সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
হৃদ্‌যন্ত্রের অকার্যকারিতায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ফ্রান্সের কারমাট কোম্পানির তৈরি কৃত্রিম হৃদযন্ত্র ‘এইসন’। ছবি: সংগৃহীত
ডোনার ছাড়াই বাঁচার নতুন আশা, ফ্রান্সের তৈরি কৃত্রিম হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনে নতুন সম্ভাবনা

গুরুতর হৃদ্‌যন্ত্রের অকার্যকারিতায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে ফ্রান্সের তৈরি কৃত্রিম হৃদযন্ত্র ‘এইসন’। ফরাসি মেডিকেল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কারমাটের তৈরি এই যন্ত্রটি হৃদ্‌যন্ত্রের দুই ভেন্ট্রিকলের কাজ একসঙ্গে প্রতিস্থাপন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।   এইসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, রোগীর শারীরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। রোগী বিশ্রামে থাকলে রক্তপ্রবাহ কমে যায়, আবার শারীরিক পরিশ্রমের সময় শরীরের বাড়তি চাহিদা অনুযায়ী প্রবাহ বাড়াতে পারে। যন্ত্রটির সেন্সর ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রোগীর শারীরবৃত্তীয় প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তপ্রবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করে।    বর্তমানে এইসন মূলত ‘ব্রিজ টু ট্রান্সপ্লান্ট’ হিসেবে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত। অর্থাৎ শেষ পর্যায়ের দুই ভেন্ট্রিকলের হৃদ্‌যন্ত্র বিকল হয়ে যাওয়া কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হয়, যাতে তারা উপযুক্ত দাতা হৃদ্‌যন্ত্রের অপেক্ষায় থাকতে পারেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ইউরোপে এই ব্যবহারের জন্য যন্ত্রটি সিই অনুমোদন পায়।    কৃত্রিম হৃদ্‌যন্ত্রটি শরীরের ভেতরে বসানো হয় এবং এর দুই ভেন্ট্রিকল হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাভাবিক পাম্পিংয়ের মতো রক্ত সারা শরীরে সঞ্চালন করে। তবে এটি পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। যন্ত্রটির সঙ্গে বাইরে থাকা একটি বহনযোগ্য সিস্টেম বিদ্যুৎ সরবরাহ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের কাজ করে।    কারমাটের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য আরও বড়। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে এমন ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়ার লক্ষ্য রাখছে, যেখানে রোগীর আর পরবর্তী সময়ে দাতা হৃদ্‌যন্ত্র প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হবে না। তবে সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে আরও গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল প্রমাণ প্রয়োজন।    যুক্তরাষ্ট্রে এইসনের ব্যবহারও এখনো সীমিত। কারমাটের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে যন্ত্রটি বর্তমানে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ অনুমোদিত একটি প্রাথমিক গবেষণার কাঠামোর মধ্যেই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।    ফলে এইসন এখনো সবার জন্য স্থায়ী কৃত্রিম হৃদ্‌যন্ত্রের বিকল্প নয়। তবে রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তপ্রবাহ সামঞ্জস্য করতে সক্ষম এই প্রযুক্তি হৃদ্‌যন্ত্র প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা গুরুতর রোগীদের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিটি আরও উন্নত হলে দাতা হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর পথও তৈরি হতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১২:২১
বারবার ব্যর্থতা ও রিজেকশন পেরিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে কাজ করছেন ইমরান। ছবি: সংগৃহীত
ভর্তি পরীক্ষা, আইইএলটিএস এ ফেল করেও থামেননি, আজ নাসার জেপিএলে বাংলাদেশি ইমরান

একসময় পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থতা, ভর্তি পরীক্ষায় একের পর এক প্রত্যাখ্যান আর বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনেও ধারাবাহিক রিজেকশন। সেই ইমরানই এখন যুক্তরাষ্ট্রের নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে কাজ করছেন।   ইমরানের নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, স্কুলজীবন থেকেই ব্যর্থতার সঙ্গে তার পরিচয়। চতুর্থ শ্রেণিতে গণিতে ১৩ নম্বর পেয়ে ফেল করা দিয়ে শুরু। পরে হাইস্কুলে গণিত ও ইংরেজিতে একাধিকবার ফেল করেন। নবম শ্রেণিতে স্কুলও বদলাতে হয়। এসএসসিতে পান ৩.৫৬ জিপিএ।   এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে ছিলেন মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থীর একজন। পরীক্ষায় প্রায়ই সেই পাঁচজনের মধ্যে চতুর্থ হতেন। এরপর মেডিকেল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় একের পর এক ব্যর্থতা আসে। শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগে ভর্তি হন।   সেখানেও থেমে থাকেননি। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য ১০ বারের বেশি চেষ্টা করেন। আইএসএসবিতে অংশ নেন দুইবার, দুবারই রেড কার্ড পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার পদেও চারবার আবেদন করে সফল হননি।   এরপর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্ল্যানেটারি সায়েন্স পড়ার স্বপ্ন দেখেন। সেই পথও সহজ ছিল না। দুইবার জিআরই, দুইবার আইইএলটিএস এবং দুইবার টোফেল দেওয়ার পর ২০১৬ সালে ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রত্যাখ্যাত হন। পরের বছর আরও পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসে রিজেকশন।   তবু ব্যর্থতাকে শেষ বলে মেনে নেননি ইমরান। শেষ পর্যন্ত অবার্ন ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস থেকে স্পেস ও প্ল্যানেটারি সায়েন্সে পিএইচডি অর্জন করেন।   বর্তমানে তিনি নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে কাজ করছেন। নাসার বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও মহাকাশ গবেষণা কার্যক্রমে জেপিএল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রকাশ্য বৈজ্ঞানিক নথিতেও ইমরানের জেপিএলের সঙ্গে গবেষণামূলক কাজের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।    তার এই পথচলা দেখায়, একের পর এক ব্যর্থতা কোনো মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয় না। যে ফলাফলগুলো একসময় তাকে নিজেকেই ব্যর্থ মনে করাত, সেগুলোই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে আরও বড় লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে অভিজ্ঞতা।   ইমরানের গল্প তাই শুধু নাসায় কাজ করার গল্প নয়, বরং বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার এক দীর্ঘ যাত্রার গল্প।  

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১২:৪
অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সাধারণ স্টুডেন্ট ভিসা ও গ্র্যাজুয়েট ভিসার আবেদন ফি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েট ভিসার ফি দ্বিগুণ হয়ে ৫ হাজার ৭৫০ ডলার, শিক্ষার্থী ভিসায় ২ হাজার ৫০০

