আয়াত শুনেই বিস্ময়করভাবে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ দৃষ্টিহীন ৫ বছরের শিশুর
সৌদি আরবে বসবাসকারী দৃষ্টিহীন বার্মিজ শিশু হুসেইন মোহাম্মদ তাহির শুধু কোরআন তেলাওয়াত শুনেই পুরো পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেছে বলে জানা গেছে।
জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন হুসেইনের এক হাতেও সামান্য শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। টেলিভিশন দেখতে না পারায় ছোটবেলায় তার বাবা তাকে একটি রেডিও কিনে দেন। সেই রেডিওতে ২৪ ঘণ্টাই কোরআন তেলাওয়াত সম্প্রচার করা একটি স্টেশন চালু থাকত। পরিবারের সদস্যরা তখনও বুঝতে পারেননি, নিয়মিত শুনতে শুনতেই শিশুটি আয়াতগুলো মুখস্থ করে ফেলছে।
জেদ্দা থেকে মদিনায় যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর হুসেইনের এই অসাধারণ প্রতিভার বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। মদিনায় গিয়ে নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মসজিদে নববিতে একদিন তার বাবা তাকে সূরা আল-বাকারার কয়েকটি আয়াত তেলাওয়াত করতে বলেন।
বাবার বিস্ময় আরও বেড়ে যায় যখন মাত্র পাঁচ বছর বয়সী হুসেইন পুরো সূরা আল-বাকারা নির্ভুলভাবে তেলাওয়াত করে শোনায়। এরপর মদিনার কোরআন শিক্ষক ও আলেমরা তার কোরআন মুখস্থের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে দৃষ্টিহীন শিশুদের জন্য পরিচালিত বিশেষ কোরআন হিফজের একটি হালকায় তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মুখস্থ কোরআন শেখার দক্ষতাকে আরও বিকশিত করার সুযোগ তৈরি হয়।
হুসেইনের ঘটনা দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শ্রবণশক্তি, স্মরণশক্তি ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে কোরআন হিফজের একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে শিশুটির বিষয়ে প্রচারিত তথ্যের স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য বিস্তারিত নথি সীমিত।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreস্কটল্যান্ডের ক্ল্যাকম্যানানশায়ারের কয়লা খনি অধ্যুষিত কোয়ালসনটন এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধস ও মাটির নিচের নড়াচড়ার কারণে ৯৭টি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার পর এবার ৬০টি বাড়ি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ তদন্তে এই ভূমির অস্থিতিশীলতার সঙ্গে পুরোনো কয়লা খনির কার্যক্রমের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। মে মাসে নিরাপত্তার কারণে এসব বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর প্রায় আট সপ্তাহ ধরে মাইনিং রেমেডিয়েশন অথরিটি (MRA) মাটি ও স্থাপনার অবস্থা পরীক্ষা করে। সংস্থাটির সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, বেনবাক ভিউ ও ডানমস ভিউ এলাকার বাড়িগুলো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো মেরামত করে নিরাপদ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর এসব বাড়ি অধিগ্রহণ করে ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হলে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর পরিশ্রম করে তৈরি করা বাড়ি হারানোর বিষয়টি তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। ৬৭ বছর বয়সী সাইমন উডওয়ার্ড জানিয়েছেন, তিনি ১৭ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং অবসর জীবনের জন্য বাড়িটিকে নিজের মতো করে সাজিয়েছিলেন। তার মতে, বাড়ি হারানোর ক্ষতি শুধু আর্থিকভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে সব বাড়ির পরিস্থিতি এক নয়। তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত ল্যাংগোর এলাকায় মাটির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর বাড়িগুলো মেরামতের পরিকল্পনা রয়েছে। নেকটান ড্রাইভের কাছেও আরও স্থিতিশীলকরণ কাজ এবং দ্য গ্লেনে সড়ক মেরামতের পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাইনিং রেমেডিয়েশন অথরিটির প্রধান অপারেশনস কর্মকর্তা কার্ল ব্যান্টন জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও ঝুঁকি নির্ধারণে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং মূল্যায়ন, ভূগর্ভস্থ পরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত জরিপ চালানো হয়েছে। এসব পরীক্ষার ভিত্তিতেই কোন বাড়ি ভাঙতে হবে এবং কোন এলাকায় মেরামত সম্ভব, তা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, কোয়ালসনটনের এই ঘটনায় জরুরি সাড়া ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের ব্যয় বহন করা হবে। এর আগে স্কটিশ সরকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তায় ক্ল্যাকম্যানানশায়ার কাউন্সিলকে ১০ লাখ পাউন্ড অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে। ভূমি স্থিতিশীল হওয়ার পরও এলাকাটি নিরাপদ কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ইসরায়েলি কারাগার থেকে দুই বছর পর মুক্তি, চেহারায় যেন ২০ বছরের ছাপ ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের
আয়াত শুনেই বিস্ময়করভাবে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ দৃষ্টিহীন ৫ বছরের শিশুর
