- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় দুই নারীকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত স্টেসি হামফ্রিসের মৃত্যুদণ্ড আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর কার্যকর করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। জর্জিয়ার সংশোধন বিভাগ জানিয়েছে, ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায় জ্যাকসনের কাছে অবস্থিত রাজ্যের কারাগারে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। ৫৩ বছর বয়সী হামফ্রিস ২০০৩ সালে আটলান্টার উপকণ্ঠে দুই আবাসন ব্যবসায়ী নারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন। হামফ্রিস যে দুই নারীকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত হয়েছেন, তারা হলেন ৩৩ বছর বয়সী সিন্ডি উইলিয়ামস ও ২১ বছর বয়সী লরি ব্রাউন। ২০০৩ সালের ৩ নভেম্বর আটলান্টার প্রায় ২০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে পাউডার স্প্রিংস এলাকার একটি নতুন আবাসিক প্রকল্পের বিক্রয় কার্যালয়ে দুপুরের দিকে তাদের হত্যা করা হয়। ওই সময় দুই নারী সেখানে আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করছিলেন। মামলার বিচার চলাকালে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, হামফ্রিস ওই বিক্রয় কার্যালয়ে ঢুকে দুই নারীকে জোর করে পোশাক খুলতে বাধ্য করেন এবং তাদের ব্যাংকের গোপন নম্বর নেন। এরপর তিনি তাদের গুলি করে হত্যা করেন। পরে নিহত নারীদের পরিচয়পত্র ও ব্যাংক এবং ঋণ কার্ড নিয়ে তাদের হিসাব থেকে তিন হাজার ডলারের বেশি অর্থ তুলে নেওয়া হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় হামফ্রিস ১৯৯৩ সালের একটি গুরুতর চুরি মামলায় দণ্ড ভোগের পর জামিনের শর্তে বাইরে ছিলেন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রায় ১৩ মাস পর এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি জানিয়েছিলেন, হত্যার সময় নিজের কর্মকাণ্ড তার মনে ছিল না। তবে পালিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ হামফ্রিসকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে এমন এক ব্যক্তির কথা জানিয়েছিলেন, যার বর্ণনা হামফ্রিসের সঙ্গে মিলে যায়। ঘটনাস্থলের কাছে থাকা একটি গাড়িও তার কালো রঙের গাড়ির সঙ্গে মিলে যায় বলে তদন্তে উঠে আসে। পরে পুলিশ তার বাড়িতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করলে তিনি পালিয়ে যান। এরপর উইসকনসিনে পুলিশের সঙ্গে দ্রুতগতির গাড়ি ধাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে একটি বন্দুকও উদ্ধার করা হয়, যেটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গুলির সঙ্গে মিলে যায় বলে পুলিশ জানায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, বন্দুকটিতে পাওয়া রক্তের সঙ্গে সিন্ডি উইলিয়ামসের বংশগত উপাদানের মিল পাওয়া যায়। একইভাবে হামফ্রিসের গাড়িতে পাওয়া রক্তের সঙ্গে লরি ব্রাউনের বংশগত উপাদানের মিল পাওয়া যায়। এসব তথ্য মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। হামফ্রিসের মৃত্যুদণ্ড এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আইনজীবীরা ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন শুনানির সঙ্গে যুক্ত দুই কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে আবেদন করার পর সেই কার্যক্রম স্থগিত হয়। তাদের দাবি ছিল, ওই দুই কর্মকর্তা মামলার বিচারপর্বে বিভিন্নভাবে যুক্ত ছিলেন এবং এ কারণে তাদের স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছিল। ফুলটন কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক রবার্ট ম্যাকবার্নি পরে একজন কর্মকর্তাকে মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন এবং অন্য কর্মকর্তার ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত রয়েছে বলে মনে করেননি। হামফ্রিসের আইনজীবীরা পরবর্তী সময়ে জর্জিয়া সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। আদালত মামলাটি শুনতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তারা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন করেন। সেই আবেদন এখনো বিচারাধীন রয়েছে। জর্জিয়ার সংশোধন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হামফ্রিসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে চলতি বছরে রাজ্যটিতে এটিই হবে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা। এর আগে জর্জিয়ায় শেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ২০২৪ সালের মার্চে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে রাজ্যটিতে প্রাণঘাতী ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সাগরের তীব্র স্রোতে আটকে পড়া শিশুদের বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন পাঁচ সন্তানের বাবা জশ কোলেট। ৪২ বছর বয়সী জশ ১৫ আগস্ট সান ক্লেমেন্তের রিভিয়েরা বিচে পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। শিশুদের উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি মাথা আগে দিয়ে পানিতে ঝাঁপ দেন এবং সাগরের তলদেশে আঘাত পান। এতে তার দুটি মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায় এবং মেরুদণ্ডের স্নায়ু গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে তার ঘাড়ের নিচের অংশে কোনো অনুভূতি নেই। জশ নিয়মিত সাঁতার কাটেন এবং সার্ফিং করেন। ঘটনার সময় তিনি দেখতে পান, সাগরের স্রোতে দুই শিশু আটকে পড়েছে। তাদের সাহায্য করতে তিনি দ্রুত পানিতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু ঢেউ ও স্রোতের কারণে তৈরি হওয়া বালুর উঁচু অংশে মাথা আঘাত পায়। গুরুতর আঘাতের পর তিনি পানিতে বিপদে পড়ে যান। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন। জশের স্ত্রী রোজ জানান, উদ্ধারের পর জশ তার দিকে তাকিয়ে জানান যে তার ঘাড় ভেঙে গেছে এবং তিনি শ্বাস নিতে পারছেন না। উদ্ধারকারীরা পৌঁছানোর আগে রোজ তাকে মুখে মুখে শ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সাগরে আটকে পড়া শিশুরা শেষ পর্যন্ত নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়। হাসপাতালে চিকিৎসকেরা জানান, জশের দুটি মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙেছে এবং তার মেরুদণ্ডের স্নায়ু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি কাঁধের নিচের অংশে কোনো অনুভূতি পাচ্ছেন না। তিনি নিজে কথা বলতে পারছেন না। তার স্ত্রী তার ঠোঁটের নড়াচড়া দেখে তিনি কী বলতে চাইছেন তা বোঝার চেষ্টা করছেন। দুর্ঘটনার পর তিনি কয়েক দিন ধরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন। জশ তার স্ত্রীকে জানিয়েছেন, তিনি মাথা আগে দিয়ে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন এবং এটিকে নিজের ভুল হিসেবে মনে করছেন। তিনি জানান, আঘাতের পর তার মনে হচ্ছিল তিনি মারা যাচ্ছেন এবং শ্বাস নিতে পারছিলেন না। তবে পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে কারও সাহায্যে আবারও এগিয়ে যেতেন। তার স্ত্রীও তাকে পরিবারের নায়ক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জশের চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের খরচ মেটাতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অর্থ সংগ্রহ শুরু করা হয়েছে। তাকে এ ধরনের গুরুতর আঘাতের চিকিৎসার জন্য কলোরাডোর একটি বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তহবিল সংগ্রহের অর্থ চিকিৎসা ব্যয়, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা এবং পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা হবে। প্রাথমিকভাবে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত তহবিলে ১ লাখ ৭০ হাজার ডলারের বেশি জমা হয়েছিল। এরপর ২৫ আগস্টের প্রতিবেদনে এই অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৪ হাজার ডলারের বেশি হয়েছে বলে জানানো হয়। সর্বশেষ তহবিল সংগ্রহের পৃষ্ঠায় অর্থের পরিমাণ আরও বেড়েছে। তাই আগের প্রতিবেদনের ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের লক্ষ্যের তথ্যের বদলে বর্তমানে তহবিলের হালনাগাদ পরিমাণ আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তার পরিবার ও সন্তানদের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় পরিচিতজন ও সম্প্রদায়ের মানুষজন। তারা সন্তানদের দেখাশোনা এবং পরিবারের দৈনন্দিন কাজে সহযোগিতা করছেন। জশের পরিবার জানিয়েছে, এই কঠিন সময়ে মানুষের ভালোবাসা ও সহায়তা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ১৫ আগস্টের ওই দুর্ঘটনার পর জশের জীবন একেবারেই বদলে গেছে। শিশুদের সাহায্য করতে গিয়ে পাওয়া গুরুতর আঘাতের কারণে তিনি এখন নিজের শরীরের নিচের অংশে কোনো অনুভূতি পাচ্ছেন না এবং কথা বলার ক্ষেত্রেও অন্যের সহায়তার প্রয়োজন হচ্ছে। তার পরিবার এখন চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ড্যানবেরিতে স্কুলবাসের স্টপেজের কাছে অভিভাবকদের আটকের অভিযোগ উঠেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) বিরুদ্ধে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি বুধবার অভিযোগ করেন, সন্তানদের স্কুলবাসে তুলে দেওয়ার পর কয়েকজন অভিভাবককে আটক করা হয়েছে। মারফির দাবি, কিছু ক্ষেত্রে শিশুরা বাসে ওঠার পর আইসিই কর্মকর্তারা অভিভাবকদের আটক করেন। এতে দিনের শেষে শিশুরা বাস থেকে নামার পর তাদের অভিভাবকদের খুঁজে না পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে কর্মকর্তারা ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের বাসে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন কিনা, সে দাবির পক্ষে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো প্রমাণ দেননি। এদিকে অভিবাসী অধিকার সংগঠন গ্রেটার ড্যানবেরি এরিয়া ইউনাইটেড ফর ইমিগ্র্যান্টস জানিয়েছে, তিন দিনে ড্যানবেরিতে ৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এর মধ্যে স্কুলবাস স্টপেজের আশপাশেও আইসিইর অভিযান চালানো হয়েছে। একটি ভিডিওতে স্কুলবাসের ভেতর থেকে ধারণ করা দৃশ্যে কয়েকটি চিহ্নহীন গাড়ি দেখা যায়, যেগুলোকে বাসের যাত্রীরা আইসিইর গাড়ি হিসেবে শনাক্ত করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইসিই বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দিয়েছে কিনা, তা প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। নিউজউইক এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মন্তব্য চেয়েছে। ড্যানবেরিতে বড় অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, শহরটির প্রায় ৩৫ শতাংশ বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। সাম্প্রতিক আইসিই অভিযানে স্থানীয় অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগও বেড়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের রাস্তায় কয়েকজন ইসরায়েলি পর্যটকের সঙ্গে করা একটি স্ট্রিট ইন্টারভিউয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে তাদের ইসরায়েলি পরিচয় এবং দেশটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। ভিডিওটির কিছু অংশে সাক্ষাৎকারদাতাদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে অপ্রস্তুত বা অনিশ্চিত মনে হতে দেখা যায়। এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে ভিডিওটির মূল উৎস, ধারণের সুনির্দিষ্ট স্থান ও সময় এবং পুরো সাক্ষাৎকারের প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তির বক্তব্যকে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী মানুষের সামগ্রিক মতামত কিংবা সব ইসরায়েলি নাগরিকের অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে অনেক সময় প্রশ্নের পুরো অংশ, আগের বক্তব্য বা পরবর্তী আলোচনার অংশ বাদ পড়ে যেতে পারে। তাই কোনো ব্যক্তির বক্তব্য থেকে বৃহত্তর কোনো জনগোষ্ঠী সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ভিডিওটির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট যাচাই করা জরুরি। বর্তমান সময়ে ইসরায়েলি নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণ, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন দেশে তাদের নিয়ে সামাজিক প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে এসব বিষয় নিয়ে তৈরি প্রতিটি ভিডিও বা পোস্টের তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে ‘শিক্ষকের ভূমিকা পালন’ করার বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শিক্ষকতা করতে হলে সংসদের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে সেখানে শিক্ষা দিতে হবে। সংসদ সদস্যরা কারও ছাত্র হওয়ার জন্য সংসদে আসেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনের বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ নতুন করে এসব শব্দ উচ্চারণ করেননি। সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি অন্যদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে আসছেন। তিনি নিজেকে কী মনে করেন, তা বুঝতে পারছেন না বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সংসদে শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন’ বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসিনি। শিক্ষকতা করতে হলে তিনি একটি ইউনিভার্সিটি খুলুন। সেখানে যার পছন্দ হয়, ভর্তি হবে এবং তার লেকচার শুনবে।’ ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হাসতে দেখা যায়। জামায়াত আমির আরও বলেন, একই বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুইবার তাদের আক্রমণ করেছেন। তার ভাষায়, এটি ‘কালচারাল’ নয়, বরং ‘পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম’। এ ধরনের আচরণ সংসদে হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি আজ সুস্পষ্টভাবে দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এই পার্লামেন্টের সৌন্দর্য বিধানের জন্য তাকে দুঃখপ্রকাশ করতে হবে এবং তার বক্তব্য সংসদের কার্যপ্রণালি থেকে এক্সপাঞ্জ করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুঃখপ্রকাশ করে বক্তব্যটি সংসদের কার্যপ্রণালি থেকে বাদ দিলে তারা সংসদে বসবেন। অন্যথায় ‘অপমান নিয়ে আমাদের এখানে বসার প্রশ্নই ওঠে না’ বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার লোগানভিলের ছয় বছর বয়সী জ্যাক্সন মেইসন লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ১৩ বছর বয়সী কাজিন মেসন জোন্সের পাশে দাঁড়াতে নিজের মাথার চুল ন্যাড়া করেছে। কাজিনের ক্যানসারের লড়াইয়ে সে একা নয়, এই বার্তা দিতেই দীর্ঘদিনের চুল কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় জ্যাক্সন। তার এই আবেগঘন উদ্যোগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই কোটির বেশি বার