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েটদের ভিসা খরচ আবারও বেড়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসা, সাবক্লাস ৪৮৫-এর আবেদন ফি ৪ হাজার ৬০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৭৫০ ডলার হয়েছে। একই সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ভিসা, সাবক্লাস ৫০০-এর আবেদন ফি ২ হাজার ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৫০০ ডলার।   চলতি বছরেই গ্র্যাজুয়েট ভিসার ফি দ্বিতীয়বার বাড়ানো হলো। ১ মার্চ ২০২৬-এ এই ভিসার ফি ২ হাজার ৩০০ ডলার থেকে দ্বিগুণ হয়ে ৪ হাজার ৬০০ ডলারে উঠেছিল। মাত্র চার মাস পর, ১ জুলাই থেকে তা আরও ১ হাজার ১৫০ ডলার বাড়িয়ে ৫ হাজার ৭৫০ ডলার করা হয়েছে। অর্থাৎ বছরের শুরু থেকে ফি বেড়েছে ১৫০ শতাংশ।    টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসা অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা শেষ করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। এই ভিসার মাধ্যমে যোগ্য গ্র্যাজুয়েটরা পড়াশোনা শেষে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। নতুন ফি অনেক শিক্ষার্থীর জন্য তাই বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।    শিক্ষার্থী ভিসার ক্ষেত্রেও ১ জুলাই থেকে ফি ২৫ শতাংশ বেড়েছে। সাধারণ সাবক্লাস ৫০০ ভিসার মূল আবেদনকারীর জন্য নতুন ফি ২ হাজার ৫০০ ডলার। তবে কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিক ও কিছু বিশেষ ধরনের কোর্সের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাড় বা আলাদা ফি কাঠামো রয়েছে।   অস্ট্রেলিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভিসা আবেদন ফি সময় সময় পরিবর্তিত হতে পারে এবং আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ অনুযায়ী প্রযোজ্য ফি নির্ধারিত হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ভিসার সর্বশেষ ফি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   নতুন এই ফি বৃদ্ধির ফলে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা শেষে কাজ ও ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়ার খরচ আরও বেড়ে গেল। বিশেষ করে একই বছরে গ্র্যাজুয়েট ভিসার ফি দুই দফা বাড়ায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১১:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে মারা যাওয়া ১৪ বছর বয়সী চেলসি ডিহলের স্মৃতিতে বছরভিত্তিক তার বাবার সমাধির পাশে দাঁড়ানো ছবি। ছবি: সংগৃহীত
প্রতি বছর মেয়ের কবরে ফেরেন বাবা, ছবিতে ধরা পড়ে অশ্রুসিক্ত মুহূর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ল্যানোকা হারবারের ১৪ বছর বয়সী চেলসি ডিহল ২০২৪ সালের ৩ মার্চ মারা যায়। মৃত্যুর পর তার বাবাকে মেয়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এমন কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুরোনো ছবিতে বাবা ও মেয়েকে একসঙ্গে দেখা যায়, আর পরের ছবিগুলোতে একই বাবাকে মেয়ের সমাধির পাশে দেখা যাচ্ছে।   চেলসি লেসি টাউনশিপ মিডল স্কুলের অনার রোলের শিক্ষার্থী ছিল। পাশাপাশি সে প্রাইড এলিট কম্পিটিটিভ চিয়ারের সদস্য ছিল। চিয়ারলিডিংয়ের বাইরে ফুটবল ও আইস স্কেটিংও ছিল তার পছন্দের।   চেলসি ছিল ব্রায়ান ডিহল ও লিন কনক্লিনের মেয়ে। তার মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে কিশোরদের আত্মহত্যা প্রতিরোধে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়। তার স্মৃতি ধরে রাখতে লেসি টাউনশিপ স্কুল ডিস্ট্রিক্টের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্কলারশিপ ফান্ডও গড়ে তোলা হয়েছে।    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বাবা ব্রায়ান প্রতি বছর মেয়ের কবরের কাছে গিয়ে একটি করে সেলফি তোলেন। তবে এই বার্ষিক রীতির দাবিটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।   যা নিশ্চিতভাবে জানা যায়, চেলসির পরিবার তার স্মৃতিকে একটি ইতিবাচক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রাখার চেষ্টা করছে। তার নামে গড়ে ওঠা স্কলারশিপ ফান্ডটি লেসি টাউনশিপের শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছিল।    ভাইরাল ছবিগুলোর পেছনে তাই শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি আবেগঘন গল্প নয়, রয়েছে ১৪ বছরের এক কিশোরীর জীবন, তার পরিবার এবং তাকে হারানোর দীর্ঘস্থায়ী শোক।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১১:৩০
নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং টিকিটের জরিমানা কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক তথ্য সঠিক নয়। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে পার্কিং টিকিটের জরিমানা কমানোর সুযোগ, জানুন নিয়ম

নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং টিকিটের জরিমানা একবারে পরিশোধ করতে না পারলে নির্দিষ্ট শর্তে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড়, প্রথমবার টিকিট পেলেই জরিমানা কমে যাওয়া বা মাসে মাত্র ২০ ডলার করে পরিশোধের যে দাবি করা হচ্ছে, তার সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের বর্তমান নিয়মের মিল নেই।  ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পার্কিং ও ক্যামেরা ভায়োলেশনের বকেয়া জরিমানা কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। সাধারণ কিস্তি পরিকল্পনায় ৩৫০ ডলার বা তার বেশি বকেয়া থাকলে সাধারণত মোট বকেয়ার অন্তত ২০ শতাংশ আগে পরিশোধ করতে হয় এবং বাকি অর্থ সর্বোচ্চ ২৪ মাসে পরিশোধ করা যায়। ৩৫০ ডলারের কম বকেয়ার ক্ষেত্রে আলাদা শর্ত প্রযোজ্য।  কম আয়ের চালকদের জন্য আরও একটি বিশেষ কিস্তি পরিকল্পনা রয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, যাদের সমন্বিত বার্ষিক আয় ৮৬ হাজার ৪০০ ডলারের নিচে, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে মডারেট ইনকাম পেমেন্ট প্ল্যানের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধের পর সর্বোচ্চ ১৮ মাসে বাকি অর্থ পরিশোধের সুযোগ থাকতে পারে।    আর্থিক সংকটে থাকা কিছু ব্যক্তির জন্য হার্ডশিপ পেমেন্ট প্ল্যানও রয়েছে। বেকারত্ব, পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য হারানো বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ি হারানোর মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যোগ্য ব্যক্তিরা এ সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই পরিকল্পনায় ন্যূনতম ৫ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ এবং সর্বোচ্চ ২৪ মাসের কিস্তির সুযোগ থাকতে পারে। তবে আবেদন অনুমোদনের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয়।    গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিস্তিতে পরিশোধের সুবিধা পাওয়া মানেই জরিমানা মাফ বা কমে যাওয়া নয়। বকেয়া অর্থের ওপর সুদ জমতে থাকে যতক্ষণ না পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলে গাড়ি বুট করা বা টো করার মতো কিছু ব্যবস্থা এড়ানো যেতে পারে।    এ ছাড়া কোনো পার্কিং টিকিট ভুলভাবে দেওয়া হয়েছে বলে মনে হলে সেটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিসপিউট করার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্স জানিয়েছে, টিকিট পাওয়ার পর সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে তা পরিশোধ বা ডিসপিউট করা উচিত। দেরি হলে অতিরিক্ত জরিমানা যোগ হতে পারে।    তাই ১১৫ বা ১৫০ ডলারের পার্কিং টিকিট পেলেই ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে কিংবা প্রথমবার টিকিট পাওয়ার কারণে জরিমানা কমে যাবে, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। বরং যোগ্যতা অনুযায়ী কিস্তি পরিকল্পনা, আর্থিক সংকটের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা অথবা টিকিট ডিসপিউট করার সুযোগ রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১১:১৯
পাঞ্জাবে অপহরণের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যার শিকার হওয়া ২৮ বছর বয়সী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মনজিত কৌর। ছবি: সংগৃহীত
অপহরণের পর আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু, অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন পাকিস্তানি সেই ইনফ্লুয়েন্সার