ঝুঁকি উপেক্ষা করে মালয়েশিয়া থেকে ১,৫০০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় একটি বৃদ্ধনিবাস পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৯৪ বছর বয়সী গুনাকেশারি বোহারা। বুধবার, ২৬ আগস্ট রাশুয়া জেলায় ভয়াবহ বন্যার পর উদ্ধারকারীরা পাশের নুওয়াকোট জেলার তুপছে এলাকায় কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গুনাকেশারি রাশুয়ার একটি সরকারি বৃদ্ধনিবাসে থাকতেন। বন্যার পানির প্রবল স্রোতে পুরো স্থাপনাটি ভেসে যায়। ওই প্রতিষ্ঠানে থাকা অন্য বাসিন্দা ও কর্মীদের কেউ বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। গুনাকেশারিকে সেখানকার একমাত্র জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা একটি এক্সকাভেটর ব্যবহার করে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে তার কাছে পৌঁছান। পরে তাকে সেখান থেকে বের করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। উদ্ধারের সময় তার পুরো শরীর কাদা ও মাটিতে ঢেকে ছিল এবং তিনি অত্যন্ত দুর্বল ও আতঙ্কিত অবস্থায় ছিলেন। উদ্ধারের পর গুনাকেশারি প্রথমে নিজের নামও বলতে পারছিলেন না। পরে এক স্বজন তাকে শনাক্ত করেন। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত এবং বন্যার ধাক্কায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুর ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়। ২৬ আগস্ট রাশুয়ার ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার পর নেপালের রাশুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিংসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। নেপাল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পরপরই সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে বহু মানুষ নিহত ও নিখোঁজ হয়েছেন। একই সঙ্গে সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। ৯৪ বছর বয়সে প্রায় এক দিন কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থেকেও গুনাকেশারির জীবিত উদ্ধার হওয়ার ঘটনা এই ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে বিরল এক বেঁচে ফেরার ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে।
জানুয়ারির বিক্ষোভে আটকের পর ২ সন্তানের মাকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরান
৩৪ বছর বয়সে গোপন রোগে মারা গেলেন ‘বিশ্বের কনিষ্ঠতম রাজা’
ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব নয়, ট্রাম্পকে বলেছিলাম চাপ আরও বাড়াতে: নেতানিয়াহু
দামেস্কে এক কাপ কফির বিল পরিশোধের ঘটনাটি সিরিয়ার জন্য কেবল একটি সাধারণ কেনাকাটা নয়, বরং দীর্ঘদিনের আর্থিক বিচ্ছিন্নতার অবসানের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সিরিয়ার সরকারি সূত্র প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দামেস্কের পুরোনো শহরের একটি ক্যাফেতে ভিসা কার্ড ব্যবহার করে বিল পরিশোধ করছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোহাম্মদ সাফওয়াত রাসলান। এর ঠিক আগে, ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে তালিকাভুক্তির অবস্থান থেকে সরিয়ে নেয়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর জানিয়েছে, এর ফলে ওই তালিকার সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞাগুলো আর সিরিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকবে না। ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে সিরিয়ার অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্নতার কারণে দেশটির ব্যাংক ও ব্যবসাগুলো আন্তর্জাতিক লেনদেনে দীর্ঘদিন নানা বাধার মুখে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সিরিয়ার সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে দৃশ্যমান দিকগুলোর একটি হলো ভিসা ও মাস্টারকার্ডের আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেন চালু হওয়া। রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার সিরিয়ায় এই দুই বৈশ্বিক পেমেন্ট নেটওয়ার্কের প্রথম আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেন সম্পন্ন হয়। ভিসা স্থানীয় ও আঞ্চলিক অংশীদারদের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেছে, আর মাস্টারকার্ডও নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লেনদেন গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করেছে। সিরিয়ায় ভিসা ও মাস্টারকার্ডের কার্যক্রম এর আগে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল। ফলে প্রেসিডেন্টের কার্ডে বিল পরিশোধকে দেশটির বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ফেরার একটি প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এই ঘটনাকে আর্থিক খাতের জন্য নতুন শুরুর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে সিরিয়ার ওপর থাকা সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা একসঙ্গে উঠে গেছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কিছু নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় সিরিয়ার পূর্ণাঙ্গ পুনঃসংযোগ নির্ভর করবে ব্যাংকিং ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা দ্রুত পুনর্গঠিত হয় তার ওপর। সিরিয়ার নতুন সরকার অবশ্য এই পরিবর্তনকে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। প্রেসিডেন্ট আল-শারা যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। দেশটির লক্ষ্য এখন দীর্ঘ যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে অবকাঠামো পুনর্গঠন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। একটি কফির বিল দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতীকী লেনদেন তাই সিরিয়ার অর্থনীতির জন্য বড় পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর দেশটির নাগরিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আবারও আন্তর্জাতিক কার্ড ও অর্থপ্রদানের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তবে এই পরিবর্তন কত দ্রুত বাস্তব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রূপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। সূত্র: রয়টার্স, মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়, আল জাজিরা ও ইউরোনিউজ।
‘স্ত্রীর হাত ধরে টানছিলাম, কিন্তু কাদার স্রোত তাকে নিয়ে গেল’: নেপালের বন্যা নিয়ে বৃদ্ধের হৃদয়বিদারক বর্ণনা
গাজায় পানি সংগ্রহে যাওয়া শিশুদের লক্ষ্য করে ড্রোন থেকে গুলির অভিযোগ