দেখা হয়েছে। জ্যাক্সনের বাবা রডনি মেইসন বাড়িতে ছেলের চুল কাটার দৃশ্য ধারণ করেন। ভিডিওতে জ্যাক্সন জানায়, ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করা তার কাজিনকে সমর্থন করতেই সে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জীবনের পুরো সময় দীর্ঘ চুল রাখা জ্যাক্সন চুল কাটার আগে বাবার কাছ থেকে সিদ্ধান্তটি নিয়ে নিশ্চিত হওয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে পারে। কিন্তু সে নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিল। জ্যাক্সন বলেন, তিনি কাজিনের জন্যই এটি করতে চেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মেসনের ক্যানসার হয়েছে এবং তিনি তাকে দেখাতে চেয়েছেন যে তার পাশে থাকার মতো মানুষ রয়েছে। নিজের চুল কেটে ফেলার মাধ্যমে কাজিনের কঠিন লড়াইয়ে একাত্মতা প্রকাশ করাই ছিল তার উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, ১৩ বছর বয়সী মেসন জোন্স বর্তমানে দ্বিতীয়বারের মতো ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছে। তার তীব্র মায়েলয়েড লিউকেমিয়া ধরা পড়ে প্রথমবার ১১ বছর বয়সে। বর্তমানে টেক্সাসে তার চিকিৎসা চলছে এবং কঠিন এই সময়ে তার বাবা-মা ক্রিস ও ক্রিস্টিন জোন্স তার পাশে রয়েছেন। জ্যাক্সন নতুন করে চুল কাটার পর ভিডিও কলের মাধ্যমে মেসনের সঙ্গে কথা বলে। তখন কাজিনের নতুন চেহারা দেখে মেসন আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন। মেসন জানান, ঘটনাটি তাকে কাঁদিয়েছে, তবে সেটি ছিল আনন্দের কান্না। জ্যাক্সনকে এমন কিছু করতে হতো না, তবুও সে এটি করেছে, যা তাকে খুব আনন্দ দিয়েছে বলে জানান মেসন। মেসনের পরিবার জানিয়েছে, সন্তানকে দ্বিতীয়বার ক্যানসারের মধ্য দিয়ে যেতে দেখা সহজ নয়। তার বাবা-মা ক্রিস ও ক্রিস্টিন এই কঠিন সময়ে তার পাশে রয়েছেন এবং তার জন্য প্রার্থনা করছেন। তারা জানিয়েছেন, এটি সহজ কোনো পথ নয় এবং কোনো বাবা-মাই চান না তাদের সন্তানকে একবার, বিশেষ করে দুইবার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করতে হোক। জ্যাক্সনের এই উদ্যোগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মেসনের চিকিৎসার খরচে সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে টেক্সাসে মেসনের বর্তমান চিকিৎসা কতদিন চলবে, সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ছোট্ট জ্যাক্সনের এই উদ্যোগ মানুষের নজর কেড়েছে। ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করা কাজিনকে মানসিকভাবে সমর্থন জানাতে নিজের চুল ত্যাগ করে সে যে ভালোবাসা ও একাত্মতার বার্তা দিয়েছে, সেটিই এই ঘটনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে বলে সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা একটি ভিডিও নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে সেটি পরে সরিয়ে নেওয়া হয়। ভিডিওটিতে ২০১৭ সালের চলচ্চিত্র ডার্কেস্ট আওয়ার থেকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের চরিত্রের একটি দৃশ্য ব্যবহার করা হয়। সেখানে বলা হয়, মাথা বাঘের মুখে থাকা অবস্থায় তার সঙ্গে যুক্তি করা যায় না। এরপর ভিডিওতে ট্রাম্পের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও দেখানো হয়। পোস্টটির সঙ্গে লেখা ছিল, ‘নো ওয়ান ডাজ ইট লাইক আস’ এবং একটি বাঘের ইমোজি। সমালোচনার মূল কারণ হলো, চলচ্চিত্রের ওই দৃশ্যে ‘বাঘ’ বলতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির নেতা অ্যাডলফ হিটলারকে বোঝানো হয়েছিল। ফলে চার্চিলের ওই বক্তব্যের পর ট্রাম্পের দৃশ্য যুক্ত করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে এটিকে ট্রাম্পের সঙ্গে হিটলারের তুলনা হিসেবে দেখেন। বিতর্কের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেয়। মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে জানান, টিকটকে ট্রেন্ড করা একটি সাউন্ডের ভিত্তিতে একজন কর্মী ভিডিওটি তৈরি ও পোস্ট করেছিলেন। ওই কর্মী ভিডিওটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বুঝতে পারেননি বলেও জানানো হয়। ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন শিক্ষা খাতে বিভিন্ন পরিবর্তন ও সংস্কার নিয়ে সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছে। ২৪ আগস্ট হোয়াইট হাউসে শিক্ষাবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ও শিক্ষা মন্ত্রী লিন্ডা ম্যাকমাহন নতুন শিক্ষাবর্ষ এবং প্রশাসনের শিক্ষা নীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছিলেন।
নিউইয়র্কে পৃথক দুই প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন ৩১ বছর বয়সী যিশুস আকোস্তাকে ধরতে ২৫ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে এফবিআই। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) তথ্য অনুযায়ী, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসে কয়েক দিনের ব্যবধানে ওই দুই হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের অভিযোগ, গত ২৩ আগস্ট ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় গুলির ঘটনায় একজন নিহত ও আরেকজন আহত হন। এরপর ২৫ আগস্ট ব্রঙ্কসের একটি ডেলিতে ঢুকে গুলি চালানোর ঘটনায় আরও একজন নিহত হন। ওই ঘটনার পর আকোস্তার বিরুদ্ধে সন্দেহ আরও জোরালো হয় এবং তাকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করে। এফবিআই জানিয়েছে, আকোস্তাকে গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। এর আগে ইউনাইটেড বোদেগাস অব আমেরিকাও তার গ্রেপ্তারে সহায়তাকারী তথ্যের জন্য ১০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আকোস্তা বর্তমানে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হতে পারেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন এবং এর আগে সহিংস অপরাধ ও অস্ত্র-সংক্রান্ত মামলায় সাজা ভোগ করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। এ ঘটনায় নিউইয়র্কজুড়ে তার অবস্থান শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে। কোনো তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন এনওয়াইপিডির হিসাবে ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে নিউইয়র্ক সিটিতে গুলির ঘটনা, গুলিতে হতাহত ও হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে কমেছে। একই সময়ে পুলিশ জানিয়েছে, বছরের শুরু থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩ হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