ভারতের পাঞ্জাবের চণ্ডীগড় থেকে অপহরণের পর মরিন্দায় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠা ২৮ বছর বয়সী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মনজিত কৌর মৃত্যুর সময় প্রায় সাত সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ২৬ আগস্ট চণ্ডীগড়ের পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে (পিজিআইএমইআর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে গর্ভাবস্থার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।   গত ৩ জুলাই রাতে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৪ এলাকা থেকে কৌরকে অপহরণ করা হয় বলে তার মা কান্তা দেবীর অভিযোগ। এ ঘটনায় পরিচিত দুই ব্যক্তি শুভি ও পিন্ডার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, তারা কৌরকে একটি গাড়িতে তুলে পাঞ্জাবের মরিন্দার কাছে একটি জঙ্গলের মতো এলাকায় নিয়ে যায়।   সেখানে তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে এক পরিচিত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে কম্বল দিয়ে আগুন নেভান এবং গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাকে মোহালির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ৯ জুলাই তাকে পিজিআইএমইআরে ভর্তি করা হয়।   প্রায় ৫৪ দিন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ আগস্ট কৌরের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর চণ্ডীগড় পুলিশ অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেছে। এ মামলায় শুভি ও পিন্ডাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সর্বশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   মামলাটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে কৌরের চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশকে বক্তব্য দিতে চাওয়ার অভিযোগ ঘিরে। পরিবারের দাবি, চিকিৎসার একপর্যায়ে কৌর জ্ঞান ফিরে পেয়ে নিজের বক্তব্য দিতে চেয়েছিলেন। পিজিআইয়ের পুলিশ পোস্ট থেকেও তিনি বক্তব্য দেওয়ার মতো অবস্থায় আছেন বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশকে জানানো হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার বক্তব্য শেষ পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়নি।   কৌরের পরিবার এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে। তবে খরড়ের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ ইশান সিংলা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ঘটনাটি চণ্ডীগড়ের আওতাধীন হওয়ায় সেখানকার পুলিশকেই ব্যবস্থা নিতে হয়েছে এবং খরড় পুলিশ তার মাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছে।   কৌরের মৃত্যুর পর এখন তদন্তকারীদের সামনে বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে। কেন তাকে মরিন্দায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, হামলায় আর কেউ জড়িত ছিল কি না এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বক্তব্য কেন নেওয়া হয়নি, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর সময় তার প্রায় সাত সপ্তাহের গর্ভাবস্থার তথ্য সামনে আসায় তদন্তে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও যুক্ত হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১১:৪
পাইকগাছায় রান্নার সময় মাংস সবুজ হয়ে যাওয়ার পর ল্যাব পরীক্ষায় ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মেলেনি। ছবি: সংগৃহীত
অবশেষে খুলনার সেই ‘সবুজ মাংস’ রহস্যের অবসান, ল্যাব রিপোর্টে মিলল কারণ

খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংস লাল থেকে উজ্জ্বল সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় আতঙ্কের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় স্বস্তির তথ্য মিলেছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) পরীক্ষায় মাংসের নমুনায় ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বা পিগমেন্ট উৎপাদনকারী পসুডোমোনাস ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় ফ্রিজে সংরক্ষণের পর উচ্চ তাপে রান্নার কারণে মাংসের রঞ্জক পদার্থের পরিবর্তনকে সবুজ হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হয়েছে।   গত ২২ জুলাই পাইকগাছা পৌর এলাকার মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা পিকনিকের জন্য স্থানীয় বাজার থেকে প্রায় চার কেজি গরুর মাংস কিনে রান্না করছিলেন। রান্নার একপর্যায়ে মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং বদলে সবুজ হয়ে যায়। অস্বাভাবিক এই পরিবর্তন দেখে তারা রান্না বন্ধ করে দেন এবং মাংস ভর্তি কড়াই নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও পরে থানায় যান। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।   ঘটনার পর মাংসের প্রকৃত অবস্থা জানতে নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেয় স্থানীয় প্রশাসন। বিএফএসএর খুলনা জেলা কার্যালয় থেকে কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়।   সম্প্রতি পাওয়া পরীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নমুনায় কোনো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে মাংসে রং উৎপাদনকারী পসুডোমোনাস ব্যাকটেরিয়ারও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পরীক্ষায় মাংসে পচনশীল দুর্গন্ধ বা আঠালো ভাবের উপস্থিতিও পাওয়া যায়নি।   অর্থাৎ, ল্যাব পরীক্ষায় মাংসের সবুজ রং ধারণের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াজনিত পচন কিংবা ক্ষতিকারক জীবাণুর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি।   প্রতিবেদনে স্পেক্ট্রোফোটোমেট্রিক পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হয়েছে, মাংসটি দীর্ঘ সময় ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে। পরে রান্নার সময় উচ্চ তাপের সংস্পর্শে এলে মাংসের মায়োগ্লোবিন বা হিম-রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক রূপান্তর কিংবা গাঠনিক পরিবর্তন ঘটতে পারে। এর ফলেই মাংসের রং অস্বাভাবিকভাবে সবুজ হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।   তবে ল্যাব পরীক্ষায় মাংস সবুজ হওয়ার নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ এবং পরবর্তী উচ্চ তাপের প্রভাবে মাংসের রঞ্জক পদার্থে পরিবর্তনকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   ঘটনার শুরুতে মাংস বিক্রেতা ইসমাইল দাবি করেছিলেন, তিনি ফ্রিজে সংরক্ষিত মাংস বিক্রি করেছেন এবং এতে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। অন্যদিকে বেকারির কর্মচারীরা দাবি করেন, রান্নার সময় কোনো ধরনের রং বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্নের পরই মাংসের নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়।   বিএফএসএর পরীক্ষার প্রতিবেদন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর ফলে পাইকগাছায় আলোড়ন তোলা ‘সবুজ মাংস’ নিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষায় ক্ষতিকর জীবাণু বা পচনের প্রমাণ না পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হলো। তবে মাংসের অস্বাভাবিক রং পরিবর্তনের চূড়ান্ত কারণ হিসেবে কোনো একটি বিষয় নিশ্চিত করা হয়নি।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১০:৪৬
নিউ জার্সির ট্রেন্টনে রোববার ভোরে বন্দুক হামলার পর ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ছবি: সংগৃহীত
গভীর রাতে নিউ জার্সির ট্রেন্টনে ভয়াবহ বন্দুক হামলা, গুলিবিদ্ধ ১১ জনের মধ্যে নিহত ২

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ট্রেন্টনে রোববার ভোরে বন্দুক হামলায় দুইজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে শহরের ১০০ ব্লক লোকাস্ট স্ট্রিটে এ হামলার ঘটনা ঘটে।   ট্রেন্টন পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় মোট ১১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলেই বা পরে মারা যান এবং নয়জন আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।   পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে ওই এলাকায় গুলির শব্দ শোনার পর জরুরি সেবা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে একাধিক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।   হামলার কারণ এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   ঘটনাটি তদন্তাধীন থাকায় নিহত ও আহতদের পরিচয়ও এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ হামলার পরিস্থিতি ও এর পেছনের কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১০:৩৫
লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের আদেশের জবাবে কানাডার তীরে স্থাপন করা বিশাল সাইনবোর্ড। ছবি: সংগৃহীত
‘ট্রাম্প চলে গেলেও নাম থাকবে লেক অন্টারিও!’ নাম বদলের জবাবে বিশাল সাইনবোর্ড কানাডার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্বাহী আদেশ দেওয়ার পর এর জবাবে বিশাল সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে কানাডা। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড কানাডার তীরে স্থাপন করা ওই সাইনবোর্ডে লিখেছেন, ‘লেক অন্টারিও, এখন এবং সবসময়’।   শনিবার অন্টারিওর গ্রিমসবির কাছে ফিফটি পয়েন্ট সংরক্ষণ এলাকায় সাইনবোর্ডটি উন্মোচন করেন ডাগ ফোর্ড। বিশাল আকারের সাইনবোর্ডটির উচ্চতা প্রায় দুই তলা ভবনের সমান। এতে লেকটির নামের নিচে ‘এখন এবং সবসময়’ বার্তাটি ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় লেখা হয়েছে।   ট্রাম্পের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের জবাবে ফোর্ড বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলে যাওয়ার অনেক পরও হ্রদটির নাম লেক অন্টারিওই থাকবে। তিনি জানান, কানাডা ও অন্টারিও নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় থাকার বিষয়টি বোঝাতেই এই সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।   এর আগে ২৭ আগস্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারে লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত কানাডার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও নাম পরিবর্তনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, হ্রদটির নাম লেক অন্টারিওই থাকবে।   লেক অন্টারিও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত। হ্রদটির নামের সঙ্গে স্থানীয় আদিবাসী ইতিহাসেরও সম্পর্ক রয়েছে। কানাডার কর্মকর্তারা বলছেন, নামটি ৪০০ বছরেরও বেশি পুরোনো এবং কানাডা প্রতিষ্ঠা ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণারও আগের।   লেকটির নাম পরিবর্তন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর আগে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। কানাডাও এর জবাবে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এই বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেই লেকটির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আরও তীব্র হয়েছে।   ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর কানাডার পক্ষ থেকে লেকটির তীরে বিশাল সাইনবোর্ড স্থাপনকে সেই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রতীকী জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাইনবোর্ডের বার্তায় কানাডা স্পষ্ট করেছে, দেশটির কাছে হ্রদটির নাম লেক অন্টারিওই থাকবে।   সূত্র: বিবিসি

