সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ডে-কেয়ারের খরচ জোগাতে সন্তানদের রেখে দ্বিতীয় চাকরিতে মা
ডে-কেয়ারের খরচ জোগাতে সন্তানদের রেখে দ্বিতীয় চাকরিতে মা

যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোর বোইস শহরে এক মায়ের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক একটি প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনা রিজ নামে এক মা সন্তানদের ডে-কেয়ারে রেখে দ্বিতীয় চাকরিতে যাচ্ছেন, আর সেই বাড়তি আয় দিয়েই সন্তানদের ডে-কেয়ারের খরচ মেটাচ্ছেন। তবে ঘটনাটি বাস্তব সংবাদ নয়, এটি ব্যঙ্গধর্মী সংবাদমাধ্যম বেবিলন বি -এর একটি রম্য প্রতিবেদন।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনা তাঁর দুই ছোট সন্তানকে ‘Mountains of Fun Daycare’-এ রেখে দ্বিতীয় চাকরির শিফটে যান। সন্তানদের ডে-কেয়ারে রেখে যাওয়ার সময় তিনি মজা করে বলেন, তারা যেন ভালোভাবে থাকে, কারণ তাদের সেখানে রাখার খরচ জোগাতে তাঁকে কাজ করতে যেতে হচ্ছে। পরে তাদের বাবা কর্মস্থল থেকে ছুটি পাওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে যাবেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।    ব্যঙ্গাত্মক লেখাটিতে আরও বলা হয়, জেনা সন্ধ্যায় একটি সুপারমার্কেটের বেকারি বিভাগে পার্টটাইম কাজ করেন। তাঁর বক্তব্য হিসেবে প্রতিবেদনে ডে-কেয়ারের বাড়তি খরচের কারণে দ্বিতীয় চাকরি নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্তানদের সঙ্গে আরও সময় কাটাতে না পারার বিষয়টিও হাস্যরসের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।    প্রতিবেদনটির মূল বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ডে-কেয়ারের ব্যয় মেটাতে অনেক পরিবারের ওপর তৈরি হওয়া আর্থিক চাপকে ব্যঙ্গ করে তুলে ধরা। তবে এতে বর্ণিত চরিত্র ও ঘটনাগুলোকে বাস্তব সংবাদ বা যাচাই করা ব্যক্তিগত ঘটনা হিসেবে নেওয়া ঠিক হবে না। Babylon Bee নিজেই একটি ব্যঙ্গধর্মী সংবাদমাধ্যম, যেখানে সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে রম্য প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৯:৩৪
জানুয়ারির বিক্ষোভে আটকের পর ২ সন্তানের মাকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরান
জানুয়ারির বিক্ষোভে আটকের পর ২ সন্তানের মাকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরান

ইরানের শাহিন শাহর শহরে জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় একটি সুপারমার্কেটে আগুন লাগার দৃশ্য ধারণ করার অভিযোগে আটক ৪৩ বছর বয়সী লেইলা আবোলহাসানিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। দুই কিশোরী মেয়ের এই মাকে ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ বা ‘মোহারেবেহ’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে তাঁর স্বজনদের দাবি, আগুন লাগানোর ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন না, শুধু ঘটনাটি ভিডিও করছিলেন।    ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ইসফাহান প্রদেশের শাহিন শাহরে ওই আগুনের ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, লেইলা তখন একটি দোকানে আগুন লাগার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করছিলেন। ওই সময় তাঁকে আটক করা হয়। পরে ইসফাহানের ডওলতাবাদ কারাগারে নেওয়া হয় তাঁকে। গ্রেপ্তারের পর সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি সেখানে আটক আছেন।    ইসফাহানের রেভল্যুশনারি কোর্টের ৫ নম্বর শাখা মে মাসে লেইলাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। আদালতের অভিযোগ, দোকানটিতে আগুন লাগানোর ঘটনায় তিনি অংশ নিয়েছিলেন। তবে তাঁর স্বজনরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, লেইলা আগুন লাগানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, বরং ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে শুধু আগুনের দৃশ্য ধারণ করছিলেন। মামলায় আদালত কী ধরনের প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে আগুন লাগানোর সঙ্গে যুক্ত করেছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।    লেইলা পেশায় একজন নেইল টেকনিশিয়ান। মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে তাঁর মামলাটি ইরানের সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়। বর্তমানে সর্বোচ্চ আদালতে মামলাটির পর্যালোচনা চলছে। আদালত নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখলে লেইলার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।    জানুয়ারির দেশব্যাপী বিক্ষোভে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার এটি সর্বশেষ ঘটনা। এর আগে আরও দুই তরুণ, আমির মোহাম্মদ মোজালাল চৌবারি ও হোসেইন নাজারিকে পৃথক মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন HRANA। একই বিক্ষোভে আটক মাজিদ আদিনেহ নামে আরেক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডও গত সপ্তাহে কার্যকর করা হয়েছে বলে ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে।    ইরানে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক চলতি মাসে ইরানকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মতবিরোধ দমন ও জনগণের মধ্যে ভয় তৈরি করতে মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। বিচারপ্রক্রিয়ায় যথাযথ আইনি সুরক্ষার ঘাটতি এবং নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি নেওয়ার অভিযোগ নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।    ইরানে লেইলা আবোলহাসানির মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের পর্যালোচনার ফলের ওপরই নির্ভর করছে তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে, নাকি তা বাতিল হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৯:২৮
লং আইল্যান্ডে ম্যানহোলে পাঁচজনের রহস্যময় প্রবেশ
লং আইল্যান্ডে ম্যানহোলে পাঁচজনের রহস্যময় প্রবেশ, এক সপ্তাহ পর ফের একই ঘটনা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পাঁচজনকে একটি ম্যানহোল খুলে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ভেতরে ঢুকতে দেখা গেছে। ওয়ান্টাঘ এলাকার ওয়ান্টাঘ অ্যাভিনিউ ও জেরুজালেম অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলে রাত প্রায় ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে ম্যানহাটনের পেন স্টেশনের কাছে একই ধরনের ঘটনায় তিনজনকে ম্যানহোল থেকে বের হতে দেখা গিয়েছিল।   নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, কালো পোশাক পরা পাঁচ ব্যক্তি একসঙ্গে ম্যানহোলের ভারী ঢাকনা সরান। এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একে একে নিচে নেমে যান এবং ঢাকনাটি আবার বন্ধ করে দেন। তাদের গন্তব্য ছিল সড়কের নিচে থাকা স্টর্ম ড্রেন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা।   ঘটনাটি দেখে দুই প্রত্যক্ষদর্শী নাসাউ কাউন্টি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ পরে ওই ড্রেনেজ ব্যবস্থার ভেতরে অনুসন্ধান চালালেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের পরিচয় বা তারা কেন সেখানে ঢুকেছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগে নিউইয়র্ক সিটির পেন স্টেশনের কাছে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ১৮ আগস্ট ভোরে ৩২তম স্ট্রিট ও সেভেনথ অ্যাভিনিউ এলাকায় হেডল্যাম্প পরা তিনজনকে ম্যানহোল থেকে বের হতে দেখা যায়। স্থানটি পেন স্টেশন ও ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের কাছেই। ওই ঘটনাও এনওয়াইপিডি তদন্ত করছে।    নিউইয়র্কের ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ ব্যবস্থায় এর আগেও মানুষ প্রবেশ বা বের হওয়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এসব ঘটনার উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও তদন্তকারীরা এখন পর্যন্ত লং আইল্যান্ডের পাঁচজনের সঙ্গে ম্যানহাটনের আগের ঘটনার কোনো যোগসূত্র নিশ্চিত করেননি।   নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন সতর্ক করে জানিয়েছে, স্যুয়ারেজ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ভেতরে বিষাক্ত বা প্রাণঘাতী গ্যাস, অস্থিতিশীল জায়গা, আকস্মিক বন্যা এবং সংকীর্ণ স্থানের মতো গুরুতর ঝুঁকি থাকতে পারে। এ কারণে সাধারণ মানুষকে কোনো পাইপ, ড্রেন, ক্যাচ বেসিন, ম্যানহোল বা আউটফলের ভেতরে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   লং আইল্যান্ডের সর্বশেষ ঘটনায় পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তবে ওই পাঁচজন কেন গভীর রাতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৯:১৪
৬ হাজার ইলেকট্রিক শক গ্লাভস কিনছে আইসিই, খরচ ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার
৬ হাজার ইলেকট্রিক শক গ্লাভস কিনছে আইসিই, খরচ ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার

আইসিই আটক ব্যক্তি ও বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের জন্য ৬ হাজার জোড়া ইলেকট্রিক শক দিতে সক্ষম গ্লাভস কিনছে। এ জন্য কেনটাকিভিত্তিক কোম্পানি কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসির সঙ্গে ১৬ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের একটি নো-বিড চুক্তি করেছে সংস্থাটি।   ফেডারেল ডাটাবেসে প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, চুক্তিতে শুধু গ্লাভস নয়, এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট সেবাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আগামী ছয় মাসে এসব সরঞ্জাম সরবরাহের কথা রয়েছে। প্রতি গ্লাভসের দাম প্রায় ২ হাজার ৪৯৫ ডলার বলে ফেডারেল চুক্তির নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।    আইসিই জানিয়েছে, গ্লাভসগুলো বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হবে, যখন কোনো ব্যক্তি সক্রিয়ভাবে বা নিষ্ক্রিয়ভাবে বাধা দিচ্ছেন এবং দ্রুত তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। গ্রেপ্তার, আক্রমণাত্মক আচরণ করা আটক ব্যক্তিকে এক স্থান থেকে অন্যত্র নেওয়া এবং ডিটেনশন ফ্যাসিলিটির বাইরে সিভিল ডিসটার্বেন্সের মতো পরিস্থিতিতে এগুলো ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।    গ্লাভসটি সাধারণ প্যাট্রোল গ্লাভসের মতোই থাকে। তবে অফিসার একটি বোতাম চাপলে এর ইলেকট্রিক মোড সক্রিয় হয়। এরপর গ্লাভসটি সরাসরি কারও ত্বকে লাগলে ব্যথাদায়ক বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। আইসিইর দাবি, এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা এবং আগ্নেয়াস্ত্রসহ আরও গুরুতর ধরনের বলপ্রয়োগের প্রয়োজন কমানো।   তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। নাগরিক অধিকারকর্মী এবং ডেমোক্র্যাটিক দলের কয়েকজন সিনেটর আশঙ্কা করছেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ, ব্যবহারের স্পষ্ট সীমা এবং পর্যাপ্ত নজরদারি ছাড়া এই সরঞ্জাম অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।    নেভাদার ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্যাথরিন কর্টেজ মাস্টোসহ ১৬ জন সিনেটর বৃহস্পতিবার আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে গ্লাভস কেনার পরিকল্পনা বাতিলের আহ্বান জানান। তারা আইসিইর সাম্প্রতিক বলপ্রয়োগ নিয়ে বিতর্কের কথা তুলে ধরে জানতে চান, নতুন এই সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কী এবং অফিসারদের কীভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।    সিনেটররা বিশেষভাবে জানতে চেয়েছেন, গ্লাভস ব্যবহারের প্রতিটি ঘটনা কীভাবে নথিভুক্ত ও অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করা হবে। তাদের মতে, স্পষ্ট নিয়ম ও কার্যকর নজরদারি ছাড়া আটক ব্যক্তি বা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে এর ব্যবহার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।    এর আগে চলতি মাসেই আইসিইর গ্লাভস কেনার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আসে। তখন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এসব সরঞ্জামকে ‘কন্ডাক্টিভ ডিসট্র্যাকশন অ্যান্ড ডি-এস্কেলেশন ডিভাইস’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।    তবে সমালোচনার জবাবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বলেছে, ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারে বাধা দেওয়ার চেষ্টা তাদের দায়িত্ব পালনে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সংস্থাটি দাবি করেছে, কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা জরুরি।    ইলেকট্রিক শক গ্লাভস নিয়ে বিতর্কের মূল প্রশ্ন এখন এর ব্যবহার কতটা নিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং আইসিই কর্মকর্তারা কোন পরিস্থিতিতে এটি প্রয়োগ করতে পারবেন। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর প্রশিক্ষণ, ব্যবহারবিধি ও নজরদারির কাঠামো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়েই নজর থাকবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৮:৫৭
রাজা ওয়ো নিয়িম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ
৩৪ বছর বয়সে গোপন রোগে মারা গেলেন ‘বিশ্বের কনিষ্ঠতম রাজা’

উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী তোরো রাজ্যের রাজা ওয়ো নিয়িম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ ৩৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তোরো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্যালভিন রোমউইরে আকিইকি। অজ্ঞাত এক অসুস্থতার কারণে বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।    রাজা ওয়ো মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। ১৯৯৫ সালে তার বাবা রাজা প্যাট্রিক ডেভিড ম্যাথিউ কাবোয়ো অলিমি তৃতীয়ের মৃত্যুর পর তাকে তোরো রাজ্যের রাজা করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত রিজেন্ট ও রাজপরিবারের সদস্যরা রাজ্যের দায়িত্ব পরিচালনা করেন। ১৮ বছর বয়সে তিনি নিজে রাজ্যের নেতৃত্ব নিতে শুরু করেন।    তোরো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজা ওয়োর একজন পুত্র ও উত্তরাধিকারী রয়েছেন। তবে তোরো রাজপরিবারের ঐতিহ্য অনুযায়ী উপযুক্ত সময়ে তার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে রাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজমুকুটের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।    ওয়োর মৃত্যুর আগে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তোরো রাজ্যে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছিল। রাজ্য কর্তৃপক্ষ প্রথমে জানিয়েছিল, তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। অসুস্থতার সুনির্দিষ্ট কারণ বা চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।    ১৯৯২ সালের ১৬ এপ্রিল জন্ম নেওয়া ওয়ো প্রায় ৩১ বছর তোরো রাজ্যের সিংহাসনে ছিলেন। তিন বছর বয়সে রাজা হওয়ার কারণে তিনি দীর্ঘদিন বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সে সিংহাসনে বসা এবং সবচেয়ে কম বয়সী জীবিত রাজা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার শৈশবের রাজত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছিল।    উগান্ডা একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়ায় তোরো রাজা দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী নন। দেশটির ঐতিহ্যবাহী রাজ্যগুলো মূলত সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভূমিকা পালন করে। ১৯৬০-এর দশকে বিলুপ্ত করা ঐতিহ্যবাহী রাজতন্ত্রগুলো ১৯৯৩ সালে আবার পুনর্বহাল করা হয়। তোরো রাজ্য পশ্চিম উগান্ডায় অবস্থিত এবং এর জনগোষ্ঠী বাটো’রো নামে পরিচিত।    রাজা ওয়ো ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন বেশ নিরিবিলি স্বভাবের। তিনি বিয়ে করেননি। খেলাধুলার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল এবং ফুটবলকে ঘিরে তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব আর্সেনালের সমর্থক ছিলেন এবং তোরো রাজ্যের স্থানীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা আমাসাজা কাপেরও নিয়মিত সমর্থন করতেন।    তার মৃত্যুর পর তোরো রাজ্যে শোকের পরিবেশ নেমে এসেছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ নয় দিনের শোক পালন শুরু করেছে এবং রাজা ওয়োর শেষকৃত্যসহ পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে ধাপে ধাপে তথ্য জানানোর কথা জানিয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৮:৪০
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ব্যারন ট্রাম্প
ইরানের হুমকি, বাবার ওপর হত্যাচেষ্টা ও চার্লি কার্ক হত্যার পর আড়ালে ব্যারন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্প জনসম্মুখ থেকে নিজেকে অনেকটাই দূরে রাখছেন। বাবার ওপর একাধিক হত্যাচেষ্টা, ইরানের হুমকি এবং রক্ষণশীল অ্যাক্টিভিস্ট চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের পর কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে অনেকটা ‘নির্জন’ জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যারন বর্তমানে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে (এনওয়াইইউ) পড়াশোনা করছেন। দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করার পর গ্রীষ্মের বেশিরভাগ সময় তিনি মা ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে কাটিয়েছেন।   ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দ্য পোস্টকে জানিয়েছে, ব্যারন খুব একটা বাইরে বের হন না। আরেকটি সূত্র তাকে ‘বেশ নির্জন প্রকৃতির’ বলে বর্ণনা করেছে।   ইরানের হুমকি ও ১ কোটি ডলারের পুরস্কার   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কট্টরপন্থীরা সম্প্রতি ‘Where to kill Barron Trump’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। এতে ব্যারনের চলাফেরার তথ্য দেখানোর দাবি করা হয় এবং তার মাথার জন্য ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।   ব্যারনের মা মেলানিয়া ট্রাম্পও ইরানের কট্টরপন্থীদের হুমকির লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   বাবার ওপর একাধিক হত্যাচেষ্টা   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তত তিনটি হত্যাচেষ্টার মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে নির্বাচনী সমাবেশে গুলিতে তিনি আহত হন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে তাঁর গলফ কোর্সে এক বন্দুকধারী তাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করে।   এ ছাড়া চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে হামলার ঘটনাও ট্রাম্প পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।   চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডও প্রভাব ফেলেছে   ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রক্ষণশীল অ্যাক্টিভিস্ট চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ব্যারনকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্কের সঙ্গে ব্যারনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল।   বাবাকে ওই হত্যাকাণ্ডের খবর দেওয়ার সময় ব্যারন বলেছিলেন, ‘তুমি যখন বাইরে যাও, তখন এমনটাই ঘটে।’ লেখক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের বইয়ে প্রথম এই ঘটনার কথা উঠে আসে এবং পরে নিউইয়র্ক পোস্ট তা নিশ্চিত করে।   নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যেই জীবন   ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ না করার জন্য ফার্স্ট লেডির দপ্তর সংবাদমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। সাম্প্রতিক হুমকির কথা উল্লেখ করে ২০ বছর বয়সী ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্যারনের চলাফেরা সবসময় নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে থাকে। তিনি কোনো জায়গায় পৌঁছানোর পর দ্রুত ব্যক্তিগত পরিসরে চলে যান এবং সাধারণত জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করেন না।   রাজনীতির বদলে ব্যবসায় আগ্রহ   ট্রাম্প পরিবারের অন্য সন্তানদের তুলনায় ব্যারন অনেক বেশি আড়ালে থাকেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প পারিবারিক ব্যবসায় সক্রিয়। ইভাঙ্কা ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত হন।   অন্যদিকে, ব্যারন ব্যবসার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। হাইস্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে তিনি একটি হারবাল এনার্জি ড্রিংক ব্যবসা শুরু করেছেন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতেও বিনিয়োগ করেছেন বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনীতির পরিবর্তে ভবিষ্যতে ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার দিকেই ব্যারনের আগ্রহ বেশি বলে মনে হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৮:৫
american-us-dollars-money-bills-and-us-social-security
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ২০২৭ সালে বাড়তে পারে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকায় ২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীদের মাসিক ভাতা বাড়তে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির দাম বাড়ায় আগামী বছর ভাতা কতটা বাড়বে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এসএসএ) নিয়ম অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে সুবিধাভোগীদের ভাতাতেও সমন্বয় করা হয়। এই বার্ষিক সমন্বয়কে বলা হয় কস্ট-অব-লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট বা সিওএলএ।   প্রতি বছর মূল্যস্ফীতির তথ্য বিশ্লেষণ করে এসএসএ পরবর্তী বছরে ভাতা কতটা বাড়বে, তা নির্ধারণ করে। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। এতে গড় অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর মাসিক ভাতা প্রায় ২ হাজার ১৫ ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৭২ ডলারে দাঁড়ায়।   ২০২৭ সালে কত বাড়তে পারে?   ২০২৭ সালের সিওএলএ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসএসএ আগামী অক্টোবর মাসে এ বিষয়ে ঘোষণা দেবে। তবে বর্তমান মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতির ভিত্তিতে বিভিন্ন পূর্বাভাসে আগামী বছর ভাতা ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।   সিওএলএ নির্ধারণ করা হয় কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ফর আরবান ওয়েজ আর্নার্স অ্যান্ড ক্লেরিক্যাল ওয়ার্কার্স (সিপিআই-ডব্লিউ)-এর তথ্যের ভিত্তিতে। আগের বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের সঙ্গে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের মূল্যসূচকের পরিবর্তন হিসাব করে এই সমন্বয় নির্ধারণ করা হয়।   তবে চূড়ান্ত হিসাবের জন্য সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলে সাধারণত নতুন হারে অর্থ পাওয়া শুরু হয় পরবর্তী বছরের জানুয়ারি থেকে।   মূল্যস্ফীতি কেন গুরুত্বপূর্ণ?   মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে একই পরিমাণ সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা দিয়ে আগের মতো পণ্য ও সেবা কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে প্রতি বছর সিওএলএ নির্ধারণ করা হয়।   বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ভাতা বাড়লে সুবিধাভোগীদের মাসিক আয় কিছুটা বাড়বে। তবে খাদ্য, জ্বালানি ও বাসস্থানের মতো খাতে ব্যয়ও বাড়তে থাকায় তাদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কতটা বাড়বে, সেটিই বড় প্রশ্ন।   এসএসআই সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রেও কি বাড়বে?   সাধারণত সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম (এসএসআই) সুবিধাভোগীরাও একই সিওএলএ সমন্বয়ের আওতায় থাকেন। তবে সোশ্যাল সিকিউরিটি ও এসএসআই আলাদা কর্মসূচি এবং এগুলোর অর্থায়ন ও যোগ্যতার নিয়মও ভিন্ন।   ২০২৬ সালের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৭ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ সোশ্যাল সিকিউরিটি বা এসএসআই সুবিধা, অথবা দুটিই পান। ফলে ২০২৭ সালের সিওএলএ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের মাসিক আয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।   নোট: ২০২৭ সালের চূড়ান্ত বৃদ্ধির হার এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এসএসএ অক্টোবর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন হার জানাবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৭:৪৪
ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বেড়েছে ৩৭%,ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বেড়েছে ৩৭%, আগস্টে হতে যাচ্ছে নতুন রেকর্ড