ফিলিপাইনের সাবেক অর্থোডক্স বিশপ ক্লিওপাস ডাকলান ২১ বছর চার্চে দায়িত্ব পালনের পর ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ২০১৮ সালে ৬৪ বছর বয়সে তিনি চার্চের দায়িত্ব থেকে সরে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন বলে প্রচারিত তথ্যগুলোতে উল্লেখ রয়েছে। তবে তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক সূত্রে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সীমিত। ডাকলান দীর্ঘ সময় অর্থোডক্স চার্চে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালের একটি অর্থোডক্স চার্চ-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে তাকে ফিলিপাইনের জন্য বিশপ হিসেবে অভিষিক্ত করার তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে তাকে হায়ারোমঙ্ক থেকে বিশপ পদে উন্নীত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি তিনি বাইবেলের বিভিন্ন ভাষার পাঠ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেন। গ্রিক, হিব্রু ও আরামাইক ভাষায় ধর্মীয় গ্রন্থ অধ্যয়ন করেন বলেও এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরে কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ পড়তে গিয়ে তার ধর্মীয় বিশ্বাসে পরিবর্তন আসে বলে প্রচারিত তথ্যগুলোতে দাবি করা হয়েছে। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি ‘মুসা ইব্রাহিম’ নাম গ্রহণ করেন বলেও একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিজের বক্তব্য হিসেবে প্রচারিত ভিডিও ও লেখাগুলোতে তিনি কোরআনের তাওহিদ বা একত্ববাদের ধারণার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কথা বলেছেন এবং ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্তকে নিজের ধর্মীয় অনুসন্ধানের ফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার এই সিদ্ধান্তের আগে তিনি চার্চের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর সেই পদ ও ধর্মীয় পরিচয় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তই তার জীবনের বড় পরিবর্তন হিসেবে আলোচিত হয়েছে। তবে ডাকলানের বর্তমান অবস্থান ও পরবর্তী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন তথ্য খুব বেশি পাওয়া যায় না। ঘটনাটি ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে একজন ধর্মীয় নেতার জীবন পরিবর্তনের একটি আলোচিত উদাহরণ হিসেবে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ ধরনের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক সূত্র যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।
নিউইয়র্কে ক্লার্ক বা অফিস সহকারী ধরনের সরকারি চাকরি খুঁজছেন এমন প্রার্থীদের জন্য বর্তমানে একাধিক সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি সরকারের চাকরির পোর্টালে বিভিন্ন ক্লার্ক পদে নিয়োগ চলছে। পাশাপাশি নিউইয়র্ক স্টেট কোর্টস ও ফেডারেল আদালতেও ক্লার্ক পদে নিয়োগের তথ্য রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির একটি সাম্প্রতিক ক্লার্ক পদে আবেদন ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। পদটির কাজের মধ্যে অফিসের প্রশাসনিক সহায়তা, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক দায়িত্ব রয়েছে। একই সময়ে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টাইমকিপার এবং ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউনিট ক্লার্ক পদেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির ক্লার্ক পদের সাধারণ যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে চার বছরের হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অন্তত এক বছরের সংশ্লিষ্ট অফিসের কাজের অভিজ্ঞতা। কিছু পদের ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা, দ্রুত টাইপিং এবং মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ও এক্সেলের জ্ঞানও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক স্টেট কোর্টসের ক্লার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট পদেও ২০২৬ সালের ওপেন-কম্পিটিটিভ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই পরীক্ষার আবেদন গ্রহণের সময়সীমা ছিল ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ এবং পরীক্ষা হয়েছে ৩ থেকে ২৩ জুন। অর্থাৎ বর্তমানে নতুন করে ওই পরীক্ষায় আবেদন করার সুযোগ নেই। ফেডারেল পর্যায়েও সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের প্রি-ট্রায়াল সার্ভিসেস অফিসে প্রি-ট্রায়াল সার্ভিসেস ক্লার্ক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছিল। পদটির বেতনসীমা ছিল বছরে ৫২ হাজার ৬৭৮ থেকে ৮৫ হাজার ৬২০ ডলার এবং আবেদন নেওয়া হয়েছিল পদটি পূরণ হওয়া পর্যন্ত। বর্তমানে ওই বিজ্ঞপ্তির আবেদন সময়সীমা শেষ হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের তাই কোনো পুরোনো পোস্ট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকরির পোর্টালে গিয়ে বিজ্ঞপ্তির বর্তমান অবস্থা, যোগ্যতা, বেতন, আবেদনের শেষ তারিখ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা উচিত। সরকারি চাকরির নামে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা দেওয়া থেকেও সতর্ক থাকা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ডেনিস রসির জীবনে লটারি জয় শেষ পর্যন্ত আশীর্বাদের বদলে বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৯৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর তিনি ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ডলারের লটারি জেতেন। মাত্র ১১ দিন পর স্বামীর কাছে সেই খবর গোপন রেখেই বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। পরে বিষয়টি আদালতে প্রকাশ পেলে লটারির পুরো অর্থই তার সাবেক স্বামীকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ডেনিস ও তার স্বামী থমাস রসি প্রায় ২৫ বছর বিবাহিত ছিলেন। লটারি জেতার পর ডেনিস বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় সেই অর্থের কথা আদালতকে জানাননি। তিনি লটারির অর্থ নিজের আলাদা সম্পদ হিসেবে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। পরে তার সাবেক স্বামী লটারির অর্থের বিষয়টি জানতে পারেন এবং তা আদালতে তুলে ধরেন। আদালতের কাছে প্রমাণিত হয়, বিবাহবিচ্ছেদের সময় ডেনিস ইচ্ছাকৃতভাবে লটারির অর্থের তথ্য গোপন করেছিলেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সম্পদ প্রকাশসংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, বিবাহবিচ্ছেদের সময় স্বামী-স্ত্রীকে নিজেদের সম্পদের তথ্য সঠিকভাবে প্রকাশ করতে হয়। তথ্য গোপনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত শেষ পর্যন্ত লটারির পুরো অর্থ তার সাবেক স্বামীকে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। লটারির অর্থটি ২০টি বার্ষিক কিস্তিতে পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আদালতের সিদ্ধান্তের কারণে ডেনিস সেই অর্থের কোনো অংশই নিজের কাছে রাখতে পারেননি। ঘটনাটি দেখিয়েছে, বিবাহবিচ্ছেদের সময় সম্পদ বা আর্থিক তথ্য গোপন করা কতটা বড় আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাময়িক সুবিধার আশায় নেওয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত কখনো কখনো সারা জীবনের বড় আফসোসের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ৪১ বছর বয়সী ডেভিড বাউন মস্তিষ্কের নিম্নমাত্রার টিউমারের চিকিৎসায় আট বছরের বেশি সময় ধরে কেমোথেরাপি নেওয়ার পর দেশটির সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এনএইচএসের বিরুদ্ধে চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগে মামলা করেছেন। চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, তাকে টেমোজোলোমাইড নামের কেমোথেরাপির ওষুধ দীর্ঘ সময় ধরে দেওয়া হয়। অথচ চিকিৎসা নির্দেশনায় এ ধরনের টিউমারের ক্ষেত্রে সাধারণত ছয় থেকে ১২ মাসের বেশি কেমোথেরাপি দেওয়ার কথা নয়। ২০১৬ সালে খিঁচুনির সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে বাউনের মস্তিষ্কে নিম্নমাত্রার টিউমার শনাক্ত হয়। পরে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে অস্ত্রোপচারের পর সময়মতো এমআরআই স্ক্যান না করায় তার অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের চার দিন পর করা স্ক্যানে বাউনের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও ফুলে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বাউন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে কোমায় চলে যান। জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার মস্তিষ্কে জমে থাকা রক্তের জমাট অপসারণ করা হয় এবং আরও কিছু চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর বাউনের চিকিৎসায় টেমোজোলোমাইড কেমোথেরাপি শুরু হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় ধরে এই চিকিৎসা চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তিনি আট বছরেরও বেশি সময় ধরে কেমোথেরাপি নেন। চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও তার আইনজীবীদের তথ্যেই দীর্ঘ সময় ধরে এই চিকিৎসা চলার বিষয়টি উঠে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ফলে বাউনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় স্থায়ী প্রভাব পড়েছে বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার জ্ঞানীয় সক্ষমতা কমে গেছে এবং দৃষ্টিশক্তিরও আংশিক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজের জন্য তাকে পুরোপুরি বাবা-মায়ের ওপর নির্ভর করতে হয়। আইনজীবীরা আরও জানিয়েছেন, বাউন বিষণ্নতায়ও ভুগছেন। দীর্ঘ সময় ধরে কেমোথেরাপি নেওয়ার পর তার জীবনে যে শারীরিক ও মানসিক প্রভাব পড়েছে, সেটিই মামলার অভিযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বাউনের করা এই মামলা চিকিৎসা ব্যবস্থায় রোগীর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। একই হাসপাতাল ও চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে আরও কয়েকজন রোগীর অভিযোগও রয়েছে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন। মামলায় বাউনের অভিযোগের পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের পর তার চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন বিষয়ও সামনে এসেছে। বিশেষ করে সময়মতো এমআরআই স্ক্যান না করা, পরবর্তী সময়ে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দীর্ঘ সময় কেমোথেরাপি চলার বিষয়গুলো নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে বাউনের করা মামলাসহ এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনো আদালতের আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয়নি। ফলে চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করবে। ঘটনাটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় রোগীর অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসা নির্দেশনা অনুসরণের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে বাউনের দীর্ঘ আট বছরের বেশি সময় কেমোথেরাপি নেওয়ার ঘটনাটি তার করা মামলার অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার প্রত্যন্ত শুঙ্গনাক গ্রামে গ্যালনপ্রতি গ্যাসোলিনের দাম হঠাৎ বেড়ে ২৬.৮২ ডলারে পৌঁছেছে। ২১ আগস্টের এই দামকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি গ্যাসের দামের একটি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। একই সময়ে দেশজুড়ে নিয়মিত গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল প্রায় ৪.১০ ডলার প্রতি গ্যালন। আলাস্কার নর্থওয়েস্ট আর্কটিক বরোর কোবুক নদীর তীরে অবস্থিত শুঙ্গনাক কোটজেবু শহর থেকে নদীপথে প্রায় ২৮০ মাইল দূরে। সড়ক যোগাযোগ না থাকায় সারা বছর নির্ভরযোগ্য যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম বিমান। গ্রীষ্মে নদীপথে বার্জে পণ্য আনা হলেও এবার নদীর পানির স্তর কম থাকায় বার্জ গ্রামে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে গ্যাস বিমানযোগে আনতে হয়েছে। শুঙ্গনাকের একটি স্টোরের ম্যানেজার গ্লেন্ডা ডগলাস জানান, এ গ্রীষ্মে দুই দফা বিমানযোগে গ্যাস আনতে হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র একদিনের ব্যবধানে গ্যাসের দাম ১৩.৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ২৬.৮২ ডলারে পৌঁছে যায়। শুঙ্গনাকে জ্বালানির দাম দীর্ঘদিন ধরেই আলাস্কার অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেশি। ২০০৭ সালে সেখানে এক গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম ছিল ৮.১১ ডলার এবং ২০২২ সালে তা বেড়ে ১৪.০৩ ডলারে পৌঁছেছিল। এবার পরিবহন সংকটের কারণে দাম আরও দ্বিগুণের কাছাকাছি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি বিশেষভাবে উদ্বেগের। শুঙ্গনাক ও আশপাশের এলাকায় অনেক মানুষ শিকার ও মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। শিকারের মৌসুম শুরু হওয়ায় অতিরিক্ত গ্যাসের খরচ তাদের দৈনন্দিন জীবনে বড় চাপ তৈরি করতে পারে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। শুঙ্গনাক যে আলাস্কায় অবস্থিত, সেই রাজ্যটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬, ২০২০ ও ২০২৪ সালের তিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় করেছিলেন। তবে শুঙ্গনাকের স্থানীয় বাসিন্দারা সবাই ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন, এমন কোনো তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই। বর্তমান গ্যাসের দামের প্রধান কারণ হিসেবে স্থানীয় পরিবহন সংকট এবং নদীর পানির স্বল্পতাকেই উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যে সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কেউ ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে দাবি করলেই কি তা নিশ্চিত হওয়া যায়, নাকি এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সরকারি নথি রয়েছে? যুক্তরাজ্যের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন, তা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এবং নাগরিকত্ব কার্যকরভাবে শেষ হওয়ার সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। হুমায়ুন কবির ২১ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২৪ আগস্ট সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি সরাসরি নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তিনি নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ করে দেশের জন্য কাজ করতে এসেছেন বলে জানান। এর পরদিন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এবং তার শপথ গ্রহণে কোনো আইন লঙ্ঘন হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে এটিই এখন পর্যন্ত নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়ে সবচেয়ে স্পষ্ট বক্তব্য। কিন্তু ব্রিটিশ আইনে নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত হয়? যুক্তরাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হলে নির্ধারিত ‘নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণাপত্র’ দাখিল করতে হয়। এর জন্য নির্দিষ্ট আবেদনপত্র ব্যবহার করতে হয়। তবে শুধু আবেদন জমা দেওয়া, ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার বন্ধ করা কিংবা পাসপোর্ট জমা দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব শেষ হয়ে যায় না। ব্রিটিশ সরকারের জাতীয়তা-সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবেদন গ্রহণের পর স্বরাষ্ট্র দপ্তর নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণাপত্র নিবন্ধন