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১০:২৩
উডস্টকের একটি আবাসিক এলাকায় ২০৪০ সাল পর্যন্ত ডেভেলপারের প্রভাব বজায় থাকার চুক্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাড়ির মালিকরা। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় বাড়ির মালিকদের অভিযোগ, ২০৪০ সাল পর্যন্ত ডেভেলপারের হাতেই থাকবে আবাসন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের উডস্টকের একটি আবাসিক এলাকায় বাড়ির মালিকরা অভিযোগ করেছেন, ২০৪০ সাল পর্যন্ত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনার ওপর মূল ডেভেলপারের প্রভাব বজায় থাকতে পারে। ভিলেজ অব টাউন লেক এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ২০২০ সালে করা একটি চুক্তির কারণে আবাসিক এলাকার বাড়ির মালিক সমিতির সঙ্গে ডেভেলপারের নিজস্ব সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক ২০৪০ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলাকার মূল ডেভেলপার ডেভিড পিয়ারসন ২০২০ সালে নিজের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওই চুক্তি করেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, চুক্তিটির মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটি এমন কিছু দায়িত্ব পেয়েছে, যেগুলো সাধারণত বাড়ির মালিক সমিতির বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। ফলে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ডেভেলপারের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন বাড়ির মালিক।   চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটিকে বছরে কমপক্ষে ৭৯ হাজার ডলার অথবা বাড়ির মালিক সমিতির মোট বাজেটের ২০ শতাংশ, যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ অর্থ দেওয়ার কথা রয়েছে। বাড়ির মালিকদের দাবি, গত কয়েক বছরে সমিতির বাজেট প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। এর ফলে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পারিশ্রমিকও বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ৬৩৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এ নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষের একটি উদাহরণ হিসেবে একটি বেড়া নিয়ে বিরোধের কথা উঠে এসেছে। বাড়ির মালিক জেসন সার্সি জানান, তিনি একটি বেড়া নির্মাণে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ ডলার খরচ করেছিলেন। পরে সম্পত্তির সীমানা নিয়ে বিরোধের কারণে সেটি সরিয়ে ফেলা হয়। তার দাবি, এ বিষয়ে তিনি কোনো ক্ষতিপূরণ বা যথাযথ যোগাযোগ পাননি।   বাড়ির মালিকদের আরও অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিক তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। একজন বাসিন্দা অন্য কয়েকটি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে খরচের হিসাব নেন। সেখানে সর্বোচ্চ প্রস্তাবও প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার ডলারের মধ্যে ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিকের পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা।   তবে ভিলেজ অব টাউন লেকের বাড়ির মালিক সমিতির সভাপতি বেকি রিপিক এই ব্যবস্থাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তাদের এলাকার ব্যবস্থাপনা কাঠামোটি অন্য সাধারণ বাড়ির মালিক সমিতির তুলনায় আলাদা। তার মতে, সমিতির বোর্ডের দায়িত্বও প্রচলিত বাড়ির মালিক সমিতির তুলনায় সীমিত। তিনি আরও দাবি করেন, অধিকাংশ বাসিন্দা এলাকায় সন্তুষ্ট এবং যারা আপত্তি তুলছেন তারা সংখ্যায় কম।   এদিকে চুক্তির বৈধতা ও ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জর্জিয়ার বাড়ির মালিক সমিতি-সংক্রান্ত আইন প্রণয়নে সহায়তাকারী আইনজীবী র‌্যান্ডি লিপশুটজ বলেছেন, চুক্তিটি যথাযথভাবে অনুমোদিত হয়ে থাকলে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিক নিজেই অবৈধ নাও হতে পারে। তবে বাড়ির মালিক সমিতির বোর্ডের ক্ষমতার বড় একটি অংশ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি আলাদা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   বিষয়টি সামনে আসার সময় জর্জিয়ায় বাড়ির মালিক সমিতি নিয়ে নতুন অভিযোগ ব্যবস্থাও চালুর প্রস্তুতি চলছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে এসব অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনার প্রক্রিয়া ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ভিলেজ অব টাউন লেকের বাসিন্দাদের অভিযোগও ভবিষ্যতে ওই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে।   এলাকার বাড়ির মালিকদের মূল উদ্বেগের জায়গা হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ, অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা। তাদের অভিযোগ, ২০৪০ সাল পর্যন্ত চলমান চুক্তির কারণে বাড়ির মালিক সমিতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডেভেলপারের প্রভাব সহজে শেষ হচ্ছে না। অন্যদিকে সমিতির পক্ষ থেকে ব্যবস্থাটিকে স্বতন্ত্র ও বিশেষ কাঠামো হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   সূত্র: দ্য কুল ডাউন, ১১অ্যালাইভ

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১০:২
অস্ত্রোপচারের সময় নির্ধারিত থাকলেও শেষ মুহূর্তে লাভজনক নয় অজুহাতে এক রোগীর চিকিৎসা বাতিল করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ছবি সংগৃহীত
অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা আগে রোগীকে ফোন, ‘খরচ লাভজনক নয়’ বলে চিকিৎসা বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা আগে এক রোগীর চিকিৎসা বাতিল করার অভিযোগ উঠেছে। রোগীর দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়, সেখানে অস্ত্রোপচারটি করা ‘খরচ লাভজনক নয়’। অস্ত্রোপচারের সময় আগে থেকেই নির্ধারিত থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   ওই রোগী জানান, একটি আঘাতের কারণে তার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন ছিল এবং প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসাটি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের সময় নির্ধারণের আগে তার বীমা সুবিধা যাচাই করা হয়। রোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার চিকিৎসকের কার্যালয় বীমা পরিকল্পনার প্রথম স্তরের আওতাভুক্ত ছিল।   তবে যে হাসপাতালটিতে অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল, সেটি ছিল বীমা পরিকল্পনার দ্বিতীয় স্তরের আওতাভুক্ত। সেখানে অস্ত্রোপচার করালে রোগীকে ২ হাজার ডলার ছাড়পূরণ এবং চিকিৎসা ব্যয়ের ৩০ শতাংশ বহন করতে হতো। বিষয়টি জানার পর সময় নির্ধারণকারী কর্মী প্রথম স্তরের আওতাভুক্ত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাটি করা যায় কি না, তা খুঁজে দেখেন।   রোগীর দাবি, পরে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয় এবং পরবর্তী সপ্তাহের জন্য অস্ত্রোপচারের সময়ও নির্ধারণ করা হয়। এতে চিকিৎসাটি নির্ধারিত সময়েই সম্পন্ন হবে বলে তিনি ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের আগের শুক্রবার বিকেলে তাকে ফোন করে জানানো হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেখানে অস্ত্রোপচারটি করাকে ‘খরচ লাভজনক নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।   রোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনটি আসে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে। ওই সময়ের মধ্যে অন্যান্য চিকিৎসা কার্যালয়ের বেশিরভাগই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তাকে হয় দ্বিতীয় স্তরের আওতাভুক্ত হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করিয়ে কয়েক হাজার ডলার বেশি খরচ করার, অথবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা করানোর জন্য অস্ত্রোপচার পিছিয়ে দেওয়ার পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।   রোগী প্রশ্ন তোলেন, তার বীমা যখন অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করার কথা, তখন হাসপাতাল কেন চিকিৎসাটি করতে চাইছে না। তার মতে, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন বা তার আঘাতের কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুধু চিকিৎসাটি কোন প্রতিষ্ঠানে হবে এবং সেই প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য অর্থপ্রাপ্তির বিষয়টিই পরিবর্তিত হয়েছে।   ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা, হাসপাতালের অর্থপ্রাপ্তি এবং চিকিৎসার খরচ নিয়ে আলোচনা করেন। কয়েকজন মন্তব্যকারী জানান, চিকিৎসক কোন প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রোপচার করছেন তার ওপর প্রতিষ্ঠানের খরচ ও অর্থপ্রাপ্তির পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।   একজন স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করেন বলে দাবি করা মন্তব্যকারী প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের ব্যবস্থার সঙ্গে অস্ত্রোপচারের প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সম্পর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দেন। অন্য একজন রোগীকে বীমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে রোগী সহায়তা কর্মকর্তার সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেন। কেউ কেউ আবার চিকিৎসা বিলম্বিত হলে সম্ভাব্য জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই রোগীর দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রোগী, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসা বাতিলের কারণ সম্পর্কেও স্বাধীন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই ঘটনাটি রোগীর নিজের বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হওয়া আলোচনার ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।   সূত্র: ডেইলি ডট

