- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাসরত ৩৫ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলার এক নাগরিককে প্রায় ৬ হাজার মাইল দূরে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়ায় নির্বাসন দিয়েছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। কার্লোস টেলেজ সানচেজ নামের ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, ফ্লাইট ছাড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি জানতে পারেন যে তাকে সিয়েরা লিওন এবং আইভরি কোস্টের মধ্যবর্তী দেশ লাইবেরিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। এর আগে তিনি কখনো এই দেশটির নামও শোনেননি। হাতকড়া পরা অবস্থায় আটলান্টিকের ওপর দিয়ে ১৫ ঘণ্টার দীর্ঘ বিমানযাত্রা শেষে বর্তমানে তিনি পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটির এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে আটকা পড়েছেন। স্ত্রী এবং পাঁচ মাস বয়সী মার্কিন নাগরিক সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে রেখে এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পড়ে তিনি সিবিএস নিউজকে এক ভিডিও কলে বলেন, "আমি বুঝতে পারি না, যে দেশ নিজেকে 'গ্লোবাল হিরো' বা বিশ্বনেতা বলে দাবি করে, তারা একজন মানুষের সাথে কীভাবে এমন অমানবিক আচরণ করতে পারে।" ২০২১ সালে নিজ দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে পালিয়ে বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন সানচেজ। এরপর থেকে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য দিনের বেলা ডালাসের একটি গাড়ির শোরুমে এবং রাতে উবার ইটসের চালক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘন ছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে এক ইমিগ্রেশন বিচারক সানচেজকে ভেনেজুয়েলায় ফেরত পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন, কারণ সেখানে তার নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু সেই আইনি আদেশ আইসিই-কে তাকে অন্য কোনো তৃতীয় দেশে নির্বাসন দেওয়া থেকে আটকাতে পারেনি। ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একটি নিয়মিত ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্টে গিয়ে আইসিই-এর হাতে আটক হন সানচেজ। আট মাস ডিটেনশন সেন্টারে থাকার পর শেষমেশ তাকে আফ্রিকায় নির্বাসন দেওয়া হয়। গত দেড় বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের কয়েক ডজন দেশের সাথে তথাকথিত "তৃতীয় দেশ" বা থার্ড কান্ট্রি নির্বাসন চুক্তি করেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ সুদান এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের মতো বিপজ্জনক দেশও রয়েছে। লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভিয়া থেকে এক ঘণ্টারও বেশি দূরত্বের একটি অস্থায়ী হোটেলে সানচেজ এখন সময় কাটাচ্ছেন, যেখানে তার মতো ব্রাজিল, কলম্বিয়া এবং হন্ডুরাস থেকে নির্বাসিত অন্যান্যরাও রয়েছেন। ডালাসে বসবাসরত সানচেজের ভাই হুয়ান টেলেজ জানান, তার ভাইকে কেন লাইবেরিয়ায় পাঠানো হলো তার কোনো ব্যাখ্যা কেউ দেয়নি। তিনি তার ভাইকে একজন ভালো ও কঠোর পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার সাথে যা ঘটেছে তা কোনোভাবেই তার প্রাপ্য নয়। এই ঘটনায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেনি। এই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে লাইবেরিয়ায় থাকা সানচেজ আক্ষেপ করে বলেন, "এটি এমন একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি, যা আমি আমার শত্রুর জন্যও কামনা করি না।"
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই শেয়ারবাজার—নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ (এনওয়াইএসই) ও নাসডাকের মধ্যে তালিকাভুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা নতুন নয়। তবে এবার এই লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছে দেশটির বৈধ গাঁজা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম ‘অন দ্য মানি’ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীয় আইনি প্রতিবন্ধকতা শিথিল হতে শুরু করায় গাঁজা কোম্পানিগুলোর প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও আনার তোড়জোড় ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। রাজ্য পর্যায়ে বৈধতা থাকলেও কেন্দ্রীয় কড়াকড়ির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো এতদিন ব্যাংকিং সুবিধা এবং মূলধন বাজারে প্রবেশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। তবে গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক নির্বাহী আদেশে গাঁজাকে ‘শিডিউল ৩’ নিয়ন্ত্রিত দ্রব্যের তালিকায় নামিয়ে আনা হয়। এর ফলে এটি আর হেরোইনের মতো মারাত্মক মাদক হিসেবে গণ্য না হয়ে চিকিৎসায় ব্যবহারের পথ সুগম হয়। পরবর্তীতে গত এপ্রিলে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ডিইএ) বিষয়টিকে আইনি রূপ দেয়। নতুন নিয়মে ডিইএ-তে চিকিৎসা সংক্রান্ত কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হলে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে প্রবেশে আর কোনো বাধা থাকছে না। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমানে ৫০ বিলিয়ন ডলারের এই শিল্প ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় কোম্পানিগুলোকে নিজেদের তালিকায় টানতে মুখিয়ে আছে দুই এক্সচেঞ্জই। এই দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে এনওয়াইএসই। ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচভিত্তিক গাঁজা ও সংশ্লিষ্ট পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্লাস হাউস ব্র্যান্ডস’ গত ৩০ জুন এনওয়াইএসইতে আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে ফ্লোরিডার প্রতিষ্ঠান ‘ট্রুলাইভ’-কেও নিজেদের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে তারা। গ্লাস হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, এনওয়াইএসইর সঙ্গে আলোচনার মাঝেই নাসডাকও তাদের দ্রুততম সময়ে তালিকাভুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল। সাধারণত এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট, অ্যাপল ও অ্যামাজনের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পছন্দ নাসডাক; অন্যদিকে এনওয়াইএসইতে ব্যাংক, জ্বালানি ও স্বাস্থ্য খাতের আধিপত্য বেশি। তবে সম্প্রতি রিটেল জায়ান্ট ওয়ালমার্টকে এনওয়াইএসই থেকে নিজেদের প্ল্যাটফর্মে টেনে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে নাসডাক। তালিকাভুক্তির কম খরচও (এনওয়াইএসইতে বার্ষিক প্রায় ৫ লাখ ডলারের বিপরীতে নাসডাকে অর্ধেকেরও কম) নাসডাকের প্রতি আগ্রহ বাড়াচ্ছে। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে আনার প্রস্তুতির পাশাপাশি গাঁজা শিল্প এখন এই দুই এক্সচেঞ্জের নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। খাত সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শিগগিরই গাঁজাকে ‘শিডিউল ৩’ থেকে আরও শিথিল করে ‘শিডিউল ৪’ বা ‘৫’-এ নিয়ে আসবেন। এতে করে এটি পুরোপুরি কার্যকর বৈধতা পাবে এবং সাধারণ বিনোদনমূলক ব্যবহারের পণ্য তৈরিতেও মূলধন বাজারের বিপুল তহবিল ব্যবহারের চূড়ান্ত দ্বার উন্মোচিত হবে।
