   পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ লাখ কিলোমিটার দূরে ‘ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ২’ নামক একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথের দিকে অগ্রসর হচ্ছে রোমান। প্রাথমিকভাবে এর মিশনকাল পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হলেও নাসার মতে, টেলিস্কোপটিতে আরও পাঁচ বছর চলার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে।   ১৯৯০ সালে উৎক্ষেপিত হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এবং ২০২১ সালের জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সক্ষমতাকে ভিত্তি করেই রোমান তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। নাসার বিজ্ঞান মিশন অধিদপ্তরের প্রধান নিকোলা ফক্স জানান, হাবল এবং জেমস ওয়েব যেখানে মহাবিশ্বের দিকে অনেকটা চাবির ছিদ্র দিয়ে উঁকি দিয়েছে, সেখানে রোমান স্পেস টেলিস্কোপ আক্ষরিক অর্থেই পুরো দরজা ভেঙে ফেলবে।   হাবল টেলিস্কোপের সমকক্ষ তীক্ষ্ণতা ও সংবেদনশীলতা থাকলেও রোমান অনেক দ্রুততার সঙ্গে বিস্তীর্ণ আকাশ পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প বিজ্ঞানী জুলি ম্যাকএনারির মতে, রোমান মাত্র এক মাসে আমাদের গ্যালাক্সির যে পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করতে পারবে, হাবল টেলিস্কোপের তা করতে প্রায় এক শতাব্দী সময় লেগে যেত।   জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ যেমন মহাবিশ্বের গভীরে অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অনুসন্ধান করতে পারে, তেমনি রোমানের ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল বা প্যানোরামিক ভিউ সেই গভীর পর্যবেক্ষণের পরিপূরক হিসেবে একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই টেলিস্কোপটি মহাবিশ্বের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তারিত ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করে ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটারের রহস্য সমাধানে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।   এছাড়াও হাজার হাজার নতুন এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কারের মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণায় নতুন এক দিগন্তের সূচনা করবে ন্যান্সি গ্রেস রোমান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৫:২৭
মেরিল্যান্ডে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাংলাদেশি পরিবারের স্ত্রী ও বড় মেয়ে নিহত, স্বামী ও ছোট মেয়ে হাসপাতালে

মেরিল্যান্ডে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাংলাদেশি পরিবারের স্ত্রী ও বড় মেয়ে নিহত, স্বামী ও ছোট মেয়ে হাসপাতালে

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিসহ দুজনকে গুলি করে হ ত্যা, গ্রেপ্তারের পর ঘাতকের মুখে ঈশ্বরের প্রশংসা

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিসহ দুজনকে গুলি করে হ ত্যা, গ্রেপ্তারের পর ঘাতকের মুখে ঈশ্বরের প্রশংসা

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘায়িত সামরিক অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা শীর্ষ সামরিক নেতাদের। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করতে হেগসেথকে সতর্ক করলেন মার্কিন সামরিক নেতারা

যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রি হওয়ার গুজবের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস? সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রি হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গরুর মাংস আমদানির ঘোষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বন্য ঘোড়া নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফ্যাক্টচেক করে দেখা গেছে, আমদানি করা মাংসের প্রজাতি ও লেবেল যাচাইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর পরিদর্শন ব্যবস্থা রয়েছে।    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি পোস্টে দাবি করা হয়, বিদেশি দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঘোড়া কিনে জবাই করছে এবং পরে সেই মাংস গরুর মাংসের নামে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাঠানো হচ্ছে। একটি ভাইরাল টিকটক ভিডিওতেও ভোক্তাদের গরুর মাংস কেনা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।   এই দাবির সূত্র হিসেবে ট্রাম্পের ২১ আগস্টের বক্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জমিতে থাকা বন্য ঘোড়াগুলোকে নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাম্প গরুর মাংসের দাম কমাতে ৯০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩ লাখ মেট্রিক টন গরুর মাংস শুল্কমুক্তভাবে আমদানির সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সময়ে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে সরকারি জমি থেকে হাজার হাজার বন্য ঘোড়া সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।    তবে এসব ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিস বা এফএসআইএস আমদানি করা মাংসের নিরাপত্তা, লেবেল এবং পণ্যের ধরন যাচাই করে। সংস্থাটি আমদানি করা মাংসের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে সেটি লেবেলে উল্লেখ করা প্রাণীর মাংস কি না, তাও যাচাই করে।  ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ইউএসডিএ-পরিদর্শিত কোনো ঘোড়া জবাইয়ের প্ল্যান্ট নেই। ঘোড়া মানব খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য পরিদর্শনের ক্ষেত্রে ফেডারেল অর্থ ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে।   মাংস আমদানির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মাংস রপ্তানি করতে চাওয়া দেশগুলোর পরিদর্শন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরও আমদানি করা মাংস পরিদর্শনের আওতায় থাকে। কোনো পণ্য যথাযথভাবে পরিদর্শিত না হলে সেটি বাজার থেকে প্রত্যাহারও করা হতে পারে।    তবে ঘোড়ার মাংস নিয়ে উদ্বেগ একেবারে নতুন নয়। ২০১৩ সালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রির বড় কেলেঙ্কারি ধরা পড়েছিল। কিন্তু সেই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটের মাংসের কোনো সম্পর্কের প্রমাণ নেই।   ফ্যাক্টচেকাররা ২৫ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রির কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদ, ইউএসডিএর রিকল বা সরকারি প্রমাণ খুঁজে পাননি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১২:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে মারা যাওয়া ১৪ বছর বয়সী চেলসি ডিহলের স্মৃতিতে বছরভিত্তিক তার বাবার সমাধির পাশে দাঁড়ানো ছবি। ছবি: সংগৃহীত

প্রতি বছর মেয়ের কবরে ফেরেন বাবা, ছবিতে ধরা পড়ে অশ্রুসিক্ত মুহূর্ত

নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং টিকিটের জরিমানা কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক তথ্য সঠিক নয়। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে পার্কিং টিকিটের জরিমানা কমানোর সুযোগ, জানুন নিয়ম

নিউ জার্সির ট্রেন্টনে রোববার ভোরে বন্দুক হামলার পর ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাতে নিউ জার্সির ট্রেন্টনে ভয়াবহ বন্দুক হামলা, গুলিবিদ্ধ ১১ জনের মধ্যে নিহত ২

0 Comments