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৯:৪৫
কিশোরদের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত মা অ্যাশলি টন্টনের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছেন টেলর সুইফট। ছবি: সংগৃহীত
কিশোরদের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত মাকে ৫০ হাজার ডলার অনুদান দিলেন টেলর সুইফট

যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডে কিশোরদের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত এক মাকে ৫০ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছেন সংগীতশিল্পী টেলর সুইফট। আহত অ্যাশলি টন্টনের চিকিৎসা ব্যয়ে সহায়তার জন্য এই অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে এনবিসি নিউজ।   তিন সন্তানের মা অ্যাশলি টন্টন গত ১৮ জুলাই প্রবল বৃষ্টির মধ্যে রোড আইল্যান্ডের হপকিনটনে আন্তঃরাজ্য ৯৫ নম্বর মহাসড়কে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি সামনে থাকা একটি গাড়িকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে যেতে দেখেন। গাড়িতে থাকা কিশোরদের সহায়তা করতে তিনি নিজের গাড়ি থামিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান।   অ্যাশলি যখন দুর্ঘটনাকবলিত কিশোরদের সাহায্য করছিলেন, তখন আরেকটি গাড়িও বৃষ্টির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসে। তার স্বামী জো টন্টনের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাশলি মুহূর্তের মধ্যে অন্য একজনকে বিপদ থেকে সরিয়ে দেন। এতে দ্বিতীয় গাড়িটির আঘাতের বড় অংশ তার শরীরে লাগে।   দুর্ঘটনায় অ্যাশলি গুরুতর পায়ে আঘাত পান। একই সঙ্গে তার শরীরের ভেতরের বিভিন্ন অঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার ক্ষুদ্র ও বৃহদান্ত্রে আঘাত লাগে, লিভারে ক্ষত তৈরি হয় এবং ডায়াফ্রাম ছিঁড়ে যাওয়ায় একটি ফুসফুস ধসে পড়ে।   জো টন্টন জানান, অ্যাশলির অন্তত তিনটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। চিকিৎসার সময় তাকে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার নাকে খাবার ও ওষুধ দেওয়ার নলও লাগানো হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফেরেন এবং পায়ে বিশেষ সহায়ক যন্ত্র ব্যবহার করে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছেন।   অ্যাশলি তার চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার বিভিন্ন মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন অবস্থার ছবি থেকে শুরু করে বাড়িতে ফেরার পর পায়ে সহায়ক যন্ত্র ব্যবহারের ছবিও তিনি শেয়ার করেছেন।   চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে অ্যাশলির জন্য অনলাইন তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই তহবিলে টেলর সুইফট ৫০ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছেন। শুক্রবার অ্যাশলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অনুদানের কথা জানিয়ে বিস্ময় ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   অ্যাশলি জানান, সুইফটের এই সহায়তার খবর তার জন্য অত্যন্ত বিস্ময়কর ও আবেগপূর্ণ ছিল। তিনি সুইফটকে ধন্যবাদ জানান এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   অ্যাশলির স্বামী এর আগে জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনার সময় তার স্ত্রী নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে কিশোরদের সাহায্য করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিশোরদের বিপদ থেকে সরিয়ে দিতে গিয়ে তিনি নিজেই দ্বিতীয় গাড়িটির আঘাতের শিকার হন।   অ্যাশলির দুর্ঘটনার ঘটনা ও পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়গুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর তার সুস্থতার খবরও অনুসারীদের সঙ্গে নিয়মিত ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। পরে টেলর সুইফটের অনুদানের খবর প্রকাশ্যে আসে।   সূত্র: এনবিসি নিউজ

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৯:৩২
বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের সাধারণ মানুষের জন্য ৩৬ লাখ ডলারের বেশি মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
নেপালের বন্যাদুর্গতদের জন্য ৩৬ লাখ ডলারের মানবিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের জন্য ৩৬ লাখ ডলারের বেশি মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সহায়তার আওতায় বন্যাকবলিত সর্বোচ্চ ১০ হাজার পরিবারের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।   শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই মানবিক সহায়তার ঘোষণা দেয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, নেপাল ও চীনে থাকা মার্কিন দূতাবাসগুলো মার্কিন নাগরিকদের সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যক্রমে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।   হিমালয় অঞ্চলে বুধবার একটি হিমবাহের অংশ ধসে পড়ার পর নেপাল ও তিব্বত সীমান্তজুড়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। আকস্মিক এই বন্যায় সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকরাও রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন মার্কিন নাগরিক বলে জানানো হয়েছে।   নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক। অন্যদিকে নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।   বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ব্যাপকভাবে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। প্রায় ৩ হাজার নিখোঁজ মানুষের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। একই সঙ্গে দুর্গত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত মানবিক সহায়তার একটি অংশ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খাদ্য সহায়তায় ব্যবহার করা হবে। সর্বোচ্চ ১০ হাজার পরিবার এই জরুরি খাদ্য সহায়তার আওতায় আসবে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নেপাল ও চীনে থাকা তাদের দূতাবাসগুলো মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করছে।   হিমালয়ের হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট বন্যায় নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন এবং বিদেশি নাগরিকদেরও উদ্ধার কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।   নেপালে বন্যার পর চলমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই ৩৬ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা দুর্গত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৯:১৩
আশানুরূপ বেতন না দেয়ায় ক্ষোভে ৫০ কোটি ডলারের গুদামে আগুন দিলেন কর্মী
আশানুরূপ বেতন না দেয়ায় ক্ষোভে ৫০ কোটি ডলারের গুদামে আগুন দিলেন কর্মী