যুক্তরাজ্যের এক নারীর মুখের ক্যানসারকে প্রাথমিকভাবে ‘মাউথ থ্রাশ’ বা সাধারণ ঘা হিসেবে ভুল রোগ নির্ণয় করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ভয়াবহ এই ক্যানসার থেকে বাঁচতে ১৩ ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পায়ের একটি অংশ কেটে জিভ পুনর্গঠন করতে হয়েছে। ৫৪ বছর বয়সী এলেইন সয়্যার নামের ওই নারী বর্তমানে ক্যানসারমুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে এলেইন প্রথম তার জিভে একটি ছোট ঘা এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তি লক্ষ্য করেন। শুরুতে এক চিকিৎসক এটিকে ‘মাউথ থ্রাশ’ বলে চালিয়ে দিলেও নিজের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের ওপর ভরসা করে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দ্বিতীয় একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। নতুন চিকিৎসক তাকে কুইন ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের একটি বিশেষজ্ঞ ওয়ার্ডে পাঠান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার জিভে স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা বা ক্যানসার ধরা পড়ে, যা ততদিনে তার গলার লিম্ফ গ্ল্যান্ড বা লসিকাগ্রন্থি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। রোগ নির্ণয়ের পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে এলেইনের জিভের অর্ধেক অংশ কেটে ফেলা হয় এবং পায়ের একটি অংশ দিয়ে তা প্রতিস্থাপন করা হয়। পায়ের টিস্যু হওয়ায় অস্ত্রোপচারের পর তার জিভে সামান্য চুলও গজিয়েছিল, যা টানা ছয় সপ্তাহের ‘নির্মম’ রেডিওথেরাপির কারণে পরে ঝরে যায়। এলেইন জানান, অস্ত্রোপচারের পর পায়ের মাংসপেশি কেটে নেওয়ায় তাকে নতুন করে হাঁটা শিখতে হয়েছিল। কথা বলার জন্য তাকে একটি হোয়াইটবোর্ড দেওয়া হলেও জিভ সচল রাখতে তিনি জোর করেই কথা বলার চেষ্টা করতেন। গলার লসিকাগ্রন্থিগুলো ফেলে দেওয়ায় এবং জিভের অর্ধেক অংশ পায়ের টিস্যু দিয়ে তৈরি হওয়ায় এখন তার মাংস, সালাদ, মসলাযুক্ত খাবার বা ওয়াইন পানে বেশ কষ্ট হয়। কেন্ট-এর টুনব্রিজ ওয়েলসের সাবেক এই ক্যাটারিং ব্যবসায়ী জীবনে কখনো ধূমপান বা মদ্যপান করেননি, তাই কেন তার এই ক্যানসার হলো তা নিয়ে চিকিৎসকরাও বিস্মিত। ২০২৫ সালের শরতে প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের এনএইচএস-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বছরে মুখের ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ২৯৩-এ পৌঁছেছে, যা গত এক দশকে ৩৭ শতাংশ বেশি। তরুণদের মধ্যে এই ক্যানসারের প্রকোপ বৃদ্ধির পেছনে নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে না যাওয়ার প্রবণতাকে দায়ী করেছেন এলেইন। শুরুতে সাধারণ ঘায়ের মতো দেখতে এই মারণব্যাধি সম্পর্কে সবাইকে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে ভারতীয় তরুণী নিকিতা গোডিশালাকে (২৭) কুপিয়ে হত্যার দীর্ঘ আট মাস পর প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নববর্ষের প্রাক্কালে মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে ভারতে আত্মগোপন করেছিল অর্জুন শর্মা (২৬) নামের ওই যুবক। সম্প্রতি প্রতারণার একটি মামলার তদন্তে নেমে হায়দরাবাদ পুলিশের একটি দল উত্তরপ্রদেশের আগ্রার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে শনাক্ত করে। বর্তমানে তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত ২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ হন পেশায় ডেটা ও স্ট্র্যাটেজি অ্যানালিস্ট নিকিতা। পরে ম্যারিল্যান্ডের কলম্বিয়ায় তারই সাবেক রুমমেট অর্জুন শর্মার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ছুরিকাঘাত করা অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করে হাওয়ার্ড কাউন্টি পুলিশ। পুলিশের ধারণা, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতেই তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অর্জুনের বিরুদ্ধে ফার্স্ট ও সেকেন্ড-ডিগ্রি খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল মার্কিন পুলিশ। আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অর্জুনের গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত হলেও ঠিক কবে নাগাদ তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানা যায়নি। মার্কিন পুলিশের বর্ণনায় অর্জুনকে নিকিতার সাবেক প্রেমিক বলা হলেও, নিহত তরুণীর বাবা আনন্দ গোডিশালা জানিয়েছেন, তারা কেবল রুমমেট ছিলেন। তার দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূলত আর্থিক বিরোধই দায়ী। পরিবারের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে চাকরি হারানোর পর নিকিতা ও তার পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার নিয়েছিল অর্জুন। সেই টাকা ফেরত না দেওয়ায় গত এপ্রিলে তেলেঙ্গানায় অর্জুনের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন আনন্দ। এই মামলার সূত্র ধরেই তদন্তে নেমে আগ্রায় তার সন্ধান পায় পুলিশ। পরে তাকে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে হাজির করা হলে গত ২৫ আগস্ট আদালত তাকে রিমান্ডে পাঠায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চার বছর ধরে বসবাস করা নিকিতার পরিবার মেয়ের হত্যাকারীর এই গ্রেপ্তারকে বিচারের পথে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।
জার্মানির একটি আদালত ১৯৯৪ সালে মার্কিন পর্যটক অ্যামি লোপেজকে (২৪) ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে শুক্রবার ৮১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। দীর্ঘ ৩২ বছর পর ডিএনএ প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির ফলেই চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় দেওয়া সম্ভব হয়েছে। জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোবলেঞ্জের রাইন নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক এহরেনব্রেইটস্টাইন দুর্গের কাছে ওই মার্কিন পর্যটকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল স্থানীয় কয়েকজন শিশু। চলতি বছরের শুরুতে কোবলেঞ্জ পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ভুক্তভোগীকে শ্বাসরোধ করার পাশাপাশি পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত এবং একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। হত্যার পর দীর্ঘ তিন দশক পুলিশ অপরাধীকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলেও, অবশেষে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি বৃদ্ধাশ্রম থেকে 'হ্যান্স এস' নামের ওই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৯৯ সালে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তার ডিএনএ পুলিশের কাছে সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে সেই জিনগত তথ্য মুছে ফেলা হলেও, পুলিশ সন্দেহভাজন বৃদ্ধের নতুন লালার নমুনা সংগ্রহ করে। প্রসিকিউটররা জানান, এই নমুনার সাথে নিহত লোপেজের পোশাকে পাওয়া ডিএনএ-র হুবহু মিল পাওয়া যায়। কোবলেঞ্জের আঞ্চলিক আদালত প্রমাণ পেয়েছে যে, অভিযুক্ত হ্যান্স এস ইয়ুথ হোস্টেলের রাস্তা দেখানোর অজুহাতে লোপেজকে একটি নির্জন পথে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করে। আদালত জানিয়েছে, অপরাধের মাত্রা এতটাই গুরুতর যে অপরাধীর আগাম মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। বিচারকের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মূলত ধর্ষণের জন্য কোনো শিকার খুঁজছিল এবং দুর্ভাগ্যবশত টেক্সাস থেকে ঘুরতে আসা লোপেজ ভুল সময়ে ভুল জায়গায় উপস্থিত ছিলেন। প্রসিকিউটর অফিস জানায়, কয়েক দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা এই কোল্ড কেসের সুরাহা করতে তদন্তকারীরা লোপেজের পোশাক এবং প্রায় ১ হাজার ৬০০টি নমুনা পুনরায় পরীক্ষা করেন। পরবর্তীতে একটি পুরুষ ডিএনএ পাওয়ার পর ২০২৪ সালে পুলিশ অপরাধীকে ধরতে আড়াই হাজার ইউরো পুরস্কার ঘোষণা করে। এছাড়া 'আকতেনজাইচেন এক্সওয়াই' নামের একটি ট্রু-ক্রাইম প্রোগ্রামে মামলাটি প্রচারের পর স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই রহস্যের জট খুলতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই ঐতিহাসিক মামলায় নিহতের পরিবার সহ-বাদী হিসেবে যুক্ত ছিল।
নিউইয়র্কের ব্যস্ত মহাসড়কে নিরীহ চালকদের টার্গেট করে একের পর এক সাজানো গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটাত একটি চক্র। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বীমা কোম্পানির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ আদায় করা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। টিকটকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর সূত্র ধরে এই প্রতারণা চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বীমা জালিয়াতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় হাইমে হুইরাকোচা (৫৩) এবং ভিক্টর মুরিলো (৩৪) নামের দুই প্রতারককে যথাক্রমে এক থেকে তিন বছর এবং দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা কাটজ এই শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কাটজ জানান, এই চক্রটিকে ধরার ক্ষেত্রে তার ১৫ বছর বয়সী ছেলের দেখানো একটি টিকটক ভিডিও সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বেল্ট পার্কওয়েতে একটি হোন্ডা সিভিক গাড়ি ইচ্ছাকৃতভাবে পেছনের দিকে এসে আরেকটি গাড়িকে ধাক্কা দিচ্ছে। কাটজ সাংবাদিকদের বলেন, ভিডিওটি ছিল মূলত তাদের ঘটানো তৃতীয় দুর্ঘটনার দৃশ্য। এই ভিডিওর ওপর ভিত্তি করেই তদন্ত শুরু হয় এবং হুইরাকোচা ও মুরিলোর সাজানো তিনটি দুর্ঘটনার আসল সত্য বেরিয়ে আসে। ব্রুকলিনের বাসিন্দা এই দুই প্রতারকের কৌশল ছিল অভিনব। মুরিলো গাড়ি চালিয়ে হঠাৎ ব্রেক কষতেন, যাতে পেছনের গাড়ি এসে তার গাড়িতে ধাক্কা দেয়। এরপর পেছনের সিটে বসা সহযোগীরা প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে জানালার কাঁচ ঢেকে ফেলতেন, যাতে মুরিলো সবার অগোচরে সিট পরিবর্তন করে পালিয়ে যেতে পারেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট বেল্ট পার্কওয়েতে ৪৭ বছর বয়সী এক নারীর গাড়ির সামনে হঠাৎ ব্রেক কষে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটিয়েছিল মুরিলো। সেই ঘটনায় চক্রটি বীমা কোম্পানির কাছ থেকে ব্যক্তিগত আঘাতের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৭৯ হাজার ডলার হাতিয়ে নেয়। এরপর ৩ অক্টোবর আরেকটি ঘটনায় মুরিলো একটি ট্রাকের সামনে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটায়। তবে ট্রাকচালক প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এই ঘটনায় তারা ৫ হাজার ডলার আদায় করেছিল। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে ১৬ অক্টোবর, যেখানে এক নারী চালকের গাড়ির সামনে হঠাৎ ব্রেক কষে দুর্ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে মুরিলো। নারীটি ব্রেক করে সংঘর্ষ এড়ালেও মুরিলো তার গাড়িটি রিভার্স করে সজোরে ধাক্কা দেয়। এই ঘটনার ড্যাশক্যাম ফুটেজই অনলাইনে ভাইরাল হয়ে তাদের ধরিয়ে দেয়। প্রতারণার এই মহোৎসব বন্ধ করতে নিউইয়র্ক স্টেট কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কাটজের সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানান, গত পাঁচ বছরে নিউইয়র্কে সাজানো দুর্ঘটনার পরিমাণ তিনগুণ বেড়েছে। ২০২৩ সালে প্রায় ১,৭০০টি এমন সাজানো দুর্ঘটনা ঘটেছিল, যা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই ধরনের প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার সুযোগ নিচ্ছিল, যার ফলে সাধারণ নিউইয়র্কবাসীকে বছরে প্রায় ৪ হাজার ডলার গাড়ি বীমা ফি গুনতে হচ্ছে, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে দেড় হাজার ডলার বেশি। গভর্নর হোকুল আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে দ্রুতই সাধারণ মানুষের বীমা খরচ কমে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফার্স্ট সন’ ব্যারন ট্রাম্প (২০) বর্তমানে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা এক নিভৃতচারী জীবনযাপন করছেন। বাবা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ধারাবাহিক হত্যাচেষ্টা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির কারণেই তিনি নিজেকে লোকচক্ষুর আড়ালে সরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের মতে, নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষের পাঠ চুকিয়ে ব্যারন তার গ্রীষ্মকালীন ছুটির বেশিরভাগ সময় মা ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সাথে নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে কাটাচ্ছেন। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত অন্তত তিনবার হত্যাচেষ্টার হাত থেকে বেঁচে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আমেরিকার শত্রুদের নজর থেকে রক্ষা পাননি তার ছোট ছেলে ব্যারনও। সম্প্রতি ইরানের কট্টরপন্থিরা "ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় হত্যা করা যায়" শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তার মাথার দাম ১০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেছে। এর পাশাপাশি ফার্স্ট লেডিও তাদের নিশানায় রয়েছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী ও ব্যারনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিও ব্যারনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এই ঘটনার পর ব্যারন তার বাবাকে বলেছিলেন, “বাইরে গেলে এমনই পরিণতি বরণ করতে হয়।” এই ধারাবাহিক হুমকির কারণে ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে ফার্স্ট লেডির কার্যালয়। জানা গেছে, ২০২২ সালের মার্চে ব্যারনের বয়স ১৬ পূর্ণ হলে তার সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও মেলানিয়ার বিশেষ অনুরোধে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তা বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছিলেন। মা মেলানিয়া ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ব্যারন প্রকৃতিগতভাবেই লাজুক এবং জনসম্মুখে আসতে পছন্দ করেন না। বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, ক্রমাগত নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থাকাটা তাকে বাস্তব জীবনের বিপদ সম্পর্কে আরও বেশি সজাগ করে তুলেছে। এটি কোনো মানসিক ট্রমা বা বৈকল্য নয় বরং নিজেকে নিরাপদ রাখার একটি স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়া। ট্রাম্প পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ ভাইবোনেরা যেখানে জনসম্মুখে বেশ সক্রিয়, সেখানে ব্যারন একেবারেই ব্যতিক্রম। মার-এ-লাগো, ট্রাম্প টাওয়ার বা হোয়াইট হাউসে তার নিজস্ব পরিসর রয়েছে, যেখানে তিনি বরাবরই নিজেকে আড়াল করে রাখেন। পড়াশোনা শেষে রাজনীতি নয়, বরং ব্যবসাতেই থিতু হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে ব্যারনের। এরই মধ্যে বন্ধুদের সাথে একটি ভেষজ এনার্জি ড্রিংক ব্যবসা শুরু করেছেন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করেছেন, তবে সবকিছুই করছেন নেপথ্যে থেকে। সর্বশেষ গত ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বুলেটপ্রুফ কাঁচের আড়াল থেকে বাবা-মায়ের সাথে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল উপভোগ করতে দেখা গিয়েছিল ফুটবলপ্রেমী এই তরুণকে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে শিক্ষার্থীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে হলি অ্যাডামস নামের এক সাবেক হাইস্কুল শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ ওঠার প্রায় এক বছর পর মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হিউস্টনের নিকটবর্তী অ্যাঙ্গেলটন হাইস্কুলের এই সাবেক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রমাণ নষ্ট করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মদ পানের সুযোগ করে দেওয়ার দুটি অভিযোগ এনেছে ব্রাজোরিয়া কাউন্টি শেরিফ অফিস। কেটিআরকে-টিভি (KTRK-TV)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক সাবেক শিক্ষার্থীর সাথে অ্যাডামসের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি স্কুলের বর্তমান এক শিক্ষার্থী কর্তৃপক্ষকে জানালে এই তদন্ত শুরু হয়। ওই শিক্ষার্থী জানায়, গ্রীষ্মের ছুটিতে ভুক্তভোগী তাকে অ্যাডামসের বেডরুম থেকে ফেসটাইমে কল করেছিল এবং সে সময় বিছানায় শিক্ষিকার নগ্ন ছবি ছড়ানো ছিল। এছাড়া আরেকটি ছবিতে অ্যাডামস এবং ওই সাবেক শিক্ষার্থীকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা গেছে, অ্যাডামস প্রায়ই শিক্ষার্থীদের তার বাড়িতে গৃহস্থালি কাজের জন্য আমন্ত্রণ জানাতেন। এমনকি স্কুলের বেসবল দলের তিন সদস্যের সাথে স্ন্যাপচ্যাটে কথা বলার কথাও তিনি স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল কলেজের সাইকিয়াট্রির ক্লিনিক্যাল অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. গেইল সল্টজ জানান, যেসব নারী শিক্ষক পুরুষ শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতন করেন, তারা অনেক সময় নিজেদের বোঝান যে এই সম্পর্কটি বৈধ। তারা ভুক্তভোগীর পাশাপাশি নিজেদেরও মানসিকভাবে প্রস্তুত (গ্রুমিং) করেন এবং বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে তারা একটি রোমান্টিক সম্পর্কে রয়েছেন, যা ভুক্তভোগীর জন্যও উপকারী। ডা. সল্টজ আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের ঘটনায় পুরুষ শিক্ষার্থীদের মানসিক ক্ষতি নারী ভুক্তভোগীদের মতোই মারাত্মক। কারণ, এখানে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তার ওপর রাখা আস্থার অপব্যবহার করে এবং এমন সব সীমানা লঙ্ঘন করে, যার জন্য একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মোটেও প্রস্তুত থাকে না। গ্রেপ্তারের পর অ্যাডামসকে ব্রাজোরিয়া কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একই দিনে ২৬ হাজার ডলারের বন্ডে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। অ্যাঙ্গেলটন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ওই নারী বর্তমানে আর তাদের স্কুলে কর্মরত নেই।
ক্যালিফোর্নিয়ায় সম্ভাব্য নির্বাচন জালিয়াতি প্রতিরোধে শুরু হওয়া অভিযানের অংশ হিসেবে ডারউইন জোনাথন রিভেরা ফ্লোরেস (৩০) নামের হন্ডুরাসের এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এজেন্টরা। আইসিই (ICE)-বিরোধী এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আগেই পরিচিতি পাওয়া এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিক হিসেবে মিথ্যা দাবি করে ভোটার নিবন্ধন ফরম পূরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসাইলি জানান, শুক্রবার সকালে ভেনচুরার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে থেকে রিভেরা ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে অনাগরিকদের পক্ষে সহজেই ভোটার হওয়া এবং ডাকযোগে ব্যালট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে ঠিক কতজন অনাগরিক ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত আছেন, তা বলা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রে আইনত স্থায়ী বাসিন্দা হলেও নাগরিকত্ব না থাকা রিভেরা ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তারের এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন লস অ্যাঞ্জেলেসে সম্ভাব্য নির্বাচন জালিয়াতির একাধিক মামলা তদন্ত করছে ফেডারেল এজেন্টরা। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে ক্যামারিলোতে আইসিই-বিরোধী এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ফেডারেল ভবনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে রিভেরাকে এক বছরের প্রবেশনে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে এপ্রিলে এক ফেডারেল এজেন্টকে অপমানজনক টেক্সট মেসেজ পাঠানোর পাশাপাশি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। তদন্তে নেমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উইসকনসিনের ঠিকানায় "ডারউইন রিভেরা" নামে একটি অনলাইন ভোটার নিবন্ধনের রেকর্ড এবং তার স্বাক্ষরযুক্ত একটি আবেদনপত্র উদ্ধার করে। ওই ফর্মে তিনি মার্কিন নাগরিক হিসেবে নিজেকে দাবি করেন এবং পরিচয়পত্র হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করেন। তবে তার নাগরিকত্ব চাওয়া বা পাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, এমনকি তিনি কোনো নির্বাচনে ভোটও দেননি। ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসাইলির মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার শিথিল ভোটার নিবন্ধন আইন এ ধরনের জালিয়াতিকে উৎসাহিত করে। অঙ্গরাজ্যটি ফেডারেল সরকারের সাথে ভোটার তালিকা শেয়ার না করায় নিবন্ধিত ব্যক্তিরা সত্যিই মার্কিন নাগরিক কি না, তা যাচাই করা কর্তৃপক্ষের পক্ষে সম্ভব হয় না। তবে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে হলে প্রত্যেককে শপথের অধীনে নিশ্চিত করতে হয় যে তিনি মার্কিন নাগরিক।