ইরান যুদ্ধ শুরুর ছয় মাসের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগের দিন প্রতি গ্যালন নিয়মিত গ্যাসের জাতীয় গড় দাম ছিল ২.৯৮ ডলার। কিন্তু ২৭ আগস্ট তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.১০ ডলারে—অর্থাৎ ছয় মাসে দাম বেড়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ।   জ্বালানির এই ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে চলতি আগস্ট মাস যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দামের দিক থেকে নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন ।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এটাই প্রথম আগস্ট, যখন পুরো মাসজুড়ে নিয়মিত গ্যাসের জাতীয় গড় দাম প্রতিদিনই ৪ ডলারের ওপরে রয়েছে।   ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম কয়েক সপ্তাহে গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। গত ২১ মে জাতীয় গড় দাম সর্বোচ্চ ৪.৫৬ ডলারে পৌঁছায়।   এরপর মে মাসের শেষ দিক থেকে জুলাইয়ের শুরুর সময় পর্যন্ত জ্বালানির দাম কিছুটা কমতে থাকে। তবে জুলাইয়ের পর আবারও দাম বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে জাতীয় গড় দাম ৪ ডলারের সামান্য ওপরে স্থির রয়েছে।   অর্থাৎ, যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের চালকদের এখন প্রতি গ্যালন গ্যাস কিনতে গড়ে প্রায় ১.১২ ডলার বেশি খরচ করতে হচ্ছে। আর আগস্টে প্রতিদিনই ৪ ডলারের বেশি দাম থাকায় মাসটি গ্যাসের দামের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল আগস্ট হিসেবে রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৭:১৯
young-man-paying-with-contactless-credit-card
রেস্তোরাঁয় বিল দেন পুরুষ, তবে টিপের সিদ্ধান্তে প্রভাব থাকে নারীর—সাবেক ওয়েট্রেসের দাবি

রেস্তোরাঁয় ভালো সেবা দেওয়ার পাশাপাশি টিপ বা বকশিশ পাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু কৌশল কাজ করতে পারে। সাবেক ওয়েট্রেস ও জনপ্রিয় লেখক মেল রবিনস জানিয়েছেন, ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করার সময় তিনি এমন একটি পরামর্শ পেয়েছিলেন, যা তার টিপ পাওয়ার ধারণাই বদলে দেয়।    রবিনস জানান, মিশিগানের রেড রুস্টার ট্যাভার্নে ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করার সময় তার এক মেন্টর তাকে বলেছিলেন, ভালো টিপ পাওয়ার একটি কৌশল হলো—টেবিলে কার হাতে টিপ দেওয়ার সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব রয়েছে, সেটি বুঝতে পারা।   সাধারণত যে ব্যক্তি রেস্তোরাঁর বিল পরিশোধ করেন, তিনিই টিপের পরিমাণ ঠিক করেন বলে মনে করা হয়। কিন্তু রবিনসের মেন্টরের পর্যবেক্ষণ ছিল, অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ বিল পরিশোধ করলেও টিপের বিষয়ে তার সঙ্গী নারী প্রভাব ফেলতে পারেন।   রবিনস বলেন, ভালো সেবা পেলে অনেক সময় নারী সঙ্গী তার পার্টনারকে ওয়েটারের প্রশংসা করে ভালো টিপ দিতে উৎসাহিত করেন। এই পরামর্শের পর তিনি টেবিলের নারীদের প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়ার কৌশল নিয়েছিলেন।    তবে আতিথেয়তা খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নারী গ্রাহকদের গুরুত্ব দিয়ে পুরুষদের উপেক্ষা করা ঠিক নয়। নিউইয়র্কভিত্তিক মাহন হসপিটালিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা অংশীদার রবার্ট মাহন বলেন, ভালো ওয়েটারদের পুরো টেবিলের গতিবিধি বুঝতে হয় এবং কাউকে আলাদা করে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়।   তার মতে, বন্ধুত্বপূর্ণ ও মনোযোগী আচরণই শেষ পর্যন্ত ভালো টিপ পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।   এমনকি গবেষণাতেও গ্রাহকের সঙ্গে ছোটখাটো ইতিবাচক যোগাযোগ টিপের পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২০১০ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, খাবার বেছে নেওয়ার সময় গ্রাহকদের প্রশংসা করা ওয়েটাররা তুলনামূলকভাবে বেশি টিপ পেয়েছেন।    ডালাস স্কুল অব এটিকেটের প্রতিষ্ঠাতা লিসা বারডেটও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে নারীরা টিপের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারেন। তবে একজন দক্ষ ওয়েটারের উচিত টেবিলের সব অতিথিকে সমান গুরুত্ব দেওয়া।   অর্থাৎ, বেশি টিপ পাওয়ার ‘গোপন রহস্য’ শুধু একজন নির্দিষ্ট গ্রাহককে খুশি করা নয়—বরং পুরো টেবিলকে ভালোভাবে সেবা দেওয়া, অতিথিদের সঙ্গে ইতিবাচক যোগাযোগ তৈরি করা এবং কে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা বুঝতে পারাই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৬:৫৪
man-with-beard-talking-on-landline-phone
তিনটি সাধারণ কারণে শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যেতে পারে, দাবি বিশেষজ্ঞের

দেখতে বয়স বাড়ার আগেই শরীরের ভেতরের কোষে বার্ধক্যের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ ডা. উইল কোলের মতে, আধুনিক জীবনযাপনের কিছু সাধারণ অভ্যাস কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটিয়ে এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। তাঁর মতে, অস্বাস্থ্যকর খাবার, বিভিন্ন ধরনের টক্সিনের সংস্পর্শ এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।    কোল বলেন, মানুষের জিনগত কাঠামো হাজার হাজার বছর ধরে খুব বেশি পরিবর্তিত হয়নি। কিন্তু তুলনামূলকভাবে অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ এবং জীবনযাপনে বড় পরিবর্তন এসেছে। এর প্রভাব শরীরের কোষের ওপর পড়তে পারে।   তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কারও ক্রোনোলজিক্যাল বয়স ২০, ৩০ বা ৪০ হলেও শরীরের বায়োলজিক্যাল বয়স তার চেয়ে বেশি হতে পারে। তবে তিনি এ ধরনের ধারণাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় হিসেবে উপস্থাপন করেননি। দীর্ঘদিনের ক্লান্তি বা ব্রেইন ফগের মতো উপসর্গের পেছনে বিভিন্ন শারীরিক, জীবনযাপন ও মানসিক কারণ থাকতে পারে।   বিশেষজ্ঞের মতে, প্রথম বড় কারণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। অতিরিক্ত প্রদাহ সৃষ্টিকারী খাবার নিয়মিত খাওয়া শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দিনের দীর্ঘ সময় ধরে বারবার খাওয়ার অভ্যাসও তিনি কোষের স্বাভাবিক ভারসাম্যের জন্য সম্ভাব্য সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।    দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তিনি পরিবেশের বিভিন্ন টক্সিনের কথা বলেছেন। কীটনাশক, হার্বিসাইড এবং PFAS বা তথাকথিত ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ এর মতো পদার্থের সংস্পর্শ স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এর প্রভাব নির্ভর করে কোন পদার্থ, কত মাত্রায় এবং কতদিন সংস্পর্শে এসেছে তার ওপর।   এ ছাড়া ছত্রাক, কিছু সংক্রামক জীবাণু এবং রাতে অতিরিক্ত নীল আলোতে থাকার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে রাতে নীল আলো কিছু মানুষের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি এবং দিনের বেলায় পর্যাপ্ত আলো পাওয়া স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য সহায়ক হতে পারে।   তৃতীয় কারণ হিসেবে কোল দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, ট্রমা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কথা বলেছেন। দীর্ঘদিনের স্ট্রেস শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। মানুষের সামাজিক ও মানসিক সংযোগও সামগ্রিক সুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত।   তবে এসব কারণকে সরাসরি শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ার একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ, ঘুম, মানসিক চাপ, শারীরিক কার্যক্রম এবং জেনেটিকসহ একাধিক বিষয় মানুষের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখে। কোনো দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ থাকলে সেটিকে শুধু বয়স বাড়ার স্বাভাবিক অংশ মনে না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৬:৩৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব নয়, ট্রাম্পকে বলেছিলাম চাপ আরও বাড়াতে: নেতানিয়াহু

ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর পরামর্শও তিনি ট্রাম্পকে দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।    মঙ্গলবার জেরুজালেমে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বৈঠকে ইরানকে মোকাবিলায় তিনটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এগুলো হলো কূটনৈতিক সমঝোতা, সামরিক পদক্ষেপ এবং তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানো।   নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তি হলে ইসরায়েলের আপত্তি নেই। তবে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে এমন চুক্তি সম্ভব কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। এ সময় ইরানের নেতাদের ‘সেভেজ’ বা ‘বর্বর’ বলে আখ্যা দেন তিনি।    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ট্রাম্পকে তৃতীয় বিকল্প হিসেবে ইরানের ওপর ‘চাপ আরও শক্ত করার’ কথা বলেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, সেটি ওই কৌশলেরই অংশ।   সোমবার ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান চলাচল ও শিপিং খাতকে লক্ষ্য করা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় দেশের কিছু প্রতিষ্ঠানও ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।    ট্রাম্পও বুধবার ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলকে সমর্থন করে বলেন, তেহরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিজয়ের দিকে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরও বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না।   ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে বিরোধ চলছে। ইরান ও ওমান বর্তমানে প্রণালির ভবিষ্যৎ নৌ চলাচল নিয়ে আলোচনা করছে। অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি খোলা এবং সেখানে মাইনও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।   এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত অস্ত্র ও সামরিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে নতুন সামরিক সরঞ্জামও আনা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, দেশটির সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পুনর্গঠন ও নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ করা হয়েছে।   ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান কঠোর হওয়ার মধ্যেই কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহুর এমন মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৬:৭
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি
ফ্যামিলি কার্ডে নতুন হিসাব: ৪১ লাখ কার্ড বানাতেই ব্যয় ২৪৬ কোটি টাকা!

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রথম ধাপে ৪১ লাখ পরিবারের জন্য কার্ড তৈরি করতে প্রায় ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রতিটি কার্ড তৈরিতে খরচ ধরা হয়েছে ৬০০ টাকা। তবে এই অর্থ সরকার বহন করবে, নাকি কোনোভাবে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।   চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথম ধাপে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কর্মসূচির জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যেই কার্ড তৈরির ২৪৬ কোটি টাকার খরচ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   কার্ড তৈরির ব্যয়ের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, অর্থ স্থানান্তর এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহারের জন্যও আলাদা খরচ ও চার্জ দিতে হবে। ফলে ৪১ লাখ পরিবারকে মাসিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পুরো ডিজিটাল বিতরণ ব্যবস্থায় সরকারের মোট ব্যয় আরও বাড়তে পারে।    ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ বিতরণে টাকাপে ব্যবস্থা ব্যবহার এবং এর সঙ্গে সরকারি তফসিলি ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার বিষয়ে মঙ্গলবার সচিবালয়ে একটি বৈঠক হয়। এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অর্থ বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন। তবে কার্ড তৈরির খরচ কে বহন করবে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।    অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিটি কার্ড তৈরির ৬০০ টাকা খরচ সরকার বহন করবে নাকি অন্য কোনো ব্যবস্থায় তা পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।    কর্মসূচিটির মূল লক্ষ্য দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে সরাসরি সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। এ কারণে কার্ড তৈরির খরচের নামে সুবিধাভোগীদের ওপর নতুন কোনো আর্থিক চাপ তৈরি হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।    এর আগে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং কার্ড দেওয়ার নামে কোথাও টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ টাকা দাবি করলে সেটিকে প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।    পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডধারীদের হিসাব পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি টাকাপে কার্ড ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমেও সুবিধাভোগীরা টাকা তুলতে পারবেন।    সরকার আগামী চার বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রতিটি কার্ড তৈরিতে ৬০০ টাকা খরচ হলে পুরো লক্ষ্যমাত্রার কার্ড তৈরিতেই প্রায় ৯৬০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার কর্মসূচি এবং এটি বাস্তবায়নে বাজেট কোনো বাধা হবে না। তাঁর মতে, এটি শুধু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নয়, নারীর ক্ষমতায়ন এবং গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।  সূএ: যুগান্তর

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৫:৪৮
গত ৩০ দিনের মধ্যে অন্তত একবার তীব্র খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বহু পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
পেটে তীব্র ক্ষুধা নিয়েই রাতে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছে গাজার প্রায় অর্ধেক পরিবার: ডব্লিউএফপি

গাজায় জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক পরিবার জানিয়েছে, গত ৩০ দিনের মধ্যে অন্তত একবার তাদের ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাতে ঘুমাতে যেতে হয়েছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আগস্টের খাদ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া ৪৬ শতাংশ পরিবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।   ওই ৩০ দিনের মধ্যে ৭ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, তারা ১০ বারের বেশি ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাতে ঘুমাতে গেছে। একই সময়ে জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেক পরিবার জানিয়েছে, অন্তত একবার তাদের ঘরের খাবার পুরোপুরি শেষ হয়ে গিয়েছিল।   বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, জরিপ করা ২১ শতাংশ পরিবার দিনে মাত্র একবেলা খাবার খাচ্ছে। প্রায় ৩৮ শতাংশ পরিবার প্রতিদিনের খাবারের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ১৭ শতাংশ পরিবার শিশুদের খাবারকে অগ্রাধিকার দিতে প্রতিদিন প্রাপ্তবয়স্কদের খাবারের পরিমাণ সীমিত করেছে।   খাদ্য কেনা ও বাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছে পরিবারগুলো। জরিপে অংশ নেওয়া তিন-চতুর্থাংশ পরিবার জানিয়েছে, বাজারে যেতে বা প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করতে তারা বাধার মুখে পড়ছে। নগদ অর্থের সংকট এবং খাদ্যের উচ্চমূল্য এসব সমস্যার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে।   ইসরায়েলি বিধিনিষেধের মধ্যে গাজায় খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের প্রবেশ এখনো মারাত্মকভাবে সীমিত রয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, গত বছরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে প্রতিদিন গড়ে ২১৭টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় প্রতিদিন ৬০০টি ট্রাক প্রবেশের কথা ছিল।   সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যেও গাজায় খাদ্যসংকটের ভয়াবহতা উঠে এসেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির হিসাবে, গাজার প্রায় ১৪ লাখ মানুষ এখনো তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তার উচ্চ পর্যায়ের মুখোমুখি এবং পরিবারগুলোর বড় অংশ মৌলিক খাদ্য চাহিদা পূরণে সংগ্রাম করছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৫:২৫
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পদত্যাগপত্রের ছবি প্রকাশ করার পর সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। ছবি: সংগৃহীত
সহকর্মীদের সিগারেটের ধোঁয়া সহ্য করতে না পেরে চাকরি ছাড়লেন বেঙ্গালুরুর নারী