কর্মীদের বেতন নিয়ে ক্ষোভের জেরে ক্যালিফোর্নিয়ার অন্টারিওতে একটি বিশাল ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ২৯ বছর বয়সী এক গুদামকর্মীর বিরুদ্ধে। ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল ভোরে লাগা ওই আগুনে ১২ লাখ বর্গফুটের পুরো স্থাপনাটি ধ্বংস হয়ে যায়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের হিসাবে, এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার।   অভিযুক্ত চামেল আবদুলকারিম হাইল্যান্ড শহরের বাসিন্দা। তিনি ওই গুদামে সরাসরি পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কিম্বারলি-ক্লার্কের কর্মী ছিলেন না। তৃতীয় পক্ষের লজিস্টিকস কোম্পানি এনএফআই ইন্ডাস্ট্রিজের হয়ে সেখানে কাজ করতেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল রাত ১২টা ৩৪ মিনিটের দিকে অন্টারিওর একটি বড় ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে আগুনের খবর পায় পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, আবদুলকারিম গুদামের ভেতরে কাগজজাত পণ্যে ভরা একাধিক প্যালেটে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন ধরিয়ে দেন। তিনি সেই ঘটনার ভিডিওও ধারণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   ভিডিওতে বেতন নিয়ে তাকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের উদ্ধৃত করা বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বলেন, কর্মীদের জীবনযাপনের মতো বেতন দেওয়া হলে এমন ঘটনা ঘটত না। পরে ফোন কল ও মেসেজেও তিনি কর্মীদের উৎপাদিত মূল্যের আরও বেশি অংশ দেওয়ার কথা বলেন এবং শেয়ারহোল্ডারদের সমালোচনা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   আগুন দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বিপুল পরিমাণ টিস্যু, টয়লেট পেপার ও অন্যান্য কাগজজাত পণ্য মজুত ছিল। প্রচণ্ড আগুনে ভবনের ছাদ ধসে পড়ে এবং পুরো ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারটি ধ্বংস হয়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিপুলসংখ্যক দমকলকর্মী কাজ করেন। ওই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ভবনটির মূল্য এবং ভেতরে থাকা পণ্যের ক্ষতি মিলিয়ে মোট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ৬০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। এর মধ্যে কাগজজাত পণ্যের মূল্যই ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   ঘটনার পর আবদুলকারিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে একাধিক অগ্নিসংযোগের অভিযোগের পাশাপাশি ফেডারেল পর্যায়ে বাণিজ্যিক স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার ন্যূনতম পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।   ১৩ এপ্রিল অঙ্গরাজ্যের মামলায় আদালতে হাজির হয়ে আবদুলকারিম অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।   তদন্তকারীরা এফবিআই, ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস, অন্টারিও পুলিশ বিভাগ এবং অন্টারিও ফায়ার বিভাগের সঙ্গে মিলে তদন্ত চালাচ্ছেন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আবদুলকারিমকে আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৮:৫৯
অভিযুক্ত বাবা মো. মারুফ
আইফোন কিনতে শিশুসন্তানকে লাখ টাকায় 'বিক্রি করলেন বাবা'

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক লাখ টাকার বিনিময়ে দেড় বছরের ছেলে মুসাকে অন্যের কাছে লিখিতভাবে দিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   অভিযুক্ত বাবা মো. মারুফ ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি। ঘটনার পর থেকে তাঁর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পরিবার।   শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগমের ভাষ্য, শনিবার সকাল ৮টার দিকে মারুফ তাঁকে মুসাকে জামাকাপড় পরিয়ে দিতে বলেন। বাজারে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। দীর্ঘ সময় পরও বাবা-ছেলে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন।   পরে মারুফের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিশুটিকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে লিখিতভাবে দিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।   পরিবারের আরও দাবি, শিশুটিকে দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া টাকা দিয়ে মারুফ ঢাকায় গিয়ে একটি পুরোনো আইফোন দিয়ে নতুন আইফোন কেনেন। তবে এই দাবির স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   শিশুটিকে নেওয়ার অভিযোগ ওঠা ইমরান হোসেন বলেন, মারুফ দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর কাছে শিশুটিকে দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন। তাঁর শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে, কোনো ছেলে সন্তান নেই। এ কারণে মারুফের সঙ্গে আলোচনা করে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে লিখিতভাবে নেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে শিশুটিকে শ্বশুরের বাড়িতে রেখে আসেন বলেও জানান ইমরান।   শিশুটির দাদি জানান, প্রায় চার বছর আগে মারুফ ঢাকার সাভার থেকে বৃষ্টি নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। বিয়ের প্রায় তিন বছর পর তাঁদের ঘরে মুসার জন্ম হয়। প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে মারুফও ঢাকায় চলে যান। গত শুক্রবার সন্ধ্যার আগে তিনি বাড়িতে ফেরেন।   পরদিন সকালে নাতিকে সাজিয়ে দেওয়ার কথা বলে মারুফ তাকে নিয়ে বেরিয়ে যান। এরপর শিশুটিকে অন্যের কাছে দিয়ে দেওয়ার খবর জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।   মাহফুজা বেগম বলেন, তিনি তাঁর নাতিকে ফিরে পেতে চান এবং এ ঘটনায় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন।   দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে। শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠা ইমরান হোসেনকে থানায় হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।   ওসি জানান, শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ সরেজমিনে কাজ করছে। শিশুটিকে উদ্ধারের পর ঘটনার বিষয়ে আইনগত পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৮:৪৩
ইংল্যান্ডের নিচে সন্ধান মিলল ১০ লাখ পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী প্রাচীন আগ্নেয়গিরির
ইংল্যান্ডের নিচে সন্ধান মিলল ১০ লাখ পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী প্রাচীন আগ্নেয়গিরির

ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলের মাটির গভীরে ৪৫ কোটি বছরেরও বেশি পুরোনো একটি বিশাল সুপারভলকানোর অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভে ও ইউনিভার্সিটি অব অসলো’র গবেষণায় জানা গেছে, প্রাচীন এই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ছিল পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ঘটনা।    গবেষকদের ধারণা, সুপারভলকানোটির কেন্দ্র বর্তমান ইংল্যান্ডের পূর্ব উপকূলের দ্য ওয়াশ এলাকার গভীরে চাপা পড়ে আছে। প্রায় ৪৫ কোটি ৪৪ লাখ বছর আগে এর ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে কয়েকশ থেকে এক হাজার ঘনকিলোমিটার পর্যন্ত শিলা ও আগ্নেয় পদার্থ বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল। অগ্ন্যুৎপাতের শক্তি কয়েক হাজার হাইড্রোজেন বোমার সমান হতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।    এই আগ্নেয়গিরির অস্তিত্ব এত দিন সরাসরি বোঝা যায়নি। গবেষকরা প্রায় ৮০ বছর আগে নরফোকের নর্থ ক্রেক ও লিংকনশায়ারের ক্ল্যাক্সবি এলাকায় খনন করা বোরহোল থেকে সংগ্রহ করা পুরোনো শিলার নমুনা নতুন প্রযুক্তিতে পরীক্ষা করেন। সেখানে মানুষের চুলের ব্যাসের চেয়েও ছোট জিরকন ক্রিস্টাল বিশ্লেষণ করে আগ্নেয়গিরিটির বয়স নির্ধারণ করা হয়।    পরীক্ষায় দেখা যায়, নরফোক ও লিংকনশায়ারের নমুনাগুলোর জিরকন প্রায় একই সময়ে তৈরি হয়েছিল। এগুলোর বয়স প্রায় ৪৫ কোটি ৪৪ লাখ বছর। একই বয়সের আগ্নেয় ছাইয়ের স্তর স্ক্যান্ডিনেভিয়ার বিভিন্ন এলাকাতেও পাওয়া গেছে। রাসায়নিক বিশ্লেষণেও নমুনাগুলোর মধ্যে মিল পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বর্তমান ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলে ওই সুপারভলকানোর অগ্ন্যুৎপাত থেকে ছাই বাতাসে ভেসে প্রাচীন স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় পৌঁছেছিল।    ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভের প্রধান গবেষক টিম ফ্যারো বলেন, নতুন বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের গভীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য ওয়াশ ইগনিয়াস কমপ্লেক্স অব ইস্টার্ন ইংল্যান্ড’ শিরোনামের গবেষণাপত্রে।    তবে বর্তমান সময়ে এই আবিষ্কার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগ্নেয়গিরিটি বহু কোটি বছর আগেই বিলুপ্ত হয়েছে। বর্তমানে সেখানে কোনো অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা নেই।    গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু একটি প্রাচীন সুপারভলকানোর সন্ধান নয়, বরং কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীর ভূপ্রকৃতি, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এবং ইংল্যান্ড ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার মধ্যকার প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৮:১৬
ইরান থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, ট্রাম্প প্রশাসন পাঠাল আফ্রিকায় ছবি: সিএনএন
ইরান থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, ট্রাম্প প্রশাসন পাঠাল আফ্রিকায়