নেপালে এক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। বিপর্যয়ের পর নিখোঁজদের যে দীর্ঘ তালিকা তৈরি হয়েছে, তাতে নাম রয়েছে প্রভাত সাজিপা (৪৮) নামের ক্যালিফোর্নিয়ার এক প্রযুক্তি কর্মীর। নেপালি কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা ৬৫ জন নিখোঁজ মার্কিন নাগরিকের প্রাথমিক তালিকায় তার নাম উঠে এসেছে। লিঙ্কডইন প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, সাজিপা ২০১৬ সাল থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারাভিত্তিক ডেটা স্টোরেজ কোম্পানি ‘পিওর স্টোরেজ’-এ ইঞ্জিনিয়ারিং লিডার হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি বিশ্বখ্যাত সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান সিসকোতেও কাজ করেছেন। তার ভাতিজি কাব্যা কৌলাগি জয়তীর্থ বিবিসিকে জানিয়েছেন, সাজিপা দীর্ঘদিন ধরে ‘ইশা ফাউন্ডেশন’ নামের একটি অলাভজনক আধ্যাত্মিক সংস্থার সাথে যুক্ত ছিলেন। সংস্থাটির একটি দল নেপালের ওই অঞ্চলে ভ্রমণের সময় এই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। দলটির অন্তত ৮০ জন সদস্য এখনও নিখোঁজ, যাদের মধ্যে ২২ জন মার্কিন নাগরিক। ইশা ফাউন্ডেশনের প্রধান জাগ্গি বাসুদেব বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় জানান, বন্যার ঠিক আগে দলটি জিরং-এর একটি ইমিগ্রেশন ভবনে অবস্থান করছিল। জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানার মাত্র ৯ মিনিট আগে তিনি দলনেতার কাছ থেকে শেষ বার্তা পান। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১৭ হাজার ফুট উঁচু থেকে একটি হিমবাহের একাংশ ভেঙে উপত্যকায় আছড়ে পড়লে এই ভয়াবহ ‘আইস অ্যাভালাঞ্চ’ বা বরফধসের সৃষ্টি হয়। হিমবাহ ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও এর ফলে সৃষ্ট বিশাল জলরাশি ও ধ্বংসস্তূপ নেপালের বহু বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাসিয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, বন্যার তোড়ে অন্তত ১৯টি সেতু এবং প্রায় ২৫ মাইল রাস্তা সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। পাশাপাশি একাধিক গ্রাম ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে তিব্বতীয় কর্মকর্তারাও এই বিপর্যয়ে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নেপালে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা নিখোঁজ নাগরিকদের সন্ধানে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্যুর অপারেটরদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, অন্তত ৯০ জন মার্কিন নাগরিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এবং মাত্র তিনজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
পশ্চিম কেনিয়ার প্রত্যন্ত চেপোরোর গ্রামে ঘটেছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত সোনার সন্ধান পেয়েছেন এক ছাগলপালক। এই খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাটিতে শুরু হয় ব্যাপক ‘গোল্ড রাশ’। রাতারাতি ভাগ্য বদলের আশায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সেখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। ৩৩ বছর বয়সী ছাগলপালক মানাসে লোমাচার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। নিজের হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে তিনি নদীর তীরে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন নারীকে সোনা তুলতে দেখে কৌতূহলবশত তিনিও কাজে লেগে যান। আশ্চর্যের বিষয় হলো, অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি প্রায় ৩ গ্রাম সোনা সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। এই সোনা বিক্রি করে স্থানীয় মুদ্রায় তিনি ৩৬ হাজার কেনিয়ান শিলিং বা প্রায় ২৮০ মার্কিন ডলার আয় করেন। অভাবনীয় এই প্রাপ্তির খবর বাতাসে কানাকানি হতে সময় লাগেনি, যার ফলে গ্রামটিতে মানুষের ঢল নামে। ওয়েস্ট পোকট কাউন্টির ডেপুটি কমিশনার স্যামুয়েল কিয়ারি জানান, আগস্টের শুরুতে কয়েকটি দল তুলনামূলক বেশি সোনা পাওয়ায় গুঞ্জনটি তীব্র রূপ নেয়। খনির কাজ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও চারপাশ থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসতে শুরু করে। বর্তমানে লোকসমাগম কিছুটা কমে আড়াই হাজারে নেমে এলেও সোনার অনুসন্ধান এখনো পুরোদমে চলছে। তবে মাটির নিচে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের মতো পর্যাপ্ত সোনা আছে কি না, তা ভূতাত্ত্বিক পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই বিশাল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে প্রত্যন্ত গ্রামটিতে এরই মধ্যে ২০০টিরও বেশি অস্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তবে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন এবং বাসস্থানের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা চরম স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় ইতোমধ্যে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ এবং স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, বিশৃঙ্খল পরিবেশের অবসান ঘটিয়ে সরকারি তত্ত্বাবধানে নিরাপদ খনি উত্তোলনের দাবি জানিয়েছেন মানাসে লোমাচার। তিনি মনে করেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই খনি দারিদ্র্যপীড়িত চেপোরোর গ্রামের মানুষের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্নেপ বা ফুড স্ট্যাম্প পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে গুজব ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয়, স্ন্যাপ এখনো চালু রয়েছে। তবে নতুন ফেডারেল নিয়ম, কাজের শর্ত এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়মতো জমা না দেওয়ার কারণে কিছু মানুষের সুবিধা কমতে বা বন্ধ হতে পারে। বিশেষ করে নিউইয়র্কে নতুন এডাব্লিওডি ওয়ার্ক রুলস নিয়ে সুবিধাভোগীদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। স্ন্যাপ বা সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম হলো নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের খাবার কেনার জন্য দেওয়া ফেডারেল সহায়তা কর্মসূচি। স্বল্প ইনকাম ব্যক্তিদের প্রতি মাসে ইবিটি কার্ডের মাধ্যমে এই সুবিধা দেওয়া হয়। তাই স্ন্যাপ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন কোনো ঘোষণা নেই। তবে সুবিধা চালু রাখতে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা জরুরি। নিউইয়র্ক সিটিতে সাধারণত স্ন্যাপ সার্টিফিকেশন এক বছরের জন্য থাকে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে রিসার্টিফিকেশন করতে হয়। অনেক পরিবারের