বেঙ্গালুরুর জাহ্নবী চাভাদা নামের এক নারী কর্মস্থলে নিয়মিত সিগারেটের ধোঁয়া ও গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। নিজের পদত্যাগপত্রের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পর সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। তার পোস্টটি এখন পর্যন্ত ৫৬ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে।   জাহ্নবী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি আগের দিন চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানে তার শেষ কর্মদিবস ছিল ২৫ আগস্ট ২০২৬। তবে পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি কর্মস্থলে সিগারেটের ধোঁয়া ও গন্ধ সহ্য করতে না পারার বিষয়টি তুলে ধরেন।   পদত্যাগপত্রে জাহ্নবী জানান, তিনি কোনো ধরনের সিগারেটের গন্ধ সহ্য করতে পারেন না। পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য যতটা সম্ভব চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য, সমস্যাটির কারণে তাকে নয়, বরং যারা ধূমপান করছেন তাদেরই পরিবর্তন করা প্রয়োজন।   পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে প্রশ্ন করা হয়, কর্মস্থলের কোথায় ধূমপান করা হতো। জবাবে জাহ্নবী জানান, কর্মীরা খাবার রাখার কক্ষ ও খাবার খাওয়ার এলাকায় ধূমপান করতেন। ধূমপানের পর তাদের কেউ কেউ তার পাশেও বসতেন। এতে সিগারেটের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ত তিনি যেখানে কাজ করতেন সেই লবিতেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি মাস্ক পরার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি।   জাহ্নবীর এই সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকে কর্মস্থলে অন্যের সিগারেটের ধোঁয়ার কারণে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। একজন ব্যবহারকারী জানান, তার কর্মস্থলেও একই ধরনের সমস্যা হয়েছিল। তবে সেখানে ব্যবস্থাপক অভিযোগ শুনে ব্যবস্থা নেওয়ায় বিষয়টি সমাধান হয়েছিল।   অন্যদিকে অনেকে পরোক্ষ ধূমপানের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে জাহ্নবীর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। কেউ কেউ তার সিদ্ধান্তকে সাহসী বলেও মন্তব্য করেছেন। আবার কয়েকজনের মত, চাকরি ছাড়ার আগে ব্যবস্থাপনার কাছে অভিযোগ জানিয়ে সমস্যাটির সমাধানের চেষ্টা করা যেত। ফলে ঘটনাটি কর্মস্থলে ধূমপান, কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং অন্যের ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি করেছে।   তবে প্রতিবেদনে জাহ্নবী চাকরির প্রথম দিনেই পদত্যাগ করেছেন এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তার পদত্যাগপত্র অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট ২০২৬ ছিল তার শেষ কর্মদিবস। তাই ‘প্রথম দিনেই চাকরি ছাড়লেন’ তথ্যটি বাদ দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৫:১২
নেপাল ও চীনের সীমান্তে হিমবাহ ধসে তৈরি ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে। ছবি: সংগৃহীত
নেপাল সীমান্তে হিমবাহের হ্রদ উপচে পড়ছে, নতুন বন্যার শঙ্কায় থামল উদ্ধার অভিযান

নেপাল ও চীনের সীমান্তে হিমবাহ ধসে তৈরি ধ্বংসাবশেষের বাঁধে সৃষ্টি হওয়া হ্রদ উপচে পড়তে শুরু করেছে। এতে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। হ্রদটি ভেঙে গেলে আগের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আবারও পানির প্রবল স্রোত নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।   চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হ্রদটির পানির পরিমাণ ২৫ লাখ ঘনমিটার ছাড়িয়ে গেছে। এক দিন আগে এর পানির পরিমাণ আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটার ছিল। হ্রদটির পানি আরও বাড়তে থাকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চীনা উদ্ধারকর্মী ও যানবাহনগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিতে বলা হয়েছে।   বুধবার হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যার পানির সঙ্গে পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ পাহাড়ি নদীগুলোর ওপর দিয়ে নেমে এসে বিভিন্ন এলাকা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর পরই উজানে ধ্বংসাবশেষের বাঁধ তৈরি হয়ে হ্রদটির সৃষ্টি হয় এবং সেখানে পানি জমতে থাকে।   চীনের পাঠানো আট সদস্যের প্রকৌশলী দল বৃহস্পতিবার হ্রদটির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। তারা আকাশপথে জরিপ ও ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরির কাজ করে। প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, হ্রদের ঝুঁকি কমানোর একটি সম্ভাব্য পদ্ধতি হলো বাঁধের নিচু অংশে পানি বের হওয়ার জন্য একটি নালা তৈরি করা। তবে পানির প্রবাহের গতি এবং হ্রদে পানি জমার হার হিসাব করে নালাটির প্রস্থ ও গভীরতা নির্ধারণ করতে হবে।   জরিপের তথ্য অনুযায়ী, হ্রদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫০ মিটার এবং গভীরতা ৪০ থেকে ৫০ মিটার। সীমান্তবর্তী গিরং বন্দর এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে উজানের মাটি ও পাথর আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। আগামী সপ্তাহজুড়েও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।   চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি হ্রদটিতে প্রবেশ করতে পারে। এই পরিমাণ পানি প্রায় ১ হাজার ২০০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের সমান। পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে আগামী ১ সেপ্টেম্বর। ফলে হ্রদের বাঁধ ভেঙে নতুন বন্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   হ্রদটি উপচে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ নদীর পানির উচ্চতা বাড়ার আশঙ্কায় উঁচু এলাকায় সরে যেতে শুরু করেছেন। চীনের পাশাপাশি নেপালও নতুন করে বন্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে।   এদিকে বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালে ৪৮৯ জন এবং চীনের তিব্বতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দুই দেশে প্রায় ১ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৩১টি দেশের প্রায় ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক থাকতে পারেন।   হ্রদটির পানি বাড়তে থাকা এবং নতুন বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধার তৎপরতা সাময়িকভাবে থামানো হলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে হ্রদের বাঁধের ঝুঁকি কমানো এবং পানি নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৪:৫১
হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল চালুর বিষয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরানের নতুন শর্ত, শুরু নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা

ইরান যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধের পর প্রণালীটি পুনরায় খুলতে নিজেদের শর্তের তালিকা তৈরিতে সম্মত হয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে ইরান ও ওমান একটি নৌ চলাচল করিডোর নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরানের একজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।   কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বৃহস্পতিবার তেহরানে ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনা থেকে সরে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পর তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।   কাতার ও পাকিস্তান এর আগে জুনে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরিতে মধ্যস্থতা করেছিল। ওই সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের প্রধান পথ ছিল।   ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানকে প্রণালী পুনরায় খোলার শর্ত নির্ধারণ করতে বলার পর ইরান সেই তালিকা প্রস্তুত করছে। তিনি জানান, ইরান ও ওমান প্রণালীর মধ্য দিয়ে একটি নৌ চলাচল করিডোর নিয়ে একমত হয়েছে। এর কিছু অংশ ওমানের জলসীমায় এবং কিছু অংশ ইরানের জলসীমায় থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত পূরণ করলে জাহাজগুলো নির্ধারিত একটি কেন্দ্রীয় পথ ব্যবহার করতে পারবে।   অতীতে ইরানের শর্তের মধ্যে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি ছিল। এবার এসব শর্তের কোনগুলো অপরিবর্তিত থাকবে বা পরিবর্তন করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল পরিচালনা ও রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়েও ইরান ও ওমান নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে পরে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চুক্তির বিস্তারিত নিয়ে দুই দেশ এখনো কাজ করছে।   সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। ইরান এখনো জুনের সমঝোতা স্মারকে ফিরে যাওয়ার ওপর জোর দিয়ে আসছে। তবে ওই সমঝোতা স্বাক্ষরের পর জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরানের কর্তৃত্ব নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি হওয়ায় তা দ্রুত ভেঙে পড়ে। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতাটি শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা করেন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কয়েক মাস আগে হরমুজ প্রণালীতে যে সমুদ্র মাইন পেতেছিল, মার্কিন বাহিনী সেগুলো সরিয়ে দিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন বাহিনী প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী ১ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক জাহাজকে প্রণালী পার হতে সহায়তা করেছে।   তবে ইরানের হুমকির কারণে অনেক জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে চলছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর হিসাবে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে এই পথে জাহাজ চলাচল প্রায় ৫ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে ৭০টি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যাতে ১৯ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।   সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৪:৪১
গুগলে দেওয়া ১-স্টার রিভিউকে মিথ্যা দাবি করে এক নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে স্টার ম্যানুফ্যাকচারিং। ছবি: সংগৃহীত
গুগলে ১-স্টার রিভিউ দেওয়ায় নারীর বিরুদ্ধে ২৫ হাজার ডলারের মানহানি মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গুগলে দেওয়া ১-স্টার রিভিউকে মিথ্যা ও মানহানিকর দাবি করে এক নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ভিয়েনা শহরের স্টার ম্যানুফ্যাকচারিং ইনকরপোরেটেড কলম্বাসের বাসিন্দা জুলি ওয়াটসনের বিরুদ্ধে ট্রাম্বুল কাউন্টি কোর্ট অব কমন প্লিজে করা মামলায় ২৫ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ চেয়েছে।   গ্যাস উৎপাদন সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, ওয়াটসন চলতি বছরের মার্চে গুগলে তাদের বিরুদ্ধে একটি ১-স্টার রিভিউ প্রকাশ করেন। মামলায় প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, ওই পর্যালোচনায় তাদের উৎপাদন ও কাজের মান নিয়ে মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, রিভিউ প্রকাশের পর তাদের সুনাম ও ব্যবসায় ক্ষতি হয়েছে।   মামলার নথিতে পর্যালোচনার পুরো বক্তব্য সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওয়াটসনের নামে প্রকাশিত একটি গুগল রিভিউয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ঠিকাদারদের কাজের মান, বিভিন্ন কূপ এলাকায় কাজ সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা এবং বোল্ট ও ফাস্টেনার সঠিকভাবে সংযুক্ত না করার মতো অভিযোগ তোলা হয়েছিল। একই সঙ্গে এসব সমস্যার বিষয়ে আরও ব্যক্তির নাম ও অবস্থান দেওয়ার কথাও ওই পর্যালোচনায় বলা হয়েছিল।   স্টার ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের আইনজীবী থমাস নাদের দাবি করেছেন, ওয়াটসন কখনোই প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক ছিলেন না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই নারীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল এবং পরে সেই সম্পর্কের অবনতি হয়। আইনজীবী অভিযোগ করেছেন, এরপরই কথিত মিথ্যা পর্যালোচনাটি প্রকাশ করা হয় এবং এটিকে তিনি ব্যক্তিগত বিদ্বেষের ফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   প্রতিষ্ঠানটি মামলায় দাবি করেছে, ওয়াটসনের বক্তব্যের কারণে তাদের উল্লেখযোগ্য সুনামগত ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ভবিষ্যতেও তিনি ইন্টারনেটে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কথিত মিথ্যা ও ক্ষতিকর অভিযোগ প্রকাশ করতে পারেন বলেও মামলায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি আদালতের মাধ্যমে এমন বক্তব্য প্রকাশ বন্ধের নির্দেশও চেয়েছে।   স্টার ম্যানুফ্যাকচারিং প্রকৃত ও ক্ষতিপূরণমূলক অর্থের পাশাপাশি ২৫ হাজার ডলারের বেশি দণ্ডমূলক ক্ষতিপূরণ, আইনজীবীর পারিশ্রমিক ও মামলার খরচ দাবি করেছে। মামলাটি ১২ আগস্ট ট্রাম্বুল কাউন্টি কোর্ট অব কমন প্লিজে করা হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে মামলায় প্রতিষ্ঠানটির করা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। জুলি ওয়াটসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে রিভিউতে করা অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা, এবং প্রতিষ্ঠানটির দাবিকৃত ক্ষতির পরিমাণ কতটা, তা আদালতের প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৪:১৭
যৌন অভিমুখিতা বা এলজিবি পরিচয়কে আবেদনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটেনে সমকামী পরিচয়ের ভিত্তিতে আশ্রয় আবেদনে পাকিস্তান প্রথম বাংলাদেশ দ্বিতীয়

যুক্তরাজ্যে যৌন অভিমুখিতার কারণে নিপীড়নের আশঙ্কা দেখিয়ে করা আশ্রয় আবেদনে পাকিস্তানি নাগরিকদের অংশ অন্য দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। দেশটির হোম অফিসের ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই বছর যৌন অভিমুখিতা বা এলজিবি পরিচয়কে আবেদনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা ১ হাজার ৩৭৭টি আশ্রয় আবেদনের মধ্যে ৫৭৮টি করেছিলেন পাকিস্তানি নাগরিকরা, যা মোটের ৪২ শতাংশ।    হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছর ধরেই যৌন অভিমুখিতার বিষয়টি উল্লেখ করে করা আশ্রয় আবেদনে পাকিস্তানি নাগরিকদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ছিল। ২০২৩ সালে এই ধরনের আবেদনে পাকিস্তানিদের অংশ ৪২ শতাংশ হলেও সব ধরনের আশ্রয় আবেদনের হিসাবে পাকিস্তান ছিল চতুর্থ সর্বোচ্চ আবেদনকারী দেশ। ওই বছর যুক্তরাজ্যে করা মোট আশ্রয় আবেদনের ৬ শতাংশ এসেছিল পাকিস্তানি নাগরিকদের কাছ থেকে।    অর্থাৎ, সামগ্রিক আশ্রয় আবেদনে পাকিস্তানি নাগরিকদের যে অংশ, যৌন অভিমুখিতাকে আবেদনের ভিত্তি করা মামলায় তাদের অংশ তার তুলনায় অনেক বেশি। তবে এই পরিসংখ্যানকে পাকিস্তানি নাগরিকদের যৌন অভিমুখিতা সম্পর্কে কোনো সাধারণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাবে না। হোম অফিস নিজেই সতর্ক করেছে, এসব তথ্য মূলত আবেদনকারীরা তাদের আবেদনে যৌন অভিমুখিতার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন কি না, তার ওপর নির্ভরশীল। কোনো ব্যক্তি নিজের যৌন অভিমুখিতা প্রকাশ না করলে তা এই পরিসংখ্যানে নাও আসতে পারে।    ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যে যৌন অভিমুখিতাকে আবেদনের ভিত্তির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা আশ্রয় মামলায় প্রাথমিক পর্যায়ে ৩ হাজার ৪৩০টি সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৬২ শতাংশ ক্ষেত্রে আশ্রয় বা অন্য কোনো ধরনের সুরক্ষা বা থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। সংখ্যার হিসাবে ২ হাজার ১৩৩টি সিদ্ধান্তে আবেদনকারীরা প্রাথমিক পর্যায়েই সুরক্ষা বা অন্য ধরনের অনুমতি পেয়েছেন।    তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৩ সালে করা আবেদন এবং ২০২৩ সালে দেওয়া সিদ্ধান্ত একই বিষয় নয়। হোম অফিস জানিয়েছে, কোনো আবেদনের সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে দেওয়া হতে পারে। ফলে ওই বছরের ৬২ শতাংশ অনুমোদনের হারকে শুধু ২০২৩ সালে জমা পড়া আবেদনগুলোর ফল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।    হোম অফিসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, এসব পরিসংখ্যানে এমন আশ্রয় আবেদন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে লেসবিয়ান, গে বা বাইসেক্সুয়াল পরিচয় বা যৌন অভিমুখিতা আবেদনের ভিত্তির অংশ হিসেবে কোনো পর্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি আবেদনকারীকে কেবল যৌন অভিমুখিতার কারণেই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, কোনো আবেদনকারী যৌন অভিমুখিতার বিষয় উল্লেখ না করেও অন্য কোনো ভিত্তিতে সুরক্ষা পেতে পারেন।    ফলে পাকিস্তানি নাগরিকদের এই ধরনের আবেদনের উচ্চ হার নিয়ে পরিসংখ্যান একটি স্পষ্ট প্রবণতা দেখালেও, কতগুলো আবেদন সত্যিকার অর্থে যৌন অভিমুখিতার কারণে নিপীড়নের আশঙ্কার ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং কতগুলো ক্ষেত্রে অন্য কারণ কাজ করেছে, তা শুধু এই তথ্য দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। হোম অফিসের পরিসংখ্যানও আবেদনকারীদের দাবির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, কোনো ব্যক্তির যৌন পরিচয় বা দাবির সত্যতা সম্পর্কে স্বতন্ত্র যাচাইয়ের ফল নয়।   সূএ: ইউকে বাংলা পোস্ট