করে। এই নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পরই নাগরিকত্ব ত্যাগ কার্যকর হয়। অর্থাৎ, কেউ যেদিন আবেদন করেছেন, সেটি নাগরিকত্ব শেষ হওয়ার তারিখ নাও হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ তারিখ হলো ঘোষণাপত্রটি যেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের আবেদন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, আবেদন গ্রহণ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে একটি ‘নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণাপত্র’ দেওয়া হয়, যা তিনি ব্রিটিশ নাগরিক নন, সেটি প্রমাণ করতে ব্যবহার করতে পারেন। সরকারি আবেদনপত্রের নির্দেশনায় নিবন্ধিত ঘোষণাপত্রের আবেদনকারীর কপিকে আনুষ্ঠানিক প্রমাণ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিষয়ে কাজ করা আইনজীবী ড্যানিয়েল কোহেনও তার আইন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত ব্যাখ্যায় একই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণাপত্র স্বরাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত হওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর ব্রিটিশ নাগরিক থাকেন না। নিবন্ধিত ঘোষণাপত্রে নাগরিকত্ব ত্যাগ কার্যকর হওয়ার তারিখও উল্লেখ থাকে। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। যুক্তরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, নাগরিকত্ব ত্যাগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অন্য একটি দেশের নাগরিকত্ব থাকা অথবা অন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার ব্যবস্থা থাকা সাধারণত প্রয়োজন। এর উদ্দেশ্য হলো নাগরিকত্ব ত্যাগের ফলে একজন ব্যক্তি যাতে রাষ্ট্রহীন হয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা। এখন প্রশ্ন হলো, একজন সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষ কি যুক্তরাজ্য সরকারের কোনো উন্মুক্ত অনলাইন তথ্যভান্ডারে গিয়ে নাম লিখে দেখে নিতে পারেন যে কোনো ব্যক্তি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না? সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এমন কোনো উন্মুক্ত নামভিত্তিক সরকারি তথ্যভান্ডারের ব্যবস্থা নেই। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের নিবন্ধিত তথ্য সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যবস্থায় সংরক্ষিত থাকে। ফলে বাইরে থেকে যে কেউ শুধু নাম দিয়ে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্বের বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে পারেন না। এ কারণেই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার নিবন্ধিত নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণাপত্র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হয়ে ওঠে। অর্থাৎ, হুমায়ুন কবির যদি শপথ নেওয়ার আগে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করে থাকেন, তাহলে তার নাগরিকত্ব ত্যাগের কার্যকর তারিখ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হবে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরে নিবন্ধিত সেই ঘোষণাপত্র। সেখানে উল্লেখ থাকা নিবন্ধনের তারিখই দেখাবে তিনি ঠিক কবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব হারিয়েছেন। আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, হুমায়ুন কবির নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এবং তার নিয়োগে কোনো আইনগত সমস্যা নেই। তবে তার নাগরিকত্ব ত্যাগের নিবন্ধিত ঘোষণাপত্র বা কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ্যে এসেছে কি না, সেটিই এখন বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যাচাইযোগ্য বিষয়। ফলে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত শুধু তিনি ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন কি না, কিংবা তিনি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে কি না, তা নয়। বরং তিনি যদি নাগরিকত্ব ত্যাগ করে থাকেন, তাহলে সেটি কখন আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়েছে এবং সেই নিবন্ধনের প্রমাণ কী, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
মাত্র ৮ বছর বয়সে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ বার খিঁচুনিতে আক্রান্ত হতেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টিনা স্যান্থহাউস। বিরল স্নায়ুরোগ র্যাসমুসেনস এনসেফালাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর তার জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকেরা মস্তিষ্কের ডান পাশের পুরো অংশ অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জনস হপকিন্স চিলড্রেনস সেন্টারে প্রায় ১৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে তার মস্তিষ্কের ডান গোলার্ধ অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারটি করেন নিউরোসার্জন ডা. বেন কারসন। র্যাসমুসেনস এনসেফালাইটিস একটি বিরল রোগ, যা মস্তিষ্কের একটি অংশে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং গুরুতর খিঁচুনি, শারীরিক দুর্বলতা ও অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। ক্রিস্টিনার ক্ষেত্রে ওষুধে খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। একপর্যায়ে দিনে ১৫০টিরও বেশি খিঁচুনি হতে থাকে। হেমিস্ফেরেকটমি নামে পরিচিত এই জটিল অস্ত্রোপচারে আক্রান্ত মস্তিষ্কের অর্ধেক অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর ক্রিস্টিনা শরীরের বাম পাশে বেশিরভাগ মোটর সক্ষমতা হারান। তবে তার স্মৃতি, বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিত্ব অক্ষুণ্ন থাকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অস্ত্রোপচারের পর তার ভয়াবহ খিঁচুনিও বন্ধ হয়ে যায়। শৈশবের এই কঠিন অভিজ্ঞতা ক্রিস্টিনার পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ১৭ বছর বয়সে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ গাড়ি চালানোর ড্রাইভার লাইসেন্স অর্জন করেন তিনি। পরে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যান এবং মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে ক্রিস্টিনা স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজিস্ট হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন। অন্যদের কথা বলা ও যোগাযোগের সক্ষমতা উন্নত করতে কাজ করার পাশাপাশি নিজের জীবনও গড়ে তোলেন তিনি। পরে বিয়ে করেন এবং নিজের বাড়ির মালিকও হন। ক্রিস্টিনার ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানে মস্তিষ্কের অভিযোজন ক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। শৈশবে মস্তিষ্কের একটি গোলার্ধ অপসারণের পরও তার বাকি মস্তিষ্ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব নিতে সক্ষম হয়। ভয়াবহ রোগ ও বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের পরও শিক্ষা, পেশা, পরিবার ও নিজের স্বাভাবিক জীবন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ক্রিস্টিনা দেখিয়েছেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা সবসময় মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বাংলাদেশকে সম্ভাব্য অংশীদার করার আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে এরই মধ্যে পক্ষে ও বিপক্ষে নানা মত সামনে এসেছে। এর মধ্যে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, সেটি বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়। দেশের ও জাতির প্রয়োজন এবং স্বার্থে বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তাতে অন্য কারও শ্বাসকষ্টে ভোগার প্রয়োজন নেই। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান নিজেদের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেয়। চুক্তির মূল নীতির মধ্যে রয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা। চলতি বছরের ১৯ মার্চ রিয়াদে ইসলামি সম্মেলনের সময় তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। সেখানে তিন দেশের মধ্যে সম্ভাব্য যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ আগস্ট মক্কায় তিন দেশ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশকে এই নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি। এ অবস্থায় বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। কেউ এটিকে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করছেন, আবার কেউ মনে করছেন, এ ধরনের সামরিক জোটে যুক্ত হওয়ার আগে বাংলাদেশের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী এমডি ইউসুফের রাজুর জানাজা আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে আগামীকাল শুক্রবার তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিবারের স্বজন ও কমিউনিটির পক্ষ থেকে জানাজায় অংশ নিয়ে মরহুমের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়েছে। জানাজার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আজ বাদ মাগরিব ব্রুকলিনের বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার জামে মসজিদে এমডি ইউসুফের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। মসজিদটির ঠিকানা ১০৫ কোর্টেলিউ রোড, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক। বিজ্ঞপ্তিতে জানাজার সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৩ আগস্ট রাতে ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় একটি পিজ্জা শপে কর্মরত অবস্থায় গুলিতে নিহত হন ৪৪ বছর বয়সী এমডি ইউসুফ। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রকওয়ে অ্যাভিনিউয়ের American Best Wings and Pizza-তে রাত ১২টার পর এই ঘটনা ঘটে। গুলিতে ইউসুফ মাথায় আঘাত পান এবং পরে হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। একই ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী আরেক কর্মী পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারী রেস্টুরেন্টের ভেতরে ঢুকে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। তদন্তে ৩১ বছর বয়সী জেসাস আকোস্তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তিনি এখনো পলাতক এবং তাকে ধরতে অভিযান চলছে। পুলিশের মতে, ব্রুকলিনের ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর ব্রঙ্কসেও একটি প্রাণঘাতী গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে ১৪৯ গ্রিল অ্যান্ড ডেলিতে ৩৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুলিতে নিহত হন। তদন্তকারীরা দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র থাকার কথা বলছেন এবং একই সন্দেহভাজনকে দুই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে খুঁজছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আকোস্তা এর আগে ২০১৫ সালে ম্যানহাটনের একটি সাবওয়ে স্টেশনে গুলি চালানোর মামলায় সাজা ভোগ করেছেন। প্রায় ১০ বছর কারাভোগের পর চলতি বছরের এপ্রিলে তিনি প্যারোলে মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক গ্রেপ্তারের রেকর্ড রয়েছে। এদিকে ইউসুফের আকস্মিক মৃত্যুতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোক নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হবে। মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচ এবং পরিবারের সহায়তার জন্য এরই মধ্যে কমিউনিটির পক্ষ থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ জানাজা শেষে আগামীকাল ইউসুফের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর কথা রয়েছে। তার মৃত্যুতে শোকাহত পরিবার ও স্বজনদের পাশে দাঁড়াতে এবং জানাজায় অংশ নিয়ে মরহুমের জন্য দোয়া করতে কমিউনিটির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়ায় পানি সংগ্রহ করতে যাওয়া ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্য করে একটি ইসরায়েলি সামরিক কোয়াডকপ্টার থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে পানি বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শিশুরা ট্রলিতে জেরিক্যান নিয়ে পানি সংগ্রহ করছিল। এ সময় আকাশে থাকা কোয়াডকপ্টারটি তাদের দিকে গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বেইত লাহিয়া উত্তর গাজার অন্যতম সংঘাতপ্রবণ এলাকা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও সেখানে ড্রোন ও সামরিক বাহিনীর গুলিতে বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। গত ২১ আগস্ট বেইত লাহিয়ায় একটি বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আহত ১৩ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোর পরে মারা যায় বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছিল। গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে নিরাপদ পানি পাওয়াও সাধারণ মানুষের জন্য বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, বাস্তুচ্যুতি এবং পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে গাজায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। পানি সংগ্রহের মতো দৈনন্দিন ও মৌলিক প্রয়োজন মেটাতেও বেসামরিক মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে বলে বিভিন্ন মানবিক সংস্থা ও স্থানীয় সূত্রের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শিশুদের পানি সংগ্রহের সময় গুলি চালানোর এই অভিযোগ সেই ঝুঁকিরই নতুন উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে ঘটনার স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাজ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা গত এক বছরে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। একই সময়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সংখ্যাও কমেছে। নতুন পরিসংখ্যানের বরাতে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, সরকার আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেলের সংখ্যা কমিয়ে বড় আবাসনকেন্দ্র ও সাবেক সামরিক স্থাপনায় তাদের সরিয়ে নিচ্ছে। সরকারি হিসাবে, জুনে প্রায় ১৬ হাজার আশ্রয়প্রার্থী হোম অফিস পরিচালিত হোটেলগুলোতে ছিলেন। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল প্রায় দ্বিগুণ। জুনের শেষ দিকে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছিল, হোটেলে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। ২০২৩ সালে হোটেলগুলোতে প্রায় ৫৬ হাজার আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন। জুন ২০২৬-এ এ সংখ্যা প্রায় ২১ হাজারে নেমে এসেছিল। হোটেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার সাবেক সামরিক ব্যারাকসহ বড় আবাসনকেন্দ্র ব্যবহারের দিকে যাচ্ছে। পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তির বসবাসের উপযোগী বাড়ি, অর্থাৎ এইচএমওতেও আশ্রয়প্রার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জুনের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেলের সংখ্যা ১৭০টির নিচে নেমে আসে, যেখানে আগের সরকারের সময় এই সংখ্যা প্রায় ৪০০-তে পৌঁছেছিল। সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬-এর শেষে যুক্তরাজ্যে মোট ৯৮ হাজার মানুষ আশ্রয় সহায়তা পাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে প্রায় ২১ হাজার ছিলেন হোটেলে। এক বছর আগের তুলনায় হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ৩৫ শতাংশ কমেছিল। এদিকে ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সংখ্যাও কমেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত ১৫ হাজার ৮৯৭ জন ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৪৪ শতাংশ কম বলে বিবিসির সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছে। হাউস অব কমন্স লাইব্রেরির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে প্রায় ৩৯ হাজার মানুষ ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছিলেন। ২০১৮ সাল থেকে এ পথে আসা মানুষের ৯৫ শতাংশই পরে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। যুক্তরাজ্যের হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ বলেছেন, ছোট নৌকায় পারাপার কমলেও সরকার এ বিষয়ে আত্মতুষ্ট নয়। ফ্রান্সের উপকূলে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ বাড়ানো এবং অবৈধ পথে যুক্তরাজ্যে আসার প্রবণতা কমাতে নতুন আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশ্রয় ব্যবস্থায় চাপ কমানোর পাশাপাশি সরকার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং যাদের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার নেই, তাদের ফেরত পাঠানোর ওপরও জোর দিচ্ছে। মার্চ ২০২৬-এর শেষে প্রাথমিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ৪৯ হাজারে নেমে আসে, যা এক বছর আগের তুলনায় ৫৫ শতাংশ কম। তবে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। নীতিবিশেষজ্ঞদের মতে, হোটেলে থাকা মানুষের সংখ্যা কমলেও আবেদন নিষ্পত্তি ও আপিল প্রক্রিয়া দ্রুত না হলে অনেক আশ্রয়প্রার্থীকে দীর্ঘ সময় সরকারি আবাসনে থাকতে হতে পারে। অন্যদিকে সরকার বলছে, হোটেলনির্ভর ব্যবস্থা বন্ধ করে আরও স্থায়ী ও কম ব্যয়বহুল আবাসন ব্যবস্থায় যাওয়াই তাদের লক্ষ্য।
গাজা উপত্যকায় হামাসবিরোধী কয়েকটি সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও শিন বেতের কার্যক্রমের কার্যত সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের ওই অনুসন্ধানে স্যাটেলাইট ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য এবং ইসরায়েলি সামরিক সদস্যদের সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, গাজার বিভিন্ন এলাকায় এসব গোষ্ঠীকে ইসরায়েলি বাহিনী সামরিক সহায়তা ও নিরাপত্তা দিচ্ছে। এর মধ্যে আর্টিলারি ও ড্রোন সহায়তা এবং অভিযানের সময় নিরাপত্তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে হামাসকে মোকাবিলায় স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয় করার কথা স্বীকার করেছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, হামাসের বিরুদ্ধে এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলের স্বার্থের মিল রয়েছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক সদস্যদের বক্তব্যের বরাতে হারেৎজ জানিয়েছে, এই সহযোগিতার ফলে ইসরায়েলি বাহিনী ও স্থানীয় মিলিশিয়াদের কর্মকাণ্ডের সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। কিছু এলাকায় এসব সশস্ত্র সদস্যকে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানের কাছাকাছি অবাধে চলাফেরা করতে এবং শক্তি প্রদর্শন করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এক ইসরায়েলি সেনার সাক্ষ্যের বরাতে প্রতিবেদনে একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর বিরোধের সময় এক বন্দুকধারী অন্য এক ব্যক্তির পায়ে গুলি করেন। ওই সেনার দাবি, ঘটনাটি সেখানে শাস্তির একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল এবং ইসরায়েলি সেনারা ঘটনাটি দেখে হতবাক হয়ে যান। আরেক ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু মিলিশিয়া সদস্য পিকআপ ট্রাকে করে আবাসিক এলাকায় ঢুকে গুলি চালানো, বাড়িঘরে লুটপাট এবং স্থাপনা পুড়িয়ে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে। এসব অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নিরাপত্তা দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। হারেৎজের অনুসন্ধানে গাজার বেইত হানুন, শুজাইয়া, দেইর আল বালাহ, খান ইউনিস ও রাফাহ এলাকায় অন্তত পাঁচটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটির অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাজার অন্যান্য এলাকায় পুনর্গঠন কার্যক্রম থমকে থাকলেও এসব ঘাঁটির কিছু সম্প্রসারিত হচ্ছে। সেখানে ভারী যন্ত্রপাতি, কংক্রিটের প্রতিরক্ষা দেয়াল এবং মোবাইল আবাসন স্থাপন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘পপুলার ফোর্সেস’ ও ‘কাউন্টার টেররিজম স্ট্রাইক ফোর্স’ নামে পরিচিত কয়েকটি গোষ্ঠী ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকার বিভাজনরেখার কাছে মোতায়েন রয়েছে। তারা হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান, নিষিদ্ধ পণ্য উদ্ধারের পাশাপাশি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের জোর করে সরিয়ে দেওয়ার কাজে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। হারেৎজের সঙ্গে কথা বলা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এসব গোষ্ঠীর নেতাদের রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত নেতা হিসেবে দেখছেন না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক গ্যাং সদস্য, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা কিংবা হামাসের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষাও তাদের কর্মকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন। ইসরায়েলি সামরিক নেতৃত্বের দৃষ্টিতে এসব গোষ্ঠী নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য একটি সাময়িক ব্যবস্থা। তবে ইসরায়েলি সামরিক সুরক্ষা ও সহায়তা ছাড়া এসব গোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার সক্ষমতা সীমিত বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, হামাসবিরোধী এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রচেষ্টায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, এসব ইসরায়েল-সমর্থিত গোষ্ঠীর বিলুপ্তি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে একই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে নেতানিয়াহু ওই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে হামাসও জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েল-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় থাকা অবস্থায় তারা অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি নয়। ফলে এসব স্থানীয় মিলিশিয়াকে ঘিরে ইসরায়েল ও হামাসের অবস্থান শান্তি আলোচনার পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।