ক্ষেত্রে ছয় মাসের মাথায় পিরিওডিক রিপোর্ট জমা দেওয়ারও প্রয়োজন হতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট বা রিসার্টিফিকেশন জমা না দিলে কেস বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং সুবিধা বন্ধ হতে পারে। নতুন ওয়ার্ক রুলস নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। নিউইয়র্ক স্টেটের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কিছু সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক এডাব্লিওডি নিয়মের আওতায় পড়তে পারেন। বিশেষ করে স্ন্যাপ পরিবারের ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু তাদের সঙ্গে বসবাস না করলে এই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। এই নিয়মের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের সাধারণভাবে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, অনুমোদিত কাজ বা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ কিংবা নির্দিষ্ট যোগ্য কার্যক্রমের মাধ্যমে শর্ত পূরণ করতে হয়। নিয়ম মেনে না চললে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তিন মাসের পর স্নেপ সুবিধা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তবে সবাই এডাব্লিওডি নিয়মের আওতায় পড়বেন না। ১৪ বছরের কম বয়সী শিশু একই পরিবারের সদস্য হলে, কেউ গর্ভবতী হলে, শারীরিক বা মানসিক কারণে কাজ করতে না পারলে এবং কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই নিয়ম থেকে ছাড় পাওয়া যেতে পারে। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরাও এডাব্লিওডি নিয়মের বাইরে থাকেন। স্ন্যাপ সুবিধার পরিমাণও সবার জন্য এক নয়। পরিবারের সদস্য সংখ্যা, আয়, খরচ এবং অন্যান্য যোগ্যতার বিষয় বিবেচনা করে সুবিধার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। ফেডারেল অর্থবছর ২০২৬ সালে ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে চার সদস্যের পরিবারের সর্বোচ্চ মাসিক স্নেপ বরাদ্দ ৯৯৪ ডলার। ফলে নিউইয়র্কে চার সদস্যের প্রতিটি পরিবার ৯৩৯ ডলার স্ন্যাপ পাবে এমন তথ্য সঠিক নয়। নিউইয়র্কে সুবিধা পাওয়া পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এক্সেস এইচ আর এ অ্যাকাউন্ট নিয়মিত চেক করা, ঠিকানা ও পরিবারের তথ্য হালনাগাদ রাখা এবং রিসার্টিফিকেশন বা প্রয়োজনীয় রিপোর্ট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া। সরকারি কোনো নোটিশ পেলে সেটি উপেক্ষা না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। স্নেপের জন্য আবেদন বা রিসার্টিফিকেশন করতে কোনো দালালকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এসব কাজ সম্পন্ন করা যায়। নিউইয়র্ক সিটিতে এক্সেস এইচ আর এ-এর মাধ্যমে আবেদন করা, কেসের অবস্থা দেখা এবং রিসার্টিফিকেশন সম্পন্ন করা সম্ভব। সুতরাং, আমেরিকায় স্নেপ বা ফুড স্ট্যাম্প পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন খবর সঠিক নয়। তবে নতুন ওয়ার্ক রুলস, রিসার্টিফিকেশন এবং রিপোর্টিংয়ের নিয়ম না মানলে ব্যক্তিগতভাবে কারও স্নেপ সুবিধা বন্ধ হতে পারে। নিজের কেসের সর্বশেষ অবস্থা জানতে সংশ্লিষ্ট স্টেটের অফিসিয়াল স্নেপ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
ব্রিটিশ গায়ক ও সংগীত প্রযোজক হ্যারি ট্যাপ প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ২০২৬ সালের জুনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে অনুসারীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ।” ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেওয়ার পর হ্যারি ট্যাপ তার প্রতি ভালোবাসা, সমর্থন ও ইতিবাচক বার্তা পাঠানো মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, এতটা সমর্থন পাবেন বলে তিনি আশা করেননি। তবে ইসলাম গ্রহণের পেছনের ব্যক্তিগত কারণ বা তার আধ্যাত্মিক যাত্রার বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করতে চান না এই সংগীতশিল্পী। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে হয়তো নিজের ইসলাম গ্রহণের গল্প বিস্তারিতভাবে শেয়ার করবেন। আপাতত বিষয়টি ব্যক্তিগত রাখতেই চান তিনি। তার ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা আসে। হ্যারি ট্যাপের ইসলাম গ্রহণের খবরটি পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও আলোচনায় আসে। হ্যারি ট্যাপের পরিচিতি মূলত সংগীতশিল্পী ও প্রযোজক হিসেবে। তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি তিনি নিজেই প্রকাশ্যে নিশ্চিত করায় এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের যাত্রা সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো তথ্য তিনি এখনো প্রকাশ করেননি।
নিউইয়র্ক সিটিতে নতুন স্কুল বছর সামনে রেখে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ দিচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস। এসব পদের মধ্যে এমন কিছু স্কুলভিত্তিক চাকরি রয়েছে, যেখানে চার বছরের কলেজ ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। ফলে ব্যাচেলর ডিগ্রি না থাকলেও যোগ্যতা অনুযায়ী কিছু পদে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের চাকরির তালিকায় স্কুল সহকারী, পরিবার সহায়তাকর্মী এবং বিভিন্ন স্কুলভিত্তিক পদে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। কোন পদের জন্য কী ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা বা অন্যান্য শর্ত প্রয়োজন, তা পদভেদে আলাদা। ডিগ্রি ছাড়াই স্কুলে কাজের অন্যতম সুযোগ হলো বিকল্প প্যারাপ্রফেশনাল পদ। এই পদের জন্য চার বছরের কলেজ ডিগ্রি প্রয়োজন নেই। তবে আবেদনকারীর হাইস্কুল ডিপ্লোমা, জিইডি অথবা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতিও থাকতে হবে। বিকল্প প্যারাপ্রফেশনাল হিসেবে কাজ করতে আগ্রহীদের কয়েকটি ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এর মধ্যে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই, প্রয়োজনীয় চাকরির কাগজপত্র, আই-৯ যাচাই, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেক রয়েছে। নির্ধারিত যাচাই ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়োগের পরবর্তী ধাপে যাওয়া যায়। এ ছাড়া স্কুল সহকারী ও পরিবার সহায়তাকর্মীর মতো কিছু পদেও কলেজ ডিগ্রি ছাড়াই আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রতিটি চাকরির যোগ্যতা আলাদা হওয়ায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি। তবে ডিগ্রি না লাগলেও এসব চাকরিতে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন নেই, এমন নয়। আবার স্কুলের সব ধরনের চাকরিতেও ডিগ্রি ছাড়া আবেদন করা যায় না। যেমন বিকল্প শিক্ষক পদে সাধারণত ব্যাচেলর ডিগ্রি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন। নতুন স্কুল বছর শুরুর আগে যারা নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসে কাজের সুযোগ খুঁজছেন, তারা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন পদে আবেদন করতে