ইরানে রাজনৈতিক নিপীড়নের আশঙ্কায় দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন নিকা নামের এক তরুণী। কিন্তু নিরাপত্তার আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরও শেষ পর্যন্ত স্বস্তি মেলেনি তাঁর। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে তাঁকে এমন একটি দেশে ডিপোর্ট করা হয়েছে, যেখানে তিনি আগে কখনো যাননি এবং যার সঙ্গে তাঁর কোনো পারিবারিক বা সামাজিক সম্পর্কও নেই।   নিরাপত্তার কারণে নিজের আসল নাম প্রকাশ না করে ‘নিকা’ ছদ্মনামে কথা বলা এই ইরানি নারী বর্তমানে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বাঙ্গুইয়ে অবস্থান করছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানে ফিরে গেলে তাঁর জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় তিনি একজন মার্কিন ইমিগ্রেশন জজের কাছ থেকে এমন একটি সুরক্ষা আদেশও পেয়েছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো ঠেকানো, যেখানে নির্যাতন বা মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।   সিএনএনের পর্যালোচনা করা নথি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে সীমান্তে আটক হওয়ার পর নিকা কয়েক মাস আইসিই হেফাজতে ছিলেন। পরে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁকে সাময়িকভাবে স্বাধীনভাবে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। জুনে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি থেকে একটি নোটিশ পেয়ে তিনি নিয়মিত বৈঠক মনে করে সেখানে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।   এর তিন দিন পর, ১১ জুন সন্ধ্যায় হাতকড়া ও পায়ে শিকল পরিয়ে তাঁকে একটি ডিপোর্টেশন ফ্লাইটে তোলা হয়। একই ফ্লাইটে আফগানিস্তান, ইরাক ও জর্জিয়াসহ বিভিন্ন দেশের আরও ১৭ জন অভিবাসী ছিলেন। নিকার দাবি, বিমানে ওঠার আগে তিনি জানতেন না তাঁকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে। বিমানের আসনের সামনে থাকা ছোট স্ক্রিনে গন্তব্য দেখার পর তিনি জানতে পারেন, তাঁকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানো হচ্ছে।   নিকার ইমিগ্রেশন আইনজীবী সাহার জালিলি পাওয়েলস্কি শেষ মুহূর্তে তাঁকে ওই ফ্লাইট থেকে নামানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে তা সম্ভব হয়নি।   বাঙ্গুইয়ে পৌঁছানোর পরও নিকার জীবন স্বাভাবিক হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, নিরাপত্তার আশঙ্কায় বেশিরভাগ সময় অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরেই থাকেন। প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বাইরে গেলে স্থানীয় পুলিশ তাঁকে থামিয়ে ঘুষ দাবি ও গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে স্থানীয় পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।   এ ছাড়া নিকা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে অপরাধ, অপহরণ, রোগব্যাধি ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির কারণে দেশটিতে ভ্রমণের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা জারি করেছে।   নিকার মতো অভিবাসীদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করছে। নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আদালতের বাধা থাকলে তৃতীয় দেশে পাঠানোর এই নীতিই এখন বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে।   মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অবশ্য এসব ডিপোর্টেশনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিভাগটির দাবি, যাদের পাঠানো হয়েছে তারা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপসারণের আদেশ ছিল।   মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই ডিপোর্টেশন ব্যবস্থার বিস্তারিত চুক্তি প্রকাশ্যে আসেনি। এদিকে নিকা ও তাঁর সঙ্গে পাঠানো অন্য অভিবাসীদের বলা হয়েছিল, তাঁরা সেখানে প্রাথমিকভাবে তিন মাসের জন্য থাকতে পারবেন। ৩১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে দ্বিতীয় একটি ডিপোর্টেশন ফ্লাইটে আরও ৩১ জনকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানো হয়।   এখন নিকার সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, অস্থায়ী থাকার সুযোগ শেষ হলে তাঁকে শেষ পর্যন্ত আবার ইরানে ফেরত পাঠানো হতে পারে। তাঁর আইনজীবী যুক্তরাষ্ট্রে একটি ফেডারেল মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাতে নিকাকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে এনে তাঁর অ্যাসাইলাম আবেদন পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়া যায়।   ইরান থেকে নিরাপত্তার আশায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা নিকার জীবনের এই পরিণতি তৃতীয় দেশে ডিপোর্টেশন নীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। যে দেশটিকে তিনি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ভেবেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই দেশ থেকেই তাঁকে এমন এক জায়গায় পাঠানো হয়েছে, যেখানে তাঁর নিজের ভাষায়, ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। সূত্র: সিএনএন

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৭:৫৯
১৩ ছেলেকে নিয়ে আমেরিকার সবচেয়ে বড় ছেলে-সন্তানের পরিবার এই দম্পতির
১৩ ছেলেকে নিয়ে আমেরিকার সবচেয়ে বড় ছেলে-সন্তানের পরিবার এই দম্পতির

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির হ্যারিসন পরিবার ১৯৫৫ সালে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে ১৩ ছেলে নিয়ে একটি ছবি প্রকাশের পর। এমোরি ও থেলমা হ্যারিসনের সন্তানদের নিয়ে তোলা ওই ছবি পরিবারটির অস্বাভাবিক বড় আকার এবং একের পর এক ছেলে সন্তানের জন্মের কারণে সে সময় ব্যাপক সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ তৈরি করেছিল।   জোন্সবরো ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী এই পরিবারকে সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অল-বয় পরিবারগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরা হয়। ছবিতে হ্যারিসন দম্পতির ১৩ জীবিত ছেলেকে একসঙ্গে দেখা যায়। পরবর্তী পারিবারিক নথি অনুযায়ী, থেলমা মোট ১৪টি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। তাদের একজন, আলভিন ল্যান্ডন হ্যারিসন, ১৯৩৫ সালে শিশুকালেই মারা যায়। ফলে পরিবারের ১৩ ছেলে বেঁচে ছিল।   পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, এমোরি ও থেলমার প্রথম সন্তান গাই লেস্টার হ্যারিসন জন্ম নেন ১৯৩৪ সালে। এরপর একে একে পরিবারে যোগ হয় আরও ছেলেসন্তান। ১৯৫৫ সালে জন্ম নেওয়া ইভান হিউস্টন হ্যারিসন ছিলেন জীবিত ছেলেদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। এত বড় একটি ছেলে-সন্তানের পরিবারই হ্যারিসনদের জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করে তোলে।   তবে পরিবারের গল্প সেখানেই শেষ হয়নি। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ছেলে সন্তানের পর ১৯৫৮ সালের ২৮ এপ্রিল টেনেসির জনসন সিটির একটি হাসপাতালে থেলমা জন্ম দেন কন্যাসন্তান বারবারা অ্যানকে। ওই সময়ের সংবাদপত্রে ঘটনাটিকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। সন্তান জন্মের পর এমোরি ও থেলমাকে নবজাতক মেয়েটিকে কোলে নিয়ে থাকতে দেখা যায়।   বারবারার জন্মের মধ্য দিয়ে পরিবারের দীর্ঘ ছেলে সন্তান জন্মের ধারায় পরিবর্তন আসে। ১৩ জীবিত ছেলেকে ঘিরে যে পরিবারটি কয়েক বছর আগেই জাতীয় সংবাদে পরিণত হয়েছিল, সেখানে এবার যোগ হয় একমাত্র কন্যাসন্তান।   হ্যারিসন পরিবারের পারিবারিক নথিতে মোট ১৪ ছেলে এবং পরে বারবারা অ্যানের জন্মের তথ্য পাওয়া যায়। ফ্যামিলি সার্চের নথিতেও আলভিনকে ১৯৩৫ সালে মারা যাওয়া সন্তান হিসেবে এবং বারবারাকে ১৯৫৮ সালে জন্ম নেওয়া কন্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   হ্যারিসন পরিবারের এই ব্যতিক্রমী গল্পের আরেকটি অধ্যায় শেষ হয় ২০২৬ সালে। এমোরি ও থেলমার কন্যা বারবারা অ্যান হ্যারিসন রবার্টস ২৪ এপ্রিল ২০২৬ সালে ৬৭ বছর বয়সে মারা যান। তাঁর মৃত্যুসংবাদে তাঁকে এমোরি ও থেলমার কন্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাঁর ভাইদের মৃত্যুর তথ্যও দেওয়া হয়েছে।   এমোরি হ্যারিসন ১৯৭১ সালে এবং থেলমা হ্যারিসন ১৯৭৬ সালে মারা যান। তাঁদের সন্তানদের পরবর্তী জীবন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন টেনেসিতে থেকে গেলেও পরিবারের সদস্যরা পরবর্তীতে ইন্ডিয়ানা ও টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও বসবাস করেন।   তবে ১৯৫৫ সালের সেই ছবি আজও হ্যারিসন পরিবারের সবচেয়ে পরিচিত স্মৃতি হয়ে আছে। একদিকে ১৩ জীবিত ছেলেকে নিয়ে জাতীয়ভাবে আলোচিত হওয়া, অন্যদিকে চার বছর পর দীর্ঘ ছেলে সন্তান জন্মের ধারার পর একটি মেয়ের আগমন, সব মিলিয়ে পরিবারটির গল্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের এক বিরল মানবিক কাহিনি হয়ে রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৭:৩৯
এআই-নির্মিত 'শিশু যৌ/ন ছবি' রাখার মামলা বাক্‌স্বাধীনতার ভিত্তিতে খারিজ আপিল আদালতের
এআই-নির্মিত 'শিশু যৌ/ন ছবি' রাখার মামলা বাক্‌স্বাধীনতার ভিত্তিতে খারিজ আপিল আদালতের

যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে ফেডারেল আপিল আদালত। আদালত বলেছে, প্রায় ২৫ বছর আগের মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের কারণে এ ধরনের উপাদান ব্যক্তিগতভাবে রাখাকে নিষিদ্ধ করার সুযোগ তাদের নেই।   সপ্তম সার্কিট আপিল আদালত স্টিভেন অ্যান্ডেরেগ নামে এক ব্যক্তির মামলায় নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। তদন্তকারীদের দাবি, উইসকনসিনের ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে জব্দ করা ডিভাইসে শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক শত শত এআই-নির্মিত ছবি পাওয়া যায়।   অ্যান্ডেরেগের বিরুদ্ধে এআই-নির্মিত যৌন নিপীড়নমূলক উপাদান তৈরি ও বিতরণ, ১৬ বছরের কম বয়সী এক শিশুর কাছে তা পাঠানো এবং এসব উপাদান নিজের কাছে রাখার অভিযোগ আনা হয়। তবে ফেডারেল জেলা আদালত শুধু ব্যক্তিগতভাবে উপাদান রাখার অভিযোগটি বাতিল করে। এরপর বিচার বিভাগ সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে।   আপিল আদালতও ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণের অভিযোগ বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। আদালতের যুক্তি, ২০০২ সালে সুপ্রিম কোর্টের ‘ফ্রি স্পিচ কোয়ালিশন’ মামলার রায় অনুযায়ী, বাস্তব কোনো শিশুকে ব্যবহার না করে তৈরি কাল্পনিক শিশুদের যৌন ছবি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে প্রথম সংশোধনীর সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রযোজ্য হতে পারে।   তবে বর্তমান এআই প্রযুক্তি সেই পুরোনো আইনি সীমারেখাকে জটিল করে তুলেছে বলে সতর্ক করেছেন আপিল আদালতের দুই বিচারক। বিচারক জন লি লিখেছেন, ২৫ বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট যে সময়ে রায় দিয়েছিল, তখন আজকের মতো বাস্তবসম্মত ছবি তৈরির এআই প্রযুক্তি কল্পনাও করা কঠিন ছিল।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতিতে আদালতের সামনে নতুন কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আগের সিদ্ধান্তের অধীনে থাকার কারণে আপিল আদালত নিজেরাই সেই আইনি সীমারেখা নতুন করে নির্ধারণ করতে পারেন না।   বিচারক লি ও বিচারক জোশুয়া কোলার আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এআই দিয়ে তৈরি ছবি এখন বাস্তব শিশুকে নিয়ে তৈরি যৌন নিপীড়নের উপাদান থেকে প্রায় আলাদা করা যায় না। এমনকি এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত কিছু বড় তথ্যভান্ডারে বাস্তব শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান থাকার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করেছেন।   তবে বিচারকরা স্পষ্ট করেছেন, এই নির্দিষ্ট মামলায় সরকার বিষয়টি আদালতের সামনে উপস্থাপন করেনি এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্যও মামলার নথিতে নেই।   অন্যদিকে মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন, অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এআই-নির্মিত উপাদানের বিস্তার তদন্তকারীদের জন্য বাস্তব ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।   দুই দশকের বেশি আগে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্লারেন্স থমাসও প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নিয়ে একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তার মতে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে বাস্তব শিশুদের ওপর নির্যাতনের মাধ্যমে তৈরি অবৈধ উপাদান এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি উপাদানের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।   ফলে নতুন এই রায় যুক্তরাষ্ট্রে এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে পুরোনো আইন ও সাংবিধানিক নজিরের সংঘাত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৭:১৮
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেল
ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভের আশঙ্কায় নিজ দলের সম্মেলন এড়ালেন মিশিগানের ইহুদি অ্যাটর্নি জেনারেল

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেল ইহুদিবিদ্বেষী হয়রানির আশঙ্কায় নিজের দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্মেলনে অংশ নেননি। গত ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত দলটির অঙ্গরাজ্য সম্মেলনে তার অনুপস্থিতি নতুন করে দলটির অভ্যন্তরীণ বিভাজন সামনে এনেছে।    নেসেল আগেই জানিয়েছিলেন, সম্মেলনে গেলে তাকে ধাওয়া করা, হয়রানি করা, চিৎকার করে বাধা দেওয়া কিংবা দুয়োধ্বনি দেওয়ার আশঙ্কা করছেন। তার দাবি, অতীতের দলীয় আয়োজনে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।    ঘটনার পেছনে মূলত ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তীব্র মতপার্থক্য কাজ করছে। দলটির প্রগতিশীল অংশের অনেকেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করছেন। অন্যদিকে নেসেলসহ ইসরায়েলপন্থী ডেমোক্র্যাটরা দলটির ভেতরে ইহুদিবিদ্বেষ বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।    এরই মধ্যে মিশিগানের ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইসরায়েল নিয়ে তার অবস্থান এবং অতীতের কিছু মন্তব্যের কারণে দলটির ইহুদি নেতাদের একটি অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে এল-সাইয়েদ ইহুদিদের নিরাপত্তার প্রতি তার অঙ্গীকারের কথা বলেছেন এবং সম্প্রতি একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।    এদিকে নেসেলের সম্মেলন বর্জনের পর প্রায় ২০০ জন ইহুদি নেতা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কার্টিস হার্টেলকে চিঠি দিয়ে সম্মেলনে ইহুদি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।    পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্মেলনে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রবেশপথে তল্লাশি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের হয়রানি বা বিশৃঙ্খলা হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।    ফলে মিশিগানের ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্মেলন শুধু প্রার্থী বাছাইয়ের আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু, ইহুদি নিরাপত্তা এবং দলটির অভ্যন্তরীণ মতাদর্শগত বিভাজনও সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৬:৫১