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২:৫১
নিউইয়র্কের কুইন্সে ছেলের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ডিজের পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধের জেরে গ্রেপ্তার হওয়া জামি চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে মারধরের ঘটনায় বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগ

নিউইয়র্কের কুইন্সে ছেলের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ডিজের পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধের জেরে এক বাংলাদেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জামি চৌধুরী নামে ওই ব্যক্তিকে বুধবার গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারক তাকে জামিন দেন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে তার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।   মামলার তথ্যের বরাত দিয়ে প্রাইভেট ডিটেকটিভ শক্তি গুপ্ত জানান, গত ১৬ আগস্ট জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউয়ের কাছে ৮৯-১৬ ১৭৫ স্ট্রিটের একটি পার্টি হলে জামি চৌধুরীর ছেলের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয়। দুপুর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলা ওই অনুষ্ঠানে ডিজের সরঞ্জাম ও সেবা দেওয়ার জন্য অনুপ কুমার এষকে ১ হাজার ৫০০ ডলার পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা ছিল।   অনুপের অভিযোগ, অনুষ্ঠান শেষে তাকে ৪০০ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি এতে আপত্তি জানান। পারিশ্রমিক নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে জামি চৌধুরীসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।   অনুপ আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তাকে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক গালিগালাজ করা হয়। তার দাবি, তিনি হিন্দু পরিচয় ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থনের কারণে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং বিষয়টি এখনো বিচারাধীন।   মামলার তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় অনুপকে শারীরিকভাবে আক্রমণ, হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি জরুরি সহায়তার জন্য ৯১১ নম্বরে ফোন করার চেষ্টা করার সময়ও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।   শক্তি গুপ্তের ভাষ্য অনুযায়ী, ৯১১ নম্বরে কল পাওয়ার পর পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে যায়। অনুপকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার ঘাড়, কান ও পিঠে আঘাত লাগে বলে জানানো হয়েছে।   ঘটনার পর স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আপসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অনুপ তাতে রাজি হননি। তিনি বলেন, অন্যায়ভাবে মারধরের শিকার হওয়ার পর তিনি আপস নয়, ন্যায়বিচার চান। তার ভাষ্য, ডিজে হিসেবে কাজ করাই তার জীবিকা নির্বাহের অন্যতম মাধ্যম।   অভিযোগের বিষয়ে জামি চৌধুরীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। মামলায় অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২:৩৯
দুর্ঘটনায় হাত হারানোর পর অঙ্গদানের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা শ্রেয়া সিদ্ধানাগৌড়া। ছবি: সংগৃহীত
অন্য ছেলের হাত বসেছিল শরীরে, বদলে গেল চামড়ার রংও! যেন নিজেরই হাত ফিরে পেলেন তরুণী

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় দুই হাত হারিয়েছিলেন ভারতের শ্রেয়া সিদ্ধানাগৌড়া। ২০১৬ সালের ওই দুর্ঘটনায় বাস উল্টে তার দুই হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে কনুইয়ের নিচ থেকে দুই হাতই কেটে ফেলতে হয়। কিন্তু এক বছর পর অঙ্গদানের এক মানবিক সিদ্ধান্ত এবং চিকিৎসকদের অসাধারণ প্রচেষ্টায় আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পান তিনি।    ২০১৭ সালে কেরালার কোচির অমৃতা হাসপাতালে শ্রেয়ার দুই হাতে প্রতিস্থাপন করা হয় একজন পুরুষের দান করা হাত। ১৩ ঘণ্টার এই জটিল অস্ত্রোপচারটি ছিল এশিয়ায় প্রথম সফল ডাবল আপার-আর্ম হ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্ট। একই সঙ্গে পুরুষ দাতার দুই হাত একজন নারী রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপনের ঘটনাটিও ছিল বিশ্বে প্রথম বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল।    শ্রেয়ার জন্য দান করা হাত দুটি এসেছিল ২০ বছর বয়সী এক তরুণের কাছ থেকে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তাকে মস্তিষ্ক-মৃত ঘোষণা করা হলে তার পরিবার হাতসহ বিভিন্ন অঙ্গ দানের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তই শ্রেয়ার জীবনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।    অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় দীর্ঘ পুনর্বাসন। শরীর ও মস্তিষ্ককে নতুন হাতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শ্রেয়াকে এক বছরেরও বেশি সময় ফিজিওথেরাপি করতে হয়। ধীরে ধীরে তিনি নতুন হাতের নড়াচড়া ও অনুভূতি ফিরে পেতে শুরু করেন এবং দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতাও বাড়তে থাকে।    তবে চিকিৎসকদের সবচেয়ে বেশি অবাক করে আরেকটি পরিবর্তন। প্রতিস্থাপনের সময় হাত দুটি শ্রেয়ার নিজের হাতের তুলনায় বড়, গাঢ় রঙের ও বেশি লোমশ ছিল। কয়েক বছর পর দেখা যায়, হাত দুটি আগের তুলনায় সরু হয়েছে এবং ত্বকের রঙও শ্রেয়ার শরীরের রঙের সঙ্গে অনেকটাই মিলে গেছে। এমনকি তিনি নতুন হাত দিয়ে লিখতে, গয়না পরতে এবং নখে রং করতেও শুরু করেন।    এই পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। চিকিৎসকদের ধারণা, শরীরের হরমোন, মেলানিন উৎপাদন এবং দাতার হাতের আগের শারীরিক বৈশিষ্ট্যসহ একাধিক বিষয় এতে ভূমিকা রাখতে পারে। এ নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।  শ্রেয়ার এই ঘটনা শুধু একটি সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপনের গল্প নয়। অঙ্গদানের মাধ্যমে একজন মানুষের পরিবার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা আরেক তরুণীর জীবনকে নতুন করে গড়ে ওঠার সুযোগ দিয়েছে। ২০২৫ সালে অমৃতা হাসপাতাল জানিয়েছে, শ্রেয়া পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ও আইআইএম কলকাতা থেকে এমবিএ সম্পন্ন করে সফটওয়্যার পেশায় যোগ দিয়েছেন।    দুই হাত হারানোর পর যে জীবন থমকে যাওয়ার কথা ছিল, সেখান থেকেই শ্রেয়ার নতুন পথচলাশুরু হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান, অঙ্গদান এবং তার নিজের দৃঢ় মানসিকতার সমন্বয়ে এই ঘটনা আজও অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা ও মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২:২৬