পারেন। বিশেষ করে যারা কলেজ ডিগ্রি সম্পন্ন করেননি, তাদের জন্য স্কুল সহকারী, পরিবার সহায়তাকর্মী ও বিকল্প প্যারাপ্রফেশনালের মতো পদগুলো সম্ভাব্য চাকরির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ম্যাকনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি এসইউভি বাড়ির ছাদে উঠে যাওয়ার ঘটনায় ৭৮ বছর বয়সী চালক উইলি এইচ. স্মিথ জুনিয়র নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার কিছু আগে ওয়েভারল্যান্ড ড্রাইভ ও উডল্যান্ড ড্রাইভের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে। বিব কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, স্মিথ একটি সাদা শেভ্রোলেট ইকুইনক্স এসইউভি নিয়ে ওয়েভারল্যান্ড ড্রাইভ দিয়ে পূর্বদিকে যাচ্ছিলেন। উডল্যান্ড ড্রাইভের কাছে এসে তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে ১৯০০ ব্লক উডল্যান্ড ড্রাইভের একটি বাড়ির ছাদে গিয়ে আঘাত করে। দুর্ঘটনার পর প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলেই স্মিথকে চিকিৎসা দেন। পরে তাকে স্থানীয় একটি মেডিকেল ফ্যাসিলিটিতে নেওয়া হলে কাউন্টি করনার লিওন জোনস তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় আর কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর বাড়ির ছাদে উঠে যাওয়া এসইউভিটি সরাতে উদ্ধারকারী দলকে ক্রেন ব্যবহার করতে হয়। ঘটনাস্থলের ছবিতে বাড়ির ছাদে গাড়িটির অবস্থান এবং উদ্ধার তৎপরতার দৃশ্য দেখা যায়। তবে ঠিক কী কারণে স্মিথ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার আগে তার কোনো মেডিকেল জরুরি অবস্থা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তকারীরা এখনো জানাতে পারেননি। দুর্ঘটনার সময় বাড়িটির ভেতরে কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়েও কর্মকর্তারা নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেননি। বিব কাউন্টি শেরিফের অফিস দুর্ঘটনাটির তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসইউভিটি কীভাবে রাস্তা থেকে ছিটকে বাড়ির ছাদে উঠে গেল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো কারণ জানানো হয়নি।
স্কটল্যান্ডের ক্ল্যাকম্যানানশায়ারের কয়লা খনি অধ্যুষিত কোয়ালসনটন এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধস ও মাটির নিচের নড়াচড়ার কারণে ৯৭টি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার পর এবার ৬০টি বাড়ি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ তদন্তে এই ভূমির অস্থিতিশীলতার সঙ্গে পুরোনো কয়লা খনির কার্যক্রমের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। মে মাসে নিরাপত্তার কারণে এসব বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর প্রায় আট সপ্তাহ ধরে মাইনিং রেমেডিয়েশন অথরিটি (MRA) মাটি ও স্থাপনার অবস্থা পরীক্ষা করে। সংস্থাটির সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, বেনবাক ভিউ ও ডানমস ভিউ এলাকার বাড়িগুলো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো মেরামত করে নিরাপদ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর এসব বাড়ি অধিগ্রহণ করে ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হলে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর পরিশ্রম করে তৈরি করা বাড়ি হারানোর বিষয়টি তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। ৬৭ বছর বয়সী সাইমন উডওয়ার্ড জানিয়েছেন, তিনি ১৭ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং অবসর জীবনের জন্য বাড়িটিকে নিজের মতো করে সাজিয়েছিলেন। তার মতে, বাড়ি হারানোর ক্ষতি শুধু আর্থিকভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে সব বাড়ির পরিস্থিতি এক নয়। তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত ল্যাংগোর এলাকায় মাটির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর বাড়িগুলো মেরামতের পরিকল্পনা রয়েছে। নেকটান ড্রাইভের কাছেও আরও স্থিতিশীলকরণ কাজ এবং দ্য গ্লেনে সড়ক মেরামতের পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাইনিং রেমেডিয়েশন অথরিটির প্রধান অপারেশনস কর্মকর্তা কার্ল ব্যান্টন জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও ঝুঁকি নির্ধারণে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং মূল্যায়ন, ভূগর্ভস্থ পরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত জরিপ চালানো হয়েছে। এসব পরীক্ষার ভিত্তিতেই কোন বাড়ি ভাঙতে হবে এবং কোন এলাকায় মেরামত সম্ভব, তা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, কোয়ালসনটনের এই ঘটনায় জরুরি সাড়া ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের ব্যয় বহন করা হবে। এর আগে স্কটিশ সরকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তায় ক্ল্যাকম্যানানশায়ার কাউন্সিলকে ১০ লাখ পাউন্ড অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে। ভূমি স্থিতিশীল হওয়ার পরও এলাকাটি নিরাপদ কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
প্রায় দুই বছর ইসরায়েলি কারাগারে আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন ফিলিস্তিনি ফটোসাংবাদিক রামেজ আওয়াদ। মুক্তির পর পশ্চিম তীরের জিফনা গ্রামে ফিরলে দীর্ঘদিন পর মায়ের সঙ্গে তার আবেগঘন পুনর্মিলনের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে। রোয়া নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ৩১ বছর বয়সী আওয়াদকে ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট জিফনায় তার পারিবারিক বাড়ি থেকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে বলে জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। তার পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনারা বাড়িতে ঢুকে তার পরিচয়পত্র পরীক্ষা করার পর তাকে নিয়ে যায়। সে সময় পরিবারকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা কোথায় তাকে নেওয়া হচ্ছে, তা জানানো হয়নি। আওয়াদের আটকের ঘটনাই তার জীবনে প্রথম ইসরায়েলি বাহিনীর হয়রানি নয়। ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর পশ্চিম তীরের জিফনায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের খবর সংগ্রহ করার সময় তার উরুতে গুলি লাগে বলে সিপিজে ও ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আটকের পর তাকে ওফের কারাগারে রাখা হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ আনা হয় এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরে একটি আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয় বলে সিপিজের তথ্য থেকে জানা যায়। ফলে আওয়াদের ঘটনাটি শুধু একজন সাংবাদিকের মুক্তির খবর নয়, পশ্চিম তীরে সাংবাদিকদের কাজ করতে গিয়ে আটক ও হামলার ঝুঁকিরও একটি উদাহরণ। সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এর আগে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের আটক, গুলিবিদ্ধ ও অন্যান্য হয়রানির ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে। দুই বছর পর বাড়িতে ফিরে মায়ের সঙ্গে আওয়াদের সেই পুনর্মিলনের দৃশ্য তাই তার দীর্ঘ বন্দিজীবনের পর পরিবারের কাছে ফিরে আসার প্রতীকী মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
সৌদি আরবে বসবাসকারী দৃষ্টিহীন বার্মিজ শিশু হুসেইন মোহাম্মদ তাহির শুধু কোরআন তেলাওয়াত শুনেই পুরো পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেছে বলে জানা গেছে। জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন হুসেইনের এক হাতেও সামান্য শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। টেলিভিশন দেখতে না পারায় ছোটবেলায় তার বাবা তাকে একটি রেডিও কিনে দেন। সেই রেডিওতে ২৪ ঘণ্টাই কোরআন তেলাওয়াত সম্প্রচার করা একটি স্টেশন চালু থাকত। পরিবারের সদস্যরা তখনও বুঝতে পারেননি, নিয়মিত শুনতে শুনতেই শিশুটি আয়াতগুলো মুখস্থ করে ফেলছে। জেদ্দা থেকে মদিনায় যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর হুসেইনের এই অসাধারণ প্রতিভার বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। মদিনায় গিয়ে নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মসজিদে নববিতে একদিন তার বাবা তাকে সূরা আল-বাকারার কয়েকটি আয়াত তেলাওয়াত করতে বলেন। বাবার বিস্ময় আরও বেড়ে যায় যখন মাত্র পাঁচ বছর বয়সী হুসেইন পুরো সূরা আল-বাকারা নির্ভুলভাবে তেলাওয়াত করে শোনায়। এরপর মদিনার কোরআন শিক্ষক ও আলেমরা তার কোরআন মুখস্থের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে দৃষ্টিহীন শিশুদের জন্য পরিচালিত বিশেষ কোরআন হিফজের একটি হালকায় তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মুখস্থ কোরআন শেখার দক্ষতাকে আরও বিকশিত করার সুযোগ তৈরি হয়। হুসেইনের ঘটনা দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শ্রবণশক্তি, স্মরণশক্তি ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে কোরআন হিফজের একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে শিশুটির বিষয়ে প্রচারিত তথ্যের স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য বিস্তারিত নথি সীমিত।
মালয়েশিয়া আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে অন্তত ১,৫০০ জন মিয়ানমারের নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। দেশটির সরকার বলছে, এই প্রত্যাবাসন হবে স্বেচ্ছায় এবং যারা ফেরত যেতে সম্মত হবেন, তাদের মধ্য থেকেই প্রথম দফার তালিকা করা হবে। তবে মিয়ানমারে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় দুটি মিয়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজ এবং একটি হাসপাতাল জাহাজ ব্যবহার করা হবে। জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, মিয়ানমারের সামরিক সমর্থিত সরকার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি মিয়ানমারের নাগরিক ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে রয়েছেন। তাদের সবাইকে শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচয়, নাগরিকত্ব, ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, আশ্রয়ের আবেদন এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করছে। তবে এই প্রত্যাবাসন নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তি রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, মিয়ানমারে এখনো নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সংগঠনটি আরও বলেছে, দেশটির সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল এর আগে বলেছিলেন, ফেরত পাঠালে কারও ওপর নিপীড়নের ঝুঁকি থাকলে বা জীবন হুমকির মুখে পড়লে সরকার ওই ৫ হাজার মিয়ানমারের শরণার্থীকে ফেরত পাঠাবে না। ফলে প্রত্যাবাসনের আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মালয়েশিয়া ১৯৫১ সালের জাতিসংঘ শরণার্থী কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী দেশ নয় এবং দেশটির আইনে শরণার্থীদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির ব্যবস্থাও নেই। তবু দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গাদের জন্য দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল হয়ে আছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, মালয়েশিয়ায় ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘও দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে। ইউএনএইচসিআর বলছে, মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও সহিংসতার কারণে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনো সীমিত। সংস্থাটি জোর করে কাউকে ফেরত না পাঠানোর নীতির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন। ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত থাকায় প্রত্যাবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় একটি বৃদ্ধনিবাস পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৯৪ বছর বয়সী গুনাকেশারি বোহারা। বুধবার, ২৬ আগস্ট রাশুয়া জেলায় ভয়াবহ বন্যার পর উদ্ধারকারীরা পাশের নুওয়াকোট জেলার তুপছে এলাকায় কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গুনাকেশারি রাশুয়ার একটি সরকারি বৃদ্ধনিবাসে থাকতেন। বন্যার পানির প্রবল স্রোতে পুরো স্থাপনাটি ভেসে যায়। ওই প্রতিষ্ঠানে থাকা অন্য বাসিন্দা ও কর্মীদের কেউ বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। গুনাকেশারিকে সেখানকার একমাত্র জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা একটি এক্সকাভেটর ব্যবহার করে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে তার কাছে পৌঁছান। পরে তাকে সেখান থেকে বের করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। উদ্ধারের সময় তার পুরো শরীর কাদা ও মাটিতে ঢেকে ছিল এবং তিনি অত্যন্ত দুর্বল ও আতঙ্কিত অবস্থায় ছিলেন। উদ্ধারের পর গুনাকেশারি প্রথমে নিজের নামও বলতে পারছিলেন না। পরে এক স্বজন তাকে শনাক্ত করেন। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত এবং বন্যার ধাক্কায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুর ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়। ২৬ আগস্ট রাশুয়ার ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার পর নেপালের রাশুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিংসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। নেপাল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পরপরই সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে বহু মানুষ নিহত ও নিখোঁজ হয়েছেন। একই সঙ্গে সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। ৯৪ বছর বয়সে প্রায় এক দিন কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থেকেও গুনাকেশারির জীবিত উদ্ধার হওয়ার ঘটনা এই ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে বিরল এক বেঁচে ফেরার ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে।